Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্বৈরথ – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প102 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে

    টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশ মেঘে ঢাকা। মেঘের রঙ ক্রমেই কালো হচ্ছে। মনে হচ্ছে সারা দিনই বৃষ্টি হবে। পর্দা ঢাকা রিকশা, তবু সোমা অনেকখানি ভিজে গেছে। খুব বিরক্ত লাগছে। ভেজা শাড়ি গায়ে লেপ্টে থাকবে আর সে নামবে রিকশা থেকে।

    রাস্তা ভালো নাখানাখন্দ। একেক বার এমন ঝাঁকুনি খাচ্ছে মনে হচ্ছে সোমা উলটে পড়ে যাবে। সে কড়া গলায় বলল, আস্তে চালান না ভাই। মেয়েরা আস্তে চালাতে বললে রিকশাওয়ালারা সাধারণত খুব দ্রুত চালাতে শুরু করে। এখানেও তাই হল রিকশা চলল ঝড়ের গতিতে। প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছে সবকিছু নিয়ে রিকশা উলটে পড়বে। দ্বিতীয় বার রিকশাওয়ালাকে আস্তে চালানোর অনুরোধ করতে ইচ্ছা হচ্ছে না। হোক একটা অ্যাকসিডেন্ট। সোমার ভাগ্যে অ্যাকসিডেন্ট যোগ আছে। ওর পঁচিশ বছরের জীবনে তিন বার সে রিকশা নিয়ে উলটে পড়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার কোনো বারই তার নিজের কিছু হয় নি। গায়ে সামান্য আচড়ও লাগে নি। অথচ রিকশাওয়ালা প্রতি বারই জখম হয়েছে। এক বার তো এক জন একেবারে মর মর। হাসপাতালে ছিল অনেক দিন। সোমা দুবার দেখতে গিয়েছে। রিকশাওয়ালার স্ত্রী খাটের কাছে বসে থাকত। সোমাকে দেখলেই বাঘিনীর মতো তাকাত, যেন সমস্ত দোষ সোমার।

    আফা কোন বাড়ি?

    পরের গলিটা দিয়ে ঢেকেন। সাবধানে যাবেন রাস্তা ভাঙা।

    ভাঙা রাস্তায় সাবধানে গাড়ি চালাইলে অ্যাকসিডেন্ট বেশি হয় আফা।

    বেশ তা হলে অসাবধান হয়েই চালান।

    ঝিকাতলার এই বাড়ির অর্ধেক সোমাদের। সোমার দাদা গ্রামের সমস্ত জমিজমা বিক্রি করে ঢাকা শহরে দুতলা বাড়ি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দুই ছেলে বাড়ি পেয়ে গেল। দুজনেই মোটামুটিভাবে অপদার্থ। সোমার বাবা সাইফুদ্দিন সাহেব এল এম এফ ডাক্তার। দীর্ঘ দিনেও তাঁর কোনো পসার হল না। সারা দিন ডিসপেনসারিতে বসে থাকেন, একটা রুগী আসে না। এক ডিসপেনসারির মালিক তো এক দিন বলেই বসল, আপনি ভাই অপয়া মানুষ। অন্য কোথাও গিয়ে বসেন। ডাক্তারের কাছে রুগী না এলে ওষুধপত্র বিক্রি হয় না। বুঝলেন না?

    সোমার বড় চাচা ছদরুদ্দিন সাহেবও একই পদের মানুষ। তাঁর কাজ হচ্ছে টীকা ফাটকা ব্যবসা করা এবং বড় বড় কথা বলা। গা জ্বলে যাবার মতো কথা। তাঁর কথা যেই শোনে তারই গা জ্বলে যায়—তিনি বিমলানন্দ উপভোগ করেন।

    বাড়ির একতলা পেল সোমারা, দোতলা পেলেন ছদরুদ্দিন সাহেব। ছদরুদ্দিন সাহেবের ধারণা তিনি ক্যাপিটালের অভাবে বড়কিছু করতে পারছেন না। একটা বড় রকমের ক্যাপিটাল পেলেই ভেলকি দেখিয়ে দেবেন। ভেলকি দেখাবার আশাতে তিনি তাঁর নিজের অংশ বিক্রি করে দিলেন। ছোট ভাইকে বললেন, এক মাসের মামলা, এক মাসের মধ্যে দুতলা কিনে নেব। টাকা কিছু বেশি দিতে হবে। উপায় কি। এই এক মাস তোর সঙ্গে থাকব। তবে মাগনা থাকব মনে করি না। পুরো রেন্ট পাবি। হা-হা-হা। নিজের ভাই বলে যে বাড়তি সুযোগ নেব, আমি এই রকম মানুষই না।

    এক মাসের জন্যে এসেছিলেন এখন দশ বছর হয়েছে। এক তলার অর্ধেকটা ছদরুদ্দিন সাহেবের দখলে। এখনো তিনি টুটকা ফাটকা ব্যবসা করেন। এবংসারাক্ষণই আক্ষেপ করেন যে, ক্যাপিটালের অভাবে কিছু করতে পারছেন না। বছর দুই ধরে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর মুখ দেখাদেখি বন্ধ—শুধু ছোট ভাই নয়, ছোট ভাইয়ের পরিবারের কারোর সঙ্গেই তিনি কথা বলেন না। কয়েক দিন আগে প্রথম নাতনির জন্ম হল—এ বাড়ির কাউকে বলা হয় নি।

    সোমা রিকশা থেকে নেমেই তার বড় চাচার মুখোমুখি হয়ে গেল। ছদরুদ্দিন সাহেব ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ির সামনের কড়ই গাছটার নিচে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সামনে দড়ি হাতে একটা শুকনো ধরনের লোক। লোকটার সঙ্গে নিচু গলায় কি সব কথাবার্তা হচ্ছে। সোমা স্যুটকেস হাতে এগিয়ে গেল। বড় চাচার সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বলল, কেমন আছেন চাচা?

    ভালো আছি। তুই কোত্থেকে?

    সোমা তার জবাব না দিয়ে চাচার পা ছুঁয়ে সালাম করল। ছদরুদ্দিন প্রসন্ন গলায় বললেন, বাড়িতে আসলেই সালাম করতে হবে না-কি? যা যা ভেতরে যা।

    আপনি এই বৃষ্টির মধ্যে কি করছেন?

    গাছ কাটাচ্ছি। আট হাজার টাকায় এই গাছ বেচলাম।

    গাছের দাম এত?

    মানুষের চেয়ে গাছের দাম বেশিরে মা। এমনও গাছ আছে যার দাম লাখ টাকা। লাখ টাকা দামের মানুষ কটা আছে বল দেখিঃ হাতে গোনা যায়। যা ভেতরে যা।

    সোমা দরজায় কড়া নাড়ল। ভেতর থেকে ঊর্মি তীক্ষ্ণ গলায় বলল, কে? যেন ধমক দিচ্ছে। সতের আঠার বছরের কোনো মেয়ে এরকম ধমকের গলায় কথা বলে না-কি? সোমা নরম গলায় বলল, ঊর্মি, দরজা খোল। আমি।

    ঊর্মি দরজা খুলল, খুশি-খুশি গলায় বলল, আপা তুমি চলে এসেছ। বাবা আর বিজু ভাইয়া এই কিছুক্ষণ আগে তোমাকে আনতে গেল। বিজু ভাইয়া তোমার জন্যে একটা জিপ জোগাড় করেছে।

    আমি বুঝি জিপ ছাড়া চলাফেরা করি না?

    জিনিসপত্র থাকবে সঙ্গে এই জন্যে।

    জিনিসপত্র থাকবে কেন? জিনিসপত্র আমি পাব কোথায়? জিপ যাবে জানলে অবশ্যি ফুলের টব দুটো নিয়ে আসতাম। মা কই রে?

    রান্নাঘরে নাশতা বানাচ্ছে। এখনো কারো নাশতা হয় নি। তুমি এলে একসঙ্গে হবে।

    একটা শুকনো গামছা দে তো গোসল করব। ঘরে গায়ে-মাখা সাবান আছে?

    জানি না। থাকলে বাথরুমে আছে। তবে খুব সম্ভব নেই। এ-বাড়ির নিয়ম হল যখন যে জিনিস চাইবে সে জিনিস থাকবে না।

    সোমার মা এককালে খুব রূপবতী ছিলেন। তাঁর কিছুটা এখনো অবশিষ্ট আছে। এককালে শান্ত এবং মৃদুভাষী ছিলেন, এখন তার কিছুই নেই। অল্পতেই রেগে যান। রেগে গেলে অনর্গল কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে কাজের ছেলেটি মার খায়। সহজ মার না, হিংস্র ধরনের মার। এক কালের শান্ত, মৃদুভাষী এবং রূপবতী এক জন। মহিলা যে এতটা হিংস্র হতে পারেন তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

    হিংস্রতার পর্ব কিছুক্ষণ আগে শেষ হয়েছে। খুন্তির হাতল দিয়ে মনের সুখে কাজের ছেলেটিকে পিটিয়ে এখন তিনি খানিকটা ক্লান্ত। কাজের ছেলেটির বয়স নয়-দশ। নাম মুরাদ। তার ব্যথা-বোধ তেমন তীব্র নয় বলে মনে হচ্ছে। খুন্তির হাতার দাগ তার সারা গায়ে কালো হয়ে ফুলে উঠেছে। কানের পাশ দিয়ে রক্ত পড়ছে। সে মোটামুটি নির্বিকার ভঙ্গিতেই রুটি বেলছে। মাঝে-মাঝে ফুঁপিয়ে উঠছে। জাহানারা খুন্তি উঠিয়ে বলছেন, খবরদার-শব্দ করলে মেরে ফেলব।

    ঊর্মি রান্নাঘরে ঢুকে হাসিমুখে বলল, বড় আপা একা-একা চলে এসেছে।

    জাহানারা বিরস গলায় বললেন, কান্নাকাটি করছে না-কি?

    না।

    এখানে আসতে বল। গোসল করছে।

    এসেই গোসল, বালতির পানি সব শেষ না করে তা রেরুবে না। বলে দে, পানি যেন সাবধানে খরচ করে।

    থাক মা কিছু বলার দরকার নেই। মুরাদকে মেরেছ নাকি?

    জাহানারা কিছু বললেন না।

    ইস কি অবস্থা করেছ। কান দিয়ে রক্ত পড়ছে তো মা।

    জাহানারা তিক্ত গলায় বললেন, যা তুই কোলে নিয়ে আদর কর।

    ঊর্মি আর কিছু বলল না। রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাথরুমের দরজায় এসে দাঁড়াল। নরম গলায় ডাকল, আপা।

    কি রে?

    সাবান পেয়েছ?

    হুঁ।

    পানি কিন্তু সাবধানে খরচ করতে হবে। পানির খুব টানাটানি।

    আগে বললি না কেন? শেষ করে ফেলেছি তো।

    শেষ করলে করেছ।

    সোমা মাথায় তোয়ালে জড়িয়ে বের হয়ে এল। রাতের অঘুমের ক্লান্তি মুছে গেছে। তার সারা মুখে একটা স্নিগ্ধ ভাব।

    ঊর্মি হাসিমুখে বলল, তুমি আর একটু ফর্সা হলে খুব সুন্দর লাগত।

    এখন অসুন্দর লাগে?

    না, এখনো সুন্দর।

    বিজুরা এখনো ফেরে নি?

    না–যত দেরিতে ফেরে ততই ভালো। কেন?

    ফিরলেই প্রচণ্ড হৈচৈ শুরু হবে। বড় চাচা কাউকে কিছু না বলে চার হাজার টাকায় গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন।

    চার হাজার? আমাকে তো বললেন, আট হাজার।

    একেক জনের কাছে একেক কথা বলছেন। কোনটা সত্যি কে জানে। গাছ কাটার লোকও চলে এসেছে। বিজু ভাইয়া বলেছে গাছে হাত দিলে খুনখুনি হয়ে যাবে।

    বিশ্রী ব্যাপার দেখি।

    কি যে বিশ্রী–কল্পনা করতে পারবে না। রোজ ঝগড়া। জঘন্য সব গালাগালি। বড় চাচা ঐ দিন বলে গেল গুণ্ডা দিয়ে বিজু ভাইয়ার চোখ উপড়ে নেবে।

    সে কি?

    চল আপা, রান্নাঘরে চল। রান্নাঘরে গেলেও তোমার খারাপ লাগবে। মা যা মারা মেরেছেন। খবরদার, আবার ঐ নিয়ে কথা বলতে যেও না। কিছু বললেই মা…….

    ঊর্মি কথা শেষ করল না। কারণ জাহানারা এক কাপ চা হাতে ঘরে ঢুকেছেন। সোমা নিচু হয়ে সালাম করল। জাহানারা বললেন, সালাম কেন আবার? নে চা নে। নাশতা খেয়ে এসেছিস?

    না।

    বিজুরা আসুক। একসঙ্গে নাশতা দেব। তোর জিনিসপত্র কোথায়?

    ঐ স্যুটকেস। জিনিসপত্র আর কিছু নেই।

    আনতে দেয় নি?

    নিজেই আনি নি।

    ব্যবহারী জিনিসগুলো তো আনতে পারতি। আবার তো টাকা খরচ করে কিনতে হবে। হাতের বালাগুলো কোথায়?

    রেখে এসেছি।

    রেখে এলি কেন?

    আমার আনতে ইচ্ছা করল না।

    জিপের শব্দ শোনা গেল। ঊর্মি চলে গেল দরজা খুলে দেবার জন্যে। জাহানারা মেয়েকে হাত বাড়িয়ে নিজের দিকে আকর্ষণ করলেন। এই মেয়েটি তাঁর বড় আদরের। জাহানারার চোখ ভিজে উঠতে শুরু করেছে।

    সোমা মৃদু স্বরে বলল, চা গায়ে পড়ে গেছে মা। হাত আলগা কর। জাহানারা হাত আলগা করলেন না। সোমা ভেবে রেখেছিল, এ-বাড়িতে এসে সে কিছুতেই কাঁদবে না। কঠিন পাথর হয়ে থাকবে। এই প্ৰতিজ্ঞা সে রাখতে পারল না। মাকে জড়িয়ে ধরে শিশুর মতো কাঁদতে লাগল। বিজু ভেতরে একনজর উকি দিয়ে আবার বাইরে চলে গেল।

    সাইফুদ্দিন সাহেব ভেতরে ঢুকলেন। কি বলবেন, এটা ঠিকঠাক করতে করতে তাঁর অনেক সময় গেল। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কিছু মনে আসে না। বিশেষ বিশেষ ঘটনায় তিনি কি বলবেন তা আগে থেকেই ঠিকঠাক করা থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনা বদলে যায়। ঠিক করে রাখা কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না। আজকের দিনের জন্যে যেসব কথা ঠিক করে রেখেছেন সেগুলো হচ্ছে, সবকিছু যে ভালোয়-ভালোয় শেষ হয়েছে এটা অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার। আরো খারাপ হতে পারত। সেটা হয় নি। এখন পুরানো কথা সব ভুলে গিয়ে একটা ফ্রেশ স্টার্ট নিতে হবে। লাইফের রিয়েলিটি স্বীকার করতে পারা হচ্ছে বিরাট গুণ।

    ঠিক করে রাখা কথা একটাও বলা গেল না। হাউমাউ করে যে-মেয়ে কাঁদছে তাকে কিছুই বলা যায় না। সাইফুদ্দিন সাহেব ঊর্মির দিকে তাকিয়ে বিব্রত গলায় বললেন, নাশতার কি হয়েছে দেখ তো মা।

    এ-বাড়ির ভিতরের বারান্দায় লম্বা একটা ছয় চেয়ারের টেবিল আছে। কোন চেয়ারে কে বসবে তা নির্দিষ্ট করা। সাইফুদ্দিন সাহেব এবং বিজুবসে মুখোমুখি দুজন দুই প্রান্তে। বাকি চারটি চেয়ারের একটিতে ঊর্মি, অন্যটিতে জাহানারা। তারা বসে কোনোকুনিভাবে।

    আজ দীর্ঘদিন পর নিয়ম ভঙ্গ হল। সোমা ভুল করে তার বাবার চেয়ারে বসে পড়েছে। সাইফুদ্দিন সাহেব অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু কিছু বলতে পারছেন না। নিজের চেয়ারে না বসলে তিনি ভালোমতো খেতে পারেন না। হাত রাখার জায়গাটা অপরিচিত লাগে। নির্দিষ্ট যে-কাঠের উপর ডান পা রাখেন সেই কাঠ না থাকায় পাটাকে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। তিনি আজ বসেছেন ঊর্মির চেয়ারে। কাজেই সব এলোমলো হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর বাবা এবং ছেলে বসল পাশাপাশি। দুজনের চেহারার মিল খুবই বেশি। বিজু বুড়ো হলে কেমন দেখতে হবে তা সাইফুদ্দিন সাহেবের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সোমা লক্ষ করল দুজনেই রহস্যময় ভঙ্গিতে হাসছে। যেন তাদের মধ্যে গোপন কোনো রহস্যের ব্যাপার আছে। বাইরে কড়ই গাছ কাটা হচ্ছে। করাত চালানোর শব্দ আসছে। পিতাপুত্র কাউকে গাছকাটা নিয়ে চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে না। ঊর্মি বলল, ভাইয়া গাছ তো কাটা শুরু করেছে।

    বিজু হাসিমুখে বলল, কাটুক।

    প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে সাইফুদ্দিন সাহেবও বললেন, কাটুক।

    জাহানারা থমথমে গলায় বললেন, দিনে-দুপুরে ডাকাতি করবে কিছু বলবে না?

    বিজু চায়ে চিনি মেশাতে মেশাতে বলল, না।

    সাইফুদ্দিন গম্ভীর গলায় বললেন, আমরা কিছুই বলব না। কথা শেষ করেই তিনি বিজুর দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেন। বিজু হাসল না। গম্ভীর গলায় বলল, গাছ কাটার পর খেলা জমবে। অপেক্ষা কর–আগে গাছটা কাটা থোক।

    ঊর্মি বলল, মারামারি করবে?

    বিজু বলল, না। কিছুই করব না। বসে বসে শুধু মজা দেখব। গাছ কাটা শেষ হবার পরপরই একটা মজার ব্যাপার হবে। মজার ব্যাপারটা কী বলে দেব বাবা?

    বলে দে।

    বিজু মজার ব্যাপার ব্যাখ্যা করল সোমার দিকে তাকিয়ে। ব্যাপারটা কি হয়েছে। আপা শোন, বিগ ম্যাঙ্গো করল কি…….

    বিগ ব্যাঙ্গো কে?

    বিগ ম্যাঙ্গো হচ্ছে আমাদের সম্মানিত বড় চাচা মুখটা ফজলি আমের মত তো তাই তার নাম বিগ ম্যাঙ্গো। যাই হোক, বিগ ম্যাঙ্গো কি করল শোন—অত্যন্ত গোপনে গাছ বিক্রির ব্যাপারটা এক লোকের সঙ্গে ফাইন্যাল করে ফেলল। চার হাজার টাকা। আসল দাম খুব কম হলেও আট হাজার। যাই হোক, আমি ঐ লোকের সাথে দেখা করলাম। তাকে একটা খুব খারাপ কথা বললাম, সেটা তোমাদের না শুনলেও চলবে। সঙ্গে তিন জন মস্তান নিয়ে গেলাম। গাছওয়ালার নাম কুদ্দুস। ভয়ে সে তখন প্যান্ট ভিজিয়ে দেয় স্টেইজে আছে। আমি বললাম, কুদ্দস মিয়া, গাছ কিনতে যাচ্ছ খুবই ভালো কথা। তবে গাছ আমার। টাকা তুমি আমাকে দেবে এবং এখন দেবে, তারপর গাছ কেটে নিয়ে যাবে। যার সঙ্গে তোমার কথা হয়েছে তাকে বলবে গাছের টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। আমি তোমাকে পাকা রসিদ দেব। তবে ঐ পার্টি যেন গাছ। কাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু জানতে না পারে। ব্যাস, কাজ খতম। রসিদ দিয়ে টাকা নিয়ে এসেছি। বিগ ম্যাঙ্গোর অবস্থা কি হয় এটা দেখার জন্যে সারা দিন ঘরে বসে থাকব। হা-হা-হা। বিজু দুলে-দুলে হাসতে লাগল।

    বিজুকে এখন কেমন যেন অচেনা লাগছে। তার চেহারায় যে মায়া মায়া ভাবটা ছিল তা নেই। চোখ পিটপিট করে ধূর্ত মানুষের মতো তাকাচ্ছে। বিজুর ভালো নাম বিজয়। যোলই ডিসেম্বর জন্ম বলেই এই নাম।

    আদরে আদরে বিজয় হয়ে গেছে বিজু। এই বিজু ছটা লেটার নিয়ে ম্যাট্রিক পাস করে চারদিকে বিস্ময়ের সৃষ্টি করল। সেই বিস্ময় দীর্ঘস্থায়ী হল না। ইন্টারমিডিয়েটে সেকেন্ড ডিভিশন পেয়ে গেল। ইউনিভারসিটিতে অনেক চেষ্টা করেও ভর্তি হওয়া গেল না। ভর্তি হল জগন্নাথ কলেজে। সায়েন্স ছেড়ে দিয়ে নিল ইতিহাসে অনার্স। বর্তমানে সে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছে। কলেজ সংসদের সে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্পাদক। কোথায় যেন গানও শেখে। দু-একটা ফাংশনে গণসংগীত গেয়েছে। সাইফুদ্দিন সাহেব পুত্রের এইসব প্রতিভাতেও মোটামুটি মুগ্ধ। ইদানীং তাঁর মনে হচ্ছে পড়াশোনার দিকটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ না। পড়াশোনার সঙ্গে-সঙ্গে অন্য সাইডও থাকতে হবে। অন্য সাইড যদি ভালো হয় তা হলে পড়াশোনায় একটু ডাউন হলেও ক্ষতি নেই। থার্ড ডিভিশন পাওয়া একজন ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড় চাকরি পেয়ে যায়। আর ফার্স্ট ডিভিশনওয়ালারা রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে।

    টেবিল এখন ফাঁকা। ঊর্মি চলে গেছে কলেজে। বিজু কলেজে যায় নি। অন্য কি-একটা কাজে গেছে, আধ ঘন্টার মধ্যে না-কি এসে পড়বে। জাহানারা আবার রান্নাঘরে ঢুকেছেন। শুধু সোমা তার বাবার সঙ্গে বসে আছে। সাইফুদ্দিন সাহেব বুঝতে পারছেন না সোমা সম্পর্কে ভেবে রাখা কথাগুলো এখন বলবেন, কি বলবেন না। বললে এখনই বলা উচিত।

    সোমা।

    জ্বি।

    ও কি কোনো ঝামেলা করেছিল না-কি?

    না।

    বুঝতে পেরেছে ঝামেলা করে লাভ হবে না। নয় তো এত সহজে ছাড়ত না।

    হতে পারে।

    বিজু অবশ্যি সবরকম প্ৰিকশন নিয়ে রেখেছিল।

    বিজু খুব কাজের ছেলে হয়েছে।

    খুবই অ্যাকটিভ। অনেক লোকজনের সঙ্গে চেনা-জানা। অনেক কবি-সাহিত্যিকেও চেনে। ঐ দিন বাসায় দাওয়াত করে ঔপন্যাসিক শওকত আলীকে নিয়ে এসেছিল। বিশিষ্ট ভদ্রলোক।

    পড়াশুনা কেমন করছে?

    করছে। পড়াশুনাও করছে। দুটো সাইডই ঠিক আছে। এখন তুই যখন আছিস নিজেই দেখবি।

    তুমি আজ বেরুবে না?

    না। বের হবার দরকার ছিল অবশ্যি। থাক, ব্যাপারটা দেখেই যাই।

    কোন ব্যাপার?

    গাছ কাটার পর কি হয় ঐটা আর কি।

    সোমা শীতল গলায় বলল, এরকম একটা ছেলেমানুষির মধ্যে তুমি আছ কেন। বাবা? তুমি তো আর ছেলেমানুষ নও।

    সাইফুদ্দিন কি বলবেন ভেবে পেলেন না। ঠিক সময়ে ঠিক কথাটা তাঁর কিছুতেই মনে আসে না। তিনি মিনমিনে গলায় বললেন, তোর মাকে এক কাপ চা দিতে বল তো। সোমা চায়ের কথা বলার জন্যে উঠে গেল। জাহানারা বললেন, তুই শুয়ে থাক। রেস্ট নে।

    রেস্ট নেবার কি আছে মা? আমি তো আর হাসপাতাল থেকে ফিরছি না। রোগশোেকও হয় নি।

    চা খাবি আরেক কাপ?

    খাব। কাজের ছেলেটা কোথায় মা?

    বাজারে গেছে।

    ঐটুকু ছেলে আবার বাজার করে না-কি?

    বাজার করে, চুরি করে, সবই করে।

    মা।

    কি?

    এই রকম করে আর মারধোর করো না।

    জাহানারা চা ঢালতে ঢালতে বললেন, আর মারব না।

    সোমা বাবাকে চা দিয়ে আবার রান্না ঘরে ফিরে এল। জাহানারা চুপচাপ বসে আছেন। যদিও এই মুহূর্তে রান্নাঘরে তাঁর কোনো কাজ নেই। সোমা বলল, সবকিছু কেন জানি অন্যরকম লাগছে।

    যতই দিন যাবে ততই দেখবি আরো অন্যরকম লাগবে।

    তুমি এখন রান্নাঘরে বসে আছ কেন?

    যাব কোথায়? রান্নাঘর ছাড়া আমার যাবার জায়গা আছে?

    ছদরুদ্দিন সাহেব গাছ কাটার তদারক করছেন। বৃষ্টি থেমে গেছে। তবু তাঁর মাথায় ছাতি ধরা আছে। সাত ফুটের এক একটা টুকরো করা হচ্ছে। তিনি নিজেই গজফিতা দিয়ে মেপে দেখলেন। বিকেলে মিস্ত্রিদের চা এবং মুড়ি খাওয়ালেন।

    সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে কুদুস তাঁকে বলল যে, গাছের টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। রেভিন স্ট্যাম্পে দেওয়া পাকা রসিদও কুদুস তাঁকে দেখাল। শুকনো গলায় বলল, বিশ্বাস না হলে বিজু ভাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন। উনি ঘরেই আছেন।

    ছদরুদ্দিন সাহেব ক্লান্ত গলায় বললেন, বিশ্বাস না হবার কিছু নেই। বিশ্বাস হচ্ছে। ঠিক আছে তুমি যাও।

    অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার দরুদ্দিন সাহেব এই নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করলেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদিনের শেষে – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article নক্ষত্রের রাত – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }