Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নারী ধর্ম ইত্যাদি – গোলাম মুরশিদ

    গোলাম মুরশিদ এক পাতা গল্প346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৩. শামসুর রাহমান: মুকুটহীন জাতীয় কবি

    কোনো খেতাবে তিনি বিশ্বাস করতেন না। সরকারী খেতাব তার ভাগ্যে জোটেওনি। যাঁরা বিবেকের কথা বলেন, স্রোতের বিরুদ্ধে চলেন, হুক্কাহুয়ায় শরিক হন না, তাদের জন্যে কোনো খেতাব জোটাও শক্ত। তাই মুকুট তিনি পাননি, মৃত্যুর পর রাষ্ট্ৰীয় সম্মানও নয়। কিন্তু তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি, নিঃসন্দেহে। জাতীয় কবি–নানা কারণেই। রবীন্দ্ৰ-পরবর্তী তিরিশের দশকের কয়েকজন কবি মিলে নতুন যুগ সৃষ্টি করেছিলেন। জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু— প্ৰত্যেকেই ছিলেন নিজের নিজের বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁরা স্থায়ী আসন পাবেন বলে মনে হয়। তবে তার পরের অর্ধ-শতাব্দী ধরে যারা বাংলা কাব্যের আসরে আবির্ভূত হন, তারা আগের কবিদের তুলনায় কম সাফল্য লাভ করেছেন। তাঁরা কেউ যুগ সৃষ্টি করতে পারেননি। পাঠকরা তাদের কতোদিন মনে রাখবেন, বলা শক্ত। তা ছাড়া, তাদের অনেকে আঞ্চলিক কবি হিশেবে পরিচিত, অখণ্ড বাংলা সাহিত্যের কবি নন। তাঁরা কেউ পশ্চিবঙ্গের কবি, কেউ পূর্ব বাংলার অর্থাৎ বাংলাদেশের কবি। এই আঞ্চলিক সীমানা অতিক্রম করে বাংলা ভাষার একজন প্রধান কবি হয়েছিলেন শামসুর রাহমান। আর বাংলাদেশের কথা উঠলে এক বাক্যে বলতে হয় যে, মোটামুটি দেশ-বিভাগের পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অর্ধ-শতাব্দীর বেশি সময় ধরে তিনি আমাদের সাহিত্যের মধ্যমণি হয়ে বিরাজ করেছিলেন।

    কেবল এই ব্যাপ্তি অথবা কবিতার প্রাচুর্যের জন্যে নয়, তাঁর কৃতিত্বকে আরও বড়ো করে দেখতে হয়। এ জন্যে যে, তার কবিতা সত্যি সত্যি হৃদয়কে নাড়া দেয়। কবি তাঁর আবেগকে পাঠকের হৃদয়ে সঞ্চারিত করতে পারেন জাদুকরের মতো তার নিজস্ব ভাষা, ছন্দ এবং ভঙ্গি দিয়ে। এবং সেটাই তো একজন মহৎ কবির কাজ! তিনি যথার্থই সহৃদয়হৃদয়সংবাদী। তাঁর ভাষা এবং ভঙ্গি এমন বিশিষ্ট রঙে রাঙানো যে, অমনোযোগী পাঠকও চিনতে পারবেন যে, তাঁর কবিতা তারই কবিতা।

    আর, সাহিত্যের ইতিহাসের কথা বিবেচনা করলে, বিশেষ করে পূর্ব বাংলার সাহিত্যের কথা বিবেচনা করলে তাঁকে কৃতিত্ব দিতে হয় একটা নতুন ধারার প্রবর্তক হিশেবে। সত্যি বলতে কি, তিনি কেবল সেই নতুন ধারার প্রবর্তক নন, তার সবচেয়ে বড়ো এক্সপোনেন্টও। পূর্ব বাংলার সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব এমন একটা সময়ে যখন মুসলমান কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রধানত দুটি ধারা প্রচলিত ছিলো। এক, ইসলামী পুনর্জাগরণের ধারা–যার সূচনা নজরুল ইসলাম থেকে এবং যা বিস্তার লাভ করে ফররুখ আহমদ, বেনজির আহমদ, তালিম হোসেন, মোফাখখারুল ইসলাম প্ৰমুখের মধ্য দিয়ে। আর দ্বিতীয় যে-ধারাটি বহমান ছিলো, সেটি হলো পল্লীসাহিত্যের ধারা। এই ধারার প্রবর্তক ছিলেন জসীমউদ্দীন। এবং বন্দে আলি মিঞাদের মতো অনেকেই এ ধারা কমবেশি অনুকরণ করেছিলেন।

    সাৰ্বজনিক সাহিত্য হিশেবে সীমাবদ্ধতা যা-ই থাকুক না কেন, এই দুই ধারার কোনোটাকেই কৃত্রিম বলা যায় না। কারণ, পূর্ব বাংলার পিিছয়ে-থাকা মুসলমান সমাজে ইসলামী জাতীয়তাবাদী চেতনা প্ৰবল থাকাই তো স্বাভাবিক! আবার কবিদের সবারই শেকড় যেহেতু প্রোথিত ছিলো গ্রামের মাটিতে, সে জন্যে তাদের পক্ষে পল্লীর উপাদান নিয়ে সাহিত্য রচনাও ছিলো স্বাভাবিক।

    হয়তো আরও অনেক কাল চলতো এই দুই ধারার অনুবর্তন। কিন্তু শামসুর রাহমান সেই পরিবেশে এই দুই ধারার ঠিক বিপরীত দিকে গেলেন। তিনি ইসলামী ভাবধারা দিয়ে উদ্ধৃদ্ধ হননি। জসীমউদ্দীনের “পল্লীসাহিত্য” দিয়েও নয়। ছাত্রজীবনেই তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়ে। জীবনানন্দের ভাষা এবং বৈশিষ্ট্য তিনি দ্রুত কাটিয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু তাঁর সেকুলার মানবিক আবেদনের কবিতা তাঁর অন্তরকে নাড়া দিয়েছিলো। তিনি তাই ধর্মীয় জাগরণমূলক মুসলমানী কবিতা লিখলেন না। তাঁর কাছে হিন্দু অথবা মুসলমানের থেকে মানুষ অনেক বড়ো। তিনি মানুষের কবিতা লিখলেন। আবার, মানুষের কবিতা লিখতে গিয়েও তিনি কুলি-মজুরদের উদ্ধার করার কবিতা লিখলেন না। ধর্ম এবং জাগরণমূলক কবিতার বদলে ব্যক্তিগত অনুভূতির, প্রেমের, প্রকৃতির, দেশের, সৌন্দর্যের কবিতা লিখেছেন তিনি। ধর্মীয় ধারার বদলে তিনি প্রবর্তন করেন একটি সেকুলার রোম্যান্টিক ধারা। সে অর্থে তিনিই পূর্ব বাংলার প্রথম বিশুদ্ধ কবি।

    দ্বিতীয়ত, পল্লীসাহিত্যের ধারাও তিনি অনুকরণ করলেন না। তাঁর জন্ম নগরে সেটাই তার একমাত্র কারণ নয়। মন-মানসিকতার দিক দিয়েও তিনি ছিলেন নাগরিক। পল্লীবাংলার উপাদান, পল্লীর অনুষঙ্গ এবং গ্রামের ভাষা তাকে বিশেষ অনুপ্রাণিত করতে পারেনি। তবে তিনি নাগরিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাব্য রচনা করেন–কেবল এই অর্থেই তিনি নাগরিক কবি নয়। তিনি বিদগ্ধ কবি–এই অর্থেও নাগরিক। তার মধ্যে কোনো গ্ৰাম্যতা ছিলো না।

    সব কবিই রোম্যান্টিক। কিন্তু শামসুর রাহমান এমন আপাদমস্তক রোম্যান্টিক ছিলেন যে, সেটা আলাদা করে উল্লেখ না-করলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। রোম্যান্টিক বললে অনেকেই প্রেমের কথা ভাবেন। কিন্তু তিনি তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, তার প্ৰেম, তাঁর আশা-নিরাশা সবই দেখেছেন রঙিন রোম্যান্টিক আলোতে, কঠোর বাস্তবতার খররৌদ্রে নয়। মানুষ দুঃখ নয়, আনন্দের ভিখিরি। কিন্তু তিনি দুঃখ নিয়েও এমন রোম্যান্টিক হয়েছেন যে, তাকে দুঃখবিলাস বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। তাঁর “হৃদয়ে-লতিয়ে-ওঠা একটি নিভৃত্যতম গানে / সুখে নিদ্রায় কিবা জাগরণে, স্বপ্নের বাগানে, / অধীরের অধীর চুম্বনে সান্নিধ্যের মধ্যদিনে / … দুর্কিনীত ইচ্ছার ডানায় / আসক্তির কানায় কানায়”–সর্বত্রই দুঃখ তার নাম লেখে।

    সত্যি বলতে কি, জীবন এবং মৃত্যু উভয়ের কথা বলতে গিয়েই তিনি তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন। জীবনকে তিনি দারুণ ভালোবাসতেন। জীবন তাঁর কাছে ঝাঁ ঝাঁ রোদে লাঙল চালানো, মেঘনার ঢেউয়ে দাড় বাওয়া, শীতার্তা রাতে আগুন পোহানো নিরিবিলি, কারখানার কালি মুছে বাড়ি ফেরা এক শিস দিয়ে, বইয়ের পাতায় মগ্ন হওয়া, সহপাঠিনীর চুলে অন্তরঙ্গ আলো তরঙ্গের খেলা দেখা, মিছিলে এগিয়ে চলা, নিশান ওড়ানো।

    মনে আছে, তাঁর ষাট বছর পূর্তি হওয়ার পর আমি বিবিসির জন্যে তাঁর একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তাতে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি নিজেকে বৃদ্ধ বলে কল্পনা করেন না। তিনি মনের চোখে দেখতে পান যে, তিনি হাফ-প্যান্ট পরে স্কুলে যাচ্ছেন। চোখের সামনে অনেক লাল-নীল-সবুজ দেখতে পান। তিনি। বয়স যে বাড়ছে, এটা তিনি প্রায় অস্বীকার করতে চেষ্টা করেছেন। “বয়সের ওষ্ঠে ঠোঁট রেখে দেখি দূরে / বয়স দাঁড়িয়ে থাকে বালকের মতো আলোজ্বালা গলির ভেতরে।” কবি আর ব্যক্তি হুবহু এক হয় না। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এই রোম্যান্টিক প্ৰেমাকুল মনোভাব বহাল রেখেছিলেন। ভালোবাসায় তিনি উদার ছিলেন। ভালোবাসতেই তিনি ভালোবাসতেন। অনেক জায়গায় তার ভালোবাসা রীতিমতো দেহঘন। “তোমার শরীর কোথাও নিরালা পথ, মসৃণ অথবা তরঙ্গিত, / কোথাও বা সুরভিত ঝোপ, আমার ওষ্ঠ-পথিক / ক্রমাগত আঁকে পদচিহ্ন সবখানে। … তোমার সপ্ৰাণ চুললগ্ন বেলফুল / কী কৌশলে আমার বয়স নিয়েছিল চুরি করে।” “অবৈধ সঙ্গম করে ঘামে নেয়ে উঠতে পারি সহজ অভ্যাসে।” এসব কবিতা তিনি লিখেছিলেন। প্রৌঢ়ত্বে উপনীত হয়ে। তাঁর কবিতায় ভালোবাসাবাসির ছড়াছড়ি নিজেই তা স্বীকার করেছেন। “আমার কবিতা পথপ্ৰান্তে দুঃখীর চোখের মতো / চোখ মেলে চেয়ে থাকে কার পায়ের ছাপের দিকে, / গা ধোয় ঝরনার জলে। স্বপ্ন দেখে বনদেবী তার / ওষ্ঠে ঠোঁট রেখে হু হু জুলছেন সঙ্গম-লিপ্সায়।”

    জীবনের প্রতি এই কামরাঙা ভালোবাসা সত্ত্বেও নিজের মৃত্যু নিয়েও তিনি বিলাস করেছেন বহু কবিতায়। তাঁর বয়স যখন চল্লিশের চেয়েও কম, তখন বিবেচনা” বলে একটি কবিতায় ভেবে নিয়েছেন: যেদিন তিনি খাটে নিশ্চেন্তন হয়ে পড়ে থাকবেন, সেদিন হয়তো কাঁদবে কেউ; আত্মীয় স্বজন কেউ কেউ শোকে ধোবে সত্তা, প্রতিবেশীদের কোনো একজন হয়তো বলবে, লোকটা নাস্তিক ছিলো, শরিয়তে মোটেই ছিলো না মন, মসজিদে তার সাথে কখনো হয়নি দেখা, এবং নিষিদ্ধ দ্রব্যে ছিলো তার উৎসাহ প্রচুর। তাঁর মৃত্যুর দিনটা কেমন হবে, আবহাওয়া কেমন থাকল ভালো হয়, তাও তাঁর কল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। এমন কি, তিনি যে বলে গেলেন যে, তাকে যেন সমাধিস্থ করা হয় তার মায়ের সমাধিতে–সেও এক করুণ রোম্যান্টিক কল্পনা। দিনের শেষে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার ভাবনা থেকে ৷ প্ৰসঙ্গত বলতে হয়, মা তাঁর সত্তায় একটা প্রগাঢ় আসন জুড়ে আছেন। প্রতিদিন ধ্যানী প্ৰদক্ষিণে ছায়াবৃত আপন সংসারে তিনি মাকে দেখতে পান। মায়ের অন্তহীন স্নেহের সলিলে সিক্ত তাঁর সমগ্র অস্তিত্ব।

    বিষাদ সব মহৎ সাহিত্যেরই সাধারণ লক্ষণ। শামসুর রাহমান তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। তাঁর অনেক কবিতায় বিষাদের ঘন ছায়া চেষ্টা না-করলেও চোখে পড়ে। তা সত্ত্বেও তার কাব্যে গোড়া থেকেই একটা আশাবাদ লক্ষ্য করি। তিনি দ্বিতীয় বার মৃত্যুর আগেও প্রথম গান গেয়েছেন, করোটির ওপরও রৌদ্র দেখতে পেয়েছেন। নিরালোকেও তিনি দিব্যরথে চড়েছেন। তার এই আশাবাদ তাঁর পাঠককে উদ্বোধিত করে, অনুপ্রেরণা দেয়। শেষ পর্যন্ত এই আশাবাদ তিনি বজায় রেখেই কবিতার সঙ্গে গোরস্থালি করে গেছেন। তাঁর শেষ জন্ম দিনের একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম, তাতে তিনি হতাশায় অন্ধকার দেশ সম্পর্কে এই আশাবাদের কথা বলেছেন। আস্থা হারাননি। তিনি বলেছেন, তিনি হয়তো দেখে যেতে পারবেন না, কিন্তু বর্তমানের নীরন্ধ অন্ধকারে আবার আলোর বন্যা আসবে। তাঁর এই ইতিবাচক কণ্ঠস্বর দৈববাণীর মতো আশ্বাস দেয়।

    শামসুর রাহমানের আর-একটি বৈশিষ্ট্য তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর থেকে আমাদের জাতীয় জীবনের পথ কখনো সমতল ছিলো না। তাতে অনেক চড়াই-উৎরাই ছিলো। সেই পরিবেশে দেশের প্রতি একজন সমাজসচেতন কবির যে দরদের দৃষ্টি থাকবে, সে তো স্বাভাবিক। কিন্তু শামসুর রাহমানের মধ্যে দেশপ্রেম একটু প্রবলভাবেই লক্ষ্য করা যায়। তার ভালোবাসা দেশ এবং মাটির জন্যে, ভাষার জন্যে, নিপীড়িত মনুষ্যত্বের জন্যে, স্বাধীনতার জন্যে। দেশকে তিনি তুলনা করেছেন মায়ের সঙ্গে— তাতে এমন কিছু অভিনবত্ব নেই, কিন্তু তিনি যখন মাকে তুলনা করেছেন দেশের সঙ্গে— স্বদেশের স্বতন্ত্র মহিমা অনন্য উপমা তার–তখন বোঝা যায়, দেশের জন্যে তার ভালোবাসা কতো আন্তরিক। টেলিমেকাস, বর্ণমালা, ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, আসাদের শার্ট, তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে, একটি মোনাজাতের খসড়া, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি কবিতায় দেশের নানা স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।

    বস্তুত, তাঁর কবিতা আমাদের একদিকে যেমন স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে, অন্য দিকে তেমনি তাঁর কবিতা আমাদের স্বাধীনতার ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখার জন্যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি দুঃখিনী বর্ণমালাকে দেখে। যেমন শোকাহত হয়েছেন, তেমনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন উদ্ভট উটের পিঠে স্বদেশকে চলতে দেখে। তাঁর দেশপ্ৰেমমূলক কবিতা তার প্রেমের কবিতার মতোই হৃদয়কে নাড়া দেয়। আমার ধারণা, রবীন্দ্রনাথের পরে তিনিই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে বেশি দেশাত্মবোধক কবিতা রচনা করেছেন। নজরুল ইসলামের কথা আমি ভুলে যাচ্ছি না। এ দুজনের দেশাত্মবোধক কবিতার চরিত্র আলাদা। নজরুলের দেশাত্মবোধক কবিতা বিদ্রোহমূলক, রাজনৈতিক; শামসুর রাহমানের দেশাত্মবোধক কবিতা দেশের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম প্রেমের কবিতা।

    ভাষা ব্যবহারে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ না-করলে তাঁর প্রতি সুবিচার করা হয় না। নজরুল ইসলাম থেকে আরম্ভ করে বিশ শতক জুড়ে যে-মুসলমান কবিসাহিত্যিকরা লিখেছেন, তাদের সবার ভাষাতেই মুসলমানী শব্দ অর্থাৎ আরবিফারসি শব্দের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। কারণ ব্যক্তিগত এবং প্রাত্যহিক জীবনেই তাঁরা এ ধরনের শব্দ বেশি ব্যবহার করতেন। কিন্তু শামসুর রাহমানের ভাষায় তাঁর ধর্মীয় চরিত্র প্রাধান্য পায়নি। তিনি আরবি-ফারসি এবং গ্রামীণ শব্দ প্রচুর ব্যবহার করেছেন, কিন্তু প্রয়োজন অনুসারে। এ ক্ষেত্রেও তাঁর মধ্যে এক ধরনের নাগরিকত্ব লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে আরও বলা উচিত যে, তিনি ভাষা এবং শব্দ ব্যবহারে অত্যন্ত সচেতন এবং সব সময়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতেন। ঢাকার কুট্টিদের ভাষায় কবিতা লেখা যায়। কিনা, সে পরীক্ষাও তিনি সফলভাবে করেছেন। ছন্দের ক্ষেত্রে তিনি বৈশিষ্ট্য রেখেছিলেন সেই পুরোনো অক্ষরবৃত্তের মধ্যেই। যদিও তিনি অন্য ছন্দ নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন।

    শামসুর রাহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো— এর জন্যে আমি সত্যি গর্ব অনুভব করি। এই পরিচয় থেকে একটা জিনিশ সব সময়ই চোখে পড়েছে। তিনি অসম্ভব নিরহঙ্কার লোক ছিলেন। নিজের ঢাক বাজাতে আমরা সবাই আগ্রহী। আমরা অনেকেই মনে করি, নিজের ঢাক নিজে না-পেটালে, আর কে পেটাবে। এবং শূন্যপোত্রই বেশি ঝনঝন করে। কাজেই আমাদের ঢাকই প্রবল শব্দে বাজে। শামসুর রাহমান এর উল্টো ছিলেন। তিনি নিজেকে জাহির করেননি–কী দেশে, কী বিদেশে। সম্প্রতি উইলিয়াম র্যাডিচি একটি প্রবন্ধে বলেছেন যে, শামসুর রাহমান যদি তার কাব্যসমূহের অনুবাদ করানোর ব্যাপারে এবং প্রচারের ব্যাপারে তৎপর হতেন, উদ্যোগী হতেন, বিদেশের সমালোচকদের নজরে আসতেন, তা হলে, তার পক্ষে নোবেল পুরস্কার পাওয়াও হয়তো অসম্ভব হতো না। কিন্তু আত্মপ্রচারে বিমুখ এই লাজুক মানুষটি নিজেকে চিরদিন লুকিয়ে রাখলেন!

    কাছের মানুষকে আমরা যথাযথ সম্মান দিই না, সম্মান দিতে শিখিনি। তাদের আমরা নিজেদের প্রতিপক্ষ বলে বিবেচনা করি। তারপর সাধারণত মরার পর আমরা অনুষ্ঠান করে তাদের প্রতি সম্মানের পাত্ৰ উজাড় করে দিই। শামসুর রাহমান যে অতো মহৎ একজন কবি ছিলেন, আমার মনে হয়, আমরা তা বুঝতে পারিনি। তার জীবদ্দশায় জীবনানন্দকে পেরেছিলাম? পারিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শামসুর রাহমান ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবেন না। বরং বাংলা সাহিত্যের পাঠকরা তার কাব্যে আরও গুণ দেখতে পাবেন। তার কাব্য আরও ভালোবাসবেন। তাকে মনে রাখবেন দীর্ঘকাল।

    (যুগান্তর, অক্টোবর ২০০৬)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ
    Next Article প্রবন্ধ সংকলন – গোলাম মোস্তফা

    Related Articles

    গোলাম মুরশিদ

    আশার ছলনে ভুলি – গোলাম মুরশিদ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }