Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প400 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. সুশীল মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র

    সুশীল মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। এবার সে শেষ পরীক্ষা দিয়াছে, এখনও ফল বাহির হয় নাই। পূর্ণ পড়ে ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুলে। তাহার পড়া শেষ হইতে এখনও এক বৎসর বাকি। পূর্ণ ছেলেটি বড় শান্ত, প্রায়ই কথা কয় না; কথায় কথায় শুধু একটু মিষ্ট হাসি হাসে। সুশীল তাহার বিপরীত; অদ্ভুত ছেলে, জীবনে পথ চলিতে কোনোখানে এতটুকু বাধা যেন তাহার ঠেকে না, কোনো কথা বলিতে তাহার দ্বিধা হয় না। শিবনাথের বিবাহ হইয়াছে শুনিয়া তাহার বিস্ময়ের সীমা রহিল না; সে বলিয়া উঠিল, শিবনাথবাবুর বিয়ে হয়ে গেছে নাকি? ডি ছি ছি, বলছেন কী?

    শিবনাথের লজ্জা হইল। পূর্ণ মুখে একটুখানি মিষ্ট হাসি মাখিয়া দাঁড়াইয়া ছিল। জ্যোতির্ময়ীও হাসিলেন। কিন্তু পিসিমা রুষ্ট হইয়া উঠিলেন, তিনি বলিলেন, কেন বাবা, ছি ছি কেন? শিবু তো বিয়েই করেছে, বিয়ে তো সংসারে সবাই করে।

    সুশীল অপ্রস্তুত হইল না। সে বলিল, এত সকালে বিয়ে দিয়েছেন। শিবনাথবাবুর পড়া শেষ হতেই এখন অনেক দেরি, উপার্জনের কথা দূরে থাক।

    উপার্জন শিবু না করলেও বউয়ের ভরণপোষণ চলবে বাবা। আর তোমাদের ও হাল ফ্যাশনের ধাড়ী বউ আমাদের সংসারে চলে না।

    তা হলেও পিসিমা, বাল্যবিবাহ ভাল নয়। ডাক্তারিশাস্ত্রেও নিষেধ করে।

    আমাদের কবিরাজিশাস্ত্রে ও নিষেধ করে না বাবা। সে মতে গৌরীদান প্রশস্ত।

    হা-হা করিয়া হাসিয়া সুশীল বলিল, তর্কে পিসিমা কিছুতেই হারবেন না। তা বেশ, আমাদের বউ দেখান। বউকে বুঝি ঘরের মধ্যে বোরকা এঁটে বন্ধ করে রেখেছেন।

    পিসিমার মনের উত্তাপ ইহাতে লাঘব হইল না। তিনি বলিলেন, আমরা কি বোরকা পরে আছি বাবা, না ঘরের দরজা এঁটে আলোর পথ বন্ধ রেখেছি, যে বউকে বন্ধ করে রাখব?

    জ্যোতির্ময়ী মনে মনে শঙ্কিত হইয়া উঠিতেছিলেন, তিনি তাড়াতাড়ি বলিলেন, বউমা থাকলে তোমরা দেখতে পেতে বৈকি বাবা; তিনি এখানে নেই, কাশীতে আছেন।

    কাশীতে বিয়ে দিয়েছেন বুঝি?

    না না, বউমার দিদিমা কাশী গেছেন, বউকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। বউমার বাপের বাড়ি এই গ্রামেই, এই আমাদের বাড়ির পাশেই। ওই যে পাকা বাড়ির মাথাটা দেখা যাচ্ছে, ওইটে।

    অ্যাঁ! বলেন কী? এ তো ভারি মজার ব্যাপার! বউ বাপের বাড়ি গেলে শিবনাথবাবু জানলায় দাঁড়িয়ে কথা কইবেন!

    মৃদুভাষী পূর্ণ এবার বলিল, অনেকটা বেলা হয়ে গেল; একবার রোগী দেখে আসি। আর নতুন কেস হয়েছে কি না খবর নেওয়া দরকার।

    কাছারি-বাড়িতে প্রবেশ করিয়াই সুশীল সপ্রশংসকণ্ঠে বলিল, বাঃ, বেশ ঘোড়াটি তো, বিউটিফুল হর্স! কার ঘোড়া?

    সহিস ঘোড়াটায় চড়িয়া ঘুরাইয়া আনিয়া এখন মুখের লাগাম ধরিয়া ঘুরাইতেছিল। শিবু নিয়মিত চড়ে না, অথচ ঘোড়া বসিয়া থাকিলেই বিগড়াইয়া যায়, এইজন্য এই ব্যবস্থা। সুশীলের প্রশ্নের উত্তরে শিবু লজ্জিত হইয়াই বলিল, আমার ঘোড়া। বিবাহ প্রসঙ্গে সুশীলের মন্তব্য শুনিয়া তাহার মনে হইল, ঘোড়ার অধিকারিত্বের জন্যও সুশীল তীক্ষ্ণ মন্তব্য না করিয়া ছাড়িবে না।

    সুশীল সবিস্ময়ে বলিল, আপনার ঘোড়া? এই ঘোড়ায় আপনি চড়তে পারেন?

    এবার শিবু হাসিয়া উত্তর দিল, পারি বৈকি।

    ওঃ, আপনি দেখছি, গ্রেট ম্যান–ওয়াইফ, ঘোড়া! হোয়াট মোর? আর কী আছে?

    শিবু কোনো কিছু বলিবার পূর্বেই অহষ্কৃত কণ্ঠস্বরে কেষ্ট সিং বলিল, আজ্ঞে, বাইসি আছে, পালকি আছে।

    পালকি! ওয়ান্ডারফুল! মনে হচ্ছে, যেন মোগল সাম্রাজ্যে চলে এসেছি ইন দি ল্যান্ড অ্যান্ড পিরিয়ড অব দি গ্রেট মোগলস।

    সুশীলের কথার মধ্যে শিবনাথ যেন একটা তীক্ষ্ণ আঘাত অনুভব করিতেছিল, সে এবার ঈষৎ উত্তাপের সহিতই জবাব দিল, সে যুগ কিন্তু এই ফিরিঙ্গি যুগের চেয়ে অনেক ভাল ছিল সুশীলবাবু। উই হ্যাড আওয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্স ইন দি ল্যান্ড অ্যান্ড পিরিয়ড অব দি গ্রেট মোগলস।

    এবার পূর্ণ কথা বলিল, চমৎকার বলেছেন শিবনাথবাবু! এবার জবাব দিন সুশীলদা!

    সুশীল হাসিয়া বলিল, বেলা হয়ে যাচ্ছে, আগে চল রোগী দেখে আসি, তারপর হবে। কিন্তু আপনার আর সব সহচর কই শিবনাথবাবু? আপনি কি একাই আপনাদের সেবক-সমিতি নাকি?

    আমি এসেছি শিবনাথদা। কাছারি-ঘরের ভিতর হইতে বাহির হইয়া আসিল সেই ছোট ছেলেটি-শ্যামু। কাছারি-ঘরের ছবিগুলো দেখছিলাম আমি।

    শিবনাথ খুশি হইয়া বলিল, তুই আসবি, সে আমি জানি। তুই একবার সক্কলকে ডাক দিয়ে আয় তো, চাল তুলতে হবে।

    শ্যামু ক্ষুণ্ণ হইয়া বলিল, আমি তোমাদের সঙ্গে যাই না শিবনাথদা?

    সুশীল তাহার পিঠ চাপড়াইয়া বলিল, সেনাপতির আদেশ মান্য করাই হল সৈনিকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। যাও, তোমাদের সেনাপতি যা বলছেন, তাই কর।

    কোথায় মড়াকান্না রোল উঠিয়াছে, কোন্ একটা রোগী মরিয়াছে। বাকি পল্লীটা নিস্তব্ধ। আপন আপন দাওয়ার উপর সকলে বিবৰ্ণমুখে স্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছে। পল্লীটার প্রথমেই শম্ভুদের বাড়ি; শিবনাথ প্ৰশ্ন করিল শম্ভুর মাকে, পাড়া কেমন আছে রে শ্যুর মা।

    সে কম্পিতকণ্ঠে উত্তর দিল, ওগো বাবু, ভয়ে কাঁপুনি আসছে গো; বলতে যে রছি। কাল রেতে আবার ছজনার হইছে গো।

    শিবনাথ শিহরিয়া উঠিল, ছজনের?

    সুশীল প্ৰশ্ন করি, কেউ মরেছে নাকি? কাঁদছে—ওই যে?

    তিন জন মরেছে বাবু। মুচিদের এক জনা, বাউরি এক জনা, আর ডোমেদের সেই ছেলেটা; ডোমেরা সব পালিয়েছে বাবু, মড়া ফেলে পালিয়েছে। ঘরেই কুকুরে মড়া নিয়ে ঘেঁড়াছিঁড়ি করছে। ওই দেখ কেনে, মাথার উপর শকুনি উড়ছে, দেখ কেনে!

    শঙ্কুর মা শিহরিয়া উঠিয়া ভয়ে কাঁদিয়া ফেলিল, কী হবে বাবু? কী কন্ব বলেন দেখি? কোথা যাব?

    শিবনাথ চিন্তিতমুখে বলিল, খুব ভয় হচ্ছে তোদের শঙ্কুর মা? এক কাজ কর, আমাদের বাগানে কালীমায়ের ঘরের পাশে যে ঘর আছে, সেখানে গিয়ে ছেলেপিলে নিয়ে থাক্। কেমন?

    পূর্ণ আকাশের দিকে চাহিয়া দেখিতেছিল, শকুনির দল পাক খাইয়া নিচের দিকে নামিয়া আসিতেছে। ঘৃণায় বিকৃতমুখে সে বলিল, কী বিশ্রী! একেবারে বীভৎস!

    সুশীল বলিল, আচ্ছা ডেডামেদের সেই বউটি একা আছে, তাকে জ্যান্ত খেয়ে ফেলবে না। তো? চলুন, তাকেই আগে দেখে আসি।

    সমস্ত পল্লীটা জনহীন। দূরে বোধ করি মুচিপাড়ার কান্নার রোল, সে রোলকেও ছাপাইয়া এ পাড়ার একটা বাড়িতে শকুন ও কুকুরের কলহ-কলরব। ফ্যালাদের বাড়ির উঠানেও কয়টা শকুন বসিয়া বসিয়া ওই মেয়েটিকে দেখিতেছে, তাহার মৃত্যুপ্রতীক্ষায় বসিয়া আছে। মেয়েটি আতঙ্কে বোধহয় মরিয়াই গিয়াছে।

    সুশীল এক লাফে দাওয়ায় উঠিয়া তাহাকে পরীক্ষা করিয়া দেখিয়া বলিল, বেঁচে আছে। জল, ওয়াটার বটু থেকে জল দিন তো শিবনাথবাবু, সাবধান, ওঠাতে যেন ছোঁয়া না লাগে।

    মেয়েটির সেই ভাঁড়টায় জল ঢালিয়া লইয়া মুখেচোখে জল দিতেই তাহার চেতনা হইল। কিন্তু অলস অর্থহীন দৃষ্টি।

    কিছু খেতে দেওয়া দরকার। পূর্ণ, একটু গ্লুকোজ দাও তো। বাবু! ডাক্তারবাবু! পাঁচ-সাত জন লোক আসিয়া দাঁড়াইল অন্য রোগীর বাড়ির লোক। আমাদের বাড়িতে আসেন মাশায়।

    আপনি ওর মুখে একটু একটু করে গ্লুকোজ-ওয়াটার দিন। ভালই আছে, বেঁচে যাবে বলে মনে হচ্ছে। চল পূর্ণ, আমরা রোগী দেখি। শিবনাথবাবু, একে একটা পাউডার দিয়ে দেবেন। জলের সঙ্গে।

    সুশীল উঠিয়া পড়িল, পূর্ণও তাহার অনুসরণ করিল।

    শিবনাথ একা বসিয়া তাহার মুখে অল্প অল্প করিয়া জল ঢালিয়া দিতে আরম্ভ করিল। সম্মুখেই খোলা মাঠ, এই প্রাতঃকালেই দিচক্ৰবাল ঘোলাটে হইয়া উঠিয়াছে। পৃথিবীর বুক হইতে আকাশ পর্যন্ত বায়ুস্তর ধূলিকণায় পরিপূর্ণ। সহসা সে পায়ে স্পর্শ অনুভব করিয়া চমকাইয়া। উঠিল। কাতর দৃষ্টিতে মেয়েটি তাহার মুখের দিকে চাহিয়া আছে, চোখ দুইটি হইতে জলের ধারা গড়াইয়া পড়িতেছে; মেয়েটিই হিমশীতল হাত দিয়া তাহার পা ধরিয়াছে।

    শিবনাথ ব্যস্ত হইয়া বলিল, কাঁদছ কেন তুমি? তুমি তো ভাল হয়ে গেছ।

    ক্ষীণকণ্ঠে মেয়েটি বলিল, ওগো বাবু, আমাকে জ্যান্ত খেয়ে ফেলাবে গো!

    সে ফোঁপাইয়া দিয়া উঠিল। সম্মুখে উঠানে তখনও একটা শকুনি তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে চাহিয়া বসিয়া ছিল।

    শিবনাথ বলিল, ওর ব্যবস্থা এখুনি হচ্ছে, ভয় কী তোমার, তোমাকে না হয় ঘরের মধ্যে শুইয়ে দিয়ে যাচ্ছি।

    সে শিহরিয়া বলিয়া উঠিল, ওগো না গো, ঘরের ভেতর অ্যাঁধার কোণে যদি সে বসে থাকে?

    কে?—শিবু আশ্চর্য হইয়া গেল।

    সে।

    ও। শিবু এতক্ষণে বুঝিল, সে ফ্যালার কথা বলিতেছে। অনেক ভাবিয়া সে বলিল, তোমার বাপ-মা কেউ নেই?

    আছে, কিন্তুক সন্মা বাবাকে আসতে দেবে না বাবু।

    তবে? আচ্ছা, ওষুধটা খেয়ে নাও দেখি। হাঁ কর, হ্যাঁ।

    শিবনাথ ভাবিতেছিল, কী উপায় করা যায়। মেয়েটিকে আগলাইয়া এখানে থাকা তো। সম্ভবপর নয়। তাদের বাড়িতে লইয়া যাওয়াও চলে না।

    কী হবে বাবু মশায়?—মেয়েটির চোখ আবার জলে ভরিয়া উঠিয়াছে।

    দেবতার নাম করবে, ভগবানের নাম করলে তো ভূত আসতে পারে না।

    মেয়েটি এবার আশ্বস্ত হইয়া বলিল, আমাকে চণ্ডীমায়ের একটুকুন পুষ্প এনে দেবা বাবু? তা হলে আমি খুব থাকতে পারব।

    শিবু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, তা দেব এনে। এখন একটা কাগজে রামনাম লিখে তোমার মাথার শিয়রে দিয়ে যাচ্ছি। তুমি ঘরে শোবে চল।

    তাহাকে ঘরে শোয়াইয়া দিয়া, শিবু পকেট হইতে কাগজ-পেন্সিল লইয়া রামনাম লিখিয়া দিল। কাগজটি মাথায় ঠেকাইয়া সেটি শিয়রে রাখিয়া দিয়া পরম নিশ্চিন্তে সে চোখ বুজিল। বেচারি শ্ৰান্ত হইয়া পড়িয়াছে। শিবু তাহাকে শিশুর মতই বহন করিয়া আনিলেও এই নাড়াচাড়ার পরিশ্রমেই তাহার অবসাদ আসিয়াছে। শিবু দরজাটি ভেজাইয়া বাহির হইয়া আসিল।

    বাবু!—মেয়েটি আবার ডাকিল।

    কী? আবার ভয় করছে?

    না।

    তবে?

    ঈষৎ লজ্জার হাসি হাসিয়া মেয়েটি বলিল, চারটি মুড়ি দেবা বাবু? বড় ফিদে নেগেছে। সর্বনাশ! মুড়ি এখন খেতে আছে? ও-বেলায় বরং বার্লি এনে দোব।

    সে বাড়ি হইতে বাহির হইয়াই শিবুর সেই বিকৃতমস্তিষ্ক গাঁজাখোরটির সহিত দেখা হইয়া গেল। সে তখন পাশের বাড়ির উঠানের দলবদ্ধ শকুনির দলকে ঢেলা মারিয়া কৌতুক করিতেছিল। ঢেলা মারিলেই শকুনির দল পাখা মেলিয়া খানিকটা সরিয়া যায়, ঢেলাটা চলিয়া গেলে তাহারা আবার গলা বাড়াইয়া পাখা ফুলাইয়া তাড়া করিয়া আসে।

    শিবু হাসিয়া বলিল, কী হচ্ছে?

    সে মুখ বিকৃত করিয়া বলিল, আজ্ঞে, বেটাদের ফলার লেগে গিয়েছে। এঃ, খেছে দেখুন কেনে! পেটটা ফুটো করে ফেলেছে, ফুটোর ভেতর গলাটা ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে খেছে। এ!

    সত্যই সে দৃশ্য বীভৎস, ভয়াবহ। শিবনাথ চিন্তিতমুখে বলিল, কিন্তু কী করা যায় বলুন দেখি? গ্রামের ভেতরেই যে শ্মশান হয়ে উঠল!

    কেউ যদি কিছু না বলে, তা হলে আমি মাশায় ফেলে দিতে পারি।

    আপনি পারেন?

    হ্যাঁ, ঠ্যাঙে দড়ি বেঁধে বেটাকে হুই লাঘাটার ধারে দিয়ে আসব টেনে ফেলে।

    আপনি দেবেন?

    তা খুব পারি মাশায়। পুঁতে দিতে বলেন, তাও পারি; থাকুক বেটা উঠোনেই গাড়া। কিন্তু শেষে যদি গাঁয়ের লোকে পতিত করে?

    আমি যদি আপনার সঙ্গে পতিত হয়ে থাকি?

    দেখেন! কই, পৈতে ছুঁয়ে দিব্যি করেন দেখি।

    হাসিয়া শিবনাথ পৈতা বাহির করিয়া শপথ করিল। পাগল মহা উৎসাহিত হইয়া বলিল, চলেন তবে, একগাছা দড়ি নিয়ে আসি।

    বাউরিপাড়ার মধ্যে প্রবেশ করিয়া কিছুদূর অগ্রসর হইতেই সুশীল ও পূর্ণের সহিত দেখা হইয়া গেল, তাহাদের সঙ্গে শ্যামুও আসিয়া জুটিয়াছে। একা শ্যামুই, আর কেহ নাই। শিবনাথ সর্বাগ্রে শ্যামুকেই প্রশ্ন করিল, কই রে, আর সব কই?

    সুশীল হাসিয়া বলিল, আপনার সৈন্যবাহিনী সব পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে।

    শ্যামু বলিল, প্রায় সব গাঁ ছেড়ে পালাচ্ছে শিবুদা। দেখগে, কমলেশদা আর তার বড়মামা এসে বসে আছেন তোমাদের বাড়িতে। তোমাকেও কাশী যেতে হবে।

    শ্যামুও একটু ব্যঙ্গের হাসি হাসিল।

    শিবনাথ উত্তপ্ত হইয়া উঠিল, কিন্তু সে উত্তাপ অন্তরে আবদ্ধ রাখিয়াই সুশীলকে প্ৰশ্ন করিল, এদিকে সব কেমন দেখলেন?

    চিন্তিতমুখে সুশীল বলিল, ক্রমশই গুরুতর হয়ে দাঁড়াচ্ছে শিবনাথবাবু, একটা কাজ অবিলম্বে করা দরকার প্রিভেশনের ব্যবস্থা। যাদের বাড়িতে রোগ হয়েছে, তাদের সঙ্গে পাড়ার সংস্রব বন্ধ করতে হবে। জলজলের হেঁয়াচ আগে বন্ধ করতে হবে। তারা যেন পুকুরে নেমে জল খারাপ করতে না পারে। পুকুরে পুকুরে পাহারা রাখতে হবে। রোগীর বাড়ির প্রয়োজনমত জল তারাই তুলে তাদের পাত্রে ঢেলে দেবে, আর চিকিৎসার জন্যে ইন্ট্রাভেনাস স্যালাইনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

    শিবু চিন্তান্বিত হইয়া পড়িল, তাহার সহায় বন্ধুবান্ধব কেহ নাই। একা সে কী করিবে? বুকের মধ্যে বল যেন কমিয়া আসিতেছে। এই এতগুলি লোকের খাদ্য, ইহাদের জীবন-মরণসমস্যার সমাধান সে একা কী করিয়া করিবে?

    পাগল নীরবতা ভঙ্গ করিল, দড়ি দ্যান বাবু।

    সুশীল প্ৰশ্ন করিল, দড়ি কী হবে?

    উনি ওই মড়াটাকে ফেলে দেবেন পায়ে বেঁধে।

    গাঁজার কিন্তু চারটে পয়সা লাগবে বাবু। আচ্ছা করে কষে এক দম দিয়ে, দিয়ে আসছি। ব্যাটাকে গাছাড়া করে।

    পাগল যুদ্ধের ঘোড়ার মত রীতিমত অস্থির হইয়া উঠিয়াছে।

    সুশীল সবিস্ময়ে প্রশ্ন করিল, আপনি গাঁজা খান নাকি?

    গাঁজা খাই, মদ খাই, চরস খাই, সিদ্ধি খাই, কেলে সাপের বিষ পেলে তাও খাই।

    বলেন কী?—সুশীলের বিস্ময়ের আর অবধি রহিল না।

    দিয়ে দেখেন কেনে। বাবু তো খুব হয়েছেন, কোট কামিজ জুতো! কই, দ্যান দেখি একটা টাকা, নেশা করি একবার পেট ভরে।

    আচ্ছা তাই চলুন, একটা টাকাই দোর আপনাকে, কিন্তু আমাদের সামনে বসে নেশা করতে হবে।

    কাছারিতে ফিরিতেই রাখাল সিং বলিলেন, গোঁসাই-বাবা তিন মন চাল পাঠিয়েছেন দেবার জন্যে।

    সেই যাত্রাপাগল চুলওয়ালা বন্ধুটিও বসিয়া আছে; সে বলিল, কই হে, আমাদের কাজটাজ দাও!

    শিবু আশ্বাসের দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিল। রাখাল সিং আবার বলিলেন, আপনার মামাশ্বশুর এসে বসে আছেন।

    শিবু বলিল, বলে দিন গিয়ে, আমি কাশী যাব না।

    মাথা চুলকাইয়া সিং মহাশয় বলিলেন, কিন্তু গেলেই যেন ভাল হত বাবু, এই রোগ–না।

    তা আমার বলাটা কি ভাল দেখায়, আপনি নিজে–

    বাধা দিয়া শিবু বলিল, আমার হাতেপায়ে রোগীর ছোঁয়াচ, এ নিয়ে এখন কী করে বাড়ির মধ্যে যাব?

    রাখাল সিংই অগত্যা সংবাদ বহন করিয়া লইয়া গেলেন। সুশীল বলিল, কিন্তু বউ আপনার রাগ করবে শিবনাথবাবু।

    শিবু চিন্তা করিতেছিল, আরও লোক কোথায় পাওয়া যায়; সুশীলের কথাটা তার কানে গেলেও শব্দার্থ তাহাকে লজ্জিত অথবা পুলকিত করিতে পারি না। শিবনাথের মনের মধ্যে এত লোকের ভিড় দেখিয়া, কলরব শুনিয়া ছোট্ট গৌরী সসঙ্কোচে অবগুণ্ঠন টানিয়া যেন কোন্ অন্ধকার কোণে নিতান্ত অনাদৃতার মতই পড়িয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। সুশীলের হাত ধরিয়া শিবনাথ বলিল, চলুন, একবার থানায় যাব, চৌকিদারের সাহায্য না পেলে পুকুর পাহারা দেওয়ার কাজ হয়ে উঠবে না।

    চুলওয়ালা বন্ধুটি বলিল, গানটান বেঁধেছ হে? সুরটা করে ফেলতাম তা হলে।

    শিবু সুশীলকে লইয়া বাহির হইয়া গেল। পাগল বিরক্তিভরে বলিল, এই দেখ, ডাকব তো বলবে, পিছু ডাকলে। আমি এখন দড়ি পাই কোথা বল দেখি।

    পাগলের কথায় কেহ কান দিল না। পাগল বসিয়া থাকিতে থাকিতে সহসা উঠিয়া গোশালার দিকে চলিয়া গেল। গরু-বাঁধা দড়ি নিশ্চয় আছে।

     

    দিন তিনেক পরে।

    শিবু আশ্চর্য হইয়া গেল যে, এই ভয়ঙ্কর মৃত্যু-বিভীষিকার মধ্যে মানুষ যা ছিল তাই আছে, একবিন্দু পরিবর্তন কাহারও হয় নাই। একটা গলিপথে যাইতে যাইতে সে শুনিল, সেই যে কথায় কথায় আছে, কোলে মরবে, জোলে ফেলবে, তবু না পুষুনি দোব—সেই বিত্তান্তের বিত্তান্ত। শৈলজাঠাকরুন বউয়ের হাড়ির ললাট ডোমের দুৰ্গতি করবে, দেখো তোমরা, আমি বলে রাখলাম। ওই একমাত্র ছেলে, মামাশ্বশুর একে কাশী নিয়ে যেতে চাইলে, কী অন্যায়টা সে বলেছিল! তা। এই মহামারণের মধ্যে ছেলেকে রেখে দিলে, তবু যেতে দিলে না, পাছে বউয়ের সঙ্গে ভাব হয়।

    শৈলজা-ঠাকুরানীর নাম শুনিয়াই সে দাঁড়াইয়া মন্তব্যটা শুনিল। মনটা তাহার ভালই ছিল, আজ এই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার মধ্যেও সকল কাজেই একটা শৃঙ্খলা আসিয়াছে। চৌকিদারের সাহায্যে পুকুরগুলি রক্ষার ব্যবস্থা হইয়াছে, চুলওয়ালা বন্ধুটি ও শ্যামু চাল সগ্ৰহ করিতে আরম্ভ করিয়াছে। ওই অকেজো ঘৃণ্য পাগল করে সকলের চেয়ে বড় কাজএকটি নয়, একটি একটি করিয়া তিনটি শবের গতি সে করিয়াছে। ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড হইতে প্রেরিত এক ভদ্রলোক ম্যাজিক ল্যান্টার্ন সহযোগে কলেরার বিষয়ে বক্তৃতা দিতে আসিয়াছেন। সকলের চেয়ে বড় কথা, তাহার পিসিমা ও মা তার কাজের গুরুত্ব বুঝিয়াছেন, অভয়দাত্রীর মত তাহার মাথায় হাত বুলাইয়া আশীর্বাদ করিয়াছেন। শিবু এই সমালোচনা শুনিয়া একটু হাসিল।

    সমালোচকটি কঠোর সমালোচক, সত্য কথা বলিতে দুর্গা-ঠাকরুন কোনোদিনই পশ্চাৎপদ হন না। হাজার যুক্তিতর্কেও হার মতের পরিবর্তন হয় না, টুকরা টুকরা করিয়া তাহার। যুক্তিগুলি খণ্ডন করিলেও না; আপন মন্তব্যও কখনও তিনি প্রত্যাহার করেন না। যে যাহাই বলিয়া যাক, তিনি সেই আপনার কথাই বলিয়া যান। কিন্তু আজিকার এ কথাটার মধ্যে খানিকটা যেন সত্য ছিল। রামকিঙ্করবাবু এবং কমলেশ শিবনাথকে কাশী লইয়া যাইবার জন্য প্রস্তাব করিতেই। পিসিমা বলিলেন, বেশ শিবনাথকে বল; আমি তো তাকে নিয়ে সরে যেতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু

    সে-ই গেল না। তাকেই বল।

    রামকিঙ্করবাবু বলিলেন, আপনারা পাঠালে শিবনাথ যাবে না, এ কি কখনও হয়? সে কি। এর মধ্যে স্বাধীন হয়েছে নাকি?

    কথাটা শৈলজা-ঠাকুরানীকে গিয়া বিধিল। কথাটার সরলার্থ হইতেছে, আপনারাই আসলে পাঠাতে চান না, শিবনাথের মতটা নিতান্তই একটা অজুহাত। তিনি সে কথা প্ৰকাশ না করিয়া। রামকিঙ্করেরই কথার জবাব দিলেন, শিবনাথ স্বাধীন না হলেও বড় হয়েছে, তার মত এখন ফেলা চলে না। আর একটা কথা কী জান, ছেলে ছোট হোক আর বড়ই হোক, ভাল কাজ করলে বাধা কী করে দেব, বল? শিবু তো অন্যায় কিছু করে নি।

    অবরুদ্ধ ক্রোধে রামকিঙ্কর অন্তরে অন্তরে ফুলিয়া উঠিলেন, তিনি বলিলেন, অন্যায় না। হোক, বিপদ আছে। শিবুর জীবন নিয়ে আর আপনারা ইচ্ছামত খেলা করতে পারেন না।

    শৈলজা-ঠাকুরানীও মুহূর্তে মাথা খাড়া করিয়া সবিস্ময়ে বলিয়া উঠিলেন, খেলা! শিবুর জীবন নিয়ে আমরা খেলা করছি! এমন অপ্রত্যাশিত অকল্পিত অভিযোগের উত্তর তিনি বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড খুঁজিয়াও পাইলেন না। উন্নত মস্তকে দৃপ্ত দৃষ্টিতে শুধু আপনার নিষ্কলুষ মহিমাকে ঘোষণা করিয়া রামকিঙ্করবাবুর মুখের দিকে চাহিয়া রহিলেন।

    উত্তর আসিল গৃহান্তরাল হইতে। জ্যোতির্ময়ী উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, খেলাই। এক বয়সে মানুষ পুতুল নিয়ে খেলা করে, পুতুল খেলার বয়স গেলে ভগবান দেন রক্তমাংসের পুতুল মানুষকে খেলবার জন্যে। সে খেলায় বাধা দেবার অধিকার তো কারও নেই।

    রামকিঙ্করের প্রকৃতি দুর্দমনীয় প্রভুত্বের আত্মম্ভরিতার মত্ততায় পরিপূর্ণ, সংসারে প্রতিবাদ বা বাধা পাইলে তিনি আত্মহারা হিংস্র হইয়া ওঠেন। এ উত্তরে তাহার চোখ রক্তবর্ণ হইয়া উঠিল; বলিলেন, জানেন, শিবুর জীবনের ওপর একটি দুগ্ধপোষ্য বালিকার জীবন নির্ভর করছে?

    এবার শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, জানি না? হিন্দুর মেয়ে, বৈধব্য ভোগ করছি, আমরা সে কথা জানি না? শিবুর ওপর অধিকার যা আছে, সে সেই বা পকারই আছে, তোমার নেই। সে

    অধিকার জারি করতে পারে শুধু সে-ই।

    বাহির হইতে গলার সাড়া দিয়া রাখাল সিং বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করিলেন এই মুহূর্তটিতেই, সবিনয়ে আক্ষেপ করিয়া বলিলেন, বাবু তো কাশী যাবেন না বলে দিলেন। তিনি ডাক্তারকে নিয়ে থানায় গেলেন কী কাজে। আমি বার বার–

    গম্ভীরভাবে রামকিঙ্কর বলিলেন, থাক। এস কমলেশ।

    তিনি কমলেশের হাত ধরিয়া অগ্রসর হইলেন। শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, অধিকার শুধু তো শিবুর ওপর তোমাদেরই নেই, শিবুর বউয়ের ওপর অধিকার আমাদেরও আছে। আমার বউ পাঠিয়ে দেবে তোমরা।

    রামকিঙ্করবাবু ফিরিয়া দাঁড়াইয়া বলিলেন, তার ওপর যা অধিকার, সে কেবল শিবুরই আছে। শিবনাথ যখন যাবে সে দাবি নিয়ে, তখন সে আসবে।

    কমলেশের হাত ধরিয়া দৃপ্ত ক্রুদ্ধ পদক্ষেপে রামকিঙ্করবাবু চলিয়া গেলেন। পিসিমা কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিলেন, আমার বউ এই মাসেই আমি আনব, কে ঠেকায় আমি দেখব।

    জ্যোতির্ময়ী বলিলেন, না, এরপর আর সে হয় না ঠাকুরঝি।

    দুর্গা-ঠাকুরানী ঘরে বসিয়া এই কথারই সমালোচনা করিতেছিলেন। শুধু শৈলজা-ঠাকুরানী নয়, জ্যোতির্ময়ীও বাদ গেলেন না। শিবু কিন্তু সমালোচনা শুনিয়া রাগ করিল না, হাসিল। আশ্চর্য, এই কর্মসমারোহের মধ্যে পড়িয়া শিবু অনুভব করে, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা স্নেহ অনুকম্পা ঘৃণা আক্রোশ–এ যেন সে ভুলিয়াই গিয়াছে।

    ঠাকুরবাড়িতে আসরের ব্যবস্থা করিতে হইবে, সন্ধ্যায় সেখানে ম্যাজিক-ল্যান্টার্ন দেখানো হইবে।

    তাহার আর দাঁড়াইয়া দুর্গা-ঠাকুরানীর সমালোচনা শুনিয়া উপভোগ করিবার সময় হইল। না, হাসিতে হাসিতেই সে অগ্রসর হইল।

    ঢাক বাজিতেছে। সদর রাস্তায় রাস্তায় ঢাক বাজাইয়া বোধহয় কিছু ঘোষণা করিয়া চলিয়াছে। বোধহয় সামাজিক কোনো অনুশাসন। সরকারি কাজের ঘোষণা হইলে ঘেঁড়ি বাজিয়া থাকে, সামাজিক ঘোষণায় বাজে ঢাক। কিসের ঘোষণা? সহসা এই বিপর্যয়ের মধ্যে সমাজ সচেতন হইয়া উঠিল কেমন করিয়া?

    রক্ষেকালীর পুজো হবে, পরশু অমাবস্যের দিন। চাঁদা লাগবে, চাল লাগবে সব। দেবাংশী দোরে মালসা পেতে দেবে, সরষে-পোড়া ছড়িয়ে দেবে।

    দুর্গা-ঠাকুরানীও বাহির হইয়া আসিয়াছিলেন। দুইটি হাত জোড় করিয়া উদ্দেশে অনাগত দেবীকে প্রণাম জানাইয়া বলিলেন, এইবার আসল বিহিতটি হল। মা আসবেন, এসে এক রেতে তেড়ে বার করবেন গা থেকে। এই কী বলে গো, এই ইয়ে গাঁয়ে এক মাস কলেরা, শেষে যেদিন রক্ষেকালী পুজো হল, সেদিন রেতে পথে পথে সে কী কান্না মা! তারপর এই ভোরবেলাতে এই কালো বিভীষণ চেহারার এক মেয়ে এক চেটাই বগলে গাঁ থেকে বেরিয়ে গেল।

    শিবনাথ হাসিয়া বলিল, কে দেখেছিল?

    অঃই, অঃই ঠাট্টা আরম্ভ হল! তোমরা বাবা এখনকার ছেলে, তোমাদের কাজটাই তোমাদের কাছে বড়, আর সব ঠোঁট উলটানো আর ঠাট্টা, সব মিছে কথা। তা বাবা, মিছেই। বটে বাবা, মিছেই বটে। তোমরা বড়লোক, তোমরা বিদ্বেন, তোমরা পরোপকারী, তোমরা সব; আর আমরা ছোটলোক, আমরা পাজি, আমরা ছুঁচো, আমরা মুখ, হল তো বাবা।

    শিবু একেবারে হতবাক নিস্তব্ধ হইয়া তাহার মুখের দিকে চাহিয়া চলিয়া গেল। দুর্গাঠাকুরানী আর দাঁড়াইলেন না, বাড়ি ফিরিলেন। ফিরিতে ফিরিতে এবার বিজয়গর্বে সদম্ভে বলিলেন, দেখ দেখি, বলে কিনা, আমরাই সব করছি। বলি, তুই কে রে বাপু, তুই কে?

    শিবনাথ ক্ষুণ্ণমনেই চলিতে চলিতে অকস্মাৎ আবার হাসিয়া উঠিল। দুর্গা-ঠাকুরানীর রণকৌশলটি বড় ভাল। চমৎকার!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }