Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্যা লস্ট সিম্বল – ড্যান ব্রাউন

    ওমর ফারুক এক পাতা গল্প734 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. ভূ-গর্ভস্থ স্থান

    ৮১ অধ্যায়

    ভূ-গর্ভস্থ স্থান মাল’আখ যেখানে তার শিল্পের চর্চা করে জায়গাটা বেশ চতুরতার। সাথে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার বাসার বেসমেন্ট, কেউ যদি সেখানে আসে তার চোখে অস্বাভাবিক কিছুই পড়বে না- একটা সেলার যেমন হয়ে থাকে বয়লার, ফিউজ বক্স, কাঠের স্তূপ, এবং হাবিজাবি বাতিল জিনিসের একটা স্তূপ। এই দৃশ্যমান সেলার অবশ্য মাল’আখের বেসমেন্টের একটা অংশ। একটা বেশ ভাল অংশ দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মাল’আখের গোপন অনুশীলনের জন্য।

    মাল’আখের ব্যক্তিগত কাজের জায়গা ছোট কামরার একটা স্যুইট, প্রতিটা আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে তৈরী করা। তার লিভিং রুম থেকে একটা খাড়া র‍্যাম্প দিয়ে গোপনে এখানে আসা যায় ফলে ঘরটা কারো চোখে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    আজ রাতে মাল’আখ র‍্যাম্প দিয়ে নেমে আসলে, তার বেসমেন্টের বিশেষ আলোকসজ্জার আঁকাশ নীল আলোতে তার দেহে উল্কি আঁকা প্রতীক আর বর্ণগুলো যেন প্রাণ লাভ করে। নীল কুয়াশার ভিতর দিয়ে সে হেঁটে কয়েকটা বন্ধ ঘরের দরজা অতিক্রম করে এবং সরাসরি করিডোরের শেষপ্রান্তের বড় ঘরটার দিকে এগিয়ে যায়।

    মাল’আখ একে স্বাস্থ্যনিবাসের খাসকামরা বলে যা ঠিক বারো ফুটের একটা বর্গাকার কামরা। রাশির প্রতীক বারোটা। বারোঘন্টা দিনের সময়। স্বর্গের দ্বার বারোটা। চেম্বারের ঠিক কেন্দ্রে একটা সাত-বাই-সাতের পাথরের টেবিল রয়েছে। প্রকাশের মোহর সাতটা। মন্দিরের সোপান সাতটা। টেবিলের ঠিক কেন্দ্রস্থলের উপরে আলোর একটা উৎস অনেক হিসাব করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে যা পূর্ব নির্দিষ্ট রঙের একটা স্পেকট্রামের ভিতর দিয়ে ঘুরে প্রতি ছয় ঘন্টায় গ্রহসম্বন্ধীয় সময়ের তালিকাসূচী অনুযায়ী ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। ইয়ানরের সময় নীল। নাসনিয়ার সময় লাল। সালামের সময় সাদা।

    এখন ক্যারেরার সময়, মানে ঘরের আভা এখন হাল্কা বেগুনী রঙে পরিণত হয়েছে। নিতম্ব আর মুষ্কচ্ছেদ করা যৌনাঙ্গের চারপাশে সিল্কের কটিবস্ত্র পরে, মাল’আখ প্রস্তুতি শুরু করে।

    সে সুগন্ধ উৎপাদকারী দ্রব্য যত্ন করে মিশিয়ে একটা মিশ্রণ প্রস্তুত করে যা সে পরে বাতাস বিশুদ্ধ করা জন্য পোড়াবে। তারপরে সে তার সিল্কের আনকোরা নতুন গাউন ভাঁজ করে যা সে কটিবস্তু ত্যাগ করে পরিধান করবে। আর সবশেষে, ফ্লাস্কের পানি পবিত্র করে যা সে তার নৈবদ্যে লেপন করবে। তার প্রস্তুতি শেষ হতে সে প্রস্তুতকৃত সব উপাচার সাইড টেবিলের উপরে রাখে।

    এবার সে শেলফের দিকে এগিয়ে গিয়ে হাতির দাঁতের তৈরী একটা ছোট বাক্স বের করে এবং সেটা সাইড টেবিলের উপরে অন্য উপাচারের সাথে রাখে। সে যদিও এটা ব্যবহার করার জন্য এখনও প্রস্তুত না, কিন্তু সে বাক্সটা খুলে ভেতরে রাখা জিনিসটার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না।

    বিশেষ চাকু।

    হাতির দাঁতের বাক্সের ভিতরে কালো মখমলের উপরে শুয়ে আছে মাল’আখের বলি দেবার চাকু যা সে আজ রাতে ব্যবহারের জন্য আগলে রেখেছে। গত বছর মধ্যপ্রাচ্যের এ্যান্টিকের কালো বাজার থেকে সে চাকুটা ১.৬ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে।

    ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত চাকু।

    অকল্পনীয় রকমের পুরাতন এবং হারিয়ে গেছে বলে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে, এর ফলাটা লোহার তৈরী, হাড়ের বাটের সাথে সংযুক্ত। শতাব্দি ধরে অসংখ্য অমিত শক্তিশালী লোকের কাছে চাকু থেকেছে। সাম্প্রতিক দশকে চাকু হারিয়ে যায় এবং গোপন ব্যক্তিগত সংগ্রহে অযত্নে পড়েছিল। মাল’আখ অনেক কষ্টে এটা খুঁজে বের করেছে। চাকুটা, মাল’আখের ধারণা গত কয়েক দশকে রক্তে স্পর্শ পায়নি…সম্ভবত কয়েক শতক। আজ রাতে চাকুটা আবার বলির ক্ষমতা অনুভব করবে যার জন্য এটার জন্ম হয়েছে।

    মাল’আখ খুব ধীরে চাকুটা কুশন দেয়া কম্পার্টমেন্ট থেকে তুলে নেয় এবং পবিত্র পানিতে ভেজান সিল্কের কাপড় দিয়ে শ্রদ্ধার সাথে ফলাটা পরিষ্কার করে। নিউইয়র্কে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হবার পরে থেকে তার দক্ষতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মাল’আখ যে ব্ল্যাক আর্ট অনুশীলন করে বিভিন্ন ভাষায় তাকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে কিন্তু একে যে নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকুক বিষয়টা নির্জলা বিজ্ঞান। এই আদি প্রযুক্তি একদা ক্ষমতা সিংহদ্বারে প্রবেশের চাবি হিসাবে বিবেচনা করা হত কিন্তু অনেক আগেই একে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অকাল্ট আর ম্যাজিকের কাতারে একে পর্যবসিত করা হয়েছে। যে গুটি কয়েক লোক আজও এর অনুশীলন করে তাদের পাগল বলা হয়ে থাকে, কিন্তু মাল’আখ খুব ভাল করেই জানে। এই বিদ্যা নির্বোধ লোকদের জন্য না। প্রাচীন ডার্ক আর্ট আধুনিক বিজ্ঞানের মতই যেখানে রয়েছে নিখুঁত সূত্র, সুনির্দিষ্ট উপাচার উপকরণ এবং সময়ের নিখুঁত প্রয়োগ।

    আজকের নিবীর্য ব্ল্যাক ম্যাজিক না এই শিল্প যা কৌতূহলী লোকেরা হাফ হার্টেডলী চেষ্টা করে থাকে। এই আর্ট, নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতই, অমিত শক্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখে। ভয়ঙ্কর সতর্কবাণী উচ্চারিত রয়েছে: অদক্ষ অনুশীলন ভাটার টানে ভেসে ধ্বংস হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

    মাল’আখ পবিত্র ফলাটা থেকে মুগ্ধ দৃষ্টি সরিয়ে নেয় এবং তার সামনের টেবিলের উপরে ভেলামের মোটা চাঁদরের দিকে মনোযোগ দেয়। বাচ্চা ভেড়ার লোম থেকে এই চাঁদর মাল’আখ নিজে তৈরী করেছে। প্রথা অনুযায়ী ভেড়াটা ছিল বিশুদ্ধ এবং সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লাভ করেনি। ভেলামের পাশেই রাখা আছে তার তৈরী কাকের পালক থেকে তৈরী কলম, রূপার পেয়ালা, আর নিরেট পিতলের পাত্রের চার পাশে তিনটা নিভুনিভু জ্বলতে থাকা মোমবাতি। পিতলের পাত্রে রয়েছে এক ইঞ্চি পরিমাণ লাল রঙের ঘন তরল।

    তরলটা পিটার সলোমনের রক্ত।

    রক্ত অনন্তের আরক।

    মাল’আখ পালকের কলমটা হাতে নেয়, বাম হাত ভেলামের উপরে রাখে এবং কলমটা রক্তে ডুবিয়ে নিয়ে সতর্কতার সাথে বাম হাতের খোলা তালুর পার্শ্বরেখা ভেলামের উপরে আঁকে। আঁকা শেষ হতে সে প্রাচীন রহস্যময়তার পাঁচটা প্রতীক পাঁচ আঙ্গুলের শীর্ষদেশে আকে।

    মুকুট…আমি যে রাজায় পরিণত হব তার উপস্থাপক।

    তারা…স্বর্গের উপস্থাপক যা আমার নিয়তিতে পরিণত হয়েছে।

    সূর্য…আমার আত্মার আলোকিত রূপের উপস্থাপক।

    লণ্ঠন…মানুষের বোঁধের দুর্বলতার উপস্থাপক।

    এবং চাবি…হারিয়ে যাওয়া খরে উপস্থাপক যা আজ রাতে অবশেষে আমার করায়ত্ত্ব হবে।

    মাল’আখ রক্ত দিয়ে লেখা শেষ করে এবং ভেলামটা তুলে ধরে মোমের আলোতে নিজের হাতের কাজ মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখে। রক্ত শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে সে ভেলামটা তিনবার ভাঁজ করে। প্রাচীন পূজার উচ্চমার্গীয় মন্ত্র উচ্চারণ করে মাল’আখ ভেলামটা তৃতীয় মোমের আলোর কাছে আনে এবং এটা আগুনের শিখায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। জ্বলন্ত ভেলামটা সে রূপার পেয়ালায় রাখে। এবং পুড়তে দেয়। পোড়ার সময়ে পশুর চামড়ার কার্বন কালো গুড়ায় পরিণত হয়। পোড়া শেষ হলে, মাল’আখ যত্নের সাথে পিতলের পেয়ালায় রাখা রক্তের সাথে সেটা মিশিয়ে দেয়। তারপরে সে কাকের পালক দিয়ে সেটা নাড়তে থাকে।

    মিশ্রণটা ঘন লাল, প্রায় কালো রঙ ধারণ করে।

    পাত্রটা দুহাতে ধরে মাল’আখ মাথার উপরে তুলে ধরে এবং প্রাচীনদের রক্ত শ্লোক ইউআরিসটোস পাঠ করে ধন্যবাদ জানায়। সে কালো মিশ্রণটা একটা কাঁচের বোতলে ভরে সেটার মুখ বন্ধ করে। মাল’আখ তার মাথার উল্কিবিহীন ত্বকে এই মিশ্রণ কালি হিসাবে ব্যবহার করে উল্কি এঁকে তার মাস্টারপিস সমাপ্ত করবে।

    .

    ৮২ অধ্যায়

    ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথিড্রাল পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম এবং ত্রিশতলা আঁকাশচুম্বী ইমারতের চেয়েও উঁচু। দুইশরও বেশি রঙিন কাঁচের জানালা, তিপ্পান্নটা ঘণ্টার ক্যারিলন, এবং ১০,৬৪৭ পাইপ অর্গান, দিয়ে অলঙ্কৃত এই ক্যাথিড্রালে একসাথে তিন হাজার ভক্ত উপাসনা করতে পারে।

    আজ রাতে অবশ্য এই বিশাল ক্যাথিড্রাল জনমানবহীন।

    রেভারেণ্ড কলিন গ্যালাওয়ে- ক্যাথিড্রালের ডিন-কে দেখলে মনে হবে সৃষ্টির আদি থেকেই সে বেঁচে আছে। কুঁজো আর শীর্ণ, তার পরনে কেবল একটা সাধারণ কালো আলখিল্লা একটা কথাও না বলে অন্ধের মত হাতড়াতে হাতড়াতে সামনে এগিয়ে যায়। ক্যাথরিন আর ল্যাংডন কোন কথা না বলে নিরবে গির্জার মূল অংশে চারশ ফুট লম্বা কেন্দ্রিয় চলাচলের পথ দিয়ে অনুসরন করে যা সবসময়ে সামান্যভাবে বামে বেকে গিয়ে একটা কোমল দৃষ্টি বিভ্রমের সৃষ্টি করেছে। তার গ্রেট ক্রসিঙে পৌঁছালে, ডিন তাদের রুড স্ক্রিনের ভিতর দিয়ে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে- সাধারণের এলাকা আর তারপরের শরণস্থানের প্রতিকী বিভক্তিরেখা।

    চ্যান্সেলের বাতাসে প্রাকৃতিক সুগন্ধি ভেসে আছে। এই পবিত্র স্থানটা অন্ধকার, মাথার উপরের নক্সাকাটা ভল্টের মধ্যে দিয়ে আসা পরোক্ষ প্রতিফলনে মৃদু আলোকিত হয়ে আছে। ধর্মসঙ্গীতের গায়কদের নির্ধারিত স্থানে পঞ্চাশটা রাজ্যের পতাকা শোভা পায়, যা বাইবেলের ঘটনাবলী চিত্রিত পর্দা দিয়ে অলঙ্কৃত। ডিন গ্যালাওয়ে এগিয়ে যেতে থাকে, আপাতভাবে নিজের স্মৃতির উপরে ভর করে। এক মুহূর্তের জন্য ল্যাংডনের মনে হয় তারা হাই অল্টারের দিকে যাচ্ছে যেখানে সিনাই পাহাড়ের দশটা পাথর প্রোথিত রয়েছে কিন্তু বৃদ্ধ ডিন শেষ পর্যন্ত বামে মোড় নেয় এবং কৌশলে লুকান একটা দরজা দিয়ে তাদের বর্ধিত প্রশাসনিক অংশে নিয়ে আসে।

    তারা একটা সংক্ষিপ্ত হলওয়ে দিয়ে একটা অফিসের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় যার গায়ে পিতলের নামফলকে লেখা আছে:

    THE REVEREND DR. COLIN GALLOWAY
    CATHEDRAL DEAN

    গ্যালাওয়ে দরজা খুলে এবং আলো জ্বালায়, বোঝা যায় অতিথিদের এই সৌজন্য জানাতে সে এখনও ভুলে যায়নি। সে তাদের পথ দেখিয়ে ভিতরে নিয়ে আসে এবং দরজা বন্ধ করে দেয়।

    ডিনের অফিস ঘরটা ছোট কিন্তু মার্জিতভাবে বইয়ের উঁচু শেলফ, একটা ডেস্ক, অলঙ্কৃত ওয়ারড্রোব আর একটা ব্যক্তিগত বাথরুম দিয়ে সাজান। দেয়াল ষোল শতকের ট্যাপেস্ট্রি আর কয়েকটা ধর্মীয় চিত্রকর্ম ঝুলছে। ডিন তার ডেস্কের ঠিক উল্টোদিকে দুটো চামড়া মোড়া চেয়ার তাদের ইঙ্গিতে দেখিয়ে দেয়। ল্যাংডন, ক্যাথরিনের সাথে সাথে বসে আর কাঁধের ভারী ব্যাগটা মেঝেতে নামিয়ে রাখতে পেরে, সে কৃতজ্ঞবোধ করে।

    শরণ আর উত্তর, ল্যাংডন আরামদায়ক চেয়ারে ভালমত জাঁকিয়ে বসে ভাবে।

    বৃদ্ধ লোকটা ডেস্কের পেছনে পা টেনে টেনে এগিয়ে গিয়ে নিজের হেলান দেয়া উঁচু চেয়ারে বসে। তারপরে একটা ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে, সে তার মাথা তুলে, ঘোলাটে চোখে তাদের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। যখন সে কথা বলে তার কণ্ঠস্বর অপ্রত্যাশিত রকমের পরিষ্কার আর জোরাল শোনায়।

    আমি বুঝতে পারছি আমাদের কখনও দেখা হয়নি, বৃদ্ধ লোকটা বলে, এবং তারপরেও আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাদের দুজনকেই চিনি। সে একটা রুমাল বের করে মুখটা আলতো করে মোছে। প্রফেসর ল্যাংডন তোমার লেখার সাথে আমি পরিচিত, এই ক্যাথিড্রালের সিম্বলিজম সম্বন্ধে তুমি যে বুদ্ধিদীপ্ত লেখাটা লিখেছিলে সেটার কথা আমার মনে আছে। মি. সলোমন তোমার ভাই আর আমি বহুবছর ধরেই ম্যাসনিক ভ্রাতৃসম্বন্ধে আবদ্ধ।

    পিটার ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েছে, ক্যাথরিন কথা খুঁজে না পেয়ে বলে।

    আমাকেও তাই বলা হয়েছে। বৃদ্ধলোকটা আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আর আমি আমার সামর্থ্যে যা কুলায় সবকিছু করবো তাকে সাহায্য করতে।

    ল্যাংডন তার হাতে কোন ম্যাসনিক আংটি দেখতে পায় না তারপরেও সে জানে বহু ম্যাসন যারা ধর্মীয় সংস্থার সাথে যুক্ত তারা তাদের সংপৃক্ততা প্রকাশ করতে পছন্দ করে না।

    তারা কথা শুরু করতে বোঝা যায় ওয়ারেন বেল্লামির ফোন থেকে ডিন গ্যালাওয়ে আজ রাতের অনেক কিছু সম্বন্ধেই ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন। রবার্ট আর ক্যাথরিন তাকে বাকি ঘটনাগুলো বলতে তার চেহারা দুশ্চিন্তায় ছেয়ে যায়।

    আর এই লোকটা যে আমাদের প্রিয় পিটারকে অপহরণ করেছে, ডিন বলেন, সে চায় পিটারের জীবন বাঁচাবার বিনিময়ে আপনি পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করেন।

    হ্যাঁ, ল্যাংডন বলে। তার ধারণা এটা একা মানচিত্র যা প্রাচীন রহস্যময়তা লুকিয়ে রাখার গোপন স্থানের সন্ধান দেবে।

    ডিন তার আতঙ্কজনক অস্বচ্ছ চোখ ল্যাংডনের দিকে ফেরায়। আমার কান বলছে আপনি কথাটা বিশ্বাস করেন না।

    ল্যাংডন এই আলোচনা শুরু করে সময় নষ্ট করতে চায় না। আমার বিশ্বাস এখানে গুরুত্বপূর্ণ না। আমাদের পিটারকে সাহায্য করা প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা যখন পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করি সেটা কোন স্থান নির্দেশ করেনি।

    বৃদ্ধ লোকটা এবার সোজা হয়ে বসে। তুমি পিরামিডটার পাঠোদ্ধার করেছো?

    ক্যাথরিন দ্রুত ব্যাপারটায় হস্তক্ষেপ করে, দ্রুত ব্যাখ্যা করে যে বেল্লামির অনুরোধ আর তার ভাইয়ের অনুরোধ সত্ত্বেও যে প্যাকেজটা ল্যাংডন কোন অবস্থাতেই খুলবে না সে প্যাকেটটা খুলেছে, তার মনে হয়েছে ভাইকে সাহায্য করাটাই তার প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। সে ডিনকে সোনার শিরোশোভা অ্যালাখট ডুরারের ম্যাজিক বর্গ এবং কিভাবে সেটা মোল অক্ষরের ম্যাসনিক গুপ্তলিপির পাঠোদ্ধার করে বাগধারা জিহোভা স্যাঙ্কটাস উনাস পেয়েছে।

    এটাই বলা আছে? ডিন জানতে চায়, একমাত্র সত্যিকারের ঈশ্বর।

    হ্যাঁ, স্যার, ল্যাংডন সম্মতি জানায়। আপাত দৃষ্টিতে পিরামিডটা ভৌগলিক মানচিত্রের চেয়ে রূপক মানচিত্র বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

    বৃদ্ধ লোকটা হাত তুলে তাদের থামিয়ে দেয়। আমাকে জিনিসটা অনুভব করতে দাও।

    ল্যাংডন ব্যাগের চেন খুলে পিরামিডটা বের করে সাবধানে ডেস্কের উপরে তুলে সরাসরি রেভারেণ্ডের সামনে রাখে।

    বৃদ্ধ লোকটা দুর্বল শীর্ণ হাতে পিরামিডটার তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করলে ল্যাংডন আর ক্যাথরিন তাকিয়ে থাকে- খোদাই করা দিক, মসৃণ পৃষ্টদেশ, এবং সমতল শীর্ষভাগ। শেষ হলে সে আবার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, আর সোনার শিরোশোভা?

    ল্যাংডন ছোট পাথরের বাক্সটা বের করে, ডেস্কের উপরে রেখে ঢাকনাটা খুলে। আর ভেতর থেকে শিরোশোভাটা বের করে বৃদ্ধ লোকটা অপেক্ষমান হাতে রাখে। ডিন আবার একই ভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করে, প্রতি ইঞ্চিতে হাত বুলায় শিরোশোভার খোদাইয়ের উপর থেমে অনুভব করে ক্ষুদ্র, নিখুঁতভাবে খোদাই করা লেখা পড়তে তার বেশ কষ্ট হয়।

    দি সেক্রেটস হাইডস উইথইন দি অর্ডার, ল্যাংডন সাহায্য করে। আর দি এবং অর্ডার শব্দ দুটি বড় অক্ষরে শুরু হয়েছে।

    বৃদ্ধ লোকটা মুখ শিরোশোভা পিরামিডের উপরে স্থাপন করে স্পর্শের সাহায্যে তাদের একই সরলরেখায় আনবার সময়ে অনুভূতিহীন দেখায়। সে একটুক্ষণ থেমে, যেন প্রার্থনা করছে এমন ভঙ্গিতে কয়েকবার সম্পূর্ণ পিরামিডটার উপরে হাতের তালু বুলায়। তারপরে সে হাত বাড়িয়ে বর্গাকার বাক্সটা তুলে নিয়ে, সাবধানে হাত বুলিয়ে দেখে তার আঙ্গুল ভেতরে আর বাইরে খুঁটিয়ে দেখে।

    বাক্সটা দেখা শেষ হলে সেটা টেবিলে রেখে সে চেয়ারে হেলান দেয়। তো এবার আমাকে বললো, সে সহসা কঠিন কণ্ঠে জানতে চায়। আমার কাছে কেন এসেছো?

    প্রশ্নটা শুনে ল্যাংডন বেকুব হয়। আমরা এসেছি কারণ স্যার আপনি আসতে বলেছেন। এবং মি. বেল্লামি বলেছেন আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি।

    এবং তারপরেও তার কথা বিশ্বাস হয়নি?

    আমি দুঃখিত?

    ডিনের ঘোলাটে চোখ সরাসরি ল্যাংডনের দিকে তাকিয়ে থাকে। শিরোশোভার প্যাকেটটা সিল খুলতে বেল্লামি তোমাকে নিষেধ করেছিল আর তারপরেও তুমি সেটার সিল ভেঙেছে। তারচেয়েও বড় কথা পিটারও তোমাকে একই নিষেধ করেছিল। তারপরেও তুমি সেটাই করেছে।

    স্যার, ক্যাথরিন কথা বলে উঠে, আমরা আমার ভাইকে সাহায্য করতে চেয়েছি। যে লোকটা তাকে অপহরণ করেছে সে চেয়েছে আমরা পাঠোদ্ধার-

    আমি সেটা বুঝেছি, ডিন ঘোষণা করে, কিন্তু তারপরে প্যাকেটটা খুলে তোমরা কি পেলে? কিছুই না। পিটারের অপহরণকারী একটা জায়গা খুঁজছে আর জেহোভা স্যাঙ্কটাস উনাস তাকে সন্তুষ্ট করবে না।

    আমি মানছি, ল্যাংডন বলে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এটুকু সেখানে বলা আছে। আমি আগেই বলেছি মানচিত্রটা সম্ভবত আলঙ্কারিক

    প্রফেসর, তোমার ভুল হয়েছে, ডিন বলেন। ম্যাসনিক পিরামিড সত্যিকারে মানচিত্র। এটা একটা বাস্তব স্থান নির্দেশ করে। তুমি সেটা বুঝতে পারনি কারণ এখন পিরামিডটা পুরোপুরি পাঠোদ্ধার করতে পারনি। কাছাকাছিও যেতে পারনি।

    ক্যাথরিন আর ল্যাংডন বিস্মিত দৃষ্টিতে পরস্পরের দিকে তাকায়।

    ডিন প্রায় আদর করার ভঙ্গিতে পিরামিডের উপরে হাত বুলাতে থাকে। এই ম্যাপের, প্রাচীন রহস্যময়তার মত অনেকগুলো অর্থের স্তর রয়েছে। এর সত্যিকারের সিক্রেট এখনও তোমার বোধের আড়ালে রয়েছে।

    ডিন গ্যালাওয়ে, ল্যাংডন বলে, আমরা পিরামিড আর শিরোশোভাটা তন্ন তন্ন করে দেখেছি আর কিছু নেই সেখানে।

    এর বর্তমান অবস্থায় নেই সত্যি, কিন্তু বস্তু পরিবর্তিত হয়।

    স্যার?

    প্রফেসর, তুমি হয়ত জান এই পিরামিডটা অলৌকিক রূপান্তরের ক্ষমতার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিংবদন্তি অনুসারে এই পিরামিড নিজের আঁকৃতি পরিবর্তন করতে পারে…ভৌত আঁকৃতি বদলে এর গোপনীয়তা উন্মোচিত করবে। আর্থারের হাতে এক্সক্যালিবার তুলে দেয়া সেই বিখ্যাত পাথরের মত, ম্যাসনিক পিরামিডও চাইলে নিজেকে রূপান্তরিত করতে পারে…যোগ্য ব্যক্তির কাছে নিজের রহস্য উন্মোচিত করতে।

    ল্যাংডনের মনে হতে থাকে বৃদ্ধ লোকটা বয়স মনে হয় তার বোধবুদ্ধি কেড়ে নিয়েছে। আমি দুঃখিত, স্যার। আপনি কি বলতে চাইছেন এই রিপামিডটা আক্ষরিক অর্থেই ভৌতভাবে রূপান্তরিত হতে সক্ষম?

    প্রফেসর আমি যদি হাত বাড়িয়ে তোমার চোখের সামনে পিরামিডটার রূপান্তর ঘটাই তুমি কি তখন যা প্রত্যক্ষ করবে সেটা বিশ্বাস করবে?

    ল্যাংডন বুঝতে পারে না কি বলবে। আমার মনে হয় তখন আমার সামনে অন্য কোন পথ খোলা থাকবে না।

    বেশ তাহলে। এক মুহূর্তে আমি ঠিক সেটাই করছি। সে আবার তার মুখ মোছে। তার আগে তোমাকে মনে করিয়ে দেই একটা সময় ছিল যখন বুদ্ধিমানের ভিতরেও যারা বেশি বুদ্ধিমান তারা বিশ্বাস করতো পৃথিবীটা সমতল। কারণ পৃথিবী যদি গোলাকার হয় তাহলে তো নিশ্চিতভাবেই পানি গড়িয়ে পড়ে যাবে। চিন্তা কর তারা কিভাবে তোমাকে বিদ্রূপ করতো যদি তুমি তাদের বলতে, পৃথিবী কেবল গোলাকারই না একটা রহস্যময় অদৃশ্য শক্তি আছে যা এর উপরিতলের সবকিছু আঁকড়ে ধরে রয়েছে!।

    দুটোতে পার্থক্য রয়েছে, ল্যাংডন বলে, ম্যাধ্যাকর্ষণের উপস্থিতি…আর আপনার হাত দিয়ে কেবল স্পর্শ করে বস্তুকে বদলে দেবার ক্ষমতার ভিতরে।

    আছে কি? এটাকি সম্ভব না যে আমরা এখন অন্ধকার যুগে বাস করছি এখনও রহস্যময় শক্তির উপস্থিতিকে আমরা বিদ্রূপ করে চলেছি যা আমরা দেখতে বা বুঝতে পারি না। ইতিহাস যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে থাকে তবে শিখিয়েছে আজ আমরা যে অদ্ভুত ধারণা উপহাস করছি একদিন সেটাই আমাদের উদযাপিত সত্যে পরিণত হবে। আমি বলছি যে আমি আমার আঙ্গুলের

    স্পর্শে পিরামিডটা বদলে দিতে পারি আর তুমি আমার মানসিক সুস্থতা সম্বন্ধে। প্রশ্ন তুলেছে। আমি একজন ইতিহাসবিদের কাছে আরো বেশী কিছু আশা। করেছিলাম। ইতিহাসে অসংখ্য মহান প্রাণ মনিষী রয়েছেন যারা সবাই একই জিনিস ঘোষণা করে গেছেন…মহান মনিষীদের সবাই দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে মানুষ মরমী ক্ষমতার অধিকারী যার সম্বন্ধে সে নিজেই জানে না।

    ল্যাংডন জানে ডিন ঠিক কথা বলছে। বিখ্যাত হার্মেটিক বচন- তোমরা জান যে তোমরা দেবতা? প্রাচীন রহস্যময়তার অন্যতম স্তম্ভ। যতটা উপরে ততটা নীচে…ঈশ্বরের আদলে মানুষের সৃষ্টি…এ্যাপোস্থিসিস। মানুষের নিজস্ব ঐশ্বরিকতা সম্বন্ধে এইসব নিরস্তর বক্তব্য- তার গোপন সম্ভাবনা সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এসব কথা ঘুরে ফিরে বারবার এসেছে। এমনকি হোলি বাইবেলেও স্তুতিগান ৮২:৬ বলেছে তোমরাই ঈশ্বর!

    প্রফেসর, বৃদ্ধ লোকটা বলে, আমি বুঝেছি আরও অনেক শিক্ষিত লোকের মত, জগতের ফাঁদে আটকে পড়েছে- একপা আধ্যাত্মিকতায় আর অন্যটা বাস্তবতায়। তোমার হৃদয় বিশ্বাস করতে চায়…কিন্তু তোমার বুদ্ধি সেটা মানতে অস্বীকার করে। এ্যাকাডেমিক হিসাবে, ইতিহাসের মহান মনিষীদের কাছ। থেকে শিক্ষা নিলে তুমি ভাল করবে। সে একটু থেমে গলা পরিষ্কার করে নেয়। আমার যদি ঠিক মনে থাকে, পৃথিবীর বুকে জীবিত থাকা অন্যতম মহান মনিষী। ঘোষণা করেছেন: আমরা যা বুঝতে অপারগ সত্যিই তার অস্তিত্ব রয়েছে। প্রকৃতির রহস্যের আড়ালে রয়েছে জটিল, স্পর্শাতীত আর ব্যাখ্যাতীত কিছু একটা। আমার বোধের বাইরে এই শক্তির অভ্যর্থনাই আমার ধর্ম।

    কথাটা কে বলেছে? ল্যাংডন জিজ্ঞেস করে। গান্ধী?

    না, ক্যাথরিন মাঝ থেকে বলে উঠে। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন।

    .

    ক্যাথরিন আইনস্টানের লেখা প্রতিটা শব্দ খুঁটিয়ে পড়েছে এবং রহস্যময়তার প্রতি তার গভীর বিশ্বাস সেই সাথে তার ধারণা যে একদিন সবাই একই জিনিস অনুভব করবে তাকে বিস্মিত করেছে। ভবিষ্যতের ধর্ম, আইনস্টাইন ভবিষ্যবাণী করেছেন, মহাজাগতিক ধর্ম। ব্যক্তিগত ঈশ্বর, এবং ধর্মতত্ত্ব আর ধর্মমতকে এটা ছাপিয়ে যাবে।

    রবার্ট ল্যাংডনকে স্পষ্টতই ধারণাটা বিব্রত করে। ক্যাথরিন তার বৃদ্ধ এপিস্কোপাল প্রিস্ট সম্বন্ধে ক্রমবর্ধমান হতাশা টের পায় এবং কেন বুঝতে পারে। তারা এখানে উত্তরের জন্য এসেছে এবং এখানে এমন এক বৃদ্ধের সামনে পড়েছে যে বিশ্বাস করে নিজের হাতের স্পর্শে সে বস্তুকে বদলে দিতে পারে। অবশ্য বৃদ্ধ লোকটার রহস্যময় শক্তির প্রতি আবিষ্টতা দেখে ক্যাথরিনের তার ভাইয়ের কথাই কেবল মনে পড়ে।

    ফাদার গ্যালাওয়ে, ক্যাথরিন বলে, পিটার বিপদে আছে। সিআইএ আমাদের ধাওয়া করছে। আর ওয়ারেন বেল্লামি আমাদের পাঠিয়েছেন আপনার কাছে সাহায্যের জন্য। আমি জানি না পিরামিডটা কি বলে বা কোন দিকে নির্দেশ করে কিন্তু এর পাঠোদ্ধারের মানে যদি হয় যে আমরা পিটারকে সাহায্য করতে পারব, আমাদের সেটাই করা উচিত। মি. বেল্লামি আমার ভাইয়ের বদলে এই পিরামিডটাই লুকিয়ে রাখতে চেয়েছেন কিন্তু আমার পরিবার এই কারণে স্বজন হারাবার বেদনা ছাড়া আর কিছুই পায়নি। যে রহস্যই এটা ধার করে থাকুক আজ রাতেই এর সমাপ্তি ঘটবে।

    তোমার কথা ঠিক আছে, বৃদ্ধ লোকটা ভয়ঙ্কর কণ্ঠে বলে। আজ রাতের সব কিছুর পরিসমাপ্তি ঘটবে। তুমি সেটা নিশ্চিত করেছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মিস,সলোমন, তুমি বাক্সটার সিল যখনই ভেঙেছে তখনই পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত কিছু ঘটনা তুমি শুরু করেছে যা বন্ধ করার আর কোন উপায় নেই। আজ রাতে এমন শক্তি কার্যকরী হয়েছে যা তুমি কল্পনাও করতে পারো না। ফিরে আসবার আর কোন পথ নেই।

    ক্যাথরিন হতবিহ্বল হয়ে রেভারেণ্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠস্বরে মহাপ্রলয়তুল্য কিছু একটা আছে যেন সে প্যানডোরার বাক্স বা সেভেন সীলস অব রিভিলেশনের কথা বলছে।

    স্যার, আপনাকে সম্মান জানিয়েই বলছি, ল্যাংডন এবার মাঝ থেকে বলে, আমি বুঝতে পারছি না একটা পাথরের পিরামিড কিভাবে কোন কিছু শুরুই বা করতে পারে কিভাবে।

    প্রফেসর, অবশ্যই তুমি বুঝবে না। বৃদ্ধ লোকটা অন্ধভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। দেখার মত চোখই তোমার যে নেই।

    .

    ৮৩ অধ্যায়

    জঙ্গলের সোঁদা বাতাসে ক্যাপিটল ভবনের স্থপতি টের পায় কুল কুল করে ঘাম। তার পিঠ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তার হাতকড়া পরিহিত হাত ব্যথা করে কিন্তু তার পুরো মনোযোগ অশুভদৰ্শন টাইটেনিয়ামের ব্রিফকেসের প্রতি কেউ যেন রিভেট দিয়ে আটকে দিয়েছে যা সাটো তাদের মধ্যেখানে বেঞ্চে রেখে খুলেছে।

    এই ব্রিফকেসের উপাদান, সাটো তাকে বলেছে, সবকিছু আমার দৃষ্টিপথ থেকে দেখতে সাহায্য করবে। আমি তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

    ক্ষুদে মহিলা এবার বেল্লামির দৃষ্টি আড়ালে কেসের লক খুলে এবং সে এখনও ভেতরের দ্রব্যাদি কিছুই দেখেনি কিন্তু তার কল্পনা বুনো হয়ে উঠে। সাটোর হাত কেসের ভিতরে কিছু একটা করছে এবং দমে যাওয়া মনে প্রত্যাশা করছে সে ভেতর থেকে চকচকে ক্ষুরধার অনুষঙ্গ বের হতে দেখবে।

    সহসা কেসের ভেতরে একটা আলোর উৎস দপদপ করে জ্বলে উঠে, উজ্জ্বল হয়ে নীচ থেকে সাটোর মুখ আলোকিত করে তুলে। তার হাত এখন ভেতরে কি নিয়ে যেন ব্যস্ত এবং আলোর রঙে তারতম্য আসে। কয়েক মুহূর্ত পরে সে সে হাত সরিয়ে নিয়ে পুরো কেসটা ধরে বেল্লামির দিকে ঘুরিয়ে দেয় যাতে সে ভেতরে কি আছে দেখতে পায়।

    বেল্লামি দেখে সে একধরণের অগ্রসর প্রজন্মের ল্যাপটমের দিকে তাকিয়ে আছে যার একপাশে রয়েছে হাতে ধরার রিসিভার, দুটো ক্ষুদে এ্যান্টেনা এবং এক গোড়া কিবোর্ড। তার প্রাথমিক স্বস্তি শীঘই বিভ্রান্তিতে রূপান্তরিত হয়।

    স্ক্রীনে সিআইএর লোগো আর টেক্সট দেখা যায়:

    সিকিউর লগ-ইন।

    ব্যবহারকারী: ইনউ সাটো

    সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স লেভেল পাঁচ

    ল্যাপটপের লগ-ইন উইনডোর নীচে একটা প্রগ্রেস আইকন ঘুরছে:

    অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন…

    ডিক্রিপটিং ফাইলস….

    বোমি সাটোর দিকে তাকিয়ে দেখে সে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। আমি তোমাকে এটা দেখাতে চাইনি, সে বলে। কিন্তু আমার সামনে কোন সুযোগ রাখনি।

    স্ক্রিনটা আবার দপদপ করে উঠে এবং বেল্লামি আবার সেদিকে তাকায়। ফাইল ওপেন হয়েছে, এর কনটেন্ট পুরো এলসিডি স্ক্রিন দখল করে নিয়েছে।

    কয়েক মুহূর্ত বেল্লামি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, বুঝতে চেষ্টা করছে সে আসলে কিসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ধীরে ধীরে সে পুরো ব্যাপারটা ধরতে পারে, এবং টের পায় তার মুখ রক্ত শূন্য হয়ে পড়ছে। সে আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে থাকে, দৃষ্টি সরিয়ে নিতে পারে না।

    কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব…অসম্ভব! সে চেঁচিয়ে উঠে। কিভাবে…এটা সম্ভব।

    সাটোর মুখ থমথম করে। মি. বেল্লামি আপনিই আমাকে বলেন। বলেন আমাকে কিভাবে।

    ক্যাপিটলের স্থপতি সে যা দেখছে তার সম্পূর্ণ গুরুত্ব সে এতক্ষণে উপলব্ধি। করতে পারে, সে টের পায় তার এতদিনের পরিচিত পৃথিবী ধ্বংসের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।

    হা ঈশ্বর…মারাত্মক, মারাত্মক ভুল করেছি আমি!

    .

    ৮৪ অধ্যায়

    ডিন গ্যালাওয়ে অনুভর করেন তিনি বেঁচে আছেন।

    সব নশ্বর জীবের মত তিনিও জানেন সময় এগিয়ে আসছে যখন সে এই নশ্বর দেহের খোলস ত্যাগ করবে, কিন্তু আজ সেই রাত না। তার দৈহিক হৃৎপিণ্ড জোরে জোরে আর দ্রুত স্পন্দিত হয়…এবং তার মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক কাজ বাকী পড়ে আছে।

    সে তার আর্থরাইটিসে আক্রান্ত হাত পিরামিডের মসৃণ পৃষ্টদেশে বুলায় নিজের অনুভূতিকেই তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আমি কখনও একবারের জন্যও চিন্তা করিনি এই মুহূর্ত দেখার জন্য আমি জীবিত থাকব। পুরুষানুক্রমে সিম্বলন ম্যাপের টুকরো নিরাপদে একে অপরের কাছ থেকে পৃথক রাখা হয়েছিল। এখন অবশেষে তারা সংযুক্ত হয়েছে। গ্যালাওয়ে ভাবে তবে কি এটাই ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়।

    অদ্ভুতভাবে, নিয়তি দুজন মানুষকে নির্বাচন করেছে পিরামিড সংযুক্ত করতে যারা ম্যাসন সঙ্রে সদস্য না। কেন জানি মনে হয় এটাই ঠিক আছে। গোপন রহস্য বৃত্তের ভেতরের অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছে…অন্ধকারের আড়াল থেকে…আলোকিত বলয়ে।

    প্রফেসর, ল্যাংডনের নিঃশ্বাসের দিকে মাথা ঘুরিয়ে সে বলে। পিটার কি তোমাকে বলেছিল কেন সে তোমার কাছে এই ছোট প্যাকেটটা গচ্ছিত রেখেছিল?

    সে বলেছিল শক্তিশালী লোকেরা এটা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়, ল্যাংডন উত্তর দেয়।

    ডিন মাথা নাড়ে। হ্যাঁ, পিটার আমাকেও একই কথা বলেছিল।

    সে বলেছিল? ক্যাথরিন সহসা তার বাম পাশ থেকে কথা বলে উঠে। আপনি আর আমার ভাই এই পিরামিড নিয়ে আলোচনা করেছিলেন?

    অবশ্যই, গ্যালাওয়ে বলে। তোমার ভাই আর আমি অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করেছি। হাউজ অব টেম্পলের প্রধান পুরোহিত এক সময়ে আমি ছিলাম এবং সে আমার কাছে পরামর্শের জন্য আসত। প্রায় একবছর আগে সে আমার কাছে আসে কোন কিছু নিয়ে ভীষণভাবে ব্ৰিত। তুমি এখন যেখানে বসে আছ সে ঠিক সেখানেই বসে ছিল এবং আমার কাছে জানতে চেয়েছিল আমি অতিপ্রাকৃতিক হুশিয়ারী বিশ্বাস করি কিনা।

    হুশিয়ারী? ক্যাথরিনের কণ্ঠস্বরে উদ্বেগ ফুটে উঠে। আপনি বলতে চাইছেন…কোন ঘটনা আগাম দেখতে পাওয়া?

    ঠিক সেরকম না। এটা অনেক বেশি আন্ত্রিক। পিটার বলেছিল সে তার চারপাশে একটা অশুভ শক্তির ক্রমশ জোরাল হয়ে উঠা উপস্থিতি অনুভব করছে। সে মনে হয়েছে কেউ তার উপরে লক্ষ্য রাখছে…অপেক্ষা করছে…তার ভীষণ ক্ষতি করতে বদ্ধ পরিকর।

    সে ঠিকই বলেছিল, ক্যাথরিন বলে, যে লোকটা আমার মা আর পিটারের ছেলেকে হত্যা করেছিল সেই ওয়াশিংটনে এসে পিটারের ম্যাসনিক গুরুভাইদের একজনে পরিণত হওয়া বিবেচনা করলে।

    সত্যি, ল্যাংডন বলে, কিন্তু এর দ্বারা সিআইএর সংশ্লিষ্টতা ব্যাখ্যা হয়।

    গ্যালাওয়েও ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারে না। ক্ষমতাধারী মানুষ সবসময়ে আরও বেশি ক্ষমতার জন্য লালায়িত হয়ে থাকে।

    কিন্তু…তাই বলে সিআইএ? ল্যাংডন আপত্তি প্রকাশ করে। কোন মরমীবাদী গুপ্ত রহস্য? কিছু কিছু ব্যাপার ঠিক মিলছে না।

    অবশ্যই মিলছে, ক্যাথরিন বলে। সিআইএ সবসময়ে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সন্ধান করছে এবং রহস্যময় বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে ইএসপি, দৃরগত অবলোকন, অনুভূতিশূন্য অবস্থা, ঔষধ প্রয়োগ করে অতি সক্রিয় মানসিক স্থিতি। সবকিছুর একটাই উদ্দেশ্য- মানব মনের পরোক্ষ ক্ষমতা কাজে লাগান। আমি যদি পিটারের কাছে কিছু শিখে থাকি তবে সেটা হলঃ বিজ্ঞান আর মরমীবাদ পরস্পর খুবই ঘনিষ্টভাবে যুক্ত তাদের কেবল প্রয়োগের ভিন্নতা দ্বারা পৃথক করা যায়। তাদের লক্ষ্য একই…কিন্তু পদ্ধতি আলাদা।

    পিটার বলেছিল, গ্যালাওয়ে বলে, তুমি একধরণের আধুনিক মরমীবাদী বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছো?

    নিওটিকস, ক্যাথরিন মাথা নেড়ে বলে। আর এটা প্রমাণ করছে যে আমাদের কল্পনাও করতে পারব না এমন ক্ষমতা অধিকারী মানুষের মন। সে রঙিন কাঁচের জানালায় একটা পরিচিত দৃশ্যের দিকে ইঙ্গিত করে আলোকিত যীশু যেখানে যীশুর হাত আর মাথা থেকে আলোর রশ্মি বের হচ্ছে। আসলে আমি সম্প্রতি এক ফেইথ হিলারের ছবি তুলেছি কাজ করার সময়ে সুপারকুলড চার্জ-কাপলড ডিভাইস ব্যবহার করে। ছবিটা দেখতে অনেকটা জানালার কাঁচের ঐ যীশুর মত…শক্তি একটা ধারা হিলারের আঙ্গুলের ডগা দিয়ে বের হয়ে আসছে।

    পরিশীলিত অনুশীলন করা মন, গ্যালাওয়ে ভাবে, হাসি চেপে। তোমাদের কি ধারণা যীশু কিভাবে অসুস্থদের সারিয়ে তুলত?

    আমি অনুধাবন করেছি, ক্যাথরিন বলে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ঝাড়ফুককারী শামানদের বিদ্রূপ করে কিন্তু আমি এটা নিজের চোখে দেখেছি। আমার সিসিডি ক্যামেরা পরিষ্কার ছবি তুলেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে এই লোকের আঙ্গুলের ডগা থেকে প্রবল শক্তিক্ষেত্র নির্গত হচ্ছে…আর যা কার্যত রোগীর কোষের গঠনে পরিবর্তন আনছে। এটা যদি ঈশ্বরতুল্য ক্ষমতা না হয় তবে আমি জানি না এটাকে কি নামে অভিহিত করা উচিত।

    ডিন গ্যালাওয়ে এবার হাসেন। ক্যাথরিন তার ভাইয়ের মতই প্রবল অনুভূতির অধিকারী। পিটার একবার নিওটিক সাইন্সকে প্রথম দিকের আবিষ্কারকদের সাথে তুলনা করেছিল যাদের পৃথিবী গোলাকার এই খারেজী ধারণা বিশ্বাস করার কারণে স্ক্রিপ করা হত। প্রায় রাতারাতি এই সব আবিষ্কারক মূর্খ থেকে বীরের কাতারে অভিষিক্ত হয়েছে, অনাবিষ্কৃত পৃথিবী আবিষ্কার করেছে এবং পৃথিবীর সবার দিগন্তরেখা প্রসারিত করেছে। পিটারের ধারণা তুমিও একই ভাগ্য বরণ করবে। তোমার কাজ নিয়ে তার অনেক আশা। আর তাছাড়া, একটা সাহসী ধারণা থেকেই প্রতিটা ইতিহাসের প্রতিভা মহান দার্শনিক পরিবর্তন সূচীত হয়েছে।

    গ্যালাওয়ে অবশ্য জানে, মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনার ধারণা, এই নতুন সাহসী ধারণার প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতে একজনকে গবেষণাগারে যেতে হবে না। এই ক্যাথিড্রালেই অসুস্থদের জন্য প্রার্থনা চক্রের আয়োজন করা হয় এবং বারবার তারা সত্যিকারের অলৌকিক ফলাফল প্রত্যক্ষ করেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে যে শারিরিক রূপান্তরের প্রমাণ নথিভুক্ত আছে। ঈশ্বর মানুষের ভেতর অমিত ক্ষমতা দিয়েছেন কি না প্রশ্ন সেটা না….কিন্তু আমরা কিভাবে সেই শক্তিকে মুক্ত করতে পারি।

    বৃদ্ধ লোকটা শ্রদ্ধাভরে দুহাত ম্যাসনিক পিরামিডের পাশে রেখে শান্ত কণ্ঠে কথা বলতে থাকে। বন্ধুরা আমি জানি না পিরামিডটা কোথায় নির্দেশ করবে…কিন্তু আমি একটা বিষয় জানি। একটা আধ্যাত্মিক সম্পদ এখানে কোথাও প্রোথিত রয়েছে, যা অন্ধকার সময়ে পুরুষানুক্রমে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছে। আমার বিশ্বাস এটা একটা প্রভাবক যার শক্তি রয়েছে পৃথিবীকে বদলে দেবার। এবার সে সোনার শিরোশোভার শীর্ষদেশ স্পর্শ করে। এবং এখন এই পিরামিডটা আবার সম্পূর্ণ হয়েছে…সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে। এবং আসবে নাই বা কেন? মহান আলোকময়তায় রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি সবসময়েই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।

    ফাদার, ল্যাংডন বলে, তার কণ্ঠে প্রতিবাদের সুর, আমরা সেন্ট জনের রিভিলেশন আর মহাপ্রলয়ের আক্ষরিক অর্থের সাথে পরিচিত এবং বাইবেলে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী সামান্যই।

    ওই খোদা, দি বুক অব রিভিলেশন একটা জগাখিচুরী! ডিন বলেন। কেউ সেটা পাঠ করার পদ্ধতি জানে না। আমি কথা বলছি সরল মনের সরল ভাষায় লেখার কথা বলছি-সেন্ট অগাস্টিন, স্যার ফ্রান্সিস বেকন, নিউটন, আইনস্টাইনের অনুমানের কথা বলছি, তালিকাটা আরো বিশাল, তাদের সবাই আলোকিত রূপান্তরের আসন্নতা অনুমান করেছেন। এমনকি আমাদের যীশুও বলেছেন, গোপন সবকিছুই প্রকাশ পাবে এমন কোন গোপনীয়তা থাকবে না যা আলোতে আসবে না।

    এটা একটা নিরাপদ অনুমান, ল্যাংডন বলে। জ্ঞান গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। আমরা যত জানি ততই আমাদের শিখবার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আরো দ্রুত আমাদের জ্ঞানভাণ্ডার বধিত হয়।

    হ্যাঁ, ক্যাথরিন বলে। আমরা এটা বিজ্ঞানে সবসময়ে দেখি। প্রতিটা নতুন প্রযুক্তি আরও নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়…এবং জিনিসটা রাই কুড়িয়ে বেলের মত অনেকটা। এ কারণেই গত পাঁচ বছরে বিজ্ঞান তার আগের পাঁচ হাজার বছরের চেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছে। সূচক হারে বৃদ্ধি। গাণিতিকভাবে, সময়ের সাথে সাথে উন্নতির সূচক রেখা প্রায় উল্লম্বভাবে উঠে যায় এবং নতুন পরিবর্তন অসম্ভব দ্রুত সংঘটিত হয়।

    কামরার ভিতরে আবার নিরবতা নেমে আসে এবং গ্যালাওয়ে বুঝতে পারে তার দুই অল্পবয়সী অতিথি এখনও ধারণা করতে পারেনি কিভাবে পিরামিডটা আরো কিছু প্রকাশের ক্ষমতা রাখে। এ কারণেই নিয়তি তোমাদের আমার কাছে। নিয়ে এসেছে, সে ভাবে। আমাকে একটা ভূমিকা পালন করতে হবে।

    বহু বছর, রেভারেণ্ড কলিন গ্যালাওয়ে তার অন্য ম্যাসনিক ভাইদের সাথে দ্বার রক্ষীর দায়িত্ব পালন করে এসেছে। এখন সেটা বদলে যাচ্ছে।

    আমি আর দ্বাররক্ষী নই…আমি এখন পথ প্রদর্শক।

    প্রফেসর ল্যাংডন? গ্যালাওয়ে ডেস্কের উপর দিয়ে এগিয়ে এসে বলে। আমার হাতটা যদি তুমি ধর।

    .

    রবার্ট ল্যাংডন ডেস্কের উপরে গ্যালাওয়ের বাড়িয়ে ধরা হাতের দিকে অনিশ্চিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকে।

    আমরা কি এখন প্রার্থনা করব?

    মার্জিত ভঙ্গিতে ল্যাংডন তার ডান হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে গ্যালাওয়ের শুষ্ক হাতে রাখে। বৃদ্ধ সেটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে কিন্তু প্রার্থনা শুরু করে না। তার পরিবর্তে সে ল্যাংডনের তর্জনীটা নিয়ে নীচে পাথরের বাক্সের দিকে নিয়ে আসে যেটায় একটা সময়ে সোনার শিরোশোভা রাখা ছিল।

    তোমার চোখ তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছে, ডিন বলে। তুমি যদি তোমার আঙ্গুলের ডগা দিয়ে দেখো আমার মত তুমি বুঝতে পারবে বাক্সটায় আরো কিছু আছে তোমার জানার মত।

    কথা মত ল্যাংডন বাক্সের ভেতর আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে কিন্তু কিছু অনুভব করে না। ভেতরটা একদম মসৃণ।

    দেখতে থাক, গ্যালাওয়ে তাড়া দেয়।

    অবশেষে লাঙ্গড়নের আঙ্গুল কিছু একটা অনুভব করতে পারে- একটা ক্ষুদ্র উঁচু হয়ে থাকা বৃত্ত- একটা ক্ষুদ্র বিন্দু বাক্সের তলদেশের কেন্দ্রে উঁচু হয়ে আছে। সে হাত বের করে ভেতরে উঁকি দেয়। ক্ষুদে বৃত্তটা আক্ষরিক অর্থে খালি চোখে ধরা পড়ে না। কি এটা?

    প্রতীকটা কি তুমি চিনতে পেরেছো? গ্যালাওয়ে জানতে চায়।

    প্রতীক? ল্যাংডন উত্তর দেয়। আমি ভালমত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

    সেটা ধরে নিচের দিকে চাপ দাও।

    ল্যাংডন কথামত কাজ করে, আঙ্গুলের ডগা দিয়ে স্থানটার উপরে চাপ দেয়। তার কি ধারণা কি ঘটবে?

    আঙ্গুল চেপে রাখো, ডিন বলে, চাপ দাও।

    ল্যাংডন ক্যাথরিনের দিকে তাকিয়ে দেখে সে বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে কানের পেছনে চুলের একটা গোছা গুঁজে দেয়।

    কয়েক সেকেণ্ড পরে, বৃদ্ধ লোকটা অবশেষে মাথা নাড়ে। বেশ হাত সরিয়ে নাও। অ্যালকেমী শেষ হয়েছে।

    অ্যালকেমী? রবার্ট বাক্সের ভেতর থেকে হাত বের করে হতবিহ্বল দৃষ্টি নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কিছুই বদলায়নি। বাক্সটা আগের মতই টেবিলের উপরে রাখা আছে।

    কিছুই হয় না, ল্যাংডন বলে।

    তোমার আঙ্গুলের ডগার দিকে দেখো, ডিন উত্তর দেয়। তুমি একটা রূপান্তর দেখতে পাবে সেখানে।

    ল্যাংডন তার আঙ্গুলের দিকে দেখে, কিন্তু একমাত্র রূপান্তর সে যা দেখতে পায় সেটা হল বৃত্তাকার খাঁজ তার ত্বকে একটা ছাপ সৃষ্টি করেছে- একটা ক্ষুদে বৃত্তের মাঝে একটা বিন্দু।

    বৃত্তের মাঝে একটা বিন্দু

    এখন আমাকে বল প্রতীকটা চিনতে পেরেছো? ডিন জানতে চায়।

    ল্যাংডন যদিও প্রতীকটা চিনতে পারে, সে মুগ্ধ হয় ডিন সেটার খুটিনাটি অনুভব করতে পেরেছে দেখে। একজনের আঙ্গুলের ডগা দিয়ে দেখতে পাওয়া একটা বেশ শ্রমসাধ্য দক্ষতা।

    এটা অ্যালকেমিক্যাল, ক্যাথরিন তার চেয়ার ল্যাংডনের পাশে সরিয়ে নিয়ে এসে আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে বলে। এটা সোনার প্রাচীন সংকেত।

    অবশ্যই। ডিন হেসে বাক্সটায় একটা চাপড় দেয়। প্রফেসর, আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ কর। তুমি এই মাত্র অ্যালকেমিস্টরা যুগ যুগ ধরে যা চেষ্টা করে এসেছে সেটা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। একটা মূল্যহীন বস্তুকে তুমি সোনায় রূপান্তরিত করেছে।

    ল্যঅঙ্গডন ভ্রূ কুচকায়, তাকে মোটেই বিমোহিত মনে হয় না। এইসব ফাটকা যাদুতে ভবি ভুলবার নয়। স্যার, বেশ চিত্তাকর্ষক ধারণা, কিন্তু আমার মনে হয় এই প্রতীক- একটা বৃত্তের ভিতরে একটা বৃত্তাকার বিন্দু-এর কয়েক ডজন অর্থ হতে পারে। এটাকে সারকামপাঙ্কট বলা হয় আর এই প্রতীকটা ইতিহাসে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে।

    তুমি কি বলতে চাও, ডিনের কণ্ঠে সংশয় প্রতিধ্বনিত হয়।

    ল্যাংডন অবাক হয় একজন ম্যাসন এই প্রতাঁকের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব সম্পর্কে একেবারেই অবগত নয় দেখে। স্যার, সারকামপাঙ্কটের অসংখ্য মানে আছে। প্রাচীন মিশরে, এটা ছিল রার প্রতীক-সূর্যদেবতা-এবং আধুনিক জ্যোর্তিবিদ্যা এটা আজও ব্যবহার করে সূর্যের প্রতীক হিসাবে। প্রাচ্যের দর্শনে এটা তৃতীয় নয়নের আধ্যাত্মিক অন্তদৃষ্টির প্রতীক, অনিন্দ গোলাপ, এবং আলোকময়তার প্রতীক। ক্যাবালিস্টরা এটাকে ক্যেথারের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করে-সর্বোচ্চ সেপিরথ এবং লুকান বস্তুর ভিতরে সবচেয়ে লুকান বস্তু। শুরুর দিকের মরমীবাদীরা একে ঈশ্বরের চোখ বলতো আর এখান থেকে গ্রেট সীলের সর্বদশী চোখের উৎপত্তি। পিথাগোরিয়ানসরা সারকামপাঙ্কটকে মোনাডের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেছে- দৈব সত্য, দি প্রিসকা স্যাপিয়েনশিয়া, দি এ্যট-ওয়ান-মেন্ট মন আর দেহের এবং—

    অনেক হয়েছে! ডিন গ্যালাওয়ে এবার মুচকি হাসেন। প্রফেসর ধন্যবাদ। তোমার কথাও ঠিক।

    ল্যাংডন বুঝতে পারে তাকে বোকা বানান হয়েছে। আগেই সব জানত।

    দি সারকামপাঙ্কট, আপন মনে হাসতে হাসতে গ্যালাওয়ে বলে, মূলত প্রাচীন রহস্যময়তার প্রতীক। এ কারণেই বাক্সটার ভিতরে এর উপস্থিতি কোন কাকতালীয় না। কিংবদন্তি অনুযায়ী এই মানচিত্রের রহস্য ক্ষুদ্রতম প্রকাশের ভিতরে নিহিত রয়েছে। & ভাল, ক্যাথরিন বলে, কিন্তু এই প্রতীক যদি সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবেও খোদাই করা হয়ে থাকে, তারপরেও আমরা ম্যাপটা পাঠোদ্ধারের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারছি না, পারছি কি?

    তুমি একটু আগে বলেছিলে যে মোমের সীল তুমি যেটা ভেঙেছে সেটাতে পিটারের আংটির ছাপ আছে?

    সেটা ঠিক।

    এবং তুমি বলছ আংটিটা তোমার সাথেই আছে?

    আমার কাছে। ল্যাংডন পকেট থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগ বের করে ভেতর। থেকে আংটিটা বের করে ডেস্কে রাখে।

    গ্যালাওয়ে আংটিটা তুলে নিয়ে সেটায় আঙ্গুল বুলিয়ে দেখে। এই আংটিটা ম্যাসনিক পিরামিডের সাথেই তৈরী করা হয়েছিল এবং রীতি অনুযায়ী যে ম্যাসন। পিরামিড রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে আংটিটা তার হাতেই থাকবে। আজ রাতে, আমি যখন পাথরের বাক্সের ভিতরে সারকামপাঙ্কটটা অনুভব করি তখন। বুঝতে পারি আংটিটা আসলেই সিম্বলনের অংশ।

    তাই নাকি?

    আমি সে বিষয়ে নিশ্চিত। পিটার আমার ঘনিষ্ট বন্ধু আর সে বহু বঝর ধরে এটা পরিধান করে আসছে। আমি আংটিটার সাথে ভালই পরিচিত। সে আংটিটা ল্যাংডনের দিকে এগিয়ে দেয়। নিজেই দেখো।

    ল্যাংডন আংটিটা নিয়ে পরীক্ষা করে, দুই মাথা বিশিষ্ট ফিনিক্স, ৩৩ সংখ্যাটা, অর্ডো আর কাও শব্দগুলো আর অবশ্যই সবকিছুই তেত্রিশতম ডিগ্রীতে প্রকাশিত হবে শব্দগুলোও। সে কিছুই বুঝতে পারে না। তারপরে তার আঙ্গুল বাইরের বৃত্তাকার অংশের নীচে আসতে সে থেমে যায়। চমকে উঠে সে আংটিটা ঘুরায় এবং আংটির ব্যাণ্ডের নীচের দিকে তাকায়।

    খুঁজে পেয়েছো জিনিসটা? গ্যালাওয়ে জানতে চায়।

    আমার মনে হয় পেয়েছি! ল্যাংডন বলে।

    ক্যাথরিন চেয়ার আরো টেনে আনে। কি?

    ব্যাণ্ডের ডিগ্রী প্রতীকটা, ল্যাংডন তাকে দেখিয়ে বলে। এটা এত ক্ষুদ্র যে চোখে দেখে বুঝতে পারবে না কিন্তু অনুভব করতে পারবে, তুমি বুঝতে পারবে একটা খাঁজ আছে- একটা ক্ষুদে বৃত্তাকার কাটা দাগ।ডিগ্রী প্রতীক ব্যাণ্ডের নীচের কেন্দ্রে অবস্থিত…আর স্বীকার করতেই হবে বাক্সের তলদেশের উঁচু হয়ে থাকা বৃত্তাকার প্রতাঁকের সমান।

    একই আঁকৃতির? ক্যাথরিন আরো কাছে আসে এবং তাকে উত্তেজিত দেখায়।

    একটাই উপায় আছে বোঝার। সে আংটিটা নিয়ে বাক্সের তলদেশের উপরে নামিয়ে এনে দুটোকে একই রেখায় আনে এবং চাপ দিতেই বাক্সের উঁচু হয়ে থাকা অংশটা আংটির ভেতরে ঢুকে যায় এবং একটা মৃদু কিন্তু নিশ্চিত ক্লিক শব্দ শোনা যায়।

    সবাই চমকে উঠে।

    ল্যাংডন অপেক্ষা করে কিন্তু কিছুই ঘটে না।

    কিসের আওয়াজ ওটা?! প্রিস্ট কৌতূহলী কণ্ঠে জানতে চায়।

    কিছুই না, ক্যাথরিন উত্তর দেয়। আংটিটা তলদেশে আটকে গেছে…কিন্তু আর কিছুই ঘটেনি।

    কোন রূপান্তর হয়নি? গ্যালাওয়েকে বিভ্রান্ত দেখায়।

    আমাদের কাজ শেষ হয়নি, ল্যাংডন বুঝতে পারে আংটিতে খোদাই করা। প্রতাঁকে দিকে তাকিয়ে দেখে-দুই মাথা ফিনিক্স, এবং ৩৩ সংখ্যা। সবকিছু তেত্রিশতম ডিগ্রীতে প্রকাশ পায়। তার মনে পিথাগোরাসের ভাবনা খেলা করে, পবিত্র জ্যামিতি আর কোণ, সে ভাবে ডিগ্রীর কি কোন গাণিতিক মানে আছে।

    ধীরে, হৃৎপিণ্ডের গতি এখন অনেক দ্রুত, সে হাত দিয়ে আংটিটা ধরে যা তলদেশে আটকে আছে। তারপরে ধীরে সে ডানদিকে সেটা মোচড় দেয়। সবকিছু তেত্রিশ ডিগ্রীতে প্রকাশ পায়

    সে আংটিটা দশ ডিগ্রী ঘুরায়…বিশ…ত্রিশ ডিগ্রী—

    তারপরে যা ঘটে ল্যাংডন সেটা কখনও কল্পনা করেনি।

    .

    ৮৫ অধ্যায়

    রূপান্তর।

    ডিন গ্যালাওয়ে সেটা ঘটার শব্দ শুনেছেন এবং তাই তিনি দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না।

    তার ডেস্কের উল্টোদিকে, ক্যাথরিন আর ল্যাংডন নিশ্চপ বসে আছে, কোন সন্দেহ নেই পাথরের ঘনকের দিকে তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে, যা এই মাত্র একটা বিকট শব্দে তাদের চোখের সামনে বদলে গিয়েছে।

    গ্যালাওয়ে না হেসে থাকতে পারে না। সে আগেই অনুমান করেছিল এমনটা হবে, এবং যদিও তার এখনও কোন ধারণা নেই কিভাবে এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত পিরামিডের ধাঁধাঁর সমাধানে সাহায্য করবে, সে আসলে হার্ভাডের সিম্বলজিস্টকে সিম্বলের বিষয়ে কিছু শেখাতে পেরে খুশীতে বগল বাজাতে চাইছে।

    প্রফেসর, ডিন জানতে চায়, অল্প লোকই অনুধাবন করে যে ম্যাসনরা। বর্গের আঁকৃতিকে পূজা করে বা অ্যাশলার আমরা যা বলে থাকি- কারণ এটা আরেকটা প্রতাঁকের ত্রিমাত্রিক উপস্থাপন…যেটা অনেক পুরানো একটা। দ্বিমাত্রিক প্রতীক। গ্যালাওয়ে প্রফেসরকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন মনে করে না। তার সামনে রাখা প্রতীকটা সে চিনতে পেরেছে কিনা। এটা পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত প্রতীক।

    .

    রবার্ট ল্যাংডনের ভাবনা ঘুরপাক খায় যখন সে তার সামনে ডেস্কের উপরে রূপান্তরিত বাক্সটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমার কোন ধারণা…

    মুহূর্ত আগে সে পাথরের বাক্সের নীচে ম্যাসনিক আংটিটা ধরে আলতো করে মোচড় দিয়েছিল। সে আংটিটা তেত্রিশ ডিগ্রী মোচড় দিতেই ঘনকটা তার সামনে। রূপ বদল করে। ঘনকের চারপাশ তৈরী করা পার্শ্বগুলো তাদের গোপন কজা খুলে যেতে চারপাশে বিছিয়ে যায় পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। বাক্সটা এক নিমেষে খুলে যায় এর চারটা পার্শ্বদেশ আর ঢাকনা বাইরের দিকে উল্টে এসে জোরাল শব্দে ডেস্কের উপরে আঘাত করে।

    বাক্সটা একটা ক্রসে পরিণত হয়েছে, ল্যাংডন ভাবে। প্রতীকি অ্যালকেমী।

    ক্যাথরিন হতবিহ্বল চিত্তে তার সামনে বিযুক্ত ঘনকটার দিকে তাকিয়ে থাকে। ম্যাসনিক পিরামিড. ..খ্রিস্টানধর্মের সাথে যুক্ত?।

    এক মুহূর্তের জন্য ল্যাংডনও তাই ভেবেছিল। তাছাড়া, খ্রিস্টান ক্রসিফিক্স ম্যাসনদের মাঝে বেশ শ্রদ্ধেয় একটা প্রতীক আর প্রচুর খ্রিস্টান ম্যাসন আছে। অবশ্য ম্যাসনদের ভিতরে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, ইহুদি আর সেই সব ধর্মের লোকেরা আছে যাদের ঈশ্বরের কোন নাম নেই। সেই কারণে কেবল খ্রিস্টান ধর্মের একটা প্রতাঁকের ব্যাপারটা ঠিক মেনে নেয়া যায় না। তারপরে এই প্রতাঁকের আসল মানে তার মনে পড়ে।

    এটা মোটেই ক্রুসিফিক্স না, ল্যাংডন উঠে দাঁড়িয়ে বলে। ক্রুস মধ্যে একটা সারকামপাঙ্কট একটা যুগল প্রতীক- দুটো প্রতীক মিলিয়ে একটা প্রতীক তৈরী করা হয়েছে।

    কি বলছো তুমি? সে পায়চারি করতে শুরু করলে তার দিকে তাকিয়ে ক্যাথরিন বলে।

    খ্রিস্টান প্রতীক

    ক্ৰশ, ল্যাংডন বলে, চতুর্থ শতকের আগে খ্রিস্টান প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হত না। তার বহু আগে থেকে, মিশরীয়রা দুটো মাত্রার পরিচ্ছেদনের চিহ্ন হিসাবে এটা ব্যবহার করতো-মানবিক আর স্বর্গীয়। যেমন উপরে ততটাই। নীচে। মানুষ আর দেবতা যেখানে মিলে এক হয়ে যায় এটা সেই সম্মিলনের ঐক্ষিক সন্ধিক্ষণ উপস্থাপন করে।

    ঠিক আছে।

    সারকামপাঙ্কট, ল্যাংডন বলে, আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি এর অনেক অর্থ হয়েছে-তার ভিতরে অন্যতম দুর্বোধ্য হল গোলাপ, অ্যালকেমীক্যাল পরিপূর্ণতার প্রতীক। কিন্তু তুমি যখন গোলাপকে ক্রশের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করলে তারা তখন সম্পূর্ণ আলাদা একটা প্রতাঁকে পরিণত হল- রোজ, ক্রশ।

    গ্যালাওয়ে তার চেয়ারে হেলান দিয়ে মিটিমিটি হাসে। দেখেছো, এইতো সব গড়গড়িয়ে চলে আসছে।

    ক্যাথরিনও এবার উঠে দাঁড়ায়। আমি কি ধরতে পারছি না এখানে?

    দি রোজ ক্ৰশ, ল্যাংডন ব্যাখ্যা করে, ফ্রিম্যাসনারীর একটা সাধারণ প্রতীক। বাস্তবিক পক্ষে স্কটিশ রাইটের একটা ডিগ্রীর নামই আছে নাইটস অব দি রোজ ক্রশ এবং প্রথমদিকের রোজিসিয়ানরা যারা ম্যাসনিক মরমী দর্শনের বিকাশে অবদান রেখেছে তাদের সম্মান জানায়। পিটার তোমাকে সম্ভবত রোজিসিয়ানদের সম্পর্কে বলে থাকবে। কয়েক ডজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী এই সঙ্রে সদস্য ছিল- জন ডি, এ্যালিয়াস অ্যাশমোল, রবার্ট ফ্লাডড-

    ঠিক তাই, ক্যাথরিন বলে। আমি আমার গবেষণার খাতিরে রোজিসিয়ানদের মেনিফেস্টো পড়েছি।

    প্রতিটা বিজ্ঞানীর পড়া উচিত, ল্যাংডন ভাবে। দি অর্ডার অব দি রোজ ক্রশ-বা আরও আনুষ্ঠানিক ভাবে দি এনশিয়েন্ট এও মিসটিক্যাল অর্ডার রোজিয় ক্রসিস- এর একটা রহস্যময় ইতিহাস রয়েছে যা বিজ্ঞানকে প্রভাবিত করেছে এবং প্রাচীন রহস্যময়তার সমতুল্য একটা কিংবদন্তি, প্রাচীণ মুনিঋষিরা তাদের গোপন জ্ঞান পুরুষানুক্রমে গুরুশিষ্য সম্পর্কের সাহায্যে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এবং কেবল উজ্জ্বলতম শিষ্যরাই তা অধ্যয়ন করতে পেত। ইতিহাসের বিখ্যাত রোজিসিয়ানদের তালিকাই আবার ইউরোপের রেনেসাঁসের প্রতিভাবানদের একটা স্বীকৃত হুজ হুর তালিকা: প্যাসকেল, বেকন, ফ্লাড, ডিকার্টিস, প্যারাসেলসাস, নিউটন, লিইবনিজ, স্পিনোজা।

    রোজিসিয়ান মতবাদ অনুসারে, সঙ্টা প্রাচীন অতীতের দুর্বোধ্য সত্যের উপরে উপরে প্রতিষ্ঠিত, সত্যকে হতে হবে গড়পরতা মানুষের কাছ থেকে গোপনীয় এবং যা আধ্যাত্মিক জগতের গভীর অন্তদৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেয়। ভ্রাতৃসঙ্রে প্রতীক বিকশিত হয়ে অলঙ্কৃত ক্রশের উপরে প্রস্ফুটিত গোলাপ ফুল হিসাবে গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু এর শুরুটা হয়েছিল একটা নিরাভরণ ক্রশের উপরে বৃত্তবন্দি বিন্দু দিয়ে গোলাপের সরলতম উপস্থাপন ক্ৰশের সরলতম উপস্থাপনের উপরে।

    পিটার আর আমি প্রায়ই রোজিসিয়ান দর্শন নিয়ে আলোচনা করতাম, গ্যালাওয়ে ক্যাথরিনকে বলে।

    ডিন রোজিসিনিয়ানিজম আর ম্যাসনারীর আন্তসম্পর্ক বোঝাতে শুরু করলে, ল্যাংডন টের পায় তাকে সারারাত ধরে যে ভাবনাটা জ্বালিয়ে মারছে সেটা আবার ফিরে এসেছে। জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস। এই বাক্যাংশ কোন না কোন ভাবে অ্যালকেমীর সাথে সম্পর্কিত। পিটার তাকে এই বাক্যাংশের ব্যাপারে ঠিক কি বলেছিল সেটা সে পুরোপুরি মনে করতে পারে না কিন্তু কোন কারণে রোজিসিয়ানিজম ভাবনাটাকে আবার উস্কে দিয়েছে। ভাবো, রবার্ট:

    দি রোজিসিয়ান সঙ্রে প্রতিষ্ঠাতা,গ্যালাওয়ে বলে চলেছে, বলা হয়ে থাকে এক জার্মান মরমী সাধক যার নাম ক্রিস্টিয়ান রোজেনক্রেউজ-ছদ্মনাম অবশ্যই যা সম্ভবত ফ্রান্সিস বেকন, কোন কোন ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন নিজেই সঙ্টা প্রতিষ্ঠিত করেছেন অবশ্য কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই

    ছদ্মনাম? ল্যাংডন হঠাৎ বলে উঠে নিজেই চমকে যায়। পেয়েছি! জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস! একটা ছদ্মনাম!

    তুমি কিসের কথা বলছো? ক্যাথরিন কোমরে হাত দিয়ে জানতে চায়।

    ল্যাংডনের নাড়ীর গতি দ্রুততর হয়ে উঠে। সারারাত আমি কেবল ভাবতে চেষ্টা করছি পিটার জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস এবং অ্যালকেমিস্টের সাথে এর সম্পর্কে কি বলেছিল। যাক বাবা শেষ পর্যন্ত মনে পড়েছে। ব্যাপারটা যতটা না অ্যালকেমী সম্বন্ধে তারচেয়ে বেশি অ্যালকেমিস্ট সম্পর্কে! একজন খুব বিখ্যাত অ্যালকেমিস্ট!

    গ্যালাওয়ে খিকখিক করে হেসে উঠে। প্রফেসর, সময় হয়ে এসেছে। আমি তার নাম দুবার উল্লেখ করেছি এবং ছদ্মনাম শব্দটাও।

    ল্যাংডন বৃদ্ধ ডিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি জানতে?

    আমার সন্দেহ হয়েছিল যখন তুমি বলেছিলে খোদাই করে জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস লেখা রয়েছে এবং রারের ম্যাজিক স্ক্যোয়ার ব্যবহার করে পাঠোদ্ধার করেছে, তবে তুমি রোজক্রশ খুঁজে পাবার পরে আমি নিশ্চিত হয়েছি। তুমি সম্ভবত জানো, আমাদের বিধেয় বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত কাগজপত্রের ভিতরে। ভীষণ রকমের টীকা টিপ্পনী লেখা রোজিসিয়ান মেনিফেস্টোও রয়েছে।

    কে? ক্যাথরিন থই না পেয়ে শেষে জিজ্ঞেস করে।

    পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত বিজ্ঞানী! ল্যাংডন তাকে আরও ঝুলায়। সে একাধারে একজন অ্যালকেমিস্ট, রয়েল সোসাইটি অব লণ্ডনের সভ্য, রোজিসিয়ান এবং তিনি তার গোপনীয় বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ একটা ছদ্মনামে স্বাক্ষর করতেন-জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস!

    একমাত্র সত্যিকারের ঈশ্বর? ক্যাথরিন বলে। কি বিনয়ী লোক।

    সত্যি বলতে, ব্রিলিয়ান্ট, গ্যালাওয়ে শুধরে দেয়। সে তার নাম এভাবে স্বাক্ষর করতো কারণ প্রাচীন বিশেষজ্ঞদের মত, সে নিজেকে দিব্য বলে মনে করত। আর সেই সাথে, মোল অক্ষরের জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস ভিন্নভাবে বিন্যস্ত করে তার ল্যাটিন নাম উচ্চারিত হত, আর সেকারণেই এটা নিখুঁত ছদ্মনাম।

    ক্যাথরিনকে এবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেখায়। জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস বিখ্যাত অ্যালকেমিস্টের ল্যাটিন নামের অ্যানাগ্রাম?

    ল্যাংডন ডিনের ডেস্কের উপরে রাখা কাগজ আর পেনসিল নিয়ে লিখতে লিখতে কথা বলে। ল্যাটিনে জে বদলে আই হয় আর ভি বদলে হয়ে যায় ইউ যার মানে জেহোভা সাঙ্কটাস উনাস আসলে পুনরায় বিন্যস্ত করে এই লোকের নাম উচ্চারণ করা সম্ভব।

    ল্যাংডন ষোলটা অক্ষর কাগজে লিখেছে: ইসাককস নিউটোনাস।

    ল্যাংডন কাগজটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, আশা করি তার নাম শুনে থাকবে।

    আইজাক নিউটন, ক্যাথরিন কাগজটার দিকে তাকিয়ে জানতে চায়। পিরামিডের উপরের লেখাটা আমাদের এটাই বলতে চেয়েছে।

    এক মুহূর্তের জন্য ল্যাংডন ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবেতে ফিরে যায়, নিউটনের পিরামিড আঁকৃতির সমাধির সামনে দাঁড়ায়, যেখানে তার একই ধরণের এপিফেনীর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এবং আজ রাতে আবার মহান বিজ্ঞানী আবির্ভাব হয়েছে। এটা অবশ্যই কোন কাকতালীয় ব্যাপার না…পিরামিড, রহস্যময়তা, বিজ্ঞান, গোপন জ্ঞান…সবই পরস্পর সম্পর্কিত। গোপন জ্ঞানের যারা অনুশীলন করে তাদের কাছে নিউটনের নাম বারবার পথপ্রদর্শক হিসাবে হাজির হয়।

    আইজাক নিউটন, গ্যালাওয়ে বলে, পিরামিডের পাঠোদ্ধারের সাথে নিশ্চয়ই কোন না কোনভাবে জড়িত। আমি সেটা বুঝতে পারছি না, কিন্তু

    জিনিয়াস! ক্যাথরিন চেঁচিয়ে উঠে তার চোখ বড়বড় হয়ে উঠেছে। আমরা এভাবে পিরামিডটার রূপান্তর ঘটাব!

    তুমি বুঝেছো? ল্যাংডন প্রশ্ন করে।

    হ্যাঁ! সে বলে। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না যে এটা আমরা আগে খেয়াল করিনি! এটা সরাসরি আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। একটা মামুলি অ্যালকেমিক্যাল প্রক্রিয়া। আমি মৌলিক বিজ্ঞানের এই পিরামিডটা রূপান্তরিত করতে পারব! নিউটোনিয়ান বিজ্ঞান!

    ল্যাংডন আঁকাশ বাতাস হাতড়ে বেড়ায় বোঝার জন্য। ডিন গ্যালাওয়ে, ক্যাথরিন বলে। আপনি যদি আংটিটা পরেন দেখবেন তে লেখা আছে-? দাঁড়াও! বৃদ্ধ লোকটা হঠাৎ বাতাসে একটা আঙ্গুল তুলে এবং নিরবতার জন্য ইশারা করে। আলতো করে সে তার মাথা ডানে কাত করে যেন সে কিছু শুনছে। এক মুহূর্ত পরে, সে সহসা উঠে দাঁড়ায়। বন্ধুরা অবশ্যই এই পিরামিডের রহস্য সম্পূর্ণ প্রকাশ হতে এখনও অনেক বাকী আছে। আমি জানি না মিস.সলোমন কিসের ইঙ্গিত দিতে চাইছেন কিন্তু তিনি যদি তার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত থাকেন তবে আমার ভূমিকার এখানেই সমাপ্তি। সব গুছিয়ে নেন এবং আমাকে আর কিছু বলার দরকার নেই। কিছুক্ষণের জন্য আমাকে অন্ধকারে থাকতে দেন। আমি চাই না আমাদের দর্শনার্থীরা আমার কাছ থেকে জোর করে কোন তথ্য আদায় করুক।

    দর্শনার্থী? ক্যাথরিন শুনতে শুনতে বলে। আমি কারো আসার শব্দ পাচ্ছি না।

    তুমি পাবে শীঘ্রই, গ্যালাওয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে। তাড়াতাড়ি।

    .

    শহরের অন্যপ্রান্তে একটা সেল টাওয়ার একটা ফোনে সংযোগ লাভ করার আপ্রাণ প্রয়াস নেয় যা ম্যাসাচুসেটস এ্যাভিনিউয়ে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে। সংকেত না পেয়ে সেটা ভয়েস মেলে রিডাইরেক্ট হয়।

    রবার্ট, ওয়ারেন বেল্লামির আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। তুমি কোথায়? আমার সাথে যোগাযোগ কর। মারাত্মক একটা ব্যাপার ঘটতে চলেছে!

    .

    ৮৬ অধ্যায়

    তার বেসমেন্টের আলোর আঁকাশীনীল আভায়, মাল’আখ পাথরের টেবিলটার সামনে দাঁড়িয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যায়। কাজ করার সময়ে তার খালি পেট আবার মোচড় দেয়। সে কোন গুরুত্ব দেয় না। দেহের ইচ্ছার কাছে তার দাসত্বের দিন শেষ হয়েছে।

    রূপান্তর বিসর্জন দাবী করে।

    ইতিহাসে আধ্যাত্মিকভাবে বিকশিত অধিকাংশ মানুষের মতই, মাল’আখ নিজের সাধনা মহান দৈহিক উৎসর্গের দ্বারা শুরু করেছে। সে যেমন ভেবেছিল রোহিতকরণ তার চেয়ে অনেক কম বেদনাদায়ক। এবং সে পরে জেনেছে, অনেক সাধারণ ব্যাপার। প্রতি বছর হাজারো মানুষ অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে নিবীর্য হয়-অর্ডিয়েকটমি, বলা হয় অপারেশনটাকে- উভলিঙ্গের সমস্যা, যৌন আকর্ষণ হ্রাস, গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এমন নানা প্রণোদনা এর পেছনে কাজ করে। মাল’আখের ক্ষেত্রে কারণটা ছিল সর্বোচ্চ মাত্রার। পৌরাণিক কাহিনীর স্বেচ্ছায় রোহিতকরণকৃত এ্যাটিসদের মত, মাল’আখ জানে অমরত্বের অধিকারী হতে চাইলে স্ত্রী পুরুষের পার্থিব জগতের সাথে নিখুঁত বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে।

    এ্যানড্রোজিন একটাই।

    বর্তমানকালে, খোঁজাদের পরিহার করা হয় কিন্তু প্রাচীন মানুষেরা এই রূপান্তরসাধন উৎসর্গের অন্তনিহিত ক্ষমতা ভালই বুঝত। এমনকি প্রথম দিকের খ্রিস্টানরা যিশু নিজে এর উচ্চপ্রশংসা করেছেন শুনেছে ম্যাথু ১৯:১২: স্বর্গের রাজত্বের খাতিরে অনেকেই নিজেদের খোঁজা করেছে। যে এটা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে তাকে এটা গ্রহণ করতে দাও।

    পিটার সলোমন দেহের একটা অংশ উৎসর্গ করেছে তবে পুরো পরিকল্পনায় একটা হাত উৎসর্গের মূল্য অনেক কম। রাত শেষ হতে হতে সলোমন আরো অনেক কিছুই উৎসর্গ করবে।

    সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমাকে ধ্বংস করতেই হবে। পিটার সলোমন অবশ্যই এই নিয়তির অধিকারী যা আজ রাতে তার জন্য অপেক্ষা করছে। সেটা হবে একটা যথোপযুক্ত সমাপ্তি। অনেক আগে সে মাল’আখের নশ্বর পার্থিব জীবনে একটা নিরতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই কারণেই সে পিটারকেই বেছে নিয়েছে মাল’আখের মহান রূপান্ত রে নিরতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য। এই লোক যে যন্ত্রণা আর ভোগ করতে চলেছে সেটা সে নিজেই অর্জন করেছে। পিটার সলোমনকে পৃথিবী যেভাবে চেনে সে মোটেই সেরকম নয়।

    সে নিজের সন্তানকে উৎসর্গ করেছে।

    পিটার সোমন একবার তার ছেলে, জ্যাকারিয়ার সামনে একটা অসম্ভব পছন্দ দিয়েছিল- সম্পদ না জ্ঞান। জাকারিয়া ভুলটা বেছে নেয়। ছেলেটার সিদ্ধান্ত পরপর অনেকগুলো ঘটনার জন্ম দেয় যা তাকে শেষ পর্যন্ত নরকে টেনে নিয়ে যায়। সোগানলিক জেলখানা। তুরস্কের সেই জেলখানায় জ্যাকারিয়া মারা যায়। সারা পৃথিবী এটাই জানে…কিন্তু তারা যেটা জানে না সেটা হল পিটার সলোমন চাইলে নিজের ছেলেকে বাঁচাতে পারত।

    আমি সেখানে ছিলাম, মাল’আখ ভাবে। আমি পুরোটা শুনেছি।

    মাল’আখ সেই রাতের কথা কখনও ভুলতে পারেনি। সলোমনের নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত তার ছেলের মৃত্যুর কারণে পর্যবসিত হয়, কিন্তু সেটাই আবার মাল’আখের জন্মের কারণ।

    কাউকে মরতে হবে যাতে অন্যেরা বেঁচে থাকতে পারে।

    মাল’আখের মাথার উপরের আলো রঙ বদলাতে শুরু করতে, সে বুঝতে পারে অনেক রাত হয়েছে। সে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে র‍্যাম্প দিয়ে উপরে উঠে আসে। নশ্বর পৃথিবীর কাজে যোগ দেবার সময় হয়েছে।

    .

    ৮৭ অধ্যায়

    সবকিছু তেত্রিশ ডিগ্রীতে উন্মোচিত হয়, ক্যাথরিন দৌড়াতে দৌড়াতে ভাবে। আমি জানি পিরামিডটা কিভাবে পান্তিরিত করতে হবে? উত্তরটা সারা রাতই তাদের চোখের সামনে রয়েছে।

    ক্যাথরিন আর ল্যাংডন এখন একা, ক্যাথেড্রালের বর্ধিত অংশ দিয়ে দৌড়ে চলেছে, দি গার্থ চিহ্ন অনুসরণ করতে করতে। এখন, ডিন ঠিক যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা ক্যাথিড্রাল থেকে বের হয়ে তেমনই একটা দেয়াল ঘেরা কোর্টইয়ার্ডে এসে পৌঁছে।

    ক্যাথিড্রালের বাগান ঘেরা অংশটা আচ্ছাদিত উদ্যানপথযুক্ত পঞ্চভূজাকৃতি, একটা পোস্টমডার্ণ ঝর্ণাও রয়েছে। ক্যাথরিন অবাক হয়ে দেখে ঝর্ণার পানির ধারা কেমন জোরালভাবে বাগানে অনুরণিত হয়। তারপরে সে বুঝতে পারে শব্দটা ঝর্ণা থেকে আসছে না।

    হেলিকপ্টার! তাদের সামনের অন্ধকার চিরে একটা আলোর রশ্মি দেখা যেতে সে চেঁচিয়ে উঠে বলে। পোর্টিকোর নীচে জলদি!

    ল্যাংডন আর ক্যাথরিন বাগানের অন্য দিকে পৌঁছান মাত্রই সার্চলাইটের আলো বাগান আলোকিত করে তুলে, তারা একটা গথিক খিলানের নীচে দিয়ে পিছলে একটা টানেলে ঢুকে পড়ে যা বাইরের লনের দিকে গিয়েছে। তারা গুটিসুটি হয়ে টানেলের ভিতরে অপেক্ষা করলে হেলিকপ্টার তাদের মাথার উপর দিয়ে গিয়ে ক্যাথেড্রালকে একটা বড় বৃত্তাকার পথে ঘুরে টহল দিতে থাকে।

    আমার মনে হয় গ্যালাওয়ে ঠিকই দর্শনার্থীদের আগমনের শব্দ ঠিকই শুনেছিল,ক্যাথরিন মুগ্ধ কণ্ঠে বলে। অন্ধ চোখ দারুণ শ্রবণশক্তির জন্ম দিয়েছে। তার দ্রুততর নাড়ীর গতি নিজের কানেই ঢোলের বোল তুলে।

    এই পথে, ল্যাংডন ডেব্যাগটা আঁকড়ে প্যাসেজ দিয়ে যেতে শুরু করে বলে।

    ডিন গ্যালাওয়ে তাদের একটা সাধারণ চাবি আর পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, সংক্ষিপ্ত টানেলের শেষে তারা যখন পৌঁছে, তারা নিজেদের গন্তব্য থেকে একটা চওড়া লন দ্বারা পৃথক অবস্থায় দেখতে পায়, যে জায়গাটা সেই মুহূর্তে মাথার উপরের হেলিকপ্টারের সার্চলাইটের আলোয় উদ্ভাসিত।

    আমরা অতিক্রম করতে পারব না, ক্যাথরিন বলে।

    দাঁড়াও…দেখো। ল্যাংডন সনের উপরে তাদের বামে একটা কালো ছায়ার দিকে ইঙ্গিত করে যা সেই মুহূর্তে মূর্ত হয়ে উঠছে। ছায়াটা একটা আঁকৃতিহীন ফুটকির মত শুরু হয় কিন্তু দ্রুত বেড়ে উঠে তাদের অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসে, আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে, দ্রুত থেকে দ্রুততর ভঙ্গিতে তাদের দিকে ধেয়ে আসে, বর্ধিত হতে থাকে এবং অবশেষে একটা অতিকায় আয়তক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয় যার শীর্ষে দুটো অসম্ভব লম্বা চূড়া রয়েছে।

    সার্চলাইটের আলো ক্যাথিড্রালের সম্মুখ দিকে বাঁধা পাচ্ছে, ল্যাংডন বলে।

    তারা সামনে অবতরণ করবে।

    ল্যাংডন ক্যাথরিনের হাত আঁকড়ে ধরে। দৌড়াও! এখনই!

    .

    ক্যাথিড্রালের ভিতরে ডিন গ্যালাওয়ে নিজের পায়ে একটা চপলতা অনুভব করে যা বহু বছর সে অনুভব করেনি। সে গ্রেট ক্রসিঙের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে গির্জার মূল অংশের ভিতর দিয়ে আচ্ছাদিত নারথেক্সের ভিতর দিয়ে প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে যায়।

    সে এখন ক্যাথিড্রালের সামনে হেলিকপ্টারের চক্কর দেবার শব্দ শুনতে পায়, এবং কল্পনা করে এর আলো রোজ উইনডোর ভিতর দিয়ে তার সামনে এসে পড়েছে পুরো শরণস্থানে দর্শনীয় রঙের বাহার ছিটিয়ে। রঙ দেখতে পাবার দিনগুলোর কথা তার মনে পড়ে। মজার বিষয় আলোহীন শূন্যতা যা তার পৃথিবীতে পরিণত হয়েছে তার জন্য অনেককিছু আলোকিত করে তুলেছে। আমি এখন পূর্বের চেয়ে অনেক স্পষ্ট দেখতে পাই।

    তরুণ বয়সেই গ্যালাওয়ে ঈশ্বরের আহবান শুনতে পেয়েছিল এবং সারা জীবন সে কোন মানুষের পক্ষে যতটা সম্ভব চার্চকে ভালবাসতে চেষ্টা করেছে। তার অনেক সহকর্মীর ন্যায় যারা আন্তরিকভাবে ঈশ্বরকে তাদের জীবন সমর্পন করেছিল, গ্যালাওয়ের দেহমনে ছিল ক্লান্তি। অজ্ঞতার হট্টগোল ছাপিয়ে শোনার প্রয়াসেই সে তার জীবন কাটিয়ে দিয়েছে।

    আমি কি প্রত্যাশা করেছিলাম?

    ক্রুসেড থেকে ইনকুইজিশন থেকে আমেরিকার রাজনীতি- সব ধরণের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যিশুর নাম মিত্র হিসাবে জোর করে জুড়ে দেয়া হয়েছে। সভ্যতার শুরু থেকেই অজ্ঞ যারা তারা সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে এসেছে, অসন্দিগ্ধ জনগণকে খেদিয়ে নিয়ে বাধ্য করেছে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে। তারা নিজেদের পার্থিব আঁকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত করতে নিজেরা বোঝে না এমন ধর্মীয় গ্রন্থের বাণী কপচায়। তারা তাদের অসহিষ্ণুতাকে তাদের বিশ্বাসের স্মারক হিসাবে প্রচার করে। এখন, এত বছর পরে, মানব জাতি শেষ পর্যন্ত যীশুর যা কিছু সুন্দর ছিল সব মুছে ফেলেছে।

    আজ রাতে, রোজশের প্রতাঁকের মুখোমুখি হতে তার ভিতরে বিপুল আশার সঞ্চার হয়েছে, রোজিসিয়ান মেনিফেস্টোকে উদ্ধৃত ভবিষ্যদ্বাণী তার মনে পড়ছে, গ্যালাওয়ে অতীতে যা অসংখ্যবার পাঠ করেছে এবং এখনও তাদের স্মরণ আছে।

    ১ম অধ্যায়: জেহোভা পূর্বে কেবল নির্বাচিতদের জন্য যেসব সংরক্ষণ করতেন সেসব রহস্য সমগ্র মানবতার কাছে তিনি পুনরায় প্রকাশ করবেন।

    ৪র্থ অধ্যায়: সারা পৃথিবী একটা মতের অনুসারী হবে আর বিজ্ঞান এবং ধর্মমতের দ্বন্দ্বের নিরসন হবে।

    ৭ম অধ্যায়: পৃথিবীর ধ্বংস হবার আগে মানব জাতির দুর্দশা নিরসনে ঈশ্বর আধ্যাত্মিক আলোর একটা বন্যা বইয়ে দেবেন।

    ৮ম অধ্যায়: এই প্রকাশ সম্ভব হবার পূর্বে, পৃথিবী অবশ্যই বিষাক্ত পানপাত্রের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে উঠবে যা ধর্মীয় বিভ্রান্তির মোহে পূর্ণ।

    গ্যালাওয়ে জানে চার্চ বহুঁকাল আগেই পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সে তার জীবন সেটা সংশোধনে ব্যায় করেছে। এখন সে বুঝতে পারে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ দ্রুত এগিয়ে আসছে।

    সকালের আগেই অন্ধকার বেশি জাঁকিয়ে আসে।

    .

    সিআইএ ফিল্ড এজেন্ট সিমকিনস সিকরোস্কি হেলিকপ্টারের কাঠামোর শক্তিবৃদ্ধিতে ব্যবহৃত ধাতব খণ্ডের উপরে বসে ছিল যখন এটা কুয়াশা ভেজা মাঠে অবতরণ করে। সে লাফিয়ে নেমে নিজের লোকদের সাথে যোগ দেয়এবং হেলিকপ্টারকে আঁকাশে উঠে গিয়ে বের হবার সবগুলো পথের উপরে নজর রাখতে বলে।

    এই ভবন থেকে কেউ বের হচ্ছে না।

    রাতের আঁকাশে হেলিকপ্টার উঠে আসলে তার লোকদের নিয়ে সে। ক্যাথিড্রালের প্রধান প্রবেশ পথের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করে। ছয়টা দরজার কোনটা ধাক্কা দেবে ঠিক করার আগেই একটা দরজা ভেতর থেকে খুলে যায়।

    হ্যাঁ, একটা শান্ত কণ্ঠস্বর অন্ধকার থেকে জানতে চায়। সিমকিনসের লোকেরা কুজো লোকটাকে পাদ্রীর আলখাল্লা পরিহিত অবস্থায় আবছা দেখতে পায়।

    আপনি কি ডিন গ্যালাওয়ে?

    আমিই, বৃদ্ধ লোকটা বলে।

    আমি রবার্ট ল্যাংডনকে খুঁজছি? আপনি তাকে দেখেছেন কি?

    বৃদ্ধ লোকটা এবার সামনে এগিয়ে এসে রহস্যময় শূন্য দৃষ্টিতে সিমকিনসকে ছাড়িয়ে পেছনে তাকিয়ে রয়। এখন আমাকে বল সেটা একটা অলৌকিক ব্যাপার হবে না।

    .

    ৮৮ অধ্যায়

    সময় শেষ হয়ে আসছে।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ইতিমধ্যে সহ্যের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে এবং কফির তৃতীয় মগ যে এখন যা পান করছে তার ভেতরে বৈদ্যুতিক প্রবাহের মত নেমে যায়।

    সাটো এখনও কিছু জানাল না।

    অবশেষে তার ফোন বেজে উঠে এবং নোলা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ফোন ধরে। ওএস, সে উত্তর দেয়। নোলা বলছি।

    নোলা, সিস্টেম সিকিউরিটির রিক পারিস।

    নোলা দমে যায়। সাটো না। হাই রিক, বলো কি করতে পারি তোমার জন্য?

    আমি তোমাকে আগে থেকে একটা বিষয় জানিয়ে রাখতে চাই। আমার ডিপার্টমেন্টে তুমি আজ রাতে যা নিয়ে জেরবার হচ্ছ সে বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য হয়ত রয়েছে।

    নোলা কফির মগ নামিয়ে রাখে। তুমি বাপ কিভাবে জানলে আমি আজ রাতে কোন মাঠের ঘাস কাটছি? তোমার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না?

    দুঃখিত, আমি নতুন সিআইএ প্রোগ্রামের কথা বলছি যা আমরা বেটা টেস্টিং করছি, পারিস বলে। সেখানে কেবল তোমার ওয়ার্কস্টেশনের নাম্বার ভেসে উঠছে।

    নোলা এবার তার কথা বুঝতে পারে। এজেন্সি সম্প্রতি একটা নতুন। কোলাবরেশন ইন্টিগ্রেশন সফটওয়্যার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে যখন তারা সম্পর্ক রয়েছে এমন ডাটা ফিল্ড প্রসেস করবে তখন অসদৃশ সিআইএ। ডিপার্টমেন্টকেরিয়েল-টাইম এলার্ট পাঠাবে। সময়-সংবেদনশীল সন্ত্রাসী আক্রমণের যুগে বিপর্যয় মোকাবেলায় কেবল আগে থেকে জানা থাকলে যে তোমার প্রয়োজনীয় তথ্য হলের কেউ একজন এই মুহূর্তে বিশ্লেষণ করছে অনেক সময়ে কার্যকরী প্রমাণিত হতে পারে। নোলার অভিজ্ঞতা অনুসারে এই সিআইএ কাজের চেয়ে অকাজ বেশি করেছে- অনবরত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সফটওয়্যার নোলা এর নাম দিয়েছে।

    ঠিক আছে, আমি ভুলে গিয়েছিলাম, নোলা বলে। তুমি কি জান? সে নিশ্চিত এই ভবনে আর কেউ আসন্ন বিপর্যয়ের কথা জানে না, সে সম্পর্কে কাজ করা আরও অসম্ভব একটা সম্ভাবনা। আজ রাতে সে দুর্বোধ্য ম্যাসনিক বিষয়ে সাটোর হয়ে কিছু ঐতিহাসিক সার্চের জন্য সে কম্পিউটার ব্যবহার করেছে। যাই হোক তার সাথে সহযোগিতার খেলা খেলতে সে বাধ্য।

    বেশ মনে হয় খুব একটা বিশেষ কিছু না, পারিস বলে, আজ রাতে আমরা এক হ্যাকারকে থামিয়েছি এবং সিআইএ প্রোগ্রাম বলছে আমি তথ্যটা তোমাকে জানাই।

    হ্যাকার? নোরা কফিতে চুমুক দেয়। আমি শুনছি?

    ঘন্টাখানেক আগে, পারিস বলে, জুবিয়ানিস নামে এক হ্যাকারকে ধমক দেই যখন সে আমাদের ইন্টারনাল ডাসাবেসে রক্ষিত একটা ফাইল এ্যাকসেস করতে চায়। লোকটা দাবী করে তাকে টাকা দেয়া হয়েছে কাজটার জন্য কিন্তু কেন তাকে এই নির্দিষ্ট ফাঁইলে ঢোকার জন্য টাকা দেয়া হয়েছে সে জানে না বা এটা সে সিআইএর ডাটাবেসে রক্ষিত রয়েছে সেটাও সে জানত না।

    ঠিক আছে।

    আমরা তাকে জেরা করে দেখেছি সে নিরপরাধ। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল সে যে ফাইলটা টার্গেট করেছিল আজ রাতে সেই একই ফাইল একটা ইন্টারনাল সার্চ ইঞ্জিন ফ্ল্যাগড করেছে। দেখে মনে হচ্ছে কেউ একজন পিগিব্যাক করে আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড সার্চ একটা সম্পাদনা চালু। করেছে। ব্যাপারটা হল তাদের ব্যবহৃত কিওয়ার্ড তারা সত্যিই আজব। এবং একটা ম্যাচ রয়েছে যা সিআইএ বিশেষগুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে- যা আমাদের উভয়ের ডাটা সেটের জন্য অনন্য। সে একটু চুপ করে থাকে। তুমি কি কিওয়ার্ড…সিম্বলন এর সাথে পরিচিত?

    নোরা এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালে তার কফির মগ থেকে কফি ছলকে পড়ে।

    অন্য কিওয়ার্ডও একধরণের অদ্ভুত, পারিস বলতে থাকে। পিরামিড, সিংহদ্বার–

    এখনই এখানে আস, নিজের ডেস্ক মুছতে মুছতে নোরা আদেশ দেয়। আর তোমার কাছে যা আছে সব কিছু নিয়ে আসবে।

    এই শব্দগুলোর আসলেই কোন অর্থ আছে?

    এখনই!!

    .

    ৮৯ অধ্যায়

    কাড্রিনাল কলেজে একটা দূর্গের মত দেখতে অভিজাতদর্শন অট্টালিকা ন্যাশনাল ক্যাথিড্রালের পাশেই অবস্থিত। ওয়াশিংটনের প্রথম এপিসকোপাল বিশপ প্রথমে একে কলেজ অব প্রিচারস বলেই গড়ে তোলার কথা ভেবেছিলেন, যেখানে দীক্ষাগ্রহণের পরে যাজকদের চলমান শিক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আজ কলেজটা ধর্মতত্ত্ব, বিশ্বজনীন ন্যায়বিচার, আধ্যাত্মিক নিরাময় আর আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    লনের উপর দিয়ে দৌড়ে এসে ল্যাংডন আর ক্যাথরিন গ্যালাওয়ের চাবি ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতেই তাদের পেছনে হেলিকপ্টারটা আবার। ক্যাথিড্রালের উপরে উঠে আসলে তার সার্চলাইটের আলোতে রাতের অন্ধকার আলোর বন্যায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। এখন, রুদ্ধশ্বাসে ভেতরের ফয়্যারে দাঁড়িয়ে। তারা চারপাশে তাকায়। জানালা দিয়ে যথেষ্ট আলো ভেতরে প্রবেশ করছে আর তাই ল্যাংডন ভেতরের আলো জ্বালিয়ে বাইরের আঁকাশে ঘুরঘুর করতে থাকা হেলিকপ্টারের মনোযোগ আকর্ষণের কোন কারণ খুঁজে পায় না। তারা কেন্দ্রীয় হলওয়ে দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বেশ কয়েকটা কনফারেন্স হল, শ্রেণীকক্ষ আর বসার জায়গা অতিক্রম করে আসে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিও-গথিক ভবনের কথা ল্যাংডনের মনে পড়ে এর ভেতরটা দেখে-বাইরেরটা শ্বাসরুদ্ধকর রকমের সুন্দর আর ভেতরটা অবাক করা কেজো। তাদের পর্বের আভিজাত্য জ্ঞানার্থীদের পদভারের ভার সহনীয় করেই নির্মিত হয়েছে।

    এখানে, হলের অন্যপ্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করে ক্যাথরিন বলে।

    পিরামিড সম্পর্কে নিজের নতুন বোধ অভিব্যক্তি সে এখনও ল্যাংডনকে বলেনি তবে আপাতদৃষ্টিতে ইসাকাস নিউটোনিমাসের নাম উচ্চরিত হবার সাথে সাথে তার এটা মনে হয়েছে। লন অতিক্রম করার সময়ে সে কেবল এটুকুই বলেছে পিরামিড সাধারণ বিজ্ঞানের নীতি ব্যবহার করে রূপান্তরিত করা সম্ভব। সে জন্য তার যা কিছু প্রয়োজন তা ধারণা তার সবই এই ভবনে পাওয়া যাবে। ল্যাংডনের তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোন ধারণা নেই বা কিভাবে ক্যাথরিন একটা নিরেট গ্রানাইট বা সোনার খণ্ডকে কিভাবে রূপান্তরিত করবে কিন্তু চোখের সামনে একটা ঘনককে রোজিসিয়ান ক্রসে পরিণত হতে দেখে সে আশাবাদী হতে ইচ্ছুক।

    তারা হলের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছে এবং ক্যাথরিনের ভ্রু কুঁচকে উঠে, বোঝা যায় সে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খুঁজে পাচ্ছে না। তুমি বলেছিলে এই ভবনে ডরমেটরী রয়েছে?

    হ্যাঁ, আবাসিক কনফারেন্সের জন্য।

    তার অর্থ এখানে কোথাও একটা কোন ধরণের রান্নাঘর আছে, ঠিক?

    তোমার খিদে পেয়েছে?

    সে এবার তার দিকে কুচকে তাকায়। আমার একটা ল্যাব দরকার।

    অবশ্যই, তাই তো। ল্যাংডন নিচের দিকে নেমে যাওয়া একটা সিঁড়ি দেখায় যার সামনে একটা প্রতিশ্রুতিময় প্রতীক শোভা পাচ্ছে। আমেরিকার জনপ্রিয় পিকটোগ্রাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম
    Next Article বরফকল – ওয়াসি আহমেদ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }