Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    স্বপ্ন স্বপ্ন সত্যি

    ও ম্যাডাম দাঁড়ান দাঁড়ান ..ম্যাডাম…

    বাপরে এতো দেখছি পি টি ঊষার বোন৷ এত ছুটেও কিছুতেই মেয়েটাকে ধরতে পারলো না সাগ্নিক৷ বেশ হাঁপাচ্ছে৷ ফা;নের অল্প উষ্ণতাতেও টিশার্টটা ভিজে গেছে৷ বহুদিন পরে এতটা রাস্তা ছুটলো ও৷ এখন দিকভ্রান্তের মতো লাগছে৷ বাস থেকে নেমে অচেনা জায়গায় এতটা ছুটেছে৷ সন্ধ্যের অন্ধকারে কোনদিকে যেতে হবে তালগোল পাকিয়ে গেছে ওর৷ এই জন্যই বলে লোকের ভালো করতে গেছো তো মরেছ! এখন এই অচেনা জায়গায় বাস কখন পাবে কে জানে? কি মরতে যে ছোটো পিসিকে দেখতে এসেছিলো কে জানে৷ আর ভিড়ের চোটে কেন যে ওই ফাঁকা লেডিস সিটে নিজের পশ্চাৎদেশের আরাম খুঁজেছিলো তাও জানে না ও৷

    এই আরামবাগের দিকে সাগ্নিক এসেছিল সেই বছর দশেক আগে মায়ের সাথে৷ হঠাৎই ছোটো পিসি বাথরুমে পরে গিয়ে হাত ভেঙেছে, শুয়ে শুয়ে তার নাকি একমাত্র ভাইপো সাগ্নিককেই দেখতে ইচ্ছে করছে৷ আর যায় কোথায়! বাবা, মা, ঠাম্মা সকলে মিলে সাগ্নিককে ধরে বেঁধে রবিবারের ছুটির ঘুমটার চোদ্দো বাজিয়ে পাঠিয়ে দিলো ছোটো পিসিকে দেখতে৷ সাগ্নিক বলেছিলো, হোয়াটস আপে ভিডিও কল করে নেবে৷ তাই শুনে বাবা তো পারলে কানের পাশে সেই ছোটোবেলার মতো একটা থাপ্পড়ই মেরে বসতো৷ নেহাত এই বেকারত্বের যুগে সাগ্নিক কপাল করে একটা চাকরি জুটিয়ে ফেলেছিলো তাই একটু সম্মান করেই হয়তো বাবা শুধু বকুনির ওপর দিয়েই গেল৷ বললো,তা আজ এক কাজ করো সানুর মা, ওকে বরং পাঁঠার মাংসের বাটিটা দেখিয়েই সরিয়ে নিও৷ দর্শনেই অর্ধেক ভোজন হয়ে যাবে৷ হোয়াটস আপে ভিডিও কলিঙের মতো৷ বাবার এই এক দোষ! বরাবর সাগ্নিকের দুর্বলতম জায়গা মাংসের বাটি নিয়ে খোঁটা দেওয়া৷

    অগত্যা, সাগ্নিক ঠাম্মার দেওয়া বড়ি, মায়ের করে দেওয়া গাজরের হালুয়া নিয়ে সকাল সকাল কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিলো আরামবাগের উদ্দ্যেশে৷ আসার সময় বেশ ভালোই এলো৷ ছোটো পিসির হাত ভেঙে গেলেও গলার জোরে আর ওদের বাড়ির রান্নার মাসির যত্নে সাগ্নিকের দুপুরের ভোজনটা নেহাত মন্দ হয়নি৷ তারপর বাঙালির ঐতিহ্য রক্ষার্থে যেমনি বিছানা ছুঁয়েছে … দু-চোখ বেইমানি করায় দুপুরের ট্রেনটা মিস হয়েছে৷ ছুটির দিনেও বিকেলের দিকে বাসে এত ভিড় কেন থাকে কে জানে? সারাসপ্তাহ ছুটোছুটি করেও যে এই একদিন বেড়াতে যেতে কি করে মন হয় মানুষের তা সাগ্নিক বোঝে না৷ মনটা উচাটন হয়ে আছে৷ আই পি এলের ক্রিকেট ম্যাচটা গেল৷ এদিকে নেটওয়ার্কের যা অবস্থা তাতে খেলা দেখা সম্ভব নয়৷ তারপর ভিড় বাসে বাঁদর ঝোলা হতে হতে হঠাৎই একটা সিট ফাঁকা পেয়ে নিশ্চিন্তে বসেছিলো৷ পরে খেয়াল করেছিলো ওটা লেডিস সিট৷ রণ রঙ্গিনী মূর্তিতে কেউ এসে তখনো বলেনি, অন্ধ নাকি? জানেন না এটা লেডিস সিট?

    তাই পাশের মেয়েটার থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বাঁচিয়ে বসেই ছিলো সাগ্নিক৷

    মেয়েটা বোধহয় একটু অন্যমনস্ক ছিলো৷ বারবার নিজের আঙুলের পার্পেল কালারের নেলপলিশটা অন্য হাতের নখ দিয়ে খুঁটছিলো৷ নিখুঁত করে লাগানো নেলপলিশ যখন কোনো মেয়ে নিজের হাতে তুলে দেয়, তখন সে যে কতটা আনমনে আছে সেটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না৷ না, মেয়ে দেখার বদনাম সাগ্নিকের নামে নেই৷ আঠাশ বছর বয়েসেও একটাও প্রেম করে উঠতে পারেনি ও৷ দু এক জায়গায় ঝাড়ি মারতে গিয়ে মার খেতে খেতে বেঁচে গিয়ে পালিয়ে এসেছিল সেই কলেজ লাইফে, তারপর থেকে আড়চোখে সুন্দরী দেখা ছাড়া আর কোনো দোষ ওর নেই৷ এই মেয়েটিকেও সাগ্নিক দেখতো না, একে তো লেডিস সিটে বসে থাকতেই হাঁটু কাঁপছিলো৷ ইদানিং অবলা নারী জাতির মায়ার ওপরে আর ভরসা না করাই ভালো৷ তায় আবার পাশের মেয়ের দিকে তাকাতে গিয়ে বাঁশ খাওয়ার কোনো রকম ইচ্ছে ওর ছিলো না৷ কিন্তু ওই যে, ফাগুন মাসের মনে আবির রঙের প্রভাবেই হয়তো মেয়েটার বারবার লাভস লকস সরানোটা দেখতে গিয়েই চোখ চলে গেল ওর সুন্দর চোখের দিকে৷ চোখ দুটো সুন্দর হলেও কাজলটা ঘেঁটে গেছে৷ চোখ দুটোও বেশ লাল৷ বোধহয় কেঁদেছে৷ হয়তো ব্রেকআপ হয়েছে৷ এই বজ্জাত ছেলেগুলোর জন্যই সাগ্নিকদের মতো নিপাট ভালো মানুষদেরও মেয়েরা লাদেন মনে করে৷ এই যে মেয়েটা কাঁদছে, নিখুঁত পার্পেল নেলপলিশ নষ্ট করছে, চোখের কাজল ঘেঁটে ফেলছে… এরপরেও কি আর কোনো ছেলেকে বিশ্বাস করা এর পক্ষে সম্ভব?

    হঠাৎই মেয়েটি সাগ্নিকের হাঁটুতে গুঁতো মেরে, ভিড় ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে বাস থেকে নেমে পড়লো৷ পাশে পড়ে রইলো নেলপলিশের থেকে আরেকটু হালকা পার্পেল কালারের ভ্যানিটি ব্যাগটা৷ সাগ্নিক খেয়াল করলো কুর্তিটাও পার্পেল ছিলো৷ পুরো ম্যাচিং৷ যা! এখন কি হবে! তখনও বাসের ক্লিনার চেঁচিয়ে যাচ্ছে, আস্তে লেডিস… বাচচা কোলে৷ সাগ্নিক লোকের পা থেঁতলে, পিঠে কুনুয়ের গুঁতো মেরে কোনো মতে দরজার কাছে পৌঁছে বললো, আমি নামবো৷ দুটো কাঁচা কাঁচা গলার মধ্যে আটকে রেখেই ক্লিনার বললো, এতক্ষন কি ঘুমুচ্ছিলেন?

    যাই বলুক, ট্রেনের সাথে বাসের এটাই তফাৎ৷ বাস হলো মায়ের মতো৷ যতই বকুক, কোলে বসিয়ে খাইয়ে তবে তার শান্তি৷ বন্ধ গেট আবার খুলে সাগ্নিককে নামিয়ে দিলো ক্লিনার৷ এই যদি ট্রেন হতো, তো বাবার মতোই বলতো, একবেলা উপোষ করলে কেউ মরে যায় না৷ তাই ওকে পরের স্টপেজেই নামতে হতো৷

    যাইহোক পিঠে নিজের ব্যাগ, কাঁধে লেডিজ ব্যাগ নিয়েই ছুটছিলো সাগ্নিক৷ বাংলার সেরা সেরা মনীষীদের পরোপকারী মানসিকতার কথা মনে পড়ছিলো ওর৷ রামমোহন রায় মেয়েদের জন্য সতীদাহ বন্ধ করতে পারলেন, আর ও সামান্য ব্যাগটা পৌঁছে দিতে পারবে না? মেয়েটাকে দু-বার ম্যাডাম ম্যাডাম বলে ডাকতেই, মেয়েটা জোরে ছুটলো৷ কিছুতেই ধরতে পারলো না সাগ্নিক৷ তার বদলে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বোকার মতো এদিক ওদিক যানবাহন খুঁজে চলেছে ও৷ আচ্ছা মেয়েটা কি ভোজবাজির মতো উবে গেল নাকি? নাকি কোনো গলিঘুঁজিতে ঢুকে পড়লো? এখানের কোনো চায়ের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে হয়, এখান থেকে কলকাতা যাবার সহজ রুট কি আছে? চায়ের দোকানি বললেন, আপনি তো ভুল করেছেন… ট্রেনে গেলে অনেক সোজা হতো৷ বাস ধরতে গেলেন কেন? এটা কাপসিট গ্রাম৷ আপনি এক কাজ করুন, এখান থেকে বাস ধরে… কথা শেষের আগেই বেশ কিছু লোকজন জুটিয়ে বাসের মেয়েটিই এগিয়ে আসছে এদিকে৷ মেয়েটির হাঁটার ধরনে মোটেই আর সেই কষ্ট কষ্ট মুখ নেই৷ রীতিমতো প্রতিবাদী ভাবমূর্তি ফুটে উঠেছে৷ সাগ্নিকের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলছে, ওই দেখুন… ওই যে ওই লোকটা.. সেই বাস থেকে আমার পিছু নিয়েছে৷

    জনা দশেকের নারী সম্মান উদ্ধারকারীর দলটার মধ্যে সবচেয়ে লম্বা একটু দাদা টাইপ লোকটা এসে সাগ্নিককে ভস্ম করে দেবার মতো তাকিয়ে বললো, কে বে! আমাদের গ্রামে এসে আমাদের ঘরের বোন মেয়েকে লাইন মারছিস? শালা ক্যালানি খাসনি কখনো!

    বেগতিক দেখে সাগ্নিক মেয়েটার ব্যাগটা উঁচু করে ধরে বললো, এটা বাসে পড়েছিল… আমি এটা দিতেই…

    প্রতিবাদী নারীর এতক্ষণে খেয়াল হয়েছে যে তার কাঁধে ব্যাগ নেই৷ বেশ নেত্রীর ঢংয়েই বললো, বিশুদা ছেড়ে দাও, ভদ্রলোক বোধহয় ব্যাগটা দেওয়ার জন্যই আমার পিছু নিয়েছিলেন৷

    বাওয়াল বন্ধ হয়ে গেলে কিছু মানুষ খুব আপসেট হয়ে যায়৷ এদের মুখ গুলোও প্রদীপ নিভে যাওয়া সলতের মতো হয়ে গেল৷ বিশুদা বললো, তোরা যে কি করিস না নীরা! খামোকা আমাদের তাসের আড্ডাটা ভেস্তে গেল৷ ভিড় পাতলা হয়ে গেছে৷ শুধু ছেলেটা মেয়েটাকে কিভাবে ব্যাগ ফেরত দেবে এটা দেখার জন্যই কয়েকটা ওই উৎসাহী কৌতূহলী চোখ আড়চোখে তাকাচ্ছে৷

    নীরা নামক মেয়েটির মুখে সংকোচ, চোখে অপরাধীর দৃষ্টি৷ সাগ্নিক ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে বললো, আসলে আপনি নামার পরেই খেয়াল করলাম ব্যাগটা পড়েছিলো, তাই…

    মেয়েটি বললো, সরি, এক্সট্রিমলি সরি৷ আজকাল কাউকে বিশ্বাস করা মুশকিল, তাই বুঝতে না পেরে আপনাকে হ্যারাজ করতে যাচ্ছিলাম৷ সাগ্নিক মনে মনে ভাবলো, বিশু বাহিনী যদি মারতে শুরু করতো তাহলে এতক্ষণে ওর পিঠের চামড়া গুটিয়ে যেত৷ তাই আপাতত সুরেলা কণ্ঠের সরিতে খুব বেশি বিগলিত হলো না ওর মন৷ মেয়েটি অপ্রস্তুত গলায় বললো, আপনাকে তো এ চত্বরে দেখিনি৷ নতুন বুঝি?

    দীর্ঘশ্বাস গোপন করে সাগ্নিক বললো, আমার বাড়ি কলকাতা৷ এসেছিলাম আরামবাগের কাছে, পিসির বাড়ি৷ একটা ট্রেন মিস করে বাস ধরেছিলাম… তারপরেই …

    মেয়েটি ঢোক গিলে বললো, এইরে! তাড়াতাড়ি আসুন৷ তারপরেই ব্যাগ থেকে চাবিটা বের করে একটু দূরের একটা সাইকেল স্ট্যান্ড থেকে নিজের মেরুন কালারের স্কুটিটাতে স্টার্ট দিয়ে বললো, তাড়াতাড়ি চাপুন৷ আপনাকে ট্রেন ধরিয়ে দিচ্ছি৷

    জীবনে এই প্রথম কোনো মেয়ের বাইকের পিছনে চাপার অভিজ্ঞতা হতে চলেছে সাগ্নিকের৷ মেয়েটা সম্ভবত স্যান্ডেলের কোনো পারফিউম মেখেছে৷ মৃদু একটা গন্ধ এসে লাগছে সাগ্নিককে নাকে৷ পিঠে ফেলা অবাধ্য চুলগুলো সাগ্নিকের দৃষ্টিপথকে আড়াল করছে মাঝে মাঝেই৷ সাগ্নিক বললো, আপনার নাম কি? এখানেই থাকেন?

    মেয়েটি একটু গলা চড়িয়ে বললো, নীরা দত্ত৷ আমার এখানেই বাড়ি৷

    সাগ্নিক রায়, সেটেলমেন্টে চাকরি করি৷ ট্যাংরায় বাড়ি৷

    মেয়েটা বললো, না আপনার ৮.৪৫-এর ট্রেনের খবর হয়নি এখনো, পেয়ে যাবেন৷

    সাগ্নিক তখনও ঘোরের মধ্যেই আছে৷ নীরা স্কুটি দাঁড় করিয়ে বললো, স্টেশন দেখা যাচ্ছে৷ পেয়ে যাবেন ট্রেনটা৷

    কি বলা উচিত সাগ্নিকের? শুধু ধন্যবাদ! নাকি পরবর্তী যোগাযোগের উপায় খুঁজে নেওয়ার জন্য ফোন নাম্বারটা চেয়ে নেওয়া উচিত?

    ভাবতে গেলে নীরা চলে যাবে৷ ইতস্তত করে, ঢোক গিলে বলেই ফেললো সাগ্নিক…পথের পরিচয় কি পথেই শেষ হয়ে যাবে?

    যদি এতক্ষণের ব্যবহারে বিশ্বাস জেগে থাকে তাহলে ফোন নম্বরটা কি পেতে পারি?

    হাওড়া যাওয়ার ট্রেনের খবর হলো৷

    নীরা বললো, নম্বর নিতেই পারেন৷ তবে সবটা জেনে আর ফোন করার ইচ্ছেটা হয়তো থাকবে না আপনার৷

    ইচ্ছেটা না হয় আমার ওপরেই ছেড়ে দিন, নাম্বারটা বলুন প্লিজ৷ নাম্বারটা ফোনে লোড করতে করতেই ছুটে গিয়ে ট্রেনটা ধরলো সাগ্নিক৷

    এরকম একটা মেয়েকেই কি ও স্বপ্ন দেখত ভোর রাতে? যার মধ্যে মেয়েলী জড়তা থাকবে না, অকারণে আদিখ্যেতা করবে না, অথচ পরিমিত রুচিবোধের প্রকাশ থাকবে তার ব্যবহারে৷ লাভ অ্যাট ফার্সট সাইট কথাটা কি আদৌ সত্যি? এই বয়েসে কি এসব ছেলে মানুষী হয়? তবুও কেন বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে ওর ওই স্কুটির পিছনে বসে আসার সময় নীরার আন্তরিকতাটা৷ ব্যাগটা ফেরত নিয়ে তো চলে যেতেই পারতো ও৷ কি প্রয়োজন ছিল সাগ্নিককে এভাবে উপকার ফিরিয়ে দেবার৷

    স্বপ্ন স্বপ্ন সত্যির মধ্যে দিয়েই বেশ রাত করে বাড়ি ফিরলো সাগ্নিক৷ এখন কি মেয়েটাকে ফোন করাটা ঠিক হবে?

    সকালেই বরং কল করবে সাগ্নিক৷

    সোমবারের সকালে বেশ হুড়োহুড়ি করতে হয় সাগ্নিককে৷ একটু দেরি করে ঘুম থেকে উঠলেই ওদিকে গিয়ে স্নান খাওয়া সারতে লেট হয়ে যায়৷ বাস মিস,অফিসে লেট…তাই সোমবারটা বড়ো অপছন্দের ওর৷ নিরুপায় হয়েই বিছানা ছাড়ল ও৷ ঘুম চোখেই আবার মনে পড়লো পার্পেল ব্যাগের মালকিনকে৷ অকারণে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা দেখা দিয়েই টাইগারহিলের সূর্যোদয়ের মতোই মিলিয়ে গেল সাগ্নিকের ঠোঁট থেকে৷ তাড়াহুড়োতে কাল ফোন নম্বরটা নীর বলে সেভ করা হয়ে গেছে৷ আকারটা নেই৷ তা ভালো, নীর মানে তো জল… জীবনদায়িনী৷

    ওপ্রান্তে রিং বাজছে৷ বুকের ভিতরটা ধুকপুক করছে সাগ্নিকের৷ হৃৎপিণ্ডের কার্যকরী যন্ত্রটি বলছে, বেশি সাহস ভালো নয়… হূদয় পাশ থেকে ফুট কেটে বললো, প্রেমে আর যুদ্ধে সাহসী হওয়া প্রয়োজন৷ এই মুহূর্তে সাগ্নিক হূদয়ের কথাই শুনলো৷ যাঃ গোটা রিংটা বেজে শেষ হয়ে গেল৷ হয়তো অচেনা নাম্বারের ফোন রিসিভ করে না নীরা৷ কেমন একটা ভালো না লাগা মেঘ ছেয়ে যাচ্ছে ওর মন জুড়ে৷

    মা হাঁক পারলো, সানু তাড়াতাড়ি কর বাবা, আজও বাস মিস করবি ৷ ঠাম্মা বললো, পুরুষ মানুষ এত দেরি কেন হয় রে রেডি হতে?

    মনখারাপি সুর নিয়েই বাথরুমে ঢুকলো সাগ্নিক৷ ওর কপালটাই খারাপ৷ এমনিতেই কোনো মেয়েকে ওর তেমন পছন্দ হয় না৷ কলেজে নীহারিকা বলে একজনকে পছন্দ হয়েছিল৷ প্রোপোজ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একসা৷ নীহারিকা বেশ সাহসী গোছের মেয়ে ছিল৷ অকারণ লজ্জায় লাল হয়ে থাকতো না চবিবশ ঘন্টা৷ প্রেমিককে সোনা, বাবু বলা ন্যাকা মেয়ে নয় আরকি৷ কিন্তু প্রোপোজ করতে গিয়েই চাপ খেয়েছিল৷ নীহারিকার ওপরে নাকি কলেজ ইউনিয়নের নেতা সমরজিৎ-এর নজর ছিল৷ তাই মাঝ পথে কাঁটার মতোই সাগ্নিককে মারাত্মক থ্রেট করে বলেছিলো, ভবিষ্যতে যেন নীহারিকার দিকে আর না তাকায়৷ নীহারিকাও সমরজিৎ-এর বাইকে করে সাগ্নিককে টা টা করে বেরিয়ে গিয়েছিল৷ তারপর থেকেই প্রেম নামক বস্তু থেকে বেশ কিছুটা দূরে থেকেছে সাগ্নিক৷

    ঠাম্মার উৎপাতে মা বেশ কয়েকটা মেয়ের ছবি দেখিয়েছে ওকে৷ মেয়েগুলো সুন্দরী, শিক্ষিতা কিন্তু ওই যে সাগ্নিক যেটা চাইছে সেটা নয়৷ তলোয়ারের মতো দুটো চোখ… যার চাহনিতে ফালাফালা হয়ে যাবে ওর পুরুষত্বের অহংকার৷ বহুদিন পরে ওই কাজল ঘেঁটে যাওয়া চোখ দুটোতে সেই আগুন দেখেছিল৷ কান্না ভেজা চোখও যে এতটা বাঙময় হয় সেটা এই প্রথম দেখলো সাগ্নিক৷

    সানু তোর ফোন বাজছে…বাবার গলা৷ ফোন! তবে কি মিস কল দেখে নীরা… কোনো মতে গামছা জড়িয়েই বাথরুম থেকে পড়িমরি করে ছুটে ঘরে এসে হামলে পরে ফোনটা ধরলো সাগ্নিক৷ নীর কলিং….

    হ্যালো, আমার ফোনে এই নম্বর থেকে একটা মিস কল ছিল…কে বলুন তো আপনি?

    নিজের নিঃশ্বাস বন্ধ হবার আগেই সাগ্নিক বললো, হ্যাঁ ,আমি কল করেছিলাম৷ আমি সাগ্নিক… কাল আপনি আমাকে স্কুটি করে…

    কথা শেষ করতে না দিয়েই নীরা বললো, তার থেকে বলুন, কাল আপনি আমার ব্যাগটা ফেরত দিতে গিয়ে বাসটা ছেড়ে দিয়েছিলেন৷

    বাহ, মেয়েটির সৌজন্যবোধ তো অদ্ভুত৷ নিজের উপকারটাকে ছোটো করে কেমন ওরটাকে বড়ো করে দেখছে৷

    কাল ঠিক সময়ে বাড়ি পৌঁছে ছিলেন?

    হ্যাঁ পৌঁছেছিলাম৷ আপনার ব্যাগের সব জিনিস ঠিক আছে তো?

    কেন, নিজেকে বিশ্বাস করেন না বুঝি?

    একটু হেসে সাগ্নিক বললো, সব সময় কি নিজেকে বিশ্বাস করা উচিত? কোনো কোনো সময় তো নিজের ওপরেই সব থেকে বেশি ভরসা কম থাকে৷ এই যেমন গত কাল সন্ধ্যে থেকে আপনি আমার মনের বেশ কিছুটা জায়গা দখল করে নিয়েছেন৷ এটা বোধহয় আপাতত আমার আয়ত্তের বাইরে৷

    ওপ্রান্তে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নীরা বললো, একটা মানুষকে চিনলেন না, জানলেন না, তার পরিচয় পেলেন না… তার আগেই মনে জায়গা দিয়ে দিলেন? এত হটকারী হলে তো জীবনে ঠকবেন!

    নীরার গলায় বিদ্রুপের আভাস পেয়েই সাগ্নিক বললো, চিনতেই তো চাইছি৷ জানতেই তো চাই সম্পূর্ণ ভাবে৷ সে সুযোগটুকু অন্তত দিন৷

    একটু গম্ভীর গলায় নীরা বললো, আপাতত স্কুলে বেরোব৷ একটু তাড়া আছে৷

    আপনি স্কুল টিচার?

    না, কোনো সরকারি চাকরি করি না৷ আমার একটা নাচের স্কুল আছে৷

    মাই গড, আপনি ড্যান্সার?

    কেন আমাকে জানার ইচ্ছেটা বুঝি শেষ হয়ে গেল? কি মনে হচ্ছে … নেচে বেড়ানো মেয়েরা খুব খারাপ হয়? বলেই ফোনটা কট করে কেটে দিলো নীরা!

    যা বাবা! মেয়েটা কি পাগল নাকি? সাগ্নিক কখন বললো ড্যান্সার মানে সে খারাপ হবে?

    কি মুশকিল রে বাবা৷

    বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে আরামবাগ থেকে ফেরার পর৷ সাগ্নিক কিছুতেই অফিসের কাজে মন বসাতে পারছিল না৷ আবার অযথা নীরাকে ফোন করে বলতেও পারছিল না, আমার এই আনমনা হয়ে যাওয়ার পিছনে আপনিই দায়ী৷

    ফেসবুকে নীরার নাচের ভঙ্গিমায় বিভিন্ন ছবি রয়েছে৷ নীরার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকে ওর ছবি দেখাটা সাগ্নিকের রোজকার একটা অবশ্য কাজে দাঁড়িয়ে গেছে৷

    হোয়াটস আপে টুং করলো… অপ্রত্যাশিত ভাবেই নীরার নাম্বার থেকে একটা মেসেজ ঢুকলো৷

    আপনাদের পাড়ায় যাচ্ছি দিন সাতেক পরে৷ একটু হেল্প চাই৷

    সাগ্নিক টাইপ করলো, উপকার করতে পারলে ধন্য হবো৷

    আমাদের নাচের টিমের একটা অনুষ্ঠান আছে রবীন্দ্রসদনে৷ যদি ওই দিন ফিরতে না পারি, গোটা বারো মেয়ের থাকার ব্যবস্থা কি ভাবে করবো যদি একটু বলেন? মানে, কোনো হোটেল বুক করা যদি যায়…

    আমাকে দেখে তো আপনার ভদ্রলোকই মনে হয়েছে নাকি? তাহলে দায়িত্ব যখন দিলেন তখন নিশ্চিন্তে থাকুন৷

    নীরা বললো, আমি কারোর উপরে দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি না৷

    সাগ্নিক লিখলো, একবার বিশ্বাস করে দেখুন না! বিশ্বাস শব্দের আগে সবসময় ‘অ’ যোগ নাই বা করলেন!

    নীরা হাল ছাড়া গলায় বলল, অগত্যা৷

    ছোট্ট থেকে সাগ্নিকের যত প্ল্যান, যত গোপন কথা সব ঠাম্মার সাথে৷ আজও অফিস যাবার আগে ঠাম্মার ঘরে ঢুকলো৷ ঠাম্মা এক মনে একটা বই পড়ছিল৷ বিরাশি বছরের সারদা দেবীর চোখ কান এখনো তীক্ষ্ণ৷ সাগ্নিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, প্রেমে পড়েছিস? তা মেয়েটা কেমন?

    সাগ্নিক চমকে গিয়ে ভ্যাবলার মতো খানিকক্ষণ তাকিয়ে বলল, তুমি কি করে বুঝলে?

    তোর হাঁটার মধ্যে একটা ভয় ভয় লজ্জা রয়েছে রে ছোঁড়া৷ একমাত্র প্রেমে পড়লেই মানুষ ইঁদুরকেও সমীহ করে…

    ঠাম্মা, আমি তোমাকে সমীহ করি না?

    ঠাম্মা কানটা সাগ্নিকের কানের কাছে নিয়ে এসে বললেন, এবার বল দেখি কেসটা৷ সবটা শুনে সাগ্নিকের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তুই অফিস যা, কেসটা আমি হ্যান্ডেল করছি৷ সারদা দেবীর স্বামী ছিলেন নামকরা উকিল৷ তাই ওনার কথাবার্তায় দাদুর কথার ছাপ স্পষ্ট৷ সাগ্নিক আমতা আমতা করে বললো, কিন্তু বাবা?

    অফিসে গিয়েও ঠিক করে কাজ করতে পারছিল না সাগ্নিক৷ এখন মনে হচ্ছে ছোটোপিসির হাতটা কেমন আছে জানার জন্য আরেকবার আরামবাগ যাওয়া উচিত৷ কিন্তু বাড়িতে কি বলবে! ধুর, এই মেয়েটার বাড়ি এত দূরে কেন? আপাতত নীরার হোয়াটস আপের লাস্ট সিন দেখা আর ওর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘাঁটা ছাড়া কোনো কাজ করতে ভালো লাগছে না সাগ্নিকের৷ এ তো অদ্ভুত রোগ!

    শঙ্খ বাজা সন্ধ্যেয় সাগ্নিক ফোনটা করলো নীরাকে৷ আপনাদের কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা ঠিক হয়ে গেছে৷ নিশ্চিন্তে আসুন৷

    নীরা তখন বেশ শঙ্কিত গলায় বলল, হোটেলটা ভালো তো… মানে বুঝতেই পারছেন এতগুলো অল্পবয়সী মেয়েদের দায়িত্ব নিয়ে যাওয়া৷

    আচ্ছা, আপনার আমাকে কি মনে হয়? আমি কি বাচচা? মেয়েদের সিকিউরিটি, কিছুই বুঝি না?

    নীরা বেশ গম্ভীর গলায় বললো, না আপনাকে কেন বাচচা মনে হবে….আপনি তো দারুন স্কুটি চালান….

    সাগ্নিক আমতা আমতা করে বললো, লেগ পুল করছেন? কি করে বুঝলেন? আমি বাইকে ভয় পাই?

    যেভাবে সামান্য স্পিডে আমার কাঁধটা খামচে ধরেছিলেন তাতেই বুঝে গেছি৷

    সাগ্নিকের সরল হাসিতে হঠাৎ একঝলক ঠান্ডা বাতাস এসে ভিজিয়ে দিলো নীরার মন৷ নীরা কোনোদিনই প্রেমে বিশ্বাসী নয়৷ ভালোবাসা মানেই ব্রেকআপ, আর তারপর বাকি জীবনটা দুঃখ দুঃখ মুখ করে ঘুরে বেড়ানো৷ ওসব ঝামেলায় ও কোনোদিনই যায়নি৷ মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর থেকেই বাবা মা অতিষ্ট করে তুলেছে বিয়ে দেবার জন্য৷ এমনকী তিন বছর বয়স থেকে শেখা নাচটা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে এই বিয়ের চক্করে৷ বাবা এক বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলেছে নীরার৷ অথচ তাদের কনজারভেটিভ ফ্যামিলি কোনো ভাবেই নীরাকে নাচ কন্টিনিউ করতে দেবে না৷ মা বাবা বলেছে ,মানিয়ে তো নিতেই হবে৷ ভালো ছেলে,ভালো পরিবারের জন্য এটুকু স্যাক্রিফাইস করতেই হবে৷ নীরার ঘুঙুর বাঁধা পাগুলো তালের সাথে সাথে আর নাচবে না শুনেও বাবা মায়ের এতটুকু কষ্ট অবধি হচ্ছে না, ভাবলেই দু-চোখ ছাপিয়ে জল নেমে আসছে৷ এরাই নাকি ওর জন্মদাতা! ওর নিজের লোক! কষ্টে গলা বুজে এলো৷ পাত্রপক্ষরা আঙুলের মাপ নিয়ে চলে যাবার পরে যত প্রতিবাদী মেয়েই হোক,এই বিয়ে ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সাহস দেখানোটা বেশ কঠিন কাজ৷ সেটা নীরা বুঝতে পারছে বেশ৷ বাবাকে অনেক বুঝিয়েছে বাবা, কিন্তু বাবা কিছুতেই এই বিয়ে বাতিল করবে না৷ নীরার মৃত্যু দেখবে বাবা, তবুও রজতের সাথেই বিয়ে দেবে৷ সেই জন্যই সাগ্নিক যখন বলছে ওকে আরও জানতে চায়, তখন নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে নীরা৷ সাগ্নিক যদি আর পাঁচমাস আগে আসতো ওর জীবনে তাহলে হয়তো … মাত্র কয়েকদিনেই ছেলেটাকে বেশ ভালো লেগে গেছে ওর৷

    একটা নাম না জানা স্টেশনের বেদিতে মুখোমুখি বসে আছে দুজনে৷ সামনে দিয়ে দ্রুতগামী ট্রেনেরা চলে যাচ্ছে স্বশব্দে৷ বেশ খানিকক্ষণ পরে সাগ্নিক বললো, এই স্টেশনে আমি এই প্রথম৷ তুমি এসেছিলে আগে?

    একবারই এসেছিলাম এক বান্ধবীর বাড়ি৷ তখনই বেশ ভালো লেগেছিল স্টেশনটা৷ শিমুলবাড়ি নাম অথচ কোনো শিমুল গাছের দেখা নেই৷

    বেশির ভাগ ট্রেনই স্টেশনটাকে অবহেলা করে, বেশির ভাগেরই স্টপেজ নেই এখানে৷ তাই যাত্রী চলাচল বেশ কম৷

    নীরা বললো, সব তো শুনলে … এখন বলো, কি করা উচিত?

    সাগ্নিক বেশ কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে বললো, তাই বলে এত দিনের সাধনা এক কথায় ছেড়ে দেবে?

    আজ যদি তোমার উড বি কে বলা হয়, তার জবটা ছেড়ে দিতে, সে কি দেবে?

    মাথা নিচু করে বসে আছে নীরা৷ হঠাৎই হাঁটু গেঁড়ে নীরার সামনে বসে পড়েছে সাগ্নিক৷ হাতটা বাড়িয়ে বললো, চলো নীরা পালাই৷ দেখো হাওড়াগামী ট্রেনের খবর হলো… চলো নীরা পালাই…

    সারাজীবন ছন্দে নাচবে তোমার পা, কথা দিলাম৷ চলো নীরা…

    নীরা হাত রাখল সাগ্নিকের হাতে৷ লোকাল ট্রেনটা এসে দাঁড়িয়েছে শিমুলবাড়ি স্টেশনে৷ সাগ্নিক নীরার হাত ধরেই পা দিলো ট্রেনের কামরায়৷ হাতের তালু থেকে নীরা ঝটিতে হাতটা সরিয়ে নিল৷ তুমি ফিরে যাও সাগ্নিক … পারবো না আমি৷

    অসহায় কষ্টে বুকটা মুচড়ে উঠলো নীরার৷ সাগ্নিকের চোখে আশাভঙ্গের কষ্ট৷ ট্রেনটা শিমুলবাড়ি স্টেশন ছাড়িয়ে এলো৷ পিছনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়লো নীরা৷ ওর দু-চোখে জল৷ আজও কাজলটা ঘেঁটে গেল যেন৷

    বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড় চলছে৷ তার আগে রবীন্দ্রসদনে এটাই ওর শেষ পারফরম্যান্স৷

    হোয়াটস আপে মেসেজ ঢুকলো, সাগ্নিক লিখেছে ঠিক টাইমে বাড়ি পৌঁছে গেছি নীরা৷

    বার কয়েক অনেক কথা টাইপ করেও ডিলিট করে দিলো নীরা৷ শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠছে,সাগ্নিকের হাত থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যটা৷

    নীরার প্রোগ্রাম দেখতে সাগ্নিক ওর বাবা মা দুজনকেই নিয়ে এসেছে৷ সাগ্নিকের বাবা তো নীরার মাথায় হাত রেখে বললেন, গুণী মেয়ে, আমার কত শখ ছিল ছেলেটা গিটার বাজানো শিখুক৷ তো দু-দিন পিংপিং করে সব শেষ৷ ছেলেটা আমার অপদার্থ! অন্যসময় হলে সাগ্নিককে লেগপুল করার সুযোগটা কিছুতেই হাত ছাড়া করত না নীরা৷ কিন্তু সেদিনের পর থেকে ফোনে সাগ্নিকের কাছে অনেকবার ক্ষমা চেয়েও অপরাধী মনে হয়েছে নিজেকে৷ সাগ্নিক খুব স্বাভাবিক ব্যবহার করার চেষ্টা করছে… কিন্তু তবুও ওর অন্যমনস্ক মুখটা দেখেই নীরা বুঝতে পারছে ওর ভিতরে কিছু একটা চলছে৷ যদিও ওরা সারা জীবন ভালো বন্ধু হয়ে থাকবে কথা দিয়েছে৷ তবুও শুধুই ভালো বন্ধু ভাবতে পারছে না আর৷

    সাগ্নিক কোনো হোটেলই বুক করেনি ওদের জন্য৷ সকলকে নিয়ে গিয়ে তুললো নিজের বাড়িতে৷ তিনতলা বাড়ির ওপরের তিনটে ঘরে সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছে ওদের থাকার৷

    সাগ্নিকের ঠাম্মা তো নীরার চিবুক ছুঁয়ে বলেই ফেললেন,এই বুঝি আমার নাত বউ?

    সাগ্নিক সামলে নিয়ে ঠাম্মার কানে কানে কিছু বললো৷

    ঠাম্মার চোখে অবিশ্বাসী দৃষ্টি৷ নীরার ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে দেখেই সাগ্নিক বললো, তুমি এত হেজিটেট করো না, তোমার বিয়ের দিন আমি কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে আসবো৷

    নীরা ধীরে ধীরে বলেছিল, পেরেছো ক্ষমা করতে আমাকে?

    ভুল তো তোমার নয় নীরা! এত কম দিনের পরিচয়ে কেউ কি কাউকে বিশ্বাস করে? ভুলটা আমার ছিল৷ আমিই সব কিছু না জেনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম৷ নিজেকে দোষী ভেবো না প্লিজ৷

    সাগ্নিকের গলার আবেগি স্বর বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে নীরাকে৷ ওর পঁচিশের বসন্তকে অনবরত রাঙিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সাগ্নিকের উপস্থিতি৷

    এটা ভালোবাসা ছাড়া আর কি! তবুও জোর করেই নিজের মতের বিরুদ্ধেই বিয়েটাতে রাজি হয়েছে নীরা৷

    ঠাম্মাকে কথা দিয়ে এসেছে নীরা, আবার আসবে৷ সাগ্নিকের বাবা মাও বোধহয় কিছু আন্দাজ করেছেন৷ অন্তত ছেলের পছন্দটুকু বুঝতে পেরেছেন৷ নীরা যে শুধুই ছেলের বন্ধু নয় সেটুকু বুঝেই ওর মা বললেন, আমার ছেলে কিন্তু খুব বড়ো মনের নীরা৷

    সেটা এই ক-মাসে জেনে গেছে নীরা৷ না হলে শিমুলবাড়ির ঘটনার পরে আর হয়তো যোগাযোগই রাখতো না সাগ্নিক৷

    সাগ্নিকদের পুরো পরিবারকে নিমন্ত্রণ করে কার্ড এসেছে ওদের বাড়িতে…

    নীরার বিয়ের নিমন্ত্রণ পত্র৷

    নীরার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ওর আশীর্বাদের ছবি৷ পাশের ছেলেটা যে নীরার উড বি এটা কিছুতেই যেন মন থেকে মানতে পারছে না সাগ্নিক৷ বুকের ভিতরে তোলপাড়, রক্ত ক্ষরণ হয়েই চলছে৷ সেদিন যদি ঝোঁকের মাথায় নীরা সাগ্নিকের হাতটা ধরে চলে আসতে পারতো কলকাতায়, তাহলে হয়তো এই আশীর্বাদের ছবিটাতে ওর ছবি থাকতো… হয়তো লালচে সিঁদুরে নীরার সিঁথি রাঙিয়ে দিচ্ছে সাগ্নিক, এটাই হত নীরার প্রোফাইল পিকচার৷

    মা ঘরে ঢুকে বললো, নীরার জন্য কিছু একটা গিফট কিনতে হবে তো সানু?

    বাড়ির সকলে বারণ করেছিল নীরার বিয়েতে সাগ্নিককে যেতে৷ এমনকি অমন কঠিন হূদয় বাবাও এসে বলেছিল, সানু যাকে ভালোবাসো.. তাকে অন্যের হতে দেখতে পারবে? কষ্ট হবে না তোর?

    নিশ্চুপ থেকেছে সাগ্নিক৷ নিজে হাতে গিফট কিনেছে৷ নীরার গায়ের সেই চন্দনের পারফিউমের গন্ধে ঘুম ভেঙে গেছে মাঝরাতে৷

    বিয়ের দিন সকালে সাগ্নিক চলে গিয়েছিল পিসির বাড়ি৷ ওখান থেকে নীরাদের বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়৷ হয়তো নীরা বাড়িতে ওর পরিচয় দিয়েছে নেহাতই পরিচিত অথবা বন্ধু৷ হয়তো আরেকটু বাড়িয়ে বলেছে… উপকারী বন্ধু৷ গতবার আরামবাগ থেকে ফেরার সময়েই বাসে দেখা হয়েছিল নীরার সাথে,আর আজ এখানে এসেছে নীরার বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়ে৷ ভাগ্যের কি অদ্ভুত পরিহাস৷ ম্যাগাজিনের পাতায় চোখ রেখে সকলের দৃষ্টির আড়ালে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে সাগ্নিক৷ তবুও পিসি বললো, হ্যাঁরে সানু তোর কি কিছু হয়েছে? চোখগুলো অত লাল কেন?

    নীরার প্রিয় রং হালকা সবুজ… আজ সাগ্নিকের শার্টের রংও হালকা সবুজ৷ এখনো নীরার মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর কি অসীম ব্যাকুলতা ওর৷ নিজের মনকে বারবার বলছে সাগ্নিক, সামলে রাখ সাগ্নিক, নিজেকে সামলে রাখ৷

    কনের সাজে নীরাকে অপূর্ব লাগছে৷ লাল বেনারসী, লালচে ওড়না, ফুলের মালা জড়ানো রয়েছে ওর খোঁপায়৷ কপালে অল্প চন্দন আঁকা৷ ঠিক এই বেশেই নীরা এসেছিল সাগ্নিকের স্বপ্নে৷ তবে সেদিন ওর পাশে সাগ্নিকও ছিল বর বেশে৷ আজ সেই স্থানে অন্য কোনো মুখ৷

    বর এসেছে বর এসেছে… আওয়াজটা সব বিয়ে বাড়িতে ভীষন স্পেশাল৷ ওই মুহূর্তে যে যেখানেই থাকুক বর দেখতে ছুটে যাবেই৷ নীরা একাই বসেছিলো ওর নিজের ঘরে৷

    সাগ্নিক গিফট প্যাকটা ওর হাতে দিয়ে বলেছিল, সময় পেলে আমার দেওয়া উপহারটা খুলে দেখো৷

    নীরার চোখে কৌতূহল… কি আছে সাগ্নিক এতে?

    ভালো থেকো নীরা৷

    ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো সাগ্নিক৷

    প্যাকেট ছেঁড়ার আওয়াজ আর তারপরে বেশ জোরেই একটা ভেঙে পড়া কান্নার শব্দ ও শুনতে পেল নীরার ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে৷

    বর আসনে বর এসে বসেছে৷ নীরা বলেছিল ওর উড বি নাকি ভীষণ মেজাজী৷ মারাত্মক ডোমিনেন্ট মানসিকতার৷ সাগ্নিক দেখছিলো রজতকে৷ ওর চোখ দুটোয় অহংকারী দৃষ্টির আনাগোনা৷

    সাগ্নিকের হোয়াটস আপে মেসেজ ঢুকলো… বাড়ির সামনে আমার স্কুটিটা রয়েছে, দেখো চাবি লাগানোই আছে৷ ভালো চালাতে পারো না জানি… অন্তত গ্যারেজ থেকে বের তো করতে পারবে?

    সাগ্নিকের ছোট্ট উত্তর…পারবো৷

    পিছনের দরজা দিয়ে লাল বেনারসী পরা মেয়েটা বেরিয়ে এলো৷ তারপর আস্তে অথচ শাসনের স্বরে বললো, পিছনে বস৷ তোমাকে বিশ্বাস নেই,মাঝরাস্তায় হয়তো ফেলেই দিলে৷

    বেনারসীর আঁচল কোমরে গুঁজে স্কুটিটা স্টার্ট দিলো নীরা৷ বাড়ি থেকে কিছুটা আসার পরই বললো, আমার কোমর ধরে না বসে থেকে মাথার ওড়না, ফুল এগুলো অন্তত খোলো সাগ্নিক৷ এই ধরা-চুড়ো পরে ট্রেনে উঠলে লোকের আর কিছু বুঝতে বাকি থাকবে না৷ সাগ্নিক নীরার পিছনে বসে ওর ওড়ানো, খোঁপার ফুল খুব সাবধানে খুলে বললো, এগুলো এখন কি করবো নীরা? নীরা মুখ ঝামটা দিয়ে বললো, নিজে পরে নাও… ছুঁড়ে ফেলে দাও আর কি!!

    আবারো হাওড়া যাবার ট্রেনের খবরটা শুনেই দৌড় লাগলো দুজনে৷ কোনোমতে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেই হাঁপাচ্ছিলো নীরা৷

    সাগ্নিক বললো,আমার বাড়িতে তো কিছুই জানে না…একটা ফোন করবো?

    নীরা মুচকি হেসে বললো, ঠাম্মা সব ব্যবস্থা করে রাখবে বলেছে৷ আমি বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই ঠাম্মাকে কল করে দিয়েছিলাম৷ ঠাম্মা শুধু বললো, আমার নাতিটাকে ঠিকমত বাড়ি অবধি নিয়ে আয় নীরা, তারপর সব আমার দায়িত্ব৷

    নীরার কাঁধে সেই পার্পেল ব্যাগটা৷ তার থেকে বের করলো সাগ্নিকের দেওয়া গিফটা৷ বের করতেই অনেকগুলো ঘুঙুর একসাথে ঝমঝম করে বেজে উঠলো৷ নীরা ঘুঙুর জোড়া নিয়ে নিজের গালে মাথায় ঠেকালো৷

    সাগ্নিক নীরার হাতটা ছুঁয়ে বললো, তোমার জীবনের ছন্দকে থামতে দেব না আমি, কথা দিলাম৷

    সাগ্নিকের খুব ইচ্ছে করছে, নীরার ওই কাজল ঘেঁটে যাওয়া চোখের ওপরে নিজের ঠোঁট দুটো রেখে বলতে, স্বপ্নে ছিল তোমার রোজ আনাগোনা৷ আজ সব স্বপ্ন স্বপ্ন সত্যি হলো আমার জীবনে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার
    Next Article চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }