Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নারী ধর্ম ইত্যাদি – গোলাম মুরশিদ

    গোলাম মুরশিদ এক পাতা গল্প346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. শ্ৰেষ্ঠ বাঙালি : রবীন্দ্রনাথ বনাম শেখ মুজিব

    বছর তিনেক আগে একটি বিশ্ববেতার সম্প্রচার সংস্থা সৰ্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি কে, তা নিয়ে একটি জরিপ করেছিলো তাদের শ্রোতাদের মধ্যে। কয়েক হাজার শ্রোতা যো-জবাব দিয়েছিলেন, তাতে শ্ৰেষ্ঠ বাঙালি বলে নাম পাওয়া গিয়েছিলো শ দেড়েক ব্যক্তির–মীর জাফর এবং গোলাম আযমের নামও বাদ যায়নি। সুতরাং এ মতামতকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই জরিপের ওপরের দিকে অনেক বিখ্যাত বাঙালির নাম ছিলো; যেমন রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর, নজরুল ইসলাম ইত্যাদি। কিন্তু সবার ওপরে নাম ছিলো শেখ মুজিবুর রহমানের। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার পরে–দু নম্বরে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে শেখ মুজিবের তুলনা দেখে অনেকেই একে এক কথায় উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু প্ৰতিভার বিচারে যেমনই হোক না কেন, বাঙালির ইতিহাসে মুজিব কি রবীন্দ্রনাথের তুলনায় খুব নগণ্য? বিশেষ করে বাঙালিদের যে-ইতিহাস এখন থেকে শত বর্ষ পরে লেখা হবে, তাতে এই গুরুত্ব আজকের তুলনায় কি বৃদ্ধি পাবে না?

    আমরা এক কথায় সংস্কৃতি বলে যে-ধারণাটাকে চিহ্নিত করি, তা হলো প্রধানত বৈদগ্ধ্যেরা। এলোমেলোভাবে গলা ওঠা-নামা করে চেচালে, তা থেকে কোলাহল সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু পরিশীলিত পদ্ধতিতে গলার ওঠা-নামা করে শব্দ বের করলে তা সঙ্গীতে পরিণত হয়। তেমনি তালে-তালে পরিশীলিতভাবে অঙ্গভঙ্গি করলে তা নাচে পরিণত হতে পারে। পেট ভরানোর জন্যে যা-তা রান্না করে হাপুসাহুপুস করে খেলে সেটা যা-ই হোক, রন্ধন এবং খাদ্য পরিবেশনাও শিল্পিত হতে পারে। মোট কথা, বিদগ্ধতাকেই আমরা অনেক সময়ে সংস্কৃতির সঙ্গে অভিন্ন করে দেখি। কিন্তু বৈদগ্ধ্যবর্জিত রাজনীতি সংস্কৃতির চেহারা আমূল বদলে দিতে পারে এবং তা পারে তুলনামূলকভাবে কম সময়ের মধ্যে। আমরা যাকে বাঙালি সংস্কৃতি বলি তার একটা প্রধান এলাকাই জুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ— বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, শিক্ষা, রুচি ইত্যাদি বহু বিষয়ে। কেবল তাই নয়, রবীন্দ্রনাথ তাঁর অবদানে এসব জিনিশকে এমন একটা উৎকর্ষ দিয়েছেন, যা তাঁর আগেকার অবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা এখন তার ভাষায় কথা বলি, লিখি। অজানতেই তাঁর গান, তার কবিতা আমাদের মন এবং হৃদয়কে আলোকিত এবং মার্জিত করে। সেখানে শেখ মুজিবের কোনো অবদান নেই। এমন কি, তিনি নিজে রাবীন্দ্রিক বৈদগ্ধ্য কতোটুকু আয়ত্ত করতে পেরেছিলেন, সেও প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু এখন বাঙালি সংস্কৃতি যো-পথে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে শেখ মুজিব জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে বৈপ্লবিক অবদান রেখেছেন বলে আমার ধারণা!

    বাঙালির যে-ইতিহাস এবং সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে গত সাত-আট শতাব্দী ধরে, তাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এক ভদ্রলোক, যার নাম আমার পাঠকদের অনেকে হয়তো জানেনও না–শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ। আমরা এখন যাকে বঙ্গদেশ বলে জানি, প্রাচীন কালে তা বিভক্ত ছিলো ছোটো ছোটো বেশ কয়েকটি দেশে–গৌড়, রাঢ়, সুহ্ম, বরেন্দ্রী, বঙ্গ, চন্দ্ৰদ্বীপ, সমতট, হরিকেল ইত্যাদি। এসব দেশের শাসক এক ছিলেন না। এসব দেশ মিলে কোনো একটি অভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিটও ছিলো না। যিনি এদের একত্রিত করে এক অভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনেন অথবা আনার গোড়াপত্তন করেন। তারই নাম শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ। তাঁর মস্ত অবদান এই যে, তিনি চোদ্দো শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসব দেশের বেশির ভাগ জায়গাই জয় করে এগুলোকে একটি মাত্র প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করেন। সবগুলো দেশ এক বঙ্গদেশে পরিণত হয়।

    বস্তুত, ইলিয়াস শাহের হাতে একবার একটা অখণ্ড বঙ্গদেশ স্থাপিত হওয়ার পর অখণ্ড বঙ্গীয় সংস্কৃতি গড়ে ওঠারও সম্ভাবনা দেখা দেয়। তার আগে, রবীন্দ্রনাথের মতে, এই দেশগুলোর সংস্কৃতি এক ছিলো না। “বাংলাদেশের ইতিহাস খণ্ডতার ইতিহাস। পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ, রাঢ় বরেন্দ্রের ভাগ কেবল ভূগোলের ভাগ নয়; অন্তরের ভাগও ছিলো তার সঙ্গে জড়িয়ে, সমাজের মিলও ছিলো না।” কিন্তু এক বঙ্গদেশের আওতায় এসে ধীরে ধীরে একটা বঙ্গীয় পরিচয় গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হলো। সিকান্দার শাহ এবং হোসেন শাহের আমলে এই ভিত্তি আরও মজবুত হয়। এই প্রশাসনিক ইউনিট আরও সমন্বিত হয় মোগল যুগে। তারপর কয়েক শতাব্দী ধরে আমরা আঞ্চলিক পরিচয় কাটিয়ে বাঙালি হয়ে উঠি। ষোড়শ শতকে মুকুন্দরাম যাকে “বাঙাল’ বলেছিলেন, ভারতচন্দ্র সে পরিচয়কে আরও সম্প্রসারিত করে বঙ্গের তাবৎ অধিবাসীকে ‘বাঙ্গালী” বলে চিহ্নিত করেন, কারণ গোটা এলাকাই সুবোহ বাঙ্গালায় পরিণত হয়েছিলো।

    তা ছাড়া, বাংলা ভাষাও রীতিমতো বাংলা হয়ে ওঠে আলোচ্য সময়ে। মনে রাখা দরকার, চর্যাপদের ভাষা খাটি বাংলা ছিলো না। তা ছিলো বাংলা, ওড়িয়া এবং অহমিয়ার জননী। শ্ৰীকৃষ্ণকীর্তনের রচনাকাল এবং চর্যাপদের সঙ্গে তার ভাষাতাত্ত্বিক পার্থক্যের পরিমাণ বিবেচনা করলে বলতে হয় বাংলা ভাষা তার নিজের বৈশিষ্ট্য লাভ করতে শুরু করে ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দী থেকে। তারপর সেই বিবর্তিত ভাষাতেই শ্ৰীকৃষ্ণকীর্তন রচিত হয়, মনে হয়, পঞ্চদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে। কিন্তু বঙ্গদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তখনো একটা অখণ্ড ভাষিক পরিচয় গড়ে উঠেছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। আঠারো শতকের আগে পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের ভাষা “বাঙ্গালা” নামে পরিচিত হয়নি। এলাকা এবং ভাষা উভয় দিয়ে একটা অভিন্ন বঙ্গীয় পরিচয় গড়ে ওঠে কয়েক শতাব্দী ধরে। ভারতচন্দ্ৰ নিজেকে বাঙ্গালী বলেছিলেন বঙ্গের অধিবাসী হিশেবে। কিন্তু তাঁর দেড় শো বছর পরে রবীন্দ্রনাথের কাছে বাঙালির প্রধান ঐক্য মনে হয়েছে আঞ্চলিক নয়, ভাষিক ঐক্য। “এর মধ্যে এক ঐক্যের ধারা চলে এসেছে সে ভাষার ঐক্য নিয়ে। আমাদের যে বাঙালি বলা হয়েছে তার সংজ্ঞা হচ্ছে, আমরা বাংলা বলে থাকি।” অর্থাৎ বাঙালি সংস্কৃতিতে যেসব অভিন্ন উপাদান আছে, রবীন্দ্রনাথের মতে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলা ভাষা। সে কারণে যখন থেকে বাংলা ভাষার উন্মেষ, তখন থেকে বাঙালি সংস্কৃতির সূচনা।

    ভৌগোলিক অনৈক্য ছাড়াও, বাঙালি সমাজের সবচেয়ে বড়ো বিভেদ হলো: এ সমাজ বহু কোঠায় বিভক্ত, জল-অচল কোঠায়। বহু প্ৰাচীর গড়ে উঠে এই সমাজকে ছোটো ছোটো ভাগে বিভক্ত করেছে। সবচেয়ে দুর্লজম প্রাচীর হলো ধর্মের। সেনআমলে বৌদ্ধ আর হিন্দুরা পাশাপাশি বাস করতে পারেননি–একীভূত হয়েছিলেন। আবার হিন্দু-মুসলমান বহু শতাব্দী ধরে পাশাপাশি বাস করেও কাছাকাছি আসতে পারেননি। তাদের একত্রে খানাপিনা হয় না; বিয়েতো দূরের কথা। একটা সময়ে ছোয়াছুয়িও ছিলো বিরাট ব্যবধানের কারণ। এক বাংলা ভাষায় কথা বললেও তাদের ভাষায়ও স্বাতন্ত্র্য আছে। জল আর পানি–উভয় এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। কিন্তু হিন্দুরা পানি বললে তাদের জাত যায়; মুসলমানরা জল খেলে তাদের মুসলমানীত্ব চলে যায়। বাংলা ভাষার মতো ‘কুফুরী জবান’ (কাফেরদের ভাষা) তাঁদের মাতৃভাষা কিনা, তা নিয়েও এক শতাব্দী আগে মুসলমানরা বিতর্ক করেছেন। কাগজ-কলম, জামা-মোজা, জমা-খরচের মতো আরবি-ফারসি শব্দ হিন্দুরা ব্যবহার করেন বটে, কিন্তু সন্তানের আরবি-ফারসি নাম রাখেন না। তবে গ্রামের অশিক্ষিত মুসলমানরা চাঁদ মিঞা, সুরুজ মিঞা, তারা মিঞা, কালা মিঞা, ধলা মিঞা নাম রাখেন। শহরের শিক্ষিত অসাম্প্রদায়িক মুসলমানরাও তাদের বৈদগ্ধ্য প্রমাণ করার জন্যে নাম রাখেন। বাংলায়। কিন্তু তবু তাদের ভেদ ঘোচে না। জ্ঞাতে-জ্ঞাতে ধর্মীয় পরিচয় তাদের ভূতে পাওয়ার মতো সারাক্ষণ অধিকার করে থাকে। তেমন অবস্থা হলেই ভদ্র পোশাকের আড়াল থেকে ধর্মের লেজটা বেরিয়ে পড়ে।

    দেবতাহীন ধর্মে বিশ্বাসী বাউলরা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিচয় অস্বীকার করে মনুষ্য পরিচয়কেই বড়ো করে তুলে ধরেছিলেন। ‘আমার পথ ঢাইকাছে মসজিদে মন্দিরে’ বলে মদন বাউল গান গেয়েছেন। লালন ফকির জাতের ভিন্নতা দেখতে পাননি। কিন্তু বৃহত্তর সমাজে এঁদের প্রভাব পড়েনি। যাঁরা সাহিত্য-সৃষ্টি করে সমাজের আরও বৃহত্তর, পরিধিতে পৌঁছতে পেরেছিলেন, যেমন ধরা যাক, বঙ্কিমচন্দ্র, তারা আবার ধর্মের উর্ধে উঠতে পারেননি। যিনি নিজের বিচিত্ৰ সৃষ্টি দিয়ে একটা ধর্মনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক পরিবেশ রচনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি রবীন্দ্ৰনাথ। নজরুল ইসলামও খানিকটা। সে দিক দিয়ে সময়ের বিচারে বাঙালিত্বের ইতিহাসে ইলিয়াস শাহ যেমাইলফলক তৈরি করেছিলেন, তারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রবীন্দ্রনাথ। তাদের অবদান ভিন্ন ধরনের। কাজেই সেই অবদানের কোনো তুলনা চলে না। ‘শাহে বাঙ্গালিয়ান’ অর্থাৎ বাঙালিদের শাহ উপাধি গ্রহণ করে ইলিয়াস শাহ নিজেকে গৌরবান্বিত করেছিলেন; কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বাঙালিদের বিদগ্ধ রুচির মানুষে পরিণত করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টি দিয়ে, বস্তুত, বাঙালিকেই গৌরবান্বিত করেছিলেন তিনি। ইলিয়াস শাহ ভারতবর্ষে বাঙালিদের একটা স্বাধীন দেশের অধিবাসীতে পরিণত করেছিলেন। অপর পক্ষে, স্বাধীনতা দিতে না-পারলেও রবীন্দ্রনাথ বাঙালিদের বিশ্বের কাছে একটা স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলামও সাম্প্রদায়িকতার সীমানা লঙ্ঘন করে মানুষকে মানুষ হিশেবে দেখার চেষ্টা করেছিলেন। মদন বাউলের মতো তিনিও বলেছিলেন যে, দাঙার পরে মসজিদ-মন্দির টিকে থাকলো, কিন্তু মানুষ থাকলো না। তিনিও বলেছিলেন যে, মানুষের জন্যে ধর্ম, মানুষ ধর্মের জন্যে নয়। তবে রবীন্দ্রনাথের মতো তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ঈশ্বরের কথা না-বলে, যিশু, কৃষ্ণ, মোহাম্মদ-প্রবর্তিত দৈবিক এবং আনুষ্ঠানিক ধর্মকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও বিশেষ কোনো ধর্মকে তিনি অন্য ধর্মের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেননি।

    অল্পকাল আগে বাঙালি সংস্কৃতির একটি ইতিহাস লিখে তারপর তার নির্ঘণ্ট তৈরি করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে উল্লেখ আছে। ছিয়াশিটি পৃষ্ঠায়; আর শেখ মুজিব সম্পর্কে চারটি পৃষ্ঠায়। আমি রবীন্দ্রনাথের ভক্ত নিঃসন্দেহে, তবে অন্ধভক্ত নই; কেবল তাই নয়, যারা অন্ধভক্ত তাদের আমি অপছন্দ করি। গুরুগিরিতে আমার বিশ্বাস নেই। সুতরাং রবীন্দ্রনাথের কথা আমি বাড়িয়ে লিখিনি। এ ইতিহাসে তাঁর যতোটুকু কৃতিত্ব প্রাপ্য, আমি তার বেশি দিইনি বলেই মনে করি। তা সত্ত্বেও ংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, সঙ্গীত, মননশীলতা, ইতিহাস, নাটক, থিয়েটার, সিনেমা, ধর্ম, পোশাক, খাদ্য, নারী ইত্যাদি বিষয়ে লিখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের কথা বারবার আসতেই পারে। আমরা জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে রবীন্দ্রবিশ্বেই বাস করি। তা ছাড়া, আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার—রবীন্দ্রনাথ কেবল বঙ্গদেশে অথবা ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা নন। তিনি বিশ্বেরই চিরকালের একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি। ধরা যাক, দা ভিঞ্চি। অসাধারণ প্ৰতিভার অধিকারী ছিলেন। বিজ্ঞান এবং শিল্পকলা থেকে শুরু করে বহু ক্ষেত্রে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মতো এতো বৈচিত্র তাঁর প্রতিভাতেও ছিলো না। রবীন্দ্রনাথ একই সঙ্গে কবি, নাট্যকার ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্প লেখক, গীতিকার, সরকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, চিত্রশিল্পী—কী না! কাজেই প্রতিভার মানে তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

    অপর পক্ষে, শেখ মুজিব ছিলেন একজন জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রাজনীতিক। যখন তিনি হয়তো দেশকে আরও দিতে পারতেন, তার আগেই আততায়ীরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। সুতরাং তাঁর নাম আর কতোবারই আসবে? কিন্তু রবীন্দ্রনাথের পৌনঃপুনিক উল্লেখ আর মুজিবের সীমিত উল্লেখ থেকে বাঙালির ইতিহাসে তাদের প্রভাবের পরিমাপ করা বোধ হয় সম্ভব নয়। অর্থাৎ মুজিবের প্রভাব এবং অবদান রবীন্দ্রনাথের ছিয়াশি ভাগের চার ভাগ নয়। বাঙালির ইতিহাসে তাঁর স্থান তার থেকে অনেক ওপরে, অনেক বেশি। তিনি বাঙালিদের চিরস্থায়ীভাবে একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। কেবল তাই নয়, তিনি যে-দেশ তৈরি করেছিলেন, তার মধ্যে ধর্মনির্বিশেষে বাঙালিত্বের বিকাশের সম্ভবনাও অনেক বেশি ছিলো। পিতা সাধারণত সন্তানের একটা নাম দিয়ে সেই নামের মধ্য দিয়ে একটা প্ৰত্যাশা ব্যক্ত করেন। এক সময়ে বৃহত্তর বঙ্গদেশের জনপ্রিয় নাম ছিলো বাংলাদেশ। শেখ মুজিব তাঁর স্বপ্নে দেশকে ভালোবেসে সেই পুরোনো বাংলাদেশ নামটাই দিয়েছিলেন। সেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিশেবে বেছে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথেরই একটি গান–আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। অনেক সময়ে তিনি বক্তৃতায় বলতেন “আমি তোমায় খুবই ভালোবাসি।” এই নামের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রত্যাশার খানিকটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাংলাদেশের নাগরিকদের সরকারী নাম তিনি দিয়েছিলেন। “বাঙালি’ ৷ হয়তো তিনি আশা করেছিলেন তাবৎ বাঙালির দেশ হবে এই বাংলাদেশ। সব ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করতে পারবেন। এখানে স্বাধীনভাবে। এখানে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে অবাধভাবে।

    কিন্তু সন্তানের বাল্যকালে পিতার মৃত্যু হলে সে সন্তান যেমন অনেক সময়ে অভীষ্ট পথে যায় না, অথবা যেতে পারে না, শেখ মুজিবের স্বপ্নে-দেখা বাংলাদেশও তার প্রত্যাশিত পথে যায়নি। তার জন্যে দায়ী রাজনীতি। তিনি নিজে অসাধারণ জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রাজনীতিক হলেও, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। অসীম সম্ভাবনা এবং জীবনীশক্তি নিয়ে যে-বাংলাদেশ ভূমিষ্ঠ হয়েছিলো, অচিরেই তা পাগলা ঘোড়ার মতো তার হাত থেকে ফসকে বেরিয়ে যায়–তিনি তার রাস টেনে ধরতে পারেননি। আসলে তিনি যতো বড়ো নেতা ছিলেন, প্রশাসক হিশেবে ততোটাই অযোগ্য ছিলেন। সে কেবল অভিজ্ঞতার অভাবে নয়, শাসক হবার মতো ক্ষমতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাঁর ছিলো না। সময়টাও তাঁর অনুকুল ছিলো না। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে তিনি আদৌ খাড়া করতে পারেননি। একদিকে, উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থা এবং অবকাঠামো ভেঙে পড়েছিলো; অন্যদিকে, শিল্প-বাণিজ্য এবং প্রশাসন চালানোর মতো অভিজ্ঞ লোকের অভাবও ছিলো। তার ওপর দুনীতি ও দলবাজি মুক্তিযুদ্ধ এবং তার ত্যাগাস্বীকারের স্পিরিটকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছিলো। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং ভারতের দাদাগিরির মনোভাবও তাঁর। সহায়তা করেনি। হিন্দুদের প্রতি মুসলমানদের বহু শতাব্দীর অবিশ্বাসও এ সময়ে হাঁ করে বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসাকে গিলে ফেলেছিলো। সর্বোপরি, মোশাহেবপরিবেষ্টিত মুজিব মুক্তচিন্তা এবং জনগণ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলেন। ফলে সপরিবারে চরম মূল্য দিতে হয় তাঁকে। কিন্তু তার থেকে বেশি মূল্য দিতে হয় বাঙালিদের। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশের যে-সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো, তা একেবারে ধূলিসাৎ হয়। ক্ষমতালোভী ফৌজী-শাসকদের হাতে পড়ে এবং পেট্রো-ডলারের কল্যাণে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশই রুদ্ধ হয়নি, সেই সঙ্গে ‘বাঙালি’ পরিচয়ও ধুয়ে-মুছে যায়।

    এ অবস্থায় বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে যে-বাঙালি সংস্কৃতি রচিত হবে, তাতে একই সঙ্গে প্রাধান্য পাবে মুসলমানী এবং পূর্ববঙ্গীয় আঞ্চলিক উপাদান। স্বাধীন দেশ হিশেবে রাষ্ট্ৰীয় পৃষ্ঠপোষণায় সেই সংস্কৃতিই হবে অনেক জোরালো এবং ভবিষ্যতের মূলধারার বাঙালি সংস্কৃতি। বাংলা ভাষাও এ প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে বলে আমি মনে করি না। অপর পক্ষে, ভারতের একটি রাজ্যের সংস্কৃতি হিশেবে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সংস্কৃতি দুর্বল থেকে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তাতে প্রাধান্য পাবে হিন্দু উপাদান। তখন ইংল্যান্ডের ইংরেজি এবং মার্কিন ইংরেজির মতো বাংলা ভাষার দুটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি হলে অবাক হওয়ার কারণ থাকবে না।

    তার অর্থ শেখ মুজিব নিজে রবীন্দ্ৰভক্ত হলেও ঠিক এক শো বছর আগে বঙ্গভঙ্গের সময়ে রবীন্দ্রনাথ যে-আশঙ্কা প্ৰকাশ করেছিলেন, মুজিব নিজের অজ্ঞাতে তাকেই বাস্তবায়িত করলেন। রবীন্দ্রনাথের আশঙ্কা ছিলো যে, বঙ্গদেশকে মুসলমানপ্রধান পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গে বিভক্ত করলে কালে-কালে অখণ্ড বাঙালি সংস্কৃতি, এমন কি, বাঙালি পরিচয়ও বিনষ্ট হবে। সেই বাঙালি সংস্কৃতি এবং পরিচয়কে আপাতদৃষ্টিতে রীতিমতো রাষ্ট্ৰীয় ভিত্তি দান করেন শেখ মুজিব। মনে হয়েছিলো। রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নকেই বাস্তবায়িত করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন শেখ মুজিব। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, স্বাধীন বাংলাদেশ এবং ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবাংলাকে কেন্দ্র করে কালে-কালে অখণ্ড বাঙালিত্ব চিরকালের জন্যে খণ্ডিত হবে মনে হয়। সেদিক দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে শেখ মুজিব কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ নন, এমন কি, এক অর্থে, রবীন্দ্রনাথের চেয়ে?

    রবীন্দ্রনাথ বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রসারিত এবং সমৃদ্ধ করেছিলেন–তাকে উৎকর্ষ দিয়েছিলেন। অপর পক্ষে, শেখ মুজিব যা করেন তার ফলে বাঙালি সংস্কৃতি খণ্ডিত হয় এবং তাঁর অভীষ্ট পথে না-গিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। তিনিও রবীন্দ্রনাথের মতো বাঙালি সংস্কৃতি বিকাশের স্থায়ী ব্যবস্থা করেন, যদিও কার্যকারণে তা এক ভিন্ন বাঙালি সংস্কৃতি। অদৃষ্টের পরিহাস এ সংস্কৃতি স্বাধীন বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেদিকে যাচ্ছে এবং যাবে–তিনি তা কামনা করেননি। কিন্তু তবু তা অবশ্যম্ভাবী। বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে শেখ মুজিব রবীন্দ্রনাথের মতো “শ্রেষ্ঠ” না-হলেও, কম গুরুত্বপূর্ণ নন।

    (দৈনিক স্টেটসম্যান, ২০০৫)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ
    Next Article প্রবন্ধ সংকলন – গোলাম মোস্তফা

    Related Articles

    গোলাম মুরশিদ

    আশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }