Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্যা লস্ট সিম্বল – ড্যান ব্রাউন

    ওমর ফারুক এক পাতা গল্প734 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. ঘন্টাঘরের তীব্রতায়

    ১১১ অধ্যায়

    ঘন্টাঘরের তীব্রতায় পুরো তিন মিনিট ঘন্টাটা বেজে চলে, ল্যাংডনের মাথার উপরে স্ফটিকে ঝাড়বাতি কিন্নর শব্দে আলোড়িত হয়। ফিলিপস এক্সিটার একাডেমীর এই সর্বজন প্রিয় এ্যাসেম্বলী হলে সে বহু দশক আগে এখানে লেকচার শুনতে আসত। অবশ্য আজ এসেছে তার এক বন্ধুর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তৃতা শুনতে। আলো কমে আসতে পেছনের দেয়ালের পাশে সে একটা চেয়ারে উপবিষ্ট হয়, তার মাথার উপরে হেডমাস্টারদের প্রতিকৃতির একটা সমাবেশ দেয়ালে সাজান আছে।

    দর্শকদের ভিতরে একটা নিরবতা নেমে আসে।

    পরিপূর্ণ অন্ধকারের ভিতরে একটা লম্বা, আবছায়া অবয়ব স্টেজের উপর দিয়ে পোডিয়ামের দিকে এগিয়ে আসে। সুপ্রভাত, মাইক্রোফোনে অবয়বহীন

    একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে উঠে।

    উপস্থিত সবাই চোখ কুঁচকে দেখতে চেষ্টা করে সে কথা বলছে।

    একটা স্লাইড প্রোজেক্টর জীবন্ত হয়ে উঠে, একটা সেপিয়া ফটোগ্রাফের আবছা প্রতিকৃতি দেখা যায়-লাল বেলেপাথরের একটা দূর্গের নাটকীয় চেহারার সম্মুখভাগ, উঁচু চারকোণা টাওয়ার এবং গোথিক রীতিতে যা অলঙ্কৃত।

    ছায়াটা আবার কথা বলে। আমাকে কে বলতে পারবে এটা কোথায় অবস্থিত?।

    ইংল্যানয! একটা মেয়ে অন্ধকারে বলে উঠে। এটা গোথিক আর রোমানেস্কের শেষের দিকের রীতির একটা সংমিশ্রণ যা একে গুরুত্বপূর্ণ নরম্যান দূর্গের মহিমা দান করেছে এবং ইংল্যাণ্ডের বারো শতকের কীর্তি।

    বাবা, চেহারাহীন কণ্ঠস্বর বলে। কেউ দেখছি স্থাপত্যবিদ্যায় পণ্ডিত আমাদের মাঝে উপস্থিত আছে।

    নিরব হতাশা চারপাশে বিরাজ করে।

    দুর্ভাগ্যবশত, কণ্ঠস্বরটা এবার বলে, তুমি মেয়ে, তিন হাজার মাইল দূরে আর পাঁচশ বছর এগিয়ে গিয়েছে।

    সারা ঘর চমকে যায়।

    প্রজেক্টর এবার একই ছবির অন্য আঙ্গিক থেকে কালার আধুনিক ছবি উপস্থাপন করে। দূর্গটার সেনেকা ক্রীক বেলেপাথর সামনের দৃশ্যপট জুড়ে অবস্থান করছে কিন্তু পেছনে খুব কাছেই রাজকীয়, সাদা, কলামযুক্ত ইউ.এস ক্যাপিটলের গম্বুজ দেখা যাচ্ছে।

    দাঁড়াও! মেয়েটা চেঁচিয়ে উঠে। ডি.সিতে নরম্যান দূর্গ আছে??

    সেই ১৮৮৫ সাল থেকে, কণ্ঠস্বরটা উত্তর দেয়। পরের ছবিটা সে সময়ে। তোলা।

    আরেকটা নতুন স্লাইড ভেসে উঠে-সাদা কালো ভেতরের দৃশ্য, একটা খিলানাকৃতি বলরুম, প্রাণীদেহের কঙ্কাল, বৈজ্ঞানিক নমুনার ডিসপ্লে, বায়োলজিক্যাল স্যাম্পেলের কাঁচের জার, নৃতাত্ত্বিক প্রত্নবস্তু, এবং প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপের প্লাস্টার কেসে রুমটা সজ্জিত।

    এই বিস্ময়কর দূর্গ, কণ্ঠস্বরটা বলে, আমেরিকার প্রথম সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক জাদুঘর। এটা আমেরিকাকে উপহার দিয়েছিলেন এক ধনবান বৃটিশ বিজ্ঞানী যিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের মত বিশ্বাস করতেন আমাদের এই ক্রমবর্ধমান দেশ একদিন আলোকিত ভূখণে ড পরিণত হবে। তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের বিশাল সম্পদ দান করেন এবং অনুরোধ করেন দেশের কেন্দ্রস্থলে জ্ঞানের প্রসার আর প্রচারের জন্য একটা ভবন নির্মাত করা হয় যেন এই সম্পদ দিয়ে। সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। এই বিজ্ঞানীর নাম কে বলতে পারবে?

    সামনের সারি থেকে একজন ভীরু কণ্ঠে বলে, জেমস স্মিথসন?

    চিনতে পারার পরিচিত গুঞ্জনে এবার ক্লাসরুম ভাসতে থাকে।

    অবশ্যই স্মিথসন, স্টেজের লোকটা বলে। পিটার সলোমন এবার আলোতে এসে দাঁড়ায় তার ধুসর চোখে আনন্দ খেলা করছে। সুপ্রভাত, আমার নাম পিটার সলোমন আর আমি স্মিথসোনিয়ান অনুষদের সেক্রেটারী।

    ছাত্ররা হাততালিতে ঘর ভরিয়ে তোলে।

    ল্যাংডন পেছনে বসে মুগ্ধ হয়ে দেখে পিটার ছাত্রদের অনুষদের শুরু দিকের ইতিহাস ছবির সাহায্যে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলে। বর্ণনাটা শুরু হয় স্মিথসোনিয়ান দূর্গ, বেসমেন্টের বিজ্ঞান গবেষণাগার, এক্সিবিট ভর্তি করিডোর, বিজ্ঞানীদের ছবি যারা নিজেদের কিউরেটরস অব ক্রাস্টেসিয়ানস বলতেন এবং বর্তমানে মৃত অনুষদের দুই সবচেয়ে জনপ্রিয় বাসিন্দা- ডিফিউশন আর ইনক্রিজ নামের দুটো প্যাচা। আধঘন্টার স্লাইড শো শেষ হয় ন্যাশনাল মলে অতিকায় স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরের স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে।

    আমি শুরুতে যা বলেছিলাম, সলোমন সমাপ্তি ভাষণে বলেন, জেমস স্মিথসন আর আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের এই দেশ আলোকিত ভূখণ্ডে পরিণত হবে। আমি বিশ্বাস করি আজ বেঁচে থাকলে তারা গর্ব বোধ করতেন। আমেরিকা একেবারে কেন্দ্রস্থলে বিজ্ঞান আর জ্ঞানের প্রতীক হয়ে তাদের মহান স্মিথসোনিয়ান অনুষদ আজ দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের। পূর্বপুরুষদের স্বপ্নের আমেরিকার এটা একটা জলজ্যান্ত প্রতিরূপ- যে দেশটা বিজ্ঞান, জ্ঞান, আর জ্ঞানের নীতির উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

    একটা ছেলে হাত তুলে, মি. সলোমন, তার কণ্ঠস্বরে বিভ্রান্তি পরিষ্কার। আপনি বলেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষরা ইউরোপের ধর্মীয় নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এখানে পালিয়ে এসেছিলেন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির নীতির উপরে একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় নিয়ে। .

    ঠিক আছে।

    কিন্তু…আমার এখন মনে হচ্ছে তারা খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

    সলোমন হাসেন। বন্ধুরা আমার কথা ভুল ব্যাখ্যা কোরো না। আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন গভীর ধর্মপ্রাণ কিন্তু সেইসাথে ডেইষ্ট- যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন বটে কিন্তু সেটা ছিল বিশ্বজনীন আর উদারমনের। তাদের একমাত্র ধর্মীয় মতবাদ ছিল ধর্মীয় স্বাধীনতা। তারা আধ্যাত্মিকতায় উদ্দীপিত একটা ইউটোপিয়ান সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা বস্তাপচা ধর্মীয় কুসংস্কারের জায়গায় জনশিক্ষা আর বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আর চিন্তার স্বাধীনতার ভিত্তিতে গঠিত।

    একটা মেয়ে হাত তুলে।

    হ্যাঁ?

    আমি, হাতের সেলফোন সে দেখায়, উইকেপিডিয়া সার্চ করছিলাম যেখানে বলছে আপনি একজন অগ্রগণ্য ফ্রিম্যাসন।

    পিটার হাতের আংটি দেখিয়ে বলে, তোমার ডাটা চার্জ আমি বাচিয়ে দিতে পারতাম।

    আপনি বললেন, সে একটা ঢোক গিলে, বস্তা পচা ধর্মীয় কুসংস্কার কিন্তু…ম্যাসনরাই আমি জানি বস্তাপচা কুসংস্কারের সবচেয়ে বড় প্রস্তাবক।

    সেটা কিভাবে?

    আমি পড়েছি যে আপনারা অদ্ভুত প্রাচীন কৃত্যানুষ্ঠান আর বিশ্বাসের ধারক। আপনারা একধরণের প্রাচীন যাদুকরী জ্ঞানয় বিশ্বাস করেন…যার কিনা মানুষকে দেবতাদের কাতারে উন্নীত করতে সক্ষম?

    আসলে, সলোমন বলে, তোমার কথা পুরোপুরি ঠিক।

    সলোমন হাসি চেপে মেয়েটাকে বলে, আর কি লেখা আছে তোমার উইকি-জ্ঞানয়?

    মেয়েটা অস্বস্তি নিয়ে পড়তে শুরু করে।

    এই শক্তিশালী জ্ঞান অদীক্ষিতের দল যাতে ব্যবহৃত না করতে পারে সেকারণে গোড়ার দিকের দীক্ষিতেরা সংকেতে তাদের জ্ঞানের কথা লিপিবদ্ধ করেন…এর শক্তিশালী সত্য রূপক, পূরাণ আর প্রতাঁকের আবরণে আড়াল করে ফেলেন। আজও এই সাঙ্কেতিক জ্ঞান আমরা আমাদের চারপাশে দেখতে পাই…যুগ যুগ ধরে আমাদের পূরাণ, চিত্রকলা আর অকাল্ট পাণ্ডুলিপিতে এটা প্রচলিত হয়ে এসেছে। আধুনিক মানুষ দুর্ভাগ্যবশত এই জটিল জ্ঞান পাঠোদ্ধারের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে…আর তাই মহান সত্য লুপ্ত হয়েছে।

    সলোমন খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে থাকেন। এই শেষ?

    না আরেকটু লেখা আছে?

    আমাদের বলেন।

    যে মুনি ঋষির দল প্রাচীন রহস্যময়কে সাঙ্কেতিক ভাষায় পরিণত করেছিল তারা অনেক আগেই তা পাঠোদ্ধারের জন্য একধরণের সূত্র রেখে গিয়েছেন…যাকে বলা হয় ভারবাম সিগনিফিকেটিয়াম- বলা হয়ে থাকে অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে প্রাচীন রহস্যময়তাকে সব মানুষের বোধগম্য করার ক্ষমতা এর আছে।

    আর এই বিস্ময়কর শব্দ এখন কোথায় আছে?

    এখানে বলা হয়েছে, ভারবাম সিগনিফিকেটিয়াম মাটির গভীরে প্রোথিত আছে যেখানে এটা ইতিহাসের সন্ধিক্ষণের জন্য ধৈৰ্য্য নিয়ে অপেক্ষা করছে…যখন মানবজাতি সর্বযুগের সত্য, জ্ঞান আর জ্ঞান ব্যাতীত টিকে থাকতে পারবে না। এই অন্ধকার চরম মুহূর্তে তারা শব্দকে খুঁজে বের করবে এবং একটা নতুন আলোকিত যুগের সূচনা করবে।

    মি. সলোমন, আপিনি এসব বিশ্বাস করেন?

    সলোমন হাসে। করলে ক্ষতি কি? আমাদের পূরানে যাদুকরী মন্ত্রের লম্বা ইতিহাস আছে যা মানুষকে অন্তদৃষ্টি আর দেবতার শক্তি প্রদান করে। আমাদের ছেলেরা আজও বলে অ্যাব্রাকাস্ত্রো যার মানে আমি যা বলি তাই সৃষ্টি হয়, এটা প্রাচীন আর‍্যামায়িক মরমীবাদ–আভরা কাড়াভরা- থেকে এসেছে।

    কিন্তু স্যার কেবল একটা শব্দ …এই ভারবাম সিগনিফিকেটাম…এর প্রাচীন জ্ঞান উন্মোচনের ক্ষমতা আছে এটা নিশ্চয়ই আপনি বিশ্বাস করেন না।

    সলোমন চুপ করে থাকে। আমার বিশ্বাস নিয়ে তোমার মাথা না ঘামালেও চলবে। তোমার ভাবনার বিষয় হল এই অনাগত আলোকময়তার কথা সব বিশ্বাস আর দার্শনিক প্রথায় ভবিষ্যত বাণী করা হয়েছে। হিন্দুরা একে বলে কৃত্য যুগ, জ্যোতির্বিদরা বলে একুয়ারিসের যুগ, ইহুদিরা একে বলে মেসিয়ার আগমন, থিওসোফিস্টরা বলে নতুন যুগ, কসমোলজিস্টরা বলে হারমোনিক কনভারজেন্স আর এর নির্দিষ্ট তারিখ তারা উল্লেক করেন।

    ডিসেম্বর ২১, ২০১২। হ্যাঁ, খুবই সন্নিকটে…অবশ্য মায়ান গণিতে যদি তুমি বিশ্বাস কর।

    ল্যঙ্গডন হাসে, সলোমন দশ বছর আগেই টেলিভিশনের এই বর্তমান প্রচারণা যে ২০১২ পৃথিবীর ধ্বংস সূচীত করবে বলে বাড়াবাড়ি শুরু হবে, ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।

    সময়কালটা আপাতত ভুলে যাও, সলোমন বলে, কিন্তু মানবজাতির সব মতের দার্শনিকরা এই মহান আলোকময়তা আসবার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন। সব যুগে, সব সংস্কৃতিতে মানুষ এই একটা ধারণা অধিশ্রয়ন করেছে মানুষের রূপান্তরের আগমন কাল…মানুষের মনের সত্যিকারের সম্ভাবনার স্থগিত রূপান্তর। সে হাসে। বিশ্বাসের এই ঐক্যতানের কি ব্যাখ্যা হতে পারে?

    সত্য।

    সলোমন ঘুরে তাকায়, কথাটা কে বললো?

    একটা তিব্বতী বা নেপালী ছেলে হাত তুলে, হয়ত একটা বিশ্বজনীন সত্য সব মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত আছে। আমাদের ডিএনএতে হয়ত সাধারণ একটা ধ্রুবক আছে। এই সমষ্টিগত সত্য হয়ত আমাদের সবার গল্পগুলোকে একই মাত্রা দিয়েছে।

    সলোমন হাত জোড়া করে ছেলেটার দিকে আলোকিত চিত্তে মাথা নোয়ায়। ধন্যবাদ।

    সত্য, সলোমন তার শ্রোতাদের বলে, সত্যের একটা শক্তি আছে। আমরা যদি সবাই একই ধারণার প্রতি ধাবিত হই, আমরা ধাবিত হই সম্ভবত এই ধারণাগুলো সত্যি বলে…আমাদের গভীরে প্রোথিত আছে। আর আমরা যখন এই সত্য কথন শুনি, আমরা যদি সেটা বুঝতে নাও পারি, আমরা অনুভব করি সত্যটা আমাদের ভিতরে অনুরণিত হচ্ছে…আমাদের ভেতর একটা অচেতন জ্ঞানকে আন্দোলিত করেছে। সম্ভবত এই সত্য আমাদের জানতে হবে, বরং একে জাগিয়ে তুলতে হবে…পুনরায় স্মরণ করতে হবে…পুনরায় জানতে হবে., যা ইতিমধ্যেই আমাদের ভিতরে অবস্থান করছে।

    সারা ক্লাস স্তব্ধ হয়ে থাকে।

    সলোমন আরো কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে সবাইকে ব্যাপারটায় ধাতস্থ হতে দেয়। তারপরে শান্ত কণ্ঠে বলে, শেষে তোমাদের সাবধান করে বলি, এই সত্যের দেখা পাওয়া মোটেই সহজ না। সবকালেই আলোকতার সাথে সাথে এসেছে অন্ধকারাচ্ছন্নতা যা ঠিক বিপরীত দিকে আমাদের নিয়ে যেতে চেয়েছে। প্রকৃতি আর ভারসাম্যের সূত্র এটাই। আজ বিশ্বে অন্ধকারের বাড়বাড়ন্ত দেখে ভীত হবার কিছু নেই এর মানে আলোও সমান তেজে বাড়ছে। আমরা আলোকময়তার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। আমরা সবাই খুবই ভাগ্যবান যে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে আমরা জীবিত রয়েছি। আমাদের আগে যারা জীবিত ছিলেন সবাই ইতিহাসের বিভিন্ন কালে জীবিত ছিলেন….আমরাই পরম রেনেসাসের প্রত্যক্ষদর্শী হবার সৌভাগ্য নিয়ে বেঁচে আছি, সময়ের এই সংকীর্ণ গণ্ডিতে আমরা এর সাক্ষী হয়ে থাকব। সহস্র বর্ষের অন্ধকারাচ্ছন্নতার পরে আমরা আমাদের বিজ্ঞান, মন আর ধর্মকে একসাথে সত্যকে উন্মোচিত করছে প্রত্যক্ষ করবো।

    সবাই হাততালিতে ফেটে পড়বে তার আগেই সে সবাইকে থামিয়ে সেলফোন হাতের সেই মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ম্যাম তোমার ধারণার সাথে আমি হয়ত একমত না কিন্তু তোমার প্যাশন একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক এই অনাগত পরিবর্তনের জন্য। অন্ধকারাচ্ছন্নতা সমবেদনার উপরে ভর করে বৃদ্ধি পায়…আর বিশ্বাস হচ্ছে তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক। বাইবেল পাঠ অব্যাহত রাখবে। সে হাসে। বিশেষ করে শেষের পাতাগুলো।

    মহাপ্রলয়? মেয়েটা জানতে চায়।

    ঠিক। বুক অব রিভিলেশন আমাদের এই একই সত্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বাইবেলের এই শেষ বইটা অন্য অসংখ্য প্রথার একই বিশ্বাসের গল্প বলেছে। তারা সবাই অনাগত জ্ঞানর আগমনের আসন্নতার কথা বলেছেন।

    কিন্তু মহাপ্রলয় পৃথিবীর অন্তিম সময়ের কথা বলছে নাকি? মানে অ্যান্টিক্রাইস্ট, আর্মাগেডন, শুভ আর অশুভের লড়াই এসব কথা।

    সলোমন হাসে। এখানে গ্রীক জানা আছে কার কার?

    কয়েকজন হাত তুলে।

    এ্যাপোক্যালিপস শব্দে আক্ষরিক মানে কি?

    এর মানে, সে শুরু করে নিজেই চমকে উঠে। এ্যাপোক্যালিপস মানে উন্মোচিত…অবারিত।

    সলোমন ছেলেটার দিকে তাকিয়ে প্রশংসাসূচক মাথা নাড়ে। ঠিক তাই। এ্যাপোক্যালিপস মানে প্রকাশ পাওয়া। দি বুক অব রিভিল-এশন অনুমান করে মহান আর অচিন্তনীয় জ্ঞানণ উন্মোচনে। এ্যাপোক্যালিপস মানে পৃথিবী শেষ না, আমরা যেভাবে পৃথিবীকে চিনি তার সমাপ্তি। এ্যাপোক্যালিপসের ভবিষ্যদণী আরো অনেক কিছুর মতই বিকৃত হয়েছে।

    সে স্টেজের সামনে এগিয়ে যায়। বিশ্বাস কর…পরিবর্তন আসছে, আর সেটা আমরা যেমন ভেবেছি মোটেই সেরকম নয়।

    তার মাথার অনেক উপরে ঘন্টা বাজতে শুরু করে। সারা ক্লাসের ছাত্ররা হাততালি আর হতবাক বিস্ময়ে মুখরিত হয়ে উঠে।

    .

    Done page 411 ১১২ অধ্যায়

    ক্যাথরিন সলোমন জ্ঞান হারাবার দ্বার প্রান্তে টলমল করছে এমন সময়ে বিস্ফোরণের শব্দে সে কেঁপে উঠে।

    কিছুক্ষণ পরে সে ধোয়ার গন্ধ পায়।

    তার কান ভো ভো করছে।

    চাপা কণ্ঠস্বর দূর থেকে ভেসে আসে। চিৎকার শোনা যায়। পায়ের শব্দ। সহসা সে পরিষ্কার করে শ্বাস নিতে থাকে। তার মুখ থেকে কাপড়টা টেনে বের করে নিয়েছে।

    তুমি এখন নিরাপদ, একটা কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে তাকে বলে। একটু ধৈৰ্য্য ধর।

    সে আশা করে লোকটা তার হাত থেকে নিডলটা বের করবে কিন্তু তার বদলে সে আদেশ দিতে থাকে। মেডিকেল কিট নিয়ে আস…নিডলের সাথে আইভি দাও…ল্যাকটেটেড রিঙগারস সলোউশনস মিশাও…আমাকে ব্লাড প্রেশার পরিমাপক দাও। লোকটা তার ভাইটাল সাইন পরীক্ষা শুরু করে সে জিজ্ঞেস করে, মিসসলোমন যে লোকটা তোমার সাথে এসব করেছে…সে

    কোথায় গেছে?

    ক্যাথরিন কথা বলতে চেষ্টা করে কিন্তু পারে না।

    মিস.সলোমন? কণ্ঠস্বরটা আবার প্রশ্নটা করে। সে কোথায় গিয়েছে?

    সে চোখ খুলে রাখতে চেষ্টা করে কিন্তু টের পায় সে জ্ঞান হারাতে যাচ্ছে।

    আমাদের জন্য জানাটা জরুরী সে কোথায় গিয়েছে, লোকটা কণ্ঠে মিনতির সুর।

    ক্যাথরিন কেবল তিনটা শব্দ ফিসফিস করে বলতে পারে, যদিও সে জানে সেগুলোর কোন অর্থ হয় না। পবিত্র…পাহাড়ের…পাদদেশে।

    .

    সাটো দুমড়ে যাওয়া দরজা অতিক্রম করে কাঠের র‍্যাম্প দিয়ে নিচে নেমে আসে। একজন এজেন্ট তাকে দেখে এগিয়ে যায়।

    ডিরেকটর আমার মনে হয় এটা আপনার দেখা উচিত।

    সংকীর্ণ হলওয়ে দিয়ে সে তাকে অনুসরণ করে একটা ঘরে প্রবেশ করে। ঘরটা উজ্জ্বলভাবে আলোকিত এবং খালি কেবল মেঝেতে কাপড়ের একটা স্তূপ পড়ে আছে। সাটো ল্যাংডনের লোফার আর টুইডের কোট চিনতে পারে।

    লোকটা এবার দূরের দেয়ালে রাখা একটা শবাধারের মত কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে।

    এটা আবার কিসের আলামত?

    সাটো এবার সেদিকে এগিয়ে যেতে দেখে দেয়াল থেকে একটা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পাইপ এসে বাক্সটায় প্রবেশ করেছে। উদ্বিগ্নচিত্তে সে বাক্সটার দিকে এগিয়ে আসে। সে এবার বাক্সের উপরে একটা ছোট স্লাইড দেখতে পায়। সে ঝুঁকে সেটা একপাশে সরিয়ে দিলে একটা ছোট জানালার মত জায়গা উন্মুক্ত হয়।

    সাটো আতঙ্কে গুটিয়ে যায়।

    প্লেক্সিগ্নাসের নীচে…প্রফেসর ল্যাংডনের ডুবন্ত, ভাবলেশহীন মুখ ভেসে আছে।

    .

    আলো!

    যে অনন্ত শূন্যতায় ল্যাংডন মহানন্দে ভেসে বেড়াচ্ছিল সেখানে হঠাৎ এক চোখ ধাঁধান সূর্যের আবির্ভাব হয়। সাদা আলোর ঝলকানি অন্ধকার স্থান দখল করে তার মনকে জ্বালাতে শুরু করে।

    আলোটা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

    সহসা উজ্জ্বল মেঘের আড়াল থেকে একটা সুন্দর মুখের আভাস দেখা যায়। একটা মুখ…ঝাঁপসা আর অস্পষ্ট…শূন্যতার অন্যপ্রান্ত থেকে দুটো চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। আলোর ধারা মুখটাকে ঘিরে রয়েছে, ল্যাংডন ভাবে এটাই কি তবে ঈশ্বরের মুখ।

    .

    সাটো ট্যাঙ্কের ভিতরে তাকায়, ভাবে প্রফেসরের কি বিন্দুমাত্র ধারণা আছে কি ঘটেছে। তার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বিশেষ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এই পুরো প্রক্রিয়াটার মূল উদ্দেশ্য।

    পঞ্চাশের দশক থেকেই অনুভূতি বিবর্জিত ট্যাঙ্ক প্রচলিত আছে এবং আজও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নতুন যুগের গবেষণার জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ভাসমান বলে একে চিহ্নিত করা হয়, যা সর্বগ্রাসী মাতৃজঠরের অনুভূতি প্রদান করে…একধরণের। ধ্যান যা মস্তিষ্কের সবধরণের অনুভূতির উপযোগ-আলো, শব্দ, স্পর্শ, এমন কি মাধ্যাকর্ষণের টান নাকচ করে তাকে শান্ত করে। প্রচলিত ট্যাঙ্কে মানুষ প্রচণ্ড ভাসমান ক্ষমতার লবণাক্ত দ্রবণে পিঠ দিয়ে ভেসে থাকে যাতে সে শ্বাস নিতে পারে।

    সম্প্রতি এসব ট্যাঙ্কের প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

    নতুন এই প্রযুক্তির নাম- টোটাল লিকুইড ভেন্টিলেশন-যা এতটাই বিস্ময়কর যে অনেক বিশ্বাস করে না এর অস্তিত্ব আছে।

    শ্বাসযোগ্য তরল।

    ১৯৬৬ সাল থেকে শ্বাসযোগ্য তরল একটা বাস্তবতা, যখন লিল্যাণ্ড সি.ক্লার্ক সাফল্যের সাথে অক্সিজেনেটেড পারফ্লুরোকার্বনের দ্রবণে একটা ইঁদুর কয়েক ঘন্টা বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হন। ১৯৮৯ সালে দি এ্যাবিস ছবিতে টিএলভি প্রযুক্তি নাটকীয় উপস্থিতি দেখা যায় যদিও খুব কম দর্শকই বুঝতে পেরেছিলেন যে তারা সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি পর্দায় দেখেছেন।

    টিএলভি প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবদান যেখানে তাদের তরল পূর্ণ মাতৃজঠরের একটা পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। গর্ভাশয়ে নয়মাস কাটাবার পরে মানুষের ফুসফুস তরল পূর্ণ। অবস্থার সাথে মোটেই অপরিচিত না। পারফ্লুরোকার্বন একটা সময়ে শ্বাস নেবার জন্য যথেষ্ট আঠাল বলে বিবেচিত হত কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি তাকে প্রায় পানির মত শ্বাসযোগ্য তরলে রূপান্তরিত করেছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেভীর ডুবুরিরা হেলিঅক্স বা ট্রাইমিক্স ব্যবহার না করে এটা ব্যবহার করে যা তাদের চাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি ছাড়াই অনেকক্ষণ নীচে কাজ করার সুবিধা দিয়েছে। নাসা বা বিমান বাহিনীও দেখেছে টিএলভি উচ্চতর জি ফোর্সে অক্সিজেনের চেয়ে অনেক সহজে বিভিন্ন অগানে ছড়িয়ে যেতে পারে। সাটো শুনেছিল অনেক অনেক চরম অভিজ্ঞতার ল্যাবর কথা। শুনেছিল যেখানে মানুষ এই টিএলভি ট্যাঙ্কের অভিজ্ঞতা নিতে পারে- তারা অবশ্য একে বলে মেডিটেশন মেশিন। এই মেশিনটাও সম্ভবত মালিকের ব্যক্তিগত ব্যবহারে স্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু বাইরে ছিটকিনির বাহুল্য দেখে সে বুঝতে পারে আরও অনেক ভীতিকর লক্ষ্যেও এটা ব্যবহৃত হয়ে থাকবে…সিআইএ যেমন জেরার জন্য এটা ব্যবহার করে থাকে।

    কুখ্যাত জল চিকিৎসা জেরার ক্ষেত্রে কাজে দেয় কারণ ভুক্তভোগী মনে করে সে আসলেই ডুবতে বসেছে। ভুক্তভোগী কখনও বুঝতে পারে না সে যা শ্বাস নিচ্ছে সেটা পানির চেয়ে আঠাল একটা দ্রবণ ফলে ফুসফুঁসে এটা প্রবেশ করলে সে প্রায়ই ভয়ে জ্ঞান হারায় এবং জ্ঞান ফিরে পেলে চরম একাকিত্বে নিজেকে আবিষ্কার করে।

    রিনক্ষীয় অবশকারী দ্রব্য, প্যারালাইসিস ড্রাগস আর হ্যালুসিনজেনস উষ্ণ অক্সিজেনের সাথে ব্যবহার করে বন্দিকে ধারণা দেয়া হয় তার আত্মা দেহ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তার মস্তিষ্ক অঙ্গপ্রতঙ্গ সঞ্চালনের আদেশ দিলে কিছুই ঘটে না। মৃত্যু অবস্থার এই পর্যায় ভয়ঙ্কর তার চেয়েও ভয়ঙ্কর পুনজন্মের প্রক্রিয়া যা তীব্র আলো, শব্দ আর ঠাণ্ডা বাতাসের সাহায্যে দেয়া হয় যা প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক আর বিপর্যস্তকারী বলে প্রতিয়মান হতে পারে। কয়েকবার মৃত্যু আর পুনজন্মের প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যাবার পরে জেরার সম্মুখীন হওয়া ব্যক্তির মনে থাকে না সে বেঁচে আছে না মারা গেছে ফলে সে জেরাকারীর সব প্রশ্নের উত্তর দেয়। সাটো ভাবে মেডিক্যাল টিমের জন্য সে অপেক্ষা করবে কিনা কিন্তু সে জানে তার হাতে সময় কম। আমার জানতে হবে সে কি জানে।

    আলো জ্বালো আর আমাকে কয়েকটা কম্বল এনে দাও।

    .

    সূর্য উবে গেছে।

    মুখটাও দেখা যায় না।

    অন্ধকার ফিরে এসেছে আর ল্যাংডন আলোকবর্ষ দূরের শূন্যতার প্রান্ত থেকে আগত ফিসফিস গুঞ্জন শুনতে পায়। চাপা কণ্ঠস্বর…দুর্বোধ্য শব্দ। এখন আবার ঝাঁকি শুরু হয়েছে…যেন পৃথিবী ভেঙে খান খান হয়ে যাবে।

    তারপরে সেটা ঘটে।

    কোন জানান না দিয়ে বিশ্ব দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। একটা অতিকায় ফাটল শূন্যস্থানে দেখা দেয়…যেন শূন্যস্থান জোড়া দেয়ার স্থান থেকে ছিঁড়ে এসেছে। একটা ধূসর ধোয়া ফাঁকা জায়গা দিয়ে প্রবেশ করে এবং ল্যাংডন একটা ভীতিকর দৃশ্য দেখতে পায়। দেহহীন একজোড়া হাত কোথা থেকে উদিত হয়। তাকে ধরে এবং তার পৃথিবী থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়।

    না! সে তাদের বাধা দিতে চায় কিন্তু দেখে তার নিজের কোন হাত নেই…পাঞ্জা নেই। নাকি তার আছে? সহসা সে তার শরীরকে নিজের চারপাশে যেন ভূমিষ্ট হতে দেখে। তার মাংস পেশী ফিরে আসে এবং সেটাকে একজোড়া শক্তিশালী হাত আঁকড়ে ধরে উপরের দিকে টানে। না! দয়া কর।

    কিন্তু দেরী হয়ে গেছে।

    যন্ত্রণায় তার বুক বিদীর্ণ হয় হাত জোড়া তাকে ফাঁকা স্থান দিয়ে উপরে টেনে আনতে। তার ফুসফুঁসে বুঝি কেউ বালি ভরে দিয়েছে। আমি শ্বাস নিতে পারছি না! সে সহসা চিন্তার অতীত শক্ত শীতল একটা কিছুর উপরে নিজেকে আবিষ্কার করে। কেউ তার বুকে বারবার চাপ দিতে থাকে, জোরে এবং যন্ত্রণাদায়ক ভঙ্গিতে। সে উষ্ণতা বমি করে।

    আমি ফিরে যেতে চাই।

    তার মনে হয় সে সদ্য মাতৃজঠর থেকে জন্ম নেয়া শিশু।

    সে কাশতে থাকে কাশির দমকে তরল উগড়ে দেয়। সে বুকে আর ঘাড়ে অসম্ভব ব্যথা অনুভব করে। তার গলায় যেন আগুন জ্বলছে। মানুষ তার চারপাশে কথা বলে ফিসফিস করে কিন্তু সবই কর্ণবিদারী। তার দৃষ্টি ঝাঁপসা আর সে কেবল শব্দহীন অবয়ব দেখতে পায়। তার ত্বক অবশ অনেকটা মৃত চামড়ার মত।

    তার বুক আগের চেয়ে ভারী মনে হয়…চাপ। আমি শ্বাস নিতে পারছি!

    সে আরও তরল উগরে দেয়। একটা অচিন্তনীয় কণ্ঠরোধী প্রতিক্রিয়া তাকে আক্রমণ করে এবং সে ভেতরের দিকে খাবি খায়। শীতল বাতাস অবশেষে ফুসফুঁসে প্রবেশ করে এবং সে সদ্যজাত নবজাতকের মত পৃথিবীর বাতাসে প্রথম নিঃশ্বাস নেয়। এই পৃথিবীটা বড্ড যন্ত্রণাদায়ক।

    ল্যাংডন আবার সেই মাতৃজঠরে ফিরে যেতে চায়।

    .

    রবার্ট ল্যাংডনের কোন ধারণা নেই কতক্ষণ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। সে কেবল বুঝতে পারে কম্বল আর ভোয়ালে মোড়া অবস্থায় সে শক্ত মেঝের উপরে শুয়ে আছে। একটা পরিচিত মুখ তার দিকে তাকিয়ে আছে…আলোর সেই উজ্জ্বল ধারা উধাও হয়েছে। দূরাগত শ্লোকের ধ্বনি তার মাথায় এখনও গুঞ্জরিত হয়।

    ভারবাম সিগনিফিকেটাম…ভারবাম ওমনিফিকাম….

    প্রফেসর ল্যাংডন, কেউ ফিসফিস করে বলে। তুমি বুঝতে পারছে কোথায় আছো?

    ল্যাংডন কাশতে কাশতে দূর্বলভাবে মাথা নাড়ে।

    তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এইমাত্র তার মনে পড়েছে আজ রাতে কি ঘটছে।

    .

    ১১৩ অধ্যায়

    কম্বলে মোড়ান অবস্থায় দাঁড়িয়ে মুরগীর বাচ্চার মত টলমল পায়ে সে তরল পূর্ণ ট্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আবার তার শরীর ফিরে পেয়েছে অবশ্য ফিরে na পেলেই বোধহয় সে খুশী হত। তার গলা আর বুক জ্বলে যায়। এই পৃথিবী তার কাছে নিষ্ঠুর আর নির্মম মনে হয়।

    সাটো তাকে অনুভূতি বিবর্জিত ট্যাঙ্কের বর্ণনা দিয়েছে, এবং বলেছে সে তাকে টেনে বের না করলে সে অন্নের অভাবে মারা যেত বা ভয়ঙ্কর কিছু ঘটত। ল্যাংডনের সন্দেহ নেই পিটারও এই অত্যাচার সহ্য করেছে। পিটার এখন দুইয়ের মাঝে অবস্থান করছে উল্কি আঁকা লোকটা তাকে আজ রাত শুরুর সময়ে বলেছিল। পিটার যদি এমন জন্ম অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে একাধিকবার অতিক্রম করে তবে অবাক হবার কিছু নেই যদি সে তাকে বন্দিকর্তা যা জানতে চেয়েছে সব বলে দেয়।

    সাটো ইশারায় ল্যাংডনকে অনুসরণ করতে বলে এবং সে ধীরে হেচড়ে হেচড়ে একটা সরু হল দিয়ে এই আজব স্থানের গভীরে এগিয়ে যায় যা সে প্রথমবারের মত দেখছে। তারা পাথরের টেবিল রয়েছে এমন একটা ঘরে প্রবেশ করে যেখানে আতঙ্কজনক রহস্যময় আলো জ্বলছে। ক্যাথরিনকে সেখানে দেখে ল্যাংডন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। যদিও দৃশ্যটা রীতিমত উদ্বেগজনক।

    ক্যাথরিন পাথরের টেবিলের উপরে শুয়ে আছে রক্তে ভেজা তোয়ালে মেঝেতে পরে আছে। এক সিআইএ এজেন্ট তার বাহুর সাথে আটকানো টিউবে যুক্ত আইভি ব্যাগ ধরে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

    সে নিরবে কাঁদছে।

    ক্যাথরিন? ল্যাংডন ফ্যাসফেসে কণ্ঠে বলে, কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে।

    সে তার দিকে তাকায় তার দৃষ্টিতে বিভ্রান্তি আর অচেনার অভিব্যক্তি। রবার্ট?

    তার চোখ অবিশ্বাস পরে আনন্দে বড় হয়ে উঠে। কিন্তু আমি তোমাকে…পানিতে ডুবতে দেখেছি!

    সে পাথরের টেবিলের দিকে এগিয়ে আসে।

    ক্যাথরিন আইভি টিউব বা মেডিক্যাল অফিসারের নিষেধের তোয়াক্কা না। করে উঠে বসে। ল্যাংডন টেবিলের কাছে আসতে সে তার কম্বলে মোড়ান দেহটা আঁকড়ে ধরে কাছে টেনে আনে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সে ফিসফিস করে বলে তার গালে চুমো দেয়। তারপরে কি মনে হতে আবার চুমো দেয় এবার আবেগ নিয়ে ঠোঁটে এবং তাকে সজোরে আঁকড়ে ধরে যেন বিশ্বাস হচ্ছে না সে আসলেও সত্যি কেউ। আমি বুঝতে পারছি না…কিভাবে…

    সাটো অনুভূতি বিবর্জিত ট্যাঙ্ক আর অক্সিজেনেটেড পারফ্লুরোকার্বণের ব্যাখ্যা করে কিন্তু ক্যাথরিনের কানে সেসব পৌঁছে না। সে কেবল ল্যাংডনকে আঁকড়ে ধরে থাকে।

    রবার্ট, সে বলে, পিটার বেঁচে আছে। পিটারের সাথে ভয়ঙ্কর সাক্ষাতের কথা মনে পড়তে সে এখনও কেঁপে উঠে। সে পিটারের শারিরীক অবস্থা বর্ণনা করে- হুইলচেয়ার, আজব চাকু, বলিদানের পরোক্ষ উল্লেখ এবং কিভাবে তাকে মানবিক বালিঘড়িতে পরিণত করেছে পিটারকে সহযোগিতা করতে দ্রুত রাজি করাতে।

    ল্যাংডন কথা খুঁজে পায় না। তোমার কোন ধারণা…আছে…তারা কোথায় গিয়েছে?!

    সে পিটারকে কোন পবিত্র পাহাড়ে নিয়ে যাবে বলে গেছে।

    ল্যাংডন তার আলিঙ্গন থেকে সরে এসে তার মুখের দিকে তাকায়।

    ক্যাথরিনের চোখ অশ্রুসজল। সে বলেছে পিরামিডের গ্রিড সে সমাধান করেছে আর সেটা তাকে পবিত্র পাহাড়ে যেতে বলেছে।

    প্রফেসর, সাটো তাড়া দেয়, আপনি কি এর মানে কিছু বুঝতে পারছেন?

    ল্যাংডন অপারগতায় মাথা নাড়ে। একেবারেই না। কিন্তু তারপরেও সে আশার আলো দেখে। সে যদি পিরামিডের তলদেশে তথ্য পেয়ে থাকে তবে আমরাও পার। আমিই তাকে বলেছি কিভাবে সেটা সমাধান করতে হবে।

    সাটো মাথা নাড়ে। পিরামিডটা নেই। আমরা খুঁজে দেখেছি। সে সাথে করে নিয়ে গেছে।

    ল্যাংডন এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে, চোখ বন্ধ করে পিরামিডের পাদদেশে কি দেখেছিল মনে করতে চেষ্টা করে। ডুবে যাবার আগে প্রতাঁকের গ্রিডটা তার। শেষ দেখা স্মৃতি আর ট্রমা স্মৃতিকে মনের গভীরে স্থায়ীত্ব দিয়ে থাকে। সে গ্রিডটা মনে করতে পারে পুরোটা হলেও অনেকটাই, যা হয়ত তাদের সহায়তা করবে।

    সে সাটোর দিকে তাকিয়ে ব্যগ্র কণ্ঠে বলে কিন্তু ইন্টারনেটে আমাকে একটা জিনিস খুঁজে দেখতে হবে।

    সাটো বিনা বাক্য ব্যয়ে ব্ল্যাকবেরী বের করে।

    আট ফ্রাঙ্কলিন স্কোয়্যার লিখে সার্চ দাও।

    সাটো বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে টাইপ শুরু করে।

    ল্যাংডনের দৃষ্টি এখনও ঝাঁপসা এবং এবার সে তার চারপাশে বিচিত্র পরিবেশের দিকে তাকায়। সে দেখে যে টেবিলে তার ঝুঁকে আছে তাতে অনেক পুরানো রক্তের দাগ লেগে আছে তাদের ডান পাশের দেয়ালে অনেক টেক্সট, ছবি আর ড্রয়িং, ম্যাপ দিয়ে ভর্তি সেগুলো আবার পরস্পর সূততা দিয়ে সংযুক্ত।

    হায় ঈশ্বর।

    ল্যাংডন অদ্ভুত কোলাজটার দিকে এগিয়ে আসে এখন সে কম্বল গায়ে দিয়ে আছে। দেয়ালে উদ্ভট তথ্যের একটা সংগ্রহ- প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে ছেঁড়া কাগজ যেখানে কালো জাদু থেকে বাইবেলের পাতা আছে, প্রতীক আর সিজিলসের ড্রয়িং পাতার পর পাতা ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের ওয়েব সাইট, এবং ওয়াশিংটন ডি.সির স্যাটেলাইট ছবি নোট আর প্রশ্নবোধক চিহ্নে ভরা। একটা। পাতায় বিভিন্ন ভাষার অনেক শব্দের একটা তালিকা। সে কিছু গোপন ম্যাসনিক শব্দ বলে চিনতে পারে বাকিগুলো প্রাচীন ডাকিনী বিদ্যর কিছু শব্দ যজ্ঞে ব্যবহৃত হয়।

    সে কি এটার সন্ধান করছে?

    একটা শব্দ?

    এটা কি আসলেও এত সহজ?

    ল্যাংডন ম্যাসনিক পিরামিড সম্পর্কে এতদিনে সংশয় একটা বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যা হল- এর সম্পর্কে কথিত কিংবদন্তি যে এটা প্রাচীন রহস্যময়তার অবস্থান নির্দেশ করে। যার আবিষ্কারের সাথে ভল্ট জাতীয় কিছুর যোগাযোগ থাকতে হবে যেখানে যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন গ্রন্থাগারে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে যা এতদিন সময়ের গর্ভে হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। যা এক কথায় অসম্ভব। এতবড় ভল্ট ডি.সির নীচে?

    এখন এইসব ম্যাজিক শব্দের সাথে ফিলিপ এক্সটারে পিটারের প্রদত্ত বক্তৃতা আরো একটা চমকপ্রদ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।

    ল্যাংডন নিজে ডাকিনী শব্দের শক্তিতে বিশ্বাস করে না…কিন্তু বোঝাই যায় উল্কি আঁকা লোকটা তা করে। সে আবার দেয়ালে লেখা নোটগুলো খুটিয়ে দেখতে তার নাড়ীর গতি বৃদ্ধি পায়।

    একটা ধারণাই সেখানে বারবার ঘুরে এসেছে।

    খোদা, সে ভারবাম সিগনিফিকেটিয়াম খুঁজছে…হারিয়ে যাওয়া শব্দ। ল্যাংডন ভাবনাটা গুছিয়ে নেয়, পিটারের বক্তৃতা স্মরণ করে। সে তাহলে সত্যিই হারিয়ে যাওয়া শব্দটা খুঁজছে! যা সে বিশ্বাস করে এখানে এই ওয়াশিংটন ডি.সিতে প্রোথিত আছে।

    সাটো তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তুমি কি এটা দেখতে চেয়েছো? ব্ল্যাকবেরী তার হাতে দিয়ে সে বলে।

    ল্যাংডন আট-বাই-আটের সংখ্যার গ্রিডটা দেখে। ঠিক তাই, সে একটা কাগজ মেঝে থেকে তুলে নেয়। একটা কলম।

    সাটো পকেট থেকে কলম বের করে বলে, দ্রুত কর।

    .

    ডিরেক্টরের অফিসের বেসমেন্টে বসে নোলারিক পারিসের আনা সম্পাদিত ডকুমেন্টটা দেখে। সিআইএ ডিরেকটর প্রাচীন পিরামিড আর গোপন ভূগর্ভস্থ অবস্থানের ফাইল নিয়ে কি করতে চাইছে?

    সে ফোন খুলে একটা নম্বর ডায়াল করে।

    সাটো সাথে সাথে উত্তর দেয়, তার গলার স্বরে উৎকণ্ঠা। নোলা, আমিই তোমাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম।

    আমার কাছে নতুন তথ্য আছে, নোলা বলে। আমি জানি না ব্যাপারটা প্রাসঙ্গিক কিনা কিন্তু একটা সম্পাদিত ফাইল-

    জাহান্নামে যাক ফাইল, সাটো তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে। আমাদের হাতে সময় একেবারেই নেই। আমরা এখন টার্গেটকে গ্রেফতার করতে পারিনি এবং আমার বিশ্বাস সে যে হুমকি দিয়েছে সেটা সে ঠিকই পালন করবে।

    নোলার হাতপা ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

    সুসংবাদ হল আমরা এখন জানি সে কোথায় যাচ্ছে। সাটো একটা গভীর নিঃশ্বাস নেয়। দুঃসংবাদ হল তার সাথে একটা ল্যাপটপ রয়েছে।

    .

    ১১৪ অধ্যায়

    দশ মাইলেরও কম দূরত্বে, মাল’আখ একটা বিশাল ভবনের ছায়ায় কম্বল দিয়ে জড়িয়ে পিটার সলোমনকে হুইলচেয়ারে করে চাঁদের আলোয় আলোকিত পার্কিং লট দিয়ে নিয়ে যায়। ভবনটার বাইরে ঠিক তেত্রিশটা কলাম রয়েছে…প্রতিটা তেত্রিশ ফিট উঁচু। পর্বতপ্রমাণ ভবনটা রাতের এই মুহূর্তে জনশূন্য আর এখানে কারো দেখার প্রশ্নই উঠে না। দেখলেও কোন ব্যাপার না। দূর থেকে দয়ালু চেহারার লম্বা কালো কোট পরিহিত একজন লোককে ন্যাড়া মাথার পঙ্গু এক। লোককে হুইলচেয়ারে সান্ধ্যভ্রমণে বেরোতে দেখে দ্বিতীয়বার কেউ ফিরে তাকাবে না।

    তারা পেছনের প্রবেশ পথের কাছে পৌঁছালে মাল’আখ পিটারকে সিকিউরিটি কিপ্যাডের কাছে নিয়ে আসে। পিটার উদ্ধত দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকে বোঝা যায় কোড এন্টারের কোন অভিপ্রায় তার নেই।

    মাল’আখ হাসে। তোমার ধারণা তোমার দয়ায় আমাকে এখানে প্রবেশ করতে হবে? তুমি এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে আমি তোমার একজন গুরুভাই? তেত্রিশ ডিগ্রীতে তার দীক্ষার পরে তাকে দেয়া অ্যাকসেস কোড সে টাইপ করে।

    ভারী দরজাটা মৃদু শব্দে খুলে যায়।

    পিটার গুঙিয়ে উঠে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু করে।

    পিটার, পিটার, মাল’আখ তাকে প্রবোধ দেয়। ক্যাথরিনের কথা কল্পনা কর। সহযোগিতা কর তাহলে সে প্রাণে বাঁচবে। তুমি তাকে বাঁচাতে পারো। আমি তোমাকে কথা দিলাম।

    মাল’আখ তাকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা আটকে দেয়, তার হৃৎপিণ্ড এবার উত্তেজনায় দ্রুত স্পন্দিত হয়। সে পিটারকে নিয়ে হলওয়ে অতিক্রম করে এলিভেটরে উঠার বোম চাপ দেয়। তারপরে সে কি করছে সেটা যেন পিটার। দেখতে পায় সে জন্য সে একপাশে সরে এসে তাকে দেখিয়ে লিফটের সর্বোচ্চ বোতামে চাপ দেয়।

    পিটারের নির্যাতিত মুখে গাঢ় ভয়ের একটা ছায়া খেলা করে।

    শশশ…এলিভেটরের দরজা বন্ধ হতে সে পিটারের কামানো মাথায়। আলতো চাপড় দিয়ে বলে। তুমি ভাল করেই জানো…রহস্যটা হল কিভাবে মারা যেতে হয়।

    .

    আমার সবগুলো প্রতীক মনে নেই!

    ল্যাংডন চোখ বন্ধ করে পিরামিডের তলদেশের প্রতীকগুলোর সঠিক অবস্থা মনে করার চেষ্টা করে কিন্তু তার শ্রুতিধর স্মৃতিও স্মরণ করতে ব্যর্থ হয়। সে যে কয়টা প্রতীক মনে পড়ে সে কয়টা ফ্রাঙ্কলিনের ম্যাজিক বর্গ অনুসারে সাজায়।

    এখন পর্যন্ত সে অর্থবোধক কিছু দেখতে পায়নি।

    প্রথম সারিতে কেবল গ্রীক অক্ষর

    দেখো! ক্যাথরিন ব্যগ্র কণ্ঠে বলে। তোমার স্মৃতি ঠিকই সাহায্য করছে। প্রথম সারিতে কেবল গ্রীক অক্ষর-একই ধরণের প্রতীক একসাথে বিন্যস্ত রয়েছে!

    ব্যাপারটা ল্যাংডনও খেয়াল করেছে কিন্তু এই বিন্যাস আর অক্ষরের সাথে খাপ খায় এমন গ্রীক শব্দ তার মনে পড়ছে না। আমার প্রথম অক্ষরটা প্রয়োজন। সে ম্যাজিক বর্গটার দিকে তাকিয়ে বামদিকের নীচের কোনের শব্দটা মনে করতে চেষ্টা করে। ভাববা! সে চোখ বন্ধ করে পিরামিডের তলদেশটা দেখতে চেষ্টা করে। নীচের সারি…বাম দিকের প্রথম অক্ষর…কি অক্ষর সেটা?

    মুহূর্তের জন্য ল্যাংডন ট্যাঙ্কে ফিরে যায়, আতঙ্কিত হয়ে প্লেক্সিগ্নাসের ভিতর দিয়ে পিরামিডের তলদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।

    সহসা সে দেখতে পায়। সে চোখ খুলে ভারী শব্দে শ্বাস নেয়। প্রথম অক্ষরটা এইচ!

    ল্যাংডন গ্রিডের দিকে ফিরে প্রথম অক্ষরটা লিখে। শব্দটা এখনও অসম্পূর্ণ কিন্তু সে অনেকটাই দেখেছে। সে এবার বুঝতে পারে শব্দটা কি হতে পারে।

    Ηερδομ

    ধকধক করতে থাকা নাড়ীর স্পন্দন নিয়ে ল্যাংডন আরেকটা শব্দ ব্ল্যাকবেরীতে লিখে সার্চ দেয়। সে এই পরিচিত গ্রীক শব্দে ইংলিশ প্রতিশব্দ ব্যবহার করে। প্রথমটা একটা বিশ্বকোষ জাতীয় এন্ট্রি সে পুরোটা পড়ে বুঝতে পারে ঠিক আছে।

    HEREDOM n. a significant word in high degree Freemasonry, from French Rose Croix rituals, where it refers to a mythical mountain in Scotland, the legendary site of the first such Chapter. From the Greek Ηερδομ originating from Hieros-domos, Greek for Holy House.

    পেয়েছি, অবিশ্বাসের কণ্ঠে ল্যাংডন বলে। তারা এখানেই গেছে।

    সাটো তার কাঁধের উপর দিয়ে উঁকি দিয়ে ছিল সে বেকুবের মত তাকায়। স্কটল্যাণ্ডের কোন পৌরাণিক পাহাড়ে?!

    ল্যাংডন মাথা নাড়ে। না, একটা ওয়াশিংটনে অবস্থিত একটা ভবন যার সাঙ্কেতিক নাম Heredom.

    .

    ১১৫ অধ্যায়

    দি হাউজ অব দি টেম্পল- গুরুভাইরা একে হেরেডোম বলে- আমেরিকার ম্যাসনিক স্কটিশ রাইটের মধ্যমণি হিসাবে বিরাজ করেছে।

    পিরামিডের মত খাড়া, ঢালু ছাদের এই ভবনটার নামকরণ স্কটল্যাণ্ডের একটা কাল্পনিক পাহাড়ের নামে করা হয়েছে। মাল’আখ অবশ্য জানে এখানে লুকিয়ে রাখা গুপ্তধন মোটেই কাল্পনিক না।

    এটাই সেই স্থান, সে জানে। মাসনিক পিরামিড পথ দেখিয়েছে।

    বুড়ো এলিভেটর তৃতীয় তলায় উঠে আসতে মাল’আখ একটা কাগজ বের করে যাতে সে ফ্রাঙ্কলিনের ম্যাজিক বর্গ ব্যবহার করে প্রতীকগুলো নতুন করে সাজিয়েছে। সব গ্রীক অক্ষর এখন প্রথম সারিতে স্থানান্তরিত হয়েছে, সাথে একটা সাথে একটা মামুলি প্রতীক।

    The-Lost-Symbol-115

    বাণীটা এর চেয়ে প্রাঞ্জল হওয়া সম্ভব না।

    হাউজ অব টেম্পলের নীচে।

    হেরেডোম

    হারিয়ে যাওয়া শব্দ এখানেই …কোথাও আছে।

    মাল’আখ যদিও সেটা নির্ণয়ের কোন উপায় জানে না, সে নিশ্চিত গ্রিডের বাকী প্রতাঁকের ভেতর সেটা জানা যাবে। সুবিধা হল, ম্যাসনিক পিরামিড আর এই ভবনের রহস্য সমাধানে পিটার সলোমনের চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। প্রধান পুরোহিত নিজে।

    পিটার হুইল চেয়ারে বসে মোচড়াতে আর অব্যক্ত আওয়াজ করা অব্যহত রাখে।

    আমি জানি তুমি ক্যাথরিনের জন্য দুশ্চিন্তা করছো, মাল’আখ বলে। আমাদের কাজও এখানে প্রায় শেষ।

    মাল’আখের কাছে মনে হয় সমাপ্তিটা সহসা এসে হাজির হয়েছে। বহু বছরের পরিকল্পনা আর যন্ত্রণা, অপেক্ষা আর অনুসন্ধান শেষে…এখন সময় এসেছে।

    এলিভেটর থামতে শুরু করলে সহসা উত্তেজনার একটা রাশ এসে তাকে ঘিরে ফেলে।

    খাঁচাটা একটা ঝাঁকি খেয়ে থেমে যায়।

    ব্রোঞ্জের দরজা পিছলে দুপাশে খুলে যায় এবং মাল’আখ তাদের সামনের দ্যুতিময় চমকপ্রদ চেম্বারের দিকে অপলক তাকিয়ে রয়। বিশাল বর্গাকার কামরাটা প্রতীক দিয়ে সজ্জিত এবং চাঁদের আলোয় ভাসছে যা উঁচুতে অবস্থিত ছাদের শীর্ষে স্থাপিত গবাক্ষের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করেছে।

    আমি পুরো বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছি, মাল’আখ ভাবে।

    টেম্পল রুমেই পিটার সলোমন আর তার গুরুভাইয়েরা আহাম্মকের মত তাকে তাদের একজন হিসাবে অভিষিক্ত করেছিল। এখন ম্যাসনদের সবচেয়ে নাজুক রহস্য- অনেক গুরুভাই যার অস্তিত্ব আছে বলেই বিশ্বাস করে না। তার অবগুণ্ঠন খুলে প্রকাশিত হতে চলেছে।

    .

    সে কিছু খুঁজে পাবে না। সাটোর পেছন পেছন কাঠের র‍্যাম্প দিয়ে উঠে আসবার সময়ে ল্যাংডন বলে। আসলে তেমন কোন শব্দ নেই। পুরোটাই একটা রূপকল্প-প্রাচীন রহস্যময়তার একটা প্রতীক।

    লিভিং রুমে প্রবেশ করার অবসরে ল্যাংডন সাটোকে ব্যাখ্যা করে বোঝয় হারিয়ে যাওয়া শব্দ ফ্রিম্যাসনারীর সবচেয়ে পুরানো প্রতীক- একটা শব্দ প্রাচীন দুর্বোধ্য ভাষায় লিখিত যা আজ মানুষ চর্চার অভাবে ভুলে গেছে। শব্দটা হারিয়ে যাওয়া রহস্যময়তার মত যারা আলোকপ্রাপ্ত এর পাঠোদ্ধারে সক্ষম তাদের অমিত শক্তির অধিকারী হবার প্রতিশ্রুতি দেয়। বলা হয়ে থাকে, ল্যাংডন সিদ্ধান্ত টেনে বলে, তুমি যদি হারিয়ে যাওয়া শব্দ অধিকার আর এর মানে বুঝতে সক্ষম হও…তাহলে প্রাচীন রহস্যময়তা তোমার কাছে পরিষ্কার হবে।

    সাটো তার দিকে তাকিয়ে বলে, তোমার বিশ্বাস সে একটা হারিয়ে যাওয়া শব্দ খুঁজছে?

    ল্যাংডন স্বীকার করে ব্যাপারটা সামনাসামনি ভাবতে হাস্যকর মনে হচ্ছে কিন্তু তারপরেও অনেক প্রশ্নের উত্তর এতে রয়েছে। দেখো আমি বলিদান বা পূজা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ নই, সে বলে, কিন্তু তার বেসমেন্টের দেয়ালের নথি দেখে…আর ক্যাথরিনের বর্ণনা অনুযায়ী তার খুলির উল্কিহীন অংশের কথা বিবেচনা করে …আমি বলতে পারি সে হারিয়ে যাওয়া শব্দ খুঁজে বের করে সেটা মাথার ফাঁকা স্থানে উল্কি করবে।

    ল্যাংডন জোরে জোরে কথা বলতে থাকে। লোকটা যদি সত্যিই বিশ্বাস করে সে প্রাচীন রহস্যময়তার শক্তি মুক্ত করতে পারবে তবে হারিয়ে যাওয়া শব্দের চেয়ে শক্তিশালী প্রতীক তার কাছে আর কিছু নেই। সে যদি শব্দটা খুঁজে পেয়ে সেটা তার মাথার চাদিতে- যা নিজেই একটা পবিত্র স্থান- আঁকতে পারে তবে সে নিজেকে পুরোপুরি জারিত আর পূজা অর্চনার দ্বারা প্রস্তুত বলে বিবেচনা করবে…সে থেমে তাকিয়ে দেখে ক্যাথরিন পিটারের ভবিষ্যত নিরাপত্তা আশঙ্কা করে শঙ্কিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    কিন্তু রবার্ট, হেলিকপ্টারের শব্দে তার কণ্ঠস্বর খুবই অস্পষ্ট শোনা যায়। এটা একটা সুসংবাদ, তাই না? সে যদি পিটারকে বলি দেবার আগে মাথায় হারিয়ে যাওয়া শব্দ আঁকতে চায় তাহলে আমাদের হাতে সময় আছে। হারিয়ে যাওয়া শব্দ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত সে পিটারকে হত্যা করবে না। আর যদি কোন শব্দ না থাকে…।

    ল্যাংডন তার মুখের অভিব্যক্তি আশাবাদী রাখতে চেষ্টা করে। ক্যাথরিনকে এজেন্টদের একজন বসতে চেয়ার এগিয়ে দেয়। দুর্ভাগ্যজনক হল পিটার এখনও ভাবছে তুমি রক্তপাতের ফলে মারা যেতে বসেছে। সে ভাববে তোমাকে। বাচাবার একমাত্র পথ পাগলটাকে সহযোগিতা করা…তাকে হারিয়ে যাওয়া। শব্দ খুঁজতে সহায়তা করা।

    তাকে কি? ক্যাথরিন ব্যগ্র কণ্ঠে বলে। শব্দ যদি না থাকে

    ক্যাথরিন, ল্যাংডন তার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে। আমি যদি বিশ্বাস করি তুমি মারা যেতে বসেছো, আর কেউ আমাকে প্রতিশ্রুতি দেয় হারিয়ে যাওয়া শব্দ খুঁজে দিলে সে তোমাকে বাঁচাবে আমি তাকে শব্দটা খুঁজে দিতাম- যেকোন একটা শব্দ আর তারপরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতাম সে যেন তার প্রতিশ্রুতি রাখে।

    ডিরেকটর সাটো, পাশের ঘর থেকে এক এজেন্ট চেঁচিয়ে বলে। আপনি একবার এসে দেখলে ভাল হয়।

    সাটো খাবার ঘরে এসে দেখে এক এজেন্ট দোতলার শোবার ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। তার হাতে একটা সোনালী পরচুল। আবার কিসের আলামত?

    লোকটা পরচুলা, সে তার হাতে সেটা দিয়ে বলে। ড্রেসিং রুমে পেয়েছি। একটু ভাল করে দেখেন।

    সোনালী পরচুলাটা সাটো যেমন মনে করেছিল তার চেয়ে ভারী। ত্বকটা একধরণের জেলে তৈরী বলে মনে হয়। অবাক কাণ্ড নীচের দিকে একটা তার বের হয়ে আছে।

    জেল-প্যাক ব্যাটারী যা খুলির আঁকৃতিতে তৈরী, এজেন্ট বলে। যা চুলের ভিতরে লুকান ফাঁইবার অপটিকের পিনপয়েন্ট ক্যামেরায় শক্তি সরবরাহ করে।

    কি? সাটো চারপাশে হাতড়ে দেখে শেষে চুলের ভিতরে একটা লেন্স দেখতে পায় সোনালী চুলের ভাজে লুকিয়ে আছে। এর ভেতরে একটা লুকান ক্যামেরা রয়েছে?

    ভিডিও ক্যামেরা, এজেন্ট শুধরে দেয়। এই সলিড-স্টেট কার্ডে ফুটেজ ধারণ করে। সে খুলিতে প্রোথিত একটা চারকোণা স্ট্যাম্পের আঁকৃতির ক্ষুদ্র সিলিকনের টুকরোর দিকে ইঙ্গিত করে। সম্ভবত গতি-সংবেদনশীল। জেসাস, সাটো ভাবে। এভাবে তাহলে হারামজাদা কাজটা করেছে।

    এই পরিপাটি দর্শন কলারে-প্রস্ফুটিত-ফুল সিক্রেট ক্যামেরা ওএস ডিরেকটর আজ রাতে যে বিপর্যয় মোকাবেলা করছে তাতে মূখ্য ভূমিকা পালন। করেছে। সে এক মুহূর্ত তীব্র দৃষ্টিতে পরচুলাটার দিকে তাকিয়ে থেকে সেটা এজেন্টকে দিয়ে দেয়।

    বাসাটা তল্লাশি অব্যহত রাখো, সে বলে। আমি এই লোকটার ব্যাপারে সম্ভাব্য সবকিছু জানতে চাই। আমরা জানি তার ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি আর আমি জানতে চাই সে চলমান অবস্থায় কিভাবে সেটা বাইরের জগতের সাথে সংযুক্ত করতে পারে। তার স্টাডি খুঁজে দেখো কোন ম্যানুয়াল কোন কেবল পাওয়া যায় কিনা যা দিয়ে তার হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানা যাবে।

    সময় হয়েছে যেতে হবে, সাটো ভাবে, কানে হেলিকপ্টারের ব্লেডের পুরো আস্থার শব্দ ভেসে আসে। সে আবার ডাইনিং রুমে ফিরে আসে যেখানে সিমকিনস বেল্লামিকে হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে নিয়ে আসছে আর তার কাছে জানতে চেষ্টা করছে তাদের টার্গেট যে ভবনে গিয়েছে বলে তারা মনে করছে সেখানে প্রবেশের সম্ভাব্য উপায় সম্বন্ধে।

    দি হাউজ অব দি টেম্পল।

    সামনের দরজা ভেতর থেকে সীল করা, বেল্লামি বলে, ফ্রাঙ্কলিন পার্কে বেহুদা কাটান সময়ের প্রভাবে এখনও কম্বল গায়ে দিয়ে সে কাঁপছে। ভবনের পেছনের দিক দিয়ে কেবল ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব। আমার কাছে একটা কিপ্যাড আছে সাথে একসেস পিন যা কেবল গুরুভাইয়েরাই জানে।

    পিনটা কত, নোট নেবার অবসরে সিমকিনস জানতে চায়।

    বেল্লামি দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বসে পড়ে। কাঁপতে থাকা দাঁতের ফাঁক দিয়ে সে এ্যাকসেস কোডটা বলে তারপরে যোগ করে, ঠিকানা হল ১৭৩৩ সিক্সটিন্থ কিন্তু তোমাদের উচিত হবে চালাকি করে পেছন থেকে পার্কিং এলাকায় প্রবেশ করা। খুঁজে বের করা কঠিন কিন্তু

    আমি জানি সেটা কোথায় আছে, ল্যাংডন বলে। সেখানে পৌঁছে আমি দেখিয়ে দেব।

    সিমকিনস মাথা নেড়ে বলে, প্রফেসর আপনি যাচ্ছেন না এটা সামরিক-

    তোমার মাথা আর মুণ্ড, ল্যাংডন ক্ষেপে উঠে। পিটার সেখানে আছে! আর ভবনটা একটা গোলকধাঁধা। কেউ পথ দেখাবার না থাকলে উপরের টেম্পল রুমে পৌঁছাতে তোমাদের দশ মিনিট সময় লাগবে।

    সে ঠিকই বলেছে, বেল্লামি সায় দেয়। জায়গাটা একটা ভুলভুলাইয়া। একটা এলিভেটর আছে যেটা পুরানো আর শব্দ করে কিন্তু টেম্পল রুমের পুরো দৃশ্য দেখা যায় এমনভাবে সেটার দরজা খুলে। তোমরা নিরবে পৌঁছাতে চাইলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হবে।

    তোমরা পথ খুঁজে পাবে না, ল্যাংডন হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলে। পেছনের প্রবেশ পথ থেকে তোমাদের হল অব রিগেলিয়া, হল অব অনার, মাঝের ল্যাণ্ডিং, এ্যাট্রিয়াম, গ্রাণ্ড স্টেয়ার

    অনেক হয়েছে, সাটো বলে। প্রফেসর আমাদের সাথে যাবে।

    .

    ১১৬ অধ্যায়

    শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    মাল’আখ অনুভব করে তার শিরায় একটা নতুন টান জেগেছে, শরীরময় দৌড়ে বেড়াচ্ছে যখন সে পিটারকে হুইল চেয়ারে করে বেদীর দিকে এগিয়ে আসে। আমি প্রবেশের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে এই ভবন ত্যাগ করবো। এখন কেবল শেষ উপকরণটা খুঁজে বের করা বাকি।

    ভারবাম সিগনিফিকেটিয়াম, সে নিজেই ফিসফিস করে বলে। ভারবাম ওমনিফিকাম।

    মাল’আখ বেদীর সামনে পিটারের হুইলচেয়ারটা থামায় তারপরে ঘুরে এসে পিটারের কোলে উপরে রাখা ল্যাংডনের ব্যাগের চেন খুলে। সে হাত বাড়িয়ে পাথরের পিরামিডটা চাঁদের আলোয় বের করে আনে এবং পিটারকে নীচে খোদাই করা প্রতীকগুলো দেখায়। এতগুলো বছর, সে বিদ্রূপ করে, এবং তুমি জানই না পিরামিড কিভাবে নিজের রহস্য গোপন রেখেছে। মাল’আখ ডিরামিডটা বেদীর এককোণে সাবধানে রেখে আবার ব্যাগের কাছে আসে। আর এই টালিসমান, সোনার শিরোশোভা বের করার ফাঁকে সে বলে, আসলেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে বিশৃঙ্খলার মাঝে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে। সে শিরোশোভাটা পিরামিডের মাথায় স্থাপন করে সরে আসে পিটার যাতে ভাল করে দেখতে পারে। সাবধান, তোমার সিম্বল সম্পূর্ণ হয়েছে।

    পিটারের মুখ যন্ত্রণায় বিকৃত হয় সে কথা বলার বৃথা চেষ্টা করে।

    ঈশ্বর দেখেছো তুমি দেখছি আমাকে কিছু বলতে চাইছো, মাল’আখ তার মুখে গোঁজা কাপড়টা বের করে আনে।

    পিটার সলোমন কাশে হাঁসফাস করে কথা বলার শক্তি ফিরে পাবার আগে। ক্যাথরিন…

    ক্যাথরিনের হাতে সময় অল্প। তাকে বাঁচাতে চাইলে আমার কথা মত কাজ কর। মাল’আখ ভাবে সে হয় এতক্ষণে মারা গেছে বা মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছেছে। কিছু যায় আসে না তাতে। সে ভাগ্যবান ভাইকে বিদায় জানাতে পারা পর্যন্ত জীবিত থেকেছে বলে।

    দয়া কর, পিটার অনুনয়ের সুরে বলে, তার কণ্ঠস্বর কর্কশ শোনায়। একটা এ্যাম্বুলেন্স পাঠাও…

    আমি তাই করবো। তার আগে আমাকে বল কিভাবে গোপন সিঁড়িটা খুঁজে পাব।

    পিটারের অভিব্যক্তিতে অবিশ্বাস ফুটে উঠে। কি?

    সিঁড়ি গো। তোমাদের ম্যাসনিক কিংবদন্তিতে বলা সেই সিঁড়ি যা গোপন অবস্থানের কয়েকশ ফিট নীচে নেমে গেছে যেখানে হারিয়ে যাওয়া শব্দ সমাধিস্থ রয়েছে।

    পিটারকে এখন আতঙ্কিত দেখায়।

    তুমি কিংবদন্তিটা জানো, মাল’আখ সুতা ছাড়ে। একটা গোপন সিঁড়ি যা একটা পাথরের আড়ালে চাপা রয়েছে। সে কেন্দ্রীয় বেদীটা দেখায় যেখানে হিব্রু ভাষায় সোনালী অক্ষরে লেখা আছে: GOD SAID, LET THERE BE LIGHT AND THERE WAS LIGHT. অবশ্যই এটাই সঠিক স্থান। সিঁড়িতে প্রবেশের পথ আমাদের নীচের তলার কোথায় লুকান রয়েছে।

    এই ভবনে কোন লুকান সিঁড়ি নেই, আহাম্মক, পিটার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে নির্ভীক হয়ে উঠে।

    মাল’আখ ধৈর্যের সাথে মৃদু হাসি ফুটিয়ে তুলে এবং উপরের দিকে দেখায়। এই ভবনটা পিরামিড আঁকৃতির। সে চারদিক থেকে বেকে উঠে আসা ছাদের দিকে ইঙ্গিত করে যা শীর্ষের কেন্দ্রে একটা চারকোণা গবাক্ষের সৃষ্টি করেছে।

    হ্যাঁ, হাউজ অব টেম্পল একটা পিরামিড কিন্তু তার সাথে।

    পিটার আমার হাতে পুরো রাত রয়েছে, মাল’আখ তার নিখুঁত শরীরের উপরে সাদা সিল্কের আলখাল্লার ভাজ ঠিক করতে করতে বলে। ক্যাথরিনের হাতে তা নেই। তুমি যদি তাকে বাঁচাতে চাও তবে আমাকে বল গোপন সিঁড়িটা কোথায় আছে।

    আমি ইতিমধ্যে তোমাকে বলেছি, সে ঘোষণা করে, এই ভবনে কোন লুকান সিঁড়ি নেই।

    না? সে শান্ত ভঙ্গিতে একটা কাগজ বের করে যার উপরে সে পিরামিডের তলদেশের প্রতীক পুনরায় সাজিয়েছে। এটা ম্যাসনিক পিরামিডের শেষ ধাপ। তোমার বন্ধু রবার্ট ল্যাংডন এটার পাঠোদ্ধারে আমাকে সাহায্য করেছে।

    মাল’আখ কাগজটা পিটারের সামনে এনে ধরে। প্রধান পুরোহিত সভয়ে নিঃশ্বাস নেন সামনের কাগজটা দেখে। শুধু যে চৌষট্টিটা প্রতীক পরিষ্কার অর্থবোধক দলে সজ্জিত হয়েছে তাই না, বিশৃঙ্খলার ভিতরে একটা সত্যিকারের ইমেজ প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে।

    সিঁড়ির একটা অবয়ব…পিরামিডের ঠিক নীচে।

    .

    পিটার সলোমন তার সামনে অবস্থিত প্রতাঁকের গ্রিডটার দিকে অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। বহু পুরুষ ধরে ম্যাসনিক পিরামিড এর গোপনীয়তা রক্ষা করে এসেছে। এখন সহসা এর অর্থ প্রকাশিত হতে সে তার পেটে আশঙ্কার একটা শীতল অনুভূতি অনুভব করেন।

    পিরামিডের শেষ সঙ্কেত।

    এক নজর দেখে পিটারের কাছে এই প্রতীকগুলো সবসময়ে রহস্যময় মনে হয়েছে এবং তারপরেও সে বুঝতে পারে উল্কি আঁকা লোকটা কেন যা বিশ্বাস করেছে সেটাকে সত্যি মনে করে।

    সে ভেবেছে হেরেডোম নামে অভিহিত পিরামিডের নীচে একটা গোপন সিঁড়ি আছে।

    সে এই প্রতীকগুলোর ভুল অর্থ করেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম
    Next Article বরফকল – ওয়াসি আহমেদ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }