Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিতু আর তার বন্ধুরা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. এডভেঞ্চার

    ১২. এডভেঞ্চার

    নিতু, রেবেকা আর তানিয়া কোনো কিছু করার আগে খুব ভালো ভাবে পরিকল্পনা করার সুফলটা টের পেল খুব তাড়াতাড়ি। দেওয়াল টপকে স্কুল থেকে বের হয়ে স্কুলের বাইরে রাস্তা ধরে হেঁটে একেবারে শেষ মাথায় বাস স্টেশনে চলে গিয়ে দেখতে পায়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে মিতুল, রুনু-ঝুনু অপেক্ষা করছে, তবে ভয়ে, দুশ্চিন্তায় আর কী করবে সেই অনিশ্চয়তায় একেবারে আধখানা হয়ে গেছে।

    মিতুল আর রুনু-ঝুনু অন্য তিনজনকে দেখে যা খুশি হল সেটি আর বলার মতো নয়। একজন আরেকজনকে ধরে খানিকক্ষণ জাপটা জাপটি করে নেয় তারপর দ্রুত কাজের কথায় চলে আসে।

    আমাদের হাতে একেবারে সময় নেই।

    শান্তা আপা কোন রাস্তা দিয়ে আসবে আমরা জানি, সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকবি। যখন দেখব শান্তা আপা রিক্সা করে আসছেন, দৌড়ে গিয়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে সবকিছু বলব, তারপরে আমাদের আর কিছু চিন্তা করতে হবে না।

    কিন্তু পুলিশ কিংবা কোনো বড় মানুষকে বললে হতো না? মিতুল পুরো ব্যাপার নিয়ে কেমন যেন অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে, যদি মনে কর কোনোভাবে আমরা ঠিক করে খেয়াল করতে না পারি আর শান্তা আপা চলে যান? তাহলে মিতুল ব্যাপারটা চিন্তা করে একেবারে শিউরে উঠে।

    তানিয়া মাথা নাড়ল, বলল, মিতুল ঠিকই বলেছে। যদি শান্তা আপাকে থামাতে না পারি তাহলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে।

    নিতু বলল, তার মানে যেভাবেই হোক আমাদেরকে শান্তা আপাকে থামাতেই হবে। পুলিশের কাছে যেতে পারলে ভালোই হতো—কিন্তু দেরি হয়ে যাবে না?

    তানিয়া বলল, আমরা আবার দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাই। এক ভাগ যাই পুলিশের কাছে আরেক ভাগ যাই স্কুলের রাস্তায়, শান্তা আপাকে থামাতে।

    গুড আইডিয়া। নিতু মাথা নাড়ল, পুলিশের কাছে কে যেতে চায়?

    দেখা গেল কেউই পুলিশের কাছে যেতে চায় না। খবরের কাগজে পুলিশের সম্পর্কে যেসব খবর ছাপা হয় সেটা পড়ে আজকাল পুলিশকে দেখলেই ভয় হয়, মনে হয় এই বুঝি ধরে কিছু একটা করে ফেলবে। নিতু বলল, ঠিক আছে, এখানে দেরি করে লাভ নেই, যেখানে আমাদের অপেক্ষা করার কথা সেখানেই যাই। তারপর ঠিক করা যাবে কে কে পুলিশের কাছে যাবে।

    কাজেই ছয় জনের দলটা রওনা দিয়ে দেয়। রাস্তা ঘাটে মানুষজন খুব বেশি নেই, যারা আছে তারা সবাই একটু অবাক হয়ে তাদের দেখছিল, এরকম রাত্রি বেলা ছয়টি মেয়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হন্তদন্ত হয়ে যাচ্ছে দেখে অবাক না হয়ে উপায় কী?

    যে রাস্তা দিয়ে শান্তা আপার যাবার কথা সেখানে এসে তারা থেমে গেল। এই মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে লোকজন সন্দেহ করতে পারে তাই তারা খানিকটা এগিয়ে গেল। সেখানে একটা ছোট বাসার মতন রয়েছে, একটা বাসার সামনে তারা কীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে? ছয়জন তাই আরেকটু সামনে এগিয়ে গেল, সেখানে একটা ছোট পানের দোকানে একজন বুড়ো চুপচাপ উদাস মুখে বসে আছে, তাই নিরিবিলিতে দাঁড়ানোর জন্যে তারা আরেকটু এগিয়ে যায়, রাস্তাটা এখানে একটু বাঁকা হয়ে চলে গেছে রাস্তার ঠিক পাশে বিশাল বিশাল কয়টা রেইন ট্রি সেজন্য পুরো জায়গাটাকে কেমন যেন নিঝুম মনে হয়। রাস্তার দুই পাশে এখান থেকে কেমন যেন জংগলের মতো শুরু হয়ে গেছে, একটা লাইট পোস্ট টিমটিমে একটা লাইট বাল্ব জ্বলছে, এ ছাড়া কোথাও আর কোনো আলো নাই। লাইটপোস্টর আলো থেকে সরে গিয়ে বড় একটা গাছের আড়ালে তারা লুকিয়ে বসে গেল। এখান থেকে তারা রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারবে, রাস্তায় কে যাচ্ছে আসছে তারা স্পষ্ট দেখতে পাবে কিন্তু তাদেরকে কেউ দেখতে পাবে না।

    সবাই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে— হঠাৎ করে শান্তা আপা না চলে যান, তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। রাস্তাটা অবিশ্যি খুব নির্জন, এটা তাদের স্কুলের রাস্তা যারা স্কুলে যাবে শুধু তারাই এই রাস্তা দিয়ে যায় কাজেই অন্য কারো এদিক দিয়ে যাবার কথা নয়। ভুল করে তাদের চোখ এড়িয়ে শান্তা আপা চলে যাবেন তার সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই। মোটামুটি নিশ্চিন্ত হয়ে বসার পর নিতু আবার পুলিশের কাছে যাবার ব্যাপারটি তুলল, জিজ্ঞেস করল, এখন বল, কে যাবে পুলিশের কাছে?

    রুনু স্বীকার করে ফেলল, সে পুলিশকে ভয় পায়। কিছুতেই যেতে চায় না। রুনু আর ঝুনুর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কাজেই ধরে নেয়া হল ঝুনুও পুলিশের কাছে যাবে না। বাকি চারজনের মাঝে কী লটারী করে ঠিক করা হবে না এমনিতেই কেউ রাজি হয়ে যাবে সেটা নিয়ে যখন কথা বার্তা হচ্ছে ঠিক তখন তারা একটা গাড়ির শব্দ শুনতে পেল, সাথে সাথে সবাই মাথা নিচু করে বসে যায়। গাড়িটা তাদের স্কুলের দিক থেকে আসছে, তাদের কাছাকাছি এসে গাড়িটার গতি কমে আসে, এবং ঠিক তাদের সামনে এসে গাড়িটা থেমে যায়। লাইটপোস্টের টিমটিমে আলোতে তারা স্পষ্ট দেখতে পায় গাড়ির দরজা খুলে দুইজন মানুষ বের হয়ে এসেছে। মানুষগুলির বয়স খুব বেশি নয়, তারা সেরকম লম্বা চওড়াও নয়। জিন্সের প্যান্টের সাথে টি সার্ট পরে আছে, একজনের মাথায় একটা বেসবল ক্যাপ। মানুষগুলো বের হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাল। বেসবল ক্যাপ মাথায় মানুষটা পিচিক করে থুতু ফেলে বলল, শান্তা মাস্টারনীকে এই খানেই ধরি! না কি বলেন ওস্তাদ?

    যাকে ওস্তাদ বলে ডাকা হল সে হঠাৎ প্যান্টের বোতাম খুলে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে শুরু করে দিয়ে সিগারেটটা দাঁতের গোড়ায় চেপে ধরে বলল, সেই জন্যেই তো দাঁড়ালাম এইখানে। রং করার জন্যে কী দাঁড়িয়েছে?

    পেশাব শেষ করে মানুষটি সরে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল নিতু আর অন্য পাঁচজন। তারপর নিশ্বাস বন্ধ করে ওরা একটু পিছিয়ে গিয়ে নিচু হয়ে নিজেদের আড়াল করে ফেলল। নিতু চাপা গলায় বলল, সর্বনাশ! মাস্তানগুলো শান্তা আপাকে ধরার জন্যে যে এখানেই দাঁড়াল।

    তানিয়া বলল, এই জায়গাটাই তো নির্জন। এখানেই তো দাঁড়াবে।

    এখন উপায়?

    আমাদের তাড়াতাড়ি রাস্তার গোড়ার দিকে যেতে হবে।

    যাব কেমন করে? মিতুল ফিস ফিস করে বলল,  মাস্তান দুইটা যে এদিকেই তাকিয়ে আছে!

    কিছু করার নাই, এর মাঝেই যেতে হবে। না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

    ওরা উবু হয়ে তাকিয়ে দেখল, রাস্তাটা ঠিক এখানো বাঁকা হয়ে গেছে, রাস্তার গোড়ায় যেতে হলে এই লোক দুজন দেখে ফেলবে। মাস্তান দুজন গাড়ির বনেটে বসে আছে, সেটা হচ্ছে আরেক বিপদ।

    মাথায় বেস বল ক্যাপ দেয়া মানুষটা বলল, ওস্তাদ। লোহার রড টা বের করি?

    কর।

    কাঁটা রাইফেল

    বের করবি? কর, কেউ নাই এখানে।

    বেস বল মাথায় মানুষটা গাড়ির লাগেজ কম্পার্টমেন্ট খুলে সেখান থেকে একটা মোটা লোহার রড আর একটা কাঁটা রাইফেল বের করে এনে গাড়ির ছাদে রাখল। যে মানুষটাকে ওস্তাদ বলে ডাকা হচ্ছে সে বলল, কাচু।

    জে, ওস্তাদ।

    রাইফেলটা লোড করে রাখ। পারবি তো নাকি আগের মতো ট্রিগার টেনে গুলি করে দিবি?

    কী বলেন ওস্তাদ! একবার ভুল হয়েছে দেখে বার বার ভুল হবে নাকি!

    গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখতে পেল কাচু নামের মানুষটা কাঁটা রাইফেলে গুলি ভারে সেটা রেডি করে গাড়ির ছাদে রেখে দিয়ে খুব খুশি হয়ে বলল, সব রেডি। এখন মাস্টারনী আসলেই কেস কমপ্লিট।

    কাচু যাকে ওস্তাদ বলে ডাকছে, সেই মানুষটা উদাস উদাস গলায় বলল, বুঝলি কাচু, তুই বেশি তড়পাবি না। কাজ ঠাণ্ডা মাথায় করতে হয়। যে কাজের যে স্টাইল। পলিটিক্যাল কাজ এক রকম টাকার কাজ অন্যরকম। টাকার কাজে কোনো মাথা গরম নাই, কোনো বাড়াবাড়ি নাই।

    জে ওস্তাদ।

    যখন দেখবি রিক্সাটা আসতেছে আমি কাঁটা রাইফেলটা নিয়ে আগাব। তুই পিছনে থাকবি। কথাবার্তা যা বলার আমি বলব। রিক্সাওয়ালাটা থাকবে তো তারেও নিউট্রালাইজ করতে হবে।

    লাইট পোস্টটা যেন পিছনে থাকে। আলো আসবে পিছন থেকে চেহারা যেন ঠিক দেখতে না পারে। পুলিশের সাথে বন্দোবস্ত থাকলেও সব সময় সাবধান থাকতে হয়। বুঝলি?

    জে ওস্তাদ, বুঝেছি।

    আমি যখন বলব তখন রড দিয়ে মারবি। তার আগে না। মনে থাকবে?

    থাকবে ওস্তাদ।

    কাজ যেন ক্লীন হয়। এইটা টাকার কাজ। টাকার কাজ ক্লীন করলে কাস্টমার হাতে থাকে। পরের বারও বিজনেস দেয়। একটা বাড়ি দিয়ে হাঁটুটা গুড়া করে দিতে হবে। কোন্ হাঁটুটা করবি? ডান না বাম?

    আমি তো বায়া, ডান হাঁটুতেই সুবিধা।

    ঠিক আছে তাহলে ডান হাঁটু।

    যাকে ওস্তাদ বলে ডাকা হচ্ছে সেই মানুষটা এবারে আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে চুপ হয়ে গেল। কাচু নামের মানুষটা পুরো গাড়িটা একবার ঘুরে এসে শুকনো গলায় বলল, ওস্তাদ।

    কী?

    এইটা কী সেই জায়গা না?

    কোন্ জায়গা?

    সেই যে একটা স্কুলের ছেমড়ী সুইসাইড করল?

    তাই নাকি?

    জে ওস্তাদ। ছেমড়ীর নাম ছিল বকুল। গলায় দড়ি দিয়েছিল এইখানে।

    অ।

    কাচু কিছুক্ষণ পর বলল, জায়গাটা ভালো না।

    কাচুর ওস্তাদ তখন চমকে উঠল, বলল, কী বলিস তুই?

    জে ওস্তাদ, ঠিকই বলি। আপনি টের পাচ্ছেন না?

    দুজনেই তখন ইতি উতি তাকাল এবং কাচুর ওস্তাদ ভয়ে ভয়ে বলল, ঠিকই বলেছিস। জায়গাটা জানি কেমন!

    গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছয়জনও তখন চারিদিকে তাকাল, জায়গাটা অন্ধকার এবং নির্জন, গাছপালা জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে, কেমন যেন থমথমে ভাব। কেউ যদি মনে করে জায়গাটা ভৌতিক তাহলে খুব দোষ দেওয়া যায় না।

    কাচু বলল, ওস্তাদ, আপনি একটা জিনিস খেয়াল করেছেন?

    কাচুর ওস্তাদ শুকনো গলায় বলল, কী জিনিস?

    এই জায়গাটাতে কোনো শব্দ নাই।

    ওস্তাদ ভয়ে ভয়ে বলল, তাতে কী হয়েছে?

    যে সব জায়গা খারাপ সেখানে কোনো পশুপক্ষী থাকে না ঝি ঝি পোকাও থাকে না। দেখেছেন—

    কাচু আরো কী বলতে চেয়েছিল কিন্তু তার ওস্তাদ ধমক দিয়ে থামিয়ে দিল, চুপ কর হারামজাদা। কথা বলবি না।

    গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নিতু আর তার বন্ধুরা বুঝতে পারল এই মানুষ দুটি ভয় পাচ্ছে। নিতু গলা নামিয়ে বলল, এদের ভয় দেখালে কী রকম হয়?

    ভয় দেখাবি? কথা বলতে গিয়ে রেবেকা নিজেই ভয় পেয়ে গেল।

    হ্যাঁ। এমনিতেই ভয় পেয়ে আছে, তার সাথে আর একটু চেষ্টা করলেই দেখাব কী ভয় পাবে।

    আর একটু চেষ্টা কীভাবে করবি?

    নিতু একটু চিন্তা করে বলল, মনে কর যদি একটা ঢিল ছুঁড়ি। কিংবা আরো ভালো হয়—

    আরো ভালো হয়?

    আরো ভালো হয় যদি জংগলের ভিতর থেকে একটা ভৌতিক শব্দ বের করা যায়। নিতু মিতুলের দিকে তাকিয়ে বলল, মিতুল তুই পারবি না?

    আমি?

    হ্যাঁ। ভৌতিক একটা শব্দ করে লাইট বাল্বটা ঠাশ করে ভেঙ্গে ফেলবি। পারবি না?

    মিতুল লাইট বাটার দিকে তাকিয়ে বলল, একটু দূর হয়ে যায়, তবু মনে হয় পার।

    দেখ কী মজা হয়!

    তানিয়া ফিস ফিস করে বলল, দাঁড়া, আগেই শুরু করিস না।

    পুরো জিনিসটা ঠিক করে প্ল্যান করে নেই আগে। একেবারে আগা গোড়া। কী কী করা হবে, সব কিছু।

    রেবেকা মাথা নাড়ল, বলল হ্যাঁ তানিয়া ঠিকই বলেছে। প্ল্যানটা ভালো করে করি।

    নিতু একটু ইতস্তত করে বলল, দেরি না হয়ে যায় আবার হঠাৎ করে যদি এখন শান্তা আপা এসে যায়?

    আয় তাহলে তাড়াতাড়ি প্ল্যান করে ফেলি।

    গাছের আড়ালে বসে আবার নিখুঁত পরিকল্পনা করা হল। তাদের মূল উদ্দেশ্য গাড়ির উপর রাখা কাঁটা রাইফেল আর লোহার রডটা সরিয়ে নেওয়া। একবার কোনোভাবে সেই দুইটা সরিয়ে নিতে পারলে কোনো ভয় নেই সেগুলি দিয়েই তখন তাদের কাবু করা যাবে। নিতু আর তানিয়ার উপর ভার দেওয়া হল সেগুলি সরানোর। মাস্তান গুলিকে ব্যস্ত রাখার দায়িত্ব রুনু ঝুনু আর মিতুলের। কীভাবে ব্যস্ত রাখা হবে তার খুঁটিনাটি সবকিছু ঠিক করে নেয়া হল। হঠাৎ করে যদি সরাসরি মারামারি শুরু করে দিতে হয় তাহলে সেটা চালিয়ে নেওয়ার জন্যে কিছু প্রমাণ সাইজ ঢিল বিভিন্ন জায়গায় জমা করে রাখা হল। রেবেকা তার দায়িত্বে আছে, অন্ধকার থেকে মাস্তান দুটির দিকে ঢিল ছুঁড়ে দরকার হলে তাদেরকে কাবু করে দিতে হবে।

    পরিকল্পনার খুঁটিনাটি কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখে নেবার পর তারা উঠে দাঁড়ায়। নিজের নিজের কাজে রওনা দেবার আগে হঠাৎ রুনু ফিস ফিস করে বলল, রেবেকা, আমাদের বুকে ফুঁ দিয়ে দিবি না?

    রেবেকা তখন আবার তিনবার কুলহু আল্লাহ পড়ে সবার বুকে ফুঁ দিয়ে দিল।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়ে যায়। নিতু আর তানিয়া গুড়ি মেরে গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ঠিক একই সময়ে রুনু ঝুন আর মিতুল রাস্তার পাশে দিয়ে বেশ খানিকটা সামনে এগিয়ে গেল। রেবেকা তার জায়গায় বসে বড় বড় ঢিল সংগ্রহ করতে শুরু করে।

    মিনিট খানেক পর পরিকল্পনার ঠিক প্রথম অংশ টুকু কাজে লাগানো হল। গাছ পালা টাকা থমথমে নির্জন জায়গাটায় হঠাৎ একটা অশরীরি কণ্ঠ শোনা যায়, কাতর গলায় সেটি আর্তনাদ করে কাকে যেন ডাকছে, কণ্ঠস্বরটি মানুষের নয়, মানুষের কণ্ঠস্বরে এরকম ব্যাকুল কান্নার মতো দুঃখ থাকতে পারে না। গাছের আড়ালে বসে মিতুল এভাবে ডাকছে জানার পরও নিতুর সারা শরীর কেমন যেন শিউরে উঠে।

    গাড়ির বনেটে বসে থাকা মাস্তান দুটি লাফিয়ে উঠে একজন আরেকজনকে প্রায় জড়িয়ে ধরল। কাচু বড় বড় নিশ্বাস ফেলে বলল, ওইটা কীসের শব্দ?

    পা-পা- পাখি নিশ্চয়ই।

    পাখি কি মা-মা মানুষের মতো ডাকে?

    ওস্তাদ ভয় পাওয়া গলায় বলল, তা হলে কী?

    রা-রা-রাত্রে বেলা নাম নিতে চাই না ওস্তাদ।

    ঠিক এ রকম সময় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেবেকা ছোট একটা ঢিল ছুঁড়ে মারল, গাড়ির দরজায় লেগে সেটা তীক্ষ্ম একটা ধাতব শব্দ করে উঠল আর সাথে সাথে মানুষ দুইজন আবার ভীষণভাবে চমকে উঠে। কাচু শুকনো গলায় বলল, এইটা কীসের শব্দ ওস্তাদ? মনে হল কেউ ঢিল মেরেছে?

    ঢিল? ঢিল এখানে কে মারবে?

    তাহলে? কাচু কাঁদো গলায় বলল, এখানে কী হচ্ছে ওস্তাদ?

    যখন মাস্তান দুজনকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে ঠিক তখনই দুই পাশ থেকে নিতু আর তানিয়া গুড়ি মেরে গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর একটু হলেই তারা গাড়ির নিচে লুকিয়ে যেতে পারবে।

    পরিকল্পনা অনুসারে তখন সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশটা করা শুরু হল। মাস্তান দুজন তখন অবাক হয়ে দেখল গভীর জঙ্গলের ভেতর থেকে ফুটফুটে একটা মেয়ে বের হয়ে এসেছে। মেয়েটা যেন এ জগতের বাসিন্দা নয়, কোনো কিছুতে তার কোনো কৌতূহল নেই, খুব ধীরে পায়ে সে হেঁটে হেঁটে মাস্তান দুটির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।

    মাস্তান দুজন প্রথম রুনুকে দেখে আতংকে প্রায় চিৎকার করে উঠছিল, অনেক কষ্ট করে নিজেদেরকে সামলে নেয়। রুনু ধীরে পায়ে হেঁটে হেঁটে তাদের কাছে এগয়ে আসে। নিতু আর তানিয়া গাড়ির কাছে চলে এসেছে, মাস্তান দুটিকে ব্যস্ত রাখতে পারলে তারা গাড়ির নিচে ঢুকে যেতে পারবে। রুনু হেঁটে হেঁটে গাড়ির কাছাকাছি আসার সময়টুকুতে দুজন গাড়ির নিচে ঢুকে গেল।

    রুনু হেঁটে হেঁটে মাস্তানদের কাছে এসে তাদের দিকে তাকিয়ে অশরীরি এক ধরনের গলায় বলল, আমার মা কে দেখেছ? মা? দেখ নাই, না? শুনলাম আমাকে ডাকল ব-কু-ল ব-কু-ল করে। কোথায় গেল আমার মা?

    মানুষ গুলিকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে রুনু অবাস্তব অশরীরি এক ধরনের ভঙ্গি করে জঙ্গলের দিকে হেঁটে যেতে থাকে। ঠিক একই সময় রুনু জঙ্গলের যে অংশ থেকে বের হয়ে এসেছে ঠিক সেই অংশ থেকে ঝুনু বের হয়ে এল ঠিক আগের মতো।

    কাচু নামের মাস্তানটা শুকনো গলায় বলল, ঐ টা কে, ওস্তাদ?

    ওস্তাদ মুখ খিচিয়ে বলল? আমি কেমন করে বলব?

    না মানে বলছিলাম কী-ইয়ে–বলে সে থেমে গেল, যে জিনিসটা বলতে চাইছে সেটা বলতে তার সাহস হল না।

    ঝুনু ঠিক রুনুর মতো এগিয়ে আসছে এবং রুনুও তখনো পুরোপুরি চলে যায় নি। মাস্তান দুজন এক সাথে দুইজনকেই দেখতে পাচ্ছে। ঝুনু যখন হেঁটে হেঁটে মাস্তান দুইজনের কাছে এল তখন রুনু হেঁটে যাচ্ছে। মাস্তান দুজন বিস্ফোরিত চোখে একবার রুনুর দিকে তাকাল আরেকবার ঝুনুর দিকে তাকাল। ঝুনু অশরীরি গলায় বলল, তোমরা আমার মাকে দেখেছ? দেখ নাই? শোন নাই আমার মা ডাকছে ব-কু-ল? শোন নাই? কোথায় যে গেল মা, আর খুঁজে পাই না।

    রুনু যতক্ষণ কথা বলছিল সেই সময়টাতে ঝুনু জঙ্গলে ঢুকে পড়ল। ঝুনু খুব আস্তে আস্তে হাঁটবে আর সেই সময়টার মাঝে রুনু আবার বের হয়ে আসবে, মাস্তানগুলি দেখবে একই জায়গা থেকে আবার একই মানুষ বের হয়ে আসছে।

    ঝুনু যখন খুব ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে তখন মাস্তান গুলি সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন যেন শিউরে উঠল। কাচু মাস্তান বলল, দে-দে-দেখেছেন?

    হ্যাঁ।

    দেখতে এক রকম। এ-এ-এ-কে বারে এক রকম।

    ওস্তাদ শুকনো গলায় বলল, আসলে অন্ধকার তো এই জন্যে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। ম-ম-মনে এ-এ-হচ্ছে এক রকম।

    না ওস্তাদ! হুবহু এক রকম। জামা কাপড় চেহারা গলায় স্বর সব কিছু একরকম।

    কাচু মাস্তানের কথা শেষ হবার আগেই জঙ্গলের ভেতর থেকে রুনু বের হয়ে এল। মাস্তান দুজন একবার বুনুর দিকে তাকাল আবার রুনুর দিকে তাকাল। রুনু খুব অশরীরি ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছে আর ঝুনু অশরীরি ভঙ্গিতে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। ঝুনু মাস্তান দুইজনের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,  আমার মাকে দেখেছ তোমরা? খুঁজে পাচ্ছি না আমি। মনে হল শোনলাম ডাকছে ব-কু-ল কিন্তু গিয়ে দেখি নেই। কোথায় যে গেল আমার মা।

    ঠিক তখন জঙ্গলের ভেতর থেকে কে যেন অশরীরী গলায় কেঁদে উঠল, কাতর, গলায় ডাকল, ব-কু-উ-উ-উ-ল।

    রুনু সেদিকে তাকিয়ে বলল, ঐ যে ডাকছে আমার মা। যাই মায়ের কাছে।

    রুনু কিন্তু খুব ব্যস্ততা দেখায় না, অশরীরী প্রাণীর জীবনে কোনো ব্যস্ততা নেই কোনো তাড়াহুড়া নেই জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ঝুনুকে তার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়ার সময় দিতে হবে সেটা হচ্ছে বড় কথা। এবং ঠিক পরিকল্পনা মতো আবার ঝুনু বের হয়ে এসে মাস্তান দুটিকে জিজ্ঞেস করল, তোমরা দেখেছো আমার মাকে কোথায় গেছে আমার মা আমাকে ডাকছে ব-কু-ল- বকুল কিন্তু আমি তো খুঁজে পাচ্ছি না।

    মাস্তান দুটি বিস্ফোরিক চোখে দেখে জংগলের একই জায়গা থেকে একজনের পর একজন মেয়ে বের হয়ে আসছে সবাই দেখতে হুবহু একরকম!

    কাচু মাস্তান এবারে পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ল, ভাঙ্গা গলায় বলল, দেখেছেন ওস্তাদ? চারবার এক মানুষ এসেছে? দেখেছেন?

    ওস্তাদ চাপা গলায় বলল, আরো আসছে।

    ওস্তাদ।

    কী হল?

    কী হবে এখন?

    আয়তুল কুরসী পড় হারামজাদা।

    জানি না।

    তাহলে কলমা পড়।

    একটা সমস্যা হয়ে গেছে।

    কী সমস্যা?

    না-পাক হয়ে গেছি ওস্তাদ। ভয়ের চোটে পেশাব হয়ে গেছে।

    হারামজাদা, দূরে সরে বস। ওস্তাদ একটা ধমক দিয়ে বলল, কাঁটা রাইফেলটা ল, দেখি জিন পরীরে দূর করা যায় কী না।

    কাঁটা রাইফেল নিতে গিয়ে কাচু মাস্তান বেকুব হয়ে গেল। তার স্পষ্ট মনে আছে গাড়ির ছাদে রেখেছিল, সেখানে কিছু নেই। সে মিছেই ছাদে হাত বুলায়, কোথায় কিছু নেই। ভূত নয় এবারে অন্য একটা ভয় তাকে চেপে বসে। ভাঙ্গা গলায় সে ডাকল, ওস্তাদ!

    কী হল?

    কাঁটা রাইফেল আর রড গায়েব।

    কী বললি? ওস্তাদ বনেট থেকে লাফিয়ে নেমে আসে, কী বললি হারামজাদা?

    বলছি যে অস্ত্রপাতি গায়েব।

    গায়েব? ওস্তাদ কাচুর মাথায় প্রচণ্ড জোরে একটা চাটি মেরে বলল,  গায়েব মানে কী?

    গায়েব মানে গায়েব। কাচু ইংরেজিতে চেষ্টা করল, ভ্যানিশ

    রংবাজির জায়গা পাস না? অস্ত্র গায়েব। তুই জানিস এইটা কার অস্ত্র আমরা ভারা এনেছি?

    আমি কী করব ওস্তাদ, জিন পরীর সাথে আমি কী করব?

    জিন পরীর আর কাজ নাই তোর অস্ত্রপাতি নিয়ে যাবে?

    নিয়ে তো গেল ওস্তাদ-আপনি নিজেই দেখলেন।

    খোঁজ ভালো করে ছাগলের বাচ্চা। তোর মতো গরু গাধাকে নিয়ে অপারেশনে আসাই ভুল হয়েছে।

    মাস্তান দুজন যখন গাড়ির ভিতরে তাদের কাঁটা রাইফেল আর লোহার রড় খোজা খুঁজি করছে ঠিক তখন ছয়টি মেয়ে একত্র হয়েছে। এখন আর তাদের ভয় নেই, তারা ছয়জন এক সাথে, তাদের হাতে একটা কাঁটা রাইফেল, একটা লোহার রড় আর সবচেয়ে বড় কথা এত বড় মাস্তানদের বোকা বানিয়ে এখন তাদের সাহস বেড়ে গেছে একশ গুন।

    ঠিক এই সময় টুং টুং করে একটা রিকশার শব্দ হল। শান্তা আপা রিক্সা করে আসছেন।

    মাস্তান দুইজন সাথে সাথে তিড়িং করে লাফিয়ে উঠল। একজন আরেকজনের দিকে তাকাল তারপর সামনের দিকে তাকাল। ওস্তাদ কাচু মাস্তানের মাথায় প্রকান্তি আরেকটা চাটি লাগিয়ে চাপা গলায় বলল, অস্ত্র পরে খুঁজিস গাধা। এখন আয় অস্ত্র ছাড়াই শুরু করি।

    রিক্সাটা এগিয়ে আসতেই মাস্তান দুইজন পথ বন্ধ করে দাঁড়াল, ওস্তাদ মাস্তান গলা উঁচিয়ে বলল, এই রিক্সা থাম!

    রিক্সাওয়ালা বিপদের গন্ধ পেয়ে কোনোভাবে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কিন্তু পারল না, মাস্তান দুইজন রিক্সা থামিয়ে ফেলল। শান্তা আপা রিক্সার হুড ফেলে জিজ্ঞেস করলেন, কী হচ্ছে? কী হচ্ছে এখানে?

    ওস্তাদ মান্তান হুংকার দেয়ার চেষ্টা করে বলল,  চোপ।

    ততক্ষণে ছয়টি মেয়ে তাদের তিন দিকে থেকে ঘিরে ফেলেছে। নিতুর হাতে কাঁটা রাইফেল, মিতুলের হাতে লোহার রড়টা। অন্যদের হাতে প্রমাণ সাইজের চিল। তাদের পায়ের কাছে ব্যাগ, সেই ব্যাগে বোঝাই নানা সাইজের দিলে। নিতু হাতের কাঁটা রাইফেল তাক করে হুংকার দিয়ে বলল,  হ্যাণ্ডস আপ।

    মাস্তান দুইজন একসাথে চমকে উঠে। মাথা ঘুরিয়ে দেখতে চাইছিল তখন মিতুল হুংকার দিয়ে বলল, একটু নড়েছ তো গুলি করে খুলি ফুটো করে দেব।

    রেবেকা বলল, বিশ্বাস না করলে ঘোরানোর চেষ্টা করতে পার, একেবারে খুন হয়ে যাবে কিন্তু।।

    তানিয়া বলল, আগের বার তো ভয়ে পেশাব হয়ে গেছে এইবার বড় কাজটাও হয়ে যাবে।

    তানিয়ার কথা শুনে সবাই হি হি করে হেসে উঠল এবং হঠাৎ করে মাস্তান দুজন মনে হয় কী হচ্ছে একটু অনুমান করতে পারে। শান্তা আপা রিক্সায় হতচকিত হয়ে বসেছিলেন, এবারে প্রায় আর্ত চিৎকার করে বললেন, কী হচ্ছে এখানে, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    নিতু বলল, আপা, এরা আপনার পা ভেঙ্গে ফেলার জন্য এসেছিল।

    কী বলছ তোমরা?

    জি আপা। নিতু বলল, আপনার হাতে যদি জোর থাকে তাহলে কষে এই দুজন মানুষের গালে দুটি চড় লাগান। এরকম ফাজিল আর বেয়াদপ মানুষ খুব কম আছে।

    শান্তা আপা রিক্সা থেকে নেমে বললেন, আমি এখনো কিছু বুঝতে পারছি না–

    নিতু তখন রিক্সাওলালাকে বলল, রিক্সাওয়ালা ভাই তাহলে–

    নিতু তার কথা শেষ করার আগেই রিক্সাওয়ালা ছুটে এসে ওস্তাদ মাস্তানের গালে এমন জোরে চুড় বসালো যে সে একেবারে মুখে হাত দিয়ে বাবাগো বলে মাটিতে বসে গেল। নিতু ব্যস্ত হয়ে বলল, না, না—আপনাকে আমি চড় মারতে বলি নাই।

    আপনি বলেন নাই তো কী হইছে? আমার একটা দায়িত্ব আছে — বলে রিক্সাওয়ালা হাত ওপরে তুলে কাচু মাস্তানের দিকে এগিয়ে যেতেই সে একেবারে হাঁটু ভেঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রিক্সাওয়ালার পা ধরে ফেলল।

    থাক, থাক মারপিটের দরকার নেই বলে শান্তা আপা এগিয়ে এলেন, বললেন, এরা যদি আসলেই মাস্তান হয় তাহলে পুলিশের হাতে দিলেই হবে।

    আপা, নিতু বলল, এদেরকে আগে বেঁধে ফেলতে হবে। ভীষণ বদমাইস এরা। টাকা নিয়ে খুন খারাপ করে।

    রিক্সাওয়ালা ততক্ষণে তার কোমরের গামছা খুলে ওস্তাদকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেছে। ব্যাগের ভেতর থেকে একটা চাদর খুঁজে পাওয়া গেল, সেটা ছিঁড়ে পাকিয়ে দডির মতো করে কাচু মাস্তানকেও বাঁধা হল। তানিয়া মাথা নেড়ে বলল, এদের পা ও বেঁধে ফেলতে হবে।

    হ্যাঁ। আগে রিক্সায় তুইলা নেই, তারপর।

    গুড আইডিয়া। মিতুল মাথা নাড়ল, পা বাঁধা থাকলে রিক্সা থেকে লাফিয়ে আর পালিয়ে যেতে পারবে না।

    একেবারে পুরোপুরি ভড়কে যাওয়া মাস্তান দুইটি বিস্ফোরিত চোখে সবার দিকে তাকিয়ে ছিল, এখনো তারা বিশ্বাস করতে পারছে না কী ঘটছে।

    রিক্সাওয়ালা যখন শক্ত করে মাস্তান দুটিকে বাঁধছে তখন শান্তা আপা বললেন, এখন আমাকে বল, কী হচ্ছে?

    বিশাল স্টোরি আপা! রুনু দাঁত বের করে হেসে বলল, বলতে এক মাস লাগবে।

    লাগুক।

    নিতু জিজ্ঞেস করল, সংক্ষেপে বলব?

    বল।

    বেগম জোহরা কামালের সব কাগজপত্র খুঁজে পেয়েছি আমরা।

    কী বললে? শান্তা আপা চিৎকার করে বললেন, কী বললে?

    হ্যাঁ আপা। আপনার ঘরেই ছিল। ঐ সিক্রেট ধাপটার মাঝে! সব কিছু আছে। স্কুলের দলিল। স্কুলের পরিকল্পনা, সব।

    কী আশ্চর্য! শান্তা আপা অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকালেন, বললেন,  তোমরা খুঁজে পেয়ে গেছ! তার মানে কী জান? তার মানে হচ্ছে আর কেউ কখনো তোমাদের জ্বালাতন করতে পারবে না!

    না আপা, পারবে না।

    কী আশ্চর্য, আমি সারা দুনিয়া চষে ফেলছি, আর তোমরা কী না—

    আপা।

    কী হল?

    চলেন স্কুলে যাই। সব মেয়েরা কী ভয়ে ভয়ে আছে, তাদেরকে গিয়ে সব কিছু বলি। সাহস দিই।

    চল। হেঁটে যেতে পারবে তো?

    কী বলেন আপা, আমরা এর মাঝে কী কী করেছি শুনলে আপনার হার্টফেল হয়ে যাবে।

    শান্তা আপা মাথা নাড়লেন, বললেন, মনে হচ্ছে তোমরা ঠিকই বলছ, সত্যি হার্টফেল হয়ে যাবে।

    কিছুক্ষণের মাঝেই ছোট দলটি রওনা দিল। প্রথমে রিক্সায় আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা দুই মাস্তান। তার পিছনে ছয়জনের ছোট দল এবং সবার শেষে শান্তা আপা। কাঁটা রাইফেল থেকে বুলেট বের করে নেয়া হয়েছে এবং সেই একেকবার একেকজন ঘাড়ে করে নিচ্ছে। স্কুলের কাছাকাছি এসে ওরা ছোট খাট শ্লোগান দেয়া শুরু করল, হায় হায় এ কী হল? শান্তা আপা ফিরে এল কিংবা গুণ্ডা মাস্তান কান্দে—দড়ি দিয়া বান্ধে) ইলেকট্রিক শক খাওয়া খাড়া খাড়া চুল দাড়ি ওয়ালা দারোয়ান প্রথমে স্কুলের গেট খুলতে দারোয়ান রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু মেয়েদের হাতে কাঁটা রাইফেল দেখে আর আপত্তি করল না।

    স্কুলের সীমানার ভিতরে ঢুকে, হবে হবে জয়, নাই ভয় নাই ভয় গাইতে গাইতে দলটি খোরাসানী ম্যাডামের বাসার দিকে যেতে থাকে। তাদের গান শুনে হোস্টেলের সব মেয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। গেটে তালা লাগানো না থাকলে নিশ্চয়ই সবাই এতক্ষণ ছুটে আসত।

    খোরাসানী ম্যাডামের বাসায় যাবার আগেই দেখা গেল সে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, কপালে কাছে একটা অংশ ফুলে গিয়ে বাম চোখটা প্রায় বুজে গিয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব বেকায়দা ভাবে সে একটা আছাড় খেয়েছে, ঘরের মেঝেতে তেল ঢেলে রাখার কারণেই হয়ে সম্ভবত কিন্তু এখন সেটা জানার কোনো উপায় নাই। খোরাসানী ম্যাডাম এই ছোট দলটি দেখে একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে গেল।

    শান্তা আপা এগিয়ে গিয়ে বললেন, আপনি তো আমাকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন এই স্কুলে তো আমার আসা উচিত না। তবু চলে এলাম। তিনটা খুব জরুরি কাজ পড়ে গেল কি না।

    খোরাসানী ম্যাডাম কোনো কথা না বলে রক্তচক্ষু করে শান্তা আপার দিকে তাকিয়ে রইল। শান্তা আপা হাসি হাসি মুখে বললেন,  প্রথম কাজটা হচ্ছে একটা টেলিফোন করতে হবে পুলিশের কাছে। রাস্তা থেকে দুইটা মাস্তান ধরে এনেছি, অস্ত্রপাতি সহ। আসলে আপনার স্কুলের মেয়েরাই ধরেছে আমি শুধু সাথে ছিলাম। গুণ্ডা বদমাইস বাইরে থাকা ঠিক না।

    আর দুই নম্বর কাজটা হচ্ছে একটা রিসিট নিয়ে। এই মাস্তান দুইজন নাকি আপনার কাছ থেকে এক হাজার টাকা এডভান্স নিয়েছে কিন্তু কোনো রিসিট দেয় নাই। কী অন্যায়। কী অন্যায়! রিসিট না দিয়ে এক হাজার টাকা নিয়ে গেল? এক্ষুনি একটা রিসিট লিখিয়ে নেন।

    তিন নম্বর কাজটা আসলে ঠিক কাজ না– শান্তা আপা ইতস্তত করে বললেন, তিন নম্বর কাজটা একটা প্রশ্ন। আপনি কী মোটা চালের ভাত খেতে পারেন?

    খোরাসানী ম্যাডাম নাক দিয়ে ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করল, কী?

    আপনি কি মোটা চালের ভাত খেতে পারেন? শুনেছি জেলখানায় নাকি শুধু মোটা চালের ভাত দেয়। আমরা বেগম জোহরা কামালের ফাইলটা খুঁজে পেয়েছি কি না—

    শান্তা আপা কথা শেষ করার আগেই হঠাৎ খোরাসানী ম্যাডাম আঁ আঁ শব্দ করে, তবে রে শয়তানী বলে চিৎকার করে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে একটা চলন্ত ট্রাকের মতো শান্তা আপার দিকে ছুটে এল, দরজার কাছাকাছি এসে বাঘ যেভাবে লাফ দেয় সেভাবে শান্তা আপার ওপর লাফিয়ে পড়ল। শান্তা আপা মনে হয় প্রস্তুত ছিলেন, শুধু বাম দিকে একটু সরে গেলেন আর খোরাসানী ম্যাডাম প্রচণ্ড শব্দ করে ঘরবাড়ি কাঁপিয়ে মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ল। সেই অবস্থায় মাথাটা একবার তুলে শেষে একটা হুংকার দিয়ে নেতিয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

    রিক্সাওয়ালা এগিয়ে এসে বলল, ইয়া মাবুদ! এইটা তো দশমনী লাশ! কোরবানীর গরু হলে ষাট হাজার টাকার এক পয়সা কমে কেউ গাবতলীর বাজার থেকে কিনতে পারত না।

    এরকম অমার্জিত রূট একটা কথায় কিছুতেই ছাত্রীদের সামনে হাসবেন না ঠিক করেও শান্তা আপা হঠাৎ হি হি করে হেসে ফেললেন -তখন হাসতে হাসতে অন্য সবার যা একটা অবস্থা হল সে আর বলার মতো নয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৃষ্টির ঠিকানা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article দীপু নাম্বার টু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }