Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – জে ডি সালিঞ্জার, অনুবাদ – রাফায়েত রহমান রাতুল

    জে ডি সালিঞ্জার এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – ১৭

    অধ্যায় সতেরো

    বেশ আগেভাগেই চলে এসেছিলাম আমি। শো শুরু হতে তখনো অনেক দেরি ছিল। তাই লবিতে ঘড়ির নিকটে থাকা একটা চামড়ার সিটে বসে স্যালির অপেক্ষা করছিলাম আর মেয়ে দেখছিলাম। ক্রিসমাসের সময় বলে বেশির ভাগ স্কুলেই ছুটি শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাই প্রচুর পরিমাণ মেয়ে ছিল জায়গাটায়। বেশির ভাগই বসে বা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল তাদের ডেটের। মেয়েদের অনেকেই বসেছিল পা ভাঁজ করে, আবার অনেকেই পা সোজা রেখেই বসেছিল, কারো পা আবার ছিল খুবই চমৎকার, কারো পা ছিল খুবই ফালতু, কিছু মেয়ে দেখতে প্রচণ্ড রকম কিউট, আবার কিছু মেয়েকে দেখতেই ডাইনির মতো লাগছিল। যাইহোক, আশেপাশের দৃশ্যটা ভালোই ছিল। তারপরও একদিক থেকে আমার কিছুটা খারাপও লাগছিল মেয়েগুলোর সাথে পরবর্তীতে কী হবে সেটা ভেবে। মানে তারা স্কুল-কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়ার পর কী হবে তা নিয়ে ভাবছিলাম। ধারণাই করা যায় যে বেশির ভাগ মেয়েই বিয়ে করবে গর্দভটাইপ কিছু ছেলেকে। ঐসব ছেলে যাদের বেশি আগ্রহ তাদের গাড়ি এক গ্যালন তেলে কত মাইল চলতে পারে, ঐসব ছেলে যারা গলফে বা এমনকি পিংপং-এ হারলে বাচ্চাদের মতো মন খারাপ করে পড়ে থাকে। ঐসব ছেলে যাদের আচরণ খুবই খারাপ, বা ঐসব ছেলে যারা কখনো বই পড়ে না, বা যারা খুবই বিরক্তিকর। তবে আমার মনে হয় এই ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা উচিৎ। মানে কাউকে বিরক্তিকর বলাটা। বিরক্তিকর লোকদেরকে আমি আসলে ঠিক বুঝতে পারি না। আসলেই বুঝতে পারি না। এল্কটন হিলসে পড়ার সময় হ্যারিস ম্যাকিম নামের একটা ছেলে দুই মাসের জন্য আমার রুমমেট ছিল। ছেলেটা বেশ বুদ্ধিমান, তবে আমার দেখা সবচেয়ে বিরক্তিকর মানুষও ছিল ও। ওর কণ্ঠ ছিল প্রচুর কর্কশ, আর সে কখনোই চুপ করে থাকত না। আসলেই, সবসময়ই বকবক করত। আর সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটা হলো তাকে কোনো কিছুর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে কখনোই এক কথায় সেটা জবাব দিতো না। তবে সে একটা কাজ করতে পারতো। ঐ হারামজাদাটা ভালো শিস বাজাতে পারতো। আমি কাউকে তার থেকে ভালো শিস বাজাতে শুনিনি। বিছানা গোছানোর সময় বা ক্লজেটে কিছু রাখার সময়—হারামিটা সবসময়ই ক্লজেট ভরে রাখতো, ব্যাপারটায় প্রচুর বিরক্ত লাগতো আমার—হয় কর্কশ গলায় বকবক করত নয়তো শিস বাজাতো। ক্ল্যাসিক্যাল গানগুলোর শিস ও বাজাতে পারতো ও। তবে বেশির ভাগ সময়ই জ্যাজ গানের শিস বাজাতো, এমনকি ‘টিন রুফ ব্লুজ’-এর মতো কঠিন জ্যাজ গানও ভালোভাবেই বাজাতে পারতো। আমি তাকে কখনোই বলিনি যে সে খুব ভালো শিস বাজাতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই। নিশ্চয়ই কাউকে ডেকে এটা বলা যায় না যে, ‘হেই, তুমি খুব ভালো শিস বাজাতে পারো।’ যদিও তার আচরণে বিরক্ত হয়ে আমার প্রায় আধপাগল হওয়ার দশা হয়েছিল, তারপরও তার সাথে আমি দুই মাস এক রুমে থেকেছিলাম শুধুমাত্র তার ভালো শিস বাজানোর ক্ষমতার কারণে। সেজন্যই আমি আসলে বিরক্তির ব্যাপারে তেমন একটা নিশ্চিত না। হয়তো কোনো ভালো মেয়ে এমন কাউকে বিয়ে করলে সেটা অতটা দুঃখ করার কিছু নেই। এদের বেশির ভাগই কারো মনে আঘাত করে না, আর হয়তো গোপনে তারা খুব ভালো শিসবাদক বা কোনো কিছুতে খুব দক্ষও হতে পারে। কে জানে? নিশ্চিতভাবেই আমি জানি না তা।

    অবশেষে এসে পৌঁছালো স্যালি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছিল। আমিও তাকে দেখে নামা শুরু করলাম সিঁড়ি দিয়ে। তাকে দেখতে প্রচণ্ড সুন্দর দেখাচ্ছিল। আসলেই। একটা কালো কোট পরে রেখেছিল, আর মাথায় ছিল একটা কালো ব্যারে (গোলাকার টুপি)। সে খুব একটা বেশি টুপি পরে না, তবে ব্যারেতে চমৎকার সুন্দর দেখাচ্ছিল তাকে। মজার ব্যাপারটা হলো, তাকে ওইসময় দেখে মনে হচ্ছিল আমি তাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমি আসলেই একটা পাগল। আমি স্যালিকে অতটা পছন্দ করতাম না, তারপরও মুহূর্তে মনে হচ্ছিল যে আমি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। মেনে নিচ্ছি, আমি আসলেই একটা পাগল।

    ‘হোল্ডেন!’ স্যালি বলল। ‘খুবই ভালো লাগছে তোমাকে দেখে। অনেকদিন পর দেখা হলো তোমার সাথে।’ তার কণ্ঠটা ছিল খুবই জোরালো আর বাজে। তাকে সাথে নিয়ে কারো সাথে দেখা হলে তার এই কণ্ঠের জন্য বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তবে সে দেখতে খুবই সুন্দর হওয়ায় কণ্ঠের দিকে অতটা লক্ষ্য করে না কেউ। তবে তার কণ্ঠস্বরটা খুবই যন্ত্রণা দেয় আমাকে।

    ‘তোমাকে দেখেও খুব ভালো লাগছে,’ বললাম। মন থেকেই বলেছিলাম। ‘কেমন আছো তুমি?’

    ‘খুবই ভালো। আমি কি দেরি করে ফেলেছি?’

    তাকে না বললেও, সে আসলে মিনিট দশেক দেরি করেই এসেছিল। অবশ্য ওটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যাও ছিল না। শনিবার সন্ধ্যার পোস্ট-এ প্রায়ই কার্টুনে দেখা যায় যে গার্লফ্রেন্ডরা দেরি করে আসছে দেখে ছেলেরা মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। ফালতু কার্টুন কতগুলো। মেয়েটা যদি খুবই লাস্যময়ী সুন্দরী হয়ে থাকে, তাহলে সে দেরি করে আসছে কি না তা নিয়ে মাথা ঘামাবে কে? কেউই না। ‘আমাদের জলদি পা চালানো উচিৎ,’ বললাম। ‘শো দুইটা চল্লিশে শুরু হবে।’ বলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে ট্যাক্সিগুলোর দিকে পা বাড়ালাম।

    ‘কোন শো দেখছি আমরা?’ স্যালি বলল।

    ‘ঠিক জানি না। লান্টসদের শো। এটার টিকিটই যোগাড় করতে পেরেছি।’

    ‘লান্টস! কী চমৎকার!’ আগেই বলেছিলাম লান্টসদের নাম শুনলেই খুশিতে পাগল হয়ে যাবে ও।

    থিয়েটারে যাওয়ার পথে ক্যাবের ভেতরে কিছুক্ষণ মেক-আউট করে নিলাম আমরা। স্যালি যদিও প্রথমে কিস করতে চাচ্ছিল না, কারণ সে লিপস্টিক দিয়ে এসেছে—কিস করলে লিপস্টিক নষ্ট হয়ে যাবে, কিন্তু আমি এতই সম্মোহনী চাহুনি দিয়ে তাকাচ্ছিলাম যে, তার আর শেষে কিস না করেও কোনো উপায় ছিল না। এরপর তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম আমি তাকে ভালোবাসি আমি কতটা পাগলাটে প্রকৃতির ছিলাম তা তো এ থেকেই বুঝা যায়। অবশ্যই কথাটা মিথ্যা ছিল, তবে এটা ঠিক যে বলার সময় আমি ওটা মন থেকেই বলেছিলাম। খোদার কসম, আমি আসলেই অনেক পাগলাটে।

    ‘ওহ, ডার্লিং, আই লাভ ইউ টু,’ স্যালি বলল। এরপর সাথে সাথেই ঐ একই নিঃশ্বাসে আবার বলে উঠলো, ‘আমাকে আগে বলো যে তুমি তোমার চুলগুলো লম্বা করবে। এই আর্মি ছাঁটা আর দেখতে ভালো লাগে না, আর তোমার চুলগুলো কিন্তু খুবই সুন্দর।’

    সুন্দর না ছাই!

    আমার দেখা অন্য শোগুলোর মতো অতটা বাজে ছিল না ওটা। তবে ওটার বিষয়বস্তুটা যদিও খুব একটা ভালো ছিল না। শো’টা ছিল পাঁচশো হাজার বছর পুরোনো এক বৃদ্ধ দম্পতিকে নিয়ে। শোটা শুরু হয় তাদের তরুণ সময় থেকে। মেয়েটার বাবা-মা মেয়েটাকে ছেলেটার সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল না, কিন্তু মেয়েটা ঠিকই বিয়ে করে ছেলেটাকে। এরপর তাদের বয়স বাড়তে থাকে, বাড়তেই থাকে। মেয়েটার স্বামী একসময় যুদ্ধে যায়, তার এক মাতাল ভাইও ছিল। খুব একটা আগ্রহ পাইনি আমি এতে। মানে কোনো পরিবারের কারো মারা যাওয়া বা তেমন কিছুতে খুব একটা আগ্রহ পাই না। আর তারা তো ছিল শুধু একদল অভিনেতা মাত্র। স্বামী-স্ত্রীর যুগলটা আসলে বেশ ভালোই ছিল, বেশ বুদ্ধিমান ছিল তারা। তবে তারপরও তাদেরকে খুব একটা ভালো লাগেনি আমার। এর একটা কারণ হলো, তারা পুরো নাটকটা জুড়ে চা বা পানীয় খেয়ে যাচ্ছিল শুধু। যতবারই তারা মঞ্চে এসেছে, ততবারই খানসামা তাদেরকে চা দিয়ে গেছে, নয়তো স্ত্রী লোকটা নিজেই কারো জন্য কাপে চা ঢালছে। আর পুরোটা সময় জুড়েই অভিনেতারা শুধু মঞ্চে উঠেছে আর নেমেছে। টানা অনেকক্ষণ এতগুলো মানুষকে উঠা-নামা করতে দেখে প্রায় মাথা ধরে গিয়েছিল আমার। আলফ্রেড লান্ট আর লিন ফন্ট্যান ছিল নাটকে বৃদ্ধ দম্পতি এবং তাদের অভিনয়ও খুব ভালো ছিল, তারপরও আমি তাদেরকে অতটা পছন্দ করতে পারিনি। এটুকু মানতেই হবে যে অভিনেতা হিসেবে তারা অনেক ভিন্ন। মানে তাদের অভিনয়টা ঠিক সাধারণ মানুষের মতো নয় আবার অভিনেতাদের মতোও নয়। এটা আসলে ব্যাখ্যা করা একটু কঠিন। তাদেরকে অভিনয়টায় এমন একটা ভাব ফুঁটে ছিল যে তারা জানতো তারা ভালো অভিনেতা। মানে তারা অভিনেতা হিসেবে ভালো, তবে একটু বেশিই ভালো। তারা দুইজন মঞ্চে থাকা অবস্থায় যখন একজন কোনো কথা বলার সাথে সাথেই বা বক্তব্য শেষ হওয়ার সাথে সাথেই অন্যজন প্রত্যুত্তর দিয়ে উঠতো। মানে সাধারণ মানুষজন কথা বলার সময় যেভাবে আচরণ করে বা একজনের কথায় আরেকজন বাগড়া দেয় আরকী। সমস্যাটা হলো, এটার একটু বেশিই আধিক্য ছিল তাদের অভিনয়টায়। অনেকটা ভিলেজে পিয়ানো বাজানো আর্নির মতোই। কেউ যদি কোনো কিছুতে দক্ষতা অর্জন করে ফেলে, তাহলে একটা সময় থেকে তারা শো-অফ করা শুরু করে। আর তখন তাদেরকে আর আগের মতো ভালোও মনে হয় না। যাই হোক, আমার দেখা শোগুলোর মধ্যে ঐ একটা শো দেখেই একটু মানসম্মত মনে হয়েছিল। মানে লান্টসদের শো’টা। একথা আমাকে স্বীকার করতেই হবে।

    প্রথম অ্যাক্টের পর অন্য সব স্টুপিডের সাথে আমরা সিগারেট খেতে বেরিয়েছিলাম। নিয়মটা এমনই ছিল। জীবনে একসাথে এতো ধাপ্পাবাজ কখনো দেখা যায় না। প্রত্যেকেই মুখ ভরে ভরে ধোঁয়া ছাড়ছিল আর নাঁক নিয়ে আলাপ করছিল। যাতে সবাই শুনে বুঝতে পারে তারা নাটকের বিষয়ে কত জ্ঞানী সেজন্য খুব জোরে জোরে কথা বলছিল। এক মুভি অ্যাক্টরও আমাদের সাথে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। লোকটার নাম আমি জানি না। তবে লোকটা যুদ্ধের একটা মুভিতে অভিনয় করেছিল। মুভিটা খুব ভালো ছিল না, তবে একটু ভালো শুরু করতেই মুভিটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। লোকটার সাথে এক স্বর্ণকেশি মেয়েও ছিল। আর তারা দুইজন এমনভাবে নিজেদের সাথে কথা বলছিল যেন সে জানেই না যে পাশে দাঁড়ানো মানুষজন তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবটা এমন যেন ভদ্রতায় নিজেকে অদৃশ্য করে রেখেছে। আমার সাথে থাকা স্যালি অবশ্য তেমন কিছু বলছিল না, সে শুধু লান্টসদের প্রশংসা করছিল। অবশ্য তার কথা না বলার কারণ সে নিজের সাজগোজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল। তারপর হঠাৎ এক সময় লবির অন্যপাশে থাকা এক স্টুপিড ছেলের দিকে নজর গেল ওর। ছেলেটা খুবই গাঢ় ধূসর বর্ণের ফ্ল্যানেল স্যুট আর চেক-চেক ভেস্ট পরে রেখেছিল। নিঃসন্দেহেই আইভি লিগের ছেলে। ছেলেটা একটা দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেত টানছিল। দেখে মনে হচ্ছিল যেন প্রচুর বিরক্ত হয়ে আছে ছেলেটা। স্যালি ছেলেটাকে দেখে শুধু বলে যাচ্ছিল, ‘আমি ঐ ছেলেটাকে আগেও কোথাও দেখেছিলাম।’ স্যালিকে কোথাও নিয়ে গেলে সে সবসময়ই কাউকে না কাউকে চিনবেই, অথবা সে ভাববেই যে ছেলেদের কাউকে সে চেনে। আমি বিরক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সে বারবার ঐ কথাটাই বলে যাচ্ছিল। তাই বিরক্ত হয়ে এক সময় বললাম, ‘তোমার যদি চেনাজানা কেউই হয়ে থাকে, তাহলে গিয়ে তার সাথে কথা বলছো না কেন? সে তো এতে খুশিই হবে।’ আমি এটা বলায় স্যালি একটু মন খারাপ করেছিল। তবে শেষমেশ স্টুপিড ছেলেটা তাকে লক্ষ্য করেছিল। এগিয়ে এসে এমনভাবে হ্যালো বলেছিল যেন তাদের একজনের সাথে আরেকজনের প্রায় বিশ বছর পর দেখা হচ্ছে। এমন আচরণ করছিল যেন তারা ছোটোবেলায় একই বাথটাবে গোসল করত বা এমনকিছু। ব্যাপারটা বিরক্তিকর ছিল। তবে মজার ব্যাপারটা হলো, তাদের পরিচয়টা সম্ভবত হয়েছিল কোনো একটা বিরক্তিকর পার্টিতে। একবারের বেশি হয়তো তাদের আর কখনো দেখাও হয়নি। নিজেদের মধ্যে কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর স্যালি আমার সাথে ছেলেটার পরিচয় করিয়ে দিলো। ছেলেটার নাম জর্জ কী যেন ছিল, ঠিক মনে পড়ছে না। ছেলেটা পড়তো অ্যান্ডোভারে। ঐ তো বলেছিলাম না আইভি লিগের ছেলে। স্যালি তার কাছে জানতে চাইলো যে নাটকটা কেমন লাগছে তার কাছে। দৃশ্যটা দেখার মতো ছিল। ছেলেটা এমন প্রকৃতির ছিল যারা উত্তর দেওয়ার সময় যত প্রকার সম্ভব তোষামোদ করতে পারে। তাই সে উত্তর দিলো যে নাটকটা মাস্টারপিস না, তবে লান্টসরা নাকি সাক্ষাৎ দেবদূত! স্যালির লান্টস প্রেমের ব্যাপারটা হয়তো জানতো ছেলেটা। তাই বলে দেবদূত, খোদা! ব্যাপারটা প্রচুর বিরক্তিকর ছিল। এরপর সে আর স্যালি কথা বলতে শুরু করে তাদের দুইজনেরই পরিচিত হাজার হাজার মানুষ নিয়ে। আমার শোনা সবচেয়ে ফালতু কথোপকথন ছিল ওটা। তারা দুইজনই যত দ্রুত পারে একটা একটা করে জায়গার নাম বলছিল আর সেখানে তাদের পরিচিত কে থাকে তাদের নিয়ে কথা বলছিল। আমি তো তাদের বকবক শুনে আরেকটু হলেই মরতে বসেছিলাম। ভাগ্যিস সেকেন্ড অ্যাক্টের জন্য বসার সময় হয়ে গিয়েছিল। তবে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। সেকেন্ড অ্যাক্ট শেষ হওয়ার পর তারা আবারও তাদের বিরক্তিকর বকবক করা শুরু করে। তারা আরো জায়গার নাম বলছিল, আর ওসব জায়গায় তাদের পরিচিত কে কে থাকে তাদের কথা তুলছিল শুধু। সবচেয়ে খারাপ দিকটা হলো, ছেলেটার কণ্ঠস্বর ছিল খুবই বাজে, ক্লান্ত, ফ্যাসফ্যাসে প্রকৃতির। আইভি লিগের ছেলেদের কণ্ঠ যেমন থাকে আর কী। তার গলার সুরটা ঠিক মেয়েদের মতো শোনাচ্ছিল। হারামজাদা ছেলেটার আমার ডেট নষ্ট করা নিয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপই ছিল না। এমনকি আমার তো একটা সময় মনে হচ্ছিল যে হারামিটা হয়তো শো শেষে আমাদের সাথে ক্যাবেও চড়ে বসবে। আমাদের সাথে হেঁটে প্রায় দুই ব্লক চলেও এসেছিল সে, তবে শেষমেশ বলল যে তার নাকি বারে বসে কয়েকজন বন্ধুর সাথে ককটেল খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি কল্পনা করছিল চেক-চেক ভেস্ট পরে হারামজাদারা বারের এক কোণায় বসে ড্রিঙ্ক করছে আর তাদের ফ্যাসফ্যাসে গলায় বিভিন্ন শো, বই ও মেয়েদের নিয়ে সমালোচনা। উফফ, বিরক্তিকর প্রাণী যত্তসব! ওদেরকে একদমই সহ্য করতে পারি না আমি।

    অ্যান্ডোভারের ছেলেটার বকবক শুনে মেজাজ এতটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে ক্যাবে উঠে স্যালির সাথেও কথা বলার মুড পাচ্ছিলাম না। ভাবছিলাম তাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসব। আসলেই। তবে তাকে এটা বলতে যাবো, তখন সে হুট করে বলে উঠলো, ‘আমার না একটা চমৎকার আইডিয়া এসেছে মাথায়।’

    তার মাথায় সবসময়ই কোনো না কোনো চমৎকার আইডিয়া এসে থাকে। ‘শুনো, ডিনারের জন্য তোমাকে কয়টার মধ্যে বাসায় যাওয়া লাগবে? মানে তোমার কি কোনো তাড়া আছে কি না বাসায় যাওয়ার? মানে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কি বাসায় ফেরা লাগবে তোমার?’

    ‘আমার? না। কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই,’ জানালাম। সত্যটা আসলে কখনোই বলা হয় না। ‘কেন?’

    ‘তাহলে চলো রেডিও সিটিতে আইস-স্কেটিং করতে যাই।’

    তার মাথা থেকে সবসময় এই ধরনের আইডিয়া বেরোয়।

    ‘রেডিও সিটিতে আইস-স্কেটিং? এখন?’

    ‘ঘণ্টাখানেকের মতো স্কেট করবো শুধু। তুমি কি যেতে চাও না? তোমার যদি যাওয়ার ইচ্ছা না থাকে—’

    ‘আমি বলিনি যে আমার যাওয়ার ইচ্ছা নেই,’ বললাম। ‘তোমার যদি যেতে ইচ্ছা করে তাহলে অবশ্যই যাব।’

    ‘আসলেই? আমাকে খুশি করার জন্য বলোনি তো? তোমার যেতে ইচ্ছা না করলে যাওয়া লাগবে না। আমার কোনো সমস্যা নেই এতে।’

    আসলেই, তার কোনো সমস্যা ছিল না।

    ‘ওখানে গেলে সুন্দর সুন্দর ছোটো স্কেটিং স্কার্টগুলোর একটা ভাড়া করবো, ‘ স্যালি বলল। ‘গত সপ্তাহে জেনেট কাল্টজও ভাড়া করেছিল।’

    ও আচ্ছা, তার ওখানে যাওয়ার এটাই ছিল মূল কারণ। সে আসলে পশ্চাৎকে হাইলাইট করা ছোটো স্কার্টটাতে নিজেকে দেখতে চাচ্ছিল।

    তাই রেডিও সিটিতে গেলাম আমরা। আমাদেরকে স্কার্টগুলো দেওয়ার পর তারা স্যালিকে ঐ ছোটো স্কার্টগুলোর একটা দিলো। স্কার্টটাতে স্যালিকে আসলেই খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল। আমাকে এটা স্বীকার করতেই হবে। এমন না যে স্যালি সেটা জানতো না। সে নিজেই ইচ্ছা করে আমার সামনে সামনে এগুচ্ছিল যেন আমি ছোটো স্কার্টে তার পিছনের দিকটা দেখতে পাই। তাকে আসলেই খুব কিউট দেখাচ্ছিল। এটা আমাকে মানতেই হবে।

    অবশ্য মজার ব্যাপারটা হলো, ঐ স্কেটিং রিং-এ আমরাই ছিলাম সবচেয়ে বাজে স্কেটার। মানে সবচেয়ে বাজে। এমনকি ওখানে ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা কিছু মানুষও ছিল। স্যালির পা শুধু একটু পরপরই বেঁকে যাচ্ছিল। বারবারই বরফে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল ও। তার পড়ে যাওয়াটা শুধু স্টুপিডই ছিল না, পড়ে যাওয়ার পর নিঃসন্দেহেই প্রচণ্ড ব্যথা করছিল তার পাগুলো। আমি জানি আমার পা কেমন ব্যথা করছিল। মনে হচ্ছিল যেন পায়ের ব্যথাতেই মরে যাবো। আমাদেরকে দেখতে নিশ্চয় খুব সুন্দর লাগছিল, আর সবচেয়ে খারাপ দিকটা হলো প্রায় শত শত চোখ তাকিয়েছিল আমাদের দিকে। কিছু মানুষ আছে যাদের স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে অন্যদের হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া দেখা ছাড়া আর অন্য কোনো কাজ নেই।

    ‘ভেতরে গিয়ে বসে কিছু ড্রিংক করবে?’ অনেকক্ষণ ধরে হোঁচট খেয়ে পড়তে পড়তে শেষমেশ স্যালিকে বললাম।

    ‘সারাদিনে তোমার বলা সবচেয়ে সেরা আইডিয়া এটা,’ সে বলল। সে আসলে আমার থেকেও বেশিবার হুমড়ে পড়েছে বরফে। নিঃসন্দেহেই পায়ে ভয়ঙ্কর ব্যথা করছিল তার। তার জন্য আমার আসলেই খারাপই লাগছিল তখন।

    স্কেটগুলো খুলে একটা বারের ভেতর গেলাম আমরা। ওখানে বসে স্কেটিং রিংয়ের দৃশ্যটা দেখতে পাওয়া যায়। ভেতরে গিয়ে টেবিলে বসেই গ্লাভসগুলো খুলে ফেললো স্যালি। তাকে সিগারেট সাধলাম। তবে তাকে খুব একটা খুশি দেখাচ্ছিল না। ওয়েটারকে ডেকে তার জন্য কোক অর্ডার করলাম—স্যালি ড্রিংক করে না—আর নিজের জন্য একটা স্কচ আর সোডা অর্ডার করলাম। তবে হারামজাদা ওয়েটার আমাকে স্কচ দিতে রাজি ছিল না, তাই শেষমেশ আমিও কোকই অর্ডার করলাম শুধু। এরপর ম্যাচের কাঠি জ্বালাচ্ছিলাম শুধু। মাঝেমধ্যেই এই কাজটা করি। কাঠি পুরোটা না পোড়া পর্যন্ত ওটাকে ওভাবেই ধরে রাখি, আর যখন আঙুলে আগুনের তাপ লাগতে শুরু করে তখন ওটাকে ফেলে দিই অ্যাস্ট্রেতে। নার্ভাস থাকলে এই কাজটা করি।

    তারপর হুট করেই স্যালি বলে উঠলো, ‘শুনো, আমার একটা ব্যাপার জানতেই হবে। তুমি ক্রিসমাস ইভে গাছ ছাঁটাইয়ের জন্য আমাকে সাহায্য করতে আসবে নাকি আসবে না? আমার এটা জানতে হবে।’ স্কেট করে পায়ে ব্যথা পাওয়ায় তার গলার সুরটা কিছুটা রুক্ষ হয়েছিল তখন।

    ‘আমি তো তোমাকে চিঠিতেই জানিয়েছি যে আমি আসব। তুমি তো এবার নিয়ে প্রায় বিশবার জিজ্ঞেস করলে আমাকে। অবশ্যই আসব আমি।’

    ‘আমাকে এটা জানাই লাগবে, সেজন্যই বলছি,’ সে বলল। বলে এরপর হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে রুম দেখা শুরু করল।

    হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম যে আমি ম্যাচের কাঠি জ্বালানো বন্ধ করে টেবিলে কনুই রেখে স্যালির দিকে আরো ঝুঁকে গেছি। আমার মনে তখন আসলে বেশ কিছু ব্যাপার ঘুরপাক খাচ্ছিল। ‘হেই, স্যালি,’ বললাম।

    ‘কী?’ স্যালি বলল। সে তখন রুমের অন্য দিকের টেবিলে বসে থাকা একটা মেয়ের দিকে তাকিয়েছিল।

    ‘তোমার কি কখনো হতাশ লাগে?’ আমি বললাম। ‘মানে তোমার কি কখনো এমন লাগে যে যদি তুমি কিছু না করো তাহলে সবকিছুর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাবে? মানে স্কুলের কথাই ধরো, তোমার কী স্কুল ভালো লাগে?’

    ‘স্কুল খুবই বিরক্তিকর।’

    ‘মানে আমি বলতে চাচ্ছি স্কুলকে তোমার ঘৃণা লাগে? আমি জানি এটা খুবই বিরক্তিকর একটা জায়গা, তবে তুমি কি এটাকে ঘৃণা করো? এটাই বলতে চাচ্ছি।’

    ‘উম, নাহ, আমি স্কুলকে আসলে ঘৃণা করি না। তুমি আসলে সবসময়ই—

    ‘আমি ঘৃণা করি স্কুল। খোদা, আসলেই স্কুল প্রচণ্ড ঘৃনা করি,’ বললাম। ‘তবে শুধু এটাই না। সবকিছুই ঘৃণা করি। নিউইয়র্ক, ট্যাক্সিক্যাব, ম্যাডিসন এভিনিউয়ের বাস—যেগুলোর ড্রাইভার সবসময়ই পিছনের দরজা দিয়ে বেরোনোর জন্য চেঁচায়, লান্টসকে ফেরেশতার সাথে তুলনা করা ছেলেদের, এমনকি বাইরে বেরুনোর জন্য এলিভেটরে করে উঠা-নামা করা, ব্রুকলিনে সবসময় পকেটের টাকা খসানো লোকগুলো—সব অসহ্য লাগে আমার। আর মানুষ সবসময়—’

    ‘চেঁচিয়ো না, প্লিজ,’ স্যালি বলল। ব্যাপারটা বেশ মজার কারণ আমি তখন চেঁচাচ্ছিলাম না, চেঁচানো তো দূরের কথা জোরেও বলছিলাম না।

    ‘গাড়ির কথাই ধরো,’ এবার আরো শান্ত গলায় বললাম। ‘বেশির ভাগ লোকই তাদের গাড়ির ব্যাপারে একদম পাগল। তাদের গাড়িতে কোনো আঁচড় পড়েছে কি না সেটা নিয়ে তারা সবসময় দুঃশ্চিন্তা করে, তারা সবসময়ই বকবক করে এক গ্যালন তেলে তাদের গাড়ি কত মাইল চলতে পারে। আর তারা একদম ঝকঝকে নতুন কোনো গাড়ি কিনেও ওটার বদলে আরো নতুন গাড়ি নেওয়ার চিন্তা করে। আমার পুরোনো গাড়িগুলোও ভালো লাগে না। মানে ওগুলোর প্রতি আমার কোনো আগ্রহও নেই। ওগুলোর বদলে আমি পারলে ঘোড়া বেছে নেব। একটা ঘোড়ার অন্তত একটা মানবিক জীবন আছে। একটা ঘোড়া অন্ততপক্ষে— ‘

    ‘আমি বুঝতে পারছি না তুমি কী নিয়ে কথা বলছো,’ স্যালি বলল। ‘একেকবার একেকটা নিয়ে কথা বলছো তুমি –

    ‘একটা ব্যাপার কী জানো?’ বললাম। ‘তুমিই হয়তো একমাত্র কারণ যার জন্য আমি এখনো নিউইয়র্কে আছি। যদি তুমি না থাকতে তাহলে আমি হয়তো কোনো জঙ্গল-টঙ্গলেই চলে যেতাম। তুমি একমাত্র কারণ আমার এখনো এখানে টিকে থাকার।’

    ‘তুমি খুব সুইট,’ স্যালি বলল। তবে তার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝা যাচ্ছিল সে আর এই বিষয়ে কোনো কিছু শুনতে চাচ্ছে না।

    ‘তোমার একবার ছেলেদের স্কুলে যাওয়া উচিৎ। চেষ্টা করো মাঝেমধ্যে ছেলেদের স্কুলে যাওয়ার,’ বললাম। ‘পুরো জায়গাটাই ধাপ্পাবাজে ভরা। ওগুলোতে পড়ালেখা শেখানোই হয় শুধু পাশ করে বের হয়ে কোনো একদিন ঐসব ফালতু ক্যাডিলাক গাড়ি কেনার মতো যোগ্য হওয়ার জন্য। আর ওখানে সবসময় এমন একটা ভাব করে থাকা লাগে যেন ফুটবল টিম হারলে সব শেষ। সেখানে সবসময় কথা বলা লাগে শুধু মেয়ে, ড্রিংকস আর সেক্স নিয়ে। আর জায়গাটাতে সবাইকেই একটা ছোটো ছোটো করে চক্র হয়ে থাকা লাগে। মানে বাস্কেটবলের খেলোয়াড়েরা সবসময় একইসাথে থাকে। ক্যাথলিকরা চলে শুধু ক্যাথলিকদের সাথে, ব্রিজ খেলোয়াড়রা ব্রিজ খেলোয়াড়দের সাথে। এমনকি বুক-অব-দ্য-মান্থ ক্লাবের ছেলেরাও তাদের নিজেদের একটা চক্রের মধ্যেই থাকে। যদি কেউ তাদের সাথে কোনো মাথা খাটানোর ব্যাপারে—’

    ‘আহা,’ স্যালি বলে উঠলো। ‘অনেক ছেলেরাই স্কুল থেকে এরচেয়েও বেশি কিছু অর্জন করে।’

    ‘হ্যাঁ, আমিও মানি সেটা। আমি মানি যে কেউ কেউ আসলেই এরচেয়েও বেশি কিছু পায়। তবে আমি শুধু এটাই জানতে পেরেছি স্কুল থেকে। বুঝতে পারছো? আমি আসলে এটাই বুঝাতে চাচ্ছিলাম, আমি আসলে কোনো কিছু থেকেই এখন কিছু পাই না। আমার অবস্থা খুবই খারাপ এখন। খুবই বাজে একটা অবস্থায় আছি আমি।’

    ‘তুমি আসলেই বাজে একটা দশায় আছো।’

    তখন হুট করেই একটা আইডিয়া এলো মাথায়।

    ‘এই শুনো,’ বললাম, ‘একটা আইডিয়া এসেছে আমার মাথায়। তোমার কি এই ফালতু গত্বাঁধা জীবনযাপন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে? আমার আইডিয়াটা শোনো আগে। গ্রিনউইচ ভিলেজের একটা ছেলেকে চিনি আমি। ওর থেকে কয়েক সপ্তাহের জন্য তার গাড়িটা ধার নেওয়া যাবে। সে আমার সাথে একই স্কুলে পড়তো। তার কাছে আমি এখনো দশ ডলার ধার পাই। কাল সকালে কিন্তু আমরা চাইলে ওর থেকে গাড়ি নিয়ে ম্যাসেচুসেটস বা ভারমন্টের দিকে যেতে পারি। ঐ জায়গাটা খুবই সুন্দর, মোহনীয়। আসলেই,’ ওগুলো নিয়ে যত ভাবছিলাম ততই উত্তেজনায় বাড়ছিল আমার। উত্তেজনায় একসময় স্যালির হাত খাবলে ধরলাম। ওহ, কত বোকা ছিলাম আমি ঐসময়। ‘মজা করছি না,’ বললাম। ‘ব্যাংকে আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় একশো আশি ডলারের মতো আছে। সকাল হলেই আমি ব্যাংক থেকে ওগুলো তুলবো। আর তারপর ঐ ছেলের গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করবো। মজা করছি না। ওখানে গিয়ে কেবিন ক্যাম্পগুলোতে থাকতে পারবো আমরা। টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্তও ওখানেই থাকতে পারবো। তারপর যখন টাকা শেষ হয়ে যাবে, তখন আমি ওখানে কোথাও কোনো চাকরি-টাকরি নেব। তখন হয়তো কোনো নদীর ধারে প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকতে পারবো আমরা। এরপর হয়তো সময় হলে আমরা বিয়ে করবো। শীতের সময় আমি নিজেই আগুন জ্বালানোর কাঠ কেটে আনবো। সত্যি বলছি, খুবই চমৎকার সময় কাঁটাতে পারবো আমরা। কী বলো তুমি? তুমি যাবে আমার সাথে? প্লিজ!’

    ‘তুমি চাইলেই তো এরকম কিছু করতে পারবে না,’ স্যালি বলল। তার কণ্ঠস্বর প্রচণ্ড আহত শোনাচ্ছিল তখন।

    ‘কেন পারবো না আমি?’

    ‘আমার দিকে চেঁচাবে না, প্লিজ,’ সে বলল। ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর ছিল, কারণ আমি তখন তার সাথে জোর গলায়ও কিছু বলছিলাম না।

    ‘কেন পারবো না বলো?’

    ‘কারণ তুমি পারবে না, এটাই বড়ো কথা। প্রথমত দেখো, আমরা এখনো বলতে গেলে বাচ্চাই। আর তুমি কি কখনো এটা ভেবেছো টাকা শেষ হওয়ার পর তুমি কোনো চাকরি বা কাজ না পেলে কী হবে? না খেয়ে মরতে হবে আমাদের তখন। পুরোটা ব্যাপারই একটা দিবাস্বপ্ন, এটা তো এমনকি—’

    ‘না এটা দিবাস্বপ্ন না। আমি চাকরি পাবোই। ওটা নিয়ে ভেবো না। ওটা নিয়ে তোমাকে কোনো দুঃশ্চিন্তাও করা লাগবে না। সমস্যাটা কী? তুমি কি আমার সাথে যেতে চাও না? তোমার ইচ্ছা না থাকলে বলো আমাকে।

    ‘ওরকম কিছু না। আসলে ব্যাপারটা শুধু ওটাই না,’ স্যালি বলল। ঐসময়টায় আমি তাকে কিছুটা ঘৃণা করতে শুরু করেছিলাম। ‘ওসব কিছু করার জন্য আমাদের হাতে এখনো প্রচুর সময় আছে। মানে তোমার কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ হওয়ার এবং যদি আমাদের বিয়ে হয়—এরপরও প্রচুর সময় পাবো আমরা ওসব করার। আমাদের যাওয়ার মতোও প্রচুর গন্তব্য থাকবে তখন। তোমাকে শুধু—’

    ‘না, কোনো সময় থাকবে না পরে। তখন যাওয়ার মতো প্রচুর জায়গাও থাকবে না। পুরো ব্যাপারটাই বদলে যাবে তখন,’ আমি বললাম। আমার তখন আবারো প্রচুর হতাশা লাগতে শুরু করেছিল।

    ‘কী?’ স্যালি বলল। ‘আমি তোমার কথা শুনতে পাচ্ছি না। একসময় তুমি চেঁচিয়ে কথা বলো, আর আরেকবার বলো ফিসফিস করে—’

    ‘আমি বলেছি, না, আমি কলেজ থেকে বের হওয়ার পর যাওয়ার মতো কোনো সুন্দর জায়গা থাকবে না। কান খোলা রাখো তোমার। ব্যাপারটা তখন পুরোই বদলে যাবে। আমাদেরকে তখন এলিভেটরে করে স্যুটকেস নিয়ে উঠা- নামা করা লাগবে। আমাদেরকে তখন ফোন করে সবাইকে বিদায় বলতে হবে, হোটেল থেকে তাদের জন্য পোস্টকার্ড পাঠাতে হবে। আমাকে তখন কাজ করা লাগবে কোনো অফিসে, প্রচুর টাকা আয় করতে হবে, ক্যাবে বা ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ের বাসে চড়ে পত্রিকা পড়তে হবে বা ব্রিজ খেলা লাগবে। আমাদেরকে যেতে হবে প্রচুর মুভি বা ফালতু অনুষ্ঠান, নিউজরিল বা সার্কাস দেখতে। ওহ খোদা, সার্কাস। ওগুলোতে সবসময়ই একটা গর্দভ ঘোড়া থাকে যেটা উলটে পড়বেই বা কোনো শিম্পাঞ্জিকে দেখা যাবে প্যান্ট পরে বাইসাইকেল চালাচ্ছে। নাহ, ব্যাপারটা তখন এক থাকবে না। তুমি আসলে আমার কথার মানেই বুঝতে পারছো না।’

    ‘হয়তো। হয়তো বা তুমিই বুঝতে পারছো না,’ স্যালি বলল। ঐসময়টায় আমরা দুইজনই দুইজনকে ঘৃণা করছিলাম না। আসলে তখন তার সাথে ভালো করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলাপ করার অবস্থাই ছিল না। ঐ বিষয়টা নিয়ে কথা বলা শুরু করেছিলাম ভেবে নিজেরই তখন নিজের ওপর দুঃখ লাগছিল।

    ‘চলো, এখান থেকে বেরোনো যাক, আমি বললাম। ‘যদি সত্যটা জানতে চাও, তোমার মতো উঁটকো ঝামেলার সাথে সময় কাঁটানোটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ছিল।’

    খোদা! বলেই বুঝেছি যে আমার ওটা বলা উচিৎ হয়নি। কথাটা শুনে স্যালি প্রচণ্ড ক্ষেপে গিয়েছিল ঐদিন। অন্য সময় হলে ঐ কথাটা বলতামও না, কিন্তু সে আমাকে প্রচণ্ড হতাশ করে তুলেছিল। আমি সাধারণত কোনো মেয়েকেই কখনো অতটা রুক্ষ কিছু বলি না। এরপর পাগলের মতো অনেকবার ক্ষমা চাইলাম তার কাছে, কিন্তু স্যালি আমার কোনো কথাই শুনছিল না। সে এমনকি কাঁদতেও শুরু করেছিল। ওটাতে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমার ভয় লাগছিল সে হয়তো বাসায় তার বাবাকে বলে দেবে যে আমি তাকে ‘উঁটকো ঝামেলা’ বলেছি। তার বাবা খুবই বড়োসড়ো হারামজাদাদের একজন। লোকটা আমাকে খুব একটা পছন্দও করে না। লোকটা একবার স্যালিকে বলেছিল আমি নাকি অনেক বাঁচাল।

    ‘সত্যিই আমি স্যরি,’ বারবার করে বলছিলাম তাকে।

    ‘তুমি স্যরি! স্যরি না? ভেরি ফানি,’ স্যালি বলল। সে তখন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। আর তখন হঠাৎই মনে হলো যে তাকে বলা কথাটা নিয়ে আমি আসলে আর দুঃখিত না।

    ‘চলো, তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। মজা করছি না।’

    ‘আমি নিজেই বাসায় যেতে পারবো, থ্যাংক ইউ। যদি তুমি ভেবে থাকো তোমাকে আমি সাথে নিয়ে বাসায় যাবো, তাহলে তুমি একটা পাগল। আমার পুরো জীবনে কোনো ছেলেই আমাকে এই ধরনের কথা বলেনি।’

    একদিক থেকে ভাবলে কিন্তু ব্যাপারটা বেশ হাস্যকর ছিল। এটা ভাবতে গিয়ে তখন আমি এমন একটা কাজ করে বসলাম যেটা আমার করা উচিৎ হয়নি। হেসে উঠেছিলাম আমি। আর হাসিটা ছিল খুবই জোরালো আর স্টুপিড। মানে আমি যদি পিছনে বসে কোনো হলে গিয়ে মুভি দেখি, তাহলে আমিও সামনে ঝুঁকে আমাকে চুপ করে থাকতে বলবো। আমি হেসে উঠায় স্যালি আরো বেশি ক্ষেপে গিয়েছিল।

    আরো কিছুক্ষণ ওখানে বসেছিলাম আমি। বারবার ক্ষমা চাইছিলাম স্যালির কাছে। কিন্তু স্যালি আমাকে ক্ষমা করছিল না। বারবার বলছিল তাকে ওখানে একা রেখে চলে যেতে। শেষমেশ ওটাই করেছিলাম। তাকে ওখানে রেখেই ভেতর থেকে জুতাগুলো নিয়ে এসে বেড়িয়ে পড়েছিলাম। আমার আসলে ওটা করা উচিৎ হয়নি, কিন্তু তখন আমার নিজেরই হতাশা এসে গিয়েছিল নিজের ওপর।

    যদি সত্য বলি, আমি নিজেও জানি না কেন তার সাথে ওসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছিলাম। মানে ম্যাসেচুসেটস আর ভারমন্টে যাওয়ার ব্যাপারটা। সে যেতে রাজি হলেও হয়তো আমি তাকে নিয়ে যেতাম না। তার আসলে কারো সাথেই ওখানে যাওয়া উচিৎ না। তবে বাজে ব্যাপারটা হলো, আমি তখন তাকে ওসব বলেছিলাম তখন আসলে মন থেকেই বলেছিলাম। এটাই হলো সবচেয়ে খারাপ দিক। সত্যি বলছি, আমি আসলেই একটা পাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য অ্যামিটিভিল হরর : অ্যা ট্রু স্টোরি – জে অ্যানসন
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }