Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধর্ম ও বিজ্ঞান – বার্ট্রান্ড রাসেল

    বার্ট্রান্ড রাসেল এক পাতা গল্প222 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. ডাকিনীবিদ্যা ও ভেষজ

    অধ্যায় ৪
    ডাকিনীবিদ্যা ও ভেষজ

    মানব শরীর এবং তার অসুখ-বিসুখের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে লড়তে হয়েছিল এবং এখনও অনেক ক্ষেত্রে লড়তে হচ্ছে বিপুল কুসংস্কারচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে। এসব কুসংস্কারাচ্ছন্নতার জন্ম প্রাকৃখ্রিস্টীয় যুগে। এবং এসব কুসংস্কারের সমর্থনে, এই আধুনিক সময় পর্যন্তও, যাজক সম্প্রদায় সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছিল। অসুখ-বিসুখকে কখনও কখনও পাপের শাস্তির নিমিত্ত একধরনের স্বর্গীয় উপস্থিতি বলে ভাবা হত। কিন্তু প্রায়শই এটাকে অপদেবতার কাজ বলেই ধরা হত। এসব অসুখ-বিসুখ ভালো হতে পারে ব্যক্তিগতভাবে সাধু-সন্তের উপস্থিতিতে। কিংবা সাধুপুরুষের সংরক্ষিত স্মৃতিচিহ্ন দ্বারা। আরোগ্য হতে পারে প্রার্থনা তীর্থ ভ্রমণের সাহায্যে। যদি এটা কোনো ভূত-প্রেতের জন্য ঘটে থাকে তা হলে, রোগটা সারাতে হবে ভূত-প্রেত বিতাড়নের মন্ত্রতন্ত্রের ব্যবস্থার দ্বারা এবং এমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যা ভূত-প্রেতরা অপছন্দ করে।

    এ-ধরনের চিকিৎসার বেশিরভাগ সমর্থন মেলে খ্রিস্টের উপদেশাবলীতে। তত্ত্বটির বাদবাকি অংশ যাজকদের দ্বারাই বিকশিত হয়েছে। অথবা তাদের তত্ত্বগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই এসবের বিকাশ ঘটেছিল। সেন্ট অগাস্টিন এই মত পোষণ করতেন যে, খ্রিস্টানদের সমস্ত অসুখ-বিসুখের কারণ আরোপ করতে হবে ওই অপদেবতার ওপর। প্রধানত সদ্য খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত, এমনকি নির্দোষ সদ্যজাত শিশুদের উপর বেশি পীড়ন চালিয়ে। এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে, যাজকরা তাদের লেখায় যেমন বলেছেন, অপদেবতাদের অর্থ হল অখ্রিস্টানদের দেবদেবী, যারা খ্রিস্টধর্মের প্রসার দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রাচীন খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা কোনো ভাবেই অলিম্পাস পর্বতবাসী প্রাচীন গ্রিক দেবদেবীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করত না। কিন্তু ওই দেব-দেবীদের তারা শয়তানের ভৃত্য বলে মনে করত। মিলটন তাঁর প্যারাডাইস লস্টে এই অভিমত গ্রহণ করেছিলেন। গ্রেগরী নাজিয়ানজের এই মত পোষণ করতেন যে, ওষুধপত্র সব অকাজের, কিন্তু পবিত্র হাতের স্পর্শ প্রায়শই কার্যকরী। এই একই অভিমত অন্যান্য যাজকরাও ব্যক্ত করেছেন।

    সারা মধ্যযুগ ধরে সাধুপুরুষদের সংরক্ষিত দেহাবশেষ বা স্মৃতিচিহ্ন ব্যবহারের কার্যকারিতার উপর বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনও এ-ধরনের বিশ্বাস বিলুপ্ত হয়নি। যে-গীর্জা এবং যে-শহরে ঐ স্মৃতিচিহ্নগুলি সংরক্ষিত ছিল, তারা এগুলোকে আয়ের উৎস হিসাবে কাজে লাগাত। এসব প্রদর্শিত হত আর্থিক বিবেচনা মাথায় রেখে। এ-কারণে সেন্ট পলের বিরুদ্ধে এফিশিয়ানদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। স্মৃতিচিহ্ন সংক্রান্ত বিশ্বাস উদঘাটনের পরেও বেঁচে থেকেছে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, পেলারমোতে সেন্ট রোসালিয়ার অস্থিগুলি বহু শতাব্দী ধরে রোগ নিরাময়ে ফলপ্রদ হয়েছিল। কিন্তু একজন অদীক্ষিত অ্যানাটমিস্ট পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন যে, অস্থিগুলো ছিল ছাগলের ।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞান
    বিজ্ঞানের
    ভেষজ
    ভেষজ উদ্ভিদ
    Book
    বৈজ্ঞানিক
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থ
    Science
    বই

     

    তৎসত্ত্বেও এভাবেই রোগনিরাময় ব্যাপারটা চলতেই থাকে। এখন আমরা জানি কতিপয় অসুখ-বিসুখ বিশ্বাসের দ্বারা নিরাময় হয়, যেখানে অন্যগুলির নিরাময় হয় না। এতে সন্দেহ নেই যে অলৌকিকত্বের দ্বারা রোগ নিরাময় ঘটে কিন্তু সেটা একটা অবৈজ্ঞানিক পারিপার্শ্বিকতায় ওই ধরনের গল্পগুলি শীঘ্রই সত্যকে অতিরঞ্জিত করে। এভাবে সাজানো মূৰ্ছা বায়ুগ্রস্ত রোগগুলোর সঙ্গে অন্যান্য রোগগুলোর, যা রোগনির্ণয় বিদ্যায় নিরাময়যোগ্য, এ দুয়ের পার্থক্যকে লুপ্ত করে দেয়।

    একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতে কিংবদন্তির বৃদ্ধি কীভাবে ঘটে তার কিছু বিশেষ দৃষ্টান্ত হলো, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে অনুমান করা হয়েছিল যে, রুশরা ইংল্যান্ডের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে যাবে। ওই ধরনের বিশ্বাসগুলির উৎসকে যখন খুঁজে বার করতে পারা যায় তখন আপাতদৃষ্টিতে প্রশ্নাতীতভাবে ঐতিহাসিক সাক্ষ্যের কোনটিকে বিশ্বাস করা হবে তার বিচার করতে ঐতিহাসিকদের সাহায্য করে। সচরাচর ঘটে না এমন একটি পূর্ণাঙ্গ নজির হিসাবে লয়োলার বন্ধু এবং পূর্বদেশীয়(১) জেসুইট মিশনারীদের প্রথম ও সবিশেষ বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের ধরে-নেওয়া অলৌকিতার কথা বলা যায়।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থ
    বৈজ্ঞানিক
    Book
    বই
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বিজ্ঞান
    পুস্তক
    বুক শেল্ফ
    Science
    বিজ্ঞানের

     

    সেন্ট ফ্রান্সিস বহুবছর ভারতে, জাপানে ও চীনে কাটিয়েছিলেন। অবেশেষে ১৫৫২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা অনেক দীর্ঘ পত্র লিখেছিলেন যা, এখনও পাওয়া যায়। তাঁরা তাঁদের পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই চিঠিগুলোর মধ্যে সেন্ট ফ্রান্সিসের জীবিতাবস্থায় কোন অলৌকিক ক্ষমতার কথা দাবি করেননি।

    জেসুইট যোসেফ অ্যাকস্টা পেরুর পশুদের দেখে খুবই বিব্রত হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে মতপ্রকাশ করে বলেছিলেন যে, খ্রিস্টমিশনারীগণ অখ্রিস্টানদের ধর্মান্তরিত করার প্রচেষ্টায় কোনো অলৌকিকতার সাহায্য পাননি। কিন্তু জেভিয়ারের মৃত্যুর অব্যবহিত পরে অলৌকিক ব্যাপারগুলোর উদ্ভব হতে শুরু করে। তার সম্পর্কে বলা হয়েছিল যে, তাঁর ঈশ্বর প্রদত্ত বাকশক্তি ছিল যদিও তাঁর চিঠিপত্রগুলি জাপানি ভাষার দুরূহতায় পূর্ণ ছিল। ভালো দোভাষীর স্বল্পতা। এরকম বলা হত যে, যখন তাঁর সঙ্গীসাথীরা সমুদ্রে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়তেন, তখন তিনি লোনাজলকে মিষ্টিজলে পরিণত করতেন। তিনি তার ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিটি হারিয়ে ফেলেছিলেন। একটি কাঁকড়া সেটি তাঁকে উদ্ধার করে দিয়েছিল। পরবর্তী একটি বর্ণনা অনুসারে, প্রচণ্ড ঝড়কে থামাতে জাহাজের উপর থেকে ক্রুশবিদ্ধ যিশুমূর্তিটিকে জলে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১৬২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে খ্রিস্টীয় মতে মাহাত্ম দান করা হয়েছিল। তখন ভ্যাটিক্যানের কর্তাদের সন্তুষ্টির জন্য এটা প্রমাণ করা জরুরি ছিল যে, তিনি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, কারণ ওই ধরনের প্রমাণ ছাড়া কেউ খ্রিস্টান সন্ত হতে পারেন না। পোপ দায়িত্বের সঙ্গে জেভিয়ারের ঈশ্বর প্রদত্ত বাকশক্তির কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেছিলেন। জেভিয়ার তেলের পরিবর্তে জল দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর ঘটনাতে তিনি বিশেষভাবে প্রভাবিত। ইনি সেই একই পোপ, অষ্টম আরবান, যিনি গ্যালিলিওর বক্তব্যকে অবিশ্বাস্য বলে রায় দিয়েছিলেন। ১৬৮২ খ্রিস্টাব্দে ফাদার বাউয়ারস্-এর জীবনী প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই পৌরাণিক কাহিনীর ক্রমবৃদ্ধি ঘটেই চলেছিল। ওই গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি যে, জীবদ্দশায় চৌদ্দজন মৃতব্যক্তিকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। ক্যাথলিক লেখকরা এখনও তাঁকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী হওয়ার স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। সোসাইটি অফ যিশাসের ফাদার কোলরিজ ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর জীবনীগ্রন্থে সেন্টফ্রান্সিসের ঈশ্বরপ্রদত্ত বাকশক্তির কথাকে দৃঢ়তার সঙ্গে সমর্থন করেছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    বই
    ভেষজ উদ্ভিদ
    পুস্তক
    Book
    বৈজ্ঞানিক
    ভেষজ
    গ্রন্থ
    বুক শেল্ফ
    Science
    বিজ্ঞানের

     

    এই দৃষ্টান্ত থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, বিস্ময়কর ব্যাপারগুলির ওপর কত অল্প আস্থা রাখতে হয়। এই আস্থা রাখার বিষয়টা সেই সময়ের কথা যখন সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের প্রমাণপত্রগুলির তুলনায় প্রমাণপত্রের সংখ্যা অল্পই ছিল।

    অলৌকিক নিরাময়ের ঘটনাগুলি শুধু প্রোটেস্টান্টরাই নয়, ক্যাথলিকরাও সমানভাবে বিশ্বাস করতেন। ইংল্যান্ডে রাজার স্পর্শে নিরাময় হওয়াকে রাজার অশুভ শক্তির ব্যাপার’বলা হত। এবং দ্বিতীয় চার্লস যিনি সাধুপ্রকৃতির সম্রাট ছিলেন, তিনি ১ লক্ষ লোককে স্পর্শ প্রদান করেছিলেন। মহিমান্বিত সম্রাটের শল্যচিকিৎসক ষাটজনের সফল নিরাময়ের খবর প্রকাশ করেছিলেন। এবং অপর একজন শল্য চিকিৎসক, তার কথায়, তিনি নিজে রাজার স্পর্শে একশোজনের নিরাময় হওয়ার ঘটনা দেখেছিলেন। ওইসব রোগীদের অনেকেই দক্ষ শল্যচিকিৎসকদের চিকিৎসা অগ্রাহ্য করেছিলেন। প্রার্থনার বইতে রাজার অলৌকিক শক্তি প্রয়োগে আরোগ্যলাভ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মাপোসর অনুষ্ঠানের বিধান দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের ক্ষমতা বংশানুক্রমে দ্বিতীয় জেমস, তৃতীয় উইলিয়ম এবং রানি অ্যানি পর্যন্ত সঞ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু ওই ক্ষমতাসমূহ হ্যাঁনোভারিয়ান উত্তরাধিকার পর্যন্ত টিকে থাকেনি।

    মধ্যযুগে প্রায়ই ঘটে-চলা ভয়ঙ্কর প্লেগ এবং মহামারি রোগগুলো কখনও অপদেবতাদের কাজ আবার কখনও-বা ঈশ্বরের রোষ বলে ধরা হত। ঈশ্বরের ক্রোধ এড়িয়ে যাবার জন্য যাজকরা গীর্জাকে জমিদান করার বেশি সুপারিশ করতেন। ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের ভয়াবহ প্লেগের কারণ হিসাবে অযথার্থভাবে অবজ্ঞাত সেন্ট সেবাস্টিয়ানের রাগের কথাই বলা হয়েছিল। তার নামে একটা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয় এবং এর পরে প্লেগের প্রকোপ থেমে যায়। ১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে রেনেসাঁসের চরম বিকাশমান অবস্থায় রোমানরা শহর বিদীর্ণ-করা প্লেগ রোগের কারণ নির্ণয়ে প্রথমে ভুল করেছিল।

     

    আরও দেখুন
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বই
    Book
    বৈজ্ঞানিক
    Science
    পুস্তক
    ভেষজ
    বিজ্ঞানের
    বুক শেল্ফ
    বিজ্ঞান

     

    যদিও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসগুলি মূলত নিষ্ঠুরতাকে প্রেরণা জুগিয়েছিল কিন্তু বেশিদিন এর মান্যতা ছিল না। তবু মস্তিষ্কবিকৃত রোগীদের প্রতি কঠোর ব্যবহার করার ব্যবস্থাটি প্রথাগতভাবে টিকেছিল। ঘুমকে প্রতিরোধ করা ছিল একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা। অন্য ব্যবস্থাটি ছিল রোগীকে প্রহার করা। তৃতীয় জর্জ যখন উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন তখন তাঁকেও প্রহার করা হয়েছিল। যদিও কেউই এটা মনে করেনি যে তিনি যখন প্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন তার তুলনায় উন্মাদ হয়ে তিনি বেশি মাত্রায় শয়তানের খপ্পরে পড়েছিলেন। তারা ভেবেছিল এটা অপদেবতা অর্থাৎ প্রাচীন দেবতাদের রোষের কারণে ঘটেছে। সুতরাং কলোসিয়ামে জুপিটারের উদ্দেশে তারা একটা ষাঁড় বলি দিল। এতে কোনও ফলোদয় হলো না। এর পরে তারা ভার্জিন এবং সন্তদের প্রসন্ন করতে মিছিলের আয়োজন করল। এটাকেই তারা অভীষ্ট ফলদানে অধিকতর কার্যকরী বলে ভাবল।

    ১৩৪৮ সালের কালো মৃত্যু নানা স্থানে নানা ধরনের কুসংস্কারের আবির্ভাব ঘটালো। ঈশ্বরের রোষকে প্রশমিত করতে একটা প্রিয় পদ্ধতি হয়ে উঠল ইহুদিদের ধ্বংসসাধন। ব্যাভারিয়াতে, হিসেব করে দেখা গেল, বারো হাজার ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছিল। এরফুর্টে তিন হাজার। দু’হাজার ইহুদিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে স্ট্রাসবুর্গে এবং এখানে-ওখানে আরও। কেবলমাত্র পোপ একা এই সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। সায়েনাতে এই কালো মৃত্যুর একটা অসামান্য ফল ফলেছিল। এটা ঠিক হয়েছিল যে, ওখানকার ক্যাথিড্রালটা বিশালভাবে প্রসারিত করা হবে। এই লক্ষ্যে অনেকটা পরিমাণে কাজও এগিয়েছিল। কিন্তু সায়েনার অধিবাসীবৃন্দ, অন্যান্য স্থানের ভাগ্যকে বিস্মৃত হয়ে, এটা ভাবলেন যে, প্লেগ পাপিষ্ঠ সায়েনাতে এসেছিল অশরীরী আত্মার বিশেষ পরিদর্শন হেতু। এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল এ-ধরনের একটি জমকালো ক্যাথিড্রাল নির্মাণের গর্বের জন্য তাদের শাস্তি প্রদান করা। তারা কাজটা বন্ধ করে দিল। এই অসম্পূর্ণ নির্মাণটি তাদের অনুতাপের একটি নিদর্শন হিসাবে আজও রয়ে গেছে।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞান
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বৈজ্ঞানিক
    Book
    পুস্তক
    বুক শেল্ফ
    Science
    ভেষজ
    বই
    বিজ্ঞানের

     

    রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কুসংস্কারমূলক পদ্ধতি শুধুমাত্র বিশ্বজনীনভাবে বিশ্বাসই করা হয়নি, ভেষজের বৈজ্ঞানিক পঠনকেও, প্রবলভাবে হতোদ্দম করা হয়েছে। এর প্রধান চিকিৎসক ছিলেন ইহুদিগণ যারা তাদের জ্ঞান মুসলমানদের কাছ থেকে লাভ করেছিল। ইহুদিদের যাদুবিদ্যা সম্পর্কে সংশয় ছিল, যে-সংশয়টা তারা নীরবে মেনে নিয়েছিল কারণ এতে তাদের দক্ষিণা, বাড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বিবিধ কারণে শারীরসংস্থানবিদ্যা নষ্টামি হিসাবে বিবেচিত হত। প্রথম কারণ এই বিদ্যা দেহের পুনরুজ্জীবন ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে। দ্বিতীয় কারণ গীর্জা রক্তপাতকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে। বুল অফ্ এইটথ বোনিফেসের ভুল বোঝার ফলে শবদেহ ব্যবচ্ছেদ কার্যত নিষিদ্ধ হলো। পোপ পঞ্চম পিউস, অর্ধষোড়শ শতাব্দীর পরবর্তী অধ্যায়ে পূর্বের অনুশাসনের পুনর্নবীকরণ করে চিকিৎসকদের আদেশ দিয়েছিলেন যে, প্রথমে একজন যাজককে ডাকতে হবে। এর কারণ শারীরিক বৈকল্য পাপ থেকে ঘন ঘন উদ্ভূত হয় এবং যদি রোগী যাজকের সামনে তিনদিনের মধ্যে স্বীকারোক্তি না করে, তবে চিকিৎসকরা পরবর্তী চিকিৎসা প্রত্যাখান করবে। সেই সময়কার অনগ্রসর প্রাচীন ওষুধপত্রের দিকে লক্ষ্য রেখে বলা যেতে পারে, সম্ভবত তিনি একজন জ্ঞানীপুরুষ ছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    Book
    বুক শেল্ফ
    বৈজ্ঞানিক
    গ্রন্থ
    বিজ্ঞান
    ভেষজ
    Science
    বই
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বিজ্ঞানের

     

    মানসিক ব্যাধিগ্রস্তদের চিকিৎসা, অনুমান করা যেতে পারে যে, অদ্ভুতভাবে কুসংস্কারগ্রস্ত ছিল। এবং চিকিৎসাবিদ্যার অন্যান্য শাখা থেকে এই কুসংস্কারমূলক চিকিৎসাব্যবস্থা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়েছিল। মস্তিষ্ক বিকৃতিকে শয়তানের অধিকৃত রোগ হিসাবে বলা হয়েছিল। নিউ টেস্টামেন্টে এই মতের উৎসের সাক্ষাৎ মেলে। কোনো কোনো সময়ে রোগ নিরাময়ে ভূত তাড়াবার মন্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছিল। সাধু পুরুষদের ব্যবহৃত কোনো স্মৃতিচিহ্নের স্পর্শে রোগ নিরাময় করা হত। আবার একজন সাধুমহাত্মার আদেশে অপদেবতা রোগীর শরীরকে মুক্ত করে দিয়ে রোগীর আরোগ্যলাভ ঘটাত। কোনো সময়ে যাদুর সুগন্ধি উপকরণের সঙ্গে ধর্মের মিশ্রণ ঘটানো হত। দৃষ্টান্তস্বরূপ যখন একটি অপদেবতা কোনো একটি মানুষের শরীরকে অধিকার করে অথবা শরীরের ভেতর থেকে রোগের সাহায্যে তাকে নিয়ন্ত্রিত করে, তখন গরুর বমন করা শিমজাতীয় গোখাদ্য, বিশপ ওয়ার্ট, নিদ্রাকর্ষক মাদক দ্রব্য, রসুন একসঙ্গে পিষে তার সঙ্গে সিরান্বিত মদ ও পবিত্রজল মিশিয়ে ব্যবহার করতে হত।

    এই সমস্ত পদ্ধতিতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হত না। কিন্তু দুষ্ট আত্মাকে তাড়ানোর জন্য তাকে নির্যাতন করাই সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা অথবা শয়তানের অহংকারকে অবমানিত করা, কারণ শয়তানের পতনের উৎস ছিল তার অহমিকা। দুর্গন্ধযুক্ত ও বিতৃষ্ণাকর বস্তু ব্যবহার করা হত। ভূত তাড়ানোর বিধিব্যবস্থা বহুদিন ধরে চলেছিল এবং ক্রমবর্ধমান অশ্লীলতায় পূর্ণ হয়ে উঠতে লাগল। এই ধরনের উপায়ে ভিয়েনার জেসুইটরা ১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে ১২,৬৫২টি অপদেবতা তাড়িয়েছিল। যাই হোক, যখন এই কোমল পদ্ধতিগুলি নিষ্ফল হত, তখন রোগীকে চাবুক মারা হত। এতেও যদি অপদেবতাটি রোগীকে ছেড়ে না যেত তাহলে রোগীর ওপর পীড়ন চালানো হত। শতাব্দীর পর শতাব্দী অসংখ্য অসহায় বিকৃত মস্তিষ্ক রোগীদের জেলখানার বর্বর কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতার হাতে তুলে দেওয়া হত। মধ্যযুগীয় বিকৃত মস্তিষ্কের চিকিৎসার সঙ্গে ডাকিনীবিদ্যার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাইবেলের কথা, ‘তুমি নিজে বাঁচার জন্য ডাইনিকে কষ্ট দেবে না।’ (Exod. xxii. 18) বাইবেলে উদ্ধৃত ঐ ক্ষুদ্রাংশটি ও অন্যান্য উদ্ধৃতির জন্য ওয়েসূলে এই মত পোষণ করেছিলেন যে, ডাইনিবিদ্যা পরিত্যাগ করার অর্থ বাইবেলকে পরিত্যাগ করা। আমার মতে তিনি ঠিকই বলেছিলেন।(২) যতক্ষণ বাইবেলের উপর মানুষের বিশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ তারা ডাইনি সম্পর্কিত আদেশ ভালোভাবেই পালন করবে। আধুনিক উদারমনস্ক খ্রিস্টানরা, যাদের এখনও ধারণা যে, বাইবেল নীতিগতভাবে মূল্যবান, তারা চট করে বাইবেলের উদ্ধৃত ক্ষুদ্রাংশটি এবং লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার কথা ভুলে যায়। এর কারণ একটা সময়ে মানুষ বাইবেলকে তাদের আচার-আচরণের নির্দেশিকা বলে আন্তরিকভাবে মানত।

     

    আরও দেখুন
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থ
    Science
    বই
    বৈজ্ঞানিক
    পুস্তক
    Book
    বিজ্ঞানের
    বিজ্ঞান

     

    ডাকিনীবিদ্যার বিষয় এবং আরো বৃহত্তর ইন্দ্রজাল ও যাদুবিদ্যার বিষয় একই সঙ্গে কৌতূহল উদ্দীপক ও দুর্বোধ্য। নৃ-তত্ত্ববিদরা অতি আদিম জাতিগুলির মধ্যেও ইন্দ্রজাল ও ধর্মের মধ্যে পার্থক্যটি ধরতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাদের বিচারের মাপকাঠি নিঃসন্দেহে তাদের বিজ্ঞানের সঙ্গে মানানসই, কিন্তু ওই বিচার অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে যখন আমরা যাদুবিদ্যার নির্যাতন বিষয় সংক্রান্ত ব্যাপারে কৌতূহলী হই। যেমন, রিভার্স মেলোনেসিয়া সম্পর্কে তাঁর খুবই মজাদার বই Medicine, Magic and Religion (1924) গ্রন্থে বলেছেন, যখন আমি ইন্দ্রজালের কথা বলি, তখন আমি এটাই বলতে চাই যার অর্থ কতকগুলি পদ্ধতির মাধ্যমে যে সব আচার-অনুষ্ঠান মানুষ করে সেটার ফলপ্রসূতা নির্ভর করে তার নিজের শক্তি কতটা তার উপর অথবা তার বিশ্বাসগতভাবে সহজাত শক্তির ওপর। কিংবা কতিপয় বস্তু এবং পদ্ধতির উপর যেগুলো এসব আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ধর্ম হল কতকগুলি পদ্ধতির সমষ্টি যার কার্যকারিতা নির্ভর করে কতিপয় উচ্চতর শক্তির ইচ্ছার উপর, এমন কতিপয় শক্তি যাদের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয় মিনতি ও সন্তুষ্টি বিধানের আচার অনুষ্ঠানের দ্বারা। এই সংজ্ঞাটি উপযুক্ত তখনই যখন আমরা এমন সব লোকেদের সংস্পর্শে আসি যারা একদিকে পাথরের মতো কতিপয় জড়পদার্থকে আশ্চর্যজনক শক্তির অধিকারী বলে বিশ্বাস করে। এবং অন্যদিকে তারা মনে করে যে, সমুদয় মানবাতীত প্রেতাত্মারা মানুষের চেয়ে শ্রেয়। এটা সত্য যে পবিত্র পাথর এবং মানুষকে পরমায়ু দানকারী রসায়নগুলির ওপর আশ্চর্যজনক শক্তিগুলি আরোপিত হয়েছে। কিন্তু এগুলিকে প্রায় বিজ্ঞানসম্মত বলে শ্রেণিভুক্ত করা যেতে পারে। গবেষণার দ্বারা এগুলির প্রাপ্তি ঘটেছিল এবং তাদের প্রত্যাশিত গুণগুলি রেডিয়ামের মধ্যে প্রাপ্ত গুণগুলির চেয়েও দুর্লভ বিস্ময়কর বস্তু ছিল।

     

    আরও দেখুন
    পুস্তক
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বিজ্ঞানের
    গ্রন্থ
    বই
    বিজ্ঞান
    বুক শেল্ফ
    Book
    বৈজ্ঞানিক
    Science

     

    এ দুটোর কোনোটাই মধ্যযুগীয় খ্রিস্টান কিংবা মুসলমানদের সম্পর্কে সত্য নয়। এটা সত্য যে, পরশপাথরের উপর অদ্ভুত ক্ষমতা এবং জীবনের সঞ্জীবনী শক্তি আরোপিত হয়েছিল। কিন্তু এইগুলোকে বৈজ্ঞানিক বলেও শ্রেণিবদ্ধ করা যেত। এগুলো পরীক্ষণের মাধ্যমে খোঁজা হয়েছিল। এবং এদের বাঞ্ছিত উপাদানসমূহ রেডিয়ামে-দেখা অবস্থার চেয়ে বেশি বিস্ময়কর ছিল না। মধ্যযুগে অধিগত যাদুবিদ্যা প্রতিনিয়ত প্রেতাত্মা বিশেষ করে দুষ্টু প্রেতাত্মা আহ্বান করত। মেলানেশিয়ানদের মধ্যে ভালো এবং মন্দ আত্মার পার্থক্য বিদ্যমান ছিল না। কিন্তু খ্রিস্টীয় মতবাদে এই তফাৎ অপরিহার্য ছিল। শয়তান এবং দেবতা, উভয়েই অলৌকিকতা সম্পাদন করতে পারত। কিন্তু শয়তান দুষ্টু লোকদের সাহায্য করতে এই অলৌকিক কাজ করত। আর দেবতারা ভালো মানুষদের সাহায্য করতে এই অলৌকিক ক্ষমতা কাজে লাগাত। খ্রিস্টের সময়ে ইহুদিরা যিশুখ্রিস্ট প্রচারিত সুসমাচার থেকে এই পার্থক্যের বিষয়টা অবগত ছিল। কারণ ইহুদিরা বালজিবাবের সাহায্যে শয়তান বিতাড়ন করছেন বলে যিশুখ্রিস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। মধ্যযুগে যাদুবিদ্যা এবং ডাকিনীবিদ্যা বিশেষভাবে প্রাথমিকভাবে গির্জা- সংক্রান্ত অপরাধ বলে বিবেচিত হত। এসবের অদ্ভুত নিষ্পপতা এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে যে, এসবগুলো নরকের ক্ষমতার সঙ্গে সংযুক্ত। মজা হলো, শয়তানকে কখনও কখনও এমন কাজ করতে বলা হত যে কাজ অন্য কোনো মানুষ করলে সেটা পুণ্যের কাজ বলে বিবেচিত হত। সিলিতে এখনও আছে (কিংবা সাম্প্রতিক অতীতেও ছিল) এমন পুতুল খেলা যা মধ্যযুগ থেকে অবিঘ্নিত ঐতিহ্য হিসাবে চলে এসেছে। চার্লিম্যাগনে এবং মূরদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ নিয়ে এমন একটি পুতুল খেলা আমি প্যালারমোতে দেখেছিলাম ১৯০৮ সালে। এই পুতুল-নাটকে একটা বিরাট যুদ্ধের পূর্বে পোপ শয়তানের সাহায্য নিয়েছিলেন। এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শয়তানকে শূন্য থেকে খ্রিস্টানদের বিজয় প্রদান করতে দেখা গেল। এমন দারুণ ফলাফল সত্ত্বেও পোপের কাজটি ছিল মন্দ এবং চ্যারলিম্যাগনে এতে ব্যথিত হয়েছিলেন যদিও তিনি জয়ের সুযোগটা নিয়েছিলেন।

     

    আরও দেখুন
    বিজ্ঞান
    বুক শেল্ফ
    Science
    বৈজ্ঞানিক
    Book
    গ্রন্থ
    বিজ্ঞানের
    পুস্তক
    বই
    ভেষজ উদ্ভিদ

     

    বর্তমানে ডাকিনীবিদ্যার কতিপয় ঘনিষ্ঠ ছাত্র মনে করেন যে, এটা হলো খ্রিস্টীয় ইউরোপে পৌত্তলিক ধর্মবিশ্বাস এবং পৌত্তলিক দেবদেবীর পুজো, যে-সব দেবদেবী খ্রিস্টীয় ডাকিনীবিদ্যার প্রেতাত্মাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে, তেমনই একটা উদ্বর্তন। এমনতর অনেক সাক্ষ্য বর্তমান যে, পৌত্তলিকতার উপাদান যাদুবিদ্যার আচার-আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও ডাকিনীবিদ্যার উৎস হিসাবে এ-সত্যকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধাও রয়েছে। প্রাক্-খ্রিস্টীয় প্রাচীনতার যুগে জাদুবিদ্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। রোমে টএল টে-এর বিরুদ্ধে একটি আইনও ছিল। ১১০০ খিস্টপূর্বে তৃতীয় রামেসেসের কতিপয় অফিসার এবং তাঁর হারেমের কিছু মহিলা একটা মোমের মূর্তি তৈরি করে তার সামনে জাদুবিদ্যার মন্ত্র উচ্চারণ করে রামেসেসের মৃত্যুকে আহ্বান করার কারণে এদের বিচার হয়েছিল। জাদুবিদ্যা চর্চার জন্য লেখক অ্যাপুলিয়াসেরও বিচার হয়েছিল ১৫০ খ্রিস্টাব্দে। বিচারের অন্যতম কারণ অ্যাপুলিয়াস জাদু করে তাঁর পুত্রের বিরক্তি সত্ত্বেও জনৈক ধনী বিধবাকে বিবাহ করেছিলেন। যাই হোক, ওথেলোর মতো তিনিও আদালতকে এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, তিনি কেবল তার স্বাভাবিক আকর্ষণকে কাজে লাগিয়েছেন।

    শুরুতে যাদুবিদ্যাকে মহিলাসুলভ এক অদ্ভুত অপরাধ হিসাবে ধরা হত না। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে মহিলাদের ওপর এটা কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। এবং সেই থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত ডাইনি নির্যাতন বহুবিস্তৃত ও তীব্র হতে থাকে। ১৪৮৪ সালে অষ্টম ইননোসেন্ট ডাকিনীবিদ্যার বিরুদ্ধে পোপের মুদ্রাঙ্কিত এক অনুশাসন জারি করেন এবং এই কাজের শাস্তিবিধানে তদন্তকারী নিয়োগ করেন। এই সব ব্যক্তিরা ১৪৮৯ সালে Malleus Malefic arum নামে একটি পুস্তক প্রকাশ করেন, যাকে এক কথায় দুষ্কৃতিকারী মহিলাদের হাতুড়ি’ বলা হত। তারা এই মত পোষণ করতেন যে, ডাকিনিবিদ্যা পুরুষদের অপেক্ষা স্ত্রীলোকদের কাছে বেশি স্বাভাবিক কারণ তারা সহজাত দুষ্টু হৃদয়ের অধিকারী। ডাইনিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত অভিযোগ ছিল এটা যে, খারাপ আবহাওয়ার জন্য এরাই দায়ী। ডাকিনীবিদ্যার জন্য সন্দেহভাজন স্ত্রীলোকদের প্রশ্ন করার জন্য একটি প্রশ্নের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। আর শাস্তিপ্রদানের জন্য শরীরকে টানটান করে একটি যন্ত্রে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন চালান হত, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা কাঙ্ক্ষিত উত্তর দিত। ১৪৫০ থেকে ১৫৫০ সালের মধ্যে, হিসাব করে দেখা যায় যে, শুধু জার্মানিতেই কয়েক হাজার ডাইনিকে হত্যা করা হয়েছিল, বেশির ভাগকে মারা হয়েছিল পুড়িয়ে।

     

    আরও দেখুন
    ভেষজ
    বুক শেল্ফ
    বই
    বিজ্ঞানের
    পুস্তক
    Science
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বিজ্ঞান
    গ্রন্থ
    বৈজ্ঞানিক

     

    নির্যাতন চরমতম মাত্রায় পৌঁছানোর সময়ে কতিপয় সাহসী যুক্তিবাদী মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সন্দেহ পোষণ করেছিলেন এটা ভেবে যে, প্রচণ্ড ঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ এসবের কারণ সত্যিই কী স্ত্রীলোকদের ষড়যন্ত্রে। ওই ধরনের সন্দেহ-থাকা মানুষদের কোনো ক্ষমাপ্রদর্শন করা হয়নি। এইভাবে ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে ট্রিভস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর এবং নির্বাচনী বিচারালয়ের প্রধান বিচারপতি, অসংখ্য ডাইনিদের দণ্ডিত করে ভাবতে শুরু করলেন যে, সম্ভবত পীড়ন যন্ত্রে বদ্ধ হয়ে নির্যাতনকে এড়ানোর জন্যই তারা স্বীকারোক্তি দিয়ে থাকে। এর ফলস্বরূপ তিনি আর কাউকে দণ্ডিত করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযুক্ত হলেন যে, তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এবং যে-নির্যাতন তিনি অন্যের ওপর চালিয়েছিলেন সেই ধরনের নির্যাতন তাকে ভোগ করতে হয়েছিল। তাদেরই মতো তিনিও তার অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। ১৫৮৯ সালে প্রথমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে, পরে তাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।

    প্রোটেস্টান্টরা ক্যাথলিকদের মতোই ডাইনি নির্যাতনের ব্যাপারে সমান অনুরক্ত ছিলেন। এ-ব্যাপারে প্রথম জেমস্ অদ্ভুতভাবে উৎসাহী ছিলেন। তিনি পৈশাচিক বিদ্যার ওপর একটি বই লেখেন। ইংল্যান্ডে তার রাজত্বকালের প্রথম বছরে এটর্নি জেনারেল ছিলেন কোক আর বেকন ছিলেন হাউস অফ কমন্সের সদস্য। ১৭৩৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ-থাকা একটি বিধানকে তিনি আরও কঠোর আইনে পরিণত করেন। তখন অনেক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল যার একটির চিকিৎসক সাক্ষী ছিলেন স্যার টমাস ব্রাউনি। তিনি তাঁর Religio Medici গ্রন্থে ঘোষণা করেছিলেন যে, আমি চিরটাকাল ডাইনিদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে এসেছি, এখনও জানি যে, ডাইনি আছে। যারা ডাইনিদের অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করে তারা কেবল এদের অস্বীকারই করে না, তারা নৈতিক বিকৃতির শিকার। তারা শুধু অবিশ্বাসী নয়, নাস্তিকও। বস্তুত, লেকি যেমন উল্লেখ করেছেন যে, সপ্তদশ শতাব্দীতে ভূত আর ডাইনিতে অবিশ্বাস করা সংশয়বাদের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। এটা প্রথমে ঘোষিত মুক্তচিন্তকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থ
    বুক শেল্ফ
    ভেষজ উদ্ভিদ
    বই
    ভেষজ
    Book
    বিজ্ঞান
    বৈজ্ঞানিক
    বিজ্ঞানের
    পুস্তক

     

    স্কটল্যান্ডে যেখানে ডাইনি নির্যাতন ইংল্যান্ডের থেকেও কঠোর ছিল, সেখানে প্রথম জেমস্ বিরাট সাফল্যের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়ের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন যে ঝড়ে তিনি পড়েছিলেন ডেনমার্ক থেকে সমুদ্রযাত্রার সময়। জনৈক ড. ফিয়েন নির্যাতনের ফলে স্বীকার করেছিলেন যে, ঝড়গুলো শত শত ডাইনিদের দ্বারা উৎপন্ন হয়েছিল এবং এদের লেইথ থেকে একটা চালুনিতে করে সমুদ্রে সেটা রেখে দেওয়া হয়েছিল। বার্টন তাঁর Hitory of Scotland (Vol.II.p- 116) গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, একদল বিধিনিয়মের চূড়ান্ত গবেষণার ব্যাপারে এ-দুটি শক্তি জুগিয়েছিল। ড. ফিয়েন তৎক্ষণাৎ তাঁর ডাইনির সমন্বিত উদ্যোগে স্ক্যাডিডনেভিয়ার দিকে এই বিস্ময়কর ব্যাপারটির ক্ষমতাযোগ্যতা বেড়ে গিয়েছিল। ডাকিনীবিদ্যার বিধিনিয়মের চূড়ান্ত গবেষণার ব্যাপারে এ-দুটি শক্তি জুগিয়েছিল। ড. ফিয়েন তৎক্ষণাৎ তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এরপর তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও কঠোরভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তার পা দুটির হাড়গুলো বহুটুকরো করে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তাতেও তিনি দমেননি। তারপর প্রথম জেমস্ এই কার্যপদ্ধতি লক্ষ্য করে এক নতুন ধরনের নির্যাতনের পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন। নিপীড়নের শিকার ড. ফিয়েনের আঙুলের নখগুলো বলছে তার মাথায় অনেকগুলো সূচ বিঁধিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমসাময়িক বিবরণী বলছে তার হৃদয়ে শয়তান এত গভীরভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল যে, আগে যা কিছু তিনি শপথপূর্বক, স্বীকার করেছিলেন তার সবকিছুই তিনি পুরোদস্তুর অস্বীকার করলেন। ফলে তাঁকে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছিল।(৩)

    ১৭৩৬ সালে যে-অধিনিয়মের দ্বারা ইংল্যান্ডে ডাকিনীবিদ্যার বিরুদ্ধে বলবৎ আইন বাতিল করা হয়েছিল ঠিক সেই একই অধিনিয়মের দ্বারা স্কটল্যান্ডে বলবৎ আইনটি বাতিল করা হয়। কিন্তু স্কটল্যান্ডে তখনও ডাকিনীবিদ্যার ওপর বিশ্বাস ছিল বেশ জোরদার। ১৭৩০ সালে আইনের পেশাগত একটি পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছিল আমার কাছে কোনো কিছু এত পরিষ্কার বলে প্রতীয়মান হয় না যে, ডাইনিদের অস্তিত্ব থাকতে পারে বা ডাইনিদের অস্তিত্ব আছে এবং যেটা সম্ভবত সত্যসত্যই বিদ্যমান। ঈশ্বরের ইচ্ছায় যা আমার অভিপ্রায় তা হলো ফৌজদারি আইনের একখানা বৃহত্তর গ্রন্থে এই বিষয়টা আরও স্পষ্ট করে বলা। ১৭৩৬ সালে এসটাব্লিশড চার্চ অফ স্কটল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপসৃত দলের নেতারা যুগের বঞ্চনার ওপর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, শুধুমাত্র নাচ ও নাটকের দ্বারাই উৎসাহিত করা হয়নি বরং সম্প্রতি ডাইনিদের বিরুদ্ধে দণ্ডের যে-মর্যাদা তাকেও বাতিল করা হয়েছে। এটা ঈশ্বরের আইনের প্রতীকী বার্তা ‘তুমি নিজে বাঁচার জন্য ডাইনিকে কষ্ট দেবে না’(৪)-এর বিপরীত ধর্মী। যাই হোক, এ-ঘটনার পর থেকে স্কটল্যান্ডের শিক্ষিত লোকেদের মধ্যে ডাকিনীবিদ্যার ওপর বিশ্বাসে ভাটা পড়তে থাকে।

    পশ্চিমের দেশগুলিতে একই সঙ্গে ডাইনিবিদ্যার জন্য শাস্তির সমাপ্তির ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য সমকালীনতা। ইংল্যান্ডে অ্যাংলিকানদের থেকে পিউরিটানদের মধ্যেই এই বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে প্রথিত ছিল। সারা কমনওয়েলথে ডাইনিবিদ্যার জন্য যত প্রাণবধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক ইংল্যান্ডের টিউডর ও স্টুয়ার্টদের রাজত্বকালে ততগুলি প্রাণবধের ঘটনা ঘটে। রেসটোরেশনের সাথে সাথে এই বিয়য়ে সংশয়বাদ একটি চালু রেওয়াজে পরিণত হয়। এটা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, আইনবলে শেষ প্রাণবধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৬৮২ সালে। যদিও এটা বলা হয়ে থাকে যে, ১৭১২ সালের অনতিকাল পূর্ব-পর্যন্ত আরও প্রাণবধের ঘটনা ঘটেছিল। এই বছরে, হার্টফোর্ডশায়ারে এক পাদ্রির প্ররোচনায় একটি বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিচারক, অপরাধের সম্ভাব্যতাকে অস্বীকার করেছিলেন এবং জুরিদের তিনি ওই ভাবেই অনুধাবন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। জুরিরা তৎসত্ত্বেও অভিযুক্তকে দণ্ডিত করেন। কিন্তু ওই দণ্ড বাতিল হয়ে যায়। এটা পাদ্রীদের প্রবল প্রতিবাদ সংঘটিত করতে প্রণোদিত করে। স্কটল্যান্ডে, ডাইনিদের ওপর নির্যাতন এবং আইনবলে প্রাণবধ ইংল্যান্ডের তুলনায় অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল।

    সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে সেখানে এসব ঘটনা বিরল হয়ে ওঠে। ডাইনি পুড়িয়ে মারার শেষ ঘটনা ঘটে ১৭২২ অথবা ১৭৩০ সালে। ফ্রান্সে পুড়িয়ে হত্যা করার শেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৭১৮ সালে। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে নিউ ইংল্যান্ডে ডাইনি শিকারের এক প্রচণ্ড প্রাদুর্ভার দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তার পুনরাবৃত্তি আর ঘটেনি। সর্বত্রই লোকায়ত বিশ্বাস স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। সুদূর গ্রামাঞ্চলের কতিপয় জায়গায় তখনও পুরানো বিশ্বাস টিকে ছিল। ১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডের এসেক্সে শেষ এই ধরনের ঘটনা ঘটে যেখানে একজন বৃদ্ধলোককে মায়াবী জাদুকর বলে প্রতিবেশীরা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। স্পেনে এবং আয়ারল্যান্ডে বহুকাল ধরে ডাকিনীবিদ্যাকে সম্ভাব্য অপরাধ বলে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া ছিল। ১৮২১ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে ডাকিনীবিদ্যার বিরুদ্ধে বলবৎ আইন বাতিল হয়নি। ১৭৮০ সালে স্পেনে একজন জাদুকরকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।

    লেকি তাঁর Histry of Rationdlism গ্রন্থে ডাকিনীবিদ্যার বিষয়ের ওপর বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি সূত্রানুসন্ধান করে এক কৌতূহলদ্দীপক বাস্তব ঘটনা উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তিতর্কের দ্বারা যাদুটোনাতে মানুষের বিশ্বাসকে পরাজিত করা যায়নি। কিন্তু আইনের শাসনে সর্বজনীন বিশ্বাসের দ্বারা তা সম্ভব হয়েছে। তিনি এতদূর পর্যন্ত বলেছেন যে, ডাকিনীবিদ্যার ওপর নির্দিষ্ট আলোচনায় যুক্তির ভার সমর্থনকারীদের দিকেই ছিল। এটা সম্ভবত আশ্চর্যের বিষয় নয়, যখন আমরা মনে করি যে, সমর্থনকারীরাই বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারবেন আর অন্যদিকে খুব কম মানুষই ঝুঁকি নিয়ে বলতে পারবেন যে, বাইবেলকে সবসময় বিশ্বাস করা চলে না। তার ওপর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানমনস্করা প্রচলিত কুসংস্কারের দ্বারা নিজেদের আবদ্ধ রাখেন না। তার অন্য আংশিক কারণ তাদের অনেক পার্থিব ব্যাপার নিয়ে কাজ করতে হয়, এবং আংশিক কারণ হল তারা বিরোধিতাকে উসকে দিতে ভয় পান। ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা সঠিকই ছিলেন। নিউটনকৃত কাজ মানুষকে এই বিশ্বাসে প্রাণিত করেছিল যে, ঈশ্বরই প্রকৃতিকে সৃজন করেছিলেন এবং প্রকৃতির নিয়মের অনুশাসন জারি করেছিলেন, যাতে যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন তেমনি ফললাভ হয় এবং সেটা নতুন কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র খ্রিস্টান ধর্মের উদ্ঘাটনের মতো বৃহৎ। কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রোটেস্টান্টরা মনে করতেন খ্রিস্টীয় যুগের প্রথম অথবা দ্বিতীয় শতাব্দীতে অলৌকিক ব্যাপারগুলো সংঘটিত হয়েছে এবং তারপর তা সমাপ্ত হয়ে গেছে। যদি ঈশ্বর কখনই অলৌকিকভাবে হস্তক্ষেপ না করতেন, তাহলে এটা প্রায় সম্ভব ছিল না যে তিনি শয়তানকে এই রকম কাজ করতে অনুমতি দিতেন। বিজ্ঞানভিত্তিক আবহাওয়াতত্ত্বের ওপর ছিল অনেক প্রত্যাশা যা কোনমতেই কোনো বৃদ্ধাকে ঝাঁটা হাতে ঝড়ের কারণ হতে সুযোগ দিত না। কিছু দিনের জন্য বিদ্যুৎ ও বজ্রপাতের ব্যাপারে প্রাকৃতিক নিয়ম প্রয়োগ করাকে অধার্মিকতা বলে মনে করা হত, যেহেতু এগুলি ঈশ্বরের বিশেষ ক্রিয়াকাণ্ড ছিল। এই মনোভাব বিদ্যুৎ সঞ্চারকের বিরুদ্ধতা করার জন্য বিদ্যমান ছিল। এইভাবে যখন ১৭৫৫ সালে ভূমিকম্পে ম্যাসাচুসেটস্ কেঁপে উঠেছিল তখন রেভারেন্ড ড. প্রাইস তার প্রকাশিত ধর্মোপদেশে এর কারণ হিসাবে জ্ঞানী মি. ফ্রাঙ্কলিনের দ্বারা আবিষ্কৃত ‘সূচিমুখ লৌহ’কে দায়ী করে বলেছিলেন যে নিউ ইংল্যান্ডের যে-স্থান থেকে বোস্টন বেশি মাত্রায় সুনির্মিত হওয়া সত্ত্বেও বোস্টনই কেন ভয়ঙ্কর ভাবে কেঁপে উঠেছিল। শক্তিমান ঈশ্বরের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই সতর্কবাণী সত্ত্বেও বোস্টোনিয়ানরা লৌহ স্থাপনের কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। ফলে ভূকম্পনের পুনরাবৃত্তির হার বাড়েনি। নিউটনের সময়ে এবং পরবর্তীকালে ড. প্রাইসের মতো দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা কুসংস্কার রক্ষকদের কাছে বেশি প্রয়োজনীয় বলে অনুভূত হয়েছিল। এবং প্রাকৃতিক নিয়মে যখন অলৌকিক হস্তক্ষেপের ওপর বিশ্বাস লুপ্ত হতে লাগল তখন ডাকিনীবিদ্যার সম্ভাব্যতাও আবশ্যিকভাবেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। ডাকিনীবিদ্যার নজিরকে কখনই খণ্ডন করা হয়নি, শুধুমাত্র এই ব্যাপারটার পরীক্ষাজাত উপযোগিতা বোঝার ব্যাপারটা বন্ধ হয়েছিল।

    সারা মধ্যযুগ ধরে, যে-রকম আমরা দেখলাম, রোগের প্রতিরোধ এবং রোগমুক্তির জন্য যে-সব পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছিল সেসব হয় কুসংস্কারমূলক অথবা পুরোপুরি খামখেয়ালিপূর্ণ ছিল। শারীরসংস্থানবিদ্যা এবং শারীরক্রিয়াবিদ্যা থেকে কোনকিছুই বেশি বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়া সম্ভব ছিল না। এবং এসবই শবব্যবচ্ছেদ ছাড়া সম্ভব ছিল না। আর এসব ব্যাপারেই বিরোধিতা করেছিল গির্জা। ভেসেলিয়াস, যিনি সর্বপ্রথম শারীর সংস্থানবিদ্যাকে বিজ্ঞানভিত্তিক করেছিলেন, তিনি কিছুদিনের জন্য সরকারি ভৎর্সনা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন সম্রাট পঞ্চম চার্লসের চিকিৎসক। যিনি তাঁর শারীরিক দুর্ভোগের ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিলেন পাছে তাঁর প্রিয় চিকিৎসকের চিকিৎসা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। পঞ্চম চার্লসের রাজত্বকালে ধর্মতাত্ত্বিকদের একটা সম্মেলন হয়েছিল। তারা ভেসেলিয়াসের সম্বন্ধে আলোচনা করে এই মতপ্রকাশ করেছিলেন যে, শবব্যবচ্ছেদ কোনো অপবিত্র কাজ নয়। কিন্তু দ্বিতীয় ফিলিপস, যিনি সবসময় নিজের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন ছিলেন ও ব্যধিগ্রস্ত হবার অলীক ধারণা পোষণ করতেন, তিনি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে রক্ষা করার কোনো কারণ দেখতে পেতেন না। এর ফলে ভেসেলিয়াস শবব্যাবচ্ছেদের জন্য আর শবদেহ যোগাড় করতে পারেননি। খ্রিস্টীয় যাজকেরা বিশ্বাস করতেন যে, মানুষের শরীরে এমন একটি অবিনশ্বর হাড় আছে, যা ধ্বংস করা যায় না। এই হাড়টি মানুষের পুনরুত্থানযোগ্য দেহের একটি নিউক্লিয়াস। প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে ভেসেলিয়াস স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন যে, তিনি ওই ধরনের হাড় কখনই দেখেননি। এটা খারাপ ব্যাপার হলেও খুব খারাপ ছিল না। অ্যারিস্টটল যেমন পদার্থবিদ্যার উন্নতির বিরোধী ছিলেন তেমনি গ্যালেনের চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্ররাও ওষুধের উন্নতিবিধান প্রচেষ্টার বিরোধী ছিলেন। এরা ভেসেলিয়াসকে নিরন্তর আক্রমণের দ্বারা তার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করেছিল এবং একটা সময়ে তাকে ধ্বংস করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। যখন তিনি আত্মীয়দের অনুমতিক্রমে স্পেনদেশীয় একজন অমাত্যের মৃতদেহ পরীক্ষা করছিলেন তখন ওই অমাত্যের হৃৎপিণ্ডে, যে-রকম তার শক্ররা বলে থাকে, তার ছুরির তলায় প্রাণের স্পন্দনের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। ভেসেলিয়াসকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং যাজকদের বিচারসভায় তাকে নিন্দিত করা হয়। রাজার প্রভাবের ফলে তাঁকে কৃতপাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছিল যিশুর পুণ্য জম্মভূমি প্যালেস্টাইনে তীর্থযাত্রা করে। কিন্তু স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পথে তাঁর জাহাজ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও তিনি তীরে পৌঁছতে পেরেছিলেন কিন্তু নিদারুণ ক্লান্তিতে তিনি মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানগত তাঁর প্রভাব স্থায়ী হয়েছিল। তার একজন ছাত্র ফ্যালোপিয়াস অসাধারণ কাজ করেছিলেন। এবং চিকিৎসাবৃত্তিতে ধীরে ধীরে এই প্রত্যয় উৎপন্ন হয়েছিল যে, মানবশরীরের অভ্যন্তরে কী আছে তা জানা একমাত্র চোখ দিয়ে দেখা ও তাকানোর দ্বারাই সম্ভব।

    শারীরক্রিয়াবিদ্যা শারীরসংস্থানবিদ্যার পরে উন্নত হয়। এবং এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে যে হার্ভের (১৫৭৮-১৬৫৭) দ্বারাই চিকিৎসাবিদ্যা বৈজ্ঞানিক হয়ে ওঠে। এই হার্ভে ছিলেন রক্তসঞ্চালনের আবিষ্কর্তা। ভেসেলিয়াসের মতোই তিনি ছিলেন রাজদবারের চিকিৎসক প্রথমে তিনি প্রথম জেমসের এবং পরে প্রথম চার্লসের রাজদরবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিন্তু তিনি ভেসেলিয়াসের মতো ধর্মগত কারণে নির্যাতন ভোগ করেননি। এমনকি প্রথম চার্লসের পতনের পরেও মধ্যবর্তী শতাব্দীটা চিকিৎসাবিদ্যার বিষয়গুলোকে অনেক বেশি উদার করতে পেরেছিল, বিশেষত প্রোটেস্টান্ট দেশগুলোতে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকেও স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শরীরের রক্তসঞ্চালন ব্যাপারটিকে অস্বীকার করা হত এবং তখনও শবব্যবচ্ছেদ চিকিৎসাবিদ্যার কোনো অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হত না।

    ধর্মতত্ত্বের পুরানো গোঁড়ামিগুলো, যদিও বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তবুও তার পুনরাবির্ভাব হত কোনো চমকপ্রদ অভিনব ঘটনার দ্বারা চালিত হয়ে। বিসূচিৎকার টিকাদানের বিরুদ্ধে ধর্মবাদীরা প্রবল প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। সোরবোন ধর্মীয় যুক্তির অবতারণা করে টিকাদানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। জনৈক অ্যাংলিকান গির্জার যাজক একটি উপদেশাবলী প্রকাশনা করেছিলেন। এবং তাতে তিনি বলেছিলেন যে, শয়তানের দ্বারা টিকা দেওয়ার ফলে Jobs Boil দেখা দেবার ব্যাপারটা নিঃসন্দেহ। বহু স্কটিশ মন্ত্রীরা যুক্তভাবে লিখিত ঘোষণায় বলেছিলেন যে, এটি একটি দৈববিচারকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা। যাই হোক, বিসূচিকর প্রকোপে মৃত্যুহারের হ্রাসপ্রাপ্তি এতটাই উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছিল যে, ধর্মীয় সন্ত্রাস রোগীতিকে ছাপিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিল। অধিকন্তু, ১৭৬৮ সালে সম্রাজ্ঞী ক্যাথেরিন এবং তাঁর পুত্র টিকাগ্রহণ করেছিলেন। যদিও সম্ভবত নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কোনো অনুকরণীয় ঘটনা ছিল না, তবুও তাকে পার্থিব বিচক্ষণতার পথপ্রদর্শক বলে ধরা হত।

    এ-ব্যাপারে বিতর্কটি লোপ পেতে শুরু করেছিল যখন টিকার আবিষ্কারের বিষয়টি পুনরারম্ভ হলো। পাদ্রিরা এবং চিকিৎসাবিদরা টিকাকরণ প্রচেষ্টাকে বিবেচনা করতেন স্বর্গকে অস্বীকার করার আহ্বান, এমনকি ঈশ্বরের ইচ্ছার অস্বীকৃতি বলে। কেব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উপদেশাবলী প্রচার করা হয়েছিল। ১৮৮৫ সালের শেষাশেষি যখন মন্ট্রিলে বিসূচিৎকার ভয়ঙ্কর প্রাদুর্ভাব হয়েছিল তখন জনসাধারণের মধ্যে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ভুক্তরা পাদ্রিদের সহায়তায় টিকাদানকে প্রতিহত করেছিল। একজন যাজক বলেছিলেন, যদি আমরা বিসূচিকা রোগের দ্বারা আক্রান্ত হই তাহলে তার কারণ হিসাবে বুঝতে হবে গত শীতে আমাদের যে-মেলা হয়েছিল আর মাংসের ভোজ হয়েছিল, তাতে ঈশ্বর অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ওবলেট ফাদারেরা যাদের গির্জা রোগাক্রান্ত জেলার ঠিক মধ্যভাগে অবস্থিত ছিল, তাঁরা টিকাদানের নিন্দা করেছিলেন। ধর্মবিশ্বাসীদের বিবিধ ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডের প্রতি নির্ভর করতে প্রণোদিত করা হয়েছিল। যাজকতন্ত্রের অনুমতিক্রমে এক বিরাট শোভাযাত্রা সংগঠিত করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল কুমারী মেররী প্রতি আবেদন জানিয়ে এবং সতর্কতার সঙ্গে জপমালার ব্যবস্থা বিশেষভাবে হয়েছিল নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।(৫)

    ধর্মতাত্ত্বিক হস্তক্ষেপের অপর একটি সুযোগ ঘটেছিল যখন মানুষের শারীরিক ক্লেশ দূরীকরণের জন্য অনুভূতিনাশক ওষুধের আবিষ্কার হয়েছিল। ১৮৪৭ সালে সিম্পসন শিশু জন্মানোর সময় অনুভূতিনাশক ওষুধগুলি ব্যবহারের সুপারিশ করেছিলেন। এবং তৎক্ষণাৎ পাদ্রিরা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বর ইভকে বলেছিলেন, কষ্টের মধ্য দিয়েই তুমি শিশুদের জন্ম দেবে’ (Genesis iii, 16)। কি করে সে কষ্ট অনুভব করবে যদি সে ক্লোরোফর্মের প্রভাবাধীনে থাকে? সিম্পস সফলতার সঙ্গে এটা প্রমাণ করেছিলেন যে, অনুভূতিনাশক পুরুষমানুষের ওপর ব্যবহারে কোনো ক্ষতি নেই, কারণ ঈশ্বর যখন আদমের পাঁজরের হাড় নিষ্কাশন করেছিলেন তখন আদমকে তিনি গভীর ঘুমের মধ্যে রেখেছিলেন। কিন্তু পুরুষ পাদ্রীরা শিশু জন্মানোর যে-কোনো অবস্থাতে নারীদের শারীরিক ক্লেশের ব্যাপারটা নিরসনে সম্মত ছিলেন না। এটা লক্ষণীয় বিষয় যে, জাপানে যেখানে জেনেসিসের কর্তৃত্বের মান্যতা ছিল না, সেখানেও নারীদের সম্বন্ধে মনে করা হতো। যে তারা সন্তান প্রসবকালীন যন্ত্রণার কৃত্রিমভাবে উপশম না ঘটিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করবে। এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনটা আটকানো অসম্ভব যে, অনেক মানুষের কাছে। নারীদের কষ্ট থেকে উপভোগের কিছু আছে। অতএব, কোনো ধর্মীয় অথবা নৈতিক বিধানের প্রতি নিবিষ্ট থেকে নারীরা নারীরা নীরবে কষ্ট ভোগ করাকে কর্তব্য বলে মনে করত। অথচ এসব সত্ত্বেও কষ্টকে পরিহার না করার কোনো বৈধ কারণ ছিল না। ধর্মতত্ত্ব যে-ক্ষতিটা করেছিল সেটা শুধু নিষ্ঠুরতার প্রেরণা সৃষ্টির জন্য নয়। পক্ষান্তরে তাকে মহিমান্বিত নৈতিকতা বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করার অনুমোদন প্রদান এবং আপাতদৃষ্টিতে এই প্রথার একটা পবিত্ররূপ প্রদান করা হয়েছিল। এসব অধিকতর ও বর্বর যুগ থেকে প্রাপ্ত।

    .

    চিকিৎসা সম্বন্ধীয় প্রশ্নগুলিতে ধর্মতত্ত্বের হস্তক্ষেপ এখনও শেষ হয়নি। যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণের উপর মতামতের বিষয়গুলি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাতের আইনি অনুমোদন এখনও বাইবেলের উদ্ধৃতি ও যাজকশ্রেণীর অনুশাসনের দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কয়েক বছর আগে একাদশ পোপ পায়াস বিবাহের ব্যাপারে Encyclical আদেশ জারি করেন। যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ অভ্যাস করেন, তাঁদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধতা করা পাপ এবং এই দুষ্কর্ম সম্পাদন লজ্জাজনক এবং পুরোপুরি অধার্মিকতাপূর্ণ।’ এ-কারণে এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যদি পবিত্র বাইবেল প্রত্যক্ষ করে যে, গর্ভপাতকে মহিমান্বিত ঈশ্বর অতিশয় ঘৃণার ও ভয়ঙ্কর পাপের ব্যাপার বলে গণ্য করেন এবং কখনও কখনও মৃত্যুর দ্বারাই শাস্তিবিধান করেন। তিনি (Geneis xxxviii, 8-10) থেকে সেন্ট অগাস্টিনের বক্তব্য উল্লেখ করেন। জন্মনিয়ন্ত্রণকে নিন্দিত করার জন্য এর বেশি কিছু যুক্তির বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন নেই। অর্থনৈতিক যুক্তি আমরা গভীরভাবে বিচলিত হই সেইসব পিতা-মাতার কষ্ট দেখে যারা চরমতম অভাবে সন্তানসন্ততি পালন করতে ভীষণ অসুবিধা ভোগ করেন কিন্তু অধার্মিক সমস্ত কাজকে নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত ঈশ্বরের বিধানকে পাশে সরিয়ে রাখার ন্যায্যতা প্রতিপাদনে কোনো অসুবিধাই আসতে পারে না। চিকিৎসা ও রোগনিরাময়ের কারণে গর্ভধারণে বাধাদান যখন নারীর প্রাণ বাঁচাতে জরুরি মনে করা হয়, তখন তাঁর বিচারে, একে সমর্থন করা যায় না। একজন নিরীহকে সরাসরি হত্যার ঘটনাকে ক্ষমা করার পর্যাপ্ত কারণ আর কিই-বা হতে পারে? মায়ের অথবা সন্তানের যার ওপরই আঘাত প্রদান করা হোক না কেন সেটা ঈশ্বরের অজ্ঞতার এবং প্রাকৃতিক বিধানেরও বিরোধী। তুমি হত্যা করবে না।তৎক্ষণাৎ তিনি ব্যাখ্যা করতে উদ্যত হন যে, বাইবেলের উদ্ধৃত অংশ যুদ্ধকে অথবা চরম দণ্ডকে নিন্দা করে না এবং উপসংহারে বলেন যে, ন্যায়পরায়ণ ও কুশলী চিকিৎসকরা প্রশংসনীয়ভাবে আপ্রাণ চেষ্টা করেন যাতে মায়ের ও সন্তানের দুজনেরই প্রাণকে রক্ষা করা যায় এবং নিরাপদে রাখা যায়। বিপরীতে, যারা তাদের নিজেদের চিকিৎসকের মতো মহান পেশার পক্ষে অযোগ্য রূপে প্রমাণ করে, তারা চিকিৎসকের ভান করে অথবা বিপথে চালিত সমবেদনার মনোভাব নিয়ে একজন বা অন্যজনের মৃত্যু ডেকে আনে। এইভাবে ক্যাথলিক যাজকদের মতবাদ শুধুমাত্র বাইবেলের অংশবিশেষ আহরণ করেই নয়, পক্ষান্তরে তা মানব জ্বণের বেড়ে ওঠার প্রাথমিক অবস্থায় প্রয়োগযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এবং উল্লিখিত পরের মতটি সুস্পষ্টভাবে এই বিশ্বাস থেকে আহরিত হয়েছিল যে, ভ্রণ থেকে প্রাপ্ত বস্তুকে ধর্মতত্ত্বে ‘আত্মা’ বলা হয়। এই সিদ্ধান্তগুলি এমন সব হেতুবাক্য থেকে নেওয়া হয়েছে যা ঠিকও হতে পারে, ভুলও হতে পারে। কিন্তু এর যে কোনোটির ক্ষেত্রে কোন যুক্তিই বিজ্ঞান মেনে নিতে পারে না। মায়ের মৃত্যু যা চিকিৎসক আগে থেকেই বুঝে থাকেন আর পোপ যেটা নিয়ে আলোচনা করছেন, সেটা হত্যা নয়, কারণ চিকিৎসক কখনই নিশ্চিত হতে পারেন না যে এটাই ঘটবে; কোনো অলৌকিকত্বের দ্বারা তিনি হয়তো বেঁচেও যেতে পারেন।

    কিন্তু যদিও, যে-রকমটা আমরা এইমাত্র দেখেছি, ধর্মতত্ত্ব ভেষজের ব্যাপারে এখনও হস্তক্ষেপ করে চলেছে যেখানে নৈতিক বিষয়গুলি বিশেষভাবে জড়িত। তবুও ভেষজের ব্যাপারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্রের লড়াইয়ে বিজ্ঞান জয়ী হয়েছে। এখনও কেউই এটা নিয়ে ভাবে না যে, স্বাস্থ্যবিধান ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দ্বারা প্লেগ ও ব্যাপক মহামারীকে এড়ানো একটি অধর্মীয় ব্যাপার। যদিও কিছু কিছু লোক এখন মনে করে যে, রোগ-ব্যাধি ঈশ্বর প্রেরিত, তবুও তারা এ নিয়ে তর্ক করে না যে, রোগের প্রকোপ এড়ানোর চেষ্টাটা অধর্মীয়। স্বাস্থ্যের উন্নতি ও দীর্ঘ আয়ুলাভ আমাদের যুগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য। এমনকি যদি মানুষের সুখের জন্য বিজ্ঞান বেশি কিছু নাও করে থাকে, তবুও এ কাজটার জন্যই বিজ্ঞানের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। যে-সব মানুষ ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাসের উপযোগিতায় বিশ্বাসী, তারা মানবজাতিকে প্রদান করেছে এমন কোনো তুলনামূলক সুবিধার কথা বলতে অসুবিধায় পড়বে।

    ———

    ১. এ বিষয়টা White-এর Warfare of Science with Thelogy গ্রন্থে প্রশংসনীয়ভাবে উল্লেখিত হয়েছে। এই গ্রন্থের নিকট আমি ঋণী।

    ২. যদি না ডাকিনীবিদ্যার বিরুদ্ধে চালিত এই মতটা, যখন এটা ক্ষয়িষ্ণুতার পথে, আমরা বিশ্বাস করি যে, এক্সডাসে অনুদিত ‘ডাইনি’ শব্দটির আসল মানে কয়েদী’। এবং এনডোরের ডাইনিকে ভুল বলে প্রমাণ করে না।

    ৩. History of Rationalism in Europe. প্রখম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৪ দেখুন।

    ৪. বার্টনের History of Rationalism in Europe, ৮ম খণ্ড পৃষ্ঠা ৪১০।

    ৫. White, তদেব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০।

    ৬. ধর্মতাত্ত্বিকদের দ্বারা এটা আগে বিশ্বাস করা হত যে, একটা আত্মা পুরুষ জ্বণ চল্লিশতম দিনে এবং নারী ভ্রণ আশিতম দিনে এটা পেয়ে থাকে। এখন এটাই সর্বোত্তম মত যে, উভয় লিঙ্গই ‘আত্মা লাভ করে চল্লিশতম দিনে। Needham-এর History of Embryology, পৃষ্ঠা ৫৮ দ্রষ্টব্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদর্শনের সমস্যাবলি – বার্ট্রান্ড রাসেল
    Next Article কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিসত্তা – বার্ট্রান্ড রাসেল

    Related Articles

    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কেন আমি ধর্মবিশ্বাসী নই – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    সুখের সন্ধানে – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    অপেক্ষবাদের অ, আ, ক, খ – বারট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিসত্তা – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    দর্শনের সমস্যাবলি – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    মানুষের কি কোনো ভবিষ্যত আছে? – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }