Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নবনী – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. সফিক সাহেবের বাড়ি

    দেখলে কত বড় বাড়ি?

    সে এমনভাবে বলল যেন বাড়িটা ওর নিজের। আমি হাসলাম। ওর ছেলেমানুষিগুলো এখন আমার চোখে পড়তে শুরু করেছে। দোকানে কেনাকাটার সময় প্রথম চোখে পড়ল। যা দেখছে তা-ই দাম করছে। জাপানি একটা ডিনার সেট দাম করল। বাহান্ন পিসের সেট— দাম তের হাজার টাকা। সে গম্ভীর গলায় বলল, ফিক্সড প্রাইস? ভাবটা এ-রকম যেন ফিক্স্ড প্রাইস না হলে সে দরদাম করে কিনে ফেলবে। দোকানদাররা মানুষ চেনে। কে কি কিনবে বা কিনবে না তা চট করে ধরে ফেলে। সে জবাব পর্যন্ত দিল না। নোমান তাতে অপমানিত বোধ করল না বা রাগ করল না, পাশের দোকানে ফুলদানি দরদম করতে লাগল। এক একটার দাম দুহাজার টাকা। এমনভাবে দাম করছে যেন দুহাজার টাকা দামের ফুলদানি কয়েকটা কিনবে।

    সফিক সাহেবের বাড়িতে ঢোকার পর থেকে সে আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করছে যে এত সুন্দর বাড়ি এই শহরে আর নেই। বাড়িতে কয়টা ঘর, কয়টা বাথরুম সমানে বলে যাচ্ছে। আমরা বসার ঘরে বসে আছি। ঝাড় বাতি টাতি দিয়ে এই ঘর এমন সাজানো যে এখানে বসে থাকতে ভাল লাগে না। মনে হয়। সিনেমার একটা বাড়িতে বসে আছি। সফিক সাহেবকে খবর পাঠানো হয়েছে। তিনি এখনো নামছেন না। আমরা যেখানে বসে আছি সেখান থেকেই দোতলার সিঁড়ি চলে গেছে। ভদ্রলোক এই সিঁড়ি ধরেই নামবেন। মার্বেল পাথরের সিঁড়ি। এই সিঁড়িতে কোনদিন হয়ত এক কণা ধূলিও পড়ে থাকে না। আমি সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছি।

    নবনী, বল তো এ বাড়ির বৈশিষ্ট্য কি?

    তা তো বটেই, এ ছাড়া কি?

    বলতে পারছি না।

    এ বাড়ির ছাদে কি আছে বল?

    ফুলের বাগান?

    বাগান তো আছেই। রোজ গার্ডেন। এ ছাড়া কি আছে বল তোমাকে আগে বলেছিলাম। বাসর রাতে। মনে নেই?

    মনে করতে পারছি না।

    সুইমিং পুল। বিশাল সুইমিং পুল। বাড়ির ছাদে সুইমিং পুল থাকে কখনো শুনেছ?

    না।

    সফিকের আছে। চাঁদনী রাতে যে কি সুন্দর দেখা যায়! পানিতে চাঁদের ছায়া পড়ে। তখন বাড়ির সব বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। মেজাজ ভাল থাকলে অহনা ভাবী গান গান। উনি খুব সুন্দর গান জানেন।

    তাই না-কি?

    হ্যাঁ। উনি টিভির এ গ্রেডের শিল্পী। তবে টিভিতে খুব কম যান। গত মাসে প্রোগ্রাম পেয়েছিলেন যান নি।

    সফিক সাহেব দোতলা থেকে নামছেন না। আমরা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। নোমানের তাতে অসুবিধা হচ্ছে না। সে বাড়ির গল্প করেই যাচ্ছে। আমার অস্বস্তি লাগছে। মনে হচ্ছে খানিকক্ষণ পর দোতলা থেকে একটা কাজের লোক নেমে এসে বলবে, আজ উনার শরীরটা ভাল না, আরেকদিন আসুন। বুঝতে পারছি না। আমরা কতক্ষণ বসে থাকব। নোমানের মনে হয় বসে থাকতে ভালই লাগছে।

    নবনী!

    উঁ।

    ছাদের উপর এই যে এত বড় সুইমিংপুল কিন্তু সফিক এখন পর্যন্ত পানিতে নেমে দেখে নি।

    কেন?

    ও না-কি সুইমিং পুল বানিয়েছে পানি দেখার জন্যে। গোসলের জন্যে তার শাওয়ারই ভাল। অন্যের গোসল করা নোংরা পানিতে সে নামবে না। হা হা হা। ওর কথাবার্তার তুমি কোন ঠিক পাবে না। তবে ও যা বলবে মনে হবে সেটাই সত্যি।

    উনাদের ছেলেমেয়ে কি?

    এখানো ছেলেমেয়ে হয় নি। মাত্র দুবছর আগে বিয়ে করেছে। ভাবী হলেন খুলনার মেয়ে।

    ও আচ্ছা।

    এত সুন্দর বাড়ি কিন্তু সফিকের পছন্দ না। ও তার নিজের ডিজাইনে আরেকটা বাড়ি বানাবে। ডিজাইন না-কি করা শুরু করেছে।

    উনি কি আর্কিটেক্ট?

    আরে না। পড়াশুনা করেছে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে, তবে সে ইচ্ছা করলে বাড়ি ডিজাইন আর্কিটেক্টের চেয়ে অনেক ভাল করবে। যে কোন আর্কিটেক্টের কান কেটে নিয়ে আসবে। ও পারে না এমন জিনিস নেই। এখন কি ঠিক করেছে জান? ছবি বানাবে। মুভি ক্যামেরা, লাইট ফাইট কিনে এলাহি কারবার করেছে।

    তাই বুঝি?

    মুভি ক্যামেরার দামই পড়েছে ১৪ লাখ টাকা। টাকা অবশ্যি তার কাছে কোন ব্যাপার না। ওর কাছে ১৪ লাখ যা ১৪ হাজারও তা।

    উনি এখনো আসছেন না কেন?

    আসবে। কাজে আটকা পড়ে গেছে আর কি? তোমার কি বসে থাকতে খারাপ লাগছে?

    হ্যাঁ লাগছে।

    এসো তাহলে সফিকের লাইব্রেরিটা দেখ। লাইব্রেরি দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। দেখার মত জিনিস। হেন বই নাই যা তুমি লাইব্রেরিতে পাবে না। আসি তোমাকে লাইব্রেরি দেখাই।

    লাইব্রেরি দেখতে ইচ্ছা করছে না।

    ইচ্ছা করছে না কেন?

    বুঝতে পারছি না। মনে হয়। শরীর খারাপ করেছে।

    মাথা ধরেছে?

    হুঁ।

    জ্বর না-কি দেখি, কাছে আস তো।

    সে আমার জ্বর দেখল। আর তখনি সফিক সাহেব দোতলা থেকে নেমে এলেন।

    ফর্সা লম্বা একজন মানুষ। মাথাভরতি কোঁকড়ানো চুল। বড় বড় চোখ। তার গায়ে নীল রঙের। হাফ হাওয়াই শার্ট। পরনের প্যান্ট ধবধবে সাদা। ভদ্রলোক নামছেন হাসতে হাসতে। পায়ে চটি থাকার জন্যেই সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে ফটফট শব্দ হচ্ছে। চটিতে এত শব্দ হবার কথা না। তিনি বোধহয় ইচ্ছে করেই শব্দ করছেন। কিংবা কে জানে বড়লোকরা হয়ত এই ভাবেই নামে।

    আমি উঠে দাঁড়ালাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত ভঙ্গিতে বললেন, দাঁড়িয়ে পড়েছ যখন তখন আর বসার দরকার নেই—চল আমরা সরাসরি গাড়িতে উঠবো। আর শোন নবনী, তোমার আমি তুমি করে বলছি। নোমানকে তুই করে বলি, তার স্ত্রীকে আপনি করে বলা সেই কারণেই শোভন না। তবু তোমার আপত্তি থাকলে এক্ষুণি বলে ফেল। প্রথমেই ডিসিসান হয়ে যাক। আপনি না তুমি?

    আপনি আমাকে তুমি করেই বলবেন।

    আমার ইচ্ছা ছিল এ বাড়িতেই তোমাদের খাওয়াব। আমার স্ত্রী সেই উপলক্ষে রান্নাবান্নাও করেছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর ঝগড়া করে সে বাড়ি থেকে উধাও হয়েছে। কাজেই হোটেল ছাড়া গতি নেই। আমি যে নিচে নামতেই দেরি করেছি তার মূল কারণ অহনাকে টেলিফোনে ট্রেস করার চেষ্টা করছিলাম। ঢাকা শহরে তার একলক্ষ পরিচিত মানুষ। সে কোথায় গিয়ে বসে আছে কে জানে।

    নোমান বলল, ভাবী নেই! বলিস কি?

    তুই দেখি আকাশ থেকে পড়লি! ও তো এরকম করেই।

    আমি বললাম, আজ না হয় বাদ থাকুক। আমরা অন্য একদিন আসব।

    অন্য একদিন যে অহনাকে পাওয়া যাবে তোমাকে কে বলল? হোটেলে রিজার্ভেশন নেয়া আছে। চল যাই।

    ভদ্রলোক এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। অপরিচিত একজন মানুষ যখন এভাবে তাকিয়ে থাকেন তখন অস্বস্তি লাগে। কিন্তু উনি যে তাকিয়ে আছেন— তাতে অস্বস্তি লাগছে না। কেন লাগছে না, তাও আমি বুঝতে পারছি না। তিনি হঠাৎ বললেন, নবনী দাড়াও। তোমার একটা ছবি তুলে রাখি। এই মুহূর্তে তোমাকে সুন্দর দেখাচ্ছে। সৌন্দর্য কোন ধ্রুব ব্যাপার না। ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। আজ তোমাকে অপূর্ব লাগছে তার মানে এই না যে কালও লাগবে। সুন্দর যখন লাগছে তখন তা ধরে রাখা যাক। তুমি দাড়াও।

    আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। নোমান বলল ওর আচার-আচরণ আধা পাগলের মত। তুমি ওর কথায় অস্বস্তি বোধ করছ না তো?

    না।

    অস্বস্তি বোধ করবে না। সফিকের স্বভাবই এরকম। ওর মধ্যে লোকাছাপার কোন ব্যাপার নেই।

     

    এত বড় হোটেলে আমি আগে কখনো আসি নি। পুরোপুরি হকচকিয়ে যাবার মত ব্যাপার। অথচ নোমান খুব সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটাহাঁটি করছে। মনে হচ্ছে ও তার বন্ধুর সঙ্গে আগেও অনেকবার এসেছে। সফিক সাহেব হোটেলে পা দেবার পর থেকে আমার দিকে তেমন লক্ষ্য করছেন না। তিনি তাঁর বন্ধুকেই নিচু গলায় ক্রমাগত কি-সব যেন বলছেন। সেও খুব চিন্তিত মুখে শুনছে। আমি যে তার সামনে আছি। এটা বোধহয় সে আর জানে না।

    ডাইনিং হলের ঠিক মাঝখানে চারজনের টেবিলে আমরা আছি। আমি এবং নোমান পাশাপাশি বসেছি। সফিক সাহেব বসেছেন আমাদের সামনে। তিনি নোমানের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে হঠাৎ আমাকে বললেন, চারজনের টেবিল কেন নিয়েছি জানি নবনী? চারজনের টেবিল নিয়েছি, কারণ হঠাৎ অহনা এসে উপস্থিত হতে পারে। তার রাগ যেমন চট করে উঠে আবার তেমনি চট করে পড়ে যায়। যদি এ রকম কোন ঘটনা ঘটে তাহলে সে খুঁজে পেতে বের করবে আমরা কোথায় আছি। তারপর হাসিমুখে উপস্থিত হবে। যেন কিছুই হয় নি। এ জন্যেই আমি খাবারের অর্ডার এখনো দিচ্ছি না। অপেক্ষা করছি। তোমার খিদে পায় নি তো?

    জি না।

    গুড। খিদেটা জমুক। খিদে ভালমত না জমলে খেতে পারবে না। যে হোটেল যত জমকালো তার খাবার তত খারাপ। নোমান, তুই মৃণালদের বাড়িতে একবার টেলিফোন করে দেখ তো। অহনা সেখানেও থাকতে পারে। আমি করেছিলাম, আমাকে নো বলে দিয়েছে। তোকে বোধহয় বলবে না।

    ও উঠে চলে গেল। সফিক সাহেব সিগারেট ধরাতে ধরাতে আমার দিকে না তাকিয়ে হঠাৎ করে বললেন, নবনী শোন! তোমার সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা

    কথা শুনে ওর মনে বোধহয় কনফিউশন তৈরি হয়েছিল। আমি তাকে বলেছি এসব কথাবার্তায় কান না দিতে। মফস্বল শহরে মোটামুটি যারা রূপবতী তাদের নিয়ে নানা গল্পগাথা তৈরি হয়। মেয়েগুলোর জীবন হয় অতিষ্ঠ। তুমিতো আর মোটামুটি রূপবতী না। ভয়ঙ্কর রূপবতী। তোমাকে নিয়ে একশ একটা গল্প তৈরি হবার কথা। যাই হোক আমি নোমানকে বলে দিয়েছি ও যেন তোমার অতীত নিয়ে কখনোই প্রশ্ন না করে। ওকি কিছু জিজ্ঞেস করেছে?

    না।

    একবার যখন না বলে দিয়েছি তখন আর প্রশ্ন করবে না। আর যদি করেও তুমি কিছু বলবে না।

    আমার বলার মত কিছু নেই।

    থাকলেও বলবে না। নতুন বিয়ে হওয়া স্বামীর সঙ্গে দ্রুত ভাব করার জন্যে গড় গড় করে অনেক কিছু বলে দেয়। পরে সমস্যা হয়। নোমান ভাল ছেলে। আমি তাকে খুব পছন্দ করি। আমি চাই না— তুচ্ছ সব বিষয় নিয়ে…

    সফিক সাহেব চুপ করে গেলেন, কারণ নোমান ফিরে আসছে। আমার বিরক্ত লাগছে। আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপারে উনি কথা বলছেন কেন? তাছাড়া আমার সঙ্গে আজই তার প্রথম কথা হচ্ছে। প্রথম আলাপে এ জাতীয় প্ৰসঙ্গ তোলার কোন কারণ আছে কি?

    সফিক সাহেব ওর দিকে তাকিয়ে বললেন–পাওয়া গেছে?

    না।

    কোথায় আছে কিছু বলল?

    নোমান মিটিমিটি হাসছে। কোন একটা আনন্দের খবর গোপন করতে গিয়ে বাচ্চা ছেলেমেয়েরা যেভাবে হাসে সে রকম হাসি। সফিক ওর হাসি দেখেই বললেন, ও কি হোটেলের দিকেই রওনা হয়েছে?

    হ্যাঁ।

    গুড। তাহলে খাবারের অর্ডার দেয়া যাক। আমি আমার পছন্দেই খাবার দিতে বলি। এদের সব খাবার মুখে দেয়া যায় না। দু-একটা আইটেম শুধু এরা ভাল করে।

    সফিক সাহেব আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, আমি যে একটা ছবি বানাচ্ছি। নোমান কি তোমাকে বলেছে?

    জ্বি বলেছে।

    সেই ছবির নায়িকাকে কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবে। তবে নায়িকার গায়ের রং কালো। কালো রঙের নায়িকা বাংলাদেশে চলবে বলে মনে হয় না। এদেশের নায়িকাদের গায়ের রং হতে হয় দুধে আলতায় এবং ওজন হতে হয় তিন মণের বেশি।

    আমি লক্ষ্য করলাম। সফিক সাহেব আনন্দে ঝলমল করছেন। স্ত্রী আসছে। এই খবরে কারও মুখ এত আনন্দময় হতে পারে আমার ধারণা ছিল না। ভদ্রলোককে এখন আমার ভাল লাগছে। অহনা নামের মেয়েটি মনে হচ্ছে খুব ভাগ্যবতী। আমি ভদ্রমহিলার জন্যে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

    তিনি চলে এলেন দশ মিনিটের মাথায়। তার গায়ের রঙ কালো। বেশ কালো। কিন্তু সেই কালো রঙেও একটা মানুষকে যে এত সুন্দর দেখা যায় আমি জানতাম না। হালকা কমলা রঙের সিল্ক শাড়ি পরেছেন। বেণী করা চুলের গোড়ায় ছোট ছোট নীল রঙের ফুল। নিশ্চয়ই প্লাস্টিকের ফুল। সত্যিকার ফুল নীল হয় না। তবে দেখাচ্ছে সত্যি ফুলের মতই। তিনি হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকলেন। তার ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ডাইনিং রুমটাও যেন হেসে উঠল।

    সফিক সাহেব বললেন, তুমি যে আসবে আমি জানতাম। এই দেখ তোমার জন্যেই ডাইনিং রুমের মাঝখানে টেবিল নিয়েছি। নবনী শোন, এই কালো মেয়েটা কোণার দিকের টেবিলে বসতে পারে না। ও সব সময় বসবে মাঝখানে।

    অহনা বললেন, অবশ্যই আমি মাঝখানে বসব। এমনভাবে বসব যেন সবাই তাকায় আমার দিকে। এই দেখ এক্ষুণি তাকানো শুরু করেছে।

    আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি। ওরা নিজেদের মধ্যেই কথা বলছেন। আমরা দুজন যে আছি সেদিকে ওঁদের খেয়াল নেই। সফিক সাহেব একবার বললেন, অহনা, নোমানের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বল। ওর নাম নবনী। দেখা কি ভয়ঙ্কর সুন্দর! প্ৰায় তোমার কাছাকাছি।

    ভয়ঙ্কর বলছি কেন? সুন্দর কি ভয়ঙ্কর হয়?

    মাঝে মাঝে হয়।

    অহনা আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। হেসেই অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন–চিংড়ি মাছ খেলে কোলেস্টরেল বাড়ে না কমে এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হল। অহনার ধারণা, কোলেক্টরেল কমে যায়। সফিক সাহেবের ধারণা তা না।

    সফিক সাহেব বললেন, এত জিনিস থাকতে আমরা চিংড়ি মাছ নিয়ে আলোচনা করছি কেন?

    অহনা এতে খিলখিল করে হাসতে শুরু করলেন। যেন দারুণ মজার কথা। এদের সঙ্গে চুপচাপ বসে থাকতে আমার এত খারাপ লাগছে! নোমানের লাগছে না। ওরা যখন হাসছে নোমানও হাসছে। এরা যখন গভীর কোন বিষয় নিয়ে কথা বলছে তখন সেও গম্ভীর মুখে কথা শুনছে। অহনা বললেন, নোমান, চিংড়ি মাছ সম্পর্কে তোমার কি ধারণা?

    আমার কোন ধারণা নেই ভাবী।

    চিংড়ি মাছ খাওয়াটা কি মকরু না হালাল?

    তাও জানি না।

    তুমি দেখি কিছুই জান না। আচ্ছা একটা কাজ কর। চট করে হোটেলের শাপ থেকে আমার জন্যে একটা জিনিস নিয়ে এসো… মাথা ধরার টেবলেট। প্ৰচণ্ড মাথা ধরেছে। মাথা ধরা না কমলে কিছু খেতে পারব না।

    ও সঙ্গে সঙ্গে রওনা হল। আমার ভাল লাগছে না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই মহিলা খুব সূক্ষ্মভাবে আমাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছেন যে আমার অবস্থান অনেক নিচে। তাদের চাকর-বাকদের কাছাকাছি।

    সফিক সাহেব কি বুঝতে পারছেন যে আমি নোমানকে এভাবে উঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারটা পছন্দ করি নি। কারণ তিনি কেমন যেন লজ্জিত ভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি কোমল গলায় বললেন, নবনী!

    জ্বি।

    চিংড়ি মাছ সম্পর্কে তোমার কি ধারণা? এটা খাওয়া কি হালাল, মকরু না নিষিদ্ধ।

    সামুদ্রিক চিংড়ি যদি হয় তাহলে হালাল। আমার একজন স্যার ছিলেন এই সব ব্যাপার খুব ভাল জানতেন। তিনি বলেছেন কোরান শরীফের একটা আয়াত আছে তাতে বলা হয়েছে— সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল।

    সমুদ্রেতো সাপও আছে। সেই সাপও কি হালাল?

    আমি কিছু বললাম না। সফিক সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। যেন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বিশেষ কিছু ধরার চেষ্টা করছেন। উনি কি আমার স্যারের ব্যাপারটা জানেন? জানলে কতটুকু জানেন?

    অহনা আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, আপনাদের বিয়েতে আমাদের দুজনেরই যাবার কথা ছিল। ও ব্যাংকক চলে যাওয়ায় যেতে পারি নি।

    আমি কিছু বললাম না। অহনা বললেন, আমি ডিনারের সঙ্গে রেড ওয়াইন নেব। এবং ডিনারের শেষে একটা সিগারেট খাব। আশা করি কিছু মনে করবেন না।

    জ্বি না। কিছু মনে করব না।

    খাবার চলে এসেছে। কত পদের খাবার যে আসছে। আমার ভালই খিদে কিন্তু কিছুই খেতে ইচ্ছা করছে না। নোমান ওষুধ নিয়ে ফিরে এসেছে। অহনা সেই ওষুধ টেবিলের এক কোণায় ফেলে রেখেছেন। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে না এই ওষুধ তিনি খাবেন।

    অহনা বললেন, চিংড়ি মাছ বিষয়ে আমি একটা কথা বলতে পারি। এই কথা শোনার পর নবনী আর চিংড়ি মাছ খাবে না বলে আমার ধারণা। কথাটা হল— চিংড়ি, কাঁকড়া এবং মাকড়শা এরা তিনজনই একই গোত্রের প্রাণী। এদের ডিম থাকে শরীরের বাইরে। চিংড়ি মাছ খাওয়া আর মাকড়সা খাওয়া একই ব্যাপার।

    অহনার কথা শোনার পর আমি সতি সত্যি চিংড়ি মাছ খেতে পারলাম না। নোমান কয়েকবার সাধাসাধি করল। মুখ কাচুমাচু করে বলল, খাও না, খাও না। কত বড় বড় চিংড়ি। এগুলো তো আর মাকড়সা না।

    অহনা কিছুই বললেন না। শুধু হাসলেন। সেই হাসি আমার ভাল লাগল না।

    আমার খুব ক্লান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে এই খাবার টেবিলেই আমি ঘুমিয়ে পড়বা। আমার এ রকম মাঝে মাঝে হয়। হঠাৎ নিজেকে অসহায় এবং খুব ক্লান্ত মনে হয়। আশেপাশে কোথায় কি হচ্ছে, কে কি বলছে কিছুই বুঝতে পারি না। কারোর কোন কথাবার্তাও তখন কানে আসে না। চারপাশের কোলাহলের শব্দ স্তিমিত হয়ে আসে। মনে হয় আমি একাকী দূরে কোথাও চলে যাচ্ছি। এইত আমার পাশেই নোমান বসে আছে। সে মাঝে মাঝেই হো হো করে হোসে উঠছে। গল্প শুনে হাসছে। হাসির গল্পগুলো যিনি বলছেন তার নাম অহনা। কালো একটি মেয়ে। কালো হয়েও পৃথিবীর সব রূপ যিনি নিজের শরীরে নিয়ে নিয়েছেন। তিনি নিশ্চয়ই খুব ভাল গল্প করতে পারেন। কারণ গল্প শুনে শুধু যে নোমান হাসছে তা-না। সফিক সাহেব হাসছেন, অহনা নিজেও হাসছেন। তাদের হাসির শব্দে আশেপাশের সবাই ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে। মজার মজার সব গল্প কিন্তু আমার কানে আসছে না। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে। সফিক সাহেব হঠাৎ আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, নবনী তোমার কি শরীর খারাপ?

    আমি বললাম, না।

    তুমি কিছু খাচ্ছ না। খাবার ভাল লাগছে না?

    লাগছে। চামচ দিয়ে আমি খাবার নাড়াচাড়া করছি। চামচগুলো কি রূপার? ঝকঝাক করছে। সারাক্ষণই ভয় হচ্ছে এই বুঝি হাত থেকে চামচ পড়ে যাবে। রূপার চামচ মেঝেতে পড়লে কেমন শব্দ হয়? রিনিঝিনি করে বাজে?

     

    সফিক সাহেবের গাড়ি আমাদের বাসায় নামিয়ে দিল। নোমান বাসায় ঢুকতে ঢুকতে বলল, এরা কি রকম অসাধারণ মানুষ লক্ষ্য করলে? অহঙ্কার বলে এক বস্তু স্বামীস্ত্রী কারো মধ্যে নেই। ওয়াইন খেতে দেখলে তুমি অস্বস্তি বোধ কর, এই জন্যে অহনা ভাবী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওয়াইন নেয় নি। সিগারেটও খান নি। অহনা সিগারেট ছাড়া থাকতে পারে না। নবনী! নাও এই খামটা যত্ন করে তুলে রাখ।

    আমি বললাম, কি আছে। এই খামে?

    নোমান হতভম্ব গলায় বলল, কি আছে তুমি জান না।

    না।

    কি আশ্চৰ্য। অহনা নিজের হাতে এই খাম আমাকে দিল। তোমার সামনেই তো দিল। আমাদের বিয়ে উপলক্ষে গিফট?

    আমি লক্ষ্য করি নি?

    লক্ষ্য করি নি মানে?

    অন্যমনস্ক ছিলাম।

    সফিক তাহলে ঠিকই ধরেছিল–তোমার শরীর খারাপ।

    কি আছে। এই খামে?

    দশ হাজার টাকার একটা চেক আছে। ক্যাশ টাকা দিয়েছে আমরা নিজেরা যাতে নিজেদের পছন্দ মত কিছু কিনতে পারি। এই খাম নিয়ে কত কথাবার্তা হল— তুমি কিছুই শুনানি?

    না।

    খাম হাতে নোমান বোকা বোকা মুখ করে দীর্ঘক্ষণ বসে রইল। আমার এই আচরণ সে যেন মিলাতে পারছে না। এক সময় বলল, চল ঘুমুতে যাই।

    আমি বললাম, তুমি ঘুমাও আমি একটু পরে যাব।

    তুমি কি করবে?

    নিজের হাতে চা বানিয়ে এক কাপ চা খাব। তারপর ইরাকে একটা চিঠি লিখব। আসার পর ইরাকে কোন খবর দেয়া হয় নি। ও নিশ্চয়ই চিঠির জন্যে অপেক্ষা করছে।

    চিঠি দিনের বেলা লিখলেই হয়।

    দিনে আমি চিঠি লিখতে পারি না।

    ও আচ্ছা।

    তুমি কি চা খাবে? বানাবো তোমার জন্যে?

    আমিতো চা একেবারেই খাই না। রাতে খেলে ঘুম হবে না।

    প্রতি রাতে ঘুমুতে হবে। এমনতো কোন কথা নেই। চা খেয়ে তুমি জেগে। থাক। আমি এর মধ্যে চিঠি শেষ করে ফেলি। তারপর দুজন এক সঙ্গে ঘুমুতে যাব।

    আচ্ছা।

    আমি চা বানাচ্ছি। ও বসে আছে বারান্দায়। তার মাথার উপর ময়নার খাঁচা। খাঁচাটা এখন আবার কালো কাপড়ে ঢাকা। ময়নার খাঁচা না-কি কালো কাপড় দিয়ে না ঢাকলে ময়না ঘুমুতে পারে না। নোমান মাঝে মাঝেই তাকাচ্ছে আমার দিকে। সম্ভবত আমাকে বুঝতে চেষ্টা করছে।

    ইরা,
    এই কিছুক্ষণ আগে আমি আমার সংসার শুরু করেছি
    । কেরোসিনের চুলায় চা বানিয়েছি দুজনের জন্যে। আমাদের বিবাহিত জীবনের প্রথম রান্না। চা তেমন ভাল হয় নি। ও কোথেকে যেন সস্তা ধরনের চায়ের পাতা এনেছে। অনেকক্ষণ জ্বাল দেবার পরেও রং আসেনি। পানসে ধরনের চা খেয়ে সে। বলেছে–এত ভাল চা সে জীবনেও খায় নি। এখন থেকে সে না-কি রোজ রাতে বারান্দায় বসে চা খাবে।
    এখনো সে বারান্দায় বসে আছে। বেচারার বোধহয় ইচ্ছা আমাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমুতে যাবে। যেহেতু আমি চিঠি লিখতে বসেছি সে অপেক্ষা করছে। বারান্দায়। একজন আদর্শ স্ত্রীর উচিত এই অবস্থায় চিঠি লেখা বন্ধ করে। স্বামীর সঙ্গে ঘুমুতে যাওয়া। আমার মনে হয় আমি কোনদিনও আদর্শ স্ত্রী হতে পারব না–কারণ তোকে চিঠি লিখতেই আমার ভাল লাগছে। ও অপেক্ষা করুক। অপেক্ষায় আনন্দ আছে।
    অপেক্ষা করুক
    । অপেক্ষায় আনন্দ আছে। তাছাড়া আমার মনে হয় বারান্দায় বসে থাকতেও তার ভাল লাগছে। অন্তত বসে থাকার ভঙ্গি থেকে তাই মনে হয়। বসে থাকার মধ্যেও সুখী সুখী এবং দুখী দুখী ভঙ্গি আছে। ও বসে আছে সুখী সুখী ভঙ্গিতে।
    আমি কেমন আছি
    । এই দিয়ে শুরু করি। ভাল আছি। নিরিবিলিতে শান্তিতে আছি। আমাদের দুজনের ছোট্ট এক কামরার ঘর। দুটি মাত্ৰ প্ৰাণী। ভুল বললাম, দুটি না তিনটি প্রাণী। একটা পোষা ময়না। ও বলছে ময়না না-কি রাজনীতিবিদদের মত ক্রমাগত কথা বলে। তবে আমি এখনো তার কোন কথা শুনি নি। ও আচ্ছা একবার শোনেছি। ময়নাটা পুরুষের মত গলায় বলেছে নবনী! ঠিক করেছি। কাল ভোর থেকে সংসার গুছাব। তবে সংসা গুছানোরও কিছু নেই। সবই গোছানো। আমার কাজ হল এই গোছানো সংসারে নিজের জায়গা করে নেয়া। সেই জায়গা করে নিতে খুব অসুবিধা হয় নি। কোন মেয়েরই বোধহয় হয় না। নোমান সম্পর্কে বলি (স্বামীর নাম ধরে লিখলাম বলে ভুরু কুঁচকাচ্ছিসনাতো?) মানুষটা ভালই। ওর মধ্যে সরল সরল ব্যাপার আছে। জটিলতা তেমন নেই। নেই বলেই ভয়ে ভয়ে আছি। আমরা মানুষের জটিলতা দেখেই অভ্যস্ত। সারল্যাকে আমরা ভয় করি। কারো ভেতর ঐ ব্যাপারটি দেখতে পেলে থমকে যাই এবং আমাদের মনের একটি অংশ বলতে থাকে–নিশ্চয়ই কোন একটা রহস্য আছে।
    মানুষটার ভেতর রহস্য তেমন নেই
    । সাদাসিধা মানুষ। একটু বোধ হয় কৃপণ। প্রতিটি পয়সা হিসেব করে খরচ করে। চা খাব বলে চিনি কিনে এনেছে–ছোট্ট একটা পুটলায় এতটুকু চিনি। তার ময়না পাখিটার জন্যে কলা কিনে এনেছে। একটা কলার অর্ধেকটা কেটে খাইয়েছে বাকি অর্ধেক পলিথিনের ব্যাগে মোড়ে রেখে দিয়েছে। পরে খাওয়াবে।
    আমি বাথরুমে গোসল করলাম
    । সাবানটা মেঝেতে ফেলে এসেছিলাম। পরের বার ঘরে ঢুকে দেখি সেই সাবান সে সোপকেসে তুলে রেখে বাথরুমের মেঝে ন্যাকরা দিয়া মুছেছে। যাতে মেঝেটা শুকনো খটখট করে। আমাকে অবশ্যি কিছু বলে নি। পৃথিবীর সব স্বামীই বিয়ের পর পর স্ত্রীদের উপর তাদের যে অধিকার আছে সেই অধিকার ফলাতে চেষ্টা করে। কেউ কেউ স্থূলভাবে করে কেউ সূক্ষ্মভাবে করে। যেমন ধরা হঠাৎ বলবে—এক গ্রাস পানি দাওতো। অথচ হাতের কাছেই হয়ত পানির গ্লাস। এই মানুষটা এখন পর্যন্ত তা করছে না। মনে হয় করবে না। শুরুতে যে করে না সে পরেও করে না। মানুষের চরিত্রের সব দোষ গুণ চব্বিশ ঘণ্টার ভেতরই ধারা পড়ার কথা।
    ইরা, তোকে বসিয়ে রেখে আমি এখন বারান্দায় যাব। দেখে আসিব মানুষটা কি করছে। এখনো জেগে আছে না ঘুমিয়ে পড়েছে। তাছাড়া কলামটাও বদলাতে হবে। এই কলম দিয়ে ভাল লিখতে পারছি না। আরেকটা কলম দরকার। ঘরে আর কলম আছে কি-না জানি না। ওকে বলতে হবে। যদি দেখি ও ঘুমিয়ে পড়েছে তাহলে আজ আর চিঠি শেষ হবে না। তোকে যে কথা দিয়েছিলাম পৌঁছেই চিঠি দেব তা আর সম্ভব হবে না। দেরী হয়ে যাবে। কাল হয়ত আর চিঠি লিখতে ইচ্ছা করবে না।
    মানুষটা জেগেই ছিল
    । আমাকে দেখে আগ্রহ নিয়ে বলল, চিঠি লেখা কি শেষ? আমার মায়াই লাগল, আহা বেচারা। কিন্তু মায়াকে প্রশ্ৰয় দিলাম না। নির্বিকার ভঙ্গিতে বললাম, ঘরে কি আর কলম আছে? সে বলল, ড্রয়ারে আছে। দাঁড়াও আমি বের করে দি। দুটা কলম টেবিলের উপর রেখে মুগ্ধ গলায় বলল, তোমার হাতের লেখা এত সুন্দর! তার বলার ভঙ্গিটি এমন যেন আমি আমার মস্তবড় কোন গুণ এতক্ষণ তার চোখের আড়াল করে রেখেছিলাম।
    আমি বললাম, তোমার হাতের লেখা কি খুব খারাপ?
    সে বলল, না
    । আমার হাতের লেখাও খুব সুন্দর। দাঁড়াও তোমাকে দেখাই বলেই এক টুকরা কাগজ নিয়ে লিখল–নবনী। নবনী!
    ইরা তোকে বললাম না
    , লোকটা সরল ধরনের। সরল না হলে কখনোই কাগজ নিয়ে তার হাতের লেখার পরীক্ষা দিতে বসতো না। বুদ্ধিমানরা এই কাজ কখনো করে না।
    আমি বললাম, তোমার হাতের লেখা আমার চেয়েও সুন্দর
    । এখন এক কাজ করা বিছানায় শুয়ে থাক। আমার চিঠি প্ৰায় শেষ হয়ে এসেছে। আর মাত্ৰ দশ পনেরো মিনিট। চিঠি শেষ করেই আমি চলে আসিব। ও বাধ্য ছেলের মত ঘুমুতে গেল। আমি চিঠি নিয়ে বসলাম।
    অনেক কিছুই তোকে লিখতে ইচ্ছা করছে
    । যেমন ধর, আমরা যে অ্যাজ ওরা এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হল তাঁর কথা। সেই ভদ্রলোকের নাম সফিক। তিনি ওর অফিসের প্রধান ব্যক্তি। অফিসটাই তাঁর। মানুষের কি পরিমাণ টাকা যে থাকতে পারে তা তাঁকে না দেখলে বোঝা যাবে না। ভদ্রলোক ওরা ছেলেবেলার বন্ধু। এতে আমার আনন্দিত হওয়া উচিত। কিন্তু আনন্দিত হতে পারছি না। আকাশের সঙ্গে পাতালের বন্ধুত্ব হয় না। হওয়া বোধহয় ঠিকও নয়। ভদ্রলোকের ব্যবহার চমৎকার, কথাবার্তা চমৎকার। কিন্তু তবু আমার ভাল লাগল না। কেন লাগল না তাও বুঝতে পারছি না। ভদ্রলোকের স্ত্রীর নাম হল অহনা। আমি প্ৰথম ভেবেছিলাম–নামি গহনা। পরে শুনি অহনা। নামটা সুন্দর তাই না? এই ভদ্রমহিলার গায়ের রঙ কালো। কালো রঙ্গের মেয়ে যে এত রূপবতী হতে পারে কে জানত–ইনাদের সম্পর্কে তোকে আরো লিখব। আপাতত এইটুক।
    তোদের কথা আমি কিছুই জানতে চাচ্ছি না
    । জানি তুই নিজ থেকেই সব লিখবি। কিছুই বাদ দিবি না।
    তোকে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দেয়া দরকার
    । সুটকেস খুলে দেখি লাইব্রেরি থাকে আনা উপন্যাসটা তিথির নীল তোয়ালে। তুই স্যুটকেসে দিয়ে দিয়েছিস। বই পড়ার সময় পাচ্ছি না। কাহিনী কি তাও ভুলে গেছি। আবার গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। তোর চোখ কান এতটা খোলা তা বুঝতে পারি নি। তোর এত বুদ্ধি কেন?
    ভাল থাকিস
    । ইতি তোর আপা।

    ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত দুটা দশ। ও বিছানায় শুয়ে ঘুমুচ্ছে। বারান্দায় দরজা খোলা। তাকে যতটা সাবধানী এবং গোছানো বলে মনে হচ্ছিল। আসলে সে ততটা না। বারান্দার দরজা খোলা রেখে সে ঘুমাতো না।

    আমি বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। চাঁদের আলো পড়েছে বারান্দায়। সরল ধরনের আলো আসত। সে রকম জটিল নকশাদার আলো নয়। ও জেগে থাকলে তাকে নিয়ে কিছুক্ষণ বারান্দায় বসা যেত। এমন চট করে ঘুমিয়ে পড়বে তা ভাবি নি। ওকে কি ডেকে তুলব?

    আমি এসে তার গায়ে হাত রাখলাম। সে পাথরের মত হয়ে আছে। ঘুমন্ত মানুষের গা স্পর্শ করলে সে একটু না একটু নড়ে উঠবেই। নোমান নড়ল না। সমান তালে তার নিঃশ্বাস পড়তে লাগল। আমরা দুজন পাশাপাশি হয়ে আছি। ওর গায়ের পুরুষ পুরুষ ঘামের গন্ধে আমি কি অভ্যস্ত হয়ে গেছি? আজতো তেমন খারাপ লাগছে না। বরং ইচ্ছা করছে। ওর গা ঘেঁসে ঘুমুতে। একটা হাত ওর শরীরে তুলে দিলে ওকি জেগে উঠবে? না-কি ঘুমের ঘোরে সে হাত সরিয়ে দেবে? দীর্ঘদিন ধরে সে নিশ্চয়ই একা একা ঘুমুচ্ছে। একা ঘুমিয়েই সে অভ্যস্ত। শরীরের উপর একটা বাড়তি হাতের চাপ কি সে সহ্য করবে?

    জানালা গলে চাঁদের আলো আমাদের হাঁটুর উপর এসে পড়েছে। শরীরের একটি অংশ আলোকিত হয়ে আছে। নোমান বিড়বিড় করে কি যেন বলছে। দুঃস্বপ্ন দেখছে কি? বারান্দায় কালো কাপড়ে ঢাকা ময়নাটাও ছটফট করছে। কে জানে হয়ত এরা দুজন একই সঙ্গে একটা দুঃস্বপ্ন দেখছে। পাখিদের স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্ন বলে কি কিছু আছে?

    আমি ওর গা থেকে হাত সরিয়ে নিজের মত শুয়ে পড়লাম। শাড়ির আঁচলে শরীর ঢেকে শোয়া। পাশ ফিরতেই খাট নড়ে উঠল। এই খাটের পায়াগুলো সমান না, বড় ছোট আছে। একটু নড়লেই খটখট শব্দ হয়। আমি একটা হাত ওর গায়ে রাখলাম ও ধড়মড় করে উঠে বসে ভয়ার্তা গলায় বলল, কে?

    আমি বললাম, কেউ না। তুমি ঘুমাও।

    সে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ল। আবার তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। সে যে উঠে বসে, কে বলে চেঁচিয়েছে তা ঘুমের মধ্যেই করেছে। ঘুমন্ত মানুষের আচার-আচরণ আমার মত ভাল কেউ জানে না। রাতের পর রাত আমি অম্বুমো কাটিয়েছি। আমার পাশে শুয়ে ঘুমিয়েছে ইরা। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি— ঘুমন্ত মানুষ কি করে। ঘুমন্ত মানুষের আচার আরণের ব্যাপারে আমাকে একজন এক্সপার্ট বলা যেতে পারে।

    আজো ঘুম আসছে না। প্রচণ্ড ইচ্ছা করছে। ওকে ডেকে তুলে বলি–এই শোন আমার ঘুম আসছে না। আমার খুব খারাপ ধরনের একটা অসুখ আছে। আমার রাতে ঘুম হয় না। একা একা জেগে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয়। তুমি এসে আমার সঙ্গে বারান্দায় খানিকক্ষণ বস। আমার জীবনের ভয়াবহ একটা গল্প আছে। গল্পটা এখনো তোমাকে বলা হয় নি–আজ খানিকটা বলব।

    চাঁদের আলো ওর হাঁটুর উপর থেকে সরে গেছে। এখন আলো এসে পড়েছে বিছানার উপর। যেন টর্চ ফেলে ফেলে কেউ বিছানাটা পরীক্ষা করছে।

    আমি উঠে বসলাম। খাটটা আবার ক্যাচ করে শব্দ করে উঠল। ও বলল, কে? আমি এবার কোন জবাব দিলাম না। ও আবারো গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়ল। খাঁচার ময়না পাখি খচ খচ শব্দ করছে।–

    আশ্চর্যের ব্যাপার আমাদের স্যারেরও একটা পাখি ছিল। তিনি একটা কাক পুষেছিলেন। তার কোন খাঁচা ছিল না। কাকটা এসে প্রায় সারাদিনই রেলিং-এ বসে থাকত। কাকটার বোধহয় বয়স হয়ে গিয়েছিল। খাবার খুঁজে বেড়াবার সামর্থ্য ছিল না। কিংবা কে জানে হয়ত স্যারকে তার পছন্দ হয়েছিল।

    স্যার যখন আমাদের বাড়িতে থাকতে এলেন তখন ব্যাপারটা আমার তেমন পছন্দ হয় নি। মৌলানা। টাইপের একজন লোক বাসায় থাকবে। নানা ধরনের উপদেশ দেবে। কি দরকার? বাড়ি ভাড়া দিয়ে আমাদের যে টাকা পেতে হবে এমনও না। কিন্তু বাবার তাকে খুব পছন্দ হয়ে গেল। তিনি দরাজ গলায় বললেন, সুফি টাইপের একজন মানুষ থাকছে। থাক না। অসুবিধা কি? পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে। আল্লাহ বিল্লাহ করবে। এই বাড়ি থেকেতো আল্লাহ খোদার নাম উঠেই গেছে।

    মা ক্ষীণ গলায় বললেন, বাইরের একজন মানুষ!

    বাবা বিরক্ত গলায় বললেন, সেতো আর তোমার বিছানায় এসে শুয়ে থাকবে না। সে থাকবে তার মত। উত্তরের দরজাটা পার্মানেন্ট বন্ধ করে দিলেই সে আলাদা হয়ে যাবে। নিজের মত থাকবে। নিজে রান্না করে খাবে।

    উত্তরের দরজা আমরা ভেতর থেকে বন্ধ করে স্যারকে থাকতে দিলাম। তিনি তাঁর জিনিসপত্র নিয়ে একদিন দুপুর বেলা দুটা রিকশা করে উপস্থিত।

    প্রথম কিছুদিন আমি শঙ্কিত ছিলাম— হয়ত যখন স্যারকে দেখা যাবে আমাদের বসার ঘরে বসে আছেন। হয়ত ছাদে গিয়েছি দেখব জায়নামাজ হাতে তিনিও ছাদে উঠে এসেছেন নামায পড়ার জন্যে। কিংবা কলেজে দেখা হলে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে বলবেন, এই যে নবনী খবর কি? আর ক্লাসের সব ছাত্রী আমাকে ক্ষেপাবে।

    বাস্তবে তার কিছুই হল না। স্যার কলেজে যান। কলেজ থেকে ফিরে বাসায় আসেন। আর তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। আমাদের বাড়ির একটা অংশে যে একজন মানুষ বাস করে তা মনেই হয় না। শুধু ছাদ থেকে আমি মাঝে মাঝে দেখি তিনি বারান্দায় রান্না চড়িয়েছেন। একদিন তাঁর পোষা কাকটাকে দেখলাম। শুরুতে কাকটা রেলিং-এ বসেছিল। তারপর রেলিং থেকে নেমে গম্ভীর ভঙ্গিতে হেঁটে স্যারের পাশে বসে থাকল। ভাবটা এ রকম যেন সেও রান্নাবান্না তদারক করছে। এরকম মজার দৃশ্য আমি আমার জীবনে আর দেখি নি।

    আমি যখনই ছাদে উঠতাম কিছুটা সময় কাটাতাম কাকটাকে দেখার জন্যে। কি করে সে এ বাড়ির একজন সদস্যের মত চলাফেরা করে। গম্ভীর তার ভাবভঙ্গি।

    একদিন ছাদে গিয়ে যথারীতি উঁকি দিয়েছি–দেখি বাঁশের চাটাই দিয়ে বারান্দার অংশটা ঢাকা। ছাদ থেকে বারান্দা দেখার কোনই উপায় নেই। আমার খুব মেজাজ খারাপ হল। কাণ্ডটা নিশ্চয়ই স্যার করেছেন। যাতে বারান্দা থেকে তাকে একজন তরুণী মেয়ের মুখ দেখতে না হয়। ধর্মে বাধা নিষেধ আছে। আমার কাছে মনে হল তিনি ইচ্ছা করে আমাকে অপমান করলেন।

    সেদিন সন্ধ্যায়। মা তালের পিঠা করেছেন। ইরাকে বললেন, মাস্টার সাহেবকে কয়েকটা পিঠা দিয়ে আয়তো ইরা। বেচারা একা একা থাকে। কি খায় না খায় কে জানে? ইরা বলল, আমি পারব না। আপাকে পিঠা নিয়ে যেতে বল। ওর কলেজের স্যার। ওরই নিয়ে যাওয়া উচিত।

    আমি আপত্তি করলাম না। স্যারকে কিছু কঠিন কথা শুনাতে ইচ্ছা করছিল। পিঠা দিতে গিয়ে সেই কথাগুলো শুনিয়ে আসা যাবে।

    স্যার আমাকে দেখে এতাই অবাক হলেন যে বলার কথা নয়। যেন এ রকম অস্বাভাবিক ঘটনা। এর আগে তাঁর জীবনে কখনো ঘটে নি। আমি বললাম, স্যার মা আপনার জন্যে কিছু তালের পিঠা পাঠিয়েছেন।

    তিনি হড়বড় করে বললেন, শুকরিয়া। শুকরিয়া। তোমার মাকে হাজার শুকরিয়া।

    স্যার আমাকে বসতে বলছেন না। আমি যে কথাগুলো বলব বলে ভেবে এসেছি সেগুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলে চলে যাওয়া যায় না। আমাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বসতে হবে। আমি বললাম, স্যার আমি কি কিছুক্ষণের জন্যে আপনার এখানে বসতে পারি?

    অবশ্যই পার। বোস। বোস।

    তিনি অতিরিক্ত রকমের ব্যস্ত হয় পড়লেন। নিজেই ছুটে গিয়ে বারান্দা থেকে চেয়ার নিয়ে এলেন। আমি বসলাম না। কঠিন গলায় বললাম, স্যার বসতে ভয় লাগছে। আমারতো বোরকা পরা নেই। এইভাবে আপনার সামনে আসাই হয়ত ঠিক হয় নি। মা পিঠা দিয়ে যেতে বললেন বলেই এসেছি। নয়ত আসতাম না। আপনাকে বিব্রত করার আমার কোন ইচ্ছা নেই।

    আমি বিব্রত হচ্ছি না।

    অবশ্যই হচ্ছেন। বিব্রত না হলে বারান্দায় চাটাইয়ের বেড়া দিতেন না। এই কাণ্ডটা করেছেন কারণ চাটাইয়ের বেড়াটা না দিলে বোরকা নেই এমন একটা মেয়েকে মাঝে মাঝে আপনার দেখতে হয়। বিরাট একটা পাপ হয়। এত বড় পাপের শাস্তি হল দোজখ। আমাকে দেখার কারণে আপনি দোজখে যাবেন তা-কি হয়? দোজখে সুন্দর সুন্দর পরী অপেক্ষা করছে।

    আমি এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে শেষ করলাম। কঠিন কিছু কথা বলার ছিল বলতে পারলাম না, কারণ আমি দেখলাম। তিনি খুবই দুঃখিত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি বললাম, স্যার যাই।

    তিনি বললেন, একটু বোস। এক মিনিট। আমার উপর এরকম রাগ করে চলে গেলে আমার খারাপ লাগবে। একটু বসে যাও।

    আমি বসলাম।

    তিনি বললেন–চাটাইয়ের বেড়াটা আমি আমার জন্যে দেই নি। তোমার জন্যে দিয়েছি। আমার মনে হয়েছিল–তোমার একা একা ছাদে হাঁটার অভ্যাস— আমার জন্যে স্বাধীনভাবে তা করতে পারছ না। তোমাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবার জন্যেই এটা করেছি। তুমি যে এমন রেগে যাবে বুঝতে পারি নি। তোমর রাগ কি একটু কমেছে?

    আমি কিছু বললাম না। তিনি যেন নিজের মনে কথা বলছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন–বোরকা নিয়ে তোমার মনে বড় ধরনের ক্ষোভ আছে বলে মনে হয়। এরকম থাকা উচিত না। আমাদের প্রফেটের সময়ের যুগটা ছিল আলমে জাহিলিয়াতে যুগ। মানুষের প্রবৃত্তি ছিল পশুদের কাছাকাছি। মেয়েরা রাস্তায় বের হলে মানুষেরা নানাভাবে তাদের উত্যক্ত করত। মেয়েরাও যে ছেলেদের চেয়ে আলাদা ছিল তা না। তারাও এতে মজা পেত। তারাও চাইতো যেন পুরুষরা তাদের উত্যক্ত করে, তাদেরকে দেখে অশ্ৰীল অঙ্গ ভঙ্গি করে। কারণ যুগটাই হচ্ছে পশুত্বের যুগ। কাজেই আমাদের নবী এমন একটা ব্যবস্থা করলেন যাতে সবাই বুঝতে পারে— মুসলমান মেয়েরা অন্যদের মত না। তারা পবিত্র। তারা আলাদা। তাদেরকে নিয়ে এসব করা যাবে না। তারা তা চায়ও না। কাজেই নবী আদেশ দিলেন মেয়েরা যেন চাদরে তাদের শরীর ঢেকে নিজেদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে ফেলে। চাদরে ঢাকা একটা মেয়ে দেখলে সবাই যেন বোঝে এই মেয়ে আর দশটা মেয়ের মত না। এর সঙ্গে ভদ্র আচরণ করতে হবে। তুমি কি বুঝতে পারছি নবনী?

    আমি কিছু বললাম না। স্যার বললেন, বেহেশতে পরী পাওয়া সম্পর্কে তুমি যা বললে সেটা নিয়েও কথা আছে। তুমি যেমন স্থূলভাবে বললে তা কিন্তু না। পরে তোমাকে বুঝিয়ে বলব।

    আমাকে বুঝিয়ে বলার কোন দরকার নেই। আপনি বুঝলেই হল।

    আমি দাঁড়ালাম। স্যার হেসে ফেললেন। এত সুন্দর করে আমি বোধহয় কাউকে হাসতে দেখি নি। আমার সারা শরীর ঝনঝনি করে উঠল। ঘণ্টা বেজে উঠার মত শব্দ। এই ঘণ্টা সর্বনাশের ঘণ্টা। আমি প্ৰায় ছুটে চলে এলাম। মেয়েরা ঠিক কিভাবে ছেলেদের প্রেমে পড়ে? একজনের প্রতি অন্যজনের তীব্র আকর্ষণটা কিভাবে তৈরি হয়। গল্প উপন্যাসের ব্যাপার। আর বাস্তবের ব্যাপার কি এক রকম না আলাদা? প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তার ভালবাসও কি আলাদা?

    একজন আরেকজনকে দেখেই পাগলের মত হয়ে গেল এমনকি সত্যি কখনো হয়েছে? না-কি এগুলি শুধু কথার কথা?

    আমার কি হয়েছে? আমি কি এই মানুষটির প্রেমে পড়ে গেছি? প্রেমের মত কি আছে। এই মানুষটার? মানুষটি যদি বিবাহিত হত, তার কয়েকটা ছেলেমেয়ে থাকতো তাহলেও কি আমি ঠিক এইভাবেই আকৰ্ষিত হতাম।

    সারারাত আমার ঘুম হল না। জীবনে এই প্রথম আমার ঘুমহীন রাত্রি যাপন। কি যে এক ভয়ঙ্কর কষ্ট। বিছানায় এপাশ ও পাশ করছি আর ভাবছি ভোর হচ্ছে না কেন? ভোর হোক। মনে হচ্ছে ভোর হলে আমার কষ্টটা কমবে।

    সূৰ্য উঠার আগে আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম। দরজা খুলে বারান্দায় এসে দেখি মা ফজরের নামাযের জন্যে অজু করছেন। আমাকে দেখে বললেন, কিরে আজ এত সকালে ঘুম ভাঙলো যে।

    একবার ভোরবেলা উঠে দেখলাম কেমন লাগে।

    রোজ ভোরে উঠে ছাদে ঘোরাঘুরি করবি দেখবি শরীরটা কেমন ভাল লাগে।

    তুমি তাই কর না-কি মা?

    হুঁ। তোরা ছাদে যাস সন্ধ্যাবেলায় আমি যাই ভোরবেলায়।

    মা আনন্দিত ভঙ্গিতে হাসছেন। আমি ছাদে চলে গেলাম। সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় মনে হতে লাগল আচ্ছা ছাদে উঠে যদি দেখি স্যার ছাদে হাঁটাহাঁটি করছেন। তাহলে কি হবে? ব্যাপারটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। খুবই স্বাভাবিক। উনি নিশ্চয়ই নামায পড়ার জন্যে ভোরবেলায় উঠেছেন। একবার উঠলে ছাদে কি আর যাবেন না। এত সুন্দর একটা ছাদ।

    ছাদে কাউকে পেলাম না। আশাভঙ্গের তীব্ৰ কষ্টে প্রায় কান্না পাওয়ার মত হয়ে গেল। আমার ইচ্ছা করতে লাগল–এক্ষুণি ছুটে গিয়ে উনার দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলি– স্যার আমাদের ছাদটা খুব সুন্দর। আসুন আপনাকে দেখাই। এখন থেকে রোজ ভোরবেলা ছাদে বেড়াতে আসবেন। এতে আপনার শরীর খুব ভাল থাকবে।

    সিঁড়িতে কার পায়ের শব্দ। উনি কি আসছেন। ছাদে? অবশ্যই আসছেন। উনি ছাড়া আর কে হবে? আমি আমার শাড়িটার দিকে তাকালাম। বেছে বেছে আজকের দিনে আমি এমন একটা বাজে শাড়ি পরেছি। আচ্ছা আমার চোখে ময়লা জমে নেইতো? আমার বুক ধ্বক ধ্বক করছে। কি বলব আমি স্যারকে?

    না। স্যার না। মা এসেছেন। মার হাতে দুকাপ চা। আমার জন্যে চা এনেছেন। এত ভাল আমার মা কিন্তু সেদিন ভোরবেলায় মাকে দেখে মনটা ভেঙে গেল। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করল, তুমি এসেছ কেন মা? কেন তুমি এসেছ? কে তোমাকে আসতে বলেছ?…

    চাঁদের আলো খাট থেকে নেমে গেছে। নোমানের ঘুম ভেঙে গেছে। সে উঠে বসতে বসতে অবাক হয়ে বলল, কি হয়েছে?

    আমি বললাম, কিছু হয় নি?

    ঘুমুচ্ছ না?

    না। আমার ঘুম আসছে না।

    শরীর খারাপ করেছে না-কি?

    জ্বর? সে হাত বাড়িয়ে আমার কপাল স্পর্শ করল। আহ তার হাতটা কি ঠাণ্ডা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনক্ষত্রের রাত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article নলিনী বাবু B.Sc. – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }