Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প56 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. কয়েকটি বাঙ্গালী ভদ্রপরিবার

    শহরের যে পাড়াটায় আমাদের বাস তাহা শহর-বাজার হইতে বেশ একটু দূরে বলিয়া সকল সময়েই বেশ নির্জন এবং কোলাহলশূন্য। আমাদের কয়েকটি বাঙ্গালী ভদ্রপরিবার লইয়া এই ক্ষুদ্র নিভৃত পাড়াটি গঠিত। স্থানটিও খুব মনোরম। পাড়ার গৃহগুলিকে দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া দীর্ঘ ঋজু পথ চলিয়া গিয়াছে। পথের দুইধারে বড় বড় পুরাতন নবাবী আমলের গাছ পথটিকে ছায়ায় ঢাকিয়া রাখিয়াছে। বাড়িগুলির পিছনও বিস্তর পতিত জমির উপর ঐরূপ গাছ সুনিবিড় কাননের সৃষ্টি করিয়াছে।

    ছেলেবেলায় এই তরুবীথিকার মাথার উপর কত স্তব্ধ দ্বিপ্রহরে কত জ্যোৎসাপ্লাবিত নিশিতে কোকিল বারবার কুহরিয়া উঠিয়াছে শুনিয়াছি। কত অন্ধকার রাত্রে বাড়ির পিছনকার বনের দিকে তাকাইতে ভয় করিয়াছে। এখন সেই সব কথা মনে পড়ে। বৃদ্ধ লম্বিতজট বটগাছগুলাকে পথের পাশে সারি সারি দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিয়া মনটা শতবর্ষ পূর্বেকার কত অসংলগ্ন স্বপ্নে বিজড়িত হইয়া যায়।

    বাড়ির পিছনে ফাঁকা জমি পড়িয়া থাকায় আর কিছু না হোক, বাড়ির মেয়েদের খুব সুবিধা হইয়াছিল। তাঁহারা স্বচ্ছন্দে সকল সময় খিড়কি দিয়া এবাড়ি ওবাড়ি যাতায়াত করিতে পারিতেন।

    এবার আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি পরিবারের পরিচয় দিব। ক্ষিতীন্দ্রবাবু পূর্বে সাবজজ ছিলেন। পঞ্চাশ বৎসর বয়সে তিনি কার্যে অবসর গ্ৰহণ করিয়া আজ সাত বৎসর এখানে ঘরবাড়ি করিয়া বাস করিতেছেন। আমাদের বাড়ির কয়েকখানা বাড়ি পরেই তাঁহার গৃহ।

    ক্ষিতীন্দ্রবাবুর এক পুত্র অনিল, সেই জ্যেষ্ঠ। তাহার পরে দুই কন্যা-সরস্বতী ও বীণা। ক্ষিতীনবাবু যদিও সাত বৎসর কার্যে অবসর লইয়াছেন তথাপি তাঁহার স্বাস্থ্য খুব ভালই আছে। চুল এখনো অর্ধেক পাকে নাই। তাহার প্রধান কারণ বোধহয় এই যে তিনি এ–কায় বৎসর সাংসারিক সকল আলোচনা পরিত্যাগ করিয়া কেবল বেদান্ত চচা করিতেছেন। এ বিষয়ে তাঁহার জ্ঞান অসামান্য।

    ক্ষিতীনবাবু যখন প্রথম এখানে আসেন তখন সরস্বতীর বয়স আট বৎসর এবং বীণার পাঁচ। প্রথম হইতেই আমাদের সঙ্গে ক্ষিতীনবাবুর পরিবারবর্গের খুব মাখামাখি হইয়া গেল। কিছুদিনের মধ্যেই মা ঠিক করিয়া ফেলিলেন যে বীণাকে তাঁহার বধু করিবেন। মার বিশ্বাস তাঁহার ফুটফুটে ছেলের পাশে এই টুকটুকে মেয়েটি দিব্য মানাইবে। অতএব সকলেই আমাকে বীণার ভবিষ্যৎ বর বলিয়া জানিত। এবং এ পর্যন্ত কোনদিক হইতেই এবিষয়ে কোন ওজর-আপত্তি উঠে নাই। সরস্বতী বেচারীর এ পর্যন্ত বর লাভ ঘটিয়া উঠে নাই। কেন জানি না। মেয়েটি বেশ-সময় সময় মনে হয় আমারটির মতই যেন সে ভাল। বলা বাহুল্য, ইহাকে দেখিয়াই আমার দাদাটি পুষ্পধন্বার কোপে পড়িয়াছেন।

    আন্দাজ পৌনে আটটার সময় গিয়া সরস্বতীদের বাড়ির পিছনকার তেঁতুল গাছে উঠিলাম। গাছটা বড় নয়—অপেক্ষাকৃত খবাকৃতি। গাছে উঠিয়া জমি হইতে প্রায় দশ ফুট উর্ধের্ব একটা মজবুত ডালের দুইদিকে পা ঝুলাইয়া বসিলাম। তারপর পিঠ আর একটা ডালে হেলান দিয়া নিশ্চিন্ত মনে সিগারেট টানিতে লাগিলাম। দাদা চিঠি পাইয়াছেন দেখিয়াছি-অতএব নিশ্চয় আসিবেন। পাছে অস্থিরতা হেতু কিছু আগে আসিয়া পড়েন এই ভয়ে সকাল সকাল পাহারা আরম্ভ করিলাম। দাদাকে দেখিবামাত্র কিরূপে তাঁহার ঘাড়ে লাফাইয়া পড়িব তাহা ঠিক করিয়া রাখিলাম। অমূল্য নিশ্চয় নিকটেই কোনখানে লুকাইয়া উৎকৰ্ণভাবে আমার শিসের প্রতীক্ষ্ণ করিতেছে। ফাঁদ প্রস্তুত, এখন শিকার আসিলেই হয়।

    কিয়ৎক্ষণ এইরূপ অন্ধকারে বসিয়া মশা তাড়াইতেছি এমন সময় পদশব্দ শুনিয়া চমকিয়া উঠিলাম। দেখি দুইজন লোক আসিয়া গাছের তলায় কয়েকটা চেয়ার রাখিয়া গেল। কিছু বুঝিতে পারিলাম না। পরীক্ষণেই ক্ষিতীনবাবু তাঁহার পুত্রকন্যা ও পত্নীর সহিত আসিয়া চেয়ারগুলি অধিকার করিয়া বসিলেন। আমি প্ৰমাদ গণিতে লাগিলাম। কি ভয়ানক! কে জানিত যে ইহারা এই সময় এই গাছের তলায় আসিয়া বসেন। যদি এই সময় ইহারা থাকিতে থাকিতে আমার বুদ্ধিমান দাদাটি আসিয়া দর্শন দেন তাহা হইলে কি হইবে ভাবিয়া আমি ঘামিয়া উঠিলাম। আমি যদি এই গাছের উপর ধরা পড়ি তাহা হইলে অবস্থােটা কিরূপ দাঁড়াইবে মনে করিয়া আমার সবঙ্গে কাঁটা দিল। অসংখ্য মশা অবাধে আমাকে কামড়াইতে লাগিল, আমি হাত নাড়িয়া তাহাদের তাড়াইতে পারিলাম না। কি জানি, যদি শব্দ হয়। আড়ষ্ট হইয়া বসিয়া রহিলাম-ভয়ে তালু পর্যন্ত শুকাইয়া কাঠ হইয় গেল। নিজের দুরবস্থা দেখিয়া নিজেরই কান্না আসিতে লাগিল।

    গৃহিণী বিস্তর গল্প করিতে লাগিলেন। সংসারের কথা, বাহিরের কথা, মেয়েদের বিবাহের কথাও দুএকবার তুলিলেন। অনিল মাঝে মাঝে মার কথায় যোগ দিতে লাগিল।

    রাত্রি যখন পৌনে নয়টা তখন ক্ষিতীনবাবু শেষ এক হাই তুলিয়া উঠিয়া গেলেন। যাইবার সময় অনিলকে বলিয়া গেলেন, অনিল, তুমি এখন থেকে একটু করে বেদান্ত পড়।

    ক্ষিতীনবাবুর সঙ্গে গৃহিণী এবং অনিলও উঠিয়া গেল। আমি মনে মনে কতকটা আশ্বস্ত হইলাম।

    আর সকলে চলিয়া গেলে বীণা সরস্বতীর পাশের চেয়ারে গিয়া বসিল। কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, দিদি, তুমি আজকাল কবিতা লেখা। আমায় দেখাও না তো

    সরস্বতী। দেখাই না?

    গভীর অভিমানের সুরে বীণা বলিল, কই দেখাও।

    সরস্বতী অপরাধীর মত চুপ করিয়া রহিল। দিদি দোষ স্বীকার করিল দেখিয়া বীণার আর রাগ রহিল না। সে হাসিয়া বলিল, বুঝেছি, বরের কথা লেখা হয়। কিনা। ভালবাসার কথা যে বর ছাড়া আর কারও বিষয় হইতে পারে না। তাহা বীণা বিলক্ষণ জনিত।

    সরস্বতী বলিল, মাথা নেই মাথাব্যথা। বলিস তো তোর বরের কথা লিখে দিতে পারি।

    একটু চুপ করিয়া থাকিয়া বীণা বলিল, হুঁঃ, কি লিখবে? তাহার কণ্ঠস্বরে লজ্জার সহিত কৌতূহলের যে একটা দ্বন্দ্ব চলিতেছিল গাছের উপর থাকিয়াও আমি তাহা বুঝিতে পারিলাম। সরস্বতী বলিল, প্ৰথমেই তাঁর রূপ-বৰ্ণনা করা যাবে। তার খানিকটা উদাহরণ শোন–

    মুণ্ডখানি কেশমাত্ৰ হীন রে
    ইন্দ্রলুপ্ত অতীব মসৃণ রে
    ব্যোমবৎ দিগন্তে বিলীন রে!
    টিকিট বিশাল বৈজয়ন্তী রে
    বর্ণ জিনি আসামেরি দন্তী রে
    রাতকানা এমনি কিম্বদন্তী রে।

    প্রকৃতপক্ষে আমার দিগন্তব্যাপী টাকিও নাই, টিকিও নাই, আসামের হাতির মত বৰ্ণও নয় এবং রাতকানার কিম্বদন্তীটা নিতান্তই ভিত্তিহীন। সরস্বতীর বর্ণনাটা যে আগাগোড়াই একটা মস্ত ভুল তাহা বোধকরি কাহাকেও বুঝাইয়া বলিতে হইবে না। কারণ যেখানে মুণ্ডখানি কেশমাত্রহীন, সেখানে বিশাল বৈজয়ন্তীর মত টিকির স্থান কোথায়। টাক কিছু টিকির জন্য সংস্থান রাখিয়া পড়ে না।

    বীণা বরের এইরূপ বর্ণনা শুনিয়া চটিয়া গেল। কাহারই বা সহ্য হয়! বলিল, ওই রকম বুঝি? ভারি তো জান তুমি

    সরস্বতী বলিল, না সবই তুই জানিস। তোর বর বলে শুধু তুই দেখিস আমরা তো দেখতে পাই না।–আচ্ছা বীণা, তাকে তো সেই কবে দেখেছিস, আজকাল তো বাড়ির ভেতরে আসেও না। কি করে জানালি যে সে ওইরকম হয়ে যায়নি।

    বীণা বলিল, বাঃ, রোজ বাড়ির সুমুখ দিয়ে কলেজ যায়।

    সরস্বতী। আর তুমি বুঝি লুকিয়ে লুকিয়ে তার মুখখানির ওপর দৃষ্টি দাও? দাঁড়াও না, কালই আমি তাকে সাবধান করে দিচ্ছি যেন এ রাস্তা দিয়ে আর কলেজ না যায়।

    ধরা পড়িয়া গিয়া বীণা দিদির গলা জড়াইয়া ধরল। তাহার বুকে মুখ লুকাইয়া বলিল, না ভাই দিদি! তাহার বোধহয় বিশ্বাস যে সরস্বতী সত্যসত্যই আমাকে ও-পথ দিয়া কলেজ যাইতে বারণ করিবে। করিলেও সে বারণ কতদূর গ্রাহা হইত বলা নিষ্প্রয়োজন।

    সরস্বতী বলিল, বেশ ভাই দিদি, বরং তাকে বলে দেব যেন রবিবারেও কলেজ যায়।

    রবিবারে কলেজ না থাকা যে কতদূর ক্ষতিকর তাহা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিতে লাগিলাম।

    সরস্বতী বলিল, আচ্ছা বীণা, তুই যে এখন ভারি বর বর করে লাফাচ্ছিস (সরস্বতীর সস্নেহ কৌতুকের স্বর আরও স্নেহ-কোমল হইয়া আসিল) তুই যখন বিয়ে হয়ে বরের কাছে চলে যাবি, আমার জন্যে মন কেমন করবে না?

    ঠোঁটফুলানো সুরে উত্তর হইল, করবে না বুঝি? মুহূৰ্তপূর্বের হাস্যোজ্বল চক্ষু যে জলে টলটল করিতেছে রাত্রির অন্ধকারেও তাহা আমার কাছে গোপন করিতে পারিল না।

    সরস্বতী ছোটবোনের গলা জড়াইয়া ধরিয়া একটি চুম্বন করিল। তারপর সেই ভাবে উভয়ে উভয়ের গলা জড়াইয়া বসিয়া রহিল। তাহাদের মনের মধ্যে যে গভীর ভালবাসার স্রোত বহিতেছিল কথা কহিয়া কেহ তাহাতে বাধা দিল না।

    কিয়ৎক্ষণ এইরূপে থাকিয়া বীণা হঠাৎ সজোরে বলিয়া উঠিল, দিদি, একটা কাজ করলে হয়। না। কথাটা এরূপভাবে বলিয়া ফেলিয়াই আবার লজ্জায় চুপ করিয়া গেল।

    সরস্বতী বলিল, কি কাজ?

    কোনরূপে লজ্জা দমন করিয়া বীণা থামিয়া থামিয়া বলিতে লাগিল, তুমি যদি ওর দাদাকে-ঐ যিনি নতুন এসেছেন তাঁকে বিয়ে কর—তাহলে কিন্তু—

    সরস্বতী হাসিল, বলিল, তাহলে কিন্তু তোমার মুণ্ডু। তুই ভারি বোকা বীণা।

    এরূপ অপবাদেও বীণা দমিয়া গেল না, বুদ্ধির পরিচয় দিয়া বলিল, কোন দিদি, দেখতে তো মন্দ নয়।

    সরস্বতী বলিল, তোর বরের চেয়ে ভাল!

    কথাটা বীণা স্বীকার করিল কিনা জানি না, কিন্তু বলিল, তবে কেন বিয়ে কর না।

    সরস্বতী দুষ্টামির হাসি হাসিয়া বলিল, আমাদের সুর্য্যুয়া চাকরও তো তোর বরের চেয়ে দেখতে ভাল, তবে তাকেই বিয়ে করি না কেন?

    তুলনা শুনিয়া বীণা খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। যতই তাহার সুর্য্যুয়া চাকরের সমতল নাসা, সম্মার্জনীর ন্যায় গুম্ফ এবং আলুচেরা চোখ মনে পড়িতে লাগিল ততই তাহার হাসির উৎস উছলিয়া উঠিতে লাগিল। শেষে অনেক কষ্টে হাসি থামাইয়া একটু স্থির হইয়া বলিল, না দিদি, তোমায় ওঁকে বিয়ে করতেই হবে। তাহলে কেমন আমরা একসঙ্গে থাকবো।

    আমার কিন্তু ধৈৰ্যচ্যুতি ঘটিতেছিল। ইচ্ছা হইতেছিল গাছ হইতে নামিয়া গিয়া বলি, মহাশয়াদ্বয়, আপনাদের সৎপরামর্শ আমি শুনিয়া ফেলিয়াছি। এখন শীঘ্র এ স্থান হইতে পলায়ন করুন, নহিলে আসন্ন বিপদ।

    সরস্বতী বীণার কথার উত্তরে হাসিয়া বলিল, আচ্ছা আচ্ছা, সে হবে এখন। মা ডাকছেন শুনতে পাচ্ছিস?

    বীণা জিজ্ঞাসা করিল, তুমি যাবে না?

    সরস্বতী বলিল, তুই যা, আমি যাচ্ছি।

    বীণা চলিয়া গেল। ঘাসের উপর তাহার পদশব্দ মিলাইয়া গেলে পর সরস্বতী চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। তারপর সেই তৃণাবৃত ভূমির উপর নতজানু হইয়া বসিয়া যুক্ত করে গাঢ়স্বরে ডাকিল, ভগবান, বীণার আমার মঙ্গল কর। ছোট বোনটি যেন তার স্বামীকে পেয়ে সুখে থাকে।

    গাছের উপর আমি স্তম্ভিত। আর একটু হইলেই পদস্থলন হইয়া পড়িয়া যাইতাম।

    এমন সময় পদশব্দ। অনর্থ সম্ভাবনায় আমি শিহরিয়া উঠিলাম। অতি সাবধানে পা টিপিয়া টিপিয়া কে ঠিক গাছতলায় আসিয়া দাঁড়াইল। বুঝিতে বাকি রহিল না যে দাদা আসিয়াছেন। তাঁহার গায়ে কালো কোট, পায়ে বার্ণিস পাম্পসু। পরিধানে কালাপেড়ে ধুতি—আগাগোড়া অভিসারের সাজ।

    সরস্বতী চকিতে উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, কে?

    দাদা একবার কাশিয়া গলা সাফ করিয়া একটু ইতস্তত করিয়া বলিলেন, আমি।

    তীব্ৰকণ্ঠে সরস্বতী বলিল, কে তুমি?

    দাদা সশঙ্কে উত্তর করিলেন, আমি–কেদার।

    সাশ্চর্যে সরস্বতী জিজ্ঞাসা করিল, আপনি এখানে-এত রাত্ৰে! বিস্ময় তাহার স্বাভাবিক লজ্জাকে পর্যন্ত অভিভূত করিয়া ফেলিয়াছিল।

    দাদা দ্বিধাকম্পিত স্বরে বলিলেন, কেন, তুমি–আপনি আমায় ডাকেননি?

    সরস্বতী শুধু বলিল, আমি? আপনাকে?

    দাদা ভীত হইলেন, বলিলেন, তবে এ চিঠি কার? চিঠি?

    দেখি! বলিয়া সরস্বতী অগ্রসর হইয়া দাদার হাত হইতে চিঠিখানা লইল। একটু দাঁড়াইয়া কি ভাবিল। তারপর চিঠি লইয়া ধীরপদে চলিয়া গেল। দাদা দাঁড়াইয়া রহিলেন, নিবাত নিষ্কম্প দীপশিখেব।

    আমার অবস্থা দাদার অপেক্ষাও শোচনীয় যেহেতু আমি গাছের উপর। শিথিল হস্ত হইতে গাছের ভাল ছাড়িয়া গেল। আমি পড়িয়া যাইতেছিলাম, হঠাৎ মনে হইল পড়াটা ভাল দেখায় না। তাই পতনকে লম্ফনে পরিণত করিয়া দাদার ঘাড়ের উপর পড়িলাম। দাদা সবেগে আমাকে ঠেলিয়া ফেলিয়া ছুটলেন। কিন্তু তখনি চেয়ারে লাগিয়া আছাড় খাইলেন। গড়াইতে গড়াইতে উঠিয়া আবার ছুটিলেন। এবার ভাগ্যের পরিহাস আরও নির্মম। একটা প্রাচীর তুলিবার জন্য খানিকটা কাদা তৈয়ারি করা ছিল। দাদা সেই কাদায় পড়িয়া গড়াগড়ি খাইলেন। কিন্তু ইহাতেও তাঁহার পলায়নস্পৃহা কমিল না। কর্দমমুক্ত হইয়া দ্রুতগতিতে পলায়ন করিলেন।

    অমূল্য শব্দ শুনিয়া আসিয়া পড়িয়াছিল। তাহাকে দু কথায় ঘটনাগুলি বুঝাইয়া দিয়া তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিয়া দেখি দাদা আঙ্গুল হইতে নাকের ডগা পর্যন্ত কাদা মাখিয়া বসিয়া আছেন। এক পাটি জুতা ফিরিয়াছে—তাহাও ছিন্নভিন্ন। বড় বৌদিদি জল দিয়া কাদা ধুইয়া দিতেছেন, কিন্তু যত না কাজ করিতেছেন তাহার চতুর্গুণ হাসিতেছেন।

    দাদা রাগিয়া বলিতেছেন, তুমি তো হাসবেই বৌদি।

    কি যাতনা বিষে জানিবে সে কিসে
    কতু আশীবিষে দংশেনি যারে!

    আমার মত অবস্থা হলে বুঝতে পারতে।

    এমন সময় আমি গিয়া উপস্থিত, বলিলাম, একি দাদা, তোমার এ মুর্তি হল কি করে?

    বৌদিদি কষ্টে হাসি থামাইয়া বলিলেন, ষাঁড়ে তাড়া করেছিল! বলিয়াই আবার অপরিমিত হাসিতে লাগিলেন।

    আমি বলিলাম, ষাঁড়ে তাড়া? বল কি? আমাদের পাড়ার সেই কালো ষাঁড়টা বুঝি? ওটা যখন ভাল থাকে তখন বেশ থাকে। কিন্তু রাগলে আর রক্ষে নেই। আচ্ছা দাদা, ষাঁড়ে তাড়া করেছিল তো একটু আস্তে দৌড়লে না কেন? Shakespeare বলেছেন, They stumble that run fast!

    দাদা দেখিলেন রাগ করা বৃথা। ক্রোধের শিখাকে যতই তিনি প্ৰদীপ্ত করিবার চেষ্টা করিতেছিলেন, আমাদের হাসির উচ্ছাসে ততই তাহা নিভিয়া যাইতেছিল। নিরুপায় হইয়া দাদা ঔদাসীন্য অবলম্বন করিলেন। বলিলেন, He laughs at scar that never felt a wound. তোমাকে ষাঁড়ে তাড়া করলে দেখব কেমন Shakespeare-এর উপদেশ মনে থাকে।

    আমি বলিলাম, দুঃখের বিষয় আমায় কখনো ষাঁড়ে তাড়া করবে। কিনা তা কেউ জানে না। যদিই বা করে তুমি হয়তো তখন উপস্থিত থাকবে না। যাক, কিন্তু তুমি তখন কেন একটা গাছের ওপর উঠে পড়লে না?

    দাদা একে আমাদের বিদ্রুপবাণে একটু কাবু হইয়া পড়িয়াছিলেন, তাহার উপর মনের মধ্যে ঘোরতর একটা উত্তেজনা ছিল। তিনি তাড়াতাড়ি বলিয়া ফেলিলেন, গাছ থেকেই তো ষাঁড়টা– বলিতে বলিতে থামিয়া গেলেন।

    আমি বলিলাম, কি রকম, গাছ থেকে ষাঁড় নামল? আজকাল কি ষাঁড়গুলো গাছে উঠতে আরম্ভ করেছে নাকি?

    বৌদিদি কিন্তু এতক্ষণ হাসিয়া মাটিতে লুটাইয়া পড়িতেছিলেন।

    দাদা বেফাঁস কথাটা বলিয়া ফেলিয়া বিষম বিপদে পড়িয়াছিলেন। তাঁহার সবঙ্গে ঘোর অস্বস্তির লক্ষণসকল স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছিল। তোয়ালে দিয়া গা মুছিতে মুছিতে বৌদিদির উদ্দেশ্যে বলিলেন, —

    তোমরা হাসিয়া বহিয়া চলিয়া যাও
    কুলকুল কল নদীর স্রোতের মত।

    শুধু হাসতেই জান।

    কৌতুকছটা উছলিছে চোখে মুখে–

    কেবল চালাকি করতেই পার। বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা তো আর কিছুই হল না। বলিতে বলিতে পৃষ্ঠ প্ৰদৰ্শন করিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }