Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুধ ভাতে উৎপাত – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প121 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুধভাতে উৎপাত

    একটু বেলা হলে বৃষ্টি ধরে এলো। তবে আবুল মাস্টারের উত্তর পাড়ার জমিতে পাটকাটা শুরু হয়েছে, শালার মাস্টার আজ আসবে না। ইস্কুলে গেলে জুত করে ভেলায় চাপা যায়। ইস্কুলের নিচে এবাদত মুন্সির বড়ো ভেলাটা বাধাই রয়েছে, লগির ১২/১৪ টা ঠেলা দিলেই একেবারে ধলেশ্বরীর তীর। সাড়ে ১০ টার লঞ্চে উঠে কাপড়ের গাঁটের ওপর বসে থাকা প্যাসেঞ্জারদের সামনে সুর করে মা ফাতেমা কাইন্দা বলে বাপ কোথায় আমার/হায়রে নবীজীর এন্তেকালে দুনিয়া জারজার’ গাইতে গাইতে বাঁ পা’টা খুড়িয়ে হাঁটলে ২টা আড়াই টাকা জোগাড় করা এমন কিছু নয়। তারপর রামেশ্বরদি ঘাটে নেমে কদম আলীর দোকানে বসে চায়ে ভিজিয়ে বনরুটি খাও, পেয়ারা খাও, গাব খাও, পয়সা থাকলে চাই কি মেঘনা সিগ্রেটও একটা জুটে যায়। ১টা ৫০-এর লঞ্চে বাড়ি ফিরলে মায়ের সাধ্য কি ধরে যে ছেলে তার আধখানা পেটে জামিনের বন্দোবস্ত করে এসেছে।

    কিন্তু ওদিকে আকাশ থামে তো জয়নাবের পাড়া ফাটাবার বিরতি নাই। এই মিনিট দশেক হলো একটু জিরান দিয়েছে। এটাই সুযোগ, জয়নাব ফের শুরু করলে তাকে বোঝানো যাবে না। ঝাঁপ তুলে উঠানের কোণে মানকচুর ঝোপ থেকে বড়ো দেখে একটা মানপাতা ছিঁড়ে মাথার ওপর ধরে এক হাতে স্লেট ও মলাট-ছেঁড়া ধারাপাত নিয়ে ওহিদুল্লা পা বাড়ালো। অমনি অনেকক্ষণ একটানা চ্যাঁচাবার পর ক্লান্তিতে হাঁপাতে-থাকা জয়নাব কাতরায়, ‘ওইদুল্লা! ইস্কুলে যাইস না!’

    ‘আইজ আমাগো পরীক্ষা। না গেলে মাস্টারে মারবো!’

    জয়নাব কথা না বলে হাত নাড়ে, এর মানে মারে মারুক। একটু হাঁপিয়ে, ফের হাত নাড়ে, এর মানে, তবুও যাস না। তারপর হাজেরার হাত থেকে হাতপাখা নিয়ে কোকায়, ‘কাগজির পাতা লইয়া আয় তো মা। খালি বমি বমি লাগে। মরার বমি আয়ও না!’ বিছানা থেকে মুখ নামিয়ে সে বমি করার উদ্যোগ নেয়। কেবল শব্দই সার, এক ফোটা রসও বেরোয় না। তখন চিৎ হয়ে শুয়ে কাতরাতে থাকে। এখন হাজেরার পালা। এই ছেমরিটা আরেক মুরুব্বি। ছনের চালের ফুটো দিয়ে ঝরা পানি সরাতে সরাতে সে ঘরময় কাদাকাদা করে ফেলে আর উপদেশ ঝাড়ে, ‘আম্মা বলে অহন তহন, তুমি যাও বেড়াইতে?’

    ওহিদুল্লাকে তাই মাচার ওপর বিছানায় মায়ের কাছে বসে থাকতে হয়। আম্মার পেট ব্যথা হলে তার কী করবার আছে? ব্যথার সঙ্গে জ্বর, জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, বুকের ভেতর হাঁসফাঁস, এর ওপর ২৪ ঘণ্টা বমি ভাব, –না, তার কিছু করার নাই। তার বাবা গতবার এসে প্রায় দিন পনেরো বাড়ি ছিলো। পেটব্যথা, বুকের হাসফাস তখন ছিলো কোথায়? বাজানকে বলে তখন যদি এক বোতল পানি পড়িয়ে রাখে তো তাই দিয়েই একটা বছর শরীরটাকে দিব্যি হাতের মধ্যে রাখা যায়। বাবা তার মৌলবি সাহেব, হাফেজ না হলেও কোরান শরিফ পড়ে পাখির মতো। দোয়া দরুদ যে কতো জানে তার লেখাজোকা নাই। গাছ লাগাবার সময় গাছ বাঁচিয়ে রাখার দোয়া, ধান পাটের জমিতে পোকামাকড় মারার দোয়া, বাচ্চাদের পায়খানা হওয়ার দোয়া, পায়খানা বন্ধ করার দোয়া, বাঁজা মেয়েমানুষের বাচ্চা হওয়ার দোয়া, আবার শত্রুদুশমনের বিমারি করার দোয়া–এক দোয়া পড়ে দিলে দুশমন শালা রক্তবমি করতে করতে পাল্টা দোয়া জোগাড় করার সময় পাবে না—আর মায়ের এসব রোগ তো বাজানের কাছে জলভাত। এখানে এই বিল এলাকায় কসিমুদ্দিনের দাম বোঝার মতো লোক কোথায়? বাজান ঠিকই বলে, যেখানে তিনদিন বৃষ্টি হলো তো ডাঙা ও নদীর কোন ভেদচিহ্ন রইলো না, সেখানে মানুষ বাস করে? আর সেখানে? সেই উত্তরে, ইছামতি, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, ব্ৰহ্মপুত্র পেরিয়ে তিস্তাতীরের গ্রাম খোলামহাটি। গ্রামে আজমত আলী প্রধানের আটচালা টিনের ঘর, তার পাটের গুদাম, তামাকের চাষ। কসিমুদ্দিনের কতো দাপট সেখানে। প্রধানের বাড়িতে থাকে, বাড়ির মক্তবে গ্রামের ছেলেমেয়েদের আমপারা সেপারা পড়ায়, মসজিদে আজান দেয়, ইমাম সাহেব এদিক ওদিক জেয়াফতে গেলে নামাজও পড়ায়। বকরিদের সময় সেখানে ঘরে ঘরে কোরবানির ধূম, তার বারো আনা জবাই হয় কসিমুদ্দিনের হাতে। এক বছর পর বকরিদের সপ্তাহখানেক বাদে কসিমুদ্দিন বাড়ি ফেরে তখন তার হাতে মস্ত বড়ো এ্যালুম্যুনিয়মের ডেকচি বোঝাই জ্বাল-দেওয়া ৮/১০ সের খাসির গোশ্ত, গোরুর গোত। মৌলবি বাড়ি এলে জয়নাবের পায়ে পাখা গজায়, তখন খালি ওড়ে, খালি ওড়ে। একটু মনে করে তখন পানি-পড়া রেখে দিলে এতো কষ্ট পায়? মা হাজার হলেও আস্ত মেয়েমানুষ, ডেকচি ভরা গোশত দেখলে হুঁশ থাকে না। বছরের একটা মাস গোশতের ঝোলের, গোশতের ভুনার, কলেজি-গুর্দার সুবাসে এই ছনের ঘরে দালানের চেকনাই আসে। গোশতের মৌসুম তখন, গোশতের উৎসব! ওহিদুল্লা তার নিজের গোশত-ঝরা চিমসে পেটে আদরে ও করুণায় হাত বুলাতে বুলাতে উঠে দাঁড়ায়। আদর পেয়ে বেতমিজ পেটের ভেতরটা ফোঁস ফোঁস করে।— নাঃ সাড়ে ১০ টার লঞ্চ এখনো যায়নি। লঞ্চে ঠাসাঠাসি করে বসা কাপড়ের ব্যাপারিদের কাছ থেকে ২ টাকা আড়াই টাকা না হোক ১ টাকা দেড় টাকা পেলেও বনরুটি-চা না হোক ১ হালি গাব কি আমড়া খেয়ে মুখ মুছে বাড়ি ফিরলে কে কী ধরতে পারে? কিন্তু দাঁড়াবার সঙ্গে জয়নাবের চিঁহি চিঁহি স্বরে বল আসে, ‘যাইস না!’

    ‘মাস্টারে আইজ পাট কাটবো, হ্যায় লগে থাকতে কইছিলো!’

    জয়নাব হাত নাড়ে, মানে, কউক।

    ‘না গেলে মাস্টারে মাইর দিবো!’

    ‘মৌলবি মাইনষের পোলা তুই পাট কাটবি ক্যান?’ গোঙাতে গোঙাতে জয়নাব নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য মনোযোগী হয়। কয়েকদিন থেকে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের কাজ করতে তার খুব পরিশ্রম হচ্ছে। চেষ্টা না করলে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। অনেকক্ষণের জন্য বাতাস টেনে নিয়ে কথা বলতে বলতে শ্বাস ছাড়ে, কথাও বলে মিনমিন করে, পাছে আবার বেশি বাতাস বেরিয়ে যায়; তখন ফের নতুন করে বুক ভরাবার মেহনত করবে কে?

    ‘ওইদুল্লা, বাবা আমার কালা গাইটা আনতে পারলি না? হাশমত মউরির পোলায় দড়ি ধইরা টাইনা লইয়া গেলো, একডা বছর পার হইয়া গেলো একটা দিন দুগা ভাত মাখাইতে পারলাম না।’ এতো কথা বলায় তার বাতাসের স্টক শেষ হয়ে যায়, সে ফের হাঁপায়। ওহিদুল্লা তার কথার জবাব দেয় না। এই তো মেয়েমানুষের বুদ্ধি! কাল থেকে শুরু হয়েছে দুধের বায়না। গোরু বিক্রি করে দিয়েছে আজ এক বছরের ওপর, সেই গোরুর শোক কাল থেকে নতুন করে উথলে উঠছে। এতো হাহাকারের আছে কী? গোরু যখন ছিলো তখনি কি এই মা মাগী ওদের দুধভাত দিতো? প্রত্যেক দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে হাশমত মুহরির বড়ো ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ বা তার ঘরজামাই বোনাই হারুন মৃধা এসে দুধ দুইয়ে নিয়ে গেছে। এর বদলে সাতদিন পর পর বাজারে হারুন মৃধার দোকান থেকে ওহিদুল্লা চালডাল নিয়ে আসতো। খালি বছরে একবার কসিমুদ্দিন বাড়ি এলে সেই কটা দিন পোয়া দেড়েক দুধ ঘরে রাখার রেওয়াজ ছিলো। ‘হেইখানে কি দুধ পাও?’ স্বামীকে এই কথা বলে জয়নাব ঐ কয়েকটা দিন রাতে দেড় পোয়া দুধের সঙ্গে দেড় সের চালের ভাত দিয়ে, গুড় দিয়ে ও একটা শবরী কলা দিয়ে মাখাতো, সেই মাখানো ভাত খেতো বাপেবেটায় ঝিয়ে মিলে ছয়জনে। শেষ দুটো লোকমা বরাদ্দ ছিলো জয়নাবের জন্যে। দুধভাতের হাত ধুয়ে তার গোনাগুনতি ছাগলা দাড়ি কটায় হাত বুলাতে বুলাতে কসিমউদ্দিন মাঝে মাঝে হাসতো, ‘এই শ্যাষ দুইডা লোকমার মদ্যেই ব্যাক সোয়াদ। তুমি খাইতে চাও না, তুমি নিজে না খাইলে এতো মজা কইরা মাখাইবা?’ দুধভাত খেয়ে বাজানের মুখ থেকে কী সুন্দর সুন্দর কথা বেরোয়, ‘আল্লাপাকে তোমার হাতের মইদ্যে বরকত দিছে! দেড় সের চাইলের ভাত তুমি দেড় পোয়া দুধ দিয়া মাখাইয়া ব্যাকটির জান ঠাণ্ডা করো! আলহামদোলিল্লা!’

    সেই কতোদিন আগে খাওয়া দুধভাতের বাসি গন্ধ চোখা কঞ্চির মতো পেটে ঢুকে পাকস্থলীতে খোঁচাখুঁচি শুরু করলে সে ফের উঠে দাঁড়ায়। টিপটিপ পানি মাথায় করে ঘরে ঢোকে বড়োআম্মা আর হাজেরা। এতোক্ষণ ঘরে না থাকার জন্য হাজেরাকে কষে একটা চড় মারার সুযোগ ঘটে যাওয়ায় ওহিদুল্লার হাতের তালু খুশিতে নিশপিশ করে, পেটের মধ্যে কঞ্চির তৎপরতার বিরতি ঘটে। কিন্তু হামিদা বিবি এসে বসলো জয়নাবের গা ঘেঁষে, তার পাশে হাজেরা। এ অবস্থায় মারধোর করাটা মুশকিল। পেট ও হাতের চাপা তৎপরতা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়ে ওহিদুল্লা নাক খুঁটতে শুরু করে।

    জয়নাব কি ঘুমিয়ে পড়লো? হামিদা বিবি তার কপালে হাত রাখতেই সে বিড়বিড় করে দুধের কথা বলে। হামিদা বিবির হাত জয়নাবের কপালেই থাকে, ‘মাইজা বৌ, দুধ তো পাই না! তামান গাঁও তালাস কইরা আলার বাপে হপায় আইছে। উত্তরপাড়ার করিম সিকদারের গাইটা দুই একের মদ্যেই বিয়াইবো। নুইলা আমিনুদ্দির গাই বলে কয়দিন থাইকা খালি দাপায়, দানাপানি ছাড়ছে। আলার বাপে ঝাইড়া দিয়া আইলো। কি করে, ধরছে, ঝাইড়া দিয়া যাও। তাই দেরি হইল।’

    ‘দাপাইবো না?’ আলার বাপ দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই কথা বলে। সে হলো জয়নাবের ভাসুর, ঘরে ঢোকার নিয়ম নাই। ‘গাভীন গাই দিয়া কয়দিন হাল বোয়াইছে, অহন গাইয়ের কী দোষ? আল্লায় ক্যামনে সয়?’

    ভাসুরের কণ্ঠস্বর শুনে জয়নাব গায়ের কাঁথা আরো জড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা। করে। তার পায়ের কাছে বৃষ্টির পানিতে ভেজা জায়গাটা আঙুলে লাগলে সমস্ত শরীর শিরশির করে ওঠে। এতে কথা বলার বল পাওয়া যায়, ‘অ বুজান, হাশমত মউরির গোয়ালের মইদ্যে আমাগো কালা গাইটা আছে!’

    কিন্তু হাশমত মুহুরির বাড়িতে যাওয়া আলার বাপের পক্ষে অসম্ভব। গতবার খরার সময় হারুন মৃধার দোকান থেকে পাঁচ সের চাল নিয়েছিলো, সেই ধার আজও শোধ হয়নি। সে তাই ওহিদুল্লাকে ডাকে, ‘ওইদুল্লা!’

    ওহিদুল্লা বেরিয়ে দেখে তার জ্যাঠা টিপটিপ বৃষ্টির নিচে দাঁড়িয়ে ভিজছে আর পরনের গামছা বারবার নিঙড়ে নিচ্ছে।

    ‘ওইদুল্লা, কোষাখান লইয়া মালখাপাড়া যা, হাশমত মউরির তিনটা গাই, দুধ লইয়া বাজারে অহনো যায় নাই। মউরিরে হাতে পায় ধইরা কইস, আমার মায়ের অহন-তহন অবস্থা, একখান হাউস করছে, আপনের না কওন চলবো না!’

    সারা পাড়ায় একটিমাত্র কোষা, সেটা নিয়ে গেলো কে? ওহিদুল্লার ভেলাই ভালো। হাশমত মুহরির বাড়ির পৈঠায় ভেলা ঠেকাবার আগেই দেখা যায় পরিষ্কার জামাকাপড় পরা কয়েকটি ছেলেমেয়ে পানিতে কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিচ্ছে। সবাই এক সঙ্গে কথা বলে, দেখেই বোঝা যায় শহরের পয়দা, এদের কথা বোঝা যায় না। ওহিদুল্লা ভেলা ঠেকিয়ে ডাঙায় নামে। হাশমত মুহুরির ঘর অনেক উঁচুতে, পা ঠেলে ঠেলে ওপরে উঠতে হয়।

    হাশমত মুহুরি বাড়ি নাই, ভোরে উঠে বৃষ্টি মাথায় করে সে গেছে থানায়, কাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করতে। হাশমত মুহুরির বড়ো ছেলে ঢ্যাঙা আশরাফ থাকলেও কাজ চলে, তো সে গেছে বাজারে। এই তো কোষা নিয়ে বেরোলো, অহিদুল্লার সঙ্গে তার দেখা হয় নি? হাশমত মুহুরির চাকরিজীবী প্রবাসী ছেলে আলতাফ অনেকদিন পর বাড়ি ফিরেছে, বাজারে না গিয়ে ঢ্যাঙা আশরাফের উপায় ছিলো না। ওহিদুল্লা বাড়ির ভেতরে উঠানে দাঁড়ায়। ঘরের পাকা বারান্দায় শহরবাসী ছেলে মস্ত মুড়ির বাটি নিয়ে জলচৌকিতে বসেছে। খাঁটি সর্ষের তেলের ঝাঁজ বড়ো বারান্দা পেরিয়ে ওহিদুল্লার নাকে ঝাপটা মারে এবং সেই ধ্যাবড়া নাকের সুড়ঙ্গপথে পেটে ঢুকে সুড়সুড়ি দেয়। মুহুরির বৌ ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে একটা এ্যাল্যুম্যুনিয়ামের থালা থেকে গম ছিটিয়ে দিচ্ছে উঠানে 1

    ওহিদুল্লার আবদার শুনে মুহুরির বৌ অবাক হলো, হায়রে আল্লা!’ তর মায়ের না প্যাটের ব্যারাম? চিরকালের সুতিকার রুগী? হ্যারে তুই দুধ খাওয়াইবি? পাগলা হইছস?’ কিন্তু এই বিস্ময়বোধে তার গম ছড়াবার কাজ একটুও ব্যাহত হয় না, দাঁতের গোড়ায় পানে ভারি জিভ ঠেকিয়ে সে ‘টি টি টি টি’ আওয়াজ করলে এক পাল মুরগি এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গম খায়। মুরগির হাঁটা কি! পেটে দানা পড়ায় শালাদের দেমাক কতো! ইচ্ছা হয় সব কটার ঠোঁট কামড়ে গমের টুকরা নিয়ে দাঁতে চিবিয়ে ফেলে। কিন্তু এই সাধ পূর্ণ করার জন্য কোনোরকম প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মুহুরির জামাই হারুন মৃধা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে জামার বোতাম লাগায় আর বলে, ‘তর মায়ের প্যাট খারাপ, তগো হইছে মাথা খারাপ!’

    ওহিদুল্লা মিনমিন করে, ‘না, হ্যার হাউস হইছে দুধভাত খাইবো, মায়ে বলে বাঁচবো না!’ তার গলা কাঁদো কাঁদো করার চেষ্টা করেও বিশেষ সুবিধা হয় না। মুহুরির শহরবাসী ছেলের কথা বরং সর্ষের তেলের ঝাঁঝে খোনা শোনায়, দুধভাত খাইলে তর মায়ে ফাল পাইড়া উঠবো, না?’

    শহরবাসীর স্কুলে-পড়া ফ্রক পরা কন্যা কামড়ে কামড়ে পেয়ারা খাচ্ছিলো, মুখে পেয়ারা নিয়েই সে বলে, দুধ আমার ভাল্লাগে না! দুধ আবার মানুষ সখ করে খেতে চায়? মাগো!

    মুহুরির জামাই তার দোকানে যাবার জন্য পা বাড়াতে বাড়াতে বলে, ‘পয়সা লইয়া ডাক্তার দেখা। ওষুধ দে, ওষুধ দে! তর চাচা না? ঐ যে আলার বাপে তর চাচা লাগে না? আমার চাউলের দামটা অহনো দিলো না। অর কাছে থাইকা ট্যাহা লইয়া ডাক্তার দেখা।

    গলাটা কাঁদো-কাঁদো করার জন্য ওহিদুল্লা আর একবার প্রচেষ্টা চালায়, মায়ের এ্যাট্টা হাউস হইছে, কালা গাইয়ের দুধ দিয়া গুড় দিয়া কলা দিয়া’—বলতে বলতে জিভ দিয়ে শব্দগুলো সে চাখে। কিন্তু হারুন মৃধা কালো গোরুর কথায় চটে গেলো; ‘যা যা! এক কথা। প্যাচাল পাড়িস না!’ মুহুরির বৌ বলে, ‘কইলাম আমার মাইজা পোলায় আইছে, নাতিপুতিগুলি আইছে বলে দুই বচ্ছর বাদ, দুগা পিঠা করুম, দুধ লাগে আমার চাইর স্যার! আইজ বাজার থাইকা দুধ আরো খরিদ করা লাগে! তর মায়ে—বুইড়া মাগীটার ঢঙের হাউস হইছে দুধভাত খাইবো!’ শহরের পয়দা মেয়েটি পেয়ারা কামড়ানো স্থগিত রেখে বেনী দুলিয়ে দুলিয়ে বলে, ‘নেই কোনো উৎপাত, খায় শুধু দুধভাত!’

    শহরে থাকলে পোলাপান কতো রঙই না শেখে। কথাবার্তা শুনে কে বলবে যে এরা হাশমত মুহুরির নাতিপুতি?

    কালো গোরুর কথাটা হারুন মৃধা ভুলতে পারে না, এইগুলির উপকার করতে নাই। খাওন জোটে নাই, চাউলের দাম হইলো আগুন, ভাইজানে গোরুটা কেনে তয় হ্যাগো চাউল আসে! দানাপানি জোটে! হাটে বাজারে অহন আলার বাপে কইয়া বেড়ায়, হ্যার ভাই বাড়িত থাকে না, মউরির পোলায় হ্যার গাইগোরু লইয়া গেছে। গোরু লইছে মাগনা? ক্যারে, গোরু তর মায়ে মাগনা বেচছে?

    ওহিদুল্লা ফিরতে ফিরতে বৃষ্টি একেবারে থেমে গেলো। আলার বাপ কাদার পাশে একটা কাঠের গুঁড়িতে হাঁটু ভেঙে বসে আরো দু’জন জ্ঞাতির সঙ্গে ভ্রাতৃবধূর রোগ বিষয়ে গুরুগম্ভীর পরামর্শ করে। ওহিদুল্লাকে দেখে আলার বাপ চোখে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি করলে ওহিদুল্লা বলে, ‘মউরি নাই।’

    ‘হারুন মিরধা আছিলো?’

    ‘হ্যাগো ইষ্টি আইছে, দুধ লাগবো।’ এই খবরে অবশ্য তাদের আলোচনা ব্যাহত হয় না। ‘ডাক্তার আছিলো আমাগো অমরেশ ডাক্তার। খালি জিগাইছে, কও সে বাবা তোমার রুইদ ভালা ঠ্যাহে, না ছ্যাওয়া ভালো ঠ্যাহে? কেউরে কইছে, রাইতে আরাম পাও, না দিনে আরাম পাও জবাব শুনছে, শুইন্যা ওষুধ দিছে। কী দিছে? চাইরটা পাঁচটা বাড়ি, মধুর লাহান মিঠা, খাইতেও মজা, দুইবার তিনবার খাও, জ্বর জারি কৈ যাইবো দিশা পায় নাই!’

    শহরে পয়দার পেয়ারা কামড়ানো দেখেও যা হয়নি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের স্বাদের কথা শুনে ওহিদুল্লার পেটে ও বুকে কোলাহল শুরু হলো। জীবনে কোনোদিন মধু চেখেও দেখে নি, অথচ ফোঁটাফোঁটা মধু বা মধুর মতো মিষ্টি বড়ির এক আধটা দানা শূন্য উদরে পড়ে, শব্দ করে পড়ে আর সেখানে ঘায়ের ওপর সুচের মতো বেঁধে।

    একে এই সুচবেঁধার কষ্ট। আবার পাটখড়ির বেড়ার পাশ দিয়ে ঘরে ঢোকার মুখে ওখানে কে রে?–খাদিজা। দেখো, ভরা বর্ষায় বাড়ির মানুষ উপোস করে মরে, আর ছেমরিটা কেমন তারিয়ে তারিয়ে শশা চিরায়। দেখতে এতোটুকু হলে কি হবে, বাড়ে নাই বলে কি তার বয়সও থেমে আছে? তার আক্কেলটা দেখো। কানের কাঠি বেঁধা ও একটু পুঁজ-মাখা লতি ধরে ওহিদুল্লা তার গালে গোটা তিনেক চড় মারলো। ‘শয়তানী! চুন্নীটা! কচুর ঝোপে পলাইয়া শশা খাস? শরম নাই?’ একাগ্রচিত্তে ও নিবেদিত উদরে শশা খেতে খেতে মিঞাভায়ের এই অতর্কিত আক্রমণে বিচলিত হয়ে খাদিজা কাদার ওপর পড়ে যায়; তার পায়জামাটা ছেঁড়া, সেটা একেবারে ফাঁক হয়ে গেলো। তবে সুখের বিষয় শশার অভুক্ত অংশের সবটাই তার আঁটা মুঠিতে অচঞ্চল বিরাজ করে।

    জয়নাবের তখন খুব বাড়াবাড়ি। বড়োআম্মা বসে আছে স্যাঁতসেঁতে বিছানায়। হাজেরা হাত দিয়ে মায়ের পায়ের পাতা ঘষে দিচ্ছে। জয়নাবের ছোটো ছেলেটি আহমদউল্লা পাছা ও উরুতে পাতলা গু নিয়ে এদিক-ওদিক হেঁটে বেড়ায়, তার দিকে কারো নজর নাই। এর বড়োটা কানা বয়তুল্লা মায়ের পাশে শুয়ে অসময়ে ঘুমাচ্ছিলো, সে জেগে উঠে এক চোখে ফোঁৎ-ফোঁৎ করে কাঁদছে। হাজেরা কাঁদো-কাঁদো গলায় বলে, ‘ভাইজান, মায়ে তোমারে কতো তালাশ করলো। মায়ে আর কথা কয় না, অ মা, তোমার জবান বন্ধ হইলো ক্যান? অ মা!’ এইসব দেখেশুনে ওহিদুল্লার পেটের কোলাহল মাথায় ওঠে। সমস্ত পেট মাথার ভেতর সেঁধে যাওয়ায় খুলিটা ঘিঞ্জি ও ঝাপশা ঠেকে। বড়োআম্মা বিড়বিড় করে কোরান শরিফের আয়াত পড়ে। জয়নাব তার বন্ধ চোখ দিয়ে ওহিদুল্লার খোলা নোনা দুই চোখে অদৃশ্য সব ছবি এবং অনেক আগে সম্পন্ন গতিবিধি প্রকাশ করে দেয়। ওহিদুল্লা দেখতে পায়, প্রখর ঠাঠা রোদে জয়নাব মাখন ঘোষের পোড়ো-ভিটায় মেটে আলুর খোঁজে মাটি খুঁড়ছে। আবার এক বছর পর কসিমুদ্দিন বাড়ি ফিরেছে তাও দেখা যায়। বাপের হাতে গোশতের হাঁড়ি দেখে তারা সব কটা ভাইবোন অস্থির। কসিমুদ্দিন তার নবতম শিশুটিকে নিরীক্ষণ করছে। লাজুক লাজুক ও বোকা বোকা মুখে ঘোমটা দিয়ে জয়নাব হঠাৎ কতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বদনা ভরে পানি নিয়ে একবার উঠানে রাখে, পুরনো কাঠের তোরঙ্গ থেকে কবেকার পুরনো রঙ-জ্বলা পাতলা ফর্শা গামছা বারান্দায় বিছিয়ে রাখে জায়নামাজের মতো। আবার সূর্যের দিকে তাকিয়ে তখনো নামাজের সময় হয়নি— এই খবর জেনে নিয়ে ফের জায়নামাজ গুটিয়ে রাখে। ঘরে তার ডেকচি ভরা গোশত। সেই গোশত ছোটো ছোটো মাটির হাঁড়িতে গুছিয়ে রাখতে হয়। সেসব জ্বাল দেওয়া, বেছে বেছে গুর্দা ও কলজে আলাদা করা—তার কাজের কি হিসাব আছে? কসিমুদ্দিন বাড়ি এসেই কালো গোরুটাকে নিয়ে মাখন ঘোষের ভিটা ও বিলের ধারের মাঠে একটুখানি চরিয়ে আনে। আবার স্বামীকে গোরুর কাছে যেতে দেখে আড়চোখে সেদিকে দেখে আর মুখ টিপে হাসে। কসিমুদ্দিন বলে, ‘গাইয়ের প্যাট ওঠে? গাই মনে হয় দুবলা হইয়া গেছে!’ মুখে আঁচল দিয়ে জয়নাব জবাব দিতো, ‘আপনেরে না দেইখা! এইডো আমার হতীন তো! নিজের রসিকতায় সে নিজেই হেসে গড়িয়ে পড়তো। এই হাসিটা তার ঠোঁট জুড়ে চুপচাপ এলানো থাকে সারা পৌষ মাস। নতুন চাল উঠলে ছেলেমেয়েদের জয়নাব একদিন দুধভাত খাওয়ায়। কসিমুদ্দিন অবশ্য তখন তিস্তাতীরের গ্রামে। উঠানে ছেলেমেয়েদের সার করে বসিয়ে জয়নাব হাত দিয়ে মুখে মুখে ভাত তুলে দেয়। দুধ দিয়ে ভাত দিয়ে কলা দিয়ে গুড় দিয়ে।

    ওহিদুল্লা দুধভাতকলাগুড়ের মিলিত দৃশ্য ভালো করে দেখার আগেই জয়নাব চোখ মেলে। কালচে লাল চোখে সে হামিদা বিবির দিকে তাকায়। ডাকে, ‘বুবু!’ কথা শোনবার জন্যে হামিদা বিবি মাথা এগিয়ে দিলে জয়নাব বলে ‘দুধভাত মাখছো?’ এই পর্যন্ত সবাই শুনতে পারে কারণ এটুকু তাদের আগে থেকেই জানা ছিলো। কিন্তু পরবর্তী সব বাক্য অস্পষ্ট। বড়োআম্মা তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে সব শুনছে। তার চোখ ছলছল করে। ‘হায়রে, পোলাপানেরে দুধভাত খাওয়াইবার হাউস করছে!’ বলতে বলতে বড়ো আম্মার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এইসব দেখে ওহিদুল্লার একটু রাগমতো হয়। এতে কান্নাকাটির কী হলো? জয়নার এতোক্ষণে বিবেচকের মতো কথা বলছে। গত কয়েকটা দিন তার কেবল পেট ব্যথা করে আর বমি বমি ভাব হয় আর বমি না হওয়া বুক হাঁসফাঁস করে আর পেটের ও বুকের ব্যথায় সে মাঝে মাঝে তড়পায়। ছেলেমেয়েদের খাওয়া-দাওয়ার দিকে তার নজর নাই। দুদিন থেকে কারো খাওয়া হয় না, ঘরে যা ছিলো হাজেরা কোনোমতে কয়েকটা দিন চালিয়ে নিয়েছে। কাল থেকে ভরা বর্ষা, কোথায় কী পাওয়া যাবে? এই সময় মায়ের এই ইচ্ছাপ্রকাশে বড়ো আম্মার এতো কান্নাকাটির কী হলো?

    হামিদা বিবি বলে, ‘তরা বয়, আমি এট্টু আহি।’ জয়নাব তার চোখের কপাট বন্ধ করে বর্তমান থেকে নিজেকে আড়াল করে নিলো।কলা গাব, চা-বনরুটি, মধুর মতো হোমিওপ্যাথিক বড়ি ও দুধভাত বারবার ভাবতে ভাবতে ক্লান্তিতে ওহিদুল্লার চোখও ভারি হয়ে আসে। চোখ মেলে অদৃশ্য বস্তু দেখতে বড়ো খাটনি হয়। ঝিমুনিতে তার মাথা নুয়ে নুয়ে পড়ে। ঝিমুনির ছোট্টো একটি পলকে তার গায়ে আগুন ফোটে, ভরা বাদলের আকাশ হঠাৎ করে খরায় ফেটে পড়ে। দেখা যায়, সেই খরায় কে একজন, তাকে চেনা যায় না, তাদের কালো গোরুর দড়ি ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটা ঢ্যাঙা আশরাফ হতে পারে, হারুন মৃধাও হতে পারে। ওহিদুল্লা জয়নাবকে ডেকে বলছে, ‘মা অ মা, আমাগো গাই লইয়া যায়, তুমি দেহো না’ জয়নাব বলছে, হ্যাগো কাছে রাখবার দিলাম। তর বাপে ট্যাহা পাঠাইলে চাইলের দাম শোধ কইরা গাই লইয়া আহুম!’ দুবার এই বাক্যের পুনরাবৃত্তি করতেই মায়ের চোখের খরা কেটে লোনা বাদল নামে, তর বাপে কৈ থন ট্যাহা পাঠাইবো? মোল্লায় খাইয়া দাইয়া প্যাটটিরে বানাইছে গোশতের কানাপাতলা, হ্যায় ট্যাহা পাঠাইবো ক্যান?’

    মাটির সানকি হাতে বড়ো আম্মা ঘরে ঢুকলে ওহিদুল্লার এই বাসি ছবি দেখা শেষ হলো, শিথিল চোখ-কান ফের চাঙা হয়ে উঠলো

    ‘বড়োআম্মা দুধভাত লইয়া আইছো?’ প্রায় চিৎকার করে হাজেরা উঠে দাঁড়ায়, বড়োআম্মা, দুধভাত কই পাইলা?’

    ‘পাইছি! আল্লায় দিছে!’ ঈশ্বরের প্রদত্ত খাদ্য নিয়ে বড়োআম্মা জয়নাবের শিয়রে বসলো। জয়নাবের কপালে, গায়ে ও চুলে হাত বুলিয়ে হামিদা বিবি জিগ্যেস করে, মাইজা বৌ, পোলাপানের মুখে দুধভাত দিবি না? কিন্তু জয়নাবের মুখচোখ অপরিবর্তিত। ‘অ মাইজা বৌ, পোলাপানেরে দুধভাত খাওয়াইতে চাইছিলি, অ বৌ?

    মায়ের পদসেবা ছেড়ে হাজেরা এসে দাঁড়িয়েছে হামিদা বিবির হাতের সানকির ধার ঘেঁষে। খাদিজা তার শশা সম্পূর্ণ খেয়ে বা অভুক্ত অংশটি কোনো ঝোপে ঝাড়ে লুকিয়ে রেখে এখানেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আহমদউল্লার মুখ থেকে অর্থহীন ধ্বনি ও লালা গড়িয়ে পড়ে, কিন্তু খাদিজার হাঁটুর পেছনে ছেঁড়া পায়জামার ঝুলে পড়া কাপড় ধরে সেও মুখ তুলে গোল ও কালো সানকিটা দেখছে। স্যাঁতসেঁতে কাঁথার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে হামিদা বিবি জয়নাবের ডান হাত টেনে আনে। রোগা ও পাতলা এই হাত সানকিতে রাখলে আঙুলগুলোতে স্পন্দন বোঝা যায়। এক মুঠি দুধমাখা ভাত সেই হাতে পুরে দিলে হাতটা নিজে নিজেই ছেলেমেয়েদের দিকে এগিয়ে আসে। সবচেয়ে বেশি এগিয়ে সাড়া দিয়েছিলো খাদিজার মুখ। কয়েক কামড় শাশা তার পেটটাকে বড্ডো খুঁচিয়ে দিয়েছিলো। তবে হাঁ সবেচেয়ে বড়ো হয়েছিলো হাজেরার যদিও একটু পিছিয়ে পড়ায় জয়নাবের হাত ঘেঁষে সে দাঁড়াতে পারেনি। এক চোখ কানা হলেও এবং মায়ের উল্টোদিকে থাকা সত্ত্বেও কানা রহমতউল্লা তার ভালো চোখটা দিয়ে সব দেখে ফেলেছে, সেও মায়ের কাছাকাছি বিছানার ওপর উঠে বসতে চেষ্টা করছিলো। কনিষ্ঠটির আবোল তাবোল বকা শেষ, তখন তার জিভে কোনো ধ্বনি নাই, কেবল লালা গড়িয়ে পড়ছে।

    হামিদা বিবি নিজের ডান হাত দিয়ে জয়নাবের দুধভাত-ভরা হাতটা ধরে পঞ্চাননের মাঝখানে এনে একটু উঁচুতে শূন্যে স্থাপন করে। ভাতের গন্ধে গুড়ের গন্ধে ওহিদুল্লার পেটের প্রসার এখন দ্বিগুণ। সে এককটি শূন্য ঢোঁক গেলে আর উদরের মস্ত গহ্বরে তার ঢক ঢক প্রতিধ্বনি বাজে। মুখ বাড়িয়ে ভাতের প্রথম গ্রাসটি সে নিজেই তুলে নিতে পারতো, তা আর হয়ে ওঠে না, তার, আগেই হাজেরা তার বসন্তের দাগ-ভরা মুখ এগিয়ে হলদে ছ্যাতলাওলা দাঁতে মায়ের হাত কামড়ে দুধ-ভাত তার নিজের জিভে চালান করে নিয়েছে। বেতমিজ আওরৎ! মেয়েমানুষের বুদ্ধি মানে ইবলিসের উস্কানি।

    দেখতে দেখতে জয়নাবের হাত ধপাস করে পড়ে যায় বিছানার প্রান্তে। খাদিজা সেই হাত নিয়ে আঙুলগুলো চুষতে আরম্ভ করে। পারে তো আঙুল চুষে চুষে সবটাই খেয়ে ফেলবে। বাড়ি ভুঁড়ির মায়ের আঙুলে স্তনচোষার কাণ্ড দেখে ওহিদুল্লার ইচ্ছা হয় ঠাস ঠাস করে দুটো চড় বসিয়ে দেয়। তা আর হয়ে ওঠে না। জয়নাবের মাথা কাঁপতে শুরু করে এবং তার গলা থেকে ওঁ ওঁ ওঁ ওঁ এই রকম গোরুর গাড়ির চলন্ত চাকার আওয়াজ শোনা যায়। তার ঠোঁট জোড়াও এখন বেশ ফাঁক হয়েছে; মর্চে ধরা গোঙানি, ফাঁক করা ঠোঁট ও মাথার মৃদু কাঁপুনি দেখে হামিদা বিবি ভয় পায় এবং ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহম্মদুর রসুলাল্লাহ্! মাইজা বৌ, মাইজা বৌ!’ বলতে বলতে নিজের হাতে আর এক মুঠ দুধভাত তুলে হাজেরা, ওহিদুল্লা, খাদিজা, রহমতউল্লা ও আহমদউল্লাকে থ’ করে দিয়ে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে এবং ঠোঁটে প্রায় ছুঁয়ে দারুণ থতমত খেয়ে জয়নাবের মুখের কাছে নিয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে জয়নাবের গোঙানিরত মুখ হাঁ করাই ছিলো, হামিদা বিবি অনায়াসে সেই হাঁর মধ্যে এক গ্রাস ভাত গুঁজে দেয়। ভাতের বেশ অনেকটা অংশ তার মুখের মধ্যে চলে গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে খানিকটা তার কষ বেয়ে বাইরে গড়িয়ে পড়েছে।

    তারপর পানিতে ডোবা মানুষের মতো জয়নাব কয়েকটা ঢোক গেলে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার গলায় ও মুখে প্রবলরকম ঝাঁকুনি শুরু হলো। কালো চামড়ার নিচেও কাঁপনের মোটা ও চিকন কারুকাজগুলো স্পষ্ট ধরা পড়ে। গলায় মাংসপেশী তার কুঁচকে ওঠে; কপাল ও কপালের নিচে, চোখের পাতায় ও নাকের দুই উপত্যকায় প্রবল আলোড়ন ওঠে এবং সে ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে শুরু করে। তার বমির আওয়াজ ও ভঙ্গি খুব জমজমাট, এই বিনীত ও ভাঙাচোরা ঘরে ঠিক মানায় না।

    জয়নাব অবিরাম বমি করে। প্রথমে বের হলো ঘোলাটে সাদা ভাত ও পানি। তারপর কেবল পানি। বিবর্ণ পানির ধারা বেরিয়ে আসে প্রবল তোড়ে। মাঝে মাঝে অল্পক্ষণের বিরতি দিচ্ছে। বিরতির পর পরই দ্বিগুণ রেগে বমি আসে। বমির পানিতে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। ওহিদুল্লা অবাক হয়ে বমির পরিমাণ দেখে, মায়ের ভেতরকার সবকিছুই পানি হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে? জয়নাবকে যারা অনেকদিন থেকে চেনে তাদেরও এরকম মনে হতে পারে। এ পর্যন্ত খাওয়া যাবতীয় খাদ্যদ্রব্য ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য সে কি পাগল হয়ে গেলো? আজ থেকে ৩৬ বৎসর আগে তার আকিকার গোশত থেকে শুরু করে কিছুই তার পেটে থাকছে না। বমির পরিমাণ দেখে মনে হয় তার বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে যা খেয়েছে, নিজের বিয়ের খাবার, বিভিন্ন বকরিদের পর তার স্বামীর নিজের হাতে হালালকরা কোরবানীর গোশত, কালো গোরুর দুধ দিয়ে কলা দিয়ে গুড় দিয়ে মাখা মোটা ও রাঙা চালের ভাত, খরার সময় মাখন ঘোষের পোড়া ভিটা থেকে খুঁড়ে আনা মেটে আলু, এমন কি কসিমুদ্দিনের পড়া-পানি পর্যন্ত উগরে দিয়ে সে নিঃশেষিত হচ্ছে। তার বমির মাঝে মাঝে ১০/১২ সেকেন্ডের বিরতি থাকে। এরকম একটি বিরতির সময় হামিদা বিবি জয়নাবের ছেলেমেয়েদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে ওঠে, আরে করস কী? বমি লাগতাছে তো!’

    কে শোনে কার কথা? বিছানার ওপর থেকে মাটির সানকিটা কখন যে পাচার হয়ে গেছে ঘরের পূর্ব কোণে এমন কি ওহিদুল্লাও টের পায়নি। কাদাকাদা মেঝেতে একমাত্র সে ছাড়া আর সবাই লেপ্টে বসে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মাটির সানকির ওপর। হাজেরা তার ডান হাত দিয়ে খাচ্ছে বটে, কিন্তু সানকির সঙ্গে তার মুখের তফাৎ ২/৩ ইঞ্চির বেশি নয়। ইচ্ছা করলে সরাসরি মুখ দিয়েই সে ভাত তুলে নিতে পারে। খাদিজা বসেছে অর্ধেক সেজদার ভঙ্গিতে। বাপ-সোহাগী মেয়ে, বাপ এলে বাপের পেছনে তার নামাজপড়া নকল করে, তার মহড়া চলছে এখন। হাত দিয়ে দুধ-ভাত টেনে টেনে নিজের মুখে তোলার ভঙ্গি থেকে মনে হয় যে মস্ত একটা কালো আরশোলা শুঁড় দিয়ে খাবার টেনে নিচ্ছে। কানা রহমতউল্লা এক চোখে যা দেখে সমস্ত সানকিটা দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তাই যথেষ্ট। এখান থেকে তার কানা চোখটা দেখা যায়। মনে হয় খাওয়ার সুখে চোখটা বুজে এসেছে। আর কনিষ্ঠ আহমদউল্লা দুই হাতে ভাত খাচ্ছে, তার নাকের প্রবাহিত সিকনি মিশে যাওয়ায় তার লোকমাগুলোর তরলতা বাড়ে। তার সমস্যা তার দুই বছর বয়সসুলভ মন্থরতা। একেকবারে দুটো হাত মুখে তোলে তো অনেকক্ষণ নামাতে পারে না।

    ওহিদুল্লার সর্বশরীর এখন কেবল পেটেরই সম্প্রসারণ। এই সব জানোয়ারের ওপর রাগে তার সর্বশরীর অর্থাৎ সমস্ত পেট জ্বলে ওঠে, ইচ্ছা করে সানকিটা কেড়ে নিয়ে দুধভাতসমেত চিবিয়ে চিচিয়ে খায়। কিন্তু জয়নাবের গমকে গমকে নিঃসারণ, তার মুখচোখ কপালের শিরা-উপশিরায় ভাঙাচোরার দৃশ্য কঠিন হয়ে তার মাথায় দারুণভাবে চেপে বসেছে। এ অবস্থায় সানকি কেড়ে নেওয়া কী করে সম্ভব? মা মাগী বমি করার আর সময় পায় না!

    জয়নাবের বমির ভেতরকার বিরতির সময় আস্তে আস্তে বাড়ে। বমির জন্যে মুখের, গলার, পেটের, এমন কি মাথার মাংসপেশী, হাড়হাড্ডি, রগ, শিরা-উপশিরার যথেচ্ছ ও প্রচণ্ড ব্যবহারের ফলে জয়নাব খুব ক্লান্ত হয়ে মাথা এলিয়ে শুয়ে রয়েছে। বমি বোধহয় শেষ হয়ে এলো। তাকে দেখে মনে হয় তার ভার অনেক কমে এসেছে, সে বোধহয় নিজের শরীরকে অনুভব করতে পারে, তার মুখের অভিব্যক্তি এখন আর তার ইচ্ছানিরপেক্ষ নয়। খুব ক্ষীণকণ্ঠে সে বিড় বিড় করে, ‘বুবু, পোলাপানরে তুমি কী খাওয়াইলা?’

    হামিদা বিবি মাথা নিচু করে থাকে। হাত দুটো তার নিজের কোলের ওপর আলগোছে রাখা। ঐ অবস্থায় আস্তে আস্তে বলে, ‘কী করি? পোলাপানেরে খালি দুধভাত খাওয়াইতে চাস। কী করি? চাইলের গুড়ি জ্বাল দিয়া দিলাম!’ বলতে বলতে তার গলা চড়ে এবং সরাসরি জয়নাবের দিকে তাকায়, ‘ক্যান বৌ? চাইলের গুড়ি পোলাপানের কুনোদিন খাওয়াস নাই? দুধ দিছস কয়দিন? দুধের স্বাদ তর পোলাপানে জানে কি?’ ঘুম কিম্বা তন্দ্রা কিম্বা আচ্ছন্নতার মধ্যে থেকে উঠে আসার জন্যে খাটতে খাটতে জয়নাব বিড়বিড় করে, কালা গাইটারে ধইরা আনলে, কালা গাইটারে ধইরা আনলে। হামিদা বিবি তার কথা শেষ করতে দেয় না, তার গলা আরো চড়ে, ‘গাই না তুই বেইচা দিছস বৌ! হারুন মিরধার দোকান থাইকা চাইল লইছিলি, মিরধায় আইয়া গাই লইয়া গেলো, খালি গোরুর প্যাচাল পাড়স!’

    কিন্তু আধমন চালের দাম শোধ না করা পর্যন্ত গোরু পাওয়া যাবে না—হারুন মৃধার এই শর্তটিও কি জয়নাব তার বমির সঙ্গে উগরে ফেললো? বেড়ার দিকে তাকিয়ে সে হঠাৎ ফিক করে হাসে, বলে, ‘আপনে কী যে কন?’ জায়ের দিকে চোখ ফিরিয়ে বলে, ‘ওহিদুল্লার বাপের কথা হুনছেন? হ্যায় কয়, গোরু বিদায় করছো? গোরু আমার আরেক বিবি? হায়রে কথা হুইন্যা আমি বলে হাইস্যা মরি! কন সে, ঘরের মইদ্যে চিকার গাত, চিকায় বলে গোরুর ব্যাক কয়টা ওলান খাইয়া হালাইলো! অ ওহিদুল্লা!’ -প্রলাপ বকতে বকতে জয়নাব ক্লান্ত হয়, আর কথা একবার চড়ায় ওঠে তো পর পরই খাদে নেমে আসে। তার বোধহয় গরম লাগছে, শরীর থেকে কাঁথা সরে গেছে, গায়ের কাপড় শিথিল। চোখজোড়া ঢুলঢুলু। ঠোঁটের কোণে, চিবুকের ডৌলে বমির পানির লালচে ফোঁটা, নীলচে ফোঁটা। এরি মধ্যে ওহিদুল্লার দিকে ডান হাতের তর্জনী তুলে ইঙ্গিত করলে সে এক পা এগিয়ে আসে। কিন্তু মায়ের প্রলাপ ক্রমেই দুর্বোধ্য হয়ে আসছে। জয়নাবের উকুনভরা লালচে চুল মাথার চারদিকে ছড়ানো, ঘরে হাওয়া নাই বাতাস নাই, তবু সেগুলো একটু একটু কাঁপে। ওহিদুল্লার বুক ছমছম করে, মা বোধহয় তাকে চিনতে পাচ্ছে না। মায়ের ভয়ে একবার ‘মা’ বলে চিৎকার করার জন্য ওহিদুল্লা শক্তি সঞ্চয় করছে, এমন সময় জয়নাব হুঙ্কার ছাড়ে বুইড়া মরদটা! কী দেহস? গোরু লইয়া যায়, খাড়াইয়া খাড়াইয়া কী দেহস!’—জয়নাবের শ্যাওলা-পড়া চোখজোড়া দেখতে দেখতে বড়ো হয়ে গেলো, মনে হয় ঘরের স্যাঁতসেঁতে শূন্যতার হঠাৎ ভেসে ওঠা কোনো দৃশ্য প্রাণভরে দেখবে বলে চোখজোড়া সম্পূর্ণ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ওহিদুল্লার গলা থেকে ফিসফিস আওয়াজ বেরোয়, ‘যাই মা।’ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে জয়নাবের মাথা বালিশের পাশে ঢলে পড়ে এবং প্রথমে হামিদা বিবি এবং ক্রমান্বয়ে হাজেরা, খাদিজা, কানা রহমতউল্লা, এমন কি আহমদউল্লার এলোমেলো চিৎকার ও বিলাপের বৃষ্টিভেজা বেড়া নিয়ে খড়ের চালের হুমড়ি খেয়ে পড়ার দশা হয়। ওহিদুল্লার পায়ের পাতা বাইরে বেরিয়ে যাবার জন্য শিরশির করে। এতো বমির পর নির্ভার মায়ের মুখের যে কঠিন চেহারা হয়েছে তাতে তার হুকুম তালিম না করে ওহিদুল্লার কি রেহাই আছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদোজখের ওম – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article খোঁয়ারি – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }