Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্যা লস্ট সিম্বল – ড্যান ব্রাউন

    মনোজিৎকুমার দাস এক পাতা গল্প734 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. আজকের রাতটাই প্রথম না

    ৬১ অধ্যায়

    আজকের রাতটাই প্রথম না যখন ওয়ারেন বেল্লামির চোখ বাঁধা হয়েছে। তার অন্যসব ম্যাসন গুরুভাইদের মত ম্যাসনসঙ্ঘের উচ্চতর মার্গে আরোহনের সময়ও আয়োজিত কৃত্যানুষ্ঠানে তাকে শিরস্ক পরতে হয়েছিল। সেটা অবশ্য ছিল বিশ্বস্ত বন্ধুদের মাঝে আয়োজিত যজ্ঞ। আজরাতের ঘটনা আলাদা। এইসব কঠিন কাজের লোকেরা তার হাত বেধে মাথায় একটা টোপর পরিয়ে দিয়েছে এবং এখন তাকে লাইব্রেরীর বইয়ের ভিতর দিয়ে হাটিয়ে নিয়ে চলেছে।

    এজেন্টরা বেল্লামিকে শারিরীকভাবে অপদস্থ করে জানতে চেয়েছে ল্যাংডন কোথায়। নিজের বুড়ো শরীরটা বেশিক্ষণ নির্যাতন সহ্য করতে পারবে না জেনেই সে দ্রুত নিজের মত করে মিথ্যা একটা গল্প বানিয়ে ফেলেছে।

    ল্যাংডন আমার সাথে এখানে আসেইনি! বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করার ফাঁকে সে কোনমতে তাদের বলে। আমি তাকে বলেছিলাম উপরের ব্যালকনিতে উঠে মোজেসের মূর্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে, কিন্তু এখন আমি জানিনা সে কোথায় আছে! গল্পটা মোটামুটি চলনসই সাথে সাথে দুজন এজেন্ট কথামত খুঁজতে রওয়ানা হতে সেটা বোঝা যায়। বাকি দুই এজেন্ট এখন তাকে বইয়ের তাকের ভিতর দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে চলেছে।

    বেল্লামির সান্ত্বনা একটাই ল্যাংডন আর ক্যাথরিন পিরামিডটা নিয়ে নিরাপদে সরে পড়তে পেরেছে। শীঘ্রই ল্যাংডনের সাথে কেউ একজন যোগাযোগ করবে যে তাদের নিরাপদ আশ্রয় দেবে। তাকে বিশ্বাস করবে। বেল্লামি যে লোকটার সাথে কথা বলেছে সে ম্যাসনিক পিরামিড আর এর ভেতর লুকিয়ে থাকা রহস্য গোপন প্যাচান সিঁড়ি যা পৃথিবীর অভ্যন্তরে নেমে গেছে যেখানে অনেক আগে একটা গোপন স্থানে সম্ভাবনাময় প্রাচীন জ্ঞান লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তার অবস্থান সম্পর্কে অনেক কিছু জানে। রিডিং রুম থেকে পালিয়ে যাবার সময়ে বেল্লামি শেষ পর্যন্ত তার সাথে কথা বলতে পারে এবং সে বেশ অনুভব করতে পারে তাদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন অপরপক্ষ ভালভাবে বুঝতে পেরেছে।

    এখন, সম্পূর্ণ অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে সে ল্যাংডনের ব্যাগে থাকা ম্যাসনিক পিরামিড আর সোনার শিরোশোভার কথা ভাবে। অনেক দিন পরে দুটো টুকরো আবার একই ঘরে ফিরে এসেছে।

    বেল্লামি সেই বেদনা রাতের কথা কখনও ভুলতে পারবে না। পিটারের জন্য প্রথম অনেক কিছুর শুরু সে রাতে। জ্যাকারিয়া সলোমনের আঠারতম জন্মদিনের উৎসবে যোগ দিতে বেল্লামিকে সলোমনদের পটোম্যাকের এস্টেটে আসবার আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। জাকারিয়া বেয়াদপ বাচ্চা হওয়া সত্ত্বেও, একজন সলোমন, যার মানে আজরাতে, পারিবারিক রীতি অনুসারে সে তার উত্তরাধিকার অর্জন করবে। বেল্লামি পিটারের বিশ্বস্ত বন্ধু আর আস্থাভাজন ম্যাসনিক গুরুভাই হবার কারণে সাক্ষী হিসাবে তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। বেল্লামিকে কেবল অর্থ হস্তান্তরের সাক্ষী হবার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়নি। সে রাতে আরও অনেক কিছু যার মূল্য টাকায় পরিমাপ করা যায় না ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে। পড়েছিল।

    বেল্লামি আগেই পৌঁছেছিল এবং পিটারের ব্যক্তিগত স্টাডিতে বসে অপেক্ষা করছিল। পুরনো আসবাবে ঠাসা ঘরটায় চামড়া, কাঠের আগুনের ধোয়া আর। খোলা চায়ের গন্ধ মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আমেজ তৈরী করেছিল। পিটার যখন জ্যাকারিয়াকে নিয়ে স্টাডিতে প্রবেশ করে তখন ওয়ারেন চেয়ারে বসেছিল। আঠার বছরের হাড্ডিসার ছেলেটা ওয়ারেনকে দেখেই চোখ কুচকায়। তুমি। এখানে কি করছো?

    সমর্থন করতে, ওয়ারেন সাফাই দেয়। শুভ জন্মদিন, জ্যাকারিয়া।

    ছেলেটা বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখে।

    জ্যাকারিয়া, বস, পিটার বলে।

    বাবা বিশাল কাঠের ডেস্কের সামনে রাখা একমাত্র চেয়ারে জ্যাকারিয়া বসতে, সলোমন দরজা আটকে দেয়। বেল্লামি একপাশে একটা চেয়ার নিয়ে বসে।

    সলোমন জ্যাকারিয়ার দিকে তাকিয়ে গুরুতর ভঙ্গিতে কথা বলে। তুমি জান এখানে কেন তোমাকে ডেকে আনা হয়েছে?

    আমার মনে হয়, জ্যাকারিয়া বলে।

    সলোমন গভীর একটা শ্বাস নেয়। আমি তোমাকে চিনি এবং জ্যাক অনেকদিন চোখে চোখ রেখে তোমার সাথে কথা হয়নি। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি একজন ভাল পিতার কর্তব্য এবং তোমাকে এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত করতে।

    জ্যাকারিয়া কিছু বলে না।

    তুমি হয়ত জানো, সলোমন পরিবারের প্রতিটা ছেলে, প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাকে তার জন্মগত অধিকার হস্তান্তর করা হয়- সলোমন সম্পদে তার অংশ আশা করা হয় এটা একটা বীজ…তুমি এর যত্ন নেবে, বাড়িয়ে তুলবে আর মানবজাতির কল্যাণে সাহায্য করবে।

    সলোমন হেঁটে দেয়ালের কাছে গিয়ে একটা ভল্ট খুলে ভেতর থেকে কালো চামড়ার একটা ফোল্ডার বের করে। বাছা, এই পোর্টফোলিওতে তোমার আর্থিক উত্তরাধিকার তোমার নামে পরিবর্তনের সমস্ত আইনী কাগজপত্র পাবে। সে ডেস্কের উপরে ফোলিওটা রাখে। উদ্দেশ্য একটাই যে তুমি এই অর্থ উৎপাদনশীল, সমৃদ্ধ আর কল্যাণময় একটা জীবন গঠনে ব্যায় করবে।

    জ্যাকারিয়া ফোল্ডারটা ধরতে যায়। ধন্যবাদ।

    দাঁড়াও, তার বাবা, পোর্টফোলিওর উপরে হাত রেখে বলে উঠে। আর কিছু আছে যা আমি তোমাকে বলতে চাই।

    জ্যাকারিয়া তার বাবার দিকে উদ্ধত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আবার চেয়ারে বসে পড়ে।

    সলোমন উত্তরাধিকারের অনেকগুলো আঙ্গিক সম্পর্কে তুমি এখনও কিছু জানো না। তার বাবা এবার সরাসরি জ্যাকারিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে। জ্যাকারিয়া তুমি আমার প্রথম ভূমিষ্ঠ সন্তান, যার মানে তুমি একটা পছন্দের দাবীদার।

    জ্যাকারিয়া উঠে বসে, তাকে কৌতূহলী দেখায়।

    এটা এমন একটা পছন্দ যা হয়ত তোমার ভবিষ্যত জীবনের গতিপথ বদলে দেবে এবং আমি তাই চাই তুমি ব্যাপারটা ভাল করে ভেবে দেখো।

    কিসের দায়িত্ব?

    তার বাবা একটা গভীর শ্বাস নেয়। পছন্দটা…জ্ঞান আর সম্পদের ভিতরে।

    জ্যাকারিয়া ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। জ্ঞান না সম্পদ। ঠিক বুঝতে পারলাম না।

    সলোমন উঠে দাঁড়ায়, আবার ভস্টের কাছে যায় এবং ভেতর থেকে পাথরের একটা পিরামিড বের করে যার গায়ে ম্যাসনিক প্রতীক উৎকীর্ণ রয়েছে। পিটার পিরামিডটা তুলে এনে ডেস্কে পোর্টফোলিওর পাশে রাখে। এই পিরামিডটা অনেক আগে খোদাই করা হয়েছিল আর তোমার পরিবারের কাছে বংশানুক্রমে এটা গচ্ছিত রয়েছে।

    একটা পিরামিড? জ্যাকারিয়াকে খুব একটা আগ্রহী দেখায় না।

    বাছা…এই পিরামিডটা একটা ম্যাপ…এমন একটা ম্যাপ যা মানব জাতির হারিয়ে যাওয়া অমূল্য সম্পদের অবস্থান প্রকাশ করবে। এই ম্যাপটা তৈরী করা হয়েছিল যাতে একদিন সম্পদটা পুনরাবিস্কার করা যায়। পিটারের কণ্ঠ এবার গর্বে বলীয়ান হয়ে উঠে। এবং আজ রাতে, চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী, কতিপয় শর্তাধীনে…এটা তোমাকে দিতে চাই।

    জ্যাকারিয়া সন্দিগ্ধ চোখে পিরামিডটার দিকে তাকায়। কি ধরণের সম্পদ?

    বেল্লামি নিজের ডান চোখ বাজি রেখে বলতে পারে পিটার আর যাই হোক এই রুক্ষ প্রশ্নটা আশা করেনি। অবশ্য এরপরেও তার অভিব্যক্তি অটল থাকে।

    জ্যাকারিয়া পেছনের বিশাল ইতিহাস না বলে এক কথায় এটা প্রকাশ করা অসম্ভব। কিন্তু এই গুপ্তধন, মূলত…এক কথায় যাকে আমরা প্রাচীন রহস্যময়তা বলে অভিহিত করে থাকি।

    জ্যাকারিয়া হাসে, বাবা ঠাট্টা করেছে বলে ধরে নেয়।

    জ্যাক্, ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা আমার পক্ষে ভীষণ কঠিন। প্রথা অনুযায়ী, একজন সলোমনের আঠারো বছর পূর্ণ হলে, সে তখন উচ্চতর পড়াশুনার জন্য কলেজে-

    আমি তোমাকে আগেই বলেছি! জ্যাকারিয়া অসব্যের মত চেঁচিয়ে উঠে। আমি কলেজে যাচ্ছি না।

    আমি কলেজ বোঝাতে ঠিক চাইনি, তার বাবা বলে, কণ্ঠস্বর তখনও শান্ত এবং সমাহিত। আমি ফ্রিম্যাসনারী ভ্রাতুসঙ্ঘের কথা বলেছি। আমি মানুষের সৃষ্টিতত্ত্বের স্থায়ী রহস্যের অনুধাবনের কথা বলছিলাম। তুমি যদি তাদের মত আমার সাথে চাও, তাহলে আজ রাতে তোমার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে তুমি উপনীত হবে।

    জ্যাকারিয়া চোখ উল্টায়। আমাকে পরে কখনও এসব ম্যাসনিক তত্ত্ব শুনিও। আমি জানি আমিই হলাম প্রথম সলোমন যে যোগ দিতে ইচ্ছুক না। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? তুমি ব্যাপারটা ধরতে পারনি? আমি বুড়ো হাবড়াদের সাথে পোষাক পরে খেলতে রাজি নই!

    তার বাবা অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে এবং বেল্লামি লক্ষ্য করে পিটারের তখনও তরুণ চোখের চারপাশে সূক্ষ ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে।

    হ্যাঁ, আমি বুঝতে পেরেছি, পিটার শেষপর্যন্ত বলে। সময় বদলে গেছে। আমি বুঝতে পারি ম্যাসনারী এখন তোমাদের কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয় এমনকি বিরক্তিকরও। আমি তোমাকে বলতে চাই তোমার জন্য সবসময়ে দরজা খোলা থাকবে তুমি যদি কখনও মত পরিবর্তন কর।

    তুমি সে আশা করে বসে থেকো না, জ্যাকারিয়া অসম্ভষ্ট কণ্ঠে বলে।

    অনেক হয়েছে! পিটার উঠে দাঁড়িয়ে, ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে। আমি বুঝতে পারছি জীবনটা তোমার কাছে একটা বোঝায় পরিণত হয়েছে, জ্যাকারিয়া, কিন্তু আমিই কেবল তোমার একমাত্র পরামর্শদাতা নই। অনেক ভাল মানুষ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে, যারা তোমাকে ম্যাসনিক ভ্রাতৃসঙ্ঘে স্বাগত জানাবে এবং তোমাকে তোমার সত্যিকারের সম্ভাবনা দেখাবে।

    জ্যাকারিয়া খিকখিক করে হেসে বেল্লামির দিকে তাকায়। মি. বেল্লামি এই জন্যই তুমি এসেছো? যাতে তোমরা ম্যাসনরা আমার বিরুদ্ধে জোট পাকাতে পার?

    বেল্লামি কিছু না বলে, শ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টিতে পিটারের দিকে তাকায় জ্যাকারিয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয় এই ঘরে কে ক্ষমতাবান।

    জ্যাকারিয়া তার বাবার দিকে তাকায়।

    জ্যাকু,  পিটার বলে, এভাবে আমরা কোথাও পৌঁছাতে পারব না…আমি তাই তোমাকে কেবল এটুকুই বলতে চাই। আজ রাতে তোমাকে যে দায়িত্ব গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানান হয়েছে সেটার গুরুত্ব তুমি বুঝতে পার বা না পার, এটা আমার পারিবারিক দায়িত্ব তোমাকে বিষয়টা অবহিত করা। সে পিরামিডটা দেখায়। এই পিরামিডটা রক্ষার দায়িত্ব পাওয়াটা একটা বিরল সৌভাগ্য। আমি তোমাকে অনুরোধ করছি তোমার সিদ্ধান্ত নেবার আগে এই সুযোগটা সম্পর্কে তুমি কয়েকদিন ভাল করে ভাবো?

    সুযোগ? জ্যাকারিয়া বলে। একটা পাথরকে ছোট বাচ্চার মত আগলে রাখবো?

    জ্যাক, এই পৃথিবীতে অনেক রহস্য আছে, পিটার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে। রহস্য যা তোমার সবচেয়ে অবাস্তব কল্পনাকেও হার মানাবে। এই পিরামিডটা সেসব রহস্যকে রক্ষা করছে। এবং তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, এমন একটা সময় আসবে, সেটা সম্ভবত তোমার জীবদ্দশাতেই আসবে, যখন এই পিরামিডটার শেষ পর্যন্ত পাঠোদ্ধার হবে এবং এর রহস্যের উপর থেকে যবনিকা উঠবে। সেটা হবে মানুষের রূপান্তরের একটা মাহেন্দ্রক্ষণ…আর সেই মুহূর্তে একটা ভূমিকা পালনের সুযোগ তোমার আছে। আমি চাই তুমি ব্যাপারটা ভাল করে ভেবে দেখো। সম্পদ সবারই আছে কিন্তু জ্ঞান খুবই বিরল। সে প্রথমে পোর্টফোলিও পরে পিরামিডটার দিকে ইঙ্গিত করে। আমি তোমাকে মিনতি করে বলছি জ্ঞান ছাড়া সম্পদ অনেক সময় বিপর্যয় ডেকে আনে

    জ্যাকারিয়াকে দেখে মনে হবে সে তার বাবাকে পাগল ভাবছে। বাবা, তুমি যাই বল, আমি এর জন্য আমার উত্তরাধিকার জলাঞ্জলি দিতে পারব না। সে পিরামিডটার দিকে দেখায়।

    পিটার তার সামনে হাত ভাজ করে। তুমি যদি দায়িত্ব গ্রহণটা বেছে নাও তবে আমি তোমার টাকা আর পিরামিড ম্যাসনদের কাছে তোমার শিক্ষা সাফল্যের সাথে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগলে রাখবো। এতে অনেক বছর সময় লাগবে, কিন্তু তুমি পরিণত হয়ে ফিরে আসবে তোমার টাকা আর পিরামিডের জন্য। সম্পদ আর জ্ঞান। একটা অসীম সম্ভাবনাময় যুগলবন্দি।

    জ্যাকারিয়া চিৎকার করে উঠে। জেসাস ড্যাড! তুমি কখনও হাল ছাড়ো, তাই না? তুমি কি দেখতে পাচ্ছে না যে ম্যাসন, পাথরের পিরামিড আর প্রাচীন রহস্যের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই? সে বুকে টেবিল থেকে কালো পোর্টফোলিওটা তুলে নিয়ে সেটা তার বাবার মুখের সামনে নাড়ে। এটা আমার জন্মগত অধিকার! আমার আগে যে সলোমনরা এসেছিল এই একই অধিকার তারা পেয়েছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না প্রাচীন গুপ্তধনের ম্যাপের আবোলতাবোল গল্প বলে তুমি চালাকি করে আমার কাছ থেকে আমার উত্তরাধিকার কেড়ে নিতে চাইছো? সে পোর্টফোলিওটা বগলের নীচে খুঁজে বেল্লামির পাশ দিয়ে হেঁটে স্টাডির ভিতরের দিকের দরজার দিকে এগিয়ে যায়।

    জ্যাকারিয়া থামো! জ্যাকারিয়া বাইরে বের হয়ে যাবে এমন সময় তার বাবা দৌড়ে তার কাছে যায়। তুমি যাই কর, তুমি যে পিরামিডটা দেখেছো সেটার কথা কাউকে বলতে পারবে না! পিটার সলোমনের কণ্ঠস্বর কর্কশ শোনায়। কারো কাছে না! কখনও!

    কিন্তু জাকারিয়া তাকে পাত্তা না দিয়ে, বাইরের অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

    পিটার সলোমনের চোখে অব্যক্ত বেদনা ফুটে থাকে যখন সে ডেস্কের কাছে ফিরে এসে চামড়া বাধান চেয়ারে শরীর ছেড়ে দিয়ে বসে। অনেকক্ষণ পরে, সে বেল্লামির দিকে তাকিয়ে বিষণ্ণ একটা হাসি দেয়। ভালমতই শেষ হয়েছে।

    বেল্লামি দীর্ঘশ্বাস ফেলে, পিটারের কষ্টটা সে বুঝতে পারে। পিটার আমি অবিবেচকের মত বলছি না…কিন্তু…তুমি কি তাকে বিশ্বাস কর?

    সলোমন শূন্য চোখে ফাঁকার দিকে তাকিয়ে থাকে।

    আমি বলতে চাইছি…বেল্লামি ব্যগ্রতা ফুটিয়ে বলে, পিরামিডের ব্যাপারে কাইকে কিছু না বলার বিষয়টা?।

    সলোমনের মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই। ওয়ারেন আমি সত্যিই জানি না কি বলবো তোমাকে। আমি নিশ্চিত না, আমার ছেলেকে আমি নিজেই চিনি না।

    বেল্লামি উঠে দাঁড়িয়ে বিশাল ডেস্কটার সামনে পায়চারি করে। পিটার তুমি তোমার পারিবারিক দায়িত্ব অনুসরণ করেছে, কিন্তু এখন, এই মাত্র যা ঘটে গেল সেটা বিবেচনা করে, আমার মনে হয় আমাদের সাবধান হওয়া উচিত। আমি তোমাকে শিরোশোভাটা ফিরিয়ে দেব যাতে তুমি সেটা অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখতে পার। সেটা রক্ষার দায়িত্ব এবার অন্য কারো নেয়া উচিত।

    কেন? সলোমন প্রশ্ন করে।

    জ্যাকারিয়া যদি পিরামিডের কথা কাউকে বলে…এবং উল্লেখ করে আজরাতে আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম…

    শিরোশোভার কথা সে কিছু জানে না এবং পিরামিডের গুরুত্ব বোঝার মত পরিণত সে হয়নি। আমাদের এত ব্যস্ত হবার প্রয়োজন নেই। আমার ভল্টেই পিরামিডটা থাকবে। আর শিরোশোভাটা তোমার হেফাজতেই থাকবে, তোমার যেখানে ইচ্ছা সেটা লুকিয়ে রাখো। আমরা বরাবর যা করে আসছি।

    ছয় বছর পরে, বড়দিনে, জ্যাকারিয়ার মৃত্যুর ধাক্কা পরিবারটা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি, সেই অতিকায় লোকটা সলোমন এস্টেটে এসে দাবী করে জেলখানায় জ্যাকারিয়াকে সেই খুন করেছে। অনুপ্রবেশকারী পিরামিডটা নিতে এসেছিল কিন্তু কেবল ইসাবেল সলোমনের আত্মা সঙ্গে নিয়ে যায়।

    কয়েক দিন পরে, পিটার বেল্লামিকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে আসে। সে দরজা বন্ধ করে, ভল্ট থেকে পিরামিডটা বের করে দুজনের মাঝে টেবিলের উপরে সেটা রাখে। তোমার কথা আমার শোনা উচিত ছিল।

    বেল্লামি জানে এ বিয়ষটা নিয়ে পিটার মর্মে মরে আছে। এমন কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি।

    সলোমন ক্লান্ত ভঙ্গিতে শ্বাস নেয়। শিরোশোভা ক্যাপস্টোনটা এনেছো?

    বেল্লামি পকেট থেকে একটা ছোট চারকোণা প্যাকেট বের করে। ধূসর বাদামি কাগজটা সুতো দিয়ে বাঁধা এবং মোমের উপরে সলোমনস আংটির ছাপ রয়েছে। বেল্লামি ডেস্কের উপরে প্যাকেটটা রাখে, সে জানে আজ রাতে ম্যাসনিক পিরামিডের দুই খণ্ড তাদের যেভাবে থাকার কথা তার চেয়ে পরস্পরের অনেক কাছে রয়েছে। এটা গচ্ছিত রাখার জন্য নতুন কাউকে খুঁজে বের কর। আর তার নাম আমাকে বলার প্রয়োজন নেই।

    সলোমন মাথা নাড়ে।

    আর আমি জানি তুমি পিরামিডটা কোথায় লুকিয়ে রাখতে পার, বেল্লামি বলে। সে সলোমনকে ক্যাপিটল ভবনের সাববেসমেন্টের কথা বলে। গোটা ওয়াশিংটনে এরচেয়ে সুরক্ষিত স্থান আর খুঁজে পাবে না।

    বেল্লামির আজও মনে আছে পরিকল্পনাটা শুনেই সলোমনের পছন্দ হয়েছিল কারণ জাতির হৃদয়ের প্রতীক একটা ভবনে পিরামিড লুকিয়ে রাখাটা তারসাথে একেবারে প্রতীকীভাবেই মানানসই। সলোমন বলে কথা, বেল্লামি ভেবেছিল। বিপর্যয়ের ভিতরেও আদর্শের ধ্বজাধারী।

    এখন, দশ বছর পরে, লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের ভিতর দিয়ে যখন বেল্লামিকে ধাক্কিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে জানে আজ রাতে শুরু হওয়া বিপর্যয় এখনও কাটেনি। সে এখন অবশ্য জানে সলোমন কাকে পছন্দ করেছিল শিরোশোভা দেখে রাখার জন্য…এবং সে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে ল্যাংডন যেন নিজের মান রাখতে পারে।

    .

    ৬২ অধ্যায়

    আমি সেকেণ্ড স্ট্রীটের নীচে আছি।

    কনভেয়ার বেল্ট অন্ধকারের ভিতরে গমগম শব্দ করে এডামস ভবনের দিকে যাওয়ার সময়ে ল্যাংডন প্রাণপনে চোখ বন্ধ করে রাখে। মাথার উপরে টন টন মাটি আর তার ভিতরে সরু একটা সুড়ঙ্গ দিয়ে সে ভ্রমণ করছে এই বিষয়টা একেবারেই না ভাবার চেষ্টা সে করে। সে তার কয়েক গজ সামনে থেকে ক্যাথরিনের শ্বাস নেবার শব্দ শুনতে পায় কিন্তু এখন পর্যন্ত সে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি।

    সে বিহ্বল হয়ে পড়েছে। তার ভাইয়ের হাত কাটা গেছে এই খবরটা ল্যাংডন তাকে কিভাবে বলবে ভেবে পায় না। তোমাকে পারতেই হবে, রবার্ট। তার জানবার অধিকার রয়েছে।

    ক্যাথরিন? ল্যাংডন অবশেষে থাকতে না পেরে চোখ বন্ধ করেই বলে উঠে, তুমি ঠিক আছে?

    একটা ভীত, দূর্বল, দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন কণ্ঠস্বর সামনে কোথাও থেকে ভেসে আসে। রবার্ট, তোমার কাছে যে পিরামিডটা আছে। সেটা পিটারের, তাই না?

    হ্যাঁ, ল্যাংডন ভণিতা না করে বলে।

    এরপরে অনেকক্ষণ নিরবতা বজায় থাকে। আমার মনে হয়…এই পিরামিডের কারণেই আমার মা খুন হয়েছিল।

    ল্যাংডন খুব ভাল করেই জানে দশ বছর আগে ইসাবেল সলোমনকে হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু সে এত বিস্তারিত জানতো না এবং পিটারও কখনও কোন পিরামিডের কথা তার সাথে আলোচনা করেনি। তুমি কি ভাবছো?

    সে রাতের ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা আবার মনে পড়তে, কিভাবে উল্কি আঁকা লোকটা তাদের এস্টেটে প্রবেশ করেছিল, ক্যাথরিনের কণ্ঠস্বর আবেগাক্রান্ত হয়ে উঠে। অনেক দিন আগের কথা কিন্তু আমি কখনও ভুলব না সে একটা পিরামিড চেয়েছিল। সে বলেছিল, জেলখানায় আমার ভাইপো, জ্যাকারিয়া তাকে। খুন করার ঠিক আগে…তার কাছে সে পিরামিডটার কথা শুনেছে।

    ল্যাংডন বিস্মিত হয়ে শোনে। সলোমন পরিবারের শোকাবহ ঘটনার কথা শুনলে বিশ্বাস হতে চায় না। ক্যাথরিন বলতে থাকে, সে ল্যাংডনকে জানায় যে সে সবসময়ে বিশ্বাস করতো সে রাতে সেই আগন্তুক মারা গেছে…আজ পর্যন্ত, যতক্ষণ না সেই লোক আবার পিটারের সাইক্রিয়াটিস্টের ভাব ধরে পুনরায় আবিভূর্ত হয়, এবং ক্যাথরিনকে ছল করে নিজের বাসায় পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। সে আমার ভাইয়ের, আমার মায়ের মৃত্যু এমনকি আমার গবেষণা সম্পর্কেও অনেক কিছু জানে, সে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে, যা সে কেবল আমার ভাইয়ের কাছ থেকেই জানতে পারে। আর সে কারণেই আমি তাকে বিশ্বাস করি…আর সেই সুযোগে সে স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরের সাপোর্ট সেন্টারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। ক্যাথরিন একটা গভীর শ্বাস নেয় এবং ল্যাংডনকে বলে সে মোটামুটি নিশ্চিত লোকটা আজরাতে তার গবেষণাগারের দফারফা করে দিয়েছে।

    সবকিছু শুনে ল্যাংডন হতভম্ভ হয়ে যায়। চলমান কনভেয়ারের উপরে তারা দুজনেই কিছুক্ষণ কোন কথা না বলে চুপচাপ শুয়ে থাকে। ল্যাংডন জানে আজ রাতের ভয়ঙ্কর ঘটনার বাকী অংশটুকু ক্যাথরিনের সাথে ভাগ করে নেয়াটা তার নৈতিক বাধ্যবাধকতা। সে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করে এবং তারপক্ষে যতটা সহজভাবে বলা সম্ভব, সে তাকে বলে বহু বছর আগে তার ভাই তার কাছে একটা ছোট প্যাকেট গচ্ছিত রেখেছিল, আজ রাতে কিভাবে ল্যাংডনের সাথে চালাকি করে সেই প্যাকেটটা ওয়াশিংটনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সব শেষে ক্যাপিটল ভবনের রোটানডায় তার ভাইয়ের কাটা হাত খুঁজে পাবার কথা, বলে।

    ক্যাথরিনের প্রতিক্রিয়া বধির করা নিরবতা।

    ল্যাংডন জানে সে গুটিয়ে গেছে এবং তার ইচ্ছা হয় সে তাকে স্পর্শ করে প্রবোধ দেয় কিন্তু অন্ধকারে পরপর চিৎ হয়ে থাকার কারণে সেটা অসম্ভব প্রতিয়মান হয়। পিটার ভাল আছে, সে ফিসফিস করে বলে। সে বেঁচে আছে আর আমরা তাকে খুঁজে বের করবো। ল্যাংডন তাকে আশা দিতে চায়।

    ক্যাথরিন, তার বন্দিকর্তা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তোমার ভাইকে সে জীবন্ত ফিরিয়ে দেবে…আমি যদি তার জন্য পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করে দেই। ১ ক্যাথরিন এখনও চুপ করে থাকে।

    ল্যাংডন কথা চালিয়ে যায়। সে তাকে পাথরের পিরামিড, এতে উত্তীর্ণ ম্যাসনিক গুপ্তলিপি, সীল করা শিরোশোভা, এবং অবশ্যই বেল্লামির দাবীর কথা যে এটা আদতেই কিংবদন্তির ম্যাসনিক পিরামিড. ..একটা লম্বা প্যাচান সিঁড়ি যা একটা গোপন স্থানে পৌঁছে দেবে যা পৃথিবীর গভীরে নেমে গেছে…কয়েক শ ফিট নীচে একটা প্রাচীন মরমী গুপ্তধনের নিকটে যা ওয়াশিংটনে অনেক। আগে পুতে রাখা হয়েছিল, তার ম্যাপ।, ক্যাথরিন অবশেষে কথা বলে, তার কণ্ঠস্বর আবেগশূন্য আর কিছুটা আড়ষ্ট।

    রবার্ট এবার চোখ খোল।

    আমার চোখ খুলব। ল্যাংডনের মনে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই এই এলাকাটা কেন চাপা সেটার একটা ঝলকও দেখার।

    রবার্ট! ক্যাথরিন ব্যগ্র কণ্ঠে এবার বলে। রবার্ট চোখ খোল! আমরা পৌঁছে গেছি!

    ল্যাংডনের চোখ নিমেষে খুলে যায় সে দেখে তারা অন্যপ্রান্তে যেভাবে প্রবেশ করেছিল তেমনই একটা খোলা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। ক্যাথরিন। ইতিমধ্যে কনভেয়ার বেল্ট থেকে নামবার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে। তার বেল্ট থেকে ক্যাথরিন ডেব্যাগটা তুলে নিলে ল্যাংডন কিনারার উপর দিয়ে পা ঘুরিয়ে এনে টাইলসের মেঝেতে একেবারে সময়মত নেমে আসে, কনভেয়ারটা তারপরেই কোণ ঘুরে এবং যে পথে এসেছে সে পথে রওয়ানা দেয়। অন্য ভবনের যে কামরাটা থেকে তারা এসেছে এটাও অনেকটা সেরকমই আরেকটা সার্কুলেশন রুম। একটা ছোট সাইডবোর্ড ঝুলছে যেখানে লেখা এডামস বিল্ডিং সার্কুলেশন রুম ৩।

    ল্যাংডনের মনে হয় সে এই মাত্র ভূগর্ভস্থ কোন জন্ম সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে এসেছে। পুনরায় ভূমিষ্ট হয়েছে। সে দ্রুত ক্যাথরিনের দিকে তাকায়, তুমি ঠিক আছো?  তার চোখ লাল বোঝাই যায় কাঁদছিলো, কিন্তু সে দৃঢ়তার সাথে নির্বিকার ভঙ্গিতে একটু দ্রুতই মাথা নাড়ে। সে ল্যাংডনের ডেব্যাগটা তুলে নেয় এবং কোন কথা না বলে সেটা ঘরের অন্য প্রান্তে বইয়ে ঠাসা একটা টেবিলের উপরে। নিয়ে গিয়ে রাখে। সে ডেস্কের হ্যালোজেন বাতিটা জ্বালায় এবং ব্যাগের চেন খুলে দুপাশটা মুড়িয়ে নিয়ে ভিতরে উঁকি দেয়।

    গ্রানাইটের পিরামিডটাকে হ্যালোজেনের আলোতে একেবারেই নিরাভরণ দেখায়। ক্যাথরিন উত্তীর্ণ ম্যাসনিক গুপ্তলিপির উপরে হাত বুলায় এবং ল্যাংডন টের পায় তার ভেতরে আবেগের বুজকুড়ি কাটছে। ধীরে ধীরে সে ব্যাগের ভিতরে হাত দিয়ে চারকোনা বাক্সটা বের করে আনে। আলোর নীচে ধরে সেটা ভাল করে দেখে।

    তুমি দেখতেই পাচ্ছো, ল্যাংডন শান্ত কণ্ঠে বলে, মোমের উপরে তোমার ভাইয়ের ম্যাসনিক আংটির ছাপ রয়েছে। সে বলেছে এই আংটিটা ব্যবহার করে প্রায় এক শতাব্দি আগে এই বাক্সটা সীল করা হয়েছিল।

    ক্যাথরিন কথা বলে না।

    তোমার ভাই যখন পিরামিডটা আমার কাছে গচ্ছিত রাখে, ল্যাংডন তাকে বলে, সে আমাকে বলে ছিল প্যাকেটটা বিশৃঙ্খলার মাঝে শৃঙ্খলা আনবার শক্তি আমাকে দেবে। আমি ঠিক পুরোপুরি নিশ্চিত না এর মানে কি, কিন্তু আমি ধরে নিয়েছি শিরোশোভাটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা প্রকাশ করে, কারণ সে এটা গচ্ছিত রাখার সময়ে বারবার জোর দিয়ে বলেছিল ভুল লোকের হাতে যেন বাক্সটা কখনও না পড়ে। মি. বেল্লামিও আমাকে একই অনুরোধ করেছে, আমাকে পিরামিডটা কোথাও লুকিয়ে রাখতে বলেছে আর প্যাকেটটা যাতে কেউ না খুলে সেই অনুরোধ করে।

    ক্যাথরিন এবার ক্রুদ্ধ হয়ে ঘুরে তাকায়। বেল্লামি তোমাকে প্যাকেটটা খুলতে বলেছে না?

    হ্যাঁ, তাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনে হয়েছে।

    ক্যাথরিনের চেহারায় অবিশ্বাস এসে ভর করে। কিন্তু তুমি না বললে এই শিরোশোভাটা ছাড়া আমরা পিরামিডের পাঠোদ্ধার করতে পারব না, ঠিক?

    সম্ভবত, হ্যাঁ।

    ক্যাথরিনের কণ্ঠস্বরের পারা চড়তে শুরু করে। এবং তুমি বললে তোমাকে পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করতে বলা হয়েছে। পিটারকে ফিরে পেতে হলে এটাই আমাদের একমাত্র উপায়, ঠিক?।

    ল্যাংডন মাথা নাড়ে।

    রবার্ট তুমি তাহলে প্যাকেটটা খুলে পিরামিডটার পাঠোদ্ধার এখনই শুরু করছেনা কেন?!

    ল্যাংডন বুঝতে পারে না কিভাবে উত্তর দেবে। ক্যাথরিন আমার প্রতিক্রিয়াও ঠিক একই রকম ছিল, কিন্তু বেল্লামি তারপরেও আমাকে বলে পিরামিডের রহস্য বজায় রাখা সবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ…এমনকি তোমার ভাইয়ের জীবনের চেয়েও।

    ক্যাথরিনের সুন্দর মুখমণ্ডল কঠোর হয়ে উঠে এবং সে কানের পিছনে চুলের একটা গোছা গুছে দেয়। সে যখন কথা বলে তার কণ্ঠস্বরে সিদ্ধান্তের বরাভয়। এই পাথরের হতচ্ছাড়া পিরামিড, সে যাই হোক না কেন, আমার পুরো পরিবার। শেষ করেছে। প্রথমে আমার ভাইপো, জ্যাকারিয়া, তারপরে আমার মা এবং এখন আমার ভাই। এবং রবার্ট তুমিই ভেবে দেখো আজ রাতে তুমি যদি সতর্ক না করতে আমাকে…

    ল্যাংডন টের পায় ক্যাথরিনের যুক্তি আর বেল্লামির সোজাসাপ্টা অনুরোধোর মাঝে সে ফেসে গেছে।

    আমি হতে পারি একজন বিজ্ঞানী, সে বলে, কিন্তু আমার জন্মও একটা সুপরিচিত ম্যাসন পরিবারেই হয়েছে। বিশ্বাস কর ম্যাসনিক পিরামিড আর মানবজাতিকে আলোকিত করবে এমন গুপ্তধনের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সব গল্প আমার জানা। সত্যি কথা বলতে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে এমন একটা জিনিসের সত্যিই অস্তিত্ব। অবশ্য সেরকম কিছু থেকে থাকলেও…সম্ভবত সময় হয়েছে সেটার উপর থেকে রহস্যময়তার যবনিকা সরিয়ে নেবার। ক্যাথরিন প্যাকেটটার পুরানো সুতার নীচে একটা আঙ্গুল প্রবেশ করায়।

    ল্যাংডন লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ক্যাথরিন, না! থামো!

    ক্যাথরিন থামে তার আঙ্গুল অবশ্য সুতার নীচেই থাকে। রবার্ট আমি এই পুচকে প্যাকেটটার জন্য আমার ভাইকে মরতে দিতে পারি না। এই শিরোশোভা যাই বলুক…হারিয়ে যাওয়া যে সম্পদ এই লিপি প্রকাশ করুক…সব রহস্যের আজ রাতে সমাপ্তি ঘটবে।

    কথা শেষ করে ক্যাথরিন স্পষ্ট অবজ্ঞায় সুতা ধরে টান দেয় আর ভঙ্গুর মামের সীল ভেঙে ফেলে।

    .

    ৬৩ অধ্যায়

    ওয়াশিংটনের দূতাবাস রোর ঠিক পশ্চিমে একটা শান্ত আবাসিক এলাকায়, মধ্যযুগীয় দেয়াল দিয়ে ঘেরা একটা বাগান রয়েছে, বলা হয়ে থাকে এই বাগানে ফোঁটা গোলাপের কুড়ি দ্বাদশ শতকের গোলাপ গাছ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বাগানের কার্ডেরক গ্যাজেবো- শ্যাডো হাউস বলে পরিচিত-পাথরের আঁকাবাঁকা পথের কেন্দ্রে যে পাথর জর্জ ওয়াশিংটনের ব্যক্তিগত খনি থেকে উত্তোলিত হয়েছিল স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    আজ রাতে বাগানের নিরবতা এক যুবক কাঠের দরজা দিয়ে চিৎকার করতে করতে ভিতরে প্রবেশ করে ভঙ্গ করে।

    হ্যালো? পূর্ণিমার আলোয় দেখতে চেষ্টা করে সে ডাকতে থাকে। আপনি কি এখানে আছেন?

    একটা দূর্বল প্রায় শোনা যায় কি যায় না এমন কণ্ঠস্বর উত্তর দেয়। গ্যাজেবোতে…রাতের বাতাসে বসে আছি।

    তরুন তার ভগ্নস্বাস্থ্যের উধ্বর্তনকে একটা কম্বলের নীচে পাথরের বেঞ্চের উপরে বসে থাকতে দেখে। খুদে কুঁজো বৃদ্ধ লোকটার অভিব্যক্তি ডাইনীর মত। বয়সের ভার তাকে দুভাগে ভাগ করে ফেলেছে তার চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে কিন্তু তার আত্মা এখনও অমিত ক্ষমতাধর।

    দম ফিরে পাবার ফাঁকে হাপাতে হাপাতে তরুণ লোকটা তাকে বলে, আমি এই মাত্র…আপনার বন্ধু…ওয়ারেন বেল্লামির কাছ থেকে…একটা ফোন কল পেয়েছি।

    ওহ? বৃদ্ধলোকটা দ্রুত মাথা তোলে। কি বিষয়?

    সে সেটা বলেনি কিন্তু তার কথা শুনে মনে হয়েছে সে দারুণ ব্যস্ত। সে আমাকে বলেছে আপনার ভয়েস মেইলে সে একটা ম্যাসেজ পাঠিয়েছে, যা আপনাকে এখনই শুনতে হবে।

    সে এইটুকুই কেবল বলেছে?

    ঠিক এটুকুই না। তরুণ ছেলেটা থেমে যায়। সে আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে বলেছে আমাকে। ভারী উদ্ভট একটা প্রশ্ন। সে আমাকে বলেছে আপনার প্রত্যুত্তর তার এখনই দরকার।

    বৃদ্ধ মানুষটা তার দিকে ঝুঁকে আসে। কি প্রশ্ন?।

    তরুণ যুবক বোমির প্রশ্নটা তাকে বলতে চাঁদের আলোতেও বুড়ো লোকটা মুখে চকিতে ফুটে ওঠা ফ্যাকাশে ভার স্পষ্ট দেখা যায়। নিমেষের ভিতরে, কম্বল ফেলে দিয়ে সে উঠে দাঁড়াবার জন্য রীতিমত কসরত শুরু করে দেয়।

    আমাকে ভেতরে যেতে সাহায্য কর। এখনই।

    .

    ৬৪ অধ্যায়

    রহস্যের নিকুচি করি, ক্যাথরিন সলোমন ভাবে।

    টেবিলে তার সামনে শতবর্ষব্যাপী অটুট থাকা মোমের সীল টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে। সে তার ভাইয়ের আগলে রাখা অমূল্য প্যাকেটটার বাদামী মোড়ক খুলে ফেলে। তার পাশে ল্যাংডন স্পষ্টতই অস্বস্তিতে বসে থাকে।

    কাগজের ভেতর থেকে ক্যাথরিন একটা ধুসর পাথরের ছোট বাক্স বের করে আনে। চকচকে গ্রানাইটের মত দেখতে বাক্সটায় কোন কজা, চাবি বা খোলার অন্য কোন উপায় দেখা যায় না। চীনা পাজল বক্সের কথা মনে পড়ে ক্যাথরিনের এটা দেখে।

    দেখে নিরেট বাক্স বলেই মনে হচ্ছে, কিনারায় হাত বুলাতে বুলাতে সে মন্তব্য করে। তুমি নিশ্চিত এক্স-রেতে একে ফাঁপা দেখা গেছে? ভেতরে শিরোশোভা আছে?

    দেখা গেছে, ক্যাথরিনের কাছে সরে এসে রহস্যময় বাক্সটা জরিপ করার ফাঁকে সে বলে। সে আর ক্যাথরিন উল্টেপাল্টে বাক্সটা দেখে, খোলার প্রয়াস নেয়।

    পেয়েছি, বাক্সের উপরের ধার বরাবর একটা চোরা খাঁজ নখ দিয়ে সনাক্ত করে ক্যাথরিন বলে। সে বাক্সটা ডেস্কের উপরে নামিয়েরাখে এবং সাবধানে ঢাকনা খুলে, দামী অলঙ্কারের বাক্সের মত অনায়াসে সেটা উঠে আসে।

    ঢাকনিটা খুলে যেতে ল্যাংডন আর ক্যাথরিন দুজনেই সশব্দে আতকে উঠে। বাক্সের ভিতরটা যেন জ্বলছে। প্রায় অপার্থিব আভায় ভেতরটা চকচক করছে। ক্যাথরিন জীবনেও এতবড় সোনার টুকরো দেখেনি এবং তার এক মুহূর্ত সময় লাগে বুঝতে যে দামী ধাতুটায় ডেস্কের আলো প্রতিফলিত হয়ে এই বিকিরণের জন্ম হয়েছে।

    অসাধারণ দর্শনীয়, সে ফিসফিস করে বলে। শতবর্ষের উপরে ধাতব বাক্সের অন্ধকারে বন্দি থেকেও শিরোশোভা মলিন বা অন্য কোনভাবে কলঙ্কিত হয়নি। সোনা নশ্বরতার চিরন্তন নিয়ম প্রতিরোধ করতে সক্ষম; প্রাচীন মানুষেরা এ জন্যই একে ঐন্দ্রজালিক বলে গন্য করতো। ছোট সোনার শীর্ষের উপর থেকে নীচের দিকে ঝুঁকে তাকাতে ক্যাথরিন টের পায় তার শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একটা বাণী উত্তীর্ণ রয়েছে।

    ল্যাংডন সামনে এগিয়ে আসে, তাদের কাধ পরস্পরকে স্পর্শ করে। তার নীল চোখে কৌতূহলের আভাস। সিম্বলন তৈরীর প্রাচীন গ্রীক পদ্ধতি সম্পর্কে সে ক্যাথরিনকে বলেছে-নানা খণ্ডে বিভক্ত একটা সংকেত-আর এখন এই শিরোশোভা পিরামিড় থেকে বহুঁকাল বিচ্ছিন্ন, পিরামিডের পাঠোদ্ধারের সূত্র ধারণ করে রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এই উৎকীর্ণ বাণী, তাতে যাই বলা হয়ে থাকুক, এই বিশৃঙ্খলার ভিতরে শৃঙ্খলা আনয়ন করবে।

    ক্যাথরিন ছোট বাক্সটা আলোর সামনে ধরে সরাসরি শিরোশোভার দিকে তাকায়।

    ক্ষুদ্র হলেও লেখাটা স্পষ্ট পড়া যায়-একপাশে দক্ষতার সাথে খোদাই করা ভাষ্য। ক্যাথরিন ছয়টা মামুলি শব্দ পড়ে।

    তারপরে আবারও পড়ে।

    না। সে ঘোষণা দেয়। যা লেখা রয়েছে সেটা অসম্ভব!

    .

    রাস্তার উল্টোদিকে, ফার্স্ট স্ট্রীটের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাতের স্থানের দিকে ক্যাপিটল ভবনের বাইরের চওড়া ফুটপাথ দিয়ে হনহন করে ডিরেকটর সাটোকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার ফিল্ড টিমের শেষ পাওয়া কার্যক্রম মোটেই গ্রহণযোগ্য না। ল্যাংডনের টিকির খোঁজও তারা পায়নি। পিরামিড আর শিরোশোভার কথা না হয় বাদই দেয়া গেল। বেল্লামিকে তারা গ্রেফতার করেছে, সে তাদের কাছে সত্যি কথা বলছে না। অন্তত এখনও পর্যন্ত।

    আমি তার মুখে বুলি ফোঁটাব।

    সে ঘাড় ঘুরিয়ে কাঁধের উপর দিয়ে ওয়াশিংটনের অন্যতম নতুন দৃশ্যপট-নতুন দর্শনার্থী কেন্দ্রের উপরে ক্যাপিটল ডোমের কাঠামোর দিকে তাকায়। আলোকিত গম্বুজটা আজ রাতে যা আসলেই ঝুঁকির মুখে পড়েছে তার গুরুত্বের প্রতি যেন বেশি করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিপজ্জনক সময়।

    সে তার সেলফোনের আওয়াজ আর তাতে ফুটে ওঠা কলার আইডি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

    নোলা, সাটো ফোন ধরে বলে। কি খবর মেয়ে কিছু পেয়েছো?

    নোলাও তাকে দুঃসংবাদই শোনায়। শিরোশোভায় উৎকীর্ণ লিপি এক্স-রে থেকে পাঠ করা সম্ভব হয়নি এবং ইমেজ বর্ধক ফিল্টার ব্যবহার করেও কোন লাভ হয়নি।

    নিকুচি করি। সাটো তার ঠোঁট কামড়ে ধরে। ষোল অক্ষরের গ্রিডের কি খবর।

    আমি এখনও চেষ্টা করছি, নোলা উত্তর দেয়, কিন্তু এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় মাত্রার পাঠোদ্ধার সহায়ক কোন সূত্র খুঁজে পাইনি যা কাজে আসবে। আমি গ্রীডে অক্ষরগুলোর পূর্নবিন্যাস করেছি কম্পিউটারের সাহায্যে এবং কোন কিছু সনাক্তকারী খুঁজে পাওয়া যায় কিনা দেখছি, কিন্তু মুশকিল হল সম্ভাবনার সংখ্যা বিশ ট্রিলিয়নের উপরে।

    লেগে থাক। কোন কিছু পেলে আমাকে জানিও। সাটো ক্রুদ্ধ কুট করে লাইন কেটে দেয়। কেবল ছবি আর শিরোশোভার এক্স-রে ব্যবহার করে পিরামিডের পাঠোদ্ধার করার আশা তার ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। পিরামিড আর শিরোশোভাটা আমার দরকার…আর আমার হাতে সময় ক্রমশ কমে আসছে।

    সাটো ফার্স্ট স্ট্রীটে পৌঁছাতে কালো কাঁচের একটা এসকালেড এসইউভি ডবল হলুদ লাইন অতিক্রম করে ঝড়ের বেগে এগিয়ে এসে কড়া ব্রেক করে তাদের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাতের স্থানে দাঁড়িয়ে যায়। ভেতর থেকে কেবল একজন এজেন্ট বের হয়ে আসে।

    ল্যাংডনের কোন খবর পেলে? সাটো জানতে চায়।

    আমরা আশাবাদী, এজেন্ট আবেগহীন কণ্ঠে বলে। ব্যাক-আপ টিম মাত্র এসে পৌঁছেছে। লাইব্রেরীর সব প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এয়ারসাপোর্টও এসে পৌঁছাল বলে। টিয়ারগ্যাস দিয়ে আমরা তাকে ভেতর থেকে বের করে আনব, আর সে কোথাও পালাতে পারবে না।

    আর বেল্লামি?

    পেছনের সীটে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আছে।

    ভাল। তার কাঁধ এখনও ব্যথায় টনটন করছে।

    এজেন্ট তাকে ওয়ালেট, সেলফোন আর চাবি ভর্তি একটা প্লাস্টিকের জিপলক ব্যাগ দেয়। বেল্লামির কাছে পাওয়া গেছে।

    আর কিছু পাওয়া যায়নি?

    নো, ম্যাম। পিরামিড আর প্যাকেটটা অবশ্যই ল্যাংডনের কাছে আছে।

    ঠিক আছে, সাটো বলে। বোমি অনেক কিছু জানে কিন্তু সে বলছে না। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে জেরা করতে চাই।

    অবশ্যই ম্যাম। তাহলে কি ল্যাঙ্গলীতে যাব?

    সাটো একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে এসইউভির পাশে কিছুক্ষণ পায়চারি করে। ইউ.এস নাগরিকদের জেরা করবার ক্ষেত্রে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলে আর বেল্লামিকে ভিডিওর সামনে সাক্ষী, এ্যাটর্নী, ব্লাহ, ব্লাহ…রেখে জেরা না করলে সেটা একটা উচ্চ পর্যায়ের বেআইনী কাজ হবে। ল্যাঙ্গলীর কথা ভুলে যাও, সে কাছাকাছি কোন জায়গার কথা চিন্তা করতে করতে বলে। আর অনেক বেশি নির্জন।

    এজেন্ট কোন কথা না বলে বন্ধ এসইউভির পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, আদেশের অপেক্ষা করছে।

    সাটো সিগারেট ধরিয়ে কষে একটা টান দিয়ে তার হাতে ধরা বেল্লামির ব্যক্তিগত ব্যবহার্য ভর্তি প্লাস্টিকের ব্যাগটার দিকে তাকায়। তার চাবির রিঙে সে দেখে একটা ইলেকট্রনিক ফবে চারটা অক্ষর লেখা আছে- ইউএসবিজি। সাটো খুব ভাল করেই জানে কোন সরকারি দপ্তরে এই ফব দিয়ে প্রবেশ করা যায়। ভবনটা খুবই কাছে আর রাতের এই সময়ে একদম নির্জন।

    সে হেসে ফবটা বের করে পকেটে রাখে। একদম নিখুঁত।

    সে যখন এজেন্টকে বলে সে বেল্লামিকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় সে ভেবেছিল এজেন্টের মুখে সে বিস্ময় দেখতে পাবে, কিন্তু লোকটা কেবল মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে তার জন্য প্যাসেঞ্জার সিটের দরজা খুলে দেয়, তার শীতল চোখের দৃষ্টিতে কোন ভাব প্রকাশ পায় না।

    সাটো পেশাদারদের এজন্য এত পছন্দ করে।

    .

    ল্যাংডন এডামস ভবনের বেসমেন্টে দাঁড়িয়ে চোখে অবিশ্বাস নিয়ে শিরোশোভার উপরে দক্ষ হাতে খোদাই করা লেখাটার দিকে তাকিয়ে থাকে।

    কেবল এইটুকু লেখা?

    তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাথরিন শিরোশোভাটা আলোর নীচে ভাল করে ঘুরিয়ে দেখে মাথা নাড়ে। আরো কিছু অবশ্যই আছে, সে অসহায় কণ্ঠে বলে, তার কথা শুনে মনে হবে কেউ তার সাথে দারুণ প্রতারণা করেছে। আমার ভাই এতগুলো বছর এই লেখাটা রক্ষা করে এসেছে?

    ল্যাংডন মনে মনে স্বীকার করে সে বেকুব হয়েছে। পিটার আর বেল্লামির ভাষ্য অনুযায়ী এই শিরোশোভা পিরামিডের গুপ্তলেখা পাঠোদ্ধারে সাহায্য করবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে সে স্পষ্ট আর সাহায্যকারী কিছু একটা আশা করেছিল। অনেকবেশী স্পষ্ট আর অকাজের। শিরোশোভার একপাশে দক্ষতার সাথে খোদাই করা শব্দগুলো সে আরো একবার পড়ে।

    দি
    সিক্রেট হাইডস
    উইথ ইন দি অর্ডার?

    প্রথম দর্শনে মনে হবে ভাষ্যটায় যা বলা হয়েছে সেটাই বোঝাচ্ছে- মানে পিরামিডের অক্ষরগুলো বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে আর তাদের সঠিক ক্রমে বিন্যস্ত করলেই তাদের অন্তনিহিত মানে জানা যাবে। ভাষ্যটা অবশ্য স্বত:সিদ্ধ হলেও অন্য একটা কারণে সেটা অসম্ভব বলে মনে হয়। দি আর অর্ডার শব্দটা ক্যাপিটাল লেটার দিয়ে শুরু হয়েছে, ল্যাংডন স্বগতোক্তির সুরে বলে।

    ক্যাথরিন অসহায়ের মত মাথা নাড়ে। আমি সেটা লক্ষ্য করেছি।

    দি সিক্রেট হাইডস উইথ ইন দি অর্ডার। ল্যাংডন কেবল একটা যুক্তিযুক্ত মানে খুঁজে পায়। দি অর্ডার বলতে এখানে নিশ্চয়ই মাসনিক অর্ডারের কথা বোঝান হয়েছে।

    আমি একমত,ক্যাথরিন বলে, কিন্তু তাহলেও কোন লাভ হচ্ছে না। আমরা এ থেকে কিছুই বুঝতে পারব না।

    ল্যাংডনও সেটা মানে। তাছাড়া, ম্যাসনিক অর্ডারের ভিতরে লুকিয়ে থাকা রহস্যকে ঘিরেই ম্যাসনিক পিরামিডের পুরো গল্পটা গড়ে উঠেছে।

    রবার্ট আমার ভাই কি তোমাকে বলেনি এই শিরোশোভা তোমাকে শৃঙ্খলা দেখার শক্তি দেবে যেখানে অন্যেরা কেবলই বিশৃঙ্খলা দেখেছে?

    সে হতাশায় মাথা নাড়ে। আজ রাতে দ্বিতীয়বারের মত তার নিজেকে অপদার্থ মনে হয়।

    .

    ৬৫ অধ্যায়

    অপ্রত্যাশিত দর্শনার্থীর-প্রেফারড সিকিউরিটি থেকে আগত মহিলা নিরাপত্তা রক্ষী বন্দোবস্ত করার পরে মাল’আখ, জানালার চটে যাওয়া রঙের টুকরোটা জায়গামত বসিয়ে দেয় যার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে বেচারী তার পূজার পবিত্র স্থান। দেখে ফেলেছিল।

    এখন, বেসমেন্টের হালকা নীল কুয়াশার ভেতর থেকে উঠে এসে সে একটা লুকান দরজা দিয়ে নিজের লিভিং রুমে প্রবেশ করে। ভিতরে ঢুকতে, সে দাঁড়িয়ে তার থ্রি গ্রেসের দর্শনীয় চিত্রকর্মের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তার বাড়ির পরিচিত সুগন্ধ আর শব্দ উপভোগ করে।

    খুব শীঘ্রই আমি চিরতরে এসব ছেড়ে চলে যাব। মাল’আখ ভাল করেই জানে আজ রাতের পরে সে আর এখানে ফিরে আসতে পারবে না। আজ রাতের পরে, মুচকি হেসে সে ভাবে, এই জায়গাটা আমার আর কোন প্রয়োজন হবে না।

    সে ভাবে রবার্ট ল্যাংডন কি এখনও পিরামিডটার সত্যিকারের ক্ষমতা টের পেয়েছে…বা নিজের ভূমিকার গুরুত্ব যার জন্য নিয়তি তাকে নির্বাচন করেছে। ল্যাংডন এখনও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি, নিজের কমদামী ফোনের আসেজ অপশন দুবার দেখে নিয়ে, মাল’আখ মনে মনে ভাবে। এখন রাত ১০:০২ মিনিট। তার হাতে দুঘন্টারও কম সময় আছে।

    মাল’আখ উপরের তলায় তার ইতালিয়ান মার্বেলের বাথরুমে উঠে এসে স্টীম শাওয়ারটা ছেড়ে দেয় গরম হবার জন্য। কঠোর নিয়ম পালন করে সে পরণের কাপড় ছাড়তে শুরু করে নিজের প্রথাগত দৈহিক শুদ্ধির জন্য সে উনাখ হয়ে আছে।

    দুগ্লাস পানি পান করে সে তার উপোস পেটকে আপাতত শান্ত করে। তারপরে সে প্রমাণ আঁকৃতির আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নগ্ন দেহ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে। দুদিন উপোস থাকার কারণে তার পেশীবহুল দেহ আরও স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে এবং সে মুগ্ধ চোখে নিজের নগ্ন দেহের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভোর নাগাদ আমি আরও বেশি কিছু একটায় পরিণত হব।

    .

    ৬৬ অধ্যায়

    আমাদের এখান থেকে বের হতে হবে, ল্যাংডন ক্যাথরিনকে বলে। আমরা এখানে আছি সেটা বোঝ তাদের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার। সে আশা করে বেল্লামি তাদের ফাঁকি দিতে পেরেছে।

    ক্যাথরিন এখনও একদৃষ্টিতে শিরোশোভার দিকে তাকিয়ে আছে, চোখে অবিশ্বাস যে শিরোশোভার লেখা এতটা অপ্রতুল। সে শিরোশেভাটা আবার বাক্স থেকে বের করে আনে, চারপাশটা খুটিয়ে দেখে এবং আবার সাবধানে বাক্সে। ভরে রাখে।

    সি সিক্রেট হাইডস উইথ ইন দি অর্ডার, ল্যাংডন ভাবে। দারুণ কাজে লেগেছে, যাই হোক।

    ল্যাংডন মনে মনে ভাবতে শুরু করে পিটারকি তাহলে বাক্সটার ভেতরের শিরোশোভার গুরুত্ব বুঝতে ভুল করেছিল। পিটারের জন্মের অনেক আগে এই পিরামিড আর শিরোশোভাটা তৈরী করা হয়েছে, আর পিটার কেবল তার পূর্বপুরুষের কথা বিশ্বাস করেছে, রহস্যটা ক্যাথরিন আর ল্যাংডনের কাছে যতটা হেয়ালিপূর্ণ সম্ভবত তার কাছেও ততটাই।

    আমি কি আশা করেছিলাম? ল্যাংডন ভাবে। ম্যাসনিক পিরামিড পিরামিডের কিংবদন্তি সম্পর্কে আজরাতে সে যত জানছে, ততই সেটার সত্য হবার সম্ভাবনা কমে আসছে। আমি একটা লুকান প্যাচান সিঁড়ি খুঁজছি যা বিরাট পাথরের আড়ালে চাপা দেয়া আছে? ল্যাংডনের মনে হয় সে অশরীরির পেছনে তাড়া করছে। যাই হোক, পিটারকে বাঁচাতে পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করা ছাড়া তার সামনে অন্য কোন পথ খোলা নেই।

    রবার্ট, ১৫১৪ সালটার কি অন্য কোন মানে আছে তোমার কাছে?

    পনের-চৌদ্দ? প্রশ্নটা তার কাছে মোটেই প্রাসঙ্গিক মনে হয় না। ল্যাংডন কাঁধ ঝাঁকায়। না, কেন?

    ক্যাথরিন পাথরের বাক্সটা তার দিকে এগিয়ে দেয়। দেখো। বাক্সটায় একটা তারিখ রয়েছে। আলোর নীচে এনে ভাল করে দেখো৷

    ল্যাংডন ডেস্কের সামনে বসে এবং চারকোণা বাক্সটা আলোর নীচে এনে ভাল করে পরীক্ষা করে। ক্যাথরিন তার কাঁধে হাত রেখে নীচের দিকে ঝুঁকে এসে বাক্সটার বাইরের দিকে তার খুঁজে পাওয়া ক্ষুদে লেখাটা দেখায়, একধারের একদম নীচে এককোণায় লেখা আছে।

    পনেরশো চৌদ্দ এ.ডি, সে বাক্সটার দিকে দেখিয়ে বলে।

    পনের-চৌদ্দ কথাটা খোদাই করা আছে নিঃসন্দেহে, তার পাশে এ আর ডি অক্ষরটা অপ্রচলিত একটা রীতিতে লেখা।

    এ আর ডি

    এই তারিখটা, ক্যাথরিনের কণ্ঠে সহসা আশার ঝলক ধ্বনিত হয়, হয়ত এটাই আমাদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া মিসিং লিঙ্ক? এই চারকোণা বাক্সটা দেখতে ম্যাসনদের সত্যিকারের ভিত্তিপ্রস্তরের মত? হয়ত ১৫১৪ সালে নির্মিত কোন ভবন?

    তার কথা ল্যাংডন শুনতেই পায় না।

    পনের-চৌদ্দ কোন সনতারিখ না।

    এ.ডি লেখা প্রতীকটা, প্রাচীন চিত্রকলায় বিশেষজ্ঞ মাত্রই চিনতে পারবে, একটা একটা খুবই পরিচিত সিড়গনেচার-সাক্ষরের বদলে ব্যবহৃত হওয়া প্রতীক। প্রাচীন দার্শনিক, লেখক আর শিল্পীদের অনেকেই তাদের নামের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব অনন্য প্রতীক বা মনোগ্রাম ব্যবহার করতেন। এই রীতি তাদের কাজে একটা রহস্যময় আঙ্গিক সৃষ্টি করতে আর তাদের লেখা বা শিল্পকর্ম রাজদ্রোহী বলে পরিগণিত হলে তাদের রাজরোষের হাত থেকে রেহাই দিত।

    এই সিগনেচারের ক্ষেত্রে, এ আর ডি অক্ষর এ্যানো ডোমিনো বোঝাচ্ছে না…তারা একেবারেই ভিন্ন একটা জার্মান অর্থ বোঝাচ্ছে।

    নিমেষের ভিতরে ল্যাংডনের চোখের সামনে সব বিক্ষিপ্ত টুকরো জোড়া লেগে যায়। কয়েক মুহূর্তের ভিতরে সে বুঝে ফেলে পিরামিডটার পাঠোদ্ধার কিভাবে করতে হবে। ক্যাথরিন কাজ করে দিয়েছো, সে ব্যাগের চেন বন্ধ করে উঠতে উঠতে বলে। এটাই আমাদের দরকার ছিল। এবার চলো কেটে পড়ি। আমি যেতে যেতে সব তোমাকে খুলে বলছি।

    ক্যাথরিনকে বিস্মিত দেখায়। ১৫১৪ সালের আসলেই অন্য কোন অর্থ আছে তোমার চোখে?।

    ল্যাংডন তার দিকে চোখ মটকে তাকিয়ে দরজার উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়। এ.ডি কোন সাল না ক্যাথরিন। এডি একজন লোকের নাম।

    .

    ৬৭ অধ্যায়

    দূতাবাস রোর পশ্চিমে, দেয়াল ঘেরা শ্যাডো হাউস গেজাবো আর বার শতকের গোলাপ বাগানে আবার নিরবতা এসে ভর করে। ভেতরে প্রবেশ পথের অন্য পাশে তরুণ যুবক তার কুঁজো হয়ে আসা প্রভুকে বাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে সাহায্য করে।

    সে হাঁটতে আমার সাহায্য নিচ্ছে?

    অন্ধলোকটা সাধারণত অন্য কারো সাহায্য নিতে চায় না, নিজের নিরাপদ আশ্রয়ে সে স্মৃতিতে ভর করে হেঁটে বেড়াতেই পছন্দ করে। আজ রাতে, অবশ্য ওয়ারেন বেল্লামির ফোন কলের উত্তর দেবার জন্য আপাত দৃষ্টিতে তাকে ভেতরে যাবার জন্য তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়।

    ধন্যবাদ, তার ব্যক্তিগত স্টাডি অবস্থিত যে ভবনে সেখানে প্রবেশের মুহূর্তে সে তরুণ সহকারীকে বলে। এখান থেকে আমি নিজে চিনে নিতে পারবো।

    স্যার, আমি থেকে সাহায্য করতে পারলে খুশী-

    আজ রাতে আর তোমার সাহায্যের প্রয়োজন হবে না, সহকারীর হাত ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ভেতরের অন্ধকারে এগিয়ে যেতে যেতে সে বলে। শুভ রাত্রি।

    তরুণ সহকারী ভবন থেকে বের হয়ে বাগান অতিক্রম করে তার একতলা আড়ম্বরহীন বাসস্থানের উদ্দেশ্যে হেঁটে চলে। বাসায় প্রবেশ করতে করতে তার ভিতরে কৌতূহলের স্রোত বাড়তে শুরু করে। মি. বোমির প্রশ্নটা শুনে বৃদ্ধ লোকটা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে…কিন্তু প্রশ্নটা এমন অদ্ভুত প্রায় অর্থহীন।

    বিধবার ছেলেকে সাহায্য করার জন্য কি কেউ এগিয়ে আসবে না?

    নিজের কল্পনার লাগাম ছেড়ে দিয়েও সে প্রশ্নটার কোন মানে খুঁজে পায় না। বিভ্রান্ত হয়ে সে কম্পিউটারের সামনে বসে পুরো প্রশ্নটা হুবহু লিখে সার্চ দেয়।

    তাকে বিস্মিত করে, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা রেফারেন্স সবগুলোতে একই প্রশ্নের উদ্ধৃতি রয়েছে, এসে হাজির হয়। সে অবাক হয়ে পড়তে থাকে। দেখা যায় ইতিহাসে ওয়ারেন বেল্লামিই প্রথম না যিনি এই আজব প্রশ্নটা করেছে। এই একই শব্দগুলো বহু শতাব্দি আগে উচ্চারণ করেছিল…মৃত বন্ধুর জন্য শোক প্রকাশরত সোলেমান বাদশা। বলা হয়ে থাকে ম্যাসনরা আজও এই প্রশ্নটা ব্যবহার করে থাকে, সাহায্যের সাঙ্কেতিক আবেদন হিসাবে প্রশ্নটা ব্যবহৃত হয়। দেখা যাচ্ছে ওয়ারেন বেল্লামি আরেকজন ম্যাসনের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছে।

    .

    ৬৮ অধ্যায়

    অ্যালব্রেখট ড্যুরের?

    এ্যাডামস ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে ল্যাংডনের সাথে দ্রুত হেঁটে যাবার ফাঁকে ক্যাথরিন টুকরোগুলো জোড়া দিতে চেষ্টা করে। এ.ডি র মানে অ্যালব্রেখট ডুরার? মোল শতকের খ্যাতনামা জার্মান চিত্রকর আর খোদাইকার তার ভাইয়ের প্রিয় শিল্পীদের একজন আর তার কাজের সাথে ক্যাথরিন সামান্য পরিচিত। তারপরেও সে ভেবেই পায় না ডুরার কিভাবে তাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করবে। তার উপরে প্রায় চারশো বছর ধরে সে মৃত।

    ড্যুরার প্রতীকিভাবে নিখুঁত, আলোকিত এক্সিট সাইন অনুসরণ করতে করতে ল্যাংডন বলে চলে। সে রেনেসাস মনের সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন- চিত্রকর, দার্শনিক, অ্যালকেমিস্ট এবং সারা জীবন প্রাচীন মরমীবাদের একনিষ্ট ছাত্র। আজ পর্যন্ত ডুরারের ছবির পুরোপুরি পাঠোদ্ধার কেউ করতে পারেনি।

    সেটা হয়ত সত্যি, ক্যাথরিন বলে। কিন্তু ১৫১৪ অ্যালব্রেখট ডুরার কিভাবে পিরামিড পাঠোদ্ধারে সহায়তা করবে।

    তারা একটা বন্ধ দরজার সামনে পৌঁছায় এবং ল্যাংডন বেল্লামির দেয়া কিকার্ড ব্যবহার করে বাইরে বের হয়ে আসে।

    ১৫১৪ সংখ্যাটা, সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উঠে আসতে আসতে ল্যাংডন বলতে থাকে, আমাদের রারের একটা বিশেষ কাজের দিকে ইঙ্গিত করছে। তারা একটা লম্বা করিডোরে এসে উপস্থিত হয়। ল্যাংডন চারপাশে দেখে নিয়ে বামদিকে নির্দেশ করে। তারা আবার দ্রুত এগিয়ে যায়। অ্যালব্রেখট ডুরার আসলে ১৫১৪ সংখ্যাটা তার সবচেয়ে রহস্যময় চিত্রকর্ম- Melencolia I– মাঝে লুকিয়ে রেখেছেন, ১৫১৪ সালে তিনি চিত্রকর্মটা সম্পন্ন করেন। এটাকে উত্তর ইউরোপের রেনেসাসের বীজগর্ভ চিত্রকর্ম বলা হয়।

    পিটার একবার ক্যাথরিনকে মেলেকলিয়া এক প্রাচীন মরমিবাদের একটা পুরানো বইয়ে দেখিয়েছিল যদিও সে কোন গোপন ১৫১৪ সংখ্যার কথা মনে করতে পারে না।

    তুমি হয়ত জানো, ল্যাংডন উত্তেজিত কণ্ঠে বলে, মেলেকলিয়া একে প্রাচীন মরমীবাদ অনুধাবনে মানবজাতির সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মেলেকলিয়া একের প্রতীকিবাদ এতটাই জটিল যে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চিত্রকর্ম এর কাছে খোলামেলা মনে হবে।

    ক্যাথরিন হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে ল্যাংডনের দিকে তাকায়। রবার্ট মেলানকলিয়া এক ওয়াশিংটনেই আছে। এটা ন্যাশনাল গ্যালারীতে প্রদর্শিত আছে।

    হ্যাঁ, সে হেসে উঠে বলে, আর আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ব্যাপারটা মোটেই কাকতালীয় না। গ্যালারী বন্ধ আর আমি এর কিউরেটরকে চিনি এবং

    ভুলে যাও, রবার্ট, তুমি জাদুঘরে গেলেই একটা না একটা ঝামেলা। বাধাও। ক্যাথরিন কাছেই একটা অ্যালক্লোভে রাখা কম্পিউটারের দিকে এগিয়ে। যেতে যেতে বলে।

    ল্যাংডন গোমড়া মুখে তাকে অনুসরণ করে।

    আমরা সহজ উপায়ে কাজটা করব। প্রফেসর ল্যাংডনকে দেখে মনে হবে এত কাছে মূল সংস্করণটা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের সহায়তা নেয়ায় সে নৈতিক বিড়ম্বনায় পড়েছে। ক্যাথরিন ডেস্কের কাছে গিয়ে কম্পিউটার চালু করে। কম্পিউটার চালু হতে দেখা যায় তার এবার অন্য একটা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কোন ব্রাউজারের আইকন নেই।

    এটা একটা আভ্যন্তরীণ লাইব্রেরী সেটওয়ার্ক, ল্যাংডন ডেস্কটপের একটা আইকনের দিকে ইঙ্গিত করে বলে। ওটা ক্লিক করে দেখো।

    ক্যাথরিন ডিজিটাল কালেকশনস লেখা একটা আইকন ক্লিক করে। কম্পিউটার একটা নতুন স্ক্রিনে অ্যাকসেস করে এবং ল্যাংডন এবার আরেকটা আইকন দেখায়। ক্যাথরিন আবার সেটা ক্লিক করে: ফাইন প্রিন্টস কালেকশন। স্ক্রিন রিফ্রেশ হয়। ফাইন প্রিন্টস : সার্চ।

    অ্যালব্রেখট ড্যুরার টাইপ কর।

    ক্যাথরিন কথামত কাজ করে। কয়েক সেকেণ্ডের ভিতরে স্ক্রিনে থাম্বনেইল ইমেজ ভেসে উঠতে শুরু করে। সবগুলো ইমেজই একই স্টাইলের বলে মনে হয়- দুর্বোধ্য সাদা কালো খোদাই। ডুরার আপাতভাবে কয়েক ডজন একই ধরণের খোদাইয়ের কাজ করেছেন।

    ক্যাথরিন বর্ণমালা অনুসারে তার শিল্পকর্মের তালিকা স্ক্যান করে।

    Adam and Eve
    Betrayal of christ
    Four Horsemen of the Apocalypse
    Great Passion
    Last Supper

    সব নাম বাইবেলসম্পর্কিত দেখে, ক্যাথরিনের মনে পড়ে ডুরার মরমী খ্রিস্টবাদ নামে কিছু একটার অনুসারী ছিল-প্রথম দিকের খ্রিস্টানধর্ম, অ্যালকেমী, জ্যোতির্বিদ্যা আর বিজ্ঞানের একটা সংমিশ্রণ।

    বিজ্ঞান…

    নিজের প্রজ্জ্বলিত গবেষণাগারের চিত্র তার মনে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের নানা দিক সম্বন্ধে সে ভাববার অবকাশ পায় না, কিন্তু এই মুহূর্তে সে কেবল তার সহকর্মীর জন্য চিন্তিত, ত্রিস। আশা করি সে বের হতে পেরেছে।

    ল্যাংডন ডুরারের লাস্ট সাপার নিয়ে কিছু একটা বলে কিন্তু ক্যাথরিন সেটা খেয়াল করে না। সে মেলানকলিয়া এক এর লিঙ্ক দেখতে পেয়েছে।

    সে মাউস ক্লিক করে এবং স্ক্রীনের সাধারণ তথ্য রিফ্রেশ হয়।

    Melencolia I, 1514
    Albrecht Durer
    (engraving on laid paper)
    Rosenwald Collection
    Natoonal Gallery of Art
    Washington, D.C

    সে স্ক্রল করে স্ক্রীনের নীচে নামতে, ডুরারের মাস্টারপীসের হাই-রেস ডিজিটাল ইমেজ নিজের সমস্ত মহিমা নিয়ে ভেসে উঠে।

    হতবিহ্বল চোখে ক্যাথরিন তাকিয়ে থাকে, সে ভুলেই গিয়েছিল ঠিক কতটা অদ্ভুত ছিল চিত্রকর্মটা।

    ল্যাংডন ব্যাপারটা বুঝে মুচকি হাসে। আমি আগেই বলেছি, এটা দুর্বোধ্য।

    মেলানকলিয়া একে একটা পাথরের ভবনের সামনে বিশাল পক্ষযুক্ত একটা প্রাণী-মূর্তি মনমরা বিষণ্ণ হয়ে বসে আছে আর তার চারপাশে কল্পনা করা যায় এমন অসম উদ্ভট জিনিসের একটা সমাহার- পরিমাপক স্কেল, হাড্ডিসার কুকুর, ছুতোরের যন্ত্রপাতি, বালিঘড়ি, বিভিন্ন ধরণের জ্যামিতিক ঘনবস্তু, একটা ঝুলন্ত ঘন্টা, একটা পুট্টো পক্ষযুক্ত নাদুসনুদুস শিশু, একটা মই আর একটা কাস্তে।

    ক্যাথরিনের আবছাভাবে মনে পড়ে তার ভাই বলেছিল পক্ষযুক্ত প্রাণী-মূর্তিটা আসলে মানুষের প্রতিভা উপস্থাপন করছে- মহান চিন্তাবিদ থুতনিতে হাত দিয়ে রয়েছে, তাকে বিষণ্ণ দেখায়, এখনও জ্ঞানের আলোর সন্ধান পায়নি। প্রতিভাটাকে ঘিরে রেখেছে তার মানবিক ধীশক্তির প্রতীক- বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, প্রকৃতি, জ্যামিতি, এমনকি সূত্রধর-এবং তারপরেও সে মই বেয়ে প্রকৃত আলোর কাছে পৌঁছাতে পারছে না। প্রাচীন রহস্যময়তা সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে মানুষের প্রতিভাও হিমশিম খেয়ে যায়।

    প্রতীকিভাবে, ল্যাংডন বলে, এটা মানুষের ধীশক্তিকে দেবতাসুলভ ক্ষমতায় রূপান্তরের ব্যর্থতা উপস্থাপন করছে। অ্যালকেমিস্টদের ভাষ্যমতে, এটা সীসাকে সোনায় রূপান্তরিত করতে আমাদের ব্যর্থতা বোঝায়।

    খুব একটা আশাব্যঞ্জক সংবাদ না, ক্যাথরিন মেনে নিয়ে বলে। তো এটা আমাদের কিভাবে সাহায্যে আসবে? সে গোপন ১৫১৪ সংখ্যাটা দেখতে পায়নি যার কথা ল্যাংডন বলছে।

    বিশৃঙ্খলা থেকে শৃঙ্খলা, কান পর্যন্ত হেসে ল্যাংডন বলে। ঠিক তোমার ভাই যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ম্যাসনিক গুপ্তলিপি থেকে সে আগে যে অক্ষরের গ্রিডটা কাগজে লিখেছিল সেটা পকেট থেকে বের করে। এখন পর্যন্ত এই গ্রিডটার কোন অর্থ নেই। সে ডেস্কের উপরে কাগজটা বিছায়।

    The-Lost-Symbol-50

    ক্যাথরিন গ্রিডটার দিকে তাকায়। অবশ্যই অর্থহীন।

    কিন্তু ডুরার এটা আমাদের জন্য রূপান্তরিত করবে।

    আর সে সেটা কিভাবে করবে?

    ভাষাতাত্ত্বিক অ্যালকেমী। ল্যাংডন কম্পিউটারের স্ক্রীনের দিকে ইশারা করে। ভাল করে খেয়াল কর। মাস্টারপীসের ভিতরে কিছু একটা লুকান রয়েছে। যা আমাদের মোলটা অক্ষরকে অর্থের ব্যঞ্জনা দেবে। সে অপেক্ষা করে। তুমি এখনও দেখতে পাওনি? ১৫১৪ সংখ্যাটা খুঁজে দেখো।

    ক্যাথরিন মোটেই বাল্যশিক্ষার মুডে নেই। রবার্ট আমি কিছুই দেখছি না। একটা গোলক, একটা মই, একটা চাকু, একটা বহুতলবিশিষ্ট ঘনক, একটা পরিমাপক স্কেল? আমার বুদ্ধিতে কুলাবে না।

    ঐ দেখো! পেছনের প্রেক্ষাপটে। দেবদূতের পেছনের ভবনটায় খোদিত রয়েছে? ঘন্টাটার ঠিক নীচে? ডুরার একটা বর্গক্ষেত্র এঁকেছে যার ভিতরে সংখ্যা গিজগিজ করছে।

    ক্যাথরিন এতক্ষণে সংখ্যা ভর্তি বর্গক্ষেত্রটা খুঁজে পায়, তাদের ভিতরে ১৫১৪ও রয়েছে।

    ক্যাথরিন ঐ বর্গক্ষেত্রটাই পিরামিডের পাঠোদ্ধারের সূত্র!

    সে তার দিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকায়।

    ঐটা কোন যে সে বর্গক্ষেত্র না কিন্তু, ল্যাংডন হাসতে হাসতে বলে। মিস. সলোমন ওটাকে ম্যাজিক স্ক্যোয়ার বলা হয়।

    .

    ৬৯ অধ্যায়

    তারা আমাকে কোথায় নিয়ে চলেছে? এইউভির পেছনে বেল্লামি এখনও চোখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। লাইব্রেরী অব কংগ্রেসের কাছে কোথাও সামান্যসময়ের জন্য যাত্রা বিরতির পরে, গাড়িটা আবার চলতে শুরু করেছে…কিন্তু সেটা কেবল এক মিনিটের জন্য। এখন এসইউভি এক ব্লক যেতে না যেতেই আবার দাঁড়িয়ে পড়েছে।

    বেল্লামি চাপা কণ্ঠে কাউকে কথা বলতে শোনে।

    দুঃখিত…অসম্ভব…কর্তৃত্বব্যঞ্জক কণ্ঠে কেউ কথা বলছে। …এই সময়ে বন্ধ থাকার কথা…

    গাড়িচালকও একই কর্তৃত্বের সুরে কথা বলে। সিআইএ তদন্ত…জাতীয় নিরাপত্তা…আপাতভাবে কথোপকথন আর আইডিতে কাজ হয়, কারণ সাথে সাথে গলার স্বর বদলে যায়।

    হ্যাঁ, অবশ্যই…সার্ভিস এনট্রেন্স…বেশ জোরে একটা গড়গড় শব্দ হয় মনে হয় কোন গ্যারেজের দরজা খোলার আওয়াজ এবং খোলর পরে কণ্ঠটা বলে, আমি কি আপনার সাথে আসব? আপনি ভিতরে প্রবেশ করতে, কিন্তু কোথাও যেতে পারবেন না

    না। ইতিমধ্যে আমাদের এ্যাকসেস দেয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা রক্ষী যদি বিস্মিতও হয়ে থাকে, সেটার জন্যও দেরী হয়ে গেছে। এসইউভি আবার চলতে শুরু করেছে। আরও প্রায় পঞ্চাশ গজ যাবার পরে গাড়িটা আবার থেমে যায়। ভারী দরজাটা গড়গড় শব্দ করে তাদের পেছনে বন্ধ। হয়ে যায়।

    নিরবতা।

    বেল্লামি টের পায় সে কাঁপছে।

    এসইউভির পেছনের হ্যাচ একটা বিকট শব্দে খুলে যায়। বেল্লামি তার কাঁধে একটা তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভব করে কেউ একজন তাকে বাহু ধরে টেনে বের করে তারপরে পায়ের উপরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কোন কথা না বলে, একটা বিশাল পেভমেন্টের উপর দিয়ে একটা জোরাল শক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। একটা অদ্ভুত মাটি মাটি গন্ধ সে পায় কিন্তু ঠিক মিলাতে পারে না। তাদের সাথে আরো কেউ একজন হাঁটছে, সে যেই হোক এখনও একটাও কথা বলেনি।

    তারা একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং বেল্লামি একটা ইলেকট্রনিক পিঙ শুনতে পায়। দরজাটা ক্লিক শব্দ করে খুলে যায়। বেল্লামির হাত ধরে তাকে কয়েকটা করিডোরের ভিতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সে টের পায় চারপাশের বাতাস উষ্ণ আর সেই সাথে আরো সেঁতসেঁতে হয়ে উঠেছে। কোন ইনডোর পুল হবে সম্ভবত? না। বাতাসের গন্ধটা ক্লোরিনের না…তারচেয়ে অনেকবেশী মাটি মাটি আর প্রাইমাল।

    কোন চুলায় এলাম রে বাবা! বেল্লামি জানে সে ক্যাপিটল ভবনের থেকে খুব বেশি হলে দুই এক ব্লক দূরে রয়েছে। তারা আবার থামে সে আবার একটা ইলেকট্রিক পিঙ আওয়াজ শুনতে পায়। এই দরজাটা একটা হিস শব্দ করে। খুলে। তারা পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে তাকে ভিতরে ঢুকালে নাকে পাওয়া গন্ধটা চেনার প্রশ্নই উঠে না।

    বেল্লামি এবার বুঝতে পারে তারা কোথায় এসেছে। হা ঈশ্বর! সে এখানে প্রায়ই আসে কিন্তু সার্ভিস এনট্রেন্স দিয়ে আসেনি কখনও। এই অসাধারণ কাঁচের ভবনটা ক্যাপিটল ভবন থেকে মাত্র তিনশ গজ দূরে অবস্থিত এবং বলা চলে ক্যাপিটল ভবনেরই একটা বর্ধিত অংশ। এই জায়গা আমি নিয়ন্ত্রণ করি! সে বুঝতে পারে ব্যাটারা তারই কি-ফব দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছে।

    শক্তিশালী হাত তাকে দরজা দিয়ে ভিতরে নিয়ে আসে, এবং একটা পরিচিত বাকান পথ দিয়ে হাটিয়ে নিয়ে চলে। ভারী, সাঁতসেঁতে উষ্ণতা সাধারনত আরামদায়ক বলেই তার কাছে এতদিন মনে হয়েছে। আজ রাতে, আমি ঘামছি।

    এখানে আমরা এসেছি কি করতে?!

    বেল্লামিকে সহসা থামিয়ে একটা বেঞ্চে বসিয়ে দেয়া হয়। শক্তিশালী লোকটা তার হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে সেটা এবার পেছনে বেঞ্চের সাথে আটকে দেয়।

    তুমি আমার কাছে কি চাও? বেল্লামি চিৎকার করে জানতে চায়, তার হৃৎপিণ্ড পাগলের মত স্পন্দিত হতে থাকে।

    সে কেবল একটা বুটের শব্দ চলে যেতে শুনে এবং কাঁচের দরজা পিছলে এসে বন্ধ হয়ে যায়।

    তারপরে আবার নিরবতা।

    মৃত্যুর মত নিরবতা।

    তারা আমাকে এখানে রেখে চলে গেছে?! বেল্লামি এবার আরও বেশি ঘামতে শুরু করে কারণ সে হাতের বাঁধন খোলার জন্য ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু করেছে।

    আমি চোখের পট্টিও খুলতে পারছি না?

    বাঁচাও! সে চিৎকার করে। কেউ আছো?

    সে আতঙ্কে চিৎকার করলেও, বেল্লামি ভাল করেই জানে তার গলার স্বর কেউ শুনতে পাবে না। এই বিশাল কাঁচের ঘরটা- যাকে সবাই জঙ্গল বলে-দরজা বন্ধ করলে একেবারে এয়ারটাইট অবস্থায় থাকে।

    তারা আমাকে জঙ্গলে রেখে গেছে, সে ভাবে। সকালের আগে কেউ আমাকে এখানে খুঁজে পাবে না।

    তখনই সে শব্দটা শুনতে পায়।

    খুব হাল্কা একটা শব্দ, কিন্তু সেটাই বেল্লামিকে আতঙ্কিত করে তোলে জীবনেও সে কোন শব্দ শুনে এতটা আতঙ্কিত হয়নি। নিঃশ্বাসের শব্দ। খুব কাছে।

    বেঞ্চে সে একা বসে নেই।

    একটা সালফার ম্যাচ হঠাৎ হিস শব্দে তার এত কাছে জ্বলে উঠে যে সে মুখে তার উত্তাপ অনুভব করে। বেল্লামি ভয়ে কুঁকড়ে যায়, সহজাত প্রবৃত্তির বশে হাতের বাঁধন ছেঁড়ার চেষ্টা করে।

    তারপরে, কোন জানান না দিয়ে একটা হাত সহসা তার মুখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে দেয়।

    তার সামনে জ্বলতে থাকা শিখাটা ইনউ সাটোর কালো চোখে প্রতিফলিত হয়, বেল্লামির মুখ থেকে ইঞ্চিখানেক দূরত্বে সে তার ঠোঁটে ঝুলতে থাকা সিগারেটে ম্যাচটা দিয়ে আগুন ধরায়।

    কাঁচের ছাদ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা চাঁদের আলোতে ক্রুদ্ধ চোখে সে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

    তো, মি. বেল্লামি, ম্যাচটা নিভাতে নিভাতে সাটো বলে। আমরা কোথা থেকে শুরু করতে পারি?

    .

    ৭০ অধ্যায়

    একটা ম্যাজিক স্ক্যোয়ার। ন্যূরারের খোদাইয়ে সংখ্যা লেখা বর্গক্ষেত্রটা চোখে পড়তে ক্যাথরিন মাথা নাড়ে। বেশির ভাগ লোকের মনে হবে ল্যাংডন পাগল হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ক্যাথরিন দ্রুত বুঝতে পারে সেই ঠিক।

    ম্যাজিক শব্দটা আসলে কোন আধ্যাত্মিক কিছু বোঝায় না সেটা গাণিতিক কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে- এটা এমনভাবে সাজান সংখ্যার একটা বর্গক্ষেত্র যে যেভাবেই যোগ করা হোক না কেন পাশাপাশি, লম্বালম্বি, আড়াআড়ি সবসময়ে যোগফল একই হবে। ভারত আর মিশরের গণিতবিদদের দ্বারা প্রায় চারহাজার বছর আগে আবিষ্কৃত ম্যাজিক স্ক্যোয়ারকে আজও অনেকে জাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করেন। ক্যাথরিন কোথায় যেন পড়েছে আজও অনেক ভারতীয় তাদের পূজার বেদীতে তিন-বাই-তিনের বিশেষ ম্যাজিক স্কোয়ার, যা তারা কুবেরের কলাম বলে অভিহিত করে থাকেন, এঁকে রাখেন। মূলত আধুনিক মানুষ যদিও ম্যাজিক স্ক্যোয়ারকে বিনোদন গণিতএর পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে কিছু মানুষ আজও নতুন ম্যাজিক্যাল বিন্যাস খুঁজে আজও তৃপ্তি লাভ করে।

    প্রতিভাবানদের জন্য সুকোডো।

    ক্যাথরিন দ্রুত ডুরারের বর্গটা বিশ্লেষণ করে, কয়েকটা রো আর কলামের যোগফল বের করে।

    The-Lost-Symbol-70

    চৌত্রিশ, সে বলে। যেভাবেই যোগ করা হোক যোগফল চৌত্রিশ হবে।

    ঠিক তাই, ল্যাংডন বলে। কিন্তু তুমি কি এটা জানো যে এই ম্যাজিক স্কোয়ার বিখ্যাত কারণ ডুরার আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল? সে দ্রুত ক্যাথরিনকে দেখায় রো, কলাম আর আড়াআড়িভাবে যোগ করে চৌত্রিশ পাওয়া ছাড়াও, ডুরার সংখ্যাগুলোর বিন্যাস এমনভাবে করেছিলেন যে পাশাপাশি যেকোন চারটা সংখ্যার যোগফল চৌত্রিশ হবে। যদিও সবচেয়ে অবাক করার মত ব্যাপার হল, ডুরার ১৫ আর ১৪ সংখ্যা দুটোকে নিচের সারিতে পাশাপাশি রেখে পুরো বর্গক্ষেত্রটা বিন্যাস করেছেন যা সেই বছর নির্দেশ করে যে বছর তিনি এই অবিশ্বাস্য কীর্তি অর্জন করেছিলেন।

    ক্যাথরিন আবার সংখ্যাগুলোর দিকে তাকায় এবং তাদের বিন্যাস দেখে মুগ্ধ হয়।

    ল্যাংডনের কণ্ঠস্বর এখন আরো উত্তেজিত শোনায়। অসাধারণভাবে, মেলানকলিয়া এক এই প্রথম ইউরোপিয়ান চিত্রকলায় ম্যাজিক স্ক্যোয়ারের আর্বিভাব হয়। কিছু ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন যে প্রাচীন রহস্যময়তা যে মিশরীয় মিস্ট্রি স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে ইউরোপীয় গোপন চক্রের কুক্ষিগত হয়েছে। ভরার সেটাই সাঙ্কেতিকভাবে এখানে বর্ণনা করেছেন। ল্যাংডন থামে। যা আমাদের আমার…এখানে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

    সে পাথরের পিরামিড থেকে পাওয়া বর্ণমালার গ্রিডের দিকে ইঙ্গিত করে।

    The-Lost-Symbol-50

    আমি ধরে নিচ্ছি বিন্যাসটা এখন পরিচিত মনে হচ্ছে? ল্যাংডন বলে।

    চার-বাই-চার বর্গ।

    ল্যাংডন একটা পেনসিল নিয়ে বর্ণের বর্গক্ষেত্রের ঠিক পাশেই ভূরারের সংখ্যার বর্গটা লিখতে শুরু করে। ক্যাথরিন দেখে পুরো ব্যাপারটা এখন কত সহজ মনে হচ্ছে। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে পেনসিল ধরা এবং তারপরেও…বিচিত্র কারণে এত উৎসাহ দেখাবার পরেও তাকে ইতস্তত করতে দেখা যায়।

    রবার্ট?

    সে তার দিকে তাকায়, তার অভিব্যক্তিতে কেমন একটা সচকিত ভাব। তুমি নিশ্চিত আমরা কাজটা করতে চাই: পিটার কিন্তু স্পষ্ট করে।

    রবার্ট, যদি তুমি চিত্রলেখটার পাঠোদ্ধার না কর তবে আমি করবো। সে পেনসিলটা নেবার জন্য হাত বাড়ায়।

    ল্যাংডন বুঝতে পারে ক্যাথরিনকে থামান যাবে না, আর তাই সে সম্মত হয়, পিরামিডের দিকে আবার মনোযোগ দেয়। সতর্কতার সাথে সে ম্যাজিক স্কোয়ারের গ্রিডটা পিরামিডের বর্ণের গ্রিডের উপরে মাপমত বসায় এবং প্রতিটা বর্ণ এখন একটা করে সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরে সে একটা নতুন গ্রিড তৈরী করে, ডুরারের ম্যাজিক স্ক্যোয়ারের ক্রম অনুসারে ম্যাসনিক গুপ্তলিপির অক্ষরগুলোকে নতুনভাবে সাজায়।

    ল্যাংডন লেখা শেষ করলে, তারা দুজনেই ফলাফল পরীক্ষা করে দেখে।

    The-Lost-Symbol-70.2

    ক্যাথরিন সাথে সাথে বিভ্রান্ত বোধ করে। এখনও হিবিজিবি।

    ল্যাংডন অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে। ক্যাথরিন এটা আসলে হিবিজিবি। তার চোখে আবার আবিষ্কারের উত্তেজনা ঝলসে উঠে। এটা ল্যাটিন…

    .

    একটা লম্বা অন্ধকার করিডোর দিয়ে বুড়ো অন্ধ একটা লোক তার পক্ষে যতটা দ্রুত সম্ভব তার অফিসের দিকে হেঁটে যায়। শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছালে, সে তার ডেস্ক চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়ে, তার বুড়ো হাড় ছুটি পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানায়। তার অ্যানসারিং মেশিন বিপ বিপ শব্দ করে। সে বাটন চেপে ম্যাসেজটা শুনে।

    ওয়ারেন বেল্লামি বলছি, তার বন্ধু এবং ম্যাসনিক গুরুভাই চাপা স্বরে বলে। আমি দুঃখিত আমার কাছে খারাপ খবর আছে…

    ক্যাথরিন সলোমনের চোখ আবার বর্ণের গ্রিডের দিকে তাকায়, পুনরায় টেক্সটা পর্যবেক্ষণ করে। এবার নিশ্চিতভাবেই একটা ল্যাটিন শব্দ তার সামনে ফুটে উঠে। জিহোভা।

    The-Lost-Symbol-70.2

    ক্যাথরিন ল্যাটিন জানে না, কিন্তু প্রাচীন হিব্রু পাণ্ডুলিপি পাঠ করার কারণে এই শব্দটা তার পরিচিত। জেহোভা। জিহোভাহ। তার চোখ ধীরে নীচের দিকে। নামতে থাকে গ্রিডটা সে বইয়ের মত পড়তে থাকে, সে অবাক হয়ে উপলব্ধি করে সে পিরামিডের পুরো লেখাটা পড়তে পারছে।

    Jeova Sanctus Unus.

    সে সাথে সাথে এর মানেটা বুঝতে পারে। হিব্রু স্ক্রিপচারের আধুনিক অনুবাদে এই বাগধারাটা সব জায়গাতেই দেখা যায়। তোরাহতে, হিব্রুদের ঈশ্বরকে নানা নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে- জেহোভা, জিহোভাহ, জেশুয়া, ইয়াইওয়ে, দি সোর্স, দি এলোহিম- কিন্তু অসংখ্য রোমান অনুবাদে এই বিভ্রান্ত কারী পরিভাষাকে একটা ল্যাটিন বাগধারায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়: Jeova Sanctus Unus.

    একমাত্র সত্যিকারের ঈশ্বর? সে ফিসফিস করে নিজেকেই বলে। বাগধারাটা নিশ্চিতভাবেই এমনকিছু বোঝায় না যা দিয়ে তার ভাইকে খুঁজে বের করতে সাহায্য হবে। এটাই পিরামিডের গোপন বার্তা? একমাত্র সত্যিকারের। ঈশ্বর? আমি এটাকে একটা ম্যাপ মনে করেছিলাম।

    ল্যাংডনকেও বিভ্রান্ত দেখায়, তার চোখ থেকে উত্তেজনার বাষ্প উবে গেছে। পাঠোদ্ধারে নিশ্চিতভাবেই কোন গলদ নেই, কিন্তু…

    যে লোকটা আমার ভাইকে বন্দি করে রেখেছে সে একটা অবস্থান জানতে চায়। সে কানের পেছনে চুলের গোছা গুঁজে রাখে। এটা তাকে খুব একটা। আনন্দিত করবে না।

    ক্যাথরিন, ল্যাংডন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে। আমি এই ভয়টাই করছিলাম। সারা রাত আমরা রূপক আর কিংবদন্তিকে বাস্তব বলে ভেবে এসেছি। হয়ত এই লেখাটা কোন রূপক অবস্থানে দিকে ইঙ্গিত করে বলতে চায় মানুষের সত্যিকারের সম্ভাবনা কেবল একমাত্র সত্যিকারের ঈশ্বরের কাছে সমর্পনের মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে।

    কিন্তু এর কোন অর্থ হয় না! ক্যাথরিন বলে, হতাশায় তার চোয়াল চেপে বসেছে। আমার পরিবার এই পিরামিডটা বংশ পরম্পরায় রক্ষা করে আসছে। একমাত্র সত্যিকারের ঈশ্বর? এটাই গোপনীয়তা? আর সিআইএ কিনা এটাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে ভাবছে? হয় তারা মিথ্যা কথা বলছে নতুবা কিছু একটা আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে!

    ল্যাংডন সম্মতি জানিয়ে কাঁধ ঝাঁকায়।

    ঠিক তখনই, তার ফোন বাজতে শুরু করে।

    .

    পুরানো বইয়ে বোঝাই একটা অফিসে, বুড়ো মানুষটা ডেস্কের উপরে ঝুঁকে আর্থরাইটিক হাতে ফোনের রিসিভারটা আঁকড়ে ধরে আছে।

    ফোন বাজতেই থাকে।

    অবশেষে একটা সন্দিগ্ধ কণ্ঠ ভেসে আসে। হ্যালো? মন্দ্র কিন্তু অনিশ্চিত একটা কণ্ঠস্বর।

    বুড়ো লোকটা ফিসফিস করে, আমাকে বলা হয়েছে তোমার শরণ দরকার।

    ফোনের অন্যপ্রান্তের লোকটা যেন চমকে উঠে। কে কথা বলছেন? ওয়ারেন বেল্লামি কি

    অনুগ্রহ করে কারো নাম উল্লেখের প্রয়োজন নেই, বুড়ো মানুষটা বলে। আমাকে শুধু বলেন আপনার কাছে গচ্ছিত রাখা ম্যাপটা আপনি এখনও আগলে রেখেছেন কিনা?

    একটা বিস্মিত বিরতি। হ্যাঁ…কিন্তু আমার মনে হয় না সেটার কোন প্রয়োজন আছে। এটা খুব বেশি কিছু বলে না। এটা যদি কোন ম্যাপ হয়ে থাকে। তবে রূপক বলেই বেশি মনে হচ্ছে-

    না, ম্যাপটা খুবই বাস্তব, আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি। আর সেটা একটা খুবই বাস্তব অবস্থান নির্দেশ করে। এই জিনিসটাকে নিরাপদে রাখতে হবে। এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আর নতুন করে আমার বলবার প্রয়োজন নেই। আপনাকে ধাওয়া করা হচ্ছে, কিন্তু আপনি যদি কোনমতে সবার চোখ এড়িয়ে আমার অবস্থানে আসতে পারেন, আমি আপনাকে আশ্রয় দিতে পারব…এবং উত্তর।

    লোকটা ইতস্তত করে, স্পষ্টতই অনিশ্চিত।

    বন্ধু আমার, বুড়ো লোকটা এবার মেপে মেপে কথা বলে। টিবার নদীর উত্তরে রোমে একটা আশ্রয়, যেখানে ছিল সিনাই পাহাড়ের দশটা পাথর, যার ভিতরে একটা পাথর স্বর্গের এবং আরেকটায় লুকের কৃষ্ণ বাবার মুখাবয়ব অঙ্কিত ছিল। আমার অবস্থান কি তুমি জান?

    অনেকক্ষণ অন্যপ্রান্ত চুপ করে থাকে, তারপরে লোকটা উত্তর দেয়, হ্যাঁ, আমি জানি।

    বুড়ো লোকটা হাসে। আমি ভেবেছিলাম তুমি জানবে, প্রফেসর। এখনই চলে আস। আর সাবধান কেউ যেন তোমাকে অনুসরণ না করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির ধর্মচিন্তা : প্রাচীনকাল থেকে সাম্প্রতিককাল – মোহাম্মদ আবদুল হাই
    Next Article রক্তাক্ত প্রান্তর – মুনীর চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }