Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নবনী – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤷

    ০১. আজ আমার বিয়ে

    দুপুরে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মা এসে গায়ে হাত দিয়ে ঘুম ভাঙালেন। ব্যাকুল গলায় ডাকলেন, নবনী! নবনী!! আমি চোখ মেলতেই তিনি আমার মুখের কাছে মুখ এনে কাতর গলায় বললেন, ওঠ মা। ওঠ!

    আমি হকচকিয়ে উঠে বসলাম। মা এভাবে আমাকে ডাকছেন কেন? কিছু কি হয়েছে? বাবা ভাল আছে তো? খাট থেকে নামতে গেছি, মা হাত ধরে আমাকে নামালেন। যেন আমি বাচ্চা একটা মেয়ে। একা একা খাট থেকে নামতে পারি না। আমি বললাম, কি হয়েছে মা?

    মা জবাব দিলেন না, অস্পষ্টভাবে হাসলেন। বারান্দায় এসে দেখি, বাবা ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে আছেন। তাঁর গায়ে ইন্ত্রি করা পাঞ্জাবি। চুল আঁচড়ানো। আজ দুপুরেও গাল ভর্তি খোচা খোচা কাঁচা-পাকা দাড়ি ছিল। এখন নেই, গাল মসৃণ, শান্ত পরিচ্ছন্ন একজন মানুষ! খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মাস দুই হল তিনি শয্যাশায়ী। ডান পা অবশ হয়ে আছে। দেয়াল ধরে হাঁটাহাঁটি করেন। তবে বেশির ভাগ সময় খবরের কাগজ হাতে নিয়ে শুয়ে থাকেন নিজের ঘরে। কাগজ পড়ার ফাঁকে ফাঁকে কঠিন এবং তিক্ত গলায় এ বাড়ির সবার সঙ্গে ঝগড়া করেন। যেন তাঁর এই অসুখের জন্যে আমরাই দায়ী। আজ কি হাসি-খুশি লাগছে বাবাকে। আমার দিকে চোখ পড়তেই তিনি বললেন, দুপুরে ঘুম তো খুব খারাপ অভ্যাস রে মা। ব্যাড হেভিট। হাত-মুখ ধুয়ে আয় আমার কাছে।

    আমি হাত-মুখ ধুতে রওনা হলাম। বুঝতে পারছি কিছু একটা হয়েছে। বড় ধরনের কিছু। পুরো বাড়িটা বদলে গেছে। নিশ্চয়ই আনন্দময় কোন ঘটনা ঘটে গেছে। বাবার সুখী সুখী গলা আবার শুনলাম, ওগো, আমাকে আর নবনীকে চা দাও। বাপ-বেটিতে একসঙ্গে চা খাই। এত সুন্দর করে বাবা অনেক দিন কথা বলেন নি।

    বাবা আজ আমার সঙ্গে চা খেতে চাচ্ছে কেন? আমার শরীর ঝিম ঝিম করছে।

    আমি চাপা উত্তেজনা নিয়ে বাথরুমে ঢুকলাম।

    আমাদের বাথরুম সব সময় অন্ধকার। দুপুরবেলায়ও বাতি না জ্বালালে আয়নায় মুখ দেখা যায় না। আশ্চর্য! আমি সুইচটা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার বুক ধ্বক ধ্বক করছে। তীব্ৰ এক অজানা ভয়ে মন অভিভূত হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে সামলাবার জন্যে আমি দরজায় হাত রাখলাম, আর তখন ইরা বাথরুমে ঢুকে বাতি জ্বালাল। ইরার হাতে সাবান, তোয়ালে। সাবানটা নতুন, এখনো মোড়ক খোলা হয় নি।

    আমি বললাম, কি হয়েছে। ইরা?

    ইরা হাসতে হাসতে বলল, তোমার এত বুদ্ধি, তুমি এখনো বুঝতে পারছি না?

    না। বুঝতে পারছি না।

    অনুমান করতে পারছি?

    ইরা ঝলমলে গলায় বলল, আজ তোমার বিয়ে। রাত দশটার ট্রেনে বর আসবে। রাতেই বিয়ে হবে। কোন উৎসব-টুৎসব কিছু হবে না। তোমাকে নিয়ে তারা ঢাকা চলে যাবে সকালের ট্রেনে।

    আমি একদৃষ্টিতে ইরাকে দেখছি। সে আজ তার সেই প্রিয় শাড়িটা পরেছে। সাদা রঙের শিফন শাড়ি। মা তাকে কখনো এই শাড়ি পরতে দেন না। এই শাড়িতে তাকে না-কি বিধবার মত লাগে। কিন্তু আমি আর ইরা শুধু জানি এই শাড়িতে তাকে কত সুন্দর লাগে। ও বোধহয় ক্রমাগতাই কাঁদছে। ওর মুখ শুকনো। চোখ ভেজা। সে হাসতে হাসতে কথা বলার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না।

    ইরা বলল, সবাই খুব খুশি। সবচে খুশি বাবা। আপা, তুমি মুখটা নিচু কর, আমি সাবান দিয়ে তোমার মুখ ধুইয়ে দেই।

    তোর মুখ ধুইয়ে দিতে হবে না। তুই যা।

    ইরা বলল, আপা শোন— বাবা যে সবচে খুশি তা না। সবচে খুশি হয়েছি আমি। খবরটা শোনার পর থেকে আমি আনন্দে শুধু কাঁদছি।

    তুই এখন যা। আমি হাত-মুখ ধুয়ে আসছি।

    ইরা পুরোপুরি চলে গেল না। বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। আমি তোকালাম আয়নার দিকে। আয়নায় কি সুন্দর দেখাচ্ছে আমাকে! শান্ত সরল চেহারার একটা মেয়ের মুখ। আয়নার মুখ কখনো হাত দিয়ে ছোয়া যায় না। আমার প্রায়ই আয়নার মুখটাকে ছুঁতে ইচ্ছা করে। আজও করছে। আমি হাত দিয়ে সেই মুখ ছুঁতে গিয়ে আয়নায় সাবানের ফেনা লাগিয়ে ফেললাম।

     

    আজ আমার বিয়ে।

    আমার কেমন লাগছে?

    এখনো বুঝতে পারছি না। আমার সমস্ত বোধ অসাড় হয়ে আছে। তবে এক ধরনের শান্তি বোধ করেছি। আমার একটা সমস্যা ছিল, ভয়াবহ ধরনের সমস্যা আজ হয়তো তা মিটে যাবে–এই শান্তি। বাথরুম থেকে বের হয়ে আমি সবার খুশি মুখ দেখব। এ-ও তো কম না।

    আমার বিয়ে নিয়ে সবাই খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। সবাই ধরেই নিয়েছিল, আমার কোনদিন বিয়ে হবে না। এমন কোন দোয়া নেই। যা মা আমার জন্যে পড়েন নি। আজমীর শরীফ থেকে আনা লাল সুতা এখনো আমার গলায় ঝুলছে। বিয়ে হয়ে যাবার পর এই সুতা খুলে ফেলতে হয়। যদি সত্যি সত্যি বিয়ে হয় তাহলে নিশ্চয় বাসর ঘরে ঢোকার আগে ইরা এসে কাঁচি দিয়ে সুতা কাটবে। সুতা কাটতে গিয়ে হয়ত সে কিছুক্ষণ কাঁদবে। ইরা খুব কাঁদতে পারে।

    সত্যি কি আজ বিয়ে হবে? কেন জানি এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। স্বপ্ন দেখছি না তো? গল্পের বই পড়তে পড়তে দুপুরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হয়ত ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখছি। বিয়ের স্বপ্ন আমি প্রায়ই দেখি। স্বপ্নের মধ্যেই একটা ঝামেলা হয়ে বিয়ে ভেঙে যায়। আমি দেখি একটা সুন্দর ছেলে আমার পাশে বসা। এক সময় সে উঠে চলে যায়। আমি চোখ ভর্তি জল নিয়ে জেগে উঠে খুব লজ্জিত হই। বাস্তব কখনো স্বপ্নের মত নয়। বাস্তব অন্যরকম। বাস্তবে অনেক কথাবাতাঁর পর বিয়ে ঠিক হয়। আলাপ আলোচনা একটা পৰ্যায় পর্যন্ত যায়, তারপর তারা সুন্দর একটি চিঠি রেজিস্ট্রি করে পাঠায়–

    গভীর দুঃখ ও বেদনার সাহিত্য আপনাকে জানাইতেছি যে, আমার মধ্যম পুত্ৰ হঠাৎ বলিতেছে সে এক্ষণ বিবাহ করবে না। আমি এবং তাহার মাতা তাহাকে বুঝানোর প্রাণপণ চেষ্টা করিয়া বিফল মনোরথ হইয়াছি। তাহার সহিত আমাদের কিঞ্চিৎ মনোমালিন্যও হইয়াছে। যাহা হউক, আপাতত বিবাহ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা ভিন্ন কোন পথ দেখিতেছি না। পুত্র রাজি হইলে ইনশাআল্লাহ আবার ব্যবস্থা হইবে। তবে আপনারা অপেক্ষা করিয়া থাকিবেন। না। যদি কোন ভাল পাত্রের সন্ধান পান–কন্যার বিবাহ দিবেন। আমাদের দোয়া থাকিবে ইহা জানিবেন। শ্রেণীমত সকলকে সালাম ও দোয়া দিবেন।

    এইসব চিঠি সব সময় সাধু ভাষায় লেখা হয়। হাতের লেখা হয় প্যাঁচানো। চিঠির উপর আরবিতে লেখা থাকে। ইয়া রব। প্রতিটি চিঠির ভাষা ও বক্তব্য এক ধরনের হয়। কেউ সাহস করে কথাটা লেখে না। কেউ লেখে না-আপনার মেয়ে খুব সুন্দর। আমাদের পছন্দ হয়েছে কিন্তু তার সম্পর্কে যে এত ভয়াবহ একটি গুজব আছে তা জানতাম না। জানার পর বিয়ে নিয়ে এগুতে আমাদের সাহস হচ্ছে না। আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।

    ইরা বাথরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল, আপা, এত দেরি করছ, কেন? হাতমুখ ধুতে এতক্ষণ লাগে?

    আমি জবাব দিলাম না। আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে দেখছি। আয়নার মানুষটার ভেতর মনে হয় প্রাণপ্ৰতিষ্ঠা হয়েছে। সে আমাকে অনেক কথা বলতে চাচ্ছে। এমন সব কথা যা আমি এই মুহূর্তে শুনতে চাই না।

    আপা, তোমার চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।

    আমি বের হয়ে এলাম। বাবা বললেন, নবু মাকে বসার কিছু দাও না। ইরা ঘরের ভেতর থেকে মোড়া এনে দিল। বাবার সামনের ছোট্ট সাইড টেবিল দুকাপ চা। একটা প্লেটে কয়েকটা পাপড় ভাজা। বাবা নিজেই একটা কাপ আমার হাতে তুলে দিলেন। আমার লজ্জা-লজা লাগছে।

    বাবা চায়ে চুমুক দিয়ে খুশি-খুশি গলায় বললেন, চা ভাল হয়েছে। ভেরী গুড। কি রে নবু, চা ভাল হয় নি?

    আমি হাসলাম। রান্নাঘর থেকে মা গলা বের করে বললেন, তোমরা ধীরে সুস্থে চা খাও— কুমড়া ফুলের বড়া ভাজছি।

    কুমড়া ফুলের বড়া আমার জন্যে ভাজা হচ্ছে। আমাদের বাড়ির পেছনে কয়েকটা কুমড়ো গাছ ফুলে ফুলে ভর্তি হয়ে গেছে। আমি কবে যেন কথায় কথায় বলেছিলাম— কুমড়ো ফুলের বড়া করতো মা। মা বিরক্ত গলায় বলেছিলেন, সব ফুল খেয়ে ফেললে কুমড়ো আকাশ থেকে পড়বে?

    ইরা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মা ইরার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বললেন, ইরা, তুই এখানে ঘুরঘুর করছিস কেন? তোকে কি করতে বলেছি?

    অর্থাৎ মা ইরাকে সরিয়ে দিলেন। বাবাকে সুযোগ করে দিলেন–যেন তিনি আমার সঙ্গে একা কথা বলতে পারেন। বুঝতে পারছি বাবা ছোটখাট একটা বক্তৃতা দেবেন। এরকম বক্তৃতা তিনি আগেও কয়েকবার দিয়েছেন। এসব ঘরোয়া বক্তৃতার শুরুটা খুব নাটকীয় হয়। বাবা এমন কিছু কথা দিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন যার সঙ্গে মূল বক্তব্যের কোন সম্পর্ক নেই। আজও সেই ব্যাপার হবে।

    নবনী!

    জ্বি বাবা।

    সক্রেটিসের একটা কথা আছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। সক্রেটিস বলেছেন, মানুষের একটাই সৎ গুণ, সেটা তার জ্ঞান। আর মানুষের দোষও একটা। দোষ হল অজ্ঞানতা— Ignorance, পশুদের কোন গুণ নেই, কারণ তাদের জ্ঞান নেই। বুঝতে পারছিস?

    পারছি।

    সক্রেটিসের এই বাণী মনে থাকলে জীবনটা সহজ হয়। জটিলতা কমে যায়। ঠিক না মা?

    হ্যাঁ।

    আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না। বাবা কি করে সক্রেটিস থেকে আমার বিয়ের ব্যাপারে আসবেন। তিনি নিশ্চয়ই চিন্তা-ভাবনা করে রেখেছেন। আমি বেশ আগ্রহ নিয়েই বাবার কথা শোনার জন্যে অপেক্ষা করছি। বাবা খুব গম্ভীর গলায় কলেজে লেকচার দেবার ভঙ্গিতে বললেন

    বিয়ে নামক যে সামাজিক বিধি প্রচলিত আছে, তার মূল উদ্দেশ্য হল পূর্ণতা। একজন পুরুষ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না একজন সঙ্গিনী তার পাশে আসে। এই জ্ঞান পশুদের নেই। মানুষের আছে। বুঝতে পারছিস?

    পারছি।

    বিবাহ পশুদের প্রয়োজন নেই, মানুষের প্রয়োজন, কারণ সক্রেটিসের ভাষায় মানুষ সৎগুণসম্পন্ন প্রাণী। অর্থাৎ জ্ঞানী প্রাণী। পরিষ্কার হয়েছে?

    জি।

    তোর বড় মামা খবর পাঠিয়েছেন। হাতে-হাতে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিটা পড়লেই তোর কাছে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। মিনু, চিঠিটা দিয়ে যাও।

    মা সঙ্গে সঙ্গে চলে এলেন। মা রান্নাঘরে চিঠি আঁচলে নিয়েই বসেছিলেন। বলে মনে হয়। তাঁর এক হাতে চিঠি। অন্য হাতে প্লেট ভর্তি কুমড়ো ফুলের বড়া। এই খাদ্যদ্রব্যটি আমার একার নয়। বাবারও প্রিয়। কোন বিশেষ আনন্দের ব্যাপার হলে ফুলের বড়া তৈরি হয়। তখন শিশুদের মতাই বাবা চোখ চকচক করতে থাকে।

    বাবা গভীর আগ্রহে বড়া খাচ্ছেন। আমি চিঠি পড়ছি। মামার হাতের লেখা ডাক্তারদের লেখার মত— অপাঠ্য। এই চিঠি যেহেতু তিনি অনেক বেশি যত্ন নিয়ে লিখেছেন সেহেতু কিছুই পড়া যাচ্ছে না— আমি চিঠিতে চোখ বুলাচ্ছি। মা আমার পাশে বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। অনেকদিন পর মার পরনে ইস্ত্রি করা সুন্দর শাড়ি। হাতে আজ দুগাছা সোনার চুড়িও পড়েছেন। চুড়িতে সোনা সব ক্ষয়ে গেছে। তামা বের হয়ে আছে। তবু চুড়ি পরা হাতে মাকে সুন্দর লাগছে। মার হাত ভর্তি চুড়ি থাকলে বেশ হত। যেখানে যেতেন রিনারিন করে হাতের চুড়ি বাজতো।

    দোয়াপর সমাচার,
    তোমাদের একটি আনন্দ সংবাদ দিতেছি
    । পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায়— ঢাকার পাটির সংবাদ পাওয়া গিয়াছে/ তাহদের নিকট হইতে খবর পাইয়া আমি ঢাকায় চলিয়া যাই এবং কথাবার্তা বলি। তাহদের সহিত অনেক বিষয় নিয়া বিস্তারিত আলাপ হইয়াছে। আলোচনার ফলাফল নিম্নরূপ।
    তাহারা নবনী মাকৈ পছন্দ করিয়াছে
    । ছেলে তাহার কিছু আত্নীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবসহ আগামী পরশু। ১২ই আগস্ট রাতের ট্রেনে নেত্রকোনা পৌঁছবে। আল্লাহ চাহেত ঐ রাতেই শুভবিবাহ সুসম্পন্ন হইবে। পরদিন প্রাতে তাহারা নববধু নিয়া ঢাকা যাত্ৰা করিবে।
    আমি এই সংবাদ তোমাদের শেষ সময়ে দিতেছি
    , কারণ আমি চাহি না তোমরা এই সংবাদ নিয়া হৈ-চৈ শুরু কর।
    পাড়া প্রতিবেশী
    , নিকটজন, পরজন কেহই যেন কিছুই না জানে। শুভকর্ম আগে সমাধা হোক, তখন সবাই জানিবে। দশজনের মত লোকের খাবার আয়োজন করিয়া রাখিবে। মোজাম্মেল সাহেবকে বলিয়া তাঁহার জীপ গাড়িটি ইষ্টিশনে রাখিবার ব্যবস্থা করিবে। বিবাহ-সংক্রান্ত কোন আলাপ তাহার সঙ্গে করিবার প্রয়োজন নাই। অসীম গোপনীয়তা কাম্য।
    বিবাহ পাড়াইবার কাজী আমি সঙ্গে নিয়া আসিব
    । বিবাহ রেজিষ্টি হইবে ময়মনসিংহ শহরে।
    খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনের মধ্যে পোলাও
    , কোরমা, ঝাল গোশত, মুরগির রোস্ট রাখিবে। চিকন চালের সাদা ভাত যেন থাকে। মুরাব্বী কেহ থাকিলে সাদা ভাতাই পছন্দ করবেন। আমি বড় মাছ নিয়া আসার চেষ্টা করিব। মেছুনীকে বড় মাছের কথা বলিয়া রাখিয়াছি। ভাত এবং পোলাও বরযাত্রী অ্যাসার পর রাঁধিবে। দৈ-মিষ্টি অ্যামি সঙ্গে করিয়া নিয়া আসিব।
    মুখ দেখিবার পর জামাইকে সেলামী হিসেবে এক হাজার টাকা দিলেই চলিবে
    । আমি একটি স্বর্ণের আঙটি প্রস্তুত করাইয়া রাখিয়াছি। স্যুটের কাপড় দিতে পারিলে ভাল হইত। আমি সন্ধানে আছি, ভাল কাপড় পাওয়া গেলে নিয়া আসিব।
    নবনীকে চোখে-চোখে রাখিবে
    । যদিও জানি ইহার কোন প্রয়োজন নাই। তাহাকে ভালভাবে বুঝাইবে। অতীত নিয়া সে যেন চিন্তা না করে। গাঁতস্য শোচনা নাস্তি। আমি নিজেও তোহর সঙ্গে কিছু কথা বলিব। গায়ে-হলুদের একটা ব্যাপার আছে–ইহা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নহে। গায়ে-হলুদ হিন্দুয়ানী ব্যাপার, তবুও যেহেতু ইহা মেয়েদের একটা শখের ব্যাপার সেহেতু নিজেরা নিজেরা গায়ে-হলুদের ব্যবস্থা নিবে। কাহাকেও কিছু জানাইবার কোনই প্রয়োজন নাই। আসল কথা গোপনীয়তা। কেহ কিছু জানিবার আগেই কার্য সমাধা করিতে হইবে। আল্লাহ সহায়–অসুবিধা হইবে না।
    নব-বিবাহিত দম্পতি যেহেতু তোমাদের বাড়িতেই রাত্রিযাপন করবে: সেহেতু তাহদের জন্যে একটা ঘর আলাদা রাখিবে
    । খাটে বিছাইবার জন্যে আমি একটা ভেলভেটের চাদর সঙ্গে নিয়া আসিতেছি। বরযাত্রীরা রাতে কোথায় থাকিবে তা নিয়াও দুঃশ্চিন্তাগ্ৰস্ত হইবে না। পাবলিক হেলথের ডাকবাংলোয় আমি তিনটে ঘরের ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছি। শুভ কার্যের পর পরই তাহদের সেখানে নিয়া যাইব। বাকি আল্লাহপাকের ইচ্ছা।
    অতঃপর তোমাদের সংবাদ কি? আমার স্ত্রীর শরীর ভাল যাইতেছে না। সে বলিতে গেলে শয্যাশায়ী। শরীর খারাপের জন্য মন-মিজাজেরও ঠিকঠিকানা নাই। চিৎকার ও হৈ-চৈ করিয়া সবার জীবন সে অতিষ্ঠা করিয়া তুলিয়াছে। তাহাকে সঙ্গে আনা ঠিক হইবে না। আমি একাই আসিব। যাহা হউক, শুভ কাজ যেন নির্বিয়ে সম্পন্ন হয়। সে জন্যে তোমরা আল্লাহপকের দরবারে ক্রমাগত প্ৰাৰ্থনা করিতে থাক। আর বিশেষ কি লিখিব। দোয়া গো।

    আমি চিঠি মার হাতে ফেরত দিলাম। মা আগ্রহ নিয়ে বললেন, সবটা পড়েছিস?

    আমি বললাম, হ্যাঁ।

    বাবা হৃষ্টচিত্তে বললেন, তোর বড় মামার কাজ সব গোছানো। কোন ফাঁক নেই। ভেরী প্রাকটিক্যাল ম্যান। ভেরী ডিপেনডেবল। উনার ব্যবস্থা দেখেছিস? আগে থেকে কিছু বলবে না। সব ঠিকঠাক করে তারপর বলবে। মিনু, আরেক কাপ চা দাও দেখি। আজকের বড়াগুলোও হয়েছে মারাত্মক। মাখনের মত মোলায়েম। মুখে দেবার আগেই গলে যাচ্ছে। নবনী, তোর জন্যে দুটা রেখে দিয়েছি, খা। তুই একটা নে, ইরাকে একটা দে।

    আমার বড়া খেতে ইচ্ছা করছে না। তবু বাবাকে খুশি করার জন্যে বড়া হাতে নিলাম। হাত বেয়ে তেল পড়ছে। বিশ্ৰী লাগছে। মা চলে গেছেন চা বানাতে। মা যেভাবে ছোটাছুটি করছেন, মনে হচ্ছে তাঁর বয়স অনেকখানি কমে গেছে। তাঁর তাকানোর ভঙ্গি, ছোটাছুটির ভঙ্গি সব কিছুতেই একটা খুকী-খুকী ভাব চলে এসেছে। বাবা ঝুঁকে এসে বললেন, নবনী, তোর মামা একটা গ্রেট ম্যান, কি বলিস?

    হ্যাঁ বাবা।

    বিয়ের মত এতবড় একটা ঝামেলা। কিন্তু আমরা কিছুই বুঝতেও পারছি না। সব অটোসিস্টেম হয়ে যাচ্ছে। এই মানুষটা না থাকলে যে কি হত— ভাবতেও পারি না! আই লাইক হিম। অসাধারণ একজন মানুষ।

    বড়মামা অসাধারণ একজন মানুষ এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বাবা তাকে পছন্দ করেন এটা ঠিক না। বাবা তাকে পছন্দ করেন না। মাও করেন না। আমরা কেউই বোধহয় করি না। শুধু আমরা না, তাঁর পরিবারের কেউই তাকে পছন্দ করে না। অথচ তার জীবনের একমাত্ৰ লক্ষ্য অন্যের উপকার করা। আদর্শ মানুষ বলতে যা বোঝায় তিনি তাই। মনে হয়, আদর্শ মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। আদর্শ মানুষ ডিসটিল্ড ওয়াটারের মত–স্বাদহীন। সমাজ পছন্দ করে অনাদর্শ মানুষকে। যারা ডিসটিল্ড ওয়াটার নয়–কোকা কোলা ও পেপসীর মত মিষ্টি কিন্তু ঝাঁঝালো।

    আমি উঠে আমার ঘরে চলে গেলাম। ইরা সেখানে কাপড় ইন্ত্রি করতে বসেছে। টেবিল ক্লথ, জানালার পর্দা ইন্ত্রি হচ্ছে। আমাদের একটা ইলেকট্রিক ইন্ত্রি আছে। বড় মামা দিয়েছেন। ইলেকট্রিসিটি বেশি খরচ হবার ভয়ে এই ইন্ত্রি আমরা কখনো ব্যবহার করি না। আজ ব্যবহার হচ্ছে।

    ইরা আমাকে দেখে ইন্ত্রির প্লাগ খুলে রাখল। ইরাকে কেন জানি খুব কাহিল। লাগছে। চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। ওর বোধহয় রাতে ঘুম-টুম হচ্ছে না। ইরা খুব চাপা ধরনের মেয়ে। ওর কি হয়েছে তা সে কাউকেই বলবে না। আমি বললাম, ইরা, তোর কুমড়া ফুলের বড়া পড়ে আছে। খেয়ে আয়।

    ইরা বের হয়ে গেল, সঙ্গে সঙ্গে ফিরে এসে হাসিমুখে বলল, বাবা খেয়ে ফেলেছেন। শরীর দুলিয়ে ইরা হাসছে—সুন্দর লাগছে দেখতে।

    আপা!

    কি?

    তোমার কেমন লাগছে বলো তো? এই যে হঠাৎ তোমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলা হল— বিয়ে…।

    কোন রকমই লাগছে না।

    সত্যি বলছো আপা?

    আমি হাসলাম। এই মুহূর্তে আমার কোন রকমই লাগছে না। আমি সত্যি কথাই বলছি। হয়ত এমনও হতে পারে যে, ব্যাপারটা আমার কাছে এখনো বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। যখন সত্যি সত্যি বরযাত্রীরা চলে আসবে তখন হয়ত অন্য রকম লাগা শুরু হবে। বরযাত্রী কি আসবে শেষ পর্যন্ত? একবার রাত আটটায় বরযাত্রী আসার কথা। আমি সেজেগুজে অপেক্ষা করছি। রাত বারটায় খবর এল–তারা আসবে না। মা খবরটা শোনার পর হঠাৎ মেঝেতে পরে গেলেন। নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত বের হতে লাগল। কি বিশ্ৰী অবস্থা।

    ইরা বলল, কার সঙ্গে বিয়ে বুঝতে পারছে আপা?

    না।

    ভদ্রলোক ছিলেন রোগামত। ফর্সা। চোখে লালচে রঙের ফ্রেমের চশমা। সারাক্ষণ রুমাল দিয়ে চশমার কাচ পরিষ্কার করছিলেন। বসেছিলেন বেতের চেয়ারে। উঠার সময় পেরেক লেগে তাঁর পাঞ্জাবি খানিকটা ছিড়ে গেল। তিনি তখন খুবই অবাক হয়ে ছেড়াটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    তুই এত কিছু দেখেছিস?

    যার সঙ্গেই তোমার বিয়ের কথা হয় তাকেই আমি খুব মন দিয়ে দেখি।

    কেন?

    ইরা মাথা দুলাতে দুলাতে বলল, যার সঙ্গে তোমার বিয়ে হবে তার একটা ছবি আমার মনে আঁকা আছে। সেই ছবির সঙ্গে আমি মিলিয়ে দেখি।

    ইরা খাটে পা বুলিয়ে বসছে। বাচ্চা মেয়েদের মত পা নাচাচ্ছে। সে মনে হয় আরো অনেক কিছু বলতে চায় কিন্তু আমার শুনতে ইচ্ছা করছে না।

    আপা!

    হুঁ।

    যাঁর সঙ্গে তোমার বিয়ে হবে তার চেহারা কেমন হওয়া উচিত তুমি জানতে চাও?

    না। জানতে না চাইলেও আমি বলি তুমি শোেন-তোমার নিজেরও নিশ্চয়ই একটা কল্পনা আছে। তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখ। আমার ধারণা, একশ ভাগ মিলে যাবে। তোমার বরকে হওয়া উচিত অবিকল শুভ্রের মত।

    শুভ্ৰ কে?

    শুভ্ৰ হচ্ছে উপন্যাসের একটা চরিত্র। সবাই তাকে বলে কানাবাবা। চোখে কম দেখে এই জন্যে কানাবাবা। দেখতে অবিকল রাজপুত্রের মত। অসম্ভব ভদ্র, হৃদয়বান ছেলে। পৃথিবীর সব কিছুই সে বিশ্বাস করে। খুব অসহায় ধরনের ছেলে।

    অসহায় কেন?

    তার পৃথিবীটা একদম অন্যরকম। তার পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের পৃথিবীর সঙ্গে মিল নেই। এই জন্যেই অসহায়। আপা, তোমার কল্পনা কি মিলছে?

    না।

    তোমার কল্পনাটা কি?

    আমি কিছু বললাম না। ইরাও আর কিছু বলল না। কোন কিছু নিয়ে চাপাচাপি করা ইরার স্বভাব না। সে পা দুলাচ্ছে। আমি খানিকটা অসহায় বোধ করছি। অন্যদিন বিকেলে ছাদে হাঁটাহাঁটি করতাম। আজ ছাদে যেতে ইচ্ছা! করছে না। ঘরে বসে থাকতেও ভাল লাগছে না।

    আমার বিছানার কাছে গল্পের বইটা পড়ে আছে। এই বইটা আর বোধহয় পড়া হবে না। বইটার নাম অদ্ভুত— তিথির নীল তোয়ালে। তবে বইটা অদ্ভুত না। সাদামাটা গল্প। বইয়ের নায়িকা তিথির সঙ্গে একসঙ্গে তিনটি ছেলের প্ৰেম। তিথি আবার খুব নোংরা নোংরা কথা বলতে ভালবাসে। পড়তে খারাপ লাগছিল না। এখানকার পাবলিক লাইব্রেরির বই। ফেরত পাঠাতে হবে।

    আপা!

    কি?

    এসো তোমার সুটকেস গুছিয়ে দেই। কি কি জিনিস নিয়ে তুমি ঢাকা যাবে বের করে দাও, আমি গুছিয়ে দেই।

    আমি কিছুই নেব না।

    এক কাপড়ে তো তুমি ঢাকায় উঠবে না। তোমাকে অনেক কিছুই নিতে হবে। তুমি জিনিসগুলো বের করে দাও, আমি গুছিয়ে দেই। এতে তোমার লাভ হবে। আপা।

    কি লাভ?

    তোমার সময় কাটবে। সময় কাটানো এখন তোমার খুব সমস্যা। আমি তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি।

    যে মেয়ের এখনো বিয়ে হয় নি। সে স্বামীর কাছে যাবার জন্যে সুটকেস গুচ্ছাচ্ছে–এই দৃশ্য ভাবতেও লজ্জা লাগে। আমি চুপ করে রইলাম। ইরা খাটের নিচ থেকে কালো রঙের বিশাল সুটকেস বের করে ঝাড়ামোছা করতে লাগল। বড় মামার স্বভাবের খানিকটা ইরার মধ্যে আছে। সেও খুব গোছানো। আমি কিছু বলি আর না বলি সে ঠিকই সুটকেস গুছিয়ে দেবে। আমি ঢাকায় পৌঁছে সুটকেস খুলে দেখব–আমার যা যা প্রয়োজন সবই সেখানে আছে।

    মা এসে ঢুকলেন। তাঁর গা থেকে ভুড় ভুড় করে এলাচের গন্ধ আসছে। মনে হয় পোলাও-কোরমা বসিয়ে দিয়েছে।

    নবনী?

    জ্বি মা।

    আয় তোকে গোসল দিয়ে দি। ইরা তুই আয়।

    আমি নিঃশব্দে উঠে এলাম। বাথরুমটা ছোট। দুজন মানুষেরই সেখানে জায়গা হয় না। তার মধ্যে বড় একটা বালতি রাখায় দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই।

    ইরা বলল, মা, আপাকে বরং ছাদে নিয়ে যাই।

    মা ভীত গলায় বললেন, কেউ যদি আবার দেখে-টেখে ফেলে?

    ইরা কঠিন গলায় বলল, দেখলে দেখবে।

    মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আচ্ছা যা, ছাদে নিয়ে যা। এই ভারী বালতি কে টেনে তুলবে? অন্তু তো এখনো এল না। কোন একটা কাজ যদি সে ঠিকমত করে। মোরগ এনেছে কালো হয়ে আছে পায়ের চামড়া। একশ বছরের বুড়া মোরগ। দশ বছর ধরে জ্বাল দিলেও সিদ্ধ হবে না।

    ইরা বলল, মুরগি সিদ্ধ না হলে না হবে। তুমি এত চিন্তা করো না তো মা। দরকার হলে ওরা ছরতা দিয়ে মাংস কেটে খাবে। তুমি টেনশান ফ্রি থােক। অন্তু ভাইয়া আসুক। সে আসার পর গায়ে-হলুদ হবে।

    মা বললেন, আচ্ছা। ইরা বলল, তাহলে সন্ধ্যার পরই গায়ে-হলুদ হবে। সন্ধ্যার পর করলে কেউ কিছু দেখবেও না। ভাইয়াকে বাদ দিয়ে কি আর গায়েহলুদ হবে?

    মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, আচ্ছা আচ্ছা। কেন জানি মা ইরাকে খুব ভয় পান।

    গোসল করে আপা হলুদ শাড়ি পরবে না? শাড়ি তো নেই। তুমি টাকা দাও, আমি হলুদ শাড়ি কিনে আনিব।

    তুই কিনে আনবি, কেউ যদি কিছু জিজ্ঞেস করে?

    জিজ্ঞেস করলে বলব, আমার বড় আপার বিয়ে। আমি এমন ফকিরের মত আপার বিয়ে হতে দেব না।

    আচ্ছা আচ্ছা, যা, চিৎকার করিস না। অন্তু আসুক, ওকে নিয়ে দোকানে যাবি। তুই একটু রান্নাঘরে আসবি? আমাকে সাহায্য করবি?

    না, আমি অন্য কাজ করছি।

    মা আবার রান্নাঘরে চলে গেলেন। ভাজা ঘিয়ের গন্ধ আসছে। কি কি রান্না হচ্ছে একবার গিয়ে দেখলে হত। এত কিছু রান্না সব মার একা করতে হচ্ছে। আমাদের কাজের মেয়ে দু দিনের ছুটি নিয়ে দেশে গেছে, এখনো আসছে না। আসবে বলে মনে হয় না। এক দোকানদারের সঙ্গে খুব খাতির ছিল। সেখান থেকে কোন সমস্যা বাঁধিয়েছে কি-না কে জানে। ইরার ধারণা ঘোরতর সমস্যা। তাকে না-কি গোপনে বলছে।

    আমি বারান্দায় খানিকক্ষণ এক-একা দাঁড়িয়ে রইলাম। বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি ইজিচেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাঁর কোলের উপর রাখা খবরের কাগজ ফর ফর করে বাতাসে উড়ছে। তিনি দুপুরে অনেকক্ষণ ঘুমান। আজ সে সুযোগ হয় নি।

    রান্নাঘর থেকে হাঁড়িকুড়ি নাড়ার শব্দ আসছে। আমি রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছি। আমাদের এ বাড়িটা হিন্দুবাড়ি। আমার দাদা এই বাড়ি জলের দামে এক হিন্দু ব্ৰাহ্মণের কাছ থেকে কিনেছিলেন। বেচারা এত সস্তায় একটিমাত্র কারণেই বাড়ি বিক্রি করে— দাদাজান যেন তার ঠাকুরঘরটা যে রকম আছে সে রকম রেখে দেন। সেই ঠাকুরঘরটাই আমাদের এখনকার রান্নাঘর।

    মা আমাকে দেখেই বলল, তুই এখানে কেন? যা তো। যা।

    আমি বললাম, এক-একা কি করছ? আমি তোমাকে সাহায্য করি।

    কোন সাহায্য লাগবে না। তুই দরজা বন্ধ ঘরে চুপচাপ খানিকক্ষণ শুয়ে থাক।

    রান্না-বান্না কদুর করেছ?

    দুটা তরকারি নেমেছে। চেখে দেখবি?

    না।

    আমি নরম গলায় বললাম, মা, আমি বসি তোমার পাশে?

    ধোঁয়ার মধ্যে বসতে হবে না। তুই যা।

    আমি বুঝতে পারছি মার প্রচণ্ড পরিশ্রম হচ্ছে। কিন্তু তার চোখে-মুখে পরিশ্রমের ক্লান্তি নেই। মনে হচ্ছে তিনি খুব আনন্দে আছেন। প্রয়োজন হলে আজ সারারাত তিনি রান্না করতে পারবেন।

    নবনী!

    জ্বি মা।

    বৃষ্টি হবে না-কি রে মা?

    বুঝতে পারছি না। হবে মনে হয়। আকাশে মেঘা জমছে।

    অবশ্যই বৃষ্টি হবে। শুভদিনে বৃষ্টি হওয়া খুব সুলক্ষণ। তোর বাবা কি করছে?

    ঘুমুচ্ছে।

    তুইও শুয়ে ঘুমিয়ে পড়। যা এখন। চা খাবি? বানিয়ে দেখ এক কাপ? পানি গরম আছে।

    দাও, বানিয়ে দাও। দুকাপ বানাও মা। তুমি নিজেও খাও।

    মা কেতলিতে চা-পাতা ছেড়ে দিলেন। মার রান্না-বান্না দেখার মত ব্যাপার। অসম্ভব রকম গোছানো ব্যবস্থা। আমি এখন পর্যন্ত কোন মহিলাকে এত দ্রুত এত কাজ করতে দেখি নি।

    মশলা কি তুমিই বাটছ?

    গুড়া মশলা আছে, কিছু নিজে বাটলাম। অস্তুকে বললাম, একটা ঠিকা লোক আনতে। কোথায় যে উধাও হয়েছে! কাজের বাড়ি, একজন পুরুষ মানুষ থাকলে কত সুবিধা।

    কিছু লাগবে?

    জিরা কম পড়েছে।

    আমি এনে দেই মা। রাস্তার ওপাশেই তো দোকান।

    হয়েছে, তোর গিয়ে জিরা আনতে হবে না। চা নিয়ে চুপচাপ বসে খা।

    তোমার পাশে বসে খাই মা?

    আমার পাশে বসে খেতে হবে না। ধোয়ার মধ্যে বসে চা খাবি কি?

    তোমার পাশে বসেই খাব।

    মা বললেন, আয় আয়, বোস। আমি মার পাশে বসলাম। তিনি এক হাতে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। হাসি-খুশি মা হঠাৎ বদলে গেলেন। তিনি শিশুদের মত শব্দ করে কাঁদতে লাগলেন। এই কান্না কোন আনন্দের কান্না না গভীর দুঃখের কান্না। আমাকে নিয়ে মার অনেক দুঃখ।

    আমি বললাম, মা কান্না থামাও তো। মা কাঁদতে কাঁদতেই উঠে গেলেন। আমি মার পেছনে পেছনে যাচ্ছি। মা গিয়ে দাঁড়ালেন বাবার সামনে।

    বাবা জেগে উঠে অবাক হয়ে তাকাচ্ছেন। ব্যাপার কিছুই বুঝতে পারছেন। না। ইরাও এসেছে বারান্দায়। মা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললেন, এরকম ফকিরের মত চুপি চুপি আমি আমার মেয়ের বিয়ে দেব না।

    বাবা হতভম্ব গলায় বললেন, কি বলছি তুমি!

    মা ধরা গলায় বললেন, অতুকে বল সে যেন ডেকোরেটরকে দিয়ে গেট বানায়। আলোকসজ্জা যেন হয়।

    পাগল হয়ে গেলে না-কি?

    হ্যাঁ, আমি পাগল হয়ে গেছি। আমি এই ভাবে মেয়ে বিয়ে দেব না। ইরা, তুই যা, সবাইকে খবর দে।

    বাবা পুরোপুরি হকচকিয়ে গেছেন। এমনভাবে তাকাচ্ছেন যে, দেখে মায়া লাগছে। তিনি নির্জীব গলায় বললেন, চুলার গরমে থেকে থেকে তোর মার ব্রেইন সর্ট সার্কিট হয়ে গেছে। নিগেটিভ পজিটিভ এক হয়ে গেছে।

    মা তীব্র গলায় বললেন, আমার মেয়ে কোন পাপ করে নাই। কেন তাকে আমি চোরের মত বিয়ে দেব?

    বাবা ইরার দিকে তাকিয়ে প্রচণ্ড ধমক দিলেন, হা করে দেখছিস কি? তোর মার শরীর কাঁপছে দেখছিস না? তাকে ধর। মাথায় পানি ঢাল। বিছানায় শুইয়ে দে।

    আমরা দুজনেই মাকে ধরে ফেললাম।

    বাবা হতাশ গলায় বললেন, আচ্ছা যাও, হবে। সবই হবে। অন্তু আসুক। গাধাটা গেল কোথায়!

     

    বাড়ির চেহারা পাল্টে গেছে। গিজগিজ করছে মানুষ। আমাদের যেখানে যত আত্মীয় ছিলেন সবাই চলে এসেছেন। শুনছি। অতিথিপুরে ছোট খালাকেও খবর দেয়া হয়েছে। তিনিও না-কি আসছেন।

    বাড়ির সামনে শুধু যে গোট বসেছে তাই না। আলোকসজ্জা হচ্ছে। কাঁঠাল গাছে লাল, নীল, সবুজ রঙের আলো জোনাকি পোকার মত জ্বলছে নিভছে।

    স্টেশন থেকে বর আনার জন্যে দুটা গাড়ি জোগাড় হয়েছে। ফুল দিয়ে সেই গাড়ি সাজানো হচ্ছে।

    ইরার বান্ধবীরা এসেছে। তারা বাসরঘর সাজাচ্ছে। কাউকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমার কোথাও বসার জায়গা নেই। বাবার পিঠের ব্যথা উঠেছে বলে তিনি তার ঘরে শুয়ে আছেন। আমাকে ডেকে পাঠালেন। কাঁদো-কাঁদো গলায় বললেন— তোর মামা এসে কি যে করবে ভাবতেই হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। চুপি চুপি কাজ। সারতে বলেছে, এস দেখবে মচ্ছব বসে গেছে। কেউ কিছু বুঝতে চায় না। সব নির্বোধ। অন্তু না-কি ব্যান্ডপার্টি আনতে গেছে। শুনেছিস?

    না।

    কেউ কারো কথা শুনছে না। সবাই নিজের মত কাজ করছে। এটা কি হিন্দুবাড়ির বিয়ে যে ব্যান্ডপার্টি লাগবে?

    তুমি ডেকে নিষেধ করে দাও।

    আমার নিষেধ কি কেউ শুনবে? কেউ শুনবে না। যার যা ইচ্ছা করছে। তোর বড় মামা আসার পর দেখবি গজব হয়ে যাবে। পুরোপুরি ইসলামিক কায়দায় আল্লাহু আকবর বলে আমাকে কোরবানী করে দেবে।

     

    বড় মামা এসেছেন। ব্যান্ডপার্টিও একই সঙ্গে উপস্থিত হয়েছে। তারা এসেই তুমুল বাজনা শুরু করল। মামা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ কাণ্ডকারখানা দেখে বললেন, ঠিক আছে। বিয়েবাড়ি বিয়েবাড়ির মতাই হওয়া উচিত। চুপি চুপি বিয়ে দিলে ওরাও সন্দেহ করত। আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যেই করেন। আল্লাহ ভরসা।

    মামার এই কথাতেই বাবার পিঠের ব্যথা কমে গেল। তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে নিজেই গেলেন ব্যান্ডপার্টি দেখতে। গম্ভীর গলায় বললেন, তোমরা সারাক্ষণ বাজনা বাজাবে না। বর আসার পর খানিকক্ষণ বাজাবে। ব্যস। তারপর কমপ্লিট স্টপ। মুসলমান বাড়ির বিয়ে, বাদ্য-বাজনা ভাল না। দেখি তোমাদের বাজনা কেমন একটু শুনি। স্যাম্পল শোনাও।

    আমি আমার বাবাকে চিনি। বাচ্চারা যেমন ব্যান্ডপার্টি ঘিরে থাকে। তিনিও থাকবেন বাচ্চাদের সঙ্গে। তাঁর একমাত্র তফাৎ হবে তিনি কিছুক্ষণ পর পর বলবেন— ব্যান্ডপার্টি আনার বেকুবি ক্ষমার অযোগ্য। এই বাক্য বলা ছাড়া ব্যান্ডপার্টি ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা বাচ্চাদের সঙ্গে তাঁর আর কোন তফাৎ খুঁজে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

     

    শ্রাবণ মাসের ১৩ তারিখ রাত ১১টা দশ মিনিট আমার বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ে পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই মুষলধারে বৃষ্টি নামল। মেয়েরা নেমে গোল বৃষ্টিতে কাদাখেলা খেলার জন্যে। উঠোন ভর্তি মেয়ে। এ তাকে কাদায় ফেলে দিচ্ছে, ও তাকে ফেলছে। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য।

    বাবা এক ফাঁকে বিরক্ত গলায় ব্যান্ডপাটির লোকদের বললেন–আনন্দের একটা সময় যাচ্ছে কাদাখেলা হচ্ছে আর তোমরা চুপচাপ বসে আছ। এখর বাদ্য-বাজনা না বাজালে কখন বাজাবে? কেউ মারা যাবার পর? তোমাদের টাকা দিয়ে আনা হয়েছে কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝিমানোর জন্যে? যত সব ব্রেইনলেস ক্রিয়েচার। বাজাও!

    তুমুল বাদ্য শুরু হয়ে গেল। বাবা হৃষ্টচিত্তে কাদাখেলা দেখতে গেলেন তবে মুখ শুকনো করে বললেন, খবরদার আমার গায়ে কেউ কাদা ছিটাবে না। সব কিছুর বয়স আছে। আমার এখন কাদাখেলার বয়স না। তাছাড়া শরীর দুর্বল। পিঠে প্ৰচণ্ড ব্যথা।

    বাবাকে কেউ কান্দা মাখাতে গেল না। তবে তিনি যে মনেপ্ৰাণে এই জিনিসটি চাচ্ছেন তা আমরা সবাই বুঝলাম। আমি ইরাকে কানে কানে বললাম, কাউকে বল না বাবার গায়ে একটু কাদা মাখিয়ে দিক।

    ইরা বলল, ছোটখালা এসে পড়বেন। তিনি খবর পেয়েছেন। খালা এলেই বাবাকে তিনি কাদায় চুবাবেন। তুমি নিশ্চিন্ত থােক।

    বড় মামা এসে আমাকে বললেন, খুকী তুই আমার সঙ্গে একটু আয়তো। তোর সঙ্গে আমার কিছু জরুরি কথা আছে।

    বড় মামা আমাকে খুকী ডাকেন। আমি হচ্ছি। বড় খুকী। ইরা ছোট খুকী। তার নিজের চার মেয়ে। তাদেরও নাম বড় খুকী, মেজো খুকী, সেজো খুকী, ছোট খুকী।

    নিরিবিলি কথা বলার কোন জায়গা নেই। মামা আমাকে ছাদে নিয়ে গেলেন। আমাদের কথা হল ছাদে উঠার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে। ছাদে যাবার উপায় নেই। মুষল ধারে বর্ষণ হচ্ছে। সিঁড়ি অন্ধকার, তবে মামা টর্চ হাতে উঠে এসেছেন। তিনি আমার মাথায় হাত রেখে নরম গলায় বললেন, বড় খুকী! তোকে কয়েকটা কথা বলা দরকার মা।

    বলুন।

    টৰ্চটা নিভিয়ে দেই। খামাখা ব্যাটারি খরচ। অন্ধকারে তোর আবার ভয় লাগবে না তো?

    ভয় লাগবে না।

    বড় মামা বাতি নিভিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। সম্ভবত কথা গুছিয়ে নিলেন।

    মামা কিছু বলছেন না। টর্চ লাইটটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। একবার জ্বালাচ্ছেন একবার নিভাচ্ছেন। তাঁর বোধহয় কাশিও হয়েছে। খুব কাশছেন। আমি বললাম, আপনার কি শরীর খারাপ মামা?

    হু। মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। বোধহয় মাইগ্রেন পেইন শুরু হবে। টেনশান হলে এরকম হয়। বয়স হয়ে গেছে এখন টেনশান সহ্য হয় না। বয়সতো মা কম হল না।

    টেনশনের তো আর কিছু নেই মামা। বিয়ে হয়ে গেছে।

    হুঁ।

    জরুরি কি কথা যেন বলবেন?

    তেমন জরুরি কিছু না। বিয়েশাদী ভাগ্যের ব্যাপার। আল্লাহ পাক যা ঠিক করে দেন। তাই হয়। জোড়া মিলানোই থাকে। আমরা খামাখাই দৌড়াদৌড়ি করি, হৈ চৈ করি। এর সঙ্গে বিয়ে ঠিক করি তার সঙ্গে ঠিক করি। নিতান্তই পণ্ডশ্রম করা হয়। যার যেখানে হবার সেখানেই হবে। তুই তোর বিয়ে নিয়ে মন খারাপ করিস না।

    আমি মন খারাপ করছি না মামা।

    তোর আরো ভাল বিয়ে হতে পারত। হওয়া উচিত ছিল। সম্ভব হল না। চেষ্টা কম করি নাই।

    আমি হাসতে হাসতে বললাম, চেষ্টা করেও তো লাভ হত না। আপনিইতো বললেন, জোড়া আগেই মিলানো।

    মামা বড় করে নিঃশ্বাস ফেললেন। মনে হচ্ছে তিনি নিজের কথা নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আমাকে সান্ত্বনা দেবার জন্যে জোড়া মিলানোর কথা বলছেন, তবে তাঁর বিশ্বাস অন্য।

    বড় খুকী!

    জ্বি মামা।

    ছেলে দরিদ্র তবে ছেলে খারাপ না।

    আমি এসব নিয়ে ভাবছি না। তোমাদের যে আমি মুক্তি দিতে পারলাম এতেই আমি খুশি।

    আমি নিজে খাস দিলে আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করেছি। তুই সুখী হবি। সুখটাই বড় কথা। তবে সুখী হবার জেন্য চেষ্টা করতে হয়রে মা। খুব চেষ্টা চালাতে হয়।

    আমি চেষ্টা চালাব।

    তুই বুদ্ধিমতী মেয়ে। তোর উপর আমার ভরসা আছে। তোর বরও বুদ্ধিমান। তোদের অসুবিধা হবে না।

    মামা তুমি কি আমার সমস্যার কথা তাদের বলেছ?

    পরিষ্কার করে বলি নি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছি।

    পরিষ্কার করে বল নি কেন?

    মামা আবার কাশতে লাগলেন। টর্চের আলো এদিক ওদিকে ফেলতে লাগলেন। আমি বললাম, মামা আমি কি বলব। উনাকে?

    এখন বলাবলির দরকার নাই। তোদের দুজনের মধ্যে ভাব ভালবাসা হোক। তারপর বলবি। তাছাড়া দেখবি বলার দরকারও পরবে না। চল নিচে যাই। সাবধানে নামিস-সিঁড়ি পিছল। ধরা আমার হাত ধর।

    আমি মামার হাত ধরে সাবধানে নিচে নামছি। সিঁড়ির গোড়ায় ইরা দাঁড়িয়ে আছে। তার সুন্দর সাদা শাড়ি কাদায় মাখামাখি হয়েছে। ইরা বলল, আপা যে কজন বরযাত্রী এসেছে তাদের সবাইকে কাদায় চুবিয়ে দেয়া হয়েছে। একজন দৌড়ে পালাতে গিয়েছিল সে নিজেই খাদে পড়ে গেছে। আমাদের কিছু করতে হয় নি। তার অবস্থাই সবচে করুণ। হি-হি-হি।

    বড় মামা বললেন, কাজটা ঠিক হচ্ছে না ছোট খুকী। এরা সম্মানিত মেহমান।

    সম্মানিত মেহমানদের অবস্থাটা একটু দেখে আসুন মামা। সম্মানিত মেহমানরা এখন মনের আনন্দেই কাদায় গড়াগড়ি করছেন। হিহিহি।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনক্ষত্রের রাত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article নলিনী বাবু B.Sc. – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }