নকশা-কাটা কবজ – ১৩
১৩
ঘরটিতে আবছা অন্ধকার। কালো আলখাল্লা পরা বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ বসে আছে। সামনে একটি বীভৎস মূর্তি। সবাই তার সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে। তাদের নেতা বিড়বিড় করে কোনো একটি দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু মন্ত্রোচ্চারণ করে পাশে রাখা মাটির মালসায় কিছু একটা ছেড়ে দিতেই ঘরটি উৎকট গন্ধের সাদা ধোঁয়ায় ভরে গেল।
দলপতি এবার অন্য সবার দিকে ঘুরে তাকাল। নিচু গলায় বলল, “আমার প্রিয় সহকর্মী এবং সহযোদ্ধা। আপনারা শুনে খুবই খুশি হবেন আমরা আমাদের লক্ষ্যের শেষে পৌঁছে গেছি। আমরা দুদিন পরেই অমাবস্যার রাতে মহাশক্তিধর জিগিরার সামনে উপস্থিত হব। এই.. জগতের অন্যতম ক্ষমতাশালী অন্ধকার জগতের প্রভু আমাদেরকে তার শক্তির অংশীদার করতে রাজি হয়েছেন। তার জন্য তিনি আমাদের দুইটি শর্ত দিয়েছিলেন। মিসরীয় কবজটি উদ্ধার করে তার চোখের সামনে ধ্বংস করতে হবে। এবং পানীয় হিসেবে তাকে জীবন্ত মানুষের রক্ত উৎসর্গ করতে হবে।
“আমরা মিসরীয় কবজটি উদ্ধার করেছি। একজন নির্বোধ শ্রেণির তরুণ সেটি খুঁজে পেয়েছিল, তার কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। অন্ধকার জগতের প্রভু জিগিরাকে উৎসর্গ করার জন্য একটি সুস্থ-সবল কিশোরীকে পথ থেকে তুলে আনা হয়েছে। আমরা এই কিশোরীটিকে প্রভু জিগিরার কাছে উৎসর্গ করব। এই কিশোরীটিকে বলা হয়েছে আমরা তাকে নিরাপদে নিজের জীবন গড়ে তোলার সুযোগ করে দিচ্ছি। সে আমাদের কথা বিশ্বাস করে আমাদের আশ্রয়ে এসেছে।
“আমার প্রিয় সহকর্মীরা। আমার প্রিয় অন্ধকার জগতের উপসাকেরা, তোমরা শুনে খুশি হবে যে এই প্রথম বার প্রভু জিগিরা তার নিজের রূপে আমাদের সামনে উপস্থিত হবেন। আর সেই রূপ পৃথিবীর খুব বেশি মানুষ দেখে নাই—আমরা প্রথম বার সেটি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করব।”
দলপতি আবার বীভৎস মূর্তিটির দিকে মুখ ফিরিয়ে নতজানু হয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকে। সারা ঘর উৎকট ঝাঁঝালো গন্ধের সাদা ধোঁয়ায় ভরে যেতে থাকে। দলপতি ঘুরে দাঁড়াল, তারপর বলল, “আমার প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, তোমরা জেনে খুবই খুশি হবে আমাদের আজকের সভায় আমাদের সাথে যোগ দিয়েছে আমাদের একজন নূতন সদস্য। সে এসেছে নিউইয়র্ক থেকে। আমাদের এই গোপন সংগঠনের সকল পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হয়েছে। নিজ হাতে একজনের প্রাণ নেওয়ার অত্যন্ত দুরূহ কাজটিও সে সম্প্রতি সম্পন্ন করেছেন। আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানাই, তুমি দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দাও।”
কালো আলখাল্লা পরে থাকা শাফকাত ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে সবার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল।
***
আবছা অন্ধকারে একটা দীর্ঘ ছায়ামূর্তি কবরস্থানের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে নিঃশব্দে হেঁটে হেঁটে একটা কবরের পাশে দাঁড়াল। নূতন কবর, আজ দুপুরেই সেখানে মিলিয়াকে কবর দেওয়া হয়েছে।
ছায়ামূর্তিটি নিচু হয়ে বসে, তার আলখাল্লার ভেতর থেকে একটা ছোট কোদাল বের করে। কবরের নরম মাটির ওপর কোপ দেওয়ার আগেই রাজু চাপা গলায় বলল, “দাঁড়াও।”
ছায়ামূর্তিটি ভয়ানক চমকে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। পোশাকের ভেতর হাত দিয়ে একটা পিস্তল বের করে সে রাজুকে খুঁজতে থাকে। রাজু দুই পা এগিয়ে এসে বলল, “এই যে, আমি এখানে শাফকাত।
ছায়ামূর্তিটি ঝট করে ঘুরে দাঁড়াল, রাজুর দিকে পিস্তলটি তাক করে বলল, “কে?”
“আমি রাজু।”
“তুমি? তুমি এখানে কেন?”
“প্রশ্নটি আমার তোমাকে করা উচিত। কিন্তু আমি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি। আমি মিলিয়ার লাশ পাহারা দিচ্ছি শাফকাত।”
শাফকাত নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে। রাজু আরো এক পা এগিয়ে গিয়ে বলল, “তোমার পিস্তলটা পকেটে রেখে দাও শাফকাত। তুমি চেষ্টা করলেও গুলি করতে পারবে না। আমাকে বাঁচানোর জন্য অনেকে চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। আর তারপরও তুমি যদি কোনোভাবে আমাকে গুলি করে ফেলো, তুমি রক্ষা পাবে না। আমার ঘরে টেবিলের ওপর একটা কাগজে আমি তোমার সম্পর্কে কয়েকটা কথা লিখে এসেছি।”
শাফকাত কোনো কথা বলল না, রাজু বলল, “কি লিখে এসেছি শুনতে চাও? লিখে এসেছি যে আমি খবর পেয়েছি আজ রাতে মিলিয়ার লাশ কবর থেকে তুলে নেবে তার স্বামী শাফকাত। আমি মিলিয়ার লাশ পাহারা দিতে যাচ্ছি।”
রাজু আরেক পা অগ্রসর হলো। শাফকাত তার পিস্তলটা শক্ত করে ধরে রাজুর দিকে তাক করে, রাজু নরম গলায় বলল, “পিস্তলটা নামাও শাফকাত। তা না হলে তোমার বিপদ হবে।”
শাফকাত পিস্তল নামাল না এবং হঠাৎ করে অদৃশ্য কোনো শক্তি তার মাথায় প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে নিচে ফেলে দিল। রাজু শাফকাতের পাশে উবু হয়ে বসে বলল, “ওর নাম আলফাজ। তিন বছর আগে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে মারা গিয়েছিল। পৃথিবীর জীবনের জন্য তার খুব ভালোবাসা। এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে চায় না। তোমরা যে রকম পরকালের জগতে নাক গলাতে শিখেছো, আলফাজও সে রকম পরকালের জগতে থেকে মানুষের জগতে নাক গলাতে শিখেছে! আমার সাথে আলফাজের পরিচয় হয়েছে। সে বিপদে-আপদে আমাকে সাহায্য করে। কেন করে জানি না। মনে হয় তোমাদের অন্ধকার জগতের জন্য তার কোনো ভালোবাসা নাই।’“
শাফকাত সাবধানে মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায়। রাজু নিচু গলায় বলল, “আমি তোমাকে ঘৃণা করি শাফকাত। মানুষ যে রকম নোংরা তেলাপোকাকে ঘৃণা করে, বিষাক্ত সাপকে ঘৃণা করে, আমিও তোমাকে সেভাবে ঘৃণা করি। কেন তোমাকে ঘৃণা করি, সেটা তুমি খুব ভালো করে জানো। মানুষ যেভাবে নোংরা তেলাপোকাকে পা দিয়ে পিষে ফেলতে পারে আমিও তোমাকে সেভাবে এখন পা দিয়ে পিষে ফেলতে পারি। কিন্তু আমি তোমাকে এখনই পা দিয়ে পিষে ফেলব না। তুমি ফিরে যাও শাফকাত। মিলিয়াকে তার কবরে শান্তিতে থাকতে দাও। যাও। ফিরে যাও।”
শাফকাত মাথা নিচু করে ফিরে গেল।
* * *
রাজু কবরস্থান থেকে যখন ফিরে এসেছে তখন অনেক রাত। বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে রগড়ে রগড়ে গোসল করেছে। তার চোখে ঘুম আসার কথা কিন্তু কোনো একটি কারণে তার চোখে ঘুম নেই। ভেতরে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। আগে সে জানত না, এখন জানে যে এই অস্থিরতাগুলো কোথা থেকে আসে। তার চারপাশে যখন অসংখ্য অশরীরী প্রাণী অস্থির হয়ে ঘুরে বেড়ায় তখন তাদের অস্থিরতাটুকু তার মাঝে চলে আসে। আজকে তাদের ভেতর অস্থিরতা কী নিয়ে কে জানে। কবজটি হাতের মুঠোয় চেপে ধরে সে কারণটা বের করে ফেলতে পারে কিন্তু কেন জানি সেটি করতে ইচ্ছে করছে না।
রাজু যখন জোর করে বিছানায় শুয়ে ঘুমানো কথা চিন্তা করছে তখন হঠাৎ করে দরজায় শব্দ হলো। এত রাতে কে আসতে পারে চিন্তা করতে করতে রাজু দরজা খুলে দিলো। প্রথমে মনে হলো দরজার সামনে কেউ নেই—একটু পরেই বুঝতে পারল একটু দূরে অন্ধকার জায়গাটাতে একজন দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটি দীর্ঘদেহী, পরনে সাদা আলখাল্লার মতো পোশাক এবং একটা চাদর দিয়ে এমনভাবে মুখটা ঢেকে রেখেছে যে চেহারা দেখা যাচ্ছে না।
রাজু কেমন জানি ভয় পেয়ে যায়—যেটুকু ভয় পায় অবাক হয় তার চেয়ে বেশি। কাঁপা গলায় বলল, “কে? কাকে চান?”
মানুষটি ভরাট গলায় বলল, “বাবা, আমি তোমার কাছেই এসেছি একটা খুব বিশেষ কাজে। আমি কি ভিতরে আসব?”
রাজু এক মুহূর্ত চিন্তা করল, তারপর দরজা থেকে সরে গিয়ে বলল, “আসেন।”
মানুষটি বলল, “বাবা, আমার চোখে আলো সহ্য হয় না। তুমি কি অনুগ্রহ করে ঘরের ভেতরে একটু অন্ধকার করে দেবে?”
রাজু মানুষটির কথা শুনে খুব অবাক হলো। কিন্তু সে ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে বলল, “আসেন।”
মানুষটি একেবারে নিঃশব্দে ঘরের ভেতর ঢুকল। রাজুর মনে হলো মানুষটি হেঁটে আসেনি, ভেসে ভেসে এসেছে। কিছুদিন আগে হলেও পুরো ব্যাপারটিতে রাজু অসম্ভব ভয় পেয়ে যেত। কিন্তু গত কিছুদিন থেকে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কারণে ভয় একটু কমেছে, সাহস একটু বেড়েছে। রাজু বলল, “বসেন।”
মানুষটি বলল, “আমি বসব না। বসার সময় নাই। আমি তোমার কাছে একটি কাজে এসেছে বাবা। তোমার সাহায্যের খুব দরকার।”
“কী সাহায্য?”
“বড় বিপদের সময় এইটা। অনেক বড় বিপদ। বাবা, তুমি তো এতদিনে টের পেয়েছো পৃথিবীতে দুইটা দুনিয়া—একটা হচ্ছে আলোর দুনিয়া ভালোর দুনিয়া। আরেকটা হচ্ছে অন্ধকারে দুনিয়া খারাপের দুনিয়া আমরা থাকি এই দুইটা দুনিয়ার ঠিক মাঝখানে।”
রাজু আবছা অন্ধকারে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না, কাপড়ে ঢাকা মুখের পিছন থেকে শুধু কথাগুলো ভেসে আসছে। গম্ভীর গলা, উচ্চারণ একটু বিদেশি মানুষের মতো। রাজুর হঠাৎ করে মনে হতে থাকে এটি মানুষ নয়—এটি অশরীরী কোনো প্রাণী। ভয়ে তার গা কাঁটা দিয়ে ওঠে।
মানুষটা বলতে থাকে, “অন্ধকারের দুনিয়ার অনেকগুলো স্তর—যত নিচের স্তরে যাবে তত ভয়ানক প্রাণী সেখানে থাকে। আলোর দুনিয়ারও অনেক স্তর, মানুষ যত ভালো হয় মৃত্যুর পর তত ওপরের স্তরে তার জায়গা হয়।”
‘পৃথিবীর মানুষের অনেক সমস্যা বাবা। তারা ক্ষমতা চায়। শক্তি চায়। তাই অন্ধকার দুনিয়ার প্রাণীদের ডেকে আমাদের দুনিয়ায় নিয়ে আসে। সেটা খুবই ভয়ানক বাবা—খুবই ভয়ানক।”
মানুষটা একটু থামল। রাজু জিজ্ঞেস করল, “কেন এটা ভয়ানক?”
“সেই প্রাণী আর অন্ধকার দুনিয়ায় ফিরে যেতে চায় না—এই দুনিয়ায় মানুষকে শয়তানে পরিণত করে দেয়। পৃথিবীর সর্বনাশ হয়ে যায়।”
রাজু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল, মানুষটা মাথা নেড়ে বলল, “আজকের রাতটা খুব ভয়ানক বাবা।”
“কেন? ভয়ানক কেন?”
“আজকে অমাবস্যার রাত। অনেক কয়জন মানুষ মিলে আজ রাতে অন্ধকার দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণীকে ডেকে আনবে বাবা। সে এসে সেই মানুষগুলোরে পিশাচ তৈরি করে দেবে—সে জন্য বিপদ। অনেক বড় বিপদ। সেই বিপদ থেকে তোমাকে রক্ষা করতে হবে বাবা।”
রাজু চমকে ওঠে, “আমাকে?
“হ্যাঁ। শুধু তুমি পারবা এই জিগিরার মোকাবেলা করতে।”
রাজুর মনে পড়ল, কয়দিন আগে মিলিয়ার সাথে একজন মহিলাও এসে বলেছিল তার অসম্ভব ক্ষমতা। কেমন করে তার এত ক্ষমতা হলো? রাজু ঢোঁক গিলে বলল, “আমি? আমি কেমন করে জিগিরাকে মোকাবেলা করব?”
“যদি কেউ পারে তাহলে সেটা হচ্ছে তুমি। আমি জানি তোমার কাছে সেই কবজটা আছে। এই কবজ কেউ সহ্য করতে পারে না। তুমি পেরেছো। তুমি চাও আর না চাও জিগিরাকে মোকাবেলা করার দায়িত্ব এখন তোমার।”
“আমি তো এত বড় দায়িত্ব নিতে পারব না। নিতে চাই না।”
“তুমি চাও আর নাই চাও, দায়িত্ব এখন তোমার। তুমি যদি মোকাবেলা করতে না চাও আজ রাতে একটু পরে একটি মাসুম মেয়েকে মেরে ফেলবে বাবা।”
রাজু তখনও কিছু বুঝতে পারছে না। খানিকক্ষণ চেষ্টা করে বলল, “আমাকে যেতেই হবে? কোথায় যেতে হবে?”
“আমি নিয়ে যাব তোমারে। আমি তোমারে নিয়ে যাব।”
“কখন যাব আমি?”
“এখনই যেতে হবে বাবা। হাতে সময় নাই।”
“সেই কবজটা নিয়ে যেতে হবে?”
“হ্যাঁ বাবা। কবজটা তোমার সাথে রাখতে হবে।” মানুষটা কিছুক্ষণ থেমে থেকে বলল, “বাবা, কবজটা তোমার শরীরের ভিতরে রাখতে হবে। হাতের চামড়া কেটে ভিতরে ঢুকাতে হবে।”
রাজু একটা আর্তচিৎকার করে বলল, “অসম্ভব। কক্ষনো না।”
“বাবা তুমি বুঝতে পারছো না, এ ছাড়া তোমার কোনো উপায় নাই।”
“উপায় না থাকলে নাই। কিন্তু আমি পারব না—”
“পারবে বাবা। বিষয়টা এখন তোমার হাতে নাই বাবা—অনেক বড় দায়িত্ব তোমার ওপর এসে পড়েছে। তুমি না করলে হবে না বাবা।”
রাজু আতঙ্কে মাথা নাড়তে থাকে। মানুষটা তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল, “তোমারে কিছু করতে হবে না বাবা। আমি সব করব।”
কথা বলতে বলতে দীর্ঘ মানুষটি কিংবা প্রাণীটি তার আলখাল্লার মতো পোশাকের ভেতর থেকে একটা চকচকে ধারালো ছোরা আর ব্যান্ডেজের মতো কিছু কাপড়ের টুকরো বের করে। ছোট একটা শিশি বের করে, কিছু গাছের পাতা বের করে। তারপর নরম গলায় বলল, “যাও বাবা। কবজটা নিয়ে আসো।”
রাজু নিজেকে বিশ্বাস করতে পারল না যখন দেখল, সত্যি সত্যি সে রান্নাঘরে ম্যাচ বাক্সের নিচে লুকিয়ে রাখা কবজটি নিয়ে এসেছে। মানুষটি কবজটি টেবিলে রাখল। তারপর রাজুর বাম হাতটি কনুইয়ের ওপর ধরল। মানুষটির হাত লোহার মতো শক্ত এবং বরফের মতো ঠান্ডা। কোনো জীবিত প্রাণীর হাত এত ঠান্ডা হওয়া সম্ভব নয়। রাজু দেখল মানুষটি চাকুটি হাতে তুলে নিয়েছে। সে আতঙ্কে চোখ বন্ধ করল।
পরমুহূর্তে অনুভব করল একটি ধারালো ছোরা তার হাতের মাংসপেশি চিরে ফেলছে। চিৎকার করবে না করবে না ভেবেও তার গলা দিয়ে একটা আর্তচিৎকার বের হয়ে এলো।
