Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ধুলোবালি – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প216 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫-৬. রাত অনেক হয়েছিল

    ০৫.

    রাত অনেক হয়েছিল। গানুবাবুদের বাড়ির পেটাঘড়িতে একটা বাজল। জিষ্ণুদের গলিতে গানুবাবুদের বাড়ি আর পেটাঘড়ি এখনও মধ্যযুগীয় আবহাওয়াকে মরতে দেয়নি। বেশ লাগে।

    জানলার পাশে লেখার টেবিলে বসেছিল জিষ্ণু। টেবিললাইটের পাশেই ওর শোয়ার খাট। বইপত্র, তানপুরা, হারমোনিয়ম, ছবি আঁকার সাজ-সরঞ্জাম সমস্তই সারাঘরে ছড়ানো ছিটেনো। হাঁটতে গেলে বই সরিয়েই হাঁটতে হয়। আর শ্ৰীমন্তদা শুচিবাইগ্রস্ত মানুষ। সব কিছুই ঝকঝকে তকতকে করে পরিষ্কার না করতে পারলে তার খিদে হয় না। রোজ ডাঁই করা কাপড় কেচে ইস্তিরি না করলেও। এই ঘর পরিষ্কার করা নিয়ে বহু পুরোনো কাজের লোক শ্ৰীমন্তদার সঙ্গে মারামারি লাগে। জিষ্ণু তাকে ঘরে হাত দিতে দেয় না পাছে সব জিনিস এলমেলো হয়ে যায়। কিন্তু শ্ৰীমন্তদা হাত দেবেই দেবে। তার গোছানো মানেই সব এলমেলো করে রাখা। ইনকরিজিবল।

    জিষ্ণু লিখছিল। এমন সময়ে কাকিমা ভেজানো দরজা ঠেলে ঢুকলেন ওর ঘরে।

    কী কাকিমা? ঘুমোওনি?

    পরি যে এখনও ফিরল না।

    এখনও ফেরেনি?

    না। তুই তো বাইরে খেয়ে এসেছিস আজ। নইলে খাওয়ার টেবিলেই জানতিস।

    গেছে কোথায়?

    কোনো দিনও কি বলে যায়? অন্য লোকের কথা ভাবা তার চরিত্রেই নেই। অফিস থেকে গেছে নিশ্চয়ই কোথাও। তবে মনে হচ্ছে রিহার্সালেই গেছে। তাদের অফিসের অফিসার্স ক্লাব থিয়েটার করছে না!

    পুরো পাড়াটা নিঝুম। কুকুরগুলো মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠছে। ট্রাম-বাসের আওয়াজও আর নেই। এই কলকাতাকে কলকাতা বলে চেনা যায় না।

    লেখা বন্ধ করে চেয়ারটা ঘুরিয়ে বসে জিষ্ণু বলল, বোসো কাকিমা! চিন্তা কোরো না। এসে যাবে। কোথায় রিহার্সাল তার ঠিকানা জানা থাকলেও না হয় হত।

    কী করে বলব বল? আমাকে জানালে তবে না জানব।

    আর একটু দেখে তার পর বেলিকে ফোন করে দেখব। এত রাতে মিছিমিছি ফোন করা ঠিক নয়।

    কাকিমা বললেন, যা ভালো মনে করিস কর। এই মেয়ের চিন্তা আমি আর করতে পারি না। দিনে দিনে যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে।

    জিষ্ণু কাকিমাকে অন্যমনস্ক করার জন্যে বলল, বলল, আজ সারাদিনের খবর বলল।

    বহুদিন পর আজ পতু এসেছিল ওর মেয়ে ফুলকিকে নিয়ে।

    পতু কে?

    আরে তোর কাকার কোয়ার্টারের উলটোদিকে থাকত না নীলুবাবুরা? তাঁর স্ত্রী পতু। আর মেয়ে ফুলকি। ফুলকি এম এ পড়ছে এখন। ভারি চমৎকার মেয়ে হয়েছে।

    তাই?

    হ্যাঁ। ওদের অবস্থাও ভালো হয়েছে এখন। বড়ো কষ্ট করে থাকত সেই সময়ে।

    ভালো। আজকে মুড়িঘণ্টটা বড়ো ভালো খেলাম।

    আমিই রেঁধেছিলাম।

    কাকিমা বললেন।

    সে তো আমি খেয়েই বুঝেছিলাম। মোক্ষদাদির হাতের রান্না ভালো কিন্তু তোমার মতো ভালো নয়।

    শ্ৰীমন্তদা কবে আসবে?

    আরও দিন সাতেক পর। দেশে গেলে তো মাস শেষ করেই আসে।

    আর মোক্ষদাদি?

    সে তো কাল ফিরবে। তার পর বললেন, রান্না-বান্না আজকাল ভালো করে করা যাবে কী করে? মোদার কী দোষ? মাপা জিনিসে ভালো রান্না হয় না। আমিও পারতাম না। সে দিনকাল কি আর আছে। সেই মাছ নেই, সেই তেল নেই, সেই মনই নেই যে-রাঁধে তার এবং যে-খায় তারও।

    একদিন ভেটকি মাছের কাঁটা-চচ্চড়ি কোরো তো কাকিমা। তোমার হাতের কাঁটা-চচ্চড়ি বহুদিন খাইনি। সেদিন হীরুকাকাকেও খেতে বোলো।

    বাঁধানো দাঁতে আর কাঁটা-চচ্চড়ি কী খাবে? দু-পাটি দাঁতই তো বাঁধানো। শুনেছি ওঁর মা বাবা কারোরই দাঁত ভালো ছিল না। করলে তোর একার জন্যেই করতে হবে। পরিটা তো কাঁটা খায়ই না। মাছের মধ্যে এক রুই আর পাবদা। আর সব মাছেই নাকি তার কাঁটা লাগে। মেয়েরা বেড়ালের মতো কাঁটা ভালোবাসে। খাওয়ার ব্যাপারে এ-বাড়িতে তুই-ই মেয়ে আর পরিই পুরুষ। কই মাছের কাঁটা-মাথা খায় না কুড়মুড়িয়ে, পাবদা বা ট্যাংরা মাছের কাঁটা মাথাও খায় না, সে তোর তেলকই-ই রাঁধি কি পেঁয়াজ বেগুন কাঁচালঙ্কা দিয়ে ট্যাংরার চচ্চড়িই। অদ্ভুত মেয়ে হয়েছে এক। আমার ভালো লাগে না। বিয়ে-থাও করল না। চোখ বোজার আগে শান্তিতে চোখ বুজতে পারব না। শান্তির কপাল করে তো আসিনি।

    অনেক দেরি আছে তোমার চোখ বোজার। তা ছাড়া পরি শুধু স্বাবলম্বীই নয়, একজন কেউ-কেটাও, তোমার চিন্তা কী?

    না রে। মানুষ যখন এখানে আসে তখনই হিসেব হয় শুধু। আগে পরের যাওয়ার বেলা কোনো হিসেব থাকে না। সবচেয়ে ছোটো যে, সে-ই সবচেয়ে আগে যেতে পারে। বড়ো সবচেয়ে পরে। মেয়েমানুষ। স্বাবলম্বী হলেও বিয়ে না হলে পূর্ণতা পায় না।

    জিষ্ণু চুপ করে থাকল। পুষির কথা মনে পড়ল ওর।

    পুষিদের বাড়িতে গেছিলি?

    কাকিমা শুধোলেন।

    না।

    পুষির মায়ের কথা মনে হতেই মনটা বড়ো খারাপ হয়ে যায়।

    জিষ্ণু চুপ করে রইল।

    এমন সময়ে গলিতে একটি গাড়ি ঢোকার শব্দ হল। এ-গলিতে গাড়ি আছে শুধু ভড়বাবুদের। তেলের কলের মালিক। তাঁর গাড়ি অনেকক্ষণ গ্যারেজ-বন্ধ হয়ে গেছে। গানুবাবুদের অবশ্য অনেকইগাড়ি। অনেকরকম। তবে সেসব গাড়ি যতটা দেখাবার জন্যে, চড়ার জন্যে ততটা নয়। গাড়ি সাজানো থাকে দিশি-বিদিশি। কখনো-কখনো অ্যান্টিক শোয়ের জন্যে অ্যান্টিক হয়ে যাওয়া গাড়ি বের হয়। নানা বিচিত্র সাজে সেজে বেরোন বাবু-বিবিরা। গানুবাবুদের দেখে এ-রাজ্যে যে মন্বন্তর, দেশবিভাগ, নকশাল আন্দোলন, দার্জিলিং-এর অশান্তি, মিছিল-মিটিং বনধ-এর প্রভাব আছে কোনো, তা বোঝার উপায় নেই। ছেলেদের ধাক্কা পাড়ের ধুতিতে কাছা দেওয়ার রকমটা বদলায়নি একটুও এবং বদলায়নি মেয়েদের প্রমাণ সাইজের গামছা পরে দিনের মধ্যে বার পাঁচেক মার্বেলের চওড়া বারান্দা দিয়ে বাথরুমে চান করতে যাওয়া।

    এই গলির চাঁপাবউদির স্বামী ছোটুদার আছে এনফিল্ড মোটরসাইকেল। সকালে গলি গমগমিয়ে বেরিয়ে যায়। সন্ধে আটটা নাগাদ আবার গলি কাঁপিয়ে ঢোকে। লেদ মেশিন আছে কয়েকটা ছোটুদার। হাওড়ার কদমতলাতে। এক সময়ে মণি খাঁর রাইস মিলে কাজ করত। হরিমতী রাইস মিলে। মেদিনীপুর জেলার ডেবরাতে। কলেজের ছাত্র ছিল যখন তখন সেখানে একবার মাছ ধরতে গেছিল জিষ্ণু ছোটুদার সঙ্গে। মণি খাঁ ফিনফিনে গা দেখা যাওয়া আদ্দির পাঞ্জাবি, চুনোট ধুতি, হালকা নীলাভ রিমলেস চশমা, আর চকচকে পাম্প-শু পরতেন। ঠোঁটে সবসময়ে থাকত স্টেট এক্সপ্রেস সিগারেট। খুব রসিক মানুষ ছিলেন। খাদ্য-পানীয় এবং জীবন-রসিক। অনেক যত্ন-আত্তি করেছিলেন জিষ্ণুদের।

    নকশালরা তাঁকে নৃশংসভাবে মারে কদমতলাতেই, সকালে যখন হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। চিঠি দিয়েছিল আগে। পকেটে রিভলবার ছিল। কিন্তু রিভলবারে হাত দেওয়ার আগেই ভোজালির এক কোপে ডান হাতের কবজির কাছ থেকে আধখানা হাত কেটে দেয়। তার পর…

    ওঁর ডেডবডি দেখেছিল জিষ্ণু ছোটুদার সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে। নকশালদের হুমকিতে রেসিডেন্ট সার্জন মণিবাবুকে বাঁচাবার কোনো চেষ্টা করেননি বলে শুনেছিল। সে বড়ো বীভৎস মৃতদেহ।

    গাড়িটা এসে দাঁড়াল মনে হল জিষ্ণুদের বাড়িরই সামনে।

    কাকিমা উঠছিলেন।

    জিষ্ণু বলল, আমি যাচ্ছি। তুমি বোসো।

    দরজা খুলতেই দেখল, গাড়ি থেকে পরিকে দুজন ভদ্রলোক হাত ধরে নামালেন। পরি বেঁকে দাঁড়িয়ে কাঁপা হাত নাড়িয়ে বলল, গুড নাইট।

    গাড়ি থেকে কে যেন বললেন, স্লিপ টাইট।

    .

    ০৬.

    গাড়িটা আর না দাঁড়িয়ে জোরে ব্যাক করে চলে গেল গলি থেকে। হেডলাইটের তীব্র আলোটা জিষ্ণুর দু-চোখ ধাঁধিয়ে দিল। আলোটা সরতেই জিষ্ণু দেখল পরি ভেতরে না ঢুকে দরজার সামনে রক-এর ওপরেই বসে পড়েছে। দেওয়ালে হেলান দিয়ে।

    জিষ্ণু নীচু গলায় ডাকল, পরি।

    পরি জড়ানো গলায় বলল, ঠিক আছি, ঠিক আচি।

    জিষ্ণু ব্যাপারটা আঁচ করেই, পাছে গলির জানালাগুলির পেছনে গভীর রাতের কৌতূহলী চোখগুলি সব জেগে ওঠে, সেই ভয়ে পরিকে তাড়াতাড়ি পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করল।

    পরি হাঁটতে পারছিল না। প্রচন্ড মদ খেয়েছিলই, মানসিক ভারসাম্যও ছিল না ওর। হুইস্কির গন্ধ বেরোচ্ছিল মুখ থেকে।

    কাকিমা দোতলার সিঁড়িতে দাঁড়িয়েছিলেন।

    মুখে কালি ঢেলে দিয়েছিল কাকিমার। বললেন, কী হয়েছে? জিষ্ণু? কী হয়েছে ওর?

    জিষ্ণু বলল, কিছু নয়। তুমি একটু লেবু দিয়ে শরবত করে দিতে পারো কাকিমা ওকে? সঙ্গে একটু নুনও দিয়ো।

    কীসের গন্ধ এমন বিটকেল?

    কাকিমা বললেন।

    ওষুধ-টষুধের হবে।

    জিষ্ণু মিথ্যে বলল।

    ওষুধ? কীসের ওষুধ? ও মদ খেয়ে এসেছে। রাত সোয়া একটার সময়ে অচেনা লোক ওকে গাড়ি থেকে মাতাল অবস্থায় নামিয়ে দিয়ে গেল! এ-মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দে। বের করে দে জিষ্ণু।

    আঃ কাকিমা। রাত হয়েছে। কেন চেঁচামেচি করছ। শরবতটা খাইয়ে ওকে শুইয়ে দাও।

    ওকে মারব আমি।

    তিরিশ বছরের মেয়েকে মারবে তুমি, ছি :

    ও আমার মেয়ে নয় জিষ্ণু। ওর মুখ দেখতে চাই না আর আমি। দুশ্চরিত্রা। ছিঃ।

    আঃ! কী বলছ কাকিমা! সরো, সরো, ওকে ওর ঘরে নিয়ে যাই। তুমি শরবতটা করে নিয়ে এসো।

    ঘরে পৌঁছোবার আগেই পরি জিষ্ণুর গায়ের ওপরেই ওয়াক ওয়াক করে বমি করে দিল। জিষ্ণু হাতকাটা গেঞ্জি পরেছিল একটা। তারমধ্যে দিয়ে গলে সারা বুক-পেট গা বমিময় হয়ে গেল।

    তার পর বেসিনের সামনে নিয়ে যেতেই হুইস্কি, মাংসর কাবাব এবং পরোটার টুকরো মাখামাখি করে আবার ওর গায়েরই ওপরে উগড়ে দিল পরি। জিষ্ণু লক্ষ করল যে, পরির শাড়ি-ব্লাউজ বিস্রস্ত। চুলও। ব্লাউজের একটিমাত্র বোতাম লাগানো। ভেতরের ব্রেসিয়ার খোলা। তারমধ্যে থেকে পুষ্ট সোনা-রঙা একটি স্তন যৌবনের সব যন্ত্রণার প্রতিভূর মতো ঠেলে বেরিয়ে আসছে। বড়ো, পাকা কাবুলি আঙুরের কালো বোঁটা।

    শরীরটার মধ্যে কীরকম যেন করে উঠল জিষ্ণুর। চোখ সরিয়ে নিল। তার পর নিজে বাথরুমে গেল পরিষ্কার হতে। পরিকে মুখ-ধোওয়া বেসিনটার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে।

    যাওয়ার সময়ে বলল, কাকিমা, ওকে ধরো। ও অসুস্থ। কিছু বোলো না। আরও বমি করতে এল গলায় আঙুল দিয়ে। শরীর ভালো লাগবে। আমি জানি, এমন হলে শরীর খারাপ লাগে। একদিন রাউরকেল্লায় এরকম হয়েছিল আমার একবার অফিসের পার্টিতে।

    আরে তুই ছেলে জিষ্ণু। এসব মাঝে মাঝে তোদের অফিসের ডিউটি হিসেবেই না করলে নয়। তোর বাবা-কাকারাও করেছে। কিন্তু ও যে মেয়ে। ছিঃ ছিঃ। এর চেয়ে সোনাগাছিতেই ঘর নিক না। বেশি দূরও তো নয় এ-বাড়ি থেকে।

    ছিঃ কাকিমা। কী যা-তা বলছ তুমি! ওকে ধরো। আমি পরিষ্কার হয়ে আসছি। বাথরুমে যেতে যেতে বিরক্তির গলায়, বলল, ও-ও তো চাকরি করে। আমার চেয়ে বড়ো চাকরি। ছেলেদের বেলাই দোষ হয় না। আর মেয়েদের বেলাই যত দোষ?

    বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখল বেসিনটা একেবারে ভরে গেছে পরির বমিতে। নানা রঙা জিনিস থকথকে হয়ে ভাসছে। তাতে। আর প্রচন্ড দুর্গন্ধ। কাকিমা মুখ বিকৃত করে পরির মুখে-চোখে এক হাতে জল দিচ্ছেন এবং অন্য হাতে কপালের কাছে ধরে আছেন। সন্তান তো!

    পরি বলল, মা! ও মা!

    পরিকে কোনো দিন বাবা ডাকতে শোনেনি জিষ্ণু। হয়তো বাবাকে মনে নেই বলেই ডাকে না।

    কাকিমা মুখ ঘুরিয়ে বললেন, তুই গিয়ে শুয়ে পড় জিষ্ণু। ভাগ্যিস আজ শ্ৰীমন্ত নেই আর মোক্ষদাও ডায়মণ্ডহারবারে গেছে। নইলে ওদের সামনে! কী কেলেঙ্কারিটাই…

    বলেই, এবার রাগের স্বরে বললেন, তুই যা জিষ্ণু। কী দেখছিস তোকে যেতে বলছি আমি এখান থেকে। আমি সব পরিষ্কার-টরিষ্কার করে তার পরে শোবো।

    ঠিক আছে।

    বলেই, জিষ্ণু নিজের ঘরে চলে গেল।

    কী দেখছিস? কথাটা দ্ব্যর্থক কি না ভাবছিল।

    মায়ের চোখ! কিন্তু জিষ্ণুর চোখে বিস্ময় ছাড়া আর কিছু তো ছিল না।

    একবার ভাবল, নিজের ঘরের বারান্দাতে গিয়ে বসে। তার পরই ভাবল, এই গ্রীষ্মে গানুবাবুদের গাছগাছালির পাতা অনেকই ঝরে গেছে। যদি অন্য কেউ দেখে ফেলে জিষ্ণুকে? যারা গাড়ির শব্দ শুনেছে? সেইসব বাঙালিদের মধ্যে কারো কারো উৎসাহ চেগে উঠতেও বা পারে। কেউ কি পরিকে নামতেও দেখেছে গাড়ি থেকে? রক-এ বসে পড়তে? নাঃ। কিছুই বলা যায় না। বারান্দাতে আজ রাতে যাবে না।

    টেবিল-লাইটটা নিবিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল জিষ্ণু।

    অনেক কথা ভিড় করে এল ওর মাথাতে। পরি যখন ছোটো ছিল তখনকার কথা। তখন ওরা কাকার কোয়ার্টারে থাকত। হাওড়ার মধ্যেও অতখানি বাগানঅলা মস্ত কোয়ার্টার তখনও দেখা যেত না বেশি। জিষ্ণুর বাবা চিরব্রত বিয়ের তিন বছর পরই ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টে মারা যান। ওঁর মাও মারা যান জণ্ডিসে। ঠিক তার দু-বছর বাদেই। তখন জিষ্ণুর বয়স মাত্র আড়াই। কাকা স্থিরব্রতকে জিষ্ণুর বাবাই চাকরিতে ঢুকিয়ে দিয়ে যান। কাকার চাকরি টাকরিতে মন ছিল না। নাটক করতে খুব ভালোবাসতেন। হংসেশ্বরী নামের একটি দলে ভিড়ে তিনি বছরের মধ্যে তিন মাস যাত্রা করে বেড়াতেন। যে-বছর বাবা মারা যান, সে বছরই কাকার বিয়েও দিয়ে যান। পিতৃমাতৃহীন জিষ্ণুকে কাকিমা হেমপ্রভা নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করে তোলেন। পরি জিষ্ণুর চেয়ে তিন বছরের ছোটো।

    চাকরিটা ওর কাকা স্থিরব্রত টিকিয়ে রাখতে পারতেন কি না সন্দেহ ছিল ঘোরতর। কিন্তু মাত্র তিরিশ বছর বয়েসে তিনিও তিন দিনের জ্বরে মারা যান। মরে গিয়ে নিজে বেঁচে যান। কিন্তু মেরে রেখে যান কাকিমাকে। তখন থেকেই এই অভিশপ্ত পরিবারের হাল ধরেন শক্ত হাতে সুন্দরী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হেমপ্রভাই। যদিও খুব বেশিদিনের কথা নয়, তবুও একজন যুবতীর পক্ষে দুটি ছোটো ছেলে-মেয়ে জিষ্ণু আর পরিকে নিজের স্বামী ও ভাসুরের সঞ্চিত অর্থের ওপর ভর করে মানুষ করে তুলতে কম বেগ পেতে হয়নি কাকিমাকে। যখন ওঁরা সঞ্চয় করেছিলেন তখন হয়তো তার কিছু দাম ছিল। কিন্তু যখন শুধুমাত্র সেই সঞ্চয়ের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছিল তখন ইনফ্লেশানের কল্যাণে তার মূল্য কিছুই ছিল না আর। সেসব ভারি কষ্টর দিন গেছে। তখনই এই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি, মাসে তিরিশ টাকাতে। আর ছাড়েননি। ভাড়া অবশ্য তিরিশ বছরে বেড়ে একশো তিরিশ হয়েছে। বাড়িওয়ালা এক সহায়-সম্বলহীন বৃদ্ধ। তাকে ঠকানো কঠিন হয়নি হেমপ্রভার পক্ষে।

    হেমপ্রভা নিখুঁত সুন্দরী বলতে যা-বোঝায় তা ছিলেন না। কিন্তু যৌবনে কুকুরিও সুন্দরী হয়। কাকিমার মুখে একটি আলগা শ্ৰী ছিল, যার কিছু আজকেও অবশিষ্ট আছে। তা ছাড়া, আর যা ছিল তা ব্যক্তিত্ব। খুব কম নারীর মধ্যেই অমন ব্যক্তিত্ব দেখেছে জিষ্ণু।

    কাকার এক বন্ধু হীরুকাকাও অনেক করেছিলেন ওদের জন্যে। হীরুকাকা না থাকলে কাকিমার নিজের পক্ষেও হয়তো ভেসে যাওয়াটা ওই বয়েসে, ওই অসহায়তায় পড়ে বিচিত্র কিছুই ছিল না।

    আজকে হীরুকাকার বয়েস বাষট্টি। রিটায়ার করেছেন। কিন্তু আজও কাকিমা যে তাঁর ওপরে অনেকখানি নির্ভর করেন তা জিষ্ণু জানে। হীরুকাকু বিয়ে করেননি। রাজা নবকৃষ্ণ লেনে নিজের ছোট্ট পৈতৃক বাড়িতেই থাকেন। পুষির সঙ্গে জিষ্ণুর বিয়ের রেজিস্ট্রেশানের বন্দোবস্তও যা-করার তা হীরুকাকাই কাকিমার সঙ্গে বসে করেছিলেন। পুষির দুর্ঘটনার খবর শোনামাত্রই দৌড়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। তার পর মর্গে। পোস্টমর্টেম করার সময়ে সমস্তক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। শ্মশানেও উপস্থিত ছিলেন এবং পুষির অদগ্ধ নাভি আর সাদা সাদা হাড়ের টুকরো-টাকরা পুষির ছোটো ভাই নিমতলার পাশের গঙ্গাতে বিসর্জন দেওয়া পর্যন্ত নীরবেই দাঁড়িয়েছিলেন জিষ্ণুর পাশে। হীরুকাকার এক ছেলেবেলার বন্ধু, পুলিশের ডি আই জি সাহায্য না করলে অনেকেরই মতো পুষির শরীরও পচে গলে যেত মর্গ থেকে বেরোতে বেরোতে। সেদিন হীরুকাকার প্রতি কৃতজ্ঞতা আরও একটি কারণে গভীরতর হয়েছিল জিষ্ণুর। শ্মশানযাত্রী পুষির আত্মীয়রা কেউই শুধোননি যে, ভদ্রলোক কে? স্বল্পজন অবশ্য জানতেন যে উনি জিষ্ণুর কাকা। আপন কাকা যে নন, তাও জানতেন। আপনের চেয়েও যে, অনেক বেশি আপন, সেটা কিন্তু জানতেন না।

    শিশুকাল থেকেই দেখে আসছে জিষ্ণু, হীরুকাকার চিরদিনই একই পোশাক। পায়ে কলেজ স্ট্রিটের রাদু কোম্পানির পাম্প-শু আজকাল খুব কম লোকই পরেন। মিলের সস্তা ধুতি এবং ফুলহাতা পপলিনের শার্ট। তাও একই রঙের। ফিকে হলুদ। অনেকটা বাফতার রঙের মতো দেখতে। বুক-পকেটে একটি পুরোনো রং-জ্বলে-যাওয়া কালো-রঙা পার্কার ডুওফোল্ড কলম। ডান পকেটে পানের বাটা, পেতলের। বাঘের মতো চওড়া কবজিতে পুরোনো মডেলের একটা ওমেগা ঘড়ি। স্টিলের ব্যাণ্ড লাগিয়েছিলেন সম্প্রতি। সাদা ডায়ালের নীচে বড়ো বড়ো রোমান অক্ষরে এক থেকে বারো অবধি লেখা। চোখে গোলাকৃতি নিকেল ফ্রেমের চশমা। তাও দেখছে জিষ্ণু জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই। ক্ষয়ে গেছিল সেটা ব্যবহারে ব্যবহারে। চুল মাঝখান দিয়ে সিঁথি করা। আজকাল পাম্প-শু যেমন কেউ পরে না, চুলের মাঝখান দিয়ে সিথিও কেউ করে না। আতরও আজকাল কেউ মাখেন না। কিন্তু হীরুকাকা আতরও মাখতেন। বসন্ত থেকে বর্ষা খসস। শরৎ এবং শীতে অম্বর। বর্ষায় হাতে থাকত একটি পশুপতি পাল কোম্পানির লম্বা ডাঁটির ছাতা, শীতে শেয়াল-রঙা একটি র‍্যাপার চড়ত গায়ে। কোনো ব্যাপারেই কোনোরকম আধিক্য বা উচ্ছ্বাস ছিল না হীরুকাকার। চাকরি করতেন একটি সাহেব কোম্পানিতে। বড়োবাবুর। অনেক রাত অবধি খাটতে হত। যতদিন কাজ করেছেন। হীরুকাকার কথা আজ গভীর রাতে বার বার মনে পড়ছে এইজন্যেই যে, এই রাতের সংকটে হীরুকাকা পাশে থাকলে নিশ্চিন্ত হত জিষ্ণু এবং শান্ত থাকতেন কাকিমাও।

    কাকাকে বা বাবাকে মনেই নেই জিষ্ণুর। কিন্তু ওদের এই ছোট্ট এবং একসময়কার সহায় সম্বলহীন পরিবারে হীরুকাকাই তার এবং পরির বাবা-কাকা-জ্যাঠার অভাব একসঙ্গে পুরিয়েছেন। কাকিমাকেও একদিনের জন্যেও বুঝতে দেননি যে, তিনি একা।

    পরি এবং জিষ্ণুর মামার বাড়ি ছিল মধ্যপ্রদেশের উমেরিয়াতে। মা ও কাকিমা দুটি মেয়েই তাঁদের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তখনকার দিনে এমন বড়ো একটা দেখা যেত না। সব কথা, ঘটনা-পরম্পরা এখন ভাবলে মনে হয় বানানো গল্পই বুঝি। কিন্তু জিষ্ণুদের পারিবারিক ইতিহাসের দুর্বলতা এবং বল দুই-ই গল্প হলেও সর্বাংশে সত্যি ছিল।

    হীরুকাকা কাকিমাকে ভালোবাসতেন কি বাসেন কি না, তা জানে না জিষ্ণু। তবে এটুকু এখন বোঝে যে, কাকিমা আর হীরুকাকার মধ্যে এক ধরনের একটা সম্পর্ক নিশ্চয়ই ছিল এবং আছে। কিন্তু আধুনিকার্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় ওই একটিমাত্র শব্দ দিয়ে, হীরুকাকা আর কাকিমার সম্পর্কর ব্যাখ্যা করা হয়তো যায় না।

    জিষ্ণুর সঙ্গে পুষির প্রেম ছিল, যে-প্রেম পরিণতি পায় বা পেত ওদের বিয়েতে। হীরুকাকা আর কাকিমার সম্পর্কটা যদি কখনো কোনো পরিণতি পায় তবে হয়তো পাবে শুধুমাত্র দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুতেই।

    সমাজের হাতে, নিজেদের বিবেকের হাতে, নিজেদের সংস্কারের হাতে, নিজেদের সংযমের হাতে বড় নির্মমভাবেই নিগৃহীত হতেন ওঁরা। হয়তো কিছুটা স্বেচ্ছা এবং কিছুটা উপায়হীনতাতেও। সেই নিগ্রহর স্বরূপ উপলব্ধি করার মতো গভীরতা হয়তো জিষ্ণু বা পরিদের প্রজন্মর আদৌ নেই।

    মাঝে মাঝে কাকিমা আর হীরুকাকাকে খুব বোকা বলেও মনে হয় জিষ্ণুর। ওঁদের দুজনের সমস্ত সুখের মধ্যে দেওয়াল হয়ে ও আর পরিই যে দাঁড়িয়েছিল সে-কথাও বুঝতে পারত ও বড়ো হওয়ার পর থেকেই ভারি অবাক লাগত এবং এখনও লাগে। হীরুকাকা আর কাকিমার সম্পর্কর প্রকৃতিটা বোঝার চেষ্টা করে।

    দেওয়ালের দু-পাশে সারাটাজীবন দুজনে দাঁড়িয়ে থেকেও সুখের ঘরে একটুও কম পড়েনি বুঝি দুজনের কারোর। শরীর ছাড়া প্রেম যে হয়, থাকতে পারে; সে-কথা ভাবতে কষ্ট হয়। ভাবতে কষ্ট হলেও থাকে।

    ভাবছিল জিষ্ণু।

    কিন্তু অবিশ্বাস হয় না। অল্প কদিন আগেই একটি পত্রিকাতে একজন বর্ষীয়ান কবিও ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন এই বিষয়ে। উনি বলেছিলেন, যাঁরা বলেন যে, শরীর ছাড়া প্রেম হতে পারে তাঁদের তিনি ঘৃণা করেন।

    পরিই দেখিয়েছিল কাগজটি জিষ্ণুকে।

    জিষ্ণু বলেছিল, পৃথিবীতে কোনো মানুষের অভিজ্ঞতাই তো সার্বিক হতে পারে না। এখানে অভিজ্ঞতামাত্রই খন্ডিত। সর্বজ্ঞ কেউই নন। তা ছাড়া সকলের বিশ্বাসও যে একইরকম হতে হবে তারই বা মানে কী? উনি যা-বিশ্বাস করেন অথবা তাঁর অভিজ্ঞতা ওঁকে যা শিখিয়েছে উনি তাই লিখেছেন।

    পরি বলেছিল, তা নয় বোঝা গেল। কিন্তু ঘৃণা শব্দটাকে উড়িয়ে দেওয়া যায়? যিনি নিজে একজন কবি। শব্দ ব্যবহারের আগে তার তাৎপর্য সম্বন্ধে নিশ্চয়ই ভাবনা-চিন্তা করেছেন।

    জিষ্ণুর কিছুতেই ঘুম আসছিল না। তাই নানা এলমেলো ভাবনা মাথাতে ভিড় করে আসছিল। স্লিপিং ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমোয় বলে ঘুমের মধ্যে কোনো স্বপ্ন বা ভাবনা ওকে আর ছোঁয় না। সব কিছু থেকেই ছুটি তখন, সেই ক-ঘণ্টা। গানুবাবুদের বাড়ির পেটা ঘড়িতে আড়াইটে বাজল। জিষ্ণুর ঘর থেকে গানুবাবুদের মস্ত বাড়ি এবং বাগানটা দেখা যায়। পুরো পাড়ার এইটুকুই সম্পদ। গাছগাছালি, পাখি; সবুজ। বসন্তে ও গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া আর অমলতাসের সমারোহ, কোকিলের দাপাদাপি, বর্ষায় মহানিম গাছের ফিসফিসে বৃষ্টি-ভেজা পাতার আড়ালে মাথাবাঁচানো কাকেঁদের কলরোল। শীতের প্রকৃতির রুক্ষ মলিন খড়ি-ওঠা রূপ। পুরো গলিটা যেন বেঁচে আছে গানুবাবুদের বাড়ির এই বাগানটুকুরই জন্যে। তার মুখ চেয়ে। চতুর্দিকের ঘুমিয়ে পড়া ধুলো-নোংরা-দারিদ্র্য ও সাধারণ্যর মধ্যে মাথা উঁচিয়ে স্নোসেম রং-করা সৌধটি চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে আছে ব্যতিক্রমের সংজ্ঞা হয়ে।

    বিকেলের রোদ পড়লেই দেখা যায় ময়দার বস্তার মতো ফর্সা গোলগাল স্থূলকায়া মহিলারা পাছাপেড়ে শাড়ি পরে বাগানে ও মার্বেলের চওড়া বারান্দায় গজেন্দ্রগমনে চলাফেরা করছেন। এক-একজন তে-কোনা চারকোনা পাঁচকোনা বাবুদের পেছনে এক একজন করে খিদমদগার ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্টিভেডরিং আর শিপচ্যালোরিং-এর পয়সায় কোনো দিনও টান পড়েনি। কখনো খিদমদগারদের হাতে রঙিন ছাতা, কখনো বেহালা, কখনো পানের বাটা, কখনো বা ট্রের ওপরে বসানো জিন এবং বরফ; অ্যাঙ্গোস্টার্স-বিটার্স। গরমের বিকেলে পেস্তা দিয়ে বাটা সিদ্ধির, নয়তো কাগজি লেবু পাতা-ফেলা কাঁচা-আম-পোড়া শরবত, শীতের সন্ধ্যায় স্কচ-হুঁইস্কি। সান-ডাউনার। বেনারস থেকে আনানো অম্বুরি তামাকে-সাজা আলবোল। অথবা ডান হিলের পাইপে ডান হিল টোব্যাকোর ধোঁওয়া।

    এখনও গানুবাবুদের বাড়িতে সবুজ যেমন অনেকই আছে, পয়সাও অনেক আছে। আছে শখও। বুঝুন আর না বুঝুন (হয়তো কেউ কেউ বোঝেন) ওঁরা গান-বাজনারও মস্ত সমঝদার। এখনও প্রায়ই ম্যায়ফিল বসে। কখনো ক্লাসিক্যাল, কখনো পুরাতনি বাংলা গান, কখনো কর্তামার অনুরোধে কীর্তন। পাড়ার লোকে বিনেপয়সাতে শোনে। অবশ্য বাইরে থেকে। শীতের রোদ, চাঁদের আলো, বর্ষায় ভেজা স্নিগ্ধ চেকনাই-এর পুরো ভাগ পায় এ-গলির প্রত্যেক বাসিন্দা গানুবাবুদের বাড়ি-বাগানেরই কল্যাণে। ময়না, কাকাতুয়া ডাকে; বলো গোবিন্দ, বলো রাধে। ম্যাকাও ডাকে কর্কশ স্বরে। একটা কাকাতুয়া মাঝে মাঝে বলে; ক টা বাজে রে? তার দোসর সাড়া দেয়: ক-টা চাই?

    তবে গানুবাবুদের বাড়ির কেউই প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন না। মনুষ্যেতর প্রাণী বলে গণ্য করেন ওদের বোধ হয়। তাতেই সকলে খুশি। তবু তো গানুবাবুরা আছেন। ওই বাড়িটার জন্যেই এখনও নিঃশ্বাস ফেলা যায়, প্রশ্বাস নেওয়া যায়।

    পুষি একদিন জিষ্ণুর ঘরের লাগোয়া বারান্দায় বসে বলেছিল, আমরা চাঁদনি রাতে সারারাত বসে থাকব এই বারান্দাতে, হ্যাঁ? ঘুমোব না কিন্তু।

    শ্রাবণের পর থেকে শীতের শেষ অবধি এই বারান্দার আব্রু পুরো থাকে, গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো অস্পষ্ট হয়ে বারান্দায় পৌঁছোয় যেন পরিশ্রুত হয়ে। তখন বারান্দায় বসে থাকলে পাশের বাড়ি বা গানুবাবুদের বাড়ি থেকে দেখাই যায় না কিছুমাত্র। অথচ বাইরের সব কিছুই দেখা যায় এখানে বসে।

    পুষি বলেছিল, এই বারান্দায় বসে থাকবে সারারাত। ভীষণ রোমান্টিক ছিল ও।

    এখন জিষ্ণুদের বাড়িতে ভেতরের সব শব্দও মরে গেছে। পরির বাথরুমের দরজা খোলার শব্দ হয়েছিল অনেকক্ষণ আগে। কিন্তু তার পর তার ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা আর হল না। কাকিমা সম্ভবত পরির কাছেই আজ শুলেন। অনেকক্ষণ একটানা প্রলাপের মতো নীচুগলার স্বগতোক্তি ভেসে আসতে লাগল। পরির, না কাকিমার তা বোঝা গেল না। তার পর আরও নীচু গলার স্বগতোক্তির মতো কিছু।

    পরির?

    ভুল শুনল হয়তো।

    তার পর পুরোবাড়ির আলো নিভে গেল। কাকিমার চাপা গলার ধমক। পরি আর একবার বাথরুমে গেল। এবারে আলো না জ্বেলেই।

    প্রত্যেক নারীর জীবনে কিছু কিছু জমি বা এলাকা থাকে, অন্য কোনো পুরুষ, সে যত কাছেরই হোক না কেন কখনোই পৌঁছোতে পারে না। এমনকী ঔৎসুক্য প্রকাশ করতে পারে না। এইজন্যেই হয়তো একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে পূর্ণ-বন্ধুত্ব হওয়া অসুবিধের। মানে বন্ধুত্ব যতই নিবিড় হোক না কেন বিবাহিত না হলে মধ্যে এক অদৃশ্য ফাঁক থেকে যায়ই। আমাদের এ-দেশে অন্তত। এখনও। না থাকলে জিষ্ণুকে এখন তার নিজের অন্ধকার ঘরে শুয়ে পরি সম্বন্ধে আশঙ্কা আর অনুমানের পাশবালিশ জড়িয়ে এপাশ-ওপাশ করতে হত না।

    গানুবাবুদের পেটাঘড়িতে তিনটে বাজল। ভোজপুরি দারোয়ান হাঁকল : সাবধান।

    কাল অফিস আছে। এক বার বাথরুমে গেল জিষ্ণু। তার পর ঘুমোবার চেষ্টা করল। কিন্তু ঘুম কিছুতেই আর এল না। পরি তার সহোদরারই মতো। তবু পরির বোম-খোলা, ব্লাউজ আর খোলা ব্রেসিয়ার ঠেলে বেরিয়ে আসা সোনা-রঙা বুকের কথা বার বার মনে হল জিষ্ণুর। পাকা কাবুলি আঙুরের মতো কালো বোঁটাটির কথাও। এবং মনে পড়ে যেতেই, পুষির বুকের কথাও মনে হল অবশ্য। একদিনই দেখতে দিয়েছিল পুষি। বলেছিল, আর নয় এখন। সব তোলা রইল। আজ বাদে কাল বিয়ে, তর সইছে না ছেলের।

    বিছানা ছেড়ে উঠে টেবিল-লাইটটা জ্বালল। স্লিপিং ট্যাবলেটটা খেল। অ্যালার্মটা সেট করল আটটাতে। সকালে বিছানা ছেড়ে উঠেই এককাপ চা খেয়েই বাথরুমে যাবে সোজা। কাগজও পড়বে না। সাড়ে আটটার মধ্যে অফিসের গাড়ি রোজই এসে দাঁড়িয়ে থাকে। পনেরো মিনিটে পৌঁছে যাওয়া উচিত অফিসে। বেঁচে গেছে স্কুটারে চড়তে হয় না বলে। মিনিবাসেও।

    গাড়িতে যখন অফিসে যাওয়া-আসা করে তখন পাশ দিয়ে যাওয়া অথবা ইদানীং উলটোদিক থেকে আসা মিনিবাসের মধ্যে নির্বিকার-মুখে যেসব যাত্রী বসে থাকেন, যাঁরা ড্রাইভার কনডাক্টরদের বেনিয়মি বা অভদ্রতা করতে দেখেও কিছুমাত্রই বলেন না, তাঁদের প্রতিও এক গভীর অসূয়া জন্মেছে ওর। মানুষ নিজেরটা ছাড়া বোধ হয় আর কিছুই বোঝে না। যেদিন যে-মিনিতে যিনি যাতায়াত করেন সেই মিনিরই নীচে তাঁর ভাই-বা স্ত্রী বা মেয়ে যেদিন চাপা পড়ে মরবে সেদিনই শুধু সৎ-নাগরিকের দায়িত্ব-কর্তব্য চেগে উঠবে। যাঁরা নির্বিকার মুখে মিনিবাসের ড্রাইভার এবং কনডাক্টরদের তাঁদের নীরবতা এবং অপ্রত্যক্ষ সায়ে যা-খুশি করাতে প্রশ্রয় দেন শুধুমাত্র নিজে সময়ে অফিসে পৌঁছোবার বা বাড়ি ফেরার জন্যে, তাদেরও কলার ধরে নামিয়ে এনে মিনিবাসের ড্রাইভার কনডাক্টরদেরই মতো ভালো করে মার দেওয়া উচিত।

    কিছুদিন হল জিষ্ণুর কেবলই মনে হয়, মার ছাড়া এখন আর এ-দেশে কিছুই হবে না। মানুষ সব গণ্ডারের চামড়া পরে বেড়াচ্ছে।

    খিদিরপুরে যে-স্মাগলড মালের দোকান আছে তাদেরই একটি দোকানে বিশেষ একজনকে দিয়ে খোঁজ করিয়েছে একটি আন-লাইসেন্সড পিস্তলের জন্যে। পয়েন্ট থ্রি-টু। এলে, হাতটা ঠিক করে নিয়ে নিজের হিসাব-কিতাব নিজেই করে নেবে। দোরে দোরে ঘুরে, সম্পাদকীয় স্তম্ভে জ্বালাময়ী কিন্তু অফলপ্রসূ চিঠি লিখে, মিনিস্টারদের পি-এ দের, সেক্রেটারিদের, পাড়ার এম এল এ-দের পায়ে তেল মাখাবার মধ্যে ও আর নেই। পুষির অ্যাকসিডেন্টের পর ওর মোহই ভঙ্গ হয়ে গেছে। এই গণতন্ত্রের স্বরূপ, প্রশাসনের পরিকাঠামো, পুলিশের কর্মধারা এসবের কোনো কিছুর ওপরই আর ভরসা নেই জিষ্ণুর। ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দিনকে দিন হচ্ছে। কোথায় গিয়ে থামবে জানা নেই। জিষ্ণু এখন সত্যিই বিশ্বাস করে যে, বন্দুকের নলই হচ্ছে সমস্ত শক্তির উৎস–বিশেষ করে যেখানে অন্য সমস্ত সভ্য উপায়ই বিফল হয়। দেখতে পাচ্ছে চোখের সামনেই এ-পথ যারাই নিচ্ছে তারাই জিতে যাচ্ছে। এখানে সকলেই- শক্তের ভক্ত নরমের যম।

    গানুবাবুদের বাড়ির আলো-ছায়া ঘেরা রহস্যময় বাগানের গভীর থেকে পেঁচা ডাকল দুরগুম দুরগুম।

    ঘুমিয়ে পড়ল জিষ্ণু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article দূরের ভোর – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }