Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প400 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. শিবুর মায়ের কথাই থাকিল

    শিবুর মায়ের কথাই থাকিল।

    সাত-আনির বাঁড়ুজ্জে বাবুদের কাছারি-ঘর একদিনের জন্য উন্মুক্ত হইয়া আবার বন্ধ হইয়া গেল। বিষয়-সম্পত্তি বন্দোবস্ত যেমন ছিল, তেমনই রহিল। পরদিন প্রাতঃকালেই শিবুর মা নায়েবকে ডাকিয়া বলিলেন, দেখুন, খরচপত্রের টিপ যেমন ঠাকুরঝি আর আমি সই করছিলাম, তেমনই হবে। শিবু সই করবে না।

    রাখাল সিং শুধু বিস্মিত হইলেন না, একটু বিরক্তও হইলেন; তিনি দীর্ঘকাল ধরিয়া ঐকান্তিক কামনায় চাহিয়া আসিতেছেন একটি মনিব—যে মনিব নারী নয়, সবল দুঃসাহসী উদার, যে মনিবের চারিপাশে ঐশ্বর্যের আড়ম্বর থাকিবে, অথচ সে অমিতব্যয়ী হইবে না; লোকে যাহাকে ভয় করিবে, অথচ দুর্নাম থাকিবে না। এই কিশোের ছেলেটিকে লইয়া তেমনই একটি মনিব গড়িয়া তুলিবার আকাঙ্ক্ষা তিনি এই দীর্ঘকাল ধরিয়া পোষণ করিয়া আসিতেছেন। তিনি হইবেন তাহার মন্ত্রী, উপদেষ্টা, অপরিজ্ঞাত পরিচালক। শৈলজা-ঠাকুরানীর এই বন্দোবস্তে তাহার মনে আকাঙ্ক্ষা পরিপূরণের সম্ভাবনায় তাহার উৎসাহ এবং আনন্দের আর পরিসীমা ছিল না। তাই শিবুর মায়ের এই বিপরীত আদেশে তিনি বিরক্ত না হইয়া পারিলেন না, এবং সে বিরক্তি তাহার দ্রুকুটি-ভঙ্গিমায় আত্মপ্রকাশ করিল। ভ্রূ কুঞ্চিত করিয়া সিংহ প্রশ্ন করিয়া বসিলেন, কেন? কাল বাবু কাছারিতে বসলেন, প্রজারা সব জেনে গেল, তাদের জমিদার নিজে কাজকর্মের ভার নিলেন–

    বাধা দিয়া মা বলিলেন, শিবুর এখনও কাজকর্মের ভার নেবার বয়স হয় নি সিংমশায়, তার পড়াশুনার সবই বাকি। এই তো, পরীক্ষার খবর বেরুলেই তাকে বাইরে পড়তে যেতে হবে।

    রাখাল সিং একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, বাবুকে কি আরও পড়াবেন নাকি?

    হাসিয়া মা বলিলেন, পড়বে না? না পড়লে মানুষ হবে কী করে সিংমশায়? শিবুকে আমি এম. এ. পর্যন্ত পড়াব। মূৰ্খ জমিদারের ছেলে তাকে যেন কেউ না বলে।

    অন্তরের বিরক্তি আর গোপন করিতে না পারিয়া রাখাল সিং বলিয়া ফেলিলেন, তা হলে বিষয়-সম্পত্তি রক্ষা করা দায় হয়ে উঠবে মা।

    কেন?

    যে রকম দিনকাল পড়েছে, তাতে শক্ত মালিক না হলে বিষয়-সম্পত্তি কারও থাকবে না মা।

    মা হাসিয়া বলিলেন, আমরা স্ত্রীলোক বলে আপনি ভয় করছেন?

    মাথা চুলকাইয়া নায়েব বলিলেন, তা একটু করছি বৈকি মা।

    পিসিমা একমনে রামায়ণের একটি পৃষ্ঠাই এতক্ষণ ধরিয়া পড়িতেছিলেন, তিনি আর বোধহয় থাকিতে পারিলেন না। বইখানা বন্ধ করিয়া উঠিয়া বলিলেন, তুমি বুঝতে পারছ না বউ, সিংমশায় ভাল কথাই বলছেন। এই বিষয়-সম্পত্তি, বাড়ির মান-সম্ভ্ৰম, কীর্তি-বৃত্তি-এ বজায় রাখা কি স্ত্রীলোকের কাজ, না চাকর-বাকরের কাজ?

    দৃঢ় অথচ মিষ্ট কণ্ঠে শিবুর মা বলিলেন, সব বজায় থাকবে ঠাকুরঝি।

    বিস্মিত হইয়া ভাতৃজায়ার মুখের দিকে চাহিয়া শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, তুমি রাখতে পারবে? তোমার সাহস হচ্ছে?

    অবিচল কণ্ঠে মা বলিলেন, পারব, সে সাহস আমার আছে।

    মুহূর্তে শৈলজা-ঠাকুরানীর একটা অদ্ভুত রূপান্তর ঘটিয়া গেল, আক্রোশভরা স্থিরদৃষ্টিতে ভাতৃজায়ার মুখের দিকে চাহিয়া তিনি বলিলেন, তা হলে এতদিন আমি তোমার হাত থেকে সব কেড়ে নিয়ে রেখেছিলাম বল।

    শিবুর মা বলিলেন নায়েবকে, আমরা স্ত্রীলোক বলে আপনাকে ভয় করে কাজ করতে হবে না। ঠাকুরঝি রয়েছেন, আমি রয়েছি, সব দায়িত্ব আমাদের। যান, কাজকর্ম দেখুন গিয়ে এখন।

    ক্ষুদ্র ঘটনাটির এমন একটি তিক্ত পরিণতির সম্ভাবনায় রাখাল সিং অস্বস্তি এবং শঙ্কা বোধ করিতেছিলেন, তিনি অনুমতি পাইবামাত্র যেন স্থানত্যাগ করিয়া পলাইয়া বাঁচিলেন।

    শৈলজা-ঠাকুরানী এবার কঠোরতর স্বরে প্রশ্ন করিলেন, কথার আমার জবাব দাও বউ।

    শিবুর মা বলিলেন, দোব। সিংমশায় নায়েব হলেও তাঁর সামনে জবাব কি আমি দিতে পারি ভাই? সম্পত্তি তোমার বাপের, শিবু তোমার বাপের বংশধর, অধিকার তোমার যে আমার চেয়ে অনেক বেশি। তুমি কেড়ে কেন রাখবে ভাই, তোমার ভার তুমিই নিয়েছিলে, এখন যদি তুমি ভয় কর, আমি তোমার পেছন থেকে তোমায় সাহায্য করব, এই কথাই বলছি।

    ভ্ৰাতৃজায়ার মুখের দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়া থাকিয়া শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, মিষ্টি কথাটা তুমি বেশ শিখেছিলে বউ। যাক, এখন আমার উত্তর শোন, এককালে সম্পত্তি আমার বাপের ছিল, কিন্তু আজ সে সম্পত্তি তোমার ছেলের। তোমার ছেলে বলেই তো আজ আমার কথার ওপর তুমি কথা চালালে!

    আমি তো অন্যায় কথা কিছু বলি নি ঠাকুরঝি! আমি বলছি, শিবুর লেখাপড়া শেখা দরকার। সে দশের কাছে মান্যগণ্য হোক, বিদ্বান হোক–সেটা কি তুমি চাও না?

    আমি কী চাই, না চাই, সে জেনে তো কোনো লাভ নেই ভাই। আমি তো তোমাদের একটা পোয্য ছাড়া আর কিছু নই।–কথাটা বলিতে বলিতেই শৈলজা-ঠাকুরানী স্থানত্যাগ করিয়া চলিয়া গেলেন। এই অভিমান তাঁহার অমোঘ অস্ত্র। তাঁহার এই সর্বহারা জীবনে একটি সম্পদ অটুট অক্ষয় ছিল, তাঁহার অভিমান কোনোদিন অবহেলিত হয় নাই। তাহার বাপ ভাই এককালে সহস্ৰ ক্ষতি বরণ করিয়া তাঁহার অভিমান রক্ষা করিয়া আসিয়াছেন। তাঁহাদের অবর্তমানে শিবুর মা তাঁহার সকল অধিকার শৈলজা-ঠাকুরানীর চরণে বিসর্জন দিয়াও সে অভিমান বজায় রাখিয়া আসিতেছেন। কিন্তু আজ সন্তানের ভবিষ্যৎ লইয়া মতদ্বৈধের মধ্যে আপনার অধিকার কোনোমতেই বিসর্জন দিতে পারিলেন না। শৈলজা-ঠাকুরানী চলিয়া গেলেন, তিনিও অবিচলিত চিত্তে ভঁড়ার ঘরে প্রবেশ করিয়া আপন কার্যে মনোনিবেশ করিলেন।

    মামী! পাচিকা রতন একটা বাটি হাতে ঘরে ঢুকিয়া ডাকিল, মামী।

    কে, রতন? কী চাই, তেল?

    আর একটু পেলে ভাল হয়; না হলেও ক্ষতি নেই। একটা কথা বলছিলাম।

    কী, বল।

    ধীরে-সুস্থে মানিয়ে ওর মত করালেই পারতে। রাগ-রোষ করবে।

    কেন রতন, আমি কি শিবুর মা নই?

    রতন অপ্রস্তুত হইয়া গেল; শুধু অপ্রস্তুতই নয়, বিস্মিতও হইল। একটু পরে ঈষৎ হাসিয়া বলিল, মামীরও তা হলে রাগ হয়।

    শিবুর মা কোনো উত্তর না দিয়া নীরবে রতনের বাটিতে খানিকটা তেল ঢালিয়া দিলেন। ঠিক এই সময়েই নিত্য বাহিরে ব্যস্তসমস্ত হইয়া ডাকিল, পিসিমা! পিসিমা!

    কেহ উত্তর দিল না। মা বাহির হইয়া আসিয়া বলিলেন, কী রে নিত্য?

    নিত্য বলিল, লায়েববাবুতে আর কেষ্ট সিং চাপরাসীতে তুমুল ঝগড়া লাগিয়েছে মা।

    কে? কার সঙ্গে ঝগড়া করছে? পিসিমা এবার বাহির হইয়া আসিলেন।

    আজ্ঞে, লায়েববাবুতে আর কেষ্ট সিং চাপরাসীতে।

    ঝগড়া? কিসের ঝগড়া? কেন, বাড়ির কি মাথা-ছাতা কেউ নেই মনে করেছে নাকি?

    পিসিমা গম্ভীর মুখে বাহির হইয়া গেলেন, নিত্যও অভ্যাসমত তাহার পিছনে পিছনে ছুটিল।

    পিসিমা কাছারি-বাড়িতে আসিয়া দেখিলেন, রাখাল সিং এবং কেষ্ট সিং উভয়েই লজ্জিত নতমস্তকে নীরবে বসিয়া রহিয়াছে। বারান্দার মধ্যস্থলে একখানা চেয়ারের উপর ক্রুদ্ধ আরক্তিম মুখে গম্ভীরভাবে বসিয়া আছে শিবু। মুহূর্তে পিসিমা সমস্ত ব্যাপারটা বুঝিয়া লইলেন, পুলকিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ব্যাপার কী রে শিবু?

    গম্ভীর মুখেই শিবু উত্তর করিল, কিছু না পিসিমা, তুমি বাড়ি যাও। যা ব্যবস্থা করবার আমি করছি।

    নিতান্ত অকারণে ঝগড়া।

    রাখাল সিং ক্ষুব্ধ মনে কাছারিতে আসিয়া ভাবিতেছিলেন, এখানে আর কাজ করা উচিত নয়। মালিক যেখানে থাকিয়াও নাই, সেখানে কাজ করার অর্থ হইতেছে নিজেকে অকারণে বিপন্ন করা। একটা ফৌজদারি দাঙ্গা বাধিলে সেখানে মর্যাদা বজায় থাকে না; এ বাড়ির কর্তৃত্ব স্ত্রীলোকের হাতে বলিয়া সর্বদা শঙ্কিত হইয়া থাকিতে হয়; এমনকি মৌখিক আস্ফালনে কেহ চোখ রাঙাইয়া গেলেও সকল ক্ষেত্রে তাহার প্রত্যুত্তর দিবার উপায় পর্যন্ত নাই। এখানে কাজ করা আর উচিত নয়।

    ঠিক এই সময়েই কেষ্ট সিং আসিয়া বলিল, হুকুম দেন নায়েববাবু, রূপলাল বাগদীকে আমি গলায় গামছা বেঁধে নিয়ে আসব।—উত্তেজনায় ক্রোধে সে উদ্যতফণা সাপের মত ফুলিতেছিল।

    নায়েবের মুখ নিদারুণ বিরক্তিতে বিকৃত হইয়া উঠিল, তাহার ইচ্ছা হইল, এখনই এই মুহূর্তে কাজে জবাব দিয়া আসিবেন।

    কেষ্ট সিং উত্তেজিত কণ্ঠে বলিল, বেটা বাগদী আজ ভোরে আমাদের কালীসায়ের পুকুরে আট-দশ সের একটা মাছ মেরেছে। খবর পেয়ে বেটার বাড়ি গিয়ে দেখলাম, উঠোনে বড় বড় মাছের অ্যাঁশ পড়ে রয়েছে। আমি তাকে ধরে নিয়ে আসছিলাম, বেটার মনিব বেণী চাষাসে এসে আমাকে আইন দেখায়, বলে, চুরি করে থাকে—থানায় খবর দাও, তুমি ধরে নিয়ে যাবার কে? হুকুম দেন, রূপো বেটাকে গলায় গামছা দিয়ে নিয়ে আসব। আর বেণী চাষার আমাদের খাস খামারে গাছ কোথায় আছে দেখুন, কাটব।

    নায়েব বলিলেন, হুকুম দিতে পারব না বাপু, তুমি মালিকের কাছে যাও।

    কই, দাদাবাবু কই? তার কাছে যাই আমি।

    মা-পিসিমার কাছে যাও। কালকের ব্যবস্থা সমস্ত রদ হয়ে গিয়েছে। বাবু এখন পড়তে যাবেন কলকাতা, মা-পিসিমার হুকুমমতই সংসার চলবে।

    কেষ্ট সিং কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া বলিল, বেশ, আমি আর কাজকর্ম করব না মশায়, আমার মাইনে-পত্তর মিটিয়ে দেন।

    নায়েব এবার অকারণে ক্রুদ্ধ হইয়া চিৎকার করিয়া বলিয়া উঠিলেন, তা আমাকে কী বলছ হে বাপু, যাও না মালিকদের কাছে গিয়ে বল না।

    কেষ্ট সিং এবার ক্রোধভরে বলিয়া উঠিল, মালিকের কাছে কেন যাব আমি? আমি চাপরাসী, আপনি নায়েব, আমি আপনাকে বললাম, মালিকের কাছে যেতে হয়, জজসাহেবের কাছে যেতে হয়, আপনি যান। দেন, আমার মাইনে মিটিয়ে দেন।

    হুঙ্কার দিয়া রাখাল সিং বলিলেন, আমিও আর চাকরি করব না হে বাপু, তুমি আমাকে চোখ রাঙাচ্ছ কী?

    কেষ্ট সিং সমানে গলা চড়াইয়া বলিল, সে কথা আমাকে বলছেন কী মশায়? সে কথা আপনি মালিককে বলুন গিয়ে।

    নিত্য-ঝি আসিয়াছিল শ্রীপুকুরের ঘাটে, সে চিৎকার শুনিয়া কৌতূহলভরে কাছারিতে কি মারিয়া দেখিল, নায়েব ও কেষ্ট সিং আরক্ত নেত্ৰে দুই যুদ্ধোদ্যত পশুর মত গর্জন করিতেছে। সে ছুটিয়া বাড়ির দিকে চলিয়া গেল।

    নায়েব তক্তপোশে একটা প্রকাণ্ড চাপড় মারিয়া বলিল, সে কথা তুমি আমাকে বলবার কে হে? জান তুমি চাপরাসী, আমি নায়েব?

    মেঝেতে লাঠিটা ষ্টুকিয়া কেষ্ট সিং বলিল, আলবৎ বলব, একশো বার বলব। আমাকে বললেই বলব।

    ঠিক এই সময়েই শিবু কাছারিতে প্রবেশ করিল। তাহার মুখ চিন্তান্বিত, অতিমাত্রায় ধীর গতি, দৃষ্টি স্বপ্নাতুর, অন্তরলোকের যে রথীর ইঙ্গিতে জীবনরথ পথ বাহিয়া ছুটিয়া চলে, সে রথী যেন মন-তুরঙ্গের বক্সারচ্ছু সংযত করিয়া স্থির হইয়া এক স্থানে পঁড়াইয়া আছে। সকালেই সে গিয়াছিল তাহাদের সমাজ-সেবক-সমিতির একটি অধিবেশনে। গত বর্ষায় অনাবৃষ্টির জন্য দেশে ফসল হয় নাই, পুষ্করিণীতে জল নাই, বৈশাখের প্রারম্ভেই গ্রীষ্মের নিদারুণ প্রখরতায় দেশটা যেন পুড়িয়া যাইতেছে। সমাজ-সেবক-সমিতির অনেকদিন হইতেই একটি দরিদ্রভাণ্ডার খুলিবার সঙ্কল্প আছে, কিন্তু কার্যে পরিণত করিবার মত উদ্যোগ কোনোদিন হয় নাই। এবার আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই দুর্ভিক্ষ আশঙ্কা করিয়া কয়েকজন বয়স্ক নেতা এই অধিবেশন আহ্বান করিয়াছিলেন।

    অধিবেশন হইতে ফিরিবার পথে শিবু ভাবিতেছিল একটা কবিতার কথা। পদ্যপাঠের কবিতা, কোনো ইংরেজি কবিতার অনুবাদ। এক নিৰ্দিষ্ট সন্তানের মাতা এক পৃথিবী পর্যটককে ব্যাকুল আগ্রহে তাঁহার সন্তানের সন্ধান জিজ্ঞাসা করিতেছেন। মা বলিতেছেন, আমার সন্তান নগণ্য নয়, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মেলার মধ্যেও তাহাকে চেনা যায়।

    পর্যটক বর্ণনা করে নানা মহামানবের কথা, বক্তার কথা বলে। মা বলেন, না, সে নয়।

    পর্যটক বলে, এ মহাযুদ্ধের মধ্যে এক মহাবীরকে আমি দেখেছি। মা বলেন, না, সে নয়, সে নয়।

    ঈশ্বরের ধ্যানমগ্ন এক সন্ন্যাসী, মুখে স্বৰ্গীয় জ্যোতি—

    না, সেও নয়।

    তবে? চিন্তা করিয়া পর্যটক বলে, এক দ্বীপে কুষ্ঠাশ্ৰমে দেখেছি এক মহাপ্রাণকে, তিনি ওই রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন, তাঁকেও সে ব্যাধি আক্রমণ করতে ছাড়ে নি, তবু তাঁর ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই।

    ব্যাকুল আগ্রহে মা বলিলেন, সেই–সেই—সেই আমার সন্তান।

    সমাজ-সেবক-সমিতির আবেষ্টনের মধ্যে কবিতাটি অকস্মাৎ মনে পড়িয়া গিয়াছে। তাহার ইচ্ছা হইল, হেডমাস্টার মহাশয়ের নিকট গিয়া মূল কবিতাটি কাহার জানিয়া কবিতাটি একবার পড়িবে। কিন্তু কাছারিতে প্রবেশ করিয়াই এই কোলাহলের আঘাতে তাহার চিন্তাধারা ছিন্ন হইয়া গেল, মুহূর্তে সে যেন সচেতন হইয়া উঠিল, তাহার মন-তুরঙ্গ যেন কশাঘাতে চকিত হইয়া বাতাসের বেগে ছুটিল।

    কী, হয়েছে কী সিং মশায়ঃ নায়েববাবুর মুখের উপর তুমিই বা এমন চিৎকার করছ কেন কেষ্ট সিংহ।

    রাখাল সিং এবং কেষ্ট সিং উভয়েই মুহূর্তে নির্বাক হইয়া গেল। উভয়েই খুঁজিতে ছিল, কেন তাহারা বিবাদ করিতেছিল, কারণটা কী?

    শিবু জ কুঞ্চিত করিয়া বলিল, কী ব্যাপারটা কী? বাড়ির ইজ্জৎ মর্যাদা আপনারা সব ড়ুবিয়ে দেবেন নাকি?

    সতীশ চাকর তাড়াতাড়ি কাছারি-ঘর খুলিয়া একখানা চেয়ার বাহির করিয়া দিয়া বলিল, আজ্ঞে, ঝগড়া যে কী, তা ওঁরাই জানেন; উনিও বলছেন, আমি কাজ করব না: কে সিংও বলছে, আমি চাকরি করব না।

    আরক্তিম গম্ভীর মুখে শিবু প্রশ্ন করিল, কেন?

    সকলেই নীরব, কেহই এ কথার জবাব দেয় না। ঠিক এই অবসরেই পিসিমা আসিয়া আরক্তিমমুখ শিবুকে দেখিয়া পুলকিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ব্যাপার কী রে শিবু?

    শিবু উত্তর দিল, কিছু না পিসিমা, তুমি বাড়ি যাও। যা ব্যবস্থা করবার আমি করছি।

    রাখাল সিং এবার বলিলেন, আমাদের দুজনেরই দোষ মা। মিছিমিছি খানিকটা বকাকি হয়ে গেল। তা এমন হয়, মন তো সব সময় ঠিক থাকে না মানুষের।

    পাচিকা রতন কখন আসিয়াছিল, কেহ লক্ষ্য করে নাই; সে বলিল, শিবু, নায়েববাবু কেষ্ট সিং দুজনেই পুরনো লোক, ঔদের দোষ-ঘাট হলে তার বিচার করবেন পিসিমা, তুমি ওতে হাত দিও না, তুমি বরং বাড়ি এস।

    শিবু, পিসিমা, নায়েব, কেউ সিং সকলেই রতনের কথায় আকৃষ্ট হইয়া দেখিলেন, কথা। রতনের নয়, রতনের পিছনে ঈষৎ অবগুণ্ঠন টানিয়া দাঁড়াইয়া শিবুর মা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }