Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ৬

    ৬

    মতি ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আবার দেখে নিল সবকিছু ঠিক আছে কি না। একটা কোদাল, একটা ধারালো দা, একটা টর্চলাইট, টর্চ লাইটের নূতন ব্যাটারি। রাত গভীর হওয়া পযন্ত অপেক্ষা করে সে বের হয়েছে। গ্রামে মানুষজন বেশি রাত জাগে না। আজকাল ইলেকট্রিসিটি আসার কারণে যাদের বাড়ি টেলিভিশন আছে তারা একটু রাত করে ঘুমায়। তার পরেও মাঝরাতের পর কেউ জেগে থাকে না। মতি সাবধানে বের হলো, সে চায় না কেউ তাকে দেখে ফেলুক। পরিচিত কারো সাথে দেখা হলে কী বলবে সেটাও ঠিক করে রেখেছে, বাজারের পুরানো মাছ বাজারটা ভেঙে ফেলায় কাজ হচ্ছে, সেখানে যাচ্ছে। তাহলে কেউ আর সন্দেহ করবে না—এ রকম কাজ অনেক সময়েই রাতবিরেতে করতে হয়।

    মতি অমাবস্যা-পূর্ণিমার হিসেব রাখে না, তবে গ্রামে থাকলে নিজের অজান্তেই আকাশের চাঁদ কখন উঠে কখন ডুবে যায় সেটা নজরে পড়ে। কৃষ্ণপক্ষ যাচ্ছে তাই চাঁদ উঠবে অনেক রাতে। এর আগে আকাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু তারাগুলি জ্বলজ্বল করছে। কার কাছে সে জানি শুনেছিল আকাশের তারা নাকি লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে—তার বিশ্বাস হয় না!

    গ্রামের রাস্তা দিয়ে সে নিঃশব্দে হেঁটে যেতে থাকল। দুই-একটা বাড়িতে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে শুরু করেছিল কিন্তু গ্রামের কুকুর তাকে চিনে তাই তার পিছু পিছু কিছু দূর গিয়ে আবার ফিরে গেছে।

    লোকালয় পার হবার পর মতি একটু জংলা জায়গায় এলো। আগে এখানে বিশাল জঙ্গল ছিল, মানুষজন দিনদুপুরেই এদিক দিয়ে যেতে ভয় পেত। এখন জঙ্গল পাতলা হয়ে গেছে, মানুষজন ঘরবাড়িও বানাতে শুরু করেছে। জংলা জায়গার পর একটা পুকুর, তারপর কবরস্থান।

    কবরস্থানের এক কোনায় মৌলভি সাহেবের বাড়ি। বাড়িটা অন্ধকার, মৌলভি সাহেব নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে গেছেন। গোরস্থানের একটা ভাঙা গেট আছে, মতি সাবধানে সেটা ঠেলে ভিতরে ঢুকল। পায়ের তলায় শুকনো পাতার খচমচ একটু শব্দ হলো। গোরস্থানের ভেতর ইতস্তত গাছ, সেই গাছগুলোর পাতা বাতাসে নড়ে একধরনের শিরশির শব্দ হচ্ছে। গাছে গাছে ঝিঁঝিঁ পোকাও কর্কশ শব্দ করে ডেকে যাচ্ছে।

    মতি সাবধানে গোরস্থানের কোনায় লিচু গাছটার দিকে এগিয়ে যায়। কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ ধুপ ধুপ শুব্দ শুনতে পেল। এখন সে জানে শব্দটা কেন আসছে। কবরের নিচ থেকে লপ সিয়াং নামের এক সাধুর লাশ একটা পুরানো কাঠের বাক্স থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। কবরের নিচে গুটিশুটি মেরে বসে থাকা একজন শীর্ণ মানুষকে মতির মতো দীর্ঘদেহী বিশাল মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নাই, কিন্তু তারপরেও মতির বুকটা একটু কেঁপে উঠল।

    মতি জায়গাটা খুঁজে বের করল। নাসির মুন্সীকে কবর দেওয়ার জন্য প্রথমে এই জায়গাটতে তারা কবর খুঁড়েছিল। তারপর মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ওপরের জায়গাটাতে ঘাস নেই, গাছগাছালি নেই। জায়গাটা খুঁজে পেতে কোনো সমস্যা হলো না, দুটো বাঁশ আড়াআড়িভাবে এখনো রাখা আছে। কিন্তু তারপরেও মতি তার নূতন ব্যাটারি লাগানো টর্চলাইট দিয়ে জায়গাটা দ্রুত একবার দেখে নিল। সে এখন এখানে কোনো আলো জ্বালিয়ে কারো নজরে পড়তে চায় না।

    মতি কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। মাত্র কয়দিন আগেই এই মাটি খোঁড়া হয়েছে তাই মাটি বেশ নরম। মতি বেশ দ্রুত মাটি খুঁড়ে ফেলতে পারে। ঠিক এখানেই আগে মতি মাটি খুঁড়েছে তাই কোন দিকে কতটুকু খুঁড়তে হবে সেটা সে ভালোভাবে জানে।

    মতি মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে সে একসময় থামল এবং শুনতে পেল পাশ থেকে নিয়মিত বিরতিতে ধুপ ধুপ করে শব্দ হচ্ছে। কিছুক্ষণ শব্দ হওয়ার পর শব্দটা থেমে যায়, বেশ খানিকক্ষণ পর আবার শুরু হয়।

    মতি মাটি খুঁড়ে বেশ গভীরে ঢুকে গেছে। এবারে সে তার ধারালো দা এবং নূতন ব্যাটারি লাগানো টর্চলাইটটা গর্তের ভেতর নিয়ে আসে। দরকারের সময় যেন দ্রুত ব্যবহার করতে পারে সে জন্য মতি তার গামছা দিয়ে টর্চলাইট আর দা’টা কোমরে বেঁধে নিল।

    যখন ভেতরে নাড়াচাড়া করার মতো যথেষ্ট বড় একটা গর্ত খোঁড়া হয়েছে, তখন সে পাশে গর্ত করতে শুরু করে। মতি অবিশ্বাস্য সাহসী মানুষ। তার সাহস মোটামুটি নির্বুদ্ধিতার পর্যায়ে চলে গেছে, তারপরও সে একটু একটু আতঙ্ক অনুভব করবে। এর আগের বার গর্ত খুঁড়ে ভেতরে কী দেখবে সে জানত না, তাই তার ভয়টা ছিল বেশি। এবারে সেই ভয়টা নেই, সে জানে ভেতরে কী দেখবে। শীর্ণ দেহের উলঙ্গ মানুষটি নিয়ে তার কোনো কৌতূহল নেই। সে কাচের বয়ামে রাখা সেই কবজটি খুঁজে বের করে নিয়ে যেতে এসেছে। কবরস্থানের মৌলভি সাহেব কবজটির যে বর্ণনা দিয়েছেন সেই বর্ণনা সত্যি হলে, সেটা সে অনেক দামে বিক্রি করতে পারবে। বিক্রি করার আগে সে তাবিজটা মুঠির ভেতর চেপে ধরে রেখে পরকালটা এক নজর দেখতে চায়!

    মতি এবার ডান পাশ খুঁড়তে শুরু করে। আগের বার দেখার জন্য সরু একটা গর্ত করেছিল। এবারে সে ভেতরে কাচের বয়ামে রাখা কবজটা খুঁজে বের করে সেটা নিয়ে আসবে। তাই অনেক বেশি জায়গা খুঁড়তে হবে, যেন তার পুরো শরীরটা ভেতরে ঢোকানো যায়।

    এতক্ষণ নরম মাটি কেটেছে, এবারে মাটি শক্ত। মতি কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে কাটতে রীতিমতো ঘামতে থাতে।

    প্রথমে একটা ছোট গর্ত হলো এবং ঝুরঝুর করে ওপর থেকে বেশ খানিকটা মাটি ভেঙে পড়ল। কাঠের বাক্সটা এতদিনে পচে নরম হয়ে আছে। ধাক্কা লাগলেই ভেঙে যাচ্ছে। মতি বেশ বড় একটা গর্ত করে ফেলল। মতি তখন তার কোমর থেকে টর্চলাইটটা খুলে সেটা জ্বালিয়ে ভেতরে তাকাল। ভেতরে টর্চের আলো পড়তেই সে একটা হুটোপুটির শব্দ শুনতে পেয়। মনে হয় ভেতরে ক্রুদ্ধ কোনো একটি পশু ছোটাছুটি করছে।

    মতি এবারে ভেতরে উঁকি দিলো। সেই শীর্ণ উলঙ্গ মানুষটি বাক্সের এক কোনায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে। দুই হাত দিয়ে সেটি নিজের চোখ আড়াল করে রেখেছে, নিশ্চয়ই টর্চের তীব্র আলোতে এর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। প্রাণীটির শরীর থরথর করে কাঁপছে। মুখের ওপর থেকে হাত একটুখানি সরে যেতেই সে প্রাণীটির বীভৎস মুখটি দেখতে পেল, লাল জিভ ধারালো দাঁতের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। এই মানুষ কিংবা প্রাণীর মাথায় চুল নেই, দাড়ি-গোঁফ কিংবা ভুরু নেই। শরীরের চামড়া রক্তহীন ফ্যাকাশে বিবর্ণ এবং কুঁচকে হাড়ের সাথে লেপ্টে আছে।

    মতি বেশিক্ষণ সেটির দিকে তাকিয়ে থাকতে পারল না। মৌলভি সাহেব বলেছেন এটি লপ সিয়াং নামের একজন সাধুর শরীর। শরীরটি বহু আগে মারা গেছে। এই মৃতদেহটিতে জিগিরা নামের একটি অপদেবতা আশ্রয় নিয়েছে, যেটি মৃতদেহ থেকে বের হয়ে আর মুক্ত হতে পারছে না।

    মতির অবশ্য এত কিছু জানার আগ্রহ নেই, সে কবরের ভেতর থেকে কবজটা উদ্ধার করতে এসেছে। সে টর্চলাইট ফেলে মতি একটা কাচের বয়াম খুঁজতে থাকে। সত্তর-আশি বছর আগের একটা কবরে সে খুব সহজে কাচের বয়ামটি খুঁজে পাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু তার কপাল খুব ভালো সে কবরের এক কোনায় হঠাৎ করে বয়ামটির চকচকে ঢাকনাটি দেখতে পেল। ঢাকনার নিচে বয়ামটি মাটির ভেতর চাপা পড়ে আছে।

    এই গর্তটি কত বড় করলে সে তার শরীরের ওপরের অংশ ভেতরে ঢুকিয়ে হাত বাড়িয়ে বয়ামটি হাত দিয়ে তুলে নিতে পারবে মতি সেটা মনে মনে হিসাব করে নেয়। তারপর টর্চলাইটটি নিভিয়ে দিয়ে আবার কোমরে ঝুলিয়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে থাকে। মাটি কাটতে কাটতে সে যখন মাঝে মাঝে থেমে যায় তখন ভেতর থেকে আবার ধুপ ধুপ শব্দ শুনতে পায়। এবারে শুধু ধুপ ধুপ শব্দ নয়, তার সাথে সাথে সে হিংস্র কোনো জন্তুর গোঙানির মতো শব্দও আসতে থাকে। মতি জোর করে তার ভেতর থেকে সব আতঙ্ক দূর করে দেয়—তার কবজটি দরকার। সারা জীবন টাকা-পয়সার কষ্ট করেছে, এই কবজটি বিক্রি করে সে তার টাকা-পয়সার অভাব মিটিয়ে ফেলবে।

    গর্তটা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। দূর থেকে কেউ দেখে ফেলবে ভেবে সে টর্চলাইট জ্বালাচ্ছে না, আন্দাজে কাজ করে যাচ্ছে। যখন তার মনে হলো সে তার শরীরটা মোটামুটি ঢোকাতে পারবে তখন কোদালটা নামিয়ে রেখে সে আবার টর্চলাইট জ্বালাল। ভেতরের প্রাণীটা আবার অব্যক্ত একধরনে শব্দ করে এক কোনায় গুটিশুটি হয়ে সরে যায়।

    মতি এবার কবজটি বের করার জন্য প্রস্তুত হলো, এক হাতে টর্চলাইট ধরে রেখে সে শরীরটা ভেতরে ঢোকায়। গর্তটা আরেকটু বড় হলে ভালো হতো, কিন্তু মতি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাল না, ধাক্কা দিয়ে তার শরীরটা ভিতরে ঢুকিয়ে নিল। তারপর হাত বাড়িয়ে সে বয়ামটা ধরে। দীর্ঘদিন এখানে থাকার কারণে বয়ামটা প্রায় পুরোই মাটির নিচে গেঁথে গেছে। মতি বয়ামটা কয়েকবার সামনে-পিছনে ঠেলে একটু জায়গা করে নিল, তারপর টান দিয়ে সেটাকে বের করে আনে। বয়ামের ভেতরে টর্চলাইটের আলো ফেলে দেখল, সত্যি সেখানে বিচিত্র একটি কবজ। মতির মুখে হাসি ফুটে উঠল। বয়ামটি হাতে নিয়ে সে আবার ধাক্কাধাক্কি করে নিজের শরীরটা বের করে আনে।

    কবরের ভেতর বড় একটা গর্ত। গর্তটা আলাদাভাবে ভরাট করতে অনেক সময় নেবে। মতি তাই ঠিক করল সে বাইরে গিয়ে মাটি ফেলে পুরো কবরটাই বুজিয়ে দেবে। মতি প্রথমে তার কোদালটা বাইরে ছুড়ে দিলো, টর্চলাইটটা কোমরে বেঁধে নিল, তারপর বয়ামটা এক হাতে ধরে রেখে বের হয়ে আসে।

    বয়ামটাকে সে সাবধানে একটু দূরে রেখে কবরের ভেতর মাটি ফেলতে শুরু করে। মৌলভি সাহেব বলেছিলেন কবজটিকে সবসময় কাছাকাছি রাখতে হয় কিন্তু কিছুক্ষণ একটু দূরে নিরাপদ জায়গায় রাখলে কী আর হবে?

    মাটি দিয়ে মোটামুটি ভরাট করার পর হঠাৎ চারপাশে হালকা আলো ছড়িয়ে পড়ল, চাঁদ উঠেছে। মতি আকাশের দিকে তাকায়। চাঁদটা বাঁশঝাড়ের ওপর উঠে আসায় হঠৎ চারপাশে এই আলো ছড়িয়ে পড়েছে।

    মতি কাজ শেষ করার জন্য কোদালটা দিয়ে মাটি তুলে সামনে তাকাতেই তার শরীরটা হঠাৎ হিম হয়ে গেল—কবরের মাটি নড়ছে। প্রথমে একটা শীর্ণ হাত বের হয়ে আসে, তারপর মাথার একটা অংশ! মাটি খামচে ধরে সেই প্রাণীটি তার দুই হাত এবং মাথাটা বের করে। চাঁদের আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেল সেটি তার ধারালো দাঁত বের করে হাসল, তারপর মুখ দিয়ে একটা শব্দ করল, “উ-ম-ম-ম…”

    মতি এক মুহূর্তের জন্য হতবুদ্ধি হয়ে যায়, তারপর কোদালটি দুই হাতে শক্ত করে ধরে। প্রাণীটি তার জিভ বের করে ঠোঁট চেটে নেয়, তারপর টেনে টেনে বলে, “খিদা—অ-নে-ক খিদা—”

    তারপর কিছু বোঝার আগেই প্রাণীটি বিদ্যুৎগতিতে কবর থেকে লাফ দিয়ে বের হয়ে মতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মতি কিছু বোঝার আগেই সে তার ঘাড়ে তীব্র একটা যন্ত্রণা অনুভব করে। ভয়াবহ এটা দুর্গন্ধে তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। মতি টের পেল প্রাণীটি তার গলায় রক্তের ধমনিতে দাঁত বসিয়ে রক্ত শুষে নিচ্ছে।

    মতি হাত দিয়ে ধরে প্রাণীটাকে তার শরীর থেকে ছুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দেহটি হিম শীতল, পচা মাংসের মতো। যেখানেই মতি হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করে সেই জায়গাটি থেকে পচা মাংস খুলে আসে। সে একটা পচা-গলা মৃতদেহের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু এই মৃতদেহটির ভেতরে আছে এক অমানুষিক শক্তি, অশরীরী শক্তি জিগিরা।

    প্রাণীটি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “পারবি না, তুই পারবি না…আমি জিগিরা…আমি কতদিন থেকে না খেয়ে আছি…”

    মতি তার হাতের কোদালটা নিয়ে ঘুরিয়ে প্রাণীটাকে আঘাত করার চেষ্টা করল, সেটি কাচের বয়ামটির সাথে লাগল, সাথে সাথে বয়ামটি উড়ে গিয়ে একটা ঝোপের ভেতর গিয়ে পড়ে। মতি কোমর থেকে তার দা’টি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু প্রাণীটি তাকে ছাড়ে না। তার নাক, চোখ, মুখের সাথে লেপটে থেকে সেটি তার গলার রগ থেকে রক্ত শুষে নিতে নিতে পরিতৃপ্ত গলায় টেনে টেন বলে, “মজা… মজা… মজা…কতদিন কিছু খাই না…”

    মতি হঠাৎ করে টলে ওঠে। তার মাথা ঘুরছে, সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, প্রাণীটাকে নিয়ে সে নিচে পড়ে যায়। তার গায়ে আর শক্তি নাই, সে প্রাণীটাকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করল, পারল না। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করল, পারল না।

    প্রাণীটা মুখ তুলে একবার মতির দিকে তাকাল তারপর তার চটচটে শীতল লকলকে জিভ দিয়ে তার মুখ চাটতে থাকে। মতির রক্তহীন ফ্যাকাশে দেহটির ভেতরে তার শক্তিশালী হৃৎপিণ্ডটি বৃথাই শরীরের ভেতর রক্ত সঞ্চালন করার চেষ্টা করে একসময় থেমে যায়। মতি জানতেও পারে না প্রায় সত্তর বছর থেকে ক্ষুধার্ত অশরীরী প্রাণী একটি মৃতদেহে ভর করে শুধু তার রক্ত খেয়েই পরিতৃপ্ত হয়নি, তার শরীরের ভেতরেও খুবলে খুবলে খেতে শুরু করেছে।

    .

    মৌলভি সাহেব ফজরের আজানের আগেই জেগে ওঠেন। আজকে তার আরও আগে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল—মনের ভেতর কেমন জানি অশুভ একটা ভাবনা। তিনি দরুদ শরিফ পড়তে পড়তে দরজা খুলে বের হলেন। ভোররাতে মৌলভি সাহেব কবরস্থানে হেঁটে হেঁটে প্রত্যেকটা কবরে শায়িত মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন। আজকেও সেভাবে দোয়া করতে করতে আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছেন। লিচু গাছটার কাছাকাছি এসে তিনি হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। মনে হলো সেখানে মাটি খোঁড়া হয়েছে এবং তার কাছে একটি দেহ পড়ে আছে। মৃতদেহ।

    মৌলভি সাহেব কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে কাছে গেলেন। মৃতদেহটি ক্ষতবিক্ষত, আবছা অন্ধকারে ভালো করে দেখা যায় না। তারপরেও তিনি মতিকে চিনতে পারলেন। একটি মৃদু শব্দ করে তিনি ফিসফিস করে বললেন, “হে পরওয়ারদিগার। তুমি মাফ করে দিও।“

    * * *

    সুপারভাইজার পকেট থেকে একটা বোতল বের করে কম বয়সি ছেলেটার হাতে দিলো। বলল, “নে। সাথে রাখ।”

    “এটা কী?

    “বাংলা।”

    ছেলেটা অবাক হলো, “বাংলা মানে কী?”

    “বাংলা মদ।”

    “আমি মদ খাই না।”

    সুপারভাইজার তার ময়লা দাঁত বের করে হাসল। বলল, “আজ রাতে খাবি। সমস্যা কী?”

    ছেলেটা মাথা নাড়ল, “না। আমি মদ খাই না।”

    “যারা রাতে মর্গে ডিউটি দেয় তাদের খেতে হয়।”

    “কেন?”

    সুপারভাইজার ঘরের কোনায় সারি সারি বাক্স দেখিয়ে বলল, “ওইগুলার ভিতর কী?”

    “লাশ।”

    “হ্যাঁ। রাত্রেবেলা একটা-দুইটা লাশ জিন্দা হয়, বাক্সের ভিতরে শব্দ করে। চিৎকার করে।”

    ছেলেটা বিস্ফারিত চোখে বলল, “চিৎকার করে?”

    “হ্যাঁ।”

    “কে—কেন?”

    “কবে কেডা।” সুপারভাইজার গাল চুলকে বলল, “লাশের ট্রে খুলে ভিতরে দেখার চেষ্টা করিস না।”

    “কেন?”

    “আমি একদিন খুলেছিলাম। লাশ তোর দিকে তাকায়া হাসে, উঠে বসার চেষ্টা করে, তোরে ধরার চেষ্টা করে।”

    “ইয়া মাবুদ!”

    “বেশি ভয় লাগলে এক ঢোঁক খাবি। ভয় কমব।”

    সুপারভাইজার টেবিলের ওপরে বোতলটা ঠক করে রেখে বলল, “খালি এই মর্গে না, সব জায়গায় এক অবস্থা। মনে হয় কিছু একটা হইছে।”

    “কী হইছে?”

    “কোনো পিশাচ মনে হয় ছাড়া পাইছে।”

    কম বয়সি ছেলেটা শুকনো মুখে বলল, “অফিসে জানাইছেন?”

    “জানায়া লাভ কী? কে বিশ্বাস করবে? লাভের মাঝে ডিউটির সময় নেশা করছস বলে চাকরি চলে যাবে।”

    সুপারভাইজার চাবির গোছা কম বয়সি ছেলেটার হাতে দিয়ে চলে গেল।

    ঘণ্টাখানেক পর ছেলেটি শুনতে পেল লাশের একটা ট্রে ঝনঝন করে শব্দ করছে। ভেতর থেকে গোঙানোর মতো শব্দ হচ্ছে।

    ছেলেটির শরীর হিম হয়ে যায়। সে বাংলা মদের বোতলটা শক্ত করে ধরে, সে জীবনে মদ খায় নাই, আজকে মনে হয় খেতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }