Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নারী ধর্ম ইত্যাদি – গোলাম মুরশিদ

    গোলাম মুরশিদ এক পাতা গল্প346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৯. কেন রবীন্দ্রনাথ?

    কোনো দিন আমি ‘কবিগুরু’ অথবা ‘গুরুদেব’ রবীন্দ্রনাথ লিখিনি। বলিওনি। যারা লেখেন অথবা বলেন তাদের আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের অতিভক্ত–এমন কি, কাউকে কাউকে মনে হয় রবীন্দ্রপূজারী। আমার ধারণা: এই অতিভক্তির ফলে সত্যিকারের রবীন্দ্রনাথকে আমরা দেখতে পাইনি অথবা এখনো দেখতে পাচ্ছি না। মানুষ রবীন্দ্রনাথ—‘যাহারে কাঁপায় স্তুতিনিন্দার জ্বরে’— সেই মানুষ রবীন্দ্রনাথ আমাদের আড়ালে থেকে গেছেন। তাঁর জায়গায় দেখা দিয়েছেন। একজন অতিমানব অথবা উপদেবতা। তাঁর রচনার আমরা তাই কদৰ্থ না-হলেও ভুল অৰ্থ করি। তা ছাড়া, তাঁর সৃষ্টির ওপরে ভিত্তি করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে না-গিয়ে বরং তাকে কেন্দ্র করেই বারবার ঘুরপাক খেতে থাকি। এক কালে কথায় বলতো: কানু ছাড়া গীত নেই। আধুনিক বঙ্গে কৃষ্ণের জায়গা দখল করেছেন রবীন্দ্রনাথ। কখনো কখনো মনে হতে পারে: রবীন্দ্রনাথ ছাড়া গীত নেই।

    কালিদাসের কালে তিনি জন্ম নেননি ঠিকই, কিন্তু তিনিও যথেষ্ট পুরোনো! জন্মেছিলেন এখন থেকে প্রায় দেড় শো বছর আগে। তারপর কবে তিনি বিগত হয়ে গেছেন!! বস্তুত, তার ভাষায় এখন নতুন কবি–নতুন কবিরা— আমাদের ঘরে গান করছেন। তারপরও তাকে নিয়ে নাম-কীৰ্তন করার প্রয়োজন আছে কি? ধর্মের বেলায় দেখা যায়: মানুষ একটা বিশ্বাসকে আঁকড়ে থাকে। সেখান থেকে আর সামনে যেতে পারে না। অন্ধবিশ্বাস স্বচ্ছদৃষ্টিকে আবৃত করে। রবীন্দ্রনাথ তেমন একটা অন্ধ বিশ্বাসে পরিণত হচ্ছেন বলে আশঙ্কা হয়। তা ছাড়া, অনেক সময় মনে হয়: তিনি নতুনদের আগমনের সব পথ রোধ করে আছেন। বাঙালি মুসলমানরা দীর্ঘদিন তাকে “নিজেদের লোক’ বলে গণ্য করতেন না। কিন্তু মুসলমান-প্রধান বাংলাদেশেও রবীন্দ্রচর্চা এখন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মোট কথা, নানা দিক থেকেই মনে হতে পারে: আর কতো রবীন্দ্রনাথ! এখনো কি তিনি প্রাসঙ্গিক?

    এক কথায় এর উত্তর বোধ হয় দেওয়া যায় না। মরেই হারিয়ে যান বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু সবাই নন। আকাশে লক্ষ-কোটি তারা দিনের আলোতে হারিয়ে যায়। অপর পক্ষে, আকাশ থেকে সরে গেলেও মেরুমণ্ডলে সূর্য প্রায় সারা রাত আলো দেয়। সে জন্যেই ৬৫ বছর আগে বিদায় নিলেও বাংলার আকাশ থেকে রবির আলো নিভে যায়নি। আমরা এখনো বাস করছি তারই বলয়ে।

    এর কারণ দুটি। প্রথমত তাঁর সর্বব্যাপী প্ৰতিভার জন্যে, দ্বিতীয়ত এখন তাঁর অবদান আজও নিঃশেষিত হয়নি বলে। তিনি ছিলেন বিশ্বের এক বিরল প্ৰতিভা। বিশেষ করে বৈচিত্র্যের কথা বিবেচনা করলে তার মতো প্ৰতিভা ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেক্সপীয়র নাট্যকার এবং কবি ছিলেন, সুরকার ছিলেন না। মোৎসার্ট সুরকার ছিলেন, কিন্তু উপন্যাস লেখেননি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি শিল্পী এবং বিজ্ঞানী ছিলেন, কিন্তু সুরকার ছিলেন না। নিউটন বিজ্ঞানী ছিলেন, কিন্তু কবি ছিলেন না। ভ্যান গখ। ছবি এঁকেছেন, কিন্তু গান রচনা করেননি। মনে রাখা দরকার যে, কবি হিশেবে পরিচিত হলেও রবীন্দ্ৰনাথ কেবল কবি ছিলেন না। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন গীতিকার-সুরকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্প-লেখক এবং প্রবন্ধ-লেখক। যদি এখানেই শেষ হতো, তা হলেও তাকে কেবল সাহিত্যিক পরিচয় দিয়ে চালিয়ে দেওয়া যেতো। কিন্তু তাঁর আরও পরিচয় ছিলো। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, ভাষাতাত্ত্বিক, পর্যটক, অভিনেতা, গায়ক এবং পল্লীপুনর্গঠক। বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্ৰকে তিনি বিচিত্র এবং বর্ণাঢ্য অলঙ্কারে সাজিয়ে দিয়েছেন তাঁর সৃষ্টি দিয়ে। কিন্তু তাই বলে তাঁকে পূজো করার কারণ নেই। তিনি ফেরেশতা ছিলেন না–তারও ছিলো অনেক সীমাবদ্ধতা। সবচেয়ে বড়ো কথা, তিনি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা কবি হলেও, আজকের বিশ্বে যে-সব জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার সমাধানের দাওয়াই দিয়ে যেতে পারেননি। ধর্মপ্রচারকদের উপদশেকে চিরকালীন বিবেচনা করা যেমন ভ্ৰান্ত, রবীন্দ্রনাথের বাণী মহান হলেও, মনে রাখা দরকার—তার ওপরও কালের ছাপ রয়েছে।

    এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর উপযোগিতা নিঃশেষ হয়নি। রাজনীতির দিক দিয়ে, এমন কি, সাংস্কৃতিক অনেক দিক দিয়েও বাঙালি এখন দু ভাগে বিভক্ত। কিন্তু বাংলার আকাশে এখনও একই রবি। নতুন বছর বরণ করতে, গ্ৰীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত–সব ঋতুকে স্বাগত জানাতে, জন্মদিনে, মৃত্যুবার্ষিকীতে, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় অনুষ্ঠানে— বস্তুত সব কিছুতেই তাঁর গান চাই, চাই তাঁর কবিতা। তার চেয়েও যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো: উৎসবে, আনন্দে, শোকে, সাত্ত্বনায়, প্রেমে, বিরহে–তাঁর গান, তাঁর কবিতা আমাদের সঙ্গী হয়। তাঁর ভাষা দিয়েই বলতে পারি: অনমনা পথ চলতে গিয়ে আমরা যেমন পথের দু ধারের ফুলদের ভুলে যাই, আকাশের তারাদের ভুলে যাই, অথচ আমাদের প্রাণের নিশ্বাসবায়ু তারা সমধুর করে, তেমনি রবীন্দ্রনাথের কথা সজ্ঞানে মনে না-করলেও তিনি প্রতি নিয়ত আমাদের চেতনায় মিশে আছেন এবং আমাদের অস্তিত্বকে সমৃদ্ধ করছেন।

    আমাদের ওপর তার সবচেয়ে বড়ো প্রভাব তার ভাষার। আমাদের ভাষাকে তিনি ঐশ্বৰ্যমণ্ডিত করেছেন। আমরা অজান্তেই তাঁর ভাষা ধার করে কথা বলি, তার ভাষায় চিন্তা করি। তার হাতের লেখা মক্স করি। তার আগে পর্যন্ত যে-বাংলা ভাষা ছিলো, তা ছিলো অনেকাংশে কৃত্রিম, তার প্রকাশ-ক্ষমতা ছিলো সীমিত এবং তা ছিলো আমাদের মুখের ভাষা থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। সেই ভাষাকে সহজ সরল করে তিনি নিয়ে আসেন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কাছাকাছি। কেবল তাই নয়, সে ভাষাকে তিনি সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন; প্রকাশ-ক্ষমতা দান করে নানা ভাবের বাহন করে তোলেন। কবিতা, গল্প এবং প্রবন্ধ–সব রীতির ভাষাকেই তিনি সমৃদ্ধ করেছিলেন। ভাষাতত্ত্ব, বিজ্ঞান, দর্শন, শিক্ষা–সব ধরনের পরিভাষাকেও এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বস্তুত, তাঁর ভাষার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বিশ শতকের বাংলা গদ্য। কিন্তু ঘরে-ঘরে শিক্ষা ছড়িয়ে পড়লেও, শিক্ষার মান এখন নিচে নেমে যাওয়ায় আমাদের ভাষা তার সৌন্দর্য এবং প্রকাশ-ক্ষমতা উভয়ই যথেষ্ট পরিমাণে হারিয়ে ফেলেছে। এই অবক্ষয়ের পরিবেশে তাঁর রচনা বারবার আমাদের হীনতা থেকে মুক্তি দিয়ে ওপরে তুলে আনতে পারে। তিনি যে-ঐশ্বৰ্য দিয়েছিলেন, তা বিসর্জন দিলে সেটা হবে আত্মহননের মতো।

    কেবল তাই নয়, রবীন্দ্রনাথ আর বিদগ্ধ রুচি গত এক শো বছরে সমার্থক হয়ে গেছে। তাঁর আগে পর্যন্ত ভাষা-সাহিত্যে এক ধরনের স্থূলতা ছিলো। কিন্তু তিনি তাতে এমন একটা পরিশীলন এবং বৈদগ্ধ্য নিয়ে আসেন, যা আগেকার বাংলায় লক্ষ্য করা যায়নি। হয়তো প্ৰথম যৌবনে তিনি এই রুচির দেখা পেয়েছিলেন ইউরোপে। তার কৌতূকবোধ, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, তার চলাফেরা, আচার-আচরণ, তাঁর বাকভঙ্গিসবকিছুতেই এই রুচির দেখা মেলে। তার ভাষার বক্রপ্রয়োগের মাধ্যমে রসিকতা সৃষ্টির একটি প্রমাণ দিতে পারি প্রসঙ্গত। যার কণ্ঠ বেশ কর্কশ তার সম্পর্কে তিনি হয়তো লিখতে পারেন যে, অমুকের কণ্ঠ খুব মধুর তা বলা যায় না। এ জাতীয় প্রয়োগ বাংলা ভাষায় তাঁর আগে পর্যন্ত ছিলো না। বস্তুত, আমাদের কথায়, আমাদের আচার-আচারণে, মধ্যবিত্তের বসার ঘরের শিল্পকর্মে, গানের চর্চায়, নাচের যৎকিঞ্চিৎ আয়ােজনে, এমন কি, সংস্কৃতিবান বলে পরিচিত হওয়ার যে-প্ৰয়াস প্রকাশ পায় তাদের জীবনে–তার সবকিছুতেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব।

    বাঙালির রুচি গঠনে তার প্রভাব যে কতো গভীর তার আর-একটা প্ৰমাণ মেলে তাদের রোম্যান্টিক প্রেমের চেতনা থেকে। তার আগে বঙ্কিমচন্দ্রের হাত ধরে ইউরোপ থেকে এই চেতনা বাঙালির জীবনে আসতে আরম্ভ করলেও ভালোবাসার ভাষা এবং প্রকাশভঙ্গি, অঙ্গবিহীন আলিঙ্গনের সূক্ষ্ম মাধুর্য এবং রোম্যান্টিকতা আমরা রবীন্দ্রনাথেই বিশেষ করে লক্ষ্য করি। প্রেমিক অথবা প্রেমিকার কানে কানে শোনানোর কবিতা অথবা গান বঙ্কিমচন্দ্র আমাদের জন্যে রেখে যাননি। অপর পক্ষে, রবীন্দ্রনাথের কবিতা এবং গান ছাড়া কপোত-কপোতীর প্রেমের কুজন কল্পনা করা যায় না। নাটকে, সিনেমায় তাঁর গান ছাড়া প্রেমের দৃশ্য অপূৰ্ণ থেকে যায়। এমন কি, যারা আধুনিক প্রেমের গান লেখেন, তারা অকাতরে তাদের শব্দ এবং এক্সপ্রেশন সংগ্রহ করেন। তাঁরই গীতবিতানের বিশাল ভাণ্ডার থেকে।

    কেবল মানবিক প্রেম নয়, তার ঈশ্বরপ্রেমও বাঙালির, বিশেষ করে বিদগ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালির অনুকরণের বস্তু। তিনি নিজে একেশ্বরে গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন। তাঁর চেতনায় এই বিশ্বাস। এতো নিবিড়ভাবে মিশে ছিলো যে, তিনি প্ৰেম, প্রকৃতি, মানুষ–যে-বিষয় নিয়েই লিখে থাকুন না কেন, তার মধ্যে সেই বিশ্বাসের দুৰ্গতি বিছুরিত হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর গান সম্পর্কে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়। অথচ রবীন্দ্রনাথের সেই সৌন্দর্যময় মঙ্গলময় ঈশ্বর কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মের অথবা সম্প্রদায়ের ঈশ্বর নন। তিনি প্রায় এক সেকুলার ঈশ্বর। সেই ঈশ্বর মানবতারই পরম প্রতীক। রবীন্দ্রনাথ জীবন শুরু করেছিলেন ব্ৰাহ্ম পরিচয় দিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যে-ধর্মকে স্বীকরণ করেছিলেন, তা মানুষের ধর্ম। তাতে কেবল উপনিষদ নয়, তাতে মিশে গিয়েছিলো গ্রাম-বাংলার দেবতা-বর্জিত আনুষ্ঠানিকা-বর্জিত বাউলের সহজ ভক্তি। কিন্তু বাউলের ভক্তিকেই তিনি নিয়েছিলেন, স্কুল দেহতত্ত্বকে নয়। মুক্ত-মনা বাঙালিদের তিনি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন সেই মানুষের ধর্ম, সেই সেকুলার ঈশ্বরকে নিজেদের হৃদয়ে স্থাপন করতে। আজ বিশ্বে যখন ধর্মকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা একটা বিশাল দৈত্যের মতো মাথা তুলে সমগ্র মানবতাকে গ্রাস করতে উদ্যত, তখন রবীন্দ্রনাথের সেই ধর্ম এবং ঈশ্বরকে বড়ো প্রয়োজন।

    বাঙালিরা এক হোক বলে আজ থেকে ১০১ বছর আগে ঈশ্বরের কাছে তিনি প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গদেশ বিভক্ত হলে কালে-কালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-সহ পুরো বাঙালি সংস্কৃতিই দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে তার সেই আশঙ্কা এখন দাঁত মেলে দেখা দিয়েছে। একই ভাষায় কথা বললেও, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বাঙালিদের আত্মপরিচয় এখন আর অভিন্ন নেই। এখন সেই বাঙালিদের একাংশ ক্রমবর্ধমান মাত্রায় ভারতীয় হচ্ছেন; আর-এক অংশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশীতে পরিণত হয়েছেন। এই বিভেদের যুগে দু পারের বাঙালিদের মধ্যে যে-দুজন মিলন সেতু হিশেবে কাজ করতে পারতেন, তাদের একজন রবীন্দ্রনাথ, অন্যজন নজরুল।

    এই কলুষিত পরিবেশে রবীন্দ্রনাথের নাম এখনও অসাম্প্রদায়িকতার আন্দোলনে সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরণা হিশেবে বিবেচিত হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িকতা আর রবীন্দ্রনাথকে এখন সমার্থক বলে গণ্য করা হয়। বস্তুত, বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যে-বিতর্ক তার একদিকে আছে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি, অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। নয়তো সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। মুসলিম জাতীয়তাবাদীরাও পয়লা বৈশাখ রবীন্দ্রনাথেরই গান দিয়েই পুরোনো বৎসরের আবর্জনা দূর করেন, তাঁর গানের সঙ্গেই নাচেন।

    আধুনিক কালে জাতিসজা গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে বহু আন্তজাতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বায়ন এখন সবচেয়ে ধরতাই ধুয়ো। সত্যি সত্যি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে গোটা বিশ্ব ছোটো হয়ে এসেছে। কিন্তু তারই মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছে। অন্ধ জাতীয়তাবাদ। নয়া-সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ, জাতীয় স্বাৰ্থ এবং ধর্মীয় উন্মাদনার নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ যে হানাহানি, মানুষের জীবন নিয়ে যেতাণ্ডবনৃত্য, তার পেছনে সবচেয়ে বড়ো কারণ জাতীয়তাবাদের বিস্ফোরণ। এখন থেকে নব্ববুই বছর আগে রবীন্দ্রনাথ এর বিরুদ্ধে হাঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। এর ফলে পাশ্চাত্যে তাঁর জনপ্রিয়তাও রাতারাতি হ্রাস পেয়েছিলো। কিন্তু তাতে তিনি পিছুপা হননি। তাকে অগ্রাহ্য করেই সত্য এবং মঙ্গলের বাণী শুনিয়েছিলেন জাপান, ইউরোপ এবং অ্যামেরিকায়। জনপ্রিয়তার প্রলোভনে একটুও সরে যাননি। তিনি নিজের কক্ষপথ থেকে। কারণ, প্রথম মহাযুদ্ধের সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদের ধ্বংসাত্মক এবং মানবতা-বিরোধী ভূমিকা দেখে বিচলিত হয়েছিলেন। তারপর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগেও তিনি জাপান এবং জার্মেনিতে দেখেছিলেন সেই জাতীয়তাবাদকে আরও প্রবল হয়ে উঠতে। এমন কি, খোদ ভারতবর্ষের সহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনও তার বিশ্বাসে আঘাত দিয়েছিলো।

    যে-জাতীয়তাবাদ একটি জাতিকে অন্য জাতির শক্রতে পরিণত করে, অন্য জাতির মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে প্রেরণা জোগায়, যে-জাতীয়তাবাদ মনুষত্ত্বের চেয়েও দেশপ্রেমকে বড়ো করে দেখে, তাকে তিনি অকুণ্ঠভাবে নিন্দা করেছিলেন। তিনি নিজে অসাধারণ দেশপ্রেমিক ছিলেন। কিন্তু ভূমি নয়, সেই ভূমিতে যারা বাস করে–সেই মানুষকেই তিনি বড়ো করে দেখেছিলেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক মানুষ। তিনি বলেছিলেন: দেশে দেশে তাঁর ঘর আছে। তিনি সেই ঘরেরই খোজ করেছেন। তার কাছে রাষ্ট্র, ধর্ম, সমাজ–সবই মানুষের জন্যে। রাষ্ট্র, ধর্ম অথবা সমাজের জন্যে মানুষ নয়। আজ যখন সভ্যতার তীব্ৰ সংকট দেখা দিয়েছে, তখন তাঁর সেই আন্তর্জাতিকতার বাণী বন্ধুর পথে চলতে আমাদের সম্বল হতে পারে।

    সত্যি বলতে কি, রবীন্দ্রনাথ যখন লিখেছিলেন হিংসায় উন্মত্ত পৃথী অথবা লিখেছিলেন সভ্যতার সংকট, আজকের অবস্থা তার চেয়ে অনেক শোচনীয়। তিনি যখন লিখেছিলেন, বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাদে–তখনও অন্যায়ের প্রতিকার হতো। কিন্তু আজ সত্যি সত্যি মানবতা এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। এক ক্রান্তিকালে উপনীত। হিটলারের, মুসোলিনীর, স্তালিনের সূচনা দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ষাটের দশকের তৃতীয় বিশ্বের অসংখ্য ফৌজী শাসকদের দেখেননি, পল পটদের দেখেননি। সাদাম, বুশ এবং লাদেনদের দেখেননি। ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের নামে বিপন্ন রোয়াণ্ডা, বসনিয়া, গুজরাট, ইরাক, ফিলিস্তিন এবং আফগানিস্তানের মানুষকে দেখেননি। এই সংকটের নীরন্ধ অন্ধকারে তার গান, তাঁর কবিতা, তার চিন্তা আজও প্রাসঙ্গিক, আজও তা আমাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারে; একলা পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

    (যুগান্তর, রবীন্দ্রজয়ন্তী সংখ্যা, ২০০৬)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ
    Next Article প্রবন্ধ সংকলন – গোলাম মোস্তফা

    Related Articles

    গোলাম মুরশিদ

    আশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }