Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দিনের শেষে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প89 Mins Read0
    ⤷

    ০১. জহির লাজুক মুখে বলল

    জহির লাজুক মুখে বলল, স্যার আজ একটু সকাল-সকাল বাড়ি যাব, একটা জরুরি কাজ।

    বলতে গিয়ে কথা জড়িয়ে গেল, গলার স্বর অন্যরকম শোনাল। কথার মাঝখানে খুখুক করে কয়েকবার কাশল, নাকের ডগা ঈষৎ লালচে হয়ে গেল। হেডক্যাশিয়ার করিম সাহেব অবাক হয়ে তাকালেন, ব্যাপারটা কি? জহির মাথা নিচু করে। অস্পষ্ট গলায় দ্বিতীয়বার বলল, একটা জরুরি কাজ।

    করিম সাহেবের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হল। জরুরি কাজে বাড়িতে যাবে এটা বলতে গিয়ে লজ্জায় ভেঙে পড়ার অর্থ তিনি ধরতে পারলেন না।

    জহির অবশ্যি এনিতেই লাজুক ধরনের ছেলে। লজ্জার সঙ্গে আরো একটা অস্বস্তিকর জিনিস তার মধ্যে আছে, যার নাম বিনয়। সেই বিনয়ও বাড়াবাড়ি বিনয়। হাইকোর্টের সামনে একবার জহিরের সঙ্গে দেখা, সে সাইকেলে করে কোথায় যেন যাচ্ছিল। করিম সাহেবকে দেখে আচমকা ব্রেক কষে নেমে পড়ল। বাকি পথটা সাইকেল টেনে পেছনে-পেছনে আসতে লাগল। করিম সাহেব বললেন, তুমি পেছনেপেছনে আসছ কেন? যেখানে যাচ্ছ যাও। জহির বলল, অসুবিধা নেই স্যার। করিম সাহেব বুঝতে পারলেন এটা হচ্ছে জহিরের বিনয়ের একটা নমুনা। তিনি হেঁটে যাবেন আর জহির সাইকেলে তাকে পাস করে যাবে তা সে হতে দেবে না। তিনি বাধ্য হয়ে একটা রিকশা নিলেন, এবং জহিরের ওপর যথেষ্ট বিরক্ত হলেন। তিনি মিতব্যয়ী মানুষ। অকারণে টাকা খরচ করতে তাঁর ভালো লাগে না।

    ক্যাশ সেকশনে জহির তিন বছর ধরে আছে। এই তিন বছরে জহিরের বিখ্যাত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর অনেক পরিচয় হয়েছে। প্রতিবারই তিনি বিরক্ত হয়েছেন। শুরুতে তাঁর মনে হয়েছিল জহিরের লজ্জা এবং বিনয় দুইই এক ধরনের ভড়ং, যা প্রথম কিছুদিন থাকে; তারপর আসল মূর্তি বের হয়। ইউনিয়ন-টিউনিয়ন করে গায়ে চর্বি জমে যায়; তখন মুখের সামনে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে মেয়েমানুষ বিষয়ক রসিকতা করে হা-হা করে হাসে। জহিরের বেলায় এখনো তা হয় নি। কে জানে হয়ত তার চরিত্রই এরকম। অফিস ছুটির দশ মিনিট আগেও যদি তার হাতে একটা মোটা ফাইল ধরিয়ে বলা হয়, জহির, হিসেবটা একটু দেখে দাও তো। সে তৎক্ষণাৎ বলবে, জ্বি আচ্ছা স্যার। বিনয়ী এবং ভদ্রমানুষেরা কাজ-কর্মে সুবিধার হয় না। তারা সাধারণত ফাঁকিবাজ হয়। জহির সে রকম নয়। ক্যাশের কাজ-কর্ম সে শুধু যে বোঝে তাই নালোই বোঝে। করিম সাহেব তার ওপর অনেকখানি নির্ভর করেন।

    আজ অফিসে কাজের চাপ আছে। ইয়ার এডিং, হিসাবপত্ৰ আপটু ডেট করতে হবে। করিম সাহেব, অডিট ঝামেলা করতে পারে এমন সব ফাইলগুলো আলাদা করে রেখেছিলেন, ভেবেছিলেন, ছুটির পরও কাজ করবেন। ক্ৰস চেকিং করবে জহির। অথচ বেছে-বেছে আজই তার সকাল-সকাল বাড়ি যেতে হবে। কোনো মানে হয়?

    করিম সাহেব বললেন, তুমি কি এখনি চলে যেতে চাও?

    জহির হাত কচলাতে লাগল। তার কানের ডগাও এখন ঈষৎ লাল। করিম সাহেব বিস্মিত হয়ে বললেন, ব্যাপার কী? জহির প্রায় অস্পষ্ট গলায় বলল, কিছু না স্যার।

    বাড়িতে কোনো অসুখ-বিসুখ?

    জ্বি না।

    বলতে কি কোনো অসুবিধা আছে?

    একটা বিয়ের ব্যাপার স্যার।

    বিয়ে? কার বিয়ে?

    জহির জবাব দিল না, ঘামতে লাগল। করিম সাহেব অবাক হয়ে বললেন, তোমার বিয়ে?

    ঠিক বিয়ে না স্যার। মেয়ে দেখা।

    তোমার জন্য?

    জহিরের মাথা আরো নিচু হয়ে গেল। করিম সাহেব হাসিমুখে বললেন, এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? এটা তো ভালো কথা। ইয়াং ম্যান বিয়ে করে সংসারী হবে, এ তো আনন্দের কথা। আজকাল ছেলেপুলেরা বিয়ে করতে চায় না। দায়িত্ব এড়াতে চায়। মেয়েদের সঙ্গে ফষ্টি-নষ্টি করবে অথচ বিয়ে করবে না।

    জহির আগের ভঙ্গিতেই দাঁড়িয়ে রইল। করিম সাহেব ফাইলপত্ৰ গুছাতে শুরু করলেন। জহির না থাকলে তাঁর থাকাও অর্থহীন। আজ তিনিও একটু সকাল-সকাল ফিরবেন। করিম সাহেব স্লয়ার বন্ধ করতে-করতে বললেন, মেয়ে কোথায় দেখতে যাবে?

    যাত্ৰাবাড়িতে। মেয়ে ওর বড় চাচার সঙ্গে থাকে।

    যাত্ৰাবাড়িতে অনেক দূর। যাবে কিসে? তোমার সাইকেলে করে নাকি?

    জহির রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছতে লাগল। করিম সাহেব বললেন, অফিসের গাড়ি নিয়ে যাও না কেন? অফিসের কর্মচারীরা বিশেষ-বিশেষ প্রয়োজনে গাড়ি নিতে পারবে এরকম নিয়মত আছে।

    গাড়ি লাগবে না স্যার।

    লাগবে না কেন? পাওয়া গেলেতো অসুবিধা কিছু নেই।

    আমাকে দিবে না স্যার। গাড়ি অফিসারদের জন্যে।

    দাঁড়াও আমি মোজাফফর সাহেবকে বলে দেখি। রিকশা করে মেয়ে দেখতে যাওয়া আর গাড়ি করে দেখতে যাওয়া তো এক না।

    করিম সাহেব উঠে গেলেন। জহির খুবই অবাক হল। সে ভাবতেও পারে নি করিম সাহেব সত্যি-সত্যি তার জন্যে এতটা করবেন। তার ধারণা করিম সাহেব তাকে পছন্দ করেন না। গত বছর ইনক্রিমেন্ট সিস্টে তিনি তার নাম দেন নি। অফিসের মধ্যে একমাত্র তারই কোনো ইনক্রিমেণ্ট হয় নি। সে বড় লজ্জা পেয়েছিল।

    করিম সাহেব যেরকম হাসি-খুশি মুখে ভেতরে গিয়েছিলেন সে রকম ফিরলেন না, ফিরলেন মুখ কালো করে। শুকনো গলায় বললেন, একটা গাড়ি নাকি গ্যারেজে, আর অন্য গাড়িটার ড্রাইভার নেই। বলতে-বলতে তিনি আরো গভীর হয়ে গেলেন। থমথমে গলায় বললেন, ড্রাইভার নেই এটা নিতান্তই ফালতু কথা। দিবে না এটা হচ্ছে কথা। জি. এম. সাহেবকে বলব। উনি একটা মিটিঙে আছেন।

    আমার গাড়ি লাগবে না স্যার। আপনার কিছু বলার দরকার নেই।

    তুমি থাক কোথায়?

    কল্যাণপুর।

    বাবা-মা সঙ্গে আছেন, না একাই থাক?

    বাবা-মা বেঁচে নেই স্যার।

    ও আচ্ছা-আচ্ছা।

    করিম সাহেব খানিকটা বিব্রত বোধ করলেন। এই ছেলে তিন বছর ধরে তার সামনের টেবিলে মাথা গুজে কাজ করছে অথচ তিনি তার সম্বন্ধে কিছুই জানেন না, ব্যাপারটা অন্যায়ই হয়েছে। খুবই অন্যায়।

    বাসা ভাড়া করে থাক?

    জি স্যার।

    ভাড়া কত?

    নয় শ টাকা।

    বল কি, নয় শ টাকায় বাড়ি হয়?

    ছোট বাসা। দুইটা রুম। অনেক ভেতরের দিকে। গ্যাস নাই তাই…..

    করিম সাহেব খানিকক্ষণ ইতস্তত করে বললেন, টাকা যা পাও তাতে চলে? চলার তো কথা না।

    দুইটা টিউশানি করি।

    অফিসের কাজের পরে টিউশানির ধৈর্যও থাকে?

    উপায় কি স্যার?

    তা ঠিক। উপায় নেই, বাঁচাই মুশকিল। তবু যে মানুষ বেঁচে আছে এইটাই আশ্চর্য।

    আমি স্যার যাই।

    দাঁড়াও একটু। জি. এম. সাহেবের সঙ্গে কথা বলে নিই।

    কোন দরকার ছিল না স্যার।

    একটু অপেক্ষা করলে ক্ষতি তো কিছু নেই। তুমি তোমার টেবিলে গিয়ে বস খানিকক্ষণ। কিংবা যাও কেন্টিনে বসে এককাপ চা খাও।

    জহির অস্বস্তি নিয়ে কেন্টিনে চলে গেল। অস্বস্তির কারণ হচ্ছে, করিম সাহেব খুবই গচটা ধরনের মানুষ। হঠাৎ-হঠাৎ অসম্ভব রেগে যান। আজ তাঁর ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, মোজাফফর সাহেবের সাথে একটা ছোটখাট চটচটি হয়েছে। জ্বি এম সাহেবের সঙ্গেও হয় কি না কে জানে। হওয়া বিচিত্র না।

    অফিস কেন্টিনে চা ভালো বানায়, কিন্তু আজকেই চা-টা মুখে দেয়া যাচ্ছে না। কেমন একটা বিস্বাদ, তিতকুটে ভাব। জহির সিগারেট ধরাল। সে দরজার দিকে মুখ করে বসেছে, যাতে করিম সাহেবকে আসতে দেখলে চট করে ফেলে দিতে পারে। সিগারেটও ভালো লাগছে না, বরং মাথা ঘুরছে। মেয়ে দেখতে যাবার উত্তেজনায় এরকম লাগছে কি না কে জানে। এই মেয়েটির আগে সে আরো দুজনকে দেখেছে, তখন এরকম অস্বস্তি লাগে নি। আজকের বাড়াবাড়ি উত্তেজনার কারণ হচ্ছে জহিরের মামা বলেছেন, একটা আংটি সাথে করে নিয়ে যাও। পছন্দ হলে বিসমিল্লাহ বলে আংটি পরিয়ে দিলেই হবে। এনগেজমেন্টের যন্ত্রণা মিটে গেল। তবে মেয়ে তোমার পছন্দ হবে। রূপবতী মেয়ে, একটু অবশ্যি রোগা। তাতে কি? আজকালকার মেয়ে সবাই লোগা।

    আংটি জহির গতকাল কিনেছে। পাথর বসানো আংটি। এতটুকু একটা জিনিস দাম নিল সাত শ টাকা। রোগা মেয়েদের আঙুলও সরু সরু হয় কি না কে জানে। অবশ্যি না লাগলে অসুবিধা হবে না, দোকানে বলা আছে ওরা বদলে দেবে। জহির পকেট থেকে আংটির বাক্সটি বের করে আবার সঙ্গে সঙ্গে পকেটে ভরে ফেলল। করিম সাহেব হঠাৎ চলে এলে লজ্জায় পড়তে হবে। আচ্ছা আংটিটা আগ বাড়িয়ে কেনা ঠিক হয়েছে কি? যদি মেয়ে পছন্দ না হয়? পছন্দ না-ও তো হতে পারে।

    অবশ্যি জহিরের মন বলছে, মেয়ে পছন্দ হবে। এর আগে যে দুজনকে সে দেখেছে তাদেরকে সে পছন্দ করেছে। প্রথম যে মেয়েটাকে দেখল তার নাম আসমা। কী শান্ত নিগ্ধ চেহারা। চায়ের ট্রে নিয়ে খালি পায়ে ঘরে ঢুকেছিল। ঘরে ঢুকবার সময় চৌকাঠে হোঁচট খেল। একটা চায়ের কাপ উলটে গেল। মেয়ের এক চাচা বিরক্ত হয়ে বললেন, কী যন্ত্রণা চাচার কথা শুনে মেয়েটার মুখ লজ্জায় ফ্যাকাশে হয়ে গেল। জহিরের মনটা মায়ায় ভরে গেল। সে মনে-মনে বলল, আহা বেচারি।

    এত পছন্দ হয়েছিল মেয়েটিকে অথচ বিয়ে হল না। কথা বাৰ্তা ঠিকঠাক হবার পর হঠাৎ শুনল মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে সিলেটের চা বাগানের অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার। ভালো একটা ছেলে পেয়ে মেয়ের বাবা-মা রাতারাতি বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। মাসখানিক জহির খুব কষ্টে কাটিয়েছে। শুধু মেয়েটার কথা মনে পড়ত। তিনবার তাকে স্বপ্নেও দেখল। একটা স্বল্প খুব অদ্ভুত। যেন তাদের বিয়ে হয়েছে। জহির বিয়ের পরদিনই একটা চা বাগানে ম্যানেজারের চাকরি নিয়ে চলে গেছে। কী আশ্চর্য, একা-একা আসমা সেই চা বাগানে এসে উপস্থিত। জহিরকে দেখে কান্না-কান্না গলায় বলল, তুমি পারলে আমাকে ফেলে চলে আসতে? তুমি এত পাষাণ? জহির হাসতে-হাসতে বলল, কি মুশকিল, আমার কাজ-কর্ম আছে না? চা বাগানের ম্যানেজারির যে কী যন্ত্রণা তা তো তুমি জান না। আসমা এই কথা শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল তারপর ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, তুমি যদি এই মুহূর্তে সব ছেড়ে আমার সঙ্গে না  আস তাহলে আমি বিষ খাব। এই দেখ, আমার শাড়ির আঁচলে বিষ বাঁধা আছে। স্বপ্নে ব্যাপারগুলো খুব দ্রুত ঘটে। এই স্বপ্নেও তাই হল। আসমা হঠাৎ শাড়ির আঁচল খুলে সবটা বিষ মুখে দিয়ে দিল।

    জহির।

    জহির চমকে উঠে দাঁড়াল। করিম সাহেব কখন ঘরে এসে ঢুকেছেন সে বুঝতেই পারে নি।

    তুমি চলে যাও জহির। গাড়ি পাওয়া যায় নি। কিছু মনে করে না, তোমাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখলাম।

    জ্বি না স্যার। মনে করার কি আছে।

    মনে করার অনেক কিছুই আছে। এখন এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আচ্ছা। তুমি যাও।

    করিম সাহেবের মুখ থমথম করছে। জহিরের অস্বস্তির সীমা রইল না। স্যার নিশ্চয়ই জি, এম, সাহেবের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছেন। ব্যাপারটা ভালো হল না। জহিরের মনে কঠিন একটা কাঁটা বিধে রইল। জি. এম. সাহেব লোক সুবিধার না। করিম সাহেবের সঙ্গে যদি কথা কাটাকাটি হয় তাহলে ব্যাপারটা তিনি সহজে ভুলবেন না। এবং সুযোগ বুঝে শোধ তুলবেন।

    আসলে আজকের দিনটিই জহিরের জন্যে খারাপভাবে শুরু হয়েছে। গতরাতে একটা পাউরুটি এনে রেখেছিল, সকালে উঠে চায়ের সঙ্গে খেয়ে নেবে। সকালবেলা দেখা গেল পাউরুটি বাসি। মুখে দিয়ে থু করে ফেলে দিতে হল। মুখে দেয়া যায় না এমন টক।

    বাসে আসবার সময় পাঁচটা টাকা শুধু-শুধু চলে গেল। ভাংতি ছিল না বলে কন্ডাকটারকে পাঁচ টাকা দিয়েছে। কন্ডাকটার বলল, লামনের সময় লইবেন। ব্যাপারটা সারাক্ষণই মনে ছিল, অথচ সে নেমে গেল টাকা না নিয়েই। আজকের দিনে আরো কত অঘটন তার জন্যে অপেক্ষা করছে কে জানে। হয়ত মেয়ে দেখে পছন্দ করে আংটি দেবার সময় মেয়ে বলবে, না না, আমি আংটি পরব না। বিচিত্র কিছু না, এমন হতে পারে।

    দ্বিতীয় মেয়েটির বেলায় ঠিক এই জিনিস হল। এই মেয়েটিকে সে দেখেছিল বাসাবোতে, তার ফুপার বাসায়। মেয়েকে দেখার আগেই সে তার ছবি দেখেছিল। ছবিতে সে ডোরাকাটা একটা শাড়ি পরে রেলিং ধরে দাঁড়িয়েছিল। হাসি-হাসি মুখ তবে চোখ দুটো বিষণ্ণ। বিয়ের পর এই মেয়ে তার পাশে-পাশে থাকবে, তাঁর বাসার রেলিং ধরে ঠিক এই ভঙ্গিতে দাঁড়াবে ভাবতেই কেমন যেন লাগে। জহিরের বাসায় রেলিং নেই, সে ছবি দেখার পর ঠিক করে ফেলেছিল বিয়ের পর রেলিং আছে এমন একটা বাড়িতে সে উঠে যাবে। ভাড়া যদি কিছু বেশি দিতে হয় দেবে। সবসময় টাকাপয়সার কথা ভাবলে তা হয় না।

    মেয়েটিকে চাক্ষুষ দেখে তার অবশ্যি একটু মন খারাপ হয়েছিল। সে ছবির মতো সুন্দর না। তবু তাকে ভালো লাগল। জহিরের মনে হল এই মেয়ের মধ্যে মায়া ভাবটা খুব প্রবল। তার হাঁটা, কথা বলা সব কিছুর মধ্যে কোমল একটা ব্যাপার আছে। তাকে দেখে মনে হয় এই মেয়ে কাউকে আঘাত দিয়ে কথা বলতে পারে না। তার সেই ক্ষমতাই নেই। অথচ এই মেয়েটিই কি না তাকে অপছন্দ করল। মেয়ের ফুপা জহিরের মামাকে বললেন, সবলতা ঠিকঠাকই ছিল তবে মেয়ে রাজি হচ্ছে না। খুব কান্নাকাটি করছে। মেয়ের মতের বিরুদ্ধে জোর করে কিছু করা ঠিক হবে না।

    তার সঙ্গে বিয়ে হতে পারে এই সম্ভাবনাতে একটা মেয়ে খুব কান্নাকাটি করছে। এটা ভাবতেও মন ভেঙে যায়। কয়েক রাত জহির ঘুমুতে পারল না। সে কি এতই নগণ্য, এতই তুচ্ছ? সে একটা ছোট চাকরি করে। তাতে কী? সবাই কি বড় চাকরি করবে? আর চেহারা? তার চেহারা খুব কি খারাপ? তার চেয়ে খারাপ চেহারার ছেলেদেরকে কি মেয়েরা পছন্দ করে বিয়ে করে না?

    এই মেয়েটার ছবি জহিরের দ্রুয়ারে এখনো আছে। তার শোবার ঘরের দুনম্বর ডুয়ারে। এই ড্রয়ারে তার দরকারি কাগজপত্রও থাকে। এইসব কাগজপত্র ঘাঁটতে গেলে প্রায়ই ছবিটা তার চোখে পড়ে, তখন বুকের মধ্যে হুহু করতে থাকে। ছবিটার উল্টো পিঠে ইংরেজিতে লেখা নুরুন নাহার। কে জানে, হয়ত মেয়েটা নিজেই লিখেছে। সুন্দর হাতের লেখা। বিয়ে হলে সে তাকে নাহার বলে ডাকতো।

    এই নাহার, এক কাপ চা দিয়ে যাও তো।

    এই নাহার, জানালাটা একটু বন্ধ করো না, রোদ আসছে।

    নাহারের বিয়ে হয়েছে কি-না কে জানে। বিয়ে হয়ে থাকলে তার স্বামী তাকে কি নাহার নামেই ডাকে? এই একটা তুচ্ছ জিনিস কেন জানি জহিরের খুব জানতে ইচ্ছা করে। তার মনে আরেকটা গোপন ইচ্ছাও আছে। একদিন সে নাহারদের বাড়িতে উপস্থিত হবে। নাহার চমকে উঠে বলবে, আপনি কী চান? জহির বলবে, কিছু চাই না। ছবিটা ফেরত দিতে এসেছি। নাহার বিস্মিত হয়ে বলবে, কিসের ছবি?

    আপনি রেলিং ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ছবিটা। আপনার ফুপা আমাকে দিয়েছিলেন।

    এই জন্যে কষ্ট করে এসেছেন? ছিঃ ছিঃ। আপনার কাছে থাকলেই হত। ফেরত দেয়ার কোন দরকার ছিল না। আচ্ছা, এনেছেন যখন দিন।

    যাই তাহলে।

    যাবেন কেন, বসুন। চা খান। আর আপনাকে আরেকটা কথা বলা হয় নি।

    কী কথা?

    আপনাকে বোধহয় বড় ফুপা বলেছেন যে আমি আপনাকে অপছন্দ করেছি। আসলে তা ঠিক না। আমি আপনাকে খুবই পছন্দ করেছিলাম, ওরাই রাজি হলেন না। মিথ্যা করে আমার নামে দোষ দিয়েছেন। আপনি কিছু মনে করবেন না।

    আমি কিছু মনে করি নি।

    এসব কথা ভাবতে জহিরের খুব ভালো লাগে। মাঝে-মাঝে চোখে পানি পর্যন্ত এসে যায়। মনে হয়, সে যা ভাবছে তাই সত্যি, আশেপাশের পৃথিবীটা সত্যি নয়।

    দুপুর তিনটার দিকে জহির ঝিকাতলায় তার মামার বাসার সামনে উপস্থিত। জহিরের সঙ্গে তার মামা বদরুল সাহেবও যাবেন। তাদের যাবার কথা পাঁচটার দিকে। দুঘন্টা আগে চলে আসায় জহিরের কেমন লজা-লজ্জা লাগছে। তারা কী ভাববে, কে জানে। আরো কিছুক্ষণ পরে এলে কেমন হয়? কোন একটা চায়ের দোকানে ঘন্টাখানিক কাটিয়ে আসা যায় না? সেটাই ভালো। জহির বসবার ঘরের বারান্দা থেকে চুপিচুপি নেমে গেল।

    বসবার ঘরের জানালার পাশে তরু দাঁড়িয়েছিল। তরু বদরুল সাহেবের মেজো মেয়ে। ইউনিভার্সিটিতে এইবার ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। বোটানিতে অনার্স। আজ তাদের একজন স্যার মারা যাওয়ায় ইউনিভার্সিটি একটার সময় ছুটি হয়ে গেছে। সে ভেবেছিল আরাম করে দুপুরে ঘুমুবে। অনেকক্ষণ বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসায় সে বসার ঘরে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। ভাগ্যিস দাঁড়িয়েছিল। না দাঁড়ালে এই অদ্ভুত দৃশ্যটা দেখতে পেত না। জহির ভাই কেমন ঘামতে-ঘামতে এলেন। দরজার কড়া নাড়তে গিয়েও না নেড়ে কেমন চুপিচুপি নেমে গেলেন। যেন বিরাট একটা অপরাধ করেছেন। আশ্চর্য কাণ্ড, জহির ভাইকে দেখা গেল রাস্তার ওপাশে বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে ঢুকছেন। তরু ভেবেছিল ঢুকেই বোধহয় বের হয়ে আসবেন। সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। জহির ভাই বেরুলেন না। তরুর খুব ইচ্ছা করছে ঐ রেস্টুরেন্টে উঁকি দিয়ে দেখে ব্যাপারটা কি। ইচ্ছা করলেও যাওয়া যাবে না। ঐ রেস্টুরেন্টটা হচ্ছে বখা ছেলেদের আড্ডা। ঐসব বখাদের একজনের গানের গলা আবার খুব ভালো! স্কুল-কলেজের মেয়েরা সামনে দিয়ে গেলেই সেই বখা গায়ক গান ধরে—ও চেংড়ি চেংড়ি রে, ফিরে-ফিরে তাকায় রে। বড় সুন্দর দেখায় রো দল বেঁধে মেয়েরা যখন যায় তখন এই গান উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু একা-একা যাবার সময় গান শুনলে দুঃখে-কষ্টে চোখে পানি এসে যায়। বখাগুলো দুপুরবেলা দুটা টেবিল একত্র করে তাস খেলে। জহির ভাই ঐ বখাগুলোর সঙ্গে কী করছে? তরুর মন অস্বস্তিতে ভরে গেল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদুই দুয়ারী – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article দ্বৈরথ – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }