Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নবনী – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. ড্রেসিং টেবিল

    আমাদের ড্রেসিং টেবিলটা চলে এসেছে। গাবদা ধরনের একটা জিনিস। আয়নাটাও বোধহয় সস্তা— মুখ কেমন বাঁকা দেখা যায়। যে পালিশের জন্যে এতদিন দেরী হল সেই পালিশে ড্রেসিং টেবিলের কোন উন্নতি বলে মনে হল না। ম্যাট ম্যাটে রঙ।

    নোমান হাসি মুখে বলল, কি জিনিসটা সুন্দর না?

    আমি বললাম, সুন্দর। খুব সুন্দর।

    সস্তায় পেয়ে গেছি। সেগুন কাঠ। ঘুণ ধরবে না। দুশ বছর পরেও কিছু उश नां।।

    আমি বললাম, দুশ বছর পর্যন্ত আমাদের কোন ড্রেসিং টেবিল কিনতে হবে। না। এটা দিয়েই চালিয়ে দেব।

    সে তাকিয়ে রইল। তার চোখে মুখে অস্বস্তি। আমার রসিকতটা বোধহয় বুঝতে পারছে না। এটা দোষের কিছু না। অধিকাংশ মানুষই রসিকতা বুঝতে পারে না। আমার বাবাও পারেন না। অথচ তিনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান।

    নোমানকেও আমার বুদ্ধিমান মনে হয়। সরল ধরনের বুদ্ধি। এই জাতীয় বুদ্ধির মানুষ রসিকতা করতেও পারে না। রসিকতা বুঝতেও পারে না। এরা খুব কর্মঠ হয়। বিশ্বস্ত হয়। এরা যে প্রতিষ্ঠানেই কাজ করে সেই প্রতিষ্ঠানের জন্যেই অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে তাদের কোন উন্নতি হয় না। নিজের অবস্থার উন্নতির জন্যে এদের মাথা ব্যথা থাকে না। এরা অল্পতেই তুষ্ট।

    ড্রেসিং টেবিলটা ঘরে আসার পর থেকে তার হাসিমুখ দেখে আমার খুব মজা লাগছে। এর মধ্যে গামছা দিয়ে সে দুবার এটা মুছল। কাছ থেকে, দূর থেকে নানান ভঙ্গিমায় নিজেকে দেখল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খুব কায়দা করে চুল আঁচড়াল তার চুল আঁচড়ানোই ছিল— দুই হাতে সেই চুল আউলা ঝাউলা করে আবার আঁচড়াল। আশ্চর্য ছেলেমানুষী।

    নবনী।

    বল।

    ড্রেসিং টেবিলের জন্যে একটা ঢাকনি বানানো দরকার। নয়ত ধুলা পড়ে পালিশ নষ্ট হয়ে যাবে।

    ড্রেসিং টেবিলে ঢাকনি থাকে না।

    কে বলল থাকে না। ড্রেসিং টেবিলে ঢাকনি বেশি দরকার। রাতের বেলা আয়না ঢেকে রাখতে হয়। রাতের বেলা আয়নায় মুখ দেখা খুবই অলক্ষণ। তুমি বোধহয় এসব বিশ্বাস কর না?

    না।

    পামিস্ট্রি বিশ্বাস কর? হাত দেখা।

    না।

    অহনা আবার এসব খুব বিশ্বাস করে। কেউ হাত দেখতে জানে বললেই হল সে হাত মেলে দিবে।

    ও আচ্ছা।

    একবার সে খবর পেয়েছে হ্নীলা বলে একটা জায়গা আছে সেখানে খুব বড় একজন পামিস্ট্র থাকেন। যুগানন্দ আচার্য। স্কুলের সংস্কৃতের টিচার। সে সেখানে যাবেই। সফিক বিরক্ত হয়ে বলল, নোমান তুই ওকে নিয়ে যা। ঝামেলা চুকিয়ে আয়।

    তুমি নিয়ে গেলে?

    না নিয়ে উপায় আছে? অহনা মুখ দিয়ে যা বলবে তা করে ছাড়বে। সে বিরাট ইতিহাস। জায়গাটা হল টেকনাফের কাছাকাছি। অতি দুৰ্গম। আমি মাইক্ৰবাস নিয়ে আগে চলে গেলাম। অহনা প্লেনে করে গেল কক্সবাজার। সেখান থেকে ওকে নিয়ে মাইক্রবাসে করে রওনা হলাম। রাস্তা গেছে পানিতে ডুবে। রাস্তার দুই ধারে লাল ফ্ল্যাগ পুঁতে রেখেছে। ফ্ল্যাগ দেখে দেখে যাওয়া। এর মধ্যে টায়ার গেল পাংচার হয়ে।

    শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল যুগান্দ আচার্যকে?

    মজাতো এই খানেই। কেউ এই লোকের নামও শুনে নাই। স্কুলই নেই। স্কুল টিচার কোত্থেকে আসবে?

    তোমরা কি করলে ফিরে এলে?

    ফিরে আসব কি করে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ঐ সব অঞ্চলে সন্ধ্যার পর গাড়ি ঘোড়া চলে না। ডাকাত পড়ে। তারচেয়ে বড় কথা কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে বুনো হাতি নেমেছে, তিনটা মানুষ মেরেছে। আমারতো মাথায় বাড়ি। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। হোটেল নেই রেস্ট হাউস নেই। কিছুই নেই। গেলাম টেকনাফ। সেখানে বনবিভাগের একটা রেষ্ট হাউস পাওয়া গেল। একটাই রুম। আহনাকে সেখানে রেখে আমি মাইক্রবাসের ভেতর শুয়ে আছি। খবর পাওয়া গেছে রাস্তায় হাতি নেমে গেছে। সব বাতি টাতি নিভিয়ে দিতে বলেছে। বাতি দেখলেই না-কি হাতি ছুটে আসে। কত কাণ্ড! চা করতো নবনী।

    চা খাই! আর তুমি এক কাজ কর পাউডার টাউডার এইসব দিয়ে ড্রেসিং টেবিলটা সুন্দর করে সাজাও অহনা দেখতে আসবে।

    উনি এই ড্রেসিং টেবিল দেখতে আসবেন?

    হ্যাঁ। তাকেও বলেছি।

    ভাল করেছ।

    আমি চা বানাতে গেলাম। নোমান একটা মোড়া নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে রইল। আনন্দিত মুখ, সুখী সুখী চেহারা।

    আজ তার অফিস আছে। অথচ সারাদিন দিব্যি অফিস বাদ দিয়ে ঘরে বসে আছে। অফিসে তার কাজটা কি আমি জানি না। আমার ক্ষীণ সন্দেহ তার প্রধান কাজ বন্ধুর সঙ্গে সঙ্গে থাকা। ফুট ফরমাশ খাটা। একদিন জিজ্ঞেসও করেছিলাম–অফিসে তোমার কাজটা কি বলতো?

    সে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। যেন খুব বোকার মত প্রশ্ন করেছি। তারপর গম্ভীর মুখে বলল, যখন যে কাজ দেয় সেটাই করতে হয়। ধরা বাধা কিছু না। এড ফ্লিম করার জন্যে আর্টিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ তাদের আনা নেয়া–কাজের কি শেষ আছে? প্রয়োজনে লাইটবয়ের কাজও করতে হয়।

    সেটা কি?

    আর্টিস্টের উপর লাইট ফেলা।

    ও আচ্ছা। খুব কঠিন কাজ?

    দেখে মনে হবে খুব সহজ কাজ আসলে তা না। কঠিন আছে। টেকনিক্যাল কাজ সবই কঠিন।

    তুমি যে কাজটা কর সেটার নাম কি?

    তোমার কথাই বুঝতে পারছি না— নাম আবার কি?

    অফিসে কত রকম পোস্ট আছে–কেউ ম্যানেজার, কেউ সুপারভাইজার, কেউ ক্যাশিয়ার, হেড ক্লার্ক… তুমি কি?

    ও আমার অজ্ঞতায় হো হো করে কিছুক্ষণ হেসে বলল— আমাদের এসব কিছু নেই। তবে আমার বেতন হয় অহনার পি এ এই খাতে।

    তুমি অহনার পি এ?

    কাগজে কলমে তাই। আসলে অফিসের কাজ করে ফুরসুত পাই না।

    আজ অফিসে গেলে না? আমার হল স্বাধীন চাকরির মত— ইচ্ছা হল গেলাম ইচ্ছা হল গেলাম না। আজ ছুটি নিলাম। চল বিকালে তোমাকে নিয়ে বের হব মিরপুরের দিকে যাব।

    তুমি না বললে— অহনা আসবেন।

    সে এলেও আসবে রাত নটার পরে। তার লেডিস ক্লাবের মিটিং আছে।

    অহনার সঙ্গে তার স্বামীর যে সমস্যা ছিল সেটা মিটে গেছে?

    হুঁ মিটে গেছে। এখন আবার গলায় গলায় ভাব।

    তোমাদের ছবির স্যুটিং শুরু হবে না?

    হবে। এইবার তোমাকে নিয়ে যাব। তোমার অবশ্যি ভাল লাগবে না। খুবই বিরক্তিকর কাজ। ছবি মানে ধৈর্য পরীক্ষা আর কিছু না।

    চা খেতে খেতে নোমান বলল, কাপড় পরে নাও চল ঘুরে আসি।

    কোথায় যাবে চিড়িয়াখানায়?

    হ্যাঁ। আর কোথায়? এই পর্যন্ত আমরা ছবার বাইরে গেছি। এই ছবারের মধ্যে পাঁচবারই গিয়েছি চিড়িয়াখানায়। খানিকক্ষণ ঘুরেই সে এসে দাঁড়াবে বান্দরের খাঁচার সামনে। মুগ্ধ বিস্ময়ে বলবে–কি আজিব জানোয়ার। সে অবাক হয়ে আজিব জানোয়ার দেখে, আমি দেখি তাকে। বাঁদরদের সঙ্গে সে নানা কথাবার্তা বলে সেইসব শুনতেও মজা লাগে।

    এই লাফ দে। লাফ দে… কিচ কিচ কিচ… ঐ লম্বুটার ল্যাজ ধরে টান মার না। দেখছিস কি? আবার দেখি হাসে… কিচ কিচ কিচ…

    আমাদের চিড়িয়াখানায় যাওয়া হল না। কাপড় চোপড় পরে বেরুবার মুখে অহনা এসে উপস্থিত হলেন। চোখ ধাঁধানো উগ্ৰ পোশাক। শাড়ি এমন পাতলা যে এই শাড়ি গায়ে থাকা না থাকা অর্থহীন। ব্লাউজটিও ভিন্ন ধরনের কাচুলী জাতীয়–নাচের মেয়েরা বোধহয় এরকম পরে। ঠোঁটে তিনি এমন লিপিষ্টিক মেখেছেন যে দেখে মনে হয় ঠোঁটে আগুন লেগে গেছে। এমন আগুন রঙা লিপিষ্টিক আমি আগে দেখি নি। অহনা এসেছেন নোমানের ড্রেসিং টেবিল দেখতে। তিনি নানা দিক থেকে ঘুরে ফিরে ড্রেসিং টেবিল দেখলেন। মুগ্ধ স্বরে বললেন, অপূর্ব!

    নোমান বলল, অরিজিনাল সেগুন কাঠ দুশ বছরেও কিছু হবে না।

    অহনা বললেন, সেগুন কাঠ ছাড়া এত ভাল পালিশ হত না। অদ্ভুত সুন্দর। আয়নাটায় একটু ঢেউ ঢেউ ভাব আছে। এটা এমন কিছু না।

    অহনা আমাদের খাটে পা বুলিয়ে বসলেন। পা দুলাতে দুলাতে বললেন, নোমান জিলাপী খাব। তোমার সেই বিখ্যাত জিলাপী নিয়ে এসো। ভাল কথা তোমরা কি কোথাও বেরুচ্ছিলে?

    হুঁ। আরেকদিন যাব অসুবিধা নেই।

    যাচ্ছিলে কোথায়? বাঁদর দেখতে নিশ্চয়ই। বাঁদর দেখা মোটেই জরুরি নয়। আমি খুব জরুরি কাজ নিয়ে এসেছি। গোরানে একজন পামিস্ট আছে। আমি ঠিকানা নিয়ে এসেছি। তুমি আমাকে তার কাছে নিয়ে যাবে। পারবে না?

    অবশ্যই পারব।

    অহনা আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললেন, আপনার স্বামীকে কিছুক্ষণের জন্যে ধার নিচ্ছি। পামিস্টের কথা শুনলে আমার আবার মাথায় ঠিক থাকে না। আমার পামিস্ট প্রীতির কথা নোমান আপনাকে বলে নি?

    বলেছে।

    পামিস্ট নিয়ে আমার অসংখ্য গল্প আছে। কিছু কিছু বোধহয় শুনেছেন। হীলাতে পামিষ্টের খোজে গিয়ে যে পাগলা হাতির খপ্পরে পড়েছিলাম। সেই গল্প শুনেছেন?

    শুনেছি।

    অহনা পা দুলিয়ে দুলিয়ে অনেকক্ষণ গল্প করলেন। জিলাপী খেলেন চা খেলেন। মদিনার সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্প করলেন, ময়নাটার সঙ্গেও কিছু কথা বললেন। খাঁচাটাকে দোলা দিয়ে বললেন, এই ময়না বল দেখি, অহনা! অহনা! অহনা।

    ময়না সঙ্গে সঙ্গে বলল, অহনা! অহনা! আহনা!

    যাবার সময় তিনি মদিনাকে একটা পাঁচশ টাকার নোট দিয়ে গেলেন। মদিনা সারা সন্ধ্যা এই নোট হাতে বারান্দায় স্থানুর মত বসে রইল।

     

    মদিনা তার পাঁচশ টাকার নোট নিয়ে চোখ-মুখ শক্ত করে বারান্দায় বসে আছে। আমি চলে এসেছি ছাদে। এই বাড়িটার ছাদটায় ওঠা এক সমস্যা। খানিকটা অংশ দেয়ালের গায়ে আটকানো খাড়া লোহার সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়। শুরুতে এই ছাদটা আমার পছন্দ হয় নি। এখন পছন্দ। খুব নিরিবিলি। হঠাৎ কেউ ছাদে উঠে আসবে সে সম্ভাবনা নেই। কেউ আসবে না। তাছাড়া বাড়ির চারদিকে পুরানো পুরানো গাছ আছে বলেই ছাদটায় এক ধরনের আব্রু আছে।

    ইরার গল্পের বইটা এক হাতে নিয়ে বেশ ঝামেলা করে ছাদে উঠলাম। গল্পের বই পড়ার জন্য ছাদে আমি সুন্দর একটা জায়গা বের করেছি। পশ্চিম দিকের ছাদে পানির ট্যাঙ্কে হেলান দিয়ে বসলেই হয়। খুব সুন্দর জায়গা। মজার ব্যাপার হচ্ছে বই পড়ার এত সুন্দর জায়গা থাকলেও আমি এখন এখন পর্যন্ত একটা বইও পড়ে শেষ করতে পারি নি। তিথির নীল তোয়ালে বইটা কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরই হাই উঠে। বই বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকি। হাতে একটি বই থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সব সময় মনে হবে। আমি অকারণে বসে নেই। আমার একটা কাজ আছে।

    আমি পানির ট্যাঙ্কে হেলান দিয়ে বসে আছি। গাছের মাথায় রোদ এখনো ঘণ্টা খানিক সময় আছে। বইটা খুলতেই ইরার চিঠি বের হয়ে এল। অবস্থা এমন হয়েছে যে, সে প্রতিদিনই একটা করে চিঠি দিচ্ছে। এটা সর্বশেষ চিঠি কিনা বুঝতে পারছি না। ইরা চিঠিতে তারিখ থাকে না।

    আপা,
    তোমার কি হয়েছে বলা তো? তোমাকে এত করে আসতে লিখলাম, আসলে না। বড় মামা প্ৰচণ্ড জ্বর নিয়ে তোমার ওখান থেকে গেলেন। খুব ভুগলেন। প্রায় যমে-মানুষে টানাটানি। তুমি মামাকেও চিঠি দাও নি। আমাকে সেই যে প্ৰথম একটা চিঠি লিখলে তারপর আর না। বাবাকে দায়সারা গোছের একটা চিঠি দিয়েছ। বড় মামার ধারণা–তুমি সবার উপর রাগ করে আছ, কারণ তোমাকে গরিব ধরনের একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছে। আসল কারণটা কি আপা বলা তো? আমি ভাইয়াকে বলেছি আমাকে তোমার ওখানে নিয়ে যেতে। আমি নিজের চোখে দেখতে চাই ব্যাপারাটা কি | ভাইয়া প্ৰতিবারই বলে— আচ্ছা। আচ্ছা। ফুটবল খেলতে গিয়ে সে। মাথায় চোট পেয়েছে বলেছিলাম না? এখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার কোমরে কি না-কি হয়েছে। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়। বাঁকা হয়ে হাঁটে। ঐ দিন বাবা কি কারণে ভাইয়্যার উপর রাগ করে। বললেন, এই যে বক্রবার, শুনে যাও। এতে ভাইয়ার খুব লেগেছে। সে
     বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে গেছে। তার এক বন্ধু আছে— সজল। এখন তাদের বাড়িতে থাকে। মাঝে মাঝে বাঁকা হয়ে আমাদের দেখতে আসে। আমার বিয়ের ব্যাপারে যে কথাবার্তা হচ্ছিল তা আরো কিছুদূর এগিয়েছে। জামালপুর থেকে বরের বোন আমাকে দেখতে এলেন। ওজন পাঁচ মণের কাছাকাছি। আমাদের খাটে বসলেন। খাটে মটমট শব্দ হতে লাগল। আমি ভাবছি সর্বনাশ! এখন উনি যদি খাট ভেঙে পড়েন তাহলে আমাদের খাঁটও যাবে বিয়েও যাবে। যাই হোক, খাট ভাঙে নি। তবে বিয়ে ভেঙে গেছে। ভদ্রমহিলার আমাকে পছন্দ হয় নি। কাজেই, আপা, তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছি বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় আমার মন খারাপ। তোমার পায়ে পড়ি, আমার মন ঠিক করার জন্যে হলেও এসো।
    ইতি
    ইরা!

    পুনশ্চঃ আপা, তুমি আসার সময় অবশ্যি লাইব্রেরির বইটা নিয়ে আসবে। অনেক ফাইন হয়ে গেছে।

    ইরার বিয়ে ভেঙে গেছে–এটা বড় ধরনের দুঃসংবাদ। বিয়ে একবার ভাঙতে শুরু করলে শুধু ভাঙতেই থাকে। তখন বিয়ের কোন সম্বন্ধ এসেছে শুনলেই আতঙ্ক লাগে।

    ইরার বিয়ে কি আমার জন্যে ভাঙল? সে যদিও কিছু লিখে নি তবু আমার তাই ধারণা। তবে আমার বড় মামা যতদিন আছেন। ততদিন কোন চিন্তা নেই। তিনি একের পর এক সম্বন্ধ আনতেই থাকবেন এবং এক শুভলগ্নে দেখা যাবে ইরারও বিয়ে হয়ে গেছে। মামা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলবেন, যাক, দায়িত্ব শেষ হয়েছে।

    এই পৃথিবীতে কেউ কেউ প্রচুর দায়িত্ব নিয়ে জন্মায়, আবার কেউ কেউ জন্মায় কোন রকম দায়-দায়িত্ব ছাড়া। যেমন আমার বাবা। তাঁর জীবনের একমাত্র দায়িত্ব সম্ভবত খবরের কাগজ পড়া। এই দায়িত্বটি তিনি খুব ভালভাবে পালন করেন। ইলেকশনের সময় এলে হঠাৎ দেখা যায় তিনি স্বতন্ত্র দল থেকে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। বাবার যুবক বয়সের কালো চশমা-পরা একটা ছবির পোস্টারে সারা নেত্রকোনা শহর ঢেকে ফেলা হয়। গুণ্ডা-পাণ্ডা ধরনের কিছু ছেলেপুলে এই সময় আমাদের বাড়িতে চা-নাশতা খেতে থাকে এবং হাতখরচ নিতে থাকে। তারা প্ৰত্যেকেই না-কি বিরাট অর্গানাইজার। এতসব অর্গানাইজার চারপাশে নিয়েও বাবা যথারীতি ফেল করেন। বেশির ভাগ সময়ই তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ইলেকশনের রেজাল্টের পর তিনি দরজা বন্ধ করে ঘণ্টা দুইতিনেক শুয়ে থেকে গম্ভীর মুখে মাকে ডেকে বলেন, বুঝলে মিনু, এই দেশে রাজনীতি করে লাভ নেই, বরং ছাতা সেলাই করাতেও লাভ। রাজনীতি আর করব না। হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললাম— No more politics, যে দেশের মানুষ সৎ-অসৎ বুঝে না সেই দেশে কিসের পলিটিকস্?

    মা জানতেন, আমরাও জানতাম, এগুলো বাবার কথার কথা। আবার কোন নির্বাচন চলে আসবে। বাবার চারপাশে কিছু লোকজন জুটে যাবে, যারা খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে বাবাকে বলবে— আরো চৌধুরী সাহেব, আপনি না দাঁড়ালে কে দাঁড়াবে! একটা-দুটা সৎ মানুষ তো থাকা দরকার, যাদের পিছনে আমরা থাকব। সৎ মানুষের সঙ্গে হারাতেও আনন্দ।

    বাবা বলবেন, না না, ইলেকশনের নাম আমি শুনতে চাই না। আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। আমি কানে ধরেছি।

    চৌধুরী সাহেব, আপনার শিক্ষা হলে তো হবে না। দেশবাসীর একটা শিক্ষা হওয়া দরকার। এইবার আমরা জিতে এই শিক্ষাটা দিব।

    না না, টাকা পয়সাও নেই।

    টাকা পয়সা নিয়ে মোটেও চিন্তা করবেন না। দশের লাঠি একের বোঝা। এইবার আমরা পকেট থেকে পয়সা খরচ করে ইলেকশন করব। আপনাকে ঘর থেকে বের হতেও হবে না। আপনি দরজা বন্ধ করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান। দেখেন আমরা কি করি।

    বাবা তখন খানিকটা নরম হয়ে জিজ্ঞেস করেন–দাঁড়াচ্ছে কে কে কিছু খবর পেয়েছ?

    যারা দাঁড়াচ্ছে তারা কেউ আপনার নখের কাছাকাছিও না। আপনার সামনে চেয়ারে বসার যোগ্যতাও তাদের নেই। তারা একটা জিনিসই পারে–রিলিফের গাম বেচে দেয়া। একজনের তো নামই পড়ে গেল আবদুল মজিদ গমচোরা।

    মজিদ ইলেকশন করছে? চক্ষুলজ্জাও দেখি নাই।

    তবে আমরা আপনাকে বলছি কি?

    বাবা নড়েচড়ে বসেন। গলা উঁচিয়ে আমাকে ডাকেন, নবু কইরে, তোর মাকে বল চা বানাতে।

    আমরা বুঝে ফেলি–আবারও বাবা কিছু ধানী জমি বিক্রি করবেন।

    আমার দাদাজান মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অমানুষিক পরিশ্রম করে যে সম্মানজনক বিষয়-সম্পত্তি করে গিয়েছিলেন আমার বাবা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তার সর্বনাশ করে যাচ্ছিলেন। সবই শেষ করে দিতেন, বড় মামার জন্যে পারলেন না। নেত্রকোনায় আমাদের একটা বড় ফার্মেসী, একটা রাইস কল এবং দুটা বাড়ি বাবা অনেক চেষ্টা করেও বিক্রি করতে পারলেন না। পারলেন না মূলত বড় মামার জন্যে। মামা এইসব যক্ষের ধনের মত আগলে রাখতেন। বাবা ভীরু ধরনের মানুষ ছিলেন। বড় মামাকে যমের মত ভয় পেতেন। তাকে অগ্রাহ্য করার মত সাহস তিনি কোনদিনই সঞ্চয় করে উঠতে পারেন নি।

    আমার এই সরল ধরনের রাজনীতি পাগল বাবার কাছে এক সকাল বেলা আমার স্যার উপস্থিত হলেন। বাবা তখন বারান্দায় চায়ের এবং আগের দিনের বাসি কাগজ নিয়ে বসেছেন। স্যার বাবার সামনে বসলেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আপনার কাছে আমার একটা প্ৰস্তাব আছে।

    বাবা খুব উৎসাহের সঙ্গে বললেন, বল। বল।

    আমি আপনার বড় কন্যাকে বিবাহ করতে চাই।

    বাবার মুখ হা হয়ে গেল। তার কোল থেকে খবরের কাগজ মাটিতে পড়ে গেল। এই সম্ভাবনা হয়ত তাঁর কল্পনাতেও ছিল না। বাবা বললেন, কি বললে?

    আমি ওকে অত্যন্ত পছন্দ করি। সেও করে…।

    কি বললে তুমি? নবনী পছন্দ করে। নবনী নবনী…

    বাবা চটি ফটফট করে আমার খোঁজে এলেন। আমি তখন পড়তে বসেছি। বাবা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, মৌলনা এসব কি বলছে?

    আমি শঙ্কিত গলায় বললাম, কি বলছেন?

    তোকে বিয়ে করার কথা বলছেন কেন?

    আমিতো জানি না। বাবা কেন?

    এই হারামজাদার কথায় তো আমার মাথায় রক্ত উঠে গেছে। বলে কি নবনী আমাকে পছন্দ করে। ব্যাটা তুই কোথাকার রসোগোলা যে আমার মেয়ে তোকে পছন্দ করবে? তুই নিজেকে ভাবিস কি? চাল নাই। চুলা নাই। মানুষ হয়েছিস এতিমখানায় তুই কোন সাহসে এত বড় কথা বললি?

    বাবার চিৎকারে মা ছুটে এলেন, ইরা ছুটে এল। আমাদের কাজের মেয়ে বিন্তি এল। মা সব শুনে ভীত গলায়–ও এসব কেন বলছেরে নবনী?

    আমি বিড় বিড় করে বললাম, আমি জানি না মা।

    ইরা বলল, আপা যে উনার কাছে রোজ দুবেলা করে খাবার নিয়ে যায়। এই জন্যেই বোধহয় তাঁর ধারণা হয়েছে আপা তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।

    বাবা বললেন, হাবুডুবু খাওয়া আমি বের করছি। কত বড় সাহস। কানে ধরে আমি তাকে চর্কি ঘুরান ঘুরাব।

    আমি ভীত গলায় বললাম, এইসব করার কোন দরকার নেই বাবা–তুমি উনাকে বড় মামার কথা বল। বলে দাও বিয়ে-টিয়ের ব্যাপার সব বড়মামা জানেন।

    মা বললেন, এইটাই ভাল। লোক জানাজানি করার কোন দরকার নেই। আজেবাজে কথা ছড়াবে।

    বাবা হুংকার দিলেন, ছড়াক কথা। আমি কি কাউকে ভয় পাই?

    নির্বোধ মানুষরা কাউকে ভয় পায় না। যা মনে আসে করে ফেলে। বাবাও তাই করলেন। স্যারের জিনিসপত্র নিজেই ছুড়ে ছুড়ে রাস্তায় ফেলতে লাগলেন।

    চারদিকে লোক জমে গেল। স্যার বললেন, আপনি অকারণে বেশি রকম উত্তেজিত হয়েছেন। আপনি শান্ত হয়ে আমার দুটা কথা শুনুন।

    বাবা হুংকার দিলেন, চুপ যথেষ্ট হয়েছে।

    স্যার বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন।

    ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। এমন মুখরোচক ঘটনা মফস্বল শহরে সচরাচর ঘটে না। লোকজনদের উৎসাহের সীমা রইল না। সন্ধ্যা বেলায় চলে এল বাবার অতি পেয়ারের লোেকরা। তারা গভীর মুখে বলল, এইসব কি শুনছি। চৌধুরী সাহেব?

    বাবা ফ্যাকাশে হাসি হেসে বললেন, কিছু না। কিছু না।

    শুনলাম আপনার মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে। অশ্লীল প্ৰস্তাব দিয়েছে।

    না না। এসব কিছু না। অন্য ব্যাপার।

    জারজ সন্তানের কাছ থেকে এরেচে বেশি কি আশা করা যায়? এখন বলুন কি করব?

    কিছু করার দরকার নেই। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি। আর কি?

    আপনি ক্ষমা করলেতো হবে না। আমাদের একটা দায়িত্ব কর্তব্য আছে না?

    বাদ দেন। ঘটনা যা ভাবছেন তা না। বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। ভদ্র ভাবেই দিয়েছিল।

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোন দরকার নাই চৌধুরী সাহেব। ঘটনা সবই জানি। আপনি কাটান দেয়ার চেষ্টা করলেও লাভ হবে না। উচিত শিক্ষা দেয়া হবে।

    লোকজন বাড়তেই লাগল। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। মা আমাকে নিয়ে ঘরে তালাবন্ধ করে রাখলেন। অন্তুকে পাঠানো হল পোস্টাপিস থেকে বড় মামাকে টেলিফোন করার জন্যে। তিনি যেন এক্ষুণি চলে আসেন।

    রাত দুটার দিকে হাজার হাজার মানুষ গিয়ে স্যারকে ধরে নিয়ে এল। আমি কাঁদছি এবং সমুদ্রের গর্জনের মত মানুষের গর্জন শুনছি। কি হচ্ছে বাইরে? সব কোলাহল ছাপিয়ে স্যারের গলা শুনলাম— আতংকে অস্থির হয়ে তিনি চিৎকার করে ডাকছেন— নবনী! নবনী।

    তাকে তখন রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে। একদল মানুষ চেষ্টা করছে ইট দিয়ে মাথাটা ফাটিয়ে দিতে। মা ছুটে গেলেন স্যারকে বাঁচানোর জন্যে। ইরাও ছুটে গেল।

    স্যারের মৃত্যু হয় সীমাহীন অপমান ও সীমাহীন যন্ত্রণায়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নেত্রকোনা হাসপাতালে। সেখানের ডাক্তাররা জবাব দেবার পর তাঁকে পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহে। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    মজার ব্যাপার হচ্ছে স্যারকে যে ট্রেনে ময়মনসিংহ নেয়া হচ্ছিল। আমিও সেই ট্রেনেই বড় মামার সঙ্গে ময়মনসিংহ যাচ্ছি। অথচ আমি কিছুই জানতাম না। আমাকে বলা হয়েছে স্যার নেত্রকোনা হাসপাতালে আছেন। মাথায় চোট পেয়েছেন। তবে এখন ভাল হওয়ার পথে। ভয়ের কিছু নেই।

     

    সে বছর আমার পরীক্ষা দেয়া হয় নি, কারণ আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। সে অসুখ বিচিত্র এবং ভয়াবহ। আমি মাঝে মাঝেই কাউকে চিনতে পারতাম না। পরিচিত কারো সঙ্গে হয়ত কথা বলছি, হঠাৎ এক সময় অস্বস্তি এবং বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, যার সঙ্গে কথা বলছি তাকে চিনতে পারছি না। ভয়ে শরীর যেন কেমন করতে থাকে। আমি কথা বলা বন্ধ করে দেই, আর তখনি দেখি দু-তিনটা কাক অপরিচিত মানুষটার চারদিকে গম্ভীর ভঙ্গিতে হাঁটছে। এদের মধ্যে একটা কাককে আমি চিনি-বুড়ো কাক। কাকগুলো হাঁটে অবিকল মানুষের মত। যেন এরা কাক না। ছোট ছোট মানুষ যারা কালো রঙের চাদর গায়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে আমি স্যারকেও দেখতাম-। তাকে দেখে মোটেও ভয় লাগত না। বরং ভরসা পাওয়া যেত। তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতেন এমনভাবে যেন তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা হত খুব ঘরোয়া ধরনের। যেমন, তিনি এসে বললেন, নবনী, পেন্সিলটা কোথায় রাখলাম দেখেছ?

    আমি বললাম, না তো। কলম আছে। কলমে হবে?

    না, হবে না। আমার দরকার পেন্সিল। একটু আগে কাজ করছিলাম। হঠাৎ কোথায় গেল! বাবু নিয়ে যায় নি তো?

    নিতে পারে।

    ছেলে তো বড় দুষ্ট হয়েছে। ডাক তো দেখি। আজ একটা ধমক দেব।

    না না, ধমকাতে পারবে না। ছেলেমানুষ।

    অতিরিক্ত আদর দিয়ে তুমি ওকে নষ্ট করছ।

    নষ্ট করছি ভাল করছি। আরো নষ্ট করব।

    এ কি! রেগে গেলে কেন?

    রেগেছি। ভাল করেছি। আরো রাগব…

    আমাদের সঙ্গে সব সময় একটা শিশু থাকত। কখনো সে ছেলে, তার নাম বাবু; কখনো-বা মেয়ে, নাম টিনটিন। এদের অবশ্যি আমি কখনো দেখি নি।

    আমি কতদিন অসুখে ভুগেছি। আমি নিজেও জানি না। কেউ আমাকে কখনো পরিষ্কার করে কিছু বলে নি। আমি শুধু অস্পষ্টভাবে জানি, আমার এই অসুখ দীর্ঘদিন ছিল। বড় মামা আমাকে চিকিৎসা করান। আমার পেছনে টাকা

    বাসা ভাড়া করে থাকতেন। কেউ যেন অসুস্থ অবস্থায় আমাকে বিরক্ত করতে না পারে সে জন্যে ঐ বাসার ঠিকানাও তিনি কাউকে দেন নি। বাবা-মা, ইরা, অন্তু কেউই আমাকে দেখতে যেতে পারত না। এক সময় আমি সুস্থ হয়ে উঠি। বড় মামা আমাকে ফিরিয়ে দেন। বাবা-মার কাছে।

    বড় মামা সব সময়ই কম কথার মানুষ। আমাকে সুস্থ করে বাবা মার কাছে রেখে যাবার সময় হঠাৎ তাঁর কি হল, তিনি বললেন, বড় খুকী, আয় তোকে আদর করে যাই। আমি এগিয়ে গেলাম। বড় মামা গম্ভীর গলায় বললেন, শোন বড় খুকী, তুই নিশ্চিন্ত মনে থাকিবি। তোর অসুখটা পুরোপুরি সেরে গেছে। আর কোনদিন হবে না। ডাক্তাররা আমাকে বলেছেন। তারচেয়েও বড় কথা, আমি খাস দিলে আল্লাহ্‌পাকের কাছে দোয়া করেছি। আমার দোয়া আল্লাহ্‌পাক কবুল করেছেন। বুঝলি বড় খুকী, আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন মাগরেবের ওয়াক্তে শুধুই তোর জন্যে দুরাকাত নফল নামায পড়বা। আচ্ছা এখন যা।

    আমি বললাম, আদর করবার জন্যে ডাকলেন–কই আদর তো করছেন না।

    বড় মামা হাত বাড়িয়ে আমাকে কাছে টেনে নিলেন না বা মাথায়ও হাত রাখলেন না। তিনি যেভাবে বসেছিলেন সেভাবেই বসে রইলেন। শুধু দেখা গেল, তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। তিনি পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছে বললেন, ট্রেনের সময় হয়ে গেল, চলি রে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনক্ষত্রের রাত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article নলিনী বাবু B.Sc. – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }