Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নকশা-কাটা কবজ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প152 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নকশা-কাটা কবজ – ৯

    ৯

    রাজু যখন তার মেসে ফিরে এসেছে তখন বেশ রাত হয়ে গেছে। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখে তার মেসের আরেকজন বোর্ডার জহির চেয়ারে দুই পা তুলে বসে ভাত খাচ্ছে। চেয়ারে পা তুলে বসা যথেষ্ট কষ্টকার ব্যাপার কিন্তু জহির খুব সহজেই এভাবে বসতে পারে।

    রাজুকে দেখে সে তার হাত চাটতে চাটতে বলল, “কী ব্যাপার রুমমেট, এত কাহিল লাগছে কেন?”

    এক রুমে থাকলে তাকে রুমমেট বলা যায় কিন্তু তারা ভিন্ন রুমে থাকে, তারপরও একে অন্যকে রুমমেট ডাকে। রাজু বলল, “আসলেই কাহিল। সারাদিন জার্নি করে এসেছি।”

    “কোথায় গিয়েছিলেন?”

    সে যে কুসুমডাঙ্গার কবরস্থানে গিয়েছিল সেটি তো আর বলা যায় না, তাই বলল, “গ্রামে একটা কাজ ছিল।”

    জহির আর উৎসাহ দেখাল না, বলল, “ও।”

    রাজু নিজের ঘরে ঢুকে ব্যাকপেকটা টেবিলের ওপর রাখে। এর ভেতরে একটা রহস্যময় কবজ আছে। কবজটাকে কোথায় কীভাবে রাখবে সে এখনও বুঝতে পারছে না। কয়দিন আগে একটা জেলির বয়াম কিনেছিল। অনেকখানি খাওয়া হয়েছে—বাকিটুকু খেয়ে ফেলে সেখানে রেখে দিতে পারে।

    রাজু তাদের ডাইনিং রুমে গেল, মেসের বোর্ডারদের জন্য একটা পুরানো ফ্রিজ আছে, সেটা মাঝে মাঝেই পুরানো গাড়ির মতো শব্দ করে। ফ্রিজে খাবারদাবার খুব ঠান্ডা হয় না, সেটা নিয়ে তারা মাথাও ঘামায় না। রাজু ফ্রিজ খুলে জেলির বয়ামটা বের করল, মেসের অন্য বোর্ডাররাও খেয়ে জেলি মোটামুটি শেষ করে এনেছে। রাজু বয়ামটা ভালো করে ধুয়ে ঘরে নিয়ে আসে—টেবিল ল্যাম্পের ওপর রেখে ভালো করে শুকিয়ে সে তার ব্যাকপেকটা খুলে ভেতরে তাকাল। ব্যাকপেকের নিচে এক কোনায় কবজটা কেমন জানি জ্বলজ্বল করছে। রাজু হাত দিয়ে না ধরে ব্যাকপেকটা কাত করে কবজটা টেবিলের ওপর বের করে আনে। টেবিল ল্যাম্পটা কাছে এনে সে সাবধানে কবজটা লক্ষ করে। চারকোনা কবজটাও ওপরে নকশাকাটা, মনে হয় কোনো একটা প্রাণীর প্রোফাইলের ছবি। নকশা দেখলে সেটাকে প্রাচীন মিসরীয় বলে মনে হয়। আসলেই কি এটি এত প্রাচীন মিসরীয় একটা কবজ? মিউজিয়ামে রাখার মতো কিছু?

    রাজু তার কলমটি দিয়ে খোঁচা দিয়ে উল্টো দিকেও ভালো করে লক্ষ করে, সে হিরোগ্লিফিক অক্ষর চেনে না কিন্তু মনে হয় সেখানে হিরোগ্লিফিকে কিছু একটা লেখা।

    হঠাৎ করে রাজুর মনে হলো কেউ একজন তার পিছনে দাঁড়িয়ে তার ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে। রাজু পুরোপুরি নিঃসন্দেহ হয়ে গেল যে পিছনে ঘুরলেই সে তাকে দেখতে পাবে—তার ভেতরে একটা আতঙ্ক এসে ভর করে। নিশ্বাস আটকে রেখে রাজু খুব সাবধানে তার মাথা ঘুরাল—না, পেছনে কেউ নেই। সে তার বুকের ভেতর থেকে খুব সাবধানে এক নিশ্বাস বের করে দেয়। কিন্তু তার বিচিত্র অনুভূতি হয়, তার মনে হতে থাকে ঘরের ভেতর আর কেউ আছে, কেউ একজন তার দিকে তাকিয়ে আছে। এত বাস্তব একটি অনুভূতি যে নিজের অজান্তেই মাথা ঘুরিয়ে চারপাশে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।

    সে রীতিমতো জোর করে তার বুকের ভেতর থেকে আতঙ্কটা প্রায় ঠেলে বের করে দিলো। তারপর একটা কাগজ ভাঁজ করে সাবধানে কবজটা তুলে নিয়ে জেলির বয়ামে রাখল। কবজটা বয়ামের নিচে পড়ে একটা মৃদু শব্দ করে ভেতরে কয়েকবার জীবন্ত প্রাণীর মতো নড়ে থেমে গেল। রাজু নিশ্বাস বন্ধ করে বয়ামটার মুখ বন্ধ করে সেটাকে সাবধানে শেলফে তুলে রাখে। এই রহস্যময় তাবিজটার জন্য একজন মারা গিয়েছে। কবরস্থানের মৌলভি সাহেবের গল্পটি সত্যি হয়ে থাকলে জিগিরা নামে একটা ভয়ংকর পিশাচকে এই কবজটি সত্তর বছর একটা লাশের ভেতর আটকে রেখেছে-কাজেই এটাকে তার সাবধানে রাখতে হবে।

    রাজু বাথরুমে গিয়ে সময় নিয়ে গোসল করল। একটু দেরি হলে পানি চলে যায়, তাই রাজু প্রতি মুহূর্তে ভয় পাচ্ছিল হঠাৎ করে পানি বন্ধ হয়ে যাবে—কিন্তু তার কপাল ভালো পানি বন্ধ হলো না। বাথরুমের জ্বলে ওঠা আয়নায় চুল আঁচড়ানোর সময় হঠাৎ করে তার মনে হলো তার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে এবং আয়নায় তার প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে।

    রাজু ঝট করে ঘুরে তাকাল—না, কেউ নেই। কীভাবে থাকবে? মনের ভুল, কিন্তু একটু পরপর মনের ভুল কেন হচ্ছে? মনে হয়ে কবজ নিয়ে পুরো ব্যাপারটা তার মনের ওপর অনেক বড় একটি চাপ ফেলেছে।

    রাজু আজকে বাস থেকে নেমে একটা রেস্টুরেন্টে বসে খেয়ে এসেছে। এমনিতেই সারাদিন বাসে যাওয়া-আসা করে শরীর ক্লান্ত—তাই দেরি না করে মশারি টানিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। বিছানায় শোয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই সে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ে

    গভীর রাতে হঠাৎ করে রাজুর ঘুম ভেঙে যায়। কেন ঘুম ভেঙে গেছে সে নিজেও বুঝতে পারে না—রাজু চোখ খুলে তাকাল। জানালা দিয়ে রাস্তার আলো ঘরের ভেতর এসে পড়েছে। সেই আবছা আলোতে সে স্পষ্ট দেখল ঘরের ভেতর কেউ একজন হাঁটছে। রাজু লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে ভয়-পাওয়া গলায় বলল, “কে?”

    কেউ কথার উত্তর দিলো না। কিন্তু হঠাৎ করে তার ঘরের দরজা দড়াম করে খুলে যায় এবং কেউ একজন বিকট চিৎকার করে ভিতরে ঢুকে তার মশারি টেনে ছিঁড়ে ফেলে লাফিয়ে বিছানাও ওপর উঠে তাকে চেপে ধরে।

    ভয়াবহ আতঙ্কে রাজুও চিৎকার করে ওঠে এবং হঠাৎ করে বুঝতে পারে মানুষটি জহির, তাদের অ্যাপার্টমেন্টের বোর্ডার। জহির থরথর করে কাঁপছে। ভয়ে তার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।

    “কী হয়েছে? কী হয়েছে?” বলে রাজু কোনোমতে হাতড়ে হাতড়ে তার টেবিল ল্যাম্পটি জ্বালাল।

    জহির এখনও থরথর করে কাঁপছে, অবিশ্বাস্য আতঙ্কে তার মুখ ফ্যাকাশে, রক্তশূন্য। রাজু জহিরকে ধরে কয়েকবার ঝাঁকাল এবং শেষ পর্যন্ত জহির একটু শান্ত হলো। রাজু জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    জহির ভয়ার্ত চোখে রাজুর দিকে তাকাল, তারপর বলল, “আপনি বিশ্বাস করবেন না—আমার ঘরে—আমার ঘরে-”

    রাজু কথাটা শেষ করে দেয়, “কিছু একটা দেখেছেন?”

    “হ্যাঁ। রাত্রে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল। কেন ঘুম ভেঙেছে জানি না। ঘর একেবারে ঠান্ডা। আমি চোখ খুলেছি, চোখ খুলে দেখি—” জহিরের কথা আবার আটকে যায়।

    “চোখ খুলে কী দেখেছেন?”

    “আমার মুখের উপর একটা মাথা। আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নাক নাই, সেখানে একটা গর্ত—”

    রাজু কথা না বলে জহিরের দিকে তাকিয়ে রইল। জহির বলল, “আমি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে আর সেটা—সেটা—” জহির কথা বন্ধ করে ঢোঁক গিলল।

    “সেটা কী?”

    “সেটা বিছানা থেকে নেমে লাফ দিয়ে জানালার গ্রিল ধরে ঝুলে রইল। মুখ দিয়ে শব্দ করছিল—তখন আমি—তখন আমি—“

    রাজু জহিরের কথা শেষ করে দেয়, “আমার কাছে এসেছেন?”

    “হ্যাঁ।”

    রাজু বলল, “চলেন আপনার রুমে। গিয়ে দেখি—”

    জহির জোরে জোরে মাথা নাড়ল, বলল, “না, না। আমি আমার রুমে যাব না। মরে গেলেও যাব না।”

    রাজু বলল, “ঠিক আছে, আমি যাই। দেখে আসি।”

    জহির ভয়ে ভয়ে বলল, “আপনি যাবেন?”

    “হ্যাঁ।”

    রাজু বিছানা থেকে নেমে জহিরের ঘরে গেল, দেওয়ালে সুইচ টিপে আলো জ্বালাল। জহিরের বিছানা লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে কিন্তু কোথাও কিছু নেই। থাকবে সেটা রাজু আশাও করে নাই।

    জহির তার ঘর থেকে একটা কম্বল আর বালিশ নিয়ে রাজুর ঘরে চলে এলো। আজকে সে রাজুর ঘরে মেঝেতে ঘুমাবে। শুধু তা-ই না, সারা রাত আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে।

    কাজেই বাকি রাতটা রাজুকে আধা জেগে আধা ঘুমে কাটাতে হলো।

    পরদিন ভোরে জহির এই অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে চলে গেল।

    * * *

    কয়েক দিনের মাঝে রাজুদের বিল্ডিংয়ের প্রায় সব ভাড়াটে বিল্ডিং ছেড়ে চলে গেল! জহির যে রকম গভীর রাতে তার মুখের ওপর ভয়ংকর একটি ছায়ামূর্তি দেখেছে সে রকম সবাই কিছু-না-কিছু দেখেছে। রাজুরও মনে হয় রাতে তার ঘরের ভেতর অদৃশ্য কিছু ঘোরাঘুর করে কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো কারো কোনোরকম ক্ষতি না করছে রাজু ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সহ্য করতে রাজি আছে। তার ঘুরে ফিরে কবরস্থানের সেই সহজ-সরল মৌলভি সাহেবের কথা মনে পড়ে, সে চলে আসার সময় বৃদ্ধ মানুষটি তাকে বলেছিলেন যে, মানুষ যদি সাহস করে পিশাচের সামনে দাঁড়ায় তাহলে পিশাচের বাবারও সাধ্য নাই মানুষের ক্ষতি করে! কথাটি তার পছন্দ হয়েছে। এই কথার ওপর সে ভরসা করতে চায়।

    তবে এ কথাটিও সত্যি, সে যে কবজটি জেলির কৌটায় ভরে তার শেলফে রেখেছে সেটি সত্যিকার অর্থেই রহস্যময়। সে যখন হাত দিয়ে ধরেছিল তখন সত্যি সত্যি তার মাথা ঘুরে উঠেছিল, সত্যি সত্যি মুহূর্তের জন্য সে একটা বিস্ময়কর জগৎ দেখেছিল—যেখানে অসংখ্য ছায়ামূর্তি তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। সে ব্যাপারটি আরো একবার দেখতে চায়, আরো একবার সে এই রহস্যময় কবজটাকে হাতের মুঠোয় ধরতে চায়। রাজু মাঝে মাঝেই কবজটি বের করে সেটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে—এর মাঝে কী রহস্য লুকিয়ে আছে কে জানে! কিন্তু এখন পর্যন্ত সে কবজটি হাতের মুঠোয় চেপে ধরার সাহস পায়নি।

    ঘুমানোর আগে আজকেও রাজু জেলির কৌটাটা হাতে নিয়ে বসে ছিল তখন হঠাৎ করে দরজায় শব্দ হলো। রাজু তাড়াতাড়ি জেলির কৌটাটা শেলফে বইয়ের পেছনে আড়াল করে রেখে দরজা খুলল। এই বাসার বাড়িওয়ালা দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখে-মুখে একধরনের হতাশ ভাব। রাজু দরজা থেকে সরে বাড়িওয়ালাকে ভিতরে ঢুকতে দিলো। বাড়িওয়ালা ঢুকে এদিক-সেদিক তাকিয়ে একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলল, বলল, “আপনি এখনও আছেন? সবাই তো আমার বিল্ডিং ছেড়ে চলে যাচ্ছে।”

    রাজু বলল, “আমি এখনও আছি।”

    বাড়িওয়ালা বলল, “আর কয়দিন। তারপর আপনিও নিশ্চয়ই চলে যাবেন। আমি দোষ দেই কেমন করে। মনে হয় আমিও বাসা ছেড়ে পালাই! দিন-রাত আয়াতুল কুরসি পড়ি—আর বুকে ফুঁ দিই।”

    রাজু কেমন জানি অপরাধী অনুভব করে। কবজটি ঘরে ঢোকানোর পর থেকে এই অবস্থা। নানা রকম ভৌতিক ঘটনা ঘটছে। দোষটি তার। মনে হয় কবজটি অন্য কোথাও রেখে আসতে হবে—বাড়িওয়ালার সব ভাড়াটেকে এই বিল্ডিং থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কাজটি ঠিক হচ্ছে না।

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “ঠিক কী দেখে সব ভাড়াটে চলে যাচ্ছে?”

    “রাত্রে নানা রকম শব্দ হয়। দরজা-জানালা খুলে যায় আবার বন্ধ হয়।” বাড়িওয়ালা কেমন জানি শিউরে উঠে বলল, “কেউ কেউ এদেরকে দেখতেও পায়—ভয়ংকর অবস্থা।”

    রাজু কিছু না বলে মাথা নাড়ল। দেখা এবং শোনার বিষয়টা হ্যালুসিনেশন হতে পারে। কিছু না থাকলেও একজনের মনে হতে পারে কিছু একটা দেখেছে। তবে দরজা-জানালা খোলা আর বন্ধ হওয়ার ব্যাপারটি হ্যালুসিনেশন হতে পারবে না। দরজা-জানালা খুলতে আর বন্ধ করতে হলে বাইরের থেকে কোনো শক্তিকে দরজা-জানালা ধরে টানাটানি করতে হবে—সরাসরি বিজ্ঞানের লঙ্ঘন।

    বাড়িওয়ালা বলল, “আমি ঠিক করেছি শাকিনবাড়ির পীর সাহেবকে এনে বাড়ি বন্ধন দিব। শুনেছি পীর সাহেব নাকি খুবই গরম পীর। তবে—”

    “তবে কী?”

    পীর সাহেব অনেক টাকা চাইছেন।”

    রাজু জিজ্ঞেস করল, “উনি কি কাজের গ্যারান্টি দিবেন?”

    বাড়িওয়ালা রাজুর মুখের দিকে তাকাল, বোঝার চেষ্টা করল সে ঠাট্টা করছে কি না। তারপর একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “এই সব কাজে কি কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে? পারে না।”

    রাজু মাথা নাড়ল। পৃথিবীর কোন কাজে কে গ্যারান্টি দিতে পারে?

    .

    গভীর রাতে হঠাৎ করে রাজুর ঘুম ভেঙে গেল। ঘরটা বরফের মতো ঠান্ডা রাজু নিঃশব্দে শুয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করল কেন তার ঘুম ভেঙেছে। সে কি কোনো শব্দ শুনেছে?

    রাজু অন্ধকারের মাঝে শুয়ে থাকে। হঠাৎ করে মনে হলো কেউ ঘরের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় সরে গেছে। তার বুকের ভেতর একটা আতঙ্ক এসে ভর করে। রাজু বিড়বিড় করে নিজেকে বোঝাল যে সে ভয় পাবে না। তার ঘরে কিছু একটা ছোটছুটি করলে করুক, সেটি তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাই সে কিছুতেই ভয় পাবে না।

    রাজু একটা চাপা শব্দ শুনতে পেল, মনে হলো কেউ যেন নিশ্বাস ফেলেছে। রাজু তার চোখ বন্ধ করে ফেলে, বিড়বিড় করে নিজেকে বলে, “আমি যখন চোখ খুলব তখন সবকিছু দূর হয়ে যাবে। ঘরে আমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না।”

    রাজু একটু পরে চোখ খুলল, না ঘরে কেউ নেই। সে অনেকক্ষণ নিঃশব্দে শুয়ে থাকে, কোনো শব্দ নেই, কোনো অস্পষ্ট ছায়া নেই কিন্তু তবু তার মনে হয় ঘরের ভেতর আর কেউ আছে।

    রাজু এবার বিড়বিড় করে জিজ্ঞেস করল, “ঘরের ভেতর কি কেউ আছে?”

    কোনো শব্দ হলো না। রাজু আবার বলল, “ঘরের ভেতর কি কেউ আছে? আছে?”

    রাজুর মনে হলো অস্পষ্ট একটা শব্দ হলো। রাজু আবার বিড়বিড় করে বলল, “ঘরের ভেতর কেউ থাকলে কোনো একটা শব্দ করো।”

    মনে হলো তার চেয়ারটা একটু নড়ার শব্দ হলো।

    “আবার একটু শব্দ করো। প্লিজ।”

    তার চেয়ারটা একটু নড়ে উঠল। প্রথমে অল্প একটু তারপর হঠাৎ করে প্রচণ্ড শব্দ করে চেয়ারটা ঘরের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ছুটে গেল, ভয়ংকর শব্দ করে সেটি ঘরের দেওয়ালে আছড়ে পড়ল।

    রাজু চমকে উঠে বিছানায় বসে যায়—তারপর মশারির ভেতর থেকে হাত বের করে ঘরের লাইট জ্বালাল। তার মনে হতে লাগল, লাইট জ্বালাতেই সে দেখবে চেয়ারের মাঝে কেউ একজন বসে আছে। উলঙ্গ দেহ, গায়ে কোনো লোম নেই। তার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো ধকধক করে জ্বলছে।

    কিন্তু রাজু দেখল চেয়ারে কেউ বসে নেই। ঘরে কেউ নেই। রাজুর হৃৎপিণ্ড ধকধক শব্দ করতে থাকে। সে বিড়বিড় করে নিজেকে বলল, “না, আমি ভয় পাব না। আমি কিছুতেই ভয় পাব না।”

    কিন্তু তবু তার ভয় করতে থাকে।

    রাজু মনে মনে ঠিক করে ফেলল, সে এই কবজটি কুসুমডাঙ্গার কবরস্থানের মৌলভি সাহেবকে দিয়ে আসবে। পৃথিবীতে অনেক রহস্য আছে, যার সমাধান হবে না। অনেক রহস্যকেই রহস্য হিসেবে থেকে যেতে দিতে হবে।

    .

    ভোরবেলা রাজু খবরের কাগজের মফস্বল পাতায় একটি খবর দেখল। খবরটির শিরোনাম : “গোরস্থানের ইমাম দুর্বৃত্তের কবলে”। ভেতরের খবর এ রকম :

    সম্প্রতি কুসুমডাঙ্গা গ্রামের গোরস্থানের দায়িত্বে থাকা ইমামের বসতবাড়ি থেকে বয়োবৃদ্ধ ইমামকে কিছু দুর্বৃত্ত অপহরণ করে। গভীর রাতে এক বা একাধিক দুর্বৃত্ত তার বসতবাড়িতে গিয়ে বাড়িটি তছনছ করে এবং বয়োবৃদ্ধ ইমামকে অপহরণ করে।

    বাড়ি থেকে কোনো কিছু হারানো গিয়েছে কি না সে ব্যাপারে এখনও কেউ নিশ্চিত নয়। ইমাম সাহেবকে পরদিন ভোরে রেলস্টেশনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার জ্ঞান এখনও ফিরে নাই।

    এখানে উল্লেখ্য যে, কয়েক দিন পূর্বে এই গোরস্থানে একজন যুবককে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

    পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

    রাজু খবরটি পড়ে অনেকক্ষণ নিঃশব্দে বসে থাকে। এই বৃদ্ধ মানুষটির অত্যন্ত সাদামাটা ঘর তছনছ করে একটি মাত্র জিনিসই খোঁজা সম্ভব। সেটি হচ্ছে এই রহস্যময় কবজটি। কবজটি যে সে খুঁজে পেয়েছে এবং সেটি যে তার শেলফে রয়েছে, সেটি সম্ভবত কেউ জানে না। কিন্তু মৌলভি সাহেবকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে রাজু সম্পর্কে কিছু তথ্য বের করে এই দুর্বৃত্তের দল যদি তার এই মেসে হানা দেয়, তাহলে কী হবে?

    বিষয়টি অশরীরী বা ভৌতিক থাকা এক ব্যাপার কিন্তু সেটি যদি অপহরণ, খুন, জখম এই দিকে মোড় নেয়, সেটি সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার।

    এই রহস্যময় কবজটি দিয়ে রাজু এখন কী করবে সেটি বুঝতে পারল না।

    * * *

    গভীর রাতে রাজু ঘুম ভেঙে ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে। সে অত্যন্ত বিচিত্র একটি স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। স্বপ্ন দেখেছে মিলিয়া তার বুকের ওপর আছড়ে পড়ে হাইমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “রাজু, আমাকে মেরে ফেলেছে! মেরে ফেলেছে!”

    রাজু ধড়মড় করে ঘুম থেকে উঠে স্পষ্ট অনুভব করে সত্যি সত্যি তার বুকের ওপর মাথা রেখে মিলিয়া কাঁদছে। এমনকি মিলিয়ার মাথার চুলের গন্ধ পর্যন্ত সে পাচ্ছে। পুরোপুরি জেগে ওঠার পর সে বুঝতে পারল এটি একটি স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্নটি এত বাস্তব যে রাজু অল্প অল্প কাঁপতে থাকে।

    তার অত্যন্ত বিচিত্র একটি অনুভূতি হয়। তার মনে হতে থাকে এই ঘরের ভেতর মিলিয়া ইনিয়ে-বিনিয়ে কাঁদছে। মনে হতে থাকে সে একটু চেষ্টা করলেই মিলিয়ার কান্না শুনতে পারবে।

    কিন্তু কী ভয়ানক একটি স্বপ্ন! সত্যিই কি মিলিয়াকে কেউ মেরে ফেলেছে? এটি কীভাবে সম্ভব?

    রাজু তার মাথা থেকে চিন্তাটা দূর করে দেবার চেষ্টা করল—কিন্তু কোনো লাভ হলো না। সে স্পষ্ট অনুভব করতে থাকে মিলিয়া নেই।

    মিলিয়াকে কেউ মেরে ফেলেছে।

    কে মেরে ফেলেছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা
    Next Article টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }