Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিঃসঙ্গতার একশ বছর – গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এক পাতা গল্প607 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিঃসঙ্গতার একশ বছর – ৭

    ৭

    মে মাসে যুদ্ধ শেষ হয়। সরকারপক্ষের বিদ্রোহীদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকারে সোচ্চারিত ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগেই ধরা পড়ে যায় কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। আরেকটু হলেই সে আদিবাসীদের ওঝার ছদ্মবেশে পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছে যেত। যে একুশজন ওর সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল, তাদের মধ্যে চৌদ্দজন মারা যায় যুদ্ধে, ছয়জন হয় আহত আর চূড়ান্ত পরাজয়ের সময় তাকে সঙ্গ দিয়েছিল শুধু একজন, কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস। এই খবর মাকন্দে আসে এক বিশেষ ফরমানের মাধ্যমে। ‘সে বেঁচে আছে’, উরসুলা খবরটা জানায় স্বামীকে, ‘চলো, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন শত্রুপক্ষের দয়া হয়। ‘তিন দিন কান্নার পর এক বিকেলে রান্নাঘরে যখন দুধের মিষ্টি নাড়া দিচ্ছিল, তখন পরিষ্কার ছেলের গলার স্বর তার কানে আসে। ‘আউরেলিয়ানোর গলা ছিল ওটা’, চিৎকার করে চেস্টনাটগাছের দিকে ছুট লাগায় স্বামীকে খবরটা দেওয়ার জন্য, ‘জানি না কীভাবে অলৌকিক ব্যাপারটা ঘটল কিন্তু সে বেঁচে আছে এবং শিগগিরই ওকে আমরা দেখতে পাব।’ এটাকে সে নিশ্চিত বলে ধরে নেয়। ঘরের মেঝে ধোয়ার ব্যবস্থা করে আর আসবাবপত্রের জায়গা বদল করে। কয়েক সপ্তাহ পর নাটকীয়ভাবে এক অশুভ ইঙ্গিত শোনা যায়, যেটার কোনো সরকারি ফরমানের ভিত্তি ছিল না; কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে আর লোকজনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সেটা সম্পন্ন করা হবে মাকন্দেই।

    এক সোমবার, সকাল দশটা বিশে উরসুলার ‘ওকে নিয়ে আসছে’-এই চিৎকার করে ঘর ভাঙার এক মুহূর্ত আগে, যখন আমারান্তা আউরেলিয়ানো হোসেকে কাপড় পরাচ্ছিল, তখন শোনা যায় দূর থেকে আসা এক রণশিঙার আওয়াজ আর সেনাদলের উপস্থিতির শব্দ। বন্দুকের কুঁদোর ঘায়ে উপচে পড়া লোকজনকে সামাল দিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় ওদের। উরসুলা আর আমারান্তা ভিড়ের মধ্যে পথ করে নিয়ে রাস্তার বাঁকে পৌঁছায় আর দেখতে পায় আউরেলিয়ানোকে। ভিখারির মতো দেখাচ্ছিল ওকে। পরনে ছেঁড়া কাপড়, চুল দাড়ি জট পাকানো আর খালি পা ছিল ওর। গরম ধুলার দিকে আমল না দিয়ে হাঁটছিল সে, হাত দুটো ছিল দড়ি দিয়ে পিছমোড়া করে বাঁধা আর এক অশ্বারোহী অফিসার ঘোড়ার মাথার ওপর ধরে রাখছিল দড়িটাকে। একইভাবে ছিন্ন পোশাকে বিধ্বস্ত হেরিনেলদো মার্কেসকেও নিয়ে যাচ্ছিল ওরা। কিন্তু ওরা বিমর্ষ ছিল না। বরং ওরা যেন সৈন্যদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় চিৎকাররত মিছিলের ওপরই বিরক্ত। ‘বাছা আমার’-সমবেত গর্জনের মধ্যে চিৎকার করে উরসুলা আর এক সৈন্য তাকে থামানোর চেষ্টা করায় এক থাপ্পড় কষিয়ে দেয় তাকে অফিসারের ঘোড়া পিছু হটে। ফলে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া থেমে দাঁড়িয়ে কেঁপে উঠে মায়ের বাড়িয়ে দেওয়া হাত এড়িয়ে মায়ের চোখের ওপর এক কঠিন দৃষ্টিতে চোখ রাখে। ‘বাড়ি ফিরে যাও, মা, কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাও আর পরে আমার সঙ্গে দেখা কোরো জেলখানায়।’ মায়ের দুই পা পেছনে ইতস্তত আমারান্তাকে দেখে তখন, আর হেসে জিজ্ঞেস করে, ‘তোর হাতের এ অবস্থা হয়েছে কীভাবে?’

    ‘আমারান্তা কালো ব্যান্ডেজসহ হাতটা উঁচু করে বলে, ‘পুড়ে গিয়েছে’ আর উরসুলাকে সরিয়ে নেয়, যাতে ঘোড়াগুলো তাকে না মাড়ায়। সৈন্যদল এগিয়ে যায় আর বিশেষ এক দল বন্দীদের ঘিরে ফেলে দ্রুত নিয়ে যায় কারাগারে।

    বিকেলে, উরসুলা দেখা করে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার সঙ্গে। চেষ্টা করে সে দন আপলিনার মসকতের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার। কিন্তু দন আপলিনার এই প্রবল প্রতাপ মিলিটারির সামনে নিজের কর্তৃত্ব হারিয়ে ফেলেছে। ফাদার নিকানোর যকৃৎ সমস্যায় জ্বরে ভুগছে তখন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত না করা কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেসের বাবা-মা দেখা করার চেষ্টা করলে বন্দুকের কুঁদো দিয়ে গুঁতিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মধ্যস্থতা করার মতো কাউকে পাওয়া অসম্ভব বুঝতে পেরে আর পরের দিন সকালে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নিশ্চিত হয়ে উরসুলা ছেলের জন্য কিছু জিনিসপত্র বাঁধাছাঁদা করে, আর একাই চলে যায় কারাগারে।

    ‘আমি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মা’, ঘোষণা করে।

    কারাগারের প্রহরীরা তার পথরোধ করে। ‘যেকোনোভাবেই হোক, আমি ঢুকবই।’ সতর্ক করে ওদের উরসুলা, ‘যদি তোমাদের প্রতি গুলি করার আদেশ থেকে থাকে, তাহলে এক্ষুনি আরম্ভ করতে পার।’

    ওদের একজনকে ঠেলে ধাক্কা দিয়ে সাবেক ক্লাসঘরে গিয়ে ঢোকে সে, যেখানে খালি গায়ে একদল সৈন্য অস্ত্রে গ্রিস লাগাচ্ছিল। কমব্যাট ইউনিফর্ম পরা লালমুখো পুরু লেন্সের চশমা পরা, বিধিসম্মত চালচলনের অধিকারী এক অফিসার সৈন্যদের বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত করে।

    ‘আমি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মা’, পুনরাবৃত্তি করে উরসুলা।

    ‘আপনি বলতে চাইছেন, এক সদয় হাসি সহকারে শুধরে দেয় অফিসার, ‘আপনি হচ্ছেন সেনঞর আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার শ্রদ্ধেয় মা।’

    তার কথা বলার শিথিল ভাব দেখে উরসুলা বুঝতে পারে, সে হচ্ছে বোগোতা অভিবাসী (যাদের বলা হয় কাচাকো) উঁচু অঞ্চলের বাসিন্দা। ‘তোমার যেভাবে ইচ্ছা বলো’, মেনে নেয় উরসুলা, ‘শুধু আমাকে দেখা করার অনুমতি দাও।’

    ওপরওয়ালাদের আদেশ ছিল মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের সঙ্গে কাউকে দেখা করার অনুমতি না দেওয়ার কিন্তু নিজেই সে দায়িত্ব নিয়ে পনেরো মিনিটের জন্য দেখা করতে দেয় অফিসারটি। বোঁচকার ভেতর কী আছে, খুলে দেখায় অফিসারকে-এক প্রস্থ পরিষ্কার জামা, তার ছেলে বিয়ের সময় যে জুতাটি পরেছিল সেটা, যেদিন থেকে ছেলের ফেরত আসার ব্যাপারটা আঁচ করতে পারে, সেদিন থেকে তার জন্য রেখে দেওয়া দুধের মিষ্টি।

    কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে পেল পায়ে বেড়ি দেওয়া; বগলে এমপেদ্রাদাস দে গলন্দ্রিনোস (Lymphatic Ganglion, একধরনের ঘা) হওয়ায় হাত ছড়িয়ে বিছানায় শোয়া অবস্থায়। ওকে দাড়ি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দুই প্রান্ত চোখা করে পাকানো গোঁফ তার চোয়ালের হাড়গুলোকে প্রকট করে তুলছিল। উরসুলার মনে হচ্ছিল যখন সে চলে গেছে, তার থেকে আরও বেশি পাণ্ডুর আর একটু লম্বা হয়েছে সে। আর মনে হচ্ছে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিঃসঙ্গ। বাড়ির সব খুঁটিনাটি ব্যাপারই বিস্তারিতভাবে তার জানা: পিয়ে ক্রেসপির আত্মহত্যা, আউরেলিয়ানোর স্বেচ্ছাচার আর মৃত্যুদণ্ড, চেস্টনাটের নিচে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার নির্ভীক মনোভাব। জানত, আমারান্তা আউরেলিয়ানো হোসেকে লালন- পালনের উদ্দেশ্য নিয়ে কুমারী অবস্থাতেই বৈধব্য মেনে নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করেছে। এর মধ্যে আউরেলিয়ানো হোসে খুব বুদ্ধির নমুনা দেখাতে শুরু করেছে; কথা বলতে শেখার সময়েই একসঙ্গে লিখতে আর পড়তে শিখছে। ঘরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই উরসুলার কাছে বেখাপ্পা লাগছিল ছেলের পরিণত মানসিকতা, তার গায়ের চামড়া থেকে বিচ্ছুরিত কর্তৃত্ব তার নিয়ন্ত্রণের ছটা। সে এত সব খবর রাখায় মা আশ্চর্য হয়। ‘তুমি জানো, আমি সবজান্তা’, কৌতুক করে আউরেলিয়ানো। পরে গম্ভীর হয়ে বলে, ‘আজ সকালে আমাকে যখন ওরা আনে, তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমার জীবনেই এসব ঘটে গেছে।’ আসলেই ওর চারপাশের মানুষের ভিড় যখন চিৎকার করছিল, সে তখন, গ্রামটা এক বছরে এভাবে বুড়িয়ে যাওয়ায় আশ্চর্য হয়ে নিজের চিন্তাতেই মগ্ন ছিল। আলমন্ডগাছের পাতাগুলোতে চিড় ধরেছে। নীল রং করা বাড়িগুলো লাল রং করে পরে আবার নীল রং করায় এখন এক অবর্ণনীয় রং ধারণ করেছে।

    ‘কী আশা করছিলি’, দীর্ঘশ্বাস ফেলে উরসুলা, ‘সময় বয়ে যায়।’

    ‘ঠিক তা-ই’, মেনে নেয় আউরেলিয়ানো, ‘কিন্তু এত তাড়াতাড়ি নয়।’

    আর এভাবেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দুজনেরই আগে থেকে ঠিক করে রাখা প্রশ্ন আর উত্তরগুলো গিয়ে ঠেকে দৈনন্দিন নিত্যনৈমিত্তিক কথোপকথনে। প্রহরী যখন সময় শেষের কথা ঘোষণা করে, আউরেলিয়ানো তখন বিছানার নিচ থেকে খামে পোরা রোল করা কিছু কাগজ বের করে আনে। ওগুলো ছিল তার পদ্য। রেমেদিওস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা পদ্যগুলো যাওয়ার সময় সঙ্গে করে নিয়ে যায় সে। আর যুদ্ধের সময় কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অবসরে লিখে চলে, ‘প্রতিজ্ঞা করো, কেউ কোনো দিনও এগুলো পড়বে না’, বলে, ‘এই রাতেই এগুলো দিয়ে চুলো ধরিয়ো।’ উরসুলা প্রতিজ্ঞা করে আর বিদায় চুম্বনের জন্য উঠে দাঁড়ায়। ‘তোর জন্য একটি রিভলবার এনেছি’, ফিসফিস করে।

    কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া খেয়াল করে, কোনো প্রহরী দৃষ্টিসীমার মধ্যে নেই। ‘আমার কোনো প্রয়োজনেই আসবে না।’ নিচু স্বরে বলে, ‘তবু দাও আমাকে। বেরোনোর সময় ওরা তোমার শরীর তল্লাশি করতে পারে।

    উরসুলা বড়িসের ভেতরে থেকে রিভলবারটা বের করে। সে সেটা বিছানার মাদুরের নিচে চালান করে দিয়ে শান্ত ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাক্ষাতের ইতি টানে, ‘কারও কাছে কোনো অনুনয় কোরো না বা মাথা হেঁট কোরো না। মনে করো যে আমার মৃত্যুদণ্ড অনেক আগেই কার্যকর হয়েছে।’ উরসুলা ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে কান্না চেপে রাখতে। বলে, ‘ঘাগুলোতে গরম পাথরের ছেঁকা দে।’

    আধপাক ঘুরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। চিন্তিত কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া দাঁড়িয়ে থাকে দরজাটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত। তারপর আবার সে শুয়ে পড়ে হাত দুটো ছড়িয়ে। শৈশবের প্রান্ত থেকেই যখন পূর্বলক্ষণ সম্বন্ধে সচেতন হতে শুরু করেছে, তখন থেকেই সে মনে করত, মৃত্যু আসবে সুনিশ্চিত, নির্ভুল ও অনিবার্য সংকেতের ঘোষণা দিয়ে। এখন আর কয়েক ঘণ্টা বাকি আছে, কিন্তু সংকেতটা এখনো আসছে না। একবার খুব সুন্দরী এক মেয়ে তার তুকুরিংকার সেনাছাউনিতে এসে প্রহরীদের কাছ থেকে দেখা করার অনুমতি চায়। মায়েরা তাদের মেয়েদের পরবর্তী বংশধরদের উন্নতির জন্য বিখ্যাত যোদ্ধাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার গোঁড়ামির কথা জানা থাকায় প্রহরীরা মেয়েটাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়। যখন মেয়েটা ঘরে ঢোকে, কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ‘বৃষ্টিতে পথ হারিয়ে ফেলার কবিতাটাকে শেষ করছিল। যেখানে তার পদ্যগুলো রাখত, সেই আলমারিতে পদ্যটা তালা দিয়ে রাখার জন্য যখন মেয়েটার দিকে পেছন দিয়ে আছে সে, তখন অনুভব করে কারও আগমনী। আলমারি থেকে পিস্তলটা নেয় মুখ না ঘুরিয়েই বলে, ‘দয়া করে গুলি কোরো না।

    যখন সে গুলি ভরা পিস্তল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ততক্ষণে মেয়েটা তারটা নামিয়ে ফেলেছে। বুঝতে পারছে না কী করবে। এভাবেই এগারোটার মধ্যে চারটে অ্যামবুশ এড়িয়ে গিয়েছে সে। অন্যবার এক রাতে মানউরের বিপ্লবী শিবিরে তার জ্বর আসায় শরীর ঘামানোর জন্য তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু কর্নেল ম্যাগনিফিকো ভিসবালকে নিজের বিছানা ধার দেয়। যাকে কখনো ধরা যায়নি এমন এক লোক ম্যাগনিফিকোকে ছোরাঘাতে মেরে পালায়, আর নিজে সে কয়েক মিটার দূরে দোলবিছানায় একই ঘরে শুয়ে থেকেও কিছুই টের পায় না। পূর্ববোধগুলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার চেষ্টাগুলোও ছিল ব্যর্থ। হঠাৎ করে ওগুলো আসত, যেটাকে ঠিকমতো ধরে রাখা যায় না। কোনো কোনো সময় সেগুলো ছিল এতই স্বাভাবিক যে সেগুলোকে পূর্ববোধ বলে চিহ্নিত করা যেত না। একমাত্র ঘটে যাওয়ার পরেই বোঝা যেত যে সেগুলো ছিল পূর্ববোধ। প্রায়ই সেগুলো ভ্রান্ত অন্ধবিশ্বাসের নগ্ন ধাক্কা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু যখন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো, আর জিজ্ঞেস করা হলো তার শেষ ইচ্ছার কথা, পূর্ববোধের ভেতরকার সেই উত্তরটাকে চিনে নিতে তার কোনো সমস্যাই হয় না: বলে, ‘আমি চাই যে, দণ্ডটা মাকন্দেই কার্যকর হোক।’

    কোর্ট মার্শালের প্রেসিডেন্ট এটাকে পছন্দ করে না, ‘মতলববাজি কোরো না’, বুয়েন্দিয়াকে বলে, ‘এটা হচ্ছে তোমার সময় কেনার এক কৌশল।’

    ‘যদি পূরণ না করেন, সেটা আপনার ইচ্ছা’, কর্নেল বলে, ‘কিন্তু এটাই আমার অন্তিম ইচ্ছা।’

    সে সময় থেকেই পূর্ববোধগুলো তাকে ত্যাগ করেছে। যেদিন জেলে উরসুলার সঙ্গে দেখা হয়, সেদিন থেকেই প্রচুর চিন্তা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে এবার মৃত্যু ঘোষণা দিয়ে আসবে না। কারণ, সেটা দৈবের ওপর নির্ভর করছে না, বরং নির্ভর করছে জল্লাদের ওপর। ঘায়ের ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে সারা রাত জেগে কাটায় সে। ভোরের কিছুক্ষণ আগে বারান্দায় পদশব্দ শুনতে পায়। ‘এই যে আসছে’, বলে ওঠে, আর কোনো কারণ ছাড়াই হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার কথা চিন্তা করে, যে নাকি বিষণ্ণ উষায় চেস্টনাটের নিচে বসে ওর কথাই ভাবছিল। ভয় করে না তার অথবা অনুভব করে না কোনো স্মৃতিকাতরতা; বরং মানুষের আয়োজিত এই মৃত্যুটা যে তার আরম্ভ করা কাজগুলো শেষ করতে না দিয়ে কাজগুলোর সমাপ্তিকে জানতে দিচ্ছে না, তার জন্য পেটের ভেতর অনুভব করে প্রচণ্ড ক্রোধ। দরজা খুলে যায়। এক মগ কফি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকে পাহারাদার। পরের দিন একই সময় একই অনুভূতি নিয়ে বগলের যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় ঘটে একদম একই ঘটনা। বৃহস্পতিবার পাহারাদারদের মধ্যে দুধের মিষ্টি ভাগ করে দিয়ে পরিষ্কার জামা পরে, যেগুলো এর মধ্যে তার সঙ্গে আঁটসাঁট হয়ে লাগে আর পরে নেয় চামড়ার বুটজোড়া। শুক্রবারেও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না।

    সত্যি বলতে কি, ওর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সাহস পাচ্ছিল না ওরা। গ্রামের বিদ্রোহীরা মিলিটারিদের ভাবতে বাধ্য করেছিল যে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে শুধু মাকন্দে নয়, জলাভূমির সব এলাকায় ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। তারা প্রাদেশিক রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবার রাতে ওরা যখন রাজধানী থেকে উত্তর আসার অপেক্ষা করছে, ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো অন্যান্য অফিসারের সঙ্গে কাতরিনার দোকানে যায়।

    প্রায় হুমকির মুখে শুধু একটা মেয়ে তাকে ঘরে নিতে সাহস করে। ‘কারও মরণ নিশ্চিত অবগত হওয়ার পর, কোনো মেয়েই আর তার সঙ্গে শুতে চাইবে না।’ তার কাছে স্বীকারোক্তি করে মেয়েটা, ‘কেউই জানে না কীভাবে ব্যাপারটা ঘটবে কিন্তু সবাই বলাবলি করছে যে, কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে যে অফিসার গুলি চালাবে, সে আর তার প্লাটুনের সবাই দুনিয়ার শেষ প্রান্তে লুকালেও, আগে হোক বা পরে হোক খুন হয়ে যাবে, একের পর এক।’

    ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো অন্য অফিসারদের জানায় কথাটা, আর তারা জানায় তাদের ওপরওয়ালাদের। রোববার, যদিও কেউ খোলাখুলিভাবে বলে নি, যদিও কোনো মিলিটারি কার্যক্রম তখনকার চাপা উত্তেজনাপূর্ণ শান্ত অবস্থাতে ভাঙন ধরায় নি, তবু সারা গ্রামই জানত, অফিসাররা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায়িত্ব এড়াতে সব রকমের অজুহাত দেখানোর জন্য এক পায়ে খাড়া।

    সোমবারের ডাকে সরকারি আদেশ আসে: চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। সেই রাতে অফিসাররা এক টুপির মধ্যে নিজেদের নাম লেখা সাতটা কাগজ ফেলে আর পুরস্কার হিসেবে আসা কাগজটা ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরোর ঝঞ্ঝাময় নিয়তিকেই প্রকাশ করে।

    ‘মন্দ ভাগ্যে চিড় ধরল না কখনো’, প্রচণ্ড তিক্ততার সঙ্গে উচ্চারণ করে, ‘জন্ম নিয়েছি খানকির ছেলে হয়ে, মরবও খানকির ছেলে হয়ে।’ সকাল পাঁচটার সময় লটারি করে ফায়ারিং স্কোয়াডের সৈন্যদের বাছাই করা হয়। দণ্ডিতকে জাগায় ওরা এক সতর্কবাণী দিয়ে বলে, ‘চলো বুয়েন্দিয়া। সময় এসেছে আমাদের।’

    ‘আচ্ছা, এই ব্যাপার!’ উত্তর দেয় কর্নেল, ‘স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমার ফোঁড়াগুলো ফেটে গেছে।’

    যেদিন থেকে রেবেকা বুয়েন্দিয়া জানতে পারে যে আউরেলিয়ানোকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেদিন থেকেই সে ভোর তিনটার সময় জেগে উঠত। আর শয়নঘরে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার নাসিকা গর্জনে কাঁপতে থাকা আধখোলা জানালা ও গোরস্থানের দেয়ালের মধ্যে দিয়ে পাহারা দিত। অন্য সময়ে যেমন পিয়েত্র ক্রেসপির চিঠির জন্য যেমন অপেক্ষা করত, তেমনি গোপন অধ্যবসায় নিয়ে অপেক্ষা করে সে সারা সপ্তাহ। ‘এখানে ওকে মারা হবে না।’ ওকে বলত হোসে আর্কাদিও।

    ‘ওকে মারা হবে মধ্যরাতে, শিবিরের ভেতর। ওখানেই তাকে কবর দেওয়া হবে, যাতে কেউ জানতে না পারে, কে তাকে গুলি করেছে।’ রেবেকা অপেক্ষা করতে থাকে ওকে আমল না দিয়ে। ‘ওরা কি এতই বোকা যে এখানে মৃত্যুদণ্ড দেবে!’ বলত হোসে আর্কাদিও। কিন্তু রেবেকা এতই নিশ্চিত ছিল যে আগে থেকেই ভেবে রেখেছে কীভাবে দরজা খুলে হাত নেড়ে ওকে বিদায় জানাবে। ‘ওকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে আসা হবে না।’ জোর করত হোসে আর্কাদিও, ‘ওরা কি এতই বোকা যে লোকজন সবকিছুর জন্য প্রস্তুত তা জানা সত্ত্বেও শুধু ছয়জন ভয়ে কাঁপতে থাকা সৈন্য ওকে নিয়ে যাবে এখান দিয়ে?’ স্বামীর যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রেবেকা জানালার পাশে বসেই থাকত। আর বলত, ‘তুই দেখতে পাবি, ওরা আসলে ও রকমই গাধা।’

    মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় হোসে আর্কাদিও কফি পান করে কুকুরগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে, তখন রেবেকা জানালা বন্ধ করে আর খাটের উঁচু রেলিং ধরে নিজের পতন রোধ করে। ‘ওই যে ওকে নিয়ে আসছে’, দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘কী সুন্দর দেখাচ্ছে ওকে।’ হোসে আর্কাদিও জানালার কাছে যায়। দেখতে পায় ওর যৌবনে পরা প্যান্ট পরিহিত ঊষার স্বচ্ছ আলোয় কাঁপছে সে। এরই মধ্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকানো আর দুহাত কোমরে রাখা। কারণ, বগলতলার জ্বলুনি ধরা ঘা তাকে হাত নামাতে বাধা দিচ্ছিল। ‘লোকে এত চোঁদা চোদে এরই জন্য।’ বিড়বিড় করে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, ‘এতই চোদে যে ছয় হিজড়া তাকে মারে আর সে কিছুই করতে পারে না!’ সে এতই রাগের সঙ্গে কথাটার পুনরাবৃত্তি করছিল, যে মনে হচ্ছিল সেটা একরকম আকুলতা; আর ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো সেটাকে প্রার্থনা করছে মনে করলে তার মনটা নরম হয়। যখন ফায়ারিং স্কোয়াড ওকে তাক করছে, তখন ওর রাগ পরিণত হয় এক তিক্ত ঘন পদার্থে, যা ঘুম পাড়িয়ে দেয় জিবটাকে, আর ওকে বাধ্য করে চোখ বন্ধ করতে। ফলে উধাও হয়ে যায় ভোরের উজ্জ্বল আলো আর আবার নিজেকে দেখতে পায়-নিতান্তই শিশু, খাটো এক প্যান্ট আর গলায় টাই পরা অবস্থায়। এক উজ্জ্বল বিকেলে ওকে নিয়ে যাচ্ছে এক তাঁবুর মধ্যে আর দেখতে পেল বরফ। যখন চিৎকার শুনতে পেল, ওর মনে হলো, সেটাই হচ্ছে ফায়ারিং স্কোয়াডের শেষ আদেশ।

    চোখ খোলে এক শিহরিত কৌতূহল নিয়ে, জ্বলন্ত বুলেটের গতিপথের অপেক্ষা করতে করতে। কিন্তু শুধু দেখতে পায় শূন্যে দুহাত তোলা অবস্থায় ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরোকে, আর হোসে আর্কাদিওকে উদ্যত রাইফেল হাতে গুলি করতে প্রস্তুত অবস্থায় রাস্তা পার হতে।

    ‘গুলি কোরো না’, ক্যাপ্টেন বলে হোসে আর্কাদিওকে, ‘স্বর্গীয় এখতিয়ার পাঠিয়েছে তোমাকে।’

    সেখানেই আরম্ভ হয় আরেক যুদ্ধ। ক্যাপ্টেন রোকে কার্নিসেরো, ও তার ছয় সৈন্য কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার সঙ্গে রওনা হয় রিওয়াচার উদ্দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিপ্লবী জেনারেল ভিক্তর মেদিনাকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। সময় বাঁচানোর জন্য মাকন্দ পত্তনের সময় যে পথ ব্যবহার করেছিল হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া সেই পথ ধরে তারা। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই বুঝতে পারে, সেটা ছিল এক অসম্ভব অভিযান। ফলে পাহাড়ের পাদদেশের বিপজ্জনক পথ ধরে এগোতে হয় তাদের, শুধু ফায়ারিং স্কোয়াডের জন্য বরাদ্দকৃত গুলি নিয়ে পথে পড়া গ্রামগুলোর কাছাকাছি ঘাঁটি গাড়ত ওরা। সোনার মাছ হাতে ছদ্মবেশ নিয়ে ওদের একজন সম্পূর্ণ দিনের বেলায় বিশ্রামরত বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেরিয়ে যেত। পরে বিপ্লবীসহ দুজন শিকারের নাম করে বেরিয়ে আর কখনো গ্রামে ফিরত না। পাহাড়ের বাঁক থেকে রিওয়াচা যখন ওদের চোখে পড়ে, ততক্ষণে জেনারেল ভিক্তর মেদিনাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে লোকেরা ক্যারিবীয় উপকূলের বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান বলে ঘোষণা করে। সে এই ভার গ্রহণ করলেও পদোন্নতি বর্জন করে। পাশাপাশি নিজের ওপর শর্ত আরোপ করে যে যতক্ষণ পর্যন্ত না রক্ষণশীলদের ক্ষমতা থেকে না সরাতে পারবে, তত দিন সে এই পদ গ্রহণ করবে না। মাস তিনেকের মধ্যে সে হাজারের বেশি লোকের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে পারলেও তারা সবাই যুদ্ধে নিহত হয়। যারা বেঁচে থাকে তারা পূর্ব সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পরে তাদের সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জে অন্তর্ভুক্ত ‘কাবো দে ভেলায় গিয়ে ওরা জাহাজ থেকে নেমেছে। সরকারের তরফ থেকে টেলিগ্রাফের মাধ্যমে দেশব্যাপী ঘোষণা করা হয় বিজয় উল্লাস। কিন্তু দুই দিন পরই, প্রায় আগের টেলিগ্রাফের সঙ্গে সঙ্গেই এল দক্ষিণের সমভূমির আরেক বিদ্রোহের বার্তাবাহী টেলিগ্রাম। আর এভাবেই সূত্রপাত হয় সর্বব্যাপী কর্ণেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার কিংবদন্তির। একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী সংবাদ আসে, বিইয়্যানুয়েবার বিজয়ের ও গুয়াকামাইয়ার পরাজয়ের, নরখাদক মেতিলনদের খাদ্যে পরিণত হয়েছে সে, জলাভূমির এক গ্রামে মারা গিয়েছে আবার আর এক খররে জানা যায় সে উরমিতায় ঘোষণা করেছে বিদ্রোহের। সেই সময়ে উদারপন্থী নেতারা সরকারের সঙ্গে পার্লামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য দর-কষাকষি করছিল আর তারা তাকে নিঃসঙ্গ ভাগ্যান্বেষী অভিযাত্রী বলে ঘোষণা করে, যার তাদের দলে কোনো স্থান নেই। সরকার তাকে ডাকাতের তালিকাভুক্ত করে এবং তার মাথার দাম পাঁচ হাজার পেসো ধার্য করে। ষোলোবার পরাজয়ের পর কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া দুই হাজার অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত আদিবাসী নিয়ে গুয়াহিরা ত্যাগ করে আর অপ্রস্তুত আক্রমণে নিদ্রারত সৈন্যরা রিওয়াচা পরিত্যাগ করে। সেখানেই সে নিজের প্রধান সৈন্যশিবির স্থাপন করে এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের তরফ থেকে প্রথম যে হুমকি আসে তা হচ্ছে, সে তার সৈন্যদলকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত সরিয়ে না নিলে আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেসকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। তখনকার পদোত্তীর্ণ সেনাপতি কর্নেল রোকে কার্নিসেরো হতাশাসহকারে টেলিগ্রামটা তার হাতে দেয়। সে সেটা অভূতপূর্ব আনন্দের সঙ্গে পড়ে।

    ‘কী ভালো!’ উল্লাসভরা কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের মাকন্দে এখন টেলিগ্রাফ আছে।’

    সে সুস্পষ্ট ভাষায় চিঠিটার উত্তর দেয়। তিন মাসের মধ্যে সে তার প্রধান সৈন্যশিবির স্থাপন করার চিন্তা করছে। যদি ওই সময় কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেসকে জীবিত না পাওয়া যায় তাহলে কোনো রকম বিচার না করেই ওই সময়ের সব বন্দীকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। শুরু করা হবে জেনারেলদের দিয়ে আর তাদের অধীনস্তদেরও একইভাবে গুলি করার। নির্দেশ দেওয়া হবে আর যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একইভাবে চলবে সেটা। বিজয়ী বেশে তিন মাস পর, জলাভূমির পথে সে যার সঙ্গে প্রথম আলিঙ্গনবদ্ধ হয়, সে হচ্ছে কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস।

    বাড়িটা তখন শিশুদের দিয়ে ভরে গিয়েছে। আর্কাদিওর মৃত্যুর পাঁচ মাস পর জন্ম দেওয়া দুই যমজ ছেলেসহ তার বড় মেয়ে সান্তা সোফিয়া দেলা পিয়েদাদকে উরসুলা অনেক আগেই বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতের শেষ ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ‘রেমেদিওস’ নাম দিয়ে মেয়েটাকে ব্যাপটাইজ করা হয়। ‘আমি নিশ্চিত যে এটাই আর্কাদিও বলতে চেয়েছে। তর্ক করে সে, ‘ওর নাম উরসুলা রাখা হবে না। কারণ উরসুলারা জীবনে অনেক কষ্ট ভোগ করে।’ যমজ দুজনের নাম রাখা হয় হোসে আর্কাদিও সেগুন্দো ও আউরেলিয়ানো সেগুন্দো। আমারাস্তা ওদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়। বসার ঘরে কাঠের ছোট ছোট টুল বসিয়ে প্রতিবেশীদের অন্য বাচ্চাদের নিয়ে সে কিন্ডারগার্টেন স্থাপন করে। যখন কর্নেল আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া ফিরে আসে, আতশবাজি, ঘণ্টা ধ্বনি আর বাচ্চাদের কোরাস গানের মাধ্যমে স্বাগতম জানানো হয় তাকে। দাদার মতো লম্বা, বিপ্লবী অফিসারদের মতো পোশাক পরা আউরেলিয়ানো হোসেকে সামরিক কায়দায় সম্মান জানায় তারা।

    সব খবরই ভালে খবর ছিল না। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার পালানোর এক বছর পর হোসে আর্কাদিও আর রেবেকা আর্কাদিওর বানানো এক বাড়িতে উঠে যায় বাস করার জন্য। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়ে হোসে আর্কাদিওর হস্তক্ষেপের কথা কেউই জানত না। প্লাজার সবচেয়ে ভালো কোনায় তিনটে রবিন পাখি যে আলমন্ডগাছে বাসা বেঁধেছে, সে গাছটার ছায়ায় অবস্থিত বাড়িটায় ছিল অতিথিদের জন্য এক বড় দরজা আর আলো আসার জন্য চারটে জানালা। বাড়িটার দরজা ছিল অতিথিদের জন্য অবারিত। রেবেকার পুরোনো বান্ধবীরা, মসকতেদের চার কুমারী বোনসহ বেগনীয়া ভরা বারান্দায় অনেক বছর আগে ছেদ পড়া এমব্রয়ডারির আসর পুনরায় আরম্ভ করে। রক্ষণশীল সরকার কর্তৃক মালিকানার স্বত্ব অনুমোদিত জোর করে দখলকৃত জমিগুলো হোসে আর্কাদিও ভোগ করতে থাকে। ওকে দেখা যেত প্রতি বিকেলেই তার দোনলা শটগানে দড়ি দিয়ে ঝোলানো খরগোশ ঝুলিয়ে, সঙ্গে শিকারি কুকুরগুলো নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি ফিরতে। সেপ্টেম্বরের এক বিকেলে, আসন্ন ঝড়ের হুমকির মুখে অন্য সব দিনের চেয়ে আগেই বাড়ি ফেরে সে। খাবার ঘরে রেবেকাকে সম্ভাষণ জানিয়ে, উঠানে কুকুরগুলোকে বেঁধে, খরগোশগুলোকে পরে লবণ মাখানোর জন্য রান্নাঘরে ঝোলায় আর কাপড় বদলাতে যায় শোবার ঘরে। রেবেকা পরে জানায় যে যখন তার স্বামী শোবার ঘরে ঢুকে সে তখন স্নান ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দিয়েছিল, ফলে সে কিছুই জানতে পারে নি। তার এই উক্তি বিশ্বাস করা কঠিন হলেও এর চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য আর কিছু ছিল না। আর তা ছাড়া রেবেকাকে যে লোকটা সুখী করেছিল, তাকে খুন করার কোনো কারণ রেবেকার মধ্যে কেউ খুঁজে পায় নি। এটাই ছিল মাকন্দে সম্ভবত একমাত্র রহস্য, যার সত্য কখনোই উদ্‌ঘাটিত হয় নি। হোসে আর্কাদিও শোবার ঘরের দরজাটা বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে পিস্তলের এক বিকট আওয়াজে বাড়িটা কেঁপে ওঠে। সুতোর মতন রক্তের এক ধারা দরজার নিচ দিয়ে বেরিয়ে উঠান পেরিয়ে, পরে রাস্তায় বেরিয়ে উঁচু-নিচু চত্বরগুলো সোজা পার হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে উঠে পড়ে পাঁচিলের ওপর, পরে তুর্কদের সড়ক ধরে এগিয়ে গিয়ে এক কোনায় এসে প্রথমে ডানে পরে বাঁয়ে বাঁক নিয়ে বুয়েন্দিয়ার বাড়ির দিকে সরাসরি এগিয়ে বন্ধ দরজার নিচ দিয়ে ঢোকে, যাতে কার্পেটে রক্তের দাগ না লাগে আর একই কারণে অতিথিদের বসার ঘরের দেয়াল ঘেঁষে এগিয়ে গিয়ে অন্য বসার ঘর পার হয়ে, বড় একটা বাঁক নিয়ে খাবার টেবিল এড়িয়ে বারান্দা ধরে এগোতে থাকে আমারান্তার চেয়ারের নিচ দিয়ে, যেখানে আউরেলিয়ানো হোসেকে অঙ্কের এক পাঠ দেওয়ায় ব্যস্ত আমারান্তার অলক্ষ্যে গুদামে ঢুকে হাজির হয় রান্নাঘরে, যেখানে উরসুলা পাউরুটি বানানোর জন্য ছত্রিশটি ডিম ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    ‘হায় খোদা’–চিৎকার করে উরসুলা।

    রক্তের সুতোর উৎপত্তি নির্ণয়ের ইচ্ছায় ওটা ধরে উল্টো দিকে অনুসরণ করে ভাঁড়ার পেরিয়ে বেগোনিয়ার ঘেরা বারান্দা, যেখানে আউরেলিয়ানো নামতা পড়ছিল তিন আর তিন ছয়, ছয় আর তিন নয় সেটা পেরিয়ে, খাবার ও বৈঠকঘরগুলোর মধ্যে দিয়ে রাস্তায় নেমে সোজা এগিয়ে প্রথমে ডানে পরে বাঁয়ে বাঁক নিয়ে তুর্কদের রাস্তায় গিয়ে নামে, তার গায়ে তখনো বেকিং করার এপ্রোন আর হাতে বানানো চপ্পল আর এসব ব্যাপারে গুরুত্ব না দিয়ে সে এগিয়ে প্লাজায় গিয়ে পড়ে আর সেখান থেকে ঢুকে পরে এমন এক বাড়ির দরজা দিয়ে যে বাড়িতে সে কখনোই ঢোকে নি; শোবার ঘরের দরজায় গিয়ে ধাক্কা দেওয়ায় পোড়া বারুদের গন্ধে তার দম বন্ধ হয়ে আসে আর কেবল খুলে রাখা লম্বা মোজার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা অবস্থায় পায় হোসে আর্কাদিওকে, আর আবিষ্কার করে হোসে আর্কাদিওর ডান কান থেকে বের হওয়া রক্তের সুতোর উৎপত্তি। তার শরীরে কোনো ক্ষত খুঁজে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় না অস্ত্রটাও। এমনকি লাশের গা থেকে বারুদের গন্ধটা সরানোও অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাবান আর ছোঁবা দিয়ে তিনবার ধুয়ে প্রথমে লবণ আর ভিনিগার ঘষা হয় লাশে, পরে ছাই আর লেবু মেখে তরল ক্ষারের পিপেতে ভরে ছয় ঘণ্টা রেখে দেওয়া হয়। লাশটাকে তারা এমনভাবে ঘষে যে তার গায়ের আরবি অক্ষরের উল্কিগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে। পরে যখন তারা নিরুপায় হয়ে গোল মরিচ, জিরা আর তেজপাতা দিয়ে কম আঁচে সেদ্ধ করার কথা ভাবছে, ততক্ষণে লাশে পচন ধরতে শুরু করায় দ্রুত দাফন করতে বাধ্য হয়। এক বায়ুরোধক দুই মিটার দশমিক ত্রিশ সেন্টিমিটার লম্বা এবং এক মিটার দশমিক দশ সেন্টিমিটার চওড়া, ভেতর দিকে লোহার পাত দিয়ে মজবুত করে লোহার বল্টু লাগানো বিশেষভাবে তৈরি কফিনে লাশটাকে বন্ধ করা হলেও যে জায়গায় কবর দেওয়া হয়েছে, তার রাস্তাগুলোতে গন্ধ পাওয়া যেত বারুদের। যকৃৎ ফুলে ঢোল হওয়া ফাদার নিকানোর বিছানায় শুয়ে শুয়েই আশীর্বাদ করেন। যদিও পরের কয়েক মাসের মধ্যেই শক্ত দেয়াল তুলে কবরটাকে মজবুত করে চাপ ধরা ছাই, কাঠের গুঁড়া আর চুন ফেলে ওরা, তবু পরের অনেক বছর গোরস্থানে বারুদের গন্ধ থাকে, যত দিন না কলা কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা এসে কংক্রিট দিয়ে সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেয় কবরটাকে। লাশটা বের করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রেবেকা তার ঘরের দরজা বন্ধ করে এক ঘৃণার পুরু খোলের মধ্যে ঢোকায় নিজেকে। জ্যান্ত কবর দেয় সে তাকে আর জাগতিক কোনো প্রলোভনই সেটাকে কখনোই ভাঙতে পারে নি। শুধু একবারই প্রাচীন আমলের রুপালি জুতা পরে সূক্ষ্ম ফুলের হ্যাট পরে রাস্তায় বেরিয়েছিল সে যেবার গ্রামে এক পর্যটক ইহুদি এসে এমন উত্তপ্ত অবস্থার সৃষ্টি করেছিল যে পাখিরা জানালার তার ভাঙত ঘরে ঢুকে পড়ার জন্য। শেষবার তাকে কেউ জীবন্ত অবস্থায় দেখতে পায় যখন দরজা ভেঙে চুরি করতে আসা চোরকে সে এক গুলিতে মেরে ফেলে। শুধু বিশ্বস্ত চাকরানি আরহেনিদা ছাড়া কেউই তার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখে নি। একসময় শোনা যাচ্ছিল যে সে নিজের জ্ঞাতিভাই বিবেচনা করা এক বিশপকে চিঠি লিখত কিন্তু কেউই বলে নি সে উত্তর পেত কি না। সারা গ্রাম তাকে ভুলে যায়।

    বিজয়ী হয়ে ফিরে এলে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে খুব একটা উৎসাহ পায় না। কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই সরকারি সৈন্যদল প্লাজা ছেড়ে চলে যাওয়ায় উদারপন্থী লোকজনের মধ্যে বিজয়ের এক মিথ্যা ভ্রমের সৃষ্টি হয়, যাকে ভেঙে দেওয়া সংগত মনে করে না সে, কিন্তু বিপ্লবীরা সত্যটা ঠিকই জানত আর সবচেয়ে বেশি জানত কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। যদিও এই সময়ে তার অধীনে পাঁচ হাজারের বেশি সৈন্য ছিল আর উপকূলীয় দুটো রাষ্ট্র শাসন করত তবু ভালো করেই জানত তার পিঠ ঠেকে আছে সমুদ্রে। আর সে এমন এক গোলমেলে রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়েছে যে সে যখন সৈন্যদলের গোলার আঘাতে বিধ্বস্ত গির্জার চূড়ার পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেয়, তখন রোগশয্যা থেকে ফাদার নিকানোর মন্তব্য করেন, ‘কী হাস্যকর! খ্রিষ্টের বিশ্বাসের রক্ষকেরাই ধ্বংস করে গির্জা আর ম্যাসনরা তা মেরামত করতে পাঠায়।’ এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতির এক পথ খুঁজে পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে কাটিয়ে দিত টেলিগ্রাফ অফিসে অন্যান্য প্লাজার প্রধানদের সঙ্গে আলাপ করে। কিন্তু প্রতিবারই বেরোত আরও নিশ্চিত হয়ে যে যুদ্ধটা স্থবিরাবস্থায় এসে পৌঁছেছে। যখন উদারপন্থীদের নতুন বিজয়ের সংবাদ আসত, সেটা খুব উল্লাসের সঙ্গে ঘোষণা করা হলেও মানচিত্রে সে দেখতে পেত সত্যিকার অবস্থা; আর বুঝে যেত যে তার সৈন্যরা জঙ্গলের গভীরে ঢুকে ম্যালেরিয়া আর মশার বিরুদ্ধে যুঝে এগোচ্ছে বাস্তবতার উল্টো দিকে। ‘আমরা সময় নষ্ট করছি’—অভিযোগ করত অফিসারদের কাছে। আমরা সময় নষ্ট করছি আর ওদিকে পার্টির হারামিরা এক আসনের জন্য ভিক্ষে করেছে। ‘মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে যে ঘরে ছিল, সেই একই ঘরে নিদ্রাহীন কাটিয়ে দিত ঝোলানো দোলবিছানায় চিত হয়ে শুয়ে। মনের চোখে দেখত বরফশীতল প্রভাতে কান অবধি ঢাকা কালো কোট পরিহিত উকিলরা রাষ্ট্রপতি ভবন ত্যাগ করছে হাত মর্দন করতে করতে, আর ফিসফিসিয়ে কথা বলতে বলতে আশ্রয় নিচ্ছে ভোরের বিষণ্ন ক্যাফেগুলোতে, অনুমান করত—যখন প্রেসিডেন্ট হ্যাঁ বলেছিলেন, তখন কী বলতে চেয়েছেন; যখন না বলেছিলেন, তখনই বা কী বোঝাতে চেয়েছেন আর যখন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কিছু বলেছিলেন, তখনই বা কী চিন্তা করছিলেন, আর সেই মুহূর্তে মশা তাড়াতে তাড়াতে, পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আসন্ন ভীতিপ্রদ ঊষা অনুভব করতে করতে তাকে আদেশ করতে হবে তার লোকদের সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে।

    অনিশ্চয়তার এক রাতে যখন পিলার তেরনেরা উঠানে বারান্দায় বসে সৈন্যদের সঙ্গে গান গাইছে, সে তাকে তাস দেখে ভবিষ্যৎ বলতে বলে। ‘সাবধানে কথা বোলো’–তিনবার তাস বিছিয়ে আবার গোটানোর পর একমাত্র এটাই স্পষ্টভাবে বের করতে পারে পিলার তেরনেরা। ‘জানি না এর মানে কী, কিন্তু সংকেতটা খুবই পরিষ্কার, যা বলবে খুব সাবধানে বলবে।’ দুই দিন পর এক আর্দালির হাতে কেউ একজন এক মগ চিনি ছাড়া কফি দেয়। সেই আর্দালি সেটাকে আরেক আর্দালির হাতে দেয় আর সে দেয় আরেকজনকে, এভাবে সেটা এসে পৌঁছায় কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার অফিসে। কারও কাছে সে কফি চায় নি, কিন্তু সামনেই ছিল বলে কর্নেল পান করে কফিটা। ওটাতে একটা ঘোড়াকে মেরে ফেলার মতো পর্যাপ্ত ন্যক্স ভোমিকা (একধরনের বিষ) ছিল। যখন তাকে বাড়ি নেওয়া হলো, তখন তার শরীর শক্ত আর বাঁকা হয়ে গিয়েছিল আর দুই পাটি দাঁতের মধ্যে পড়ে জিব গিয়েছিল কেটে। উরসুলা মৃত্যুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। বমি হওয়ার দাওয়াই দিয়ে ওর পাকস্থলী পরিষ্কার করিয়ে শরীরটাকে গরম কম্বলচাপা দেয় সে; আর পান করায় দুই দিন ধরে ডিমের সাদা অংশ, যতক্ষণ পর্যন্ত না শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরে পায়। চতুর্থ দিনে সে বেরিয়ে আসে সব বিপদ থেকে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে উরসুলা আর অন্য অফিসারদের চাপে পড়ে আরও এক সপ্তাহ বিছানায় কাটায় কর্নেল। শুধু তখনই সে জানতে পারে যে তার লেখা পদ্যগুলো পোড়ানো হয় নি। ‘আমি তাড়াহুড়ো করে কিছুই করতে চাই নি’—ব্যাখ্যা দেয় উরসুলা। ‘সেই রাতে যখন এগুলো দিয়ে চুলো ধরাতে যাচ্ছিলাম, তখন মনে হলো লাশটা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।’ রেমেদিওসের ধুলোভরা পুতুলগুলোর মাঝে, আরোগ্য লাভের কুয়াশামাখা সময়ে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া নিজের পদ্যগুলোর মধ্যে খুঁজে পায় তার অস্তিত্বের তাৎক্ষণিক নিশ্চয়তা। আবার লিখতে বসে সে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এক পরিণতিহীন যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছন্দোবদ্ধ পদ্যের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রান্তসীমার অভিজ্ঞতাগুলোকে ফুটিয়ে তোলে সে। ফলে তার চিন্তাগুলো এতই পরিষ্কার হলো যে সে সেগুলোকে উল্টেপাল্টে খতিয়ে দেখতে পারে। এক রাতে প্রশ্ন করে কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেসকে

    একটা কথা বল তো কম্পাদ্রে (বন্ধু অর্থে): কেন যুদ্ধ করছিস তুই?’

    ‘কেন নয়, কম্পাদ্রে’—উত্তর দেয় কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস, ‘মহান উদারপন্থীদের জন্য’-

    ‘ভাগ্যবান তুই, কারণটা জানিস’—উত্তর দেয় সে, ‘আমার কথা যদি বলি, আমি যুদ্ধ করছি আত্মসম্ভ্রমের কারণে।’ ‘এটা ভালো নয়’, বলে কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস। তার এই উদ্বিগ্নতা উপভোগ করে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, ‘অবশ্যই’, বলে, ‘কিন্তু কেন যে যুদ্ধ করছি, তা না জানার চেয়ে অন্তত এটা ভালো।’ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে যোগ করে: ‘অথবা তোর মতো যুদ্ধ করার চেয়ে, যে যুদ্ধটা কারও জন্যই কোনো অর্থ বহন করে না।’

    যতক্ষণ পর্যন্ত না দলের নেতারা জনসমক্ষে ‘সে ডাকাত বৈ কিছু নয়’ ঘোষণাটা প্রত্যাহার না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার আত্মমর্যাদা তাকে দেশের অভ্যন্তরের সশস্ত্র দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে বিরত করে। অবশ্য সে জানত, যখনই এসব দ্বিধা একপাশে সরিয়ে রাখবে, তখনই যুদ্ধের দুষ্টচক্রকে ভেঙে ফেলতে পারবে। আরোগ্য লাভের সময়টা তাকে চিন্তা করার অবকাশ দেয়। সুতরাং সে উরসুলাকে রাজি করায় তার মাটির নিচে পুঁতে রাখা উত্তরাধিকারের অবশিষ্টাংশ আর তার সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ তার হাতে তুলে দিতে মাকন্দের সামরিক ও বেসামরিক নেতা হিসেবে কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেসকে ঘোষণা করে দেশের অভ্যন্তরস্থ বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে যায় সে।

    কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস যে শুধু কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন ছিল তা-ই নয়, উরসুলাও তাকে বরণ করত পরিবারের একজন হিসেবে। নরম স্বভাবের ভীরু ভঙ্গুর আর সহজাত শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষটি সরকার চালনার চেয়ে যুদ্ধের জন্যই ছিল বেশি উপযুক্ত। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টারা সহজেই তাকে তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলত। যে রকমটি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া স্বপ্ন দেখত: বৃদ্ধ বয়সে সোনার মাছ তৈরি করতে করতে মারা যেতে; মাকন্দে ঠিক একই রকম গ্রামীণ শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয় সে। মা-বাবার সঙ্গেই বসবাস করলেও উরসুলার কাছেই সপ্তাহে দুই-তিনবার দুপুরের খাওয়াটা সারত। উরসুলার সম্মতি নিয়ে, আউরেলিয়ানো হোসেকে পুরুষ হিসেবে গঠন করার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র চালনায় এবং প্রাথমিক সামরিক শিক্ষা দেয় সে আর তাকে নিয়ে যায় ব্যারাকে, সেখানে কয়েক মাসব্যাপী কাটাতে। অনেক বছর আগে যখন হেরিনেলদো মার্কেস, ছিল প্রায় এক শিশু, তখন আমারান্তার প্রতি সে প্রেম নিবেদন করেছিল। আমারান্তা তখন পিয়েত্র ক্রেসপির প্রতি একপক্ষীয় প্রেমে এতই আপ্লুত ছিল যে সে তাকে হেসে উড়িয়ে দেয়। হেরিনেলদো মার্কেস অপেক্ষা করে। একবার জেল থেকে আমারান্তাকে তার বাবার নামের আদ্যাক্ষর লেখা এক ডজন বাতিস্তা (মিহি সুতি কাপড়) রুমাল বানানোর অনুরোধ করে এক চিরকুট পাঠায়। টাকাও পাঠায় চিরকুটের সঙ্গে। সপ্তাহ খানেক পর আমারান্তা এমব্রয়ডারি করা এক ডজন রুমাল নিয়ে জেলখানায় যায় আর টাকাগুলোও সঙ্গে করে নিয়ে যায় ফেরত দিতে, আর কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেয় অতীত দিনের গল্প করতে করতে। ‘যখন বের হব, তোমাকে বিয়ে করব আমি’–বিদায়কালে বলে হেরিনেলদো মার্কেস। আমারান্তা হেসে ফেলে ঠিকই, কিন্তু বাচ্চাদের পড়ানোর সময় তার কথা ভাবতে থাকে আর কৈশোরে পিয়েত্র ক্রেসপির প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, তার প্রতি সেই একই রকম প্রেম জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। শনিবার কারাগারে দর্শনার্থীদের দিনগুলোতে বাড়ির সামনে দিয়ে যেত হেরিনেলদো মার্কেসের মা-বাবারা আর আমারান্তা তাদের সঙ্গী হতো। ওই রকমেরই এক শনিবারে উরসুলার কাছে ধরা পড়ে যায় রান্নাঘরে চুল্লির সামনে দাঁড়িয়ে বিস্কুটগুলো বেরিয়ে আসার পর সেখান থেকে সবচেয়ে ভালোগুলো বেছে নেওয়ার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায়।

    ‘ওকে বিয়ে করে ফেলো’, বলে ওকে, ‘ওর মতো আর একজন খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন হবে।’

    আমারান্তা কথাটা ভালো না লাগার ভান করে।

    ‘পুরুষ শিকারে প্রয়োজন নেই আমার’, উত্তর দেয়, ‘এগুলো নিয়ে যাচ্ছি, কারণ আজ হোক কাল হোক, ওকে গুলি করে মারবে ওরা।’

    কোনো কিছু না ভেবেই কথাটা বলে আমারান্তা। কিন্তু কথাটা বলেছিল একই সময়ে, যখন সরকার রিওয়াচা দিয়ে না দিলে হেরিনেলদো মার্কেসকে গুলি করার হুমকি দিয়েছিল। জেলখানায় সাক্ষাতের নিয়মটা তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেমেদিওসের মৃত্যুতে যে আপরাধবোধ হয়, সেই একই বোধে পীড়িত হয়ে ঘর বন্ধ করে কাঁদে আমারান্তা, যেন তার বিবেচনাহীন কথা আরেকজনের মৃত্যুর কারণ হতে বসেছে। ওর মা তাকে সান্ত্বনা দেয়। ওকে আশ্বাস দিয়ে বলে যে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া নিশ্চয়ই কিছু করবে এর মৃত্যুদণ্ড রোধ করতে, আর প্রতিজ্ঞা করে যুদ্ধ শেষে হেরিনেলদো মার্কেসকে আমারান্তার প্রতি আকৃষ্ট করার। নির্দিষ্ট করে রাখা সময় উত্তরে যাওয়ার আগেই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে সে। সামরিক ও বেসামরিক নেতার নতুন সম্মান নিয়ে যখন হেরিনেলদো মার্কেস বাড়িতে আসে, তাকে নিজের ছেলের মতো বরণ করে নেয় উরসুলা; বিভিন্ন তোষামুদে অবস্থার সৃষ্টি করে তাকে বেশিক্ষণ বাড়িতে আটকে রাখার জন্য, আর সমস্ত হৃদয় দিয়ে প্রার্থনা করে যেন আমারান্তাকে বিয়ে করার প্রস্তাবটা তার মনে পড়ে যায়। তার প্রার্থনা মনে হয় সফল হয়েছে। যে দিনগুলিতে দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে যেত, কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস বিকেলটা কাটিয়ে দিত বেগোনিয়া ভরতি বাগানে, আমারান্তার সঙ্গে চায়নিজ চেকার খেলে। উরসুলা বিস্কুট আর দুধকফি নিয়ে যেত আর লক্ষ রাখত বাচ্চারা যেন ওদের বিরক্ত না করে। সত্যি বলতে আমারান্তা তার হৃদয়ে ভুলে যাওয়া যৌবনের প্রেমের ভস্মে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করতে থাকে। অসহ্য উৎকণ্ঠা নিয়ে সে অপেক্ষা করত দুপুরে খাবারের দিনগুলোর জন্য, চায়নিজ চেকারের বিকেলগুলোর জন্য আর সময় উড়ে যেত সেই যোদ্ধার সঙ্গে, যার নাম স্মৃতিকাতরতায় ভরা আর যার আঙুলগুলো কেঁপে উঠত সূক্ষ্মভাবে, গুটি চালার সময়। কিন্তু যেদিন কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস তাকে বিয়ের ইচ্ছাটা আবারও জানায়, সে তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ‘আমি কারও সঙ্গেই বিয়ে করব না’, বলে ওকে, ‘তোমাকে তো নয়ই। কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়াকে তুমি এতই ভালোবাসো যে ওকে বিয়ে করতে পারবে না বলেই তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাইছ।’

    কর্নেল হেরিনেলদো মার্কেস ছিল ধৈর্যসম্পন্ন লোক। ‘আবার জোর করতে আসব আমি’ বলে, ‘আগে বা পরে, তোমাকে রাজি করাবই।’ বাড়িতে আসাটা চালিয়ে যায় সে। ঘরে আবদ্ধ হয়ে গোপনে অশ্রু রোধ করত আমারান্তা। উরসুলাকে বলা যুদ্ধের শেষ খবরগুলো বলতে থাকা পাণিপ্রার্থীর গলার স্বর না শোনার জন্য কানে আঙুল দিত; আর যদিও তাকে দেখার জন্য প্রাণ বেরিয়ে যেত, তবু বের না হওয়ার মতো শক্তি সঞ্চয় করতে পারত সে। সে সময়টাতে কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া প্রতি দুই সপ্তাহে বিস্তারিত খবর পাঠাত মাকন্দে। কিন্তু একবার, চলে যাওয়ার প্রায় আট মাস পর সে উরসুলাকে লেখে। এক বিশেষ সংবাদবাহক নিয়ে যায় সিল করা এক খাম, যার মধ্যে কর্নেলের সুন্দর হাতের লেখা: বাবাকে অনেক যত্ন কোরো, কারণ সে শিগগিরই মারা যাবে। উরসুলা ভয় পায়, আউরেলিয়ানো যেহেতু বলেছে, সে অবশ্যই জানে। আর সে সাহায্য চায় হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়াকে শোবার ঘরে নিয়ে যেতে। শুধু যে সে সব সময়ের মতো ভারী ছিল তা-ই নয়, বরং সুদীর্ঘ সময় চেস্টনাটগাছের নিচে অবস্থানের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ওজন বাড়ানোর এমন ক্ষমতা অর্জন করে সে, যার ফলে সাতজন পুরুষ বহন করতে না পেরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বিছানায় তোলে। রোদ আর বৃষ্টি আপ্লুত সেই প্রাচীন প্রমাণাকৃতির শরীর যখন শ্বাস নিতে শুরু করে, তখন শোবার ঘরের আর আশপাশের বাতাস ভরে যায় কোমল ব্যাঙের ছাতা, আর ফ্লোর দে পালোর (একধরনের বনফুল) প্রাচীন ও নিবিড় খোলা হাওয়ার সুবাসে। পরের সকালে সে আর বিছানায় জেগে ওঠে না। সব ঘরে খোঁজার পর উরসুলা আবার ওকে পায় চেস্টনাটের নিচে। তাকে বিছানায় বাঁধা হয়। শরীরে শক্তি অটুট থাকলেও হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার পক্ষে বাধা দেওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। ওর জন্য সবই ছিল সমান। সে চেস্টনাটগাছের নিচে ফিরে গিয়েছিল নিজের ইচ্ছায় নয়, শরীরের অভ্যস্ততার কারণে। উরসুলা তাকে যত্ন করত, খাবার খেতে দিত, আর আউরেলিয়ানোর খবর দিত। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বহুদিন ধরে একমাত্র যার সঙ্গে সে যোগাযোগ করতে পারত, সে হচ্ছে প্রুদেনসিও আগিলার। মৃত্যুর গভীর জীর্ণতার কারণে প্রায় ধুলোয় পরিণত হওয়া প্রুদেনসিও আগিলার দিনে দুবার কথা বলতে যেত। লড়াকু মোরগের কথা বলত ওরা। স্থির করত চমৎকার সব মোরগের খামার প্রতিষ্ঠা করার। মৃত্যুর পর জেতার আর প্রয়োজন নেই বলে জেতার জন্য নয়, বরং একঘেয়ে মরণের রোববারগুলোতে বৈচিত্র্য আনতে। সে ছিল প্রুদেনসিও আগিলার, যে নাকি তাকে পরিষ্কার করত, খাবার দিত আর এক অপরিচিত আউরেলিয়ানো, যে নাকি যুদ্ধে কর্নেল ছিল, তার কথা বলত। যখন একা থাকত, তখন হোসে আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া নিজেকে সান্ত্বনা দিত অগুনতি কামরার স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখত, সে বিছানা থেকে উঠছে, দরজা খুলে একই রকম রট আয়রনের মাথার কাছে ঘেরওয়ালা বিছানা, একই রকম উইলো কাঠের চেয়ার, পেছনের দেয়ালে একই রকম কুমারী রেমেদিওসের ছবিওয়ালা একই রকমের কামরায় ঢুকেছে। সেই কামরা থেকে সে যেত আর এক কামরায় যেটা ছিল একেবারে একই রকমের, যার দরজা খুলে যেত একই রকম আরেকটিতে যাওয়ার জন্য, তারপরে সম্পূর্ণভাবে একই রকম আরেকটিতে যাওয়ার জন্য। ওর ভালো লাগত সমান্তরাল আয়নার গ্যালারির মতো এক কামরা থেকে আরেক কামরায় যেতে, যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রুদেনসিও আগিলার ওর কাঁধে টোকা দিত আর তখন সে ফিরে আসত কামরার পর কামরা ধরে, উল্টো দিকের পথ বেয়ে বেয়ে আর খুঁজে পেত প্রুদেনসিও আগিলারকে, ওর বাস্তবের কামরাটাকে। কিন্তু এক রাতে, বিছানায় নিয়ে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পর, যখন প্রুদেনসিও আগিলার ওর কাঁধে টোকা দেয়, সে মাঝপথে এক কামরাকে বাস্তবের কামরা ভেবে সেখানেই চিরদিনের জন্য রয়ে যায়।

    পরদিন সকালে উরসুলা নাশতা নিয়ে যাওয়ার সময় বারান্দা ধরে এক লোককে আসতে দেখে। ছোটখাটো, শক্ত-সামর্থ্য মানুষটার পরনে ছিল কালো কাপড়ের কোট আর বিষাদমাখা চোখ পর্যন্ত নেমে আসা বিশাল আকারের টুপিটাও ছিল কালো। ‘হায় খোদা’, উরসুলা ভাবে, ‘আমি দিব্যি করে বলতে পারি যে এ হচ্ছে মেলকিয়াদেস। সে ছিল কাতাউর; অনিদ্রা রোগের সময় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ভিসিতাসিওনের ভাই, কখনোই যার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভিসিতাসিওন ওকে জিজ্ঞেস করে কেন ফিরে এসেছে আর সে নিজেদের ভাষায় গাম্ভীর্য নিয়ে উত্তর দেয়, ‘এসেছি রাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে।’ তখন হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার ঘরে ঢুকে সব শক্তি দিয়ে একসঙ্গে ধাক্কা দেয়, কানের কাছে সকলে চিৎকার করে, নাকের ফুটোর কাছে এক আয়না ধরে, কিন্তু ওকে আর জাগাতে পারে না। কিছুক্ষণ পর যখন ছুতোর কফিন বানাতে মাপ নিচ্ছে, সবাই তখন জানালা দিয়ে দেখতে পায় একরাশ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হলুদ ফুলের গুঁড়ি বৃষ্টি। রাতভর গোটা গ্রামের ওপর সেই নীরব ফুলের ঝড় বয়ে যায়, বাড়ির ছাদগুলো ঢেকে দেয়, দরজাগুলো আটকে দেয় আর খোলা বাতাসে ঘুমানো সব জীবজন্তুর দম বন্ধ হয়ে আসে। আকাশ থেকে এত ফুল ঝরে যে রাস্তাগুলো জেগে ওঠে এক নিবিড় হলুদ ফুলের গালিচা হয়ে, আর শবযাত্রার জন্য সেগুলোকে বেলচা আর আঁচড়া দিয়ে পরিষ্কার করতে হয় ওদের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেম ও কলেরা – গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
    Next Article অপঘাত – গোলাম মওলা নঈম

    Related Articles

    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

    প্রেম ও কলেরা – গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }