Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ২

    ২

    খাটিয়াটা নামিয়ে রেখে মতি ঘাড় থেকে গামছাটা নিয়ে নিজেকে বাতাস করে। এই শীতের রাতেও সে ঘেমে উঠেছে। মানুষ মরে গেলে তার ওজন কি বেড়ে যায়? শুকনো খিটখিটে নাসির মুন্সীর কাফন দিয়ে ঢাকা লাশটা আনতে তার মতো এ রকম হাট্টাকাট্টা জোয়ান মানুষের এত পরিশ্রম হয়েছে কেন কে জানে।

    নাসির মুন্সীর আত্মীয়স্বজন বেশি নাই, খিটখিটে স্বভাবের ছিল বলে গ্রামের মানুষের সাথে সম্পর্কও ভালো ছিল না। মরে যাবার পরও মানুষজন সেটা ভুলে নাই—তাই লাশটাকে কবরস্থানের আনারও লোক কম পড়ে গেছে। তখন মতিকে খবর দেওয়া হয়েছে। ভালো কাজে তাকে কেউ ডাকাডাকি করে না, পরিশ্রমের কাজ হলে গ্রামের মানুষের সবার আগে তার কথা মনে পড়ে। তাদের দোষ দেওয়া যায় না—তার বিশাল পাথরের মতো শরীর, কাজেই পরিশ্রমের কাজে তার ডাক পড়তেই পারে।

    মতি সাথে আরো যারা খাটিয়া ঘাড়ে করে এনেছে তারা একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। মাটিতে বসে তারা মুখ বড় করে খুলে শ্বাস নিচ্ছে। একজন বলল, “নাসির মুন্সী কি ভাত খাইতো নাকি সিসা খাইতো? এই রকম ওজন জন্মে দেখি নাই।”

    একজন মৃত মানুষের পাশে বসে ঠাট্টা-তামাশা করা ঠিক না, তারপরেও কয়েকজন হাসির মতো শব্দ করল। মুরব্বি ধরনের একজন বলল, “নাউজুবিল্লাহ। মুর্দার সামনে এইটা কী রকম কথা?”

    মতি একটা বিড়ি জ্বালিয়ে লম্বা টান দিলো। বলল, “দেরি কইরেন না, মৌলভি সাহেবরে খবর দেন।”

    কররস্থানের এক পাশে মৌলভি সাহেবের বাড়ি, বাড়ির সামনে ছোট একটা নামাজঘর, পিছনে পুকুর। অবশ্য পুকুর না বলে সেটাকে এঁদো ডোবা বলা উচিত। ছোট টিনের ঘরের চারপাশে গাছপালা, জায়গাটাকে দিনের বেলাতেই অন্ধকার করে রাখে। এই নিশুতি রাতে পুরো জায়গাটাতে জমাট বাঁধা অন্ধকার, কেমন যেন থমথম করছে।

    নাসির মুন্সীর দূর সম্পর্কের ভাই বিড়বিড় করে একটা দোয়া পড়তে পড়তে মৌলভি সাহেবের বাড়ির দিকে গেল। বাইরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে উঁচু গলায় ডাকল, “হুজুর। মৌলভি সাহেব, দরজা খোলেন।”

    মৌলভি সাহেবের বয়স হয়েছে, কানে কম শোনেন। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করার পর একটা হারিক্যান হাতে ঝুলিয়ে দরজা খুলে বের হলেন। মৌলভি সাহেব মনে হয় চোখেও কম দেখেন, হারিক্যানটা ওপরে তুলে দেখার চেষ্টা করলেন, জিজ্ঞেস করলেন, “কেডা? মুর্দা আনছো নাকি?”

    “জে হুজুর। ভাইসাব ইন্তেকাল করেছেন।”

    মৌলভি সাহেব বিড়বিড় করে ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন পড়লেন। তারপর একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “গোর দেওয়ার জায়গা আর নাই। পুরান কবরের ওপরে দিতে হবে। আপনাদের ভাই-বেরাদরের গোর আছে এইখানে?”

    “জে না হুজুর।”

    “আসেন দেখি জায়গা পাই নাকি।”

    মৌলভি সাহেব হারিক্যান হাতে টুকটুক করে হেঁটে কবরস্থানের দিকে গেলেন। এই কবরস্থানের প্রত্যেকটা কবর তার নখদর্পণে। বুড়ো হয়ে অনেক কিছু ভুলে গেছেন কিন্তু কোনটা কার কবর সেটা ভুলেন না। আস্তে আস্তে পা ফেলে সাবধানে হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা বিড়বিড় করে নিজের সাথে কথা বলতে থাকেন। একটা ঝাপড়া লিচু গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় নাসির মুন্সীর ভাই বলল, “এইখানে তো ফাঁকা জায়গা আছে।”

    মৌলভি সাহেব মাথা নাড়লেন, “নাহ্। এইখানে গোর দেওয়া যাইব না।”

    “কেন? কারো জন্য রিজার্ভ?”

    “নাহ। জায়গাটা গরম।”

    নাসির মুন্সীর ভাই অবাক হয়ে বলল, “গরম?”

    মতি বিড়ি টানছিল বলে মুরব্বিদের পিছন পিছন আসছিল। এইবারে বিড়িটা হাতের তালুতে লুকিয়ে একটু এগিয়ে আসে জিজ্ঞেস করল, “গরম মানে কী?”

    মৌলভি সাহেব একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, “তুমি জানো না গরম মানে কী?”

    মতি সরল মুখ করে মাথা নাড়ল, বলল, “না মৌলভি সাহেব, গোর কেমন করে গরম হয় জানি না।”

    মৌলভি সাহেব একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “গরম মানে কি জানতে চাও, তাহলে মাঝরাতে একলা এইখানে আইসো।”

    “কী হয় তখন?”

    “তুমি নিজেই শুনবা।”

    মতির কৌতূহল এবারে যথেষ্ট বেড়ে গেল, সে প্রায় অনুনয়ের স্বরে বলল, “কী শুনব হুজুর?”

    “মাটির তলা থেকে ধুপ ধুপ শব্দ হয়।”

    মতি অবাক হয়ে বলল, “কী বলেন হুজুর?”

    “এখন ত্যানাগো কথা বাদ দাও। নাউজুবিল্লাহ।”

    মৌলভি সাহেব তার হারিক্যান হাতে করে টুকটুক করে খালি জায়গা খুঁজতে লাগলেন। বিড়বিড় করে অনেকটা আপন মনে নিজের সাথে কথা বলছিলেন। খুব ভালো করে লক্ষ করলে তার কথা একটু একটু বোঝা যায়। মৌলভি সাহেব এই কবরস্থানে গোর দেওয়া মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন, কথা শুনলে মনে হবে যাদের গোর দেওয়া হয়েছে সবাই বুঝি তার কথা শোনার জন্য জেগে আছে।

    মৌলভি সাহেব পুরো কবরটা ঘুরে আবার লিচু গাছের জায়গাটায় ফিরে এলেন। কিছুক্ষণ কিছু একটা চিন্তা করলেন, তারপর বললেন, “এইখানেই গোর দেও।”

    ইদরিস মিয়ার দূর সম্পর্কের ভাই বলল, “আপনি যে বললেন জায়গাটা গরম?”

    “বেশি বামে যাবা না। ডান দিকে চেপে রেখে গোর খুঁড়লে ঠিক আছে। গরম বাম দিকে।”

    “কিন্তু—”

    “ডরের কিছু নাই। আমি আছি। সুরা জিন পইড়া ফুঁ দিমু, আসমান-জমিন বান্ধা হইয়া যাইব।”

    ইদরিস মিয়ার ভাই তবু ইতস্তত করতে লাগল। মৌলভি সাহেব হারিক্যান নিয়ে হেঁটে হেঁটে নিজের বাড়ির দিকে যেতে যেতে বললেন, “গোর খুঁড়বা কে? আহ আমার লগে, কোদাল-খোন্তা নিয়ে যাও।”

    মতি মৌলভি সাহেবের পিছু পিছু যেতে থাকে। একটু পরে সে কোদাল নিয়ে ফিরে আসে।

    হুজুর বাম দিকে চেপে রেখে গোর খুঁড়তে বলেছিলেন। কিন্তু মতি সেটা না করে ডান দিকে চেপে মোটামুটি ফাঁকা জায়গাটাতেই খুঁড়তে শুরু করে। সাথে আর যারা এসেছে তারাও হাত লাগায়। দেখতে দেখতে কবর গভীর হতে থাকে।

    হঠাৎ করে মতি কবর খোঁড়া থামিয়ে দিয়ে হাত তুলে বলল, “স-স-স-স—থামো।”

    সবাই থেমে গেল। একজন জিজ্ঞেস করল, “কী হইছে?”

    “শোনো—”

    “কী শুনব?”

    “শব্দ শোনো না?”

    সবাই এবার কান পেতে শোনার চেষ্টা করল এবং হঠাৎ স্পষ্ট শুনতে পেল ধুপ ধুপ করে একটা শব্দ হচ্ছে। কিছুক্ষণ হওয়ার পর শব্দটা থেমে গেল।

    একজন ভয়ে ভয়ে বলল, “কিসের শব্দ?”

    কেউ তার কথার উত্তর দিলো না। নিঃশব্দে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে রইল।

    হঠাৎ আবার শব্দটা শুরু হয়, এবার আগের থেকে আরেকটু জোরে। মতির মনে হলো এই কবরটার খুব কাছাকাছি ডান দিক থেকে শব্দটা আসছে। সে গলা উঁচিয়ে নাসির মুন্সীর ভাইকে ডাকল, “চাচাজি—”

    নারিস মুন্সীর ভাই এগিয়ে আসে, “কী হইছে?”

    “হারিক্যানটা দেন।”

    “হারিক্যান?”

    “জে।”

    “কেন?”

    মতি অনেকটা ধমকের সুরে বলল, “শব্দ শুনেন না?”

    নাসির মুন্সীর ভাই কান পেতে শব্দ শোনার চেষ্টা করল। ধুপ ধুপ শব্দ শুনে সে ভীত গলায় বলল, “ইয়া মাবুদ! কিসের শব্দ?”

    মতি আবার বলল, “হারিক্যানটা দেন।”

    নাসির মুন্সীর ভাই হারিক্যানটা এগিয়ে দেয়। মতি হাতে হারিক্যানটা নিয়ে অর্ধেক খোঁড়া কবরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে। কবরের ডান দিকের মাটি থেকে শব্দটা আসছে! ভালো করে তাকালে মাটিটাতে একটা কম্পন চোখে পড়ে। প্রত্যেক বার ধুপ করে শব্দ হওয়ার সাথে সাথে একটুখানি মাটি ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছে। মতি মাটিটা স্পর্শ করল, মনে হলো মাটির অন্য পাশ থেকে কেউ একজন ধাক্কা দিচ্ছে।

    মতির সাথে আরো যে দুইজন ছিল, তারা জোরে জোরে কলমা পড়তে থাকে। একজন কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, “মৌলভি সাহেবরে ডাকেন। জলদি ডাকেন।”

    মতি কোদালটা হাতে নিয়ে কবরের ভেতরের ডান দিকের মাটিতে কোপ দিয়ে খানিকটা মাটি সরিয়ে ফেলল।

    পাশে দাঁড়ানো লোকটা মতির হাত ধরে ফেলল, ভয় পাওয়া গলায় বলল, “কী করো মতি ভাই?”

    “দেখি।”

    “কী দেখো?”

    কে শব্দ করে।” মতি তার কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে আরো খানিকটা মাটি সরিয়ে ফেলল।

    পাশে দাঁড়ানো মানুষটি মতির হাত ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করল। কাতর গলায় বলল, “সর্বনাশ মতি ভাই। এই কাজ করবা না।”

    ধুপ ধুপ শব্দটা এবারে বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে শব্দটা ডান দিক থেকেই আসছে। মতি ঝটকা মেরে হাত ছুটিয়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে আরেকটা কোপ দিয়ে বেশ বড় একটা মাটির টুকরো নামিয়ে ফেলল। তারপর জিজ্ঞেস করল, “কেন? কী হবে করলে?”

    “আল্লাহ্র দুনিয়ায় অনেক কিছু আছে মতি ভাই। সবকিছু দেখতে হয় না।”

    মতি কোদাল দিয়ে আরেকটা কোপ দিয়ে বলল, “দেখলে কী হয়?”

    “সবকিছু দেখার মতো না মতি ভাই। জায়গাটা গরম। তুমি বিপদের জায়গায় হাত দিতেছো।”

    “দিলে আমি দিতাছি। তোমার ভয় লাগলে যাও। আমি দেখতে চাই কে শব্দ করে, কীভাবে শব্দ করে।”

    মানুষটি এবারে মতি হাত ছেড়ে দিয়ে হাঁচড়পাঁচড় করে মাটি আঁকড়ে কোনোমতে অর্ধেক খোঁড়া কবর থেকে বের হয়ে গেল। তারপর দৌড়ে গেল মৌলভি সাহেবকে খবর দিতে। ওপরে যারা ছিল তারাও পিছু পিছু গেল। কারো এখন একা থাকার সাহস নাই। মতি কবরের ভেতর খুঁড়ছে এবং এখানে তার সঙ্গী কবরের পাশে খাটিয়াতে শোওয়া সাদা কাফনে ঢাকা নাসির মুন্সীর লাশ। কবরের ভেতরে রাখা হারিক্যানের আলো বের হয়ে এসে অন্ধকারকে দূর করতে পারছে না। মনে হয় জায়গায় জায়গায় জমাট বাঁধা অন্ধকার। গাছের পাতা বাতাসে নড়ছে, তার একধরনের শির-শির শব্দ।

    মতির ভিতরে ভয়-ডর বলে কিছু নেই নেই। তারপরও আজকে হঠাৎ তার বুকের ভেতর একটা আতঙ্ক ধক করে ওঠে। মতি তার বুকের ভেতর থেকে আতঙ্কটা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে আবার কোদালটা হাতে নিয়ে মাটি কুপিয়ে একটা সুরঙ্গের মতো করতে থাকে। অন্য পাশে ঠিক কী জিনিসটা শব্দ করছে সে দেখতে চায়।

    কয়েকটা কোপ দেওয়ার পর হঠাৎ মাটিটা ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে একটা পুরনো কাঠের দেওয়াল বের হলো। কাঠ পচে নরম হয়ে গেছে। কোদাল দিয়ে ধাক্কা দিতেই কাঠ ভেঙে পড়ে। ভাঙা অংশটাতে একটা ফাঁকা জায়গা বের হয়ে গেল। সাথে সাথে ভক করে একটা বিকট দুর্গন্ধ তার নাকে ধাক্কা দেয়। মতি মাথাটা সরিয়ে এনে গামছা দিয়ে নাকটা ঢেকে নেওয়ার চেষ্টা করল এবং তখন হঠাৎ করে সে একটা বিচিত্র ব্যাপার লক্ষ করল। পুরো কবরস্থানটা আশ্চর্য রকম নীরব, কেমন যেন থমথম করছে। ঝিঁঝিঁ পোকার যে কর্কশ ডাক পুরো এলাকাটাকে জীবন্ত করে রেখেছিল, হঠাৎ করে সেগুলো থেমে গেছে। কোথাও কোনো শব্দ নেই। চারপাশে একটা বিস্ময়কর নীরবতা।

    মতি এক হাত দিয়ে গামছাটা নাকে চেপে অন্য হাতে হারিক্যানটা ধরে সুরঙ্গ শেষের গর্তটাতে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করল। আবছা অন্ধকারে ভালো করে কিছু দেখা যায় না, তখন হঠাৎ করে কিছু একটা নড়ে ওঠে এবং মতি একজন উলঙ্গ মানুষকে দেখতে পেল। একটা কবরের মতো ছোট জায়গায় মানুষটি গুটিশুটি মেরে বসে তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মতিকে দেখে মানুষটি তার জিভ বের করে ঠোঁটটা চেটে নেয়, তখন মুহূর্তের জন্য তার ধারালো দাঁত দেখা গেল।

    মতি অমানুষিক একধরনের আতঙ্কে তার মাথা বের করে নেয়, তার মনে হতে থাকে এক্ষুনি বুঝি গর্ত থেকে মানুষটা বের হয়ে তার গলা কামড়ে ধরবে। সে পাগলের মতো দুই হাত দিয়ে মাটি তুলে গতটা বন্ধ করার চেষ্টা করতে থাকে। ঠিক তখন সে অনেক মানুষের পায়ের শব্দ শুনতে পেল, মৌলভি সাহেব অন্য সবাইকে নিয়ে ছুটে আসছেন। উচ্চ কণ্ঠে কোনো একটা দোয়া পড়তে পড়তে হাত দিয়ে অদৃশ্য কোনো একটা কিছুকে ঠেলে সরানোর মতো ভঙ্গি করে তার বয়সের তুলনায় অনেক ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে এসে কবরের পাশে দাঁড়ালেন। মতি তখন তার কোদালটা একটা অস্ত্রের মতো করে ধরে রেখে নিজের হাতে তৈরি করা সুরঙ্গটার দিকে তাকিয়ে আছে। মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করার জন্য সুরঙ্গটার অন্য মাথা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

    মৌলভি সাহেব এবং অন্যদের দেখে মতি একটু সাহস ফিরে পায়। সে কোদালটা শক্ত করে ধরে রেখেই কাঁপা গলায় বলল, “হুজুর, এইখানে একটা গর্ত— ‘“

    মৌলভি সাহেব তীব্র গলায় বললেন, “আমি কিছু শুনবার চাই না। তুমি চুপ করো। চুপ।”

    মতি বিড়বিড় করে বলল, “আপনি বিশ্বাস করবেন না হুজুর—আমি দেখেছি—”

    মৌলভি সাহেব চিৎকার করে বললেন, “চুপ—চুপ—একটা কথা না। একটা কথাও না—”

    মতি চুপ করে গেল। তার শরীরটা তখনও একটু একটু করে কাঁপছে।

    মৌলভি সাহেব উবু হয়ে বসে খানিকটা মাটি হাতে তুলে নিয়ে বিড়বিড় করে কিছু একটা পড়ে সেখানে ফুঁ দিলেন, তারপর সেটা কবরের ভিতর ছিটিয়ে দিলেন, তারপর মতিকে বললেন, “তুমি বের হও।”

    মতি কোদালটা একজনকে দেয়। আরেকজন তার হাত থেকে হারিক্যানটা নেয়। তখন সে দুই হাতে ভর দিয়ে কবর থেকে বের হয়ে এলো।

    মৌলভি সাহেব কোদালটা নিয়ে তার দুর্বল শরীর দিয়ে সেটা দিয়ে মাটি তুলে কবরের ভেতর ফেলতে লাগলেন এবং বিড়বিড় করে কথা বলতে লাগলেন।

    মতি বলল, “কোদালটা দেন, আমি মাটি ফেলি।”

    মৌলভি সাহেব কোদালটা দিলেন, বললেন, “ভরাট করো। কুনু তাড়াহুড়া নাই, সময় নেও কিন্তু ঠিক করে ভরাট করো। মনে রাখো সবাই অনেক বিপদের মাঝে আছে। আমার ক্ষমতা কিন্তু বেশি না— টুকটাক বিপদ ঠেকাতে পারি। বড় বিপদ ঠেকাতে পারি না। বড় বিপদ যেন না হয়।”

    বিপদ বলতে কী বোঝাচ্ছেন মতি সেটা আর জিজ্ঞেস করল না। মাটি দিয়ে কবরটা ভরাট করতে লাগল। অন্য আরেকজন আরেকটা কোদাল নিয়ে মাটি ভরাট করতে শুরু করে। মাটি ফেলতে ফেলতে মতির বারবার মনে হতে থাকে এক্ষুনি বুঝি মাটি ফুঁড়ে সেই উলঙ্গ মানুষটা বের হয়ে আসবে।

    যতক্ষণ মাটি দিয়ে কবরটা ভরাট করা হলো মৌলভি সাহেব কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর কবরের ওপর দুইটা বাঁশ আড়াআড়িভাবে রাখলেন। আরো কিছু দোয়া-দরুদ পড়ে কবরের ওপর মাটি ছড়িয়ে দিয়ে একসময় মতির দিকে তাকালেন।

    মতি লক্ষ করল কবরস্থানে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আবার ফিরে এসেছে। মৌলভি সাহেব কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন তারপর বললেন, “বাবা তোমার নাম কী?”

    “মতি।”

    “বাবা মতি, তুমি আজকে খুব বিপদের একটা কাজ করেছো। অনেক অনেক বড় বিপদ।”

    “কেন? বিপদ কেন?”

    “শোনো বাবা, তুমি ভিতরে কী দেখেছো সেটা কাউরে কোনোদিন বলবা না। কোনোদিন বলবা না। আমারে কথা দাও।”

    মতি বলল, “জে হুজুর কথা দিলাম।”

    “আমারে ছুঁয়ে কথা দাও।’“

    মতি বড় হুজুরের হাতটা স্পর্শ করে নিচু গলায় বলল, “কথা দিলাম হুজুর।”

    “এখন চলো, মুর্দার জন্য আরেকটা গোর খুঁড়ি।”

    .

    নাসির মুন্সীকে কবর দিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ভোর হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }