Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্রেক আপ

    চিঠিটা যখন পেলো অরুন্ধতী তখন বেশ কিছুটা দেরিই হয়ে গেছে৷ প্রজ্ঞা তখন কলেজে বেরিয়ে গেছে৷ কলেজেই গেছে তো? নাকি অন্য কোথাও৷ এমনিতেই হাই প্রেসার বলে একটুতেই ঘাম হয় অরুন্ধতীর৷ তারপর চিঠিটা পড়ার পরে তো হাত পা ঠান্ডা হয়ে ঘামতে শুরু করেছে৷ তার এমন শান্ত মেধাবী মেয়ের হঠাৎ কি এমন হলো যে এতবড়ো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে? সুদীপকে কি একবার ফোন করবে? কিন্তু সে তো মেয়ে বলতে এমন অজ্ঞান যে এই খবর শুনে হয়তো পড়িমরি করে অফিসের সব কাজ ফেলে ছুটবে৷ না থাক, আপাতত সুদীপকে ফোনটা করতে গিয়েও করলো না অরুন্ধতী৷ বাথরুমে ঢুকে মাথার মাঝখানে একটু জলের ঝাপটা দিল৷ অরুন্ধতীর যখন খুব রাগ হত তখন ওর মাও ওর মাথার মাঝখানে থাবড়া করে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে দিত৷ এই বয়েসে এসে ওর রাগটা কমেছে বরং সকলের জন্য চিন্তাটা বেড়েছে৷ নিজে মা হয়ে বুঝেছে, মায়েদের রাগ দুঃখের প্রকাশটা একটু অন্যরকম৷ সংযত হয়ে চলতে হয় জীবনে৷ কারণ সংসারের ভারটা যে তখন মায়ের ওপরেই বর্তায়৷ এখন অবশ্য অরুন্ধতীর রাগ নয়, ক্ষোভ জমেছে মনে৷ তাই ঠান্ডা মাথায় কাজ করাটা বড্ড জরুরি৷ একবার… দু-বার… তিনবার ফোনটা করলো অরুন্ধতী৷ আর সময় নেই, ফোন রিসিভ করছে না প্রজ্ঞা৷ তাহলে কি চিঠির কথাই সত্যি! বার বার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে প্রজ্ঞার লেখা চিঠির অক্ষরগুলো৷ দুর্বল পায়ে, কাঁপা হাতে আলমারি খুলল অরুন্ধতী৷ হাতের সামনে যেটা পেল সেই চুড়িদারটাই গলিয়ে, বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ছুটল ও৷ এই অফিস টাইমে ট্যাক্সি পেলে হয়…

    ভ্যানিটি ব্যাগের মধ্যে ভরা আছে চিঠিটা৷ যেটা প্রজ্ঞা লিখেছে ওর কোনো এক বয়ফ্রেন্ডকে৷ বয়ফ্রেন্ড না বলে লাভার বলাই শ্রেয়৷

    বড়ো হয়ে গেলো প্রজ্ঞা৷ অরুন্ধতীর চোখের সামনে দিয়েই এতটা বড়ো হয়ে গেল! মা হয়ে একটু টেরও পেল না৷ অরুন্ধতীর তো আজও মনে হয় এই সেদিন! হেলথ কেয়ার নার্সিংহোমে শুয়ে আছে অরুন্ধতী৷ সুদীপ প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে বলছে, কি গো খুব কষ্ট হচ্ছে৷ সত্যি কষ্ট হচ্ছিল অরুন্ধতীর৷ একটু আগেই নার্সদিদি এসে বলেছিলেন, লেবার পেন ভোগ না করে কি কেউ মা হয়!

    যন্ত্রনায় কুঁকড়ে উঠছিলো অরুন্ধতী৷ সুদীপ বলেছিলো, ডক্টরকে বলি, সিজার করে দিতে৷

    গোঁ ধরে বসেছিল অরুন্ধতী, কিছুতেই না … তারপর সিজার করতে গিয়ে যদি আমার বেবির কোনো ক্ষতি হয়৷ কয়েকদিন আগেই শুনেছিলো, এক বান্ধবীর সিজার করতে গিয়ে নাকি সদ্যোজাতর মাথায় আঘাত লেগেছিলো৷ আজকের মতো তখন সিজারটা অতটাও উন্নত ছিলো না৷ দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছিলো অব্যক্ত যন্ত্রণা৷ কষ্টে মুখ নীল হয়ে যাচ্ছিলো অরুন্ধতীর৷

    রাত প্রায় নটা নাগাদ নার্সিংহোমের নিস্তব্ধতা ভেঙে চিৎকার করে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিলো ছোট্ট মেয়েটা৷ মেয়েরই শখ ছিল সুদীপ আর অরুন্ধতীর৷ নাম আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো৷ সুদীপ ফিসফিস করে বলেছিলো, প্রজ্ঞা৷

    ছোট্ট ছোট্ট হাতে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে আধো আধো বুলিতে মা ডাকার দিনটা আজও মনে আছে অরুন্ধতীর৷ সুদীপ অভিমানী গলায় বলেছিল, হ্যাঁ গো বাবা কবে বলবে৷ সেই প্রজ্ঞা বড়ো হয়ে গেল৷ মাকে লুকাতে শিখে গেল এত কিছু৷ ঠিক কবে থেকে অরুন্ধতী প্রজ্ঞার এতটা পর হয়ে গেল সেটা ভেবেই ক্ষোভ জমেছে মনে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের কোনো অভিমানকেই স্থায়ী হতে দেবে না অরুন্ধতী৷ একমাত্র লক্ষ্য, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রজ্ঞার কাছে পৌঁছানো৷

    প্রিয় নিশান,

    ভেবে দেখলাম জানিস, অনেক ভাবলাম, তুই আমার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পরে বুঝতে পারলাম, আমি বড্ড একা৷ ভীষণ নিঃস্ব হয়ে গেলাম৷ গত একবছরে আমাদের কাটানো সময়টা ভোলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়৷ বিশেষ করে তোর সাথে অঙ্কিতাকে দেখে প্রথমে একটু চমকালেও বুঝতে পারলাম, তুই এখন আমাকে নয়, অঙ্কিতাকে ভালোবাসিস৷ অনেক ভেবেও খুঁজে বের করতে পারলাম না, আমার দোষটা ঠিক কি ছিল?

    আমার বাবা চাকরি করে আর অঙ্কিতাদের বড়ো ব্যবসা, গাড়ি বাড়ি তাই? নাকি অঙ্কিতার শরীরী বিভঙ্গ তোকে বেশি আকর্ষণ করলো! যাইহোক, অবান্তর প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আর বোধহয় কোনো মানেই হয় না৷ বরং কিছু প্রশ্ন সমাধানহীন ভাবেই চলুক আমার সাথে৷ জানিস নিশান, প্রথম যেদিন তুই আমাদের ফিজিক্সের ব্যাচে অংশুমান বাবুর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে প্রোপোজ করেছিলি, সেদিন, কেন জানি না….আমার সমস্ত সত্ত্বা বলে উঠেছিল, ভালোবাসি৷ আমি তোকে খুব ভালোবাসি৷

    গত পরশু যখন তুই আবার আমাদের কলেজ ক্যান্টিনে দাঁড়িয়ে বললি, আমাদের মধ্যে নাকি হেল অ্যান্ড হেভেনের ডিফারেন্স,তখনও মনে হল, আমি তোকে সত্যি খুব ভালোবাসি৷ তবে বুঝতে পারলাম না, গত একবছরে এই আকাশ পাতাল পার্থক্যটা তুই কেন নোটিশ করিস নি!

    তখনো বোধ হয় তুই অঙ্কিতাকে চিনতিস না, তাই না রে?

    কষ্ট হচ্ছে বিশ্বাস কর, খুব কষ্ট হচ্ছে৷ বাপি, মা আমাদের ছোট্ট বাড়ি, ছোট্ট উঠোন, তার পাশে আমার বসানো কাঁঠালি চাঁপার গাছ, কলেজ ক্যাম্পাস, বন্ধুদের সকলকে ছেড়ে চলে যেতে সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে রে৷ কিন্তু গত দু-দিন অনেক ভেবে দেখলাম,তোকে ছাড়া বেঁচে থাকাটা সত্যি কঠিন৷ তোরা ভালো থাকিস৷ তাই …..চললাম…

    প্রজ্ঞা

    ট্যাক্সিতে বসে চিঠিটা আরেকবার পড়লো অরুন্ধতী৷ প্রজ্ঞার পড়ার টেবিলে পেপার ওয়েট চাপা ছিল চিঠিটা৷ সম্ভবত কলেজের ব্যাগে ভরতে ভুলে গেছে লাস্ট মোমেন্টে৷ হয়তো কলেজে গিয়ে কোনো বন্ধুকে দিয়ে পাঠাতো ওই নিশানের কাছে৷ তারপরেই হয়তো… আর ভাবতে পারছে না অরুন্ধতী৷ মেয়েটা কি আদৌ আছে, নাকি ভুলের ফাঁদে অলরেডি…

    প্রজ্ঞাকে ছাড়া কি আদৌ বাঁচা সম্ভব অরুন্ধতী বা সুদীপের৷ ওদের দুজনের জীবনই তো ওই কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছে৷ ওদের স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব সময়ের সমস্ত কথাবার্তায় একটাই নাম বারবার ঘুরে ফিরে আসে,সেটা হলো …প্রজ্ঞা৷

    দাদা দাঁড়ান দাঁড়ান৷ এই তো কলেজ এসে গেছে৷

    ব্যাগ থেকে ট্যাক্সিভাড়াটা মিটিয়েই ছুটলো অরুন্ধতী৷

    ঠিক গত বছর এই কলেজের সামনে এসেই অরুন্ধতীর গর্বে বুক ফুলে উঠেছিল৷ এতবড়ো নামী কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়েই মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে ও বলেছিলো, প্রজ্ঞা বিশ্বাস কর, স্বপ্ন ছিলো রে…সেই নিজের স্কুল লাইফ থেকে স্বপ্ন ছিলো, এই কলেজে ভরতি হবার৷ হঠাৎ করেই বিশেষ কারণে উচচমাধ্যমিকের রেজাল্ট খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভরতি হতে পারিনি৷ তারপর থেকে যতবার এর পাশ দিয়ে গেছি, ততবারই ভিতরের বিশাল সবুজ ক্যাম্পাসটা আমাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে৷ আজ এতগুলো বছর পরে এই ক্যাম্পাসের ডাকে সাড়া দিতে ঢুকছি এই কলেজে৷ নিজের ক্ষমতায় নাইবা হলো, তোর রেজাল্টের জোরেই না হয় পা দিচ্ছি স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে৷ প্রজ্ঞা মায়ের হাতটা চেপে ধরেছিলো৷ মুখে বলেছিলো, মা আমি পারবো তো? অরুন্ধতীর বুকের ভিতরে তখন ভয় আর আনন্দের মিশেল চলছিলো৷ তবুও মেয়ের মাথাটা বুকে চেপে ধরে বলেছিলো, তুইই পারবি৷

    ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলবি, মা আমি পেরেছি৷ প্রজ্ঞার চোখে জল দেখেছিলো সেদিন অরুন্ধতী৷ মেয়েটা তো তার এমনই ছিল৷

    সুদীপ কলেজের ভিতর থেকে হাত নেড়ে ডেকেছিলো৷ ভিতরে ঢুকতেই বলেছিলো, মা মেয়েতে গেটে দাঁড়িয়ে কি করছিলে?

    সামলে নিয়েছিলো অরুন্ধতী, মায়ের দেখাদেখি প্রজ্ঞাও৷ সুদীপ প্রায়ই বলে, মা মেয়ে দুটোই সমান, ক্রাইঙ মেশিন৷ ভারত মহাসাগরের সব জল মা মেয়ের চোখে এসেই জড়ো হয়৷ সত্যিই তাই, প্রজ্ঞাটাও হয়েছে মায়ের মতোই৷ কিছু হলেই ঠোঁট দুটো কামড়ে দু-চোখ ছাপিয়ে জলের ধারা নামে৷

    ক্লাস চলছে B K M-এর৷ গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস৷ অন্যদিন হলে ওনার মুখ থেকে নিঃসৃত প্রতিটা কথা নোটস বানানোর উপাদান হিসেবে ডায়রিতে নোট করতো প্রজ্ঞা৷ আজ পারছে না, কিছুতেই পারছে না৷ মনে পড়ে যাচ্ছে, নিশানের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতির কথা৷ যদিও পড়াশোনায় সিনসিয়ার বা ক্লাস বাঙ্ক করতো না বলে নিশানের সাথে সময় খুব কমই কাটিয়েছে ও৷ তবুও ক্লাসের ফাঁকে হোয়াটস আপে ছোট্ট মেসেজ ঢুকতো, ক্যান্টিনে এসো প্লিজ৷ অনেকক্ষণ তোমাকে না দেখে আছি৷ নিশানের মেসেজ পেয়েই মুখে হালকা হাসির রেখা দেখা দিতো প্রজ্ঞার৷ পরের পিরিয়ডটা করেই ছুটতো ক্যান্টিনের দিকে৷ দূর থেকে দেখতে পেতো, নিশানের শার্টের স্ট্রাইপগুলো৷ ওর পোশাকগুলো ততদিনে প্রজ্ঞার রীতিমতো পরিচিত হয়ে গিয়েছিলো৷ বুকের ভিতর আগাম কালবৈশাখীর বার্তা শুনতে পেতো প্রজ্ঞা৷ নিশানের যত কাছে এগিয়ে যেত ততই ভিতরের তোলপাড়টা বেশি করে অনুভব করত ও৷

    ওকে সামনে পেয়েই নিশান একটা বোকা বোকা হেসে বলতো, কি করব… তোকে না দেখে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না যে! কখনো প্রজ্ঞাকে তুমি সম্বোধনে লিখতো নিশান, আর ডাকত তুই বলে৷ আবার মাঝে মাঝে খেয়ালি গলায় বলে উঠতো, প্রজ্ঞা এবার তোকে তুমি বলা প্র্যাকটিস করি৷ খুব কম সময় নিশানের সাথে কাটালেও সেসব মুহূর্তকে প্রজ্ঞা মারাত্মক হিসাবির মতোই অল্প অল্প করে খরচ করে৷ পাছে বেশি খরচ হয়ে যায়, আর ওদের একসাথে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতিগুলো ফুরিয়ে যায়… যদিও দু-দিন আগেও ভাবেনি প্রজ্ঞা, নিশান কখনো ওকে বলতে পারে, প্রজ্ঞা তোর আর আমার মধ্যে বিস্তর ফারাক৷ ভবিষ্যতে আমাদের বড্ড এডজাস্ট করতে হবে রে৷ সেটা নাকি দুজনের পক্ষেই খুব ক্ষতিকারক হবে৷ আকাশ থেকে পড়েছিলো প্রজ্ঞা! ভবিষ্যৎ? বর্তমানের একটা মুহূর্তও তো ও কাটাতে পারবে না নিশানকে ছাড়া! ফার্স্ট টার্মে ফার্স্ট হওয়ার কথা তো দূরে থাক, মনের যা অবস্থা তাতে ফার্স্ট ক্লাস পেলে হয়! আর তো মাত্র কয়েকদিন পরেই পরীক্ষা৷ নিষ্ঠুর কথাটা অমানবিক ভাবে জানিয়ে দিয়েই বেরিয়ে গিয়েছিলো নিশান৷ পিছন ফিরে একবার দেখেওনি প্রজ্ঞার জীবন্ত লাশটা কি ভাবে বাসে ট্রামে করে বাড়ি ফিরবে! প্রায় অসার পা দুটো নিয়ে চলতে পারেনি প্রজ্ঞা৷ চুপ করে একটা বেঞ্চে বসেছিলো দীর্ঘক্ষণ৷ তারপরেই বাপির ফোনটা এসেছিলো, কি রে আজও কি চকলেট আইসক্রিমের বার নেবো, নাকি স্ট্রবেরি খাবি? চমকে উঠেছিলো ও৷ কিছুক্ষণের জন্য মৃত মস্তিস্ক জেগে উঠে বলেছিলো, তোর একটা বাড়িও আছে, সেখানে দুজন মানুষ আছে তোর পথ চেয়ে৷ ধীরে ধীরে নিজের নিষ্প্রাণ শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি অবধি নিয়ে গিয়েছিলো প্রজ্ঞা৷

    রাতে খাবার টেবিলে বাপির পাত থেকে পটল ভাজা চুরি করেনি বলেই একটু চোখে লেগেছিলো মায়ের৷ মা বলেছিলো, প্রজ্ঞা তোর কি শরীর খারাপ?

    আসলে প্রজ্ঞাকে যদি দশটা পটলও ভেজে মা সাজিয়ে দেয়, তবুও বাপির পাতের থেকে অন্তত একপিস ওকে হাত সাফাই করে খেতেই হবে৷ নাহলে যে পেটটা ঠিক ভরে না৷

    ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে, টিভিতে খেলার হাইলাইটস বা নিউজ দেখাটা বাপির দীর্ঘদিনের অভ্যাস৷ সেই সুযোগে প্রজ্ঞা বাপির পাত থেকে এটা সেটা চুরি করে নেয়৷ মা দেখতে পেয়ে প্রজ্ঞাকে বকে, আর বাপিকে আবার সেকেন্ড টাইম দেয়৷ এই খুনসুটিটাই ওদের খাবার টেবিলে৷ প্রজ্ঞার দুস্টুমির জন্যই মা পটল ভাজা প্রজ্ঞার থালায় কম, আর বাপির থালায় বেশি দেয়৷ যাতে প্রজ্ঞা চুরি করার পরেও মানুষটা দুটো পায় আরকি! আজ নিজের গুলোই খেলো না দেখে প্রথম খটকাটা লেগেছিল অরুন্ধতীর৷ প্রজ্ঞা সামলে নিয়ে বলেছিলো, আজ খেতে ইচ্ছে করছে না মা৷ বাপি কপালে হাত দিয়ে বলেছিলো, কই জ্বর নেই তো! হয়তো তাপ লেগে গেছে, তাই ক্ষিদে নেই৷ কোনোমতে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছিলো প্রজ্ঞা৷ তারপরেই হোয়াটস আপটা খুলে বুকটা হু হু করে উঠেছিলো৷ যা ভেবেছে ঠিক তাই, নিশানের ছবি দেখা যাচ্ছে না৷ তার মানে হোয়াটস আপে ব্লক করে দিয়েছে ওকে৷ পাগল পাগল লাগছিলো প্রজ্ঞার৷ মেসেজের পর মেসেজ পাঠাচ্ছিল, একটাও সেন্ড হচ্ছিলো না৷ ডাবল টিক দেখার জন্য বারবার নিজের নেট কানেকশন চেক করছিলো ও৷ আর সহ্য না করতে পেরে অবশেষে কলটা করেই ফেলেছিলো প্রজ্ঞা৷ মাত্র একবার রিং বাজতেই বিজি টোন শো করছিলো৷ তার মানে ওর ফোন নম্বরটাও ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে দিয়েছে নিশান৷ প্রজ্ঞার দু-চোখ বেয়ে নোনতা জলের ধারা৷ তবুও যেন কষ্টগুলো কিছুতেই জমাট বাঁধছিলো না৷ তরল অবস্থাতেই মাথা থেকে গলায়, গলা থেকে হূদয়ে এসে অবশ করে দিচ্ছিলো ওর ভাবনা শক্তিকে৷ পুরোনো মেসেজ চেক করে যাচ্ছিলো৷ দু-দিন আগেও হাজার হাজার প্রতিশ্রুতির বন্যায় ভেসেছিলো ওর হোয়াটস আপ উইন্ডো৷ মনের মধ্যে যখন তীব্র আলোড়ন চলছিলো, ঠিক তখনই ফোনটা এসেছিলো অঙ্কিতার৷

    দেখ প্রজ্ঞা, নিশান তোকে আর ভালোবাসে না৷ ও এখন আমার সাথে এনগেজড৷ সো প্লিজ, তুই আমাদের মধ্যে আর ঢুকিস না৷

    একরাশ শূন্যতা এসে গিলে খাচ্ছিল প্রজ্ঞার অন্ধকার রাতের ঘুমবিহীন চোখদুটোকে৷ তবুও বাপি মা যাতে বুঝতে না পারে সেই জন্যই যতটা পেরেছে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছে চায়ের টেবিলে৷ মায়ের চোখে বোধহয় একটু বেমানান ঠেকেছিলো প্রজ্ঞার চোখের রক্তাভা৷ তাই আনমনেই দু-বার বেশি তাকিয়েছিলো মা ওর দিকে৷ তারপর বলেছিলো, রাত জেগে এত পড়ার কি আছে, শরীর খারাপ করবে যে৷ রাত জেগে পড়াটা যদিও প্রজ্ঞার দীর্ঘদিনের অভ্যেস, তবুও গতকাল রাতটা যে পড়ার জন্য জাগেনি সেটা মনে হতেই একটা অব্যক্ত কষ্ট হচ্ছিল৷ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েই গেছে ওর৷ নিশানকে ছাড়া বেঁচে থাকার বিশেষ অর্থ খুঁজে পায়নি জীবনে৷ হেরে গেছে ও ভাগ্যের কাছে,অঙ্কিতা হারিয়ে দিয়েছে ওকে৷ বেশ কয়দিন ধরেই নিশানের ব্যবহারে একটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলো যেন৷ অঙ্কিতার সাথে দু-একবার ঘুরতেও দেখেছে৷ কিন্তু মনে কোনো সন্দেহ আসেনি, ভেবেছে ওদের দুজনের নিছকই বন্ধুত্ব৷ আসলে কোনো মানুষকে যদি নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করে ফেলে কেউ, তখনই বোধহয় একটা বোবা অন্ধত্ব ঘিরে ফেলে৷ তখন চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাই আর দৃষ্টিগোচর হয় না৷

    তাই হয়তো নিশানের ওই ছাড়া ছাড়া ব্যবহার, বাঁধন আলগা করার ইঙ্গিত, অঙ্কিতার সাথে ঘনিষ্ট হবার সম্ভাবনা.. সবই দেখেও দেখেনি প্রজ্ঞা৷ আর যখন বুঝতে পারলো তখন আর নিজেকে সামলানোর ক্ষমতাটাই অবশিষ্ট নেই ওর৷

    ক্লাস শেষ হলো, ওর সামনে বই এর অক্ষরগুলো তখনো ঝাপসা৷ হোয়াটস আপ ব্লক, তাই রুমিকে দিয়েই পাঠিয়ে দেবে ওর লেখা শেষ চিঠিটা৷ নিশান বুঝুক, প্রজ্ঞা ওকে ঠিক কতটা ভালোবাসতো! নিজের জীবনটা পর্যন্ত শেষ করে দিতে পারে ও নিশানের জন্য৷

    ব্যাগটা হাতরাচ্ছে প্রজ্ঞা৷ চিঠিটা পাচ্ছে না কিছুতেই৷ হ্যাঁ, কলেজ বেরোনোর আগে, টেবিল থেকে ও চিঠিটা ব্যাগেই ভরেছিলো৷ তারপর মাকে জড়িয়ে ধরে কোনোমতে কান্না চেপে চুমু খেয়েছিলো৷ তাহলে চিঠিটা গেল কোথায়?

    প্রজ্ঞা বিশ্বাস….একবার প্রিন্সিপালের রুমে আসবে৷

    স্যার তোমাকে ডাকছেন৷ চমকে উঠেছে প্রজ্ঞা! কলেজের ফোর্থ ক্লাস স্টাফই হবে বোধহয়, ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে প্রজ্ঞাকে ডাকলেন৷

    ক্লাস শুদ্ধু সকলেই জিজ্ঞেস করছে, কি রে প্রজ্ঞা কি হয়েছে? হঠাৎ প্রিন্সিপ্যাল!

    প্রজ্ঞা নিজেও বিশবাঁও জলে৷ হঠাৎ কেনই বা ডাকছেন স্যার! আর কতক্ষণই বা থাকবে এই পৃথিবীতে! কয়েকঘন্টা মাত্র, দেখা যাক কি বলে!

    প্রিন্সিপ্যালের রুমের কাঁচের দরজাটা ঠেলতেই বিস্মিত হয়ে গেছে প্রজ্ঞা৷ ও কি ঠিক দেখছে, নাকি ওর ক্ষতিগ্রস্ত মাথার ভুলভাল ভাবনা৷

    প্রিন্সিপ্যালের সামনের চেয়ারে যিনি বসে আছেন তাকে পিছন থেকে দেখেও অচেনা লাগেনি প্রজ্ঞার৷ কিন্তু যে প্রশ্নটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েই চলেছে সেটা হলো, মা হঠাৎ কলেজে কেন?

    নিজের ফোনটা চেক করলো৷ হ্যাঁ বার চারেক মিস কল৷ তবে কি কারোর কিছু হয়েছে?

    বলুন স্যার, নিজের গলার স্বর নিজের কাছেই ভীষণ অপরিচিত লাগছিলো প্রজ্ঞার৷ কেমন যেন হেরে যাওয়া একটা মানুষের গলা৷

    স্যার গম্ভীর ভাবেই বললেন, তোমার মা তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছেন৷ আরও চমকের বোধহয় বাকি ছিলো৷ সেই ভরতির দিনের পরে আর কখনো মা কলেজের দরজায় পা দেয়নি, আজ হঠাৎ কলেজ থেকে নিতে চলে এল! ঘাবড়ে যাওয়া মুখে মায়ের দিকে তাকাতেই অরুন্ধতী বলল, থ্যাংক ইউ স্যার৷

    মেয়ের দিকে চোখ টিপে ইশারা করল, চল…

    মাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ক্লাস থেকে নিজের ব্যাগটা গুছিয়ে নিয়ে চলে এলো প্রজ্ঞা৷ বেরিয়েই বললো, মা তুমি? এভাবে হঠাৎ করে?

    অরুন্ধতী খুব মজার ছলে বললো, আরে এই রাস্তায় এসেছিলাম, তোর কলেজের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, ভাবলাম ক্লাস বাঙ্ক করে মুভি দেখার মজা কেমন সেটা আমার স্টুডিয়াস মেয়েটাকে বোঝাই আজ!

    প্রজ্ঞা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে৷ একদিন টিউশন কামাই করলে যে মা ভালো করে কথা বলে না প্রজ্ঞার সাথে, বৃষ্টির দিনে কলেজ যাবে না বললে যে মা বলে…আমাদের স্বপ্নটা নিয়ে তুই ছিনিমিনি খেলছিস? সেই মা কিনা ক্লাস বাঙ্ক করে মুভি দেখতে চাইছে!

    আনন্দে লাফিয়ে উঠে প্রজ্ঞা বললো, তোমার হলো কি?

    অরুন্ধতী অভিমানী মুখে বললো, কেন রে তোর মা কি একবারে বুড়ি হয়ে গেছে, যে মুভি দেখতেও ইচ্ছে করবে না? মুভির আগে আমরা কোল্ড কফি খাবো, ব্রেকে কোল্ডড্রিঙ্ক, পপকর্ন…

    প্রজ্ঞার যেন এখনো বিশ্বাসই হচ্ছে না৷ তার মা নিয়ম ভাঙতে চাইছে৷ মা যেন আজ ছেলেমানুষ-এর মতো আনন্দে আত্মহারা হয়ে প্রজ্ঞাকে একবার জড়িয়ে ধরছে, একবার চুমু খাচ্ছে৷ বহুদিন পরে বোধহয় মা প্রজ্ঞাকে ছোট্ট মেয়ের মতো আদর করছে৷ মা নিজের গানের স্কুল আর বাপি অফিসের কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে প্রজ্ঞার বড্ড একা লাগে৷ মা কর্তব্য করতো ঠিকই কিন্তু মাকে যেন আর সেই ছোটোবেলার মতো কাছের মনে হত না৷

    প্রজ্ঞার বুকের ভিতরের দীর্ঘশ্বাসটা ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো৷ মা ততক্ষণে ফুচকা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছে৷ প্রজ্ঞার মুখে একটা বড়ো ফুচকা ভরে দিয়ে বললো, মুখ ফাঁক না করে খেতে পারলেই আইসক্রিম ফ্রি৷ প্রজ্ঞাও মায়ের ছেলেমানুষিতে যোগ দিয়েছে ততক্ষণে৷ মুভি, খাওয়া দাওয়া, শপিং করে যখন বাড়ি ফিরলো তখন বাপি নিজেই এককাপ চা নিয়ে বসে টিভি চালিয়েছে৷ মেয়েকে দেখেই বললো, তোরা কি নিষ্ঠুর রে… আমাকে না নিয়ে, আগে থেকে কোনো প্ল্যান না করে, দুজনে ঘুরে এলি!

    অরুন্ধতী আজ সম্পূর্ণ অন্য মুডে৷ হাসতে হাসতেই বললো, আজ মা-মেয়ের ট্রিপ ছিল, বাপির নো এন্ট্রি৷

    ডিনার টেবিলে বসেও টুকিটাকি কথাবার্তার পরে প্রজ্ঞা ঢুকে পড়লো নিজের ঘরে৷ ফেসবুকে ওকে ব্লক করেনি নিশান৷ কিন্তু মেসেঞ্জার ব্লক৷ তার মানে ভিতরের বিষয়টা ঠিক এমন…অঙ্কিতা আর নিশানের সব রকম আনন্দ সুখের ছবি দেখুক প্রজ্ঞা অথচ নিশানের সাথে কখনো যোগাযোগ না করতে পারুক৷

    মায়ের নম্বরটা নিশ্চয়ই নিশান ব্লক করবে না, মায়ের ফোন থেকে কি একবার ফোন করে জিজ্ঞেস করবে প্রজ্ঞা, ও কি সত্যিই প্রজ্ঞাকে ভুলে গেল৷

    মা এখনো রান্নাঘরে কি সব গোছাচ্ছে৷ ডাইনিংয়ে মায়ের ফোনটা রয়েছে, চুপি চুপি গিয়ে ফোনটা হাতে নিলো ও৷

    বুকের ভিতরটা একটা অজানা উত্তেজনায় তোলপাড় হচ্ছে, রিং বাজছে নিশানের৷ সেই পুরোনো গানটা…

    আজ কাল তেরে মেরে পেয়ার কি চর্চে হার জাবান পর….

    গানটা প্রজ্ঞাই সেট করে দিয়েছিলো৷ যেদিন বিশ্বজিৎ স্যার আচমকা প্রশ্ন করেছিলেন, আচ্ছা নিশান তোমার আর প্রজ্ঞার মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে?

    নিশান এসে প্রজ্ঞাকে বলেছিলো, জানিস আমাদের বিশ্বজিৎ স্যারও জেনে গেছেন আমাদের রিলেশনশিপের কথা৷ সেই দিনই প্রজ্ঞা এই গানটা সেট করে দিয়ে বলেছিলো, সকলের মুখে মুখে র্চ্চা হোক আমাদের প্রেম কাহিনি৷

    বুকের বাম পাশের লাব ডুব আওয়াজের গতি আরো দ্রুত হয়েছে প্রজ্ঞার৷ হঠাৎ ওর হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়েই মা বললো, হ্যালো নিশান….আমি প্রজ্ঞার মা বলছি৷

    আকাশ থেকে পড়লেও হয়তো এতটা চমকে উঠত না প্রজ্ঞা৷ নিশানের নাম মা কি করে জানলো!

    মা বলেই চলেছে, জানো নিশান, আমি ভেবেই ছিলাম আমার তোমাকে একটা থ্যাংকস জানানো একান্ত প্রয়োজন৷ এই যে তুমি দায়িত্ব নিয়ে প্রেমের নাটক করে প্রজ্ঞার দুর্দান্ত ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্টটাকে নিজের মিডিওকার রেজাল্টের দিকে টেনে নামাচ্ছিলে এটার থেকে তুমি ওকে রেহাই দিয়েছ দেখে আমি বিশেষ খুশি হয়েছি বাবা৷ খুব ভালো থেকো৷ সত্যি বলতে কি অঙ্কিতাই তোমার সঠিক পার্টনার৷ না হলে ভবিষ্যতে প্রজ্ঞা যখন ইউনিভার্সিটি টপার হবে তখন আবার তোমার মেল ইগোতে ধাক্কা লাগবে৷ আমার বোকা মেয়েটা হয়তো, তোমার খারাপ লাগবে বলেই, নিজের পড়াশোনা বিসর্জন দিয়ে তোমার মতোই ওই নামী কলেজে ভরতি হয়েছির দায় সামলানোর মতোই রেজাল্ট করে বসতো৷ আসলে কি জানো, আমাদের বিশাল স্বপ্ন ওকে নিয়ে৷ তোমাকে যে কি বলে আমি কৃতজ্ঞতা জানাবো তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না৷ প্রজ্ঞার বার্থ ডে-তে ইনভাইট করলে এসো কিন্তু বাবা, তুমি আমাদের যা উপকার করেছ….

    এই যা! প্রজ্ঞা তোর বন্ধু তো ফোনটা কেটে দিলো রে৷ ধুত্তোর! নিশানের ফেবারিট ডিসগুলো জানা হলো না৷

    প্রজ্ঞা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সম্পূর্ণ অপরিচিত অরুন্ধতীর দিকে৷ নিজের গর্ভধারিনীকেই যেন চিনতে পারছে না ও৷ ধীর স্থির গম্ভীর মায়ের মুখে একটা ফচকে হাসির রেখা৷ নিশানকে যে মিছড়ির ছুরিটা দিয়ে এফালা ওফালা করলো মা, সেটা কোথায় ছিলো এতদিন৷ প্রজ্ঞাকে ওই ভাবে অপমান করে চলে যাবার পরেও তো প্রজ্ঞা পারেনি প্রতিঅপমান ফিরিয়ে দিতে৷

    অরুন্ধতী পরিষ্কার চোখে তাকালো প্রজ্ঞার দিকে৷ ধীর স্বরে বললো, বস তোর সাথে কথা আছে৷

    নিশানের কথা কীভাবে মা জানলো সেই নিয়ে ভিতরে ভিতরে বেশ টেনশন চলছে ওর৷ মা আমি বুঝতে পারিনি নিশান এমন ছেলে…

    অরুন্ধতীর হাতে একটা চিঠি৷

    পড়ে দেখ….

    তার মানে কি প্রজ্ঞার চিঠিটা মা-এর কাছে! কিন্তু রং দেখে তো মনে হচ্ছে কাগজটা বহু পুরোনো৷

    অরুন্ধতী,

    দেখো, আমার মায়ের একটাই শর্ত আমাদের সম্পর্কটা মেনে নেবার, সেটা হল তোমাকে গানটা ছেড়ে দিতে হবে৷ ভদ্র বাড়ির বউ জলসায় গান গেয়ে বেড়াবে এটা আমার মা মেনে নেবে না৷ আমাদের ভালোবাসার খাতিরে গানটা তোমাকে ছাড়তেই হবে৷ তোমার সিদ্ধান্ত জানিও৷

    জয়দীপ

    প্রজ্ঞার চোখদুটো বিস্ফারিত হয়ে গেছে৷ জয়দীপ! নামটা আরেকবার উচচারণ করলো প্রজ্ঞা৷ কারণ এই গোটাগোটা সুন্দর হাতের লেখাটা ওর বিশেষ পরিচিত৷ অনেকবার ভাইটু মানে ছোটোমাসির ছেলের খাতায় দেখেছে৷ ভাইটুকে জিজ্ঞেসাও করেছিলো প্রজ্ঞা৷ ভাইটু বলেছিলো, এটা তো পাপার হাতের লেখা৷ তার মানে কি জয়দীপ রায়, মানে ছোটো মেসোমশাই!!

    ধীরে ধীরে ঘাড়টা আলতো করে নেড়ে অরুন্ধতী বললো, হ্যাঁ তোমার ছোটো মেসোমশাই৷ আমাদের তিনবছরের প্রেম ছিল৷ হঠাৎই আমি যখন মিউজিক নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করলাম তখন তার মনে হয়েছিল, আমার গান গাওয়াটা অন্যায়৷ আসলে বোধহয় তখন তোর ছোটো মাসিকে বিশেষ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল জয়দীপের৷

    মেয়ে আজ অরুন্ধতীর সমবয়সি বান্ধবী যেন৷ তাই নিজেকে উজাড় করে বলেই চলেছে অরুন্ধতী… জানিস প্রজ্ঞা, আমি পরিষ্কার জানিয়েছিলাম, গান আমার জীবন, তুমি আমার একটা অঙ্গ, সেই অংশে পচন ধরলে সেটা কেটে ফেলে দেওয়া উচিত৷ কিন্তু জীবনকে ত্যাগ করলে বাঁচবো কি করে!

    তারপরেই দেখেছিলাম, তোর ছোটোমাসির ডায়রির পাতায় জয়দীপের দেওয়া চিঠি রাখা আছে৷ বিশ্বাস কর প্রজ্ঞা, সেই মুহূর্তে নিজেকে খুব ছোটো মনে হয়েছিলো৷ মনে হয়েছিলো, আর বেঁচে থেকে লাভ নেই৷ শেষ করে দিই নিজেকে৷ পরমুহূর্তেই ভেবেছি, জয়দীপ কোনোদিনই আমার যোগ্য ছিলো না৷ তাই হয়তো চলে গেছে সঠিক ঠিকানায়৷

    শুধু প্রেম, বিয়ে নিয়েই তো জীবন নয়৷ নিজেকে প্রমাণ করাটাও একটা জয়, চূড়ান্ত পাওয়া৷ নিজেকে উঁচু আসনে বসানোর লড়াইটার মধ্যেও একটা ভালোবাসা আছে৷

    প্রজ্ঞা বললো, মা তারপরেও তুমি মেসোমশাই এর সাথে, মাসির সাথে এত ভালো ব্যবহার করো কি করে?

    অরুন্ধতী হেসে বললো, ধুর বোকা মেয়ে, জয়দীপ চলে গিয়েছিল বলেই না আমি মিউজিকে মাস্টার্স করতে পারলাম, আজ নিজের এতবড়ো একটা স্কুল করতে পেরেছি৷ সবই তো জয়দীপের বেইমানির জন্যই সফল হয়েছে৷ তাই ওরা এলে আমি রেঁধে বেড়ে খাওয়াই৷

    দেখবি, তুইও একদিন নিশানকে করুণার চোখেই দেখবি৷ যখন তুই অনেক উঁচুতে উঠে যাবি, তখন নীচের দিকে তাকিয়ে দেখবি তোর এই উঁচুতে ওঠার পিছনে এই নিশানের অবদানও কিছু কম নেই৷

    অদ্ভুত মায়ের যুক্তি৷ তবে প্রজ্ঞা একটা জিনিস অনুভব করলো, এই ক-দিন ধরে বুকের মধ্যে হু হু করা কষ্টের উপলব্ধিটা যেন অনেকটা হালকা হয়ে গেল৷

    অরুন্ধতী মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, আত্মহত্যা তো হেরে যাওয়া মানুষরা করে প্রজ্ঞা৷ জেতার লড়াই তো করে ভবিষ্যতের বিজয়ীরা৷

    আরেকটা কথা সব সময় মনে রাখবি, কার জন্য তুই নিজের মূল্যবান জীবনটা শেষ করছিস! সে কি আদৌ তোর যোগ্য ছিলো? ভালোবাসা শুধু একটা শব্দ নয় প্রজ্ঞা, ভালোবাসা মানে অনেকগুলো অনুভূতির সমন্বয়৷ একজন কেউ জীবন থেকে চলে গেলেই ভালোবাসা শেষ হতে পারে না৷

    প্রজ্ঞা কান্না ভেজা গলায় বলল, লাভ ইউ মা৷

    লাভ ইউ ভেরি মাচ…

    সুদীপ দরজার বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ দৃশ্যটা দেখার পরে মনে মনে বললো, জয়দীপ ঠকে গেছে৷ ভাগ্যিস জয়দীপ চলে গিয়েছিল, তাই আমার আকাশে অরুন্ধতীর মতো উজ্জ্বল নক্ষত্রের উপস্থিতি ঘটেছিলো৷

    হয়তো সুদীপের পায়ের আওয়াজ পেয়েই অরুন্ধতী বললো, ওই দেখ প্রজ্ঞা, বাইরে আরেকটা হিংসুটে লোক দাঁড়িয়ে আছে৷ শুধু আমাকে ভালোবাসিস বলছিস বলে, হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে৷ তুই বরং তোর বাপিকে ডেকে একটু আদর করে দে৷

    একমুখ হাসি নিয়ে সুদীপ বললো, আসলে তো আমার মেয়ে আমাকেই বেশি ভালোবাসে, সেটা তো আমি জানিই, তাই আর হিংসা করলাম না৷

    মা ঠিক বলে, ভালোবাসা শুধু একটা শব্দ নয়, অনেকগুলো অনুভূতির সমন্বয়৷

    বাপির কোলে মাথাটা গুঁজে দিলো প্রজ্ঞা৷ ভালোবাসা নামক অনুভূতি এসে স্পর্শ করে যাচ্ছে প্রজ্ঞার মাথার চুলগুলো৷ বাপি হাত বুলিয়ে দিচ্ছে প্রজ্ঞার মাথায়৷ চোখের সামনে নতুন স্বপ্ন ভাসছে প্রজ্ঞার… নিজেকে নিজের কাছে প্রমান করার৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার
    Next Article চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }