Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্যা লস্ট সিম্বল – ড্যান ব্রাউন

    ড্যান ব্রাউন এক পাতা গল্প734 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. এক সন্তান হারানো পিতামাতা

    ১২১ অধ্যায়

    এক সন্তান হারানো পিতামাতার মতো পিটার সলোমন প্রায়ই কল্পনা করেন এখন তার ছেলে কত বড় হলো- সে দেখতে কেমন হতো- সে কি কাজ করতো।

    পিটার সলোমন এখন তার উত্তর পেল।

    তার সামনের প্রকান্ড উল্কি আঁকা প্রাণী জীবন শুরু করেছিল একটা ক্ষুদ্র, মূল্যবান শৈশব শিশু জ্যাকের জীবনও শুরু হয়েছিল এমনই ভাবে- পিটারের লেখা পড়া প্রথম শব্দ শিক্ষা করেছিল। প্রকৃত ঘটনা যে পাপকার্য ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটা নিষ্পাপ শিশুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। তার পুত্রের শরীরে তার নিজের রক্ত প্রভাবিত হচ্ছিল। আমার পুত্র- আমার মা আমার বন্ধু রবার্ট ল্যাংডন এবং সম্ভবত আমার বোনকে সে হত্যা করেছিল।

    পিটারের মনে বিষাদের বরফ শীতলতা বয়ে গেল। তিনি তার পুত্রের চোখ দুটোকে খুঁজছিলেন তার সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য কোন কিছু পরিচিত। লোকটার চোখ দুটো, যা হোক যদিও পিটারের চোখের মতো, যা সম্পূর্ণরূপে অদ্ভুত ব্যাপার।

    আপনি কি খুব শক্তিশালী? তার পুত্র একেউহ চাকুর দিকে এক নজর তাকিয়ে পিটারের হাত আঁকড়ে ধরে বললো। ওই সমস্ত বছরগুলো আগে আপনি যা শুরু করেছিলেন তা কি সমাপ্ত করতে পেরেছিলেন?

    পুত্র সলোমন তার নিজের কণ্ঠস্বর চিনতে পারলেন। আমি- আমি ভালবাসতাম- তোমাকে।

    দুবার আপনি আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। আপনি আমাকে জেলে ফেলে রেখেছিলেন। আপনি জ্যাকস ব্রিজের উপর আমাকে গুলি করেন। এখন এটা শেষ হয়েছে!

    মুহূর্তের মধ্যে, সলোমন অনুভব করলেন বাইরে তার নিজের শরীরটা ভাসছে। তিনি কোন ক্রমেই নিজেকে চিনতে পারলেন না। তিনি তার একটা হাত হারালেন, তিনি হুইলচেয়ারে বসে আছেন এবং আর পুরনো একটা চাকু।

    এটা শেষ করো! লোকটা পুনরায় চিৎকার করে উঠলো, উল্কি আঁকা তার গলা থেকে বুক পর্যন্ত আমাকে হত্যা করো একই উপায়ে যে ভাবে তুমি কাথরিনকে রক্ষা করেছেন- এটাই তোমার ভ্রাতৃত্বকে রক্ষা করার একমাত্র উপায়!

    সলোমন পিগস্কিন চেয়ারে রাখা ল্যপটপ এবং সেলুলার মোডেমের দিকে ঘুরে তার তাকানটা অনুভব করলেন।

    ম্যাসেজ প্রেরণ : ৯২ % সম্পূর্ণ

    তার মনে নাড়া দেয়নি ক্যাথেরিনের রক্তাক্ত মৃত্যুর ছবি দেখে– কিংবা তার ম্যাসনিক ভাইদেরকে।

    এখনো সময় আছে, লোকটা ফিসফিস করে বললো, তুমি জান এটাই একমাত্র পছন্দনীয় কাজ আমাকে আমার মাল সেল থেকে মুক্তি দেওয়া।

    অনুগ্রহ করে,সলোমন বললো, এটা করো না–

    তুমি এটাই করেছিলে? লোকটা ফিস ফিস করে বললো। তুমি তোমার সন্তানকে অসম্ভব একটা পছন্দকে বেছে নিতে বাধ্য করেছিলে। তোমার কি সেই রাতের কথা মনে আছে?

    সম্পদ কিংবা জ্ঞান? ওই রাতে তুমি আমাকে ধাক্কা দিয়ে চিরতরে শেষ করে দিতে চেয়েছিলে। কিন্তু আমি ফিরেছিলাম। পিতা– আজ রাতে তোমার পছন্দ জাকারিয়া কিংবা ক্যাথেরিন? কোনটা হবে? তুমি কি তোমার বোনকে রক্ষা করে পুত্রকে হত্যা করবে? তুমি তোমার পুত্রকে হত্যা করে তোমার ভ্রাতৃবোধকে রক্ষা করবে? নাকি তোমার দেশকে? কিংবা তুমি অপেক্ষা করবে যে পর্যন্ত না। ক্যাথরিন মারা যায়– যে পর্যন্ত ভিডিও পাবলিকের মধ্যে প্রচারিত হয়– তুমি আর যতদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে ততদিন এ সমস্ত মর্মান্তিক কাজকর্ম থেকে বিরত হও। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তুমি জান কী করা হবে।

    পিটারের মনটা ব্যথায় ভরে উঠলো। তুমি ম্যাকারি নও, তিনি নিজে নিজে বললেন। জ্যাকারি অনেক অনেক দিন আগে মারা গেছে। তুমি যেই হও- আর যেখান থেকেই আস- তুমি আমার কেউ নও। যদিও পিটার সলোমন তার নিজের কথা বিশ্বাস করতো না, তিনি জানতেন তার একটা পছন্দ ছিল।

    তিনি ছিলেন সময়ের বাইরে।

    .

    দেখ গ্রান্ড স্টেয়ার কেস!

    রবার্ট ল্যাংডন অন্ধকারে ঘেরা হলওয়েতে পড়ে গেলেন, তিনি বিল্ডিং এর কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন। সিমকিনস তার পায়ের কাছেই ছিলেন। ল্যাংডন আশা করলেন, তিনি বিল্ডিংএর মেইন অট্রিয়ামে চিৎকার করে উঠবেন।

    .

    সবুজ গ্রানাইটের আটটা ডোরিক কলাম, অট্রিয়াম দেখা যাচ্ছিল একটা হাইব্রিড সেপুলচারের মতো- গ্রেকো-রোমান-ইজিপশিয়ান- কালো মার্বেলের মূর্তি, চাভেলিয়ার ফায়ার বাওয়েলস, টেউটোনিক ক্রসেস, দ্বি মাথা ওয়ালা ফিনিক্স মেডালিওনস এবং হারমেসের স্কোনসেজের মাথা।

    ল্যাংডন ঘুরলো এবং দৌড় লাগালো মার্বেল সোপান শ্রেণীর দিকে যা ছিল অট্রিয়াম থেকে বেশ দূরে।

    এটা সোজা টেম্পল রুমে প্রবেশ করেছে তিনি ফিসফিস করে বললেন।

    .

    ল্যাংডন মুখোমুখি হলেন একটা ব্রোঞ্জ মূর্তির সামনে। সেখানে খোদাই করা আছে বিখ্যাত উক্তি

    WHAT WE HAVE DONE FOR OTHERS AND THE WORLD REMAINS AND IS IMMORTAL.

    .

    মাল’আখ টেম্পলরুমের পরিবেশে জ্ঞান ফিরে পেল। পিটার সলোমন একটা বেসজার মাল’আখের উপর ফেললেন।

    হ্যাঁ– এটাই সময়।

    পিটার সলোমন তার হুইলচেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন, বেদীর দিকে তাকিয়ে চাকুটা আঁকড়ে ধরলেন।

    ক্যাথরিনকে রক্ষা কর। মালআক চিৎকার করে বলে উঠলো। এবং পরিশেষে নিজেই শুয়ে পড়লো। তোমার যা করার তাই কর।

    যেন দুঃস্বপ্নের মাঝ দিয়ে কাটছিল, পিটার কয়েক ইঞ্চি এগিয়ে এলেন। মাল’আখ চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, তার চোখ চাঁদের দিকে নিবদ্ধ। কেমন করে মরতে হয় এটা গোপন বিষয়। এই মুহূর্ত কখনো সঠিক হতে পারে না।

    Adorned with the Lost Word of the ages, I offer myself by the left hand of my father.

    মাল’আখ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলো।

    আমাকে তুলে নাও, দানবরা, আমার শরীর তোমাদের জন্য উৎসর্গ করছি।

    মাল আখের উপর দাঁড়িয়ে পিটার কাঁপতে ছিলেন। তার চোখ ভেজা, হতাশা, সিদ্ধান্তহীনতা, উদ্বেগ তার চোখে মুখে। তিনি শেষবারের মতো মোডেম এবং ল্যাপটপের দিকে গেলেন।

    পছন্দ কর, মাল’আখ ফিসফিস করে বললো। আমাকে মুক্তি দাও আমার শরীর থেকে ঈশ্বর এটাই চান। তুমি চাও এটা।

    সে তার হাত দুটো দুপাশে ছড়িয়ে দিল। তার বুক সামনের দিকে তার চমৎকার দুমাথাওয়ালা ফিনিক্স দৃষ্ট হচ্ছে। আমাকে সাহায্য কর আমার দেহটা ঢাকতে যা আমার আত্মাটাকে ঢেকে দেবে।

    পিটারের অশ্রুসিক্ত চোখদুটোকে মনে হলো মাল’আখের দিকে এখন তাকিয়ে আছে, এমনকী নিজের দিকে না তাকিয়ে। আমি তোমার মাকে হত্যা। করেছি! মাল’আখ ফিসফিস করে বললো। আমি ল্যাংডনকে হত্যা করেছি! আমি তোমার বোনকে হত্যা করেছি। আমি তোমার ভ্রাতৃবোধকে হত্যা করেছি। এখন তুমি কী করতে চাও?

    পিটার সলোমন এখন দুঃখ আর অনুশোচনায় ভূগছেন। তিনি তার মাথাটা পিছনে ফেরালেন এবং উদ্বেগের সাথে তিনি চাকুখানা তুলে নিলেন।

    .

    রবার্ট ল্যাংডন এবং এজেন্ট সিমকিনস নিঃশব্দে টেম্পল রুমের দরজাগুলোর বাইরে হাজির হলেন। পিটারের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। ল্যাংডন নিশ্চিত হলেন। পিটারের চিত্তারটা পুরোমাত্রায় চিন্তার বিষয়।

    আমার খুব দেরি হয়ে গেছে!

    সিমকিনস এর কথায় কান না দিয়ে ল্যাংডন দরজাগুলো টেনে খুলে ফেললেন। তবে সামনে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। নিপ্রভ আলোর চেম্বার কেন্দ্রস্থলে বেদীর উপর একটা ছায়ামূর্তি। লোকের ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে। কালো ঢিলা পোশাক গায়ে এবং হাতে একটা ধারালো চাকু।

    ল্যাংডন নড়াচড়া করার আগে লোকটা চাকুটা নামালো এবং বেদীটায় শুয়ে পড়লো।

    মাল’আখ তার চোখ দুটো বন্ধ করলেন।

    খুবই সুন্দর। খুব সঠিক।

    একেহ নাইফের পুরনো ব্লেডটা চাঁদের আলোয় চকচক করতে লাগলো। চাকুটা নামান মাত্র তার হত্যাকারীর চিৎকার ধ্বনিত হলো।

    আমি রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি এবং পিতামাতার চোখের জল ঝরাতে অভ্যস্ত ছিলাম

    আর মাল’আখ তার মহৎ কাজের কথা সগর্বে উচ্চারণ করলো। তার বিদায়ের মুহূর্ত সমাগত হলো।

    সত্যি কথা বলতে তার মাঝে কোন ব্যথার অভিব্যক্তি নেই।

    তার শরীরে বজ্রপাতের মতো কম্পন দেখা দিল। রুমটা নড়ছে, উপর থেকে একটা সাদা উজ্জ্বল আলো এসে পড়লো। স্বর্গলোকে গর্জন হতে থাকলো।

    মাল’আখ জানতো এটা ঘটবে।

    ল্যাংডনের স্মরণ ছিল না বেদীর দিকে দৃষ্টি দেবার কারণ হেলিকপ্টার উপরে উপস্থিত হয়েছিল। তিনি তার হাত দুটো মেলে দেবার কথাও মনে করতে পারেন নি। কালো ডিলা কাপড় পরা লোকটার দিকে পুনরায় নাইফটা নিচু করলো।

    তাদের শরীরে শরীর গুলো লাগলো। ল্যাংডন বেদীর উপর আলোর রেখা দেখতে পেল। তিনি মনে করলেন বেদীর উপর পিটার সলোমনের দেহটা পরে আছে। কিন্তু আলোতে তিনি ভোলা বুক দেখতে পেলেন, কোথাও রক্ত নেই। শুধুমাত্র উল্কি আঁকা কাপড়চোপড়। তার পাশে ভাঙ্গা চাকুটা পড়ে আছে।

    তিনি এবং লোকটা শক্ত পাথরের উপরে, ল্যাংডন দেখলেন লোকটার ডান হাতে একটা ব্যান্ডেজ। তিনি এটা বুঝতে পেরে খুশি হলেন যে তিনি পিটার সলোমনকে রক্ষা করতে পেরেছেন।

    হেলিকপ্টারের সার্চলাইট উপর থেকে বেদীর উপর পড়লো। হেলিকপ্টারের গ্লাসের ভিতর থেকে দেখা গেল অদ্ভুত ধরণের গান সংযুক্ত রয়েছে তাতে। আলো এসে পড়লো ল্যাংডন ও সলোমনের উপর।

    না।

    উপর থেকে গান ফায়ার হলো না। শুধুমাত্র হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা গেল।

    ল্যাংডন এখন কিছুই অনুভব করছিল না। তার পিছনে পিগস্কিনের চেয়ার; ল্যাপটপ থেকে অদ্ভুত শব্দ আসছিল। হঠাৎ করে স্ক্রিন কালো হয়ে গেল। সৌভাগ্যক্রমে শেষ ম্যাসেজটা পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল।

    দ্বিতীয়ম্যাসেজ ১০০% সম্পূর্ণ

    টেনে তোল! গোল্লাই গেছে! তোল।

    দ্য UH-60 পাইলট তার রোটোরগুলোকে ওভার ড্রাইভ করালেন। তিনি জানতেন যে ছয় হাজার পাউন্ড ডিফট ফোর্স কাজ করছিল। তোল! এখন! আলো ছিটকে পড়ছিল হেলিকপ্টার থেকে।

    স্বর্গ থেকে তারা যমে পড়ছিল।

    মাল’আখ সাদা উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকলো আর দেখলো একটা আলো তার দিকে ধেয়ে আসছে।

    হঠাৎ করে ব্যথা দেখা দিল

    সর্বত্র

    নরম মাংসে খুরের ধারের মতো চাকুগুলো বিদ্ধ হয়েছিল। তার শরীরটা তৎক্ষণাৎ শক্ত করে বেঁধে ফেলা হলো। তারপর গাড়ীতে উঠালো।

    রক্তে মুখটা ভরে গেলে চিৎকার করে উঠলো। তার শরীরটা ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। উপর থেকে সাদা আলো এসে পড়লো। যেন ম্যাজিকের মতো। সন্দেহ হলো তার মাথার উপর একটা হেলিকপ্টার। টেম্পল রুমের মধ্যে শীতলতা নেমে এলো। মাল’আখ ঠান্ডায় জমে যাবার অবস্থা হলো। রুমের মধ্যে ধূপের গন্ধ ছড়িয়ে গেল।

    মাল’আখ তার মাথা ঘুরালো এবং দেখতে পেল তার পাশে চাকুটা ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে আছে। বেদীটার উপরে একটা কম্বল। এর পরও আমি সবকিছু করতে পারি। পিটার সলোমন চাকুটাকে এ অবস্থা করেছে। সে রক্তপাত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    আতঙ্কের মধ্যেও মাল’আখ এর মাথাটা উঁচু করলো। তার নিজের শরীরটাকে মেলে দিল। এবার তার দেহ ব্যথায় কুকড়ে উঠলো। তার দেহ থেকে এবার রক্তপাত হতে লাগলো।

    মাল’আখ তার মাথাটা গ্রানাইট বেদীর উপর রাখলো এবং ছাদের খোলা জায়গার দিকে তাকালো। আলোকিত চন্দ্রালোকে হেলিকপ্টারটি চলে গেল। এখন জায়গাটা নীরব।

    মাল’আখ হা করে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। একমাত্র বড় বেদীটার মূল্য।

    .

    ১২২ অধ্যায়

    কোনভাবে গোপনে মরতে হয়।

    মাল’আখ জানতো সব ভুল। কোন উজ্জ্বল আলো ছিল না। কোন অবাক করা অভ্যর্থনা। শুধু আঁধার এবং অসম্ভব ব্যথা। তার চোখ দুটোতেও ব্যথা, সে কিছুই দেখতে পারছিল না। তার বোধশক্তি অটুট ছিল। সেখানে কণ্ঠস্বর শোনা গেল- মানুষের- ল্যাংডনের কণ্ঠস্বর। এটা কেমন হতে পারে?

    সে ভাল আছে, ল্যাংডন বললেন, ক্যাথরিন ভাল আছে। পিটার, তোমার বোন ভাল আছে।

    , মাল’আখ ভাবলেন ক্যাথরিন মারা গেছে। অবশ্যই মারা গেছে। মাল’আখ চোখে দেখতে পারছিল না, সে আর দেখতে পারে ভাল বলা যায় না। কিন্তু সে দূরে হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল।

    টেম্পল রুমে নীরবতা নেমে এলো। মাল’আখ নির্জনতার মাঝেও উপলব্ধি করতে লাগলো পৃথিীতে চিরদিন ছন্দময়তা বিরাজ করে না।– সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউ ছন্দময়তা হারায় ঝড় উঠলে।

    চাও অব অরডো

    অপবিষ্ণি স্বর এখন চারদিকে, জরুরী ভাবে ল্যাংডনের সাথে ল্যাপটপ ও ভিডিও ফাঁইলের কথা বলছে। এটা খুবই দেরি হয়ে গেছে মাল’আখ জানতো। ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে। এখন ভিডিও বিস্তার ঘটছিল দুনিয়ার প্রত্যেক। কোণায় বনের আগুনের মতো। ভবিষ্যতের ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করে ফেলেছি। জ্ঞানের বিস্তারও বাধাগ্রস্থ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। মানবজাতির অজ্ঞতা কলহ আর গন্ডগোলের সূত্রপাত। দুনিয়ার আলোর অনুপস্থিত, চারদিকে শুধুই আঁধার আর আঁধার। যার জন্য মাল’আখ অপেক্ষায় ছিল।

    আমি বড় কাজ করেছি, আর আমি শীঘই রাজা হিসাবে অভিসিক্ত হবোই।

    মাল’আখের জ্ঞান ফিরলো সে বুঝতে পারলো নির্জনতার মাঝে সে একা অবস্থান করছে। সে সবকিছু বুঝতে পারলো। সে পবিত্র তেলের গন্ধ পেল। সে তার বাবাকে এই তেল মাখাতো।

    আমি জানি না তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ কিনা,  পিটার সলোমন তার কানে ফিস ফিস করে বললেন। আমি কিন্তু তোমাকে কিছু জানাতে চাই। সে একটা আঙুল দিয়ে মাল’আখের খুলিতে টোকা মারলেন। তুমি এখানে কী লিখছিলে– তিনি থামলেন। এটাই শেষ শব্দ নয়।

    অবশ্যই এটা লস্ট ওয়ার্ড নয়, মাল’আখ ভাবলেন। তুমি আমাকে সন্দেহ প্রবণ করে তুলছ।

    লেজেন্ড অনুসারে, লস্ট ওয়ার্ড লিখিত হয়েছিল অতি প্রাচীন আরকেন ভাষায় যে মানবজাতিই সব কিন্তু মানুষ তা পড়তে ভুলে গেল। এই রহস্যজনক ভাষাই ছিল প্রাচীনতম ভাষা এই পৃথিবীতে।

    সিম্বোলের ভাষা

    সিম্বোলোজি শব্দে একটি সিম্বোল ছিল যা সর্বপরি অন্যান্যদেরকে একাধিপতিত্ব করেছিল। সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে চিরন্তন, এই সিষোল একটা সহজ সরল ইমেজে সমস্ত প্রাচীন ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতো। যা মিশরীয় সূর্যদেবতা, আলকেমিক্যাল স্বর্ণের সৃষ্টি, ফিলসোফারস স্টোন, রোসি ক্রসিয়ান রোজ এর বিশুদ্ধতা, সৃষ্টির মুহূর্ত, সমস্ত কিছু অ্যামট্রোলজিক্যাল সূর্যের দ্বারা, নিয়ন্ত্রিত হয়।

    দ্য সারকাম পাংকট, দ্য সিম্বল অব দি সোর্স, দ্য অরিজিন।

    কয়েক মুহূর্ত আগে পিটার এসব কথাগুলো বললেন। মাল’আখ প্রথম দিকে সন্দেহ প্রবণ ছিল, কিন্তু সে আবার গ্রিডের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো যে পিরামিডের ইমেজ সরাসরি মারকা পাংকটের সিম্বোলের প্রতি শুধুমাত্র নির্দেশ করছে- একটা বৃত্ত, আর তার কেন্দ্রে একটা বিন্দু। ম্যাসোনিক পিরামিড হচ্ছে একটা ম্যাপ, সে ভাবলো, উপকথার কাহিনী স্মরণ করলো, যা লস্ট ওয়ার্ডকে নির্দেশ করে। মনে হলো তার পিতা মোটের উপর সত্যি কথাই বলেছিল।

    সমস্ত বড় সত্যগুলো সহজ।

    দ্য লস্ট ওয়ার্ড একটা শব্দ নয়- এটা হচ্ছে একটা সিম্বোল।

    আগ্রহ ভরেই মাল’আখ তার মাথায় খুলিতে সারকামপুরকটের সিম্বোল এঁকেছিল। এটা করতে গিয়ে, সে একটা ক্ষমতা ও সন্তুষ্টি লাভ করেছিল। আমার মাস্টার পিস এবং আমার কর্ম সম্পূর্ণ। আঁধারের শক্তি এখন তার জন্য অপেক্ষা করছিল। সে এ কাজের জন্য পুরস্কৃত হবার কথা ছিল। তার এই মুহূর্তটা গৌরবময় হবার কথাও ছিল।

    শেষত, প্রত্যেকটা জিনিস ভয়ঙ্করভাবে ভুল বলে প্রতিপন্ন হয়েছিল।

    তখন পর্যন্ত পিটার পিছনে লেগে ছিল; তার শব্দগুলো বলায় মাল’আখ অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল। আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম সে বলেছিল। তুমি আমাকে পছন্দ করনি। যদি আমি সত্যি করে লস্ট ওয়ার্ড প্রকাশ করতাম, তা হলেও তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে না, কিংবা বুঝতেও পারতে না।

    দ্য লস্ট ওয়ার্ড হচ্ছে- সারকামপাংট কি?

    সত্যিটা হচ্ছে, পিটার বললেন, দ্য লস্ট ওয়ার্ড সবারই জানা– কিন্তু কমজনই বুঝতে পারে।

    শব্দগুলো মাল’আখের মনে প্রতিধ্বনিত হলো।

    তুমি অসম্পূর্ণ আছ, পিটার বললেন, ম্রভাবে তার হাতের তালু মাল’আখের মাথায় রাখলেন। তোমার কাজ এখনো শেষ হয়নি। তুমি যেখানেই যাও না কেন অনুগ্রহ করে এটা- তুমি ভালবাসা পেয়েছিলে।

    কয়েকটা কারণের জন্য তার পিতার হাতের কোমল স্পর্শ সে অনুভব করলো। মাল’আখের শরীরের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হলো। তার শরীরে কোষ তরঙ্গ প্রবাহিত হতে থাকলো। তার শরীরের প্রত্যেকটা সেল যেন মিলিয়ে যাবার উপক্রম হলো।

    একটা উদাহরণ, তার সব রকমের পার্থিব ব্যথা দূর হয়ে গেল।

    পরিবর্তন। এটা ঘটছিল।

    আমি আমার নিজের দিকে তাকিয়ে আছি। পবিত্র গ্রানাইটের গ্লাসের উপর রক্তাক্ত মাংসের ছড়াছড়ি। আমার বাবা আমার হাটু গেড়ে বসে, তার একহাত দিয়ে আমার প্রাণহীন মাথাটা ধরলো।

    আমি অনুভব করি চরম ক্রোধ– এবং বিভ্রান্তির মাঝে ছিলাম।– এবং তবুও যে পর্যন্ত আমার পিতা নত হতে অস্বীকার করবে, তার ভূমিকা পালন করতে রাজি না হয়, তার ব্যথা এবং ক্রোধ বয়ে যায় নাটকের ব্লেড এবং আমার হৃদয়ের ভিতর দিয়ে।

    আমি এখানে ফাঁদে আটকা পড়ে আছি। আমার পার্থিব খোলস ক্ষত বিক্ষত।

    আমার পিতা তার হাতের নরম তালু আমার মুখে বুলিয়ে দিল আমার ফ্যাকাসে চোখে মুখে। আমি স্বস্তি বোধ করছি।

    আমার চারপাশে পর্দা, নিপ্রভ আলো আমার দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রেখেছে। হঠাৎ করে সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে এবং আমি আমার কল্পনার বাইরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি। এখানে মহাশূন্যের মাঝে, আমি ফিসফিসানি শুনছি আমার মাঝে সংরক্ষিত শক্তির বোধের জন্য হচ্ছে। এটা শক্তিশালী হচ্ছে, আমাকে ঘিরে একটা গতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভির আঁধার জেটে যাচ্ছে।

    এখানে একা নেই

    এটা আমার বিজয়, আমার জাকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা। তবুও কয়েকটি কারণে আমি পরিপূর্ণ না, সীমাহীন ভয়ের মাঝে আছি।

    এটা আমার প্রত্যাশা নয়।

    আমি সমস্ত তমসাচ্ছন্ন আত্মাগুলোকে মোকাবিলা করছি সেই সব আত্মা যা আগে গত হয়েছে।

    আমি আতঙ্কে চিৎকার করছি- অন্ধকার আমাকে গিলে খেতে যাচ্ছে।

    .

    ১২৩ অধ্যায়

    ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালের ভিতরে, ডিন গ্যালোভয়ে শূন্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তনের আভাস পেলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন না কেন, কিন্তু তিনি অনুভব করলেন যেন একটা ভৌতিক ছায়া অদৃশ্য হয়ে গেল। যেন এক ভার নেমে গেল- বেশ দূরে।

    একা তার ডেক্সে, তিনি গভীর চিন্তায় মগ্ন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন না কত মিনিট অতিক্রম করেছেন তার ফোন বাজার পর। তিনি ছিলেন ওয়ারেন বেল্লামী।

    পিটার জীবিত, তার ম্যাসোনিক ভাই বললো, আমি খবর জানতে পেরেছি। আমি জানতাম আপনি এটা এখনই জানতে চাইবেন। তিনি ভাল হয়ে উঠছেন।

    ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। গ্যালাওয়ে বললেন তিনি এখন কোথায়?

    গ্যালোওয়ে শুনলেন বেল্লামী সম্বন্ধে অন্য ধরনের গল্প তারা ক্যাথেড্রাল কলেজ ত্যাগ করার পর।

    কিন্তু আপনারা সবাই ভাল আছেন।

    হ্যাঁ, বেল্লামী বললেন। একটা ব্যাপার আছে, ভেবে দেখলাম তিনি এ কথা বলে থামলেন।

    হ্যাঁ?

    ম্যাসোনিক পিরামিড– আমি মনে করি ল্যাংডন এর সমাধান করে ফেলেছেন।

    গ্যালোওয়ে মুচকি হাসলো। তার মাঝে কোন প্রকার বিস্মিয়কর চিহ্ন দেখা গেল না। আমাকে বলুন ল্যাংডন কি আবিষ্কার করেছেন নাকি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে পারেন নি?

    না পারলে ল্যাংডন কি দাবী করেন যে তিনি এটা করতে পারবেন?

    আমি তা এখনো জানিনা।

    গ্যালোওয়ে বললো। আপনার বিশ্রাম নেওয়া দরকার।

    তোমারও। না, আমার প্রয়োজন প্রার্থনা করা।

    .

    ১২৪ অধ্যায়

    যখন এলিভেটরের দরজা খুললো, টেম্পল রুমের আলোগুলো সবই জ্বলছিল।

    ক্যাথরিন সলোমনের পা দুখানায় তখনো অনুভূত হচ্ছিল রবারের অস্তিত্ব। তিনি তার ভাইকে খুঁজতে লাগলেন। প্রকান্ড চেম্বারের বাতাস ঠান্ডা এবং ধূপের গন্ধে ভরা ছিল। দৃশ্যটা তাকে স্বস্তি দিল তিনি তার চলার পথে থামলেন।

    চমৎকার রুমটার কেন্দ্রস্থলে একটা নিচু পাথরের বেদীর উপর একটা রক্তাক্ত উল্কি আঁকা মৃতদেহ শায়িত রয়েছে। ভাঙ্গা কাঁচের টুকরোগুলো দ্বারা ছিদ্র ছিদ্র করা একটা দেহ। উপরের দিকে সিলিংএ একটা খোলা ছিদ্র স্বর্গের পানে।

    হায় ঈশ্বর। ক্যাথরিন তৎক্ষণাৎ দূরে তাকালেন। তার চোখ দুটো পিটার খুঁজছিল। তিনি দেখতে পেলেন তার ভাই রুমটার অন্যদিকে বসে ল্যাংডন এবং ডিরেকটর সাটোর সাথে কথা বলছিলেন।

    পিটার ক্যাথরিন দৌড়ে গিয়ে পিটার বলে ডাক দিলেন।

    তার ভাই উপরের দিকে তাকালেন, তার অভিব্যক্তির মাঝে স্বস্তির অনুষঙ্গ। তৎক্ষণাৎ তিনি দাঁড়িয়ে পড়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন। তার গায়ে একটা সাধারণ সার্ট আর পরনে কালো ঢিলা পাজামা, সম্ভবত নিচের তলায় তার অফিস থেকে তার জন্য কেউ হয়ত ওইগুলো এনে দিয়েছিল। তার ডান হাতটাতে একটা পট্টি বাধা। তার আলতো আলিঙ্গন ছিল বিব্রতকর। ক্যাথরিন কিন্তু সামান্যই লক্ষ করলেন। তার চারপাশের একটা অতিপরিচিত স্বস্তিকর অনুষঙ্গ, তার মাঝে রেশমগুটির মতো একটা গুটানো ভাব, যা তার শৈশবকালে তার মাঝে বিরাজ করতো। তার বড় ভাই তাকে আলিঙ্গন করলেন।

    তারা পরস্পর নীরব থাকলেন।

    পরিশেষে ক্যাথরিন ফিস ফিস করে বললেন, আপনি কি ভাল আছেন? আমি বুঝাতে চাচ্ছি- সত্যি সত্যি? সে তাকে মুক্তি দিলেন। নিচের দিকে চোখ পড়তেই তার হাতে পট্টি ও ব্যন্ডেজটা দৃষ্টি গোচর হলো।

    তার চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। আমি খুবই দুঃখিত।

    পিটার গাঢ় উঁচু করলেন যেন কিছুই ঘটেনি এমন একটা ভাব দেখিয়ে নশ্বর রক্ত মাংসের শরীর। অস্তিত্ব চিরকাল থাকে না গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে তুমি ভাল আছ।

    পিটারের সহৃদয় উত্তরে তার আবেগ অনুভূতি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল, এসব কারণেই তিনি তার ভাইকে ভালবাসতেন। ক্যাথরিন তার ভাইয়ের মাথায় একটা টোকা দিলেন আর অনুভব করলেন পরিবারের অবিচ্ছিন্ন আবেগ অনুভূতিকে– তাদের ধমনীতে একই রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল।

    মর্মান্তিকভাবে, ক্যাথরিন জানতেন আজ রাতে সেখানে একজন তৃতীয় সলোমন উপস্থিত ছিলেন।

    বেদীর উপরের মৃতদেহের দিকে ক্যাথরিনের চোখ পড়লো এবং তিনি প্রগারভাবে চেষ্টা করলেন যে ছবিগুলো দেখেছিলেন তা তার মনের পর্দা থেকে মুছে ফেলতে।

    ক্যাথরিন দূরে তাকালেন, তার চোখদুটো তখন রবার্ট ল্যাংডনকে খুঁজতে থাকলো। সেখানটাতে প্রগাঢ় উপলব্ধিবোধ বিরাজ করছিল ল্যাংডন যে কোন উপায়ে জানতেন প্রকৃতপক্ষে ক্যাথরিন কী ভাবছিলেন। পিটার জানেন। হালকা আবেগ ক্যাথরিনকে আঁকড়ে ধরেছে- স্বস্তি, সহানুভূতি, হতাশা। সে অনুভব করলো তার ভাইয়ের শরীরটা একটা শিশুর শরীরের মতো কাঁপতে শুরু করেছে। ক্যাথরিন সারা জীবনে কখনো সাক্ষী ছিলেন না এ ধরনের ঘটনার।

    এ সব কথা ছেড়ে দিন ক্যাথরিন ফিসফিস করে বললেন, সব ভালই আছে, ওইসব কথা বাদ দিন।

    পিটার আরো বেশি মাত্রায় কাঁপতে লাগলেন।

    ক্যাথেরিন তাকে ধরলেন এবং তার মাথার পিছন দিকে টোকা দিলেন।

    পিটার, আপনি সব সময় মনবল শক্ত রাখবেন– আপনি সদাসর্বদা আমার জন্য সেখানে থাকবেন। আমি এখানে আপনার জন্যই আছি। সব ঠিক আছে। আমি এখানে ভাল আছি।

    ক্যাথরিন তার ভাইয়ের মাথাটা তার নিজের কাঁধের উপর রাখলেন– দ্য গ্রেট পিটার সলোমন অসাঢ় হয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকলেন।

    ডিরেকটর সাটো একটা ফোনের কল ধরতে এগিয়ে গেলেন।

    নোলা কায়ে। তার খবর ভাল।

    এখন পর্যন্ত বিতরণের কোন চিহ্ন নেই, তিনি আশান্বিতভাবে বললেন, আমার বিশ্বাস আছে আমরা এখনই কিছু একটা দেখতে পাব। আপনি যেটা ধারণ করেছিলেন এটা তারই মত।

    আপনাকে ধন্যবাদ নোলা, ল্যাপটপের দিকে একনজর তাকিয়ে গ্যাটো ভাবলেন ল্যাংডন ল্যাপটপে চোখ রেখেছিলেন। একটা অতি ঘনিষ্ঠ কল

    নোলার প্রস্তাবে, এজেন্টটি ম্যানসনে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, চেক করলেন আবর্জনার স্তূপগুলো, আর নতুন কেনা সেলুলার মডেম। সঠিক মডেল নম্বরের সাহায্যে নোলা মন্দির থেকে তিনটি ব্লকে ক্রস রেফারেন্স করতে সমর্থ হলেন।

    নোলা তাড়াতাড়ি স্যাটোকে তথ্য জানালেন হেলিকপ্টারে গিয়ে। হাউস অব টেম্পলের দিকে নিকটবর্তী হয়ে পাইলট হেলিকপ্টারটিকে নিচু দিয়ে উড়ে গেল এবং ব্লাস্ট অব দি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক র‍্যাডিয়েশনের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটা ধাক্কা দিল অব লাইনে ল্যাপটপ তার কাজ শেষ করার আগেই।

    আজরাতে বড় কাজ সাটো বললেন, এখন একটা ঘুম দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আপনি সফল হয়েছেন।

    আপনাকে ধন্যবাদ, ম্যাডাম নোলা ইতস্তত করে বললেন।

    সেখানে আর কিছু আছে নাকি?

    নোলা দীর্ঘ সময় নীরব থাকলেন, কথা বলবে কী বলবে না ভেবে শেষ তিনি বললেন, সকাল পর্যন্ত এমন কিছু তথ্য নেই, ম্যাডাম। শুভ রাত।

    .

    ১২৫ অধ্যায়

    হাউস অব দ্য টেম্পলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের সুন্দর বাথরুমে নীরবতা বিরাজ করছিল। রবাট ল্যাংডন একটা টাইল ওয়ালা পাত্রের গরম পাত্রের মাঝে হাঁটতে দেখা গেল, তার চোখ আয়নার দিকে নিবদ্ধ। এমনকী আলোও ছিল নিপ্রভ। তাকে দেখাচ্ছিল।

    তার ডেব্যাগ তিনি আবার কাঁধে নিলেন। এখন প্রচুর আলো- তার ডেব্যাগটা শূন্য তার ব্যক্তিগত কয়েকটা জিনিসপত্র এবং ভাজ করা লেকচার নোটসমূহ। তাকে চাপা হাসি হাসতে হলো। তার মকর ডি.সিতে আজ রাতে তাকে একটা লেকচার দিতে হবে যাতে অংশ নেবার জন্য তাকে পূর্ব প্রস্তুতি নেবার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে।

    যদিও ঘটনাটা এমন তবুও ল্যাংডন অনেক অনেক কৃতজ্ঞ ছিলেন।

    পিটার জীবিত আছেন।

    আর ভিডিওটা ধারণকৃত ছিল।

    ল্যাংডন তার মুখে গরম পানির ঝাঁপটা দিলেন, তিনি ধীরে ধীরে অনুভব করলেন তিনি জীবন ফিরে পাচ্ছেন। প্রত্যেক জিনিস তখনো ঝাঁপসা ছিল, তার শরীরের আড্রেলিন পরিশেষে অপচয় হয়েছিল- আর তিনি আবার ভাল অনুব করছেন। তার হাত শুকানোর পর, তিনি তার মিকি মাউস ওয়াচ চেক করতেন। হায় ঈশ্বর, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    ল্যাংডন বাথরুম থেকে বের হলেন এবং দ্য হল অব অনারের বাঁকানো পথ ধরে এগিয়ে গেলেন- দ্য হল অব অনারে ইউ এস প্রেসিডেন্ট, ফিলাগ্ৰোপিস্ট, লুমিনারিস এবং প্রভাবশালী আমেরিকানদের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছে। তিনি হ্যারি ট্রুম্যানের ওয়েল পেন্টিং সামনে থামলেন।

    আমরা সবাই একজনকে দেখি তার পিছনে একটা গোপন দুনিয়া আছে। আমাদের সবার জন্য

    আপনি পিছলিয়ে পড়লেন, একটা কণ্ঠস্বর হলের নিচে থেকে ভেসে এলো।

    ল্যাংডন ঘুরলেন।

    তিনি হলেন ক্যাথরিন। তিনি আজ রাতে নরকের ভিতরে ছিলেন, তবুও তাকে দীপ্তিময়ী মনে হলো।- যে কোন ভাবে নবযৌবনা হলেন।

    ল্যাংডন কষ্টকর হাসি হাসলেন। তিনি কি কেমন করছিলেন?

    ক্যাথরিন হেঁটে এগিয়ে এলেন এবং তাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত করলেন। কেমন ভাবে আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে পারি?

    ল্যাংডন হেসে উঠলেন। তুমি জান আমি কোন কিছু করি নাই, ঠিক তো?

    ক্যাথরিন তাকে অনেকক্ষণ যাবত আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে থাকলেন।

    পিটার ভাল হয়ে উঠছে–? ক্যাথরিন সরে গিয়ে ল্যাংডনের চোখ দুটোর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলেন।

    আর সে আমাকে অবিশ্বাস্য কিছু বলেছিলেন- কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার। ক্যাথরিনের গলার স্বর কাঁপছিল।

    আমার নিজেরই যাওয়া প্রয়োজন। আমি এক মুহূর্তের মধ্যে ফিরে আসবই।

    কী? তুমি কোথায় যাচ্ছ?

    আমি বেশি সময়ের জন্য যাচ্ছি না। পিটার আপনার সাথে কথা বলতে চায়। সে লাইব্রেরিতে অপেক্ষা করছে।

    সে কি বলেছে কেন?

    ক্যাথরিন চাপা হাসি হাসলো এবং তার মাথা নাড়ালো। আপনি জানেন পিটার এবং তার গোপন বিষয় সমূহের কথা।

    কিন্তু—

    আমি একটু পরে আপনার সাথে মিলিত হবো।

    তারপর ক্যাথরিন চলে গেল।

    ল্যাংডন দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। তিনি অনুভব করলেন এক রাতের জন্য তার প্রচুর গোপন বিষয় ছিল। উত্তর না পাবার মতো প্রশ্নাবলী ছিল, অবশ্য তাদের মধ্যে ম্যাসোনিক পিরামিড এবং লস্ট ওয়ার্ড- কিন্তু উত্তরগুলো সম্বন্ধে তার জ্ঞান লাভ করলেন, যদি এমনকী তারা টিকে থাকে তবে তার জন্য নয়। একজন নন ম্যাসোন হিসাবে নয়।

    ল্যাংডন ম্যাসোনিক লাইব্রেরির দিকে হাঁটা দিলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, পিটার সারাক্ষণ স্টোন পিরামিড সামনে করে একটা টেবিলের সামনে বসেছিল।

    রবার্ট? পিটার মুচকি হেসে তাকে ভিতরে যাবার জন্য ইশারা করে বললেন, আমি একটা ওয়ার্ড পছন্দ করতাম।

    ল্যাংডন দাঁত বের করে হেসে বললেন, হ্যাঁ, আমি শুনেছি তুমি একটা হারিয়েছ।

    .

    ১২৬ অধ্যায়

    দ্য হাউস অব দি টেম্পলের লাইব্রেরিটি ছিল ডি.সি এর প্রাচীনতম পাবলিক রিডিং রুম। এখানে দুপ্রাপ্য কপি এহিম্যান রিজন, দ্য সিক্রেটস অব এ প্রিপেয়ার্ড ব্রাদার সহ আড়াই লক্ষ বই আছে। এছাড়া, লাইব্রেরিটিতে মূল্যবান ম্যাসোনিক জুয়েলাস, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের এবং এমনকী একটা দুপ্রাপ্য ভ্যলুম। আছে যা বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিনের হাতে ছাপা।

    ল্যাংডনের প্রিয় লাইব্রেরি সগ্রহশালা, যা কম লোকেরই নজরে পড়েছিল।

    বিভ্রম

    সলোমন অনেক কাল আগে তাকে প্রদর্শন করেছিলেন সঠিক সুবিধে জনক অবস্থান থেকে। লাইব্রেরির রিডিং ডেক্স এবং একটা নির্ভুল দৃষ্টি বিভ্রম সৃষ্ট সোনালী টেবিল ল্যাম্প- যা ছিল একটা পিরামিড এবং সোনালী আলো বিচ্ছুরিত ক্যাপস্টোনের। সলোমন বললেন তিনি সদাসর্বদা বিভ্রমকে বিবেচনা করেন একটা নীরব স্মারক হিসাবে যাতে ফ্রিম্যাসোনরিয় রহস্যসমূহ সঠিকভাবে যে কেউ ও প্রত্যেকের কাছে দৃশ্যমান যদি তাদেরকে দেখা হয় সঠিক দৃষ্টিতে।

    যা হোক আজ রাতে, ফ্রিম্যাসোনরির রহস্যসমূহ সামনে এবং কেন্দ্রে বাস্তবে পরিণত হয়েছিল। ল্যাংডন শ্রদ্ধেয় প্রভু পিটার সলোমন এবং ম্যাসোনিক পিরামিডের পিছন দিকে বসে ছিল।

    পিটার হাসছিলেন। রবার্ট আপনি ওয়ার্ডটি সম্বন্ধে বলেন তা একটা লেজেন্ড নয়, এটা একটা বাস্তবতা।

    ল্যাংডন টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকলেন এবং পরিশেষে বললেন, কি আমি বুঝতে পারি না। ওইটা কেমন করে সম্ভব?  গ্রহণ করা কি খুবই কষ্টকর?

    এটাই সব কিছু! ল্যাংডন বলতে চাইলেন, পুরনো বন্ধুর চোখ দুটোকে লক্ষ করে দেখলেন সাধারণ বোধের কোন ঈঙ্গিত আছে কিনা। তুমি বলছ তুমি বিশ্বাস কর লস্ট ওয়ার্ড হচ্ছে বাস্তব- এটাই কি প্রকৃত শক্তি?

    প্রচন্ড শক্তি পিটার বললেন। প্রাচীন রহস্য সমূহকে উন্মুক্ত করণের দ্বারা মানবজাতির পরিবর্তনের ক্ষমতা এর মাঝে আছে।

    একটা ওয়ার্ড? ল্যাংডন চেলেঞ্জসূচক প্রশ্ন করলেন।

    পিটার, আমি একটা ওয়ার্ডের কথা বিশ্বাস করতে পারি না–

    তুমি বিশ্বাস করবে, পিটার শান্তভাবে বললেন। ল্যাংডন নিশ্ৰুপ হয়ে গেল।

    তুমি যেমন জান, সলোমন দাঁড়িয়ে পড়ে টেবিলের চারদিকে ঘুরে বলতে শুরু করলেন, অনেক আগেই ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছে যে এমন একটা দিন আসবে যখন লস্ট ওয়ার্ড পুন আবিস্কৃত হবে–

    একটা দিন যখন এটা উদঘাটিত হবে—

    মানবজাতি আর একবার উদ্ধার করবে ভুলে যাওয়া শক্তিকে।

    ল্যাংডন আলোকপাত করলেন পিটারের মহাপ্রলয়ের সম্বন্ধে বক্তৃতার উপর। যদিও অনেক লোক ভ্রান্তভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন এ মহাপ্রলয় পৃথিবীর আকস্মিক পরিসমাপ্তি ঘটাবে, উদঘাটন শব্দটি আভিধানিক অর্থে সত্য বলে ঘঘাষিত হয়েছিল প্রাচীনদের দ্বারা The Coming age of enlightenment এ। এমনটা সত্ত্বেও ল্যাংডন কল্পনা করতে পারলেন না এ ধরনের বিশাল পরিবর্তনের কথা একটা শব্দে।

    পিটার স্টোন পিরামিডের দিকে গেলেন, যা বসানো ছিল টেবিলের উপর পাশে একটা গোল্ডেন ক্যাপস্টোন। দ্য ম্যাসোনিক পিরামিড, তিনি বললেন। দ্য লেজেন্ডারী সিম্বোল। আজ রাতে এক করা– এবং সম্পূর্ণ করা হবে। তিনি ভক্তি সহকারে গোল্ডেন ক্যাপস্টোন উত্তোলন করলেন এবং তা পিরামিডের শীর্ষদেশে স্থাপন করলেন। ভারী সোনার টুকরো আস্তে শব্দ করে যথাস্থানে স্থাপিত হলো।

    আজরাতে, বন্ধু, তোমাকে এমন কাজ করতে হবে যা আগে কখনো করোনি। তোমাকে ম্যাসোনিক পিরামিডকে একত্রিত করতে হবে, তাহলে কোডগুলোর সমস্ত গুপ্ত সংকেত উদ্ধার করা যাবে, এবং পরিশেষে, উন্মোচিত হবে– এই।

    সলোমন এক খানা কাগজ বের করে তা টেবিলের উপর রাখলেন। ল্যাংডন চিনতে পারলেন সিষোলগুলো বর্গজালি যা তিনি আগেই চিনেছিলেন আট ফ্রাঙ্কলিন বর্গের ক্রমকে।

    তিনি টেম্পল রুমে এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে পড়াশুনা করেছিলেন।

    পিটার বললেন, আমি জানতে কৌতূহলী তুমি সিষোলের এই শ্ৰেণীগুচ্ছকে পড়তে পার কিনা। মোটের উপর, তুমি একজন বিশেষজ্ঞ।

    ল্যাংডন গ্রিড বা বর্গজালির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন।

    হেরেডম, সারকামপাংকট, পিরামিড, স্টিয়ারকেস

    The-Lost-Symbol-116

    ল্যাংডন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ভাল কথা, পিটার, সম্ভবত তুমি নির্ভর করতে পার, এটা হচ্ছে একটা এলেগোরিক্যাল পিক্টোগ্রাম। পরিষ্কার ভাবে বলতে হয় এর ভাষা মেটাফোরিক্যাল এবং সিম্বোলিক আক্ষরিকের চেয়ে।

    সলোমন চাপা হাসি হেসে বললেন, একজন সিম্বোলিস্টের কাছে একটা সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি– ভালকথা, আমাকে বলো তুমি কী দেখছ।

    পিটার আসলে কি এটাই শুনতে চাচ্ছিলেন? ল্যাংডন তার দিকে কাগজটা টেনে নিলেন। ভালকথা, আমি আগে ভাগেই এটা দেখেছিলাম, আর এটার সহজ অর্থগুলো আমি দেখছি যে এই গ্রিড হচ্ছে একটা ছকি বর্ণনা করা হয়েছে। স্বর্গ এবং নরক সম্বন্ধে।

    পিটার তার যুগোল সংকুচিত করে বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন ওই?

    নিশ্চিত, মূর্তিটার শীর্ষদেশে আমরা হেরেম ওয়ার্ডটা পাব- দি হোলি হাউস- যাকে আমি অর্থ করি হাউস অব গড বলে- কিংবা স্বর্গ বলে।

    বেশ ভাল।

    হেরেডম উপর নিচের দিকে মুখ করা একটা তীর চিহ্ন যার অর্থ দাঁড়ায় পিক্টোগ্রামের অবশিষ্ট স্পষ্টভাবে অবস্থিত স্বর্গের নিচের রাজ্য– যা হচ্ছে

    পৃথিবী।  ল্যাংডনের চোখ দুটো গ্রিডের তলার দিকে নিবদ্ধ ছিল। সবচেয়ে নিচের দুসারিতে, ওইগুলো পিরামিডের নিচে, যা পৃথিবীটার প্রতিনিধিত্ব করে টেরাকার্মা- সমস্ত রাজ্য সবচেয়ে নিচে। এই সমস্ত কল্পলোক ধারণ করে আছে। বারটি প্রাচীন অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল চিহ্ন, যা প্রতিনিধিত্ব করে ওই সমস্ত মানুষের আত্মা সমূহের প্রিমোডিয়াল ধর্মকে যা তাকিয়েছিল স্বর্গাদির পানে এবং দেখেছিল তারকা রাজি ও গ্রহগুলোর গতির মাঝে ঈশ্বরের হাত আছে।

    সলোমন তার চেয়ার কাছে টেনে নিলেন এবং গ্রীড পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। ভাল কথা, আর কিছু কী?

    অ্যাস্ট্রোলজির একটা ভিত্তির উপর দ্য গ্রেট পিরামিড জমিন থেকে উঠেছে– স্বর্গের দিকে প্রসারিত হয়ে– হারানো জ্ঞানের স্থায়ী সিয়োল। ইতিহাসের ফিলোসোফিস এবং ধর্মসমূহ- ইজিপসিয়ান, পিথাগোরিয়ান, বুদ্ধিস্ট, হিন্দু, ইসলামিক, জুডিও ক্রিশ্চিয়ান সবই উপরের দিকে বইছে, একত্রিত হচ্ছে, চোঙার মধ্য দিয়ে তাদেরকে চালাচ্ছে পিরামিডের রূপান্তরিত সদর দরজার ভিতর দিয়ে- যেখানে পরিশেষে জোড়া লেগে একত্রিত হয়ে একটা এককে পরিণত হয়। তিনি থামলেন। একটা মাত্র চিরন্তন চেতনা– ঈশ্বরের এক আংশিক গ্লোবাল ভিশন—

    প্রাচীন সিষোলের দ্বারা প্রদর্শিত হয়েছিল যা ঘোরাফেরা করে ক্যাপস্টোনের উপর।

    সারকামপাংকট, পিটার বললেন। ঈশ্বরের জন্য একটা বিশ্বজনীন সিম্বোল।

    ঠিক, ইতিহাসে, দ্য সারকামপাংকট হচ্ছে সমস্ত লোকজনের উদ্দেশ্যে সমস্ত জিনিসপত্র- তা হচ্ছে সূর্য দেবতা রা, আলকেমিক্যাল গোল্ড, সবকিছু দেখে যে চক্ষু, বিগ ব্যাংগের পূর্বে একটা মাত্র বিন্দু, দ্য-

    বিশ্বজগতের মহান স্থপতি

    ল্যাংডন মাথা নোয়ালেন, এবং বোধ করলেন সম্ভবত একই যুক্তিতর্ক পিটার টেস্পল রুমে দেখিয়েছিলেন সারকামপাংকটের আইডিয়ায়, দ্য লস্ট ওয়ার্ড বুঝাতে।

    আরবি চুড়ান্ত ভাবে? পিটার জিজ্ঞেস করলেন, সোপান শ্রেণী সম্বন্ধে কী ভাবছ?

    ল্যাংডন পিরামিডের নিচের সোপানগুলোতে রাখা মূর্তিটির দিকে এক নজর তাকালেন।

    পিটার, আমি নিশ্চিত যে কোন লোকের মত তুমিও জান ফ্রিম্যাসোনরির এই শ্রেণী সোপানগুলো প্রতীক হিসাবে পরিচিত- পার্থিব আঁধার আলোর মাঝে নিপাতিত- জ্যাকোবের মই বেয়ে স্বর্গে পৌঁছানোর মতো কিংবা মানুষের

    মেরুদণ্ড যা মানুষের নশ্বর দেহ থেকে মনের ভিতর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি থামলেন। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় সিম্বোলগুলোর অবশিষ্ট অংশটা সম্বন্ধে, তারা স্বর্গীয়, ম্যাসোনিক এবং সাইন্টিফিক এর একটা মিশ্র পদার্থ, হিসাবে হাজির হয়, সবকিছুই প্রাচীন রহস্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত।

    সলোমন তার চিবুকে টোকা মারলেন। একটা সুন্দর ব্যাখ্যা, প্রফেসর। আমি একমত, অবশ্যই, ওই গ্রিড পাঠ করা যেতে পারে এ্যালেগোরি হিসাবে, তবুও-

    তার চোখদুটো প্রসার রহস্যে ভরে উঠলো।

    সিষোলগুলোর এই সংগ্রহ অন্য গল্পও বলে। একটা গল্প যা বেশ দূর পর্যন্ত ব্যপ্ত।

    ওহ?

    সলোমন আবার টেবিলের চারদিকে ঘুরলেন। আজ রাতের প্রথমদিকে, মন্দিরের ভিতরে আমার মনে হলো, আমি মারা যাচ্ছি, এই গ্রিডের সাথে আমাকে তালাবদ্ধ করা এবং যে কোন ভাবে আমি দেখলাম অতীতের মেটা ফোর, অতীতের এ্যালেগোরি বা রূপক এই সমস্ত সিষোলগুলোর অতি গভীরে আমাদেরকে বলছিল। তিনি থামলেন, ল্যাংডনের দিকে ঘুরে হঠাৎ করে ল্যাংডনের দিকে তাকায়ে বললেন। এই গ্রিড প্রকৃত অবস্থান সম্বন্ধে কোথায় লস্ট ওয়ার্ড সমাধিস্থ হয়েছিল তা প্রকাশ করছে।

    আবার এসো? ল্যাংডন কষ্টে তার চেয়ার স্থানান্তর করলেন, হঠাৎ করে ভয় ধরে গেল সন্ধ্যায় খারাপ ও বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পিটার ওখান থেকে চলে আসায়। রবার্ট, লেজেন্ডে সদাসর্বদাই বর্ণিত হয়েছিল যে ম্যাসোনিক পিরামিড একটা ম্যাপ রূপে- একটা খুবই সুনির্দিষ্ট ম্যাপ- একটা ম্যাপ যা লস্ট ওয়ার্ডের গোপন অবস্থানের পথ নির্দেশক হতে পারে।

    সলোমন ল্যাংডনের সামনে সিম্বোলগুলোর গ্রিডে মৃদু আঘাত করলেন। আমি তোমাকে গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই সিষোলগুলো লেজেন্ডে যা বলা হয়েছিল তার মত।

    ল্যাংডন কষ্টকর একটা হাসি দিলেন, সচেতনতার সাথে বললেন, যদি আমি ম্যাসোনিক পিরামিডের লেজেন্ড বিশ্বাস করতাম, তবে এই গ্রিড অব সিষোলের একটা ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হত না। এটা দেখ, এটাতে একটা মাপের মত কিছুই দেখাচ্ছে না।

    সলোমন মুচকি হাসি হাসলেন, মাঝেমধ্যে সবকিছুরই একটা ছোট আকার দেওয়া হয় কোন কিছুকে নতুনভাবে প্রচারের মাধ্যমে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে।

    ল্যাংডন আবার তাকালেন কিন্তু নতুন কিছু দেখলেন না। তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি পিটার বললেন।

    ম্যাসোনরা কোণার পাথরগুলো স্থাপন করেছিলেন, তুমি কি জান কেন আমরা ওইগুলোকে একটা অট্টালিকার উত্তর পূর্ব কোণায় স্থাপন করলাম?।

    নিশ্চয়ই, কারণ উত্তরপূর্ব কোণে প্রথম প্রভাতে আলো এসে পড়ে এটা স্থাপত্যের সিম্বোলিক গুণ যাতে আলোকিত হয় আগে ভাগে।

    ঠিক আছে। পিটার বললেন। সুতরাং তুমি সেখানে প্রথম আলোর রশ্মির কথা বলছো। তিনি গ্রিডের কাছে গেলেন।

    উত্তর পূর্ব কোণার দিকে।

    ল্যাংডন তার চোখ দুটো আবার কাগজের পাতায় নিবিষ্ট করলেন, তিনি চোখ রাখলেন উপরের ডান দিকে অথবা উত্তর পূর্ব কোণায়। ওই কোণায়। সিম্বোল ছিল

    সিম্বোল

    নিচের দিকে একটা তীর চিহ্ন, ল্যাংডন সলোমনের দিকে তাকিয়ে বললেন। কোন অর্থ– হেরেডমের নিয়ে

    না, রবাট, নিচেয় নয়। সলোমন প্রত্যুত্তরে বললেন।

    ভেবে দেখ। এই গ্রিড একটা মেটাফোরিক্যাল গোলক ধাঁধা নয়। এটা একটা ম্যাপ। আর একটা ম্যাপে, একটা নির্দেশক তীর চিহ্ন যা নিচের দিকে দেখাচ্ছে, তার অর্থ—

    দক্ষিণ ল্যাংডন তাৎক্ষণিক ভাবে ব্যাখ্যা করলেন।

    সঠিক? সলোমন প্রত্যুত্তরে বললেন, তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে আরো বললেন, দক্ষিণেই হওয়া উচিত! একটা ম্যাপ নিচের বলতে দক্ষিণই বুঝায়। যাহোক, একটা ম্যাপে হেরেডম শব্দটা স্বর্গের জন্য প্রযোজ্য নয়, এটা ছিল একটা ভৌগলিক অবস্থান।

    হাউস অব দি টেম্পোল? তুমি বলছ এই ম্যাপ নির্দেশ করছে- এই অট্টালিকার দক্ষিণ দিক হওয়াই বাঞ্ছনীয়?

    ঈশ্বরকে ধণ্যবাদ! সলোমন হেসে বললেন, শেষ পর্যন্ত আলো নিচের দিকে যায়।

    ল্যাংডন গ্রিডটা পর্যবেক্ষণ করলেন। কিন্তু, পিটার—-যদি তুমি সঠিক হও, এই অট্টালিকার দক্ষিণ বুঝাতে দ্রাঘিমার যে কোন স্থান হতে পারত যা চব্বিশ হাজার মাইল লম্বা।

    না, রবার্ট। তুমি লেজেন্ডকে অবজ্ঞা করছ, যাতে দাবী করা হয় লস্ট ওয়ার্ড প্রথিত করা হয়েছিল ডি সি তে। লেজেভে আরো দাবী করা হয়েছে যে একটা বড় স্টোন শীর্ষদেশে বসানো হয়– সে স্টোনে খোদাই করা ছিল ম্যাসেজ ছিল, যা একটা প্রাচীন ভাষায় লেখা।- এক ধরনের মার্কার, যাতে এর মূল্য যথাযোগ্য। ভাবে দেখা যেতে পারে।

    ল্যাংডন এই বিষয়ে সমস্যায় পড়লেন। তিনি যখন ডি.সি.কে ভালভাবে চিনতেন না তখন এটাই যথেষ্ট ভাল হয় বর্তমান অবস্থানের দক্ষিণ বলতে কী বুঝায়?

    স্টোনে ম্যাসেজটি খোদাই কৃত, পিটার বললেন, আমাদের চোখের সামনে ডান দিকে এখানে আছে না? তিনি ল্যাংডনের সামনে রাখা গ্রিডের তৃতীয় সারি স্পর্শ করলেন।

    এটাই তো খোদাইকৃত, রবার্ট! তুমি ধাঁধাটার সমাধান দাও! মুখে কথা নেই, ল্যাংডন সাতটা সিষোল পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন।

    সমাধান? ল্যাংডনের কোনই ধারণা নেই এই সাতটা সিষোল সম্বন্ধে। তিনি নিশ্চিত এগুলো জাতীয় রাজধানীর কোথায়ও খোদাই করা নেই- বিশেষ ধরণের সোপান শ্রেণীর প্রকান্ড কোন পাথরে।

    পিটার তিনি বললেন, আমি দেখছি না কেমন হতে পারে এই চিহ্নগুলোর অর্থ। আমি জানি ডি.সি.তে কোন স্টোনে এই ধরনের চিহ্ন খোদাইকৃত আছে- ম্যাসেজ।

    সলোমন ল্যাংডনের কাঁধে থাপ্পর মেরে বললেন, তুমি এটা নিয়ে অতীতে হাঁটছ আর তাই এর অর্থ পাচ্ছ না। আমাদের সব কিছু আছে। তারা রহস্যে ঘেরা একটা সহজ দৃশ্য। আজ রাতে আমি যখন এই সাতটা সিম্বোল দেখলাম আমি বুঝতে পারলাম এক সময় লেজেন্ডটা সত্যি ছিল। লস্ট ওয়ার্ড ডি.সিতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। আর তা সোপান শ্রেণীর তলায় প্রকাণ্ড খোদাইকৃত পাথরে আছে।

    ল্যাংডন নীরব থাকলেন।

    রবার্ট, আজরাতে তুমি সত্যি জানার অধিকার অর্জন করেছ।

    ল্যাংডন পিটারের দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলেন, তিনি কী সব শুনছেন। তুমি কি আমাকে বলতে চাচ্ছ কোথায় লস্ট ওয়ার্ড সমাহিত আছে?

    না, সলোমন বললেন, তিনি দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে আরো বললেন, আমি তোমাকে প্রদর্শন করছি।

    পাঁচ মিনিট পরে ল্যাংডন পিটারের পাশে বসলেন। সিমকিনস গাড়ি চালাচ্ছিলেন, ফলে সাটো পার্কিং লট পেরিয়ে সেখানে পৌঁছলেন।

    মি.  সলোমন? ডিরেকটর পৌঁছেই একটা সিগারেট ধরিয়ে বললেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করার জন্য কল করেছি।

    আর পিটার তার ভোলা জানালায় চোখ রেখে বললেন।

    আমি তাদেরকে অর্ডার করলাম আপনাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে সংক্ষেপে।

    আপনাকে ধন্যবাদ।

    সাটো তাকে পর্যবেক্ষণ করলেন, আগ্রহভরে। আমি অবশ্য বলছি, এটা একটা খুবই অস্বাভাবিক অনুরোধ-

    সলোমনের চেহারাটাকে দুর্বোধ্য লাগলো।

    সাটো সেদিকে লক্ষ্য না করে চার পাশ ঘুরে ল্যাংডনের জানালার কাছে গেলেন।

    ল্যাংডন জানালাটা নিচু করলেন।

    প্রফেসর, তিনি বললেন, আজ রাতে আপনার সহযোগিতা চমৎকার, আমাদের সাফল্য সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। আর এ জন্য আমি আপনাকে ধণ্যবাদ জানাচ্ছি।

    সাটো তার সিগারেটে একটা টান দিয়ে বাকীটা পাশে ফেলে দিলেন। যাহোক, শেষ উপদেশ পরবর্তী সময়ে একজন সি আই এ এর সিনিয়র এ্যাডমিনিস্ট্রেটর আপনাদেরকে বলবেন, তার একটা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা আছে– তার চোখদুটো তমসাচ্ছন্ন হলো।

    ল্যাংডন তাকে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু ডিরেকটর ইনোউ সাটো ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছেন পার্কিংলটের উদ্দেশ্যে, ওখানে অপেক্ষা করবেন হেলিকপ্টারের জন্য।

    সিমকিনস তার কাঁধের দিকে তাকালেন, পাথরের মত মুখ করে তিনি বললেন, দ্রমহোদয়গণ আপনারা কি প্রস্তুত?

    প্রকৃতপক্ষে প্রস্তুত তবে শুধুমাত্র এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে হবে। সোমন বললেন, তিনি একটা ভাজ করা কালো কাপড় ল্যাংডনের হাতে দিলেন। রবার্ট, আমি পছন্দ করি তুমি এটা পরবে আমরা যখন বাইরে যাবে।

    হতবাক হয়ে ল্যাংডন কাপড়টা পরীক্ষা করলেন। এটা কালো ভেলভেট। তিনি এটার ভাজ খুলে ফেললেন, তিনি বুঝতে পারলেন তিনি হাতে ধরে আছেন একটা ম্যাসোনিক আচ্ছাদন- ঐতিহ্যবাহী কালো পোশাক।

    নরক আর কাকে বলে?

    পিটার বললেন, আমি পছন্দ করি তোমাকে এ পোশাক ছাড়া যেন না দেখি যখন আমরা বাইরে যাব।

    ল্যাংডন পিটারের দিকে তাকালেন, তুমি আমাকে জার্নিতে যাবার সময় কালো কাপড়ে মুড়তে চাও।

    সলোমন বললেন, আমার গোপন ব্যাপার, আমার নিয়মাবলী।

    .

    ১২৭ অধ্যায়

    ল্যাঙলের সি আই এ হেডকোয়াটারের বাইরে ঠান্ডা বাতাস বইছিল। নোলা কায়ে এজেন্সির চন্দ্রালোকিত কেন্দ্রীয় চত্বরে রিক পারিশকে অনুসরণ করছিলেন।

    রিক আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

    ম্যাসোনিক ভিডিও এর সংকট দূরীভূত হয়েছে, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, কিন্তু নোলা তখনো অস্বস্তি বোধ করছিলেন। সি আই এ ডিরেকটরের সম্পাদিত ফাইল এখনো তার কাছে রহস্যাবৃত। এটা তাকে বিরক্তির উদ্রেক করছিল। তিনি এবং সাটো সকালের আলোচনায় নোলা পর্যন্ত ঘটনা জানতে চেয়েছিলেন। পরিশেষে তিনি রিক পারিশের কথা বলে তার সাহায্য নেবার আদেশ করেছিলেন।

    এ কারণে তিনি রিককে অনুসরণ করছে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নোলা তার মন থেকে এই কথাগুলোকে তাড়াতে পারছিলেন না।

    আন্ডার গ্রাউন্ডে গোপন স্থান যেখানে– ওয়াশিংটন ডি.সি. কোন একটা জায়গা, সহযোগিতা– একটা প্রাচীন প্রবেশপত্র যা চলেছিল– সতর্ককরণ দ্য পিরামিড বিপদসংকুল– পাঠোদ্ধার এই খোদাইকৃত সিম্বোলোন উনোচন—

    আপনি এবং আমি রাজি পারিশ বললেন হাঁটতে হাঁটতে, ওই হ্যাকার ওই সমস্ত কিওয়ার্ডগুলোকে অবশ্য সার্চিং করছে ম্যাসোনিক পিরামিড সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।

    বাস্তবিকই নোলা ভাবলেন

    ভাববারই বিষয়, হ্যাকার হোঁচট খেতে পারে ম্যাসোনিক রহস্যের আমি তেমনটা মনে করি না।

    আপনি কী মনে করেন?

    নোলা, তুমি কি জান সি আই এ ডিরেকটর কেমন ভাবে ইন্টারনাল ফোরামে এজেন্সির কর্মীদের উদ্দেশ্যে ধারণা দিয়েছেন?

    অবশ্যই ফোরাম এজেন্সির কর্মীদেরকে অন লাইনে একটা নিরাপদ স্থান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কথোপকথন হয়েছে এবং ডিরেকটর তার স্টাফকে যথাযথ নির্দেশ ও পরামর্শ করেছেন।

    তারা এজেন্সির ক্যাফেটেরিয়ার কাছাকাছি স্থানটা পেরোনোর পর নোলা জানতে চাইলেন, আপনাকে কী জানতে হবে?

    একটা শব্দ– পারিশ অন্ধকারের মধ্যে নির্দেশ করে বললেন, ওইটা।

    নোলা উপরের দিকে একনজর তাকালেন। তাদের সামনে প্রাজা পার হবার পর প্রকাও একটা মেটাল ভাস্কর্য চাঁদের আলোয় জ্বলজ্বল করছিল।

    একটা এজেন্সি পাঁচ শ অরিজিনাল শিল্প নিদর্শন সংরক্ষণ করছিল, এই ভাস্কর্য তার মধ্যে একটি। এটার নাম Kryptos। এটা গ্রীক ভাষা অর্থ গোপনীয় Kryptos। ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন আমেরিকান আর্টিস্ট জেমস সানবর্ণ এবং আই এ তে এটার একটা লেজেন্ড এখানে গড়ে উঠেছে।

    একটা প্রকাণ্ড এস আকৃতির কপার প্যানেলের উপর এটা স্থাপিত। এর পাশগুলো ঢেউ খেলানো ধাতব দেওয়াল বেষ্টিত। দেওয়ালের উপরটা প্রায় হাজার বর্ণ খোদাই করা– সাজানো আছে কিছু দুর্বোধ্য কোড দ্বারা।

    এটা ভাস্কর্যের অনন্য সাধারণ নিদর্শন। এস ওয়ালে অসংখ্য ভাস্কর্যের উপাদান গ্রানাইট গ্লাবস অতিরিক্ত এঙ্গেলগুলোতে, একটা কমপাস রোজ, একটা ম্যাগনেটিক লোডস্টোন, এমনকী মোর্স কোডের একটা ম্যাসেজ। এই ভাস্কর্যের অনুরাগী দর্শকেরা একে শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন হিসাবে জ্ঞান করে থাকে।

    Kryptos ছিল শিল্প– কিন্তু এটা ছিল একটা প্রহেলিকাও।

    এর খোদাইকৃত কোডগুলোর পাঠোদ্ধারের চেষ্টা সি.আই.এ এর অভ্যন্তরে এবং বাইরের কাইপ্টোলোজিস্টদের জন্য একটা মাথা ব্যথার কারণ হিসাবে দেখা দেয়। পরিশেষে কয়েক বছর আগে কোড এর একটা ভাগ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল এবং তা জাতীয় সংবাদ হয়েছিল। যদিও Kryptos এর অবশিষ্ট কোড এর পাঠোদ্ধার হয়েছে তা রহস্যাবৃত। এতে সন্নিবেশিত হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড লোকেশন, পোর্টাল যাতে প্রাচীন সমাধি সৌধ, দ্রাঘিমা এবং অক্ষাংশগুলো।

    নোলা এখনো পাঠোদ্ধারকৃত সেকশানের কোডগুলো কিছু কিছু সামান্য সামান্য এবং আংশিকভাবে স্মরণ করতে পারেন। তথ্য সংগ্রহীত হলো এবং আন্ডার গ্রাউন্ডের অজানা লোকেশনে প্রেরিত হলো– এটা ছিল সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য– ওইটা কেমন করে সম্ভব– তারা ব্যবহার করতে ম্যাগনেটিক ফিরে মাটি—

    নোলা কখনোই ভাস্কর্যের উপর মনোযোগ দেননি কিংবা যত্নশীলও ছিলেন না।

    এটা সম্পূর্ণরূপে কখনো পাঠোদ্ধার যোগ্য ছিল কিনা। যা হোক মুহূর্তের মধ্যে তিনি চেয়েছিলেন উত্তরগুলো। কেন আপনি আমাকে Kryptos প্রদর্শন করেছেন?

    পারিশ তার প্রতি মুচকি হাসি হাসলেন এবং নাটকীয় ভাবে তার পকেট থেকে একটা ভাজ করা কাগজ বের করলেন।

    তোইলা, রহস্যজনক সম্পাদিত ডকুমেন্ট আপনি খুবই এ বিষয়ে সম্পৃক্ত আমি উদ্ধার করেছি পুরো টেক্সট।

    নোলা লাফিয়ে উঠলেন। আপনি কি নাক গলিয়েছিলেন ডিরেকটরের শ্ৰেণীবদ্ধ পার্টিশন সম্বন্ধে?

    না, ওটা আমি পেয়েছিলাম প্রথম দিকে। এক নজর দেখুন।

    তিনি তার হাতে ফাইলটা দিলেন।

    নোলা পাতাটা নিয়ে ভাঁজ খুললেন। যখন তিনি পৃষ্ঠাটার শীর্ষদেশে স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি নাম দেখতে পেলেন, তিনি বিস্ময়ে তার মাথাটা উঁচু করলেন।

    এই ডকুমেন্ট শ্রেণীবদ্ধ নয়।

    EMPLOYEE DISCUSSION BOARD : KRYPTOS
    COMPRESSED STORAGE THREAD # 2456282.5

    নোলা নিজেকে দেখলেন তাকিয়ে এক সিরিজস অব পোস্টিংস এর দিকে তাকিয়ে থাকতে।

    আপনার কি ওয়ার্ড ডকুমেন্টে, kryptos সম্বন্ধে কিছু তথ্য আছে। রিক বললেন।

    নোলা ডকুমেন্টটা স্ক্যান করলেন যে পর্যন্ত না তিনি একটা বাক্যে দাগ দিলেন একটা এক সেট পরিচিত কি ওয়ার্ডস এ।

    Jim, the csulpture says it was transmitted to a seçvet
    location UNDERGROUND Where the infro was hiddes

    এই টেক্সট ডিরেকটরের অন লাইন Kryptos forum এ আছে

    রিক ব্যাখ্যা করলেন। ফোরামের কাজকর্ম বছরের পর বছর চলছে। আক্ষরিক অর্থে হাজার হাজার পোস্টিংস। আমি বিস্মিত নই তাদের একটায় ধারণ করেছিল সমস্ত কি ওয়ার্ডস।

    নোলা স্কানিং ডাউন করে রাখলেন যে পর্যন্ত না তিনি দাগ দিলেন অন্য আর একটি পোস্টিংকৃত কি ওয়ার্ডসএ।

    Even though mark said the codes lat/long headings
    point somewhere in WASHINGTON D.C. the
    coordinates he used were off by the degree–Kryptos
    basically points back to itself.

    পারিশ হেঁটে স্ট্যাচুর কাছে গেলেন এবং তার তালু The Cryptc sia of leters উপর রাখলেন। এই কোডের অনেকগুলোর পাঠোদ্ধার করতে হবে, এবং সেখানে প্রচুর লোক আছে যারা চিন্তা করেন ম্যাসেজ প্রকৃতপক্ষে অবশ্যই সম্পৃক্ত প্রাচীন ম্যাসোনিক গোপন বিষয়সমূহে।

    নোলা এখন পুনরায় স্মরণ করলেন একটা ম্যাসোনিক/ক্রিপটোস এর অস্কুট শব্দ, কিন্তু তিনি পাগলাটে অনুষঙ্গকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা দেখালেন। তারপর আবার প্রাজাকে ঘিরে গড়ে তোলা বিভিন্ন ভাস্কর্যগুলোর দিকে তাকালেন, তিনি উপলব্ধি করলেন যে এটা ছিল ভাস্কর্যগুলোর একটা কোড- একটা সিষোলন ম্যাসোনিক পিরামিডের মতো।

    বিজোড়

    এক মুহূর্তের জন্য, নোলা ক্রিপটোসকে প্রায়ই দেখে ফেলতেন একে একটা আধুনিক ম্যাসোনিক পিরামিড হিসাবে। বহু খন্ডের একটা কোড, বিভিন্ন জিনিস দ্বারা তৈরি, প্রত্যেকটা একটা ভূমিকা রাখে। আপনি কি মনে করেন ক্রিপটোস এবং ম্যাসোনিক পিরামিডের মধ্যে একই ধরনের গোপন বিষয় লুকানো আছে?

    কে জানে? পারিশ ক্রিপটোসের দিকে হতাশা ব্যাঞ্জকদৃষ্টিতে তাকালেন। আমার সন্দেহ হয় আমরা কখন জানবো সম্পূর্ণ মেসেজ। বিষয়টা হচ্ছে, কেউ ডিরেকটরকে বুঝাতে পারে সমাধান সূত্রের জন্য।

    নোলা মাখা নুয়ালেন। এখন সবকিছু তার মনে পড়ছে। যখন ক্রিপটোস স্থাপন করা হয়েছিল, তখন ভাস্কর্যের কোডগুলো সম্বলিত একটা সিল করা খাম এসেছিল। সিলকৃত খামে সমাধান তখনকার সি আই এ ডিরেকটর উইলিয়াম ওয়েবসটার তার অফিসে নিরাপদে তালাবদ্ধ করে রাখেন। ডকুমেন্টটা সেই থেকে সেখানেই থেকে যায়, বছরের পর বছর গিয়ে এক একজন ডিরেকটর আসেন আর যান।

    অদ্ভুত ভাবে, উইলিয়াম ওয়েবসটারের ভাবনাগুলো নোলার মনে পড়ে এবং ক্রিপটোসের অপর অংশের একটা টেক্সটের পাঠোদ্ধারও মনের কোণে ভেসে উঠে।

    ITS BURIED OUT THERE SOME WHERE
    WHO KNOWS THE EXACT LOCATION?
    ONLY WW

    যদিও কেউই সঠিকভাবে জানতো না সেখানে কী প্রথিত করা হয়েছিল, অধিকাংশ লোকজন বিশ্বাস করতেন Ww ছিল William Webster এর সংক্ষেপ। নোলা একবার ফিস ফিসানি শুনেছিলেন আর একটা মানুষের নাম সম্বন্ধে যার নাম, William Wheston তিনি ছিলেন সোসাইটির থিওলজিয়ান- যদিও নোলা বিরক্ত হয়েছিলেন এতে, এ নিয়ে চিন্তা ভাবনাও করেন নি।

    রিক আবার কথা বলতেছিলেন। আমি প্রকৃত পক্ষে আর্টিস্ট নই, কিন্তু আমি মনে এই সানবার্ণস প্রতিভাবান।

    আমি কি শুধুমাত্র অন লাইনে দেখেছিলাম তার Cyrillic Projector Project দেখেছিলাম? কেজিবি ডকুমেন্ট থেকে প্রকান্ড একটা রাসিয়ান লেটারের কথা। এখনো মনে পড়ে।

    নোলা আর শুনছিলেন না। তিনি কাগজ পরীক্ষা করছিলেন, সেখানে তিনি দেখলেন থার্ডকি ফ্রেজ আর একটা পর্ভূক্তিতে।

    Right, that whole section is verbatim from some
    famous archaeologists diary, telling about the moment
    he dug down and uncovered an ANCIENT PORTAL that
    led to the tomb of Tutankhamen.

    একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিপটোস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন, নোলা তা জানতেন, প্রকৃতপক্ষে হাওয়ার্ড কার্টার খ্যাতি লাভ করেছিলেন মিশরতত্ত্ববিদ হিসাবে। পরবর্তী উদ্ধতিটা ছিল এমন।

    I just skimmed the rest of Carters field notes online,
    and it sounds like he found a caly tablet warning the
    PYRAMID holds dangerous consequences for anyone
    who disturbs the peace of the pharaoh. A curse!
    Sould we be worried?

    নোলা বললেন, রিক, ঈশ্বরের দোহাই, এই নির্বোধের পিরামিড সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পরিবেশিত হয় নি। তুতানখামেন পিরামিড সমাধিস্থ করা হয়েছিল না। তাকে কিংস ভ্যালিতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ক্রিপটোলোজিস্ট ডিসকভারী চ্যানেল দেখেনি?

    পারিশ ঘাড় উঁচু করে বললেন, টেকিস

    নোলা এবার ফাঁইনাল কি ফ্রেজ দেখলেন।

    Guys, you know Im not a conspiracy theorist, but Jim
    and Dave had better decipher this ENGRAVED
    SYMBOLON to unveil its final secret before the world
    ends in 2012…Ciao.

    যে কোন বাবে পারিশ বললেন, আমি অবয়ব ছিলাম তুমি ফোরাম সম্বন্ধে জানতে চাও তুমি সি আই এ ডিরেকটরের শ্ৰেণীবদ্ধকৃত ডকুমেন্টেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের আগে। যাহোক, আমি একটা লোককে সন্দেহ করি সি আই এ ডিরেকটরের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন।

    নোলা ছবি নিলেন ম্যাসোনিক ভিডিওর এবং এতে প্রাচীন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মূর্তিগুলো ভেসে উঠলো। যদিও রিকের ছিল অন্য একটা আইডিয়া।

    শেষে, তিনি জানতে পারলেন, ক্রিপটোস স্বভাবত কী প্রকাশ করতে চেয়েছিল। ম্যাসেজ সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছিল অতীন্দ্রিয় অনুষঙ্গের। তিনি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন শিল্পকলার উজ্জ্বল টুকরোগুলোর দিকে। একটা ত্রিমাত্রিক কোড নীরবে দাঁড়িয়েছিল একটা জাতির প্রধান ইনটেলিজেন্স এজেন্সির সামনে- তিনি বিস্মিত হলেন এরা এদের ফাঁইনাল সিক্রেট পরিত্যাগ করেন। কিনা ভেবে।

    তিনি এবং রিকি ভিতরে প্রবেশ করলেন। নোলার মুখে হাসি নেই।

    একে কোথাও সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

    .

    ১২৮ অধ্যায়

    মরুভূমির পথ ধরে এসক্লেড দক্ষিন দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে লাগল। ব্লাইন্ডকোন্ডেড, রবার্ট ল্যাংডন কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তাদের পাসে বসা ছিলেন পিটার সলোমন, তিনি ছিলেন নিপ।

    সে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

    ল্যাংডনের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল কাজ করছিল। সংগ্রীহিত বস্তুগুলো একসঙ্গে জোড়া দিলে কি দাঁড়ায় সেটা জানার জন্য তিনি ছিলেন উদগ্রীব। পিটার অবশ্য তার দাবি থেকে সড়ে আসলেন। সেটা হল হারানো পৃথিবী। যেটা চাপা পড়ে আছে সর্পিল সিঁড়ির নিচে। এটা আর চাপা পড়ে আছে পাথরের নিচে যেগুলোর খোদাই করা। তবে সব কিছুই তার কাছে অসম্ভব মনে হচ্ছিল। পাথরের সাদা খোদাই করা প্রতিক ও চিত্রকর্মগুলো এখনো ল্যাংডনের স্মৃতিতে উজ্জল হয়ে আছে। এখনো সাতটি প্রতাঁকের কথা স্পষ্ট মনে আছে। এগুলো একসঙ্গে করলে কি দাঁড়ায় সেটা এখনও তার মাথায় খেলছে না।

    সিম্বোল

    –সততা ও সত্যের প্রতীক

    — স্বজাতীয় পদার্থের সাংকেতিক চিহ্ন।

    — গ্রীক এস বর্ণ। গাণিতিক কাজে এ প্রতীক ব্যবহৃত হয়।

    — পিরামিড। মিশরীয়দের কাছে এটা পবিত্র অবকাঠামো। বলতে গেলে স্বর্গতুল্য।

    — ডেলটা। গ্রীক শব্দ ডি। গাণিতিক প্রতীক পরিবর্তন বোঝাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

    — মারকারি রাসায়নিক পদার্থের প্রতীক।

    — সামগ্রীকতার প্রতীক।

    সলোমন এখনও নিশ্চিত যে এই সাতটি প্রতীক দিয়ে কোন না কোন বার্তা বোঝানো হয়েছে। আর এটা যদি সত্যি সত্যিই কোন বার্তা হয়ে থাকে তাহলে ল্যাংডন বিপদে পড়বেন। কারণ এগুলো পড়ার ক্ষমতা তার নেই।

    এসক্লেডের গতি কিছুটা কমল। এটা ডানদিকে মোড় নিল। সড়ক বরাবর চলতে লাগল। একটু পড় ল্যাংডন গাড়ি থামালেন। গাড়ি কোথায় যাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করলেন তারা ১০ মিনিট ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। অথচ পথের কুল কিনারা করতে পারছেন না। ল্যাংডন আর পথ দেখতে পারছেন না। তবে সবাই মনে করছেন, তারা মন্দিরের দিকে ফিরে যাচ্ছেন।

    কিছুক্ষনের মধ্যে এসক্লেড থামল। ল্যাংডন জানালা খোলার শব্দ পেলেন। সিআইএর ড্রাইভার এজেন্ট সিমকিনস চিৎকার করে বললেন, মনে হচ্ছে আপনারা আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছেন। হ্যাঁ জনাব, একটি পরিষ্কার সামরিক জবাব ভেসে এল। ডিরেকটর সাটো ফোন করেছেন। আমাদের এগুতে বলেছেন, আমি এক মিনিটের মধ্যে রওয়ানা হচ্ছি।

    ল্যাংডনের সন্দেহ ঘনীভূত হল। মনে হল তারা কোন সামরিক স্থাপনায় প্রবেশ করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ড্রাইভারকে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যদিকে যেতে বললেন, সলোমনকে লক্ষ করে বললেন, পিটার আমরা এখন কোথায়?

    পিটার বললেন, যাই হোক গাড়ির পতাকা নামিও না।

    গাড়িটা কিছুদুর যাওয়ার পরই থামার সংকেত এল।

    সিমকিনস গাড়ি বন্ধ করলেন। আরো শব্দ ভেসে এল। সেনা সদস্যদের শব্দ। কয়েকজন সিকিনের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। একজন অফিসার এসে কর্কশভাষায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। ল্যাংডনের পাশের দরজা হঠাৎ খুলে গেল। একটি শক্তিশালী হাত তাকে একটান দিয়ে গাড়ি থেকে বের করে ফেলল। বাইরে তখন প্রচন্ড ঠান্ডা। জোরে বাতাস বইছিল।

    ল্যাংডন তালা খোলার শব্দ শুনতে বিশাল দরজাটি খুলে গেল। শব্দ হল। প্রচণ্ড। মনে হল কোন জাহাজ ভিড়ছে। ল্যাংডন বললেন, তোমরা আমাকে কোন। নরকে নিয়ে যাচ্ছি? সিমকিনসকে সাথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাকেও লোহার ওই বিশাল দরজার ভেতর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কে যেন বলতে লাগল, প্রফেসর সোজা সামনের দিকে যান।

    হঠাৎ সবকিছু নিরব হয়ে গেল। গোটা মরুভূমিকে মৃতপুরী মনে হল। সিমকিনস, সলোমন ও ল্যাংডনকে চোখ বেধে ওই কামরার নিচের কোন কক্ষের দিকে নিয়ে যাওয়া হল। মনে হল পুরো ঘরটাই লোহার তৈরি। ঘরের ফ্লোরটা পর্যন্ত ছিল লোহার। তাদেরকে মাথা নিচু করে ঘরে ঢোকানো হল। ল্যাংডন ঘামছিলেন। এবার তাদের থামতে বলা হল।

    সিমকিনসকে ল্যাংডনের সামনে যেতে দেয়া হল। এমন সময় একটি ইলেকট্রনিক্স শব্দ হল। মনে হল তাদের কথাবার্তা রেকর্ড করা হবে।

    সিমকিন বললেন মি, সলোমন, তুমি এবং ল্যাংডন আলাদা থাকবে। আমি ফ্লাস লাইটটা নিয়ে যাচ্ছি।

    সলোমন বললেন, ধন্যবাদ।

    ফ্লাশ লাইটের কথা শুনে ল্যাংডনের হৃদকম্পন বেড়ে গেল।

    পিটার ল্যাংডনের হাতের দিকে তাকালেন, বললেন, রবার্ট আমার সঙ্গে আস। তারা আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল। তবে নিরাপত্তা গেট তখনও বন্ধ ছিল।

    পিটার অল্প সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। কললেন, কোন ভুল হচ্ছে?

    ল্যাংডনেরও শরীর খারাপ লাগতে শুরু করল। বমি বমি ভাব হল। বললেন, আমাদের এখনই মুখের কাপড় সরিয়ে ফেলা উচিত। পিটার বললেন, এখন নয়। আমরা এখনো এখানে আছি। এখানে মানে? ল্যাংডন পাকতে প্রচন্ড ব্যথা নিয়েই এ প্রশ্ন করলেন।

    আমি তোমাকে বলছি, তোমাকে আমি হারানো পৃথিবীর সেই সর্পিল আকৃতির সিঁড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছি, যেটা মাটির নিচে অবস্থিত।

    এ কথা শুনে ল্যাংডন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন, বললেন, পিটার কি মজা।

    পিটার বললেন, রবার্ট তোমার মনের দরজা এবার খোল। তোমাকে মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে এখনও রহস্যময় অনেক কিছু আছে, ওই রহস্যময় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আগে তোমাকে কিছু কাজ করতে হবে। সেটা হল বিশ্বাস। তোমাকে এখন বিশ্বাস করতে হবে যে, আমরা মানব জাতির হারানো মহামূল্যবান এক সম্পদের খোঁজে যাচ্ছি।

    ল্যাংডনের আর সহ্য হচ্ছিল না। উত্তেজনায় অস্থির হয়ে পড়লেন তিনি। রীতিমত ঘামতে লাগলেন ল্যাংডন। জিজ্ঞেস করলেন ওই কাঙ্খিত স্থান থেকে আমরা আর কতদূরে আছি।

    আমরা এসে গেছি। আর কয়েক কদম দূরে ওই জিনিস, এটাই শেষ দরজা, এখন আমি এটি খুলবো।

    ল্যাংডনের মত সলোমনও অস্থির হয়ে পড়লেন। ল্যাংডন আলোর মত কি যেন একটা অনুভব করলেন দরজায় কি যেন নড়াচড়া করে পিটার দ্রুত ল্যাংডনের পিছনে এসে দাঁড়ালেন। প্রচন্ড শব্দে দরজাটি আপনা আপনি খুলতে শুরু করল।

    পিটার শক্তভাবে ল্যাংডনের হাত ধরলেন, বললেন, এ পথেই এগুতে হবে। আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্য এটাই।

    তারা প্রবেশ করলেন। দরজাটা কিছুটা নিচে নেমে এল।

    প্রচন্ড নীরবতা, খুব ঠান্ডা।

    হঠাৎ ল্যাংডনের হুশ হল। মনে হল, এটা নিরাপত্তা দরজার অপরপ্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না। হারানো পৃথিবী এটা নয়।

    সলোমন তাকে আরো কয়েক কদম নিয়ে যাওয়ার পর বললেন, চোখের বাধন খুলে ফেল।

    ল্যাংডন চোখের বাধন খুলে চারদিকে তাকালেন। কিন্তু ঘুট ঘুঁটে অন্ধকার ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছিল না।

    ল্যাংডন চেঁচিয়ে উঠলেন। বললেন, পিটার কোথায় নিয়ে এলেন। এখানে তো ঘুটঘুঁটে অন্ধকার।

    হ্যাঁ ঠিক বলেছ তবে। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। ভালো করে সামনের দিকে তাকাও। ল্যাংডন অন্ধকার ভেদ করে দেখার চেষ্টা করলেন। লোহার রেলিং দেখতে পেলেন। পিটার বললেন, এবার ভাল করে দেখ। হঠাৎ ফ্লাশ লাইট জ্বলে উঠল। ল্যাংডন চমকে উঠলেন, দেখলেন, সর্পিল আকৃতির অনেক লম্বা একটা সিঁড়ি মাটির নিচের দিকে চলে গেছে। হায় ঈশ্বর বলে চিৎকার দিলেন। উত্তেজনায় তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল। সিঁড়িটি ছিল সর্পিল আকৃতির। নিচে চলে যাওয়া ত্রিশটি ধাপ দেখা যাচ্ছিল। ল্যাংডন বললেন, নিচের দিকটা

    আমি এখনও দেখতে পারিনি। পিটার বলোতো আসলে এটা কোন জায়গা।

    পিটার বললেন, তোমাকে আমি এক্ষনি সিঁড়ির নিচে নিয়ে যাব। এর আগে তোমাকে কিছু দেখাব।

    ল্যাংডনের প্রচন্ড আগ্রহ আর চেঁচামেচির কারণে পিটার ফ্লাশলাইট নিয়ে নিচে নামতে লাগলেন।

    প্রথমে তারা গেলেন পাথরের ছোট একটি খুপরিতে। এখানে চারদিক কাঁচ দিয়ে ঘেরা ছিল। সম্ভবত এটা পাথরের ওই কক্ষের জানালা পিটার বললেন, আরো সামনে যাও। দেখ কি আছে ল্যাংডন বললেন, ওখানে কি আছে।

    ল্যাংডন কাঁচে ঘেরা ওই কক্ষের দিকে ভালো করে এক নজর তাকাতেই দেখলেন তার নিচে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের প্রতিচ্ছবি ভেসে রয়েছে। তিনি চমকে উঠলেন। দেখলেন নিচে গুহা আছে। আর সেটা ওখানকার প্রবেশ দ্বার।

    রবার্ট বললেন, দেখে যাও।

    সলোমন ওই দিকে এগিয়ে গেলেন। রবার্ট বললেন, এখানকার সবকিছুই তোমাকে চমকে দিবে।

    ল্যাংডনের জন্য কি অপেক্ষা করছে সে সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নেই। তিনি কাঁচের কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি গুহার দিকেও পা বাড়ালেন। পিটার ফ্লাশ লাইটটি সরিয়ে ফেললেন।

    ওই জায়গা তখন ঘুটঘুঁটে অন্ধকারে পরিণত হল। তবে এর আগেই। ল্যাংডনের চোখ ওই অন্ধকার পরিবেশ মানিয়ে নিয়েছিল। তাই তিনি সামনে এগিয়ে যেতে থাকলেন। তিনি হাত দিয়ে দেয়াল তালাস করতে লাগলেন। তবে তখনও গাঢ় অন্ধকার বিরাজ করছিল সেখানে। ল্যাংডন এগিয়ে যেতে থাকল। ওই কাঁচের ঘরের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। এরপর যা দেখলেন তা পীড়াদায়ক। ল্যাংডন আরেকটু নিচে নামলেন। তার সাথে থাকা কম্পাসটা বের করলেন। কাঁচের রুমে প্রবেশ করলেন। গ্লাসের অপর প্রান্তে কি অপেক্ষা করছিল তা ল্যাংডনের কল্পনাতীত। ওই প্রান্তে ছিল আলোর বন্যা।

    এতক্ষনে ল্যাংডনের হুশ হল। সবকিছু বুঝতে পারলেন। সড়ক দিয়ে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেয়া হয়েছিল। ওটা ছিল মূল প্রবেশ দ্বার। যেটা। নিরাপত্তা কর্মী দিয়ে ঘেরা ছিল। বিশাল লোহার দরজাটি ছিল বাইরে। ওখানে একটা অটোমেটিক দরজা ছিল যেটা তাদের দেখে খুলে গিয়েছিল।

    এতক্ষণ তিনি যে গোলক ধাঁধায় চক্কর খেয়েছেন সেটা ছিল আসলে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ড। রবার্ট ও পিটার তার পেছনে দাঁড়িয়ে ফিস ফিস করছিলেন। ল্যাংডন কিছু বললেন। অন্ধকার ভেদ করেই তিনি ওই স্থান থেকে রওনা দিলেন, উপরের দিকে উঠতে থাকলেন।

    ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের নিচে যে এত রহস্য লুকিয়ে আছে তা তিনি কক্ষনও ভাবতে পারেননি। এটাকে তার কাছে মিশরের পিরামিডের মত মনে হল। কারণ মাটির নিচে ৫৫৫ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ওই ভবনের নানা অংশ।

    .

    ১২৯ অধ্যায়

    রবার্ট ল্যাংডন কাঁচের বিশাল ওই দরজার সামনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার নিচে যেসব প্রাকৃতিক দৃশ্য আছে সেগুলোকে ক্ষমতা চিন্তা করলেন। মাটির কয়েকশ ফুট নিচে তিনি এতক্ষণ যেসব দৃশ্য দেখলেন সেগুলোর কথা ভাবতে। লাগলেন।

    মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের বিশাল গম্বুজটি ন্যাশনাল মলের পূর্ব প্রান্ত থেকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল চাকচিক্যময় পর্বত। ভবনের অন্য প্রান্ত। থেকে দুটি আলোর ধারা এর ওপর এসে পড়ছিল। সে আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছিলেন ল্যাংডন নিজেও। শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির যাদুঘর মনে হচ্ছিল ওই ভবনকে।

    ল্যাংডন এখন তার উপলব্ধি নিয়ে ভাবতে লাগলেন। তার ওই সব উপলব্ধি আগে কাল্পনিক মনে হলেও এখন বাস্তব মনে হচ্ছে। অথচ পিটার আগেই ওইসব অদ্ভুত বিষয়গুলোকে বাস্তব বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন তার সেই ঘোষণাকে বাস্তব বলে মেনে নিতে হবে। সর্পিল আকৃতির রহস্যময় সিঁড়ি মাটির কয়েকশ ফুট গভীরে অবস্থিত বিশাল প্রস্তর খণ্ড সবটুকুই বাস্তব বলে মেনে নিতে হবে।

    চতুষ্কোন পিলারে বিশাল প্রস্তর খণ্ডটি তখন ছিল ঠিক তার মাথার ওপর। ওয়াশিংটন মনুমেন্ট নামের এ প্রস্তর খণ্ডটির ওজন ছিল ৩৩০০ পাউন্ড।

    আবার আলোচনায় চলে সংখ্যা ৩৩

    ওয়াশিংটন মনুমেন্টের ওপর বা শীর্ষবিন্দুতে ফুটবল আকৃতির উজ্জ্বল একটি বস্তু আছে। এটা স্বর্ণের মত দামী পদার্থ দিয়ে গড়া। ম্যাসোনিক পিরামিডে ওই বস্তুটি যে আকৃতির ছিল মনুমেন্টের ওপর সেই একই আদলে এটি তৈরি করা হয়। ম্যাসোনিক পিরামিডে দুটি শব্দ খোদাই করা ছিল। শব্দ দুটি হল লাস দিও। ল্যাংডন হঠাৎ এর মানে অনুধাবন করতে পারলেন। ওটা ছিল আসলে একটি বিশেষ বার্তা। যেটা কতগুলো প্রতীক বা বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।

    সিম্বোল

    বর্ণগুলি দিয়ে বোঝানো হয়েছে

    L- বর্গাকৃতির পাথর

    AU–স্বর্ণের উপাদান

    S– গ্রীক সিগমা

    D–গ্রীক ডেল্টা

    E– মার্কারি বা পারদ জাতীয় কিছু

    O– আমাদের ধাচের কিছু

    লাংডন ফিস ফিস করে বললেন, লাস দিও। এটা বহুল প্রচলিত ল্যাটিন বাকধারা। এর অর্থ ঈশ্বরের প্রশংসা।

    ওয়াশিংটন মনুমেন্টে এটাই খোদাই করা ছিল।

    .

    লাস দিও।

    খোদার প্রশংসা। পিটার বললেন, ওই কথাটি ছিল ম্যাসোনিক পিরামিডের গোপন কোড বা সাংকেতিক চিহ্ন। ল্যাংডনও পিটারের এই কথাটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে লাগলেন। প্রাচীন ম্যাসোনিক লাইব্রেরীতেও এ উক্তিটি ছিল। কিন্তু তিনি তখনও এটা খুঁজে পাননি। দুঃখ ছিল এটাই।

    ল্যাংডন ভাবলেন, খুব ভাবনা চিন্তা করেই প্রাচীন ম্যাসোনিক পিরামিডে ওই কথাটি খোদাই করা হয়েছিল। এতে মানুষের মনের কথা মাথায় রেখে ওই কথা পিরামিডে খোদাই করে তখন লোকেরা বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানেও মার্কিনীদের মনের কথা এটি অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রশংসা।

    .

    উত্তর

    উত্তরের জানালা দিয়ে ল্যাংডন তাকালেন। হোয়াইট হাউজটা তার চোখে পড়ল। ল্যাংডন চোখটা একটু ঘোরালেন। সিক্সটিনথ স্ট্রিট বরাবর চোখ পড়ল। ওখানে আছে হাউস অব টেম্পল। এরপর ল্যাংডন চারপাশে আরেকটু চোখ বুলালেন। তার মনে হতে লাগল গ্রীক সভ্যতার অনেক স্থাপত্য দাঁড়িয়ে আছে তার আশ পাশে।

    ল্যাংডন চারদিকে তাকালেন। ন্যাশনাল মলে তিনি যেসব ছবি দেখেছিলেন সেগুলোর কথা ভাবতে লাগলেন, ওয়াশিংটন মনুমেন্ট হচ্ছে কম্পাসের একেবারে শেষে অবস্থিত। ল্যাংডন বলতে লাগলেন আমি এখন আমেরিকার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছি।

    পিটার যেখানে দাঁড়ানো ছিল ল্যাংডন ক্রমান্বয়ে সেখান থেকে সড়তে লাগলেন। তার বিজ্ঞান পরামর্শক বললেন, রবার্ট এটাই হারানো পৃথিবী। এটাই সে জায়গা যেখানে হারানো পৃথিবী মাটির নিচে আছে। ম্যাসোনিক পিরামিডের অস্তিত্বও এখানেই আছে।

    ল্যাংডন নির্বাক হয়ে গেলেন, সবকিছু পাওয়ার পর তার মনে হতে লাগল, হারানো পৃথিবীর কথা তাকে ভুলে যেতে হবে।

    ল্যাংডন নিচে নামতে শুরু করলেন। কিন্তু তাকে বিস্মিত হতে হল। পিটার তার কাছে দৌড়ে এলেন এবং পকেট থেকে ছোট একটি জিনিস বের করলেন। জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কি এ জিনিসটির কথা মনে করতে পার?

    ল্যাংডন ঘন আকৃতির ছোট বক্সটি হাতে নিলেন। এটি পিটার অনেক আগে তাকে দিয়েছে।

    হ্যাঁ চিনতে পারছি। কিন্তু এটি রক্ষার জন্য যা করা উচিত ছিল সেটি আমি করতে পারিনি। সলোমন এগিয়ে এলেন, বললেন স্বপ্ন বাস্তবতার দিন সম্ভবত এসে গেছে।

    ল্যাংডনের চোখ ওই ঘন আকৃতির পাথরটির দিকে। তিনি অবাক হয়ে এটি দেখতে লাগলেন আর মনে মনে বলতে লাগলেন, পিটার এ সময় কেন এটি তাকে হস্তান্তর করছেন?

    পিটার জানতে চাইলেন, এভাবে এটা দেখছ কেন?

    ল্যাংডনের দৃষ্টি ছিল ঘনবস্তুর ১৫১৪

    প্রতীক

    প্রতীকের ওপর। ক্যাথরিন যখন এই পাথরটি প্রথম অবমুক্ত করেছিলেন সে সময়ের কথা তার মনে পড়ে গেল।

    পিটার বললেন, এই মূল্যবান পাথর সম্পর্কে বেশ কিছু কথা আছে যা তুমি জান না, প্রথমত এটা গুরুত্বপূর্ণ পাথর কোন স্থাপনায় রাখার রীতি এসেছে ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে।

    ল্যাংডনের কৌতূহল বেড়ে গেল। বললেন, দ্য বুক অব পালমস।

    হ্যাঁ। এ ধরনের প্রস্তর যে কোন বড় ভবনের নিচে বসানো হয় ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে। ল্যাংডন মনে মনে বললেন, ক্যাপিটল ভবনের ভিত্তি প্রস্তর ফলক মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত। এটা আজকের দিনে বের করে আনা অসম্ভব।

    সলোমন বললেন, তোমার হাতে যে পাথর আছে সে ধরনের পাথর অনেকের কাছেই আছে, তবে সেগুলোর গুরুত্ব বা মূল্য কম।

    ল্যাংডন ভিত্তিপ্রস্তর সংস্কৃতি সম্পর্কে খুব ভালো করে জানতেন। ভিত্তিপ্রস্তরের সঙ্গে অনেক কিছু দেয়ার রেওয়াজও আছে। টাইম ক্যাপসুল, ছবি, ঘোষণাপত্র এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অনেক পোড়ানো মানুষের ছবি পর্যন্ত দেয়া হয়।

    সোলেমান বললেন, ভূগর্ভ বিষয়াদি সম্পর্কে তোমার ধারণা স্পষ্ট করার জন্যই তোমাকে এসব কথা বলছি। এ বিষয়টি তোমার পরিষ্কার হওয়া উচিত।

    তুমি মনে করছ ওয়াশিংটন মনুমেন্টের ভুগর্ভস্থ ওই ভিক্তিপ্রস্তর ফলকটাই সেই হারানো পৃথিবী। কিন্তু রবার্ট আমি তা মনে করি না, এই ভবনের হারানো পৃথিবীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৮৮৪ সালের ৪ জুলাই। আর ওই অনুষ্ঠান করা হয় মোসেনিক বা পাথরকাটা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী।

    তাহলে আমাদের পুর্বপুরুষরাই এই সম্প্রদায়ের ছিল? পিটার বললেন, হ্যাঁ। তারা জানতেন, মাটির নিচে যা রাখছেন তার শক্তি কতটুকু। রাতে ল্যাংডনের ঘুম হল না। সারা রাত তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবলেন। প্রাচীন রহস্য, প্রাচীন ইতিহাস, হারানো পৃথিবী, সে সময়ের গোপন ঘটনাবলী ইত্যাদি তার মনে উঁকি ঝুঁকি দিতে শুরু করল।

    তিনি স্থীর একটা সিদ্ধান্তে আসতে চাইলেন। মাটির ৫৫৫ ফুট নিচে পাথরের ভিত্তিপ্রস্তর ফলকটি চাপা পড়ে আছে বলে পিটার যে দাবি করেছেন সেটাকেও তিনি মেনে নিলেন। মনে মনে ভাবলেন, মানুষ সারা জীবন কত অজানা রহস্য নিয়ে গবেষণা করে অথচ এখনও মাটির নিচে যে রহস্য লুকিয়ে আছে সেটা নিয়ে গবেষণা করে না।

    ল্যাংডন আরো ভাবলেন, ওই ভবনের মাটির নিচে যদি রহস্য লুকিয়ে থাকবে তাহলে সেটা শুধু ওই জায়গায় থাকবে কেন? অন্য জায়গাতেও লুকিয়ে থাকবে।

    ল্যাংডন সব সময়ই বিশ্বাস করতেন যে, পথিবী জুড়ে নানা মানুষের নানা রকম রহস্যময় কীর্তি লুকিয়ে রয়েছে। সেটা পিথাগোরাস, হার্মেস, হারকিউলিস, পেরাসেলসের হতে পারে।

    এটা রসায়ন শাস্ত্র, আধ্যাত্মিক অর্ন্তজ্ঞান, যাদু শাস্ত্র বা দর্শনের ভিতরও লুকিয়ে থাকতে পারে। যেসব গোপন রহস্যের কথা বলা হচ্ছে সেগুলোর সমাধান আলেকজান্দ্রিয়ার প্রাচীন লাইব্রেরীতে পাওয়া যেতে পারে যেটা মিসরে অবস্থিত। সুমার নকশা ও হায়ারোগ্নিপস বর্ণেও এর কিছু পাওয়া যেতে পারে।

    এসব সাত পাঁচ ভেবে ল্যাংডন তাৎক্ষণিকভাবে পিটারের সাথে হ্যান্ডসেক করলেন। বললেন, আমি দুঃখিত। প্রাচীন রহস্য নিয়ে গবেষণা করা একটি জীবন ব্যাপি প্রক্রিয়া। অজানা অনেক পৃথিবীর মধ্যে শুধু একটিতে কি আর লুকিয়ে থাকতে পারে?  পিটার ল্যাংডনের বাহুতে একটি হাত রাখলেন। বললেন, রবার্ট হারানো পৃথিবী বলতে আসলে কোন শব্দ নেই।  এর পর জ্ঞানী লোকের মত একটু হাসলেন। ফের বললেন, আমরা ওই শব্দটি বলি কারণ প্রাচীন কালের লোকের ওই শব্দটা ব্যাবহার করতেন। তখন থেকে সেটার ব্যবহার শুরু হয়।

    .

    ১৩০ অধ্যায়

    শব্দের রুটা যেভাবে হয়।

    ন্যাশনাল ক্যাথোড্রেলের সুপরিশর স্থানে হাটু গেড়ে বসে আমেরিকার জন্য প্রার্থনা করছিলেন ডেন গ্যালোওয়ে। তিনি প্রার্থনা করছিলেন যে, তার প্রিয় স্বদেশ পৃথিবীর সব শক্তি যেন গ্রাস করতে পারে। লিখিত ও চিত্রিত জ্ঞান। বিজ্ঞানের সব তথ্য যেন সংগ্রহ করতে পারে। মহানযুগের অর্ন্তজ্ঞানের সত্য যেন উদঘাটন করতে পারে।

    মানবজাতির মহান শিক্ষকের দ্বারা ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে আত্মার বিকাশ হয়েছে। বোঝা পড়ার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে। মূল্যবান সব কথাবার্তা বেরিয়ে এসেছে বুদ্ধ, যিশু মোহাম্মদ (সাঃ) এর মুখ থেকে। এছাড়া পুরনো হাজার হাজার গ্রন্থ রয়েছে যেগুলো ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

    বিশ্বের সব সংস্কৃতিরই নিজস্ব পবিত্র গ্রন্থ আছে। এসব গ্রন্থের শব্দ-ভাষা আলাদা হলেও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এগুলো একই রকমের। খ্রিষ্টানদের বাইবেল, মুসলমানদের কোরান, ইহুদিদের তৌরাত, হিন্দুদের বেদ এ জাতীয় গ্রন্থ।

    এসব গ্রন্থের শব্দ কথা আলোর মত। মানুষকে পথ দেখায়।

    আমেরিকার মোসোনিক বা পাথরকর্তনকারী সম্প্রদায়ের পূর্ব পুরুষরা বাইবেল অনুসরণ করতেন। এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিনী এটা অনুসরণ করেন। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস এখানে সত্য বার্তা আছে।

    আজ রাতে গোলাওয়ে গীর্জায় হাত উপরে তুলে তার ম্যাসোনিক বাইবেল থেকে শব্দ আওরাচ্ছেন। প্রার্থনা করছেন।

    ওল্ড টেস্টামেন্ট, নিউ টেস্টামেন্ট থেকেও বাণী আওরাচ্ছেন। এগুলো অবশ্য ম্যাসনিক বা পাথর কর্তনকারী সম্প্রদায়ের দর্শনগত বাণী।

    গেলেওয়ে দেখে দেখে ওসব বাণী পড়ছিলেন না। ওগুলো তার মুখস্থ। তাই না দেখেই সেগুলো পাঠ করছেন। এ বাণীগুলো তার মত বিশ্বের কোটি কোটি লোক প্রতিদিন পাঠ করে থাকেন। বিভিন্ন ভাষায় এগুলো পড়া হয়। উনি যে বাণী পড়ছিলেন তার মর্মার্থ অনেকটা এ রকম।

    সময় হচ্ছে নদী। বই হচ্ছে তার নৌকা। এ নদীর শাখা প্রশাখা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। নদীর তীরবর্তী বালুকনা ধ্বংসের সাক্ষীমাত্র।

    জ্ঞানী লোক হিসেবে গেলোওয়ে বিশ্বাস করেন বিশ্বে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে যেগুলো পড়া হয় তার অধিকাংশই সত্য।

    শিঘ্রই আলো আসবে। মানবজাতি এই ধর্মগ্রন্থগুলোকে আকড়ে ধরবে। প্রাচীন কালের সত্যকে বের করে আনবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅরিজিন – ড্যান ব্রাউন
    Next Article এঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন

    Related Articles

    ড্যান ব্রাউন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    ড্যান ব্রাউন

    এঞ্জেলস এন্ড ডেমনস – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    ড্যান ব্রাউন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    ড্যান ব্রাউন

    ইনফার্নো – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    ড্যান ব্রাউন

    ডিসেপশন পয়েন্ট – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    ড্যান ব্রাউন

    ডিজিটাল ফরট্রেস – ড্যান ব্রাউন

    August 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }