Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দ্য প্লেগ – আলবেয়ার কামু

    বাবুল আলম এক পাতা গল্প182 Mins Read0
    ⤶

    ৫ম পর্ব : মানুষের বিজয় উল্লাস

    পঞ্চম পর্ব

    ৫.০১

    জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে একটা ঠাণ্ডা আবহাওয়া টানা বেশ কয়েকদিন আঁকড়ে ধরে রাখল শহরটাকে। ধবধবে হয়ে উঠল রাস্তাঘাটের চেহারা। হিম শীতল বাতাসে ঝিমিয়ে পড়ল প্লেগের প্রকোপ। পরপর তিন সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেল মৃত্যুর হার সত্যিই কমে গেছে। মনে হলো প্লেগ তার স্বৈরাচারী ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ডাক্তার ক্যাসেল-এর তৈরি সিরাম ব্যবহার করলে এখন অনেক ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এই চরম প্রত্যাশার মুহূর্তেও কেউ কেউ প্রাণ হারায়। কোয়ারেনটাইন ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়া ম্যাজিস্ট্রেট মঁসিয়ে অথন তাদেরই একজন।

    আগের মত এখনও দিনের বেলায় রাস্তাঘাট শূন্য থাকে। কিন্তু রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে আবার লোকজনে ভরে ওঠে ওগুলো। সবার গায়ে ওভারকোট। একটু ভালভাবে লক্ষ করলে চোখে পড়ে, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার ছাপ মুছে গেছে সবার চেহারা থেকে। মাঝে মাঝে হাসতে দেখা যায় ওদের। তবে এখনও কিছু কিছু লোক ফটকের পাহারাদারদের দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে শহর থেকে পালাবার চেষ্টা করে।

    জিনিসপত্রের দাম খুব তাড়াতাড়ি নামতে শুরু করল। যেসব মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল তাদের আবার এক সঙ্গে বাস করার সুযোগ দেয়া হলো। সৈনিকরা ফিরে গেল ব্যারাকে।

    পঁচিশ তারিখের আগেই সাপ্তাহিক মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেল। কর্তৃপক্ষ মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘোষণা করলেন: মহামারীকে আমরা সম্পূর্ণরূপে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এসেছি। সরকারি ইস্তেহারে বলা হলো: আরও দুসপ্তাহের জন্যে শহরের ফটক বন্ধ রাখা হবে; এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব বিধিনিষেধ এতদিন ধরে চালু রয়েছে, সেগুলো আরও এক মাস বলবৎ থাকবে। পঁচিশ জানুয়ারির রাত একটা উৎসবের রাতে পরিণত হলো।

    প্রিফেক্ট নিজেও এই আনন্দে যোগ দিলেন এবং ঘোষণা করলেন: আজ থেকে রাস্তার সমস্ত আলো জ্বালানো হবে।

    আলোকিত শহরের রাস্তায় দলে দলে নেমে পড়ল কোলাহল মুখর উষ্ণু জনতা। প্রচণ্ড উল্লাসে গান ধরল ওরা। কল্পনায় ওরা শুনতে পেল: হুইসেল দিতে দিতে ট্রেন ছুটে চলেছে শহর ছেড়ে বাইরের পৃথিবীতে, সীমাহীন দূরত্বের সন্ধানে; হুঙ্কার দিতে দিতে বন্দর ছেড়ে জাহাজ ভেসে যাচ্ছে ইস্পাতের মত চকচকে সমুদ্রের বুকে।

    সেদিন রাতে, তারিউ, রিও, র‍্যাঁবেয়া এবং ওদের অন্যান্য সহকর্মী এসে দাঁড়াল ওই আনন্দমুখর জনতার মাঝে। তখন ওদের মনে হলো একটা শূন্যতার ভেতর দিয়ে ভেসে চলেছে ওরা। বাড়ি ফেরার সময়েও ওদের কানে বাজতে লাগল জনতার উল্লাস।

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের তালিকা
    পিডিএফ
    PDF
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    লেখকের বই
    নতুন বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    অনলাইনে বই

    এক সময় দূরে, বড় রাস্তার ওপর, জনতার উল্লাসধ্বনি ফেটে পড়ল সমুদ্র গর্জনের মত। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল তারিউ। দেখতে পেল ছোট্ট একটা উজ্জ্বল চকচকে প্রাণী লাফিয়ে লাফিয়ে পার হচ্ছে বড় রাস্তাটা। বিড়াল। বসন্তের পর এই প্রথম। বিড়াল চোখে পড়ল ওর। বিড়ালটা রাস্তার মাঝখানে থামল একবার, ইতস্তত করল কিছুক্ষণ, একটা পা তুলে চাইল কয়েকবার, তারপর সেই পা-টাকে ডান কানের ওপর দিয়ে খুব দ্রুত ঘুরিয়ে আনল; আবার এগুতে লাগল সামনের দিকে এবং হারিয়ে গেল অন্ধকারে। হাসল তারিউ। ভাবল: ব্যালকনির সেই বুড়ো দৃশ্যটা দেখতে পেলে নিশ্চয় খুব খুশি হতেন।

    .

    ৫.০২

    পঁচিশ জানুয়ারির কয়েকদিন পর তারিউ এক দুপুরে সেই ছোট্ট রাস্তাটার মোড়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল কখন বুড়ো, ভদ্রলোক ব্যালকনিতে বেরিয়ে আসবেন। বিড়ালগুলোকে দেখতে পেল ও। নিজের জায়গায় আবার ফিরে এসেছে ওরা, ব্যালকনির ছায়ায় শুয়ে শুয়ে বোদ পোয়াচ্ছে। কিন্তু এ সময় ব্যালকনির আশেপাশের যে জানালাগুলো খোলা থাকার কথা, সেগুলো তখনও বন্ধ আছে। তারিউ আর কোনদিন জানালাগুলোকে খুলতে দেখেনি। এ থেকে ও ধারণা করে বুড়ো ভদ্রলোক হয় মারা গেছেন, নয়তো অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    ডিকশনারি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা অডিওবুক
    PDF
    বই ডাউনলোড

    সবাই যখন ভাবছেন প্লেগ পরাজিতের মত পিছু হটতে শুরু করেছে, আত্মগোপন করতে চাইছে পালিয়ে, সেই অন্ধকার গুহায় যেখান থেকে সে একদিন বেরিয়ে এসেছিল, তখন একজন মানুষ প্লেগের এই পরাজয়ে ভয় পেয়ে গেল। সেই মানুষটার নাম কার্ড।

    মৃত্যুর সংখ্যা যখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কমতে আরম্ভ করল, তখন কটার্ড বেশ কয়েকবার বিভিন্ন অজুহাতে রিও-র সঙ্গে দেখা করে। ওর উদ্দেশ্য ছিল মহামারীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আসল খবর জানা। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে রিও ওকে আশার কথা শোনাতে লাগল। কিন্তু এ ধরনের উত্তর ভাল লাগত না ওর, এবং নানা রকমের বিরূপ মানসিক প্রতিক্রিয়াও হত। কখনও ক্রোধ প্রকাশ করত, কখনও ভেঙে পড়ত নিরাশায়। কটার্ড-এর এই অবস্থা দেখে একদিন ওকে করুণা দেখানোর জন্যে বাধ্য হয়ে রিও বলল, মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে মহামারী দ্রুত গতিতে পিছু হটছে, তবু আমরা যে সত্যি সত্যি সঙ্কট পেরিয়ে এসেছি সে। কথা এখুনি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। রিও-র এই মতামত সাধারণ মানুষের ভেতর ছড়িয়ে দেবার জন্যে উঠে-পড়ে লাগল কটার্ড। যে অঞ্চলে ও বাস করে সেখানকার দোকানদারকেও কটার্ড এগুলো শোনাল। তবু হতাশা কাটল না ওর। একদিন তারিউকে সে বলল, এবার যে-কোনদিন ফটক খুলে দেয়া হবে। তখন দেখবেন সবাই আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

    আরও দেখুন
    Library
    বাইশে শ্রাবণ
    বইয়ের
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    গ্রন্থাগার
    PDF
    বাংলা কৌতুক বই

    জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে খুব ঘন ঘন পরিবর্তন হলো কটার্ড-এর চালচলনে। কখনও কখনও প্রতিবেশী এবং পরিচিত মানুষদের ভেতর নিজেকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করল ও, সে সময় ওদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতে লাগল। আবার মাঝে মাঝে দিনের পর দিন সবাইকে এড়িয়ে চলল। এ সময়ে ও নিজের বাসায় আত্মগোপন করে রইল। তখন ওকে রেস্তোরাঁ, থিয়েটার হল, কাফে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। চুপচাপ বাসায় পড়ে থাকে; পাশের, একটা রেস্তোরাঁর সঙ্গে ব্যবস্থা করে নিয়েছিল, তারাই ওকে সময়মত খাবার পৌঁছে দিত। টুকিটাকি কিছু কেনার দরকার পড়লে রাতের বেলায় বাইরে যেত ও। আর কেনাকাটা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে, যে-পথে লোকজনের চলাচল কম, আলোর ব্যবস্থা ভাল নয়, সেই পথ দিয়ে চুপি চুপি বাসায় ফিরে আসত। এই লুকিয়ে লুকিয়ে ফেরার পথে কয়েকবার তারিউ-এর সঙ্গে দেখা হয়েছিল ওর। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তারিউ কিছু রূঢ় শব্দ ছাড়া অন্য কোন কথা বের করতে পারেনি ওর মুখ দিয়ে। কয়েকদিন যেতে না যেতে হঠাৎ করে আবার পাল্টে যেত ওর আচরণ। তখন সবার সঙ্গে মেলামেশা আরম্ভ করে ও। মেতে ওঠে প্লেগ নিয়ে আলোচনায়। জানতে চায় মানুষের মতামত। মিশে যায় রাস্তার জনসমুদ্রে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা কৌতুক বই
    পিডিএফ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বুক শেল্ফ

    পঁচিশ জানুয়ারি থেকে আবার আত্মগোপন করল কটা। এর দুদিন পরে হঠাৎ করে দেখা হলো তারিউ-এর সঙ্গে। একটা নির্জন গলিতে একা একা পায়চারি করছিল ও। কটার্ড তারিউকে ওর বাসায় যাবার প্রস্তাব দিল।

    হাঁটতে হাঁটতে কটার্ড প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, সরকারি ইস্তেহারের অর্থ কি এই যে প্লেগের দ্রুত উপশম হচ্ছে; আপনার কি ধারণা?

    এটা ঠিক যে সরকারি ইস্তেহার প্রচার করলেই প্লেগের উপশম হয় না। তবে এটাও ঠিক যদি তেমন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে তাহলে প্লেগ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদায় নেবে। বাইরের অবস্থা দেখে তাই মনে হচ্ছে, উত্তর দিল তারিউ।

    হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। যদি তেমন কোন দুর্ঘটনা না ঘটে তাহলেই এমনটা হওয়া সম্ভব। কিন্তু দুর্ঘটনা, কিছু না কিছু তো ঘটবেই। তাই না?

    সে কথা চিন্তা করেই কর্তৃপক্ষ ফটক আরও পনেরো দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    PDF বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা অডিওবুক
    নতুন বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বইয়ের
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম

    বুদ্ধিমানের মত কাজ করেছেন। তবে সবকিছু যেভাবে এগুচ্ছে তাতে কর্তৃপক্ষকে এই ঘোষণা বাতিল করতে হবে।

    সে রকম কিছু ঘটলেও ঘটতে পারে। কিন্তু আমার বিশ্বাস শহরের ফটক আবার খুলে দেয়া হবে। এবং সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, এই সম্ভাবনাই বেশি। ১. আপনার কথা না হয় মানলাম, কিন্তু সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, একথায় আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

    তারিউ হাসল। সিনেমাহলে নতুন ছবি আসবে।

    কিন্তু কার্ড-এর মুখে কোন হাসি দেখা গেল না। প্রশ্ন করল, এত বড় দুর্ঘটনার পরও শহরের জীবনযাত্রার কোনরকম পরিবর্তন হবে না?

    আমার ধারণা, প্লেগের ফলে শহরের অনেক কিছুই বদলে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তা নাও হতে পারে। কেননা, মানুষ ভাবতে চাইবে যে কিছুই ঘটেনি, এবং সেভাবেই জীবন শুরু করবে তারা। অবশ্য এটাও ঠিক মানুষ সত্যি সত্যি সব ভুলতে পারে না। মানুষের মনে প্লেগের কিছু স্মৃতি থেকে যাবেই।

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    লেখকের বই
    নতুন বই
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন বুকস্টোর
    বই পড়ুন
    গল্প, কবিতা
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    PDF

    মানুষের মন নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। আমি জানতে চাই সরকার এবং শাসন ব্যবস্থার কথা। সেগুলোও কি আগের মত চলবে?

    ওসব ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে আমার ব্যক্তিগত ধারণা এত বড় আকস্মিক দুর্ঘটনার পর শাসনযন্ত্রকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ সময় লাগবে। তাছাড়া এখনকার অবস্থায় কিছু নতুন সমস্যা দেখা দেবে, সেগুলো সামলাবার জন্যে শাসন ব্যবস্থায় কিছু না কিছু রদবদল করতেই হবে।

    এবার কটার্ডকে বেশ খুশি-খুশি মনে হলো। তারিউ-এর মন্তব্য ভাল লেগেছে ওর। মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ঠিক বলেছেন। সবাইকে আবার নতুন করে জীবন আরম্ভ করতে হবে।

    ইতিমধ্যে কটার্ড-এর বাসার কাছে পৌঁছে গিয়েছে ওরা। কটার্ডকে আগের চেয়ে অনেক উৎফুল্ল মনে হলো। মনে হলো। ভবিষ্যৎকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার মত মনোবল ফিরে পেয়েছে। হয়তো কল্পনা করতে শুরু করেছে: অতীতকে সম্পূর্ণরূপে, মুছে ফেলে শহরে একেবারে নতুনভাবে জীবন শুরু হতে যাচ্ছে, সবকিছু নতুন ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

    আরও দেখুন
    Library
    লাইব্রেরি
    বই পড়ুন
    গ্রন্থাগার
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাইশে শ্রাবণ
    ই-বই পড়ুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার

    তারিউ আবার হাসল। দেখবেন, আপনারও সমস্ত অপরাধ ধুয়ে মুছে গেছে। আপনার জন্যেও নতুন সুযোগ আসবে।

    কটার্ড-এর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে হাত মেলাল দুজনে। এখন মনে হচ্ছে আপনার কথাই ঠিক, বেশ উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল কটার্ড, সবাই আবার নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবে।

    সামনের অন্ধকার থেকে হঠাৎ বেরিয়ে এল দুজন লোক। অস্পষ্টভাবে তারিউ শুনতে পেল কার্ড সবিস্ময়ে বলছে, এই দুই। চিড়িয়া আবার কোত্থেকে আমদানি হলো? কী চায় এরা? অপরিচিত দুজনের ভেতর থেকে একজন কটার্ডাকে বাধা দিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনার নাম কটার্ড?

    একটা চাপা অস্ফুট শব্দ বের হলো কটার্ড-এর মুখ দিয়ে। এবং দেখতে না দেখতে অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে গেল ও।

    তারিউ এবং অপরিচিত লোক দুজন বিস্ময়ে পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। তারিউ ওদের প্রশ্ন করল, কী চান আপনারা?

    আরও দেখুন
    PDF
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ই-বই পড়ুন
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা কৌতুক বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা সাহিত্য

    কটার্ড-এর কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতে চাই, দায়সারা উত্তর দিল লোক দুটো।

    বাসায় ফিরে তারিউ ওর ডাইরিতে এই অদ্ভুত ঘটনার বিবরণ লিখতে গিয়ে মন্তব্য করল: আজ রাতে বড় ক্লান্ত বোধ করছি।

    ওর ডাইরির শেষে এই কথাগুলো লেখা আছে: রাত এবং দিনের মধ্যে এমন কতকগুলো নির্দিষ্ট সময় আছে যখন মানুষের শক্তি এবং সাহস নিঃশেষিত হয়ে আসে। এই সব সময়কে আমি ভীষণ ভয় করি।

    .

    ৫.০৩

    শহরের ফটক খোলার কয়েকদিন আগের ঘটনা। দুপুরে বাসায় ফিরছিল রিও। কদিন ধরেই স্ত্রীর কাছ থেকে একটা টেলিগ্রাম আশা করছে ও। মনে মনে ভাবছে টেলিগ্রামটা আসল কিনা। সবাই আবার নতুন করে জীবন আরম্ভ করতে যাচ্ছে, এ অনুভূতিটা তখন ওর ভেতরও জেগে উঠেছে।

    দারোয়ানের ঘর পেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল ও। বুড়ো মিশেল-এর জায়গায় নতুন যে দারোয়ানটা এসেছে সে তখন জানালায় মুখ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ওকে দেখে একটু হাসল লোকটা। সিঁড়ি বেয়ে ওপর পানে রওনা হলো রিও। চোখের সামনে। ভাসছে দারোয়ানের হাসি হাসি মুখখানা।

    ফ্ল্যাটের বাইরের দরজা খোলার সময় রিও দেখল মা হলঘর পেরিয়ে ওর দিকে এগিয়ে আসছেন। কাছে এসে বললেন, তারিউ অসুস্থ বোধ করছে। মাকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হলো রিও-র। তাড়াতাড়ি বলল, খুব সম্ভব এটা মারাত্মক কিছু নয়।

    বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে আছে তারিউ। বালিশের মধ্যে ডুবে গেছে মাথা। চাদরের নিচে ওর প্রশস্ত বুকটা বেশ উঁচু দেখাচ্ছে। একটু পর পর বাড়ছে জ্বর, সেই সঙ্গে মাথার যন্ত্রণা। লক্ষণগুলো তেমন সুস্পষ্ট নয়। তবে প্লেগ হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই, রিওকে বলল তারিউ।

    ওর শরীর পরীক্ষা করে রিও বলল, না। তেমন সুস্পষ্ট কোন, লক্ষণ এখনও দেখছি না।

    কিন্তু ঘন ঘন প্রচণ্ড পিপাসা পাচ্ছিল তারিউ-এর। ঘরের বাইরে এসে রিও ওর মাকে বলল, মনে হচ্ছে ওর প্লেগই হয়েছে।

    বলিস কী, আঁতকে উঠলেন মা। তা কী করে সম্ভব, অন্তত এখন? তারপর একটু ভেবে বললেন, বার্নার্ড, আমার মনে হয়, ওকে আমাদের কাছে রাখাই ভাল।

    কিছুক্ষণ চিন্তা করল রিও। মা, সবকিছু মেনে চললে ওকে আমরা বাসায় রাখতে পারি না। তবে কয়েকদিন পরেই শহরের ফটক খুলে দেয়া হবে, সে সময় তুমি যদি শহরের বাইরে চলে যাও, তাহলে আমি তারিউ-এর দায়িত্ব নিতে পারি।

    বার্নার্ড, আমার কথা শোনো। তারিউও থাকুক, আমিও থাকি। এই তো সেদিন আমি টিকা নিলাম।

    রিও মাকে বুঝিয়ে বলল, মা, তারিউও টিকা নিয়েছিল। তবে এমন হতে পারে শেষবারের টিকা নিতে হয়তো ও ভুলে গেছে, কিংবা অন্যান্য ব্যাপারেও সাবধান ছিল না।

    কথা বলতে বলতে রিও ওর সার্জারি রুমের দিকে এগিয়ে গেল। যখন ফিরে এল, তারিউ দেখল ওর হাতে সিরামের বাক্স।

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    PDF
    লেখকের বই
    বাইশে শ্রাবণ
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন

    আচ্ছা, এতক্ষণে বুঝলাম। তাহলে আমাকে প্লেগই ধরেছে, বলল তারিউ।

    তা নাও হতে পারে। তবে কোনরকম ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না, তাই।

    কোন কথা না বলে টিকা নেয়ার জন্যে ওর একটা হাত রিও-র দিকে বাড়িয়ে দিল তারিউ। এই টিকা ও নিজেও বহু লোককে দিয়েছে। অনেক সময় লাগে।

    সন্ধ্যার দিকে বোঝা যাবে ব্যাপারটা কী? ওর চোখের দিকে তাকাল রিও।

    কিন্তু আমাকে আলাদা রাখার কী ব্যবস্থা করছ?

    এখনই সে প্রশ্ন উঠছে না। তোমার প্লেগ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।

    কষ্টের হাসি হাসল তারিউ। রিও, বোধ হয় এই প্রথম কোন রোগীকে আলাদা না করে তুমি টিকা দিলে।

    ওর ওপর থেকে চোখ সরিয়ে নিল রিও। দেখো, তুমি এখানে। থাকলে তোমার দেখাশোনাটা ভাল হবে। মা এবং আমি দুজনেই তোমার পাশে থাকতে পারব।

    কোন তর্ক করল না তারিউ। সিরামের বাক্স গুছিয়ে নিল রিও। তখনও মুখ ফিরিয়ে আছে ও। আশা করছে কিছু বলবে তারিউ। কিন্তু কোন সাড়া দিল না সে। ওর বিছানার পাশে এল রিও। তারিউ-এর চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে ওর দিকে। চেহারা মলিন। হলেও, ধূসর চোখগুলো তখনও শান্ত।

    রিও হাসল। তারিউ, ঘুমোনোর চেষ্টা করো। আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। কথাগুলো বলেই কয়েক পা এগিয়ে গেল ও। এমন সময় শুনতে পেল তারিউ ওকে ডাকছে। আবার ফিরে এল রিও। তারিউ-এর ভাবভঙ্গি ওর কাছে কেমন অদ্ভুত ঠেকল। রিও দেখল, তারিউ কিছু একটা বলার জন্যে নিজের ভেতর প্রচণ্ড তাড়না অনুভব করছে, অথচ কিছুতেই সে কথা বলতে চাচ্ছে

    রিও, মুখ খুলল তারিউ, আশা করি তুমি আমাকে সব কথা খুলে বলবে। এটুকু নিশ্চয় তোমার কাছ থেকে আশা করতে পারি।

    হ্যাঁ, তারিউ। এ ব্যাপারে আমি তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

    স্বাভাবিক হয়ে এল তারিউ-এর গম্ভীর মুখটা। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, রিও। তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছ আমি আমার মৃত্যু কামনা করছি না। মৃত্যুকে বাধা দেবার জন্যে আমি আমার সাধ্যমত সব চেষ্টা করে যাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি হেরেই যাই; তাহলে আমার একটাই বাসনা, আমার মৃত্যুটা যেন ভালভাবে, হয়।

    তারিউ-এর ওপর ঝুঁকে ওর কাঁধে একটু চাপ দিল রিও। না, না, মৃত্যু নয়, তারিউ। তুমি যেন মহাপুরুষ হয়ে উঠতে পারো, সে জন্যে তোমাকে বেঁচে থাকতেই হবে। তারিউ, সংগ্রাম করে যাও।

    সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে গায়ে ওভারকোট নিয়েই তারিউ-এর ঘরে ঢুকল রিও। ওর অবস্থা আগের মতই। জ্বরের প্রকোপে ঠোঁট দুটো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।

    কেমন আছ, তারিউ? জানতে চাইল রিও।

    চাদরে ঢাকা কাঁধ দুটো একটু উঁচু করল তারিউ। মনে হয় সংগ্রামে হেরে যাচ্ছি।

    ওর ওপর ঝুঁকে পড়ল রিও। শরীরের অনেক জায়গায় গ্রন্থিস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। বুকের ভেতর একটা ঘড় ঘড় শব্দ হচ্ছে। দু-ধরনের প্লেগের লক্ষণই ফুটে উঠেছে ওর শরীরে।

    সোজা হয়ে দাঁড়াল রিও। বলল, সিরামের কাজ এখনও শুরু হয়নি। কী যেন বলতে চাচ্ছিল তারিউ। কিন্তু জ্বরের ঘোরে কিছুই বলতে পারল না।

    রাতের খাওয়ার পর রিও এবং মা রোগীর পাশে এসে বসলেন। রিও ইনজেকশনের সাহায্যে উত্তেজক কিছু ঔষধ তারিউ-এর শরীরে ঢুকিয়ে ওর কেঁড়াগুলোকে খুব দ্রুত ফাটিয়ে দিতে চাইছিল, যদিও এতদিনের ব্যর্থ অভিজ্ঞতার ফলে ও জানে এগুলোর কার্যকারিতা কতটুকু।

    সারা রাত ধরে একটার পর একটা প্লেগের আক্রমণ প্রতিহত করল তারিউ। একবারও ওর ভেতর কোন চঞ্চলতা বা উদ্বেগ দেখা গেল না। কথা বলারও চেষ্টা করল না। অত বড় শরীরটায়। বোধশক্তি বলতে কিছুই নেই তখন। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে কখনও কখনও হেরে যাচ্ছে ও। রিও সেটা বুঝতে পারছে ওর চোখ দেখে। কখনও কখনও চোখাচোখি হচ্ছে ওদের দুজনের সঙ্গে। সে সময় জোর করে হাসছে তারিউ।

    হঠাৎ আরম্ভ হলো প্রবল বর্ষণ, আর সেই সাথে শিল পড়া।  মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে যাচ্ছে রিও। সেটা কেটে যেতেই অন্ধকারের এপার থেকে চোখ দুটোকে মেলে ধরছে তারিউ-এর ওপর। মা ওর পাশে বসে কী যেন একটা বুনছেন, আর মাঝে মাঝে তাকাচ্ছেন ওর দিকে। বৃষ্টি থেমে যাবার পর ঘরের ভেতর আরও বেড়ে গেল নীরবতা। রিও অনুভব করল, উত্তেজনায় দপদপ করছে ওর সমস্ত স্নায়ু। ইশারায় মাকে বিছানায় যেতে বলল ও। মা নীরবে মাথা নাড়লেন, তার চোখ দুটো হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। গভীর মনোযোগ দিয়ে ছুঁচের ডগাটা দেখতে লাগলেন তিনি। উঠে তারিউ এর মুখে একটু পানি দিল রিও, তারপর আবার ফিরে এল নিজের জায়গায়।

    তখন ভোর হয়-হয়। রিও মায়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, মা, তুমি যাও। এবার একটু বিশ্রাম নাও। সকাল আটটায় তোমাকে আবার এখানে আসতে হবে। তখন আমি থাকব না। আর শোনো, শোয়ার আগে চোখে কয়েক ফোঁটা ওষুধ দিতে ভুলে যেয়ো না।

    উঠলেন মাদাম রিও। হাতের জিনিসগুলো গুছিয়ে তারিউ-এর বিছানার পাশে দাঁড়ালেন। অনেকক্ষণ হলো চোখ বন্ধ করে আছে তারিউ। কুঁচকে গেছে কপাল, ঘামে জট পাকানো চুলগুলো ছড়িয়ে পড়েছে এর চারপাশে। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মাদাম রিও। ছোখ মেলে তাকে দেখল তারিউ। দেখল, শান্ত স্নেহভরা সেই মাতৃমুখ ঝুঁকে আছে ওর ওপর। ঠোঁটের ফাঁকে হাসি ফুটুল ওর, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে চোখদুটো আবার বন্ধ হয়ে গেল। ভোরের ঠাণ্ডা বাতাস বইতে শুরু করেছে। মা-র ছেড়ে যাওয়া চেয়ারটাতে বসল রিও।

    ঝিমুচ্ছিল রিও। রাস্তার গাড়ির শব্দে তন্দ্রা ছুটে গেল। শিরশির করে উঠল ওর শরীর। সঙ্গে সঙ্গে চোখ গেল তারিউ-এর দিকে। চেহারায় একটা অবসাদের ভাব ফিরে এসেছে ওর। মনে হলো ঘুমুচ্ছে। ওর পাশে দাঁড়াল রিও। তখনই একটা শূন্য দৃষ্টি নিয়ে ওর দিকে তাকাল তারিউ। তখনও ঘুমের ঘোর পুরোপুরি। কাটেনি।

    ঘুমুচ্ছিলে, না? কথা বলল রিও।

    হ্যাঁ, হয়তো।

    শ্বাস নিতে এখনও কষ্ট হচ্ছে?

    একটু একটু। এ থেকে কিছু অনুমান করতে পারবে?

    না, তারিউ। তুমি তো জানো সকালের দিকে বেগ একটু কমে আসে।

    ধন্যবাদ। সত্যিকারের অবস্থা কখন কী রকম থাকে আমাকে সবসময় তা জানতে দেবে, এ আশাটুকু আমি তোমার কাছ থেকে করতে পারি নিশ্চয়।

    ওর বিছানায় বসল রিও। তারিউ-এর পা দুটোকে মনে হলো লাশের পা-র মত শক্ত। ফের শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হলো তারিউ এর।

    আবার জ্বর উঠবে, তাই না, রিও?

    হয়তো। দুপুরের দিকে বুঝতে পারব সত্যিকারের অবস্থা কী।

    চোখ বন্ধ করল তারিউ। মনে হলো নিজের ভেতর শক্তি সঞ্চয় করতে চাইছে। যখন চোখ খুলল তখন দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে গেছে ওর। তখন রিও একটা গ্লাস হাতে ওর ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে ছিল। সেটা দেখে দৃষ্টি উজ্জ্বল হয়ে উঠল ওর।

    এটা খাও।

    গ্লাসের পানি খেয়ে ফেলল তারিউ। আস্তে আস্তে আবার মাথাটা রাখল বালিশের ওপর। আমার বেলায় অনেক সময় নিচ্ছে, তাই না, রিও, অস্কুটভাবে বলল ও।

    ওর একটা হাত জড়িয়ে ধরল রিও। বন্যার দুর্বার স্রোতের মত জ্বর উঠছে। লাল হয়ে উঠল দুই গাল, কপাল। ওর দিকে চোখ ফেরাল তারিউ। ঝুঁকে পড়ে রিও ওকে উৎসাহ দিল। হাসার চেষ্টা করল ও। কিন্তু মুখ শুকিয়ে যাওয়ায় চোয়াল আর ঠোঁট আটকে গেল, হাসি বেরুল না। শুধু চোখ দুটোকে তখনও মনে হচ্ছে জীবন্ত, সাহসে ভরা।

    সকাল সাতটার দিকে এলেন মাদাম রিও। রিও ওর সার্জারি রুমে গিয়ে টেলিফোন করল হাসপাতালে। ওর জায়গায় অন্য একজন ডাক্তারের ডিউটির ব্যবস্থা করল, প্রতিদিন সকালে ডাক্তারদের সঙ্গে যে পরামর্শ হত সেটাও বাতিল করে দিল ও। এরপর খাটের ওপর শুয়ে পড়ল। মিনিট পাঁচেক পরে আবার, তারিউ-এর ঘরে ঢুকল ও। বিছানার পাশেই বসে আছেন মাদাম রিও। তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে তারিউ। হঠাৎ বিস্ফারিত হলো ওর দৃষ্টি। সেটা দেখে নিজের ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে চেয়ার থেকে উঠে বিছানার পাশের বাতিটা নিভিয়ে দিলেন মাদাম রিও। একটা হাত রাখলেন ওর ঘামে ভেজা জট পাকানো চুলে। অনেক দূর থেকে একটা চাপা কণ্ঠস্বর ভেসে এল তাঁর কানে, ধন্যবাদ। এখন মোটামুটি ভাল লাগছে। আবার চেয়ারে এসে বসলেন মাদাম রিও। তখন দেখতে পেলেন, চোখ বন্ধ করে ফেলেছে তারিউ। ওর মুখটাও বন্ধ হয়ে আছে। বিকৃত হয়ে, উঠেছে চেহারা। তবু একটা কোমল হাসি খেলা করছে মুখের চারপাশে।

    দুপুরে জ্বর বাড়তে বাড়তে চরমে উঠল। রক্ত উঠে এল থুতুর সাথে। কাশির ফাঁকে ফাঁকে ও তখনও ওদের দিকে তাকাচ্ছে। আস্তে আস্তে কমে এল ওর চোখ খোলার পালা। বিধ্বস্ত চেহারায় যে উজ্জ্বল আভাটা ফুটে উঠছিল সেটাও ম্লান হয়ে এল ক্রমশ। মারা গেল তারিউ। তার আগে কখন ও দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, কখন একটা আর্তনাদ করে নিজেকে সঁপে দিয়েছে মৃত্যুর হাতে, রিও সেসবের কিছুই লক্ষ করেনি। দুচোখ ছাপিয়ে অশ্রুর বন্যা নেমে এল ওর। সে অশ্রু অসহায় ক্রোধের।

    রাতে মা ও ছেলে লাশ পাহারা দিতে বসল। মাঝে মাঝে স্ত্রীর কথা মনে পড়তে চিন্তা ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে রিও-র। থেকে থেকে ছেলের দিকে তাকাচ্ছেন, মাদাম রিও। চোখাচোখি হতেই হাসছে রিও।

    বার্নার্ড?

    বলো, মা।

    খুব ক্লান্তি লাগছে?

    না, মা।

    চেয়ারে নড়েচড়ে বসলেন মাদাম রিও। মা-র দিকে তাকিয়ে হাসল রিও। তাকে আশ্বস্ত করতে চাইল, সত্যিই ও ক্লান্ত বোধ করছে না। ছেলের দিকে তাকিয়ে মা বললেন, এবার দূরে পাহাড়ী কোন স্বাস্থ্যনিবাসে গিয়ে তোর কিছুদিন বিশ্রাম নেয়া দরকার।

    হ্যাঁ, মা। তাই করব এবার।

    পরের দিন সকালে নিজের সার্জারিতে কাজ করছিল রিও, ছুটতে ছুটতে ভেতরে ঢুকে ওকে একটা টেলিগ্রাম দিলেন মাদাম রিও। এরপর, যে ছেলেটা টেলিগ্রাম এনে দিয়েছে তাকে বকশিশ দেয়ার জন্যে ফিরে গেলেন তিনি।

    ফিরে এসে তিনি দেখলেন, খোলা টেলিগ্রাম হাতে বসে আছে রিও। তাঁকে দেখে জানালার বাইরে চোখ মেলে দিল ও।

    বার্নার্ড।

    ঘুরে দাঁড়িয়ে মা-র দিকে তাকাল রিও। তাঁর মনে হলো একজন অপরিচিত মানুষকে দেখছেন তিনি।

    খবর কী?

    ওহ্। হ্যাঁ, সেই একই খবর। এক সপ্তাহ আগে মারা গেছে ও মাদাম রিও নিজেও জানালার দিকে মুখ ফেরালেন। মাকে কাঁদতে বারণ করল রিও। গত কয়েকমাস হলো, বিশেষ করে গত দুদিন থেকে এই দুঃখের ব্যথা সইতে হচ্ছে ওকে।

    .

    ৫.০৪

    চার ফেব্রুয়ারির এক ঝলমলে সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হলো শহরের সবগুলো ফটক। সেদিন উৎসবের আয়োজন করা হলো শহরে। স্টেশনে, ইঞ্জিন থেকে উঠল ধোয়া; জাহাজ এসে পৌঁছল বন্দরে। যারা ফিরছে তাদের হৃদয় কাঁপছে অজানা আশঙ্কায়। শহরের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে তারা তখনও কিছুই জানে না। মনে মনে এক বিভীষিকার চিত্র কল্পনা করে রেখেছে সবাই। বিচ্ছেদের দিনগুলোতে তাদের সময় কিছুতেই কাটতে চাইত না, তখন কামনা করত দ্রুত পার হয়ে যাক সময়। আজ শহরের কাছাকাছি পৌঁছে তারা চাইছে সময়ের গতি আরও মন্থর হোক। ওদিকে, যারা বাসায় কিংবা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিল, তারা ধীরে ধীরে অধৈর্য হয়ে পড়ল; আশঙ্কায় কাঁপতে শুরু করল বুক। র‍্যাঁবেয়াও এসেছে স্টেশনে। প্রথম ট্রেনেই আসছে ওর প্রেমিকা। ও নিজেও বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে, ওর-ও বুক কাঁপছিল।

    কিন্তু ইঞ্জিনের ধোঁয়া চোখে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে একটা দুর্বার উন্মত্ত আনন্দে ভরে উঠল সবার মন। ট্রেন স্টেশনে এসে থামতেই শত শত হাত দীর্ঘদিনের বঞ্চিত অধিকার ফিরে পাবার ব্যাকুল আগ্রহে এমন সব শরীরকে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে গেল সময়ের ব্যবধানে যাদের চেহারাও ওদের মনে নেই। র‍্যাঁবেয়ার বেলায়ও একই ঘটনা ঘটল। যে রমণী ওর দিকে ছুটে এল, তার শরীরের দিকে একবার ভাল করে তাকাবারও সুযোগ হলো না ওর, তার আগেই ওর বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর প্রেমিকা।

    দুহাতে প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরল র‍্যাঁবেয়া। মাথাটা চেপে ধরল কাঁধের ওপর। পরিচিত চুলগুলো ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না। এরপর ওর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল অবরুদ্ধ অশ্রু। কিন্তু বুঝতে পারল না এই অশ্রু সেই মুহূর্তের আনন্দের, নাকি দীর্ঘদিনের চাপা দুঃখের। পরস্পরকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে। নিজের নিজের বাসার দিকে ফিরে চলল মানুষ। কিন্তু সবার ভাগ্যেই এই ঘটনা ঘটল না। কিছু কিছু লোক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দেখল তাদের জন্যে কেউ অপেক্ষা করে নেই।

    রাস্তায়, পার্কে নাচতে শুরু করল মানুষ। রাস্তা ভরে গেল গাড়িতে গাড়িতে। সারাটা বিকেল ধরে গির্জার ঘণ্টা বেজে চলল পুরোদমে। ভরে উঠল আনন্দ ফুর্তির আঙ্গুলো। প্রতিটা কাফেয় বের করা হলো মদের শেষ বোতলটাও। প্রত্যেক পান্থশালার সামনে উন্মত্ত হয়ে উঠল মাতাল জনতা; তাদের মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকাও আছে, সবার চোখের সামনে পরস্পরকে আদর করছে ওরা, কে কী ভাবছে সেটা খেয়াল করেও দেখছে না কেউ।

    গির্জার ঘণ্টা, বন্দুকের গর্জন, বাজনার সুমধুর ছন্দ, কানে তালা লাগানো বহু কণ্ঠের চিৎকার ইত্যাদির মিলিত গর্জনের ভেতর দিয়ে সেদিন পড়ন্ত বেলায় সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় শহরের উপকণ্ঠের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল রিও। আলোকিত হয়ে উঠেছে শহর, ভেসে আসছে কাবাব, আর মদের গন্ধ। ওর চারপাশে উফুল্ল জনতা তাকিয়ে দেখছে উজ্জ্বল আকাশ। আলিঙ্গনরত নারীপুরুষের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসছে কামনার অস্ফুট শীৎকার।

    হেঁটে চলল রিও। যতই সামনে এগোচ্ছে ততই বাড়ছে ভিড়। আর সেই সাথে শোরগোল। ওর মনে হলো গন্তব্য ওর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এ সময় বিচিত্র এক অনুভূতি জেগে উঠল ওর ভেতর। ওই কলকণ্ঠ উন্মত্ত জনতার মাঝে মিশে যাবার একটা দুর্বার আকর্ষণ অনুভব করল ও।

    গ্রাঁদ এবং কটার্ড যেখানে থাকে সে রাস্তাটার মোড় ঘুরতেই রিও উপলব্ধি করল যাদের কামনা ব্যক্তি-মানুষ আর তার ভালবাসাকে পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সবসময়ের জন্যে না হলেও মাঝে মাঝে তাদের সেই বাসনা পূরণ হওয়া উচিত।

    .

    ৫.০৫

    পাঁচ গ্রাঁদ এবং কটার্ড-এর বাসায় যাওয়ার রাস্তাটায় ঢুকতেই রিও দেখল পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে একদল পুলিস। দূর থেকে ভেসে আসছে আনন্দ ফুর্তির উল্লাসধ্বনি। সে কারণে এই শান্ত অঞ্চলটাকে আরও শান্ত মনে হচ্ছে।

    মাফ করবেন, ডাক্তার সাহেব, বলল একজন পুলিস, আপনাকে ওদিকে যেতে দিতে পারব না। একজন পাগল বন্দুক নিয়ে যাকে দেখছে তাকেই গুলি করছে। আপনি এখানেই থাকুন। আপনার সাহায্যের দরকার হতে পারে।

    রিও দেখল ওর দিকে এগিয়ে আসছে গ্রাঁদ। কী ঘটেছে সে। সম্পর্কে গ্রাঁদ কিছুই জানে না। পুলিস ওকেও সামনে যেতে দেয়নি। ওরা ওকে জানিয়েছে গুলি ওর বাসার দিক থেকেই আসছে।

    সামনে যে পুলিসের দল ওদের পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের থেকে কিছু দূরে আর একদল পুলিস ঠিক একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির সামনের রাস্তাটা নির্জন। জনশূন্য মোড়ের ওপর পড়ে আছে একটা টুপি আর এক টুকরো নোংরা ছেঁড়া কাপড়। রিভলভার হাতে বাড়ির দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে বেশ কিছু পুলিস। তিনতলার একটা জানালা ছাড়া বাড়ির অন্যান্য জানালা বন্ধ।

    মনে হচ্ছে জানালার পাল্লাটা আলগাভাবে ঝুলছে একটা কজার ওপর।

    হঠাৎ ওরা শুনতে পেল দুটো রিভলভারের আওয়াজ। গ্রাঁদ-এর বাড়ির বিপরীত দিকের বাড়িটা থেকে ভেসে এল সেই শব্দ। তিন তলার সেই জানালাটা থেকে ছিটকে পড়ল কয়েকটা টুকরো। আবার নীরব হয়ে গেল চারদিক। সারা দিনের উৎসবের পর রিও-র কাছে ব্যাপারটা মনে হলো অবাস্তব।

    আরে, ওটা তো কটার্ড-এর জানালা, চিৎকার করে উঠল, গ্রাঁদ।

    আপনারা ওভাবে গুলি করছেন কেন? সামনের পুলিসটাকে জিজ্ঞেস করল রিও।

    লোকটাকে ব্যস্ত রাখছি। আমরা একটা পুলিসের গাড়ি আসার অপেক্ষা করছি। বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেখলেই গুলি করছে পাগল লোকটা। কিছুক্ষণ আগে একজন পুলিসকে জখম করেছে ও।

    কিন্তু ওর এভাবে গুলি করার কারণ কী?

    আমারও প্রশ্ন ওটাই। রাস্তার ওপর কিছু লোক আনন্দ ফুর্তি করছিল, এমন সময় ছাদ থেকে কে একজন ওদের দিকে গুলি ছোঁড়ে। প্রথমে ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি ওরা। কিছুক্ষণ পর আবার গুলি হয়, তখন চিৎকার করতে করতে ওরা এদিক ওদিক ছুটতে থাকে; ওদের ভেতর আহত হয় একজন, অন্যরা পালিয়ে যায়। মনে, হয় লোকটার মাথা হঠাৎ বিগড়ে গেছে।

    রাস্তায় একটা কুকুর বেরিয়ে এল। একটা রোগা স্প্যানিয়েল। কয়েক মাস পর এই প্রথম কুকুর দেখল রিও। হয়তো ওর মনিব এতদিন লুকিয়ে রেখেছিল ওকে। দেয়ালের গা ঘেঁষে ধীরে ধীরে পা ফেলে কটার্ড-এর বাড়ির দরজার সামনে থামল সারমেয় জন্তুটা। তারপর রাস্তার ওপর বসে পড়ে মাছি তাড়াতে লাগল। পুলিসদের কয়েকজন শিস দিয়ে তাড়াবার চেষ্টা করল ওটাকে। মাথা তুলল কুকুরটা, এগিয়ে গেল সামনের রাস্তার ওপর, বার কয়েক শুকল পড়ে থাকা টুপিটা। এমন সময় তিনতলার সেই জানালাটা থেকে রিভলভারের গুলি এসে বিধল ওর গায়ে। শূন্যে একটা ডিগবাজি খেলো কুকুরটা, তারপর কাত হয়ে পড়ে গেল একপাশে। রিও-র পিছনে ব্রেক কষার শব্দ হলো, থামল একটা গাড়ি। গাড়ি।

    এই যে এসে পড়েছে, বলল একজন পুলিস।

    গাড়ির ভেতর থেকে রাস্তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কয়েকজন পুলিস অফিসার। গাড়ি থেকে নামাল দড়ি, মই, দুটি মোড়ক। ঢুকে পড়ল বিপরীত দিকের বাড়িঘরের পিছনের একটা গলিতে। তখন থেমে গেছে কুকুরটার নড়াচড়া। চকচক করছে, চারপাশে জমা কালো রক্ত।

    অকস্মাৎ উল্টো দিকের একটা বাড়ির জানালা থেকে বেরিয়ে এল এক ঝাক মেশিনগানের গুলি। তিনতলার সেই জানালাটা টুকরো টুকরো হয়ে উড়ে গেল। দেয়ালে তৈরি হলো মস্ত বড় এক ফাঁক। অন্য একটা বাড়ি থেকে গুলি ঢুকল ওই ফাঁকটায়। ফুটপাথের ওপর ভেঙে পড়ল ইট, চুন, সুরকি। তিনজন পুলিস অফিসার গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ঢুকে পড়ল কটার্ড-এর বাড়ির দরজায়। বাড়ির ভেতর দুটো বিস্ফোরণের শব্দ হলো। তারপর শুরু হলো ছোটাছুটি। কিছুক্ষণ পর দরজায় দেখা গেল ছোটখাট একটা লোক প্রাণপণে চিৎকার করছে, আর পুলিস তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে আনার চেষ্টা করছে।

    একসঙ্গে খুলে গেল আশেপাশের বাড়িঘরের সমস্ত জানালা। প্রত্যেক জানালায় দেখা দিল উৎসুক মুখ। দরজা খুলে রাস্তায় নেমে এল লোকজন। রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বামন লোকটাকে। দুই হাত পিঠ মোড়া করে ধরে রেখেছে দুইজন পুলিস অফিসার। অনবরত চিৎকার করছে লোকটা। একজন পুলিস এগিয়ে এসে বিরাশি সিক্কা ওজনের দুটো ঘুসি বসিয়ে দিল ওর। চোয়ালে।

    ও তো কটার্ড, উত্তেজনায় চেঁচিয়ে উঠল গ্রাঁদ। কটার্ড শেষ। পর্যন্ত পাগল হয়ে গেল।

    রাস্তার ওপর চিত হয়ে শুয়ে গড়াগড়ি দিতে লাগল কটার্ড। সজোরে লাথি মারল একজন পুলিস। ভিড় ঠেলে ওর দিকে এগিয়ে গেল জনতার একটা ক্ষুদ্র অংশ। সরে দাঁড়ান, গর্জে উঠল পুলিসের লোকটা।

    একে একে রিও-র পাশ দিয়ে চলে গেল কটার্ড, পুলিস, জনতা। চোখ ফিরিয়ে রাখল ও।

    অবশেষে হাঁটতে আরম্ভ করল রিও। তখন রাত নামছে। এই অঞ্চলটা বরাবর নির্জন থাকে। কিন্তু কার্ড-এর ঘটনার পর রাস্তায় ভিড় জমে উঠেছে। বাসার দরজায় পৌঁছে ওকে শুভরাত্রি জানাল গ্রাঁদ। বলল, এখন থেকে আবার সন্ধ্যার কাজ শুরু করব। এরপর সিঁড়িতে পা দিয়েই থমকে দাঁড়াল ও। বলল, জেনিকে চিঠি লিখেছি। মনটা এখন আগের চেয়ে অনেক হালকা লাগে। সেই কথাটা আবার নতুন করে লেখায় হাত দিয়েছি। এবার বিশেষণগুলো রাখব না। চোখ দুটো হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠল ওর। মাথা থেকে টুপি খুলে ধীরে ধীরে অভিবাদনের ভঙ্গিতে নামিয়ে আনল টুপিসুদ্ধ হাতটা। হাঁপানি রোগীর বাসার দিকে পা বাড়াল রিও। বুড়ো তখন তার অভ্যাসমত এক পাত্র থেকে আর এক পাত্রে গুনে গুনে রাখছে মটর দানা।

    এখন এই যে সবাই আনন্দ ফুর্তি করছে, মনে হয় ঠিকই করছে ওরা, বলল বুড়ো। তারপর জানতে চাইল, আচ্ছা, ডাক্তার সাহেব, তারিউ-এর খবর কী?

    মারা গেছে। মনোযোগ দিয়ে বুড়োর বুকের ঘড়ঘড় শব্দ শুনতে লাগল রিও।

    সত্যি? বেশ বিব্রত বোধ করল হাঁপানি বুড়ো।

    হ্যাঁ। প্লেগে।

    এক মিনিট নীরব থাকার পর বুড়ো বলল, পৃথিবীতে দেখি যারা ভাল মানুষ তারাই তাড়াতাড়ি মারা যায়। খুব কাজের মানুষ ছিলেন ভদ্রলোক।

    হঠাৎ এসব কথা বলছেন কেন? স্টেথোটা গুছিয়ে নিল রিও।

    বাজে কথা পছন্দ করতেন না একদম। আমার খুব ভাল লেগেছিল তাকে। লোকে এখন বলাবলি করছে শহরে প্লেগ এসেছিল। এমন ভাব করছে যেন এজন্যে ওদের মেডেল পাওয়া উচিত। কিন্তু আমার কথা, প্লেগ জিনিসটা আসলে কী জীবনেরই একটা অংশ-এর বেশি কিছু নয়।

    ফুসফুসের যে ওষুধটা দিয়েছি সেটা নিয়মিত টানবেন।

    ডাক্তার সাহেব, আমাকে নিয়ে অত চিন্তা করবেন না। কিভাবে বাঁচতে হয়, আমি জানি।

    ঘর থেকে বেরুবার সময় হঠাৎ মাঝপথে থমকে দাঁড়াল রিও। বলল, আপনার ছাদে একটু যেতে চাই, কিছু মনে করবেন না নিশ্চয়।

    অবশ্যই না। আচ্ছা, শুনছি যারা প্লেগে মারা গেছে তাদের জন্যে একটা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হবে। সত্যি?

    কাগজে তো তাই লিখেছে।

    এমন কিছু একটা হবে সেটা আমি আগেই জানতাম। নিশ্চয় সেখানে বক্তৃতা দেয়ার ব্যবস্থাও হবে? বক্তৃতায় কী বলা হবে সেটা আমি এখনই শুনতে পাচ্ছি: আমাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুর.. । তারপর যে যার ঘরে ফিরে আরাম করে খাবে-দাবে, তাই না?

    রিও তখন সিঁড়ি বেয়ে অর্ধেক পথ উপরে উঠেছে। মাথার ওপর ঝলমল করছে শান্ত সুদূর আকাশ। দূরে পাহাড়ের ওপর ছিটকে পড়ছে নক্ষত্রের আলো। প্লেগের কথা ভুলে থাকার জন্যে সেদিন রাতে ছাদে উঠে যেমন দেখেছিল আজকের রাতেও চারপাশের পরিবেশটা তেমনি। কেবল আজ রাতে সমুদ্রের ঢেউগুলো আরও প্রচণ্ড শব্দে আছড়ে পড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে। আবহাওয়া আরও স্বচ্ছ, শান্ত। বাতাসে নেই সমুদ্রের সেই লোনা গন্ধ। শহরে কোলাহল উপলসৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মত শোনা যাচ্ছে এখনও, তবে আজ রাতে বিদ্রোহের কথা বলছে না ওগুলো, বলছে মুক্তির কথা। দূর-আকাশে, মূল শহরের মাথার ওপর ঝুলে আছে। লাল একটা আভা। আজকের এই সদ্যোজাত স্বাধীনতার রাতে আকাক্ষা বাধা মানছে না কোন, আর এরই নিনাদ পৌঁছুল রিও-র কানে।

    রাতে, মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ আতসবাজি পোড়ানোর আয়োজন করেছিলেন। অন্ধকার বন্দর থেকে তারই প্রথম ফানুস নিক্ষেপ করা হলো আকাশে। শহরবাসীরা উল্লাসের ভেতর দিয়ে স্বাগত জানাল তাকে।

    চারদিক থেকে তুমুল হর্ষধ্বনির এক একটা বিরাট তরঙ্গ উত্তাল ঊর্মিমালার মত ছুটে এসে আঘাত করছে ছাদে, বারান্দায়, দেয়ালে। গর্জে ফুলে ফুলে, উঠছে সেই ঢেউ। বিশাল থেকে। বিশালতর হচ্ছে ওগুলোর আকার। আর উঁচু পর্বতের শীর্ষ থেকে উজ্জ্বল আলো জলপ্রপাতের মত অজস্র ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে শূন্য অন্ধকারের ভেতর।

    দূর শহর থেকে ভেসে আসা তুমুল হর্ষধ্বনি শুনতে শুনতে রিও ভাবল, মানুষের এই বিজয় উল্লাস যে-কোন দিন আবার হয়তো বিপন্ন হবে। সেটাই হয়তো নিয়ম। কেননা প্লেগের জীবাণু কখনোই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় না, অদৃশ্যও হয় না চিরতরে বছরের পর বছর এই জীবাণু সুপ্ত থাকে আসবাবপত্রের মাঝে, কাপড়চোপড়ের বাক্সের ভেতর; ওঁৎ পেতে অপেক্ষা করে শোবার ঘরে, ভাঁড়ারে, বড় বড় ট্রাংক, বইয়ের শেলফে; তারপর সেই দিনটি আসে যেদিন এই জীবাণু মানুষের সর্বনাশ এবং শিক্ষার জন্যে আবার তার ইঁদুরগুলোকে জাগিয়ে উত্তেজিত করে মরবার জন্যে, এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ওদেরকে পাঠিয়ে দেয় আনন্দমুখর কোন শহরে।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্ধিক্ষণ : প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্যে যাত্রা – এ পি জে আবদুল কালাম
    Next Article নমশূদ্রের ইতিহাস – বিপুল কুমার রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }