Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্যা লস্ট সিম্বল – ড্যান ব্রাউন

    ওমর ফারুক এক পাতা গল্প734 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. ক্যাথিড্রাল কলেজের ভিতরে

    ৯১ অধ্যায়

    ক্যাথিড্রাল কলেজের ভিতরে, বেসমেন্টের সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত উপরে উঠে আসে এবং অন্ধকার হলওয়ে দিয়ে এগিয়ে যায় সামনের সদর দরজা খুঁজতে খুজতে। মাথার উপরে হেলিকপ্টারের ডানার আওয়াজ তারা শোনে এবং ল্যাংডন আশাবাদী হয়ে উঠে সবার চোখ এড়িয়ে এখান থেকে বের হয়ে ক্যালোরমা হাইটসে গিয়ে পিটারের সাথে দেখা করার বিষয়ে।

    তারা তাকে খুঁজে পেয়েছি। সে বেঁচে আছে।

    ত্রিশ সেকেণ্ড আগে মহিলা নিরাপত্তা কর্মীর সাথে কথা বলে যখন টেলিফোনের রিসিভার নামিয়ে রাখে, ক্যাথরিন তখন তাড়াহুড়ো করে পিরামিড আর তার শিরোশোভাটা পানি থেকে তুলে নেয়। ল্যাংডনের চামড়ার ব্যাগে রাখার সময়ে পিরামিডটা থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ছিলো। এখন সে টের পায় চামড়ার ভিতর দিয়ে উত্তাপ বিকিরিত হচ্ছে।

    পিটারের উদ্ধারের উত্তেজনায় শিরোশোভার জ্বলজ্বল করতে থাকা লেখা নিয়ে চিন্তাভাবনা আপাতত চাপা পড়ে গিয়েছে-আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার- কিন্তু একবার পিটারের সাথে দেখা হলে সে বিষয়ে ভাববার অনেক সময় পাওয়া যাবে।

    সিঁড়ির মাথায় পৌঁছে বাঁক ঘুরেই ক্যাথরিন থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং হলের অন্যপ্রান্তে একটা বসার ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে। বে-উইনডোর ভিতর দিয়ে। ল্যাংডন দেখে একটা কালো ঝকঝকে চেহারার হেলিকপ্টার বাগানের লনে বসে আছে। পাইলট কেবল পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রেডিওতে কথা বলছে। একটা কালো টিনটেড কাঁচের এসকালেডও পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

    ছায়ার ভিতর দিয়ে এগিয়ে এসে তারা বসার ঘরে প্রবেশ করে এবং জানালা। দিয়ে উঁকি দিয়ে ফিল্ড টিমের বাকী সদস্যদের অবস্থান জানার চেষ্টা করে। ন্যাশনাল ক্যথিড্রালের বিশাল লন খালি দেখে তারা ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেয়।

    তারা নিশ্চয়ই ক্যাথিড্রালের ভিতরে রয়েছে, ল্যাংডন বলে। তারা সেখানে নেই, তার পেছন থেকে কেটা ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।

    ল্যাংডন আর ক্যাথরিন চর্কির মত ঘুরে দাঁড়ায় কে কথা বলছে দেখতে। বসার ঘরের দরজায় কালো পোশাক পরিহিত দুজন এজেন্ট তাদের দিকে রাইফেলের লেজার সাইট তাক করে রেখেছে। ল্যাংডন তার বুকে মৃত্যুর লাল ফুটকি নাচতে দেখে।

    প্রফেসর, আপনার সাথে আবার দেখা হতে আমি আনন্দিত, একটা পরিচিত ক্যাটকেটে কণ্ঠ বলে। এজেন্ট দুজন সরে জায়গা করে দিলে তাদের। ভিতর দিয়ে ডিরেকটর সাটো সাবলীলভাবে বেরিয়ে আসে এবং বসার ঘর। অতিক্রম করে ঠিক ল্যাংডনের সামনে এসে দাঁড়ায়। আজ রাতে আপনি ক্রমাগতভাবে ভুল কাজ করে চলেছেন।

    পুলিশ পিটার সলোমনকে খুঁজে পেয়েছে, ল্যাংডন জোর দিয়ে বলে। তার অবস্থা শোচনীয় কিন্তু এ যাত্রা বেঁচে যাবে। সব চুকেবুকে গেছে।

    পিটারকে খুঁজে পাওয়া গেছে শুনে সাটো যদি অবাক হয়েও থাকে সে সেটা প্রকাশ করে না। তার পলকহীন চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রফেসর, আমি তোমাকে নিশ্চিত করতে পারি, এখনও কিছুই শেষ হয়নি। এবং পুলিশ যদি এখন এর সাথে জড়িয়ে থাকে তবে ব্যাপারটা আরো গুরুতর আঁকার ধারণ করেছে। আজ সন্ধ্যাবেলা আমি আপনাকে বলেছিলাম, পরিস্থিতি খুব জটিল। পিরামিডটা নিয়ে আপনার বাদরের মত পালিয়ে যাওয়াটা মোটেই উচিত হয়নি।

    ম্যাম, ক্যাথরিন কথা বলে উঠে, আমি আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাই। পিরামিডটা আপনি রাখতে পারেন কিন্তু আপনি অবশ্যই আমাদের-

    আমি অবশ্যই? সাটো ক্ষেপে গিয়ে ক্যাথরিনের দিকে তাকায়। মিস.সলোমন, আমার ভুল না হয়ে থাকলে? চোখে আগুন জ্বালিয়ে সে তার দিকে তাকিয়ে থেকে আবার ল্যাংডনের দিকে ফিরে। চামড়ার ব্যাগটা টেবিলের উপরে রাখো।

    ল্যাংডন তার বুকের এবার দুটো ফুটকি দেখে। সে কফি টেবিলের উপরে ব্যাগটা নামিয়ে দেয়। এজেন্টদের একজন সাবধানে এগিয়ে আসে এবং চেন খুলে ভেতর দিকে টুকরো দুটো বের করে। আটকে পড়া বাষ্পের মেঘ এঁকেবেঁকে বেরিয়ে আসে। সে তার লাইট ব্যাগের ভিতরে নিশানা করে, বিভ্রান্ত হয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপরে সাটোর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ে।

    সাটো এগিয়ে এসে ব্যাগের ভিতরে দেখে। ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় ভেজা পিরামিড আর সোনার শিরোশোভা চকচক করে। সাটো এবার ঝুঁকে এসে খুব। কাছ থেকে সোনার শিরোশোটা দেখে, ল্যাংডন বুঝতে পারে সে আগে কেবল এক্স-রেতে শিরোশোভাটা দেখেছে।

    লেখাটা, সাটো জানতে চায়। তোমার কাছে কি এটা অর্থবোধক? অর্ডারের ভিতরে রহস্য লুকিয়ে আছে?

    আমরা ঠিক নিশ্চিত নই, ম্যাম।

    পিরামিডটা এত উত্তপ্ত কেন?

    আমরা ফুটন্ত পানিতে এটা রেখেছিলাম, ক্যাথরিন কোন ধরণের ইতস্তত করে বলে। গুপ্তলিপির পাঠোদ্ধারের একটা পদ্ধতি। আমরা তোমাকে সব বলবো কিন্তু আগে আমার ভাইয়ের কাছে যেতে দাও। সে অনেক কিছুর ভিতর দিয়ে

    তুমি পিরামিডটা পানিতে ফুটিয়েছো? সাটো জানতে চায়।

    ফ্ল্যাশলাইটটা বন্ধ কর, ক্যাথরিন বলে। এবার শিরোশোভার দিকে তাকাও। এখনও সম্ভবত দেখতে পাবে।

    এজেন্ট আলো নিভিয়ে দেয় এবং সাটো হাঁটু ভেঙে শিরোশোভার সামনে বসে। ল্যাংডন যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখান থেকেই সে দেখতে পায় এখনও শিরোশোভার লেখাটা থেকে সামান্য আভা ছড়াচ্ছে।

    আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার? সাটো মুগ্ধ কণ্ঠে বলে।

    হ্যাঁ, ম্যাম। লেখাটা কোন ধরণের ভাস্বর ল্যাকারে বা সেরকম কিছু ব্যবহার করে লেখা হয়েছে। তেত্রিশ ডিগ্ৰী আসলে-

    আর ঠিকানাটা? সাটো জানতে চায়। এটাই কি বেজন্মা উন্মাদটা চাইছে?

    হ্যাঁ, ল্যাংডন বলে। তার বিশ্বাস পিরামিডটা একটা ম্যাপ যা তাকে একটা গুপ্তধনের অবস্থানের সন্ধান দেবে-প্রাচীন রহস্যময়তা অবারিত করার চাবি।

    সাটো আবার শিরোশোভার দিকে তাকায় তার চেহারায় অবিশ্বাসের ছাপ। আমাকে একটা কথা বল, সে বলে, তার কণ্ঠে ভয়ের সমাগত ছায়া, তোমরা এই লোকের সাথে কি এরই ভিতরে যোগাযোগ করেছে? তাকে কি ঠিকানাটা ইতিমধ্যে দিয়ে ফেলেছো?

    আমরা চেষ্টা করেছিলাম, ল্যাংডন ব্যাখ্যা করে লোকটার সেলফোনে ডায়াল করার পরে কি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

    সাটো মন দিয়ে শোনে তারপরে নিজের হলুদ দাঁতের উপর জিহ্বা বুলিয়ে নিয়ে কথা বলে। তার চেহারায় যদিও পরিস্থিতির চাপে ক্রোধে ফেটে পড়ার লক্ষণ সে তার এজেন্টের দিকে তাকিয়ে চাপা কণ্ঠে ফিসফিস করে কথা বলে। তাকে ভেতরে পাঠাতে বল। সে এসইউভির ভেতর আছে।

    এজেন্ট মাথা নাড়ে এবং নিজের ট্রান্সসিভারে কথা বলে।

    কাকে ভিতরে পাঠাবে? ল্যাংডন জিজ্ঞেস করে।

    একমাত্র ব্যক্তি যে তোমার সৃষ্টি করা ঝামেলা সামলাবার ক্ষমতা রাখে!

    কিসের ঝামেলা? ল্যাংডন পাল্টা চেঁচিয়ে উঠে। পিটার এখন নিরাপদ, সবকিছু–

    যীশুর দিব্যি, সাটো বিস্ফোরিত হয়। এর সাথে পিটারের সম্পর্ক খুবই সামান্য! প্রফেসর তোমায় ক্যাপিটল ভবনে আমি এটা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার সাথী না হয়ে আমার প্রতিপক্ষ হবে বলে পণ করে বসেছিলে! আর এখন তুমি অসুরিক একটা ঝামেলা বাধিয়েছো! তুমি যখন তোমার সেলফোন নষ্ট কর, যা, প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমরা ট্র্যাক করছিলাম তুমি এই লোকের সাথে। যোগাযোগের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আর এই ঠিকানা যা তুমি আবিষ্কার করেছো- কুবেরের ধন থাকুক সেখানে এই ঠিকানাটাই আমাদের একমাত্র সুযোগ এই হাড়হারামী উন্মাদটাকে ধরার। আমি চাই তুমি তার কথামত রাজি হবে ঠিকানাটা তাকে দেয়ার জন্য যাতে আমরা জানতে পারি কোথায় গেলে। তাকে মওকামত পাওয়া যাবে।

    ল্যাংডন কিছু বলবার আগেই সাটো তার বাকী ক্ষোভ ক্যাথরিনের উপর নিক্ষেপ করে।

    আর তুমি, মিস,সলোমন! তুমি জানতে এই পাগলাটা কোথায় বাস করে? আমাকে কেন সেটা জানাওনি? তুমি এক ভাড়াটিয়া নটবর পাঠিয়েছে এই লোকের বাসায়? তোমার মাথায় কি একবারও আসেনি যে তুমি তাকে সেখানে ধরবার সুযোগ নষ্ট করছো? আমি কৃতজ্ঞ যে তোমার ভাই নিরাপদ আছে, কিন্তু তোমাকে একটা কথা জানিয়ে রাখি আজ রাতে আমরা যে বিপর্যয় মোকাবেলা করছি সেটার শাখা প্রশাখা তোমার পরিবার ছাড়াও আরও অনেক দূর অব্দি বিস্তৃত। যে লোকটা তোমার ভাইকে অপহরণ করেছে সে অমিত ক্ষমতাশালী এবং অতিসত্ত্বর তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

    তার ক্রোধের উদগীরণ শেষ হতে ওয়ারেন বেল্লামির লম্বা মার্জিত ছায়ামূর্তি অন্ধকারের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে বসার ঘরে পা রাখে। তাকে বিধ্বস্ত, বিচলিত আর উদভ্রান্ত দেখায়…যেন এইমাত্র সে নরক দর্শন করে এসেছে।

    ওয়ারেন, ল্যাংডন উঠে দাঁড়িয়ে বলে। তুমি ঠিক আছো?

    না, সে বলে। আসলে একেবারেই না। তুমি কি শুনেছো? পিটার নিরাপদ আছে?

    বেল্লামি মাথা নাড়ে, তাকে স্তম্ভিত দেখায়, যেন সেটা এখন কোন বিষয় না। হ্যাঁ, আমি এইমাত্র তোমার কথোপকথন শুনেছি। আমি কৃতজ্ঞ।

    ওয়ারেন, এসব কি হচ্ছে?

    সাটো এবার লাগাম তুলে নেয়। তোমরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় পরেও করতে পারবে। এখন, মি. বেল্লামি নিজে থেকে এই উন্মাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। ঠিক যেমন সে আজ সারারাত করেছে।

    ল্যাংডন হতবাক হয়ে যায়। বেল্লামি আজ রাতে এই লোকের সাথে মোটেই যোগাযোগ করেনি! এই লোকটা জানেও না সম্ভবত যে বেল্লামি জড়িত।

    সাটো ভ্রু তুলে বেল্লামির দিকে তাকায়।

    বেল্লামি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। রবার্ট আমি দুঃখিত আজ সন্ধ্যাবেলা আমি তোমাকে সব সত্যি কথা বলিনি।

    ল্যাংডন ফ্যালফ্যাল করে কেবল তাকিয়ে থাকে।

    আমার মনে হয়েছিল আমি ঠিক কাজটাই করছি…বেল্লামি বলে তাকে কেমন ভীত দেখায়।

    বেশ, সাটো বলে, এখন তুমি ঠিক কাজটাই করবে…এবং আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব তাতে যেন কাজ হয়। সাটোর অশুভ কণ্ঠস্বরের মাত্রাকে জোরাল করতেই কোথাও ঘড়িতে প্রহর শেষের ঘন্টা ধ্বনি শুরু হয়। সাটো আলামত সংগ্রহের জিপলক ব্যাগ বের করে বোমির দিকে ছুঁড়ে দেয়। এখানে, তোমার জিনিসপত্র। তোমার সেলফোনে কি ছবি তোলা যায়?

    হ্যাঁ, যায়।

    বেশ, শিরোশোভাটা তুলে ধর।

    .

    মাল’আখ এইমাত্র যে ম্যাসেজটা পেয়েছে সেটা তার সংযোগকারী লোকের কাছ থেকে এসেছে- ওয়ারেন বেল্লামি- যাকে সে আজ রাত শুরু হবার সময় ক্যাপিটল ভবনে সে পাঠিয়েছিল রবার্ট ল্যাংডনকে সহায়তা করতে। বেল্লামিও ল্যাংডনের মত পিটারকে জীবিত ফিরে পেতে ইচ্ছুক এবং মাল’আখকে নিশ্চিত করেছে সে ল্যাংডনকে পিরামিডটা ফিরে পেতে এবং পাঠোদ্ধারে সহায়তা করবে। সারারাত, সে ই-মেইল আপডেট পেয়েছে যা তার সেলফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এটা চিত্তাকর্ষক হতে পারে, মাল’আখ ম্যাসেজটা ওপেন করার সময়ে ভাবে।

    প্রেরক: ওয়ারেন বেল্লামি

    ল্যাংডন থেকে আলাদা হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু অবশেষে তোমার দাবীকৃত তথ্য লাভ করেছি। প্রমাণ সংযুক্ত রয়েছে। নিখোঁজ অংশের জন্য যোগাযোগ কর।

    -ওবি

    -ওয়ান অ্যাটাচমেস্ট (জেপিইজি)-

    নিখোঁজ অংশের জন্য যোগাযোগ? মাল’আখ ভাবতে ভাবতে অ্যাটাচমেন্ট খুলে।

    অ্যাটাচমেন্ট একটা ফটো।

    মাল’আখ সেটা ভাল করে দেখে জোরে শ্বাস নেয় এবং টের পায় উত্তেজনায় তার হৃৎপিণ্ড পাগলের মত স্পন্দিত হতে শুরু করেছে। সে একটা ক্ষুদে সোনার পিরামিডের দিকে তাকিয়ে আছে। কিংবদন্তির শিরোশোভা! অলঙ্কৃত খোদাই

    একটা প্রতিশ্রুতির বাণী: দি সিক্রেট হাইডস উইথইন দি অর্ডার।

    ইনষ্ক্রিপশনের নীচে, মাল’আখ কিছু একটা দেখে যা তাকে বিস্মিত করে। শিরোশোভাটা দেখে মনে হয় আভা ছড়াচ্ছে। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে সে হাল্কা দীপ্তিমান লেখাটার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং উপলব্ধি করে কিংবদন্তিটা আক্ষরিক অর্থেই সত্য। ম্যাসনিক পিরামিড নিজেকে রূপান্তরিত করে কেবল জ্ঞানীর কাছেই নিজের রহস্য প্রকাশ করে।

    মাল’আখের কোন ধারণা নেই, এই জাদুকরী রূপান্তর কিভাবে সংঘটিত হয়েছে, আর সেটা নিয়ে সে পরোয়া করে না। দীপ্তিমান লেখাটা ডি.সির একটা। নির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করছে ঠিক যেমনটা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার। দুর্ভাগ্যবশত শিরোশোভার ছবিটায় বেল্লামির তর্জনী শিরোশোভার উপরে এমন সুকৌশলে স্থাপিত যে তথ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ তার নীচে চাপা পড়ে আছে।

    রহস্য
    লুকিয়ে আছে
    ট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার
    অর্ডারের ভিতরে

    নিখোঁজ অংশের জন্য যোগাযোগ কর, মাল’আখ এবার বেল্লামির কথার অর্থ বুঝতে পারে।

    ক্যাপিটলের স্থপতি সারারাতই তার সাথে সহযোগিতা করে আসলেও, এখন সে একটা খুবই বিপজ্জনক খেলা খেলবে বলে মনোস্থির করেছে।

    .

    ৯২ অধ্যায়

    কয়েকজন অস্ত্রধারী সিআইএ এজেন্টের সতর্ক প্রহরায় সাটো, ল্যাংডন, বেল্লামি আর ক্যাথরিন ক্যাথিড্রাল কলেজের বসার ঘরে অপেক্ষা করে। তাদের সামনের কফি টেবিলে উপরে, ল্যাংডনের চামড়ার ডেব্যাগটার মুখ এখনও ভোলা আর। ভেতর থেকে সোনার শিরোশোভার শীর্ষদেশ উঁকি দিচ্ছে। আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার এখন মিলিয়ে গিয়েছে, এখন দেখলে বোঝা অসম্ভব যে সেখানে কখনও কিছু লেখা ছিল।

    ক্যাথরিন সাটোর কাছে অনুরোধ করে ভাইকে দেখতে যাবার জন্য কিন্তু কেবল মাথা নেড়ে তার আবেদন নাকচ করে দিয়ে একদৃষ্টিতে বেল্লামির সেলফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। সেলফোনটা কফি টেবিলের উপরে রাখা এবং তাতে এখনও কাঙ্ক্ষিত রিং শোনা যায়নি।

    বেল্লামি আমাকে সত্যি কথা বলে দিলেই পারতো? ল্যাংডন ভাবে। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে সারা রাতই পিটারের অপহরণকারীর সাথে তার যোগাযোগ ছিল, তাকে সে আশ্বাসবাণী বারবার পাঠিয়েছে ল্যাংডন পিরামিডের পাঠোদ্ধার করছে বলে। পুরোটাই ধাপ্পা ছিল, পিটারের জন্য সময় কেনার প্রয়াসে। বস্তুত, বেল্লামি ঠিক তার উল্টোটা করেছে কেউ পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করলেই সে ভেজাল বাধিয়েছে। অবশ্য এখন বোঝা যাচ্ছে কোন কারণে বেল্লামি পক্ষ পরিবর্তন করেছে। সাটো আর বেল্লামি এখন পিরামিডের রহস্য জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও এই লোকটাকে গ্রেফতার করতে বদ্ধপরিকর।

    আমার কাঁধ থেকে তোমার হাত সরাও! একটা বয়স্ক কণ্ঠস্বর হলরুমে কাউকে ধমকে উঠে বলে। আমি অন্ধ কিন্তু পঙ্গু নই! আমি কলেজে আমার পথ চিনে নিতে পারবো? ডিন গ্যালাওয়ে ভূতের বাপবাপান্ত করতে থাকে এক এজেন্ট তাকে ধরে বসার ঘরে নিয়ে এসে জোর করে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলে।

    এখানে কে আছে? গ্যালাওয়ে তিরিক্ষে কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, তার খালি চোখের দৃষ্টি নাক বরাবর রাখা। শব্দ শুনে মনে হচ্ছে বেশ বড় জটলা। একজন বুড়ো লোককে আটকে রাখতে কি পুরো দল নিয়ে এসেছো? সত্যি বলো!

    এখানে আমরা সাতজন আছি, সাটো থাকতে না পেরে ঘোষণা করে। আমাদের সাথে রবার্ট ল্যাংডন, ক্যাথরিন সলোমন আর তোমার নিকটাত্মীয় ওয়ারেন বেন্নামি আছে।

    গ্যালাওয়ে চুপসে যায় তার সব তর্জন-গর্জন-শাসানি বন্ধ হয়ে যায়।

    আমরা ঠিক আছি, ল্যাংডন বলে। আর আমরা এইমাত্র জানতে পেরেছি। পিটার নিরাপদে আছে। তার শারিরীক অবস্থা সঙ্গীন কিন্তু পুলিশ তার সাথে আছে।

    ঈশ্বর করুণাময়, গ্যালাওয়ে বলে। আর-

    একটা জোরাল খটমটর শব্দ সবাইকে চমকে দেয়। বেল্লামির সেলফোন কফি টেবিলে ভাইব্রেশন সৃষ্টি করেছে। সবাই চুপ হয়ে যায়।

    ঠিক আছে, মি. বেল্লামি, সাটো বলে। গড়বড় করো না। তুমি ঝুঁকির পরিমাণ জানো।

    বেল্লামি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে সশব্দে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপরে সে নীচু হয়ে স্পিকারের বাটন অন করে কলটা কানেক্ট করে।

    বেল্লামি বলছি, কফিটেবিলে রাখা ফোনটার দিকে জোরে চেঁচিয়ে বলে।

    স্পিকার থেকে ভেসে পরিচিত ফ্যাসফেসে চাপা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। শব্দ শুনে মনে হয় সে গাড়ির ভিতর থেকে হ্যাণ্ডস-ফ্রি স্পিকারফোন থেকে কথা বলছে। মি. বেল্লামি, মাঝরাত পেরিয়ে গেছে। আমি পিটারকে তার দুর্দশা থেকে মুক্তি দিব ভাবছিলাম।

    একটা অস্বস্তিকর নিরবতা ঘরে বিরাজ করে। আমাকে তার সাথে কথা বলতে দাও।

    অসম্ভব, লোকটা বলে। আমরা গাড়িতে আর তাকে হাত-পা বেধে ট্রাঙ্কে রেখেছি।

    ল্যাংডন আর ক্যাথরিন পরস্পরের দিকে তাকায় এবং তারপরে সবার উদ্দেশ্যে মাথা নাড়তে শুরু করে। ব্যাটা ভাতা দিচ্ছে! পিটার তার কাছে নেই!

    সাটো বেল্লামির দিকে তাকিয়ে ইঙ্গিতে চাপ দিতে বলে।

    আমি প্রমাণ চাই যে পিটার জীবিত আছে, বেল্লামি বলে। আমি তোমাকে বাকিটা দেবনা যদি-।

    তোমাদের কুল পুরোহিতের ডাক্তার প্রয়োজন। দরদস্তুর করে সময় ক্ষেপণ করো না। আমাকে ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারের সড়ক নাম্বার দাও আমি তাকে সেখানে নিয়ে আসব।

    আমি বলেছি একবার আমি চাই

    এখনই! লোকটা ক্ষেপে যায়। নয়তো আমি রাস্তার ধারে গাড়ি থামাব আর পিটার এখনই মারা যাবে!

    আমার কথা শোন, বেল্লামি জোরাল কণ্ঠে বলে। তুমি যদি ঠিকানার বাকী অংশটা চাও তবে আমার কথা মত কাজ করতে হবে। ফ্যাঙ্কলিন স্কোয়্যারে আমার সাথে দেখা কর। পিটারকে আমার কাছে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেই কেবল আমি বাকী অংশটুকু বলবো।

    আমি কিভাবে জানব তুমি কর্তৃপক্ষ নিয়ে আসবে না?

    কারণ আমি তোমাকে ধোঁকা দেয়ার ঝুঁকি নেব না। পিটারের জীবনই আজ রাতে কেবল বিপর্যয়ের সম্মুখীন না আমি জানি আজরাতে সত্যিকারের বিপর্যয়ের মধ্যে কি আছে।

    তুমি একটা কথা ভাল করে মাথায় ঢুকাও, ফোনের অন্যপাশের লোকটা বলে, ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারে আমি তুমি ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতির যদি আভাস পাই, আমি গাড়ি চালিয়ে চলে যাব আর তুমি জীবনেও পিটার সলোমনের কোন চিহ্ন খুঁজে পাবে না। আর অবশ্যই তোমার তখন দুশ্চিন্তার আরও অনেক কারণ থাকবে।

    আমি একাই আসব, বেল্লামি ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলে। তুমি পিটারকে ফিরিয়ে দিলে আমি তোমাকে সবকিছু বলবো।

    স্কোয়্যারের ঠিক মধ্যেখানে, লোকটা বলে। আমার বিশ মিনিট সময় লাগবে সেখানে পৌঁছাতে। আমি পরামর্শ দেবো আমি পৌঁছান না পর্যন্ত তুমি সেখানে অপেক্ষা করবে।

    লোকটা লাইন কেটে দেয়।

    ঘরটা সাথে সাথে আবার প্রাণ ফিরে পায়। সাটো চেঁচিয়ে আদেশ দেয়া শুরু করে। কয়েকজন এজেন্ট মুখের কাছে রেডিও নিয়ে দরজার উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়। চলো! চললা!

    বিশৃঙ্খলার ভিতরে, ল্যাংডন বেল্লামির দিকে তাকায় আজ রাতে আসলেই কি ঘটছে সে বিষয়ে কোন ব্যাখ্যার আশায়, কিন্তু বুড়ো লোকটাকে ততক্ষণে দরজা দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    আমি আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাই! ক্যাথরিন চিৎকার করে বলে। আমাদের যেতে দিতে হবে!

    সাটো ক্যাথরিনের কাছে এগিয়ে আসে। আমি কোন কিছু করতে বাধ্য নই, মিস.সলোমন। আমার কথা বুঝতে পেরেছো?

    ক্যাথরিন তার জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে সাটোর ছোট ছোট চোখের দিকে বেপরোয়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

    মিস,সলোমন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সলোমন স্কোয়্যারে এই লোকটাকে গ্রেফতার করাটা আর তুমি এখানে আমার লোকের সাথে বসে থাকবে যতক্ষণ না আমি সেটা করতে পারছি। তারপরে কেবল তারপরেই আমরা তোমার ভাইয়ের বিষয়ে ভেবে দেখবো।

    তুমি বিষয়টা বুঝতে পারছে না, ক্যাথরিন বলে। আমি জানি লোকটা কোথায় বাস করে। ক্যালোরমা হাইটসে পাঁচ মিনিটের পথ। আর সেখানে অনেক কিছু আছে যা তোমায় সহায়তা করবে। তাছাড়া তুমি বলেছো যে তুমি যতটা সম্ভব নিরবে কাজটা করতে চাও। কে জানে পিটার একবার জ্ঞান ফিরে পেলে কর্তৃপক্ষকে কি উলোটপালট বলবে।

    সাটো ঠোঁট চেপে ধরে ক্যাথরিনের কথাটা ভেবে দেখে। বাইরে চপারের পাখা ঘুরতে শুরু করে। সাটো কুচকে তার একজন এজেন্টের দিকে তাকায়। হার্টম্যান তুমি কালো এসকালেড নিয়ে যাবে। মিসসলোমন আর মি. ল্যাংডনকে তুমি ক্যালোরমা হাইটসে পৌঁছে দেবে। পিটার সলোমন যেন কারো কাছে কিছু বলে। বুঝতে পেরেছো?

    জলের মত পরিষ্কার, এজেন্ট বলে।

    সেখানে পৌঁছে আমার সাথে যোগাযোগ করবে। কি পেলে আমাকে জানাবে। আর এই কপোককপোতী যেন কখনও তোমার চোখের আড়ালে যেতে না পারে।

    এজেন্ট হার্টম্যান দ্রুত মাথা নাড়ে, এসকালেডের চাবি বের করে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।

    ক্যাথরিন ঠিক তার পেছনে।

    সাটো ল্যাংডনের দিকে তাকায়। প্রফেসর, শীঘ্রই তোমার সাথে দেখা হবে। আমি জানি তুমি আমাকে শত্রু ভাব কিন্তু আমি তোমাকে নিশ্চিত করতে পারি বিষয়টা মোটেই সেরকম নয়। পিটারের কাছে যাও, আর এটা এখানেই শেষ হচ্ছে না।

    ল্যাংডনের একপাশে, কফি টেবিলের সামনে ডিন গ্যালাওয়ে চুপ করে বসে আছে। তার হাত টেবিলের উপরে ল্যাংডনের খোলা ব্যাগের রাখা পিরামিডটা খুঁজে পেয়েছে। বৃদ্ধ লোকটা উষ্ণ পিরামিডের উপর পরম মমতায় হাত বুলাচ্ছে।

    ল্যাংডন বলে, ফাদার আপনি কি পিটারকে দেখতে যাবেন?

    আমি কেবল তোমাদের দেরী করিয়ে দেব। গ্যালাওয়ে হাত সরিয়ে নিয়ে ব্যাগের চেন বন্ধ করে। আমি এখানেই থাকব আর পিটারের আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করব। আমরা পরে কথা বলবো। কিন্তু তুমি যখন পিটারকে পিরামিডটা দেখাবে তখন আমার হয়ে তাকে একটা কথা বলবে?

    অবশ্যই, ল্যাংডন ব্যাগটা কাঁধে নিতে নিতে বলে।

    তাকে বলবে। গ্যালাওয়ে তার গলা পরিষ্কার করে। ম্যাসনিক পিরামিড সবসময়ে তার রহস্য বজায় রাখবে…অকপটে।

    বুড়ো লোকটা চোখ মটকায়। পিটারকে কেবল এটাই বলবে। সে বুঝতে পারবে।

    কথাটা বলেই ডিন গ্যালাওয়ে মাথা নামিয়ে নিয়ে প্রার্থনা করতে শুরু করে।

    হতভম্ব ল্যাংডন তাকে সেখানে সেভাবে রেখে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে। ক্যাথরিন ইতিমধ্যে সাভের সামনের সিটে বসে এজেন্টকে পথের নির্দেশ দিচ্ছে। ল্যাংডন পেছনে উঠে বসে দরজা বন্ধ করতে না করতে, বিশাল বাহনটা গর্জে উঠে লনের উপর দিয়ে ক্যালোরমা হাইটসের দিকে ছুটতে শুরু করে।

    .

    ৯৩ অধ্যায়

    ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার ডাউনটাউন ওয়াশিংটনের উত্তরপশ্চিম চতুর্থাংশে, কে আর থার্টিনথ স্ট্রীট দ্বারা সীমাবদ্ধ, অবস্থিত। অনেক ঐতিহাসিক ভবন এই অঞ্চলে অবস্থিত, যার মধ্যে অন্যতম ফ্রাঙ্কলিন স্কুল, ১৮৮০ সালে যেখান থেকে। আলেকজাণ্ডার গ্রাহাম বেল প্রথম ওয়্যারলেস বার্তা প্রেরণ করেছিলেন।

    স্কোয়্যারের অনেক উপরে, একটা দ্রুতগামী ইউএইচ-৬০ হেলিকপ্টার পশ্চিম দিক থেকে এগিয়ে আসে, ন্যাশনাল ক্যাথিড্রাল থেকে আসতে তার মিনিটখানেকের বেশি সময় লাগেনি। অনেক সময় পাওয়া গেছে, সাটো নীচের স্কোয়্যারের দিকে তাকিয়ে ভাবে। সে জানে তাদের লক্ষ্যবস্তু পৌঁছাবার আগে তার লোকদের কারও কোন সন্দেহ উদ্রেক না করে লুকিয়ে পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তার কথা মত আগামী বিশ মিনিটে তার এখানে পৌঁছাবার কথা না।

    সাটোর নির্দেশে, পাইলট আশেপাশের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু ভবনের বিখ্যাত ওয়ান ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার- একটা উঁচু আর মর্যাদার প্রতীক হিসাবে বিবেচিত অফিসভবন যার উপরে দুটো স্বর্ণমণ্ডিত চুড়া রয়েছে, ছাদে টাচ-হোভার অবতরণ করে। এই ধরণের ম্যানুভার অবশ্যই অবৈধ কিন্তু চপারটা সেখানে মাত্র কয়েক সেকেণ্ড অবস্থান করে এবং এর স্কিডস ছাদের গ্রাভেল স্পর্শ করেনা। বললেই চলে। সবাই অবতরণ করা মাত্র পাইলট উপরে উঠে আসে, পূর্ব দিকে মুখ করে নিঃশব্দ উচ্চতা উঠে গিয়ে সেখান থেকে অদৃশ্যভাবে সহযোগিতা করবে।

    সাটো, তার দলের লোকদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেবার আর বেল্লামিকে আসন্ন অভিসারের জন্য প্রস্তুত করতে থাকলে, অপেক্ষা করে। সাটোর নিরাপদ ল্যাপটপে ফাইলটা দেখার পর থেকেই, স্থপতিকে বিমূঢ় দেখাচ্ছে। আমি যেমন বলেছি…জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। বেল্লামি সাথে সাথে তখন সাটোর কথার অর্থ বুঝতে পারে এবং সহযোগিতা করতে রাজি হয়।

    আমরা প্রস্তুত, ম্যাম, এজেন্ট সিকিনস বলে।

    সাটোর নির্দেশে, এজেন্টরা বেল্লামিকে পথ দেখিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে যায় যে যার মত অবস্থান নেবে বলে।

    ভবনটা কিনারে গিয়ে সাটো নীচের দিকে তাকায়। আয়তাকার বৃক্ষশোভিত পার্কটা পুরোটা ব্লক জুড়ে অবস্থিত। অনেক জায়গা আছে আড়াল নেবার জন্য। সাটোর দল কোন ধরণের সন্দেহের উদ্রেক না করে হস্তক্ষেপের গুরুত্ব পুরোপুরি অনুধাবন করেছে। তাদের টার্গেট যদি কোন সন্দেহ করে পালিয়ে যায়…ডিরেকটর সে সম্ভাবনার কথা চিন্তাও করতে চান না।

    ছাদের উপরে বাতাস শীতল আর ঝড়ো। সাটো দুহাতে নিজেকে আঁকড়ে ধরে এবং শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কিনারা দিয়ে ফেলে না দেয়। এই উঁচু সুবিধাজনক স্থান থেকে, কয়েকটা ভবনসহ, ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারকে তার যেমন মনে আছে তার চেয়ে ছোট মনে হয়। সে কল্পনা করতে চেষ্টা করে কোন ভবনটা আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার হতে পারে। তার এনালিস্ট নোলার কাছে সে এই তথ্যটা জানতে চেয়েছে, যে কোন মুহূর্তে তার ফোন সে আশা করছে।

    বেল্লামি আর তার এজেন্টদের এবার নীচে দেখা যায়, পিঁপড়ের মত বৃক্ষশোভিত অন্ধকারের ভিতরে তারা হারিয়ে যায়। সিমকিনস বেল্লামিকে জনমানবহীন পার্কের ভিতরে একটা ফাঁকা স্থানে দাঁড় করায়। তারপরে সিমকিনস আর তার এজেন্টের দল প্রাকৃতিক আড়ালের মাঝে মিশে গিয়ে দৃষ্টির আড়ালে অবস্থান নেয়। কয়েক সেকেন্ড পরে, বেল্লামি পার্কের কেন্দ্রে স্ট্রিটল্যাম্পের নীচে একা কাঁপতে কাঁপতে পায়চারি করতে থাকে।

    সাটো তার জন্য কোন করুণা বোধ করে না।

    সাটো একটা সিগারেট ধরায় এবং জোরে টান দেয়, গরম উষ্ণ ধোয়া ফুসফুঁসে প্রবাহিত হলে অনুভূতিটা সে উপভোগ করে। সবকিছু জায়গামত রয়েছে এ বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে, সে কিনারা থেকে সরে এসে দুটো ফোন কলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। একটা তার এনালিস্ট নোলার করার কথা অন্যটা আসবে এজেন্ট হার্টম্যানের কাছ থেকে যাকে সে ক্যাডোরমা হাইটসে পাঠিয়েছে।

    .

    ৯৪ অধ্যায়

    আস্তে চালাও! ল্যাংডন পেছনের সীটে কোনমতে আঁকড়ে বসে ভাবে, বিশাল কালো এসকালেড প্রায় দুচাকার উপরে ভর করে একটা বাঁক অতিক্রম করলে। সিআইএ এজেন্ট হাটম্যান হয় ক্যাথরিনকে নিজের বাহাদুরি দেখাতে চায় অথবা তাকে বলা হয়েছে পিটার সলোমন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু বলার মত সুস্থ হয়ে উঠবার আগে তাকে সেখানে পৌঁছাতে হবে।

    দূতাবাস সড়কের লাল-আলো-অতিক্রম উচ্চ গতিসম্পন্ন চালনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে পরিগণিত হয়, কিন্তু এখন তারা কালোরমা হাইটসের। এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে। যেতে। যেতে ক্যাথরিন থেকে থেকেই চেঁচিয়ে পথের নির্দেশ দেয়, আজ বিকেলেই সে লোকটার বাসায় এসেছিল।

    প্রতিবার বাঁক নেবার সময়ে ল্যাংডনের কাঁধের ব্যাগটা সামনে পিছনে দোল খায়, এবং শিরোশোভার পাথরের সাথে আঘাতের সাথে শোনে সেটা এখন পিরামিডের মাথা থেকে খসে ব্যাগের তলদেশে ঝাঁকি খাচ্ছে। সেটা ক্ষত্রিস্থ হবে মনে করে সে ব্যাগের ভিতরে হাতড়ে সেটা খুঁজে বের করে। শিরোশোভাটা। এখন উষ্ণ হয়ে আছে কিন্তু দীপ্তি ছড়াতে থাকা লেখাটা মিলিয়ে গিয়ে কেবল মূল খোদাইটাই দেখা যায়।

    দি সিক্রেট হাইডস উইথইন দি অর্ডার।

    শিরোশোভাটা সে ব্যাগের পাশের পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে যাবে এমন সময়ে এর মসৃণ পৃষ্ঠদেশে সে সাদা সাদা ক্ষুদ্র দলা লক্ষ্য করে। বিভ্রান্ত, সে সেগুলো তুলে ফেলতে চায় কিন্তু তারা শক্ত করে লেগে রয়েছে আর স্পর্শ করলে কঠিন বলে অনুভূত হয়…অনেকটা প্লাস্টিকের মত। এটা আবার কিসের আলামত? সে এবার পিরামিডের পৃষ্ঠেও একই ধরণের সাদা দলা লক্ষ্য করে। সে এবার নখ দিয়ে একটা খুটিয়ে তুলে দুআঙ্গুলের মাঝে সেটা ডলে দেখে।

    মোম? সে জোরে বলে উঠে।

    ক্যাথরিন কাঁধের উপর দিয়ে পেছনে তাকায়। কি বলছো?

    মোমের দলা পিরামিড আর শিরোশোভার উপরে ভরে আছে। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না। এটা আবার কোথা থেকে আসল?

    তোমার ব্যাগের ভেতরে কিছু একটা ছিল সম্ভবত?

    আমার তা মনে হয় না।

    তারা বাঁক ঘুরতে, ক্যাথরিন কাঁচের ভেতর থেকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে এজেন্ট হার্টম্যানের দিকে তাকায়। এইযে ওটা! আমরা পৌঁছে গেছি।

    ল্যাংডন সামনে তাকিয়ে সিকিউরিটি বাহনের ঘুরতে থাকা আলো সামনের ড্রাইভওয়েতে দেখতে পায়। ড্রাইভওয়ের গেটটা টেনে একপাশে খুলে রাখা হয়েছে এবং এজেন্ট হার্টম্যান ভোলা প্রবেশপথ দিয়ে সাভটা ভিতরে নিয়ে আসে।

    ভেতরে একটা দৃষ্টিনন্দন ম্যানসন। ভেতরের প্রতিটা ঘরের আলো জ্বলছে এবং সদর দরজা হাট করে খোলা। প্রায় আধডজন গাড়ি সামনের ড্রাইভওয়ে আর লনে এলোমেলো করে পার্ক করে রাখা, বোঝাই যায় তাড়াহুড়ো করে তারা এসেছে। কোন কোন গাড়ির ইঞ্জিন এখনও চালু আর হেডলাইট জ্বালান রয়েছে, বেশির ভাগই বাড়ির দিকে মুখ করে আছে কেবল একটা উল্টোদিকে মুখ করা, তারা ভিতরে প্রবেশ করার সময়ে তাদের প্রায় অন্ধ করে রাখে।

    এজেন্ট হার্টম্যান লনে একটা বিশাল সাদা গাড়ির পাশে এসে থামে যার গায়ে উজ্জ্বল রঙিন ডিক্যাল: প্রেফার্ড সিকিউরিটি। ঘুরতে থাকা আলো এবং হেডলাইটের হাইবিম তাদের কার্যত কিছু দেখতে দেয় না। ক্যাথরিন সাথে সাথে গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উদ্দেশ্যে দৌড়াতে শুরু করে। ল্যাংডন ব্যাগের চেন বন্ধ না করে সেটা কাঁধে নিয়ে নেয়। সে লনের উপর দিয়ে দুলকি চালে দৌড়ে খোলা দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ভেতর থেকে গলার আওয়াজ শোনা যায়। ল্যাংডনের পেছনে, সাভ পিকপিক করে উঠে এজেন্ট হার্টম্যান বাহনটা লক করে তাদের পেছন পেছন দ্রুত আসতে থাকে।

    ক্যাথরিন পোর্চের সিঁড়ি লাফিয়ে উঠে যায়, সদর দরজা দিয়ে বাসার ভিতরে। প্রবেশ করে। ল্যাংডন তার পেছন পেছন চৌকাঠ পেরিয়ে ভেতরে আসে এবং দেখতে পায় ক্যাথরিন ফয়্যার দিয়ে কণ্ঠস্বর অনুসরণ করে মেইন হলওয়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তার পেছনে হলের শেষপ্রান্তে চেয়ারে এক সিকিউরিটি কর্মীকে তাদের দিকে পিঠ দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

    অফিসার? ক্যাথরিন দৌড় শুরু করে চেঁচিয়ে উঠে। পিটার সলোমন। কোথায়?

    ল্যাংডন তার পেছনে দৌড়ে আসে কিন্তু তখনই একটা অপ্রত্যাশিত নড়াচড়া তার চোখে পড়ে। তার বাম দিকে লিভিং রুমের জানালা দিয়ে সে ড্রাইভওয়ের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে দেখে। আজব কাণ্ড। কিছু একটা তার চোখে পড়ে…কিছু একটা যা ঘুরতে থাকা আলো আর হাইবিমের কারণে ঢোকার সময়ে সে। দেখতে পায়নি। যে আধ-ডজন গাড়ি এলোমেলো করে ড্রাইভওয়েতে পার্ক করা রয়েছে সেগুলো পুলিশের বা জরুরী প্রয়োজনের বাহন যেটা মনে করেছিল।

    একটা মার্সেডিস?…একটা হ্যামার?…একটা টেসলা রোডস্টার?

    সাথে সাথে ল্যাংডন বুঝতে পারে যে কণ্ঠস্বর তারা বাইরে থেকে শুনেছিল সেটা আসলে ডাইনিং রুম থেকে ভেসে আসা টিভির শব্দ।

    ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়ে, ল্যাংডন হলওয়ের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে। ক্যাথরিন,দাঁড়াও!

    কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে সে দেখে যে ক্যাথরিন সলোমন মোটেই দৌড়াচ্ছে না।

    সে শূন্যে ভাসছে।

    .

    ৯৫ অধ্যায়

    ক্যাথরিন সলোমন টের পায় সে পড়ে যাচ্ছে…কিন্তু সে বুঝতে পারে না কেন।

    সে হল দিয়ে দৌড়ে খাবার ঘরে বসে থাকা নিরাপত্তা কর্মীর দিকে আসছিলো তখন একটা অদৃশ্য বাঁধায় তার পা জড়িয়ে যায় এবং তার পুরো দেহ সামনের দিকে ঝাঁকি খেয়ে বাতাসে ডানা মেলে।

    সে এখন পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছে…এক্ষেত্রে কেবল শক্ত কাঠের মেঝের উপরে।

    ক্যাথরিন পেটের উপরে ভর দিয়ে পড়লে প্রচণ্ড আছাড়ে তার ফুসফুস থেকে সব বাতার বেরিয়ে যায়। তার মাথার উপরে একটা ভারী কোটদানি বেকায়দা ভঙ্গিতে টলোমলো করে এবং মেঝেতে পড়ে থাকা তার দেহ থেকে সামান্য দূরে উল্টে পড়ে। সে মাথা তুলে, তখনও বাতাসের অভাবে খাবি খাচ্ছে, বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে দেখে চেয়ারে বসে থাকা নিরাপত্তা কর্মী একটুও নড়েনি। আরও অবাক করার ব্যাপার, কোটদারি নীচে একটা পাতলা তার আটকানে যেটা পুরো হলওয়ের বরাবর টানা।

    কোন পাগল এটা করেছে…?

    ক্যাথরিন? ল্যাংডন তার নাম ধরে চিৎকার করতে, সে গড়িয়ে একপাশে কাত হয়ে তার দিতে তাকাতে তার বৃক্ত জমে যায়। রবার্ট! তোমার পেছনে! সে চিৎকার করতে চেষ্টা করে কিন্তু তখনও তার ফুসফুস খালি। সে কেবল তাকিয়ে। দেখে আতঙ্কিত করে তোলার মত ধীর গতিতে ল্যাংডন হলওয়ে দিয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য ছুটে আসছে পেছনের অবস্থা সম্পর্কে একেবারেই বেখেয়াল, এজেন্ট হার্টম্যান চৌকাঠের নীচে টলমল পায়ে দাঁড়িয়ে আছে গলার কাছটা খামচে ধরে। হার্টম্যানের হাতের ফাঁক দিয়ে রক্ত ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসছে একটা লম্বা স্ক্রড্রাইভার হাতল সে আঁকড়ে ধরে আছে যার আরেক প্রান্ত গলা কুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে।

    এজেন্ট সামনের দিকে আছাড় খেতে পেছনে এবার তার আক্রমণকারী চেহারা দেখা যায়।

    হায় ঈশ্বর …না!

    নেংটি পরিহিত বিশালদেহী এক লোক আপাতদৃষ্টিতে বোঝা যায় ফয়্যারে ওত পেতে ছিল। তার পেশল শরীরের পুরোটায় মাথা থেকে পায়ের তালু অব্দি বিচিত্র উল্কি আঁকা। সদর দরজা টেনে বন্ধ করে দিয়ে লোকটা হল দিয়ে ল্যাংডনের দিকে ধেয়ে আসে।

    সদর দরজা বন্ধ হবার সাথে সাথেই এজেন্ট হার্টম্যান মেঝে আছড়ে পড়ে। ল্যাংডন চমকে উঠে এবং ঘুরতে যায় কিন্তু নেংটি পরা হনুমানটা ততক্ষণে ল্যাংডনের কাছে চলে এসেছে এবং তার পেছনে কি দিয়ে যেন একটা মোক্ষম আঘাত করে। আলোর ঝলক আর বিদ্যুতে তীক্ষ্ণ হিসহিস শব্দ ভেসে আসে এবং ক্যাথরিনের চোখের সামনে ল্যাংডন আড়ষ্ট হয়ে যায়। চোখ বড় হয়ে জমে গিয়ে ল্যাংডন সামনের দিকে কাত হয়ে আসে, পক্ষাঘাতগ্রস্থের মত জবুথবু হয়ে আছড়ে পড়ে। সে তার চামড়ার ব্যাগের উপরে সজোরে আছাড় খেতে পিরামিডটা ব্যাগ থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে।

    উল্কি আঁকা লোকটা মাটিতে পড়ে থাকা শিকারের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে থেকে সে ল্যাংডনকে টপকে সোজা ক্যাথরিনের দিকে এগিয়ে আসে। সে ততক্ষণে কনুইয়ের উপরে ভর দিয়ে পেছন দিকে খাবার ঘরের দিকে ছেড়ে এগোতে থাকে, সেখানে একটা চেয়ারের সাথে ধাক্কা খায়। মহিলা নিরাপত্তা রক্ষী যাকে চেয়ারে ঠেকনা দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এখন নড়ে উঠে এবং একটা বস্তার মত তারপাশে গড়িয়ে পড়ে। মহিলার প্রাণহীন মুখে আতঙ্কের অভিব্যক্তি। তার মুখে কাপড়ের টুকরো গোজা রয়েছে।

    বিশালদেহী লোকটা ক্যাথরিন কোন প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পূর্বেই তার কাছে পৌঁছে যায়। সে তার কাঁধ অমানুষিক শক্তিতে আঁকড়ে ধরে। তার মুখে মেকআপের প্রলেপ না থাকায় এখন ভীষণ ভয়ঙ্কর একটা দৃশ্য। তার মাংসপেশী কিলবিল করে উঠে এবং সে টের পায় একটা কাপড়ের পুতুলের মত লোকটা তাকে পেটের উপরে ভর দিয়ে উল্টে দেয়। একটা ভারী হাঁটু পিঠ চেপে ধরলে তার মনে হয় কোমরের কাছে তার দেহটা বুঝি দুভাগ হয়ে যাবে। সে তার হাত দুটো ধরে পেছনের দিকে টেনে আনে।

    তার মাথা এখন এক পাশে কাত হয়ে আছে এবং তার মুখ কার্পেটের উপর চেপে থাকায় সে ল্যাংডনকে পড়ে থাকতে দেখে, তার থেকে অন্য দিকে মুখ করে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তার পেছনে এজেন্ট হার্টম্যানের নিথর দেহ ফয়্যারে পড়ে রয়েছে।

    ক্যাথরিন কব্জিতে শীতল ধাতব চিমটি অনুভব করে, এবং সে আতঙ্কিত হয়ে উঠে বুঝতে পারে যে ধাতব তার দিয়ে বাঁধা হয়েছে। আতঙ্কে সে পেছনে সরে যেতে চায় কিন্তু সেটা কেবল তার হাতে তীব্র যন্ত্রণার একটা অনুভূতির জন্ম দেয়।

    এই তারটা কেটে বসবে যদি তুমি নড়ার চেষ্টা কর, লোকটা তার কব্জি ছেড়ে এবার গোড়ালির দিকে ভীতিকর দক্ষতায় এগিয়ে যায়।

    ক্যাথরিন তাকে লাথি মারা চেষ্টা করলে সে তার ডান উরুতে চাপড় বসিয়ে দিলে তার পুরো পা যেন অবশ হয়ে আসে। কয়েক মুহূর্তের ভিতরে তার গোড়ালিও বাধা হয়ে যায়।

    রবার্ট! সে কোন মতে ডাক দেয়।

    ল্যাংডন এখনও হলওয়ের মেঝেতে গোঙাচ্ছে। সে তার চামড়ার ব্যাগের উপরে ত্রিভঙ্গ আঁকৃতিতে পড়ে রয়েছে পাথরের পিরামিড ব্যাগ থেকে বের হয়ে তার মাথার কাছে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ক্যাথরিন বুঝতে পারে পিরমিডটা তার শেষ ভরসা।

    আমরা পিরামিডের পাঠোদ্ধার করেছি, সে তার আক্রমণকারীকে বলে। আমি তোমাকে সব বলবো!

    হ্যাঁ, তুমি সেটা অবশ্যই বলবে। কথাটা বলে সে মৃত নিরাপত্তা রক্ষীর মুখ থেকে কাপড়ের টুকরোটা বের করে তার মুখে গুঁজে দেয়।

    মৃত্যুর স্বাদ যেন কাপড়টায়।

    .

    ল্যাংডনের দেহ যেন তার নিজের না। সে পড়ে আছে, অনড় আ অবশ হয়ে, শক্ত কাঠের মেঝেতে তার গাল ঠেকে আছে। সে স্টানগানের কথা অনেক শুনেছে যে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে এগুলো তাদের শিকারকে সাময়িকভাবে পঙ্গু করে দেয়। তাদের কাজের ধারা- একধরণের মাংসপেশীর বৈদ্যুতিক বিচ্যুতি অনেকটা বজ্রপাতের মত। ব্যথার তীব্র একটা ঝলক যেন তার দেহের প্রতিটা কোষে প্রবেশ করেছে। এখন তার মনের অধিশ্রয়ন সত্ত্বেও তার মাংসপেশী নির্দেশ মানতে অপারগতা প্রকাশ করছে।

    উঠে দাঁড়াও।

    মেঝের উপরে মুখ নীচে দিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ে থেকে, ল্যাংডন কোন মতে শ্বাস নেয়। সে এখনও তার আক্রমণকারীর চেহারা দেখতে পায়নি তবে সে এজেন্ট হার্টম্যানকে রক্তের একটা ছোটখাট পুকুরের ভিতরে পড়ে থাকতে দেখে। ল্যাংডন ক্যাথরিনকে ধ্বস্তাধ্বস্তি আর তর্ক করতে শোনে কিন্তু কিছুক্ষণ আগে তার কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে যেন লোকটা তার মুখে কিছু একটা গুঁজে দিয়েছে।

    রবার্ট উঠে দাঁড়াও! তোমার সাহায্য তার প্রয়োজন।

    ল্যাংডনের পা ঝিনঝিন করে, অনুভূতি ফিরে আসবার জ্বালাময় কষ্টকর প্রক্রিয়া, কিন্তু এখনও তারা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। নড়ো! তার বাহুদ্বয় টান খায় অনুভূতি ফিরে আসতে শুরু করায়, সেইসাথে তার গলা আর মুখেরও বোধ ফিরে আসতে শুরু করে। অনেক কষ্টে সে মাথাটা ফয়্যারের দিক থেকে খাবার ঘরের দিকে সে ঘুরায়।

    ল্যাংডনের দৃষ্টিপথ বাধাগ্রস্থ- পাথরের পিরামিড, সেটা তার ব্যাগ থেকে বেরিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে পিরামিডের ভিত্তিটা তার মুখ থেকে কয়েক ইঞ্চি

    এক মুহূর্তের জন্য ল্যাংডন বুঝতে পারে না সে কিসের দিকে তাকিয়ে আছে। চারকোণা পাথরটা অবশ্যই পিরামিডের তলদেশ কিন্তু কেমন অন্যরকম দেখাচ্ছে। খুবই অন্যরকম। এটা এখন বর্গাকার এখন পাথরের…কিন্তু সেটা এখন আর সমতল আর মসৃণ নেই। পিরামিডের তলদেশে খোদাই করা প্রতাঁকে ভরে উঠেছে। এটা কিভাবে সম্ভব? সে কয়েক সেকেণ্ড তাকিয়ে থাকে দৃষ্টিবিভ্রম কিনা বুঝতে চেষ্টা করে। আমি পিরামিডটার তলদেশ ডজনখানেক বার খুটিয়ে

    দেখেছি…সেখানে কোন খোদাই ছিল না!

    কেন এখন লাঙ্গডন বুঝতে পারে।

    তার শ্বাসপ্রশ্বাস সহজাত প্রবৃত্তির বশে চালু হয় এবং সে সহসা জোরে শ্বাস নেয় বুঝতে পারে ম্যাসনিক পিরামিডের এখনও অনেক রহস্য প্রকাশ করার আছে। আমি আরেকটা রূপান্তর প্রত্যক্ষ করলাম।

    এক নিমেষে গ্যালাওয়ের শেষ অনুরোধের মানে সে বুঝতে পারে। পিটারকে কেবল বোলো: মাসনিক পিরামিড সবসময়ে তার রহস্য বজায় রেখেছে…নিষ্ঠার সাথে। কথাটা সে সময়ে অদ্ভুত মনে হয়েছিল কিন্তু ল্যাংডন এখন বুঝতে পারে গ্যালাওয়ে পিটারকে একটা সাঙ্কেতিক বার্তা পাঠিয়েছে। পরিহাসের বিষয়, এই একই সংকেত ল্যাংডনের পাঠ করা একটা মাঝারি মানের রোমাঞ্চপোন্যাসে কাহিনীর গতিপরিবর্তক হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখেছে।

    সিন-সেরে

    মাইকেলেঞ্জেলোর সময় থেকে ভাস্কররা তাদের ভাস্কর্যের খুঁত ঢাকতে ফাটলের ভিতরে গরম মোম প্রবিষ্ট করিয়ে উপরে পাথরের গুড়ো ঘষে দিয়ে আসছেন। এই পদ্ধতিটাকে প্রতারণা হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে আর সেজন্য কোন ভাস্কৰ্য্য মোম বিহীন- আক্ষরিকভাবে সিন সেরা তাকে। সিনসিয়ার ভাস্কৰ্য্য হিসাবে গণ্য করা হয়। বাগধারাটা টিকে যায়। আজও আমরা চিঠির নীচে লিখে থাকি সিনসিয়ারলি ইয়োরস একটা প্রতিশ্রুতি হিসাবে যার মানে আমাদের কথায় কোন খাদ নেই মোমছাড়া সেগুলো লেখা হয়েছে।

    পিরামিডের তলদেশের এই খোদাই একই পদ্ধতিতে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। ক্যাথরিন যখন শিরোশোভার নির্দেশ অনুসরণ করে এবং পিরামিডটা পানিতে উত্তপ্ত করে তখন মোম গলে গিয়ে খোদাইটা উন্মুক্ত করে তুলেছে। গ্যালাওয়ে বসার ঘরে তখন পিরামিডের গায়ে হাত বুলিয়ে তলদেশের উন্মুক্ত খোদাই অনুভব করতে চাইছিলো।

    এখন, মুহূর্তের জন্য হলেও, সে আর ক্যাথরিন কি বিপদের ভিতরে পড়েছে সেটা ভুলে যায়। সে পিরামিডের তলদেশে প্রতাঁকের অবিশ্বাস্য একটা সমাবেশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের অর্থ সম্বন্ধে তার কোন ধারণা নেই…বা তারা চুড়ান্তভাবে কি প্রকাশ করবে কেবল একটা বিষয় নিশ্চিত। মাসনিক পিরামিডের এখনও অনেক রহস্য প্রকাশ করা বাকি আছে। আট ফ্ৰাহলিন স্কোয়্যার মোটেই শেষ উত্তর না।

    এ্যাড্রেনালিনের অতিরিক্ত নিঃসরণ নাকি এটা কয়েক সেকেণ্ড অতিরিক্ত সময় শুয়ে থাকার কারণে ল্যাংডন বলতে পারবে না কিন্তু সহসা স্নে তার নিজের। দেহের উপরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।

    কষ্ট করে হলেও, সে এক হাত এক পাশে সরিয়ে আনে চামড়ার ব্যাগটা চোখের সামনে থেকে দূর হতে সে খাবার ঘরের দৃশ্য দেখতে পায়।

    আতঙ্কিত চোখে, ক্যাথরিনকে বেধে ফেলা হয়েছে আর তার মুখে এখন একটা কাপড় খুঁজে দেয়া হয়েছে। ল্যাংডন তার মাংসপেশী বাঁকায়, চেষ্টা করে হাটুর উপরে ভর দিয়ে উঠে বসতে কিন্তু কিছু পরেই সে চরম অবিশ্বাসের সাথে জমে যায়। খাবার ঘরের দরজায় হাড় কাপিয়ে দেয়া একটা দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে- একটা মানুষের দেহাবয়ব যেমনটা ল্যাংডন আগে কখনও দেখেনি।

    খোদার খাসি কি খেয়ে এমন…?!

    ল্যাংডন উল্টোদিকে ঘুরে, পাগলের মত পা ছুঁড়তে থাকে, চেষ্টা করে পিছিয়ে যেতে কিন্তু উল্কি আঁকা লোকটা তাকে মুরগীর মত ধরে, পিঠের উপরে উল্টে দেয় এবং তার বুকের উপরে চেপে বসে। সে তার হাটু দিয়ে ল্যাংডনের বাইসেপ চেপে ধরে তাকে যন্ত্রণাদায়ক ভঙ্গিতে মেঝের সাথে আটকে ফেলে। লোকটার বুকে একটা দুই মাথা বিশিষ্ট ফিনিক্স কিলবিল করে। তার গলা, মুখি আর মাথা পরিষ্কার করে কামান এবং সেখানে ব্যাতিক্রমী, দুর্বোধ্য প্রতাঁকের চোখ ধাঁধান উল্কির একটা সমাবেশ- সিজিলস, ল্যাংডন জানে- ডাকিনী বিদ্যার আনুষ্ঠানিক অর্চনায় এগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

    ল্যাংডন আর কিছু বুঝে উঠবার আগে লোকটা দুহাতের তালুতে ল্যাংডনের দু কান চেপে মাথাটা মামাবাড়ি দেখাবার কায়দায় মেঝে থেকে উপরে তুলে নিয়ে অসম্ভব জোরে শক্তকাঠের মেঝেতে নামিয়ে আনে।

    ল্যাংডনের দুনিয়া বাধ্য ছেলের মত অন্ধকারে ছেয়ে যায়।

    .

    ৯৬ অধ্যায়

    মাল’আখ নিজের হলওয়েতে দাঁড়িয়ে চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞ পর্যবেক্ষন করে। তার বাসা একটা যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয়।

    রবার্ট ল্যাংডন তার পায়ের কাছে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

    খাবার ঘরের মেঝেতে হাতপা বাঁধা অবস্থায় মুখে কাপড় নিয়ে অসহায়ভাবে পড়ে আছে ক্যাথরিন সলোমন।

    কাছের নিরাপত্তা কর্মী মেয়েটার লাশ বস্তার মত পড়ে আছে চেয়ারে যেটায় তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল সেখান থেকে সে গড়িয়ে পড়েছে। এই মেয়ে রক্ষী নিজের জীবন বাঁচাতে এইটাই আগ্রহী ছিল মাল’আখের নির্দেশ মত সবকিছু সে করেছে। গলার কাছে একটা চাকু ধরা অবস্থায়, সে মাল’আখের সেলফোনে উত্তর দিয়েছে এবং মিথ্যা কথা বলেছে যা ন্যাড়ন আর ক্যাথরিনকে এখানে টেনে এনেছে। তার সাথে কোন সঙ্গী ছিল না আর পিটার সলোমন মোটেই নিরাপদে নেই। মেয়েটা তার কাজ নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করা মাত্র, মাল’আখ নিরবে তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

    মাল’আখ বাসায় নেই এই ভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সে বোমিকে ফোন করেছে গাড়ির তার একটা গাড়ির হ্যাণ্ডস-ফ্রি ফোন থেকে। আমি এখন রাস্তায়, বেল্লাম আর তার সাথে বাকি যারা শুনছিলো সবার উদ্দেশ্যে সে বলে। পিটার আমার গাড়ির ট্রাঙ্কে। বস্তুতপক্ষে মাল’আখ কেবল তার গ্যারেজ আর সামনের বাগান পর্যন্ত ড্রাইভ করেছে যেখানে সে তার অসংখ্য গাড়ির কয়েকটা এলোপাথাড়ি পার্ক করে রেখে আলো জ্বালিয়ে ইঞ্জিন চালু করে রেখে দেয়।

    ভাঁওতাটা ভালই কাজে দেয়।

    প্রায়।

    একমাত্র বিচ্যুতি ফয়্যারের কালো পোষাক পরিহিত লাশটা যার গলা এফোড়ওফোড় হয়ে গেছে একটা স্কুড্রাইভার। মাল’আখ লাশটা তল্লাশি করে এবং সর্বাধুনিক ট্রান্সসিভার আর সিআইএর লোগো সম্বলিত সেলফোন খুঁজে পেতে শিষ দিয়ে উঠে। মনে হচ্ছে তারাও আমার ক্ষমতার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। সে ব্যাটারি বের করে ভারী পিতলের হুড়কোটা দিয়ে অনুষঙ্গ দুটোর দফারফা করে।

    মাল’আখ জানে তাকে এবার দ্রুত সবকিছু করতে হবে বিশেষ করে যদি সিআইএ এর সাথে জড়িয়ে থাকে। সে ল্যাংডনের কাছে ফিরে আসে। প্রফেসর এখনও সংজ্ঞাহীন আর আশা করা যায় আরো কিছুক্ষণ তিনি তার সংজ্ঞাহীন ধ্যান বজায় রাখবেন। মাল আখের উত্তেজিত চোখ এবার প্রফেসরের খোলা ব্যাগের পাশে মেঝেতে পড়ে থাকা পাথরের পিরামিডের উপরে স্থির হয়। তার হৃৎপিণ্ডের গতি দ্রুততর হয়ে উঠে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।

    আমি বহু বছর অপেক্ষা করেছি…

    নীচু হয়ে ম্যাসনিক পিরামিডটা মাটি থেকে তুলে নেবার সময়ে তার হাত মৃদু কাঁপতে থাকে। পাথরের খোদাইয়ের উপরে সে যখন হাত বুলায় তাদের প্রতিশ্রুতি তার ভিতরে একটা আতঙ্ক মিশ্রিত সম্রম জাগিয়ে তুলে। সে আরও বেশি আবিষ্ট হয়ে উঠার আগে পিরামিডটা আর এর শিরোশোভাটা ব্যাগে ভরে চেন টেনে দেয়।

    আমি শীঘ্রই পিরামিডটা সংযুক্ত করবো…অনেক নিরাপদ একটা স্থানে।

    সে ব্যাগটা কাঁধে নেয় এবং ল্যাংডনকে কাঁধে নিতে চেষ্টা করে কিন্তু প্রফেসরের সুঠাম দেহ যতটা মনে করেছিল তার চেয়ে বেশি ভারী। মাল’আখ বাধ্য হয়ে তাকে বগলের নীচে চেপে ধরে ছেড়ে নিয়ে যায়। সে যেখানে যাচ্ছে জায়গাটা তার মোটেও পছন্দ হবে না, মাল’আখ ভাবে।

    সে ল্যাংডনকে টেনে নিয়ে যেতে থাকলে, রান্নাঘরের টেলিভিশন থেকে শব্দ ভেসে আসে। ভাওতার একটা অংশ ছিল টিভিটা থেকে ভেসে আসা শব্দ আর মাল’আখ সেটা বন্ধ করতে ভুলে গেছে। স্টেশন থেকে এখন এক টেলিভ্যানজেলিস্টের লর্ডস প্লেয়ারের সমাবেশ পরিচালনা প্রচার করছে। মাল’আখ ভাবে তার সম্মোহিত দর্শকদের কারো কি বিন্দুমাত্র কোন ধারণা আছে প্রার্থনাটা আসলে কোথা থেকে এসেছে।

    …স্বর্গের মত পৃথিবীতেও…উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলে।

    হ্যাঁ, মাল’আখ ভাবে। যতটা উপরে ঠিক ততটাই নীচে।

    …এবং আমাদের প্রলোভনের হাত থেকে রক্ষা কর…

    প্রভু আমাদের দেহের দূর্বলতা থেকে আমাদের রক্ষা কর।

    …শয়তানের হাত থেকে আমাদের রক্ষা কর…তারা সবাই সনির্বন্ধ প্রার্থনা করে।

    মাল’আখ হাসে। সেটা একটু সমস্যা হবে। অন্ধকার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরেও, চেষ্টা করার জন্য মাল’আখ তাদের প্রশংসা করে। মানুষের ভিতরে যারা অদৃশ্য শক্তির সাথে কথা বলে এবং সাহায্য প্রার্থনা করে আধুনিক পৃথিবীতে তারা একটা বিপন্ন প্রজাতি।

    মাল’আখ ল্যাংডনকে বসার ঘরের ভিতর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল যখন সমাবেশটা ঘোষণা করে, আমেন!

    আমন, মাল’আখ শুধরে দিতে চায়। তোমার ধর্মের সূতিকাগহ হল মিশর। দেবতা আমন জেউসের প্রটোটাইপ…জুপিটারের…এবং অন্য সব আধুনিক দেবতাদের। আজও পৃথিবীর সব ধর্মে তার নামই বিভিন্ন ভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। আমেন! আমিন! আম।

    টেলিভেনজালিস্ট স্বর্গ আর নরকে প্রতাপবিস্তারকারী দেবদূত, শয়তান আর আত্মার প্রাধান্যপরম্পরা বাইবেলের বিভিন্ন বাণী উদ্ধৃত করে ব্যাখ্যা করেন। তোমাদের আত্মাকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা কর! সে তাদের সতর্ক করে বলে। প্রার্থনায় নিজেদের আত্মাকে শক্তিশালী কর! ঈশ্বর আর তার দেবদূতেরা তোমাদের প্রার্থনার উত্তর দেবেন!

    সে ঠিকই বলছে, মাল’আখ জানে। কিন্তু বাবা, শয়তানও প্রার্থনার উত্তর দেয়।

    মাল’আখ অনেক আগে জেনেছে, সাধনার যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে, একজন সাধনাকারী আধ্যাত্মিক জগতের দ্বার উন্মোচিত করতে পারে। সেখানে অবস্থিত অদৃশ্য শক্তিরা, অনেকটাই মানুষের মত, তাদের অনেক রূপ, ভাল আর মন্দ মিলিয়ে। আলোর অনুগামী যারা তারা রক্ষা করে, উপশম করে জগতে শৃঙ্খলা আনতে চায়। যারা অন্ধকারের অনুগামী তারা ঠিক উল্টোটা করতে চায়…বিশৃঙ্খলা আর ধ্বংস বয়ে আনে।

    ঠিকমত সাধনা করলে, সাধনাকারী পার্থিব আঁকাঙ্খ পালনে অদৃশ্য শক্তিতে রাজি করান যেতে পারে…এভাবে তার ভিতরে একটা অতিমানবীয় শক্তির জন্ম। হয়। সাধনাকারীকে সাহায্য করার বিনিময়ে এসব অদৃশ্য শক্তিরা পূজা চায় আলোর অনুসারীদের বশ করতে হয় প্রার্থনা আর প্রশংসা দ্বারা এবং অন্ধকারের। অনুগামীরা চায় রক্তপাত বা বলি।

    বলি বা উৎসর্গ যত বড় হবে, ততবেশী শক্তি স্থানান্তরিত হবে। মাল’আখ তার সাধনা শুরু করেছিল নগণ্য প্রাণীর রক্তপাত ঘটিয়ে। সময়ের সাথে সাথে, অবশ্য, উৎসর্গের জন্য তার পছন্দ ক্রমশ সাহসী হয়ে উঠে। আজ রাতে আমি চরম পদক্ষেপ নেব।

    সাবধান! ধর্মপ্রচারক উঠেন, মহাপ্রলয় সমাগত। মানুষের আত্মার পরম আর শেষ যুদ্ধ শীঘ্রই শুরু হবে।

    আসলেও, মাল’আখ ভাবে। আর আমি হব সেই যুদ্ধের অন্যতম যোদ্ধা।

    যুদ্ধ অবশ্য শুরু হয়েছে অনেক অনেক কাল আগে। প্রাচীন মিশরে, যারা এই সাধনার ধারাকে সমৃদ্ধ পরিশীলিত করেছেন ইতিহাস তাদের মহান কুশলী হিসাবে চেনে, সাধারণের উর্ধ্বে উঠে তারা সত্যিকারের আলোর সাধনা করেছেন। পৃথিবীর বুকে তারা দেবতার মত বিচরণ করেছেন। দীক্ষার জন্য তারা বিশাল সব মন্দির তৈরী করেছেন যেখানে সারা পৃথিবী থেকে নব্যদীক্ষিতের দল জ্ঞানের সন্ধানে আসত। সেখান থেকে জন্ম নেয় একদল সোনালী মানুষের একটা জাতি। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যারা তাদের পার্থিব বন্ধন ছিন্ন করে নিজেদের উর্ধ্বে তুলে ধরবে বলে মনে হয়।

    প্রাচীন রহস্যময়তার সোনালী যুগ।

    এবং মানুষ তবুও, রক্তমাংসের দ্বারা গড়া হবার কারণে লোভ, লালসা, ঘৃণা, দম্ভ, অহমিকা, প্রভৃতি পাপের দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়। সময়ের সাথে সাথে, সেইসব লোক জন্ম নেয় যারা সাধনার ধারায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটায়, একে বিপথগামী করে এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য এটা ব্যবহার করে। তারা এই বিপথগামী ধারা ব্যবহার করে অন্ধকারের শক্তিকে ডেকে আনে। একটা ভিন্ন। সাধনার ধারা জন্ম নেয়…অনেক বেশি প্রভবিষ্ণু, উপস্থায়ী আর প্রভাব মাদকতাময়।

    আমার সাধনা যেমন।
    আমার শ্রেষ্ঠ কর্ম যেমন।

    আলোকিত নব্যদীক্ষিত আর তাদের দুর্বোধ্য ভ্রাতৃসজ্জ অশুভের উত্থান প্রত্যক্ষ করে এবং দেখে মানুষ তাদের নব্য লব্ধ জ্ঞান তাদের স্বজাতির মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করছে না। আর তাই তারা তাদের জ্ঞান লুকিয়ে ফেলেন অর্বাচীনদের হাতে সেটা যাতে না পড়ে। ফলশ্রুতিতে এটা এক সময়ে ইতিহাসের বাঁকে হারিয়ে যায়।

    এর সাথে সাথে আসে মানুষের পরম অধ:পতন।

    এবং দীর্ঘস্থায়ী অমানিশা।

    .

    আজ পর্যন্ত, অভিজাত দীক্ষিতের উত্তর পুরুষ প্রয়াস নিচ্ছে, আলোর জন্য অন্ধের মত হাতড়ে চলেছে, অতীতে হারান ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে, অন্ধকারকে পরাজিত করার অভিপ্রায়ে। পৃথিবীর সব ধর্মের মন্দির, গির্জা, মসজিদের তারা পুরোহিত। সময় স্মৃতির ভাস্বরতায় পলির ছাপ ফেলে…তাদেরকে অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করে। তারা এখন আর জানে না তাদের জ্ঞান কোন শক্তিশালী উৎস থেকে প্রবাহিত হত। তাদের যখন তাদের পূর্বপুরুষদের দিব্য রহস্যের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় বিশ্বাসের নতুন রক্ষকের দল উচ্চ কণ্ঠে তাদের সাথে কোন ধরণের সংশ্রব অস্বীকার করে, খারেজী বলে বাতিল করে দেয়।

    তারা কি সত্যিই ভুলে গেছে? মাল’আখ ভাবে।

    প্রাচীন সাধনার এই ধারার প্রতিধ্বনি পৃথিবীর নানা প্রান্তে আজও শোনা যায়, ইহুদিদের মরমীবাদী কাব্বালিস্ট থেকে ইসলামের দুর্বোধ্য সূফীসাধকের দল। খ্রিস্টান ধর্মের রহস্যময় কৃত্যানুষ্ঠানের ভিতরে এর নিদর্শন দেখা যায় হলিকমিউনের দেবতার-ভোজের আঁচারে, এর দেবদূত, সাধু আর শয়তানের প্রাধান্যপরম্পরায়, স্তব আর মন্ত্রোচ্চারণে, এর পবিত্র বর্ষপঞ্জির জ্যোতিষতত্ত্বীয় আলম্বে, এর উৎসর্গিত আলখাল্লায় এবং অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতির মাঝে। এখনও, পাদ্রীরা অশুভ আত্মা বিদূরিত করেন ঘোয়াপূর্ণ ধূপধার আন্দোলিত করে, পবিত্র ঘন্টা বাজিয়ে এবং পবিত্র পানি ছিটিয়ে। খ্রিস্টানরা এখনও মন্ত্রাদি দ্বারা ভূত তাড়াবার অতিপ্রাকৃতিক কৌশল ব্যবহার করে-তাদের বিশ্বাসের আদি প্রথা যা কেবল যা দরকার হয় দুষ্ট আত্মা দূর করতে বা ডেকে নামাতে।

    আর তারপরেও তারা তাদের অতীত দেখতে ব্যর্থ হয়।

    চার্চের মরমী অতীতের প্রমান তার এপিসেন্টারের মত প্রবল আর কোথও। ভ্যাটিক্যান সিটিতে, সেন্ট পিটারস স্কোয়্যারের ঠিক কেন্দ্রে, একটা বিশাল মিশরীয় ওবেলিস্ক দাঁড়িয়ে আছে। যীশু ভূমিষ্ঠ হবার তেরশো বছর আগে খোদাই করা হয়েছিল- এইর ঐশ্বরিক একশিলা স্তম্ভের সেখানে কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই, আধুনিক খৃস্টান ধর্মের সাথে তার কোন যোগসূত্র নেই। কিন্তু তারপরেও সেটা সেখানে আছে। খ্রিস্টের চার্চের একেবারে মর্মস্থলে। একটা পাথুরে সঙ্কেত, মানুষের বোধোদয়ের প্রতিক্ষায় রয়েছে। সেইসব মুষ্টিমেয় ঋষিদের টিকে থাকা নিদর্শন যারা মনে রেখেছিল শুরুটা কোথায় হয়েছে। প্রাচীন রহস্যময়তার গর্ভে এই চার্চের জন্ম, আজও তার প্রতীক আর কৃত্যানুষ্ঠান বহন করে চলেছে।

    একটা প্রতীক সবার উপরে।

    তার বেদী, চূড়া, পুরোহিতের পোষাক, এবং বাণীতে খ্রিস্টত্বের একক ছাপ জড়িয়ে আছে যে একজন ধার্মিক উৎসর্গিত মানুষ। অন্য যে কোন ধর্ম বিশ্বাসের চেয়ে, খ্রিস্টানধর্ম, উৎসর্গের রূপান্তরিত করার ক্ষমতা খুব বেশি বিশ্বাস করে। এখন যীশুর আত্মত্যাগকে সম্মান দেখাতে, তার অনুসারীরা ব্যক্তিগত আত্মত্যাগের দূর্বল অভিব্যক্তি প্রস্তাব করে…উপবাস, জমির ফসল উৎসর্গ, লেন্ট পৰ্ব পালন।

    এইসব উৎসর্গ গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই। রক্তব্যতীত…সত্যিকারের উৎসর্গ নেই।

    অন্ধকারের শক্তি অনেকদিন আগেই রক্তদান প্রথা শুরু করেছে এবং সেটা করতে গিয়ে তারা এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে শুভ শক্তি তাদের দমিয়ে রাখতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। শীঘ্রই আলো পুরোপুরি গ্রাস হয়ে যাবে এবং

    অন্ধকারের সাধনাকারীরা মানুষের মনে অবাধে চলাচল করবে।

    .

    ৯৭ অধ্যায়

    আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার অবশ্যই আছে, সাটো জোর দিয়ে বলে। আবার ভাল করে খুঁজে দেখো!

    নোলা তার ডেস্কে বসা অবস্থায় হেড সেট এডজাস্ট করে। ম্যাম, আমি সবজায়গায় খুঁজে দেখেছি…ডি.সিতে এ রকম কোন ঠিকানা নেই।

    আজব, আমি এক ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারের ছাদে দাঁড়িয়ে আছি, সাটো বলে। তাহলে আট অবশ্যই থাকবে।

    ডিরেকটর সাটো ছাদে দাঁড়িয়ে? দাঁড়ান। নোলা আবার নতুন সার্চ শুরু করে। সে তাকে হ্যাকারের বিষয়টা বলতে চায় কিন্তু এই মুহূর্তে সাটোর মাথায়। আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার আটকে রয়েছে। তাছাড়া, নোলার কাছে পুরো তথ্যও নেই। মরার সেই সিস-সেক গেলো কোথায়?

    ঠিক আছে, নোলা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি সমস্যাটা বুঝেছি। ওয়ান ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার ভবনটার নাম…ওটা কোন ঠিকানা না। ঠিকানাটা আসলে হবে ১৩০১ কে স্ট্রীট।

    খবরটা সম্ভবত ডিরেকটরকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তোলে। নোলা, আমার পক্ষে এখন ব্যাখ্যা করা সম্ভব না-পিরামিডে স্পষ্ট করে লেখা আছে আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার।

    নোলা এবার সটান উঠে বসে। পিরামিডে নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ করা রয়েছে?

    অভিলিখনে, সাটো বলতে থাকে, বলা আছে: দি সিক্রেট হাইডস উইথইন দি অর্ডার- আটফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার।

    নোলা কল্পনা করতে হিমশিম খেয়ে যায়। অর্ডার মানে…ম্যাসনিক বা ভ্রাতৃসঙ্ঘের অর্ডার?

    আমার তাই মনে হয়, সাটো বলে।

    নোলা এক মুহূর্ত ভাবে এবং তারপরে আবার টাইপ করতে শুরু করে। মাম সময়ে সাথে সম্ভবত সড়কের নাম্বার বদলেছে? কিংবদন্তি সত্যি হলে পিরামিডটা বেশ পুরাতন হবার কথা পিরামিডটা তৈরী করার সময়ে হয়ত ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারের নাম্বার আলাদা ছিল? আমি এখন আট ছাড়া সার্চ দিয়েছি…কেবল…অর্ডার,, ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার…এবং ওয়াশিংটন ডি.সি…আমরা তাহলে হয়ত একটা ধারণা পাব যে আসলেই- সার্চ রেজাল্ট আসতে তার কথা মাঝ পথেই থেমে যায়।

    কি পেলে? সাটো অধৈৰ্য কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে।

    নোলা বেকুবের মত লিস্টের প্রথম রেজাল্টের দিকে তাকিয়ে থাকে মিশরের গ্রেট পিরামিডের একটা দৃষ্টিনন্দন ছবি-যা ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারের একটা ভবনের প্রতি উৎসর্গিত পেজের ধারণা ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে। স্কোয়্যারের বাকি ভবনগুলোর সাথে এর কোন মিল নেই।

    বা বলতে গেলে সারা শহরের ভবনের সাথে।

    নোলা ভবনটার আজব স্থাপত্যশৈলী দেখে অবাক হয়না এর উদ্দেশ্যের বর্ণনা পড়ে থমকে যায়। ওয়েবসাইটটা অনুসারে, এই ব্যাতিক্রমী সৌধটা একটা পবিত্র মন্দির হিসাবে নির্মিত হয়েছিল…প্রাচীন একটা গুপ্তসম্মের জন্য, এই সঙ্রে সদস্যদের দ্বারা…এবং এই সঘের সদস্যদের জন্য…এর নক্সা করা হয়েছিল।

    .

    ৯৮ অধ্যায়

    রবার্ট ল্যাংডন প্রচণ্ড মাথাব্যথা নিয়ে জেগে উঠে।

    আমি কোথায়?

    সে যেখানে আছে জায়গাটা অন্ধকার। গভীর-গুহার অমানিশা, এবং মৃত্যুর মত নিরবতা।

    দুহাত দুপাশে রেখে সে মাটিতে পিঠ দিয়ে পড়ে আছে। বিভ্রান্ত, সে তার হাত পায়ের আঙ্গুল নাড়াতে চেষ্টা করে, এবং কোন ব্যথা অনুভব না করায় স্বস্তি পায়। কি হয়েছিল? তার মাথাব্যথা আর নিশ্চিদ্র অন্ধকার ছাড়া বাকী সবই কম

    বেশি স্বাভাবিক মনে হয় তার কাছে।

    প্রায় সবকিছুই।

    ল্যাংডন অনুভব করে সে একটা শক্ত মেঝের উপরে শুয়ে আছে যা বাড়াবাড়ি রকমের মসৃণ, অনেকটা কাঁচের ন্যায়। আরো অবাক করার মত ব্যাপার, সে মসৃণ মেঝেটা তার দেহ ত্বক দিয়ে অনুভব করতে পারে…কাধ, পিঠ, নিতম্ব, উরু, কাফ। আমি কি নগ্নঃ বিভ্রান্ত, সে তার সারা দেহে হাত দিয়ে দেখে।

    খোদা! আমার কাপড় কোথায়?

    অন্ধকারের ভিতরে ধোয়াশা কাটতে শুরু করে এবং ল্যাংডনের সবকিছু মনে পড়তে থাকে…আতঙ্কিত করে তোলার মত সব ঘটনা…এক মৃত সিআইএ এজেন্ট…উল্কি আঁকা পশুটার মুখ…ল্যাংডনের মাথা মেঝেতে বাড়ি খাবার শব্দ…এবং তারপরে মনে পড়ে গা গুলিয়ে উঠার মত ক্যাথরিন সলোমনের হাত-পা বাঁধা মুখে কাপড় গোজা অবস্থায় খাবার ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকার দৃশ্য।

    হায় খোদা!

    ল্যাংডন দ্রুত উঠে বসতে যেযে মাথার কয়েক ইঞ্চি উপরে ঝুলে থাকা কিছু তার কপালে আঘাত করে। ব্যথার একটা ঘূর্ণিঝড় তার মাথার ভিতরে বয়ে যায় এবং সে প্রায় অচেতন অবস্থায় আবার শুয়ে পড়ে। টলোমলো অবস্থায় সে হাত তুলে অন্ধকারে হাতড়াতে থাকে বাঁধাটা কি দেখতে। সে যা খুঁজে পায় বুঝতে পারে না সেটা কি। মনে হয় ঘরের ছাদ মাত্র ফুট খানেক উপরে অবস্থিত। এটা আবার কিসের আলামত? সে দুহাত দুপাশে সরিয়ে উপুড় হবার চেষ্টা করতে গেলে দুপাশের দেয়ালে তার হাত আটকে যায়।

    এতক্ষণে ল্যাংডন বুঝতে পারে ব্যাপারটা। সে মোটেই কোন ঘরে নেই।

    সে একটা বাক্সে আছে!

    তার ক্ষুদ্র শর্বাধারের মত কন্টেনারে ল্যাংডন পাগলের মত দুহাতে আঘাত করতে শুরু করে। সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। প্রতি মুহূর্ত অতিক্রম করার সাথে সাথে চেপে বসা অসহ্য আতঙ্ক তাকে পাগল করে তুলে।

    আমাকে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছে।

    ল্যাংডনের আজব শবাধারের ঢাকনা বিন্দুমাত্র নড়ে না, বুনো আতঙ্কে সে যতই হাত পা দিয়ে আঘাত করুক না কেন। সে কেবল বুঝতে পারে বাক্সটা। ফাঁইবারগ্লাস দিয়ে প্রস্তুত। বাতাস নিরোধক। শব্দ নিরোধক। আলো নিরোধক। পলায়ন নিরোধক।

    এই বাক্সে আমি একাকী দম আটকে মারা যাব।

    ছোট বেলায় সে যে গভীর ইদারায় পড়ে গিয়েছিল সেটার কথা সে ভাবে এবং তলাহীন একটা খাদের অন্ধকারে একাকী সারারাত কাটাবার সেই আতঙ্কজনক স্মৃতির কথা মনে পড়ে। সেই আঘাত ল্যাংডনের মানসিক গঠনে গভীর ক্ষতচিহ্নের জন্ম দিয়েছে, বদ্ধস্থান সম্পর্কে বিবশ করা আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে তার ভিতরে।

    আজরাতে, জীবন্ত সমাধিস্থ অবস্থায় রবার্ট ল্যাংডন তার চরম দুঃস্বপ্নের রাত অতিক্রম করে।

    .

    ক্যাথরিন সলোমন মাল’আখের খাবার ঘরের মেঝেতে পড়ে কাঁপতে থাকে। কব্জিতে আর পায়ে বাঁধা তার মাংসপেশীতে গেথে বসে গেছে এবং সামান্য নড়াচড়া করলে মনে হবে আরও টাইট হচ্ছে বাঁধনটা।

    উল্কি আঁকা লোকটা নির্মমভাবে ল্যাংডনকে অচেতন করে এবং মেঝের উপর দিয়ে তার নির্জীব দেহ আর পিরামিডসহ ব্যাগটা টেনে নিয়ে যায়। তারা কোথায় গিয়েছে, ক্যাথরিনের কোন ধারণা নেই। তাদের সাথে আসা এজেন্টও মৃত। অনেকক্ষন সে একটা শব্দও শোনেনি এবং সে চিন্তা করে উল্কি আঁকা লোকটা আর ল্যাংডন বাড়িতে এখনও আছে কি না। সে সাহায্যের জন্য চেঁচাতে চেষ্টা করে কিন্তু প্রতিবার চেষ্টা করার সাথে সাথে মুখের কাপড়টা বিপজ্জনকভাবে শাসনালীর কাছে চলে আসে।

    এবার সে একটা পায়ের শব্দ তার দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পারে, মাথা ঘুরিয়ে নিরাশার ভিতরেও আশা করে কেউ হয়ত সাহায্য করতে এসেছে। তার বন্দিকর্তার বিশাল অবয়ব হলওয়েতে আবির্ভূত হয়। দশ বছর আগে তার পারিবারিক বাড়িতে তার দাঁড়িয়ে থাকার ছবি কল্পনা করেই সে গুটিয়ে যায়।

    আমার পুরো পরিবার সে শেষ করেছে।

    সে এবার তার দিকে এগিয়ে আসে। ল্যাংডনকে কোথাও দেখা যায় না। লোকটা নীচু হয়, তার কোমরের কাছে ধরে অবলীলায় কাঁধের উপরে তুলে নেয়। হাত পায়ের তার আরো কেটে বসে এবং মুখে কাপড় গোজা থাকায় ব্যথার আর্তনাদ চাপা পড়ে যায়। সে হলওয়ে দিয়ে তাকে নীচে লিভিংরুমে নিয়ে। আসে, যেখানে আজই কয়েক ঘন্টা আগে তারা চুপচাপ বসে চায়ের পাত্রে চুমুক দিয়েছে।

    সে আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে??

    সে তাকে বসার ঘরের ভিতর দিয়ে সোজা থ্রি গ্রেসেস এর বিশাল তৈলচিত্রের ঠিক সামনে নিয়ে আসে যা সে আজই দুপুর বেলা প্রশংসা করেছে।

    তুমি বলেছিলে ছবিটা তোমার পছন্দ হয়েছে, লোকটা বাস্তবিকপক্ষে তার কানেঠোঁট লাগিয়ে ফিসফিস করে কথাটা বলে। আমি কৃতজ্ঞ যে তুমি সম্ভবত শেষ সুন্দর জিনিস হিসাবে এটা দেখছো।

    কথাটা বলেই সে হাত বাড়িয়ে বিশাল ফ্রেমের ডান পাশে তালু দিয়ে চাপ দেয়। ক্যাথরিনকে আতঙ্কিত করে ফ্রেমটা একটা সেন্ট্রাল পিভটের উপরে ঘূর্ণায়মান দরজার মত দেয়ালের ভেতরে ঘুরে যায়। একটা গোপন দরজা।

    ক্যাথরিন মোচড়াতে শুরু করে মুক্তি পাবার জন্য কিন্তু লোকটা তাকে শক্ত করে ধরে ক্যানভাসের পেছনের ফাঁকা স্থানে প্রবেশ করে। থ্রি গ্রেসেস তাদের পেছনে পুনরায় বন্ধ হয়ে গেলে সে ক্যানভাসের পেছনে পুরু আস্তরন দেখতে পায়। এখানের কোন শব্দ বাইরের পৃথিবী শুনতে পাক সেটা কাম্য নয়।

    ছবির পেছনের জায়গাটা আটসাটো, অনেকটা হলওয়ের মত। লোকটা তাকে অন্যপ্রান্তে নিয়ে যায় এবং ভারী দরজা খুলে তাকে একটা ল্যাণ্ডিং এ নামিয়ে রাখে। ক্যাথরিন দেখে সে গভীর বেসমেন্টের দিকে নেমে যাওয়া একটা সরু র‍্যাম্পের দিকে তাকিয়ে আছে। সে লম্বা শ্বাস নেয় চিৎকার করবে বলে কিন্তু মুখে গোজা কাপড় বাগড়া দেয়।

    ঢালটা সংকীর্ণ আর খাড়া। দুপাশের সিমেন্টের দেয়াল নীচ থেকে নীল রঙের আলোয় আলোকিত করা। নীচ থেকে ভেসে আসা বাতাস উষ্ণ, রহস্যময় গন্ধের মিশ্রনে ভারী আর ঝাঝাল…রাসায়নিক পদার্থের ঝাঝাল গন্ধ, ধূপের শান্ত সৌরভ, মানুষের দেহের ঘামের দুর্গন্ধ এবং সবকিছু ছাপিয়ে আন্ত্রিক পাশবিক ভয়ের সুস্পষ্ট ঘ্রাণ।

    তোমার বিজ্ঞান আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে, র‍্যাম্পের নীচে পৌঁছালে লোকটা তাকে ফিসফিস করে বলে। আমি আশা করি আমারটাও তোমাকে তাই করবে।

    .

    ৯৯ অধ্যায়

    সিআইএ ফিল্ড এজেন্ট টার্নার সিমকিনস ফ্রাঙ্কলিন পার্কের অন্ধকারে গুঁড়ি মেরে অপেক্ষা করছে এবং এক দৃষ্টিতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়ারেন বেল্লামির দিকে তাকিয়ে আছে। এখনও কেউ টোপ গিলেনি, কিন্তু মাত্র অপেক্ষার পালা শুরু হয়েছে।

    সিমকিনসের ট্রান্সসিভার বিপ করে, এবং সে সেটা চালু করতে করতে আশা করে তার লোকেরা বোধহয় কিছু একটা দেখেছে। কিন্তু দেখা যায় সাটো সেটা। তার কাছে নতুন তথ্য আছে।

    সিমকিনস তার কথা শোনে এবং তার উদ্বেগের সাথে একমত হয়। অপেক্ষা করেন, সে বলে, আমি দেখি কিছু দেখতে পাই কিনা। সে যে। ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল তার ভেতর ক্রল করে এগিয়ে এবং যেদিক দিয়ে তারা স্কোয়্যারে প্রবেশ করেছে সেদিকে তাকায়। কিছুক্ষণ নড়াচড়া করে সে। অবশেষে একটা দৃষ্টিপথ খুঁজে পায়।

    হলি শিট!

    সে একটা ভবনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে যা দেখতে অনেকটা পুরানো দুনিয়ার মসজিদের মত। দুটো বড় ভবনের মাঝে অবস্থিত, ভবনটার মুরীয়। সম্মুখভাগ জটিল নানাবর্ণের ডিজাইনে চকচকে টেরাকোটা টাইলগ দিয়ে নির্মিত। তিনটা বিশাল দরজার উপরে দুই সারি উঁচু সংকীর্ণ এবং সুচাল শীর্ষ বিশিষ্ট জানালা দেখে মনে হবে এখনই বোধহয় আরব তীরন্দাজের দল সেখানে হাজির হয়ে অনাহুত কাউকে এগিয়ে আসতে দেখলে তীরে বন্যা বইয়ে দেবে।

    আমি দেখতে পেয়েছি, সিমকিনস বলে।

    কোন কর্মতৎপরতা?

    কিছুইনা।

    ভাল। আমি চাই তুমি স্থান পরিবর্তন করে জায়গাটা ভাল করে পর্যবেক্ষন করবে। ভবনটার নাম আলমাস শ্রাইন টেম্পল আর এটা এক মরমী গোষ্ঠীর সদরদপ্তর।

    সিমকিনস ডি.সি এলাকায় অনেকদিন সক্রিয় রয়েছে কিন্তু এই টেম্পল বা সেটা যে কোন প্রাচীন মরমী গোষ্ঠীর সদরদপ্তর জানতো না।

    এই ভবনটা, সাটো বলে, যে গোষ্ঠীর তাদের বলা হয় দি এ্যানশিয়েন্ট এ্যারাবিক অর্ডার অব নোবলস অব দি মিসটিক শ্রাইন।

    বাপের কালেও শুনিনি।

    আমার মনে হয় শুনেছো, সাটো বলে। তারা ম্যাসনদের সাথে সংযুক্ত, সাধারণভাবে তারা শ্রাইনারস নামে পরিচিত।

    সিমকিনস সন্দিহান দৃষ্টিতে অলঙ্কৃত ভবনটার দিকে তাকায়। দি শ্রাইনারস? যারা বাচ্চাদের জন্য হাসপাতাল তৈরী করে তারা? লাল ফেজ পরিহিত মানবতাবাদী এই ভ্রাতসঙ্রে চেয়ে কম অলুক্ষুণে অর্ডার সে মনে করতে পারে না, যারা একসাথে কুচকাওয়াজ করে চলাফেরা করে।

    অবশ্য সাটোর উদ্বিগ্ন হবার কারণ আছে। ম্যাম আমাদের টার্গেট যদি বুঝতে পারে এটাই ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যারের দি অর্ডার তাহলে তার ঠিকানার প্রয়োজন নেই। সে অভিসার বানচাল করে সোজা আসল স্থানে চলে যাবে।

    আমিও তাই ভেবেছি। প্রবেশপথের উপরে নজর রাখো।

    ইয়েস ম্যাম।

    ক্যানোরামা হাইটস থেকে এজেন্ট হার্টম্যান যোগাযোগ করেছে?

    নাতো। আপনি তাকে সরাসরি আপনাকে ফোন করতে বলেছেন।

    বলেছি, কিন্তু সে করেনি।

    এমন হবার কথা না, সিমকিনস ভাবে, ঘড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে। অনেক আগেই যোগাযোগ করা উচিত ছিল।

    .

    ১০০ অধ্যায়

    গভির অন্ধকারে রবার্ট ল্যাংডন কাঁপতে কাঁপতে নগ্ন আর একাকী শুয়ে থাকে। ভয়ে প্রায় পঙ্গু হয়ে সে এখন চিৎকার করা বা আঘাত করা বন্ধ করেছে। তার বদলে সে এখন চোখ বন্ধ করে তার হাতুড়ির মত হৃদস্পন্দন আর আতঙ্কিত শ্বাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

    তুমি রাতের আধারে বিশাল আঁকাশের নীচে শুয়ে রয়েছে, সে নিজেকে প্রবোধ দিতে চেষ্টা করে। তোমার মাথার উপরে মাইলের পর মাইল কেবল ফাঁকা জায়গা।

    সম্প্রতি বদ্ধ এমআরআইয়ের সাথে সাক্ষাৎ এভাবে শান্ত উপলব্ধির সাথে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে…অবশ্য সাহস যোগাতে তিন ডোজ ভ্যালিয়ামও দেয়া হয়েছিল। আজ রাতে, অবশ্য মানসিক উপলব্ধি এখনও কাজে দেয়নি।

    .

    ক্যাথরিন সলোমনের মুখের কাপড়টা গলার আরও ভিতরে ঢুকে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলে প্রায়। তার বন্দিকর্তা তাকে র‍্যাম্প দিয়ে নামিয়ে একটা সংকীর্ণ বেসমেন্ট করিডোর দিয়ে এগিয়ে যায়। হলের শেষ প্রান্তে সে একটা ঘর দেখে যেটা আতঙ্কজনক লালচে-বেগুনী আলোয় উদ্ভাসিত কিন্তু সে তাকে ততদূর নিয়ে যায় না। লোকটা একটা ছোট পাশ্ববর্তী কামরার সামনে দাঁড়ায়। দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং একটা কাঠের চেয়ারে তাকে বসায়। সে তাকে চেয়ারে বসাবার সময়ে সে তার পিঠ আর পেছনে বাঁধা হাতের মাঝে চেয়ারে হেলান দেবার অংশটা রেখে বসায় যাতে সে নড়াচড়া না করতে পারে।

    ক্যাথরিন এখন টের পায় কব্জির বাধন মাংসের আরও গভীরে কেটে বসে যাচ্ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় দম আটকে যাবার আতঙ্কে কব্জির ব্যথা খুব একটা পাত্তা পায় না। গলার কাপড় আরও ভেতরে ঢুকে গেছে এবং বুঝতে পারে সে নিজে থেকেই শ্বাসরুদ্ধ হতে চলেছে। তার দৃষ্টি সংকীর্ণ হয়ে আসে।

    তার পেছনে উল্কি আঁকা লোকটা দরজা বন্ধ করে দিয়ে আলো নিভিয়ে দেয়। তার চোখ থেকে অনবরত পানি পরতে শুরু করে এবং সে তার আশেপাশের কিছুই আলাদা করে চিনতে পারে না। সব কিছুই ঝাঁপসা দেখায়।

    রঙিন মাংসের বিকৃত দৃশ্য তার সামনে ভেসে উঠে এবং ক্যাথরিন টের পায় তার চোখ ঝাঁপটাতে শুরু করেছে অচেতনতার প্রান্তে পৌঁছে সে টলমল করতে থাকে। আশ আবৃত একটা বাহু এগিয়ে এসে তার মুখ থেকে কাপড়টা বের করে নেয়।

    আঁকুপাকু করে ক্যাথরিন জোরে শ্বাস নেয়, কাশতে কাশতে তার দম আটকে আসে মূল্যবান বাতাস তার ফুসফুঁসে প্রবেশ করতে। ধীরে ধীরে তার দৃষ্টি পরিষ্কার হয় এবং সে দেখে শয়তানের মুখের দিকে সে তাকিয়ে আছে। মুখাবয়বে মানুষের সাথে মিল সামান্যই। তার গলা মুখ আর কামান মাথায় অদ্ভুত প্রতীক বিস্ময়কর বিন্যাসে উল্কি করা। মাথার তালুতে সামান্য একটা স্থান বাদ দিয়ে তার দেহের পুরোটাই উল্কি করা। তার বুকের দুই মাথা বিশিষ্ট অতিকায় ফিনিক্স স্তনবৃন্তের ন্যায় চোখে কোন অজানা প্রজাতির মাংসাশী শকুনের মত তার দিকে তাকিয়ে থাকে, ধৈর্য্য ধরে তার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।

    মুখ খোলো, লোকটা ফিসফিস করে বলে।

    দানবটার দিকে সে বিরূপ অভিব্যক্তিতে তাকিয়ে থাকে। কি?

    তোমার মুখ খোলো, লোকটা আবার বলে। নয়তো কাপড়টা আবার যথাস্থানে ফেরত যাবে।

    কাঁপতে কাঁপতে ক্যাথরিন মুখ খোলে। লোকটা তার উল্কি আঁকা মোটা তর্জনী তার ঠোঁটের ভিতরে প্রবেশ করায়। সে যখন তার জিহ্বা স্পর্শ করে ক্যাথরিনের মনে হয় সে বমি করে দেবে। সে তার ভিজা আঙ্গুল বের করে এনে। কামান মাথার উপরে ঠেকায়। চোখ বন্ধ করে সে এবার লালাটা তার উল্কিহীন। গোলাকার ত্বকে ভাল করে ঘষে।

    বিতৃষ্ণায়, ক্যাথরিন মুখ ফিরিয়ে নেয়।

    যে ঘরটায় সে বসে আছে সেটা দেখতে অনেকটা বয়লার রুমের মত-দেয়ালে পাইপ লাগান, গরগর শব্দ শোনা যায়, ফুরোসেন্ট আলো। সে তার চারপাশটা ভাল করে দেখার আগেই অবশ্য তার দৃষ্টি মাটিতে পড়ে থাকা কাপড়ের একটা স্তূপে আটকে যায়- টার্টলনেক, টুইডের স্পোর্টস কোট, লোফার, মিকিমাউস ঘড়ি।

    হায় খোদা! সে ঘুরে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উল্কি আঁকা জানোয়ারটার দিকে তাকায়। রবার্টের সাথে তুমি কি করেছো?!

    শশশ, লোকটা ফিসফিস করে বলে। নয়তো সে তোমার কথা শুনতে পাবে। সে একপাশে সরে গিয়ে নিজের পেছনে ইঙ্গিত করে।

    ল্যাংডনকে সে দেখতে পায় না। পেছনে কেবল একটা কালো ফাঁইবার গ্লাসের বিশাল বাক্স সে দেখতে পায়। যুদ্ধ থেকে যেসব ক্রেটে করে নিহত সৈনিকের লাশ দেশে ফিরে আসে তার সাথে কেমন একটা অস্বস্তিকর সাদৃশ্য রয়েছে বাক্সটার। দুটো ঢাউস কজা বাক্সটা শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে।

    সে বাক্সের ভেতরে?! ক্যাথরিন জোরে চেঁচিয়ে উঠে। কিন্তু…তার দম বন্ধ হয়ে যাবে।

    না, সেটা হবে না, সে কয়েকটা স্বচ্ছ পাইপ দেখায় যেগুলো বাক্সের নীচে পর্যন্ত বিস্তৃত। সে কেবল তেমনটা কল্পনা করতে পারবে।

    .

    সম্পূর্ণ অন্ধকারে ল্যাংডন বাইরের পৃথিবী থেকে ভেসে আসা চাপা শব্দ কান পেতে শোনে। কণ্ঠস্বর? সে আবার বাক্স পেটাতে শুরু করে আর প্রাণপনে চেঁচাতে থাকে। বাঁচাও! আমার কথা কেউ শুনতে পাচ্ছ??

    দূর থেকে একটা মৃদু কণ্ঠ ভেসে আসে। রবার্ট! হায় ঈশ্বর, না! না!

    কণ্ঠস্বরটা সে চেনে। ক্যাথরিনের আর তাকে আতঙ্কিত শোনায়। তার পরেও শব্দটা শুনে তার ভাল লাগে। ল্যাংডন বড় করে শ্বাস নেয় তার উদ্দেশ্যে ডাকবে বলে কিন্তু গলার পেছনে একটা অপ্রত্যাশিত অনুভূতি তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেয়। বাক্সের তলদেশ থেকে হাল্কা বাতাস যেন বইতে শুরু করেছে। এটা কিভাবে সম্ভব? সে চুপচাপ শুয়ে থেকে ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করে। হ্যাঁ, কোন সন্দেহ নেই। সে টের পায় তার গলার পেছনের ছোট চুলগুলো বাতাস আন্দোলিত হয়।

    সহজাত প্রবৃত্তির বশে সে পিঠ দিয়ে বাক্সের তলদেশ অনুভব করে বাতাসের উৎস খোঁজে। এক মুহূর্ত লাগে উৎসটা খুঁজে পেতে। একটা ক্ষুদ্র ভেন্ট! অনেকটা বাথটাব বা বেসিনের পানি অপসরণ ছিদ্রের মত। কেবল এখন সেখান। দিয়ে বাতাসের একটা নরম সুস্থির ধারা নিঃসৃত হচ্ছে।

    সে বাতাস দিচ্ছে, সে চায় না আমি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাই।

    ল্যাংডনের স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকে না। একটা ভীতিকর শব্দ এবার ভেন্টের ভিতর দিয়ে বের হতে শুরু করে। তরল প্রবাহের গড়গড় শব্দ ভুল হবার কোন সম্ভাবনাই নেই…তার দিকে এগিয়ে আসছে।

    .

    ক্যাথরিন চোখে অবিশ্বাস নিয়ে তরলের স্বচ্ছ শ্যাফটের দিকে তাকিয়ে থাকে যা ল্যাংডনের বাক্সের দিকে এগিয়ে যাওয়া একটা পাইপের সাথে এসে মিশেছে।

    সে এবার পানি প্রবেশ করাচ্ছে?!

    ক্যাথরিন তার বাঁধন মোচড়াতে শুরু করে, কব্জিতে কেটে বসা তারের কঠোর আলিঙ্গন পরোয়া করে না। সে কেবল আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। বেপরোয়া হয়ে সে ল্যাংডনকে ভেতরে ছটফট করতে শোনে কিন্তু বাক্সের তলদেশে পানি প্রবেশ করা মাত্র সেটাও থেমে যায়। এক মুহূর্তের জন্য অস্বস্তিকর একটা নিরবতা বিরাজ করে। তারপরে

    পুনরায় ছটফট করার শব্দ দ্বিগুণ বেগে শুরু হয়।

    তাকে ওখান থেকে বের কর! ক্যাথরিন অনুনয় করে বলে। তুমি তার সাথে এমন করতে পার না!

    তুমি জান, পানিতে ডুবে মরাটা একটা ভয়ঙ্কর মৃত্যু। লোকটা তার চারপাশে বৃত্তাকারে পায়চারি করতে করতে শান্ত কণ্ঠে বলে। তোমার সহকর্মী ত্রিস তোমাকে সেটা বলতে পারতো।

    ক্যাথরিন তার কথাটা শোনে কিন্তু সেটা তার কাছে খুব একটা বোধগম্য হয়।

    তোমার হয়ত মনে থাকবে একবার আমিও প্রায় ডুবতে বসেছিলাম, লোকটা ভীতিকর ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলে। পোটোম্যাকে তোমাদের পারিবারিক এস্টেটে। তোমার ভাই আমাকে গুলি করলে আমি জ্যাকস ব্রিজ থেকে পড়ে বরফের ভেতর দিয়ে নীচে চলে যাই।

    ক্যাথরিন তীব্র চোখে তার দিকে তাকায়, সেখানে কেবলই ঘৃণা। সে রাতে তুমি আমার মাকে হত্যা করেছিলে।

    ঈশ্বর আমাকে সে রাতে বাঁচিয়েছিলেন, সে বলে। আর তারা আমাকে পথ দেখায়…তাদের একজনে পরিণত হবার।

    .

    ল্যাংডনের মাথার পেছন দিয়ে গরগর করে উঠে আসা পানি উষ্ণ অনুভূত হয়…শরীরের তাপমাত্রার সমান, ঈষদুষ্ণ। পানি ইতিমধ্যে কয়েক ইঞ্চি গম্ভীর হয়ে উঠেছে এবং তার নগ্ন দেহের নিম্নাংশ পুরোপুরি ডুবিয়ে দিয়েছে। পানি তার পাজরের কাছে উঠে আসলে ল্যাংডন দ্রুত একটা নগ্ন বাস্তবতার এগিয়ে আসা অনুভব করে।

    আমি মারা যাচ্ছি।

    নতুন করে আতঙ্কের একটা স্রোত তাকে আপুত করলে সে আরো বেপরোয়াভাবে ভেতর থেকে ধাক্কা দিতে শুরু করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম
    Next Article বরফকল – ওয়াসি আহমেদ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }