Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ৮

    ৮

    রাজু টেবিলেও ওপর তার পা দুটি তুলে খবরের কাগজটি মেলে ধরে। তারা কয়েকজন মিলে এই অ্যাপার্টমেন্টে মেস করে থাকে। এই মেসের কোনো একজন কোনো এক সময়ে একটা খবরের কাগজের অফিসে চাকরি করত বলে এখানে তার জন্য একটা ফ্রি পত্রিকা দেওয়া হতো। সেই মানুষটি অনেক দিন হলো এই মেস ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু হকার এখনও নিয়মিতভাবে তার ভাগের খবরের কাগজ দিয়ে যাচ্ছে। কেউই হকারকে খবরটা দেয় নাই, একটা মাগনা পত্রিকা খারাপ কী? খবর পড়া যায়, টেবিলেও ওপর বিছিয়ে তার ওপর কালিমাখা ডেকচি রাখা যায়। গভীর রাতে তেলাপোকা বের হলে খবরের কাগজ পাকিয়ে সেটা দিয়ে তেলাপোকাও মারা যায়। খবরের কাগজের ব্যবহারের কোনো শেষ নেই।

    রাজু খবরের কাগজের ওপর চোখ বুলায়। বিদ্যুৎ ঘাটতির ওপর একটা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হচ্ছে হেড লাইন। রাজু কয়েক লাইন পড়ে হাল ছেড়ে দেয়। সরকারে নীতির সমালোচনা করতে চাইছে কিন্তু সরাসরি বলতে সাহস পাচ্ছে না। তাই ধরি মাছ না ছুঁই পানি জাতীয় প্রতিবেদন। ভেতরে নানা ধরনের সংখ্যা এবং ডলারের হিসাব। রাজু রাজনীতির খবর একটু পড়ল। রাজনৈতিক নেতাদের সাহস একটু বেশি, তারা খোলামেলাভাবে গালিগালাজ করতে পারে। আগে ভাবত শুধু আমাদের দেশের নেতারা এ রকম কাঁচা খিস্তি করে এখন দেখেছে সব দেশের নেতারাই একরকম। খবরের কাগজের মাঝখানে বুদ্ধিজীবীদের কলাম, এটি খুবই বিচিত্র। বুদ্ধিজীবীরা সবাই সবকিছু জানে, কেমন করে এটি হতে পারে সেটি একটি রহস্য। লেখাপড়ার একটা পৃষ্ঠা থাকে, সেখানে গাইড বই থেকে প্রশ্ন আর উত্তর দেওয়া থাকে। রাজু খেলাধুলা আর সিনেমার পৃষ্ঠাতে চোখ না বুলিয়েই উল্টে যায়। আন্তর্জাতিক খবরগুলো সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে। মফস্বলের খবর সাধারণত খুন-খারাবির খবর এবং দুর্ঘটনার খবর। চোখ বুলিয়ে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে যাওয়ার আগে হঠাৎ করে কোনার একটা খবরে চোখ পড়ে। খবরের শিরোনাম, ‘গোরস্থানে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু”।

    রাজু খবরটিতে চোখ বুলিয়ে হঠাৎ সোজা হয়ে বসে। সে তখন আবার খবরটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ল। সেখানে লেখা :

    নিজস্ব প্রতিবেদক : কুসুমডাঙ্গা এলাকায় সরকারি গোরস্থানে গত মঙ্গলবার একটি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গ্রামের মতিউর রহমান (২৭) নামের একটি যুবকের মৃতদেহ গোরস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা ভোররাতে একটি খুঁড়ে রাখা কবরের পাশে খুঁজে পান। মতিউর রহমানের মৃতদেহ ছিল পুরোপুরি রক্তশূন্য এবং তার দেহের ভেতর থেকে হৃৎপিণ্ড ও যকৃৎ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় থানার ওসি বলেছেন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে এখানে জনশ্রুতি আছে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে একজন পিশাচ সাধকের দেহে জিগিরা নামক অপদেবতা ভর করলে তাকে কৌশলে এখানে কবরস্থ করা হয়। মতিউর রহমান কৌতূহলী হয়ে এই কবর খুঁড়ে অপদেবতাকে মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় তার এই পরিণাম ঘটে। অপদেবতা জিগিরা স্থানীয় এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেছে বলে আশেপাশের গ্রামে নানা ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

    স্থানীয় কলেজের বিজ্ঞান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই জনশ্রুতি পুরোপুরি অবৈজ্ঞানিক এবং গ্রাম্য কুসংস্কার। মতিউর রহমানের মৃত্যুর পিছনে স্থানীয় দুষ্কৃতকারী এবং বন্য পশুর ভূমিকা থাকতে পারে।

    বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

    রাজু ভুরু কুঁচকে খবরটির দিকে তাকিয়ে থাকে। পুরানো ঢাকার ফুটপাথ থেকে সে যে পুরাতন বই আর নোট বই কিনেছিল, সেখানেও জিগিরা নামে একটি অপদেবতার কথা বলা হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল সম্ভবত জিগিরাকে কোনো প্রেতসাধক বন্দি করে রেখেছে। এই খবরের তথ্য অনুযায়ী জিগিরা শেষ পর্যন্ত বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে!

    রাজু একটা নিশ্বাস ফেলল, সে মিলিয়ার সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলেছিল, মনে আছে সে মিলিয়াকে জিগিরা নামটাও বলেছিল এবং ভূতের সর্দার হিসেবে জিগিরা সর্দার নাম নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। মিলিয়া এক সপ্তাহ আগে শাফকাতের সাথে আমেরিকা চলে গেছে। দেশে থাকলে তাকে জিগিরার এই খবরটি পড়ে শোনানো যেত।

    আমেরিকা যাওয়ার পর রাজুর আর মিলিয়ার সাথে যোগাযোগ হয়নি। মিলিয়ার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে, ওখানে সে ভালোই আছে। আমেরিকায় তার বাসার ভেতরের ছবি পাঠিয়েছে। রাজু আগ্রহ নিয়ে ছবিটা দেখেছে, কয়েক দিনের জন্য মেয়েটার সাথে একটু ঘনিষ্ঠতা হয়েছে আবার সে দূরে চলেও গেছে। আর কোনোদিন হয়তো দেখাও হবে না। কী কারণ কে জানে, রাজুর মনে হয় শাফকাতের সাথে মিলিয়ার জীবনটা খাপ খাবে না। সে মিলিয়া কিংবা শাফকাত কাউকেই ভালো করে চেনে না। কিন্তু তারপরও এ রকম কেন মনে হয় কে জানে!

    রাজু খবরটা দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকের তারপর হঠাৎ করে সে একটা বিচিত্র সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। সে কুসুমডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে নিজের চোখে সবকিছু দেখে আসবে! খবরের কাগজে প্রতিদিন আরো কত বিচিত্র খবর ছাপা হয়, এর আগে কখনোই সেই সব খবর যাচাই করার জন্য তার কোনো কৌতূহল হয় নাই। আজকে হঠাৎ করে তার কৌতূহল কেন হলো সে জানে না।

    * * *

    বাস থেকে নেমে রাজু একটা রিকশা নিয়ে কবরস্থানে চলে এসেছে। খবরের কাগজে খবরটা পড়ে সে যে রকম উত্তেজিত হয়ে চলে এসেছে গ্রামের মানুষের মাঝে সে রকম কোনো উত্তেজনা নেই। রিকশা থেকে নেমে রাজু এদিক-সেদিক তাকাল, এক কোনায় গাছপালা দিয়ে ঢাকা একটা ছোট ঘর। ঘরের পাশে একটা এঁদো ডোবা। একজন থুথুড়ে বুড়ো সেই ডোবায় থালা-বাসন ধুচ্ছে। রাজু অনুমান করল এই বুড়ো মানুষটি নিশ্চয়ই খবরের কাগজের সেই মাওলানা, যে মৃত যুবকটিকে প্রথম দেখেছিল। বুড়ো মানুষটি নিজেই তার থালা-বাসন ধুচ্ছেন দেখে রাজু আরো অনুমান করে নিল, মানুষটি এত বয়সেও একা থাকেন, নিজের কাজ নিজে করেন।

    রাজু কীভাবে এই বুড়ো মানুষটির সাথে আলাপ শুরু করবে বুঝতে পারল না। তাই কোনোরকম চিন্তা-ভাবনা না করে ডোবার কিনারায় দাঁড়িয়ে গলা উঁচিয়ে বলল, “হুজুর, আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?”

    বুড়ো মানুষটি মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, কানে হাত দিয়ে বলল, “কী বলছো বাবা?”

    বোঝা গেল মানুষটি কানে কম শোনেন। রাজু তখন আরো খানিকটা নেমে মৌলভি সাহেবের কাছাকাছি গিয়ে বলল, “হুজুর, আমি কি আপনার সাথে কথা বলতে পারি?”

    “তুমি কে বাবা? সাম্বাদিক?”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “জি না হুজুর, আমি সাংবাদিক না।”

    “তাহলে কী নিয়ে কথা বলতে চাও?”

    রাজু একটু মাথা চুলকে বলল, “মনে করেন এই যে কবরস্থানে একটা মার্ডার হলো সেটা নিয়ে।”

    মৌলভি সাহেব একটা নিশ্বাস ফেললেন, বললেন, “আমি যা জানি সব তো বলে ফেলেছি বাপ। পত্রিকায় চলে এসেছে। আমার তো নূতন কিছু বলার নাই।”

    রাজু অপরাধীর মতো বলল, “আপনাকে নিশ্চয়ই সবাই কয়দিন থেকে ডিস্টার্ব করছে। আমি আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে চাই আর কয়টা প্রশ্ন করতে চাই।”

    “কী দেখাবে বাবা?”

    “একটা নোট বই। অনেক বছর আগে একজন পিশাচ সাধনা করত, সে তার নোট বইয়ে কিছু কথা লিখেছে, সেইটা আপনাকে দেখাতাম।”

    মৌলভি সাহেবের মুখটা কেমন যেন শক্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ রাজুর দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, “আজকালকার শিক্ষিত মানুষ তো এইগুলা বিশ্বাস করে না। কলেজের মাস্টার বলেছে আমি নাকি ভুয়া কথা বলি—”

    রাজু জোরে জোরে মাথা নাড়ল, “আমি সেইটা একবারও বলি নাই হুজুর। আমি বরং একটা জিনিস দেখাব -”

    মৌলভি সাহেব বললেন, “তুমি আমার বারান্দায় বসো। আমি থালা-বাসন পাকঘরে রাইখা আসি।”

    মৌলভি সাহেবের বারান্দায় একটা নড়বড়ে বেঞ্চ আছে, রাজু সেখানে বসল। একটু পরে মৌলভি সাহেব এসে বেঞ্চের অন্য মাথায় গিয়ে বসলেন। রাজু তাকে নোট বই দেখাবে সেই জন্য মৌলভি সাহেব একটা চশমা পরে এসেছেন।

    রাজু তার ব্যাকপেক থেকে পুরান ঢাকার ফুটপাথ থেকে কেনা নোট বইটা বের করে বলল, “হুজুর আমি পত্রিকায় দেখেছি এইখানে যে মানুষটা মারা গেছে তার লাশটাতে কোনো রক্ত ছিল না—”

    মৌলভি সাহেব বললেন, “থাকবে কেমন করে। জিগিরা সত্তর-আশি বছর থেকে না খাওয়া। তার পেটে খিদা। মতির মতো এই রকম জোয়ান মানুষের রক্ত যদি না খায় তাহলে খাবে কী?”

    “জিগিরাটা কী, সেটা একটু বলবেন?”

    “পিশাচ। খালি পিশাচ না, পিশাচের বাবা! তারে আগে কেউ বান্ধতে পারে নাই। আমার বাপজান বান্ধছিল। হে নিজে বান্ধে নাই, তারে এক বুজুর্গ জিন সাহায্য করছিল—”

    রাজু এই বৃদ্ধ মৌলভি সাহেবের কোনো কথাই বুঝতে পারল না, পিশাচের বাবা পিশাচকে কেমন করে বাঁধে, মৌলভি সাহেবের বাবা কীভাবে সেটি করেছিলেন, সেই অসাধ্য কাজে কেমন করে একজন বুজুর্গ জিন চলে এসেছে সবই রহস্যময়। কিন্তু রাজু এই বৃদ্ধের কথায় বাধা দিলো না। কিছুক্ষণ কথা শুনলে মনে হয় তার কথার অর্থ বের হতে থাকবে।

    রাজু বলল, “হুজুর, আমার একটা জিনিস এখনও পরিষ্কার হয় নাই। জিগিরাকে কি চোখে দেখা যায়?”

    মৌলভি সাহেব মাথা নাড়লেন, বললেন, “না, তারে চোখে দেখা যায় না। তবে ওই কবজটা থাকলে সেইটা যদি পাকসাফ হয়ে হাতে নেও তাহলে হয়তো দেখা যেতেও পারে। আমার বাপজান বলছিল।”

    রাজু এবারে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোন কবজটা?”

    “যেই কবজের জন্য মতি কবর খুঁড়েছে।”

    “মতি কবজের জন্য কবর খুঁড়েছে?”

    মৌলভি সাহেব হতাশভাবে মাথা নাড়লেন, বললেন, “লোভ। বুঝছো তুমি—মানুষের লোভ খুব খারাপ জিনিস। সবচেয়ে বড় পাপ। মহাপাপ। মতি লোভে পড়ল, ভাবল কবর খুঁড়ে কবজটা বের করে নিবে—আরে বেকুব আমি তোরে এত করে বললাম—”

    মৌলভি সাহেব হঠাৎ থেমে গেলেন। রাজু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, তারপর জিজ্ঞেস করল, “কী বলছিলেন হুজুর?”

    “বলছিলাম এই কবজ জিগিরাকে লপ সিয়াংয়ের লাশের মাঝে বাইন্ধা রাখছে। কবজ সরাইলেই জিগিরা ছাড়া পাইব। ছাড়া পাওয়ার পর জিগিরা কি দেরি করছে? করে নাই। লপ সিয়াংয়ের লাশ লইয়া মতির উপরে লাফাই পইড়া তারে কামড়াইয়া খাইয়া ফালাইছে।”

    রাজু এবারে মৌলভি সাহেবের কথা খানিকটা বুঝতে পারল এবং বোঝার পর দিনদুপুরেই তার শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে। রাজু এবারে আস্তে আস্তে বলল, “হুজুর।”

    মৌলভি সাহেব রাজুর দিকে তাকালেন, বললেন, “বলো।”

    “ওই কবজটা এখন কোথায় আছে?”

    “কে বইলতে পারে?”

    “পাওয়া যায় নাই?”

    “নাহ্। যে বয়ামের ভেতর ছিল সেই বয়ামটা পাওয়া গেছে। মুখ খোলা, ফাটা—কিন্তু কবজ নাই।”

    “বয়ামটা কোথায় পাওয়া গেছে?”

    মৌলভি সাহেব হাত দিয়ে দেখালেন, “ওই দূরে খেজুর গাছটা দেখছো?”

    “জি দেখেছি।”

    “তার তলায়।”

    “কবজটা কি ভালো করে খুঁজেছে?”

    “খুঁজে নাই মানে? মাটির মাঝে সবাই তন্নতন্ন করে খুঁজছে, পায় নাই।”

    “কোথায় আছে আপনার মনে হয়?”

    “পিশাচের ক্ষমতা নাই এই কবজ ছোঁয়। পিশাচ নেয় নাই। মানুষ ছাড়া আর কারো এইটা রাখার ক্ষমতা নাই। আমার বাপজানও হাত দিয়ে ছোঁয় নাই।”

    “তাহলে?”

    “মনে হয় জিন নিয়ে গেছে।” হঠাৎ করে মৌলভি সাহেবের মনে হলো রাজু তাকে কিছু একটা দেখাতে চেয়েছিল, আলাপে আলাপে সেইটার কথা ভুলেই গিয়েছেন। এবারে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি আমারে কী দেখাবা বাবা?”

    রাজু এবারে হাতে ধরে রাখা নোই বইটা খুলল, বুক মার্ক দিয়ে রাখা পৃষ্ঠাটা বের করে বলল, “এই দেখেন হুজুর, এইখানে একজন জিগিরার কথা লিখেছে।”

    মৌলভি সাহেব নোট বইয়ের দিকে তাকালেন কিন্তু তার চোখে চশমা থাকার পরেও ভালো করে দেখতে পারলেন না। বললেন, “কী লেখা বাবা?”

    রাজু তখন পড়ে শোনাল, “নিম্নশ্রেণির পিশাচ বিভিন্ন প্রাণীর রূপ ধরিয়া আসিতেছে। মদ্যপান করিয়া এবং গোমাংস ভক্ষণ করিয়া চলিয়া যাইতেছে। জিগিরাকে ক্রমাগত আহ্বান করা হইতেছে কিন্তু জিগিরার কোনো সাক্ষাৎ নাই। মৃতদেহের পর মৃতদেহ পচিয়া-গলিয়া শেষ হইতেছে, জিগিরা আসিতেছে না। সম্ভবত কোনো সপ্তম মাত্রার প্রেতসাধক তাহাকে বন্দি করিয়াছে…”

    রাজু থামল এবং মৌলভি সাহেব তার দিকে একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। বললেন, “এইটা কে লিখছে?”

    কোনো নাম নাই।”

    “কত সালের লেখা?”

    “বাংলা তেরশ আটচল্লিশ।”

    মৌলভি সাহেব মাথা নাড়লেন, বললেন, “ঠিকই লিখছে। আমার বাপজান তখনই জিগিরারে বন্দি করছে।” মৌলভি সাহেব অন্যমনস্কভাবে মাথা নাড়তে থাকলেন।

    রাজুর মনে হলো মৌলভি সাহেব যথেষ্ট সময় দিয়েছেন, এখন তাকে আর বিরক্ত করা ঠিক হবে না। তার যেসব বিষয় নিয়ে কৌতূহল ছিল, সেই বিষয়গুলো মোটামুটি জেনে গেছে। একটা রহস্যময় কবজ আছে সেই ব্যাপারটা নূতন, সেই কবজ রহস্যময়ভাবে হারিয়েও গেছে! রাজু এবারে বিদায় নেওয়র জন্য উঠে দাঁড়াল, বলল, “হুজুর, যদি অনুমতি দেন তাহলে যাই।”

    মৌলভি সাহেবও কষ্ট করে উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, “যাও বাবা। যাওয়ার আগে তোমারে একটা কথা বলি।”

    “বলেন হুজুর।”

    মৌলভি সাহেব বললেন, “পৃথিবীতে মানুষ যে রকম আছে, সেই রকম পিশাচ আছে, তাদের দুনিয়া আছে। তাদের দেইখা মানুষ ভয় পায়। ভয় পাওয়ার কিছু নাই, মানুষ যদি সাহস করে কোনো পিশাচের বাবাও তারে কিছু করতে পারবে না। বুঝেছো?”

    রাজু মাথা নাড়ল, বলল, “জি বুঝেছি।”

    রাজু মনে মনে হাসল, মৌলভি সাহেবের ধারণা সেও একজন পিশাচ সাধক হওয়ার চেষ্টা করছে।

    মৌলভি সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে সে হঠাৎ থেমে গেল, বলল, “হুজুর একটা শেষ কথা।”

    মৌলভি সাহেব বললেন, “কী কথা?”

    রাজু বলল, “আমি কবজটা একটু খুঁজে দেখি?”

    “দেখো।”

    “যদি পাই তাহলে কী করব?”

    মৌলভি সাহেব তার দাঁতহীন মুখে হাসলেন, বললেন, “নিয়া যাইও। কবজ যে পাবে সে-ই মালিক।”

    রাজু বিদায় নিয়ে কবরস্থানে নেমে গেল। হেঁটে হেঁটে সে কবরস্থানটা দেখে। একটা-দুইটা ইট দিয়ে বাঁধাই করা। অন্যগুলো বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও। পুরানো কবরগুলো ভেঙে গেছে। খেজুর গাছের কাছাকাছি একটা লিচু গাছের নিচে কিছু মাটি কুপিয়ে রাখা আছে, জায়গাটা দড়ি দিয়ে ঘেরাও। নিশ্চয়ই এখানে মতির মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

    রাজু জায়গাটা কিছুক্ষণ দেখল, তারপর হেঁটে হেঁটে খেজুর গাছটার কাছে গেল। এর নিয়ে কাচের বয়ামটা পাওয়া গেছে, মুখ খোলা এবং ফাটা। মানুষজন আশেপাশে তন্নতন্ন করে খুঁজেছে, পায় নাই। রাজু এক জায়গায় পড়েছিল হারিয়ে যাওয়া জিনিস নাকি চোখ দিয়ে খুঁজতে হয় না, এটা খুঁজতে হয় মস্তিষ্ক দিয়ে।

    রাজু কি মস্তিষ্ক দিয়ে খুঁজবে? যেহেতু মাটিতে খুঁজে পায় নাই, তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় না যে এটা মাটিতে পড়ে নাই? এটা কোনো একটা গাছের ফাঁক-ফোকরে পড়ে সেখানে আটকা পড়ে আছে? রাজু কি আশেপাশের গাছগুলো খুঁজে দেখবে? এই খেজুর গাছটা দিয়েই কি শুরু করবে?

    রাজু খেজুর গাছটার দিকে এগিয়ে যায়। গাছটার পুরানো পাতার গোড়ায় একটা কবজ সহজেই আটকে থাকতে পারে। রাজু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে এবং হঠাৎ করে চমকে ওঠে। সত্যিই একটা পাতার খাঁজে একটা কবজ আটকে আছে। চারকোনা কবজ, সোনালি রং, ওপরে বিচিত্র নকশা। এই কবজটির জন্য হতভাগ্য মতির প্রাণ গিয়েছে!

    রাজু এগিয়ে গেল, কাঁপা হাতে সে কবজটি তুলে নেয়। হঠাৎ করে রাজুর চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে। সে মাথা ঘুরে নিচে পড়ে যাচ্ছিল, কোনোভাবে খেজুর গাছটা ধরে সে নিজেকে সামলে নিল। রাজু অবাক হয়ে দেখে তার পরিচিতি জগৎটা অদৃশ্য হয়ে গেছে। কোথাও কোনো আলো নেই, চারপাশে গভীর অন্ধকার। অসংখ্য মানুষের হাহাকারের মতো একটি শব্দ শুনতে পায়—তার মাঝে অসংখ্য ছায়ামূর্তি তার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাজু একটা চাপা আর্তচিৎকার করে তার হাত থেকে কবজটা নিচে ফেলে দিলো। খুব ধীরে ধীরে তখন চারপাশ আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। রাজু কয়েকটা বড় নিশ্বাস নেয়। কবজটা খেজুর গাছের গোড়ায় পড়ে আছে, এখন তার সেটা হাত দিয়ে স্পর্শ করার সাহস নেই।

    সে তার ব্যাকপেকটা খুলে নিচে রাখে, তারপর একটা কাঠি দিয়ে কবজটাকে ঠেলে ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়।

    .

    রাজুর জীবনটা ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য রকম হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }