Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. একটা রিভলভার

    ০৮.

    আমাকে একটা রিভলভার জোগাড় করে দিবি?

    কেন?

    আমি একজনকে খুন করব।

    ওরে বাবা, কাকে খুন করবি?

    বলব না।

    আমাকে নয় তো?

    হতে পারে। ঠিক বুঝতে পারছি না।

    কিঙ্কিনি সোফার ওপর টানটান হয়ে শুয়ে আছে। সে পরে আছে জিনস আর টপ। টপটা উঠে গিয়ে কিঙ্কিনির পেটের অনেকটা দেখা যাচ্ছে। কিঙ্কিনির সেদিকে মন নেই। তার পা দুটো সোফার হাতলের ওপর তোলা। হাতে একটা নেল কাটার। আঙুল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে নখের পরিচর্যা করছে।

    একই সোফার গায়ে হেলান দিতে মেঝেতে বসে আছে বৈদর্ভী। হাঁটু দুটো ভাজ করে বুকের কাছে রেখেছে। হাফ প্যান্ট আর টি শার্টে তাকে আজ যেন বেশি ছিপছিপে লাগছে। বৈদর্ভীর এই ঘরে দুটো জানলা। দুটোতেই পরদা টানা। আলোও জ্বলছে না। ফলে এই কড়া রোদের দুপুরেও ঘর বেশ অন্ধকার। এই অন্ধকারেও কিঙ্কিনি কী করে যে নখ পরিচর্যা করছে। সেটা একটা বিস্ময়। ঘর শুধু অন্ধকার নয়। ঘরে প্রচুর ধোঁয়া আর কটু গন্ধ। গন্ধটা গাঁজার। একটু আগেই কিঙ্কিনি আর বৈদর্ভী একটা গাঁজা ভরা সিগারেট ভাগ করে খেয়েছে। সকালে বৈদর্ভী কিঙ্কিনিকে ফোন করে বলল, কিঙ্কিনি, আজ আমাদের বাড়িতে দুপুরে চলে আয়। বাবা মা কেউ থাকছে না। ওরা কলকাতায় যাবে, ফিরতে রাত।

    কিঙ্কিনি তখনও বিছানায় ছিল। জড়ানো গলায় বলল, গিয়ে কী হবে?

    সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দেব। কম্পিউটারে ভালো ভালো জিনিস দেখব। একটা সাইটে হলিউডের হিরো হিরোইনদের নেংটুপুঁংটো ফটো আছে। বাবা-মা থাকলে তো দরজা আটকেও দেখতে পারি না। সন্দেহ করে। আজ প্রাণ খুলে দেখব।

    কিঙ্কিনি পাশ বালিশ জড়িয়ে বলল, দুর হলিউড দেখতে তোর বাড়িতে কষ্ট করে যাব কেন? আমারই তো নেট আছে।

    বৈদর্ভী কাতর গলায় বলল, কেন আয় না বাবা, সবাই মিলে হইচই হবে।

    কিঙ্কিনি হাই তুলে বলল, আমাকে ছাড়া হইচই কর। আজ আমি দুপুরে বাড়ি থেকে বেরোব না। হায়ার সেকেন্ডারির পর বিছানা থেকে না নামবার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। অথচ দেখ একদিনও ভালো করে শুতে পারছি না।

    বৈদর্ভী এবার প্রায় কেঁদে ফেলার ভঙ্গি করে বলল, তুই না এলে প্রোগ্রাম ক্যানসেল। কাউকে ডাকব না।

    কিঙ্কিনি তড়াক করে লাফ দিয়ে বসল। চাপা গলায় বলল, সেটাই ভালো। কাউকে ডাকতে হবে না। শুধু তুই আর আমি।

    বৈদর্ভী একটু চুপ করে থেকে গাঢ় গলায় বলল, মিথ্যে বলছিস না তো কিনি?

    না, সত্যি বলছি। কিন্তু ওয়ান কন্ডিশন। একটা জিনিস খাওয়াতে হবে।

    কী? বৈদর্ভী উগ্রীব হয়ে বলল, কী খাবি?

    কিঙ্কিনি মুখ ফিরিয়ে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে বলল, মদ খাওয়াতে হবে, ভদকা। পাতি লেবুর রস দিয়ে খাব; দোয়েল সেদিন বলল না, ওর বাবা খায়। ওরকমভাবে খাব। খাওয়াবি কিনা বল।

    বাপরে তুই তো দেখছিস বিরাট মদখোর হয়ে গেছিস! একদিন খেয়েই নেশায় পড়ে গেলি?

    ইয়ার্কি না, তুই অ্যারেঞ্জ করতে পারবি কিনা বল। কিঙ্কিনির গলায় উত্তেজনা। বলল, মদ খাওয়ার পর…।

    বৈদর্ভী বলল, খাওয়ার পর কী?

    কিঙ্কিনি হেসে বলল, জানো না কী। ন্যাকা?

    বৈদর্ভী হেসে বলল, তোর দেখছি একদিনেই ভালো সবকটা জিনিসে নেশা ধরেছে। যাক তুই চলে আয়, আমি শিবুকে দিয়ে ব্যবস্থা করে রাখছি।

    কপাল কুঁচকি কিঙ্কিনি বলল, শিবুটা আবার কে? একে কোথা থেকে জোটালি?

    বৈদর্ভী মুখ দিয়ে বিদ্রুপের আওয়াজ করে বলল, আমি কি তোদের মতো শুধু গুডবয় আর গুডগার্লদের সঙ্গে থাকি? ব্যাডদের সঙ্গেও আমার দোস্তি রয়েছে। রেলগেটের ঠেকে যাতায়াত আছে শিবুর। আমি তো আর দোকানে ঢুকে মদ কিনতে পারব না। ওই-ই এনে দেবে।

    শিবু মদ আনেনি। সে বৈদর্ভীকে দিয়ে গেছে কতগুলো গাঁজাভরা সিগারেট। বলেছে, বাড়িতে মদ খেলে ঝামেলায় পড়ে যাবে দিদিভাই। মাসিমা, মেসোমশাই এসে ঠিক গন্ধ পাবে। তার থেকে এই জিনিস নাও। কোন ঝুট ঝামেলা নেই, টানার পর অ্যাসট্রে ঝেড়ে ফেলে দেবে। অথচ নেশা ডবল।

    সবে একটা করে সিগারেট খাওয়া হয়েছে। প্রথম কটা টানে কাশি হয়েছে বেশি। আদ্দেক ধোঁয়াই নাক-মুখ দিয়ে ফসকে গেছে। পরের দিকে বৈদর্ভী, কিঙ্কিনি দুজনেই ম্যানেজ করেছে। নেশা ডবল না হাফ বোঝা না গেলেও, বেশ একটা ঝিম ভাব এসেছে।

    বৈদর্ভীর সামনে টিভি চলছে। তবে কোনও চ্যানেলই কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থির নয়। কারণ বৈদর্ভী ক্রমাগত রিমোট সার্ফ করে যাচ্ছে। একটা চ্যানেলে বৈদর্ভী থমকে গেল। হিন্দি সিনেমার নাচ গান। টিভির ভলুম কম থাকায় গান তেমন করে শোনা যাচ্ছে না। ফিসফিসানির মতো লাগছে। সেদিকে তাকিয়ে বৈদর্ভী বলল, তোর হঠাৎ খুনের ইচ্ছে মাথায় চাপল কেন কিনি?

    হঠাৎ কেন চাপবে? অনেকদিন ধরেই প্ল্যান করছি। সেই ছোটবেলা থেকে। আজ তোকে বলে ফেললাম।

    রিভলভার দিয়েই খুন করতে হবে? অন্য কিছু দিয়ে হবে না? এই ধর ছুরি বা বিষ?

    কিঙ্কিনি বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের নখ ঘষতে ঘষতে বলল, জানি না। এমনভাবে বলছিস যেন আগেও আমি খুন করেছি আর খুনের ওয়েপন বিষয়ে আমার বিরাট এক্সপিরিয়েন্স আছে। রিভলভার দিয়ে মারলে একটা প্রেস্টিজ হয় তাই রিভলভার বললাম। বিষটি কেমন হেঁদো ব্যাপার। পুলিশ যখন আমাকে ধরে নিয়ে যাবে কাগজে ফটো বেরোবে, আমার হাতে রিভলভার। হি হি।

    চ্যানেল বদলাতে লাগল বৈদর্ভী। খবরের চ্যানেলে এসে আটকে গেল। কোথাও গোলমাল হয়েছে। পরদায় ছবি দেখাচ্ছে। বাসে আগুন জ্বলছে। ছেলেমেয়েরা ছোটাছুটি করছে। কোথায় গোলমাল? নিশ্চয়ই কলকাতার কোনও কলেজে। কলেজগুলোতে আজকাল রোজ গোলমাল হয়। ভাগ্যিস সে কলকাতায় থাকে না। গোলমালে পড়তে হত। পা দুটো সামনের দিকে মেলে দিল বৈদর্ভী। মাথাটা হালকা টাল খেল। না, শিবু ব্যবস্থাটা ভালোই করেছে। জল, গেলাস, পাতিলেবুর রস কিছুই দরকার হল না। মদ খেলে সত্যি ঝুঁকি নেওয়া হয়ে যেত। এতে সে সমস্যা নেই। একটু পরে জানলা দরজা খুলে ফুল স্পিডে ফ্যান চালিয়ে দিলেই হবে। রুম স্প্রে, ধূপ তো আছেই। ঘরটা অন্ধকার করায় ঝিম ভাবটা বেশি লাগছে।

    কাকে খুন করবি সে তো বলবি না, কিন্তু কেন করবি সেটা কি জানতে পারি?

    কিঙ্কিনি বলল, আসলে কী জানিস বৈদর্ভী, যাকে খুন করব ভাবি তার নাম রোজই বদলে বদলে যাচ্ছে।

    বৈদর্ভী হেসে ফেলল। বলল, মানে? খুনি ঠিক আছে কিন্তু টার্গেট পালটাচ্ছে?

    অনেকটা তাই, এই ধর আজ তোকে খুন করতে ইচ্ছে, কাল মনে হচ্ছে, তোকে নয়, শিবুটাকে মারলে ঠিক হবে। হারামজাদাটা আমাদের একটা বাজে নেশা ধরিয়ে দিতে চাইছে। দেখবি ওই ছেলে নিজে গাঁজার পুরিয়া বেচে। তবে জিনিসটা কাজ করছে ভালো।

    আর আমাকে? আমাকে কেন খুন করতে ইচ্ছে করবে?

    কিঙ্কিনি উঠে বসল। মনে হচ্ছে এবার সে পায়ের নখ নিয়ে পড়বে।

    তুই খুব বিশ্রী একটা কাজে আমাকে জড়িয়ে ফেলেছিস। যদিও পুরো দোষটা তোর নয়। আমি ইচ্ছে করে খারাপ হব ভেবে ঝাঁপ দিয়েছিলাম, তারপর দেখলাম ব্যাপারটা মন্দ নয়। জীবনে ছেলেদের যত কম লাগে তত ভালো। এখন থেকেই জানা রইল।

    বৈদর্ভী চ্যানেল বদলাল। হারমোনিয়াম বাজিয়ে একটা ধুমসো চেহারার পুরুষ মানুষ গান। করছে। জঘন্য। টিভি বন্ধ করে দিল বৈদর্ভী। ঘরটা আরও অন্ধকার হয়ে গেল। পাশে সেন্টার। টেবিলে সিগারেটগুলো সাজানো হয়েছে। একটা নিয়ে দেশলাই জ্বালালো বৈদর্ভী। লম্বা টান দিল চোখ বুজে। কাশি একটু হল বটে, তবে আগের তুলনায় কম। কিঙ্কিনি না খেলেও, আগে বেশ কয়েকবার সিগারেট খেয়েছে বৈদর্ভী। সিগারেটের ধোঁয়ায় তার অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। এই ধোঁয়াটায় একটা জ্বালা ভাব আছে। কিঙ্কিনি ঝুঁকে পড়ে বৈদর্ভীর হাত থেকে সিগারেটটা নিল। পরপর দুটো টান দিল চৌখস কায়দায়। নাক মুখ দিয়ে ঘন ধোঁয়া ছাড়ল গল গল করে।

    বৈদর্ভী বলল, বাঃ ওস্তাদ হয়ে গেছিস!

    দেখছি খারাপ জিনিসগুলো রপ্ত করতে বেশি সময় লাগছে না। ঘূর্ণীর পারফরমেন্স নিশ্চয়ই তোর মনে আছে।

    আজ দেখব ইমপ্রুভ করেছিস কিনা। চোখ নাচিয়ে বলল বৈদর্ভী।

    মনে হয় করব। সহজ গলায় বলল কিঙ্কিনি।

    বৈদর্ভী সিগারেটে শেষ টান দিয়ে অ্যাশট্রের মধ্যে গুঁজে দিল। হেসে বলল, তা হলে আর দেরি করে লাভ কী? তুই যেভাবে মার্ডারের প্ল্যান করছিস তাতে কখন গলা টিপে ধরবি তার ঠিক নেই।

    কিঙ্কিনি সত্যি সত্যি এবার পায়ের নখ নিয়ে পড়ল। মাথাটা ঘুরছে। মাথা একবার ঝাঁকিয়ে নিয়ে বলল, তুই তো বাদ পড়ে গেছিস। বললাম না? আমার একজন যায় একজন। আসে। অথবা বলতে পারিস আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে পড়ি। বুঝতে পারি না কাকে মারলে ঠিক হবে।

    তোর নেশা হয়ে গেছে কিনি। তুই আর খাস না। শেষে সেদিনকার মতো কাণ্ড করবি।

    কিঙ্কিনি বুঝতে পারল বৈদর্ভী ঠিকই বলছে। তার নেশা হয়ে গেছে। বেশ লাগছে। কেমন যেন নিজেকে হালকা মনে হচ্ছে।

    বুঝলি বৈদর্ভী, একটা বয়স পর্যন্ত খুনের জন্য অনেকগুলো নাম মাথায় ঘুরত। কখনও মনে হত, হাতের কাছে পেলে আমার আমেরিকা প্রবাসী মামাকে খুন করব। তার দিদির এতবড় একটা শোকের সময়ে সে একবারও আসেনি। শুনেছিলাম, মাকে নাকি বলেছিল, জামাইবাবু যখন চলে গেছেন তখন তাকে যেতে দাও। লেট হিম গো। এটা নিয়ে বেশি সময় নষ্ট কোরো না। ধরে নাও হি ইজ ডেড। ধরে নাও ইটস আ কেস অব ডিভোর্স। বরং আমি তোমাদের কিছু ডলার পাঠাচ্ছি ফর আ নিউ বিগিনিং। দেবনাথ চট্টোপাধ্যায়কে ভুলে নতুন করে শুরু কর। তারপর থেকেই মামাকে ঠিক কপালের মাঝখানে গুলি করে মারার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।

    বৈদর্ভী মেঝে থেকে উঠে পাশের সোফাটায় বসল। চোখ বড় করে বলল, মামাকে খুন করবি! বলিস কীরে কিঙ্কি!

    কিঙ্কিনি হাসল। বলল, কিছুদিনের মধ্যেই মামাকে ক্ষমা করে দিলাম। দেখলাম আরও বড় ক্রিমিনাল আছে। তারা হল আমার জেঠা আর জেঠিমা। খুন যদি করতে হয় এদের করাই উচিত। ওরা বলে বেড়াত বাবার হারিয়ে যাওয়ার জন্য আমরাই নাকি দায়ী। দাদা একদিন জেঠুকে ফোন করেছিল। প্রচণ্ড ধমক দিয়ে ফোন কেটে দিয়েছিলেন জেঠিমা। ভেবে দেখ বৈদর্ভী, ওইরকম ভয়ঙ্কর সময়ে…যাক এরাও আমার লিস্ট থেকে বাদ পড়ে গেল। এলেন অর্ধেন্দু দত্ত।

    অর্ধেন্দু দত্ত! সেটা আবার কে?

    বৈদর্ভী সবটা যে বুঝতে পারছে এমন নয়। কিন্তু না শুনে পারছেও না। বাবার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কিঙ্কিনি কখনওই বন্ধুদের কাছে কিছু বলে না। যে পাঁচ-ছজন কাছাকাছির বন্ধু তারা এই প্রসঙ্গ তুলতে চায় না। কম্পিউটার ক্লাসে ভরতি হওয়ার পর অনীক একবার বলেছিল, কিঙ্কিনি, একটা কথা বলব কিছু মনে করবি না তো? অনীকের সঙ্গে সৌগত, সৌম্য শুভমও ছিল।

    কিঙ্কিনি হেসে বলেছিল, তোরা যদি কিছু মনে না করিস আমি করব কেন?

    সৌগত বললে, শুনলাম তোর বাবা নাকি…।

    কিঙ্কিনি সাইকেলে উঠতে উঠতে সহজভাবে বলেছিল, ঠিকই শুনেছিস। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।

    সৌম্য ফট করে বলে বসল, কেন?

    কিঙ্কিনি সাইকেলের ঘন্টিটা দুবার বাজিয়ে বলল, মানুষ কেন সংসার ছেড়ে চলে যায়। সে কি কেউ বলতে পারে রে? গৌতম বুদ্ধর কথাই ধর না, তিনিও তো স্ত্রী পুত্র রেখে বেরিয়ে পড়েছিলেন। কেন কেউ কি জানে? ভাবছি আর কটা দিন অপেক্ষা করব, তারপর বাবার নামে গাছের তলায় একটা বেদি বানাব। বলব, আমাদের পিতা সংসার ত্যাগ করিয়াছিলেন এবং এই স্থানে আসিয়া মোক্ষ লাভের হেতু ধ্যান করিয়াছিলেন। তোরা মাঝেমাঝে বেদির কাছে গিয়ে হাতজোড় করে দাঁড়াবি। পারবি না? হি হি।

    এরপর অনীকরা আর কখনও কিঙ্কিনির বাবা সম্পর্কিত কোনও প্রশ্নের মধ্যে যায়নি। কিঙ্কিনিও বলেনি। আজ বহুদিন পরে সে অনেক কথা বলছে।

    অর্ধেন্দু দত্ত আমার হারিয়ে যাওয়া বাবার অফিসের কলিগ। ইউনিয়নের নেতা। অসহায় পরিবারকে সাহায্য এবং সহযোগিতা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং মায়ের হাতটা খপ করে চেপে ধরলেন। চেপে ধরারই কথা। সেই সময় মায়ের হাত সুন্দর ছিল। বহুদিন পর্যন্ত উনি স্বাস্থ্য ধরে রেখেছিলেন। যাই হোক, সেই অর্ধেন্দু দত্ত বাড়িতে আসতে লাগলেন, গভীর রাতে ফোন করলেন, মা সেজেগুজে বেরোতে লাগল। বেশ লাটুস পুটুস চলতে লাগল। আমি সিওর, কেসটা আরও দূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আমি তো ভেবেছিলাম, একটা বাবা গেছে আর একটা বাবা এসে গেল। হি হি। ঠিক করলাম মা বিয়ে করলেই নতুন বাবাকে পেটে গুলি করে। মারব। যাক, সেও গেল। মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক কাটল। ও এর মধ্যে আরও একজনকেও মারবার। প্ল্যান করেছিলাম রে।

    বৈদর্ভী বলল, সত্যি তোর মাথাটা আজ গেছে।

    বৈদর্ভী হাত বাড়িয়ে শেষ সিগারেটটা ধরিয়ে ফেলল। টান দিয়ে এগিয়ে গেল কিঙ্কিনির দিকে। কিঙ্কিনি নখের পরিচর্যা বন্ধ করেছে। মাথা যেভাবে টলটল করছে তাতে বকবকানি ছাড়া আর কিছু করা অসম্ভব।

    একবার আমাদের বাড়িওলা লোকটা আমার সঙ্গে খুব খারাপ একটা কাজ করল।

    কে? জানকীকাকু? সে কী! উনি তো ভালোমানুষ বলেই জানি। বৈদর্ভী অবাক হল।

    মুখ ভরতি ধোঁয়া নিয়েই কিঙ্কিনি হাসল। বলল, আমরাও তাই জানতাম। ভালোমানুষ। হি হি। পছন্দও করতাম। একদিন মা আমাকে ভাড়া দিতে ওপরে পাঠাল। আগেও বহুবার গেছি। উনি বেশি কথা বলতেন না। বাবার কথা তো একেবারেই না। সেই কারণেই ভালো লাগত। সেদিন দরজা খোলার পর আমি ভেতরে ঢুকে খামটা দিতেই উনি ফট করে হাত বাড়িয়ে আমার বুকটা ধরলেন। ধরেই রাখলেন। ঘটনাটা আমার কাছে এত আকস্মিক ছিল যে আমি চিৎকার করতে পারিনি। ছুটে নেমে এসেছিলাম একতলায়। বাড়িতে কেউ ছিল না। দরজা আটকে থরথর করে কেঁপেছিলাম। কাঁদতে কাঁদতে ভেবেছিলাম মাকে বলে দেব। পরে দেখলাম, একটা ভয়ঙ্কর। সমস্যার মধ্যে দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকা মাকে আরও একটা বিপদে ফেলা হবে। কোথায় বাড়ি খুঁজতে যাবে তখন? স্বামী-পালানো মহিলাকে কে-ই বা বাড়ি দেবে? তাই শুধু বলেছিলাম, উনি আমার বুকের দিকে তাকিয়েছেন। ঠিক করেছিলাম, কোনওদিন সুযোগ পেলে ওই লোকটাকে খুন করব। ওখানে গুলি করব। কোমরের নীচে। পরে সেটাও বদলে গেল। ঠিক করলাম, এই সব ছোটখাটো রাগ পুষে লাভ নেই। তার থেকে বরং মাকেই ফিনিশ করে দিই। দে শেষ টানটা আমি দিই।

    বৈদর্ভী সিগারেটটা এগিয়ে বলল, ইটস টু মাচ কিনি। বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। এবার থাম।

    সিগারেটে টান দিয়ে মুখ লাল করে অনেকটা কাশল কিঙ্কিনি।

    বাবা হারিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আমার ওপর মায়ের খুব রাগ। বকাঝকা মারধর লেগেই থাকত। তুচ্ছ সব কারণে বেদম মার খেতাম। আজও মনে আছে একদিন দুপুরে খেতে বসে বলেছিলাম, লাউ করেছ চিংড়ি দাওনি কেন? লাউয়ের সঙ্গে চিংড়ি সবথেকে ভালো যায়। যদি কই মাছ হত তা হলে ফুলকপির কথা বলতাম। মা সেদিন ডালের হাতা দিয়ে আমাকে খুব মেরেছিল। দুপুরে খেতে পর্যন্ত দেয়নি। বলেছিল, খাওয়া নিয়ে বায়না করলে গোটা দিন উপোস করিয়ে রাখব। আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমি কী করেছি! বাবাই তো আমাদের এ সব বলত। বাজারের কম্বিনেশন শেখাত। গরম চায়ের কাপ হাতে খবরের কাগজ পড়েছিলাম বলে মা চুলের মুঠি ধরে দেওয়ালে ঠুকে দিয়েছিল। পরে মারধর বন্ধ হল কিন্তু মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো হয়নি। মায়ের রাগের কারণ প্রথমে বুঝতে পারতাম না। পরে পারলাম।

    কী? অস্ফুটে বলল বৈদর্ভী।

    আসলে একটা সময় পর্যন্ত আমি অনেকটাই বাবার মতো আচরণ করে ফেলতাম। বাবার মতো ভালো স্বভাব, বাবার মতো হাসিখুশি, বাবার মতো মজাদার। মা এটা নিতে পারত না। আমাকে মেরে বাবার ওপর রাগ ফলাত। আমি বোকা ছিলাম তাই ধরতে পারিনি, হি হি। আশ্চর্য না? যখন বুঝতে পারলাম, তখন ঠিক করলাম, খারাপ হয়ে যাব। বাজে মেয়ে। মদ খাব, গাঁজা খাব, রাত করে বাড়ি ফিরব, মেয়ে হয়ে মেয়ের সঙ্গে শোব। সেইসঙ্গে ওই মহিলাকেও মারব, আমার মাকে। মেরেই ফেলব। হি হি।

    হাসতে লাগল কিঙ্কিনি। হাসতে হাসতে সোফার ওপর গড়িয়ে পড়ল। গড়াতে গড়াতে বলল, অ্যাই বৈদর্ভী এখান থেকে বেরিয়ে আমরা রেলগেটে যাব। ভাঙা মন্দিরের ঠেকে বসে ভদকা খাব। তুই শিবুকে খবর দে। শুনেছি জায়গাটা খারাপ। গিয়ে দেখব কত খারাপ হয়। শিবুকে এক্ষুনি খবর দে। হি হি।

    বৈদর্ভী বলল, আচ্ছা সে দেব, আগে তুই হাসি থামা।

    কিঙ্কিনি হেসে যেতেই থাকে। বলল, উফ পারছি না, পারছি না রে থামাতে…হি হি..।

    বৈদর্ভীও হেসে উঠল বলল, বেটা গাঁজাখোর। দাঁড়া আমি তোর হাসি থামাচ্ছি।

    গায়ের টি শার্টটা দ্রুত খুলে ফেলে দিয়ে বৈদর্ভী কিঙ্কিনির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। পড়ে থমকে গেল। কিঙ্কিনি হাসছে কোথায়! তার দুটো চোখই যে ভেসে যাচ্ছে জলে! তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াল বৈদর্ভী। চোখ খুলে জল মুছতে মুছতে কিঙ্কিনি বলল, মাকেও শেষ পর্যন্ত লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছি। বেচারি মা আমার, কী হবে তাকে খুন করে? তার কী দোষ? কোনও দোষ নেই। যদি মারতেই হয়, আসল কালপ্রিটকে মারতে হবে। তার জন্যই তো সব। সে-ই যত নষ্টের গোড়া। আসল কালপ্রিটকে চিনিস বৈদর্ভী? হি ইজি মাই ফাদার। আমার বাবা শ্রীদেবনাথ চট্টোপাধ্যায়। একটা রিভলভার পেলে, ঢিসুম।

    হাতে গুলি করার ভঙ্গি করল কিঙ্কিনি। তারপর পাশ ফিরে তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে।

    .

    রাত আটটা নাগাদ পুলিশ হানা দেয় রেলগেটের ভাঙা মন্দিরে। রুটিন রেইড। মাঝেমধ্যেই পুলিশ এটা করে। নেশাখোরদের ধরে থানায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ছোটখাটো ছিঁচকে চোর, ছিনতাইবাজ, গুন্ডা মস্তানরাও থাকে। কোনও কোনও দিন এক-দুজন মহিলাকেও পাওয়া যায়। পুলিশ এলে তারা ব্লাউজের ভেতর থেকে মুঠো করে কোঁচকানো দশ টাকার নোট বের করে। হাতে গুঁজে রেললাইন দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় দ্রুত। অনেক সময় পুলিশ যাদের ধরে কটা লাঠির ঘা দিয়ে ছেড়ে দেয়। কখনও আবার একরাত লকআপে রেখে পরদিন সকালে কোর্টে চালান করে। আজকের রুটিন রেইডে কজন যুবকের সঙ্গে দুটি অল্পবয়সি মেয়েও ধরা পড়েছে। একবার তাকিয়েই পুলিশ বুঝতে পারে, এরা জামার ভেতর থেকে টাকা বের করে দেওয়ার মেয়ে নয়। অন্য কোনও গোলমাল রয়েছে। জটিল কিছু। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্ধকার চাতালের একপাশে জড়ামড়ি করে পড়েছিল দুজনে। প্রায় জ্ঞান হারানো অবস্থা। তাদের টেনে হিঁচড়ে যখন ভ্যানে তোলা হচ্ছে, একটি মেয়ে জড়ানো গলায় বলল, দাদা, একটা রিভলভার হবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }