Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘরজামাই

    কীরে ঘরজামাই তোর শাশুড়ি আজ কি খাইয়ে অফিস পাঠাল? বিয়ের আট মাস পরেও অফিসে একই কথা শুনতে হচ্ছে দর্পনকে, আর একই ভাবে ওকে দেখে সকলে বলেই চলেছে, তোর আর চিন্তা কি রে তুই তো শালা শ্বশুরের হোটেলে খাচ্ছিস! মাইনে নিয়ে কি করবি রে! আমাদের মতো গরিবদের মধ্যে বিতরণ করে দে বস৷ এর মধ্যেই কার্তিকদা অফিসের সকলের সাথেই মজা করতে পছন্দ করেন৷ তিনি অফিস ঢুকেই বললেন, কোথায় আমার ঘরজামাই কোথায়? ওকে দেখেই দিনটা শুরু করি৷ পরজন্মে যেন দপর্নের মতো কপাল করি রে৷ তারপরেই অফিস জুড়ে একটা হাসির হুল্লোড়৷ যেন সামনে ৫./ক্ষ্মর জোকার দাঁড়িয়ে আছে৷

    দর্পন মিনমিন করে বলেছিলো, কেন মেয়েরা যদি আমাদের বাড়িতে এসে থাকতে পারে তাহলে আমরা কেন নয়?

    ওরে আমার সমাজ পরিবর্তক রাজা রামমোহন এলেন রে৷

    এক কাজ কর, তুই এবার তোর যে বাচচা হবে ওটাকে বরং তোর পেটেই নিয়ে নে৷ আহা! তোর আদুরে বউ-এর কষ্টটা একটু কমবে রে৷ কার্তিকদা নিজের ভুঁড়িটাকে নাড়িয়ে প্রেগন্যান্ট দর্পনের হাঁটাটা কেমন হবে সেটাই নকল করে দেখালো৷

    ভাগ্যিস সেই সময় ওদের বস এন্ট্রি নিলেন অফিসে তাই, সবাই চুপ করে গেলো৷ কিন্তু দর্পন জানে এটা শেষ নয়৷ লাঞ্চ টাইমেও চলবে৷ একঘেয়ে অফিসের কাজের মধ্যে দর্পনই যেন ওদের মজার খোরাক৷ মাঝে মাঝে মনে হয় বলছে বলুক, ওতো অদিতিকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছে৷ তখন অবশ্য জানতো না বিয়ের পরে অদিতি এমন একটা শর্ত দেবে! দর্পনের কোনো অসুবিধাই নেই অদিতির বাড়িতে থাকতে৷ কিন্তু পাড়া প্রতিবেশী থেকে অফিস, পরিচিতরা এমন চোখে ওর দিকে তাকায় যে মনে হয় ও কোনো গর্হিত কাজ করে ফেলেছে৷ ঘরজামাই থাকার সিদ্ধান্তে দর্পনের পরিবারের লোকেরা একটু চমকে উঠে বলেছিলো, তুই তো একাই ফ্ল্যাটে বা মেসে থাকতিস, এখন না হয় ফ্ল্যাট ভাড়াটা বেঁচে গেলো৷ ছোটদা হাসতে হাসতে বলেছিলো, যাক আমাদের বাড়ির একটা ঘর অন্তত পার্মানেন্টলি ফাঁকা হলো৷ আমরাও ছেলের বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম দর্পনকে৷

    বিয়ের পরে মাত্র চারবার অদিতিকে নিয়ে নিজের বাড়ি এসেছিলো দর্পন৷ আর কলকাতায় ওর কেনা সাতশো স্কোয়ার ফুটের ফ্ল্যাটটা এখন তালা বন্ধ৷ অদিতি ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান কিন্তু নয়৷ অদিতির একটা দাদাও আছে৷ সুভাষদা যে সকালে ব্রাশ করতে করতে রোজ বলে, ঘরজামাই জামাইয়ের মতো থকো, বাড়ির ছেলে হবার চেষ্টা করো না৷

    পুরুষ মানুষের চোখে জল বড়ো বেমানান! কিন্তু বুকের মধ্যে রক্তক্ষরণটা আটকাবে কি করে?

    ভোরের ঘুম ঘুম চোখে দর্পন তাকিয়ে আছে ঘুমন্ত অদিতির দিকে৷ স্নিগ্ধতা ছড়ানো বন্ধ চোখ দুটোয়৷ মনে পড়ে গেলো চাকরির ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার দিনটার কথা৷

    এমনিতেই মারাত্মক টেনশনে ছিলো দর্পন৷ তারমধ্যে ট্যাক্সি নিয়ে লেগে গেলো ঝগড়া৷

    কলকাতার জ্যামে পড়লে হেলিকপ্টার ছাড়া আর কেউই নির্দিষ্ট সময়ে অফিস পৌঁছাতে পারবে না জেনেও এতটা দেরি করে মেস থেকে বেরোনোটা ওর ঠিক হয়নি৷ এখন সল্টলেক পৌঁছাতে পাক্কা চল্লিশ মিনিট লাগবেই৷ যদি জ্যাম না থাকে৷ ওর হাতে আছে মাত্র একঘন্টা দশ মিনিট৷ ট্যাক্সিটাকে ডেকেছিলো দর্পন কিন্তু ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরী ওকে ওভারটেক করে উঠে পড়েছিলো ওর ডাকা ট্যাক্সিতে৷ নিরুপায় হয়ে দর্পন রিকোয়েস্ট করেছিলো ওকে সল্টলেকে নামিয়ে যদি ওনাকে গন্তব্যে পৌঁছানো হয় তাহলে বড়ো উপকার হয়৷ মেয়েটি ভস্ম করে দেবার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিলো, আমার ফ্রেন্ডসরা অপেক্ষা করছে, তাই আমি আগে যাবো৷ দর্পন চলন্ত গাড়ির মধ্যেই অনুনয় বিনয় করে যাচ্ছিলো, ওর ইন্টারভিউয়ে দেরি হয়ে গেলে ওর ভবিষ্যতের ব্যাপার!

    মেয়েটি একটা কথাও না বলে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে ছিলো৷ দর্পন বুঝেছিল, ওর সকাতর অনুনয় ওর কানেই পৌঁছাচ্ছে না৷ ঘনঘন ঘড়ি দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এখন৷ মাঝরাস্তায় নেমে যদি ট্যাক্সি না পায়! ড্রাইভার বললো, এবার বলুন কোথায় যেতে হবে৷ আমি এখান থেকেই টার্ন নেব৷

    মেয়েটি গম্ভীর গলায় বললো, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ৷

    দর্পনের মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিলো৷ যাক তাহলে অবশেষে ও ইন্টারভিউতে সময়ে পৌঁছাতে পারবে!

    দর্পন আপ্লুত হয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলেছিলো, ম্যাম … আপনি কি যে উপকার করলেন আমার!

    অদিতি বাসু, আমার নাম৷

    ইউনিভার্সিটির ফাইনাল ইয়ার৷

    জীবনে এই প্রথম আমি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে পরোপকার করে ফেললাম৷

    দর্পন কান পর্যন্ত হেসে বলেছিলো, দেখবেন সারাটা দিন আপনার দারুন কাটবে৷ মানুষের উপকার করলে মনে তৃপ্তি হয়৷

    চাকরির জন্যই নিজের ফোন নম্বর সহ একটা ভিজিটিং কার্ড বানিয়েছিলো দর্পন৷ সেটাই অদিতির হাতে দিয়ে বলেছিলো, এতে আমার পরিচয় দেওয়া আছে৷

    অদিতি হাতে নিয়ে বলেছিলো, জীবনে প্রথমবার মেয়েদের সাথে এত কথা বললেন বোধহয়, তাই না?

    উত্তরটা দেবার আগেই ওর স্টপেজ এসে গিয়েছিলো৷ দর্পন নেমে আবার গদগদ হয়ে অদিতিকে ধন্যবাদ জানানোর আগেই অদিতি ড্রাইভারকে বললো, ওনার পেমেন্ট তো কমপ্লিট, এবার চলুন,দাঁড়িয়ে আছেন কেন?

    দর্পন লিফট-এর বন্ধ দরজার ভিতরে দাঁড়িয়ে ভাবছিলো মেয়েটা কি ভালো,নাকি মারাত্মক মুডি! অদিতির মনে ঘনঘন আবহাওয়া পরিবর্তন হয় বোধহয়! চাকরিটা হয়ে গিয়েছিলো দর্পনের৷

    মাস খানেক ট্রেনিং পিরিয়ডের পরেই পোস্টিং হবে৷ ট্রেনিং-এ হায়দ্রাবাদ যেতে হবে দর্পনকে৷

    যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই ব্যস্ত হয়েছিলো দর্পন৷ সেদিনের ট্যাক্সির মধ্যের উপকারিণীকে ভুলে গিয়েছিলো ও৷ উপকারীকে কেই বা কবে মনে রেখেছে?

    ওদের ৫৫ জনের বড়ো দলটা যখন হায়দ্রাবাদ পৌঁছালো তখন ওখানের বাতাসে বেশ উষ্ণতার ছোঁয়া৷ পশ্চিমবঙ্গ-এ তখনও শীত বিদায় নেব কি নেব না ভেবে চলেছে৷

    ট্রেনিং পরে হবে, তার আগে নতুন শহর ঘুরে ফেলার প্ল্যান করেই সদ্য পরিচিত দলটার মধ্যে বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিলো৷ দীপক ম্যাপ বের করে শহরের আনাচ কানাচ চোখ বোলাচ্ছিলো৷ অবশেষে ঠিক হলো আজ সন্ধ্যাটা হোসেন সায়র লেক আর লুম্বিনী পার্কের লাইট এন্ড সাউন্ড দেখতে যাবে সকলে৷ অভিভাবক ছাড়া এই প্রথম দর্পনের বাড়ির বাইরে বেরোনো ৷ তাই নার্ভাসনেস আর ভালোলাগাটা একই সঙ্গে চলছিলো দর্পনের৷

    হোসেন সায়রের বোটে কেউ যে দর্পনের নাম ধরে ডাকতে পারে এটা বোধহয় একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল ওর কাছে৷

    সুরেলা মিষ্টি কণ্ঠস্বরে কেউ একজন ডাকছে দর্পন! মিস্টার দর্পন রায়!

    মাথা ঘোরাতেই একই বোটে বসে আছে সেই পরোপকারিনী… কি যেন নাম?

    অদিতি বাসু!

    দর্পন টলমল বোটে ব্যালেন্স করে অদিতির সামনে গিয়ে বললো, আরে মিস বাসু… কেমন আছেন? এখানে কি বেড়াতে?

    অদিতি বললো, নামটা কি ভুলে গেছেন? নাকি আমি আপনার অফিসের বস? যে সারনেম ধরে ডাকছেন?

    মুহূর্তে শুধরে নিয়ে ও বলেছিলো, ভুলবো কেন? উপকারীকে ভুলে গেলে তো অকৃতজ্ঞ হয়ে যায় মানুষ!

    ইউনিভার্সিটি ট্যুর… আপনার?

    ট্রেনিং পিরিয়ড অদিতি৷

    অদিতির ঠোঁটে হালকা হাসি, আবার আমাদের দেখা হলো কি বলুন?

    বুদ্ধ মূর্তির সামনে গিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে দলটা৷

    দর্পন আর অদিতি সামনের জলের ওপরে পড়া আলোর রেখার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো৷ হঠাৎই দর্পন বললো, আমাদের দ্বিতীয় সাক্ষাতকে স্মরণীয় করা যায় কি? অদিতি আলতো হেসে বললো, ’৪/০২২…

    কথা হবে …

    একটা অদ্ভুত তোলপাড় করা টানাপোড়েনে ভালো লাগার আবেশ ছড়াচ্ছিলো দর্পনের মনে৷ দর্পনের মনের টানাপোড়েন কি আদৌ ছুঁতে পারছিলো অদিতিকে?

    দুজনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলো৷ অদিতি বললো, কিছু বলছিলেন?

    দর্পন জিজ্ঞেস করেছিলো, আপনি কি কিছু শুনলেন?

    দুজনেই লজ্জা পেয়ে মুখ নিচু করেছিলো৷

    সেই রাতেই ফোনটা করেছিলো অদিতির ফোনে৷

    দর্পন খুব সাবধানে বলেছিলো, আপনি কি দ্বিতীয় দর্শনে প্রেমে পড়াটা বিশ্বাস করেন?

    অদিতি কিছুক্ষণের বিরতি নিয়ে বলেছিলো, আমি লাভ এট ফার্স্টসাইটেই বিশ্বাসী৷ কিন্তু কিছু মানুষ তো প্রথম দর্শনটা মনেই রাখতে চায় না!

    একটু কি অভিমানী সুর ছিলো অদিতির গলায়?

    দর্পন বলেছিলো, যদি তৃতীয় সাক্ষাতটা সকলের ভিড়ে না হয়, তাহলে কি আপত্তি আছে?

    অদিতি বলেছিলো, তাহলে ব্যাচের সাথে কাল রামজি যাচ্ছি ওখান থেকেই না হয় হারিয়ে যাবো আমরা৷

    অনেক কষ্টে টিম লিডারকে রাজি করিয়েছিলো দর্পন যে আগামীকাল যেন তাদের গ্রুপও রামজি ফিল্ম সিটি দেখতে যায়৷

    অদিতি আর দর্পন হারিয়ে গিয়েছিলো নিজেদের মধ্যে৷

    দর্পনের অপলক চাহনির সামনে অদিতি স্বীকার করেছিলো, যে প্রথম দিনেই দর্পনের ব্যবহারে ওর ভালো লেগেছিলো৷ তারপর ওদের প্রেমের নৌকা স্রোতবিহীন নদীতে তরতর করে এগিয়ে গিয়েছিলো৷

    লোন নিয়ে ফ্ল্যাট বুক করেছিলো, বিয়ের কার্ড ছাপানোর পরেই অদিতি বলেছিলো ফ্ল্যাট বুক করলে কেন? আমাদের এতো বড়ো বাড়ি থাকতে আমরা ওই ছোট্ট ফ্ল্যাটে কেন থাকবো দর্পন?

    অবাক হয়ে দর্পন বলেছিলো, কিন্তু অদিতি তুমি কলকাতা ছেড়ে আমাদের দেশের বাড়িতে মফস্বলে থাকতে পারবে?

    অদিতি অষ্টম আশ্চর্য দর্শনের চোখে তাকিয়ে দর্পনকে বলেছিলো, আমি তোমাদের বাড়ির কথা বলিনি, বলছিলাম আমাদের বাড়ির কথা৷ আমার বাবার ওই তিনতলা বাড়িটার কথা৷

    কিন্তু অদিতি বিয়ের পর তো মেয়েরা শ্বশুর বাড়িতে থাকে৷ সেখানে যদি আমি আর তুমি আমাদের নিজস্ব ফ্ল্যাটে থাকি তাহলে আমরা অনেক স্বাধীন ভাবে থাকবো৷

    অদিতি দর্পনের চোখে চোখ রেখে বলেছিলো, আমাকে ভালোবেসে তুমি পারবে না সমাজের সব নিয়ম ভাঙতে?

    সেদিনের অদিতির চোখের তারায় ভালোবাসা ছিলো, ছিলো অনেকখানি আবেগ৷

    দর্পন বলেছিলো, পারবো অদিতি… তোমার জন্য আমি সব পারবো৷

    তারপর বিয়ের পর থেকেই দর্পন নিজের জিনিস গুছিয়ে চলে এসেছিলো, শ্বশুরবাড়ি৷ লোকের মুখের ব্যাঙ্গাত্মক সব হাসিকে উপেক্ষা করে শুধু অদিতির মিষ্টি হাসিটার লোভে৷ ওকে ভালো রাখার তাগিদে নিজের ফ্ল্যাটটাকে তালাবন্দি করে চলে এসেছিল অদিতিদের বাড়িতে৷

    প্রথম একমাস সকলেই মেয়েকে সুখী করার জন্য দর্পনকে জামাই আদর করলো৷ তারপর শুরু হলো আড়ালে আবডালে কথা৷ যেগুলো অদিতির কানে না পৌঁছালেও দর্পন বুঝতে পারছিলো খুব ভালো ভাবেই৷

    ধীরে ধীরে অদিতিও ভুলতে বসেছিলো ঠিক কি কারণে নিজের বাড়ি ছেড়ে,সমাজ সংসারকে অস্বীকার করে এসেছিলো দর্পন৷ ইদানিং অদিতির চোখেও কেমন একটা অশ্রদ্ধা৷ সেদিন তো বলেই ফেললো, সংসারের দায়িত্ব তো আর নিতে হলো না৷ আমার বাবার কাছে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাচ্ছ৷

    দর্পন বলেছিলো, অদিতি আমি কিন্তু বাবাকে টাকা দিতে গিয়েছিলাম… আমাদের সংসার খরচ করার জন্যে৷

    অদিতি রাগী মুখে বলেছিলো, তুমি এটা পারলে? ওই কটা সামান্য টাকা আমার বাবা তোমার কাছ থেকে নেবে ভেবেছো? এটা তো তুমি আমার বাবাকে অপমান করলে দর্পন৷

    দর্পন বুঝতে পারেনি কোনটা অপমান আর কোনটা ভদ্রতা, আজও বোঝে নি ওর আর অদিতির সম্পর্কটা কেন ভালোবাসা থেকে আস্তে আস্তে তিক্ততার দিকে চলে যাচ্ছে!

    মাত্র আট মাস ! এর মধ্যেই অদিতির মনে হতে শুরু করেছে যে ভুল করেছে দর্পনকে বিয়ে করে৷ এমনকী অদিতির মা-ও নাকি বলেছে, কত শখ ছিলো একটা সম্ভ্রান্ত ছেলের সাথে অদিতির বিয়ে দেবে! তা নয় ওই লোনে কেনা সাতশো স্কোয়ার ফিট-এর ফ্ল্যাট আর ওই প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি?

    এটা কি আদিত্য নারায়ণ বাসুর একমাত্র মেয়ের যোগ্য স্বামী?

    কিছুদিন আগে পর্যন্ত অদিতি বলতো, যে যা বলছে বলুক, আমি তোমাকে ভালোবাসি দর্পন৷ তবে ছোটো থেকে ঐশ্বর্যের মধ্যে মানুষ হয়েছি তো তাই কষ্ট সহ্য করতে পারবো না৷ আর বাবা মা-ও আমাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না৷

    তাই অদিতির ইচ্ছেতেই অদিতির দাদার, বাবার বলা ঘরজামাই-এর আবার সম্মান! এগুলো শুনেও মুখে কুলুপ এঁটে ছিলো দর্পন… কিন্তু রক্তক্ষরণটা শুরু হলো, যেদিন অদিতি বললো… সত্যি দর্পন বড্ড ভুল হয়ে গেছে৷ জীবনে বড়ো হয়ে ওঠার অ্যাম্বিশনটাই নেই তোমার! বাবা ঠিকই বলে, দিতি দর্পন তোমার যোগ্য নয়৷

    অফিসের কাজে বারবার অন্যমনস্ক হয়ে গেছে, ভুল করেছে… ল্যাপটপ জানিয়ে দিয়েছে ওর ভুলগুলো৷

    দর্পন ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাচ্ছে৷ লোকের হাসির খোরাক হতেও আপত্তি ছিল না ওর৷ কিন্তু অদিতির চোখে ছোট হয়ে গেলো বলেই হয়তো মনের ভাঙ্গনটা শুরু হলো৷

    আজও অফিসে বিনোদ বললো, আর কি চাই গুরু… রাজত্ব রাজকন্যা নিয়ে বসে আছো! এসব চাকরি কি তোমাকে মানায়?

    কোথায় শ্বশুরের ব্যবসায় বসবে তা নয় দশটা পাঁচটা করছো?

    মনটা আজ একটু বেশিই খারাপ দর্পনের৷ অদিতির বার্থ ডে আজ ৷ ভোরে উঠে অদিতির জন্য কেনা শাড়িটা উপহার দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে গেলেই অদিতি বলে উঠলো, রুচিটা তোমার এখনো মধ্যবিত্তই থেকে গেল দর্পন! কথাটা বললো, ওর পছন্দ করা শাড়িটার দিকে তাকিয়েই৷ অদিতি ভুলে গেছে মাসে মাসে ফ্ল্যাটের লোন তাও শোধ করছে ও৷

    খাওয়া খরচ তো লাগে না, তো আরেকটু দামি গিফট আনতেও কি বুকে বেজেছিলো?

    কোনো উত্তর দেয়নি দর্পন৷ শুধু শক্ত মনের পুরুষ মানুষের চোখে এই প্রথম নোনতা জলেরা ভিড় করে এসেছিলো৷

    ভালোবাসার বিয়ের পরিণতিও কখনো কখনো এমন হয়? অদিতি আর দর্পনের মধ্যে ভালোবাসার খামতি ছিলো না কোনখানে৷ শুধু পার্শ্ব চরিত্রের আগমনেই শেষ হতে বসেছে ওদের সম্পর্কটা৷ কিন্তু কিছুতেই অদিতিকে বোঝাতে পারেনি দর্পন যে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে ওদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো৷

    জন্মদিনের পার্টিতেও দর্পন চুপ করেই ছিলো৷

    রাতেই অদিতি বোম্বটা ফাটাল ঘরের মধ্যে৷

    দর্পন আমি ডিভোর্স চাই৷ এভাবে চলে না গো৷ আমার পছন্দের সাথে তোমার পছন্দের বড্ড অমিল৷ গোটা জীবনটাকে টেনে বেড়ানোর ইচ্ছে আমার আর নেই দর্পন৷

    কিন্তু অদিতি আমি তোমাকে ছেড়ে কীভাবে থাকবো বলতো?

    ভুল দেখলো কি! না দর্পন ভুল দেখেনি… অদিতির চোখের কোনে একটু জলের রেখা যেন আটকে রয়েছে৷

    তুমি কি মিউচুয়াল ডিভোর্স দেবে! নাকি কেস করতে হবে? এখন যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে এই মেয়েটাই কি সেই লুম্বিনী পার্কের জলের ধারে দাঁড়িয়ে সারাজীবন একসাথে চলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো?

    নাকি এই মেয়েটাই বলেছিলো, দর্পন! ছোটো চাকরি আর ছোটো ফ্ল্যাটে কি ভালবাসা কখনো আটকে থাকে?

    এতদিন পর্যন্ত যেমন অদিতির মুখের হাসির জন্য ওর সব আব্দার মেনে নিয়েছিল, তেমন এটাও মেনে নিল নীরবে৷

    দিন তিনেক হলো ওরা সেপারেসনে আছে৷

    ফ্ল্যাটটাকে ভালো করে পরিষ্কার করিয়ে ফিরে এসেছে দর্পন৷ ও বাড়ির কেউ বলেনি, আরেকটু ভেবে দেখা যায় কিনা৷

    অদিতিকে ছেড়ে, ওদের বিবাহিত জীবনের আট মাসকে পিছনে ফেলে বেরিয়ে এলো দর্পন৷ অদিতি ঘর থেকে বেরোয়নি৷ শুধু বলেছিলো, উকিলের কাছে একদিন যেতে হবে, সেদিন এসো৷

    সত্যিই এতদিন ধরে ঘর জামাই থাকার কুফলটা প্রথম অনুভব করলো দর্পন৷ রাতে ফ্ল্যাটের নিচের দোকানের রুটি ঘুগনি ওর মুখে রুচলো না৷ লোকে ঠিকই ব্যাঙ্গ করে ওকে নিয়ে, শ্বশুরের বিনামূল্যের জামাই!!

    পুরোনো স্মৃতিগুলো বারবার ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অদিতির কাছে৷ দিনসাতেক পরে… সন্ধ্যের দিকে দর্পনের ফ্ল্যাটের নীচে বড়ো গাড়িটা এসে দাঁড়ালো৷ গাড়ির ভিতরে হয়তো অন্য কেউ আছে, আবছা দেখা যাচ্ছে তাকে… কিন্তু গাড়ি থেকে নামলো শুধু অদিতি৷ হাতে একটা শপিং ব্যাগ৷

    দর্পনের বিছানায় ছুঁড়ে দিয়ে বললো… তোমার কিছু জিনিস রয়ে গিয়েছিলো ও বাড়িতে৷ কিপটে মানুষের জিনিসের যা মায়া! তাই ফেরত দিয়ে গেলাম৷

    বারবার চেষ্টা করে চলেছে ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে অদিতির গাড়ির ভিতরের আবছা অবয়বটাকে দেখতে৷ এটাই বোধহয় অদিতির জীবনের দ্বিতীয় পুরুষ৷ আদিত্য নারায়ণ বাসুর সঠিক জামাই৷ তাই ঘর জামাইকে তাড়াহুড়ো করে তাড়িয়ে দিলো সকলে মিলে৷

    এই রে ডালটা পুড়ে গেলো৷ গ্যাসে ডাল সিদ্ধ বসিয়েছিলো দর্পন৷ ছোট্ট ফ্ল্যাটের বন্ধ কাঁচের জানালার মধ্যেই পোড়া গন্ধটা ঘুরপাক খাচ্ছে৷

    সিলিঙের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে দর্পন৷ কীভাবে ঝগড়া ছাড়া, কোনো বড়ো কারণ ছাড়া একটা সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় শুধু পাশের মানুষগুলোর হস্তক্ষেপে৷ আজ যদি অদিতির বাবা মা এভাবে সব কিছু ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা না করতো তাহলে ও আর অদিতি একইভাবে কাটিয়ে দিতে পারতো সাতটা জন্ম৷

    কথা ছিলো একসাথে হাঁটবো নীল নদীর পাড়ে৷ কথা ছিলো শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেব গোটা আহ্নিক গতি৷ কথা ছিল দর্পন আর অদিতির সন্তানের নাম হবে, দয়িতা৷ দর্পন বলেছিলো, একটা ছোট্ট অদিতিই চাই ওর৷

    সব কিছু কেমন পাখির বাসার মতো ভেঙে গেলো৷ অবাধ্য চোখ দুটো কোনো বারণ না মেনেই অনবরত নোনতা জল ঝরিয়েই চলেছে৷ হয়তো দিন সাতেকের মধ্যেই উকিল ডাকবে… কি বলবে দর্পন! ও তো অদিতিকে ছাড়া কিছুই বোঝে না৷ সেটা শুনে কি অদিতি আরেকবার ভাববে? নাকি ওর সমতুল্য পুরুষটিও সঙ্গে থাকবে, কখন অদিতিকে মুক্তি দেবে দর্পন৷ তারপরেই ওরা শুরু ওদের নতুন জীবন৷

    বুকের ভিতর সবসময় ধুকপুকুনি… এই বোধহয় উকিল ডাকলো ওকে৷ সম্পর্কের শেষ সুতোটা কেটে ঘুড়িটাকে ভোকাট্টা বলার দিন উপস্থিত৷

    ঠিক তিনদিন পরে, একই সময়ে অদিতির গাড়ি আবার থামলো দর্পনের ফ্ল্যাটের গেটে৷

    আবারও দর্পন দেখলো, ভিতরে একটা আবছা মূর্তি৷ বুকটা কেমন মুচরিয়ে উঠলো যেন৷ অদিতি ঝড়ের বেগে ঢুকে বললো, এই নাও তোমার অফিসের কিছু ডকুমেন্ট পড়েছিলো আমার আলমারিতে৷ যতসব জঞ্জাল! বলেই ঘুরে দাঁড়ালো অদিতি৷ একটু ধীর স্বরে বললো, অফিসে টিফিন নিয়ে যাও না? রাস্তার খাবার খাচ্ছ?

    না নিয়ে যাই তো… দর্পনকে কথাটা শেষ করতে দিলো না অদিতি৷ ধমকে উঠে বললো, তোমার তো মিথ্যে বলার রোগটা ছিল না বলেই জানতাম৷ আমি তোমার কলিগ বিনোদকে ফোন করেছিলাম… ওই বললো, তুমি নাকি রোজই ক্যান্টিনে খাচ্ছো?

    অদিতির এই ধমকটা বড্ড মিষ্টি লাগলো দর্পনের৷ ঠিক যেন সেই বিয়ের আগেকার অদিতি, যে ভালোবেসে বকতো দর্পনকে, আবার নিজের হাতে খাইয়েও দিয়েছে৷ দর্পন নীরবে একটু হাসলো৷ অদিতি আর দাঁড়ায় নি, চলে গেছে৷

    গাড়ির ভিতরের আবছা মূর্তিকে মনে মনে কল্পনা করে চলেছে দর্পন৷

    অফিসে ঢুকতেই কার্তিকদা বললো, কিরে ঘরজামাই! তোর বউ আজকাল অন্যের ফোনে ফোন করে তোর খোঁজ নিচ্ছে কেন?

    দর্পন একটু চুপ করে থেকে বললো, কার্তিকদা আমি আর শ্বশুর বাড়িতে থাকি না৷ তাই চেষ্টা করে দেখো না যদি ঘরজামাই বিশেষণ থেকে আমাকে বাদ দেওয়া যায়! দর্পনের গলায় হয়তো অনেকটা কষ্ট দলা পাকানো ছিল… কিছুক্ষনের জন্য নির্বাক হয়ে গেলো কলিগরা৷

    তারপর হেসে বললো, স্ট্যাম্প বস, একবার নামের আগে স্ট্যাম্প পড়ে গেলে আসলি নামটাই হাওয়া হয়ে যায়৷

    অদিতি ফোন করেছিলো, কাল অফিস আওয়ার্স-এ উকিলের কাছে যেতে হবে৷

    শেষ পর্যন্ত ডিভোর্সটা হয়েই যাবে ওদের৷

    আচ্ছা ওর এতদিনের সব আদর, সব স্পর্শ… সব মান অভিমানের মুহূর্তগুলোকে কি অদিতি নিমেষে ভুলে যেতে পারবে? পারবে নিশ্চই… ওর জীবনে তো আরেকটা মানুষের আগমন ঘটেছে৷ তাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে ওর স্বপ্নের সংসার৷ দর্পন তো হঠাৎ আবেগের বশে হয়ে যাওয়া ভুল ছিলো মাত্র৷

    দর্পন আগামী কাল অফিস ছুটির এপ্লিকেশনটা দিয়ে দিলো৷ কলিগরা বললো,কি ব্যাপার বউকে নিয়ে বেড়াতে নাকি?

    আর কি অফিসে বিষয়টা লুকিয়ে রাখা ঠিক হচ্ছে? চেষ্টা করেও বলতে পারছে না দর্পন৷

    অদিতির বলে দেওয়া নির্দিষ্ট উকিলের চেম্বারে গিয়ে প্রায় ঘন্টা দুয়েক অপেক্ষা করলো দর্পন৷ অদিতির ফোন সুইচ অফ৷ প্রায় ঘন্টা দুয়েক বসে থেকে ফিরে এলো দর্পন৷ নিজের ঘরে বসে টিভি দেখছিলো৷ বাংলা সিনেমা চ্যানেলে তখন চলছিল জতুগৃহ৷ বাইরে সন্ধ্যে নেমেছে৷ পর্দায় উত্তমকুমারকে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে দেখে প্রাক্তন স্ত্রীর উদ্বেগ৷ চমকে উঠলো দর্পন… তবে কি অদিতিও ওকে ভালোবাসে… ওই জন্যই জিনিস ফেরত দেবার নাম করে বারবার আসছিলো ওর ছোটো ফ্ল্যাটে৷ হয়তো চাইছিলো দর্পন একবার হাতটা টেনে ধরে বলুক,পারবো না থাকতে তোমাকে ছাড়া! ছোটো হোক, এটা তোমার সংসার৷

    কলিংবেলের আওয়াজে ধড়ফড় করে উঠলো দর্পন৷ দরজা খুলতেই দেখলো একটা বড়ো ট্রলি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছে অদিতি৷

    আরো কিছু ফেলে এসেছিলো হয়তো ওই বাড়িতে সেগুলোই ফেরত দিতে এসেছে৷

    এই নাও… এটা আমার রেগুলারের কাজ হয়ে গেছে, তোমার জিনিস পৌঁছে দেওয়াটা!

    আজ তুমি উকিলের চেম্বারে যাওনি কেন দর্পন?

    আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম৷ অদিতির গলায় রাগ মেশানো অভিমান৷ দর্পন বুঝলো, অদিতি নিজে না গিয়ে মিথ্যে বলছে… হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে দর্পনের মানসিকতা৷

    দর্পন বললো, যাইনি… কারণ আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না৷ আমি ডিভোর্স চাই না! প্লিজ অদিতি আমাকে ছেড়ে যেও না আর৷

    তোমার ওপর কি একটুও অধিকার নেই আমার?

    স্বামীর অধিকার না হয় নাই মানলে, ভালোবাসার অধিকারও কি অস্বীকার করবে?

    স্থবিরের মতো দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অদিতি৷ দুচোখে জল…

    খুব আস্তে আস্তে বললো, তুমি কেন এতদিন ধরে ও বাড়িতে মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করছিলে? আমি যখন ভুল করছিলাম তখন আটকাতে পরোনি কেন?

    নিচে তখনও গাড়িটা দাঁড়িয়ে৷ গাড়ির ভিতরের মানুষটা আজও অস্পষ্ট৷

    অদিতি ওপরের ব্যালকনি থেকেই চেঁচিয়ে বললো, তুমি ফিরে যাও মা… তুমি ফিরে যাও তোমার নিজের সংসারে৷ আজ থেকে আমি আমার ফ্ল্যাটে থাকবো৷

    আস্তে আস্তে পরিষ্কার হলো, অদিতির মায়ের মুখাবয়ব৷ রাগে প্রায় চিৎকার করলেন আদিত্য নারায়ণ বাসুর সহধর্মিনী৷ তুই তো বলেছিলি, দর্পনের জিনিসগুলো ফেরত দিয়েই ফিরে যাবি৷ আমরা তোর অন্যত্র ভালো বিয়ে দেব৷ চলে আয় বলছি…

    অদিতির চোখে একরাশ ঘৃণা… প্লিজ মা, নিজের গর্ভের সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনা না করতে পারো বিপথে নিয়ে যেও না৷ আজ অবধি তোমাদের কথা শুনে আমি দর্পনের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি, ও শুধু ভালোবাসে বলে সবটা সহ্য করেছে… তুমি চলে যাও মা, আমি তোমাদের পাহারা থেকে মুক্ত৷

    নিচেতে দাঁড়িয়েই গজড়াচ্ছেন মিসেস বাসু৷ তার পাহারাদারীর পাঁচিল ভেদ করে অদিতি আজ পৌঁছে গেছে দর্পনের কাছে৷

    দর্পন বললো, অদিতি আমি তো শুধু একটাই ডিম দিয়ে ঝোল বানিয়েছি৷ তোমার জন্য কিছু খাবার কিনে আনি? অদিতি সেই বিয়ের আগের মতো বাঁধন ভাঙা হেসে বললো, আমি কুসুম তুমি সাদাটা খেলে চলবে?

    এই অদিতিকেই দর্পন ভালোবেসেছিল! এর সাথেই কথা হয়েছিলো, একসাথে হাত ধরে এক পৃথিবী হাঁটবে তারা…

    ট্রলি ব্যাগটা খুলতেই বেরিয়ে গেলো অদিতির পোশাক৷ এতে তো দর্পনের কিছুই নেই৷ অদিতি হেসে বললো, আজ আমার জিনিস গুছিয়ে নিয়ে চলেই এসেছিলাম৷ তোমাকে ছাড়া প্রতিটা মুহূর্ত ওই বাড়িতে অসহ্য হয়ে উঠেছিলো দর্পন৷

    না, দর্পন একদম দুস্টুমি নয়… নিরিবিলি ফ্ল্যাট মানেই সব সুযোগ তোমার হাতে নয় কিন্তু৷ পিছচ্ছে অদিতি… কিছুতেই ধরা দেবে না দর্পনের হাতে৷ অদিতির মুখে এই মুহূর্তে ঐশ্বর্য্য হারানোর দুঃখ নেই, শুধুই প্রাপ্তির অনাবিল হাসি৷

    হাসতে হাসতেই বললো, কাল তোমার অফিসে গিয়ে বলে আসবো, আর কেউ যদি তোমাকে ঘরজামাই বলে ব্যঙ্গ করে তো তাকে আমি… অদিতির হাতের পাঞ্চের কায়দায় ওঠানো ঘুষিতে গভীর আবেগে একটা চুমু খেলো দর্পন৷ ওসব কথায় আমার কষ্ট হয় না অদিতি… শুধু তুমি সাথে থাকলে আমি সব বাধা জয় করতে পারবো৷

    এখন ভালোবাসায় আর আদরে ভাসছে ওদের নিজেদের সংসার৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার
    Next Article চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }