Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধর্মের উৎস সন্ধানে – ভবানীপ্রসাদ সাহু

    ভবানীপ্রসাদ সাহু এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খ্রীস্ট ধর্ম

    বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যার বিচারে বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্ম হচ্ছে খ্রীস্টধর্ম। অবশ্য হিন্দু-ইসলাম ইত্যাদি সব ধর্মের মতোই এই ধর্মাবলম্বীরাও নানা সময়ে নানাভাবে বিভক্ত হয়েছে, সামাজিক-অর্থনৈতিক-আধ্যাত্মিক স্বার্থের বিভিন্নতার কারণে। খ্রীস্টধর্ম সৃষ্টির ক্ষেত্রে মতাদর্শগতভাবে যেমন ইহুদিধর্ম তথা ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রভাব ছিল, তেমনি রাজনৈতিকভাবে রোমান সাম্রাজ্যের সৃষ্টি একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকার বিশাল অঞ্চলে পরিব্যাপ্ত রোম সাম্রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ দাস হিসেবে, এবং বিপুলতর সংখ্যার মানুষ দাস না হয়েও নিপীড়িত জীবন কাটাতে বাধ্য হতো। এদের একাধিক বিদ্রোহ অত্যাচারী রোম সম্রাট ও তার অনুগত মুষ্টিমেয় আমলাদের দ্বারা নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছে।

    এই সময় বিপুলতর সংখ্যার সাধারণ মানুষের কাছে এমন একটি ধর্মমতের প্রয়োজন হয়, যেটি তাদের এই অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম চালাতে সাহসী করে তুলবে। দৃঢ়মূল ঈশ্বরবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের এমন একটি তত্ত্বের প্রয়োজন হয়, যেটি নিপীড়িত মানুষকে একটি উদার ছত্রছায়ায় ঐক্যবদ্ধ করবে। রোমান শাসকদের পক্ষ থেকেও চেষ্টা করা হয়েছিল, -রোম শহরের দেবতা রোমা (Roma ) ও জুপিটার (Jupiter Capitolius)-এর আরাধনার কথা বলা হয় এবং সবাইকে তা মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। রোমান সৈন্যদের মধ্যে পারস্য (ইরান)-এর মিথ্রা মতবাদও প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এদের কোনোটিই বিপুল সংখ্যক নিপীড়িত মানুষের সামনে মুক্তির আশ্বাস নিয়ে আসে নি। এবং এমনই পরিস্থিতিতে খ্রীস্টধর্মের সৃষ্টি।

    খ্রীস্টধর্ম (Christianity) কথাটি এই প্রচলিত অর্থে প্রথম ব্যবহার করেন অ্যন্টিওক-এর বিশপ ইগনাটিয়াস (মৃত্যু : ১১০ খ্রীষ্টাব্দে) তাঁর ‘লেটার টু দি ম্যাগনেসিয়ানস’-এ। (খ্রীস্টপূর্ব-খ্রীস্টাব্দ জাতীয় কথাগুলি অবশ্য ঐ সময় এমনভাবে ব্যবহার করা হতো না। ইয়োরোপের মধ্যযুগে এ ধরনের শব্দের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।)

    এই ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে নাজারেথ-এর যীশু (Jesus of Nazareth )—এর কথা বলা হয়। কিন্তু গীর্জা ও যাজকরা যীশুর জীবনকে ঘিরে এমন একটা আধ্যাত্মিক ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে যে, তাঁর সত্যিকারের জীবন ইতিহাস জানা দুঃসাধ্য। তবু মোটামুটি বলা যায়, তিনি খ্রীস্টপূর্ব ৬ সালে জুডিয়াতে জন্মান ও ৩০ খ্রীস্টাব্দে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ম্যাথিউ ও লিউক-এর দেওয়া বর্ণনায় অবশ্য সামান্য অন্যরকম তথ্য পাওয়া যায়।

    খ্রীস্টানদের যীশু-র জন্মের অনেক আগে থেকেই প্যালেস্টাইনে যীশু নামে এক দেবতার (God Jesus) কথা বলা হতো। অনেকের মতে এটিই পরে কল্পনায় বিশেষ মানুষ সম্পর্কে আরোপিত হয়। খ্রীস্টধর্মের প্রচারক হিসেবে পরিচিত যীশু নামে আদৌ কেউ ছিলেন কিনা, এ-ব্যাপারে তাই সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এ সন্দেহ আরো বাড়ে যখন দেখা যায়, কুমারী মেয়ে মেরি-র সঙ্গে ঐশ্বরিক মিলনের ফলে তাঁর জন্ম হয়েছে বলে বলা হয়। এ-ধরনের আধ্যাত্মিক কল্পনা অবশ্য খ্রীস্টানদের মধ্যেই নয়, টোটেমপন্থী নানা আদিম মনুষ্যগোষ্ঠীর মধ্যেই এর সৃষ্টি, পরবর্তীকালে নানা ধর্মে এর প্রতিফলন ঘটেছে,—যেমন তথাকথিত হিন্দুদের অপূর্ব গল্প রামায়ণ-মহাভারতে এ ধরনের ঐশ্বরিক ঔরসে সন্তানলাভের কথা আকছারই বলা হয়েছে। তবে যে-ইহুদিধর্ম (Judaism) খ্রীস্টধর্ম সৃষ্টির অন্যতম ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে, তাতে কিন্তু এ-ধরনের ঘটনা অস্বীকৃত। তাই খ্রীস্টধর্মের তথাকথিত ধর্ম-পুস্তকগুলিতে যে-সব গল্প-গাথা সন্নিবিষ্ট হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রাচ্যের কিছু প্রতিফলনও লক্ষ্য করা যায়। খ্রীস্ট (Christ) কথাটি ইহুদি শব্দ মেসায়া অর্থাৎ পরিত্রাতার গ্রীক অনুবাদ। ইহুদিদের কাছে মেসায়া ভবিষ্যতে আবির্ভূত হবেন। খ্রীস্টানদের কাছে যীশু-ই এই পরিত্রাতা অর্থাৎ খ্রীষ্ট।

     

    আরও দেখুন
    পুরাতন নিয়ম
    বৈজ্ঞানিক
    নিউ টেস্টামেন্ট
    নূতন নিয়ম
    বিজ্ঞানের
    বিজ্ঞান
    বইয়ের
    বাংলা অডিওবুক
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ

     

    যীশু সম্পর্কে প্রচলিত নানা গল্প-গাথায় অনেক সময় মতানৈক্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন সেন্ট ম্যাথ্যু ও সেন্ট লিউক উভয়েই তাঁদের মঙ্গলবার্তায় (Gospel) যীশুকে রাজা ডেভিডের বংশধর বলেছেন। কিন্তু সেন্ট ম্যাথ্যুর মতে তিনি রাজার ২৮ তম বংশধর, অন্যের মতে ৪২ তম। সেন্ট ম্যাথ্যুর মতে যীশুর ঠাকুরদার নাম জেকব, সেন্ট লিউকের মতে এলিজা। সেন্ট ম্যাথ্যু বলেছেন, যীশুর মা ও বাবা (অর্থাৎ জাগতিক বাবা) জুড়িয়ার শহর বেথলহেম-এ থাকতেন; রাজা হেরড সব নবজাতক শিশুকে হত্যার আদেশ দিলে, যীশু জন্মানোর পর তাঁরা মিশরে পালিয়ে আসেন; হেরড মারা গেলে তাঁরা সপরিবারে গ্যালিলিয়ার শহর নাজারেথ এ চলে আসেন। অন্যদিকে সেন্ট লিউক বলেছেন, যীশুর বাড়ির লোকজন বরাবরই নাজারেথ-এ থাকতেন, শুধু যীশু যখন জন্মান তখন বেথলহেম-এ ছিলেন; তারপর তাঁরা আবার নাজারেথ-এ ফিরে আসেন।

    হিন্দুধর্ম সহ অন্যান্য প্রায় সব ধর্মের মতো (অন্যতম কিছু ব্যতিক্রম ইসলাম ও মহম্মদের জীবন) খ্রীস্টধর্মেও যীশুর জীবনকে ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত আছে। গল্প হিসেবে এগুলি যেমন চিত্তাকর্ষক, তেমনি শিক্ষাপ্রদও বটে। তবু যীশুর হাতের ছোঁয়ায় দুরারোগ্য রোগ ভালো হয়ে গেল বা জন্মান্ধ দেখতে পেল, কিংবা যীশু জলের উপর হেঁটে গেলেন,—এগুলি স্পষ্টতই অবিশ্বাসীদের বিশ্বাস উৎপাদনের অন্যতম চিরাচরিত কৌশল মাত্র অথবা কাকতালীয় কিছু ঘটনার ধর্মীয় ব্যাখ্যার চেষ্টা।

     

    আরও দেখুন
    নিউ টেস্টামেন্ট
    পুরাতন নিয়ম
    নূতন নিয়ম
    বৈজ্ঞানিক
    বিজ্ঞান
    বিজ্ঞানের
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইন বুক
    বইয়ের
    PDF

     

    খ্রীস্টধর্মের স্বীকৃত ধর্মগ্রন্থকে চারভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে রয়েছে সেন্ট ম্যাথ্যু, সেন্ট লিউক, সেন্ট মার্ক ও সেন্ট জ-এর লেখা চারটি গসপেল। এতে যীশুর জীবন, মৃত্যু ও পুনরুজ্জীবনের কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে সেন্ট জন-এর গস্পেলটির সঙ্গে অন্য তিনটির আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয়ভাগে রয়েছে খ্রীস্টধর্মে প্রথম ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের কথা (proselytisers)। তৃতীয়ভাগে রয়েছে তথাকথিত ঈশ্বরের দূতেদের লেখা (epistles of apostles)। চতুর্থটি হচ্ছে সেন্ট জন-এর দি রিভিলেশন। এই সবগুলিকেই একত্রে নিউ টেস্টামেন্ট বলা হয়।

    বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন সময়ে এগুলি লিখেছেন। যীশু নামে সত্যিই কেউ থেকে থাকলে তাঁর মৃত্যুর পর এগুলি লেখা, -দ্বিতীয় শতাব্দীর আগে নয়। তার আগে মৌখিকভাবে এগুলি চালু ছিল। আর এ-সবের লেখকরা বেশ কিছু ক্ষেত্রেই ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। যেমন প্যালেস্টাইনের শুয়োরের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইহুদিরা অপবিত্র ভেবে শুয়োর পুষতই না। আবার সর্ষে গাছকে ডালপালাওয়ালা বিশাল গাছ হিসেবে বলা হয়েছে, যা হাস্যকর। রাজা হেরড ও সিরিয়ার শাসক কুইরিনিয়াস-এর সময়কালকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে, অথচ এঁদের সময়ের ব্যবধান ছিল প্রায় এক হাজার বছর। লেখাগুলির অধিকাংশই যে কল্পনাশ্রয়ী ছিল ও বিভিন্ন সময়ে প্রক্ষিপ্ত হয়েছিল তাও এ থেকে বোঝা যায়।

     

    আরও দেখুন
    বৈজ্ঞানিক
    নিউ টেস্টামেন্ট
    বিজ্ঞান
    পুরাতন নিয়ম
    বিজ্ঞানের
    নূতন নিয়ম
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বইয়ের
    PDF

     

    যাই হোক সব মিলিয়ে এটিই প্রচলিত যে, যীশু নিপীড়িত মানুষ ও দাসেদের সামনে একটি নতুন মানবতাবাদী মতাদর্শ প্রচার করেন। তাঁর অনুগামীদের প্রথমে নাজারিন নামে অভিহিত করা হতো। শুরুতে বিরুদ্ধ- বাদীরা ব্যঙ্গার্থে বা গালাগাল করার উদ্দেশ্যে তাঁদের খ্রীস্টান বলতেন। দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝির পর থেকে এই নতুন ধর্মমতে বিশ্বাসীরা নিজেরাই নিজেদের খ্রীস্টান বলে অভিহিত করতে থাকেন।

    যীশুর আগে ব্যাপটিস্ট জন প্রকৃতপক্ষে খ্রীস্টধর্মের নীতিমালার প্রচার করেন, এবং যীশুকে ব্যাপটাইজ করেন। ‘পবিত্র’ নামে চিহ্নিত জল গায়ে ছিটিয়ে এই ধর্মানুষ্ঠান ইহুদিদের মধ্যেই প্রচলিত ছিল। পরে খ্রীস্টধর্মে অনুপ্রবেশ করে। জন ঈশ্বরের রাজ্যের কথা, পাপের জন্য অনুতাপ করার কথা ইত্যাদি বলেছিলেন। কিন্তু এই ঈশ্বরের রাজ্য জাতীয় কথাবার্তা স্পষ্টতই রাজা তথা শাসককুলের পছন্দসই ছিল না। জন বন্দী হন। এবং যীশু তাঁর আরব্ধ কাজ কাঁধে তুলে নেন।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞান
    নিউ টেস্টামেন্ট
    পুরাতন নিয়ম
    নূতন নিয়ম
    বিজ্ঞানের
    বৈজ্ঞানিক
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    নতুন বই
    নতুন উপন্যাস

     

    যীশু সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে, তাদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়ে ঈশ্বরের কথা বলতে থাকেন। সমাজের তথাকথিত উচ্চ-নীচ ভেদ না করে, তিনি সবাইকে ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে অভিহিত করেন এবং খুব সহজ সরল ভাষায় নীতিমালা শিক্ষা দিতে থাকেন। নিজের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বেছে নন, যেমন, অ্যান্ড্রু, পিটার, জেমস ও জন ছিলেন জেলে, ম্যাথ্যু ছিলেন ট্যাক্স কালেক্টার ইত্যাদি। প্রথমে তিনি গ্যালিলির সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে তাঁর মতাদর্শ প্রচার করেন। তারপর জেরুজালেমে যান (পাসওভার)। এখানেই রোমান আইন অনুসারে তাঁকে রাজদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়। মার্ক ও লিউকের মতে, এর আগে বিচারের সময় যীশু নিজেকে মেসায়া বা খ্রীস্ট বলে দাবি করেন। তাই তাঁর ওপর মৃত্যুদন্ড নেমে আসে। তাঁর জীবনের ঐতিহাসিক নানা তথ্যে ভক্তদের বিবরণে গরমিল থাকলেও তিনি যে শুক্রবার মারা যান তা মোটামুটি সর্বজন স্বীকৃত এবং এ তারিখটি সম্ভবত ৭ এপ্রিল (৩০ খ্রীস্টাব্দ)।

    খ্রীস্টধর্মাবলম্বীদের কাছে ক্রুশ চিহ্ন একটি পবিত্র জিনিস হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেকের ধারণা যীশু যেহেতু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যান, তাই ক্রুশ সম্পর্কে এ রকম ধারণা জন্মেছে। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য তা নয়। রোমানরা যে ক্রুশে বিদ্ধ করে মানুষ মারত সেটি ইংরেজি ‘টি’ (T) অক্ষরের মতো,—তার তিনটি বাহু। কিন্তু ‘পবিত্র’ ক্রশ-এর চারটি বাহু। এবং প্রকৃতপক্ষে খ্রীস্টধর্ম প্রচলিত হওয়ার আগে থেকেই প্রাচীন চীন, প্রাচীন ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার অধিবাসীদের কাছে এ-জাতীয় চিহ্ন পবিত্র হিসাবে গণ্য হতো। ভারতীয় হিন্দু বা আর্যদের কাছে তার একটি রূপান্তরিত পর্যায় হচ্ছে স্বস্তিকা চিহ্ন। মিশর, ক্রীট ও অন্যান্য অঞ্চলের অতি প্রাচীন শিল্পকর্মের মধ্যেও পবিত্র বা ঐশ্বরিক হিসেবে ক্রশ-এর ছবি দেখতে পাওয়া যায়। এ ধরনের চিহ্ন কেন পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়েছে তা সুনিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল। তবে অনেক গবেষকের মত হলো, আগুন জ্বালানোর সময় কাঠের টুকরো আড়াআড়িভাবে রাখার পদ্ধতি থেকে এ ধরনের চিহ্নকে আগুনের প্রতীক ও পরে পবিত্রতা বা ঐশ্বরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। আবার অনেকের মত সূর্যের আলোকচ্ছটা দেখে এ চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কারো মতে এটি যৌনতা তথা উর্বরতার প্রতীক। উত্তর আমেরিকার রেড-ইন্ডিয়ানরা এরকম ক্রশ চিহ্নের চারটি প্রান্তকে পৃথিবীর চারদিক (পৃথিবীকে চতুষ্কোণ হিসেবেই কল্পনা করা হতো) বলে ভাবত ও পূজা করত। উৎস যাই হোক না কেন এবং কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা ইত্যাদি যা দিয়েই বানানা হোক না কেন, ক্রশচিহ্ন শত-শত বছর ধরে নিছক মানুষেরই হাতে প্রতীকী তাৎপর্য্য পেয়েছে। তাকে আলাদাভাবে পবিত্র ভাবার মধ্যে ঐশ্বরিক কোনো ব্যাপার নেই। তথাকথিত খ্রীস্টধর্মালম্বীদের কবরখানার শুরুর দিকে এমন আবশ্যিকভাবে ক্রশ রাখাও হতো না,- বরং ভেড়ার ছানা, কাঁধে ভেড়া নিয়ে মেষপালক, মাছ ইত্যাদির ছবি বা মূর্তি রাখা হতো। পরবর্তীকালের কবরখানায় বিভিন্ন আকারের ক্রশ-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, কিন্তু তখনো ক্রুশবিদ্ধ যীশুর ছবি আসে নি। কেবলমাত্র অষ্টম-নবম শতাব্দী থেকে এমন ক্রুশবিদ্ধ যীশুর ছবি ও মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞানের
    বিজ্ঞান
    নূতন নিয়ম
    বৈজ্ঞানিক
    নিউ টেস্টামেন্ট
    পুরাতন নিয়ম
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বইয়ের
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

     

    যাই হোক খ্রীস্টধর্ম শুরুর দিকে ইহুদি ও আদিবাসী অন্যান্য গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস দিয়ে প্রায় পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু খ্রীস্টধর্মের মৌলিক দিক হচ্ছে পাপ-এর ধারণা, এবং পাপ থেকে মুক্তি বা মোক্ষলাভের ধারণা ( salvation)। পাশাপাশি সবাইকে ঈশ্বরের সন্তান ভাবা ও ভাই হিসেবে ভাবা,-এসব উদারনৈতিক মানবতাবাদী কথাও ছিল। অপরাধ স্বীকার করা, প্রার্থনা করা, সহ্য করা, ক্ষমা ও আনুগত্য,-এগুলির কথাও বলা হয়।

    এর ফলে নিপীড়িত মানুষ তার দারিদ্র ও দুর্দশার একটা ‘যুক্তিগ্রাহ্য’ ব্যাখ্যা খুঁজে পেল, ধনী-দরিদ্র বিভাজন যে ঈশ্বরের অনভিপ্রেত,-এসব ভেবে আত্মসন্তুষ্টি লাভ করতে লাগল। কিন্তু সমস্যার সমাধান হিসেবে বিপজ্জনকভাবে এই সহজ পদ্ধতিই প্রতিষ্ঠিত হলো যে, নিজের পাপক্ষালনের চেষ্টা করার মধ্য দিয়েই মুক্তি আসবে। ‘সামাজিক কারণ নয়, আমার দুর্দশার জন্য আমার পাপই দায়ী’– এমন ধারণাই প্রতিষ্ঠিত করা হলো এবং এখনো করা হচ্ছে। তথাকথিত মিশনারী সম্প্রদায় দেশে-বিদেশে এখনো খ্রীস্টধর্মের মানবপ্রেমের কথাবার্তার সঙ্গে সুন্দরভাবে এই তত্ত্বকে মিশিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সামাজিক যেসব কারণ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের জন্য দায়ী সেগুলিকে খুঁজে বের করা এবং তার বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালানোর প্রচেষ্টাকে ভোঁতা করে দেওয়া যায়। প্রায় সমস্ত প্রচলিত ধর্মই শাসকশ্রেণীর সুবিধাজনক এই জাতীয় তত্ত্ব জানিত বা অজানিতভাবে প্রচার করেছে। খ্রীস্টধর্ম-ও তার ব্যতিক্রম নয়। সামাজিক অন্যায়গুলিকে দূর করার মধ্য দিয়ে নয়, মুক্তিদাতা যীশুর নির্দেশ অনুসারে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেই মুক্তিলাভ হবে, এ-জাতীয় কথাবার্তার বড় বিপদ এখানেই। সত্যিই যদি তাই হতো, তবে খ্রীস্টধর্মালম্বীদের মধ্যে অন্তত এই দু-হাজার বছরের পরেও দারিদ্র, বঞ্চনা, বৈষম্য ও নিপীড়ন থাকার কথা ছিল না; এবং তারও ব্যাখ্যা ঐ মানবজাতির আদিম পাপ,-এমন সর্বনাশা তত্ত্ব।

    যীশু নামে সত্যিই যদি কেউ জন্মে থাকেন, তবে তিনি যেমন অস্তিত্বহীন ঈশ্বরের প্রতিনিধি নন,-সামাজিক কারণেই তাঁর ও তাঁর মতাদর্শের সৃষ্টি ও জনপ্রিয়তা, তেমনি পরবর্তীকালে নিছকই সামাজিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণেই তাঁর মতাদর্শের বিভাজন, পরিমার্জন হয়েছে। দ্বিতীয় শতাব্দীতে এমন একটি আন্দোলন গড়ে ওঠে নস্টিক (Gnostic) নামে; এদের কাছে ইহুদিরা একেবারেই পরিত্যাজ্য ছিল, কিন্তু খ্রীস্টধর্মে ইহুদিদের সঙ্গে কিছু বোঝাপড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। নস্টিক মতবাদ মুলত ধনী অভিজাতদের চিন্তাভাবনা ছিল, প্রধানত এ-কারণেই এর সর্বজনীনতা সম্ভব হয় নি। তবে নস্টিকদের কিছু চিন্তার প্রতিফলন পরবর্তীকালের খ্রীস্টধর্মের মধ্যে ঘটে। প্রায় এই সময়েই মন্টানিস্ট (Montanist) আন্দোলনও গড়ে ওঠে, যেটিতে চার্চের ও বিশপদের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। দাস-মালিকদের স্বার্থের উপযোগী ছিল এ ধরনের আন্দোলন এবং মূল খ্রীস্টধর্মের ক্রমবর্ধমান বৈপ্লবিক সর্বজনীনতাকে এটিও আটকাতে পারে নি। তবে এই সময়কালে খ্রীস্টধর্মের ধারক ও বাহক হিসেবে ধনী ব্যক্তিরাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছিল। মন্টানিস্টদের আন্দোলন ঠেকাতে এরা বিশপদের সঙ্গে যীশুর তথা ঈশ্বরের দূতের ধারাবাহিকতার কথা প্রচার করতে শুরু করে।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞানের
    পুরাতন নিয়ম
    বিজ্ঞান
    বৈজ্ঞানিক
    নিউ টেস্টামেন্ট
    নূতন নিয়ম
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বই

     

    তৃতীয় শতাব্দীতে বিশেষত পারস্য অঞ্চলে খ্রীস্টধর্ম জোরোঅ্যাস্ট্রিয়ানবাদের সমন্বয়ে মানিকিয়া গোষ্ঠী ( Manichaean sect) গড়ে ওঠে। চতুর্থ শতাব্দীতে বিশেষত উত্তর আফ্রিকায় বিশপ ডোনেটাসের নেতৃত্বে ডোনাটিস্টদের উদ্ভব হয়। এরা সরকারের সঙ্গে কোনোধরনের সহযোগিতার বিরোধিতা করেন, বিশপ ও যাজকদেরও অস্বীকার করেন। এটি ধনীদের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের সরাসরি বিদ্রোহে রূপান্তরিত হয় এবং অ্যাগোনিস্ট নাম ধারণ করে। সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম ধর্ম উত্তর আফ্রিকায় প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে এই বিদ্রোহী মতবাদের বিলুপ্তি ঘটে।

    চতুর্থ শতাব্দীতে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার যাজক আরিয়স-এর নেতৃত্বে খ্রীস্টধর্মের উৎপত্তি তথা যীশুকে ঈশ্বরের দূত হিসেবে ভাবার বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে ওঠে। দু’পক্ষে দাঙ্গাও ঘটে। গোঁড়া খ্রীস্টানরা আরিয়সকে সবচেয়ে পাপী শয়তান হিসেবে অভিহিত করলেও বেশ কিছুকাল ধরে তাঁর চিন্তাভাবনা প্রসারিত হতে থাকে, যার একটি বিভাজনের কিছু ছাপ ক্যাথলিক ধর্মমতে পাওয়া যায়। আরিয়স-এর পরাজয়ের পরে-পরেই প্রায় একই ধরনের বিদ্রোহী মানসিকতা নিয়ে কনস্তানতিনোপলের বিশপ, নেস্টোরিয়াসের নেতৃত্বে আরেকটি আন্দোলন গড়ে ওঠে। যীশুখ্রীস্টকে তিনি মানুষ হিসেবেই গণ্য করেন, ঈশ্বর বা তাঁর দূত নয়; কুমারী মেরি তাঁর মতে যীশুর জন্মদাত্রী মাত্র। নেস্টোরিয়াসের মতবাদ পরে ব্যাপকতা লাভ না করলেও দক্ষিণ ভারত, লেবালন ইত্যাদি এলাকার কিছু কিছু ক্ষুদ্র খ্রীস্টান গোষ্ঠী এখনো এই মতাবলম্বী।

    এই ধরনের বিদ্রোহী মতবাদের প্রতিক্রিয়ার চতুর্থ-পঞ্চম শতাব্দীতে যীশুকে পূর্ণ অর্থে দেবতার আসনে বসিয়ে মনোফাইসিট (Monophysite) মতবাদের জন্ম হয়। বিশপ ইউটিকাস-এর প্রচারিত এই মতাদর্শ রোমসাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের মানুষের স্বতন্ত্রতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিশে যায়। বর্তমানে আর্মেনিয়ান চার্চ, আবিসিনিয়ার কিছু মানুষ এই মতবাদে বিশ্বাসী।

    খ্রীস্টধর্মের শুরুর দিকে আচার-অনুষ্ঠান খুবই কম ছিল, ছিল সহজ সরল পদ্ধতি। পুরনো নানা ধর্মমতগুলিতে এ ধরনের নানা অনুষ্ঠানের দ্বারাই মানুষে মানুষে বিভাজন করা হতো,-খ্রীস্টধর্মের সারল্য এই বিভাজন দূর করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু পরবর্তীকালে কম্যুনিয়ম, ব্যাপটিজম, ইস্টার ইত্যাদি নানা অনুষ্ঠান চালু হয় দু-তিন শ’ বছরের মধ্যেই। এগুলি প্রায় সবগুলিই স্থানীয়ভাবে প্রচলিত নানা অনুষ্ঠানের প্রতিফলিত রূপ। যেমন স্নান করে পাপ দূর করা, জল ছিটিয়ে শরীর পবিত্র করা ইত্যাদি নানা গোষ্ঠীর মধ্যেই চালু ছিল। এরই পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মের নামে গোঁড়ামি আর পাশবিক কাজকর্মের ছড়াতে থাকে। নব্য খ্রীস্টানরা তাদের ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার নির্বোধ তাড়নায় ৪১০ খ্রীস্টাব্দে রোমের শিল্প ও বিজ্ঞানের নানা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ওয়েস্ট গথদের নেতৃত্বে। ৪১৫ খ্রীস্টাব্দে প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল-এর নেতৃত্বে গোঁড়া যাজক ও খ্রীস্টানরা আলেকজান্দ্রিয়ার বিশাল লাইব্রেরি ধ্বংস করে, এবং অঙ্কবিদ, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ মহিলা হাইপাটিয়াকে হত্যা করে। ৪৫৫ খ্রীস্টাব্দে ড্যান্ডালদের নেতৃত্বে আরো ব্যাপকভাবে এ ধরনের ধ্বংসলীলা চালানো হয় ধর্মের নামে (এ থেকেই এসেছে vandalism কথাটি)।

    এই কালপর্বে রোম সাম্রাজ্যের পতন শুরু হতে থাকে, এবং খ্রীস্টধর্ম ইয়োরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় ছড়াতে থাকে। দশম শতাব্দীর মধ্যে সমগ্র ইয়োরোপই বাস্তবত খ্রীস্টধর্ম গ্রহণ করে। তবে সপ্তম শতাব্দীর পর ক্রমপ্রসার্যমান ইসলাম ধর্মের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয় এবং আফ্রিকা ও এশিয়ায় খ্রীস্টধর্মের প্রসার বাধা পায়। খ্রীস্টধর্ম অবশ্য ইসলাম থেকে গুণগতভাবে কিছু পৃথক ছিল। যে সব অঞ্চলে এ ধর্ম ছড়িয়েছে, সেখানকার প্রচলিত ধর্মচিন্তাকে খ্রীস্টধর্ম পুরোপুরি ধ্বংস করে নি, বরং সেগুলির অনেকখানি গ্রহণ করে।

     

    আরও দেখুন
    নিউ টেস্টামেন্ট
    পুরাতন নিয়ম
    বৈজ্ঞানিক
    বিজ্ঞানের
    বিজ্ঞান
    নূতন নিয়ম
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা লাইব্রেরী

     

    ধর্ম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জন্মায়, পাল্টায়। খ্রীস্টধর্মও তার ব্যতিক্রম নয়। নয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী সময়কালে রোম সাম্রাজ্য ক্ষমতাগতভাবে পূর্ব ও পশ্চিমে বিভাজিত হতে থাকে। পশ্চিমে সম্রাটের ক্ষমতা কমতে কমতে লুপ্ত হয়ে গেলে, চার্চের প্রধান অর্থাৎ রোমের বিশপ (যাকে পোপ নামে ডাকা হতো) চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। কিন্তু পূর্ব অংশে তা হয় নি এবং শাসকসম্রাট চার্চের স্বাধীন ক্ষমতা খর্ব করে। এভাবে ক্ষমতাগতভাবে পূর্ব ও পশ্চিমের চার্চের বিভাজন ঘটে, এরই সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে তাদের নিয়ম কানুন, আচারবিধি ইত্যাদিরও। ১০৫৪ খ্রীস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিভাজন পূর্ণতা লাভ করে,-পশ্চিমগোষ্ঠীর নাম হয় রোমান ক্যাথলিক, পূর্বের গ্রেকো-অর্থোডক্স। ক্যাথলিকদের মতে ‘ঐশ্বরিক আত্মা’ ‘পিতা’ ও ‘সন্তান’ (ঈশ্বর ও যীশু) উভয়ের থেকেই আসে, অর্থোডক্সদের মতে শুধু ‘পিতা’ থেকে। এ ধরনের আরো কিছু তফাৎ এদের মধ্যে রয়েছে, যেমন ক্যাথলিকরা জল ছিটিয়ে ধর্ম গ্রহণ করে (Christening), অর্থোডক্সরা তখন জলে পুরো শরীর ডোবায়। ক্যাথলিকদের কোনো ধর্মযাজকই বিয়ে করতে পারবে না, কিন্তু অর্থোডক্সদের সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনী (monks and nuns) ছাড়া বাকিদের কাছে বিবাহ নিষিদ্ধ নয়, ইত্যাদি। ক্যাথলিক চার্চ সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী এবং বহু দেশের রাজনৈতিক তথা শাসন ক্ষমতার নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ক্যাথলিক চার্চের এই শাসকচরিত্র প্রকট হয় মধ্যযুগে, যখন ইয়োরোপে ক্রমবর্ধমান শ্রেণীসংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধর্মীয় নানা গোষ্ঠী, মতবাদ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। দ্বাদশ শতাব্দীতে পোপ ‘হোলি ইনকুইজিশান’ নামে বিশেষ ধর্মীয় আদালত প্রতিষ্ঠা করে। যাদেরই ক্যাথলিক-বিরোধী মনে করা হতো, তাদেরই ‘বিচার’ করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হতো। অকথ্য অত্যাচার থেকে শুরু করে পুড়িয়ে মারা, সবই ধর্মের নামে চলতে থাকল। এই গোঁড়ামি আর যুক্তিহীন জান্তব অন্ধতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অবশ্যম্ভাবীরূপে নানা কুসংস্কারের সৃষ্টি হয়, যার অন্যতম হলো ডাইনী ও মন্ত্রজ্ঞ ওঝাদের সম্পর্কে ধারণা। ধর্মের নামে স্পেন সহ নানা অঞ্চলে হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে, মানবপ্রেমিক হিসেবে প্রচারিত যীশুকে সামনে রেখে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হলো।

    পাশাপাশি এই সময়ে কিছু ব্যক্তির মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উপযোগিতা অনুভূত হয়। তাঁরা খ্রীস্টধর্মের ভিত্তিকে যুক্তি গ্রাহ্য ও ‘বিজ্ঞানসম্মত’ করার প্রচেষ্টায় ‘স্কলাস্টিক’ মতবাদের জন্ম দেন। কিন্তু আরো কিছু গোঁড়া ধার্মিকদের কাছে বিজ্ঞান ও ধর্ম ছিল তেল আর জলের মতো, তাদের কাছে বিজ্ঞানের চর্চা যারা করে তারা খ্রীস্টধর্মের বিরোধী অর্থাৎ হত্যার যোগ্য। ইয়োরোপের মধ্যযুগে ক্যাথলিক চার্চও এই মানসিকতায় সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। কোপানিকাস-এর বৈজ্ঞানিক তথ্যাদিকে নিষিদ্ধ করা হয়। রজার বেকন, গালিলিও গ্যালিলেই প্রমুখ-দার্শনিক বিজ্ঞানীদের ওপর অত্যাচার নেমে আসে, জিওরদানো ব্রুনো ও লুচিলিও ভানিনির মতো বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শুরু অব্দি চলতে থাকে এই বাধাহীন ধৰ্মীয় তাণ্ডব।

    কিন্তু এরপরের সময়কালেই ইয়োরোপে অঙ্কুরিত হলো সামন্ততান্ত্রিক, তথা ক্যাথলিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে উদার ও তৎকালে প্রগতিশীল বুর্জোয়া মতবাদ। পোপের কর্তৃত্ব আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মতাদর্শ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শুরু হয় রিফর্মেশান আন্দোলন তথা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্রোটেস্টান্ট চার্চ-এর সৃষ্টি প্রক্রিয়া। ধর্মীয় ব্যাপারগুলি অবশ্য থাকলই। তবে গুণগতভাবে না হলেও তাদের বাহ্যিক কিছু পরিমার্জন ও সংশোধন করা হলো। জার্মানি ও স্ক্যাণ্ডিনেভিয়ায় এভাবে গড়ে উঠল লুথেরান চার্চ। সুইজারল্যাণ্ড ও নেদারল্যাণ্ডস-এ ক্যালভিনিজম, স্কটল্যাণ্ডে প্রেসবিটেরিয়ানিজম, ইংল্যাণ্ডে অ্যাংলিকান চার্চ ইত্যাদি। এই সব প্রোটেস্টান্ট চার্চ প্রচলিত ধর্মীয় পুস্তককে ধর্মাচরণের একমাত্র নির্দেশিকা হিসেবে মানতে অস্বীকার করে। ক্যাথলিক চার্চের মত ছিল “ভাল কাজ করা বা চার্চকে দান করাটাই মুখ্য কাজ—প্রোটেস্টান্টরা ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রধান গুরুত্ব দেন। এঁরা চার্চের ওপর নয়, মানুষেরই ওপর ধর্মাচরণের কর্তৃত্ব আরোপ করার কথা বলেন। এরই সঙ্গে পোপের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ রাজশক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, কোথাও বুর্জোয়ারা শাসন ক্ষমতা দখল করে।

     

    আরও দেখুন
    বৈজ্ঞানিক
    বিজ্ঞান
    পুরাতন নিয়ম
    বিজ্ঞানের
    নিউ টেস্টামেন্ট
    নূতন নিয়ম
    গ্রন্থাগার সেবা
    বইয়ের
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ই-বুক রিডার

     

    ১৮৭০ খ্রীস্টাব্দে সুইজারল্যাণ্ড ও দক্ষিণ জার্মানির একটি ছোট ক্যাথলিক গোষ্ঠী পোপের মাহাত্ম্যে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং কিছু গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ও সরলীকরণ ঘটান। ১৯২০ সালে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে চেকোস্লোভাকিয়ার কিছু ক্যাথলিক যাজক আলাদা চেক ক্যাথলিক চার্চ গঠন করেন। এ-ধরনের ছোটখাট কিছু ঘটনা ছাড়া ক্যাথলিক মতের বিশেষ ভাঙন ঘটে নি। এর একটি কারণ, ব্যাপক মানুষের কাছে, অলীক হলেও একটি কার্যকর আশ্রয় হিসেবে ক্যাথলিক মতের উপযোগিতা। এখনো অব্দি গরিষ্ঠ সংখ্যার মানুষ প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রতিকূল শক্তিসমূহের কাছে অসহায়। এই অসহায়ত্বের ওপর প্রলেপ দিয়ে, আপাত মানসিক সাহস ও শান্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অপ্রতিবাদী ও ঐতিহ্যের মায়া মাখানো ক্যাথলিক মত (অন্যান্য ধর্মও) তার ভূমিকা পালন করতে পারছে।

    এরই পাশাপাশি শিল্পবিপ্লব ও বুর্জোয়া বিকাশের ফলে খ্রীস্টধর্মালম্বীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিশ্বে নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা নিয়েছে বিগত শতাব্দী থেকে। এর ফলে তারা সারা বিশ্বে যেমন অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে, তেমনি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাদের ধর্মমতকে এই আধিপত্যের উপযোগী করে ব্যবহার করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এশিয়া, আফ্রিকা সহ পৃথিবীর নানা উপনিবেশে খ্রীস্টধর্মের যাজক তথা প্রচারকরাও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতপাতের ঊর্ধে উঠে ও তথাকথিত নানা সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে তারা এক নতুন আপাত-উদার ধর্মমতের প্রচার করেছে। তারা একদিকে ঐ সব দেশের মানুষদের একাংশকে যীশুর ভালবাসার বাণী শুনিয়ে আকৃষ্ট করতে পেরেছে, অন্যদিকে তাদের দুর্দশার মূলে তাদের পাপই দায়ী আর এ পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যীশুর আশ্রয় নেওয়ার কথা বলে স্বধৰ্মীয় নয়া শাসকদের তথা সমগ্র শাসককুলকে আড়াল করতে সমর্থ হয়েছে। কলকাতার বস্তি থেকে আফ্রিকার অরণ্য—সর্বত্র এদের বিচরণ।

    বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তথাকথিত খ্রীস্টধর্মালম্বীদের একাংশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রক ভূমিকায় রয়েছে। এর একটি প্রতিফলন দেখা যায়, বর্তমানে সব ধর্মের মধ্যে অনুগামীর সংখ্যা বিচারে এদের সংখ্যাধিক্যের মধ্যেও। অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই এদের মধ্যেও অর্থনৈতিক বৈষম্য যেমন রয়েছে, তেমনি ধর্মমতের খুঁটিনাটি নানা ক্ষেত্রেও অনৈক্য রয়েছে।* আগামী কয়েক দশক বা শতাব্দী পরে, সমাজ ও অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, অন্যান্য ধর্মের মতো খ্রীস্টধর্মও তার অনুগামীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে–প্রাচীন নানা ধর্মের মত বিলুপ্ত হয়ে যাবে একদিন এবং এটি বর্তমানে কমবেশি প্রচলিত অন্যান্য সব ধর্মের ক্ষেত্রেও সত্যি।

    [* খ্রীস্টধর্মাবলম্বীরা প্রধান তিনটি বিভাগে বিভক্ত—রোমান ক্যাথলিক, অর্থোডক্স ও প্রোটেস্টান্ট। প্রোটেস্টান্টরাও আবার বহুধা বিভক্ত, যেমন অ্যাংলিকান কম্যুনিয়ন, ব্যাপটিস্ট চার্চ, ক্রিস্টিয়ান চার্চ (ডিসাইপ্স্ অব্ ক্রাইস্ট), চার্চেস অব ক্রাইস্ট, চার্চ অব্ ক্রাইস্ট—সায়েন্টিস্ট, চার্চ অব্ জেসাস ক্রাইস্ট অব্ ল্যাটার-ডে সেন্ট, জিহোভাস উইটনেসেস, লুথেরান কমিউনিয়ন, মেথডিস্ট চার্চ, পেন্টিকোস্টাল চার্চ, রিফর্মড প্রেসবিটেরিয়ান অ্যাও কংগ্রেগেশন্যাল চার্চ, রিলিজিয়াস সোসাইটি অব্ ফ্রেগুস, স্যালভেশান আর্মি, সেভেন্‌থ্ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চ, ইউনিটারিয়ান চার্চ, দি ইউনাইটেড চার্চ’ অব্ কানাডা, ইউনাইটেড চার্চ অব্ ক্রাইস্ট ইত্যাদি। তথাকথিত কমিউনিস্ট দেশের পতনের পর অর্থোডক্সরাও (গোঁড়া, ঐতিহ্যবাহী) মাথা চাড়া দিয়েছে।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবুদ্ধ অথবা কার্ল মার্কস – ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    Next Article মৌলবাদের উৎস সন্ধানে – ভবানীপ্রসাদ সাহু

    Related Articles

    ভবানীপ্রসাদ সাহু

    মৌলবাদের উৎস সন্ধানে – ভবানীপ্রসাদ সাহু

    November 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }