Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নদী দিকহারা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প120 Mins Read0
    ⤷

    ১. বৌভাতের রাত্রে

    ব্যাপারটা ধরা পড়ল দীপকের বৌভাতের রাত্রে। যখন সারা বাড়ি নিমন্ত্রিত অভ্যাগতে গমগম করছে, যখন কোথাও কোনখানে এক ফালি অন্ধকারের আড়াল না রেখে আপাতমস্তক আলোর অলঙ্কারে ঝকমকাচ্ছে নতুন রং করা পুরনো বাড়িটা, আর নতুন শাড়ির আঁচলে চাবির গোছা বেঁধে হাঁপিয়ে এবং দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জয়াবতী। ঠিক সেই সময় জয়াবতীর বড় ননদের মেয়ে মহাশ্বেতা ওঁকে একান্তে ডেকে নিয়ে গিয়ে কপালে হাতচাপড়ে খবরটা দিল।

    প্রচলিত অনেক কথার মতই জয়াবতী যখন তখন অকস্মাৎ বজ্রাঘাত কথাটা ব্যবহার করে থাকেন, এটা যে অর্থবহ কথা তা বোধকরি কখনও খেয়ালও করেন না, বোধকরি আজই প্রথম টের পেলেন কথাটার যথার্থ অর্থ কি?

    আকাশের বজ্র সত্যিই এসে মাথায় পড়লে তো বরং এর থেকে ভালই ছিল, তাতে কাঠ হয়ে গিয়ে কাঠ হয়েই থাকতে পেতেন জয়াবতী, আবার তখুনি কিংকর্তব্য চিন্তা করতে বসতে হত না।

    চাপা-গলায় দাঁতে পিষে উচ্চারণ করলেন জয়াবতী, ওরে মহাশ্বেতা, এ কী ভাগ্য আমার! শাস্তি দিয়ে দিয়েও কি আশ মিটছে না ভগবানের!

    মহাশ্বেতা বলল, ও কথা পরে ভেবো মামী, এখন কি করবে তাই বল।

    তা বটে। ভাগ্য আর ভগবান এই দুই আসামী এখন হাজতে থাক, তাদের বিচার পরে, আপাতত বর্তমান আততায়ীর হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে হবে।লোকচক্ষু নামক আততায়ীর দলে যে আজ বাড়ি বোঝাই।

    সেই বোঝাই বাড়ি থেকে আততায়ীদের চোখ এড়িয়ে জয়াবতী মেয়ে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করলেন। কিন্তু দরজা বন্ধ করেও মাথা খোঁড়বার উপায় নেই, টু শব্দটি না ওঠে। শুধু যে। লোক জানাজানির ভয়ে তাও নয়, একটা হুলস্নাড়ে নিমন্ত্রিতের খাওয়া-দাওয়ার যে বিঘ্ন ঘটবে। এত খরচ করা বিপুল আয়োজন পণ্ড হবে শেষটা!

    দাঁতে দাঁত চেপে মেয়ের হাত ধরে বসে রইলেন জয়াবতী, মহাশ্বেতা মাথায় জল দিয়ে বাতাস করতে লাগল তাকে।

    হ্যাঁ মহাশ্বেতা ঘরে আছে, তাকে না নিলে চলবেই বা কেন? একা জয়াবতীর সাধ্য কি যে এই উন্মাদিনীকে সামলায়? তাছাড়া মহাশ্বেতাই তো আগে দেখেছে, আবিষ্কর্তার গৌরব তো তারই। তবু যাই ভাগ্যিস দেখেছিল, নইলে হঠাৎ যদি বাইরের কারও চোখে পড়ত! আঃ, তাহলে কি হত সেই কথা ভেবে জয়াবতী আর একবার নিঃশব্দে কপাল চাপড়ালেন।

    মহাশ্বেতা মৃদুস্বরে আশ্বাসবাণী উচ্চারণ করে, তুমি অত ভেঙে পোড়োনা মামী, হিস্টিরিয়াও হতে পারে।

    হতে পারে! আশ্বাসে নিশ্চয়তার সুর নেই।

    জয়াবতী বললেন, আমার কপালে তা হয়ে রেহাই যাবে না রে মহা, ও যা ভাবছি তাই। নইলে বরফে কখনো আগুন ধরে?

    তা তুলনাটা বোধকরি খুবই ঠিক দিলেন জয়াবতী, বেশি নভেল নাটক না পড়লেও, আর অনেক কথা জানা না থাকলেও, প্রাণ ফেটে বেরিয়ে এসেছে কথাটা।

    অমিতার মত মেয়ের পক্ষে উন্মত্ততা, বরফে আগুন লাগার মতই ভয়ঙ্কর বিস্ময়। এত শান্ত, এত স্তব্ধ, এত সভ্য আর এত মৃদু মেয়ে এ যুগে কটা দেখতে পাওয়া যায়?

    ভাগ্য তাকে মেরে রেখেছে, কিন্তু সেই মার খাওয়ার পর থেকে, একদিনের জন্যেও কেউ দেখেছে ভাগ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে সে? যেদিন থেকে জেনেছে–অতঃপর সারাজীবনটাই তার পিত্রালয় বাস যোগ, সেদিন থেকেই মা বাপের সংসারের সমস্ত দায় মাথায় তুলে নিয়েছে সে। আর সে দায়িত্ব পালন করে চলেছে নিঃশব্দে হাসিমুখে।

    এই যে পিঠোপিঠি ছোট ভাই দীপকের বিয়ের ব্যাপার-এর তন্ত্রধারক কে? ওই অমিতা। দীপক যখন এম. এ. পড়তে পড়তে প্রেমে-ট্রেমে পড়ে একাকার করল, কার কাছে এসে জানাল সেই ভয়ঙ্কর সুখ আর ভয়ঙ্কর বিপদের বার্তা? ওই অমিতাকেই তো। আবার মা-বাপের মত করানোর মত দুরূহ কাজটাও ছোড়দির ওপর দিয়েই গেল। ছোড়দিই যে তার আজীবনের বন্ধু, সঙ্গী, সুহৃদ।

    অমিতা বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়াতে সবচেয়ে নিঃসহায় হয়ে পড়েছিল দীপকই। তা অবিশ্যি বেশিদিন সে অবস্থা রইল না, আবার পুরনো কেন্দ্রে ফিরে আসতে হল অমিতাকে।

    প্লেন ক্র্যাশ হয়ে মারা গেল অমিতার বর, কায়রো পর্যন্ত এসে!

    বিয়ে করেই বিলেত চলে গিয়েছিল জামাই, সবে ফিরছে। অনেক উপঢৌকন, অনেক আকুলতা, আর অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল সবাই। পরিকল্পনা চলছিল কে কে দমদমে যাবে ফুলের মালা নিয়ে। সবকিছুই স্তব্ধ হয়ে গেল।

    পরিকল্পনা অমিতাকে নিয়েও চলল কিছুদিন। সে কি তবে আবার এম. এ.-টা পড়বে? না কি যতটা বিদ্যে আছে ততটা নিয়েই কোন কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়বে? নাকি মহারাজজীর চরণেই ধরে দেওয়া হবে ওকে, যা করো ঠাকুর বলে?

    কিন্তু পরিকল্পনা আর কাজ এক নয়, শেষ পর্যন্ত সবই ধামাচাপা পড়ে গেল। অবশ্য অমিতার শিথিলতাও চাপা পড়ে যাবার একটা বড় কারণ। ও যদি নিজের সম্পর্কে কিছু একটা স্থির করে ফেলতে পারত, তাহলে হয়তো সে ব্যবস্থাটা হতই। কিন্তু অমিতা অন্তঃপুরের অন্ধকার কোণটাই বেছে নিল।

    অতএব সংসার নিয়ে জয়াবতীর গতর খরচ বাঁচল, ছোট ছেলে দুটোর প্রাইভেট টিউটরের খরচ বাঁচল, সমস্ত পরিবারের দরজির খরচ বাঁচল। যতদিন বিয়ে হয় নি পড়া ছিল, গান শেখা ছিল, সিনেমা দেখা এবং গল্পের বই গেলা ছিল, আর ছিল ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখা। অতগুলো কাজের একটাও যখন আর রইল না, অফুরন্ত সময় কেন থাকবে না অমিতার হাতে?

    সে সময়ের যথার্থ সদ্ব্যবহার করেছে অমিতা, এই দেখেই ঘরে পরে সবাই ধন্যি ধন্যি করে তাকে।

    তা কোন কাজটাই বা অমিতার ধন্যি ধন্যি করবার মত নয়? এই যে বিয়ের জন্যে অমিতা আজ দুমাস থেকে সিল্ক সাটিন লেস চিকন জরি পুঁতি আর রেশম চুমকি নিয়ে মাথা বিকোল, চোখ খারাপ করে ফেলল, সেগুলো কি কলের কাজকে হার মানায় নি? দরজিকে লজ্জা দেয় নি?

    তারপর এই তিনচারদিন?

    তাঁতির মাকুর মত টানা-পোড়েন করছে না অমিতা? নান্দীমুখের ঘরে কাঁচকলা কম পড়েছে কিনা, আর কাটলেটের কিমাটা কম থোড়া হল কিনা, এ তদারক কে করছে, অমিতা ছাড়া?

    .

    যজ্ঞির বিকেলে সংসারের তদারকিতে একটু ছুটি মিলেছিল। খাওয়া-দাওয়ার সমগ্র ব্যাপারটা বৃহৎ কর্মে গিয়ে ঠেকেছে, তাই কনে সাজানোর কাছে এসে একটু বসেছিল অমিতা।

    সাজাবার সাধ অমিতার নিজেরই ছিল, কত আদরের দীপকের ভালবাসার বিয়ের বৌ। দেখতেও মোটামুটি ভালই। অমিতার হাতে সাজানোর ভার পড়লে সুন্দরীতে গিয়ে পৌঁছতে পারত, মনের মধ্যে এমনি একটা অহঙ্কারও ছিল বোধকরি, কিন্তু বাদ সাধল মহাশ্বেতা।

    সে মুখটা করুণ করুণ করে বলল, তুই সাজাবি? তা বেশি ইচ্ছে হয় তো সাজা, তুই তো সর্বদাই দীপুর হিতকামনা করিস, করবি, তোর দ্বারা কি আর অমঙ্গল হবে?

    অমিতা হাত গুটিয়ে নিয়ে বলল, অমঙ্গল হবে বুঝি? তবে থাক। একটু চুপ করে আবার বলল, আচ্ছা মহাদি, এ যুগেও ওসব অমঙ্গল-টমঙ্গল হয়?

    মহাশ্বেতা গালে হাত দিয়ে বলল, শোন কথা! অমঙ্গলের আবার এ যুগ সে যুগ কি রে! যুগ পালটেছে বলে কি আর সাপে কামড়ালে বিষ লাগে না?

    মোক্ষম যুক্তি! চুপ করে গেল অমিতা।

    মহাশ্বেতা স্নেহময়ী, মহাশ্বেতার হৃদয় নরম, তাই সে ওর পিঠে হাত রেখে আদরের সুরে বলল, সাজাস! কাল থেকে যত পারিস সাজাস বৌকে, হাতের সুতোটা গলার মোনামুনিটা খোলা হোক, কাজললতাখানা হাত থেকে নামুক।

    অমিতা আস্তে পিঠটা ওর হাতের ছোঁওয়া থেকে সরিয়ে নিল।

    এই তো! শেষ খবর তো এই!

    এই পর্যন্ত সবাই দেখেছে অমিতাকে, সহজ স্বাভাবিক। তারপর আর কই, কে তাকে দেখেছে? এত হট্টগোলে কে বা কাকে দেখে?

    দেখেছিল, স্বয়ং বিয়ের বরই দেখেছিল। অমিতা তখন কনে সাজানোর পরবর্তী ব্যাপার মিটোচ্ছে। যারা সাজিয়েছিল তারা কনের চারখানা বেনারসী, যাবতীয় গহনা, এক সুটকেশ প্রসাধন সামগ্রী আর ডজন দুই সেফটিপিন, এক পাতা আলপিন, গোছ গোছ ফিতে কাটা ক্লিপ নিয়ে ছড়িয়ে বসেছিল। সাজাবার পর অমিতাকে সে সব তোলবার ভার দিয়ে হুড়োহুড়ি করে চলে গেছে আসরে, কনের সঙ্গে।

    পাটখোলা বেনারসীগুলো খাটের ওপর স্তূপাকার হয়ে পড়েছিল, অমিতা পাট করে তুলছিল একে একে, এই সময় দীপক এসে দাঁড়াল, কিরে ছোড়দি, খুব খাটছিস?

    অমিতা হাসল।

    দীপকের মন কানায় কানায় উথলোচ্ছে, কথার সুখেই কথা কয়, কী রে বাবা কত শাড়ি।

    অমিতা আর একবার হাসল।

    এই ছোড়দি, জানিস অতনুদা এসেছেন!

    অমিতার হাত থেকে পাট করা শাড়িখানা খস করে খসে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ল।

    দীপক অবশ্য সেদিকে তাকায় নি, সে সোৎসাহে বলে, এই তো কালই শুভেচ্ছা বাণীর টেলিগ্রাম এসেছে, আজ এসে হাজির। আমি তো অবাক! বললাম, এটা কি হল? হাসতে লাগলেন, বললেন, টেলিগ্রামটা করেই মনটা কেমন চঞ্চল হয়ে উঠল, বেরিয়ে পড়লাম। বললেন, তোর আবার বিয়ে! ভেবেছি আর হাসি পেয়েছে। আমাকে বরাবরই খুব ভালবাসেন

    অমিতা ছড়িয়ে পড়া শাড়িখানা আবার তুলে নিয়ে পরিপাটি ভাঁজ করতে লাগল।

    রংটা খুব কালো হয়ে গেছে, দেখো চট করে চিনতেই পারবে না। বললেন, ম্যাড্রাসে। থাকতে হলে সকলেরই সোনার বরণ কালি হয়ে যায়। কথাবার্তা ঠিক সেই রকমই আছে।

    এবার অমিতা কথা বলে।

    কয়েক বছরে মানুষ একেবারে বদলে যায় এই বুঝি ধারণা তোর?

    দীপক তাড়াতাড়ি বলে, তা নয়। মানে, মস্তবড় অফিসার-টফিসার হয়ে গেছেন।

    অফিসার তো আজকাল গড়াগড়ি যাচ্ছে। বলে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া সেফটিপিনগুলো গুটোতে বসল অমিতা।

    দীপক অবশ্য ঠিক এটা ভাবে নি।

    বছর আষ্টেকের অদর্শন হলেও ওর ধারণা ছিল ছোড়দির প্রতি অতনুদার এবং অতনুদার প্রতি ছোড়দির বিশেষ একটু যে আকর্ষণ ছিল, সেটা এখনও আছে কোথাও, তাই অতনু আসার খবরটা ছোড়দিকেই আগে দিতে এসেছিল। কিন্তু অমিতার কাছ থেকে কোন সাড়া এল না। না চমকেই উঠল, না বা মুখের রংটাই একটু বদলাল! কথা একটা কইল, তাও আগ্রহ-শূন্য রসশূন্য। তবে আর কি করা।

    মনটা খারাপ হয়ে গেল দীপকের। ভাবল ছোড়দির মনটা একেবারে মরে গেছে। ভাবল– যাবে না? সমস্ত দিন ওই হলুদ পাঁচফোড়ন নিয়ে পড়ে থাকলে মন মরে যাবে না?

    তোর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসেছে? জিগ্যেস করল অমিতা।

    দীপক এই প্রসঙ্গ পরিবর্তনটা ধরতে পারল না। না পারবারই কথা। বিয়ের ঠিক পরমুহূর্ত থেকে গোটাকয়েক দিন কোন্ ছেলেটাই বা একটু বুদু বনে না যায়? আর দীপক তো চিরকেলে বুন্ধু। এই প্রেমে পড়ে বসাই তো তার প্রমাণ। বুদ্ধ না হলে আর কে কবে প্রেমে পড়ে?

    বুন্ধুর মতই উত্তর দিল সে, না রে ছোড়দি, সেই থেকে তো তাই ভাবছি। ফোন করব একটা?

    অমিতা হেসে বলল অত করতে হবে না, আসবে ঠিকই। না আসা পর্যন্ত তোর বৌয়ের মনটা মনমরা হয়ে থাকবে এই আর কি।

    বাঃ তা কেন? দীপক শরীরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বলে ওঠে, এখন থেকে তো এ বাড়িটাকেই নিজেদের বাড়ি বলে মনে করতে হবে?

    হবে বলেই সঙ্গে সঙ্গে তাই হইয়ে ফেলবে? মেয়েরা তোদের মত নয়।

    তুমি তো সব সময় ছেলেদের নিকৃষ্ট ভাবো। ও নিজে কি বলছিল, জানো?

    বলেই হঠাৎ লজ্জা পেয়ে চুপ করে যায় দীপক।

    ও আবার কী বলল? এবার আলপিন খোঁজার জন্যে খাটের তলায় মাথা ঝোকাচ্ছে অমিতা।

    কথাটা বলল নেহাত অন্যমনস্কের মত। আর বলল নেহাত দীপক বলেই। দীপকের সঙ্গে ছাড়া এত কথা আর কার সঙ্গে কয় অমিতা?

    না, বলব না। বলে আপন মনে মৃদু মৃদু হাসতে থাকে দীপক। ভাগ্যিস ছোড়দিটা মাথা ঝুঁকিয়েছে, নইলে হাসিটা দেখে ফেলত।

    বলব না বলাতেও যেন অমিতার কোন কৌতূহল নেই। আলপিন তুলে বলল, পরিবেশন সুরু হয়ে গেছে রে?

    দীপক মনে মনে বলল, ইস! এখন ওই কথা!

    সাধে কি আর ভাবছিল, ছোড়দির মনটা একদম মরে গেছে। ছোড়দি একবার অতনুর সঙ্গে দেখা করতে চায় কিনা, এইটাই তো ওর এখনকার প্রধান প্রশ্নের বিষয় ছিল। কিন্তু অতনুর খবরে তো গ্রাহ্যই করল না ছোড়দি।

    গ্রাহ্য করলে অন্তত এক্ষুনি খোঁজ নিতে বসত না পাতা পড়েছে কিনা!

    রেগে বলল, কেন, তুই তা হলে এবার কোমর বেঁধে লেগে যাবি?

    অমিতা হাসল, কোমর বাঁধলে তোদের লোকসানটা কোথায়?

    লাভলোকসান নিয়েই সর্বদা চলবে নাকি মানুষ? আরও রাগ করে বলল দীপক।

    অমিতা আবার হাসল, প্রেমে পড়লি, বিয়ে করলি, তবু ছেলেমানুষই থেকে গেলি!

    লাভলোকসান দেখবে না তো কি নিয়ে তবে চলবে রে মানুষ?

    মানুষ মানুষের মতই চলবে। সুখ দুঃখু, সাধ বাসনা, ইচ্ছে অনিচ্ছে, ভাল লাগা মন্দ লাগা নিয়ে।

    ওগুলো অমানুষের।

    যা যা, আমরা সব তাহলে অমানুষ!

    তুই বড় তাড়াতাড়ি রেগে যাস! বৌটার যে কি দশা হবে?

    বাঃ সে কথা তো আমাদের হয়েই গেছে। জানো না?

    তোদের কখন কি কথা হয়ে যাচ্ছে আমি জানছি?

    শুনতে চাইলে তো জানবে? ঠিক হয়ে গেছে, আমরা কেউ কারুর ওপর রাগ করব না। করব না এই কথাটা একটা স্ট্যাম্প পেপারে লিখে, দুজনে সই করে রেখে দেবো। যেই। একজন রাগ করবে, তার নামের সামনে ধরে দেখানো হবে কাগজটা।

    অমিতা মৃদু হেসে বলে, আর যখন তা সত্ত্বেও তার রাগ ভাঙবে না, তখন চুক্তিভঙ্গের অপরাধে তার নামে আদালতে নালিশ করতে ছোটা হবে, কেমন? যত সব ছেলেমানুষী! কই বললি না ছাতের কী অবস্থা?

    আরে বাবা, এই মাত্তর দেখে এসেছি ফার্স্ট ব্যাচের পাত রেডি, আগে মহিলাদের আর শিশুদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিশু আর মহিলা তো একই শ্রেণীর! বলে হেসে চলে যায় দীপক। আর–আর একবার ভাবে, ছোড়দির মনটা একেবারে মরে গিয়েছে।

    তারপর তো মেয়েরা অনেকে খেতে বসেছে, কে কোথায় হই হই করে বেড়াচ্ছে, অমিতা যে ঠিক কোন্ কর্মকেন্দ্রে আছে তা কেউ দেখে নি।

    দেখল এসে মহাশ্বেতা। যে মহাশ্বেতা সর্বঘটের কাঠালীকলারূপে সারা বাড়ী ঘটঘটিয়ে বেড়াচ্ছিল।

    মেয়েরা খেতে চলে যাওয়াতে দোতলাটা প্রায় নির্জন, আর কনে সাজাবার জন্যে নির্বাচিত এই কোণের দিকের ঘরটার তো ত্রিসীমানায় কেউ নেই, মহাশ্বেতার যে এখানে কী দরকার পড়েছিল মহাশ্বেতাই জানে।

    সে ভেজানো দরজাটা হাত দিয়ে একটু ঠেলেই ভিতরের দৃশ্য দেখে পাথর হয়ে গেল।

    তখনো অমিতা তাকে দেখতে পায় নি।

    অমিতা তখন ঘরের প্রকাণ্ড ড্রেসিং আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে…হ্যাঁ, অসম্ভব অবিশ্বাস্য হলেও নিজের চোখকে তো আর অবিশ্বাস করতে পারে না মহাশ্বেতা? নিজের চোখে দেখল, আরশির সামনে দাঁড়িয়ে কপালে টিপ পরছে অমিতা! কুঙ্কুম আর চন্দনে সাজিয়ে তোলা ত্রিনেত্রর গড়নের লম্বাটে একটি টিপ। নিখুঁত করে আঁকছে।

    আয়নায় অমিতার ছায়া পড়েছে। পুরো শরীরের ছায়া। যে শরীরটায় জড়ানো রয়েছে নতুন বৌয়ের একখানা জমকালো লাল বেনারসী শাড়ি।

    নতুন বৌয়ের শাড়ি আর নতুন বৌয়ের কতকগুলো গয়না দিয়ে নিজেকে সাজিয়েছে অমিতা। আরশির সামনে দাঁড়িয়ে আছে যেন বাহ্যজ্ঞানশূন্যের মত।

    তা সে জ্ঞান মহাশ্বেতাও হারিয়ে ফেলেছিল বুঝি! বেশ কিছুক্ষণ পাথর হয়েই দাঁড়িয়ে ছিল সে।

    জ্ঞান ফিরল তখন, যখন দেখল শাড়ির আঁচলটা মাথা দিয়ে ঘুরিয়ে টেনে মুঠোয় চেপে ধরে ঘুরে ফিরে নিজেকে দেখছে অমিতা, আর তার ঠোঁটে মৃদু একটু হাসির রেখা!

    অমি!

    ঘরে ঢুকেই ভিতরের ছিটকিনিটা লাগিয়ে দিয়েই মহাশ্বেতা চাপা আর্তনাদ করে উঠল, অমি!

    অমিতার কি এতক্ষণে বাহ্যজ্ঞান ফিরল? না সেটা চিরদিনের মতই হারিয়ে ফেলেছে সে? চোখে তার দৃষ্টিটা ঠিক কি? চমকে উঠেছিল কি একবার?

    নাঃ, ওঠেনি বোধ হয়। চমকে ওঠাটাই উচিত ছিল, এই অস্বাভাবিক কাণ্ডের মধ্যেও কিছুটা স্বাভাবিকতা খুঁজে পাওয়া যেত তবে, কিন্তু তা সে উঠল না।

    তার বদলে?

    তার বদলে সহসা মহাশ্বেতাকে জড়িয়ে ধরে খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, কেমন দেখাচ্ছে বলে তো মহাদি?

    মহাশ্বেতা কিন্তু এই অকস্মাৎ বজ্রাঘাতে স্তম্ভিত হয়ে মাথাটা ঠিক হারাল না, দুহাতে অমিতার দুই কাঁধ ধরে প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে বলে উঠল, অমি! অমি! এ কী সর্বনাশ হল রে তোর অমি!

    অমিতার হাসির পালা, কেন গো মহাদি, সর্বনাশ কি? কেমন কনে সেজেছি, কেমন টিপ এঁকেছি

    ওলো সর্বনাশী, কার জন্যে-কার জন্যে? তাকে ধরে অনবরত ঝাঁকুনি দিতে থাকে মহাশ্বেতা।

    আঃ, লাগে না?

    ছাড়িয়ে নেয় অমিতা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ফিক ফিক করে হেসে বলে, কেন, বরের জন্যে।

    কোথায় তোর বর অমিতা? মহাশ্বেতা হাত পা ছেড়ে দিয়ে খাটের ওপর বসে পড়ে করুণ সুরে বলে, সে কি আর আছে হতভাগী?

    বাঃ, তাকে তোমরা সরিয়ে দিচ্ছ বুঝি? আছে, আছে সে। নীচে আছে। এসেছে বিদেশ থেকে। তাকে একবার ডেকে দাও না গো মহাদি!

    অমিতার কি নেশা লেগেছে? নেশাচ্ছন্নের মত চোখ মুখ কেন তার?

    মহাশ্বেতা বেনারসী শাড়ির একটা কোণ অমিতার চোখে তুলে ধরে বলে, এ শাড়ি তুই কেন পরেছিস? এ কি তুই পরিস? এ তো নতুন বৌয়ের শাড়ি। তোর কাপড় তো এই!

    অমিতার পরিত্যক্ত ইঞ্চিপাড়ের শান্তিপুরী হাফ-শাড়িটা তুলে এনে ধরে মহাশ্বেতা।

    ও কাপড় বিচ্ছিরী, ছিঃ! অমিতা সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলে, ও আমি পরবো না।

    অতঃপর আর সংশয় থাকে না মহাশ্বেতার।

    কিন্তু এ কী আকস্মিক!

    এ কী আকস্মিক!

    জল খাবি অমিতা?

    না না, জল খাব কেন? আমি নেমন্তন্ন খাব! অমিতা চোখ ভুরু নাচিয়ে বলে, কত কি ভাল ভাল রান্না হয়েছে। ওকেও ডেকে নিয়ে এসো না মহাদি! দুজনে একসঙ্গে খাই।

    মহাশ্বেতা কাছে এসে দৃঢ়স্বরে বলে, তুই সব ভুলে যাচ্ছিস কেন অমি, সে তো নেই। সে তো বিলেত থেকে আসতে গিয়ে প্লেন ভেঙে মারা গেল, মনে নেই?

    অমিতা ভাবশূন্য মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে।

    ভাল করে ভাব, চেষ্টা করে মনে কর মহাশ্বেতা যেন মন্ত্র পড়ায়, সেই তুই দমদমে গেলি, তার মৃতদেহের সামনে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলি, তারপর মামার সঙ্গে- ইয়ে, তোর বাবার সঙ্গে চলে এলি, কিছু মনে পড়ছে না?

    আবার আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে অমিতা।

    তোর বরের নাম ছিল বীরেশ্বর, সেই চিঠি-ছাপা হল, পদ্য ছাপা হল–আপ্রাণ চেষ্টা করে মহাশ্বেতা, কত ঘটা করে বিয়ে হল–ভুলে যাচ্ছিস কেন?

    দূর, তুমিই সব ভুলে যাচ্ছ মহাদি, আমার বরের নাম তো অতনু-অতনু সেন! সেই কোথায় যেন চলে গেল, কত দুঃখু হল আমার! একবার ডেকে আনো না মহাদি!

    আনছি, তুই বসে থাক। বেরোস নে ঘর থেকে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এল মহাশ্বেতা, বেরিয়ে এসে ছিটকিনিটা ঠেলে বন্ধ করে দিয়ে জয়াবতীকে ডেকে–একান্তে টেনে নিয়ে গিয়ে কপালে করাঘাত করে খবরটা দিল।

    .

    সমস্ত অভ্যাগতের চোখ এড়িয়ে জয়াবতী এসে মেয়ে নিয়ে ঘরে খিল দিলেন। অবিশ্যি মহাশ্বেতাও রইল, নইলে মাথায় জল দিয়ে বাতাস করবে কে?

    জয়াবতী ঘরে ঢুকে প্রায় আছড়ে পড়ে বললেন, অমি, অমু, কি হয়েছে মা? খেটে খেটে শরীরটা খারাপ লাগছে? গরম লাগছে? এই ভারী শাড়িটা খুলে দিই মা, নরম কাপড় পরে শোও একটু।

    শাড়িটায় টান দিলেন জয়াবতী। অমিতা মায়ের হাতটা ঠেলে দিয়ে বলে উঠল, আঃ!

    অমি, আমাকে আর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা দিসনি মা! তুই সহজ হ ঠিক হ! মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন জয়াবতী।

    ছেড়ে দাও বলে ফুঁসে উঠে মায়ের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল অমিতা।

    অমি, অমু, অমি! আমায় চিনতে পারছিস না?

    চোখ দুটো কপালমুখী করে অমিতা খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, পারছি। তুমি তো বড় পিসিমা।

    আমি বড় পিসিমা!…ও মহা, একখানা থান ইট এনে আমার মাথায় বসিয়ে দে মহা, আমার সকল জ্বালা জুড়োক। এ দৃশ্য আমি আর একদণ্ডও সহ্য করতে পারছি না। ..অমু, অমিতা, আমি যে তোর মা অমি!

    না, তুমি মহাদির মা। বলে সরে গিয়ে ও-দেওয়ালে গিয়ে দাঁড়ায় অমিতা।

    জয়াবতী বারবার বোঝাতে চেষ্টা করলেন, গরমে ঘামে আর কতদিনের পরিশ্রমে এমন হচ্ছে তোর। গয়না কাপড় খুলে রাখ মা, পরে পরিস, নেমন্তন্ন খাবার দিন পরিস, এখন নরম কাপড় পরে শো

    বুনো গোঁ ধরে হাত ছাড়িয়ে নিল অমিতা, আঃ ছেড়ে দাও বলছি! লাগে না আমার?

    তবু দুজনের সঙ্গে একলা জোরে পারা শক্ত।

    বেনারসী শাড়ি থেকে মুক্ত করলেন ওকে জয়াবতী আর মহাশ্বেতা। মাথায় মুখে জল দিলে শাড়িটা যে যাবে! দামী শাড়িটা!

    জোর করেই জল দিয়ে শুইয়ে দিলেন জয়াবতী মেয়েকে। কিছুক্ষণের জন্যে চোখটা বুজল সে, বোধকরি ঘুমিয়েই পড়ল।

    ঘুমোনো ভাল লক্ষণ! মহাশ্বেতা বলল, হিস্টিরিয়ায় ঘুম ভাল।

    হিস্টিরিয়া বলে আর আমায় প্রবোধ দিস নে মহা, জয়াবতী চাপাগলায় ডুকরে উঠলেন, যা হয়েছে তা বুঝতে পেরেছি, আমার কপালের উপযুক্তই হয়েছে। নইলে আমার একটা ঘরণী গিন্নী মেয়ে স্বামীপুত্তুর ফেলে চলে গেল, আর একটার নগরে না উঠতেই বাজারে আগুন লাগল।

    তবু সেও তো বুক বেঁধে সয়ে ছিলাম। এ আমার কি হল মহা? কেন হল?

    মহা বিজ্ঞের মত বলে, আজকাল সব ডাক্তারদের নানান মতামত বেরুচ্ছে। বলছে, বেশি বয়সের আইবুড়ো মেয়ে কি কমবয়সী বিধবার পাগলামী হিস্টিরিয়া এসব হওয়ার কারণ না কি… ঢোক গেলে মহাশ্বেতা, তুমি গুরুজন কি আর বলব! তবে

    জয়াবতী মেয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালেন–ঘুম কি, না আচ্ছন্ন? ভুরু কুঁচকে উঠছে, ঠোঁট কাঁপছে, কাঁপছে নাকের পাটা। গলা আরও নামিয়ে বললেন, এই বাড়িভর্তি লোক, এখন ডাক্তারের ব্যবস্থাই বা কি করে করি? অথচ

    যাক যাক একটু। ভিড়টা একটু মিটুক, ঘুমোচ্ছে ঘুমোক। হয়তো ঘুমোলেও কিছু কমতে পারে। আশ্বাস দিয়েই আবার আশঙ্কার ঢেউ তোলে মহাশ্বেতা, তবে আশা কম। বড্ড ভরা বয়েস তো!

    জয়াবতী বলেন, ভগবান জানেন, পাপের মন, পাঁচজনে জড় হয়েছে। কেউ কিছু খাইয়ে দিল না তো?

    ওকে আর কে কি খাওয়াবে? ও কী বা খায়?

    চা কে করেছিল আজকে? তোদের সে মামীর বোনঝি না? জয়াবতী সন্দেহে কুটিল হয়ে ওঠেন।

    মহাশ্বেতা কি উত্তর দিত কে জানে, সেজ মামীর বোনঝির স্বপক্ষে না বিপক্ষে, কিন্তু উত্তর দেওয়ার আগেই দরজায় ধাক্কা পড়ল, বৌদি, বৌদি, আছ নাকি এখানে? অমিতাই বা কোথায় হাওয়া হল? কে আছ এখানে? আবার সজোরে ধাক্কা।

    বলা বাহুল্য খুলতে হয় দরজা।

    রক্ষে যে অমিতার ঘুম ভাঙে না।

    কী ব্যাপার! সেজ দেওর বিজয় ঘরের ভিতরের দৃশ্যটা চকিতে দেখে নিয়ে বলে, হল কি? শুয়ে কে? অমি? শরীর খারাপ হয়েছে?

    ঠাকুরপো! জয়াবতী ভ্যাক করে কেঁদে ফেলেন।

    আরে বাবা, হল কি?

    বিজয়ের স্বরে ব্যস্ততা। ফার্স্ট ব্যাচের যুগ্যি মিষ্টি বার করা ছিল, এখন মিষ্টির ভাড়ার চাবির মধ্যে সংরক্ষিত। আর চাবি জয়াবতীর আঁচলে। সারা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিল বেচারা বৌদিকে।

    খুব কসে ধমকে দেবার মনোভাব নিয়েই এসেছিল বিজয়। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার আকস্মিকতায় থতমত খেয়ে বলে, কি, মাথাটাথা ঘুরে গেছে বুঝি? যাবেই তো, যা চরকীর মত ঘুরছে কদিন! থাক, একটু রেস্ট নিচ্ছে নিক। তা সবাই মিলে ভিড় বাড়াচ্ছ কেন, একা ঘর অন্ধকার করে একটু ঘুমুতে দাও। আর তুমি মিষ্টির ঘরের চাবিটা চট করে দাও দিকি আমাকে। শীগগির শীগগির, লোক খেতে বসে গেছে।

    বৌদি আঁচল থেকে চাবি খুলে দেবার আগেই তার আঁচলটা টেনে নিজেই দ্রুত হস্তে গিট খুলে চাবিটা নিতে নিতে বিজয় আর একবার বলে, মেয়েটা খেয়েছিল কিছু? নাকি উপোস করেই ঘুরছিল?

    এ কথার আর উত্তর শোনার অবকাশ হয় না বিজয়ের, চাবি নিয়ে দৌড় মারে সে।

    জয়াবতী আর মহাশ্বেতা ঘরের বাইরে এসে চুপি চুপি কথা বলেন।

    তোর বড় মামাকে একবার ডাক দিকি মহা! হতাশ নিঃশ্বাস ফেলেন জয়াবতী।

    বড়মামা তো সেই বাইরে। রাশ রাশ লোক সেখানে। গিয়ে কি বলব?

    বলগে অমির হঠাৎ শরীর খারাপ হয়েছে।

    কি হয়েছে জিগ্যেস করবেনই। তা হলেই সোরগোল পড়ে যাবে। আমি বলি কি, একটু ব্রোমাইড খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখলে–

    না মহা, নিজেদের বুদ্ধিতে কিছু করতে ভরসা নেই। যদি হিতে বিপরীত হয়?

    আশা, আমি কি আর একেবারেই আনাড়ী গো? আমার পিসশাশুড়ীর যখন মাঝে মাঝে ভীমরতি বাড়ে, বাড়ির লোককে উৎখাত করেন, তখন তো ওই ব্রোমাইডই ভরসা!

    এবার বোধকরি জয়াবতী ওঁর পরমহিতৈষী ভাগ্নীর ওপর একটু বিরক্ত হন, বেজার মুখে বলেন, কী যে বলিস মহা! কিসের সঙ্গে কিসের তুলনা!

    আহা তুলনায় আর ভুল কি? সবই তো সেই মাথায় রক্তচড়া?

    ব্যস, আর কথা চালানো যায় না। হুড়মুড়িয়ে ছাতের দ্বিতীয় ব্যাচের মহিলারা নামছেন রূপের ছটায়, রঙের ছটায়, সোনা-মোতির ছটায়, আর কথার ছটায় তুফান তুলতে তুলতে।

    ওরই মধ্যে একজনের নজর পড়ে যায় বারান্দার এ পাশের কোণের ঘরের সামনে মনুষ্যমূর্তি দুটির প্রতি। উৎসবের উল্লাসেই অকারণ খিলখিলিয়ে ওঠে সে, কি গো মেজখুড়ি, তোমরা ওখানে আঁতুড়ের দোর আগলানোর মতন করছ কি দুজনে?

    জয়াবতী তাড়াতাড়ি এগিয়ে আসেন, বোধকরি পরিস্থিতি ঢাকতে বলতে যান, ভাল করে খেয়েছ তো? কিন্তু ততক্ষণে মহাশ্বেতা রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকা নিয়ে বসে।

    আর বোলো না নদি, এদিকে তো মহা বিপত্তি! অমিতা এক মস্ত রোগ বাধিয়ে বসে মামীর তো নাড়ি ছাড়িয়ে দিচ্ছে?

    ওমা সে কি?

    রূপ, রং, গন্ধ, শব্দের সেই প্রবল তুফান মুহূর্তে একটিমাত্র সূক্ষ্ম সুরের তরঙ্গে কেন্দ্রীভূত হয়, ওমা সে কি? কি হল?

    কি হল? কি হল? কি হল? জিগ্যেস করে উত্তরের অপেক্ষা কেউ করে না, ঠেলে ঢুকতে চেষ্টা করে ছোট্ট সেই ঘরখানার মধ্যে।

    না, মহাশ্বেতাকে দোষ দিতে জয়াবতী পারেন না। আইন বাঁচিয়ে কাজ করেছে সে, রোগের নাম বলে নি। শুধু বড়মামীর অবস্থাটা বর্ণনা করেছে।

    কি হয়েছে মা অমিতা!

    কি হল হঠাৎ?.. মাথা ঘুরে গেছে? বুক কেমন করছে?

    আহা মরে যাই, ভেতরে আগুনের জ্বালা পুরে রেখে বাইরে সহজের মত ঘুরে বেড়ায় বই তো নয়। অ মা অমিতা, কী কষ্ট হচ্ছে মা?

    দেখা গেল নিমন্ত্রিতা নারীমণ্ডলীর প্রত্যেকেই স্নেহময়ী মমতাময়ী করুণাময়ী। ঘুমন্ত মানুষটাকে ঠেলে, গায়ে হাত বুলিয়ে, কপালের চুল সরিয়ে আকুল প্রশ্ন করতে থাকেন তারা সহসা কি হল অমিতার?

    যে অমিতা গুণের খনি, কাজের অবতার, সহিষ্ণুতার প্রতিমূর্তি, আর অভাগ্যের প্রতীক।

    ঘুম!

    ঘুমই।

    মাথায় রক্তচড়া রোগীর অস্বাভাবিক ঘুম হলেও মহানিদ্রা তো নয়! এমন সুগভীর সহানুভূতির আর মমতার স্পর্শে যে মহানিদ্রার মহাশিলাও গলে জল হয়ে যেতে পারে!

    জয়াবতীর ভাজ আহা মরে যাই, আহা মরে যাই রবে অমিতার বুকের ভিতর হাত বুলোতে যেতেই সহসা ধড়মড় করে উঠে বসে অমিতা, আর জয়াবতীদের সমস্ত সাবধানতা ব্যর্থ করে দিয়ে তীক্ষ্ণ চীৎকার করে ওঠে, কে? কে এরা? এত ভিড় কেন ঘরে? একলা থাকব আমি, একলা থাকব।

    নীল মৃদু বাল্ব জ্বলছিল ঘরে, অপমানাহত রমণীকুল জোরালো আলোটা জ্বেলে দেন, আর মুহূর্তে ধরা পড়ে যায় অমিতার ইতিহাস।

    মাথায় জল দেওয়ার প্রতাপে কপালের সেই টিপের বাহারটা অমিতার ঘুচেছে, কিন্তু দুই কানে তখনও দুটি মকরকুণ্ডল, গলায় মুক্তোর পেন্ডেন্ট, দুই হাতে দুগাছি চূড়। বাহুল্য বোধে কনেসাজানিরা যেগুলো পরিত্যাগ করেছিল।

    অমিতার পরনে শুধু সায়া-ব্লাউজ, যে কাপড়খানা পরেছিল বিকেলে সেখানা মাটিতে লুটোচ্ছে, আর খাটের বাজুর ওপর কনের নতুন লাল বেনারসীটা ছড়ানো জড়ানো!

    এ কী!

    এটা কী! এ কোন ধরনের অসুখ?

    এই সাজ, আর এই চীঙ্কার! খানিক আগেও তো সবাই দেখে গেছে সহজ স্বাভাবিক অমিতা। বসে আছে, কাজ করছে।

    তোমরা যাবে? আর একবার চীৎকার করে ওঠে উন্মাদিনী।

    যাব না তো কি আর থাকবার জন্যে এসেছি!

    অসুস্থ বলে ক্ষমা করেন না কেউ। হাঁড়িমুখে, কালিমুখে, আগুনমুখে বেরিয়ে আসেন সবাই। কেউ কেউ এমনিই নীচে নেমে যান, কেউ কেউ বা জয়াবতীকে একটু উপদেশের কামড় দিয়ে যান–মেয়ের যখন শরীর খারাপ, তখন বাড়িতে এত লোক জড় করা উচিত হয় নি জয়াবতীর।

    এরপর আসেন বাড়ির কর্তারা, আর আত্মীয়রা, একে একে, দুইয়ে দুইয়ে। ঘরে ঢোকেন না, ঘরের বাইরে থেকে কি বৃত্তান্ত শোনেন, এবং সকলেই রায় দেন, বেশি খাটুনি, কম খাওয়া, ভিড় গরম, সব কিছু মিলিয়ে হিস্টিরিয়াই দেখা দিয়েছে, আজ ওকে ডিসটার্ব না করে ঘুমুতে দেওয়া হোক।

    কিন্তু জয়াবতী প্রতিষেধকটা মোক্ষম চান।

    তোমরা একটা ডাক্তার টাক্তার এনে দেখাও ঠাকুর-জামাই, একটু ঠাণ্ডা ওষুধ ওর পেটে পড়ক, যাতে ঘুম থেকে ওঠার পর আর কিছু বিঘ্ন না থাকে!

    ডাক্তার!

    তাই তো!

    আহা ইস!

    মুখে মুখে হিসেব হয়ে যায় কজন ডাক্তার আত্মীয় আজ নিমন্ত্রণে এসেছিলেন, আর ঠিক এই মুহূর্তেই কিভাবে ব্যাপারটা না জানায় সবাই প্রস্থান করেছেন।

    অন্তত সাত-আটজন ভাল ভাল ডাক্তার ছিল!

    ইস একটু আগে জানালে না?

    আরে আমাদের তরুর জামাই তো মানসিক রোগেরই চিকিৎসক, এই–এইমাত্তর চলে গেল!

    দীপকের মুখ দিয়ে আর কথা বেরচ্ছিল না, চুপ করে জটলার একপাশে দাঁড়িয়েছিল সে।

    এর আগে বেচারা জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হতাশ নিঃশ্বাস ফেলছিল, কারণ এ ঢেউ বিদায় না হলে ফুলশয্যার কথাই উঠবে না। একটা করে ব্যাচ নিঃশেষ হচ্ছিল, আর একটা করে অশ্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল সে, কিন্তু এ কী অভাবিত দুর্ঘটনা।

    এ কী কূলে এসে তরী ডোবা!

    আর তাছাড়াও ছোড়দির এই অবস্থা তাকে বিমূঢ় বিচলিত করে তুলেছিল। ছোড়দি তার সকল সুখ দুঃখের অংশীদার, তার আশৈশবের আশ্রয়। পিঠোপিঠি হলেও স্বভাবগুণে অনেক বড়। এই বিয়েটার ছোড়দিই তো মূলাধার।

    মা বাপকে রাজী করানো তো বটেই, তার উপর দীপকের যা কিছু ইচ্ছে বাসনা, সবগুলি ছোড়দির মাধ্যমেই পেশ হয়েছে, এবং সেগুলি কার্যকরীও হয়েছে। আরও আশ্বাস দিয়ে রেখেছিল ছোড়দি তাদের, মধুচন্দ্রের পারমিটও আদায় করে দেবে সে ওপরওলাদের কাছ থেকে।

    কোথায় তলিয়ে গেল সব আশা! পাগল একা অমিতাই হয় নি, দীপকের মনে হচ্ছিল সেও পাগল হয়ে যাবে।

    নতুন বৌ কাঠ হয়ে বসে আছে পাশের ঘরে, তার প্রতি কারও দৃষ্টিপাত নেই। ফুলশয্যার অনুষ্ঠানটাও যে যো সো করে করে দেবে কেউ সে ভরসা নেই। হাতের কাজললতা গরম হয়ে উঠছে। হাতে বাঁধা সুতোয় জং ধরে গেছে। ধরবেই তো! এই গরম, তাছাড়া জল লাগছে সাবান লাগছে দুদিন ধরে। ও সুতো কি খোলা হবে আজ?

    রাত কত হল?

    না এমনি করে বসেই কেটে যাবে এই রাত? তাছাড়া আরও এক ভয়ে বুক গুড়গুড় করছিল সেকেন্ড ইয়ারের পড়ুয়া মেয়েটার। বিয়ের আগে থেকে দীপকের মুখে সে অবিরতই ছোড়দির মহিমার কথা জেনেছে, ছোড়দির বুদ্ধির প্রশস্তি শুনেছে, এসেও দেখছে কাল থেকে সারা বাড়িতে শুধু অমিতা অমিতা রব। কোনও কাজ হবে না অমিতা এসে না দেখলে।

    সেই অমিতার বুদ্ধির গোড়াতেই এমন দুর্বিপাক ঘটল, নতুন বৌ এসে বাড়িতে পা দিতে না দিতে। যুগ যতই সভ্য হোক, আর মহিলাকুল যতই আলোকপ্রাপ্তা হোন, অপয়াকে অপয়া না বলবে কে? যুগ পালেটেছে বলে তো আর সাপের বিষ অমৃত হয়ে যায় নি?

    এই কঘণ্টা আগেও আলোকোজ্জ্বল আর উৎসবমুখর বাড়িখানার দিকে তাকিয়ে বুকটা আনন্দের আবেশে শিথিল হয়ে আসছিল তার। তার জন্যে, এই সব কিছুই তার জন্যে, তাকে কেন্দ্র করেই সব।

    কিন্তু এই বিপদপাতে কোন্ কে যেন কেচ্যুত হয়ে পড়ল সে বেচারা!

    তবু দুটি নিকটআত্মীয়া মহিলার নিভৃত আলোচনা কানে আসে নি ভয়ে মুহ্যমান নববিবাহিতার। ওঁরা নিতান্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে বলছিলেন এইটুকু কৃপা।

    হ্যাঁ গা, নতুন বৌয়ের মা কিছু তুকতাক করে দিল না তো?

    ওমা সে কি? কেন?

    আহা কেন আর বুঝছ না? ঘরে দস্যি বিধবা ননদ থাকলে পাছে মেয়ের ষোলোআনা সুখ না হয়! জানতে তো পেরেছে ওই মেয়েই সর্বময় কী, সকলের আদরের আদরিণী, মাথায় মণি!

    কি জানি ভাই, না দেখে আর কি বলব! তবে জগতে কিছুই অসম্ভব নয়।

    দীপক দূর থেকে দেখছে, ঘরে বৌ বসে বসে ঢুলছে। একবার কাছে যাবার প্রবল ইচ্ছে বিবেকের দংশনে গুটিয়ে যাচ্ছে। ছি ছি, ছোড়দির এই অবস্থা, আর আমি কি না!

    মনটাকে জোর করে টেনে এনে ছোড়দির ব্যাপারে দিতেই কানে এল ডাক্তার প্রসঙ্গ।

    আর খানিক আগে জানাজানি হলেই যে অন্তত গণ্ডা-দুই ডাক্তারকে এখানে এনে বসানো যেত সেই কথাই হচ্ছে।

    দীপক সহসা বলে ওঠে, অতনুদা তো রয়েছেন!

    অতনু! তাই বটে, অতনু এসেছিল যে!

    অতনু তো ভাল ডাক্তার। এখন অবশ্য মিলিটারীর ডাক্তার, আর তাতে বিদ্যে ভোতা হয়ে যায় এটাও ঠিক, তবু ভাল ছাত্র ছিল, স্কলারশিপ পেয়েছে দুবার।

    মরা হাতী লাখ টাকা! আর লাখ টাকা না হোক, পাঁচটাকাই যদি হয়, তবু তো পাঁচ টাকাই। সেটুকু কাজও তো হবে।

    অমিতার বাবা স্রেফ মাটিতে বসেছিলেন, রগ দুটো টিপে ধরে। দীপকের কথায় ক্লান্ত স্বরে বলেন, সে কি এখনো আছে?

    বাঃ আছেন বইকি! পরিবেশনের তদারকি করছিলেন যে! বলেছিলেন বাড়ির লোকের মানে, আমাদের সঙ্গে খাবেন। নীচেই আছেন।

    দীপকের মৃতদার বড় ভগ্নীপতি সস্নেহ সুরে বলেন, তুমিও তো খাওনি এখনও?

    দীপক মাথা নাড়ল, সেজকাকা, ছোটকাকা, পিসেমশাই, বাবা, আপনি, কেউই তো খান নি আপনারা?

    আহা আমাদের কথা আলাদা, সে হচ্ছে পরে। কিন্তু তুমি ছেলেমানুষ, এতটা অনিয়ম! তাছাড়া–ওই সব মেয়েলি কাজটাজগুলোসারতে তো হবে যা হোক করে!

    পুরুষমানুষ দীপক, সহসা আর এক পুরুষের হৃদয় স্পর্শে প্রায় কেঁদে ফেলে–আর ওসব! ছোড়দির এই হল!

    ভগ্নিপতি আশ্বাস দেন, হয়েছে সেরে যাবে, মেয়েদের এসব বয়সে ওরকম ঢের হয়। ঘাবড়াবার কি আছে? যাও যাও, তোমরা খেয়ে নাও গে। অতনু পরের ছেলে

    সহসা ঘরের মধ্যে থেকে তীক্ষ্ণ তীব্র একটা শব্দ আসে, খায় নি কেন? খায় নি কেন ওরা? বিয়েবাড়িতে খায়নি কেন?

    এঁরা শশব্যস্তে গিয়ে বলেন, খাচ্ছে-খাচ্ছে, এই সবাই খেয়ে নেবে একেবারে।

    খাচ্ছে না, কেউ খাচ্ছে না। আমি বলি নি, তাই খাচ্ছে না। ডুকরে কেঁদে ওঠে অমিতা।

    তা যা দিকিন, অতনুকেই একবার ডাক দিকি। বললেন দীপকের বাবা জগন্ময়।

    মহাশ্বেতার মনে পড়ে গেল, পাগলিনীর প্রথম উন্মত্ত অভিব্যক্তি। কাছে এসে চাপা ধমকের সুরে বলল, ওকে আবার কেন বড় মামা? যতই তোক নিষ্পর, ওর কানে এসব কথা তোলার দরকারই বা কি? আত্মীয় হয় সে আলাদা কথা!

    না না, সে কি!

    মৃতদার বলে ওঠেন, অতনু তো এ বাড়ির আত্মীয়ের বাড়া। দেখেছি তো ছেলেবেলা থেকে।

    .

    কানাঘুসো শুনছিল অতনু। সবটা না জেনে যাওয়াও যায় না, অন্য কাজেও লাগা যায় না।

    দীপক এসে আবেদন জানালো।

    কানাঘুসোটা অনেকটা ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছিল, অতনু অদ্ভুত একটা দৃষ্টিতে দীপকের দিকে তাকিয়ে বলল, ডাক্তার বলে ডাকতে এসেছ আমায়?

    আহা ডাক্তার বলে কেন, এমনি বাড়ির লোক বলেই। সবাই তো গেছেন।

    চল। নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল অতনু।

    কিন্তু কে জানতো ডাক্তারের করস্পর্শেই ক্ষ্যাপা রোগী আরও ক্ষেপে যাবে?

    স্পর্শ?

    সে আর কতটুকুই বা? আঙুলের আগা কটি দিয়ে রক্তবহা ধমনীর রক্তধারার গতি করতে যতটুকু স্পর্শ অপরিহার্য।

    ও মা–আ আ! কেঁদে উঠেছে অমিতা, ও আমাকে ছুঁয়ে দিলে, পুজো করতে যাচ্ছিলাম আমি!

    পুজো! অমিতা আবার পূজো করে কখন?

    জগন্ময় হতাশ দৃষ্টি মেলে জয়াবতীকে শুধালেন, পূজো করে?

    না, কই? মহারাজজীর কাছে নিয়ে যাওয়ার নামে তো তেমন ইয়ে হল না!

    অতনুর মুখ যেন ভাবলেশ-শূন্য। বাড়ির লোকের সঙ্গে খাবে বলে খাবার সময়টা টালবাহানা করে কাটিয়ে দিয়েছিল সে, সে কি এই দেখবার জন্যে?

    ক্ষীণতম একটু আশা কি ভিতরে ধুকধুক করছিল না, যদি সেই সূত্রে কোনও মমতাময়ীর দেখা মেলে! যে সকলের খাওয়ার যত্নের সূত্র ধরে একবার সামনে এসে দাঁড়াবে।

    জগন্ময় এতক্ষণে মেয়েকে ডেকে কথা কন, অমন উতলা হচ্ছ কেন মা অমিতা? এ যে অতনু, দীপুর বিয়ে বলে সেই ম্যাড্রাস থেকে এসেছে, চিনতে পারছ না?

    বাপ, কাকা, অতনু, উপস্থিত সকলকেই চমকে দিয়ে খিল খিল করে হেসে ওঠে অমিতা, তুমি তো ভারি মজার কথা বল বাবা! নেমন্তন্ন খেতে রেলগাড়ি চড়ে এল?

    হাসি কান্না, অসংলগ্ন কথা! আর বাকী কি!

    জগন্ময় সকলের অলক্ষ্যে বুঝি নিজের গলাটাই একবার টিপে ধরেন নিজে, তারপর আবার সহজ হবার চেষ্টা করেন, বাঃ আসবে না? দীপুর বিয়ে! দেখতে আসবে না?

    না না না!

    চীৎকার করে উঠে বসে অমিতা, ও দীপুর বিয়ে দেখতে আসে নি, আমাকে দেখতে এসেছে। বল বল অতনু, তুমি আমাকে দেখতে এসেছ কিনা!

    অতনু দাঁতে ঠোঁট চেপে বোধকরি নিজেকে সংহত করে নিয়ে শান্ত গম্ভীর গলায় বলে, এসেছি তো, তাই তো এসেছি। তোমার হঠাৎ অসুখ করে গেল, ওষুধ দিতে হবে না? কোত্থানে কষ্ট হচ্ছে বল।

    কষ্ট! অমিতা সহসা অতনুর একটা হাত সজোরে চেপে ধরে বলে ওঠে, কোন্‌খানটায় নয়? সবখানে কষ্ট, জানো না? ছি ছি ছি, আবার বলে কিনা ডাক্তার হয়েছে! ডাক্তারে বুঝতে পারে না কোথায় কষ্ট!

    অতনু কষ্টে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সরে এসে নিচু গলায় বলে, ঘুমের ওষুধ ছাড়া উপায় নেই। কাল স্পেশালিস্ট দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

    রাতটা তুমি থাকো বাবা!

    জগন্ময়ও মেয়ের মত ওর হাতটা সজোরে চেপে ধরেন, একজন কেউ না থাকলে বড় ভরসা-ছাড়া হয়ে যাব। রাত তো অনেক হয়েছে।

    বাড়ি অতনুদের কাছেই, একটা গলি বাদে, চাকরির জন্যেই দূরে যাওয়া। নইলে এখানে থাকতে তো অনেকে অতনুকে এ বাড়ির ছেলে বলে ভ্রম করত।

    তা সে আজ বছর আট হয়ে গেল।

    এতদিন অদর্শনে একটু সমীহ এসেছে, একটু দূরত্ব এসেছে। তাই অতনুর হাত ধরে। অনুরোধ করেন জগন্ময়, রাতটা তুমি থাক বাবা!

    মহাশ্বেতা ততক্ষণে সরে এসে সেজ মামীর নিকটবর্তী হয়ে সন্ধ্যার ঘটনা আনুপূর্বিক বিবৃত করছে, জগন্ময়ের কথায় সেজমামীকে ইশারা করে, এই দেখ, আবার কি বিপত্তি ডেকে আনা নয়। থাকতে তো বলছেন, শেষে না বলেও আমার কাছে থাকুক!

    তা মহাশ্বেতার আজ গৌরবের দিন। একে তো প্রথম দর্শনের গৌরব, তাছাড়া ভবিষ্যদ্বাণী সফল হওয়ার গৌরব।

    কারণ পরমুহূর্তেই অমিতার ভাঙা ভাঙা গলা শোনা যায়, তুমি আমার কাছে থাক অতনু! আর কেউ না, শুধু তুমি। চুপটি করে বসে থাকো।

    উক্তিটা পাগলের। কিন্তু উপস্থিত সকলে তো পাগল নয়? লজ্জায় লাল হয়ে ওঠেন ওঁরা।

    ওষুধটা তুমি তাড়াতাড়ি দিয়ে দাও অতনু!

    আজ্ঞে দিই।

    কিন্তু এত রাত্রে পাওয়া যাবে কোথা?

    আমার সঙ্গে আছে। চাকর-টাকর কাউকে দিয়ে আমার ব্যাগটা আনিয়ে দিতে পারবেন?

    চাকর ছোটে।

    .

    অমিতা ওষুধটা খাও। তেমনি শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে উচ্চারণ করে অতনু, খেয়ে নাও কষ্ট কমবে।

    কষ্ট কমবে? কষ্ট কমবে? সহসা এক কীর্তি করে বসে পাগলিনী, উঠে বসে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর বুকের ওপর, মাথাটা ওর কাঁধের কাছে চেপে ধরে ডুকরে ওঠে, তুমি বুঝি আমায় বিষ দিচ্ছ অতনু? দাও তাই দাও। সব কষ্ট সেরে যাবে আমার!

    কি হচ্ছে? নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অমিতাকে শুইয়ে দিয়ে এবার ধমকে ওঠে অতনু, যথারীতি ডাক্তারের মতই, ওষুধটা ফেলে দিলে? বিষ দেব কেন? বিষ দিলে পুলিশে ধরে তা জানো না?

    পুলিশে ধরে? পাগলিনীর বিহূল প্রশ্ন।

    ধরে না? আমি পুলিশে যাই এই চাও বুঝি তুমি?

    না অতনু, না! তুমি রাগ কোরো না। আবার কাঁদতে বসে পাগল।

    মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয় জোর করে, ঘর অন্ধকার করে বাতাস করতে থাকেন জয়াবতী।

    বাকী সকলে চলে যায়।

    .

    নামমাত্র হিসাবে খেতেও বসে সকলে, আর রাত আড়াইটের সময় নতুন কনের হাতের সুতোটাও ভোলা হয় নিতান্ত অনাড়ম্বরে।

    শাঁখ বাজে না, উলু পড়ে না। দীপক ক্লান্ত গলায় বলে, দোহাই তোমাদের, একটু ঘুমুতে দাও আমায়।

    এমন সাহস কারও হয় না যে এই কথাটুকু ধরে ঠাট্টা করে।

    অতনু থাকলে জগন্ময় ভরসা পাবেন, তাই জগন্ময়ের ঘরের একাংশে অতনুর বিছানা পাতা হয়। সবাই যে যার একটু গড়িয়ে নিতে যায়।

    নিথর নিস্তব্ধ বাড়িটায় শুধু ঘূর্ণমান পাখার ব্লেডের শন শন শব্দের সঙ্গে ভারী হালকা নানা রকমের নিঃশ্বাসের শব্দ ওঠা-পড়া করে।

    অতনুও কি একটু ঘুমের ওষুধ খাবে? মাথার শির ছিঁড়ে পড়ার মত যন্ত্রণাটা কমাতে?

    এ কী অভাবনীয় অদ্ভুত পরিস্থিতি! কী এর অর্থ

    অতনু কেন সেই দূরের পথ পাড়ি দিয়ে এই উৎসববাড়িতে এল? কোন্ বাসনায়? কোন্ লোভে?

    হ্যাঁ লোভ বইকি। লোভ ছাড়া আর কি। দীপকের বিয়ের উৎসব না দেখতে পেলে জীবন বৃথা হয়ে যেত না অতনুর। শুভেচ্ছা জানিয়ে টেলিগ্রাম করে তো উপসংহার করে দিয়েছিল। আবার কেন মাতাল হয়ে উঠল মন? কেন জরুরী প্রয়োজনের ছাপ মেরে ছুটির আবেদন করে তখুনি সে ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিয়ে ছুটেছিল বিমান অফিসে?

    শুধু একটুখানি লোভ! উৎসববাড়ির এলোমেলোয় যদি একান্তে কোথাও দেখা হয়ে যায়! যদি শুধু একবার বলা যায়, কী অমিতা, কেমন আছ?

    তবু এ প্রশ্নকেও বারবার মনের মধ্যে তোলাপাড়া করে দেখেছে, কেমন আছ এ প্রশ্ন কি আর এখন করা যায় অমিতাকে? ব্যঙ্গের মত শোনাবে না? যদি অমিতা বলে বসে সে কথা? যদি নিজেই সে তিক্ত ব্যঙ্গে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে, ঘটা করে আকাশে উড়ে ছুটে এলে বুঝি ঠাট্টা করতে?

    তবে কেমন আছ এ প্রশ্ন থাক। অন্য কথা বলবে অতনু।

    বলবে দীপক খুব লায়েক হয়ে গেছে তো? এই বয়সেই প্রেমে পড়া, বিয়ে করা, সব সেরে নিল! •

    না, এ কথাটুকু নিয়েও দ্বিধা করেছে অতনু। ভেবেছে, থাক থাক ওকথা। কে বলতে পারে কোন্ কথায় কোন কথা এসে যাবে। হয়তো এ কথায় অমিতার ঠোঁটটি আরও বেঁকে যাবে। হয়তো আরও তীক্ষ্ণ করে বলবে সে, পুরুষমানুষ একটু পুরুষমানুষের মত হওয়াই তো ভাল।

    হয়তো বা কিছুই বলবে না, শুধু সেই একজোড়া নীল চোখের স্থির দৃষ্টি দিয়ে অতনুর পৌরুষকে ধিক্কার দিয়ে উঠবে।

    আর নয়তো বা সেই ওর চিরদিনের ভঙ্গিতে হেসে উঠে বলবে, প্রেমে পড়ার উপযুক্ত বয়স ওর হয় নি একথা মনে হচ্ছে তোমার?

    তবে থাক, দীপকের কথা থাক।

    দীপকের বৌয়ের কথাই বরং জিগ্যেস করবে অতনু, যদি উৎসববাড়ির গোলমালে কোথাও একান্তে পায় অমিতাকে। বলবে, কেমন বৌ হল দীপকের? সুন্দর? কি পড়ে? অবশ্যই এখনও ছাত্রী দীপকের বৌ!

    আচ্ছা, এ প্রশ্নেই কি অমিতা ছেড়ে কথা কইবে? যা দুষ্টু সে! হয়তো বলে উঠবে, বৌ কেমন হল, সেটা আমার মাধ্যমেই জেনে নিতে চাও বুঝি অতনুদা বিনা খরচে? উঁহু ও চলবে না, সোনা পত্তর বার করো তবে বৌয়ের কথা। সোনা আনো নি? ঠিক আছে, পকেটে দুচারটে নয়া পয়সা কি আর নেই? তাই নিয়ে চল। বৌকে বলব কেমন একখানি চালাক লোক দেখো। তারপর হয়তো চোখ মুখের সেই অপূর্ব ভঙ্গী করে বলবে, আমার বিয়েতে তো স্রেফ ফকি মারলে, দীপকের বিয়েতে নয়া পয়সাই সই। আচ্ছা, আমার বিয়েতে কিছু দিলে না কি বলে?

    না, ওসব কথা হয়তো আর বলবে না অমিতা।

    হয়তো ভয়ানক কি এক রকম বদলে গেছে সে। হয়তো শান্ত মৃদু হেসে বলবে, বৌ ভালই, দেখো নি এখনো? চল দেখাই গে।

    অমিতা যদি শান্ত হয়ে গিয়ে থাকে, না জানি কী অদ্ভুত দেখতে সে জিনিসটা! দেখলে যন্ত্রণা হবার মত বোধ হয়।

    উৎসববাড়ির গোলমালে একান্তে কোথাও দেখা হয়ে গেলে অমিতা যদি শুধু নীল চোখ দুটো তুলে একটু শান্ত হাসি হাসে?

    না, তা হলে আর কোনও প্রশ্ন নয়, কোনও কথা নয়, শুধু অতনুও দেখিয়ে দেবে সেও শান্ত হতে জানে। শান্তই তো হয়ে গেছে সে। আর হয়ে গেছে ভেবে নিজের উপর রীতিমত একটা আস্থা এসে গিয়েছিল। তবে হঠাৎ কেন কলকাতায় আসার একটা উপলক্ষে অশান্ত হয়ে উঠল রক্তবাহী শিরাগুলো?

    যদি না আসত অতনু! যদি ছুটি মঞ্জুর না হত তার!

    এমন অদ্ভুত আর লজ্জাকর পরিস্থিতিতে তো পড়তে হত না। তখনকার সেই ভয়ঙ্কর বিপদের মুহূর্তটা কী প্রবল শক্তিতেই কাটিয়ে উঠেছিল অতনু! এখন আর মনে পড়ছে না, কী করেছিল সে, কী বলেছিল। শুধু মনে পড়ছে কান দুটো অসম্ভব গরম হয়ে উঠে ঝা ঝাঁ করছিল। সেই ঝ ঝ গরমটা এখন মাথার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তোলপাড় করছে।

    তবু আজ রাতটা এখানেই থাকতে হচ্ছে অতনুকে। এঁরা অনুরোধ করেছেন। যে অনুরোধ অবহেলা করবার শক্তি হয় নি অতনুর। এঁরা অতনুকে ভালবাসেন, বিশ্বাস করেন। অতনুকে এঁদের ঘরের ছেলের মত মনে করেন।

    ঘরের ছেলের মত মনে করেন বলেই তো ঘরের মেয়েকে তার হাতে তুলে দেবার কথা ভাবেন নি কেউ।

    অতনুও কি শুধু সেই ঘরের ছেলের ভূমিকা অভিনয় করবার লোভে বিনা প্রতিবাদে নির্লিপ্ত হয়ে দেখল বসে বসে তার সম্পত্তি নীলেম হয়ে যাচ্ছে? কিন্তু তাই কি? অতনু তখন কোন ভরসায় দাবী করবে? কী তখন আছে অতনুর? মা বাপ মরা ছেলে, দাদা বৌদির সংসারে থেকে লেখাপড়াটা করেছে মাত্র। ডাক্তারী পাশ করেছে? করেছে তো কী মাথা কিনেছে? অমন কত পাশকরা ডাক্তার গড়াগড়ি যাচ্ছে।

    অমিতা এঁদের দামী মেয়ে না? রূপে গুণে আলো করা মেয়ে!

    দামী আর সেরা বর খুঁজছেন না এঁরা মেয়ের জন্যে? অতনুর পাগলামী শুনলে হেসে উঠতেন না এঁরা?

    এই জগন্ময়, যিনি এই একটু আগে কাতর হয়ে অতনুর হাত ধরে বলেছিলেন, তুমি থাকলে একটু ভরসা পাই বাবা! আর এখন সেই ভরসার জোরে পরম নিশ্চিন্ত চিত্তে গাঢ় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আছেন অতনুর থেকে গজখানেক তফাতে। কি বলতেন তিনি সেদিন?

    যদি পাড়ার ছেলে অতনু তার দামী মেয়েটিকে চেয়ে বসত।

    অতনু যদি আস্তে আস্তে উঠে চলে যায় এখান থেকে? এ ঘর থেকে? এ বাড়ি থেকে, এ দেশ থেকে? আজকের এই সৃষ্টিছাড়া জটিল পরিস্থিতিটা কি তাহলে সহজ হয়ে যাবে?

    ঘুমের ওষুধ খাওয়া গাঢ় ঘুম থেকে উঠে আবার সহজ আর শান্ত হয়ে যাবে ওই ক্ষেপে যাওয়া মেয়েটা?

    কিন্তু অতনুকে কি বলবে সবাই?

    না, যা হোক একটা কিছু করে ফেলবার সামর্থ্য অতনুর নেই। কোনদিনই ছিল না। অতনু স্বাভাবিক। অমিতাও তো স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ এ কী হল?

    অমিতা যদি পাগল হল তো এতদিন পরে কেন হল? সেই অনেকদিন আগে হল না কেন? যেদিন বিজয় আর জগন্ময় অমিতার জন্যে পাত্র দেখে এসে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন?

    সেদিন কেন অমিতা আজকের মত পাগল হয়ে গিয়ে ভুল বকল না, কেন বলে ওঠেনি আমায় ছেড়ে দাও, আমার ছেড়ে দাও। আমি ওকে বিয়ে করব না! তোমরা আমায় মেরে ফেলছ, আমায় শেষ করে দিচ্ছ।

    না, সেদিন পাগল হয় নি অমিতা।

    হয়তো জীবনকে আর জীবনের নিয়মকে মেনে নিতে চেয়েছিল সে।

    কিন্তু আশ্চর্য! এতদিন পরে এই মুহূর্তে সেই মেনে নেওয়ার ইচ্ছেকে বিসর্জন দিল অমিতা?

    এই ঘণ্টাকয়েক আগেও দীপক বলেছে যা কিছু ছোড়দি! যা অসম্ভব খাটছে ছোড়দি! বিজয় তখন মিষ্টি মিষ্টি রবে হাঁক পেড়ে বলতে বলতে ছুটেছিলেন, আঃ এই চাবিটা বৌদির নিজের আঁচলে বাঁধবার যে কী দরকার ছিল! অমির কাছে থাকলে কোনও এদিক ওদিক হত না।

    শুনে শুনে একটু আশ্চর্য হচ্ছিল বইকি অতনু।

    কই আগে তো এমন ভারসই কর্মিষ্ঠি মেয়ে ছিল না অমিতা। বরং জয়াবতীর মুখে যখন তখন এই আক্ষেপই শোনা গেছে অমিটা কোনও কর্মের হল না। নমিতার আমার কত গোছ, কত ব্যবস্থা! না, তখন নমিতা মারা যায় নি।

    কিন্তু নমিতা কি মৃত্যুকালে তার সব কর্মক্ষমতা অমিতাকে দান করে দিয়েছিল? তাই অকর্মা অমিতা এমন কাজের মেয়ে উঠল যে, সারা সংসার নাকি অমিতাই মাথায় করে রাখে।

    মাথার যন্ত্রণাটা প্রবল হয়ে উঠেছে। ওষুধের ব্যাগটা কেন অতনু দীপকের ঘরে রেখে দিল? যদি নিজের কাছে রাখত, খেয়ে নিত একটু ঘুমের ওষুধ।

    বোকামী করেছে। সারা জীবনই বোকামী করে এল অতনু।

    মুখের উপর পাখা ঘুরছে। তবু শুয়ে পড়ে থাকা শক্ত হচ্ছে।

    জগন্ময়ের নাকের গর্জন যেন একটা অশ্লীলতার মত চেতনায় এসে এসে বিঁধছে! তার চেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে ওই খোলা বারান্দাটায় গিয়ে একটু দাঁড়ানো ভাল। পায়চারি করবার জায়গা নেই, বারান্দার দুটো কোণই বোকই। ঘরে জায়গা বার করবার জন্যে এটা ওটা আজেবাজে বার করে জড় করে রাখা হয়েছে এখানে।

    তবু ভাল, ওই তেঠেঙে বেতের চেয়ারটার ওপরই একটু বসা চলে। ধরানো চলে একটা সিগারেট।

    কে ভেবেছিল অতনুর কোনও একটা রাত এ বাড়িতে কাটবে?

    বাড়ির ছেলের মত হলেও রাত কাটাবার প্রশ্ন উঠবে কি ভাবে? ওর বাড়ি যে কাছেই। নমিতার বিয়ের রাত্রে, বিজয়ের বৌভাতের রাত্রে, মনে আছে অতনুর অনেক রাত পর্যন্ত এ বাড়িতে হইহুল্লোড় করে পান খেয়ে সিল্কের পাঞ্জাবিতে পানের রস ফেলে ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে ও বাড়ি গিয়ে শুয়ে পড়েছিল।

    একথা কেউ ভাবে নি, আহা এখানেই থাকুক না!

    আজ জগন্ময় বললেন।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ক্রমশই দূরত্ব এসেছিল। অতনুর বৌদিই তার কিছুটা কারণ। তিনিই প্রথম প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন অলক্ষিত জগতে কোথাও একটি হৃদয়ঘটিত ব্যাপার রয়েছে।

    সেই অনুক্ত অনুচ্চারিত বস্তুকে যখন তখন তিনি বক্রোক্তির সুতীক্ষ্ম কৌশলে উচ্চারণ করে বসতেন। আর প্রশ্ন করতেন, অতবড় মেয়ে ওদের ঘরে, এই সব পাড়ার ছেলেদের দিব্য অবারিত দ্বার করে রেখেছে?

    অথবা আরও সুকোমল প্রশ্নে বলতেন, কিসের আশায় নিত্য ধরণা দাও ভাই ওরা কি তোমার মত সস্তা ছেলের হাতে মেয়ে দেবে?

    হোপসেল! অসহ্য! এমনি ছোটখাটো মন্তব্যে বৌদির স্থূল রসিকতাগুলোকে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করত অতনু, কিন্তু কুণ্ঠাকে উড়িয়ে দিতে পারত না। ধীরে ধীরে আপনিই নিয়ন্ত্রিত হয় গিয়েছিল গতিবিধি।

    ছেলেবেলার সেই দুদ্দাড়িয়ে সিঁড়ি উঠে তিনতলার ছাতে গিয়ে প্রবল দৌরাত্মটা অবশ্য সেরে গিয়েছিল নমিতার বিয়ের পর। কারণ সে খেলার প্রধান অংশীদার ছিল নমিতা। বয়সের হিসেবে নমিতাই তো বরং অতনুর সমান সমান। বড় জোর যদি এক আধ বছরের বড় হয় নমিতা। তখন নমিতা আর অতনু ওদের হাঁটুর বয়সী অমিতাকে কী কৃপাদৃষ্টিতেই না দেখত! খেলায় যদি নিত তো সে নেহাই ক্ষ্যামাঘেন্না করে।

    তারপর কেমন করে কোথা দিয়ে যে সেই ভাবনাহীন বাল্য-কৈশোরের উজ্জ্বল শাদা দিনগুলো হু হু করে পার হয়ে গেল, কোথা থেকে এল রঙিন ভাবনা, আর ভাবনায় রাঙা দিন! কোথা থেকে কেমন করে সেই হাঁটুর বয়সী মেয়েটা ফ্রক ছেড়ে শাড়ি ধরে এক অপরূপ আকর্ষণের মহিমা নিয়ে চোখের সামনে ঝলসে উঠল।

    কিন্তু সেই ঝলসানিতে কি দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল অতনুর? শোভন অশোভনতার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল? না, ঠিক তার উল্টো। বরং শোভনতা বোধের মাত্রাটাকে অতনু যেন বাড়িয়েই তুলেছিল।

    নইলে কেউ তো ওকে কোনদিন মুখে ফুটে বলে নি, তুমি আর এ বাড়িতে ঘন ঘন এসো না অতনু, আমাদের ঘরে বড় মেয়ে। অথবা এ-ও বলে নি, অতনু তুমি বড় হয়েছ, বেড়াতে এলে নীচে বসবার ঘরে বসাই তো উচিত। দোতলায় ওঠার দরকার কি?

    না না, তেমন দোষারোপ করা যায় না এঁদের উপর। অতনু নিজে থেকেই যখন তখন আসা কমিয়ে দিয়েছে। ইচ্ছেমত দোতলায় ওঠা বন্ধ করে দিয়েছে। যখন এসেছে, হয়তো নীচে বসবার ঘরে বসে জগন্ময় হিরন্ময় বিজয়ের সঙ্গে কথা বলে চলে গিয়েছে। হয়তো বা ভিতরে এসে রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছে, কী কাকীমা, কি করছেন?

    অবিশ্যি কাকীমারাও কোনদিন হৃদয় বাড়িয়ে দিয়ে বলেন নি, তুমি আর তেমন যখন তখন আস না কেন অতনু? আসবে, দোতলায় উঠে যাবে, বসবে, গল্প করবে। পরের মত বাইরে থেকে চলে যাও কেন?

    আসল কথা, তেমন কথা বলবার খেয়ালই হয় নি কারুর। ছেলেটা ছোট ছিল, পড়শীর বাড়ি এসে হুড়োহুড়ি করত। এখন বড় হয়েছে, সভ্য শান্ত হয়েছে, বাইরে বেটাছেলেদের সঙ্গে কথা বলে চলে যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এতে হায় হায় বোধ আসবে এমন আদিখ্যেতাওয়ালা মন তাদের কারুরই নয়।

    আর মহাশ্বেতা যখন মাঝে মাঝে মামার বাড়ি আসত, তখন তো অতনু এ বাড়ির ছায়াও মাড়াতো না। ভারি ভয় লাগত ওর মহাশ্বেতাকে। অথচ কোনওদিনই কিছু বলে নি তাকে মহাশ্বেতা। শুধু সেই একটি দিন!

    তা সেই বা এমন কি!

    অতনু এ বাড়িতে এসেছিল, আর সামনেই অমিতাকে দেখে ব্যস্ত হয়ে প্রশ্ন করেছিল, কাকাবাবু কোথায় অমিতা?

    যেন কাকাবাবুর কথা ভেবেই সারারাত ঘুম আসে নি অতনুর। আর কাকাবাবুর জন্যেই উদ্বেল হয়ে ছুটে এসেছে।

    দুষ্ট অমিতা হেসে উঠে সেই প্রশ্নই করেছিল। বলেছিল, সক্কালবেলাই বাবাকে খুঁজছ যে, কী দরকার? রাতে স্বপ্ন দেখেছ বুঝি?

    স্বপ্ন! হ্যাঁ, স্বপ্ন তো দেখেইছি। অতনুও হেসে বলেছিল, ঘুম হয় না অথচ স্বপ্ন দেখি, এ কী অদ্ভুত রহস্য বল তো?

    ঘুম আবার হয় না! অপূর্ব ঝঙ্কারে হেসে উঠে বলেছিল অমিতা, রাত্তির নটা থেকে সকাল

    ছটা পর্যন্ত তো স্রেফ নাসিকাধ্বনি।

    বটে! গিয়ে দেখে আসো বুঝি?

    যেতে হবে কেন? এ বাড়ি থেকে শব্দ কানে আসে যে!

    অতনু এদিক ওদিক তাকিয়ে টুক্ করে বলেছিল, এমন তো হতে পারে, সেটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।

    উত্তরটা আর শোনা হয় নি। হঠাৎ দেখা দিয়েছিল মহাশ্বেতা, সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে ঝুঁকে নীচের উঠোনটা দেখছে।

    মৃদুস্বরে বলেছিল অতনু, পালাও। আশেপাশে প্রহরীর চক্ষু। আর গলা তুলে বলেছিল আচ্ছা আমি তাহলে ও বেলা আর একবার আসব। দরকার আছে কাকাবাবুর সঙ্গে।

    উৎসববাড়ির গোলমালের সুযোগ না থাক, একান্তে দেখা হলে এ রকম বা এ ধরনের বাক্য বিনিময় তাদের হত। কিন্তু তার বেশি আর কিছু নয়। আর বেশি উদ্ঘাটিত করে নি কেউ নিজেকে। কি করেই বা করবে? আশৈশবের পরিচয়ই যে সেই নতুন উদঘাটনের বাধা।

    স্থান কাল পাত্র গভীর সুরে গভীর কথা শোনাবার মত ছিল না।

    কিন্তু মহাশ্বেতার সন্ধানী দৃষ্টি সেই হাল্কা সুরে বলা হালকা কথা কটির মধ্য থেকেই আবিষ্কার করে বসেছিল এক গভীর তথ্য। তাই বলে ফেলা কথা রাখতে অতনু যখন ও বেলা এসে আবার জগন্ময়ের খোঁজ করেছিল, তখন পড়ে গিয়েছিল মহাশ্বেতার কবলে।

    মহাশ্বেতা কিন্তু বিশেষ কিছুই বলে নি। শুধু নেহাৎ নিরীহ সুরে বলেছিল, তুমিই অতনু? আগে তো তোমার নমিতার সঙ্গে খুব ভাব ছিল, তাই না? এখন বুঝি অমির সঙ্গে ভাব?

    অতি তুচ্ছ একটি প্রশ্ন।

    তবু সেই থেকে মহাশ্বেতা মামার বাড়ি এসেছে এ খবর টের পেলে এ-মুখো হত না অতনু। আর ক্রমশ তখন অমিতার কলেজ যাওয়া আসার পথে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়াটাই প্রধান হয়ে উঠেছে।

    তারপর নমিতা মারা গেল। বাড়িতে শোকের ছায়া পড়ল।

    একটু গম্ভীর হয়ে গেল অমিতা, একটু ম্লান হয়ে গেল অতনু। আর সেই সময় চলতে লাগল অমিতা-পারের তোড়জোড়।

    ছেলেবেলা থেকে কত ঘটনা কত ছবি! সব ঘটনাগুলো যেন সাম্প্রতিককার মত কাছাকাছি এসে ভিড় করছে! সব ছবিগুলো যেন গতির চাঞ্চল্য পেয়ে চোখের সামনে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে!

    দোতলায় ওঠা বন্ধ করে ফেলেছিল, তবু একদিন সন্ধ্যায় এই বারান্দায় দেখা হয়েছিল অমিতার সঙ্গে। সেদিনও এ বাড়িতে কী যেন উৎসব ছিল। বোধহয় বিজয়ের প্রথম সন্তানের অন্নপ্রাশন। নেমন্তন্ন খেতে ছাতে উঠে, সোজা সিঁড়ি দিয়ে নেমে না গিয়ে, যেন ছিটকেই এদিকে চলে এসেছিল অতনু। এখানে দাঁড়িয়ে ছিল অমিতা। অতনু বলেছিল, কোনও কাজই তো করতে দেখছি না। পানটা পরিবেশন করলেও গেরস্থর কিছু করা হত।

    গেরস্থর কাজ করবার অনেক লোক আছে। বলেছিল অমিতা।

    তাই শুধু শুধু দাঁড়িয়ে আছ?

    না, শুধু শুধু তো দাঁড়িয়ে নেই!

    কি করছিলে তাহলে?

    অমিতা চোখ তুলে বলেছিল, অপেক্ষা!

    অপেক্ষা? কিসের? ভারি যেন আশ্চর্য হয়েছিল অতনু।

    আর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভাব বদলে গিয়েছিল অমিতার। গভীর থেকে তরলে, বিষণ্ণতা থেকে উচ্ছলতায়।

    কিসের? তাও বুঝিয়ে দিতে হবে? আশ্চর্য! অপেক্ষা করছিলাম খাবার ডাকের। বাড়ির লোকদেরও যে খিদে পায় এটা কারও মনে পড়ে কিনা তাই দেখছিলাম নিঃশব্দে।

    লুচির খিদে!

    প্রায় ধিক্কার দিয়ে বলে উঠেছিল অতনু। আর অমিতা হেসে উঠে বলেছিল, তা ওর থেকে সূক্ষ্ম ক্ষুধা বোধ হলেই বা লাভ কি? বোঝে কে?

    তারপর আরও কি কি কথা হয়েছিল মনে নেই অতনুর। বোধকরি ছোটকাকার ছেলেকে তার মামার বাড়ি থেকে কী অদ্ভুত সুন্দর একটা গিনির মালা দিয়েছিল তারই ব্যাখ্যা করেছিল অমিতা। তারপর আরও কত কি!

    তবু সেদিন অনেকক্ষণ এখানে দাঁড়িয়েছিল অতনু এটা মনে আছে, কিন্তু এ বাড়িতে কোনদিন রাত কাটায় নি অতনু। আজও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। আজ রাত কাটাবে।

    ইচ্ছে করলেই বসা যায়। কত কিই তো রয়েছে বসবার মত। তবু দাঁড়িয়েই আছে।

    দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে পায়চারি করতে সুরু করা যায় কিনা। আর যদি তা যায়, তাহলে দালানের ও প্রান্তের ওই ঘরটার খোলা জানলাটার সামনে দিয়ে একবার ঘুরে আসা যায় কি না। যে জানলাটা দিয়ে শুধু ও ঘরের ঘূর্ণমান পাখার ব্লেডটার একাংশ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

    হঠাৎ অদ্ভুত একটা কথা মনে এল অতনুর। মনে হল, এ বাড়িতে একদিন রাত কাটাতে পারত সে, যদি সে এমনি কোনও উৎসবের কেন্দ্র হয়ে আসত, ফুলের মালা আর টোপর পরে।

    ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়াজাল – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article দোলনা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }