Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ৩

    ৩

    ক্লাস শেষ হয়ে যাবার পর সবাই বের হয়ে গেছে, ক্লাস রুমটা ফাঁকা। রাজু পিছনের দিকের একটা বেঞ্চে হেলান দিয়ে একটা বই পড়ছে। বইটা যথেষ্ট চমকপ্রদ, সমাজতন্ত্র ঠেকানোর জন্য ইন্দোনেশিয়ায় কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মারা হয়েছে তার খুঁটিনাটি বর্ণনা শেষ করে লাতিন আমেরিকাকে কীভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে সেটা পড়তে শুরু করেছে তখন কেউ একজন তার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে বলল, “কী পড়ছিস এত মনোযোগ দিয়ে?”

    রাজু পিছনে ফিরে তাকাল, মিলিয়াকে দেখে বইটা বন্ধ করে হাসি হাসি মুখে বলল, “বই।”

    মিলিয়া বলল, “আজকাল কেউ বই পড়ে নাকি?”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “নাহ্। পড়ে না।”

    “তাহলে?”

    “আমি আবার হিসাবের মাঝে পড়ি নাকি?”

    মিলিয়া একটু ঝুঁকে পড়ে বলল, “কী বই?”

    রাজু বইয়ের মলাট দেখাল, জন পার্কিন্সের লেখা ‘অর্থনৈতিক আততায়ীর স্বাকারোক্তি’। নীলক্ষেতে পুরানো বইয়ের দোকানে সস্তায় পেয়ে গেছে। মিলিয়া ভুরু কুঁচকে বলল, “জ্ঞানের বই? আঁতেল?”

    রাজু উত্তর না দিয়ে একটু হাসার ভঙ্গি করল। অপরাধ স্বীকারে করে নেওয়ার মতো হাসি।

    “বিকালে কী করছিস?”

    রাজু একটু অবাক হলো, জিজ্ঞেস করল, “কেন?”

    “ফ্রি থাকলে তোকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো।”

    রাজু আরেকটু বেশি অবাক হলো। জিজ্ঞেস করল, “কার সাথে?”

    “শাফকাতের সাথে।”

    রাজু চোখ বড় বড় করে বলল, “শাফকাত? মানে তোর যার সাথে বিয়ে?”

    “হ্যাঁ। আমার ফিয়ান্সে।”

    “দেশে এসেছে?”

    “হ্যাঁ।”

    “বিয়ে করতে?”

    মিলিয়া একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “মনে হয়।”

    রাজু মিলিয়ার মুখের দিকে তাকাল, সেখানে এখন আনন্দের একটা আভা থাকার কথা ছিল—নেই।

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “এত মানুষ থাকতে তুই শাফকাতের সাথে আমার পরিচয় করাতে চাচ্ছিস কেন?”

    মিলিয়া বলল, “তুই আঁতেল। শাফকাতও আঁতেল। সেই জন্য।”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “তুই ভুল করছিস, আমি আঁতেল না।”

    “আঁতেল হচ্ছে গালি, তাই যারা আঁতেল তারা কখনো স্বীকার করে না যে তারা আঁতেল।”

    “তুই আমাকে গালি দিচ্ছিস?”

    “সমস্যা আছে?”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “না সমস্যা নাই।” একটু হেসে বলল, “আঁতেল ছাড়া আর কোনটা গালি?”

    মিলিয়া কোনোরকম চিন্তা না করে সাথে সাথে উত্তর দিলো, “ভিআইপি হচ্ছে গালি। সেলিব্রেটি হচ্ছে গালি।”

    “তাই নাকি?”

    “হ্যাঁ।” মিলিয়া আবার জিজ্ঞেস করল, “বিকেলে ফ্রি আছিস?”

    আসলে রাজুর বিকেলে তার টিউশনিতে যাবার কথা, কিন্তু সেটা বলতে তার লজ্জা করল। বলল, “মোটামুটি।”

    “তাহলে ক্যাম্পাসে থাকিস। তোকে তুলে নেব।”

    “কোথায় নিবি?”

    “কোনো একটা ক্যাফেতে।”

    মিলিয়া চলে যেতে যেতে থামল, বলল, “তোর কোনো সমস্যা নাই তো?”

    “ইংরেজিতে কথা বলতে হবে?”

    “না। শাফকাত ভালো বাংলা জানে।”

    “তাহলে কোনো সমস্যা নাই। শুধু একটা প্রশ্ন।”

    “কী প্রশ্ন?”

    “বেচারা আমেরিকা থেকে এসেছে তোর জন্য, এখন তোরা ঘুরে বেড়াবি, আমাকে তোদের মাঝখানে টেনে আনছিস কেন? কাবাব মে হাড্ডির মতো–”

    মিলিয়া বলল, “তুই কয় রকম কাবাব খেয়েছিস? অনেক কাবাবে হাড্ডি থাকতে হয়, না-হলে খেতে টেস্ট হয় না।”

    “ঠিক আছে। আমার কাজ হচ্ছে টেস্ট বাড়ানো?”

    মিলিয়া হি হি করে হাসল। সে চলে যাবার পর রাজু আবার বইটাতে ফিরে গেল। কিন্তু বইয়ে মনোযোগ দিতে পারল না। এতদিন মিলিয়া মেয়েটির সাথে তার ভদ্রতার হুঁ-হাঁ ছাড়া সে রকম কথা হয় নাই। সেদিন বইয়ের দোকানে তার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে মনে হয় মেয়েটা তাকে অন্যভাবে দেখছে। শাফকাতের সাথে পরিচয় করানোর জন্য তাকে নিয়ে যাবে, ব্যাপারটা যথেষ্ট বিচিত্র। সে শাফকাতের সাথে কী নিয়ে কথা বলবে?

    রাজু কিছুক্ষণ বই পড়ার চেষ্টা করে উঠে দাঁড়াল। সে যে মেয়েটিকে টিউশনি করায় তাকে বলতে হবে আজ বিকেলে সে আসতে পারবে না। মেয়েটা মনে হয় খুশিই হবে। লেখাপড়ার বিষয়টা মেয়েটা কিংবা তার বাবা-মা কেউ ধরতে পারেনি। তাদের ধারণা ভালো কলেজে ভর্তি করে অনেকগুলি টিউটর রেখে দিলেই লেখাপড়া ভালো হতে থাকে—নিজেকেও যে চেষ্টা করতে হয়, সেটা মনে হয় জানেই না।

    .

    মিলিয়ার টেলিফোন পেয়ে রাজু বের হয়ে এলো। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই সে গাড়ির হর্ন শুনল, রাস্তার এক পাশে মিলিয়া তার গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। রাজু এগিয়ে গেল, ড্রাইভিং সিটে মিলিয়া স্টিয়ারিং হুইল ধরে বসে আছে, পাশের সিটে একজন সুদর্শন মানুষ, চোখে কালো চশমা। রাজু কাছে আসতেই মিলিয়া গাড়ির কাচ নামিয়ে বলল, “রাজু পিছনে ঢুকে যা।”

    রাজু দরজা খুলে পিছনে ঢুকল। সিটের ওপর ব্যাগ আর কিছু প্যাকেট ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে। সেগুলো সরিয়ে জায়গা করে রাজু বসে যায়। মিলিয়া শাফকাতকে বলল, “শাফকাত, এ হচ্ছে রাজু, আমাদের সাথে পড়ে।” তারপর রাজুকে বলল, “রাজু—”

    রাজু কথা শেষ করতে দিলো না, বলল, “বুঝেছি, ইনি শাফকাত।”

    শাফকাত পিছনে ঘুরে দুই সিটের মাঝখান দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডশেক করার জন্য, রাজু হ্যান্ডশেক করল, মানুষটা সুদর্শন, পুরুষালি চেহারা কিন্তু হাতটা নরম তুলতুলে। শাফকাত বলল, “নাইস টু মিট ইউ। মিলু বলেছে তুমি নাকি খুব ব্রিলিয়ান্ট—”

    মিলিয়ার নামটা মুচড়ে মিলু করে বলেছে—যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ হলে মনে হয় এ রকম করার অধিকার হয়ে যায়। মানুষটা রাজুকে তুমি করে সম্বোধন করছে, তার মানে সেও কি তুমি সম্বোধন করবে? প্রথম দেখাতেই কেউ তাকে তুমি বলে সম্বোধন করলে রাজুর বিরক্তি হয়। রাজু অবশ্যি তার বিরক্তিটা বুঝতে দিলো না, হাসি হাসি মুখ করে বলল, “মিলিয়া আমাকে ব্রিলিয়ান্ট বলেছে? আমি মনে হয় ব্রিলিয়ান্ট বানানও শুদ্ধ করে করতে পারব না।”

    শাফকাত বলল, “এগুলো হচ্ছে ব্রিলিয়ান্ট হওয়ার লক্ষণ।”

    মিলিয়া কোনো কথা না বলে গাড়িটাকে ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে সাবধানে রাস্তায় বের করে আনে। একটা রিকশাকে বিপজ্জনভাবে পাশ কাটিয়ে সে এক্সেলেটরে চাপ দিলো। শাফকাত তখন মাথা ঘুরিয়ে মিলিয়ার দিকে তাকাল, বলল, “হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম—এক্সিট নিয়ে বের হওয়ার জন্য যেই ব্রেকে চাপ দিয়েছি গাড়িটা পুরো হান্ড্রেড এইটি ডিগ্রি ঘুরে গেল—”

    রাজু একটা সূক্ষ্ম অপমান অনুভব করে। তাকে পুরোপুরি ভুলে গিয়ে শাফকাত মিলিয়াকে তার অসমাপ্ত গল্পটি শোনাতে শুরু করেছে। তুষার ঝড়ের মাঝে গাড়ি চালাতে গিয়ে কী রকম বিপজ্জনকভাবে তার গাড়িটা রাস্তার মাঝে স্কিড করতে শুরু করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা। পিছনের সিটে যে রাজু নামের একজন আস্ত মানুষ বসে আছে সেটা মনে হয় তারা ভুলেই গেছে।

    রাজু তার ব্যাকপ্যাকটা থেকে জন পার্কিন্সের বইটা বের করে। চলন্ত গাড়িতে সে আগে কখনো বই পড়ার চেষ্টা করে নাই। কাজটা খুব সহজ নয়। কিন্তু এখন বই পড়াটি মূল উদ্দেশ্য নয়—তাকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার অপমানটি থেকে নিজেকে রক্ষা করার একটি চেষ্টা। রাজু বইটি খুলে পড়ার চেষ্টা করে। পড়তে পারবে আশা করেনি কিন্তু সৌদি যুবরাজদের সাথে আমেরিকান এজেন্টদের রগরগে কাহিনিতে সে মোটামুটি ডুবে যেতে পারল।

    “এই রাজু!”

    মিলিয়ার ডাক শুনে রাজু মাথা তুলে তাকাল, বলল, “হ্যাঁ—”

    “তুই বই পড়া শুরু করে দিয়েছিস? তোকে আনলাম কথা বলার জন্য।”

    রাজু বই বন্ধ করতে করতে বলল, “আমি যে ব্রিলিয়ান্ট সেটা প্ৰমাণ করতে হবে না?” তারপর একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, “তোরা কথা বলছিলি তাই ডিস্টার্ব করতে চাই নাই।’”

    মিলিয়া কী বুঝল কে জানে, কথা না বাড়িয়ে বলল, “কোথায় যাব সেটা নিয়ে কারো কোনো সাজেশন আছে?”

    রাজু আর শাফকাত প্রায় একসাথে বলল, “না। নাই।”

    “ঠিক আছে, আমি তাহলে একটা পছন্দের জায়গায় নিয়ে যাই। জায়গাটা কিন্তু নিরিবিলি না—হাউকাউ একটু বেশি।”

    রাজু বলল, “হাউকাউ আমার জন্য সমস্যা না। আমার ভালোই লাগে।”

    শাফকাত কোনো কথা বলল না, আঙুল দিয়ে জানালার কাচে টুকটুক শব্দ করতে লাগল।

    .

    ক্যাফেটাতে যথেষ্ট ভিড় কিন্তু মিলিয়া তার মাঝে একটা টেবিলের ব্যবস্থা করে ফেলল, বোঝা গেল এখানে সে প্রায়ই আসে এবং তাকে একটু আলাদাভাবে খাতির করা হয়। ছোট টেবিলটা ঘিরে তিনজন বসার পর রাজু শাফকাতকে আরেকটু ভালোভাবে দেখার সুযোগ পেল। কালো চশমা পরে থাকার কারণে তার চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু যেটুকু দেখা যাচ্ছে সেটুকু দেখে বোঝা যায় মানুষটা যথেষ্ট সুদর্শন। রাজু যে রকম শাফকাতকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পেয়ে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে, মনে হয় শাফকাতও তাকে সেভাবে দেখছে। মানুষের চেহারা সুন্দর হলেই যে তাকে দেখে স্বস্তি পাওয়া যায় তা নয়। ঠিক কী কারণ কে জানে, শাফকাতকে দেখে রাজু কেমন জানি অস্বস্তি অনুভব করে। ঠিক কী কারণে অস্বস্তি বুঝতে পারছিল না বলে তার অস্বস্তিটাও ছিল অস্বস্তিকর। বিশেষ করে চোখে কালো চশমা থাকার কারণে শাফকাত সরাসরি তার দিকে তাকিয়ে আছে না অনমনস্কভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে সেটাও সে বুঝতে পারছিল না।

    মিলিয়া এখানে নিয়মিত আসে, তাই সে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই সবার জন্য কফি আর চিজ কেক অর্ডার দিয়ে দিয়েছে।

    পানির বোতল থেকে গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে মিলিয়া বলল, “শাফকাত, তোমার যেসব প্রশ্ন আছে তুমি এখন ইচ্ছা করলে রাজুকে জিজ্ঞেস করতে পারো।”

    রাজু হাসতে হাসতে বলল, “মিলিয়া, তোর কেমন করে ধারণা হয়েছে যে আমি শাফকাতের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব?”

    মিলিয়া বলল, “পারবি। শাফকাত তো প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে প্রশ্ন করে, তুই প্যাঁচিয়ে প্যাঁচিয়ে উত্তর দিবি! আমি প্যাঁচাতে পারি না।”

    রাজু চোখ বড় বড় করে বলল, “আমার সম্পর্কে তোর এই ধারণা? আমি প্যাঁচাতে পছন্দ করি?”

    মিলিয়া বলল, “হ্যাঁ। উত্তর জানার দরকার নাই—প্যাঁচাতে থাকবি।”

    শাফকাত প্রথম বার তার কালো গগলস খুলে টেবিলে রাখল, রাজু দেখল তার চোখের রং ঠিক কালো নয়, কেমন যেন সবুজাভ—চোখের রং এ রকম হলে গ্রামে এটাকে বিড়াল-চোখা বলে। শাফকাত রাজুর দিকে তাকিয়ে একটু হাসার ভঙ্গি করল, বলল, “আমার প্রশ্নটা খুবই সোজা। জিজ্ঞেস করব?”

    রাজু মাথা নাড়ল। শাফকাতের চেহারাটাকে এখন কেমন যেন নিষ্ঠুর মনে হতে থাকে। শাফকাত তার বিড়ালের মতো চোখে রাজুর দিকে তাকিয়ে বলল, “একটা দেশ চালাতে ব্রিলিয়ান্ট মানুষের দরকার হয়। এই দেশের সব ব্রিলিয়ান্ট ছেলেমেয়েরা আমেরিকা চলে যায়। তাহলে দেশ চালায় কারা?”.

    বাংলাতেই কথা বলেছে কিন্তু আড়ষ্ট উচ্চারণ, মনে হয় ইংরেজিতে বললেই বুঝতে সহজ হতো। রাজু উত্তর না দিয়ে একটু হাসার ভঙ্গি করল। বলল, “পাস।”

    মিলিয়া বলল, “পাস মানে?”

    “তাস খেলিসনি? তাস খেলার সময় দান না দিলে বলতে হয় পাস। ঠিক সে রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে না চাইলে বলতে হয় পাস।”

    শাফকাত একটু ঝুঁকে কেমন যেন কঠিন গলায় বলল, “কেন? প্রশ্নের উত্তর দিবে না কেন?”

    রাজুর মুখটা একটু গম্ভীর হয়ে ওঠে। সে বলল, “কারণ আমি যে উত্তরই দেই সেটা তোমার পছন্দ হবে না।”

    “কেন?”

    “কারণ তুমি হচ্ছ সেই মানুষ যার বিরুদ্ধে তুমি কমপ্লেন করছো। তুমি ব্রিলিয়ান্ট এবং তুমি দেশ ছেড়ে আমেরিকা চলে গেছো।”

    রাজুর মনে হলো শাফকাতের মুখটা মুহূর্তের জন্য একটু কঠিন হয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে মাথা নেড়ে বলল, “মিলু ঠিকই বলেছে, তুমি প্যাঁচালো মানুষ!”

    ঠিক তখন মিলিয়া একটা আর্ত শব্দ করল, “ইশ!”

    “কী হয়েছে?” বলে রাজু মিলিয়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে দেওয়ালে ঝোলানো বড় টেলিভিশনটার দিকে তাকাল। সেখানে নিঃশব্দে রিয়াল মাদ্রিদ এবং লিভারপুলের প্লেয়াররা জীবনপণ করে খেলছে, ঠিক তার নিচে স্ক্রলিং করে লেখা হচ্ছে কলরাডোর একটা স্কুলে একজন ঘাতক গুলি করে ঊনপঞ্চাশ জন শিশু এবং শিক্ষককে মেরে ফেলেছে।

    মিলিয়া প্রায় ফ্যাকাশে মুখে বলল, “শিশু? ঊনপঞ্চাশ?”

    শাফকাত টেলিভিশনের দিকে তাকাল এবং তার মুখে এক ধরনের হাসি ফুটে ওঠে। বিড়বিড় করে বলল, “আরেকজন হলে হাফ সেঞ্চুরি হতে পারত।”

    শাফকাতের কথা শুনে রাজু কেমন যেন শিউরে ওঠে। এ রকম একটা ঘটনা শুনে কেউ এভাবে কথা বলতে পারে? মিলিয়া শাফকাতের কথা শোনেনি, সে কেমন যেন অভিযোগের গলায় শাফকাতকে বলল, “এটা তোমাদের কেমন দেশ? দুই দিন পরপর কেউ-না-কেউ স্কুলের বাচ্চাদের গুলি করে মেরে ফেলে?”

    ঠিক তখন ওয়েটার এসে তাদের টেবিলে কফি আর কেক দিয়ে গেল। শাফকাত কেকের প্লেটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে হাসি হাসি মুখে বলল, “এটাকে বলে কোল্যাটারেল ড্যামেজ।

    মিলিয়া জিজ্ঞেস করল, “কী ড্যামেজ?”

    শাফকাত চামচ দিয়ে এক টুকরা কেক ভেঙে নিয়ে মুখে দিয়ে বলল, “কোল্যাটারেল ড্যামেজ। বড় একটা কিছু অর্জনের জন্য ছোট মূল্য দেওয়া।”

    “বড় কিছু? এখানে বড় কিছু কী?”

    “স্বাধীনতা, নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার।”

    রাজু হঠাৎ করে বলল, “আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?”

    শাফকাত বলল, “কথা ছিল আমি প্রশ্ন করব তুমি উত্তর দেবে। কিন্তু উল্টো তুমি আমাকে প্রশ্ন করতে চাইছো? ঠিক আছে। করো।”

    “আমি তোমাকে ছোট একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করব। দেখব তুমি তার উত্তর দিতে পারো কি না।”

    “ধাঁধা? পাজল?” শাফকাত হাসল, বলল, “আই লাইক পাজল। করো জিজ্ঞেস করো।”

    রাজু এক সেকেন্ড মনে মনে কিছু একটা ঠিক করে নিল, তারপর বলল, একজন যুবতী মেয়ের মা মারা গেছে। মায়ের ফিউনারেল হচ্ছে— তোমাদের দেশে যে রকম হয়, সবাই সেজেগুজে মৃত মানুষটিকে কফিনে ভরে কবর দিতে আসে। যুবতী মেয়েটি হঠাৎ একজন অত্যন্ত সুদর্শন মানুষকে দেখতে পেল, দেখামাত্রই তার প্রেমে পড়ে গেল, তার মনে হলো এই মানুষটিকে না পেলে সে বাঁচবে না।”

    রাজু একটু থামল, শাফকাত জিজ্ঞেস করল, “তারপর?”

    পরের সপ্তাহে যুবতী মেয়েটি তার বোনকে খুন করে ফেলল। কেন?”

    মিলিয়া প্রায় আর্তনাদ করে বলল, “নিজের বোনকে খুন করে ফেলল, কী সর্বনাশ!”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ। বলতে হবে কেন?”

    শাফকাত হা হা করে হেসে ফেলল, বলল, “কারণ তার বোনের ফিউনারেল হবে, তখন আবার সেই হ্যান্ডসাম মানুষটা আসবে, মেয়েটা তাকে দেখবে—”

    রাজু বলল, “গুড। কারেক্ট অ্যানসার। সঠিক উত্তর।”

    মিলিয়া বলল, “কী ভয়ংকর! কী জঘন্য কথা।”

    শাফকাত ভুরু কুঁচকে বলল, “তুমি এই আজব পাজল কোথায় পেয়েছো?”

    “কোনো একজনের কাছে শুনেছি। শতকরা একজন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। বলা হয়, শুধুমাত্র যারা সাইকোপ্যাথ তারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। অন্যরা পারে না।”

    শাফকাত স্থির দৃষ্টিতে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, “তুমি বলতে চাইছো আমি সাইকোপ্যাথ?”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “না। আমি বলতে চাইছি, যারা সাইকোপ্যাথ তারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে—অন্যরা পারে না সেটা কেউ বলেনি। পারতেও পারে।”

    শাফকাতের মুখে একটা বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে, আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে বলে, “মিলু ঠিকই বলেছে, তুমি আসলেই একজন প্যাঁচালো মানুষ।”

    মিলিয়া নিঃশব্দে দুইজনের কথা শুনছিল, এবারে জিজ্ঞেস করল, “যাদের কোনো বিবেক নেই তাদেরকে বলে সাইকোপ্যাথ। তাই না? সাইকোপ্যাথরা নাকি নিজের মা’কেও কেটেকুটে বাজারে বিক্রি করে দিতে পারে। সত্যি নাকি?”

    কেউ মিলিয়ার কথার উত্তর দিলো না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }