Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিতু বলছি – তৌহিদুর রহমান

    তৌহিদুর রহমান এক পাতা গল্প93 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিতু বলছি – ২

    ২

    শোনো তাহলে, যা বলছিলাম। ‘এ-ভি’ অর্থাৎ অডিও ভিজুয়্যাল প্রোডাকশনের প্রথম শব্দই হল কাট্। কাট্ ফর অ্যাকশন, কাট্ ফর রি- অ্যাকশন, কাট্ ফর মোটিভেশন-পপুলারাইজেশন-কম্প্রেশন, অ্যান্ড কাট্ ফর কনটিনিউটি। ফিল্ম লাইনে আসতে হলে প্রথমে যা শিখতে হবে, তা হল কাট্ করা।

    আমি মনে মনে বললাম।

    কাট্। কাট্ ফর ক্লোজড্। কাট্ ফর ক্লোজ ইয়োর ভ্যাজর ভ্যাজর।

    আমরা বসে আছি বিশিষ্ট প্রযোজক, পরিচালক ও নাট্যকার জনাব ফাহাদ বিন ফারুকের নিজস্ব স্টুডিওতে। আরো কাট্ করে বলতে হলে, খাস কামরায়।

    রাফিয়া বারবার উস্ করছে। নিজের জন্য নয়। আমার জন্য। কারণ ঘড়িতে এখন বারোটা পঞ্চান্ন। যথারীতি আমার হাল তেরোটা। সময়ের হিসাবে বাসায় ফেরার বাকি আছে আর মাত্র চার মিনিট।

    আমরা এসেছি সকাল নয়টা চল্লিশে। ভদ্রলোক নিজে আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছেন। ‘দশটা থেকে দশটা ত্রিশ, রাইট টাইম, নো লেইট।’ অথচ তিনি স্টুডিওতে এসে পৌঁছেছেন এগারোটা পঁয়তাল্লিশে। এসেই ঢুকেছেন এডিটিং রুমে। সেখানে আধা ঘণ্টা।

    এর মধ্যে ভদ্রলোকের মোবাইলে কল দিতে দিতে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেছে রাফিয়া। সেটাও আমার জন্য। কারণ দুপুর একটা আমার লাস্ট টাইম। অর্থাৎ জুম্মা’র নামাজের আগেই বাসায় ফিরতে হবে।

    এমনিতেই বদনা স্যারের প্রাইভেট ফাঁকি দিয়ে এখানে এসেছি। অনেককে ম্যানেজ করে। অনেক গোপনে। কাউকে না-জানিয়ে। শুধু মা’কে বলা হয়েছে, একটু দেরি হবে। স্যার ইম্পর্টেন্ট নোট দেবেন আজ। অথচ এখানে ডিরেক্টর সাহেবের ইম্পর্টেন্ট সময় থেকে আমাদের জন্য সময় বরাদ্দ শুরু হয়েছে দুপুর বারোটা বত্রিশে। তার একান্ত ব্যক্তিগত খাস-কামরায়।

    দীর্ঘ দু’ঘণ্টা বত্রিশ মিনিট বসিয়ে রাখা! নিজে ডেকে এনে স্ব-কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া! অথবা মোবাইলে মিস্ড কলের বন্যা বইয়ে দেয়া! এতকিছুর পরও একবারের জন্য স্যরি কিংবা অন্য কোনো অ্যাপোলজি ওয়ার্ড ব্যবহার করেননি তিনি। সম্ভবত মিডিয়া লাইনে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এই লাইনে প্রডিউসার-ডিরেক্টরদের দেবতা সমতুল্য সম্মান দেয়া হয়। সুতরাং দেবতার দর্শনে বিলম্ব, ভক্তের সাধনা সিদ্ধিরই অংশবিশেষ। অন্যথায় অভিশাপ দিলেই জীবন ধূলিসাৎ ধ্বংস।

    .

    স্বীয় কামরায় প্রবেশ করে, অঙ্গুলি হেলনের ইশারায় আমাদের বসতে বলে, প্রথম যে কৃতার্থ বাক্যটি ডিরেক্টর সাহেব ব্যবহার করেছেন, তা হল– আউট অফ ইউ, হু ইজ রাফিয়া?

    রাফিয়া শ্রেণিকক্ষে অনুগত ছাত্রীর মতো এক হাত উপরে তুলেছে।

    তিনি আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে দৃষ্টি নিবন্ধন করেছেন রাফিয়া বরাবর। ফিল্ম লাইনের ভাষায় সম্ভবত এর নাম জাম্পকাট অ্যান্ড জুম টু রাফিয়া। অর্থাৎ ‘কাট্ ফর মোটিভেশন’।

    তুমি সোবহান সাহেবের মেয়ে?

    অন্য কেউ হলে রাফিয়া নিশ্চয়ই এতক্ষণে বলে বসত তার নিজস্ব ভঙ্গিমায়।

    কেন, সন্দেহ আছে? বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে?

    কিন্তু আজ যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে সে। সেই শুরু থেকেই।

    ঠাণ্ডা মাথায় একমগ তিতা ব্ল্যাক-কফি গিলেছে। দু’টো ড্যাম বিস্কিট সাথে হজম করেছে ফিল্ম, ইয়াং জেনারেশন, প্রি-প্রোডাকশন প্রিপারেশন, বাজেট ইত্যাদি নিয়ে ভ্যাজর ভ্যাজর বক্তব্য। তা-ও আবার হাসিমুখে!

    কিন্তু এই মুহূর্তে কেন যেন একটু উত্তেজিত মনে হচ্ছে ওকে। ডিরেক্টর সাহেবের কাট্ লেকচারের পরপরই আবারও এক হাত উপরে তুলল রাফিয়া।

    ভদ্রলোকও যথারীতি অভিজ্ঞ শিক্ষকের মতো ইশারায় হাত নামাতে বললেন ওকে।

    নিজের মনমতো কথা বলতে বলতে সাইড ড্রয়ার থেকে বের করলেন ইয়াব্বড় সাইজের একটা বই। এরপর আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিলেন সেটা। এবং বলতে লাগলেন আগের ভঙ্গিমায়।

    বইটা পড়বে। দু’জনেই। মন দিয়ে। ইট ইজ কল্ড দ্যা বাইবেল অফ ফিল্ম মেকিং। এর পর যত বই লেখা হয়েছে, সব হল এটার কপি- পেস্ট।

    রাফিয়া কিছু একটা বলবার জন্য মুখ হা করতে যাচ্ছিল। আগের মতোই ভদ্রলোক ওর উত্তেজনাকর ভঙ্গিকে আবারও উপেক্ষার জন্য বলতে লাগলেন।

    ইয়েস্ ইয়াং গাইজ, তোমাদের কাজ এর পর থেকে শুরু। আমার ধানমন্ডির টিচিং সেন্টারটায় আগামী তিনমাস রেগুলার এস। শর্টকোর্সটা করিয়ে দেব।

    রাফিয়া অবশেষে মুখ খুলল। তবে অবাক ব্যাপার হল একদম শান্ত ভঙ্গিমায়।

    না, মানে, আমাদের একটু তাড়া ছিল। কোর্সের বিষয়গুলো একটু দ্রুততম সময়ের মধ্যে জানলে আমাদের ভালো হত। আই মিন, থ্রি মানস ইজ সো লং। সময়টা দ্রুত করা যায় কি?

    ভদ্রলোক এ দফায় হো হো করে হেসে উঠলেন 1

    ইটস্ দ্যা প্রবলেম ফর ইয়াং পিপলস্। সবকিছুতেই দ্রুততা। দ্রুত নাটকে চান্স পেতে চাই। দ্রুত নায়িকা হতে চাই। দ্রুত জনপ্রিয়তা চাই। আরে বাবা, সব কি ইন্টারনেট! চাইলেই স্পিড বাড়াও।

    না, মানে। ক্যামেরা, মনিটর, থার্মোকল, সানগান, সবকিছু আমাদের কেনা শেষ প্রায়। মোটামুটি একটা র’ স্টুডিও-সেট আপও দিয়ে ফেলেছি আমরা। আসলে আমরা একটা কম্পিটিশনে ফিল্ম জমা দেব তো!

    বলেই ফেঁসে গেল রাফিয়া। অনেকটা মায়ের কাছে মাসির গল্পের মতো অবস্থা।

    আমি মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। এখন যদি ভদ্রলোক জানতে চান, কী কম্পিটিশন? কী টাইপ ফিল্ম? কোথায় জমা? কার কাছে? তাহলে কী বলব! উনি তো আর এই লাইনে অবুঝ না। এটা ওনারই জগৎ। কতক্ষণ মিথ্যে বলা যাবে! তাছাড়া সবাই তো আর রেজা স্যার নন। মিথ্যে কথা ধরে ফেললেও, হাসিমুখে না-বোঝার ভান করবেন। মাফ করে দেবেন।

    কালকের ঘটনার কথাই ধরা যাক।

    উহ্! কী এক জানে বাঁচা বেঁচেছি দু’জন।

    .

    ঘটনাটা শুরু থেকে বলা যাক।

    আমার মতো রাফিয়ার মনেও ভয়ঙ্কর একটা ইচ্ছে ছিলো। রেজা স্যারকে চমক দেবার। ডামি চমক। অনেকটা ট্রায়াল অ্যান্ড ইরোর মেথড। স্যারের চারিত্রিক ট্রায়াল।

    বুদ্ধিমান পাঠকরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বাকিটা বুঝতে পারছেন। অর্থাৎ ডামি-টা কিসের! হুঁ। ঠিক ধরেছেন। আমাদের ফিল্মের ডামি শ্যুট। এ বিষয়ে রাফিয়া আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছিল। যথারীতি আমিও রাজি

    আমার রাজি হবার কারণ তিনটা।

    প্রথমটা একান্ত ব্যক্তিগত। বলব-না। পরে বলতে পারি।

    দ্বিতীয়টি বায়োলজিক্যাল। অর্থাৎ সিমবায়োসিস। একজন আরেকজনকে সাহায্য করা। কারণ রাফিয়া আমার ফিল্মের কো-আর্টিস্ট, কো-প্রডিউসার এবং ডাইরেক্টর। অর্থাৎ পুরো ফান্ড সে-ই জোগাড় করবে।

    ওর প্রস্তাবে রাজি হবার সর্বশেষ কারণটি হল অভিনয়-প্রতিভা প্রদর্শন। জ্ঞানের ডিব্বাকে, মিস্টার পিসকে আমি আমার অভিনয়-প্রতিভা দেখাতে চাই। যা দেখে ডিব্বা, সরাসরি ড্যাম্ব ব্লাস্ট হয়ে যায়। মানে ফুস্।

    এই যা! একটা গোপন কথা ফাঁস করে ফেলেছি।

    প্রত্যেকটা টিচারকে আমরা নিজেদের মধ্যে আমাদের দেয়া গোপন নামে ডাকি। ক্লাসের বাইরে। এমনকি ক্লাসের ভেতরেও। যেমন বদনা স্যার, শাক-চুন্নি মিস্, ওড়না স্যার, কালাপেত্নী মিস্, টু-কেজি মিস্। এসব প্রত্যেক নামের একটা বিচ্ছিরি ব্যাখ্যা আছে। যা আমরা কেউ মুখে বলতে পারব না। শুধু ‘কি-ওয়ার্ড’ বললেই বাকিরা বুঝে নেবে। হাসতে থাকবে। যেমন টু- কেজি মিসের অর্থ হল তার বড় বড়…।

    ধুত্তুরি! আবারও গোপন কথা বলে ফেলতে ধরেছিলাম।

    তবে সবসময় কিন্তু আমরা আজে-বাজে নামে স্যার-মিসদের ডাকি না। পড়া না-বুঝলে কিংবা বেশি বেশি হোমওয়ার্ক দিলে এইসব নাম বলি।

    যাক্। বলেই যেহেতু ফেলেছি, এখন থেকে পিসু বলেই বলব।

    এখন আসল কথায় ফিরে আসি। পিসুর শিক্ষা। মানে, ডামি চমক।

    তবে মনে রাখতে হবে, তাকে চমক দেবার কাজটা ডালিমকুমারের পাতালপুরীতে প্রবেশের চেয়েও কম কঠিন নয় কিন্তু। কারণ আমাদের অফিসের সব কয়টা সুন্দরী মিস্ পিসু বাবুকে ঘিরে রাখে সর্বক্ষণ। এটা-সেটা বিষয়ে মিটিং-সিটিং চলতেই থাকে ওনার রুমে। তার ওপর শাক-চুন্নি আর কালাপেত্নী দুইজন তো আছেই। এরা হল স্যারের বডিগার্ড। আমাদের এডমিন আর ভাইস প্রিন্সিপাল মিস। এই নামদুটোও অবশ্য রাফিয়ার দেয়া। কিন্তু বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ওনাদের আসল নামে এখন আর কেউ চেনে-না স্কুলে।

    রেজা স্যারের অন্দরমহলে অর্থাৎ খাস কামরায় ছাত্রীদের যেতে হলে অফিসিয়াল পারমিশন লাগে দুইটা। প্রথমটা অ্যাকিউট রিজন পেপার। আর দ্বিতীয়টা হল অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ। তার ওপর আবার সিসি ক্যামেরা পার হতে হয় তিন-তিনটা। প্রতি পদে পদে রাক্ষস, খোক্ষস আর ডাইনি বুড়ির যাদুমন্ত্র ঘেরা দুর্গম অরণ্য।

    সো হোয়াট! হু কেয়ারস্! তাই বলে আমরাও থেমে ছিলাম না পরিকল্পনায়। শিল্পী মানেই আত্মাহুতি। হেমিংওয়ে, গিলেপি, ভ্যানগগ, ক্রিস্টোফার-উড জীবন পর্যন্ত দিয়েছিলেন। আর আমরা তো নগণ্য নিতু রাফিয়া। জ্ঞানী পিসকে জ্ঞানভাণ্ডার দেখাকেই দেখাব।

    .

    রাফিয়ার তথ্য অনুসারে চমক দেখানোর কাজটা করার কথা ছিল যে কোনো বৃহস্পতিবার।

    বৃহস্পতিবার না-কি ওর জন্য লাকি ডে। ওর জন্ম ওইদিনে। ও না- কি কোন হরস্কোপে দেখছে, বার্থডে ইজ দ্যা লাকি ডে ফর এভরিওয়ান। আমার ধারণা কথাটা মিথ্যে। কারণ রাফিয়া আর মিথ্যা, একে অন্যের পরিপূরক।

    তারপরও আমি বৃহস্পতিবারকে সঠিক দিন মানতে রাজি। কারণ ওই দিন অফিসে শাকচুন্নি থাকে-না। অর্থাৎ অ্যাডমিনে একজন মিস কম থাকেন। ব্যাংকিং ও আউটার ওয়ার্ক করেন। আর আমাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, স্যারের অতিপ্রিয় বডিগার্ড, জনাবা কালাপেত্নী মুখখানা অতিশয় কালীরূপ ধারণ করে খড়গ হাতে একাই সামলান একাডেমি।

    ঘটনার সময় অবশ্য ইলেকট্রিসিটি থাকা যাবে না। এতে বহুবিধ সুবিধা। একদিকে জেনারেটর চলবে। এবং মৃদু শব্দ থাকবে পুরো একাডেমি জুড়ে। অন্যদিকে বডিগার্ড কালাপেত্নী, ক্লাস তদারকিতে ব্যস্ত থাকবেন। কারণ কোনো সিসি ক্যামেরা অ্যাডাপটার লাইন পাবে না। তার ওপর সবচেয়ে বিগ অ্যাডভান্টেজ হল, এসি বন্ধ থাকবে। এসি বন্ধ থাকলে পিসুর মাথা অটোমেটিক হ্যাং করে। স্যার এমনিতেই ঘামতে থাকেন। সে অবস্থায় এমন দৃশ্যে তার হাল কী হবে, কে জানে!

    ডামি শটে রাফিয়া কী কী করবে, তার পুরো ট্রায়াল দেয়া হয়েছিল।

    একবার না। তিন তিন বার। জামা পড়ে। জামা খুলে। অর্ধনগ্ন বুকে টেবিলে ঝুঁকে। মোবাইলের ক্যামেরায় রেকর্ডও করা ছিল সেসব। নিজের ডায়ালগ, নিজের অ্যাকটিং এবং সময়মতো এডিটিং সব একে একে চেক করেছিল রাফিয়া। সো, সি ওয়াজ পারফেক্ট রেডি।

    আমি অবশ্য আমার অংশটা ট্রায়াল দেইনি সেভাবে। শুধু ডায়ালগগুলো প্র্যাকটিস করেছিলাম। তা-ও ক্যামেরায় না। একা একা। বাথরুমে। আয়নার সামনে। কারণ আমি জানি, আই হ্যাভ মাই কনফিডেন্স ওনার সামনে বুক কেন, সর্বস্ব শরীর খুলে দাঁড়াতেও আমার বিন্দুমাত্র হাত- পা কাঁপবে না। কোনো ডায়ালগ এদিক-ওদিক হবে না। শুধু, শুধু যদি উনি একবার…

    না থাক। সে কথা এখন বলব না। কারণ বড়দের সব কথা যেমন ছোটদের শুনতে নেই। ছোটদের সব ইচ্ছেও তেমন বড়দের জানতে নেই। এতে বড়দের কষ্ট বাড়ে।

    আচ্ছা, বড়রা কেন ভাবে, ছোটরা জীবন নিয়ে কিছুই বোঝে না! তাদের কষ্ট শুধু ঘুম, খাওয়া আর লেখাপড়াতেই সীমাবদ্ধ! স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসার মতো জটিল কষ্টে কি তারাও নিত্যদিন কষ্ট পায় না?

    .

    এবার মূল ঘটনায় আসি।

    গতকাল ছিল বৃহস্পতিবার।

    রাফিয়ার ভাগ্য গণনায় লাকি-ডে। লাকও ফেভার করেছিল দুপুর বারোটা নাগাদ। যেই ফোর্থ পিরিয়ড বেল পড়ল, অমনি বিদ্যুৎ চলে গেল। যথারীতি সবাই ব্যস্ত ক্লাস সামলাতে আর স্টুডেন্ট ম্যানেজমেন্টে। এই ফাঁকে আমি আর রাফিয়া ঢুকে পড়লাম প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে।

    শুরুতেই মোবাইল অন করে রাখার কথা ছিল রাফিয়ার। কিন্তু টেনশনে ভুলে গেছে সে।

    যাই হোক, স্যার তখন ক্লাস শেষে কেবল নিজের রুমে ফিরেছেন মাত্র। বিদ্যুৎ না থাকায় হাল্‌কা হাল্‌কা ঘামছেন।

    শুরুটা করলাম আমি।

    স্যার, রাফিয়া আপনাকে একটা ইম্‌পর্টেন্ট ম্যাথ দেখাতে চায়।

    রাফিয়ার একহাতে ম্যাথস্ কপি। অন্যহাতে গোপন মোবাইল ফোন। সে মোটামুটি রোবট স্টাইলে দাঁড়ানো।

    মূল স্ক্রিপ্টে এই জায়গায় রাফিয়া এগিয়ে যাবে স্যারের টেবিলের বাঁ- পাশে। ঠিক চেয়ারে বসবার এন্ট্রি কর্নার বরাবর। এবং যথারীতি একটু ঝুঁকে পড়বে টেবিলের উপর।

    কেন ঝুঁকবে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারা যাচ্ছে!

    হুক আগেই খোলা আছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যা অনুসারে। সুতরাং উদ্দেশ্য অনুযায়ী আমাদের পিস স্যারের চোখ জায়গামতো পড়তে হবেই হবে।

    বাস্তবে ঘটনাটা ঘটল উল্টোভাবে।

    আমাদের রোবট অভিনেত্রী ‘ফ্রিদা’ সিনেমার সালমা হায়েকের মতো কাঁপা কাঁপা হাতে টেবিলের উপর খাতাটা রাখল। এরপর একহাতে ভর দিয়ে, সামনের বদলে, ভয়ে কুঁচকে ঝুঁকে পড়ল পেছনে। মোটামুটি যায় যায় অবস্থা। দেখে মনে হবে পেছন থেকে কেউ বুঝি বাঁশের খুঁটি দিয়ে হেলান দিয়ে রেখেছে টেবিলে আটকে রাখার জন্য।

    স্যার, সেদিকে না-তাকিয়ে চায়ের মগে চুমুক দিয়ে বললেন, ক্লাসে দেখিও। রবিবারেই তো ম্যাথস ক্লাস আমার।

    আমি দুঃসাহসী অড্রে হেপবার্নের মতো আগ বাড়িয়ে বলতে লাগলাম।

    স্যার, এটা আসলে গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য। তাই ক্লাসে যদি ডিসটার্ব হয়…

    বলেই সেই ‘রোমান হলিডে’ সিনেমার বিখ্যাত অবুঝ হাসিখানা সারা চোখে-মুখে ছড়ালাম।

    ম্যানুস্ক্রিপ্টের বর্ণনায় ক্যামেরা এবারে রাফিয়ার দিকে মুভ করবে।

    তাই পাক্কা অভিনেত্রীর মতো, আমি চোখ দিলাম খাতা থেকে ওর মুখ বরাবর। যেন স্যারও ‘অডিয়েন্স লুক’ দেন সেই দিকে। জায়গামতো।

    .

    ও মাই গড! রাফিয়া কাঁপছে। রীতিমতো থর থর করে। ওর যে মৃগীরোগ আছে, এটা আমি প্রথম আবিস্কার করলাম।

    স্যার কোনোকিছু খেয়াল না-করেই বলতে লাগলেন।

    ঠিক আছে, নিয়েই যেহেতু এসেছ, দাও দেখি ম্যাথটা।

    স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী এখন ওর ভিন্ন একটা পৃষ্ঠা ভুল করে বার করবার কথা। যেখানে লেখা থাকবে, ‘ফিল্ম: লাভ ইউ ওল্ড জিপসি ম্যান। প্ল্যানিং ওয়ান। শুভ মহরত অনুষ্ঠান। ইনঅগুরেশন করবেন, বিখ্যাত জ্ঞানতাপস জনাব রেজাউর রহমান, পি.এইচ.ডি, এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউ.এস.এ। ডিরেক্টেড বাই মাসুমা নিতু। প্রডিউসড অ্যান্ড প্রেজেন্টেড বাই আর.এন ফিল্মস্।

    স্যার খাতা বরাবর দৃষ্টি দিতেই, আমি সর্বশেষ চোখের ইঙ্গিত দিলাম।

    রাফিয়া প্লিজ, সুইচ অন দ্যা ক্যামেরা। নাউ। অ্যাটলি-ই-স্ট!

    .

    একহাতে মোবাইলের ক্যামেরা অন করতে গিয়েই ঘটল বিপর্যয়

    ঠাস্ করে হাত থেকে পড়ে গেল ক্যামেরাটা। খাতাটাও কাঁপতে কাঁপতে নিচে। যথারীতি রাফিয়ার অবস্থা মাথা-চক্কর।

    তা-ও যদি বুদ্ধি করে স্যারের উপর পড়ত! মানা যেত। বুঝতাম শেষরক্ষা হয়েছে। কারণ, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বশেষ দৃশ্যে স্যারকে জড়িয়ে ধরে রাফিয়ার বলার কথা, ‘থ্যাংক ইউ স্যার। থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ সো মাচ। আপনি আসবেন, এটা আমরা জানতাম। আপনাকে ছাড়া এটা অসম্ভব স্যার’।

    সেই চিরায়ত ফিল্মি অবস্থায় লুইচ্চা পিসু রাফিয়ার চিকা চিকানিতে কেমন করে, সেটা দেখাই হল আমাদের উদ্দেশ্য।

    কিন্তু হায়! সালমা হায়েক আমাদের!

    মোবাইল, খাতা, মানুষ, তিনসহ ধপাস্। ভাগ্যিস স্যার উঠে দ্রুত এসে ওকে ধরলেন। সামনের চেয়ারে বসালেন। নিজের জন্য রাখা পানির বোতল থেকে একগ্লাস পানি স্ব-হস্তে ঢেলে খাওয়ালেন। এবং সবশেষে খুব মোলায়েম ভঙ্গিতে সমবেদনা জানালেন।

    অ্যানি প্রবলেম! তোমার কি খুব খারাপ লাগছে রাফিয়া? আর ইউ টায়ার্ড?

    রাফিয়া আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল।

    আমার তখন ‘ভিক্ষে চাই-না মা, কুত্তা সামলাও’ অবস্থা।

    তারপরও অসীম সাহস নিয়ে আমি সমাপনী ডায়ালগ দিলাম।

    স্যরি স্যার। আমরা অন্য একদিন আসব।

    স্যার ফিক্ করে হেসে ফেললেন।

    অন্যদিন কেন! বস। আজকেই আলোচনা হোক। এমনিতেই ইলেকট্রিসিটি নেই। তার ওপর আমার মনটাও যেন কেমন অস্থির অস্থির লাগছে আজ। ক্লাস নিতে ইচ্ছে করছে-না। বরঞ্চ তোমাদের ফিল্ম নিয়েই কথা বলি কিছুক্ষণ।

    রাফিয়া হঠাৎ জ্ঞান ফেরা রোগীর মতো চোখ বড় বড় করে সোজা হয়ে বসল। ছবির দৃশ্যে নায়িকারা সাধারণত যে জায়গায় বলে বসে, ‘আমি কোথায়? আমি এখানে কীভাবে এলাম!’

    স্যার ওর দিকে তাকিয়ে হাল্কা হাসি দিলেন।

    কী, একটু সুস্থ লাগছে এখন? সুমির মা’কে (আমাদের আয়া) ডাক দেব? রেস্টরুমে নিয়ে যাবে?

    রাফিয়া নির্বাক।

    স্যার নিজেই বলতে লাগলেন আবারও।

    আমার মনে হয়, এখানেই বসে কিছুক্ষণ গল্প কর। ভালো লাগবে। তাই-না নিতু?

    আমি মাথা ঝাঁকালাম। কী হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছি না, এমন একটা ভাব।

    একক বক্তা হিসেবে মঞ্চনাটকের সূত্রধরের মতো স্যার বলতে লাগলেন ব্যাকস্টেজ থেকে।

    বাই দ্যা ওয়ে, পৃথিবীর সর্বকালের সর্বাধিক বিতর্কিত ছবির নাম কি তোমরা শুনেছ?

    আমি আবারও মাথা ঝাঁকালাম। তবে এবার একদিকে নয়। দু’দিকে। যার স্পষ্ট অর্থ হচ্ছে, ‘না’।

    স্যার জ্ঞানের ডিব্বা খুললেন।

    ‘দ্যা বার্থ অব আ নেশন’। আমেরিকান ছবি। উনিশ শত পনের সালের। এর পরিচালনা, প্রযোজনা, চিত্রনাট্য এমনকি সংগীত পর্যন্ত একজনের হাতেই করা। ভদ্রলোকের নাম, ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ। মজার ঘটনা হল, ছবি তৈরির সময় কোনো কিছুই ছিল না তার। না কোনো স্ক্রিপ্ট, না কোনো নোট, এমনকি চিত্রনাট্যও লিখিত ছিল-না তার। শুধু মনে মনে গল্পটা বেঁধেছিল গ্রিফিথ। আধুনিক চলচ্চিত্রে যে প্যাট্‌নারোমিক শট, হাই-এক্সেল শট, নাইট ভিউ, এক্সটার্নাল শট দেখানো হয়, সেই একশ বছর আগে তিনি উইদাউট প্লানিং এতসব সাকসেসফুল্লি এবং ইফিসিয়েন্টলি তুলে ধরেন একা একাই। তোমরা আবার ভেব-না যে, এটি একটি অ-জনপ্রিয় আমাদের ‘ভাবমার্কা আর্টফিল্ম’ স্টাইলের ছবি। বরঞ্চ সেই সময়েই কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করেছে এই দি ক্লাম্যান সিনেমাটি। আই মিন, ছবিটির মহরত-রেকর্ডিং-ফার্স্টশো, সবকিছুতে এটাই ছিল প্রথম নাম। পরে বিতর্কে জড়িয়ে নামটিও বদলান হয়। ও হ্যাঁ, তোমাদের ছবির শুভ মহরত করবে কবে?

    আমি আর রাফিয়া এই প্রথম বাস্তব জগতে ফিরে আসলাম।

    রাফিয়ার চোখ এখনও ছানাবড়া, স্যরি দুধবড়া হয়ে আছে। কারণ আমার মনে হচ্ছে আর কিছুক্ষণেই মধ্যেই ও কান্না শুরু করবে। ‘লিকুইড মিল্ক ফ্রম আইস’।

    শোন, পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়সী প্রডিউসার কে জান?…

    বলতে বলতেই স্যার যেন আনমনে কোথায় হারিয়ে গেলেন। একটু থেমে গলার স্বর পাল্টিয়ে ফেললেন।

    থাক্ ভাল্লাগছে-না আজ আর। তোমরা বরং অন্যদিন এস। ফিল্ম আসলে আমারও ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট ছিল। কিন্তু আমাদের সময় বাবা- মা’রা এসবকে লেখাপড়া হিসেবে দেখতেন না। অ্যানিওয়ে, হয়তো তারাই ঠিক। নতুবা এখনও এসবের নামে এত নোংরামি আর নষ্টামি ছড়াচ্ছে কেন? হাজার হাজার, স্যরি, লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়েরা শুধু এই নামেই ধ্বংস করছে নিজেকে। স্বভাব-চরিত্র, ধন-সম্পত্তি, জীবনের মূল্যবান সকল কিছু। তোমরা তোমাদের ফিল্মের মহরতে একজন বিখ্যাত প্রডিউসারকে দাওয়াত দিয়ো। যার জন্য যে কাজ। হুজুরকে দিয়ে গীতাপাঠ করালে, তা তো আর শুদ্ধ হবে না! কী বল রাফিয়া?

    স্যার হাসতে থাকলেন। তার সেই বিখ্যাত রমণীমোহন হাসি। যে হাসির দৃশ্য দেখে আমি কেন, বিশ্বের যেকোনো কিশোরী, রাধার মতো মণ্ডা- মিঠাইয়ের হাঁড়ি ফেলে দৌড়ে যেয়ে ঝাঁপ দেবে আগুনসম কৃষ্ণের বুকে।

    আমার খুব ইচ্ছে করল, অন্তত একবার, একবারের জন্য হলেও স্যারকে বলি–

    প্লিজ স্যার, প্লিজ, প্লিজ কন্টিনিউ। থামবেন না। আমি শুধু একবারের জন্য রাফিয়ার ক্যামেরাটা অন করি। শুধু একবার।

    কিন্তু মানুষ হয়ে জন্মানোর এই এক বিশাল অসুবিধা। সব কথা সবখানে বলতে পারে না সে। মনের অধিকাংশ গোপন কথাই, মনের গহিনে গোপনে কবর দিতে হয় তাকে।

    স্যারের রুম থেকে বের হতে হতে পুরো বিষয়টা পরিস্কার হয়ে গেল আমাদের কাছে। স্যার আমাদের সাথে বিদ্যা বালানের ‘কাহানি’, ‘কাহানি’ ফিল্ম খেলেছেন। আমরা যেমন কাহিনি বানিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম, তাকে ধরা খাওয়াতে। তিনিও তেমনি কাহিনি শুনিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছেন, বেকুব বানিয়ে

    আসলে শুরু থেকেই তিনি বুঝে ফেলেছেন আমাদের মতলব। নতুবা রাফিয়ার আধা-অজ্ঞান হওয়া সত্ত্বেও বিচলিত না-হওয়া। অনুমতিবিহীন ছাত্রীদের অঙ্ক দেখানোতে রাজি হওয়া। এমনকি ছবির জগতের দীর্ঘ আলোচনায় আমাদের বসিয়ে রাখা। সবকিছুই তার পূর্বাপর পরিকল্পিত। তিনি শুরুতেই আমাদের মিথ্যে ধরে ফেলেছিলেন।

    .

    কিন্তু আজকের এই নতুন মিথ্যের পরিণতি কী?

    আমার তীব্র ভয় হতে লাগল পুরো বিষয়টা নিয়ে। জনাব ফাহাদ বিন ফারুকও কি স্যারের মতো আমাদের ছেড়ে দেবেন? না-কি বিষয়টা রাফিয়ার বাবার কান পর্যন্ত গড়াবে! এবং আমাদের ফিল্ম! এখানেই ইতি। সিনেমা হলের মতো পর্দা পড়বে… স-মা-প্তি।

    আমি মনে মনে মিথ্যা গোছাতে লাগলাম। ইউনেস্কো, ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস, সোশ্যাল মিডিয়া—- এই নিয়ে যা যা পারি সব রিভাইজ দিতে লাগলাম। তবে শেষরক্ষা হল আবারও মোবাইলের মাধ্যমে। ভদ্রলোকের একটা মোবাইল ঝন্‌ঝন্ শব্দে বেজে উঠল। সম্ভবত এটা ইমার্জেন্সি নম্বর। কারণ, কল আসামাত্রই তিনি ফোন উঠিয়ে অন্যদিকে চলে গেলেন। এবং যখন ফিরে এলেন, তখন তার মুখ হাসি হাসি।

    আমি শুধু শেষ বাক্যটি শুনতে পেরেছি। বললাম তো, অনলি ফিফটিন মিনিটস বেইবি।

    বেইবি যে ছোট কেউ না, তার আনন্দের ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

    রাফিয়া এই প্রথম তার স্বকীয় বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাল।

    ফারুক ভাই, তাহলে আমরা শর্ট কোনো কোর্স করতে পারি না?

    ভাই বলাতে অ্যান্টিবায়োটিক ডোজটা মনে হয় আরও সঠিক জায়গায় পৌঁছে গেল। মুখ থেকে হাসিটা পুরো দেহজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল জনাব ফারুক ভাইয়ের। উনি অত্যন্ত মোলায়েম ভঙ্গিতে বলতে লাগলেন এবার।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি আমার অ্যাসিন্ট্যান্ট ডিরেক্টর ওমর রশীদকে বলে রাখব। সাত দিনের একটা ক্র্যাশ প্লান বানিয়ে দেবে।

    রাফিয়া মোটামুটি ফর্মে ফিরে এসেছে এতক্ষণে। দ্বিতীয় ছয়টি মারবার জন্য ব্যাট হাতে এক স্টেপ এগিয়ে গেল এবার। পুরোপুরি ন্যাতানো শরীরে বলতে লাগল।

    ভাইয়া, পর পর, আই মিন, কন্টিনিউ সাত দিন করা যায় না!

    ফারুক সাহেব তড়িঘড়ি বলে ফেললেন।

    যায়, তবে খরচ হয়তো একটু বেশি-ই পড়তে…

    রাফিয়া কিছু বলতে যাবার আগেই উনি হাত তুললেন।

    ইট্স ওকে। তোমার বাবা এ বিষয়ে সব বলেছেন।

    রাফিয়া অবশ্য শেষমেষ খেলার শেষ ছক্কাটা মেরেই বসল।

    আমাদের একটা লাস্ট রিকোয়েস্ট ভাইয়া। কোর্সটা কি ধানমন্ডির কোথাও করানো যায়। একটু সাইলেন্ট স্পেসে।

    কেন, তোমার বাসা তো এদিকেই?

    না, মানে আমার বান্ধবী অর্থাৎ নিতু ধানমন্ডিতে থাকে। পরপর সাতদিন সন্ধ্যায় ওর প্যারেন্টস বনানীতে আসতে না-ও দিতে পারে।

    ডিরেক্টর ফাহাদ বিন ফারুক এই প্রথম আমার দিকে সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। এরপর আবার টেবিলে চোখ ফেরালেন।

    ঠিক আছে, তোমরা বললে দেখব।

    না, না। ইউ হেভ টু ভাইয়া, প্লি-ই-জ। আপনি চাইলে সব সম্ভব। অন্তত নিতুর জন্য এটা আপনাকে করতেই হবে ভাইয়া।

    ফারুক সাহেব হাসতে লাগলেন।

    দেখি, লালমাটিয়ায় আমার একটা বাসা নেয়া আছে। তিনমাসের কন্টাক্ট। একটা মেগা সিরিয়ালের শুটিং স্পট। আমি অবশ্য ইদানিং প্রতিদিন একবার করে যাই। দেখি সেখানে কোনো অ্যারেঞ্জমেন্ট করা যায় কি-না তোমাদের জন্য।

    কথা শেষ হতেই তিনি আবার আমার দিকে দৃষ্টি ঘোরালেন। তবে এবার ভিন্ন ভঙ্গিমায়। বিচ্ছিরি রকমের দৃষ্টি। যাকে বলে অ্যানিমেল প্ল্যানেট ভিউ। হরিণশিকারি ব্যাঘ্রের দৃষ্টি।

    সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা।

    বিরক্তিকর বক্তব্য।

    বাড়ি ফেরার টান টান উত্তেজনা।

    এত সবকিছুর বাইরে এই প্রথম নিজেকে সবচেয়ে অস্থির লাগতে লাগল আমার। মনের ভেতর এক ধরনের প্রাগৈতিহাসিক তীব্র হিংসা জাগতে লাগল। মনে হল, বলেই ফেলি, চলুন না, আজকেই হয়ে যাক প্রথম শিক্ষাদান। আই অ্যাম কোয়াইট আ বিট রেডি। আমাদের ফিল্মটা তো আপনার মতো জন্তুদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে, মিস্টার ফাহাদ বিন ফারুক!

    .

    ফেরার পথে পুরো রাস্তা প্রায় নির্বাক থাকলাম আমরা দু’জন।

    শুধু বাসায় নামিয়ে দেবার আগে রাফিয়া একা একা বিড় বিড় করতে লাগল রাস্তার দিকে তাকিয়ে।

    বল, কতগুলো আসিফকে শাস্তি দেব আমরা। দেশটা ভরে যাচ্ছে আসিফ দিয়ে।

    আমি মৃদু হাসলাম। ‘ক্রাইম প্যাট্রল’ নামে আমার একটা পছন্দের সিরিয়াল আছে। সনি চ্যানেলে দেখায়। রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে, সেখান থেকে হোস্ট আনুপ সোনি’র একটা বিখ্যাত ডায়ালগ বললাম।

    ‘খ্যায়াল রাক্ষিয়ে, সিখ্‌ এক-কো, সাবাক্ হাম সাবকো’। শোন্ রাফিয়া, একটা বিখ্যাত উক্তি জানিস বোধহয়। ইউ কান্ট ডেস্ট্রয় দ্যা চেইন অব করাপশন। বাট্ ইউ ক্যান কাট্ ইট টু মেক ইট স্মল।

    রাফিয়া দীর্ঘ সময় পর আবারও স্বীয় ভঙ্গিমায় হেসে উঠল

    উহ্! আবারো সেই কাট্!

    আমিও হেসে ফেললাম।

    ঠিক আছে। নো কাট্। বাট্ এভি প্রোডাকশনের জনপ্রিয় আর একটা ল্যাঙ্গুয়েজ বলি শোন্

    কী?

    কোয়াইট প্লিজ! অল ক্রুজ স্ট্যান্ড বাই! ফাইভ, ফোর, থ্রি, টু, ওয়ান, জিরো…

    মানে কী?

    মানে হল, অল লাইট’স ওপেন… ক্যামেরা রোলিং… সাউন্ডস্ স্টার্ট… অ্যা-ক-শ-ন।

    ইয়েস্। খেলা কেবল শুরু হচ্ছে। সবাই সাবধান।

    বলেই দু’জন হেসে ফেললাম একসাথে।

    .

    সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্য কখনো একা আসে না। সঙ্গী-সাথীসহ আসে। একের পর এক। কথাটা যে-ই বলুক। সত্য। এবং ধ্রুব সত্য। যথারীতি আজকেও সত্য বলে প্রমাণিত হল আরেকবার।

    দুপুর দুইটায় বাসায় ফিরেও কোনো প্যাদানি খেলাম না আমি।

    তাই সৌভাগ্যের এমন পৌনঃপুনিক সুযোগ হাতছাড়া করলাম না আর। লম্বা সময় লেখাপড়া করে টায়ার্ড, এমন একটা ভাব দেখিয়ে খেয়ে- দেয়ে চলে গেলাম সোজা বিছানায়। এবং শোয়ামাত্রই লম্বা ঘুম।

    রাতের নির্ঘুমতা, দিনের ক্লান্তি, কাজের টেনশন– সব মিলিয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ‘গোল্ডেন এ’ কোয়ালিটির ঘুম দিলাম একটা। যথারীতি স্বপ্নও দেখলাম ‘জিপিএ ফাইভ’ স্টাইলে।

    আমি আর রেজা স্যার দু’জন মিলে একটা প্রাচীন আমলের দালানের বারান্দায়। হাঁটছি আর গল্প করছি। স্যার বললেন, তুমি যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছ আজ থেকে প্রায় দুইশত বছর আগে…। আমি ওনার মুখে হাত দিলাম। চুপ, আর একটা জ্ঞানের কথাও না। ডিব্বা ক্লোজড্। আপনি আরেফিন রুমির গানের নায়কও না, আমিও পড়শি না। সুতরাং গানের শুটিং বন্ধ। স্যার সত্যি সত্যি কথা বন্ধ করে, আমার দিকে এগিয়ে আসলেন! হাত ধরলেন। এরপর উনি যা করলেন…

    এখন না। এখন এটা বলা যাবে না। বললে আমার সব রহস্য ফাঁস হয়ে যাবে এক্ষুণি।

    রাত আটটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত বিছানাতেই গড়াগড়ি গেল আমার। কিন্তু ঠিক বারোটায় যা ঘটল, তার জন্য নিজেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি।

    রাফিয়া, সায়েমা, সাজিয়া, যুঁথি, জান্নাত, ফাতিমা থেকে শুরু করে স্কুলের নাম জানা, না-জানা সব বান্ধবীরা ফোনে ফোনে অস্থির করতে লাগল আমাকে।

    এমনকি প্যাটনা আসিফ পর্যন্ত রোমান্টিক ভঙ্গিতে শুভকামনা জানাল জীবনের আরেকটি নতুন বছরে পা দেবার জন্য। ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, ভাইবার সবকিছু ভর্তি শুধু সেলিব্রেশন আর সেলিব্রেশন! হ্যাপি বার্থ- ডে টু নিতু, হ্যাপি বার্থ-ডে টু ইউ।

    আমি শুধু অবাক না, রীতিমতো থমকে গেলাম! যখন দেখলাম, একটু পর বাবা নিজেই একটা আস্ত কেক হাতে দাঁড়িয়ে আছেন আমার দরজার সামনে। এবং ঠিক তার পেছনে মা। হাতে একটা বিশাল ফুলের তোড়া।

    আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললাম। হাউ মাউ করে। কিছু বলতে পারলাম না।

    শুধু বাবার সবসময় বলা একটা বক্তব্য মনে আসতে লাগল বার বার। ‘হাল্ জাঝা~উল্‌ ইহ্ ছা-নি ইল্লাল্ ইহ্ ছা-ন। ফাবিআইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা-তুকায্ যি বা-ন। The reward of goodness is nothing but goodness. Which, then, of the favours of your Lord will you twain deny?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহাতকাটা তান্ত্রিক – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত
    Next Article ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }