Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প95 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. সোমবার আমার জন্যে অশুভ

    সোমবার আমার জন্যে অশুভ। শুধু অশুভ বললে কম বলা হবে, ভয়ংকর ভয়ংকর অশুভ। এমন কোনো সোমবার যায় নি যেদিন আমার জীবনে খারাপ কিছু ঘটে নি।

    আজ যে সোমবার মনেই ছিল না। মা যখন বললেন, লিপি, তোর ঘরটা ছেড়ে দিতে হবে। তখনই মনে হলো, আজ সোমবার না তো! মাকে বললাম, আজ কি সোমবার?

    মা বললেন, সোমবার মঙ্গলবার জানি না। তুই ঘরের জিনিসপত্র বের করে ফেল।

    আমি গলা স্বাভাবিক করে বললাম, কেন?

    মা আনন্দিত গলায় বললেন, তোর বড় মামা এই ঘরে থাকবে।

    তাঁর না হোটেলে ওঠার কথা?

    নিজের বোনের বাড়ি থাকতে সে হোটেলে কেন উঠবে?

    বড় মামার আমাদের বাসায় এসে ওঠার কারণটা বলি। রামপুরায় তাঁর বাড়ি আছে। পাঁচ কাঠা জমির ওপর বাড়ি। অনেক দিন থেকেই ডেভেলপারের সঙ্গে বড় মামা দেনদরবার করছিলেন। তারা পুরনো বাড়ি ভেঙে দশতলা বাড়ি করবে। তারা কিছু নেবে, বড় মামা কিছু পাবেন। ডেভেলপারদের সঙ্গে দরে বনছিল না। এখন মনে হয় বনেছে।

    আমি বললাম, আমি কোথায় থাকব?

    তুই পুবের ঘরে থাকবি।

    পুবের ঘরটা তো স্টোররুম।

    জিনিসপত্র সরিয়ে ফেললেই সুন্দর ঘর হবে। আমি গুছিয়ে দেব। জানালায় নতুন পর্দা দেব।

    মার আনন্দে ঝলমল মুখ দেখে আমি নিজের কষ্ট ভুলে গিয়ে এমন ভাব করতে থাকলাম যেন বড় মামা আসায় আমিও খুশি। আনন্দ রাখার জায়গা পাচ্ছি না। এমন অবস্থা।

    এখন মার খুশির কারণ ব্যাখ্যা করি। ডেভেলপাররা যে ফ্ল্যাটবাড়ি করবে মা সেখান থেকে ওয়ারিশান সূত্রে ফ্ল্যাট পাবে। আমার দুই মামা। ছোট মামা কলেজে পড়ার সময় কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন। এখন বড় মামা। ও মা এই দুজনই শুধু নানাজানের সম্পত্তির মালিক।

    বড় মামার দুই ছেলে এবং এরা দুজনই অস্ট্রেলিয়ায়। ইন্ডিয়ান কী এক রেস্টুরেন্টে কাজ করে। মামিও ছেলেদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। মামা-মামির সম্পর্ক ভয়ানক খারাপ।

    আমি, মা আর সকিনা মিলে বিকেলের মধ্যে মামার ঘর গুছিয়ে ফেললাম। বাবা নিজেই প্লাস্টিক পেইন্ট করলেন। এইসব কাজ তিনি ভালো পারেন।

    বড় মামা সন্ধ্যাবেলায় একটি এসি নিয়ে উপস্থিত হলেন। যে ঘরে তিনি থাকবেন সেখানে এসি বসবে। তিনি গরম সহ্য করতে পারেন না। এসির সঙ্গে মিস্ত্রি এসেছে। সে এক ঘণ্টার মধ্যে এসি বসিয়ে দিল।

    আমার পরিচিত ঘরটা চোখের সামনে অন্যরকম হয়ে গেছে। ঘরের দেওয়াল হালকা নীল। এই গরমেও ঘর শীতকালের মতো ঠান্ডা। বিছানায় নতুন চাঁদর। একটা কোলবালিশও কেনা হয়েছে। খাটের পাশে বেডসাইড কার্পেট দেওয়া হয়েছে। নতুন দেয়ালঘড়ি লাগানো হয়েছে।

    বড় মামা তার ঘর দেখে সন্তোষ প্রকাশ করলেন। মাকে বললেন, সব ঠিক আছে। আজ আর উঠব না। ঘরে কাঁচা রঙের গন্ধ। গন্ধটা মরুক। নতুন একটা ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি কিনব। আগেরটা নষ্ট হয়ে গেছে। ছবি ওঠানামা করে।

    মা বলল, ভাইজান, আর কী কী লাগবে বলুন, আমি ব্যবস্থা করব।

    বড় মামা বললেন, তোকে কিছুই ব্যবস্থা করতে হবে না। ব্যবস্থা যা করবার আমিই করব। এখন আমার কিছু কথা মন দিয়ে শোন, সকালে আমি চার-পাঁচটা পত্রিকা পড়ি। পত্রিকার নাম দিয়ে যাব, হকারকে পত্রিকা দিতে বলবি। পত্রিকার বিল আমি দেব।

    মা বললেন, আপনি কেন দেবেন?

    বড় মামা বললেন, তোদের অবস্থা আমি জানি, এইজন্যে আমি দিব। শুধু পত্রিকার বিল না, মাসে এক হাজার করে টাকা দিব। মাসের এক তারিখে সারা মাসের চাল ডাল তেল মসলা কিনে দেব।

    বাবা বললেন, ভাইজান, এইসব কী বলেন?

    পেইংগেস্টরা যে রকম থাকে আমি সেই রকম থাকব। এই বিষয়ে আর কোনো কথা শুনব না।

    বড় মামা পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করলেন। সেখান থেকে এক হাজার টাকার দুইটা চকচকে নোট বের করে বাবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ঘর ঠিক করেছ, খরচপাতি হয়েছে, এই টাকাটা রাখো।

    মা বাবার দিকে তাকিয়ে চোখে ইশারা করলেন টাকা না রাখতে, বাবা টাকা রাখলেন। এমন ভাব করলেন যেন চোখের ইশারা বুঝতে পারেন নি।

    বড় মামা চলে যাওয়ার পর বাবা আমাকে নিয়ে বারান্দায় গেলেন, গলা নামিয়ে বললেন, ডেভেলপারের সঙ্গে তোমার মামার কী চুক্তি হয়েছে সেটা জানা দরকার। ডেভেলপাররা চুক্তির সময় ক্যাশ টাকা দেয়। সেই টাকায় তোমার মার অংশ আছে। সেই টাকা কোথায়?

    আমি বললাম, এইসব আমাকে কেন বলছ? আমার সঙ্গে তো ডেভেলপারদের কোনো চুক্তি হয় নি।

    বাবা বললেন, তোমার সঙ্গে শেয়ার করছি। তুমি আবার তোমার মাকে কিছু বলতে যেয়ো না। তোমার মা ভাববে আমি লোভী।

    আমি বললাম, তুমি তো লোভীই। লোভী না হলে এমন চিন্তা করতে না।

    বাবা বললেন, বাস্তব চিন্তা করছি। তোমার বড় মামা ধুরন্দর প্রকৃতির মানুষ। শেষে দেখা গেল তোমার মা কিছুই পেল না।

    আমি হাই তুলতে তুলতে বললাম, কিছু না পেলে কী আর করা!

    আমার এই হাই নকল। আমি ইচ্ছা করলেই ঘনঘন হাই তুলতে পারি। কোনো আলাপ পছন্দ না হলে আমি হাই তুলি।

    বাবা যে বললেন, বড় মামা ধুরন্দর প্রকৃতির, এটা ঠিক আছে। একটা ঘটনা বললেই তার প্রকৃতি বোঝা যাবে। আমার নানিজানের প্রচুর গয়না ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর বড় মামা আমার মাকে বললেন, মৃত্যুর সময় মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা নষ্ট হয়ে যায়। অস্বাভাবিক কাজকর্ম করে।

    মা বললেন, এই কথা কেন বলছ ভাইজান?

    বড় মামা বললেন, মার কর্মকাণ্ড দেখে বাধ্য হয়ে বলছি।

    মা কী করেছে?

    বড় মামা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, যেদিন মারা গেলেন সেদিন সকালে তোর ভাবিকে ডেকে বললেন, “বৌমা, আমার সব গয়না তোমাকে দিয়ে গেলাম। তুমি দিয়ো তোমার ছেলের বৌকে।

    তোকে মা এত আদর করত, অথচ তোর কথা একবার মনেও করল না। আশ্চর্য মহিলা!

    মা বলল, মাকে নিয়ে খারাপ কিছু বলবে না ভাইজান। মা যা ভালো মনে করেছে করেছে।

    বড় মামা বললেন, কাজটা যে অনুচিত হয়েছে সেটা বলব না? যাই হোক, আমি তোর ভাবিকে বলেছি, কিছু গয়না ফরিদাকে দিয়ো। মায়ের স্মৃতিচিহ্ন। তবে মেয়েমানুষ তো, গয়না হাতছাড়া করবে না।

    এই হলো আমার বড় মামা। আমার ধারণা বড় মামা একদিন বলবে, ফরিদা! তোকে বলা হয় নাই, রামপুরার জমিটা বাবা আমাকে লিখে দিয়ে গেছেন। কাজেই তোর সেখানে অংশ নাই। তারপরেও তোকে একটা ফ্ল্যাট আমি দেব।

    যদি এরকম কিছু ঘটে, তাহলে আমি বড় মামাকে টাইট দেব। কীভাবে টাইট দেব তা এখনো ঠিক করি নি।

    সন্ধ্যাবেলা আহসানের ঘরে গেলাম।

    আহসান আহসান বলতে অস্বস্তি লাগছে, আমি আহসান সাহেবে ফিরে যাই। উনার ঘরে কোনো অজুহাত ছাড়া যাওয়া ঠিক না, আমি এক কাপ চা নিয়ে গেলাম।

    আহসান সাহেব বললেন, আমি দিনে দুই কাপের বেশি চা খাই না। আজকের দিনের দুকাপ চা খাওয়া হয়ে গেছে।

    আমি বললাম, এটা সাধারণ চা না। এটা তুলসি চা। চা পাতার সঙ্গে তুলসি পাতা জ্বাল দিয়ে বানানো। (কথাটা মিথ্যা, সাধারণ চার মধ্যে আমি ধনিয়া পাতা দিয়েছি। ধনিয়া চা বলা যেতে পারে।)

    আহসান সাহেব বললেন, তুলসি চা তো আমি আরও খাই না। তুমি খেয়ে ফেলো।

    আমি আচ্ছা বলে চায়ে চুমুক দিলাম। উনি বললেন, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো কাজে এসেছ। কাজটা বলো।

    আমি বললাম, আপনার মোবাইল থেকে কি একটা টেলিফোন করতে পারব? (আমার কোথাও টেলিফোন করার দরকার নেই। উনার মোবাইল কিছুক্ষণের জন্য প্রয়োজন। আসমা নামের একটা মেয়ে প্রায়ই তাকে টেলিফোন করে। উনিও করেন। আমার ওই মহিলার টেলিফোন নম্বর প্রয়োজন।)

    আহসান সাহেব বললেন, মোবাইল ফোন হলো ব্যক্তিগত ফোন। এটা দেওয়া যাবে না। ল্যান্ডফোনে টেলিফোন করো।

    আমি বললাম, জি আচ্ছা।

    উনি বললেন, আমার কথা শুনে মুখ ভোঁতা করে ফেললে কেন?

    আমি বললাম, আপনার কথা শুনে মুখ ভোঁতা করি নি। অন্য কারণে মুখ ভোঁতা হয়েছে।

    অন্য কারণটা কী?

    উপন্যাসটা লিখতে পারছি না। গল্পটা গোছানো আছে, কিন্তু লেখা আসছে না।

    গল্পটা কী?

    প্রেমের গল্প। বয়স্ক একজন মানুষ খুবই অল্প বয়সী একটা মেয়ের প্রেমে পড়ে। বুড়োটা নানান কর্মকাণ্ড করে মেয়েটাকে তার প্রেমের ব্যাপার বোঝাতে চায়, কিন্তু বোঝাতে পারে না।

    কী রকম কর্মকাণ্ড?

    এটা নিয়ে এখনো চিন্তা করি নি। আচ্ছা যাই।

    টেলিফোন না করেই চলে যাচ্ছ?

    ও আল্লাহ! ভুলে গেছি।

    আমি ল্যান্ডফোন হাতে নিয়ে বসে আছি। কাকে টেলিফোন করব বুঝতে পারছি না। কাছের কারও টেলিফোন নম্বর আমার মনে নেই। আমি কিছুক্ষণ এলোমেলোভাবে নম্বর টিপে কারও সঙ্গে কথা বলছি এমন গলায় বললাম, মৃন্ময়ী! আমি লিপি। দুপুরে তোর ওখানে যাওয়ার কথা ছিল, যেতে পারি নি, সরি। আমার বড় মামা আমাদের বাসায় থাকতে আসছেন। তার জন্য ঘর গুছাচ্ছিলাম। উনি থাকবেন আমার ঘরে। আমি কোথায় থাকব? এখনো ঠিক করি নি। আমাদের একটা স্টোররুমের মতো আছে, সেখানে থাকতে পারি। আচ্ছা রাখি, কাল দেখা হবে।

    ফোন রেখে চলে আসছি, আহসান সাহেব বললেন, তোমাদের ফ্ল্যাটের দুইটা ঘর আমার অফিসের জিনিসপত্র দিয়ে বোঝাই, তার একটা খালি করে দিতে বলি, তুমি সেখানে থাকো।

    আমি বললাম, না।

    তিনি বললেন, না কেন?

    আমি একজন লেখিকা, এইজন্য না। ক্রিয়েটিভ মানুষ কারও দয়া নেয় না।

    আহসান সাহেব শব্দ করে হাসলেন। আমি বললাম, এইভাবে হাসছেন কেন?

    উনি বললেন, তুমি স্টোররুমে থাকবে, এটা আমাকে শোনাবার জন্য মিছিমিছি টেলিফোনে কথা বলেছ। ল্যান্ডফোনে সাতবার বোতাম টিপেছ।

    তোমার কথা শুনে যখন ঘরের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি, তখন আবার লেখিকা সাজছ, এইজন্য হাসছি।

    আমি মুখ ভোঁতা করে বের হয়ে এলাম। আজ সোমবার বলেই যথেষ্ট লজ্জা। পেয়েছি। তবে লজ্জার সঙ্গে কিছুটা আনন্দও পেয়েছি। উনি আমাকে যথেষ্ট মন দিয়ে লক্ষ করেছেন, তা না হলে আমি যে সাতবার বোতাম টিপেছি তা ধরতে পারতেন না। আনন্দ পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। হয়তো আরও ঘটবে।

    .

    আহসান সাহেবের লোকজন একদিনে আমার ঘর ঠিক করে দিল। ঘরে নতুন রঙ করা হলো। এসি লাগানো হলো। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, নতুন একটা বাইশ ইঞ্চি ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি চলে এল। মা অবাক হয়ে বলল, লিপি, ব্যাপার কী রে?

    আমি বললাম, জানি না কী ব্যাপার। মনে হয় উনি আমার প্রেমে পড়েছেন। বুড়োরা প্রেমে পড়লে প্রেমিকার মন ভুলাবার জন্যে প্রচুর খরচপাতি করে।

    মা আঁতকে উঠে বললেন, ছিঃ ছিঃ কী বলিস তুই! তওবা কর। ফেরেশতার মতো মানুষ। তোকে নিজের মেয়ের মতো দেখেন। তাকে নিয়ে এত নোংরা কথা। উনার কানে গেলে উনি কী ভাববেন?

    রাত আটটার দিকে বাবা বাসায় এলেন। মা সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে নালিশ করলেন। বাবা বললেন, লিপি! তুই এই ধরনের কথা বলেছিস? ইয়েস অর নো? (বাবা সবসময় আমার সঙ্গে তুমি তুমি করে কথা বলেন। এখন তুই-এ নেমে এসেছেন।)

    আমি বললাম, বলেছি।

    বাবা বললেন, কানে ধর।

    আমি বললাম, কানে ধরব না।

    বাবা বললেন, এত বড় কথা তুই কোন সাহসে বললি?

    আমি বললাম, ইচ্ছা হয়েছে বলেছি।

    আর কখনো বলবি?

    আবার যদি ইচ্ছা হয় বলব।

    তোর মতো দুষ্ট মেয়ে তো আমি বাসায় রাখব না। দুষ্ট মেয়ের চেয়ে শূন্য বাড়ি ভালো। তুই এক্ষণ, এই মুহূর্তে আমার বাসা ছেড়ে চলে যাবি।

    আমি বললাম, Ok.

    বাবা চিৎকার করে বললেন, আবার ইংরেজি বলে? গেট আউট, গেট আউট।

    মা বললেন, এত রাতে কোথায় যাবে?

    বাবা বললেন, সেটা আমার বিবেচ্য না। যেখানে ইচ্ছা যাবে। দুষ্ট মেয়ে আমি পুষব না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি আদর্শ নিয়ে চলি।

    আমি গটগট করে তাদের সামনে থেকে বের হলাম। আহসান সাহেবের ড্রাইভার কিসমতকে বললাম, আমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যান, আপনার স্যার। বলেছে।

    গাড়ি নিয়ে আমি কোথায় গেলাম শুনলে অবাক হবেন, আমি গেলাম লেখক হুমায়ূন আহমেদের ধানমণ্ডির ফ্ল্যাটে।

    দারোয়ান গেটেই আটকাল। আমি বললাম, হুমায়ূন আহমেদ আমার বড় চাচা। শুনেছি উনার শরীর খারাপ, এইজন্যে দেখতে এসেছি।

    দারোয়ান বলল, স্যার তো বাসায় নেই। ম্যাডামকে নিয়ে কোথায় যেন গেছেন।

    আমি বললাম, অসুস্থ শরীর নিয়ে চাচা কোথায় গেলেন? লেখক মানুষ, শরীর নিয়ে তাদের কারবার না, মন নিয়ে তাদের কারবার। যাই হোক, আমি অপেক্ষা করব।

    দারোয়ান দামি গাড়ি দেখেই মনে হয় ছেড়ে দিল। আমি কিসমত ভাইকে বললাম, আমার বাবা-মা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। আমি এখন আপনাকে ছেড়ে দিচ্ছি। আমি আপনার পায়ে পড়ি, আপনি আমাকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছেন বলবেন না। বলবেন, আমাকে রেলস্টেশনে নামিয়ে দিয়েছেন। আমি চাই তাঁরা দুশ্চিন্তা করুক।

    লেখক এবং লেখকপত্নী রাত এগারটার দিকে এলেন। এর মধ্যে আমি বেশ স্বাভাবিকভাবেই আছি। এই বাড়িতে টেলিফোন করলে যে বলত, “স্যার রেস্টে আছেন, তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সে হুমায়ুন আহমেদের পিয়ন, নাম মোস্তফা।

    আমি বললাম, মোস্তফা ভাই, ভাত খাব। ঘরে তেমন কোনো খাবার না করলে ডিম ভেজে দিতে বলুন। গরম ভাত, ডিম ভাজা আর শুকনা মরিচ ভাজা। হুমায়ূন স্যারের পছন্দের খাবার। আমি তাঁর লেখায় পড়েছি।

    মোস্তফা ভাই ডিম ভাজতে গেল। এই ফাঁকে আমি একটা ঘরে ঢুকে পড়লাম। দেখি, লেখকের পুত্র গম্ভীর হয়ে টিভিতে কার্টুন দেখছে। আমি বললাম, তোমার নাম কী? সে বলল, আমাকে বিরাক্ত করবে না।

    আমি বললাম, বিরাক্ত আবার কী?

    সে বলল, বিরাক্ত হলো ডিস্টার্ব।

    তোমার নামটা জানতে পারি?

    নিষাদ।

    নামের অর্থ জানো?

    আমাকে বিরাক্ত করবে না। আমাকে বিরাক্ত করলে আমি লাগ হব। আমার অনেক লাগ।

    ছেলেটা র এর জায়গায় ল বলছে, আবার বিরক্ত বলার সময় র উচ্চারণ করতে পারছে। তার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ গল্প করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সে হাত ধরে আমাকে তার ঘরের বাইরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।

    .

    লেখক এবং লেখকপত্নী ফিরলেন রাত এগারটায়।

    আমি আয়োজন করে ভাত খাচ্ছি, লেখকপত্নী আমাকে দেখে আঁতকে উঠে বললেন, তুমি কে?

    আমি বললাম, আমার নাম মৃন্ময়ী।

    লেখকপত্নী বললেন, আমি তো তোমাকে চিনতে পারছি না। তিনি লেখকের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি একে চেনো?

    লেখক বললেন, না। বলেই তিনি শোবার ঘরে ঢুকে গেলেন। তাঁর মুখ গম্ভীর। মনে হয় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে।

    লেখকপত্নী বললেন, এই বাড়িতে এসেছ কেন? এখানে কী?

    আমি বললাম, আমাকে বাবা বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। রাতটা আপনাদের বাসায় থাকব, ভোরবেলা চলে যাব।

    লেখকপত্নী বললেন, কোথায় যাবে?

    আমি বললাম, এখনো ঠিক করি নি, নাক বরাবর হাঁটা ধরব।

    লেখকপত্নী (তাঁর নাম শাওন) শান্ত গলায় বললেন, তুমি খেতে বসেছ, খাও তারপর আমি নিজে তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আসব। তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলব।

    আমি বললাম, আচ্ছা।

    আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই মহিলা আমাকে শুধু ডিমভাজা আর ডাল দিয়ে খাবার কেন দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে মোস্তফাঁকে ধমক দিলেন। ফ্রিজ থেকে মাং বের করে মাইক্রোওয়েভে গরম করে দিতে বললেন।

    এক পর্যায়ে লেখক আমার পাশের চেয়ারে খেতে বসলেন। তাকে দেওয়া হলো পাতলা খিচুড়ি। তিনি এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। এত রাতে না খাইয়ে তাঁকে কেন ছেড়ে দিল ভেবে আমার লেখকপুত্রের মতো লাগ হয়ে গেল।

    আমি ভেবেছিলাম লেখক সাহেব আমার সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না। পাতলা খিচুড়ি খেয়ে চলে যাবেন। তিনি তা করলেন না। আমার দিকে না তাকিয়ে বললেন, তুমি বলছিলে তোমার নাম মৃন্ময়ী। এটা তোমার আসল নাম না। আসল নাম কী?

    আমি বললাম, আসল নাম না তা কীভাবে বুঝলেন?

    মৃন্ময়ী শব্দটা যেভাবে উচ্চারণ করেছ সেখান থেকে বুঝেছি।

    আমার নাম লিপি।

    এইবার তিনি সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, কেমন আছ লিপি?

    আমি বললাম, ভালো আছি।

    কতটা ভালো?

    অনেকখানি ভালো।

    একটা উপদেশ কি তোমাকে দিতে পারি?

    অবশ্যই পারেন।

    এই মুহূর্তে তোমাকে নিয়ে তোমার বাবা কতটা দুশ্চিন্তা করছেন বুঝতে পারছ?

    পারছি।

    না, পারছ না। এখন যদি তুমি বাসায় উপস্থিত হও, তোমাকে দেখে তোমার বাবা আনন্দে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবেন। খাওয়া শেষ করে গাড়িতে উঠো, শাওন তোমাকে বাসায় দিয়ে আসবে।

    জি আচ্ছা।

    রাত একটায় শাওন ম্যাডাম মোস্তফাঁকে নিয়ে আমাকে পৌঁছে দিলেন। বাবার সঙ্গে তার কোনো কথা হলো না, কারণ বাবা আমাকে দেখেই মাগো কোথায় ছিলি বলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

    আহসান সাহেব আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে গেলেন। তাঁর মুখ ভয়ংকর গম্ভীর।

    আহসান সাহেব বললেন, তুমি যে কত বড় অন্যায় করেছ তা কি বুঝতে পারছ?

    আমি বললাম, আমি কোনো অন্যায় করি নি। বাবা আমাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন, কাজেই বের হয়ে গেছি।

    বাইরে কোথাও না গিয়ে তুমি আমার এখানে চলে আসতে।

    আমি বললাম, আপনার এখানে কেন আসব? আপনি আমার কেউ না।

    আমি তোমার কেউ না?

    না।

    আহসান সাহেব বললেন, যার কাছে গিয়েছ সেও তো তোমার কেউ না।

    আমি বললাম, উনি একজন লেখক, আমিও একজন লেখিকা, এই পরিচয়ে গিয়েছি। লেখকে লেখকে ধূল পরিমাণ।

    বাবার সঙ্গে কী নিয়ে তোমার ঝগড়া হলো সেটা বলো।

    আমি শান্ত ভঙ্গিতে বললাম, আমি মাকে বলেছি আপনি আমার প্রেমে পড়েছেন। ঠাট্টা করে বলেছি। মা ঠাট্টাটা সত্যি ভেবে নিয়ে বাবার কাছে লাগিয়েছেন।

    আমি তোমার প্রেমে পড়েছি–এই কথা বলেছ?

    হ্যাঁ।

    এমন একটা Absurd কথা তুমি বলতে পারলে?

    ঠাট্টা করে বলেছি।

    জীবনটা ঠাট্টা তামাশার ব্যাপার না। এটা মনে রাখবে।

    জি আচ্ছা মনে রাখব। এখন কি বাসায় যেতে পারব?

    যাও। রেস্ট নাও। মাথা ঠান্ডা করো।

    আমি বাসায় গেলাম। পরদিন থেকে সব আগের মতো হয়ে গেল, শুধু আহসান সাহেবের ড্রাইভার কিসমতের চাকরি চলে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article অরণ্য – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }