Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প95 Mins Read0
    ⤷

    ১. আমার নাম লিপি

    দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
    হুমায়ূন আহমেদ

    আমার নাম লিপি। আমি ক্লাস টেনে পড়ি। সায়েন্স গ্রুপ। স্কুলের নাম লালমাটিয়া গার্লস হাই স্কুল। আমি ঠিক করেছি গরমের ছুটিতে একটা উপন্যাস লিখব। উপন্যাসের নাম মাঝে মাঝে তব দেখা পাই। নামটা সুন্দর না? তবে এই নাম আমার দেওয়া না। নাম দিয়েছেন আহসান সাহেব। আহসান সাহেব আমাদের বাড়িওয়ালা। তিনতলায় থাকেন। তাঁর অনেক বুদ্ধি। উপন্যাস লেখার আইডিয়াও তিনি দিয়েছেন। আমার ধারণা তিনি সিরিয়াসলি এই আইডিয়া দেন নি। ফাজলামি করে দিয়েছেন। তিনি অনেক ফাজলামি করেন। মুখ গম্ভীর করে ফাজলামি করেন বলে বোঝা যায় না। তিনি অনেক রসিকতাও করেন। সর্দারজিদের নিয়ে তার একটা গল্প আছে। যতবার এই গল্পের কথা আমার মনে হয় ততবারই আমি একা একা হাসি। তাঁর সম্পর্কে আমি পরে লিখব। এখন উপন্যাসটা সম্পর্কে বলি।

    আচ্ছা সর্দারজির জোকটা বলে নেই, পরে ভুলে যাব। যে-কোনো মানুষকে একটা পাতা ফটোকপি করতে দিলে পাঁচ মিনিটে ফটোকপি করে নিয়ে আসে, শুধু সর্দারজিরা এক ঘণ্টা সময় নেন। কারণ তারা মূল পাতার সঙ্গে ফটোকপি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখেন–সব বানান ঠিক আছে কি না।

    আহসান সাহেব বলেছেন, উপন্যাসের শুরুর কয়েকটা লাইনে কোনো-না কোনো চমক থাকতে হবে। যেন পাঠক প্রথম কয়েকটা লাইন পড়েই হুকড হয়ে যায়। অর্থাৎ বরশিতে আটকে যায়। মনে মনে বলে, ঘটনাটা কী? উপন্যাসের ওপেনিং আর দাবার ওপেনিং এক না। দাবার ওপেনিং নির্দিষ্ট হয় PK4 কিংবা PQ3। উপন্যাসের ওপেনিং নির্দিষ্ট না। তুমি যে-কোনো জায়গা থেকে শুরু করতে পারো। তবে শুরুতেই থাকবে চমক।

    আমি বললাম, চমক একটা সস্তা বিষয় না?

    উনি বললেন, সেটা নির্ভর করে চমকটা কে দিচ্ছে তার ওপর। দস্তয়েভস্কির চমক আর চাঁদপুরের ঔপন্যাসিক মোঃ শাহজাহান মিয়া বাবলুর চমক এক হবে না।

    আমি বললাম, মোঃ শাহজাহান মিয়া বাবলুটা কে?

    সে কেউ না, সে exist করে না। পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ঔপন্যাসিকের উদাহরণ হিসেবে তাকে এনেছি। বুঝেছ My friend?

    আমি বললাম, Yes friend.

    আহসান সাহেবের মেজাজ যেদিন খুব ফুরফুরে থাকে সেদিন আমাকে My friend ডাকেন।

    সমস্যা হচ্ছে বেশির ভাগ সময় তার মেজাজ থাকে খারাপ। আমার সঙ্গে মাঝে মাঝে কুৎসিত ব্যবহার করেন। একবার আমাকে বললেন, তোমার মধ্যে বাঁদর ভাব আছে, এই তথ্য কি জানো?

    আমি বললাম, না।

    তিনি বললেন, বাঁদর প্রজাতির আছে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে অসীম কৌতূহল। এবং অস্থির স্বভাব। তোমারও তাই।

    আচ্ছা এই প্রসঙ্গ এখন থাক। আমি আমার উপন্যাসের শুরুটা দুইভাবে ভেবে রেখেছি। কোনটা রাখব এখনো ঠিক করি নি। দুটোতেই চমক আছে। যেমন–

    (ক) আমার পাশের ঘরে কে যেন গোঁ গোঁ শব্দ করছে। হঠাৎ শুনলে মনে হবে কাউকে ছুরি দিয়ে গলা কাটা হচ্ছে।

    (খ) ঠিক দুপুরে একটা দাঁড়কাক এসে বসল আমাদের রেলিংয়ে। বসেই সে মানুষের গলায় ডাকল, কে আছ? কে?

    দুটা শুরুতেই চমক আছে, তবে শেষেরটায় চমক একটু বেশি। প্রথমটায় ডিটেকটিভ উপন্যাস ভাব আছে। আমি ডিটেকটিভ উপন্যাস লিখব না, প্রেমের উপন্যাস লিখব। মনে হয় আমি কাকের মানুষের মতো কথা বলাটা রাখব। কাক তো আর মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। কাজেই তার একটা ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এমন হতে পারে যে, কাক কা কা করছে, সবাই ভুল শুনছে।

    আহসান সাহেব বলেছেন, তোমাকে চরিত্র বর্ণনা করতে হবে। পুরোটা না হলেও কিছুটা। মনে করো, তুমি তোমার বাবার সম্পর্কে লিখছ। তোমার বাবা দেখতে কেমন এটা লিখতে হবে। যেন পাঠক তোমার বাবা সম্পর্কে খানিকটা ধারণা পায়। তারা উনার একটা ছবি কল্পনা করতে পারে। তোমার বাবা কত ফুট কত ইঞ্চি লম্বা এটা বলার দরকার নেই। তবে তিনি লম্বা না খাটো–এটা বলতে হবে। তার ওজন কত পাউন্ড কত আউন্স বলতে হবে না। তিনি রোগা না মোটা এটা বলা দরকার। তিনি কী ধরনের কাপড় পরেন তা লিখতে পারো। সাধারণত যে সব বর্ণনা লেখকরা এড়িয়ে যান তা দিতে পারো। যেমন, কী জুতা পরেন এবং জুতার ফিতা কীভাবে বাঁধেন।

    আমি বললাম, জুতার ফিতা বাঁধাও লিখতে হবে?

    তিনি বললেন, লিখতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। তবে তুমি যদি লেখো তাহলে পাঠক ভাববে, এই লেখকের Power of observation তো ভালো। তারা আগ্রহ নিয়ে তোমার লেখা পড়বে। বুঝেছ?

    আমি বললাম, Yes sir. : তিনি, সঙ্গে সঙ্গে বললেন, এখন তোমার Power of observation-এর . পরীক্ষা। বলো দেখি, আমি যখন বাইরে যাই তখন কোন ধরনের জুতা পরি?

    আমি বললাম, আপনি বাইরে যাওয়ার সময় কখনো জুতা পরেন না। স্যান্ডেল সু পরেন। আপনার ছয় থেকে সাত জোড়া জুতা আছে। আমি আপনাকে কখনো জুতা পরতে দেখি নি।

    তিনি বললেন, ভেরি গুড!

    আহসান সাহেবের কথা মেনে লিখতে হলে দাঁড়কাকটার বিষয়ে আরও কিছু লেখা দরকার। আমি লিখতে পারছি না। কারণ দাঁড়কাক আমি কখনো ভালোমতো দেখি নি। ক্লাস এইটে পড়ার সময় একটা দাঁড়কাক সত্যি সত্যি। আমাদের বাসার রেলিংয়ে বসে কা কা করে ডাকত। মা আমাদের বলে দিয়েছিলেন, কাক ডাকতেই আমরা যেন তাড়াবার ব্যবস্থা করি। কাকের ডাক খুবই অলক্ষণ। মার কথা সত্যি হতেও পারে। কাক ডাকাডাকির কিছুদিনের মধ্যেই আমার দাদি মারা গেলেন। কাক ডাকাও বন্ধ। অনেক দিন কাক ডাকছে না। মনে হয় খুব শিগগিরই আমাদের বাসায় কেউ মারা যাচ্ছে না। : আমার দাদির নাম মর্জিনা বিবি। যৌবনকালে তিনি কেমন ছিলেন, আমি জানি না। তখন তো তাঁকে দেখি নি। মৃত্যুর সময় তার চেহারা ডাইনি বুড়ির মতো হয়ে গিয়েছিল। গর্ত গর্ত চোখ। চামড়া শুকিয়ে প্লাস্টিকের মতো হয়ে বিকট। দেখাত। মাথায় চুল ছিল না। শুধু ডানদিকের কানের কাছে এক গোছা পাটের মতো চুল। চুলের এই গোছা তিনি খুবই যত্ন করতেন। নিজের হাতে তেল দিতেন। কাঠের চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতেন। একদিন দেখি বেণিও করেছেন।

    আমি বললাম, দাদিমা চুলে বেণি করেছ? দাদিমা বললেন, বেণি করলে তোর কী? তুই … দিয়া বেণি কর।

    আমি ডট ডট দিয়ে যে শব্দটা লিখেছি সেই শব্দটার মানে খুব খারাপ। হিন্দিতে চুল বললে যা বোঝায় তা। দাদিমা সারাক্ষণ কোনো-না-কোনো খারাপ কথা বলতেন। একবার আমাকে পাশে বসিয়ে বললেন…। না থাক, এটা বলা। যাবে না। আহসান সাহেব যদিও বলেছেন উপন্যাসে মিথ্যা থাকবে না। মিথ্যায় খারাপ কোনো প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় না। তারপরেও আমার মনে হয়, সব সত্যি লেখা উচিত না। উনাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে, নোংরা কথা থাকবে কি না। আমরা তো প্রায়ই নোংরা কথা বলি।

    আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে আছে, নাম প্রতিমা। প্রতিমার মতোই সুন্দর। কী সরল চেহারা! কী স্নিগ্ধ ছলছলা চোখ! দেখতে মনে হয় ভাজা মাছ উল্টে খাওয়া দূরে থাকুক, সে ভাজা মাছই খেতে পারে না। অথচ এই মেয়ে কী যে অসভ্য! তার মুখে সারাক্ষণ নোংরা কথা। একদিন আমাকে বলে কী–লিপি! বিয়ে করার সময় খেয়াল রাখবি ছেলে যেন বেঁটে হয়।

    আমি বললাম, কেন?

    প্রতিমা গলা নামিয়ে বলল, বেঁটে ছেলেদের ওই জিনিস হয় লম্বা। তাদের সঙ্গে Sex করে খুব আরাম।

    তুই করেছিস?

    প্রতিমা গম্ভীর গলায় বলল, না করলেও জানি।

    আমার উপন্যাসে আমি অল্প কয়েকটা চরিত্র নিয়ে আসব। যেমন, আমার পরিবারের লোকজন। বাইরের মানুষ হিসেবে থাকবেন শুধু আহসান সাহেব এবং আমার বান্ধবী প্রতিমা। আহসান সাহেব আমার বাবার বন্ধু। বাবা আরমানিটোলা স্কুলে তাঁর সঙ্গে পড়তেন। স্কুলে কিছু কিছু ছেলেদের বিশেষ বিশেষ নামে ডাকা হয়। আহসান সাহেবকে ডাকা হতো মার্বেল নামে। কারণ তিনি স্কুলে যেতেন পকেটভর্তি মার্বেল নিয়ে।

    আপনারা নিশ্চয়ই একটু অবাক হচ্ছেন, কারণ আমি বাবার বন্ধুকে চাচা না বলে আহসান সাহেব, আহসান সাহেব বলছি। এর কারণ হচ্ছে, আমি ওনাকে বিয়ে করব। চমকে গেলেন না? আমার উপন্যাসের এইটাই সবচেয়ে বড় চমক। এই চমকটা শেষের দিকে আসবে। আমি যে তাঁকে বিয়ে করব বলে ঠিক করেছি এই বিষয়টা আহসান সাহেব নিজেও জানেন না। যেদিন জানবেন সেদিন তিনিও চমক খাবেন। যাই হোক, আহসান সাহেব সম্পর্কে বলি।

    চৌধুরী আহসান উদ্দিন।
    বয়স : ৫৫
    রাশি : বৃশ্চিক।
    উচ্চতা : পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি
    ওজন : জানি না।
    গাত্রবর্ণ : শ্যামলা
    পেশা : ইঞ্জিনিয়ার।
    (একসময় ছিলেন, এখন ঘরে বসে সময় কাটান। বই পড়েন।)।
    বিশেষ চিহ্ন : বাঁ চোখের ভুরুর ওপর কাটা দাগ।
    চুলের বর্ণ : কালো।
    চোখের বর্ণ : কালো
    বৈবাহিক অবস্থা : (সমস্যা আছে)….
    ধর্ম : ইসলাম।

    বৈবাহিক অবস্থার জায়গায় আমি লিখেছি, সমস্যা আছে। আসলে কোনো সমস্যা নেই। ভদ্রলোকের স্ত্রী রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছেন। ভদ্রলোক নিজেই। গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হুড়মুড় করে গাড়ির ওপর একটা ট্রাক উঠে গেল। তার স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে মারা গেলেন। তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। অনেকদিন হাসপাতালে ছিলেন। এখনো সামান্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। স্ত্রী মারা যাওয়ায় তিনি যে খুব দুঃখিত হয়েছেন তা আমি মনে করি না। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি কখনো। গল্প করেন না। স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ পড়ান না বা ফকির খাওয়ান না। বেচারির একটা ছবি অবশ্যি তাদের শোবার ঘরে আছে। সেখানে এই মহিলা স্বামীর হাত ধরে সমুদ্র দেখছেন। ভদ্রমহিলার মুখ খুশি খুশি, কিন্তু তার স্বামী অর্থাৎ আহসান সাহেব মুখ বেজার করে আছেন। ছবিতে তাকে দেখে মনে হয় তাঁর প্রচণ্ড বাথরুম পেয়েছে। এই মুহূর্তে বাথরুমে যাওয়া প্রয়োজন। নয়তো দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।

    আহসান সাহেবের বৈবাহিক বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই, তারপরেও আমি কেন লিখলাম, সমস্যা আছে? এর একটা কারণ আছে। একদিন আমি ছাদে গিয়েছি আচারের বৈয়াম আনার জন্যে। আমার মার আচার বানানোর ব্যাপার। আছে। তিনি হেন বস্তু নেই যার আচার বানান না। আমাদের বাসার ছাদে সব সময় ত্রিশ থেকে চল্লিশটা, আচারের বৈয়াম থাকে। এর মধ্যে তিতা করলার আচারও আছে। মার আচারের বিষয়ে পরে গুছিয়ে বলব। এখন আহসান সাহেবের বৈবাহিক সমস্যাটা বলে শেষ করি।

    উনার স্ত্রী মারা যাওয়ার আগের কথা।

    আমি ছাদে গিয়ে দেখি আহসান সাহেব মোবাইল টেলিফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছেন। বেশ জোরে জোরেই কথা বলছেন। আমি পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি।.উনি আস্তে বললেও শুনতে পেতাম। আমার কান খুব পরিষ্কার। কেউ। ফিসফিস করে কথা বললেও আমি শুনতে পাই। আহসান সাহেবের টেলিফোনের কথাবার্তা এ রকম—

    আহসান সাহেব : আপনাকে তো একবার বলেছি। একই কথা রিপিট করে কী হবে?

    ওপাশ থেকে : (শোনা যাচ্ছে না। তবে অনেকক্ষণ ধরে কথা)।

    আহসান সাহেব : আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ না করে কিছু বলব না।

    ওপাশ : (অল্প সময় কথা)

    আহসান সাহেব : আমাকে অবশ্যই রেনুকার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    ওপাশে : (কান্নার মতো শব্দ)

    আহসান সাহেব : স্টপ ক্রায়িং প্লিজ। তোমাকে মনে রাখতে হবে, রেনুকাকে আমি ভালোবাসি বা না বাসি, তার সঙ্গে দীর্ঘদিন বাস করছি।

    ওপাশ : (কী বলল বোঝা গেল না। আহসান সাহেবের বিরক্ত মুখ থেকে ধারণা করি–কথাগুলো তার পছন্দ হচ্ছে না।

    আহসান সাহেব : তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। পেশেন্স।

    ওপাশ : (মনে হচ্ছে টেলিফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। কারণ আহসান সাহেব কান থেকে টেলিফোন নামিয়ে বিরক্তমুখে টেলিফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন।)

    এই সময় আমি স্টেজে ঢুকে পড়লাম। অর্থাৎ উনার কাছে গেলাম। আমি মাঝে মাঝে এই ধরনের বাক্য লিখব। শুরুতে বুঝতে অসুবিধা হলেও পরে ঠিক হয়ে যাবে।

    আহসান সাহেব আমাকে দেখে বললেন, হ্যালো!

    আমি জবাব না দিয়ে হাসলাম। হাসার সময় মাথা সামান্য কাত করে চিন. ডাউন করে রাখলাম। মেয়েদের এই অবস্থায় সবচেয়ে সুন্দর লাগে। আমি নিজে নিজে এই তথ্য বের করি নি। ইন্ডিয়ান একটা ম্যাগাজিনে পড়েছি। ম্যাগাজিনের নাম সানন্দা। সেখানে ছবি তোলার সময় কী করতে হবে তাও লেখা আছে। ছবি তোলার সময় চীজ বলা যাবে না। জিভের আগা দিয়ে তালু ছুঁয়ে রাখতে হয়। জিভের আগা দিয়ে তালু ছুঁয়ে রাখলে মুখের চামড়া রিলাক্সড হয়। ছবি ভালো আসে। আমি দুভাবেই ছবি তুলে দেখেছি, কোনো বেশকম হয় না। তবে একটায় গালের চামড়া সামান্য ফুলে থাকে। অন্যটায় থাকে না।

    আহসান সাহেব বললেন, তারপরে লিপি কী সমস্যা?

    না, আমি বললাম, কোনো সমস্যা নেই।

    আমার কাছে এসেছ? হ্যাঁ। বলো কী করতে পারি? আমার সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করতে পারেন।

    এখন সম্ভব না। আমি একটি জরুরি টেলিফোনের জন্যে অপেক্ষা করছি। কাজেই গেট লস্ট, অর্থাৎ হারিয়ে যাও।

    উনার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখে পানি এসে গেল। চোখে পানি এলে চট করে মুখ সরিয়ে নিতে হয় না। তাতে চোখে আরও বেশি করে পানি জমে। আমি একটা টেকনিক বের করেছি, এই টেকনিকে চোখে জমে থাকা পানি সঙ্গে

    সঙ্গে শুকিয়ে যায়। কেউ বুঝতেই পারে না যে চোখে পানি এসেছিল। এই টেকনিক ব্যবহার করে আমি চোখের পানি শুকিয়ে ফেলে বললাম, আমি এসেছি :

    জবা ফুলের ইংরেজি কী জানতে। ইংরেজিটা বললেই চলে যাব।

    জবা ফুলের ইংরেজি তো তোমাকে একবার বলেছি। ভুলে গেছি। বেঙ্গলি টু ইংলিশ ডিকশনারি দেখে নাও। তাহলে আর ভুলবে না।

    এই সময় তার মোবাইল টেলিফোন বেজে উঠল। মনে হয় জরুরি টেলিফোন, চলে এসেছে। আমি মুখ ভোঁতা করে চলে এলাম। তিনি টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত। ছিলেন বলে আমার ভোতা মুখ দেখতে পেলেন না।

    আমি বেঙ্গলি টু ইংলিশ ডিকশনারি নিয়ে বসেছি। জবা ফুলের ইংরেজি নাম খুঁজছি। জবা ফুলের ইংরেজি আমি জানি–চায়না রোজ।

    তারপরেও ডিকশনারি ঘাটছি, কারণ আহসান সাহেব আমাকে ডিকশনারি দেখতে বলেছেন। তিনি আমার গুরু। তিনি যা বলবেন তা-ই আমি করব। তিনি যদি বলেন, লিপি, ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ো তো।

    আমি বলব, জি আচ্ছা স্যার। এক্ষুনি লাফ দিচ্ছি। আপনি শুধু বলবেন ওয়ান টু থ্রি। থ্রি বললেই ঝপ দেব।

    আমাকে ডিকশনারি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে দেখে বাবা বললেন, কী করছিস? আমি বললাম, ডিকশনারি দেখছি। জবা ফুলের ইংরেজি কী দেখছি।

    বাবা আমার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকালেন। এর অর্থ জবা ফুলের ইংরেজি তিনি জানেন না। বাবাকে আমি খুব ভালো করে চিনি। জবা.. ফুলের ইংরেজি তিনি যদি জানতেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বলতেন, জবা বাংলাদেশের অতি কমন এক ফুল। এর ইংরেজি হলো, চায়না রোজ। তুমি এটা। জানো না, আশ্চর্য! স্কুলে তোমাদের কী শেখায়? ক্লাস ফাঁইভ-সিক্সের একটা মেয়ে যা জানে, তুমি তো তাও জানো না।

    আমার ডিকশনারি দেখা শেষ হলো।

    বাবা বললেন, পেয়েছ?

    আমি বললাম, হুঁ, চায়না রোজ।

    বাবা বললেন, জবা বাংলাদেশের অতি সাধারণ একটা ফুল। তুমি এর . ইংরেজি জানো না শুনে দুঃখ পেলাম। চায়না রোজ অর্থাৎ নাক চ্যাপা চিনাদের গোলাপ। একটা খাতায় দশবার লেখো চায়না রোজ। যাতে আর ভুলে না যাও।

    আমি খাতা নিয়ে দশবার চায়না রোজ না লিখে লিখলাম–বাবা নিজেকে যতটা চালাক ভাবেন তিনি তত চালাক না। জবা ফুলের ইংরেজি তিনি জানতেন না। ভাব করেছেন যেন জানেন।

    বাবা বললেন, লিখেছ?

    আমি বললাম, হুঁ।

    বাবা বললেন, এক মিনিটে লেখা হয়ে গেল? কী লিখেছ দেখাও। যদি দেখি দশবারের কম তাহলে খবর আছে।

    আমি গম্ভীর মুখে বাবাকে খাতা দেখালাম। তিনি হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ তাকালেন। চিৎকার চেঁচামেচি করলেন না। তিনি খাতার পাতা উল্টাতে : থাকলেন। আমি ছাদে চলে গেলাম। জবা ফুলের ইংরেজি শিখেছি, এটা আহসান সাহেবকে জানানো দরকার।

    আহসান সাহেব বললেন, ডিকশনারি দেখেছ?

    আমি বললাম, হুঁ। চায়না রোজ।

    আহসান সাহেব বললেন, জবার আরেকটা নাম আছে। Shoe flower. অর্থাৎ জুতা ফুল। জবা ফুল জুতা কালো করার কালিতে ব্যবহার হয় বলে এই নাম। মনে থাকবে?

    থাকবে।

    জবার বোটানিকেল নাম হলো Hibiscus rosa. পৃথিবীর পাঁচটি দেশের জাতীয় ফুল জবা। এই মুহূর্তে আমার দুটা দেশের নাম মনে পড়ছে। একটা হলো মালয়েশিয়া, আরেকটা উত্তর কোরিয়া।

    এই হলো আহসান সাহেব। হেন জিনিস নাই যে ইনি জানেন না। তাঁর বিপরীত মেরুতে বাবার অবস্থান। তিনি কিছুই জানেন না। কোনো কিছু জানার ব্যাপারে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। বাবার সঙ্গে আহসান সাহেবের বন্ধুত্ব কীভাবে। হয়েছে কে জানে! আহসান সাহেব দিনরাত বই পড়েন। বাবা সব মিলিয়ে দুটা বই পড়েছেন—শরৎচন্দ্রের দেবদাস আর যাযাবরের দৃষ্টিপাত। তিনি কথায় কথায় এই দুটা বইয়ের কথা বলেন। দৃষ্টিপাত থেকে কোটেশান দেন। যেমন, বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ।

    বাবা তার বন্ধু আহসান সাহেব সম্পর্কে বলেন, বিস্তর পড়াশোনা করেছে। তাতে লাভ কী? যা হয়েছে এর নাম বুকিশ নলেজ। বুকিশ নলেজ কোনো কাজে আসে না।

    আমার মাঝে মাঝে বাবাকে বলতে ইচ্ছা করে, তোমার নলেজ কোন লাইনে? তোমার নলেজ, কীভাবে কাজে এসেছে?

    মেয়ে হয়ে বাবাকে এইসব কথা বলা যায় না। সন্তান ও পিতার সম্পর্ক নিয়ে বাবা মাঝে মাঝে হাদিস থেকে উদাহরণও দেন। সেদিন বললেন, আল্লাহ যদি। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করার অনুমতি দিতেন সেটা হতো, সন্তান। পিতাকে সেজদা করবে। এখন বুঝে দেখো পিতার মর্যাদা। মাতার চেয়ে পিতা টেন টাইমস ওপরে।

    হাদিস জানা ভালো কোনো আলেম পাওয়া গেলে তাকে জিজ্ঞেস করতাম– এই হাদিস সঠিক কি না। বাবা প্রায়ই হাদিস আওড়ান। আমার ধারণা, বেশিরভাগই বানানো। তাকে আমি কখনো হাদিস-কোরান পড়তে দেখি নি। বাবার বলা হাদিসগুলি আসলেই যাচাই করা দরকার।

    আমাদের স্কুলের যে হুজুর আপা আছেন তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো না। সম্পর্ক ভালো থাকলে তাকে জিজ্ঞেস করতাম। হুজুর আপার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে কীভাবে সেটা বলি। গত রোজার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলাম,

    আপা! জ্বিনরা কি খাবার খায়?

    আপা বললেন, খায়। তারা মানুষের মতোই এক ধরনের প্রাণী। তাদেরও . . খাদ্যের প্রয়োজন আছে।

    আমি বললাম, তারা কী খাবার খায়?

    আপা বললেন, মৃত পশুর হাড়, কয়লা, এইসব তাদের খাদ্য।

    আমি বললাম, আপা, জ্বিনদের মধ্যে মুসলমান আছে?

    আপা বললেন, আছে। আমাদের নবিজি (সঃ)-এর কাছে অনেক জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে।

    আমি বললাম, তাহলে তারা রোজা নিশ্চয় রাখে?

    আপা বিরক্ত হয়ে বললেন, এইসব জানতে চাচ্ছ কেন?

    আমি মুখ শুকনা করে বললাম, আপা, আমি একটা উপন্যাস লিখছি। সেখানে ধার্মিক জ্বিনের একটি চরিত্র আছে। এইজন্য জানতে চাচ্ছি।

    হুজুর আপা হেড মিসট্রেসের কাছে আমার নামে নালিশ করলেন। হেড মিসট্রেস আমাকে ডেকে পাঠালেন। কঠিন গলায় বললেন, লিপি, তোমার সমস্যা কী?

    আমি বললাম, আপা, আমার কোনো সমস্যা নেই।

    তুমি নাকি জ্বিনদের নিয়ে উপন্যাস লিখছ?

    জ্বিনদের নিয়ে কিছু লিখছি না। তাদের বিষয়ে কিছু জানি না। আমার উপন্যাসে একজন ধার্মিক জ্বিনের চরিত্র আছে। এইজন্য জানতে চাচ্ছিলাম।

    হেড মিসট্রেস বললেন, তোমার নামে অনেক কমপ্লেন আছে। তোমার বাবাকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবে। আগামী সোমবার চারটার পর আসতে বলবে।

    আমি বললাম, জি আচ্ছা।

    খারাপ মেয়ে আমি স্কুলে রাখব না। টিসি দিয়ে বের করে দেব। বুঝেছ? জি আপা।

    আপা বললেন, বাথরুমে অতি নোংরা কিছু ছবি আঁকা হয়েছে। সেগুলি কি তোমার আঁকা?

    আমি বললাম, জি-না। তবে কে এঁকেছে আমি জানি। (আসলেই জানি। ছবিগুলি এঁকেছে প্রতিমা।)

    আপা চোখ মুখ সরু করে বললেন, বলো কে এঁকেছে?

    আমি বললাম, কোনো এক দুষ্ট জ্বিন এঁকেছে। দুষ্ট জ্বিনরা এই ধরনের কাজ করে।

    আপা বললেন, সোমবার অবশ্যই তুমি তোমার বাবাকে নিয়ে আসবে।

    .

    সোমবারে বাবা হেড মিসট্রেসের সঙ্গে দেখা করলেন। বেশ অনেকক্ষণ থাকলেন। আমি বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করতে লাগলাম। যদি আমার ডাক পড়ে! ডাক পড়ল না। বাবা মুখ শুকনা করে বের হলেন। আমরা দুজন রিকশা নিয়ে ফিরছি। বাবা _ বললেন, তুমি নাকি জ্বিন নিয়ে বই লিখছ?

    আমি বললাম, জ্বিন নিয়ে বই কি লিখব? ওদের বিষয়ে কি জানি?

    বাবা বললেন, সেটাও তো কথা। মা শোনো, শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের মর্যাদা। এই বিষয়েও নবিজির একটা হাদিস আছে।

    আমি বললাম, হাদিস শুনতে ইচ্ছে করছে না। আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে, আইসক্রিম কিনে দাও। দুটা ললি আইসক্রিম কিনে আনো। দশ টাকা দাম।

    রাস্তার মাঝখানে আইসক্রিম কোথায় পাব?

    ওই যে আইসক্রিমের গাড়ি। দুটা কিনবে। আমি দুই হাতে দুটা আইসক্রিম নিয়ে খেতে খেতে যাব।

    বাবা বললেন, হেড মিসট্রেস ঠিকই বলেছেন, তোমার মাথায় সমস্যা আছে।

    বাবা আইসক্রিম কিনে আনলেন। আমি একটা তার হাতে দিয়ে বললাম, একটা তুমি খাবে আরেকটা আমি খাব। বাবা মেয়ে দুজন আইসক্রিম খেতে খেতে যাব।

    আমি যা ভেবেছিলাম তা-ই হয়েছে। বাবা আইসক্রিম খেতে খেতে যাচ্ছেন। তার চোখে পানি এসে গেছে। আমার উপন্যাসে এরকম একটা দৃশ্য থাকবে। একটা না, অনেকগুলি দৃশ্যই থাকবে।

    বাবা শার্টের হাতায় চোখ মুছলেন। আমি বললাম, কাঁদছ কেন?

    বাবা বললেন, কাঁদব কী জন্যে? চোখ উঠবে। চোখ ওঠার আগে আগে চোখ, দিয়ে পানি পড়ে।

    ও আচ্ছা।

    বাবা বললেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সবার চোখ উঠেছিল। এই রোগের তখন নামই হয়ে গেল, জয় বাংলা রোগ।

    আমি বললাম, বাবা! তুমি মুক্তিযুদ্ধের গল্প ফাঁদার চেষ্টা করছ। রিকশায় যেতে যেতে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনব না।

    বাবা কিছু বললেন না। আমি লিখতে ভুলে গেছি–বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। সিলেট এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। তাদের কমান্ডার ছিলেন সালেহ চৌধুরী। বাবার প্রধান আনন্দ মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা। এই আনন্দ তিনি তেমন পান না। কারণ আমরা তাঁকে গল্প শুরু করতে দেই না। শুরুতেই থামিয়ে দেই।

    বারার আইসক্রিম শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তার হাতে কাঠি রয়ে গেছে। বাচ্চাদের মতো হাতে কাঠি নিয়ে বসে আছেন।

    বাবা!

    হুঁ।

    তোমাদের টেকেরঘাট অপারেশনের গল্পটা বলো তো।

    সত্যি শুনতে চাও?

    হুঁ। চাই।

    গল্প তো শুনতে চাও না?

    এখন চাই।

    অপারেশন আসলে টেকেরঘাটে হয় নি। হয়েছে, জলকলসে।

    ও আচ্ছা।

    আমি কোন সেক্টরে ছিলাম তা তো জানো?

    জানি। পাঁচ নম্বর সেক্টরে।

    ঘটনা হলো কী, ভোরবেলায় সালেহ চৌধুরী সাহেব হঠাৎ বললেন, সবাই তৈরি হও। লঞ্চে ওঠো। লঞ্চের নামটা কি আগে বলেছি?

    বলেছ। লঞ্চের নাম পাখি।

    বাবা গল্প শুরু করলেন। আমি এখন আর তার কথা শুনছি না। অন্যকিছু ভাবছি। এই কাজটা আমি খুব ভালো পারি।

    ক্লাসে আপারা যখন বক্তৃতা শুরু করেন, আমি অন্য কথা ভাবি।

    এখন রিকশায় একই ব্যাপার ঘটছে। বাবা আইসক্রিমের কাঠি হাতে নিয়ে উত্তেজিত গলায় কথা বলে যাচ্ছেন, আর আমি ভাবছি প্রতিমার কথা।

    প্রতিমা নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এই প্রজেক্টে আমাদের অংক আপাকে মাসে দুটা করে উড়ো চিঠি ছাড়া হচ্ছে। আমাদের অংক আপার চেহারা রাক্ষসীদের মতো। মুখভর্তি হলুদ চোখা চোখা দাঁত। বয়স চল্লিশের ওপরে। এখনো বিয়ে হয় নি। এই রাক্ষসীকে কে বিয়ে করবে!

    অংক আপা স্কুলে সেজেগুজে আসেন। ঠোঁটে কড়া লিপস্টিক দেন। গ্রামের মেয়েদের মতো গালে রুজ মেখে গাল লাল করেন। কী কুৎসিত যে তাঁকে দেখায়! আমার ধারণা সাজগোজের পর তিনি আয়নায় নিজেকে দেখেন না। দেখলে কখনোই সাজতেন না।

    অংক আপাকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তার নমুনা (হুবহু হবে না। একবার মাত্র পড়েছি। প্রতিমা চিঠি পাঠিয়েছে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে।)–

    ওগো আমার ময়না সোনা। লুতু লুতু পুতু পুতু।

    তুমি যে কমলা আর বেগুনি ফুলের ছাপের শাড়ি পরে স্কুলে এসেছ, দূর থেকে দেখে আমি মোহিত হয়েছি। কী সুন্দর যে তোমাকে লাগছে চাঁদ সোনা! লুতু লুতুপুতু পুতু।.. .

    আচ্ছা ভালো কথা, তোমার ডান স্তনটা কি বাঁয়ের চেয়ে বড়? আমার সে রকমই মনে হয়। তুমি ডান দিকে সামান্য ঝুঁকে হাঁট। ডান স্তনের অতিরিক্ত ভারেই কি এই অবস্থা?

    চিঠির কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আমি শব্দ করে হেসে ফেললাম। বাবা অবাক হয়ে বললেন, হাসছ কেন? আমি তো হাসির কোনো কথা বলি নাই। আমাদের একজন সহযোদ্ধা পেটে গুলি খেয়েছে। এখন মরে তখন মরে অবস্থা। এই কথা শুনে হাসির কী আছে বুঝলাম না।

    আমি বললাম, বাবা সরি।

    বাবা বললেন, সরি পরে, আগে বলো তুমি হেসেছ কেন? চুপ করে থাকলে হবে না। জবাব দিতে হবে। এমন কি হতে পারে যে, আমি কী বলছি তা তুমি শুনছ না। অন্য কিছু ভাবছ?

    হতে পারে, তবে তোমার প্রতিটি কথা আমি শুনেছি।

    বলো দেখি, টেকেরঘাট সাব সেক্টরে আমাদের উপদেষ্টার নাম কী?

    আমি বললাম, মেজর জগজিৎ সিং বাথ।

    বাবার চেহারা কোমল হয়ে গেল। তিনি বললেন, গুড গার্ল।

    বাবার কথা সত্যি না। আমি গুড গার্ল না। আমি ব্যাড গার্ল। কেমন ব্যাড গার্ল উদাহরণ দেব? আচ্ছা দেই।

    একজন ব্যাড গার্লের লক্ষণ হচ্ছে, সে তার খুব কাছের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। এই যে বাবার সঙ্গে করলাম। মার সঙ্গে তো সব সময় করছি। সবচেয়ে বেশি আহসান সাহেবের সঙ্গে। দাবা খেলা নিয়ে প্রতারণা। আহসান। সাহেবের ধারণা তিনি খুব ভালো দাবা খেলেন। আসলে তা না। আমার সঙ্গে জেতার তার কোনোই সম্ভাবনা নেই, অথচ আমি ইচ্ছা করে হেরে গিয়ে তাঁকে আনন্দ দেই। খেলায় জিতে তিনি জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা বলেন। এইসব কথা শুনতে আমার ভালো লাগে। তার জ্ঞানী কথার নমুনা—

    লিপি, তোমাকে দেখেই মনে হচ্ছে তুমি খুব মন খারাপ করেছ। ফুটবল খেলায় হেরে যাওয়ার অর্থ শক্তির কাছে হার। দাবায় হার মানে বুদ্ধির কাছে হার। মন খারাপ হবেই। এটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

    আমি প্রতিবারই বলি, আপনার কাছে তো আমি হারবই।

    তিনি বলেন, আগেই হার স্বীকার করে থাকবে না। চেষ্টা করবে। তোমার Opening খারাপ না। End game খারাপ। দাবার মূল খেলা হচ্ছে end game. কিছু কৌশল আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব। ঠিক আছে?

    জি। ঠিক আছে।

    ববি ফিসারের নাম শুনেছ?

    জি-না।

    আমেরিকান দাবা খেলোয়াড়। Legand. দাবার জগতে হুলুস্থুল করে গেছেন। End game এর ওপর লেখা তার একটা বই আছে। আমার কাছ থেকে নিয়ে পড়বে।

    আচ্ছা।

    এখন তোমাকে শেখাব Fools Mate। কী করে বোকা খেলোয়াড়কে তিন দানে হারানো যায়।

    তিনি আমাকে Fools Mate শেখালেন। আমি মনে মনে হাসলাম। আমি জানি, তিন দানে তাকে হারানো যাবে না, কিন্তু কুড়ি দানে অবশ্যই যাবে।

    দাবার গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোরশেদের সঙ্গে আমি এই পর্যন্ত তিনবার খেলেছি। প্রথম খেলায় তিনি জিতেছেন, বাকি দুটায় ড্র হয়েছে। প্রথমটায় উনি জিততে পারতেন না। একজন গ্র্যান্ড মাস্টারের সঙ্গে খেলছি, এই মানসিক উত্তেজনাই আমার কাল হয়েছে।

    দাবা খেলা থেকে আমার শিক্ষা হচ্ছে, মানসিক উত্তেজনা একপাশে সরিয়ে খেলতে হবে। দৃষ্টি থাকবে বোর্ডের সেন্টারের দিকে। সেন্টারের দখল যেন কখনো হাতছাড়া না হয়। ক্যাসলিং করে রাজা লুকানো যাবে না। যুদ্ধের মাঠে। লুকানোর প্রশ্ন ওঠে না।

    আমার উপন্যাসের নায়িকা হবে একজন দাবাড়ু। দাবার প্রতিভা সে কখনোই প্রকাশ করবে না। সব প্রতিভা প্রকাশ করতে নেই।

    আমার উপন্যাসে নায়ক একজন, তবে নায়িকা থাকবে দুজন। একজন। আমি, অন্যজন প্রতিমা। আমি নায়ককে আকর্ষণ করব বুদ্ধি দিয়ে, প্রতিমা করবে শরীর দিয়ে।

    উপন্যাস লেখার বিষয়ে আমি প্রতিমার সঙ্গে আলাপ করেছি। সে খুব উৎসাহী। আমাকে বলল, শুরুতে একটা সেক্স সিন দিয়ে দে। তাহলে পাবলিক খাবে।

    আমি বললাম, সেক্স সিন আমি লিখতে পারব না।

    প্রতিমা বলল, আমি লিখে দেব। যে পড়বে সে-ই ট্যারা হয়ে যাবে।

    আহসান সাহেবের সঙ্গে আমি প্রতিমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। এক ছুটির দিনে প্রতিমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।

    প্রতিমা তাকে দেখে ভক্তি-শ্রদ্ধায় গলে যাওয়ার মতো ভাব করল। একেবারে পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম।

    আমি বললাম, এর নাম প্রতিমা। আমার প্রিয় বন্ধু। আপনার কথা অনেক। বলেছি তো, সে আপনাকে দেখতে এসেছে।

    আহসান সাহেব প্রতিমার মাথায় হাত রেখে বললেন, কেমন আছ গো মা?

    আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, আহসান সাহেব কখনো আমাকে মা ডাকেন না! কোনো পুরুষ যদি কোনো মেয়ের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, তাকে সে কখনো মা ডাকবে না। ইহা সত্য, ইহা সত্য, ইহা সত্য।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article অরণ্য – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }