Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প298 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নরক সংকেত – ১৯

    ১৯

    সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে ইমিগ্রেশন, সিকিউরিটি চেকিং মিটে গেল কিছুক্ষণ বাদেই। রুদ্রর আগে থেকেই ফ্রান্সের ভিসা করানো ছিল বলে জার্মানি যেতে কোনো বাধা নেই। এখানকার নিয়ম হল একটা দেশের ভিসা করানো থাকলেই ইউরোপের অনেকগুলো দেশে যাওয়া যায়। এটাকে বলে শেনজেন ভিসা, সমস্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য। শুধু ইংল্যান্ডের জন্য আলাদা ভিসা লাগে।

    ওরা দুজনে চুপচাপ বসে অপেক্ষা করছিল ওদের ট্রেনের। এতক্ষণ পরপর এত কিছু ঘটে গেল, কেউই আর কোনো কথা বলছিল না।

    রুদ্রই প্রথম নীরবতা ভাঙল, ‘আজ সকালে তুমি অফিস বেরিয়ে যাওয়ার পর একটা লোক আমার কাছে ছবিগুলো হাতাতে এসেছিল।’

    প্রিয়ম উদাস চোখে তাকিয়ে ছিল দূরে। আনমনে বলল, ‘কোন লোক?’

    রুদ্র বলল, ‘একটা জাপানি লোক। সঙ্গে একটা বিশাল বাইক। লোকটাকে আমি কাল মাদাম তুসোর উলটোদিকের ওই কফিশপটায় বসে থাকতে দেখেছিলাম, তারপর আমরা বেরোনোর পর দেখেছিলাম, আর আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার সময়ে বাইক নিয়ে দেখেছিলাম। আজ সকালে এসে ও ওই সিকিউরিটি জনের সঙ্গে কথা বলছিল। লিফটে করে ওপরে এসে পৌঁছোনোর আগেই আমি নেমে যাই, কিন্তু মাঝপথে আমায় ধরে ফেলে ঠিক।’

    প্রিয়ম এবার ভ্রূ কুঁচকে রুদ্রর দিকে তাকাল, ‘তারপর?’

    রুদ্র ফোনটা বের করল, ‘বলছি। আগে এই ছবিটা দ্যাখো তো।’

    প্রিয়ম একঝলক দেখেই বলল, ‘এটা তো কাল রাতেই দ্যাখালে। ড শ্যুমাখার রানি এলিজাবেথের থেকে প্রাইজ নিচ্ছেন। এসব ছাড়ো, ওই লোকটা কে সেটা বলো।’

    রুদ্র ফটোটাকে জুম করল, ‘ভালো করে ড শ্যুমাখারকে লক্ষ করো তো!’

    প্রিয়ম ঝুঁকে পড়ে দেখতে দেখতে বলল, ‘দেখলাম তো! কালো রঙের সুট, হাতে একটা বেশ দামি ঘড়ি, পায়ে কালো শু, চোখে রিমলেস…।’

    রুদ্র একটা ছোট্ট নিশ্বাস ফেলল, ধীরে ধীরে বলল, ‘চোখ দুটো লক্ষ করেছ?’

    প্রিয়ম ছবিটাকে আরও জুম করতে গেল, কিন্তু আর হল না, ‘চোখ? হ্যাঁ, দেখছি তো। চোখে আবার কী পেলে তুমি?’

    রুদ্র এবার বলল, ‘মণির রংটা দেখেছ?’

    প্রিয়ম আরও একবার ছবিটা নিয়ে দেখে ওর দিকে তাকাল, ‘মণির রং যা হয় তাই, কালো।’ পরক্ষণেই ও অবাক হয়ে বলল, ‘ওয়েট ওয়েট! ড শ্যুমাখারের চোখের মণিটা নীলচে না?’

    রুদ্র বলল, ‘কারেক্ট! নীলচে নয়, পুরোপুরি নীল রঙের মণি ভদ্রলোকের। আর সেইজন্য কাল থেকে এই ছবিটা দেখলেই আমার কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল, কিছু একটা গণ্ডগোল আছে সেটা আমার ইনটিউইশন বলছিল।’

    প্রিয়ম ততক্ষণে যে ওয়েবপেজে ওই ছবিটা ছিল, তাতে ঢুকে ওই অনুষ্ঠানের বাকি ছবিগুলো দেখতে শুরু করেছে। একটা ছবিতে ড শ্যুমাখারের ক্লোজ আপ ছবি নেওয়া হয়েছে, কৃতিত্বের হাসি হাসছেন উনি। সেখানেও তাঁর মিশমিশে কালো মণিটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ও একটু কনফিউজড হয়ে গিয়ে বলল, ‘কেসটা কী বলো তো? লেন্স ইউজ করেছে?’

    রুদ্র কাধ ঝাঁকাল, ‘যদি লেন্স ইউজ করে থাকে, তবে কোনটা ওর চোখের আসল রং, নীল না কালো?’

    প্রিয়ম এবার আর কোনো উত্তর দিতে পারল না।

    রুদ্র বলল, ‘আচ্ছা, এবার আরেকটা কথা বলো, কাগজের ফোটোগ্রাফ যদি কেউ কোনো কেমিক্যাল প্রিজারভেটিভ ছাড়া সাধারণ ডায়েরির মধ্যে রেখে দেয়, সেটা কতদিন থাকতে পারে?’

    প্রিয়ম বলল, ‘সেটা কী করে বলব?’

    রুদ্র খাবারের প্যাকেটটার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে একটা স্যান্ডউইচ বের করে আনল, সেটায় এক কামড় বসিয়ে বলল, ‘বলতে পারবে না, না? আচ্ছা, বিয়ের পর যখন প্রথম তোমাদের কল্যাণীর বাড়িতে গিয়ে ছিলাম কিছুদিন, তোমার বাবা—মায়ের বিয়ের ফটোগুলো দেখেছিলাম মনে আছে? তোমার মা—ই বের করে দেখিয়েছিলেন।’

    প্রিয়ম বলল, ‘হ্যাঁ, কিন্তু সে তো অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে, ওরা ঠিকমতো অ্যালবামেও রাখেনি প্রথম থেকে, কেমন সাদা সাদা স্পট ছেয়ে গেছে বেশিরভাগ ফটোতেই, অনেকদিন হল তো!’

    রুদ্র বলল, ‘হুঁ। কতদিন হল তোমার বাবা মা—র বিয়ে হয়েছে যেন?’

    প্রিয়ম বলল, ‘প্রায় ত্রিশ বছর। কেন?’

    রুদ্র বলল, ‘ত্রিশ বছরে যদি ফটোর ওই দশা হয়, তাও একভাবে আলমারির মধ্যে থেকে, তবে প্রায় একশো বছর আগের ছবি, তার ওপর ইন্ডিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এত দেশ ঘুরেছে, সেগুলোর তো ওই সাদা স্পটে পুরো ফটোটাই ঢেকে যাওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, ফটোর পেপারটাও ড্যামেজড হয়ে ছিঁড়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ড শ্যুমাখারের দাদুর ডায়েরির ভাঁজে রেখে যাওয়া ওই দশটা ফটো কিছুই হয়নি, একদম অবিকৃত রয়েছে। ফটোপেপারটাও সাদা হয়নি, নেতিয়ে যায়নি একটুও, শুধু কোনাগুলো হালকা মোড়ানো, সেই ভাঁজটাও দেখে মনে হচ্ছে টাটকা। যেন আমি সন্দেহ করতে পারি বলে দেওয়ার আগে ইচ্ছে করে কোণগুলো মোচড়ানো হয়েছে।’

    ‘আমাকে একটা দাও তো, খাই। বড্ড খিদে পেয়েছে।’ প্রিয়ম এবার রুদ্রর হাত থেকে স্যান্ডউইচটা নিয়ে একটা কামড় দিল, ‘এটা কিন্তু একটা ভালো পয়েন্ট ধরেছ তুমি, আমার মাথাতেও আসেনি। সত্যিই তো, অত বছরের পুরোনো ছবি এখনও এমন ইনট্যাক্ট থাকে কী করে?’

    রুদ্র বলল, ‘হুঁ। সকালে যে লোকটা এসেছিল, তাকে আমি আগের দিন দেখেছিলাম আমাদের ফলো করতে, তাই কাল সকালেও যখন দেখলাম জনের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে, তারপর আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকছে, আমি ভেবেছিলাম এ সেই দলের লোক, যারা ডেসপারেটলি ড শ্যুমাখারের ওই রিসার্চটা পণ্ড করতে চায়, যেকোনোভাবে ওই ফটোগুলো হাতানোই ওর উদ্দেশ্য। তাই আমি আর রিস্ক নিইনি। ওকে আসতে দেখেই আমিও ফটোগুলো নিয়ে লিফট দিয়ে নীচে নেমে যাই। তখন এতটাই পাজলড হয়ে গেছিলাম, মনে হচ্ছিল আমার কাছ থেকে যদি ফটোগুলো ছিনিয়ে নেয়, আমি মুখ দেখাব কী করে, সেই সময়েই হঠাৎ ড শ্যুমাখারকে ফোন করে ফেলি। ঠিক করেছিলাম ওঁর সঙ্গে দেখা করে ফটোগুলো হ্যান্ডওভার করে দেব, কী দরকার শুধু শুধু রিস্ক নিয়ে! কিন্তু মাঝপথেই লোকটা ঢুকে এল লিফটের মধ্যে।’

    প্রিয়ম চুপচাপ শুনছিল, রুদ্র থামার সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘তারপর?’

    রুদ্র কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই হুড়মুড়িয়ে কিছু একটা ওর ওপরে পড়ল, ও ছিটকে উঠে এল চেয়ার থেকে। ওর সারা গা ভিজে গেছে, ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে উঠেছে প্রিয়মও।

    ওরা দুজনে কথা বলছিল প্ল্যাটফর্মের ওপর এয়ারপোর্টের কায়দায় সাজানো সার সার চেয়ারে বসে। লোকজন এমনিতেই কম, তার ওপরে এই প্ল্যাটফর্মটায় কোনো ট্রেন নেই, তাই এত রাতে একদমই ফাঁকা চারদিক। ওদের নিজেদের ট্রেন এখনও দেয়নি ডিসপ্লে বোর্ডে। তারই মধ্যে ওদের ঠিক পেছনের চেয়ারটায় কেউ একটা বিশাল বড়ো লাগেজ রেখে চলে গেছে, ওরা খেয়াল করেনি। সেই লাগেজের একদম ওপরের পকেটে থাকা একটা জলের বোতলের ছিপি খুলে গেছে হঠাৎ, মুহূর্তে ছিপি খুলে বোতলের সবটুকু জল পড়েছে রুদ্রর কাঁধে। এই ঠান্ডায় এত কনকনে জল গায়ে পড়ার থেকেও এতটাই আচমকা ঘটল ঘটনাটা, ওরা কিছুক্ষণের জন্য হতবাক হয়ে গেল।

    প্রিয়মই প্রথম কথা বলল, ‘ওয়াশরুমে চলো শিগগিরই! কে রেখে গেছে এরকম কেয়ারলেসভাবে? পাসপোর্টটার কিছু হয়নি তো?’

    তাই তো রুদ্র খেয়ালই করেনি, পাসপোর্টটা তো হাতেই ধরে বসে ছিল ও, তাকিয়ে দেখল কোনাগুলো ভিজে গেছে অল্প, ঠিক সময়ে ও সরে গেছে বলে বেশিরভাগ জলটাই ওর ঘাড়ে পড়েছে, ঘাড় বেয়ে পিঠের দিকে গিয়ে পুরো ভিজিয়ে দিয়েছে, সপসপ করছে ওর পুলওভারের ভেতরের থার্মালটা।

    ও বলল, ‘কার বলো তো লাগেজটা?’

    প্রিয়ম বলল, ‘কী জানি! কাউকে তো এদিকে আসতে দেখিনি! তুমি আগে চলো ওয়াশরুমে। এই ঠান্ডায় ভিজে গায়ে থাকলে এক্ষুনি সর্দি হবে তোমার। ভাগ্যিস বোতলটা খুলে গেছিল, অত ভারী স্টিলের জলভরতি বোতল মাথায় পড়লে তো আরেক কেলেঙ্কারি হত। চলো চলো।’

    কিন্তু ওয়াশরুম অবধি আর যাওয়া হল না। তার আগেই ওদের ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর দিয়ে দিল ডিসপ্লে বোর্ডে। প্রিয়ম তবু বলল, ‘চলো, ওয়াশরুম ঘুরে তারপর যাব। তুমি রুকস্যাক থেকে একটা এক্সট্রা জামা বের করো।’

    কিন্তু রুদ্র রাজি হল না, ‘দরকার নেই। লন্ডন থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরোতে চাই। তেমন হলে ট্রেনে উঠে চেঞ্জ করব না হয়।’

    ওরা ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্তও ওই বিশাল লাগেজের মালিকের দেখা পাওয়া গেল না। সেন্ট প্যানক্রাস খুব বড়ো স্টেশন। এ—মাথা থেকে ও—মাথা হাঁটতে হল যতক্ষণ ধরে, ততক্ষণে ঠান্ডা জল ভেতরে ঢুকে রুদ্রর কাঁপুনি লাগতে শুরু করেছে।

    গলার কাছটাও ব্যথা করতে শুরু করেছে কেমন।

    ট্রেনে উঠে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে অস্ফুটে একটাই কথা ও বিড়বিড় করল, ‘জলের বোতল খুলে পড়তেই পারে, কিন্তু এই ঠান্ডায় এত কনকনে জল কে নিয়ে বেরোয়!’

    শেষমুহূর্তে টিকিট কাটার জন্য বেশ চড়া দাম দিয়ে টিকিট কাটতে হয়েছে ওদের, এখানে ট্রেনের টিকিটের দামও প্লেনের মতো বাড়ে কমে। তবে, বার্থ ভালোই পেয়েছে ওরা, একটাই ক্যুপের মধ্যে দুজন। জার্মানি এখান থেকে লাগবে প্রায় দশ ঘণ্টা। মাঝে ব্রাসেলসে পালটাতে হবে ট্রেন। তার মানে, রুদ্র মনে মনে হিসাব করল কাল সকাল দশটার আগে ট্রেন বার্লিন ঢুকবে না।

    ওয়াশরুম থেকে জামা পালটে এসে ও দেখল, প্রিয়ম খাবারগুলো সামনের ছোট্ট টেবিলের ওপর সাজিয়ে ফেলেছে।

    রুদ্র দরজাটা ভাল করে লক করে এসে ওর হাতব্যাগটা খুলল, একটা লুকোনো চেন খুলে বের করে আনল ফটোর খামটা।

    প্রিয়ম বলল, ‘আচ্ছা, তুমি যে দুমদাম করে আমায় বের করে দিয়ে এলে, আমার যদি শেনজেন ভিসা করানো না থাকত? তবে তুমি একাই চলে যেতে?’

    রুদ্র মুচকি হাসল, ‘তুমি তো আগের মাসেই বলেছিলে ফ্রান্সের ভিসা করিয়ে রেখেছ, আমার সঙ্গে প্যারিস যাবে বলে। পরে তো তোমার এই অফিসের কাজটা পড়ে গেল।’

    প্রিয়ম কাঁধ ঝাঁকিয়ে হাসল, ‘মনেও রাখতে পারো তুমি! যাই হোক, লোকটা কে, সেটা বলো এবার।’

    রুদ্র সংক্ষেপে পুরো ঘটনাটা বলল।

    প্রিয়ম শুনে হতবাক হয়ে গেল, ‘তুমি লোকটার চোখে লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে দিয়ে পালিয়ে এলে? যদি চিৎকার করত? পুলিশ ডাকত? তোমাকে তো ইমিডিয়েট বেসিসে অ্যারেস্ট করত! আমারও ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে টানাটানি হত।’

    রুদ্র বলল, ‘রিস্ক নিতেই হয়েছিল। কিছু করার নেই। ফটোগুলো আমি দেব না বলেই ঠিক করেছিলাম। আর দেব না বললে যদি জোর করে কেড়ে নিত, তাই ইন্ডিয়ান থেরাপি দিলাম একটু।’

    প্রিয়ম তবু তোতলাচ্ছিল, ‘তবু লঙ্কাগুঁড়ো! কী ডেঞ্জারাস! লোকটা মরে যায়নি তো?’

    রুদ্র উড়িয়ে দিল একফুঁয়ে প্রিয়মের কথা, ‘চোখে লঙ্কাগুঁড়ো ছেটালে কেউ মরে? কী যে বল তুমি! শুধু চোখটা জ্বলে খাক হয়ে যাবে, এই যা। আর লোকটা নিজে দু—নম্বরি বলে চেঁচিয়ে জানাজানি করবে না সেই কনফিডেন্সটা আমার ছিল। তাই, ওটা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এর জন্য অবশ্য তোমার একটা থ্যাঙ্কস প্রাপ্য, কত সুন্দর করে মশলাগুলো কিচেনে গুছিয়ে রাখো তুমি।’

    প্রিয়ম কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না, তারপর নরম গলায় বলল, ‘এবার বলবে কী, তোমার মাথায় আরও কী কী মতলব ঘুরছে? তুমি কখন যে কী করে ফেলছ, ইনফ্যাক্ট দুমদাম আরও কী কী করে ফেলতে পারো সেটা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।’

    রুদ্র মুখ টিপে বলল, ‘আপাতত কিছুই করছি না, বার্লিন যাচ্ছি।’

    ‘আমরা কেন বার্লিন যাচ্ছি? তুমি ফটোগুলো এই মুহূর্তে হাতছাড়া করতে চাইছ না খুব ভালো কথা, কিন্তু তাই বলে এত দূর কেন, প্যারিস গেলেই তো হত। কিংবা ইংল্যান্ডেরই অন্য কোনো শহরে, ওয়েলস বা স্কটল্যান্ডের দিকটাও চলে যাওয়া যেত। এর জন্য আমার অফিসে কতদিন ছুটি লাগবে আমি নিজেই জানি না। একে এখন এত প্রেশারে আছি। আর তা ছাড়া।’ প্রিয়ম বোতল থেকে জল খেল অনেকটা, ‘ড শ্যুমাখারকে ব্যাপারটা বললে উনিও হেল্প করতে পারতেন! আল্টিমেটলি জিনিসটা হাতছাড়া না হওয়ার পেছনে তো ওঁর গরজটাই বেশি।’

    রুদ্র এবার মাথা নাড়ল, ‘আমার নিজের মনে কিছু কনফিউশন তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর উত্তর না পেলে আমি কাউকেই ভরসা করতে পারছিলাম না। ড শ্যুমাখারের ছবিতে একরকম চোখ, সামনাসামনি আরেকরকম কেন? একশো বছরের পুরোনো ফটোগ্রাফ এত নতুনের মতো ঝকঝকে হয় কী করে? যে মুহূর্তে আমি ফোনে ড শ্যুমাখারকে বলে দিয়েছি যে আমি ফটোগুলো নিজের কাছে রাখা নিরাপদ মনে করছি না, সেই মুহূর্ত থেকে ড শ্যুমাখার যেকোনো উপায়ে ফটোগুলো ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, এদিকে এই লোকটাও যে কার হয়ে এই ফটোগুলোকে দখল করার জন্য ফলো করছিল সেটাও মাথায় ঢুকছে না। কে যে সত্যি, আর কে যে মিথ্যে, আমি পুরোপুরি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি।’

    প্রিয়ম মুখ দিয়ে একটা বিরক্তির শব্দ করে বলল, ‘আমরা এক্সটারনাল হিসেবে এত ঝামেলা না নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা বলে জিনিসটা জমা দিয়ে দিলেই হত। সব ঘোরা বাতিল, সব প্ল্যান বানচাল।’

    রুদ্র এবার সোজা চোখে তাকাল প্রিয়মের দিকে, ‘আর যদি ড শ্যুমাখারের দাবি সত্যি হয়? ওর মতলব ভালো না মন্দ জানি না, কিন্তু ওই মৌলর ব্যাপারটা তো ঠিক হতেও পারে। ক্যান্সারের মতো অভিশাপের হাত থেকে পুরো পৃথিবীকে মুক্ত করতে পারি জেনেও সেটাকে ব্যুরোক্র্যাটিক ঝামেলার মধ্যে ফেলে দেব? পুলিশের কাছে জমা দেওয়া মানেই এই নিয়ে সরকারি তরফে ইনভেস্টিগেশন শুরু হবে। ওই এলিমেন্ট প্রয়োগ করা উচিত কি উচিত নয়, তা নিয়ে পৃথিবীর সমস্ত দেশকে মত দিতে হবে আন্তর্জাতিক মহলে। কাজ কিছু হবে কি না তার নেই ঠিক, সারা পৃথিবী জুড়ে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে। কোনো রেভলিউশনারি ভালো কাজ করতে গেলে চুপচাপই করতে হয়, অত হইহই করে আর সেটা করা যায় না। লাদেনকে মারার সময় ওবামা কি সারা দুনিয়াকে জানিয়ে অপারেশনটা চালিয়েছিল? সাকসেসফুল হওয়ার পর বলেছিল সবাইকে। আর সেটাই উচিত।’

    প্রিয়মের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, ও বলল, ‘তার মানে তুমি বলতে চাইছ ড শ্যুমাখার কোনো অসাধু কাজের জন্যও তোমার মদত চাইতে পারেন?’

    রুদ্র বলল, ‘চাইতেই পারেন। সেটা আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।’

    ‘কিন্তু এইটা আমার মাথায় এখনও ঢুকল না যে হোয়াই বার্লিন?’ প্রিয়ম বলল।

    রুদ্র এবার খামটা খুলল। ফটোগুলোকে সাবধানে বের করে সাজিয়ে রাখল সামনে। একটা ফটো তুলে পেছন দিকটা ঘুরিয়ে ওপরের দিকে তুলল, ‘কিছু দেখতে পাচ্ছ?’

    প্রিয়ম হাত থেকে ফটোটা নিতে যেতেই রুদ্র বলল, ‘উঁহু। ওভাবে দেখলে দেখতে পাবে না। ওপরের দিকে নিয়ে দ্যাখো, হলোগ্রাম তো।’

    প্রিয়ম ফটোটা নিয়ে ওপরের দিকে তুলে কিছুক্ষণ দেখল, ‘কয়েকটা অস্পষ্ট ইংরেজি হরফ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ওয়ার্ডটার কোনো মানে নেই। কী বলো তো?’

    রুদ্র বলল, ‘আগে যখন ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল না, আমরা ফটো তুলে তারপর ফিলমটা স্টুডিয়োতে দিতাম, মনে আছে? সেখান থেকে প্রিন্ট করার সময় ফটোর পেছনে স্টুডিয়োগুলো এইরকম করে নিজেদের হলোগ্রামটা খোদাই করে দিত।’

    প্রিয়ম বলল, ‘হ্যাঁ, শুধু ফটো কেন, ভালো কোয়ালিটির পেপারেও তো কোম্পানির হলোগ্রাম করা থাকে, কাগজটা ওপরের দিকে তুলে আলোয় দেখলে বোঝা যায়।’

    রুদ্র মাথা নাড়ল, ‘এই ফটোগুলোর পেছনে যে দুটো শব্দ লেখা আছে, সে—দুটো জার্মান শব্দ। ক্যাসপার ফোতোগ্রাফি।’

    প্রিয়ম খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে বলল, ‘কিন্তু ফটোগ্রাফি বানানটা তো অন্যরকম।’

    রুদ্র বলল, ‘জার্মান ভাষায় ওটাই বানান। আমি নেটে সার্চ করেছি, ক্যাসপার শব্দের অর্থ জার্মান ভাষায় হল রয়্যাল।’

    প্রিয়ম বলল, ‘মানে, রয়্যাল ফটোগ্রাফি?’

    রুদ্র এবার ফটোটা প্রিয়মের হাত থেকে নিয়ে টেবিলে সাজাতে সাজাতে বলল, ‘ক্যাসপার ফটোগ্রাফি বার্লিনের একটা বড়ো স্টুডিয়ো। বছর চল্লিশের পুরোনো। বেশ নামকরা। ফটোগুলো ওখান থেকেই প্রিন্ট করা হয়েছে।’

    প্রিয়ম এইবার ভ্রূ কুঁচকে বলল, ‘বছর চল্লিশের পুরোনো? কিন্তু ড শ্যুমাখারের দাদু তো প্রায় একশো বছর আগে এই ফটোগুলো রেখে গেছেন।’

    রুদ্র হাতের কাজ থামিয়ে এবার প্রিয়মের দিকে তাকাল, ‘এবার বুঝতে পারছ কেন আমি এতটা ধন্দে রয়েছি? ড শ্যুমাখারের দাদু একশো বছর আগে ভারতের পন্ডিচেরিতে বসে ফটোগুলো তুলে প্রিন্ট করিয়ে ডায়েরিতে রেখে দিলেন, এদিকে জার্মানির একটা চল্লিশ বছরের স্টুডিয়োর হলোগ্রাম সেই ফটোগুলোর পেছনে ছাপা হয়ে গেল, এটা কী করে সম্ভব? আমি ওই স্টুডিয়োর ওয়েবসাইটটাও ভালো করে দেখেছি, এরকম নয় যে আগে ওদের কোনো পেরেন্ট অফিস ছিল কোথাও। পরিস্কার লেখা আছে উনিশশো আশি সালে তৈরি হয়েছে।’

    প্রিয়ম চিন্তা করে করতে বলল, ‘তুমি কি বার্লিনে যাচ্ছ ওই স্টুডিয়োটায় যাবে বলে?’

    রুদ্র মাথা নাড়ল, ‘গিয়ে আমি জিজ্ঞেস করব যে কীভাবে এই হলোগ্রামটা এই ফটোগুলোয় এল। আর শুধু সেজন্যই যাচ্ছি তা নয়, বার্লিনে ড শ্যুমাখারের সম্বন্ধেও কিছু খোঁজখবর নেওয়ার আছে আমার।’

    প্রিয়ম বলল, ‘কিন্তু তোমাকে ওরা উত্তর দেবেই—বা কেন। তুমি তো কোনো পুলিশ বা সরকারি তরফে যাচ্ছ না, তার ওপর বিদেশি। আর তা ছাড়া, যে এই কাজের সঙ্গে তোমাকে ইনভলভ করেছে, সে নিজেই যদি তোমার মনে কনফিউশন তৈরি করে থাকে, তবে তো ব্যাপারটা থেকে সরে আসাই ভালো ছিল, এটা তো আর নিজেদের কোনো সমস্যা নয়, এ যেন আগ বাড়িয়ে বিপদের মধ্যে জড়ানো, তাই নয় কি?’

    রুদ্র স্থির চোখে তাকিয়ে রইল প্রিয়মের দিকে।

    প্রিয়ম আবার বলল, ‘এই উটকো ঝামেলার জন্য মাঝখান থেকে আমার অফিস কামাই, তোমার ঘোরা ক্যানসেল, সামনের সপ্তাহে সেমিনার, কী করবে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    রুদ্র এবার হাসল, ম্লান মুখে বলল, ‘তোমার এই কথাটা শুনে মার্টিন নিয়েমোলারের সেই বিখ্যাত কবিতাটা মনে পড়ে গেল। কাকতালীয়ভাবে তিনিও জার্মানিরই লোক ছিলেন। আজ দুপুরে জার্মানি নিয়ে যখন ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম, তখন এটা আরও একবার চোখে পড়েছিল একটা ব্লগে। কবিতাটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখা। হিটলারের নাতসি বাহিনী যখন চরম অত্যাচার চালাচ্ছে সারা দেশে, আনছে একের পর এক অদ্ভুত আইন, সাধারণ মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তখনও জার্মানির ওপরমহলের লোকেরা চুপ করেই ছিলেন, ঠিক তোমারই মতো, সারা দেশে যতই অত্যাচার হোক, তাঁদের নিজেদের গায়ে যতক্ষণ না আঁচ লাগছে, তাঁরা কেন কিছু বলবেন? তাই তাঁরা নির্লিপ্ত ছিলেন। পড়েছ কবিতাটা?’

    প্রিয়ম দু—দিকে মাথা নাড়ল।

    রুদ্র ফোনে গুগল খুলে কবিতাটা বের করল, তারপর এগিয়ে দিল প্রিয়মের দিকে।

    ‘প্রথমে ওরা সোশ্যালিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কিছু বলিনি

    কারণ আমি তো সোশ্যালিস্ট নই!

    তারপর ওরা ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের জন্য এল, আমি কিচ্ছু বলিনি

    কারণ আমি তো ট্রেড ইউনিয়নিস্ট নই!

    তারপর ওরা এল ইহুদিদের জন্য, আমি তখনও কিচ্ছু বলিনি

    কারণ আমি ইহুদি নই!

    সবশেষে ওরা এল আমার জন্য

    কিন্তু তখন আমার হয়ে বলার জন্য আর

    কেউই বেঁচে ছিল না!’

    প্রিয়ম বলল, ‘ইহুদি তো ইজরায়েলের লোকেদের বলে, তাই না?’

    রুদ্র বলল, ‘ইহুদি একটা বহু পুরোনো জাতি, জার্মানিতেও তারা প্রচুর আছে। তবে ইজরায়েলেই বেশি। কবিতাটার আসল মানেটা কী বুঝলে? যেমন ধরো, ওদের দেশে হিটলার ক্ষমতায় এসে অন্য সমস্ত পার্টি, ট্রেড ইউনিয়ন ব্যান করে দিয়েছিল, উচ্চবিত্তরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। যদিও এই কবিতাটা তার আগেই লেখা, তবু ওই কনটেক্সটে ভীষণভাবে প্রযোজ্য। হিটলার তো কনসেনট্রেশন ক্যাম্প করে বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে মেরে ফেলেছিল। তাতেও খুব একটা প্রোটেস্ট করেনি কেউ।’

    প্রিয়ম বলল, ‘অ্যাঁ! লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছিল? সে কী?’

    রুদ্র এবার অবাক হল, ‘হিটলারের কাজকর্ম পড়োনি নাকি হিস্ট্রিতে?’

    প্রিয়ম এবার বলল, ‘পড়েছিলাম, সে তো কোন যুগে, আর আমার আগের বছরেই পরীক্ষায় হিটলার এসেছিল, তাই ওটা বাদই দিয়েছিলাম একরকম।’

    রুদ্র ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে তাকাল, তারপর বলল, ‘তোমার কথাবার্তা শুনে না মাঝেমধ্যে মনে হয় তুমি ডাক্তার হলে কী করতে! পেশেন্টের যদি দেখতে এমন একটা রোগ হয়েছে, যেটা তোমার আগের ইয়ারে এসেছিল বলে তুমি সাজেশনে পড়নি, তখন কি পেশেন্টকে না দেখেই ছেড়ে দিতে?’

    প্রিয়ম এবার বলল, ‘সেটা অন্য ব্যাপার, বস! সব কিছুই নিজের ইন্টারেস্টের ওপর ডিপেন্ট করে। ইতিহাস আমার জঘন্য লাগত, পড়তে বসলেই ঘুম পেত। তোমার বাড়িতে ঐতিহাসিক অ্যাম্বিয়েন্স ছিল, তাই। আমার বাড়িতে কস্মিনকালেও কোনো ইতিহাসের লোক ছিল না, ফলে আমি পাতিহাঁসও হইনি। আমার ফেভারিট ছিল অঙ্ক, সেটাতে আমি সবসময় এক ক্লাস করে এগিয়ে থাকতাম।’

    রুদ্র এবার চোখ পাকাল, ‘আমার বাবা যেমন আর্কিয়োলজিস্ট ছিলেন, মা—ও তেমনই কলেজে অঙ্ক পড়ান, তুমি নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি। অঙ্কে ভালো মানেই সে ইতিহাস জানবে না এটা কোনো কথা হল? বেসিকটা জানা উচিত সবারই। আর অঙ্কে আমিও যথেষ্ট ভালো ছিলাম স্যার।’

    প্রিয়ম বলল, ‘আচ্ছা বাবা, দেশে ফিরেই আবার নাইন টেনের হিস্ট্রি বই কিনে পড়া শুরু করব, শান্তি? এখন বলবে কী? হিটলার ইহুদিদের মেরেছিল কেন? কেউ কিছু বলেনিই—বা কেন?’

    রুদ্র বলল, ‘কে আবার কী বলবে? কোনো অপোনেন্ট পার্টির অস্তিত্বই রাখেনি হিটলার। সব পার্টি ব্যান করে দিয়েছিল। আর হিটলার ইহুদিদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু মনে করত।’

    প্রিয়ম বলল, ‘আচ্ছা একটা কথা বলো, হিটলার তো জার্মানির প্রধানমন্ত্রী ছিল?’

    রুদ্র বলল, ‘হ্যাঁ। ওদের দেশে ওই পোস্টটাকে বলে চ্যান্সেলর।’

    প্রিয়ম বলল, ‘হ্যাঁ, সেটা জানি। তা, চ্যান্সেলর হয়েছিল মানে তো লোকেরাই ওকে জিতিয়েছিল, রাইট? তারপরেও ওকে কুখ্যাত নেতা বলে কেন? শুধু স্বৈরাচারী ছিল বলে?’

    রুদ্র এবার বাবু হয়ে বসল বার্থের মধ্যেই, ‘আমি আজ সারা দুপুর নেট থেকে হিটলারের সম্পর্কে প্রচুর পিডিএফ নামিয়ে পড়াশুনো করেছি। কারণ ড শ্যুমাখারের সঙ্গে হিটলারের কোনো একটা যোগাযোগ আছে।’

    প্রিয়ম চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ‘অ্যাঁ? শ্যুমাখারের সঙ্গে হিটলারের? সে আবার কী?’

    রুদ্র বলল, ‘ইয়েস! সেকথায় পরে আসছি। আগে তোমাকে মোটামুটি একটা ধারণা দিয়ে দিই, না হলে তুমি বুঝতে পারবে না। আমি নিজেও এত ডিটেইলে জানতাম না, বাবা ফোনে বলল, তারপর নিজেও পড়লাম। শোনো, হিটলার একটা খুব রেয়ার ক্যাটেগরির সাইকো ছিল, ওর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একমাত্র জার্মানরাই পৃথিবী শাসন করবে, তারাই একমাত্র সব ব্যাপারে এগিয়ে থাকবে। হিটলারের রাজত্বের ঠিক আগে আগেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, তাতে মিত্রশক্তি, মানে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আমেরিকার জোট জিতেছিল। আর অন্যদিকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, এইসব দেশ খুব বাজেভাবে হেরেছিল। যুদ্ধ শেষ হয় ভার্সাইয়ের সন্ধি দিয়ে, তাতে যুদ্ধের সব দোষ সব দায় মিত্রশক্তির জয়ী দেশগুলো চাপায় জার্মানির ওপর। এমনকী জার্মানির আর্মড ফোর্সও বন্ধ করে দেয়।’

    প্রিয়ম মন দিয়ে শুনছিল, ‘তারপর?’

    রুদ্র বলল, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানি একেই ধুঁকছিল, তার ওপর ওই দেশগুলোর মোটা ক্ষতিপূরণের বোঝা মেটাতে গিয়ে জার্মানিতে মারাত্মক ইনফ্লেশন দেখা দেয়। টাকার কোনো দামই ছিল না, একেকটা জিনিসের দাম রাতারাতি হাজার হাজার গুণ বেড়ে গিয়েছিল। এইসব কিছুর জন্য হিটলার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, ছোটো থেকে ওর একটা ধারণা হয়েছিল—জার্মানির হার, বেকারত্ব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সব কিছুর জন্য দায়ী মাইগ্রেশন। ইহুদিরা অন্য দেশ থেকে জার্মানিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। সেই আক্রোশ থেকেই ও মাস কিলিং শুরু করে।’

    প্রিয়ম জিজ্ঞেস করল, ‘মানে, ইহুদিদেরকে ধরে ধরে খুন করত?’

    রুদ্র বলল, ‘তার চেয়েও ভয়ংকর। হলোকাস্ট—এর নাম শোননি? পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক কালো অধ্যায় বলতে পারো। ষাট লক্ষেরও বেশি ইহুদিকে হিটলারের নাতসি পার্টি মেরে ফেলেছিল। হাজার হাজার কিলিং ক্যাম্প খোলা হয়েছিল।’

    প্রিয়ম বলল, ‘কিলিং ক্যাম্প! মানে সেই ক্যাম্পে খুন করা হত লোকজনকে?’

    রুদ্র মাথা নাড়ল, ‘একদম। বিষাক্ত গ্যাস ঢুকিয়ে মেরে ফেলা হত তাদের। পনেরো লক্ষের বেশি ইহুদি শিশুকেও মারা হয়েছিল তাতে।’

    প্রিয়ম মাথা নাড়ল, ‘হুঁ, এই নিয়ে একটা সিনেমা দেখেছিলাম অনেকদিন আগে। আচ্ছা ওগুলোই কি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প?’

    রুদ্র বলল, ‘না। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পগুলোতে হিটলারের দৃষ্টিভঙ্গিতে যারা দেশের শত্রু তাদের সবাইকে রাখা হত। তাদের মধ্যে ইহুদি, রোমানরা ছিল। আবার দাগি ক্রিমিনাল বা গুরুতর অসুস্থদেরও রাখা হত। তাদেরকে দিয়ে অমানুষিক খাটানো হত। মুরগির খামারের মতো গাদাগাদি করে থাকতে হত ওদের, যখন—তখন কারণে অকারণে মেরে ফেলত। মেয়েদের ওপর অকল্পনীয় অত্যাচার চলত। মানে, সব নাগরিক অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাদের। আর কিলিং ক্যাম্পে শুধুই বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে, কিংবা একদম অনাহারে রেখে খাটিয়ে খাটিয়ে মারা হত। অ্যানা ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি পড়নি?’

    প্রিয়ম চোখ সরু করে শুনছিল। ও একটু আবেগপ্রবণ, দুঃখের সিনেমা বা বই পড়লেও ওর চোখে জল চিকচিক করে ওঠে, সেখানে এ তো সত্যি ঘটনা। তুলনায় রুদ্র অনেক শক্ত।

    রুদ্র থামতেই প্রিয়ম বলে উঠল, ‘এই বিষাক্ত গ্যাসটা কী?’

    রুদ্র বলল, ‘হিটলারের সময়ে কেমিস্ট্রিতে অনেকরকম ইনভেনশন শুরু হয়েছিল। শুধু পয়জনাস গ্যাসই নয়, শক্তি বাড়ানোর ক্যাপসুলও বের করা হয়েছিল, ক্ষতিকারক ড্রাগ ছিল তাতে। ওইজন্যই একটা মিথ আছে শোননি? জার্মান সৈন্যরা কখনো ক্লান্ত হত না? ওদের শরীরে ওই ড্রাগগুলো ইনজেক্ট করা হত।’

    প্রিয়ম চুপ করে মাথা নাড়ল।

    রুদ্র এবার বলল, ‘যাই হোক যেটা বলছিলাম, হিটলারের এত কাণ্ডেও জার্মানির উচ্চবিত্তেরা কোনো প্রতিবাদই করেনি তারা নিজেরা নিরাপদ আছে ভেবে। তার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুরো জার্মানিই শেষ হয়ে গেল।’ এক মুহূর্ত থেমে ও একটা লম্বা শ্বাস নিল, ‘আসলে আমরা সবাই স্বার্থপর, যতক্ষণ না নিজের গায়ে আঁচ লাগছে, ততক্ষণ পাশের লোকেরা পুড়ে মরছে দেখলেও আমরা কেয়ার করি না, ভাবি আমি তো ঠিক আছি, আমার কী দরকার আগ বাড়িয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে! ঠিক তুমি যেমনটা বললে। আর এইরকমভাবেই একদিন নিজের গায়েও এসে সেই আগুনটা লাগে। আজকে যদি ড শ্যুমাখারের কথা ঠিক হয়, ওর মতলব বদ বুঝতে পারছি, কিন্তু সত্যিই যদি ওইরকম কোনো কেমিক্যাল বানানো যায়, সারা পৃথিবী চিরকালের মতো ক্যান্সারকে জয় করতে পারবে, কিন্তু তবুও তা নিয়ে তোমার কোনো মাথাব্যথাই নেই, কেন? না, তোমার কোনো প্রিয় মানুষের ক্যান্সার হয়নি এখনও। এই যদি দুম করে আমার ক্যান্সার ধরা পড়ে…।’

    প্রিয়মের এবার চোখমুখ কুঁচকে গেল, একটু জোরেই বলল, ‘আজেবাজে বকছ কেন বলো তো?’

    রুদ্র চোখ দুটো সরু করে বলল, ‘আজেবাজে কিছুই বকছি না, শুনলে তো সেদিন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অলরেডি ডিক্লেয়ার করে দিয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ক্যান্সার মহামারির আকার নেবে, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দেখা দেবে। আর সত্যিই তো তাই হচ্ছে! তুমি দ্যাখো না, ইদানীং অফিসে, পাড়ায়, বন্ধুমহলে সব জায়গায় হঠাৎ হঠাৎ শুনতে পাও না? অমুকের ক্যান্সার, তমুক হঠাৎ মারা গেল ক্যান্সারে?’

    প্রিয়ম ঘাড় নাড়ল, ‘হুঁ। খুব বেড়ে গেছে আজকাল। মানুষের লাইফস্টাইল, খাবারদাবারে পেস্টিসাইডস, কেমিক্যালস, তারপর পলিউশনও এইজন্য দায়ী।’

    রুদ্র বলল, ‘তবে?’

    প্রিয়ম বলল, ‘তাহলে এত এদিক—ওদিক না ভেবে, ওই শ্যুমাখারের মণির রং কী, এই ফটোগুলো কোথা থেকে ডেভেলপড এইসব নিয়ে মাথাখারাপ না করে ফটোগুলো থেকে কিছু বের করতে পারো কি না দেখলেই হয়। সত্যি যদি কোনো নতুন এলিমেন্ট তৈরির প্রসিডিয়র লেখাও থাকে, তুমিই তো প্রথম বুঝতে পারবে সেটা।’

    রুদ্র একটু অধৈর্য হয়ে বলল, ‘তোমাকে যদি কেউ কোনো জিনিস চুরি করে নিয়ে এসে গিফট করে, আর সেটা তুমি জানতে পারো, তারপরেও তুমি নিয়ে নেবে? কী বলছ বলো তো! আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না!’

    প্রিয়ম বলল, ‘যাব্বাবা, চুরিডাকাতি আবার এর মধ্যে কোত্থেকে এল! ড শ্যুমাখারের দাদুই তো এটা…!’

    রুদ্র বলল, ‘আরে, সেটা তো ওর নিজের কথা। সত্যি মিথ্যে জানি আমরা? ডায়েরিটা দেখিয়েছেন উনি আমাদের? ওঁর কথামতো ডায়েরিতে তো পুরো জিনিসটা নাকি ওই দাদু ন্যারেট করে গেছেন যে এই ফটোগুলোর মধ্যেই ওই এলিমেন্ট তৈরির প্রসেস রয়েছে, ওঁর রিসার্চ প্রোগ্রেস সব কিছু নিজের ভাষায় লিখে গেছেন, সেটা তো শ্যুমাখার আমাদের দেখাননি!’ একটু থেমে ও বলল, ‘আর আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট শিয়োর যে বললেও উনি দেখাতে পারবেন না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহারিয়ে যাওয়া খুনিরা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }