Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ১১

    ১১

    রাজু ভেবেছিল রাতে ঘুম আসবে না কিন্তু কোনো একটা বিচিত্র কারণে সে প্রায় অচেতন হয়ে ঘুমাল। বেশ বেলা করে তার ঘুম ভেঙেছে। ঘুম থেকে জেগে মনে হলো তার ডান হাতের তালুতে ব্যথা, তাকিয়ে দেখে হাতের তালুর মাঝামাঝি লালচে হয়ে আছে, মনে হচ্ছে এই জায়গার চামড়াটা পুড়ে গেছে। কবজটা ধরে রাখার সময় যে গরম অনুভূতি হয়েছে সেটি চামড়াটাকে পোড়াতে পারে রাজু বুঝতে পারেনি। কে জানে কবজটা হয় তেজস্ক্রিয় সে জন্য তার চামড়ার এই অবস্থা।

    রাজু বাথরুমে গিয়ে হাতের তালুতে খানিকক্ষণ ঠান্ডা পানি ঢালল, মনে হলো হাতের ব্যথাটা একটু কমেছে। হাত-মুখ ধুয়ে রাজু ডাইনিং রুমে এসে তাদের প্রাচীন ফ্রিজটা খুলে ভেতরে তাকাল খাওয়ার মতো কিছু আছে কি না দেখার জন্য। এক কোনায় একটা পাউরুটি পড়ে আছে—প্রথম স্লাইসে ছোট ছোট রোয়া রোয়া ফাঙ্গাস, সেই স্লাইসটা ফেলে দিয়ে পাউরুটির মাঝামাঝি থেকে ভালো এক স্লাইস রুটি বের করে নিল। একটু মাখন কিংবা জেলি থাকলে ভালো হতো—সে রকম কিছুই নাই, তাই সে বসে বসে শুকনো রুটিটা চাবাতে থাকে।

    এই পুরো সময়টাতে একটি মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারে না যে গত রাতে মিলিয়া তাকে বলেছে যে শাফকাত তাকে গুলি করে মেরেছে। পুরো ব্যাপারটি এত অবিশ্বাস্য যে সে কথাটি কাউকে বলতেও পারবে না। সে মিলিয়ার আত্মাকে ডেকে এনে তার সাথে কথা বলে এটা জেনেছে–পৃথিবীর কোনো মানুষ এটা বিশ্বাস করবে? কিন্তু তারপরও সে মাথা থেকে এটা সরাতে পারল না।

    আগে কখনো সে ইহকাল-পরকাল, বাস্তব জীবন, অশরীরী জীবন, মানুষের আত্মা—এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করেনি। কিন্তু বলা যায় গত এক-দুই দিনে এই পুরো বিষয়টির একটা বিস্ময়কর ব্যাখ্যা জানতে পারছে। কখনোই সে এই ব্যাখ্যাটাকে কারো কাছে প্রমাণ করতে পারবে না—বিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষায় সে এটা যাচাই করতে পারবে না। তার হাতের তালুতে পোড়া দাগটি হয়তো একমাত্র বাস্তব একটি ঘটনা কিন্তু এটি কিছুই প্রমাণ করে না।

    রাজু পরকালের যে ছবিটি পেয়েছে সেটি এ রকম। মানুষের যে রকম বাস্তব জীবন আছে, মারা যাবার পর তার ঠিক সে রকম আরেকটি জীবন আছে, যেটি বাস্তব জীবন থেকে দেখা যায় না। সেই পরাবাস্তব বা অশরীরী জীবনে শুধু মানুষের আত্মা নয়, ভয়ংকর বিদেহী প্রাণীরাও থাকে—পৃথিবীর মানুষ বিশেষ পদ্ধতিতে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। একেবারে ঘটনাক্রমে সে একটি কবজ পেয়েছে, যেটি ব্যবহার করে সে পরাবাস্তব জগৎটিতে উঁকি দিতে পারে, এমনকি নির্দিষ্ট মানুষের সাথে যোগাযোগও করতে পারে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, গত রাতে তাকে জানানো হয়েছে যে সে খুবই ক্ষমতাশালী একজন মানুষ, সে পরকালের জগতে যা ইচ্ছা তা-ই করে ফেলতে পারে। ক্ষমতাটি নিশ্চয়ই তার নিজের নয়—ক্ষমতাটি এই রহস্যময় কবজের। তাই সে আপাতত আরো কিছুদিন কবজটি হাতছাড়া করতে চায় না—ব্যাপারটা আরেকটু দেখতে চায়।

    তা ছাড়া সে মিলিয়াকে কথা দিয়েছে যে সে শাফকাতকে এমনি এমনি ছেড়ে দেবে না—তাকে তার পাপের শাস্তি পেতে হবে। কীভাবে সেটি করা হবে রাজু জানে না। কিন্তু সে যদি অবিশ্বাস্য ক্ষমতাশালী একটা মানুষ হয়ে থাকে তাহলে কি একটা পথ খুঁজে বের করতে পারবে না? নিশ্চয়ই পারবে।

    রাজু অন্যমনস্কভাবে বসে থাকে। ঘুরে ফিরে তার একবার মিলিয়া আরেকবার শাফকাতের কথা মনে হয়। মিলিয়ার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হওয়ার কথা ছিল না—ঘটনাক্রমে হয়ে গেছে। বাইরে থেকে যাকে হাসি-খুশি একটা মেয়ে মনে হয়, ভেতরে ভেতরে সে খুবই দুঃখী-অসহায় একটি মেয়ে। মানুষকে বোঝা কী কঠিন। যে মানুষটি একেবারে বিনা কারণে তাকে মেরে ফেলবে মিলিয়া সেই মানুষটিকেই ভেবে এসেছিল একজন ফেরেশতা?

    রাজুর এখনও বিশ্বাস হয় না একজন সাইকোপ্যাথ এত নিপুণভাবে নিজেকে আড়াল করে রাখতে পারে।

    রাজু কেমন করে এই সাইকোপ্যাথকে ধরিয়ে দেবে?

    * * *

    সন্ধ্যে হতেই রাজুর একটা বিচিত্র অনুভূতি হতে থাকে। সে কবজটি হাতের মুঠিতে চেপে ধরে পরজগতে উঁকি দেওয়ার জন্য একধরনের ব্যাকুলতা অনুভব করতে থাকে। আগের রাতে সে মিলিয়ার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল। তাকে ডেকে ডেকে এনেছিল, সে যদি তাকে না ডাকে তাহলে মিলিয়া কি নিজ থেকে আসবে? মিলিয়া ছাড়াও আরো অসংখ্য ছায়ামূর্তি আশেপাশে

    থাকে। তাদের ভেতর একধরনের চাপা বেদনা, একধরনের দুঃখ আর হতাশা এবং অস্থিরতা কেন? কী নিয়ে তাদের ভেতর অস্থিরতা? তারা রাজুর সাথে কথা বলতে চেষ্টা করে, তাকে তারা কী বলতে চেষ্টা করে?

    প্রথম দিকে তার ভেতরে যে আতঙ্ক ছিল এখন সে আতঙ্ক নেই। তার বদলে রাজুর ভেতরে একধরনের কৌতূহল, সে একটু দেখতে চায়। রাজু বিজ্ঞানের ছাত্র—এখন পর্যন্ত সে যা কিছু দেখেছে তার ভেতরে বিজ্ঞানের ছিটেফোঁটা নেই। সে কি কোনোভাবে পুরো ব্যাপারটার কোনো একধরনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুঁজে বের করতে পারবে?

    তাই রাত গভীর হওয়ার পর রাজু তার বিছানায় বসে আবার কবজটি তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে। গত রাতের মতো হঠাৎ করে চারিদিক অন্ধকার হয়ে তার যে রকম মাথা ঘুরে গিয়েছিল আজকে সে রকম হলো না। ধীরে ধীরে চারপাশ কেমন যেন পরাবাস্তব জগতের মতো পাল্টে গেল। আবছাভাবে অনেক মানুষের ফিসফিস গলার শব্দ শোনা যেতে থাকে। খুব ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ছায়ামূর্তিগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করে। মনে হয় ছায়ামূর্তিগুলো তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করছে। প্রথমে সে কথাগুলো স্পষ্ট বুঝতে পারে না। রাজু তখন কথাগুলো বোঝার জন্য আরেকটু মনোযোগ দিলো।

    রাজুর মনে হলো তারা বলছে, “শোনো শোনো। আমার কথা শোনো। আমাদের কথা শোনো।”

    রাজু নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, “কী কথা?”

    তখন একসাথে অনেকে কথা বলতে থাকে। রাজুর কাছে সেই কথাগুলোকে কোলাহলের মতো মনে হয়। রাজু বলল, “একজন। একজন কথা বলো।”

    “আমি—আমি—আমি বলব— আবার কোলাহল।”

    রাজু আবার বলল, “একজন। একজন। একজন কথা বলো।”

    এবারে একটা নারী কণ্ঠ শোনা গেল। কাতর গলায় বলল, “আমার কথা শোনো—আমার কথা! আমি—আমি—আমি আমার মেয়ের কথা বলতে চাই।”

    “কী হয়েছে তোমার মেয়ের?” এবারে অন্যরা থেমে গিয়ে নারীটকে কথা বলতে দেয়। নারীটির ছায়ামূর্তি সামনে স্পষ্ট হতে থাকে। কমবয়সি একজন তরুণী, কাতর গলায় বলল, “আমার মেয়েটির খুব অসুখ। ডাক্তারেরা ধরতে পারছে না। মেয়েটি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে—”

    রাজু ঠিক বুঝতে পারল না সে তার অসুস্থ মেয়ের জন্য কী করতে পারবে। রাজু নিশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে তরুণীট কী বলে শোনার জন্য।

    তরুণীটি বলল, “ভুল চিকিৎসা হচ্ছে আমার মেয়ের। ডাক্তার ধরতে পারছে না। তাকে নন্দী ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।”

    “নন্দী ডাক্তার?”

    “হ্যাঁ। হ্যাঁ। নন্দী ডাক্তার চিকিৎসা করতে পারবে।”

    “কিন্তু—” রাজু কী বলবে বুঝতে পারল না।

    তরুণীটি আকুল হয়ে কাঁদতে লাগল, “বাঁচাও, আমার মেয়েকে বাঁচাও-তোমার পায়ে পড়ি—”

    রাজু বলল, “তোমার মেয়ে কে? কোথায় থাকে?”

    “আমার মেয়ের নাম রেণু। রেণু।”

    “রেণু কোথায় থাকে?”

    “বাড়িতে থাকে। বাবার সাথে।”

    “কিন্তু বাড়ি কোথায়?”

    “এই তো এখানে—”

    রাজুর অনেকক্ষণ লাগল রেণু কোথায় থাকে তার ঠিকানা বের করতে। কোনো একটি বিচিত্র কারণে এই তরুণীটি তার মেয়েকে সবসময় দেখছে কিন্তু সে কোথায় থাকে তার কাছে সেটার বাস্তব কোনো তথ্য নেই। শুধু তা-ই না, কথা বলার সময় হঠাৎ হঠাৎ তরুণীটির কথা ঝাপসা হয়ে যায়, মনে হয় অনেক দূর থেকে তার গলার স্বর ভেসে আসছে।

    তরুণীর সাথে কথা বলার পর অন্যরা কথা বলতে চাইছিল কিন্তু রাজুর আর ধৈর্য ছিল না। ঘুমে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মিলিয়ার গলার স্বর শুনে সে ধড়মড় করে জেগে ওঠে। চোখ খুলে তাকিয়ে বলল, “মিলিয়া—”

    “হ্যাঁ রাজু।”

    “কেমন আছিস তুই?”

    রাজু একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে শব্দ শুনল। মিলিয়া বলল, “আমি জানি না রাজু–”

    “তোর কথা খুব মনে হয় মিলিয়া।”

    “সে জন্য আমি তোর কাছে আসি।”

    “কিন্তু আমি তো সবসময় তোকে দেখি না মিলিয়া। যখন এই কবজটা হাতের মুঠোয় ধরি শুধু তখন তোকে দেখি। অন্যদের দেখি।”

    “আমি জানি। সে জন্যই সবাই তোর কাছে আসে। তোর চারিদিকে ভিড় করে। তোকে দিয়ে আপনজনের কাছে খবর পাঠাতে চায়।”

    “তুই কারো কাছে খবর পাঠাতে চাস মিলিয়া?”

    “না রাজু। আমার কোনো আপনজন নাই।” মিলিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে তারপর বলে, “আমি খুব একা রাজু। আমি খুব একা।”

    রাজু বলল, “আমরা সবাই খুব একা মিলিয়া। সবাই খুব একা।” মিলিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার গলার স্বর অস্পষ্ট হয়ে যায়। তার ছবিটিও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

    রাজু হাতের মুঠি আলগা করে কবজটি বিছানার ওপর ফেলে দিলো। গভীর দুঃখে তার বুকের ভেতর কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে।

    * * *

    বাস থেকে নেমে রাজু ডানে-বামে তাকাল। রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট দোকান। কিছুদিনের ভেতর এই ছোট দোকানগুলো ভেঙে নিশ্চয়ই বড় বড় শপিং মল তৈরি হতে থাকবে। রাজু কাগজটি বের করে ঠিকানা দেখে নেয়। তার এখনও বিশ্বাস হয় না পরকালের কোনো একজন অশরীরী মায়ের দেওয়া ঠিকানা সে খুঁজে বের করতে যাচ্ছে। রেণু নামের একজন অসুস্থ মেয়ের বাবাকে বলতে হবে ডাক্তার নন্দী নামে একজন ডাক্তারের কাছে রেণুকে নিয়ে যেতে হবে। বলতে হবে রেণু নামের মেয়েটির অসুখটি শুধু নন্দী ডাক্তার ধরতে পারবেন, শুধুমাত্র নন্দী ডাক্তার তাকে চিকিৎসা করে ভালো করতে পারবেন। কী বিচিত্র একটি ঘটনা! পৃথিবীর কেউ কি এ রকম একটা ঘটনা বিশ্বাস করবে?

    রাজু তারপরেও এই অবিশ্বাস্য কাজটি করতে এসেছে। তার কারণ সে যদি সত্যি দেখে তার হাতের কাগজটিতে লেখা ঠিকানাটি সত্যি এবং সত্যি সত্যি সেখানে রেণু নামে একটা মেয়ে থাকে, তাহলে সে বুঝতে পারবে গত কিছুদিন থেকে তার চারপাশে যে বিচিত্র অশরীরী জগতের ঘটনা ঘটছে সেগুলো সত্যি। সে জানবে মিলিয়া সত্যি, মিলিয়ার কথাগুলো সত্যি। সে জানবে সত্যি সত্যি শাফকাত মিলিয়াকে খুন করেছে।

    রাজু একটা নিশ্বাস ফেলে তার হাতের কাগজে লেখা ঠিকানাটি দেখল। তারপর কাছাকাছি অলস ভঙ্গিতে বসে থাকা রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, “ভাই, কাজীপাড়া জায়গাটা কত দূর?”

    রাজু নিশ্বাস বন্ধ করে রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে থাকে। রিকশাওয়ালা যদি ভুরু কুঁচকে বলে, ‘কাজীপাড়া? না কাজীপাড়া বলে কোনো জায়গা এখানে নাই’—তাহলে বুঝতে হবে তার সারাদিনের পরিশ্রমটুকু একেবারেই বৃথা গেছে। অশরীরী জগতের পুরো ব্যাপারটুকু আসলে তার মনের একধরনের বিভ্রান্তি, তার বেশি কিছু নয়।

    কিন্তু রিকশাওয়ালা ভুরু কুঁচকাল না, একটা ম্যাচের কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে বলল, “কাজীপাড়া দূর আছে। জেলখানা পার হয়ে যেতে হয়।”

    “আপনি যাবেন?”

    “চলেন।”

    “কত ভাড়া?”

    “কাজীপাড়া কোনখানে যাবেন?”

    রাজু আবার তার হাতের কাগজটা দেখল, বলল, “কে পি দাস রোড।”

    রাজু আবার নিশ্বাস বন্ধ করে থাকে, কিন্তু রিকশাওয়ালা রাস্তাটা চিনল, মাথা নেড়ে বলল, “চলেন। বিশ টাকা দিয়েন।”

    রাজুর একটু দরদাম করা উচিত, তাকে হিসাব করে টাকা খরচ করতে হয় কিন্তু এবারে সে দরদাম করল না। তার চোখের সামনে তার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে, সে কেমন করে এখন একটুখানি টাকা বাঁচানো নিয়ে মাথা ঘামাবে? রাজু রিকশাতে উঠে বসে।

    রিকশাওয়ালা রিকশাটাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যায়। সত্যি সত্যি রাস্তার পাশে একটা বিশাল জেলখানা পার হয়ে তারা কিছু কিছু দোকানপাট এলাকায় ঢুকল, সেটা পার হয়ে কিছু বাড়িঘর, একটা সরু গলির সামনে থেমে বলল, “এইটা কে পি দাস রোড।”

    রাজু উঁকি দিয়ে বাসাগুলোর নম্বর দেখার চেষ্টা করে, রেণু নামের মেয়েটির বাসাটির নম্বর তেইশ। কিছু দূর গিয়েই সে তেইশ নম্বর বাসা পেয়ে গেল। ছোটখাটো একটা পুরানো বাসা, বাসার ওপর টিনের ছাদ। সামনে একটু খোলা জায়গা। নিশ্চয়ই আর কিছুদিন পর এই খোলা জায়গা থাকবে না, এখানে বিশাল সাততলা বিল্ডিং উঠে যাবে।

    রাজু রিকশাটা ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে একটু সাহস সঞ্চয় করে নিল। তারপর গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকে। সিঁড়ি দিয়ে বারান্দায় উঠে দরজায় শব্দ করল। কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা দরজা খুলে দিলো, কোনো কথা না বলে মহিলাটি সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “এইটা কি রেণুদের বাসা?”

    মহিলা মাথা নাড়ল।

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “রেণুর বাবা কি আছেন?”

    মহিলা প্রথম বার কথা বলল, “জে, আছেন।”

    “আপনি কি একটু খবর দিতে পারবেন? বলবেন ঢাকা থেকে একজন এসেছে।”

    মহিলা তাকে বাইরের ঘরের সোফায় বসিয়ে ভিতরে গেল। রাজু খুবই অস্বস্তি নিয়ে বসে থাকে। রেণুর বাবা এলে তাকে সে কি বলবে? কীভাবে বলবে?

    কয়েক মিনিট পরেই একজন মানুষ আসে, পঁয়ত্রিশ-চল্লিশ বছর বয়স কিন্তু চেহারায় বৃদ্ধ মানুষের মতো একধরনের হতাশা এবং ক্লান্তির ছাপ। ঘরে ঢুকে একটু অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকাল। রাজু দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে বলল, “আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি আপনাকে একটা খবর দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে এসেছি।”

    মানুষটির চেহারায় একটু ভয়ের ছাপ পড়ল। আস্তে আস্তে সোফায় বসে জিজ্ঞেস করল, “কী খবর?”

    রাজু বলল, “আপনার একটা মেয়ে আছে, নাম রেণু, তাই না?”

    “হ্যাঁ।”

    “আপনার মেয়ের শরীরটা মনে হয় ভালো না। তাই না?”

    মানুষটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “জি আমার মেয়ে খুব অসুস্থ ডাক্তারেরা অসুখটা ধরতে পারছে না।”

    “আমি আপনাকে বলতে এসেছি যে আপনি রেণুকে ডাক্তার নন্দীর কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার নন্দী আপনার মেয়ের কী হয়েছে বলতে পারবেন, ঠিক চিকিৎসা করতে পারবেন। উনার চেম্বার হচ্ছে-”

    রেণুর বাবা বললেন, “আমি জানি উনার চেম্বার কোথায়।”

    “চমৎকার! তাহলে প্লিজ আপনি আপনার মেয়েকে উনার কাছে নিয়ে যান।”

    “ঠিক আছে নিয়ে যাব।” তারপর একটু থেমে বললেন, “কিন্তু আপনি আমার মেয়ের কথা কোথা থেকে জেনেছেন?”

    রাজু মাথা নিচু করল, কী বলা যায় চিন্তা করল, তারপর মাথা সোজা করে বলল, “প্লিজ আপনি আমাকে এটা জিজ্ঞেস করবেন না। আমি উত্তর দিতে পারব না। একজন আমাকে অনুরোধ করেছে আপনাকে এই খবরটা দিতে, আমি সেটা দিতে এসেছি—এইটুকু শুধু বলতে পারব।”

    রেণুর বাবা অবাক হয়ে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “ঠিক আছে আমি জিজ্ঞেস করব না।”

    দুইজন কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল, তখন রেণুর বাবা বলল, “আপনি ঢাকা থেকে এসেছেন, নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্ত। হাত-মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নিবেন? চা-নাস্তা দিতে বলি—”

    রাজু সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল, বলল, “না, না, কিছু লাগবে না। আমার জার্নি করে অভ্যাস আছে।”

    রেণুর বাবাও দাঁড়িয়ে গেল, বলল, “অন্তত এক কাপ চা খেয়ে যান।”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “না, চা লাগবে না। বরং এক গ্লাস পানি দিতে পারেন। আর—” রাজু থেমে গেল।

    রেণুর বাবা বলল, “আর?”

    “যদি কোনো সমস্যা না থাকে, আমি কি রেণুকে এক নজর দেখতে পারি?”

    রেণুর বাবা এক মুহূর্ত কিছু একটা ভাবল, তারপর বলল, “ঠিক আছে, বসেন, আমি রেণুকে নিয়ে আসি।”

    রাজু আবার বসল। একটু পরেই যে মহিলাটি দরজা খুলেছিল সে একটা পিরিচের ওপর ঝকঝকে একটা কাচের গ্লাসে টলটলে এক গ্লাস পানি নিয়ে এলো। রাজু এক চুমুকে পানিটা শেষ করে দেয়, তার যে এত তৃষ্ণা পেয়েছিল সেটা এতক্ষণ বুঝতে পারেনি। রাজু যখন খালি গ্লাসটা মহিলার হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে তখন রেণুর বাবা রেণুকে ধরে ধরে ঘরে ঢুকলেন। শীর্ণ দশ-বারো বছরের একটা মেয়ে। মাথার চুল রুক্ষ এবং এলোমেলো। চোখ দুটো কেমন জানি জ্বলজ্বল করছে। রাজু কী করবে বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে গেল।

    রেণুর বাবা রেণুকে সোফায় বসালেন, তারপর বললেন, “এই যে আমার মেয়ে রেণু।” তারপর রেণুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “মা রেণু, এই যে ইনি ঢাকা থেকে এসেছেন, কেমন করে তোমার অসুখ ভালো করা হবে সেটি বলতে এসেছেন।”

    রেণু ফিসফিস করে বলল, “আমার অসুখ কখনো ভালো হবে না। আমি আম্মুর কাছে চলে যাব।”

    রেণুর বাবা কেমন জানি শিউরে উঠে বললেন, “ছিঃ মা। ছিঃ। এভাবে কথা বলে না।”

    রাজু রেণুর সামনে মেঝেতে বসে রেণুর চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল, “তুমি নিশ্চয়ই ভালো হয়ে যাবে। আমি যে খবরটি এনেছি সেটি তো এমনি আনিনি—তার নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে।”

    রেণু জ্বলজ্বলে চোখে রাজুর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “কী কারণ?”

    রাজু বলল, “তুমি যখন ভালো হয়ে যাবে তখন তোমাকে আমি কারণটা বলব। ঠিক আছে?”

    রেণু মাথা নাড়ল। রেণুর বাবার কী মনে হলো কে জানে হঠাৎ করে বললেন, “আপনারা দুজন একটু কথা বলেন, আমি ভেতরে যাই।”

    রাজু আপত্তি করল না। রেণুর বাবা যাওয়ার সময় মহিলাটিকেও ডেকে নিলেন। ঘরে এখন শুধু রেণু আর রাজু

    রাজু এদিক-সেদিক তাকিয়ে নিচু গলায় বলল, “আমি এখানে কেন এসেছি তুমি জানতে চাও?”

    রেণু মাথা নাড়ল, বলল, “জানতে চাই।”

    “আমার সাথে একজন দেখা করেছে। দেখা করে বলেছে আমি যেন তোমার আব্বুর সাথে দেখা করে এই খবরটা দিই।”

    “আপনার সাথে দেখা করে কে এই কথাটা বলেছে?”

    রাজু আবার এদিক-সেদিক তাকাল, তারপর বলল, “তুমি যদি আমাকে কথা দাও কাউকে বলবে না তাহলে তোমাকে বলতে পারি।”

    রেণু বলল, “কাউকে বলব না।”

    রাজু তার হাতটা বাড়িয়ে দেয়। বলে, “আমাকে ছুঁয়ে কথা দাও। “ রেণু রাজুকে স্পর্শ করে বলল, “কথা দিলাম।” হাতটা গরম। মেয়েটির গায়ে জ্বর।

    রাজু তখন নিচু গলায় বলল, “তোমার আম্মু।”

    রাজু ভেবেছিল তার কথা শুনে রেণু চমকে উঠবে কিন্তু রেণু একটুও চমকাল না। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে এই উত্তরটাই আশা করেছিল।

    রেণু বলল, “আপনার সাথে আম্মুর কেমন করে দেখা হয়েছে?” এক মুহূর্ত থেমে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল, “আম্মু আমার সাথে কেন দেখা করে না?

    রাজু বলল, “শোনো রেণু, তোমার আম্মুর সাথে কেমন করে দেখা হয়েছে সেটা অনেক বড় একটা কাহিনি, অনেক জটিল একটা কাহিনি। আমি এখন তোমাকে সেটা বলতে পারব না। শুধু জেনে রাখো, তোমার আম্মু সবসময় তোমার আশেপাশে থাকে। তোমার কাছে কাছে থাকে।”

    রেণু ভুরু কুচকাল, বলল,

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ। সত্যি। এখনও নিশ্চয়ই আছে। হয়তো তোমাকে দেখছে।”

    “আপনি দেখতে পাচ্ছেন?”

    “না। আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি সবসময় দেখতে পারি না।”

    “আপনার সাথে কি আবার আমার আম্মুর দেখা হবে?”

    “হ্যাঁ, হতে পারে।”

    “তাহলে আমার আম্মুকে কি একটা কথা বলবেন?”

    রাজু মাথা নেড়ে বলল, “শোনো রেণু, তুমি নিজেই তোমার আম্মুকে যেটা ইচ্ছা বলতে পারবে। তোমার আম্মু সবসময় তোমার পাশে থাকে। তুমি যদি চোখ বন্ধ করে তোমার আম্মুর কথা মনে করো তাহলে তোমার আম্মু তোমাকে জড়িয়ে ধরবে।”

    রেণু মাথা নাড়ল, মনে হলো সে আগে থেকেই এটা জানে।

    রাজু বলল, “সে জন্য তোমাকে ভালো হতে হবে। তুমি এক্ষুনি তোমার আম্মুর কাছে যেতে চেয়ো না। তোমার আম্মু সেটা চান না। যদি চাইতেন তাহলে আমাকে তোমার কাছে পাঠাতেন না। বুঝেছো?”

    “বুঝেছি।”

    “তোমার আম্মু আমাকে বলেছেন আমি যেন তোমার মাথায় হাত রেখে তোমার জন্য একটু দোয়া করি। করব দোয়া?”

    “করেন।”

    রেণু চোখ বন্ধ করল। রাজু তার মাথায় হাত রেখে মনে মনে বলল, “হে খোদা, মেয়েটাকে ভালো করে দাও।”

    এ রকম সময়ে রেণুর বাবা ঘরে ঢুকলেন। রাজু উঠে দাঁড়াল, বলল, “আমি এখন যাই।”

    রেণুর বাবা বললেন, “ঠিক আছে যান। ভালো থাকবেন। আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন।”

    রাজু যখন দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন রেণু নিজে নিজে দাঁড়িয়ে গেল। বাবা তাকে ধরার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন রেণু হাত তুলে থামাল। বলল, “আমি ভালো হয়ে যাব বাবা।”

    রেণুর আব্বুর চোখে পানি চলে এলো, বলল, “অবশ্যই তুই ভালো হবি মা। অবশ্যই ভালো হবি।”

    * * *

    পরের কয়েক দিন রাজুকে খুব ব্যস্ত থাকতে হলো। একদিন একটা বাসায় গিয়ে একজন মৃত মানুষের স্ত্রীকে বলে আসতে হলো তাদের বাসার ভেতরে সিলিংয়ে একটা জুতোর বাক্সে তার স্বামী এক লাখ ছিয়াত্তর হাজার টাকা রেখে গেছে, টাকাটা যেন নামিয়ে নিয়ে ব্যবহার করে। আরেকজনের স্ত্রীকে বলে আসতে হলো, সে যেন তার এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে তাকে জানায় তার কাছে সে সত্তর হাজার টাকা পায়। আরেকজনের বাসায় গিয়ে বলতে হলো তারা তাদের মেয়ের জন্য যার সাথে বিয়ে ঠিক করেছে ভুলেও যেন তার সাথে বিয়ে না দেয়। মিডল ইস্টে তার আরেকজন স্ত্রী আছে।

    কিছু কিছু ব্যাপার সামনাসামনি বলা সম্ভব নয়—সেগুলো উড়ো চিঠিতে জানাতে হলো। একজনকে খুন করে তার লাশ কোথায় লুকিয়ে রেখেছে সেটা রাজু সরাসরি পুলিশকে জানিয়ে আসতে সাহস পেল না। আরেকজনকে খুন করার জন্য যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা নিরপরাধ, যে আসল খুনি তার পরিচয়টাও রাজু উড়ো চিঠিতে পুলিশকে জানাল।

    যেটা সে এখনও কাউকে জানাতে পারেনি সেটা হচ্ছে মিলিয়ার খবরটা। তবে মিলিয়ার সাথে প্রতি রাতেই কথা হয়—যতই দিন যাচ্ছে মুঠিতে কবজ ধরে রেখে অশরীরী জগতের সাথে যোগাযোগ করার কাজটা ততই সহজ হয়ে যাচ্ছে। আগে যে রকম অন্ধকার হয়ে একটা পরাবাস্তব জগতের মতো হয়ে যেত এখন তা হয় না। চারপাশ সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তার মাঝে সে অশরীরী প্রাণীদের দেখতে পায়।

    তারপরেও প্রায় প্রতিদিনই কিছু-না-কিছু বিচিত্র ঘটনা ঘটে। যেমন এক রাতে সে যখন কবজটি হাতে চেপে ধরে বিদেহী আত্মাদের সাথে কথা বলছে তখন হঠাৎ একজন উচ্চ কণ্ঠে চিৎকার করে বলল, “আমি, আমি, আমি কথা বলতে চাই।”

    রাজু অন্যদের কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, “আমরা আগে, আমরা আগে—’ উচ্চ কণ্ঠে আবার আগের জন বলল, “না—না—না—আমি। আমি—আমাকে কথা বলতে না দিলে আমি সব শেষ করে দিব—”

    রাজু একটু কৌতূহলী হলো, “সব শেষ করে দিবে?”

    “হ্যাঁ।”

    “কীভাবে?”

    “এইভাবে—” হঠাৎ করে চেয়ারটা ঘরের এক মাথা থেকে ছুটে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা খেল। শেলফ থেকে বইগুলো হুড়মুড় করে পড়ে যায়, টেবিলে রাখা পানির গ্লাসটা নিচে পড়ে ঝনঝন করে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।”

    রাজু চিৎকার করে বলল, “থামো, থামো—”

    হঠাৎ করে ঘরে যে রকম প্রলয়কাণ্ড শুরু হয়েছিল ঠিক সেভাবে সবকিছু থেমে গেল। রাজু জিজ্ঞেস করল, “তুমি কে?”

    “আমি আলফাজ।’

    “আলফাজ, তুমি কেমন করে এগুলো করতে পারো? অন্যরা কেউ পারে না। অন্যরা শুধু কথা বলে।”

    আলফাজ নামের বিদেহী আত্মাটা চুপ করে রইল। রাজু আবার জিজ্ঞেস করল, “আলফাজ। কেমন করে পারো?”

    আলফাজ হঠাৎ ভাঙা গলায় বলল, “আমি আমার বউয়ের কথা ভুলতে পারি না। ছেলেটার কথা ভুলতে পারি না। সবাই বলে মরে যাবার পর পৃথিবীর কথা ভুলে যেতে হয়। পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক রাখতে হয় না, ওপরের জগতে চলে যেতে হয়—আমি ওপরের জগতে যেতে চাই না—আমি পৃথিবীতে থাকতে চাই—থাকতে চাই—” আলফাজ ডুকরে কেঁদে ওঠে

    রাজু একটু অপেক্ষা করল, তারপর বলল, “সে জন্য বুঝি পৃথিবীর মানুষের মতো পৃথিবীর জিনিস ধরতে পারো? নাড়াচাড়া করতে পারো?”

    “হ্যাঁ, আমি শিখেছি। আস্তে আস্তে শিখেছি। আমি চাইলে এখন মানুষকে মারতে পারি, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে পারি—”

    “সর্বনাশ!”

    “কিন্তু আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না।”

    রাজু তখন জিজ্ঞেস করল, “তুমি আমার কাছে কী চাও?”

    আলফাজ চুপ করে রইল। রাজু আবার জিজ্ঞেস করল, “কী চাও তুমি?”

    আলফাজ বলল, “আমি একবার, মাত্র একবার আমার বউয়ের হাতটা ধরতে চাই।”

    রং হতবুদ্ধি হয়ে বলল, “তুমি মারা গেছো আলফাজ! তুমি তোমার বউয়ের হাত ধরে কী করবে?”

    “না—না—না—আমাকে না কোরো না। আমি পারি—পারি—”

    রাজুকে শেষ পর্যন্ত আলফাজের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে হয়েছিল! আলফাজ সত্যিই শুধু তার স্ত্রীর হাত ধরেনি, তার স্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিল।

    .

    সেই থেকে আলফাজ রাজুর আশেপাশে থাকে! তাকে বলে রেখেছে যদি কখনো দরকার হয় তাকে যেন সে ডাকে! যে কাজ মানুষ করতে পারে না, আলফাজ তাকে সেই কাজ করে দেবে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }