Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প400 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৩. জ্যোতির্ময়ী যেন শিবনাথের প্রতীক্ষাতেই

    জ্যোতির্ময়ী যেন শিবনাথের প্রতীক্ষাতেই জীবনটুকু দেহের মধ্যে ধরিয়া রাখিয়াছিলেন। বিলিয়ারি কলিকের দারুণ যন্ত্রণা উপশমের জন্য মফিয়া ইন্‌জেকশন দেওয়া হইতেছিল। মরফিয়ার প্রভাবে আচ্ছন্নের মত তিনি পড়িয়া ছিলেন। মধ্যে মধ্যে শ্ৰান্ত চক্ষুপল্লব অতি কষ্টে ঈষৎ উন্মীলিত করিয়া চারিপাশ একবার দেখিয়া লইয়া বলিতেছিলেন, শিবু আসে নি?

    তাহার শয্যাপার্শ্বে শৈলজা দেবী পাথরের মূর্তির মত বসিয়া ছিলেন। ভ্ৰাতৃজায়াকে যে তিনি এত ভালবাসিতেন, সে কথা তিনি এতদিনের মধ্যে আজ প্রথম উপলব্ধি করিলেন। তাহার মনে হইতেছিল, এই সংসারটিতে, শুধু এই সংসারটিতে কেন, সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে তাঁহার সকল দাবি-দাওয়ার মূল দলিলখানি যেন আজ নষ্ট হইতে বসিয়াছে। রোগে সেবা শুশ্রুষা তিনি কোনো কালেই করিতে পারেন না, তবে বিপদ-আপদের দুর্যোগের মধ্যেও দৃঢ় মুষ্টিতে সংসার-তরণীর হালখানি ধরিয়া অটুট ধৈর্যের সহিত বসিয়া থাকিতে তিনি পারেন; কিন্তু আজ যেন সে শক্তিও তাঁহার নিঃশেষে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। জ্যোতির্ময়ীর সেবা করিতেছিল পাচিকা রতন আর নিত্য-ঝি। ডাক্তার দেখানোর ত্রুটি হয় নাই, শৈলজা দেবী সেখানে এতটুকু খেদ রাখেন নাই। শহর হইতে সাহেব ডাক্তার আসিয়া বলিয়া গিয়াছেন, এত মফিয়া সহ্য করিবার মত শক্তি রোগিণীর নাই।

    জ্যোতির্ময়ীর প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে শৈলজা দেবীর মন অসহনীয় উদ্বেগে পীড়িত হইয়া উঠিল। রামরতন আজ দুই দিন হইল শিবুকে আনিতে গিয়াছেন, তবু শিবু আজও আসিয়া পৌঁছিল না কেন? কোথায় এমন কোন জটিল জালের মধ্যে গিয়া জড়াইয়া পড়িল যে, মায়ের অসুখ শুনিয়াও সে আসিতে পারিল না? সঙ্গে সঙ্গে একটি লাবণ্যময়ী কিশোরীর মূর্তি মনের ছায়াপটে ভাসিয়া উঠিল; সে-ই যেন পথরোধ করিয়া শিবুর বক্ষোলীনা হইবার ভঙ্গিতে দাঁড়াইয়া আছে। এতক্ষণে নিস্পন্দ অসাড় মূর্তিতে স্পন্দন জাগিল, শ্বাসরোধী স্বপ্নের মধ্যে অসহ্য যন্ত্রণায় বহু কষ্টে যেমন মানুষ জাগিয়া ওঠে, তেমনভাবেই শৈলজা দেবী এতক্ষণে একটা দীৰ্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া উঠিয়া পাঁড়াইলেন। আবার টেলিগ্রাম করিতে হইবে, অন্তত রামরতন ফিরিয়া আসুক। সুকঠিন প্রয়াসে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখিয়া তিনি স্বাভাবিক পদক্ষেপে নিচে নামিয়া আসিয়া ডাকিলেন, সতীশ!

    নিচের তলাটা জনশূন্য, কেহ কোথাও নাই। এমনকি ২১৯ নম্বর তৌজির লন্দী বেহারী বাগদী, যাহাকে অহরহ এ দুঃসময়ে ঘর-দুয়ার আগলাইবার ভার দেওয়া হইয়াছে, সে লোকটা পর্যন্ত নাই। তাহার ইচ্ছা হইল চিৎকার করিয়া বাড়িখানার ইটকাঠের নিরেট দেওয়ালগুলা পর্যন্ত চৌচির করিয়া ফাটাইয়া দেন। কিন্তু কিছু করিবার পূর্বেই সদর-দরজার রাস্তা-ঘরে একেবারে কয়েক জোড়া জুতার শব্দ বাজিয়া উঠিল। বিভিন্ন মানুষের পদশব্দের বিভিন্নতার মধ্যেও তাঁহার অন্তরের শব্দানুভূতি একাগ্র উন্মুখ হইয়া উঠিল। কে? কে? এ কাহার পদশব্দ? পরক্ষণেই তাহাব সকল সন্দেহের নিরসন করিয়া অন্দরের উঠানে সর্বাগ্রে প্রবেশ করিল শিবু, তাহার পশ্চাতে রামরতনবাবু, সর্বশেষে রাখাল সিং।

    দৈহিক কৃশতাহেতু শিবুকে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ বলিয়া মনে হইতেছিল, তৈলহীন রুক্ষ দীর্ঘ চুল, শুভ্র দীপ্ত চোখে ধারালো দৃষ্টি, সে যেন ভবিতব্যতার সকল কঠোরতার সম্মুখীন হইবার জন্য প্রস্তুত হইয়া আসিয়াছে। বিচিত্র মানুষের প্রকৃতি, শৈলজা দেবীর মুহূৰ্তপূর্বে বজ্রগর্ভ অন্তর পরমুহূর্তে বর্ষণোণুখ হইয়া উঠিল। তাহার ঠোঁট দুইটি কাঁপিয়া উঠিল, তিনি বহুকষ্টে আত্মসংবরণ করিয়া বলিলেন, আসতে পারলি বাবা?

    শিবু স্থিরদৃষ্টিতে পিসিমার দিকে চাহিয়া শান্ত অথচ সকরুণ কণ্ঠে প্ৰশ্ন করিল, পিসিমা, আমার মা?

    ফোঁটা কয়েক অবাধ্য অশ্রু পিসিমার চোখ হইতে টপটপ করিয়া ঝরিয়া পড়িল, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া সিক্ত চক্ষু মুছিয়া শৈলজা দেবী বলিলেন, আয়, ওপরে আছে তোর মা।

    লক্ষ্মী বেহারী সেই মুহূর্তেই রঙিন শাড়ির ঘেরাটোপ-ঢাকা শিবনাথের বাক্সটা মাথায় করিয়া বাড়িতে আসিয়া প্রবেশ করিল। রামরতন বলিলেন, শিবু আজ দুদিন কিছু খায় নি, ওকে একটু শরবত খাওয়ান আগে।

    পিসিমা সে কথার উত্তর দিলেন না, বাক্সটার উপরে রঙিন কাপড়ের ঘেরাটোপটার দিকে। চাহিয়া তিনি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে মাস্টারকে বলিলেন, বউমা কই মাস্টার?

    রামরতন বলিলেন, বউমার শরীর নাকি খুব খারাপ, তাই তিনি আসতে পারলেন না।

    শিবু বলিল, ও-কথাটা তাদের অজুহাত পিসিমা; আসলে তারা তাকে পাঠালেন না।

    পাঠালেন না?

    না।

    দুর্জয় ক্রোধে শৈলজা দেবীর মুখখানি ভীষণ হইয়া উঠিল, কিন্তু সে ক্রোধ প্রকাশের অবকাশ তাহার হইল না; উপরের বারান্দা হইতে ঝুঁকিয়া নিত্য-ঝি বলিল, দাদাবাবুকে মা ডাকছেন। পিসিমা।

    শিবু আর অপেক্ষা করিল না, সে দ্রুতপদে উপরে উঠিয়া গেল। শৈলজা দেবীও শিবুর অনুসরণ করিয়া উপরে আসিয়া ভ্ৰাতৃজায়ার শিয়রে বসিয়া বলিলেন, তোমার শিবু এসেছে ভাই বউ।

    জ্যোতির্ময়ী অর্ধ-নিমীলিত চোখে অলস আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে শিবুর মুখের দিকে চাহিয়া ছিলেন, শিবু মায়ের কপালে অতি মৃদু স্পর্শে হাত বুলাইতেছিল। জ্যোতির্ময়ী শৈলজা দেবীর কথার কোনো উত্তর দিলেন না, ক্ষীণ ক্লান্ত স্বরে তিনি শিবুকে বলিলেন, কোনো অন্যায় করিস নি তো শিবু?

    শিবনাথ অবিচলিত দৃষ্টিতে মায়ের দিকে চাহিয়া বলিল, না মা।

    জ্যোতির্ময়ী অতি কষ্টে হাতখানি ছেলের কোলের উপর রাখিয়া প্রশান্ত মুখে চোখ বুজিলেন।

    শৈলজা দেবী ডকিলেন, বউ!

    জ্যোতির্ময়ী চোখ না খুলিয়া জ্বর ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, উঁ?

    শৈলজা বলিলেন, বল, তোমার কী কষ্ট হচ্ছে শিবুকে বল।

    ধীরে ধীরে মাথাটি নাড়িয়া জ্যোতির্ময়ী জানাইলেন, না।

    শিবনাথ এবার বলিল, কী হচ্ছে তোমার, বল মা?

    একটা ম্লান হাসি জ্যোতির্ময়ীর অধরে ফুটিয়া উঠিল, তিনি ক্ষীণ কণ্ঠে ধীরে ধীরে বলিলেন, চলে যাচ্ছি, মনে হচ্ছে, অনেক দূরে আমি চলে যাচ্ছি। তোরা যেন কতদূর থেকে কথা বলছি, সব যেন ঝাপসা হয়ে আসছে।

    এই কথা কয়টি বলিতেই তাহার ললাটে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটিয়া উঠিল। শিবু সযত্নে তাহা মুছাইয়া দিয়া বাতাস করিতে আরম্ভ করিল।

    অপরাহ্রের দিকে নিঃশেষিত তৈল প্রদীপের মতই ধীরে ধীরে নিঃশেষে ক্ষয়িত হইয়া জ্যোতির্ময়ী মৃত্যুর মধ্যে যেন বিলীন হইয়া গেলেন।

     

    মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়া শেষ করিয়া শিবু এক অদ্ভুত মন লইয়া ফিরি। চোখের সম্মুখে উপর্যুপরি দুই-দুইটি মানুষের আকস্মিক মৃত্যু দেখিয়া তাহার মন সমগ্র সৃষ্টির নশ্বরতার কথাই গভীরভাবে উপলব্ধি করিবার চেষ্টা করিতেছিল; কিন্তু সে উপলব্ধির মধ্যে এক বিন্দু খেদ ছিল না, আক্ষেপজনিত বৈরাগ্য ছিল না, মৃত্যুর প্রতি ভয় ছিল না। যে মানুষ দুইটিকে মৃত্যু আক্রমণ করিল, সে মানুষ দুইটি সহাস্যে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিয়া মৃত্যুর আক্রমণের তীব্রতাকে হতমান করিয়া দিয়াছে। বারান্দায় কম্বল বিছাইয়া তাহারই উপর বসিয়া সে এই কথাটাই ভাবিতেছিল। তখন প্রায় শেষ রাত্রি, শরতের অমলধবল জ্যোৎস্নার মধ্যে মানুষের রাজ্য সুষুপ্ত, কিন্তু মৃত্তিকার রন্ধ্রে রন্ধ্রে অসংখ্য কোটি কীটপতঙ্গের বিচিত্র সম্মিলিত স্বরধ্বনি ধরণীর মর্মর-সঙ্গীতের মত অবিরাম ধ্বনিত হইতেছে। ইহারই মধ্যে শিবনাথ যেন সমগ্র সৃষ্টির জীবনস্পন্দন অনুভব করিল, তাহার চোখের সম্মুখের জ্যোত্সালোক-প্রতিফলিত অচঞ্চল খওপ্রকৃতি অসীমবিস্তার হইয়া ধরা দিল, ইহারই মধ্যে সমগ্র ধরিত্রীকে সে যেন দেখিতে পাইল। জন্ম-মৃত্যুর সমুদ্রমন্থনে উঠিয়া রহস্যময়ী ধরিত্রী এমনই মনোরমা মূর্তিতে যুগ-যুগান্তর ধরিয়া দাঁড়াইয়া আছেন। কী অপূর্ব আজিকার ধরিত্রীর রূপ! তাহার মা ছিলেন এই জ্যোৎস্নাবৰ্ণময়ী নিশীথের মত প্রশান্ত স্থৈৰ্যময়ী , দিবসের কলরবের উন্মত্ততা তাঁহার জীবনে ছিল না, তিনি ছিলেন এমনই নৈশপ্রকৃতির মত অশ্রান্ত মর্মসঙ্গীতময়ী। তাহার মনে পড়িয়া গেল—শুভ্ৰ জ্যোস্না-পুলকিত-যামিনীম্, ফুল্লকুসুমিত-দ্ৰুমদলশোভিনীম্, সুহাসিনীং সুমধুরভাষিণীম্, সুখদাং বরদাং মাতরম্বন্দে মাতরম্।

    মনে মনে কয়টি লাইন আবৃত্তি করিতে করিতে সহসা তাহার মনে হইল, তাহার ওই মায়ের জীবনধারার মধ্যে শারদাকাশের ছায়াপথের মত একটি সাধনার স্রোতের আভাস যেন সে অনুভব। করিতেছে। তাহার সেই কয়েক ঘণ্টার পরিচিত মানুষটিকে মনে পড়িয়া গেল, হাসিমুখে যিনি ভুলের মাসুল কড়ায়গায় শোধ করিয়া দিলেন।

    শিবু!—শৈলজা-ঠাকুরানী শ্মশান-বন্ধুদের বিদায় করিয়া এতক্ষণে আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

    শিবনাথ এতক্ষণে একটি গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া মুখ তুলিয়া বলিল, পিসিমা?

    হ্যাঁ। শুয়ে পড় বাবা। রাত্রি যে শেষ হয়ে এল!

    এই শুই।—বলিয়া সে কম্বলের উপর ক্লান্ত দেহ প্রসারিত করিয়া দিয়া কহিল, এরকম রাত্রি কিন্তু বড় দীর্ঘই হয়ে থাকে পিসিমা।

    স্নেহভরে শিবনাথের মাথায় হাত বুলাইয়া দিতে দিতে শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, দুঃখের রাত্রি শেষ হতে চায় না বাবা, ক্ষণকে মনে হয় যেন একটা যুগ। কিন্তু ধৈর্য যে ধরতেই হবে বাবা। বিপদের পরও যে মানুষের কর্তব্য ফুরোয় না–কর্তব্য না করলে যে উপায় নেই।

    শিবনাথ আবার একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া চোখ বুজিল। শৈলজা-ঠাকুরানী বসিয়া নিস্তব্ধ। নৈশপ্রকৃতির দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া থাকিতে থাকিতে অবিরল ধারায় নীরবে কাঁদিয়া আকুল হইয়া উঠিলেন। বউ—তাহার সকল সুখদুঃখের অংশভাগিনী, সহোদরার মত মমতাময়ী, সখীর মত প্রিয়ভাষিণী—জ্যোতির্ময়ী নাই, কোথায় কোন্ অজানার মধ্যে হারাইয়া গেল!

    পরদিন প্রভাতে কিন্তু সদ্যবিয়োগদুঃখে কাতর অবসন্ন শিথিলগতি এই সংসারটির মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করিয়া স্বাভাবিক রূপ লইয়া সর্বাগ্রে জাগিয়া উঠিলেন শৈলজা-ঠাকুরানীই। ঘরের দুয়ারে দুয়ারে জল দিয়া তিনি নিত্য ও মানদা ঝি এবং রতন পাচিকাকে ডাকিয়া তুলিলেন, নিত্য, রতন, মানদা ওঠ মা, আর শুয়ে থেকো না। রাজ্যের কাজ পড়ে রয়েছে, ওঠ সব।

    রতন একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, উঠব বৈকি মাসিমা। খেতেও হবে, মাখতে হবে, পরতেও হবে, করতে হবে যে সবই।

    শৈলজা দেবী বলিলেন, মা, পৃথিবীর পানে চেয়ে দেখ, ওঁর তো শোক দুঃখ কিছু মানলে চলে না, ভূমিকম্পই হোক আর ঝড়-বৃষ্টিতে বুক ভেঙে ভেসেই যাক, দিনরাত্রি সেই সমানে হবে, আর সৃষ্টিকেও সেই বুকে করেই ধরে রাখতে হবে। নিত্য, মুখে হাতে জল দে মা। আমার সঙ্গে কাছারি-বাড়ি যেতে হবে।

    গোটা কাছারি-বাড়িটাও মুহ্যমানের মত অবসন্ন স্তব্ধ। বারান্দার তক্তপোশটার উপর রাখাল সিং গালে হাত দিয়া উদাস দৃষ্টিতে চাহিয়া বসিয়া ছিলেন, নিচে দেওয়ালে ঠেস দিয়া বসিয়া কেষ্ট সিং আকাশের দিকে চাহিয়া ছিল, সতীশ চাকর উবু হইয়া দুই হাতে মাথা ধরিয়া বসিয়া আছে, মাস্টার রামরতনবাবু শুধু বারান্দায় পায়চারি করিতে করিতে মোহমুগর আওড়াইতেছেন, শৈলজা-ঠাকুরানী আসিয়া দাঁড়াইলেন, কিন্তু তবুও আজ কাহারও মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা গেল না।

    শৈলজা দেবী বলিলেন, সিংমশায়, এমন করে বসে থাকলে তো চলবে না। যা হবার সে তো হয়েই গেল, এখন ক্রিয়াকর্মের ব্যবস্থা করতে হবে যে। দশটা দিন সময়, তার মধ্যে একটা। দিন তো চলে গেল।

    রাখাল সিং যেন একটু লজ্জিত হইয়া পড়িলেন। সত্য কথা, এ কর্তব্যকর্মে সজাগ হইয়া উঠা উচিত ছিল তাঁহারই সর্বাগ্রে। তিনি কেষ্ট সিংকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, কাঠটা কাটিয়ে ফেলতে হবে সকলের আগে। তেঁতুল কিংবা কয়েতবেলের গাছ দুটো কাটিয়ে ফেল, বুঝলে হে?

    কেষ্ট সিং একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া নড়িয়াচড়িয়া বসিয়া বলিল, কোথাকার গাছ কাটব বলুন? কাছে-পিঠেই কাটতে হবে, নইলে এই জল-কাদার দিনে গাছ নিয়ে আসাই হবে মুশকিল।

    রামরতনবাবু পদচারণায় ক্ষান্ত দিয়া তক্তপোশটায় আসিয়া বসিলেন। সম্মুখের এই আসন্ন কর্তব্যকর্মটির দায়িত্বের অংশ যেন তিনি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করিয়া বলিলেন, গাছ কোথায় কাটাতে হবে, মাছ কোথায় ধরাতে হবে, ওই আপনার চাল তৈরি করতে কোথায় দিতে হবে, এ ভারগুলো হল কে সিংয়ের। ওগুলো ওকেই ছেড়ে দিন। মহলের গোমস্তাদের আনিয়ে তাদের সব কাজ ভাগ করে দিন। ইংরেজিতে একে বলে—ডিভিশন অব লেবার; বড় কাজ করতে হলেই ও না হলে হবে না। আপনি বরং সর্বাগ্রে একটা ফর্দ করে ফেলুন দি ফার্স্ট অ্যান্ড দি মোস্ট ইম্পৰ্ট্যান্ট থিং।

    রাখাল সিং বহুদৰ্শী ব্যক্তি, তিনি বলিলেন, তা হলে গ্রামের মুরব্বিদের একবার আহ্বান করে তাদের পরামর্শমত ফর্দ করাই উচিত। অবশ্য তারাও সব আপনা হতেই আসবেন।

    রামরতনবাবু বলিলেন, ইয়েস। এটা তাদেরও একটা সামাজিক কর্তব্য।

    রাখাল সিং মাথা চুলকাইয়া বলিলেন, বাবুর মামাশ্বশুরকেও একটা খবর দিতে হয়, তাদেরও একটা মতামত না কী বলেন মাস্টারমশায়?

    শৈলজা-ঠাকুরানী বলিলেন, হ্যাঁ, খবর দিতে হবে বৈকি। আর পরামর্শ চাইতেও হবে। কিন্তু সকলের আগে একখানা টেলিগ্রাম করতে হবে বউমাকে পাঠিয়ে দেবার জন্যে, মাস্টার একখানা টেলিগ্রাম লেখ তো বাবা।

    রাখাল সিং বলিলেন, এঁদের ম্যানেজারকে ডেকে তাকে দিয়েও একখানা পত্র বরং–

    শৈলজা দেবী বলিলেন, এতটা নামতে পারব না সিংমশাই; আমার বউ আনতে বউয়ের মামার কর্মচারীকে সুপারিশ করবার জন্যে ধরতে পারব না।

    এই সময়েই কাছারি-বাড়ির ফটকে কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি প্রবেশ করিলেন; সামাজিক প্রথা অনুযায়ী তাঁহারা তত্ত্বতল্লাশ করিতে আসিয়াছেন। শৈলজা দেবী মাথায় স্বল্প একটু অবগুণ্ঠন টানিয়া দিয়া বলিলেন, ভদ্রলোকেরা আসছেন, আমি তা হলে বাড়ির মধ্যে যাই, শিবুকে পাঠিয়ে দিই। মাস্টার, তুমি বাবা টেলিগ্রামখানা লিখে এখুনি পাঠিয়ে দাও।

    তিনি একটু দ্রুত পদক্ষেপেই কাছারি-বাড়ি হইতে বাহির হইয়া গেলেন। রাখাল সিং সতীশকে বলিলেন, গড়গড়ায় জল ফিরিয়ে দে সতীশ, কাছারি-ঘরখানাও খুলে দে।

    সতীশ কাছারি-ঘর খুলিয়া সমস্ত জানালা-দরজাগুলি খুলিতে আরম্ভ করিল; রাখাল সিং জোড়হাতে কাছারির দাওয়া হইতে নামিয়া বাগানের পথের উপর দাঁড়াইয়া আগন্তুকগণকে অভ্যর্থনা করিলেন।

     

    শৈলজা-ঠাকুরানী বাড়ির মধ্যে আসিয়া দেখিলেন, শিবুর কাছে বসিয়া আছেন এ সংসারের সেই সন্ন্যাসী বন্ধুটি_শিবুর গোঁসাই-বাবা স্থানীয় দেবস্থানের গদিয়ান রামজী সাধু। স্ন্যাসীকে দেখিয়া একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া শৈলজা বলিলেন, আসুন দাদা, থাকল না, ধরে রাখতে পারলাম না।

    সন্ন্যাসী নিমেষহীন স্থিরদৃষ্টিতে সম্মুখের দিকে চাহিয়া নীরবে বসিয়া রহিলেন। এ সংসারটির সহিত তাহার পরিচয় মৌখিক নয়, গভীর এবং আন্তরিক; আন্তরিকতার মধ্য দিয়া জীবনের সকল মমতা তিনি এইখানে উজাড় করিয়া ঢালিয়া দিয়াছিলেন। চোখ ফাটিয়া জল বাহিরে আসিতে চাহিতেছিল, তাই তিনি নির্নিমেষ দৃষ্টিতে কঠোরতার উত্তাপে সে জল শুষ্ক করিয়া দিবার প্রয়াস করিলেন।

    শিবনাথ সন্ন্যাসীর মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, মৃত্যু কী, বলতে পার গোঁসাই-বাবা?

    সন্ন্যাসী ম্লান হাসি হাসিয়া অপকপটে আপনার অজ্ঞতা অস্বীকার করিলেন, হামি জানে না বাবা; উ যদি হামি জানবে বাবা, তবে সন্সার ছোড়কে ফিন কেনো মায়াজালমে গিরবো হামি?

    শৈলজা দেবী শিবুর এই তীক্ষ্ণ অনুভূতিপ্রবণতা দেখিয়া কাল হইতেই শঙ্কিত হইয়া উঠিয়াছিলেন; শিবুর মনকে যেন তিনি স্পৰ্শ করিতে পারিতেছেন না; তিনি প্রসঙ্গটা বন্ধ করিবার জন্যই তাড়াতাড়ি বলিলেন, ওসব উদ্ভট ভাবনা ভেবো না বাবা। জন্ম মৃত্যু হল বিধাতার কীর্তি, চিরকাল আছে, ওতেই সংসার চলছে। ওর কি আর জবাব আছে?

    বিস্ময়বিমুগ্ধতার একটি মৃদু হাস্যরেখা শিবনাথের মুখে ফুটিয়া উঠিল, সে বলিল, বুদ্ধদেব বলে গেছেন, নির্বাণ; বিজ্ঞান বলে, দেহের যন্ত্রণাসমূহের ধ্বংসেই সব শেষ; সাধারণে বলে, জন্মান্তর।

    সন্ন্যাসীও এবার যেন হাঁপাইয়া উঠিলেন, তিনি তাহাকে বাধা দিয়া বলিলেন, ছোড় দে বেটা; কর আপনা কাম ভাই, ভজ ভগবান, মরণকে কেয়া ডর, তুমহারা মতি মান।

    শৈলজা দেবী বলিলেন, ওসব কথা এখন থাক্ দাদা; আপনি বরং শিবুকে নিয়ে একবার বৈঠকখানায় যান। গ্রামের ভদ্রলোকজন সকলে আসছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাঁদের পাঁচজনের পরামর্শ নিতে হবে, নিয়ে কাজ করতে হবে। কথায় বলে, মাতৃপিতৃদায়।

    সন্ন্যাসী বলিলেন, আসিয়েছেন সব? তবে চল্ বেটা শিবু, বাহারমে চল্ বাবা হামার। উনিলোগ কী মনমে লিবেন?

    শিবু উঠিল, আর বিলম্ব করিল না। উঠিতে উঠিতে তাহার মনে হইল, সমাজে বাস করার এ মাসুল; না দিয়া উপায় নাই, দিতেই হইবে।

    কাছারিতে তখন আরও কয়েকজন ভদ্রলোক আসিয়া উপস্থিত হইয়াছেন, গড়গড়ায় তামাক দেওয়া হইয়াছে, ঠুকাতেও তামাক চলিতেছে। রাখাল সিং সসম্ভ্ৰমে দাঁড়াইয়া আছেন, মাস্টার এক পাশে বসিয়া কথাবার্তা শুনিতেছেন।

    কথা হইতেছিল নাবালক শিবনাথের অভিভাবকত্ব লইয়া। কৃষ্ণদাসবাবুর মৃত্যুর পর নাবালক শিবনাথের স্বাভাবিক অভিভাবক ছিলেন তাহার মা; এখনও শিবুর সাবালকত্ব অর্জন করিতে প্রায় তিন বৎসর বিলম্ব আছে।

    শিবনাথের পিতৃবন্ধু মানিকবাবু এ গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি, তিনিও জমিদার, তিনি বলিতেছিলেন, অবশ্য শিবনাথের পিসিমাই এখন সত্যকার অভিভাবক। কিন্তু আমার বিবেচনায় আইনে আদালতে দরখাস্ত করে তাঁর অভিভাবক না হওয়াই ভাল।

    একজন বলিলেন, কেন, হলেই বা ক্ষতি কী? আমার বিবেচনায় তাঁরই তো হওয়া উচিত।

    মানিকবাবু বলিলেন, অর্থ অনর্থম্ ভাবয় নিত্যম-বুঝলে, বিষয় হল বিষ, অমৃতকেও সে নষ্ট করে। ধর, ভবিষ্যৎ বনিবনাও আছে, যদিই কোনো কারণে তার সঙ্গে বনিবনাও না হয়, তখন এই দায়িত্ব নিয়েই তার নানা ফ্যাসাদ হতে পারে।

    রামরতনবাবু বারবার এ কথাটা অস্বীকার করিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, না না না, শিবনাথের এমন মতিগতি কখনও হতে পারে না। শিবনাথ কখনও তার কাজে না করতে পারে না।

    মানিকবাবু হাসিয়া বলিলেন, আপনি মাস্টার, শিক্ষক মানুষ, সাংসারিক জ্ঞান আপনাদের কিছু কম। অবশ্য অনেক শিক্ষক তেজারতি-মহাজনি করেন, মামলা-মকদ্দমাতেও ওস্তাদ শিক্ষকের নাম শুনতে পাই, কিন্তু আপনি তো সে দলের নন। তাই কথাটা ভেঙে বলতে হচ্ছে। ভাল কথা, শিবনাথ তাঁকে খুবই ভক্তি করে, মান্য করে, মেনে নিলাম। কিন্তু শিবনাথের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যদি না বনে? তখন শিবনাথ কাকে ফেলবে? পিসিমাকে, না স্ত্রীকে?

    কথাটা শুনিয়া সকলেই নিস্তব্ধ হইয়া গেল। এমন করিয়া অন্তর্ভেদী দৃষ্টি হানিয়া কেহ। অবস্থাটা দেখিয়া ভবিষ্যতের কথা ভাবে নাই। তাহা ছাড়াও, প্রকাশ্যভাবে কথাটার বহিরাবরণ এমন করিয়া উন্মুক্ত করিয়া দেওয়ার ফলে সকলেই অল্প লজ্জিত না হইয়া পারিল না। সত্য হইলেও কথাটার সহিত লজ্জার যেন একটু সংস্রব আছে, অন্তত পল্লীর প্রাচীন সমাজে আছে। শিবনাথ ঠিক এই নির্বাক অবসরটিতেই আসিয়া কাছারি-ঘরে প্রবেশ করিল।

    মানিকবাবু সস্নেহে তাহাকে সম্ভাষণ করিয়া বলিলেন, এস বাবা, এস। তোমার অপেক্ষাতেই রয়েছি আমরা।

    শিবনাথ অল্প ইতস্তত করিয়া বলিল, প্রণাম তো করতে পাব না আমি এখন?

    না। অশৌচকালে প্রণাম নিষেধ। বোসো, তুমি বোসো, এইখানেই কম্বলটা বিছিয়ে বোসো।

    ওদিক হইতে একজন প্রসঙ্গটা পুনরুত্থাপিত করিয়া বলিলেন, তা হলে শিবনাথের শ্বশুরদের হাতে ভার দিতে হয়। গ্রামের শ্রেষ্ঠ লোক ওঁরা, বিষয়ও প্রকাণ্ড, তারই সঙ্গে এ এস্টেটও বেশ চলে যাবে।

    মানিকবাবু বলিলেন, তা অবশ্য বলতে পারেন, চলেও অবশ্য যাবে, জাহাজের পেছনের জেলে-বোটের মত। কিন্তু কৃষ্ণদাসদাদার ছেলে ঘরজামাই না হয়েও শ্বশুরের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে, এটা আমার কোনোমতেই ভাল লাগছে না।

    শিবনাথ কথাটা বুঝিতে পারি না, কিন্তু মানিকবাবুর কথার বঙ্কিম তীক্ষা তাহাকে বিদ্ধ করিল, সে পূর্ণ দৃষ্টিতে মানিকবাবুর মুখের দিকে চাহিয়া বলি , কথাটা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না কাকা।

    মানিকবাবু বলিলেন, তোমারই অভিভাবকত্বের কথা হচ্ছে বাবা। তোমার মা মারা গেলেন, এখন আদালতগ্রাহ্য অভিভাবক হবে কে? সেই নিয়ে কথা হচ্ছে। আমার মতে তোমার পিসিমার হওয়া উচিত নয়; এরা তোমার শ্বশুরদের কথা বলছেন, সেও আমি বেশ পছন্দ করতে পারছি না।

    শিবনাথ বলিল, পরে সেটা ভেবে দেখলেই হবে কাকা, এখন আমার মায়ের কাজকর্ম কী করে সুশৃঙ্খলে হয়, সেই ব্যবস্থা করে দিন আপনারা।

    একটা অপ্রিয় অবাঞ্ছনীয় আলোচনার জটিল জাল হইতে মুক্তি পাইয়া সকলে যেন হপ ছাড়িয়া বচিল। একসঙ্গে কয়েকজনই শিবনাথের কথাতেই সায় দিয়া বলিয়া উঠিল, ঠিক কথা, ও তো হল পরের কথা; এখন মাথার ওপরে যে দায় চেপেছে, তারই ব্যবস্থা করা হোক।

    মানিকবাবু গম্ভীরভাবে বলিলেন, বেশ তো, খরচপত্র কী রকম করা হবে, কৃতীর সামর্থ্য কতখানি, সে কথা আমাদের জানালেই আমরা সেই মত ব্যবস্থা করে দেব। কী রাখাল সিং, খরচপত্র কী রকম করা যেতে পারে, এস্টেটের সামর্থ্য কতখানি, সে কথা তুমিই বলতে পারবে ভাল, বল তুমি সে কথা।

    কথাটার উত্তর দেওয়া সহজ নয়, উত্তর দিতে হইলে এস্টেটের গোপন কথাটি প্রকাশ করিতে হয়, রাখাল সিং বিব্রত হইয়া পড়িলেন। সতীশ চাকর সেই মুহুর্তে সসম্ভ্ৰমে ঘরে প্রবেশ করিয়া রাখাল সিংকে বলিল, পিসিমা আপনাকে একবার ডাকছেন, এই পাশের ঘরেই আছেন। রাখাল সিং দ্রুতপদেই ঘর হইতে বাহির হইয়া গেলেন।

    সতীশ গড়গড়ার কঙ্কে পাল্টাইয়া নূতন কল্কে বসাইয়া দিল, ওপাশ হইতে কা হাতে করিয়া এক ব্যক্তি বলিলেন, এটাও পালটে দাও হে, শুধু গড়গড়ার মাথাতেই নজর রেখো না, বুঝলে?

    সতীশ তাড়াতাড়ি বলিল, আজ্ঞে না, কোর কল্কেও সেজে এনেছি, এই যে।

    বক্তা বলিলেন, কন্ধে তো দু রকম, তামাক দু রকম নয় তো?—বলিয়া আপন রসিকতায় তিনি হা-হা করিয়া হাসিয়া আকুল হইয়া উঠিলেন।

    সহসা শিবনাথ বলিল, আচ্ছা কাকা, কোনো উকিলকে গাৰ্জেন নিযুক্ত করে আমি নিজে তো সম্পত্তি দেখতে পারি?

    মানিকবাবু তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ছেলেটির মুখের দিকে চাহিয়া কয়েক মুহুর্ত নীরব হইয়া রহিলেন, এরূপ একটি সমস্যার এমন তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্মত সমাধান শিবনাথের মুখে তিনি শুনিবার প্রত্যাশা করেন নাই। তাহার পরই তিনি অল্প একটু হাসিয়া বলিলেন, হ্যাঁ, সে অবশ্য খুবই ভাল যুক্তি; কিন্তু ব্যয়সাপেক্ষ, মানে–উকিল একটা ফি নেবেন।

    শিবনাথ বলিল তা হলে তাই হবে। এই যুক্তিই আমি স্থির করলাম। এখন আপনারা এই শ্ৰাদ্ধের একটা ফর্দ করে দিন।

    রাখাল সিং শিবনাথের কথার মধ্যস্থলেই আসিয়া দাঁড়াইয়াছিলেন। মানিকবাবু বলিলেন, খরচ কী পরিমাণ করা হবে, সেই কথাই তো জিজ্ঞাসা করলাম তোমার নায়েবকে বাবা। সেইটে জানালেই আমরা ব্যবস্থা করে দেব।

    রাখাল সিং এবার জবাব দিলেন, পিসিমাই নিবেদন করিলেন কথাটা। তিনি বলিলেন, মাতৃদায় পিতৃদায়, যেমন করেই হোক সমাধা করতে হবে। তাতে তো মজুত দেখতে গেলে চলবে না। টাকার সংস্থান একরকম করে হয়ে যাবে, আপনি আপনার মাতৃশ্ৰাদ্ধের ফর্দ অনুযায়ী ফর্দ করে দিন দয়া করে।

    মানিকবাবু অত্যন্ত গম্ভীরভাবে বলিলেন, তা হলে কাগজ-কলম নিয়ে এস।

    শৈলজা-ঠাকুরানী এইবার পাশের ঘর হইতে বাহির হইয়া অন্দরে চলিয়া গেলেন। তাহার মুখ বেদনায় যেন বিবর্ণ হইয়া গিয়াছে। নিত্য তাহার মুখের দিকে চাহিয়া প্রশ্ন করিল, পিসিমা, শরীরটা কি খারাপ মনে হচ্ছে?

    পিসিমা সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, না।

     

    দারুণ দুঃখের উপর তিনি মর্মান্তিক আঘাত পাইয়াছিলেন। অভিভাবকত্ব ও বিষয় পরিচালনার ব্যবস্থা লইয়া শিবনাথের প্রস্তাবটি তিনি কাছারি-ঘরের পাশের ঘরে থাকিয়া স্বকর্ণেই শুনিয়াছিলেন। আশ্চর্য মানুষের মন! কয়েক মাস পূর্বে তিনিই শিবনাথকে কাছারি-ঘরে বসাইয়া সম্পত্তি পরিচালনার সমগ্র ভার তাহার হাতে তুলিয়া দিতে চাহিয়াছিলেন, অথচ আজ শিবনাথের মুখেই সেই সংকল্পের কথা শুনিয়া মর্মান্তিক আঘাত অনুভব করিলেন। তাঁহার বারবার মনে হইল, তাঁহার জীবনের সকল প্রয়োজন ফুরাইয়া গিয়াছে। তিনি বাড়িতে আসিয়া অবসনের মত মেঝের উপর শুইয়া পড়িলেন, ভ্ৰাতৃজায়ার অভাব এই মুহূর্তে যেন সহস্ৰগুণে অধিক হইয়া উঠিল। বহুক্ষণ কাঁদিয়া তিনি উঠিয়া বসিলেন, বারবার আপন ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করিয়া আপনার মনকে লক্ষ সান্ত্বনা দিয়া দৃঢ় করিয়া তুলিলেন। রতন ও নিত্য-ঝি দুয়ারের পাশে দাঁড়াইয়া নীরবে অবিসর্জন করিতেছিল, তাহারা ভাবিয়াছিল, শৈলজা দেবী এইবার অবসর পাইয়া জ্যোতির্ময়ীর জন্য কাঁদিতে বসিয়াছেন। মনকে বাঁধিয়া চোখ মুছিয়া শৈলজা দেবী বলিলেন, রান্নাবান্না চড়াও মা রতন। নিত্য, চাকর-বাকরদের জলখাবার বের করে দাও। আমি দেখি, ঠাকুরদের পুজো-ভোগের ব্যবস্থা করে দিই।

    ভাষায় সুরে এ যেন সে শৈলজা-ঠাকুরানী নন।

     

    দুই দিনেই শ্ৰাদ্ধকার্যের বন্দোবস্তের মধ্যে একটি শৃঙ্খলা আসিয়া গেল। হলের গোমস্তারা সকলে আসিয়া গিয়াছে, তাদের সঙ্গে পাইক লক্ষ্মীও আসিয়া কাজে লাগিয়াছে। সমগ্র কাজটি কয়েক ভাগে ভাগ করিয়া এক-একজনকে ভার দেওয়া হইয়াছে, সকল বন্দোবস্তের কর্তৃত্বভার লইয়াছেন মানিকবাবু, রাখাল সিং ও রামরতন হইয়াছেন তাহার সহকারী।

    কলিকাতার বাজারের ফর্দ তৈয়ারি হইতেছিল। রামরতন যাইবেন কলিকাতায় বাজার করিতে। শিবনাথ নীরবে কম্বলের উপর বসিয়া ছিল। সহসা সে রামরতনকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, একটা কথা আপনাকে বলে দিই মাস্টারমশায়।

    কী, বল?

    একবার আপনি সুশীলদার ওখানে যাবেন। তাকে আমার এই বিপর্যয়ের কথাটা জানিয়ে আসবেন। তিনি মাকে বড় ভক্তি করতেন।—বলিতে বলিতেই তাহার ঠোঁট দুইটি কাঁপিয়া উঠিল। আশ্চর্যের কথা, সদ্য মাতৃবিয়োগে সে কাঁদে নাই, সেদিন যেন বুকে সে অসীম ধৈর্য অনুভব করিয়াছিল। কিন্তু যত দিন যাইতেছে, সে যেন ততই দুর্বল হইয়া পড়িতেছে। এ সময়ে পূর্ণ তাহার পাশে থাকিলে বড় ভাল হইত। একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া সে আবার বলিল, পূর্ণ কেমন আছে, এইটে জিজ্ঞেস করতে যেন ভুলবেন না।

    রাখাল সিং ফর্দ করিতে করিতেও বোধহয় কথাটা শুনিয়াছিলেন, তাহার আর একটা কথা মনে পড়িয়া গেল। তিনি একটু ইতস্তত করিয়া বলিলেন, আর একবার মানে, বউমা তো আজও এলেন না, কোনো খবরও পাওয়া গেল না—এঁদের ওখানে একবার গেলে হত না?

    শিবনাথ ঘাড় নাড়িয়া অস্বীকার করিয়া বলিল, না।

    রামরতন সহসা প্রশ্ন করিলেন, কদিন থেকেই তোকে কথাটা জিজ্ঞেস করব ভাবছিলাম শিবু, তুই কি আর পড়বি না?

    কলেজের পড়া আর পড়ব না।

    তাই তো রে! একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া রামরতন বলিলেন, ক্ষুদ্ৰ এই বিষয়টুকুর গণ্ডির মধ্যেই বন্ধ করে রাখবি নিজেকে?

    শিবনাথ চুপ করিয়া সম্মুখের পানে চিন্তাকুল দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। কয়টা কুলি প্রচুর মোটঘাট লইয়া কাছারিতে প্রবেশ করিয়া বলিল, আজ্ঞেন, কোথা রাখব জিনিসগুলি?

    কার জিনিস? কে এল রে বাপু?—রাখাল সিং সবিস্ময়ে প্রশ্ন করিলেন।

    শিবুও সবিস্ময়ে মাথার মোটগুলির দিকে চাহিয়া দেখিয়া চমকিয়া উঠিল, এ বাক্সটা—

    কুলিরা উত্তর দিল, আজ্ঞেন এ বাড়ির বউঠাকরুন এলেন, উ বাড়ির দাদাবাবু এলেন।

    শিবনাথ, রাখাল সিং সকলেই দেখিল, অন্দরের দরজায় কমলেশের পিছনে পিছনে। অবগুণ্ঠনাবৃতা কিশোরী গৌরী বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করিতেছে।

    শিবনাথ একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া চোখ বুজিল, আবার তাহার চোখে জল আসিতেছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }