Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অতীতকে ভালোবেসে

    এই দিনটায় ভীষণ টেনশন হয় প্রদীপ্তর৷ আজ দু-আড়াই বছরেও এর কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ কলেজের প্রথম দিনের মতোই টেনশন নামক জিনিসটা বেশ চেপে বসে থাকে ওর ঘাড়ে৷ কলিগরা হেসে বলেন, প্রদীপ্তকে দেখে বোঝাই যায় না কে স্টুডেন্ট আর কেই বা প্রফেসর! কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারেনি প্রদীপ্ত যে এই দিনটায় ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাসে যাওয়ার আগে ও অন্তত বার তিনেক টয়লেটে ঢোকে, চার বোতল জল খেয়ে ফেলে৷ কারণ একটাই, প্রথম যেদিন এই কলেজে ঢুকেছিলো, সেদিনই ছিলো ফ্রেশারদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান৷ প্রদীপ্তও সবে মাত্র পা দিয়েছে কলেজে৷ প্রফেসর হিসাবে বয়সটাও নিতান্তই কম৷ সেদিন ফ্রেশারদের পাল্লায় পড়েছিলো ও৷ নাজেহাল হয়ে গিয়েছিলো ওদের ক্লাস নিতে গিয়ে৷ মেয়েরা যে এত বিচচু হয় আগে কোনোদিন জানতেই পারেনি প্রদীপ্ত৷ ছোটো থেকে বয়েজ স্কুলে পড়ার জন্যই হয়তো মেয়ে সম্পর্কে আড়ষ্টতা ওর কোনোদিনই কাটেনি৷ কলেজে দু একটা বান্ধবী যে ওর জোটেনি তা নয়, তবুও মেয়েদেরকে ও সাধারণত এড়িয়েই চলে৷ সেদিন ফার্স্ট ইয়ারে ক্লাসে ঢুকে অঙ্ক করাতে শুরু করেছিলো প্রদীপ্ত৷ হঠাৎ একটি মেয়ে বলে উঠলো, স্যার… আপনার কি রঙে এলার্জি আছে?

    মানে বেশি রঙচঙে জিনিসের দিকে তাকাতে পারেন না?

    প্রদীপ্ত ঘাবড়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বুঝতে চেয়েছিলো ওর নিজের এমন কোনো অদ্ভুত রোগ আছে কিনা! দু মিনিট পর উত্তর দিলো, না এমন কোনো প্রবলেম তো নেই৷ বরং রং দেখতে তো ভালোই লাগে৷

    মেয়েটির পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে স্যার আপনার কি মনে হয়, ম্যাথের ক্লাসে মেয়েগুলো বানের জলে ভেসে এসেছে? মানে আমরা কি বানভাসি স্যার?

    সত্যি বলতে কি প্রদীপ্ত কিছুতেই বুঝতে পারছিলো না মেয়েটার বক্তব্যটা ঠিক কি!

    মেয়েগুলো খিক খিক করে হাসি শুরু করেছিলো৷ প্রদীপ্ত অপ্রস্তুত হয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো৷ আরেকটি মেয়ে বললো, এই রাই কি হচ্ছে! বাচচা স্যার, এমন মজা করলে ভয় পেয়ে যাবে যে৷ সাতাশ বছরের প্রফেসর যে এদের কাছে নিতান্তই বাচচা ছেলে হতে পারে সেটা ভাবতেও পারেনি প্রদীপ্ত৷ রাই নামক মেয়েটি বান্ধবীর বকা খেয়ে বললো, না মানে স্যার ছেলেগুলো তো মাটি, আকাশ, মেঘ রঙের জামা পরে আছে, আমরা তো বেশি রঙচঙে পোশাক পরে আছি, আপনি একবারও আমাদের দিকে না তাকিয়ে শুধু ওদের দিকেই তাকিয়ে অঙ্ক বোঝাচ্ছেন, তাই ভাবছিলাম আপনার হয়তো কালারে এলার্জি আছে৷ অথবা আমরা মেয়েরা আপনার দৃষ্টিতে বানভাসি৷

    তারপর থেকে প্রদীপ্ত আড়ষ্টতা কাটিয়ে চেষ্টা করেছে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে পড়াতে৷ কিন্তু তবুও গত দু-বছর কলেজে পড়িয়েও ওর সেই সলজ্জ ভাবটা এখনও যায়নি৷

    জন্মসূত্রেই বাহ্যিক রূপটা পেয়েছে প্রদীপ্ত৷ এতে ওর বিশেষ হাত ছিলো না৷ মায়ের মতোই মুখশ্রী ওর৷ তাই তাকে কলেজের মেয়েরা আড়ালে এবং সম্মুখে হ্যান্ডু বলেই ডাকে৷ এটাও একটা চূড়ান্ত অস্বস্তির জায়গা৷ প্রতিবার এই ফার্স্ট ইয়ারের ছেলে-মেয়েদের নিয়েই একটু চাপে থাকে প্রদীপ্ত৷ মাস খানেক অন্তত সময় লাগে এদের বাগে আনতে৷ স্কুল পেরিয়ে এলেও এদের স্কুলের ওই ছেলেমানুষি আর দুস্টুমিগুলো কিছুতেই ছাড়তে চায় না৷ তাই ফ্রেশারদের চোখে মুখে থাকে একটা নির্মল সারল্য৷ কিন্তু শুধু সারল্য নয় সাথে প্রফেসরদের অপ্রস্তুতে ফেলতে পারলে তাদের খিল খিল হাসির ফোয়ারায় ক্লাস মুখরিত হয়ে ওঠে৷ তাই এই দিনটায় প্রদীপ্ত বেশ একটু আড়ষ্ট হয়েই থাকে৷

    আজও সেই একই ভঙ্গিতে কলেজের কমনরুমে পায়চারি করছিলো প্রদীপ্ত৷ রাজীবদা হাসি হাসি মুখে বললেন, কি ব্যাপার আমাদের তরুণ প্রফেসরের কি আজ লুজমোশন হয়ে গেছে নাকি! ফ্রেশাররা কি ইজ্জত কেড়ে নেবে নাকি তোমার?

    রাজীবদা ফিলজফির প্রফেসর৷ কিন্তু এতটাই মুখ আলগা, যে সবাই একটু সমঝে চলে৷ প্রদীপ্ত পায়চারি থামিয়ে বললো, আরে কি যে বলেন, আমার তিন বছর হয়ে গেলো এই কলেজে, এখনো কি সেইদিন আছে! রাজীবদা মুচকি হেসে বললেন, তা না থাকাই ভালো৷ তবে শুনলাম নাকি এবারের ফ্রেশাররা বেশ বিচ্ছু টাইপের৷ দেখো তোমাকে আবার না অ্যাট্যাক করে বসে৷ শুনেই হাতের তালু ঘামতে লাগলো প্রদীপ্তর৷

    সাহসে ভর করেই ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাসে ঢুকলো প্রদীপ্ত৷ ওকে দেখেই দুটো ছেলে বলে উঠলো, এই দেখ দেখ সিনেমার হিরো মার্কা প্রফেসর৷ অনেকটা রণবীর কাপুরের ছোটো ভাই টাইপ তাই না? মাঝে মাঝে নিজেরই বিরক্ত লাগে প্রদীপ্তর, মনে হয় ও কেন আরেকটু রাশভারী হলো না!

    বেশ কয়েকটি মেয়ে ফিচেল হেসে বললো, আপনি আমাদের সব ক্লাস নেবেন স্যার? নিন না স্যার, প্লিজ!

    প্রদীপ্ত এসব কথায় বেশি পাত্তা না দিয়েই বললো, তোমরা কারা কারা অঙ্ককে ভালোবেসে ম্যাথে অনার্স নিয়েছো, আর কারা কারা অন্য সাবজেক্টে অনার্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিয়েছো, সেটা একটু ক্লিয়ার করো তো৷

    একটি মেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, স্যার আমার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া অধিকারী, আমি ম্যাথমেটিক্স নামটাকেই ঘৃণা করি৷ তাও অনার্স নিয়েছি৷

    মেয়েটির দিকে তাকাতেই একটু চমকে উঠলো প্রদীপ্ত, একটা নিষ্পাপ সুন্দর মুখ, কিন্তু বড়ো বড়ো নিখুঁত চোখ দুটোতেই তীব্র ঘৃণা৷ যেন পারলে পৃথিবীর আহ্নিক গতিকে থামিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দিতে চায় সব কিছু৷

    গত দুবছর ধরে প্রদীপ্ত শুনে এসেছে, কেউ বলেছে অঙ্ক খুব ভালোবাসে৷ কেউ বলেছে কেমিস্ট্রি অনার্স ইচ্ছে ছিলো, না পেয়ে বাধ্য হয়ে ম্যাথে নিতে হয়েছে৷ আবার কেউ কেউ বলেছে, স্যার অঙ্কে বেশি মার্কস ওঠে তাই নিয়েছি৷ এই প্রথম কেউ বললো, ম্যাথমেটিক্স সাবজেক্টটাকেই ঘেন্না করে সে৷

    বড়ো একটা ঢোক গিলে প্রদীপ্ত বললো, কেন বিষ্ণুপ্রিয়া তুমি কেন ঘৃণা করো এই দুর্দান্ত সাবজেক্টটাকে? বিষ্ণুপ্রিয়া বেশ কিছুক্ষণ ডান হাতের নখ দিয়ে বাঁ হাতের নখগুলোর পার্পেল রঙের নেলপালিসকে নির্মম ভাবে খুঁটে উঠিয়ে দিলো৷ তারপর ঘাড় গোঁজ করে বললো, ম্যাথমেটিক্সের লোকেরা ভীষণ বাজে হয়, ভীষন পচা৷ জীবনের সব অঙ্ক গন্ডগোল করে দেয় এরা৷

    কথাগুলো বলার সময়েই বিষ্ণুপ্রিয়ার চোখ দুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছিলো৷ যেন চোখের শিরা ফেটে কয়েক ফোঁটা রক্ত বেরিয়ে আসতে চাইছে৷ যাহোক করে চোখের অবাধ্য জলকে শাসন করে দমন করলো বিষ্ণুপ্রিয়া৷ পাশের মেয়েটি ইশারায় বললো, এই প্রিয়া বসে পড় প্লিজ৷

    এতক্ষণে মেয়েটি সম্বিৎ ফিরে পেলো যেন৷ চমকে উঠে বললো, সরি স্যার৷

    প্রদীপ্ত আজকের ক্লাসটা শুরু করলো অন্য ভাবে৷ কারণটা বোধহয় ম্যাথমেটিক্স পড়া মানুষ মাত্রই যে খারাপ নয় সেটা প্রমাণের আশাতেই৷ প্রদীপ্ত বললো, আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে অংক রয়েছে৷ শুধু খাতায় কলমে কয়েকটা সংখ্যার যোগ-বিয়োগ মানেই কিন্তু অঙ্ক শেষ নয়৷

    বলেই ঘুরে দাঁড়ালো বিষ্ণুপ্রিয়ার দিকে৷ তারপর আস্তে করে বললো, বিষ্ণুপ্রিয়া তুমি তোমার হৃৎপিণ্ডের লাবডুব শব্দের গতি মেপেছো কখনো? না এটা শুধু একজন ডাক্তার পারেন তা নয়, একজন ম্যাথমেটিশিয়ানও পারেন৷ নিজের বুকের বাম দিকে আলতো করে হাতটা ছুঁয়ে দেখো, ওখানেও প্রতি সেকেন্ডে অঙ্কের খেলা চলছে৷ গোটা ক্লাস আজ চুপ৷ মন্ত্র মুগ্ধের মতো প্রদীপ্তর দিকে তাকিয়ে আছে বিষ্ণুপ্রিয়া৷

    প্রদীপ্ত বললো, অঙ্কের এই খেলাটা কবে শেষ হবে জানো? যখন মানুষ আর অনুভব করতে পারবে না, এই ধুকপুক আওয়াজটা৷ সেদিন আর মানুষের মাথা কষতে পারবে না জটিল অংকগুলো৷

    সেদিন হেরে যাবে গণিতের হিসেব নিকেশ, তার আগে পর্যন্ত এ অংকের কোনো শেষ নেই৷

    ফার্স্ট চ্যাপ্টারের বেশ কিছু অঙ্ক কষে দিয়ে বেরিয়ে গেলো প্রদীপ্ত৷ কিন্তু ওর সিক্সথ সেন্স বলেছিলো, একজোড়া কৌতূহলী চোখ সমানে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে৷ চোখ দুটো অন্য কারোর নয়, বিষ্ণুপ্রিয়ার৷ ঊনত্রিশ বছরেই জীবনে প্রোপজাল কিছু কম পায়নি প্রদীপ্ত৷ কলেজ স্টুডেন্ট থেকে আত্মীয়ের বিয়ে বাড়িতে গিয়েও প্রেম প্রস্তাব পাওয়াটাতে মোটামুটি অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছিলো প্রদীপ্ত৷ কিন্তু এই প্রথম কাউকে দেখে ওর মনে বসন্ত বাতাসটা উতলা হয়ে উঠলো যেন৷ মেয়েটার সাথে প্রদীপ্তর বয়েসের ফারাক প্রায় নয় বছর মতো৷ মেয়েটা নিতান্তই ইমম্যাচিওর, ওর সাবজেক্টকে ক্লাস শুদ্ধু ছেলেমেয়ের সামনে রীতিমতো অপমান করেছে, তবুও মেয়েটাকে কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছে না প্রদীপ্ত৷ এমনকী রাতে খাবার টেবিলে মা বললো, তুই আজ এত অন্যমনস্ক কেন রে? কলেজে কিছু হয়েছে? আজকাল তো শুনি কলেজে লেখা পড়া কম, রাজনীতি বেশি হয়, তো সেরকম কিছু বুঝি?

    প্রদীপ্ত আলটপকা বলে বসলো, মা বিষ্ণুপ্রিয়াকে চৈতন্যদেব মন থেকে স্ত্রী হিসাবে মেনে নেন নি কেন?

    রমলা দেবী ছেলের এ হেন প্রশ্নে একটু ঘাবড়ে গিয়েই বললেন, হঠাৎ বিষ্ণুপ্রিয়ার কথা কেন রে? তুই কি বাংলায় এম. এ. করবি ভেবেছিস? দেখ, আর পড়াশোনা নয়, যথেষ্ট হয়েছে৷ আমি বুড়ো হচ্ছি, এবার তো মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা বিয়ে কর৷ তাছাড়া বাংলা আর অঙ্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার৷ মা-কে থামানো দরকার ভেবেই প্রদীপ্ত বললো, উফ মা…আমি লিটারেচার নিয়ে পড়তে যাচ্ছি না গো৷ তুমি তো জানো লিটারেচার আমার কাছে আতঙ্ক ছিলো৷ শুধু ওই ক্যারেক্টারটার সম্পর্কে একটু জানতে চাইছি৷

    সেই আগে একটা সিরিয়াল হতো না টিভিতে! সিরিয়ালের কথায় মা দারুণ ইন্টারেস্ট দেখিয়ে বললো, আহা মেয়েটা যে বড়ো অভাগা রে৷ চৈতন্যদেব কোনোদিন মন থেকে স্ত্রী হিসাবে মেনেই নিলেন না অমন সুন্দরী মেয়েকে৷ লক্ষীদেবীর মৃত্যুর পর তো গৃহত্যাগী হয়ে গেলেন উনি৷

    বিষ্ণুপ্রিয়াকে লোকে বললো, স্বামীকে আটকে রাখতে পারল না৷

    মা নিজের মনে বলেই চলেছে, আর প্রদীপ্তর চোখের সামনে ভাসছে সাদাতে আর পার্পেল কালারের ফুল ছাপ চুড়িদার পরা মেয়েটার ভাসা ভাসা চোখ দুটোতে যেন সমস্ত পৃথিবীর রাগ এসে জমেছে৷

    রাতে ঘুমের মধ্যেও বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিলো বিষ্ণুপ্রিয়ার বলা ওই মারাত্মক কথাগুলো, যারা ম্যাথমেটিক্স নিয়ে পড়ে, তারা খুব খারাপ হয়৷

    আচ্ছা কেন বললো মেয়েটা এই কথা? তার মানে কি কোনো ম্যাথের ছেলের সাথে মেয়েটার প্রেম ছিল, আর ছেলেটা কি বিষ্ণুপ্রিয়াকে কোনোভাবে চিট করেছিলো, তাই ওর এতটা রাগ জন্মেছে৷ ধুর মিলছে না উত্তরগুলো৷

    পরের দিন ফার্সট ইয়ারের কোনো ক্লাস ছিলো না প্রদীপ্তর৷

    বিজলী ম্যাম কমন রুমে ঢুকেই বললেন, ফার্স্ট ইয়ারে একটা মারাত্মক ন্যাকা মেয়ে ঢুকেছে৷ আজ তাকে অ্যানালিসিস বোঝাতে গিয়ে বুঝলাম, এই কলেজের ম্যানেজমেন্ট বেশ টাকা খেয়ে স্টুডেন্ট ভর্তি নেয়৷ সম্ভবত মিনিস্টার কোটায় ভর্তি হয়েছে মেয়েটা৷ কিচ্ছু জানে না, জাস্ট কিচ্ছু নয়৷ বুকের ভিতরটা ধুকপুক করছিলো প্রদীপ্তর৷ ভয়ে ভয়েই জিজ্ঞেস করলো, কার কথা বলছেন বিজলীদি?

    বিজলীদি রাগী গলায় বললেন, ওই বিষ্ণুপ্রিয়া নাকি নাম মেয়েটার৷ কি চূড়ান্ত বেয়ারা মেয়ে রে বাবা৷ দুটো অঙ্ক দিলাম, সবাই করলো, কেবল ওই মেয়েটা বলে নাকি… অঙ্ক করা মানুষরা খুব নোংরা হয়, তাই সে কষবে না৷

    আমি শেখাতে গেলাম, সারাক্ষণ পেন কামড়ে বসে থাকলো৷ বিরক্তিকর, কোথা থেকে যে এরা আসে কে জানে? বিজলীদি গজগজ করতে করতে বসে পড়লেন৷

    প্রদীপ্ত সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাস নিতে যাবার ফাঁকে আড়চোখে দেখলো, ফার্স্ট ইয়ারে ম্যাথের ক্লাসের দিকে৷ দেখলো মেয়েটা একমনে কি একটা পড়ছে৷ মেয়েটা নিজের চারিদিকে একটা অদ্ভুত বলয় তৈরি করে নিয়েছে, তাই তার চারপাশে কোনো বন্ধু-বান্ধবীর সমাবেশ নেই৷ সকলে আনন্দ ফুর্তি করছে, আর এ মেয়ে যেন পাথর প্রতিমা৷ প্রদীপ্তর খুব ইচ্ছে হলো, ও কি পড়ছিলো সেটা দেখার জন্য৷

    নিজেকে সম্বরণ করতে না পেরে ক্লাস রুমে ঢুকে বললো, আজ বোধহয় আমার তোমাদের ক্লাস নেই৷ ক্লাস শুদ্ধু সতর্কিত৷ শুধু কোনো হুশ নেই বিষ্ণুপ্রিয়ার৷ সে এক মনে পড়েই চলেছে হাতের বইটা৷ প্রদীপ্ত বললো, তুমি কি বই পড়ছো?

    চমকে উঠে নিজের বইটা লুকানোর চেষ্টা করলো৷ যদিও সেই অবসরে প্রদীপ্ত দেখে ফেলেছে যে বিষ্ণুপ্রিয়া জে ভি স্তালিনের লেখা ‘দ্বন্দ্ব মূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদের’ ওপর একটা বই পড়ছে৷ অবাক হবার বোধহয় এটুকুই বাকি ছিলো প্রদীপ্তর৷

    ধীরে ধীরে বললো, বিষ্ণুপ্রিয়া আমার কিছু কথা আছে তোমার সাথে৷ কলেজ ছুটির পর কমনরুমের সামনে অপেক্ষা করো৷ মেয়েটার মুখে প্রথমে ভয়ের চিহ্ন গুলো পরিষ্কার হলো, তারপর ধীরে ধীরে তা রূপ বদল করে ঘৃণায় পরিণত হলো৷

    জেদি গলায় বললো, আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই৷ অপমানে প্রদীপ্তর মুখটা নীল হয়ে গিয়েছিলো৷ তবুও সামলে নিয়ে বললো, বেশ তো তোমাকে বলতে হবে না, আমি বলবো৷

    পিছন থেকে দুটো ছেলে বললো, স্যার শুধু বিষ্ণুপ্রিয়ার সাথে কথা আছে? আমাদের সাথে নেই? কেন স্যার আমরা ছেলে বলে? ওদের কথায় কোনো পাত্তা না দিয়েই বেরিয়ে এলো প্রদীপ্ত৷

    ছুটির পরে অবশ্য প্রদীপ্ত আশা করেনি যে বিষ্ণুপ্রিয়া নামক তেজি উল্কা পিন্ডটা ওর কথা মতো ওর জন্য অপেক্ষা করবে৷ তাই ও আশা ছেড়ে দিয়েই গ্যারেজের দিকে এগোচ্ছিলো৷ ঠিক সেই সময় পিছন থেকে কেউ বললো, এই জন্যই বলি, ম্যাথ নিয়ে পড়া লোকেরা ভীষণ পচা হয়৷ কথা দিয়ে কথার দাম টুকু পর্যন্ত রাখার প্রয়োজন নেই৷

    কথার ঝাঁঝালো গন্ধেই প্রদীপ্ত পিছনে না ঘুরেও বুঝে ফেলেছে নারী কণ্ঠটি কার৷

    ইশারায় ও বোঝালো যে ও বিষ্ণুপ্রিয়াকেই খুঁজছিলো৷ গাড়ির ভিতরে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, প্রদীপ্তও বেশ ভালোই ড্রাইভ করে, তবুও আজ আরেকজনের উপস্থিতির কারণেই বোধহয় নাকের ডগাটা ঘেমে উঠেছে প্রদীপ্তর৷ বেশ কিছুক্ষণ নীরবতার পরে বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, আমাকে কি কলকাতার জ্যাম দেখানোর জন্য আপনি গাড়িতে চাপালেন! তীব্র বেগে আসা কথাটা সামলে নিয়েছে প্রদীপ্ত৷ তারপরেই গাড়ির গতি হালকা করে বললো, এবার বলো তো এই পচা সাবজেক্ট নিয়ে অনার্স শুরু করলে কেন? ইতিহাস এর মত ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট থাকতে ম্যাথের মতো বোরিং সাবজেক্ট কেন? মেয়েটা চোখ নিচু করে চুপ করে আছে৷ প্রদীপ্ত ফিসফিস করে বললো, তোমাকেও বুঝি আমার মতোই জোর করে ভরতি করে দিয়েছে?

    বড়ো বড়ো চোখ দুটোতে অবুঝ অবিশ্বাসী চাহনি৷ প্রদীপ্ত জিভে একটা আফসোসের আওয়াজ করে বললো, আমার তো ফেবারিট সাবজেক্ট ছিলো বেঙ্গলি৷ আমার বাবা জেদ ধরে এই বোরিং ম্যাথ নিয়ে ভর্তি করলো৷ এখন দেখো, আমি ম্যাথের প্রফেসর৷ বিষ্ণুপ্রিয়া উৎসাহের বশে বলে বসলো, আপনার বাবাও হিটলার! আমার বাবাও আমাকে ইচ্ছে করে অপছন্দের সাবজেক্ট নিয়ে ভর্তি করে দিয়েছে৷ আমিও জেদ ধরেছি, আমি এক্সামে সাদা খাতা জমা দেব৷ আমার বাবা বলে, অঙ্কে পুরোটাই সলিড নম্বর, কিন্তু বাবা এটা জানে না যে অঙ্কের শুরুতে শূন্য বলেও একটা সংখ্যা আছে৷ সে অঙ্কবিদরা যতই তাকে সংখ্যা বলে গ্রাহ্য না করুক৷ যখন দেখবে আমি প্রতিটা এক্সামে বিগ জিরো পাচ্ছি তখন শূন্যকে সংখ্যা বলে মানতে বাধ্য হবে৷ বিষ্ণুপ্রিয়ার ঠান্ডা মাথার প্ল্যান শুনে মেরুদণ্ডের ভিতর দিয়ে রক্তের একটা হিমস্রোত বয়ে গেলো প্রদীপ্তর৷ তার মানে মেয়েটা চুপচাপ আত্মহত্যার পথে পা বাড়িয়েছে৷ বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজের কেরিয়ারটা দায়িত্ব নিয়ে শেষ করে দেবে বিষ্ণুপ্রিয়া৷

    গাড়ির কাচ ভেদ করেই শেষ বিকেলের আলো পড়েছে বিষ্ণুপ্রিয়ার মুখে৷ চৈতন্যদেব মহাপুরুষ ছিলেন তাই হয়তো এমন মায়াবী চোখের জলকে অগ্রাহ্য করতে পেরেছিলেন, কিন্তু প্রদীপ্ত তো আর কোনো মহান ব্যক্তি নয়৷ তার হূদয় নিতান্তই দুর্বল৷ তাই ওই মায়াবী মুখ থেকে চোখটা সরিয়ে গাড়ির স্টিয়ারিং-এ মন দিলো৷ এত তাড়াতাড়ি অ্যাকসিডেন্ট করে পরকালে যাবার ইচ্ছে ওর নেই৷ সাথে আজ রাতে মাকে গিয়ে বলতেও হবে, ঊনত্রিশটা এমন কিছু বয়েস নয় বিয়ে করার৷ ওটা বত্রিশ তেত্রিশ হলে কিছু ক্ষতি নেই৷ প্রদীপ্তর বাবার সাথেও তো ওর মায়ের প্রায় দশ বছরের ছোটো বড়ো, দুজনে তো দারুণ একটা ইনিংস খেললো বিবাহিত জীবনে৷ তাহলে বিষ্ণুপ্রিয়া যদি ওর থেকে নয় বছরের ছোটোও হয় তাতেই বা কোন মহাভারত অশুদ্ধ হবে!!

    বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, আপনার কথা নিশ্চয়ই শেষ হয়ে গেছে৷ আমাকে নামিয়ে দিন৷

    মেয়েটার সব ভালো, কিন্তু দশ মিনিট অন্তর অন্তর কেন যে ক্ষেপে ওঠে কে জানে!

    প্রদীপ্ত দৃঢ় স্বরে বললো, কিন্তু আমি তো আজ তোমার বাড়ি যাবো৷ তোমার বাবাকে ভীষণ বকে তারপর ফিরবো৷ উৎসাহে বিষ্ণুপ্রিয়ার চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠলো৷ সত্যি আপনি যাবেন?

    বিষ্ণুপ্রিয়াদের বাড়িতে ঢুকেই বুঝতে পারলো প্রদীপ্ত যে ওর বাবা বেশ ভালো গণিতবিদ৷ টাকার অঙ্কটা যে বেশ ভালো বোঝেন ভদ্রলোক সেটা আর বুঝতে বাকি রইলো না ওর৷ চারিদিকে দামি দামি ফার্নিচার, ইন্টিরিয়ার ডেকোরেশনের সুক্ষ নিখুঁত কাজ গোটা বাড়ি জুড়ে৷ বেশ অঙ্ক কষেই জীবনের নৌকাটাকে চালাচ্ছেন ভদ্রলোক৷ কিন্তু উনি জানেন না ওনার এই নিখুঁত গণিতকে নিমেষে ধূলিসাৎ করতে তার মেয়ে বদ্ধপরিকর৷

    কানে ফোন নিয়েই ড্রয়িংরুমে ঢুকলেন ভদ্রলোক৷ বিষ্ণুপ্রিয়ার বাবার চেহারার আভিজাত্য দেখেই বোঝা যায়, হঠাৎ গজিয়ে ওঠা বড়োলোক নন৷ বিশ্বনাথ অধিকারী ইশারায় প্রদীপ্তকে বসতে বলে, ফোনের কথা শেষ করলেন৷ তারপরেই প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, ইনি কে ?

    বিষ্ণুপ্রিয়া আলতো করে বললো, আমার কলেজের ম্যাথমেটিক্সের প্রফেসর৷ তোমার সাথে কথা বলতে চান৷

    কথাটা বলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলো বিষ্ণুপ্রিয়া৷

    এতটা আবেগের বশবর্তী হয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষটার সামনে আসাটা বোধহয় ঠিক হয়নি প্রদীপ্তর৷ ভদ্রলোক যদি অপমান করে! প্রদীপ্ত শুনেছিলো, প্রেমে পড়লে নাকি মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়৷ আজ বুঝতে পারলো কথাটা একদম সত্যি৷ এখন বাঘের খাঁচায় বসে এসব ভেবে লাভ নেই৷ নিজেকে সামলে নিয়ে শুরু করলো প্রদীপ্ত৷ ভদ্রলোকের চোখে তখনো একরাশ বিস্ময়৷

    আরেকটু হলেই প্রদীপ্ত বলে ফেলতে যাচ্ছিলো, আপনার মেয়ের সাথে আমার বিয়েটা দিয়ে দিন৷ তারপর আমি বুঝবো ও ইতিহাস নিয়ে পড়বে নাকি ম্যাথ! নিজের অবাধ্য জিভকে সম্বরণ করলো কষ্ট করে৷ তারপর প্রফেসর সুলভ গাম্ভীর্য রেখে শুরু করলো, স্যার আপনার মেয়েকে হয়তো আপনি অর্থ বা পজিশনের জোরে ওই কলেজে ম্যাথে অনার্স নিয়ে ভরতি করে দিলেন, কিন্তু একবারও ভাবলেন না যে ওর ম্যাথমেটিক্স অনার্স নিয়ে পড়ার মতো ক্ষমতা আছে কিনা? আরে বাবা অঙ্কে ওর কোনো দখলই নেই৷ ও ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকছে, অঙ্ক বুঝতেই পারছে না৷

    এই পর্যন্ত বলার পর বিশ্বনাথ বাবু ইশারায় থামতে বললেন, তারপর বাজখাই গলায় হাঁক পারলেন, প্রিয়া তোমার রেজাল্টের ব্লু কালারের ফাইলটা নিয়ে এসো তো৷

    ভদ্রলোকের গলা শুনে প্রদীপ্তরই গলাটা শুকিয়ে গিয়েছিলো, আহা রে ওই কচি মেয়েটা কি করে যে এই যমপুরীতে থাকে! যে ভাবেই হোক, মেয়েটাকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে হবে৷ নিজেকে কেমন একটা পৃথীরাজ মনে হচ্ছে যেন৷

    বিষ্ণুপ্রিয়া একজন পরিচারিকা গোছের মহিলার হাতে চা আর স্নাক্স দিয়ে নিজে পিছনে পিছনে ফাইল হাতে এলো৷

    বিশ্বনাথ বাবু নির্দেশের সুরে বললেন, চা খান৷

    ফাইল খুলে দুটো রেজাল্ট বের করে রাখলেন প্রদীপ্তর সামনে৷ দুটোতেই বিষ্ণুপ্রিয়া ম্যাথে ১০০৷ মাধ্যমিকের ইতিহাসেও অবশ্য পঁচানববই পেয়েছে৷ বাকি সবেতে মোটামুটি ঠিক ঠাক৷ ওর ম্যাথের মাধ্যমিক, উচচমাধ্যমিকের নম্বর দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলো প্রদীপ্ত৷ যে মেয়ে একশো পায়, সে এই সাবজেক্টটাকে ঘৃণা কেন করবে৷

    বিষ্ণুপ্রিয়া চলে গেছে৷

    প্রদীপ্ত বললো, কিন্তু স্যার ও তো হিস্ট্রি ভালোবাসে৷

    ওর কথাটাকে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রেখে দিয়েই উনি বললেন, আমাদের গুষ্টির সকলে অঙ্ক ভালোবাসে৷ ওসব অতীত ঘেঁটে কিছু হবে না৷ তাই ইতিহাস কোনোভাবেই নয়৷ বিষ্ণুপ্রিয়া ম্যাথ নিয়েই পড়বে৷ আমাদের ফ্যামিলির কেউ ওই বোগাস আর্টস নিয়ে পড়েনি আজ পর্যন্ত কেউ পড়েনি৷

    প্রদীপ্ত ফিরে এসেছে৷ কিছু কিছু মানুষ থাকে যাদের বুঝিয়ে বিশেষ লাভ হয় না৷ বিষ্ণুপ্রিয়ার বাবাও সেই দলেই পড়েন৷

    কলেজে রোজই একটা অন্যমনস্ক মেয়েকে ক্লাসে ধীরে ধীরে শেষ হতে দেখছিলো প্রদীপ্ত৷ কমন রুমের আলোচনাও শুনছিলো, বিষ্ণুপ্রিয়া নামক মেয়েটার নূন্যতম জ্ঞান নেই অঙ্কে৷ বিষ্ণুপ্রিয়া পরিষ্কার বলে দিয়েছে প্রদীপ্তকে, যে সে যখন অঙ্ক ভালোবেসে করতো তখন সে অনেক নাম্বার পেয়েছে, কিন্তু যখনই তার ঘাড়ে জোর করে অংককে চাপানো হয়েছে, তখন থেকেই শুরু হয়েছে ওই সাবজেক্টের প্রতি বিতৃষ্ণা৷ বাবা বলেছিলো, মাধ্যমিকে, উচচমাধ্যমিকে যদি ও ভালো রেজাল্ট করে তাহলে ওর পছন্দের সাবজেক্ট নিয়ে হায়ার স্টাডি করতে দেবে৷ কিন্তু বাবা মিথ্যেবাদী৷ ম্যাথমেটিক্স পড়া লোকেরা মিথ্যেবাদী হয়৷

    ফার্স্ট টার্মের রেজাল্ট আউট হলো৷ যথারীতি বিষ্ণুপ্রিয়া চারটে পেপারেই বিগ জিরো পেয়েছে৷

    মনটা খারাপ হয়ে আছে প্রদীপ্তর৷ মেয়েটাকে এত বুঝিয়েও কিছু করতে পারলো না৷ মেয়েটা নিজের জেদ ধরে রাখলো৷ বেশ কিছুদিন আর কলেজে আসছে না বিষ্ণুপ্রিয়া৷ একটা অব্যক্ত কষ্ট হচ্ছে প্রদীপ্তর৷ কারোর কাছে ঠিক প্রকাশ করা যাচ্ছে না৷

    সেকেন্ড ইয়ারের ক্লাসে ঢুকেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠছে প্রদীপ্তর৷ সবই চেনা মুখ শুধু বিষ্ণুপ্রিয়া নেই৷

    হঠাৎই একদিন মধ্যরাতে ফোনটা এলো৷ ঘুম জড়ানো গলায় প্রদীপ্ত হ্যালো বলতেই, ও প্রান্তের অতি পরিচিত কণ্ঠটি বলে উঠলো, দরজা খুলুন৷ আমি আপনার ফ্ল্যাটের সামনে৷ সিকিউরিটি আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না৷ তাছাড়া আমি জানিও না কোন ফ্লোরে আপনার ফ্ল্যাট৷

    মা বলতো, ছোটোবেলা থেকে নাকি ভুলভাল স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে বিছানায় কয়েকবার টয়লেট অবধি করে ফেলেছিলো প্রদীপ্ত৷ আবার নাকি ঘুমের ঘোরে মুখে মুখে অঙ্কের থিওরি আওড়ানোটাও ওর অভ্যেস আছে৷ তাই ফোনে বিষ্ণুপ্রিয়ার গলা পেয়ে প্রথমে ভেবেছিলো, এটা নিশ্চয়ই প্রেমে পড়ার সাইড এফেক্ট৷ কিন্তু যখন বুঝতে পারলো এটা স্বপ্ন নয়, রীতিমতো ঝাঁজালো গলার বক্তব্য, তখন ঝেড়ে মেরে উঠে পড়লো বিছানায়৷ কোনোমতে বারমুডার ওপরে একটা গেঞ্জি চাপিয়ে লিফট ছাড়াই নামতে শুরু করলো চারতলা থেকে৷ তিনতলায় নেমে খেয়াল হলো, তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর জন্য লিফট ব্যবহার জরুরি৷ সিকিউরিটির দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে বিষ্ণুপ্রিয়া৷ হাতে বেশ বড়ো একটা ট্রলি ব্যাগ৷ ঘড়িতে দেখলো রাত তখন তিনটে বাজে৷

    ঘাবড়ে গিয়ে প্রদীপ্ত বললো, তুমি এ সময়?

    বিষ্ণুপ্রিয়া নিজের ব্যাগটা ওর হাতে দিয়ে বললো, এমন গামবাট সিকিওরিটি রাখেন কেন আপনাদের কমপ্লেক্সে৷ এতবার বলছি, আপনি আমার ফিয়াসে, তবুও ঢুকতে দিচ্ছে না৷ সারারাত জল না খাওয়ার জন্যই বোধহয় বেদম কাশতে লাগলো প্রদীপ্ত৷

    প্রদীপ্ত যে বিষ্ণুপ্রিয়াকে ভালোবাসে, এমন কথাও তো কখনো উচচারণ করেনি ওর সামনে৷ মা যা একটু আধটু জানে৷ মেয়েটা এমন কথা বললো কিসের ভরসায়! প্রদীপ্তর ছানা বড়া চোখের সামনে, বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, আপনি যখন আড়চোখে আমার দিকে তাকাতেন তখনই বান্ধবীরা বুঝতে পেরেছিলো আপনি আমার প্রেমে পড়েছেন৷ যদিও আমি খুব বেশি গুরুত্ব দিইনি৷ কিন্ত আজ এই বিপদের দিনে আপনাকেই মনে পড়লো৷ আমি ফার্স্ট টার্মে যে ইচ্ছে করে শূন্য পেয়েছি সেটা বোধহয় আমার বাবা বুঝতে পেরে গেছে৷ তাই উঠে পড়ে লেগেছে আমার বিয়ে দেবার জন্য৷ বাবারও আমার মতোই জেদ তো, তাই এভাবে আমাকে জব্দ করতে চাইছে৷

    প্রদীপ্ত বললো, কিন্তু তোমার বাবা যদি আমার বাড়িতে ধাওয়া করে তাহলে?

    বিষ্ণুপ্রিয়া বিরক্ত হয়ে বললো, ধুর বাবা! আমরা তো কালকেই কালীঘাটে গিয়ে বিয়েটা সেরে ফেলবো৷ তারপরেই তো আমি আপনার বাড়িতে থেকে হিস্ট্রি অনার্স নিয়ে ভর্তি হবো৷

    প্রদীপ্ত ফিসফিস করে বললো, সব অঙ্কই কষে ফেলেছো দেখছি৷ কিন্তু প্রিয়া, আমিও তো অনাথ নই, আমারও তো মা বাবা আছেন৷ তাদের মতামত ছাড়া…

    বিষ্ণুপ্রিয়া বেশ গম্ভীর ভাবেই বললো, একটা অসহায় মেয়ের কষ্ট যদি তারা না বোঝেন, তাহলে তারাই বা কীসের বাবা মা!

    কিন্তু বিষ্ণুপ্রিয়ার কথায় কিছুতেই প্রদীপ্তর বাবা রাজি হলেন না৷ প্রবীর বাবুর এক কথা, তোমার বাবার কাছে গিয়ে পুরো ব্যাপারটা বোঝাতে হবে৷ বিষ্ণুপ্রিয়া কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, প্লিজ আঙ্কেল আমার বাবা ভীষণ জেদি, কিছুতেই মানবেন না৷

    প্রবীর বাবু আর প্রদীপ্ত সক্কাল সক্কাল বিষ্ণুপ্রিয়াকে নিয়ে চললো ওর বাড়ির দিকে৷ বিষ্ণুপ্রিয়া একদম চুপ করে রয়েছে, ওর চোখে অবুঝ অভিমান৷ অভিমানটা বোধহয় প্রদীপ্তর জন্যই৷ খুব আস্তে আস্তে বললো, জানতাম ম্যাথমেটিক্সের লোকেরা খুব খারাপ হয়৷ প্রদীপ্ত ওর হাতের উপর হাত টা রাখার চেষ্টা করলো৷ বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, একটাও কথা বলবেন না আপনি আমার সাথে৷ আপনি ভীষণ মিথ্যুক৷ আপনার মা বলছিলেন, আপনার নাকি ছোট্ট থেকে একমাত্র ইচ্ছে ছিলো অঙ্ক নিয়ে পড়ার৷ তাই আপনাকে তারা আপনার পছন্দের বিষয় নিয়েই পড়তে বলেছিলো৷ আমার মতো ইচ্ছের বিরুদ্ধে নয়৷

    প্রদীপ্ত শেষ চেষ্টা করে বললো, কিন্তু তুমি তো উচচমাধ্যমিকে ইতিহাস পড়োনি৷ তাহলে হায়ার স্টাডি করার সময় প্রবলেম হবে তো! রাগী গলায় বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, কে বললো আপনাকে আমি H.(-এর ইতিহাস পড়িনি? আমার বান্ধবীর কাছ থেকে নিয়ে আমি গোটা ইতিহাস কোর্স শেষ করেছি৷ এবার একটু অবাক হলেন প্রবীর বাবু৷ তিনি বললেন, আমি চেষ্টা করবো তোমার বাবাকে বোঝানোর৷

    ভুল বুঝেছিলেন প্রবীর বাবু, বিশ্বনাথ অধিকারী বড়োই অবুঝ মানুষ৷ প্রিয়ার মা কাঁদছে দেখেও মেয়েকে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দিলেন না৷ তিনি নাকি মনে করবেন তার একটাই ছেলে আছে, সে ক্লাস নাইনে পড়ে৷ আর তার মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে গত কাল রাতেই৷ প্রবীর বাবু অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্ত প্রিয়ার বাবা প্রায় অপমান করেই বের করে দিলেন ওদের৷

    শেষ পর্যন্ত বিষ্ণুপ্রিয়াকে হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন প্রবীর বাবু৷

    প্রদীপ্ত করুন চোখে তাকিয়ে থাকলো বাবার দিকে৷ বাবা বললেন, আগে ওর গ্রাজুয়েশনটা অন্তত কমপ্লিট হোক, তারপর দেখা যাবে৷

    দেখতে দেখতে তিনটে বছর অতিক্রান্ত হলো৷ বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রতিটা এক্সামের আগে প্রদীপ্ত গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো ওর কলেজের সামনে৷ মেয়েটার চোখে এখন আর রাগ বা ঘৃণা নেই, বরং সেদিন ফট করে বলেই ফেললো, বিয়ের পর কিন্তু মাস্টার্স করবো, পি এইচ ডি করবো আমি৷

    প্রদীপ্ত শুধু হেসে বলেছিলো, বুড়ো বরকে বিরক্ত লাগবে না তো দুদিন পর?

    বিষ্ণুপ্রিয়া ঠোঁটে সলজ্জ হাসি ছড়িয়ে বলেছিলো, চৈতন্য মহাপ্রভুও বয়েসে অনেক বড়ো ছিলেন৷

    এবারে কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে হিস্ট্রিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছে বিষ্ণুপ্রিয়া অধিকারী৷ খবরটা শোনার পড়েই বোধহয় নিজের মেয়েকে মেয়ে বলে পরিচয় দেবার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলেন উনি৷ তাই প্রবীর বাবুদের ফ্ল্যাটের সামনে ওনার বিশাল গাড়িটা এসে থামলো৷ বিষ্ণুপ্রিয়া এখানে থাকে না শুনে, অবাক হয়ে বললেন, তবে আমার মেয়েটা কোথায় থাকে?

    প্রবীর বাবু বললেন, আমার হবু বউমা হোস্টেলে থাকে৷

    প্রদীপ্ত প্রমাদ গুনছিলো, তার মানে বত্রিশেও তার বিয়েটা হচ্ছে না৷ এবার নিশ্চয়ই বিশ্বনাথ বাবু ওনার গুনী মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন৷ এখন নিশ্চয়ই আর্টস স্ট্রিমে পড়া মেয়েকে নিয়ে আর ওনার লজ্জা হবে না৷ কিন্তু বাবার বিরুদ্ধে এবার ঘুরে দাঁড়ালো বিষ্ণুপ্রিয়া৷ সে পরিষ্কার জানিয়ে দিলো, সে ওই বাড়িতে ফিরবে না৷

    প্রদীপ্তর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওদের দুজনের বিয়েটা হয়েই গেলো৷ শুধু ফুলশয্যার রাতে একজনের মাথার পাশে কমিউনিস্ট ম্যানিফ্যাস্টো আরেক জনের পাশে রামানুজনের থিওরি৷ বিষ্ণুপ্রিয়া আস্তে আস্তে বললো, ম্যাথের লোকেরা খুব খারাপ নয় দেখছি৷ তবে ভীষন আনরোম্যান্টিক! প্রদীপ্ত প্রিয়ার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে বললো, বিষ্ণুপ্রিয়া, আমিও বিশ্বাস করি পছন্দের সাবজেক্ট নিয়ে ভালোবেসে পড়লে মানুষ অনেক উন্নতি করতে পারে৷ আর্টস বা সায়েন্স বা কমার্স নয়, সব থেকে জরুরি হলো, সে কোনটা ভালোবাসে৷ বিষ্ণুপ্রিয়ার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে প্রদীপ্ত বললো, এই তো সবে শুরু প্রিয়া৷ তোমাকে অনেক পথ চলতে হবে৷ তোমার পি. এইচ. ডি.-র পেপারটা নিয়ে আমি যাবো বিশ্বনাথ অধিকারীর বাড়িতে৷ ওনাকে বুঝিয়ে দিয়ে আসবো, এভাবে জোর করে কিছু হয় না৷ আমি জানি,আমি বিশ্বাস করি, আমার বিষ্ণুপ্রিয়া একদিন প্রমাণ করে দেবে আর্টস থেকেও নিজেকে প্রমাণ করা যায়৷ বিষ্ণুপ্রিয়া বললো, ভাগ্যিস এই ম্যাথমেটিক্সের পচা লোকটা আমাকে ভালোবেসেছিলো তাই তো আমি প্রাণ ভরে হারিয়ে যেতে পারলাম অতীতের অলিতে গলিতে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার
    Next Article চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }