নকশা-কাটা কবজ – ১১
১১
রাজু ভেবেছিল রাতে ঘুম আসবে না কিন্তু কোনো একটা বিচিত্র কারণে সে প্রায় অচেতন হয়ে ঘুমাল। বেশ বেলা করে তার ঘুম ভেঙেছে। ঘুম থেকে জেগে মনে হলো তার ডান হাতের তালুতে ব্যথা, তাকিয়ে দেখে হাতের তালুর মাঝামাঝি লালচে হয়ে আছে, মনে হচ্ছে এই জায়গার চামড়াটা পুড়ে গেছে। কবজটা ধরে রাখার সময় যে গরম অনুভূতি হয়েছে সেটি চামড়াটাকে পোড়াতে পারে রাজু বুঝতে পারেনি। কে জানে কবজটা হয় তেজস্ক্রিয় সে জন্য তার চামড়ার এই অবস্থা।
রাজু বাথরুমে গিয়ে হাতের তালুতে খানিকক্ষণ ঠান্ডা পানি ঢালল, মনে হলো হাতের ব্যথাটা একটু কমেছে। হাত-মুখ ধুয়ে রাজু ডাইনিং রুমে এসে তাদের প্রাচীন ফ্রিজটা খুলে ভেতরে তাকাল খাওয়ার মতো কিছু আছে কি না দেখার জন্য। এক কোনায় একটা পাউরুটি পড়ে আছে—প্রথম স্লাইসে ছোট ছোট রোয়া রোয়া ফাঙ্গাস, সেই স্লাইসটা ফেলে দিয়ে পাউরুটির মাঝামাঝি থেকে ভালো এক স্লাইস রুটি বের করে নিল। একটু মাখন কিংবা জেলি থাকলে ভালো হতো—সে রকম কিছুই নাই, তাই সে বসে বসে শুকনো রুটিটা চাবাতে থাকে।
এই পুরো সময়টাতে একটি মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারে না যে গত রাতে মিলিয়া তাকে বলেছে যে শাফকাত তাকে গুলি করে মেরেছে। পুরো ব্যাপারটি এত অবিশ্বাস্য যে সে কথাটি কাউকে বলতেও পারবে না। সে মিলিয়ার আত্মাকে ডেকে এনে তার সাথে কথা বলে এটা জেনেছে–পৃথিবীর কোনো মানুষ এটা বিশ্বাস করবে? কিন্তু তারপরও সে মাথা থেকে এটা সরাতে পারল না।
আগে কখনো সে ইহকাল-পরকাল, বাস্তব জীবন, অশরীরী জীবন, মানুষের আত্মা—এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করেনি। কিন্তু বলা যায় গত এক-দুই দিনে এই পুরো বিষয়টির একটা বিস্ময়কর ব্যাখ্যা জানতে পারছে। কখনোই সে এই ব্যাখ্যাটাকে কারো কাছে প্রমাণ করতে পারবে না—বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষায় সে এটা যাচাই করতে পারবে না। তার হাতের তালুতে পোড়া দাগটি হয়তো একমাত্র বাস্তব একটি ঘটনা কিন্তু এটি কিছুই প্রমাণ করে না।
রাজু পরকালের যে ছবিটি পেয়েছে সেটি এ রকম। মানুষের যে রকম বাস্তব জীবন আছে, মারা যাবার পর তার ঠিক সে রকম আরেকটি জীবন আছে, যেটি বাস্তব জীবন থেকে দেখা যায় না। সেই পরাবাস্তব বা অশরীরী জীবনে শুধু মানুষের আত্মা নয়, ভয়ংকর বিদেহী প্রাণীরাও থাকে—পৃথিবীর মানুষ বিশেষ পদ্ধতিতে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। একেবারে ঘটনাক্রমে সে একটি কবজ পেয়েছে, যেটি ব্যবহার করে সে পরাবাস্তব জগৎটিতে উঁকি দিতে পারে, এমনকি নির্দিষ্ট মানুষের সাথে যোগাযোগও করতে পারে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, গত রাতে তাকে জানানো হয়েছে যে সে খুবই ক্ষমতাশালী একজন মানুষ, সে পরকালের জগতে যা ইচ্ছা তা-ই করে ফেলতে পারে। ক্ষমতাটি নিশ্চয়ই তার নিজের নয়—ক্ষমতাটি এই রহস্যময় কবজের। তাই সে আপাতত আরো কিছুদিন কবজটি হাতছাড়া করতে চায় না—ব্যাপারটা আরেকটু দেখতে চায়।
তা ছাড়া সে মিলিয়াকে কথা দিয়েছে যে সে শাফকাতকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবে না—তাকে তার পাপের শাস্তি পেতে হবে। কীভাবে সেটি করা হবে রাজু জানে না। কিন্তু সে যদি অবিশ্বাস্য ক্ষমতাশালী একটা মানুষ হয়ে থাকে তাহলে কি একটা পথ খুঁজে বের করতে পারবে না? নিশ্চয়ই পারবে।
রাজু অন্যমনস্কভাবে বসে থাকে। ঘুরে ফিরে তার একবার মিলিয়া আরেকবার শাফকাতের কথা মনে হয়। মিলিয়ার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হওয়ার কথা ছিল না—ঘটনাক্রমে হয়ে গেছে। বাইরে থেকে যাকে হাসি-খুশি একটা মেয়ে মনে হয়, ভেতরে ভেতরে সে খুবই দুঃখী-অসহায় একটি মেয়ে। মানুষকে বোঝা কী কঠিন। যে মানুষটি একেবারে বিনা কারণে তাকে মেরে ফেলবে মিলিয়া সেই মানুষটিকেই ভেবে এসেছিল একজন ফেরেশতা?
রাজুর এখনও বিশ্বাস হয় না একজন সাইকোপ্যাথ এত নিপুণভাবে নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারে।
রাজু কেমন করে এই সাইকোপ্যাথকে ধরিয়ে দেবে?
* * *
সন্ধ্যে হতেই রাজুর একটা বিচিত্র অনুভূতি হতে থাকে। সে কবজটি হাতের মুঠিতে চেপে ধরে পরজগতে উঁকি দেওয়ার জন্য একধরনের ব্যাকুলতা অনুভব করতে থাকে। আগের রাতে সে মিলিয়ার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। তাকে ডেকে ডেকে এনেছিল, সে যদি তাকে না ডাকে তাহলে মিলিয়া কি নিজ থেকে আসবে? মিলিয়া ছাড়াও আরো অসংখ্য ছায়ামূর্তি আশেপাশে
থাকে। তাদের ভেতর একধরনের চাপা বেদনা, একধরনের দুঃখ আর হতাশা এবং অস্থিরতা কেন? কী নিয়ে তাদের ভেতর অস্থিরতা? তারা রাজুর সাথে কথা বলতে চেষ্টা করে, তাকে তারা কী বলতে চেষ্টা করে?
প্রথম দিকে তার ভেতরে যে আতঙ্ক ছিল এখন সে আতঙ্ক নেই। তার বদলে রাজুর ভেতরে একধরনের কৌতূহল, সে একটু দেখতে চায়। রাজু বিজ্ঞানের ছাত্র—এখন পর্যন্ত সে যা কিছু দেখেছে তার ভেতরে বিজ্ঞানের ছিটেফোঁটা নেই। সে কি কোনোভাবে পুরো ব্যাপারটার কোনো একধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুঁজে বের করতে পারবে?
তাই রাত গভীর হওয়ার পর রাজু তার বিছানায় বসে আবার কবজটি তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে। গত রাতের মতো হঠাৎ করে চারিদিক অন্ধকার হয়ে তার যে রকম মাথা ঘুরে গিয়েছিল আজকে সে রকম হলো না। ধীরে ধীরে চারপাশ কেমন যেন পরাবাস্তব জগতের মতো পাল্টে গেল। আবছাভাবে অনেক মানুষের ফিসফিস গলার শব্দ শোনা যেতে থাকে। খুব ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ছায়ামূর্তিগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। মনে হয় ছায়ামূর্তিগুলো তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করছে। প্রথমে সে কথাগুলো স্পষ্ট বুঝতে পারে না। রাজু তখন কথাগুলো বোঝার জন্য আরেকটু মনোযোগ দিলো।
রাজুর মনে হলো তারা বলছে, “শোনো শোনো। আমার কথা শোনো। আমাদের কথা শোনো।”
রাজু নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, “কী কথা?”
তখন একসাথে অনেকে কথা বলতে থাকে। রাজুর কাছে সেই কথাগুলোকে কোলাহলের মতো মনে হয়। রাজু বলল, “একজন। একজন কথা বলো।”
“আমি—আমি—আমি বলব— আবার কোলাহল।”
রাজু আবার বলল, “একজন। একজন। একজন কথা বলো।”
এবারে একটা নারী কণ্ঠ শোনা গেল। কাতর গলায় বলল, “আমার কথা শোনো—আমার কথা! আমি—আমি—আমি আমার মেয়ের কথা বলতে চাই।”
“কী হয়েছে তোমার মেয়ের?” এবারে অন্যরা থেমে গিয়ে নারীটকে কথা বলতে দেয়। নারীটির ছায়ামূর্তি সামনে স্পষ্ট হতে থাকে। কমবয়সি একজন তরুণী, কাতর গলায় বলল, “আমার মেয়েটির খুব অসুখ। ডাক্তারেরা ধরতে পারছে না। মেয়েটি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে—”
রাজু ঠিক বুঝতে পারল না সে তার অসুস্থ মেয়ের জন্য কী করতে পারবে। রাজু নিশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে তরুণীট কী বলে শোনার জন্য।
তরুণীটি বলল, “ভুল চিকিৎসা হচ্ছে আমার মেয়ের। ডাক্তার ধরতে পারছে না। তাকে নন্দী ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।”
“নন্দী ডাক্তার?”
“হ্যাঁ। হ্যাঁ। নন্দী ডাক্তার চিকিৎসা করতে পারবে।”
“কিন্তু—” রাজু কী বলবে বুঝতে পারল না।
তরুণীটি আকুল হয়ে কাঁদতে লাগল, “বাঁচাও, আমার মেয়েকে বাঁচাও-তোমার পায়ে পড়ি—”
রাজু বলল, “তোমার মেয়ে কে? কোথায় থাকে?”
“আমার মেয়ের নাম রেণু। রেণু।”
“রেণু কোথায় থাকে?”
“বাড়িতে থাকে। বাবার সাথে।”
“কিন্তু বাড়ি কোথায়?”
“এই তো এখানে—”
রাজুর অনেকক্ষণ লাগল রেণু কোথায় থাকে তার ঠিকানা বের করতে। কোনো একটি বিচিত্র কারণে এই তরুণীটি তার মেয়েকে সবসময় দেখছে কিন্তু সে কোথায় থাকে তার কাছে সেটার বাস্তব কোনো তথ্য নেই। শুধু তা-ই না, কথা বলার সময় হঠাৎ হঠাৎ তরুণীটির কথা ঝাপসা হয়ে যায়, মনে হয় অনেক দূর থেকে তার গলার স্বর ভেসে আসছে।
তরুণীর সাথে কথা বলার পর অন্যরা কথা বলতে চাইছিল কিন্তু রাজুর আর ধৈর্য ছিল না। ঘুমে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মিলিয়ার গলার স্বর শুনে সে ধড়মড় করে জেগে ওঠে। চোখ খুলে তাকিয়ে বলল, “মিলিয়া—”
“হ্যাঁ রাজু।”
“কেমন আছিস তুই?”
রাজু একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে শব্দ শুনল। মিলিয়া বলল, “আমি জানি না রাজু–”
“তোর কথা খুব মনে হয় মিলিয়া।”
“সে জন্য আমি তোর কাছে আসি।”
“কিন্তু আমি তো সবসময় তোকে দেখি না মিলিয়া। যখন এই কবজটা হাতের মুঠোয় ধরি শুধু তখন তোকে দেখি। অন্যদের দেখি।”
“আমি জানি। সে জন্যই সবাই তোর কাছে আসে। তোর চারিদিকে ভিড় করে। তোকে দিয়ে আপনজনের কাছে খবর পাঠাতে চায়।”
“তুই কারো কাছে খবর পাঠাতে চাস মিলিয়া?”
“না রাজু। আমার কোনো আপনজন নাই।” মিলিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে তারপর বলে, “আমি খুব একা রাজু। আমি খুব একা।”
রাজু বলল, “আমরা সবাই খুব একা মিলিয়া। সবাই খুব একা।” মিলিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার গলার স্বর অস্পষ্ট হয়ে যায়। তার ছবিটিও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
রাজু হাতের মুঠি আলগা করে কবজটি বিছানার ওপর ফেলে দিলো। গভীর দুঃখে তার বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে।
* * *
বাস থেকে নেমে রাজু ডানে-বামে তাকাল। রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট দোকান। কিছুদিনের ভেতর এই ছোট দোকানগুলো ভেঙে নিশ্চয়ই বড় বড় শপিং মল তৈরি হতে থাকবে। রাজু কাগজটি বের করে ঠিকানা দেখে নেয়। তার এখনও বিশ্বাস হয় না পরকালের কোনো একজন অশরীরী মায়ের দেওয়া ঠিকানা সে খুঁজে বের করতে যাচ্ছে। রেণু নামের একজন অসুস্থ মেয়ের বাবাকে বলতে হবে ডাক্তার নন্দী নামে একজন ডাক্তারের কাছে রেণুকে নিয়ে যেতে হবে। বলতে হবে রেণু নামের মেয়েটির অসুখটি শুধু নন্দী ডাক্তার ধরতে পারবেন, শুধুমাত্র নন্দী ডাক্তার তাকে চিকিৎসা করে ভালো করতে পারবেন। কী বিচিত্র একটি ঘটনা! পৃথিবীর কেউ কি এ রকম একটা ঘটনা বিশ্বাস করবে?
রাজু তারপরেও এই অবিশ্বাস্য কাজটি করতে এসেছে। তার কারণ সে যদি সত্যি দেখে তার হাতের কাগজটিতে লেখা ঠিকানাটি সত্যি এবং সত্যি সত্যি সেখানে রেণু নামে একটা মেয়ে থাকে, তাহলে সে বুঝতে পারবে গত কিছুদিন থেকে তার চারপাশে যে বিচিত্র অশরীরী জগতের ঘটনা ঘটছে সেগুলো সত্যি। সে জানবে মিলিয়া সত্যি, মিলিয়ার কথাগুলো সত্যি। সে জানবে সত্যি সত্যি শাফকাত মিলিয়াকে খুন করেছে।
রাজু একটা নিশ্বাস ফেলে তার হাতের কাগজে লেখা ঠিকানাটি দেখল। তারপর কাছাকাছি অলস ভঙ্গিতে বসে থাকা রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, “ভাই, কাজীপাড়া জায়গাটা কত দূর?”
রাজু নিশ্বাস বন্ধ করে রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে থাকে। রিকশাওয়ালা যদি ভুরু কুঁচকে বলে, ‘কাজীপাড়া? না কাজীপাড়া বলে কোনো জায়গা এখানে নাই’—তাহলে বুঝতে হবে তার সারাদিনের পরিশ্রমটুকু একেবারেই বৃথা গেছে। অশরীরী জগতের পুরো ব্যাপারটুকু আসলে তার মনের একধরনের বিভ্রান্তি, তার বেশি কিছু নয়।
কিন্তু রিকশাওয়ালা ভুরু কুঁচকাল না, একটা ম্যাচের কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলল, “কাজীপাড়া দূর আছে। জেলখানা পার হয়ে যেতে হয়।”
“আপনি যাবেন?”
“চলেন।”
“কত ভাড়া?”
“কাজীপাড়া কোনখানে যাবেন?”
রাজু আবার তার হাতের কাগজটা দেখল, বলল, “কে পি দাস রোড।”
রাজু আবার নিশ্বাস বন্ধ করে থাকে, কিন্তু রিকশাওয়ালা রাস্তাটা চিনল, মাথা নেড়ে বলল, “চলেন। বিশ টাকা দিয়েন।”
রাজুর একটু দরদাম করা উচিত, তাকে হিসাব করে টাকা খরচ করতে হয় কিন্তু এবারে সে দরদাম করল না। তার চোখের সামনে তার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে, সে কেমন করে এখন একটুখানি টাকা বাঁচানো নিয়ে মাথা ঘামাবে? রাজু রিকশাতে উঠে বসে।
রিকশাওয়ালা রিকশাটাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যায়। সত্যি সত্যি রাস্তার পাশে একটা বিশাল জেলখানা পার হয়ে তারা কিছু কিছু দোকানপাট এলাকায় ঢুকল, সেটা পার হয়ে কিছু বাড়িঘর, একটা সরু গলির সামনে থেমে বলল, “এইটা কে পি দাস রোড।”
রাজু উঁকি দিয়ে বাসাগুলোর নম্বর দেখার চেষ্টা করে, রেণু নামের মেয়েটির বাসাটির নম্বর তেইশ। কিছু দূর গিয়েই সে তেইশ নম্বর বাসা পেয়ে গেল। ছোটখাটো একটা পুরানো বাসা, বাসার ওপর টিনের ছাদ। সামনে একটু খোলা জায়গা। নিশ্চয়ই আর কিছুদিন পর এই খোলা জায়গা থাকবে না, এখানে বিশাল সাততলা বিল্ডিং উঠে যাবে।
রাজু রিকশাটা ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে একটু সাহস সঞ্চয় করে নিল। তারপর গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকে। সিঁড়ি দিয়ে বারান্দায় উঠে দরজায় শব্দ করল। কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা দরজা খুলে দিলো, কোনো কথা না বলে মহিলাটি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
রাজু জিজ্ঞেস করল, “এইটা কি রেণুদের বাসা?”
মহিলা মাথা নাড়ল।
রাজু জিজ্ঞেস করল, “রেণুর বাবা কি আছেন?”
মহিলা প্রথম বার কথা বলল, “জে, আছেন।”
“আপনি কি একটু খবর দিতে পারবেন? বলবেন ঢাকা থেকে একজন এসেছে।”
মহিলা তাকে বাইরের ঘরের সোফায় বসিয়ে ভিতরে গেল। রাজু খুবই অস্বস্তি নিয়ে বসে থাকে। রেণুর বাবা এলে তাকে সে কি বলবে? কীভাবে বলবে?
কয়েক মিনিট পরেই একজন মানুষ আসে, পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ বছর বয়স কিন্তু চেহারায় বৃদ্ধ মানুষের মতো একধরনের হতাশা এবং ক্লান্তির ছাপ। ঘরে ঢুকে একটু অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকাল। রাজু দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে বলল, “আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি আপনাকে একটা খবর দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে এসেছি।”
মানুষটির চেহারায় একটু ভয়ের ছাপ পড়ল। আস্তে আস্তে সোফায় বসে জিজ্ঞেস করল, “কী খবর?”
রাজু বলল, “আপনার একটা মেয়ে আছে, নাম রেণু, তাই না?”
“হ্যাঁ।”
“আপনার মেয়ের শরীরটা মনে হয় ভালো না। তাই না?”
মানুষটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “জি আমার মেয়ে খুব অসুস্থ ডাক্তারেরা অসুখটা ধরতে পারছে না।”
“আমি আপনাকে বলতে এসেছি যে আপনি রেণুকে ডাক্তার নন্দীর কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার নন্দী আপনার মেয়ের কী হয়েছে বলতে পারবেন, ঠিক চিকিৎসা করতে পারবেন। উনার চেম্বার হচ্ছে-”
রেণুর বাবা বললেন, “আমি জানি উনার চেম্বার কোথায়।”
“চমৎকার! তাহলে প্লিজ আপনি আপনার মেয়েকে উনার কাছে নিয়ে যান।”
“ঠিক আছে নিয়ে যাব।” তারপর একটু থেমে বললেন, “কিন্তু আপনি আমার মেয়ের কথা কোথা থেকে জেনেছেন?”
রাজু মাথা নিচু করল, কী বলা যায় চিন্তা করল, তারপর মাথা সোজা করে বলল, “প্লিজ আপনি আমাকে এটা জিজ্ঞেস করবেন না। আমি উত্তর দিতে পারব না। একজন আমাকে অনুরোধ করেছে আপনাকে এই খবরটা দিতে, আমি সেটা দিতে এসেছি—এইটুকু শুধু বলতে পারব।”
রেণুর বাবা অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “ঠিক আছে আমি জিজ্ঞেস করব না।”
দুইজন কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল, তখন রেণুর বাবা বলল, “আপনি ঢাকা থেকে এসেছেন, নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্ত। হাত-মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নিবেন? চা-নাস্তা দিতে বলি—”
রাজু সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল, বলল, “না, না, কিছু লাগবে না। আমার জার্নি করে অভ্যাস আছে।”
রেণুর বাবাও দাঁড়িয়ে গেল, বলল, “অন্তত এক কাপ চা খেয়ে যান।”
রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “না, চা লাগবে না। বরং এক গ্লাস পানি দিতে পারেন। আর—” রাজু থেমে গেল।
রেণুর বাবা বলল, “আর?”
“যদি কোনো সমস্যা না থাকে, আমি কি রেণুকে এক নজর দেখতে পারি?”
রেণুর বাবা এক মুহূর্ত কিছু একটা ভাবল, তারপর বলল, “ঠিক আছে, বসেন, আমি রেণুকে নিয়ে আসি।”
রাজু আবার বসল। একটু পরেই যে মহিলাটি দরজা খুলেছিল সে একটা পিরিচের ওপর ঝকঝকে একটা কাচের গ্লাসে টলটলে এক গ্লাস পানি নিয়ে এলো। রাজু এক চুমুকে পানিটা শেষ করে দেয়, তার যে এত তৃষ্ণা পেয়েছিল সেটা এতক্ষণ বুঝতে পারেনি। রাজু যখন খালি গ্লাসটা মহিলার হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে তখন রেণুর বাবা রেণুকে ধরে ধরে ঘরে ঢুকলেন। শীর্ণ দশ-বারো বছরের একটা মেয়ে। মাথার চুল রুক্ষ এবং এলোমেলো। চোখ দুটো কেমন জানি জ্বলজ্বল করছে। রাজু কী করবে বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে গেল।
রেণুর বাবা রেণুকে সোফায় বসালেন, তারপর বললেন, “এই যে আমার মেয়ে রেণু।” তারপর রেণুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “মা রেণু, এই যে ইনি ঢাকা থেকে এসেছেন, কেমন করে তোমার অসুখ ভালো করা হবে সেটি বলতে এসেছেন।”
রেণু ফিসফিস করে বলল, “আমার অসুখ কখনো ভালো হবে না। আমি আম্মুর কাছে চলে যাব।”
রেণুর বাবা কেমন জানি শিউরে উঠে বললেন, “ছিঃ মা। ছিঃ। এভাবে কথা বলে না।”
রাজু রেণুর সামনে মেঝেতে বসে রেণুর চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “তুমি নিশ্চয়ই ভালো হয়ে যাবে। আমি যে খবরটি এনেছি সেটি তো এমনি আনিনি—তার নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে।”
রেণু জ্বলজ্বলে চোখে রাজুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “কী কারণ?”
রাজু বলল, “তুমি যখন ভালো হয়ে যাবে তখন তোমাকে আমি কারণটা বলব। ঠিক আছে?”
রেণু মাথা নাড়ল। রেণুর বাবার কী মনে হলো কে জানে হঠাৎ করে বললেন, “আপনারা দুজন একটু কথা বলেন, আমি ভেতরে যাই।”
রাজু আপত্তি করল না। রেণুর বাবা যাওয়ার সময় মহিলাটিকেও ডেকে নিলেন। ঘরে এখন শুধু রেণু আর রাজু
রাজু এদিক-সেদিক তাকিয়ে নিচু গলায় বলল, “আমি এখানে কেন এসেছি তুমি জানতে চাও?”
রেণু মাথা নাড়ল, বলল, “জানতে চাই।”
“আমার সাথে একজন দেখা করেছে। দেখা করে বলেছে আমি যেন তোমার আব্বুর সাথে দেখা করে এই খবরটা দিই।”
“আপনার সাথে দেখা করে কে এই কথাটা বলেছে?”
রাজু আবার এদিক-সেদিক তাকাল, তারপর বলল, “তুমি যদি আমাকে কথা দাও কাউকে বলবে না তাহলে তোমাকে বলতে পারি।”
রেণু বলল, “কাউকে বলব না।”
রাজু তার হাতটা বাড়িয়ে দেয়। বলে, “আমাকে ছুঁয়ে কথা দাও। “ রেণু রাজুকে স্পর্শ করে বলল, “কথা দিলাম।” হাতটা গরম। মেয়েটির গায়ে জ্বর।
রাজু তখন নিচু গলায় বলল, “তোমার আম্মু।”
রাজু ভেবেছিল তার কথা শুনে রেণু চমকে উঠবে কিন্তু রেণু একটুও চমকাল না। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে এই উত্তরটাই আশা করেছিল।
রেণু বলল, “আপনার সাথে আম্মুর কেমন করে দেখা হয়েছে?” এক মুহূর্ত থেমে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল, “আম্মু আমার সাথে কেন দেখা করে না?
রাজু বলল, “শোনো রেণু, তোমার আম্মুর সাথে কেমন করে দেখা হয়েছে সেটা অনেক বড় একটা কাহিনি, অনেক জটিল একটা কাহিনি। আমি এখন তোমাকে সেটা বলতে পারব না। শুধু জেনে রাখো, তোমার আম্মু সবসময় তোমার আশেপাশে থাকে। তোমার কাছে কাছে থাকে।”
রেণু ভুরু কুচকাল, বলল,
“সত্যি?”
“হ্যাঁ। সত্যি। এখনও নিশ্চয়ই আছে। হয়তো তোমাকে দেখছে।”
“আপনি দেখতে পাচ্ছেন?”
“না। আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি সবসময় দেখতে পারি না।”
“আপনার সাথে কি আবার আমার আম্মুর দেখা হবে?”
“হ্যাঁ, হতে পারে।”
“তাহলে আমার আম্মুকে কি একটা কথা বলবেন?”
রাজু মাথা নেড়ে বলল, “শোনো রেণু, তুমি নিজেই তোমার আম্মুকে যেটা ইচ্ছা বলতে পারবে। তোমার আম্মু সবসময় তোমার পাশে থাকে। তুমি যদি চোখ বন্ধ করে তোমার আম্মুর কথা মনে করো তাহলে তোমার আম্মু তোমাকে জড়িয়ে ধরবে।”
রেণু মাথা নাড়ল, মনে হলো সে আগে থেকেই এটা জানে।
রাজু বলল, “সে জন্য তোমাকে ভালো হতে হবে। তুমি এক্ষুনি তোমার আম্মুর কাছে যেতে চেয়ো না। তোমার আম্মু সেটা চান না। যদি চাইতেন তাহলে আমাকে তোমার কাছে পাঠাতেন না। বুঝেছো?”
“বুঝেছি।”
“তোমার আম্মু আমাকে বলেছেন আমি যেন তোমার মাথায় হাত রেখে তোমার জন্য একটু দোয়া করি। করব দোয়া?”
“করেন।”
রেণু চোখ বন্ধ করল। রাজু তার মাথায় হাত রেখে মনে মনে বলল, “হে খোদা, মেয়েটাকে ভালো করে দাও।”
এ রকম সময়ে রেণুর বাবা ঘরে ঢুকলেন। রাজু উঠে দাঁড়াল, বলল, “আমি এখন যাই।”
রেণুর বাবা বললেন, “ঠিক আছে যান। ভালো থাকবেন। আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন।”
রাজু যখন দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন রেণু নিজে নিজে দাঁড়িয়ে গেল। বাবা তাকে ধরার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন রেণু হাত তুলে থামাল। বলল, “আমি ভালো হয়ে যাব বাবা।”
রেণুর আব্বুর চোখে পানি চলে এলো, বলল, “অবশ্যই তুই ভালো হবি মা। অবশ্যই ভালো হবি।”
* * *
পরের কয়েক দিন রাজুকে খুব ব্যস্ত থাকতে হলো। একদিন একটা বাসায় গিয়ে একজন মৃত মানুষের স্ত্রীকে বলে আসতে হলো তাদের বাসার ভেতরে সিলিংয়ে একটা জুতোর বাক্সে তার স্বামী এক লাখ ছিয়াত্তর হাজার টাকা রেখে গেছে, টাকাটা যেন নামিয়ে নিয়ে ব্যবহার করে। আরেকজনের স্ত্রীকে বলে আসতে হলো, সে যেন তার এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে তাকে জানায় তার কাছে সে সত্তর হাজার টাকা পায়। আরেকজনের বাসায় গিয়ে বলতে হলো তারা তাদের মেয়ের জন্য যার সাথে বিয়ে ঠিক করেছে ভুলেও যেন তার সাথে বিয়ে না দেয়। মিডল ইস্টে তার আরেকজন স্ত্রী আছে।
কিছু কিছু ব্যাপার সামনাসামনি বলা সম্ভব নয়—সেগুলো উড়ো চিঠিতে জানাতে হলো। একজনকে খুন করে তার লাশ কোথায় লুকিয়ে রেখেছে সেটা রাজু সরাসরি পুলিশকে জানিয়ে আসতে সাহস পেল না। আরেকজনকে খুন করার জন্য যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা নিরপরাধ, যে আসল খুনি তার পরিচয়টাও রাজু উড়ো চিঠিতে পুলিশকে জানাল।
যেটা সে এখনও কাউকে জানাতে পারেনি সেটা হচ্ছে মিলিয়ার খবরটা। তবে মিলিয়ার সাথে প্রতি রাতেই কথা হয়—যতই দিন যাচ্ছে মুঠিতে কবজ ধরে রেখে অশরীরী জগতের সাথে যোগাযোগ করার কাজটা ততই সহজ হয়ে যাচ্ছে। আগে যে রকম অন্ধকার হয়ে একটা পরাবাস্তব জগতের মতো হয়ে যেত এখন তা হয় না। চারপাশ সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তার মাঝে সে অশরীরী প্রাণীদের দেখতে পায়।
তারপরেও প্রায় প্রতিদিনই কিছু-না-কিছু বিচিত্র ঘটনা ঘটে। যেমন এক রাতে সে যখন কবজটি হাতে চেপে ধরে বিদেহী আত্মাদের সাথে কথা বলছে তখন হঠাৎ একজন উচ্চ কণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “আমি, আমি, আমি কথা বলতে চাই।”
রাজু অন্যদের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, “আমরা আগে, আমরা আগে—’ উচ্চ কণ্ঠে আবার আগের জন বলল, “না—না—না—আমি। আমি—আমাকে কথা বলতে না দিলে আমি সব শেষ করে দিব—”
রাজু একটু কৌতূহলী হলো, “সব শেষ করে দিবে?”
“হ্যাঁ।”
“কীভাবে?”
“এইভাবে—” হঠাৎ করে চেয়ারটা ঘরের এক মাথা থেকে ছুটে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা খেল। শেলফ থেকে বইগুলো হুড়মুড় করে পড়ে যায়, টেবিলে রাখা পানির গ্লাসটা নিচে পড়ে ঝনঝন করে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।”
রাজু চিৎকার করে বলল, “থামো, থামো—”
হঠাৎ করে ঘরে যে রকম প্রলয়কাণ্ড শুরু হয়েছিল ঠিক সেভাবে সবকিছু থেমে গেল। রাজু জিজ্ঞেস করল, “তুমি কে?”
“আমি আলফাজ।’
“আলফাজ, তুমি কেমন করে এগুলো করতে পারো? অন্যরা কেউ পারে না। অন্যরা শুধু কথা বলে।”
আলফাজ নামের বিদেহী আত্মাটা চুপ করে রইল। রাজু আবার জিজ্ঞেস করল, “আলফাজ। কেমন করে পারো?”
আলফাজ হঠাৎ ভাঙা গলায় বলল, “আমি আমার বউয়ের কথা ভুলতে পারি না। ছেলেটার কথা ভুলতে পারি না। সবাই বলে মরে যাবার পর পৃথিবীর কথা ভুলে যেতে হয়। পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক রাখতে হয় না, ওপরের জগতে চলে যেতে হয়—আমি ওপরের জগতে যেতে চাই না—আমি পৃথিবীতে থাকতে চাই—থাকতে চাই—” আলফাজ ডুকরে কেঁদে ওঠে
রাজু একটু অপেক্ষা করল, তারপর বলল, “সে জন্য বুঝি পৃথিবীর মানুষের মতো পৃথিবীর জিনিস ধরতে পারো? নাড়াচাড়া করতে পারো?”
“হ্যাঁ, আমি শিখেছি। আস্তে আস্তে শিখেছি। আমি চাইলে এখন মানুষকে মারতে পারি, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারি—”
“সর্বনাশ!”
“কিন্তু আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না।”
রাজু তখন জিজ্ঞেস করল, “তুমি আমার কাছে কী চাও?”
আলফাজ চুপ করে রইল। রাজু আবার জিজ্ঞেস করল, “কী চাও তুমি?”
আলফাজ বলল, “আমি একবার, মাত্র একবার আমার বউয়ের হাতটা ধরতে চাই।”
রং হতবুদ্ধি হয়ে বলল, “তুমি মারা গেছো আলফাজ! তুমি তোমার বউয়ের হাত ধরে কী করবে?”
“না—না—না—আমাকে না কোরো না। আমি পারি—পারি—”
রাজুকে শেষ পর্যন্ত আলফাজের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে হয়েছিল! আলফাজ সত্যিই শুধু তার স্ত্রীর হাত ধরেনি, তার স্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিল।
.
সেই থেকে আলফাজ রাজুর আশেপাশে থাকে! তাকে বলে রেখেছে যদি কখনো দরকার হয় তাকে যেন সে ডাকে! যে কাজ মানুষ করতে পারে না, আলফাজ তাকে সেই কাজ করে দেবে!
