Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – কাজী মাহবুব হোসেন

    কাজী মাহবুব হোসেন এক পাতা গল্প176 Mins Read0
    ⤶

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – ১২

    বারো

    চমৎকার রোদ-ঝলমলে উজ্জ্বল একটা দিন। ডার্বির ফোরম্যান আয়েশ করে দালানের সামনের বারান্দায় বসে দিনটাকে উপভোগ করছে। বর্তমানে সবকিছু ওর পছন্দ মত চলছে। ওখানে জেগু আর টাইসনের সাথে আরও দুজন কর্মচারী রয়েছে। মনের আনন্দে ওদের সাথে আড্ডা মারছে ম্যাগিল। গত সপ্তাহের ঝামেলা নিয়ে এখন আর কোন চিন্তা নেই ওর। স্টকবার্ন আর তার ডেপুটিরা সব সামলাবে।

    ম্যাগিলকে স্বয়ং ডার্বি আশ্বাস দিয়েছে, সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই কার্বন ক্যানিয়নে কাজ শুরু হবে। তখন লাভের সাথে তার বোনাসও বাড়বে।

    শহরের কিছু লোকজন নিজেদের কাজে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করছে। বেশিরভাগ লোকই এখন কাজে ব্যস্ত। ম্যাগিল আর তার সঙ্গীরাও কিছুক্ষণ পর কাজে রওনা হবে। ওয়্যাগন বোঝাই করে সাপ্লাই নিয়ে ক্যাম্পে যাবে ওরা।

    হঠাৎ চোখ কুঁচকে দূরে তাকাল ম্যাগিল। তারপর চোখ মুছে আবার তাকাল। উজ্জ্বল আলোয় ধুলোবালির মধ্যে সে কি ভুল দেখছে? কিন্তু কাঠামোটা খুব পরিষ্কার আর স্পষ্ট।

    ‘আশ্চর্য ব্যাপার,’ বিড়বিড় করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল ফোরম্যান। এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ বুঝতে না পেরে সবাই অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে চাইল। পরে একে একে সবাই দেখল ম্যাগিল কেন উত্তেজিত হয়েছে।

    রাস্তার শেষ মাথায় মোড় নিয়ে শহরে ঢুকছে একজন অশ্বারোহী। মাপা ধীর গতিতে এগিয়ে আসছে ঘোড়াটা। আরোহীর কোন তাড়া নেই।

    এর পরে শহরের নাপিত ওকে দেখল। জানালার পাশ দিয়ে লোকটাকে যেতে দেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। পোস্টমিস্ট্রেস ওকে দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে দরজা বন্ধ করল।

    কেবল মৃতের সৎকারক টমাসের মধ্যে বিশেষ কোন চাঞ্চল্য প্রকাশ পেল না। তবে জানালার খড়খড়ি বন্ধ করতে সে ভুলল না। জানালার রঙিন কাঁচ দুষ্প্রাপ্য।

    খবরটা পেয়ে জিম ডার্বি নীরবে হাত নেড়ে সংবাদদাতাকে বিদায় করল। তারপর চেয়ার ছেড়ে উঠে জানালা দিয়ে রাস্তার দিকে তাকাল। স্টকবার্ন এসে দাঁড়াল ওর পাশে। একক ঘোড়সওয়ারের এগিয়ে আসা দেখছে।

    ‘ওই যে,’ উত্তেজিত স্বরে বলল জিম, ‘ওকেই এখানকার সবাই প্রীচার বলে জানে।’

    মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে লম্বা লোকটাকে লক্ষ করছে মার্শাল।

    ‘হুম্।’

    ‘আগে কখনও ওকে দেখেছ?’

    ঝুঁকে একটু নিচু হয়ে হ্যাট ব্রিমের তলায় ঢাকা মুখটা দেখার চেষ্টা করল মার্শাল। ‘এখান থেকে দেখে ঠিক বুঝতে পারছি না।’

    জানালা দিয়ে তাকিয়ে থেকে ওরা দেখল আরোহীর ঘোড়াটা ধীর কদমে এগিয়ে ব্ল্যাকেনশিপের দোকানের সামনে থামল। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিচে নেমে ঘোড়াটাকে হিচ-রেইলের সাথে বেঁধে দোকানে ঢুকল লোকটা। ডার্বির বারান্দা থেকে পাঁচ-জোড়া চোখ যে বদ মতলব নিয়ে ওকে লক্ষ করছে তা দেখেও দেখল না।

    ভিতরে কোন খদ্দের নেই দেখে আশ্বস্ত হলো স্ট্রেঞ্জার। পিছন দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে লেজার খাতা দেখছে জুড।

    ‘মর্নিঙ, মিস্টার ব্ল্যাকেনশিপ।’ অভিবাদন জানাল বটে, কিন্তু লোকটার দিকে তাকাল না স্ট্রেঞ্জার। সোজা উলটো দিকের খাবার কাউন্টারে গিয়ে হাজির হলো। অভিবাদনের জবাব দিল না জুড, কেবল নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইল।

    ব্যবসায়ী জানে দোকানে কে ঢুকেছে। স্ট্রেঞ্জার মাত্র কয়েকদিন আগেই তার দোকানে প্রথম এসেছিল। সেদিনের ঘটনা ওর স্পষ্ট মনে আছে। এরপর এই এলাকায় অনেক কিছু ঘটে গেছে। এবং সবগুলোর সাথেই ওই লোকটা কোন না কোনভাবে জড়িত। এখন কি ঘটবে সেটাই ভাবছে ও।

    লাঞ্চ কাউন্টারে একটা টুলে বসে ওপাশের মহিলাকে সুন্দর একটা হাসি উপহার দিল প্রীচার।

    ‘মর্নিঙ, ম্যাম।’

    ‘মর্নিঙ, বাছা। কফি?’ স্ট্রেঞ্জারকে মাথা ঝাঁকাতে দেখে ফুটন্ত কেতলি থেকে কফি ঢেলে কাপটা এগিয়ে দিল কার্লা।

    ‘ধন্যবাদ।’ কফিতে চুমুক দিল সে। অত্যন্ত গরম, এবং চমৎকার স্বাদ। তরল পদার্থটা গলা পুড়িয়ে নিচে নেমে দারুণ একটা অনুভূতি জাগাল। কাপের উপর দিয়ে আড়চোখে বাইরের রাস্তার দিকে চেয়ে অর্ধেক কাপ কফি কাউন্টারে নামিয়ে রাখল ও।

    ‘চমৎকার দিন,’ আলাপ জমাবার চেষ্টা করল কার্লা। কোন জবাব না পেয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল সে। দেখল ডার্বির বারান্দায় পাঁচজন লোক উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথাবার্তা বলছে। মাঝে মাঝে আঙুল তুলে দোকানটার দিকেই নির্দেশ করছে।

    ‘এমন সুন্দর একটা দিন নষ্ট হতে চলেছে দেখে খারাপ লাগছে।’ কার্লার স্বরে উদ্বেগ প্রকাশ পেল।

    ‘মাঝে মাঝে এটা এড়ানো যায় না।’

    বিষণ্নমুখে মাথা ঝাঁকাল মহিলা। ‘আরও কফি দেব?’

    কাপটা বাড়িয়ে দিল প্রীচার। ‘ধন্যবাদ।’ কফিতে চুমুক দিয়ে কার্লার দিকে তাকাল লোকটা। ‘এমন সুন্দর দিনে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে একটু অবসর নিলেই হয়তো ভাল হবে।’

    আবার মাথা ঝাঁকিয়ে এপ্রোনে হাত মুছল কার্লা। তারপর দ্রুত হাতে সব গুছিয়ে রাখতে শুরু করল।

    পাঁচজনের মধ্যে একজন চেয়ার ছেড়ে উঠে রাস্তায় নেমে এগোল। লোকটা ঝুঁকে মাথা নিচু করে এঁকেবেঁকে ছুটছে। সঙ্গীরা উৎকণ্ঠা নিয়ে ওর অগ্রগতি লক্ষ করছে। রাস্তা পার হয়ে কাছে এসে জেগু সন্তর্পণে মাথা তুলে দোকানের ভিতর উঁকি দিল। যা দেখল তাতে বিস্ময়ে ওর চোখ দুটো বিস্ফারিত হলো।

    আবার মাথা নিচু করে যেভাবে এসেছিল একই ভঙ্গিতে বন্ধুদের কাছে ফিরে গেল।

    ‘কি করছে ও?’ জানতে চাইল ম্যাগিল।

    ‘হ্যাঁ, কোথায় আছে লোকটা?’ টাইসন প্রশ্ন করল।

    হতবুদ্ধি জেগু ফিসফিস করে বলল, ‘বললে বিশ্বাস করবে না- হারামজাদা ওখানে বসে দিব্যি কফি গিলছে। তাও আবার দরজার দিকে পিঠ!’

    পাঁচজন নিজেদের মধ্যে দৃষ্টি বিনিময় করল। ম্যাগিল ঠোঁট চেটে ওপাশের দোকানটার দিকে তাকাল। দুরভিসন্ধি খেলছে ওর মাথায়।

    ‘তোমরা কি বলো? আমরা যাব?’ সঙ্গীদের বাজিয়ে দেখতে চাইল ফোরম্যান।

    ‘বস্ নিশ্চয় খুশি হবে,’ মন্তব্য করল টাইসন।

    ‘হ্যাঁ,’ আরেকজন বলে উঠল, ‘স্যাকরেমেন্টোতে আমাদের এক সপ্তাহ ছুটি কাটাবার বন্দোবস্ত হয়ে যাবে।

    ‘দুই সপ্তাহও হতে পারে,’ জেগুর চোখ দুটো খুশিতে চকচক করে উঠল। ‘বেতন-সহ।’

    ‘তাহলে আর আমরা খামোকা বসে আছি কেন, ম্যাগিল?’ উস্কাল টাইসন। ভাবছে ম্যাগিল। স্টোরের দিক থেকে কোন নড়াচড়ার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সে জানে প্রীচার সারাদিন ওখানে বসে কফি খাবে না। লোকজন ছুটি আর বোনাসের কথা যা বলেছে তা পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত। ডার্বি শক্ত লোক বটে, তবে ভাল কাজ দেখালে পুরস্কৃত করতে কার্পণ্য করে না।

    জিম ডার্বি নিজেই না ওকে একবার বলেছিল, যারা সক্রিয় হয়ে কাজে নামে, তারাই কেবল জীবনে উন্নতি করে?

    লোভনীয় প্রস্তাব। এমন একটা সুন্দর সুযোগ নাকের ডগা দিয়ে ফস্কে যেতে দেয়া যায় না।

    ‘আমাদের কোন মার্শালের সাহায্য লাগে না, লাগে?’

    সবাই একমত। চেয়ার পিছনে ঠেলে উঠে দাঁড়াল পাঁচজন। হাত নামিয়ে নিজের পিস্তল ছুঁয়ে নিশ্চিত হলো ওটা কোথায় আছে।

    কারও দৃষ্টি আকর্ষণ না করার জন্যে একে একে রাস্তা পার হলো ওরা। প্রত্যেকেই মাথা নিচু করে দ্রুত ছুটে পেরিয়েছে। ব্ল্যাকেনশিপের দোকানটার সামনে আবার সবাই একত্রিত হলো। পিস্তল হাতে প্রস্তুত। প্রত্যেকে তৈরি আছে কিনা চেক করে নিয়ে শূন্যে তোলা বাম হাতটা এক ঝটকায় নিচে নামিয়ে সিগন্যাল দিল ম্যাগিল।

    একসাথে ঝাঁপিয়ে দোকানে ঢুকল ওরা। সবক’টা পিস্তল গজাচ্ছে। বুলেটের আঘাতে ক্যাণ্ডির বয়মগুলো চুরমার হলো। ভাঙা কাঁচ আর ক্যাণ্ডি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। কার্লার খাবার জিনিসপত্র, কফি, স্যূপ, দুধ ছিটকে দেয়ালে দাগ ফেলল। হাঁড়ি-পাতিল, মগ, সবকিছু ঝাঁঝরা হলো। সিরকায় ডুবানো আচারও রক্ষা পেল না-ব্যারেল ফেটে চৌচির হয়ে মেঝে ভেসে গেল।

    গোলাগুলির শব্দে ডার্বি আর স্টকবার্ন আবার জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। অবিরাম গুলি বর্ষণ চলছে। ডার্বির চেহারা আশ্বস্ত।

    ‘ভালই হয়েছে, মার্শাল। প্রীচারকে নিয়ে এখন আর তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না। মনে হচ্ছে ম্যাগিলই তার লোকজন নিয়ে তোমার কাজটা শেষ করে ফেলেছে। ও যে নিজেই এটা সামলাতে পারবে তা আমি ভাবতে পারিনি। যাক, তবু তোমার ফী তুমি পাবে।’

    স্টকবার্নের মুখের ভাব একটুও বদলাল না। ডার্বির কথা ওর কানে গেছে বলে মনে হলো না। জানালা দিয়ে বাইরের দিকেই চেয়ে আছে ও।

    ‘দেখা যাবে,’ শেষ পর্যন্ত বিড়বিড় করল মার্শাল। ‘ঘটনা এখনও শেষ হয়নি।’

    সদয় ভাবে হাসল ডার্বি। ‘ম্যাগিল একটু বোকা হলেও পাকা কাজই করে। এই জন্যেই তাকে আমি ফোরম্যান করেছি।’

    কোন মন্তব্য করল না স্টকবার্ন।

    ওদিকে স্টোরের ভিতর ম্যাগিল আর তার লোকজনের টার্গেট আর গুলি, দুটোই ফুরিয়ে আসছে। গোলা-বারুদের ধোঁয়া ভেদ করে কিছু দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কাউকে আদেশ দিতে হলো না; ওরা নিজে থেকেই শেষে – গুলি ছোড়া বন্ধ করল। ধীরে ধোঁয়া কেটে যাচ্ছে। এখন ভাঙা কাঁচের টুকরো, আর বিভিন্ন রঙের তরল মিশ্রণে সৃষ্টি পিছল পদার্থ দেখা যাচ্ছে মেঝের ওপর।

    সবই দেখতে পাচ্ছে ওরা, কেবল প্রীচারের লাশটাই দেখা যাচ্ছে না।

    বাতাসে হাত নেড়ে ধোঁয়া সরাবার চেষ্টা করছে জেগু আর টাইসন। ম্যাগিল একটু এগিয়ে সতর্ক ভাবে কাউণ্টারের পিছনে উঁকি দিল। লোকটার লাশ এখানেই কোথাও আছে, হয়তো গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে কোনকিছুর পিছনে উলটে পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে না। মিনিট খানেকের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে প্রীচারকে।

    ঠিকই পাওয়া গেল।

    ‘তোমরা কাউকে খুঁজছ?’ শান্ত স্বরে কেউ প্রশ্ন করল।

    সবাই একসাথে ঘুরে দাঁড়াল। ভয় আর বিস্ময়ে ওদের চোখ বিস্ফারিত। গুলি করার জন্যে পিস্তল তুলল ওরা।

    দোকানের ভিতর আবার গোলাগুলি শুরু হলো। ডার্বি আর স্টকবার্ন কান পেতে শুনল। হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে আওয়াজটা উঠেছে। কিন্তু এটা আগের মত দীর্ঘস্থায়ী হলো না। যেমন হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তেমনি হঠাৎ করেই থেমে গেল। শেষ একটা গুলির শব্দ-তারপর সব নীরব।

    কয়েক মিনিট পার হয়ে গেল। স্টোর থেকে একজন বেরিয়ে এল। লোকটা একবার ক্ষণিকের জন্যে ডার্বির দালানটার দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত ধীর পায়ে এগোল। কোন তাড়া নেই ওর।

    জিমের চেষ্টার্জিত ভালমানুষির মুখোশ খুলে গেল। লম্বা লোকটার কাণ্ডকারখানা দেখে চোয়াল ঝুলে হাঁ হয়ে গেছে ওর মুখ।

    ‘যীসাস্! লোকটা এখন আবার কি করছে?’

    ওরা তাকিয়ে আছে। দেখল স্ট্রেঞ্জার ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নামল। ডার্বি ভেবেছিল লোকটা রাস্তার এপারে আসছে। কিন্তু ঠিক মাঝখানে থেমে পিস্তলে গুলি ভরতে শুরু করল ও।

    স্টকবার্নের চেহারা অত্যন্ত গম্ভীর। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পর্দাটা ছেড়ে দিল সে।

    ‘ও আমাদের বেরিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

    ‘লোকটার মাথা খারাপ!’ ডার্বি চোখের সামনে যা দেখছে তা ওর বিশ্বাস হচ্ছে না। স্টকবার্নের ব্যাখ্যাও ওর কাছে অবাস্তব মনে হচ্ছে। ‘লোকটা সত্যিই বদ্ধ পাগল, তাই না?’ জানালার থেকে ঘুরে দাঁড়াল সে।

    মার্শাল কামরায় নেই। অফিসের দরজাটা খোলা। এক মুহূর্ত ভেবে কপাট লাগিয়ে আবার জানালার কাছে ফিরে গেল ডার্বি। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই, বিন্দুমাত্র না। ডেপুটিদের নিয়ে স্টকবার্নই কাজটা শেষ করবে।

    কিন্তু দুশ্চিন্তায় না পড়লে হঠাৎ সে এভাবে ঘামতে শুরু করেছে কেন? উন্মাদ-বোকার হদ্দ ছিল ওই ম্যাগিল। মাথায় বুদ্ধি বলতে কিচ্ছু ছিল না। ভালমত প্ল্যান না করেই কাজে নেমেছিল। পেশাদার লোককেই কাজটা করতে দেয়া উচিত ছিল ওর। আনাড়ি লোক কাজে নামলে এমনই হয়।

    না, দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

    ডার্বির দালানের দরজাটা খুলে গেল। ডেপুটির দল বেরিয়ে এসে ছক বাঁধা নিয়মে দাঁড়াল। তিনজন দরজার ডাইনে, তিনজন বাঁয়ে। সবার শেষে বেরোল স্টকবার্ন। মাঝখানে দাঁড়িয়ে মুখ তুলে রাস্তার দিকে চাইল সে।

    স্টকবার্নের আবির্ভাবের সাথেই স্ট্রেঞ্জারের পিস্তলে গুলি ভরা শেষ হলো। সিলিণ্ডার বন্ধ করে .৪৪ পিস্তলটা খাপে ভরল ও। একা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা লোকটা। নির্লিপ্ত চেহারা। কোন রকম উত্তেজনা প্রকাশ পাচ্ছে না। স্টকবার্ন, আর তার ডেপুটিদের সাথে ওর দূরত্ব বেশি নয়। সূর্যটা মাথার উপরে-তাই মাটিতে ছায়া পড়ছে না।

    স্থির দাঁড়িয়ে আছে স্ট্রেঞ্জার।

    স্টকবার্নের ডেপুটিরা তাদের টার্গেটকে ঠাণ্ডা চোখে যাচাই করছে। রাস্তার মাঝখানে আড়াল নেই। লোকটা কোন কিছুর পিছনে লুকোবে, বা পালাবে, তার উপায় নেই। প্রতিপক্ষকে অতি সাহসী বা বীর ভাবছে না। ওদের কাছে এটা নিছক আর একটা কাজ, যা এখনই শেষ করা দরকার।

    বারান্দা থেকে রাস্তায় নামল ওরা। পুরো রাস্তা জুড়ে দাঁড়াল। তারপর স্টকবার্নের সঙ্কেত পেয়ে লোকগুলো আগে বাড়ল।

    মার্শালের আঙুল লাফাচ্ছে। হাত পিস্তলের হাতলটার কাছে। একদৃষ্টে শিকারের দিকে চেয়ে আছে ও। প্রীচারও এগোতে শুরু করল। ওদের মাঝে দূরত্ব কমে আসছে।

    তেইশ গজের মাথায় ডান পাশের ডেপুটি পিস্তলের দিকে হাত বাড়াল। প্রীচারের হাতও সচল হলো। স্টকবার্ন আর বাকি ডেপুটিরাও পিস্তল বের করে ফেলেছে। আটটা পিস্তল যত দ্রুত সম্ভব গুলি ছুঁড়ে চলল।

    আটচল্লিশটা গুলি খরচ হওয়ার পর শব্দ থামল। ধোঁয়া কেটে যাচ্ছে।

    স্টকবার্নের তিনজন লোক মরে পড়ে আছে মাটিতে। ওদের উলটো পাশে ধুলোর ওপর নিশ্চল হয়ে পড়ে আছে চওড়া ব্রিমের একটা কালো হ্যাট। ওতে দুটো ফুটো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ওটার মালিককে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    একটা সবজান্তা হাসি ফুটে উঠেছে মার্শালের মুখে। লাশ তিনটার দিকে সে একবার চেয়েও দেখল না। ওর চোখ রাস্তার দুপাশে দালানগুলোর ওপর ঘোরাফেরা করছে। হাত দ্রুত রিলোড করায় ব্যস্ত।

    ‘ছড়িয়ে পড়ো,’ আদেশ দিল স্টকবার্ন। ‘ওকে খুঁজে বের করতে হবে।’

    দৌড়ে এগোল তিনজন ডেপুটি। ছুটতে ছুটতেই পিস্তলে গুলি ভরছে।

    একটা অদ্ভুত ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে শহরে। রাস্তায় কিছুই নড়ছে না। বাড়ির ভিতরেও যেন নড়াচড়া বন্ধ। শহরবাসীরা সবাই বেডরূমে গিয়ে ঢুকেছে। জোরে শ্বাস ফেলতেও ভয় পাচ্ছে। ঘাপটি মেরে বসে আছে ওরা। চাইছে বাইরে যা ঘটছে তা আপনা-আপনি শেষ হয়ে যাক।

    একজন ডেপুটি ছুটে মাটিতে পড়া হ্যাটটার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ওখান থেকে তীক্ষ্ণ নজরে ডাইনে-বাঁয়ে দেখে দুটো বাড়ির ফাঁকে সরু গলিটার ভিতর ঢুকল। সরে পড়ার ওটাই সবথেকে যুক্তিসঙ্গত রাস্তা। পিস্তল হাতে প্রত্যেকটা দরজা জানালা চেক করছে ও। সামান্য নড়াচড়া দেখলেই গুলি করার জন্যে প্রস্তুত।

    ডান দিকে একটা আধ-খোলা দরজার ওপর ওর চোখ আটকে গেল। ডেপুটির চোখের সামনেই দরজাটা কব্জার ওপর সামান্য নড়ল, যেন বাতাসে নড়েছে। কিন্তু দুপুর বেলার বাতাস একেবারে স্তব্ধ।

    ডেপুটির চেহারার কোন পরিবর্তন হলো না। একটা লম্বা লাফে বামে সরে কুঁজো হয়ে গুলি ছুঁড়তে শুরু করল সে। দরজায় বুক সমান উঁচুতে ছয়টা ফুটো হয়ে গেল।

    তাড়াতাড়ি পিস্তলে গুলি ভরে দরজার দিকে এগোল ডেপুটি। পা দিয়ে ঠেলে ওটা খুলে অল্পক্ষণ কান পেতে শুনে ভিতরে ঢুকল।

    একক একটা গুলির শব্দ ওকে অভ্যর্থনা জানাল। অত্যন্ত আশ্চর্য হওয়ার ভাব ফুটে উঠল ওর চেহারায়। কপালে একটা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উলটে চিত হয়ে বাইরে পড়ল সে।

    পরপর ছয়টা গুলির পর একটা গুলির শব্দ স্টকবার্নের কানে পৌঁছেচে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একবার ডান দিকে চেয়ে সামনে এগোল ও।

    ডেপুটি কোবল্ড ছুটতে ছুটতে পিছনের মাথা দিয়ে গলিতে ঢুকল। সহকর্মীর লাশটা দেখে থমকে দাড়াল। চট করে একটা বাড়ির আড়াল নিয়ে খুব সাবধানে উঁকি দিল।

    অল্প দূরে রাস্তার অন্যপাশে একটা বিশাল আস্তাবল। ওটার পিছনের দরজাটা খোলা। সময় মতই উঁকি দিয়েছে ডেপুটি। একটা লম্বা আকৃতির লোককে ওই দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেখল। লোকটা পিছন ফিরে তাকায়নি, তাই ওকে দেখতে পায়নি। খুশিতে নিষ্ঠুর একটা হাসি ফুটল কোবল্ডের মুখে-নিঃশব্দে আস্তাবলের দিকে ছুটল সে।

    দরজার কাছে পৌঁছে মাথা গলিয়ে ভিতরে উঁকি দিয়েই আবার মাথাটা সরিয়ে নিল। ক্ষণিকের জন্যে এই দেখা দেয়ায় ওদিক থেকে কোন প্রতিক্রিয়া হলো না। বাইরের দেয়ালে পিঠ সেঁটে ভিতরটা ভাল করে খুঁটিয়ে দেখল।

    ছাদের ফাঁকগুলো দিয়ে কয়েক চিলতে রোদ ঢুকছে। ঘোড়াগুলো নিজেদের স্টলে তৃপ্তির সাথে খাবার চিবাচ্ছে। তিন দেয়ালে ঘেরা একটা জায়গায় ঘোড়ার জিন আর অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা আছে। ওখানে একটা জিনিস ডেপুটির দৃষ্টি অ কর্ষণ করল। মাথা নিচু রেখে ওদিকে ছুটল। লুকোবার জায়গাগুলোর ওপর সতর্ক নজর রেখেছে ও।

    শেলফের ওপর একটা শটগান রাখা আছে। পুরোনো হলেও নিয়মিত যত্ন নেয়া হয় বোঝা যাচ্ছে। ভাল ভাবে তেল মাখা থাকায় গুলি ভরার জন্যে খোলার সময়ে কোন শব্দ হলো না। গুলি ভরে বন্ধ করে দুটো হ্যামারই একসাথে টেনে ওটাকে তৈরি রাখল। বাড়তি গুলিও সাথে নিয়েছে ও।

    তিন দেয়ালের কামরা ছেড়ে বেরিয়ে এল কোবল্ড। সম্ভাব্য লুকোবার জায়গাগুলো শটগানের গুলিতে একে-একে ছিন্নভিন্ন করছে লোকটা। প্রচণ্ড শব্দে ভয় পেয়ে ঘোড়াগুলোর চোখের সাদা অংশ বেরিয়ে এসেছে। অস্থির ভাবে মাটিতে পা ঠুকছে ওরা। দ্রুত হাতে গুলি ভরে ফায়ার করছে ডেপুটি। খড়ের গাদা, চিলেকোঠা, খালি স্টল, কিছু বাদ পড়ল না।

    পঞ্চাশ পাউণ্ডের ওটের ছালা ফেটে ওট বেরিয়ে ছিটিয়ে পড়ল। পুরোনো আংশিক পচা কাঠের চিলেকোঠা ধসে পড়ল। ওখানে গাদা দিয়ে রাখা খড় ঢেউয়ের মত নিচে নামল।

    গুলি ফুরিয়ে এল। নতুন টার্গেটও আর কিছু নেই। শটগানটা আবার শেলফে রাখার জন্যে হাত বাড়াল কোবল্ড। লাশটা খুঁজে বের করতে ওর দু’মিনিটের বেশি সময় লাগবে না। উপরের দিকে তাকাল সে। সম্ভবত ওখানেই কোথাও মরে পড়ে আছে লোকটা।

    ক্ষুরধার একটা দুমুখো ভারি কুঠার টোমাহওকের মত ঘুরতে ঘুরতে বাতাস কেটে উড়ে এল। ডেপুটির চোখ বিস্ফারিত হওয়ারও সময় পেল না। শটগান রাখতে বাড়ানো হাতটা কনুইয়ের তিন ইঞ্চি উপর থেকে কেটে শটগান সুদ্ধ মাটিতে পড়ল। এক সেকেণ্ড ওদিকে চেয়ে থাকল ডেপুটি।

    তারপর চিৎকার করল।

    চোখের পাতা ফেলে আওয়াজটার দিকে মুখ ফেরাল স্টকবার্ন। চেহারার পরিবর্তন হলো না। ওর গ্র্যানিট পাথরের মত চেহারায় ভাবের পরিবর্তন খুব কমই হয়।

    আরও একজন চিৎকারটা শুনল। দোতলায় নিজের কামরায় দাঁড়িয়ে ডার্বি টের পেল ওর হাত কাঁপতে শুরু করেছে। হুইস্কির বোতল থেকে তিন আউন্স পানীয় গ্লাসে নিয়ে নির্জলা মদ গলায় ঢেলে দিল। এক ফোঁটা মদ চিবুক বেয়ে নেমে ওর দামী শার্টটার ওপর দাগ ফেলল।

    ছায়ার ভিতর থেকে পিস্তল হাতে বেরিয়ে এল স্ট্রেঞ্জার। কোবল্ডের যন্ত্রণায় পাক খাওয়া দেহটা টপকে দরজার দিকে এগোল। পিছনের রক্তাক্ত লোকটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করল।

    দরজা দিয়ে বেরোতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে কেন যেন থমকে দাঁড়াল। একটা বুলেট ওর মুখের এক ইঞ্চি দূরে কাঠের কুচি ছিটাল। ঘুরে ঝাঁপিয়ে মেঝের ওপর পড়ল প্রীচার। ভিতরের দেয়ালের সাথে দেহ সাঁটিয়ে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে উঁকি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করল শেষ ডেপুটিটা কোথায় আছে।

    দ্বিতীয় একটা গুলি অল্পের জন্যে ওকে মিস করল। দেয়াল ঘেঁষে এগিয়ে দুই তক্তার মাঝে একটা ফাঁক দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করল ও।

    দৃষ্টি বেশ সীমিত হলেও আস্তাবলের সামনে গলির কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আততায়ীর কোন চিহ্ন দেখা গেল না। লোকটা যে-ই হোক, অত্যন্ত সাবধানী। তার শিকারের মত সেও অদৃশ্য হতে সক্ষম হয়েছে। এখন প্রথম যে নড়বে তারই বিপদ ঘটবে। একটুও অসাবধান হওয়ার উপায় নেই।

    এক মিনিট সময় পেরিয়ে গেল। মনে মনে সম্ভাবনাগুলো একে একে যুক্তি দিয়ে বিচার করে মাথা ঝাঁকিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল প্রীচার। পিস্তল তুলে পরপর ছয়টা গুলি করল ঘোড়াকে পানি খাওয়াবার টব লক্ষ্য করে। সারিবদ্ধ ছয়টা ফুটো দিয়ে পানি বেরিয়ে আসছে। প্রথমে পরিষ্কার-পরে গাঢ় লাল হলো পানি।

    পিস্তলে গুলি ভরতে ভরতে টবটার দিকে এগোল স্ট্রেঞ্জার। ডেপুটির লাশটা ভিতরে ভাসছে। লোকটার মুঠোয় পিস্তলটা এখনও ধরা আছে। মুখ তুলে তাকাল সে।

    আর মাত্র একজন বাকি।

    রাস্তার মাঝখানে চোখ সরু করে শব্দের দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্টকবার্ন। ওর মুখের ভাব দুর্বোধ্য, মনোভাব, হিংস্র।

    দুটো বাড়ির ফাঁক দিয়ে বড় রাস্তায় উঠে এল লম্বা একটা লোক। অ রাস্তার মাঝখানে এগিয়ে গেল ও। ওখানে মাঝরাস্তায় আরও একটা জিনিস রয়েছে। একটা হ্যাট। ওটা তুলে চিন্তাযুক্ত ভাবে গর্ত দুটো পরীক্ষা করল। তারপর ধুলো ঝেড়ে হ্যাটটা মাথায় পরে টেনে চোখের ওপর নামিয়ে আনল।

    পঞ্চাশ গজ দূরে স্টকবার্নকে দেখা যাচ্ছে। হাসল মার্শাল। কৌতুকহীন হাসি। হাসিতে ওর মুখের ভাব বিন্দুমাত্র নরম হলো না। রাস্তার মাঝখানে এসে পিস্তল বের করে অভ্যাস মত গুলি ভরা আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখল। ওদের দুজনের মাঝে আছে পঞ্চাশ গজ, আর তিনজন ডেপুটির লাশ।

    এগোচ্ছে স্টকবার্ন। একটুও দেরি না করে লম্বা লোকটাও ওর মোকাবিলা করতে এগোল। দুজনই ধীর পায়ে হাঁটছে। পরস্পরের ওপর থেকে মুহূর্তের জন্যে চোখ সরাচ্ছে না কেউ। দূরত্ব কমে আসছে। অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে স্টকবার্ন নিজের পিস্তলের মুখটা একটু একটু করে ওঠাচ্ছে। চুরি করে যতটুকু ওঠানো যায় ততটুকুই লাভ। আরও দ্রুত গুলি ছুঁড়তে পারবে ও। তাক করে গুলি ছুঁড়তে সময় কম লাগবে।

    ওর প্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু তার পিস্তল এক চুলও ওঠায়নি। তার বদলে স্ট্রেঞ্জার কেবল তার মুখটা একটু ওপরে তুলল। এই প্রথম সূর্যের আলোয় ওর মুখটা পরিষ্কার দেখতে পেল মার্শাল।

    স্ট্রেঞ্জারের চোখের দিকে চেয়ে এই প্রথম স্টকবার্নের মুখের ভাব বদলাল।

    ‘তুমি। তুমি!’

    দ্রুত পিস্তল তুলে গুলি ছুঁড়ল স্টকবার্ন। বিস্ময়ের ধাক্কা ওকে একটুও স্লো করতে পারেনি। ওর প্রতিক্রিয়া স্বভাবজাত, হিসেব করা নয়। বহু বছরের অনুশীলন, হত্যায় আর খুনে ওর হাত পেকেছে।

    কিন্তু এতে কোন পার্থক্য হলো না। স্ট্রেঞ্জারের পাঁচটা গুলি একটার মত শব্দ তুলে মার্শালের বুকে আট ইঞ্চি একটা বৃত্ত আঁকল। ষষ্ঠ গুলিতে ওর মাথার পিছন দিকটা উড়ে গেল। পড়ে গেল স্টকবার্ন। শেষবারের মত প্রতিপক্ষকে দেখার সুযোগও সে পেল না। বাম হাতের আঙুলগুলো একবার কুঁকড়ে স্থির হয়ে গেল।

    পিস্তলের কার্তুজের খালি খোলগুলো রাস্তায় ফেলে পিস্তলে আবার গুলি ভরে নিল স্ট্রেঞ্জার। ওর চোখ এখনও হাত-পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়া মার্শালের লাশের ওপর। স্টকবার্নের দুটো হাতই এখন স্থির। হাতের আঙুলগুলো আর কোনদিন নার্ভাস ভাবে নাচবে না।

    সিলিণ্ডার বন্ধ করে পিস্তল খাপে ভরে নিজের ঘোড়ার দিকে এগোল স্ট্রেঞ্জার।

    দোতলার জানালা দিয়ে ছাইয়ের মত সাদা মুখে লম্বা লোকটার গতিবিধি লক্ষ করছে ডার্বি। ওর ডান হাতে একটা কালচে-নীল লম্বা নলের ডেরিঞ্জার। ওটা তাক করছে ও-নিজের দিকে।

    পাদানিতে একটা পা ঢুকিয়ে ইতস্তত করল লম্বা লোকটা। ঘুরে চোখ তুলে দোতলার বিশেষ একটা জানালার দিকে তাকাল। জানালার পিছনে পর্দাটা সামান্য নড়ে উঠল। দূর থেকে একটা গুলি আর কাঁচ ভাঙার শব্দ ভেসে এল। ডার্বির দেহটা মেঝের পুরু কার্পেটে পড়ায় আওয়াজটা শুনতে পেল না প্রীচার। শোনার প্রয়োজনও নেই।

    ডার্বিই কাজটা শুরু করেছিল, এবং ডার্বিই তা শেষ করল।

    সবকিছুর সমাপ্তি ঘটল।

    ঘোড়ার পিঠে বসে লাগামে ঝাঁকি দিল স্ট্রেঞ্জার।

    .

    বাকবোর্ডের ঘোড়াটা ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে শহরে ঢুকে ব্যাঙ্কের সামনে থেমে দাঁড়াল। পাতলা গড়নের আরোহী নির্দয়ভাবে ঘোড়াটাকে সারা পথ দাবড়ে এনেছে। শহরবাসীদের কেউ কেউ মুখ তুলে ওকে দেখল বটে কিন্তু শহরের রাস্তায় লাশগুলোর দিকেই সবার মনোযোগ।

    বাকবোর্ড থেকে লাফিয়ে নিচে নামল ওয়ানিতা। মেয়েটাও মৃতদেহগুলো দেখেছে এবং উৎকণ্ঠার সাথে প্রত্যেকটা চেহারা লক্ষ করেছে। সবাই ওর অপরিচিত।

    ‘কোথায় সে?’

    কারও কাছে জবাব নেই। শহরের লোকজন সকালের অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর বোবা হয়ে গেছে। ধাক্কাটা এখন কেটে যাচ্ছে, কিন্তু খুব ধীরে। এমনকি টমাস, যে মৃতের সৎকার করে, সেও এমন হতবুদ্ধি হয়ে গেছে যে এখনও কাজে হাত দিতে পারেনি।

    নিতা সবাইকে একই প্রশ্ন করছে, কিন্তু শূন্যদৃষ্টির চাহনি ছাড়া আর কোন জবাব পাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত জুড ব্ল্যাকেনশিপের পরিচিত চেহারা দেখতে পেয়ে ওর কোটের হাতা খামচে ধরল।

    ‘কোথায় সে?’

    চোখের পাতা ফেলে ঘোর কাটিয়ে বাস্তবে ফিরে এল দোকানি।

    ‘কে কোথায়, বাছা?’

    ‘প্রীচার!’

    ‘ওহ, প্রীচার।’ রাস্তার দিকে তাকিয়ে নড করল সে। ‘চলে গেছে।’

    ‘চলে গেছে? কোথায়?’

    ‘কে জানে?’ কাঁধ উঁচাল ব্ল্যাকেনশিপ।

    দোকানির কোটের হাতা ছেড়ে শহরের লোকজনের মাঝে লম্বা আকৃতির মানুষটাকে হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরল নিতা। কিন্তু কোথাও ওকে দেখতে পেল না। শেষে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ওয়্যাগনে উঠে বসল মেয়েটা।

    ‘বাছা!’ ব্ল্যাকেনশিপ তাড়াতাড়ি হাত তুলে ওকে ঠেকাতে ছুটে এল। ‘তোমার ঘোড়াটার দিকে একবার চেয়ে দেখো। ওর মুখে ফেনা উঠে গেছে। আরও খাটালে নির্ঘাত মারা পড়বে। ওর বিশ্রাম দরকার। আমাদের সবারই এখন বিশ্রাম প্রয়োজন। প্রীচার চলে গেছে, নিতা।’

    ওয়ানিতার দিকে চেয়ে পিতৃসুলভ একটা হাসি দিয়ে ঘুরে নিজের দোকানের দিকে ফিরে গেল জুড। দোকানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবনিকাশ করতে প্রচুর খাটুনি আর সময়ের দরকার হবে। কিন্তু তাতে ওর আপত্তি নেই। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই সরে গেছে। সে জানে আগামীতে ব্যবসায় যা লাভ হবে তার তুলনায় আজকের ক্ষতি কিছুই না।

    ওয়ানিতাকে বাকবোর্ডে একা ছেড়ে চলে গেল দোকানি। মেয়েটার নিজেকে পরিত্যক্ত আর প্রতারিত মনে হচ্ছে-কান্না পাচ্ছে ওর। খানিকক্ষণ চুপ করে ওখানে বসে থাকার পর হঠাৎ সে খেয়াল করল এখন আর শহরবাসীর পুরো মনোযোগ লাশের প্রতি নেই-তাকেও অনেকে লক্ষ করছে।

    সোজা হয়ে বসে নিজেকে সামলে নিল ও। সে ফিশার। জুড ব্ল্যাকেনশিপের কথাটা ওর কানে এখনও বাজছে। ‘চলে গেছে।’

    ‘না, যায়নি,’ জোরেই বলে উঠল নিতা। ‘অন্তত সত্যিকার অর্থে না।’

    বাকবোর্ড থেকে নেমে ঘোড়াটাকে খুলে আস্তাবলের দিকে এগোল মেয়েটা। মেয়ারটা এখনও হাঁপাচ্ছে। অর্ধেক পথ যাওয়ার পর থেমে দাঁড়াল নিতা। দূরে সিয়েরার চূড়ার ওপর ওর চোখ।

    ‘প্রীচার!’ চিৎকার করল সে। এখন আর ওর চোখে জল নেই, না, আর না। ‘আমি তোমাকে মুক্ত করে দিলাম, প্রীচার! তুমি শুনছ?’

    কয়েকজন শহরবাসী অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ওদের উপেক্ষা করল নিতা। তার কাছে বর্তমানে ওদের কোন অস্তিত্ব নেই। আছে শুধু সে, আর ওই দূরের পাহাড়গুলো।

    ‘আমি তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি!’ ওর স্বর কিছুটা নামল। ‘আমি তোমাকে ভালবাসি, প্রীচার! গুডবাই!’ ঘোড়ার পিঠটা আদর করে চাপড়ে দিল নিতা। ‘ও আবার ফিরে আসবে,’ নিজেকেই ফিসফিস করে শোনাল মেয়েটা। ‘আমি প্রার্থনা করলে ও ঠিকই ফিরে আসবে। ওকে কাছে পেতে চাইলে, আমি আবার একটা মিরাকলের জন্যে প্রার্থনা করব।’

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী আবার ফিরবে কি?

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্ষ্যাপা তিনজন – কাজী মাহবুব হোসেন
    Next Article খুনে মার্শাল – কাজী মাহবুব হোসেন

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    শেষ অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    খুনে মার্শাল – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    ক্ষ্যাপা তিনজন – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }