Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গণপতির কথা

    ১।

    গণপতির খুব ভয় করছে। জীবনে প্রথমবার। শিরশিরে একটা অনুভূতি মেরুদণ্ড বেয়ে চারিয়ে যাচ্ছে সারা দেহে। অবশ করে দিচ্ছে গণপতির সমগ্র চৈতন্যকে। যে ডাকের ভয় সে এতদিন সকাল সন্ধে করছিল, অবশেষে সেই ডাক এসেছে। সে জানে এই ডাকে সাড়া দিতেই হবে। ভাবত বছর চারেক আগে যা ঘটেছে তার সবই এক ভয়ানক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু অন্ধকার অমানিশার মতো, ভয়াবহ প্রেতের মতো নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরে আবার তা ফিরে এসেছে। ঠিক চল্লিশ মাস পরে। যেমনটা কথা ছিল। তার হাতে ধরে থাকা পাতলা রঙিন কাগজে যা লেখা আছে সে জিনিসের মর্ম উদ্ধার করা সাধারণের কর্ম না। সে জিনিস সাধারণের জন্যও না। কিন্তু গণপতি জানে রমণপাষ্টির যে খেলা চল্লিশ মাস আগে শুরু হয়েছিল, এখন তা একেবারে শেষ চরণে এসে গেছে নিশ্চয়ই। নইলে এই ডাক আসত না। তার আর কিচ্ছু করার নেই। যে মিথ্যাকে এতকাল মনের গহনে চাপা দিয়ে রেখে ভেবেছিল চিরতরে শেষ করে দিতে পেরেছে, তা যেন কোন অদ্ভুত জাদুবলে আবার জ্যান্ত হয়ে উঠেছে। পিন্ডারী বাবার সহকারী সেই অদ্ভুতদর্শন ছেলেটার মতো বড়লাটের মৃত ভাই আবার কবর থেকে জেগে উঠেছে। যাকে প্রথমবার সে দেখেছিল ছোট্ট প্রায়ান্ধকার এক ঘরে, মোমবাতির আবছা আলোতে। আর শেষবার নিজের হাতে তার ছিন্নভিন্ন দেহ শুইয়ে দিয়েছিল চিনাপট্টিতে এক অন্ধকার ল্যাম্পপোস্টের তলায়….

    লালমোহন মল্লিকের বাড়ির বাইরে এক ঘরে গণপতির থাকার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। এই পাঁচদিন সেখানে থেকেই জাদু দেখানোর কথা। ছোট্ট ঘরখানি। একখানি খাটিয়া আর আলনা ছাড়া আর বিশেষ আসবাব নেই। সেই খাটিয়ার ওপরেই একদিকে কাত করে রাখা ডোয়ার্কিনের বেলো হারমোনিয়াম। মন ভালো থাকলে গণপতি হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান ধরে। বেশিরভাগ গানই মজার গান। তবে সবসময় গায় না। ইদানীং হাইকোর্টের উকিল চন্দ্রমোহন সেনের বড়ো ছেলে হীরালালের সঙ্গে গণপতির ভাব হয়েছে। সে এলেই আবদার করে গান শোনানোর। বয়সে ছোটো হীরালালের বায়না ফেলতে পারে না গণপতি। হীরালালের সবচেয়ে প্রিয় দেশলাইয়ের গান। কয়েক বছর হল বিদেশ থেকে এ জিনিস আমদানি হয়ে নেটিভদের মন জয় করেছে। দরাজ গলায় গণপতি গায়—

    নমামি গন্ধকগন্ধ মুণ্ডটি গোলালো,
    সৰ্ব্বজাতি প্রিয়দেব গৃহ করো আলো।
    নিদ্রিতের গুপ্তচর পাচিকার প্রাণ,
    লম্বাদাড়ি কাবুলির শিরে যার স্থান।

    শুধু হীরালাল কেন, গণপতির গান শুনতে ভিড় জমায় চাকর সহিসরাও। গানের মাঝে মাঝে মজার মজার গল্প বলে গণপতি। কিছু তার নিজের চোখে দেখা। কিছু লোকমুখে শোনা। কিন্তু গল্প বলার ভঙ্গিটি বড্ড মধুর। সে আসর জমিয়ে বসলে কারও সাধ্য নেই সেখান থেকে ওঠে। গান করতে করতে একটা মজার ম্যাজিক দেখায় গণপতি। সবাই দ্যাখে তার মুখ বন্ধ কিন্তু গান চলছে আগের মতোই। সবার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায়। আওয়াজ আসছে কোথা থেকে? জিজ্ঞেস করলে গণপতি উত্তর দেয় না। রহস্য করে হাসে। তার লক্ষ্মীট্যারা চোখে অদ্ভুত এক কৌতুক তিরতির করে কাঁপে। ঠোঁট না নেড়ে কথা বলার এই কৌশল তাকে শিখিয়েছিলেন বৈদ্যনাথধামের পিন্ডারী বাবা। সেও এক অদ্ভুত কাহিনি।

    বাড়ি থেকে পালিয়েছিল গণপতি তখন সে ফোর্থ ক্লাসের ছাত্র। স্কুলফেরতা বাড়ি আসার পথে দ্যাখে পথের ধারে একজায়গায় বেজায় ভিড়। লাল চেলি পরা জটাধারী এক সাধু রাস্তার ধারে কাপড় পেতে নানা অদ্ভুত জিনিস দেখাচ্ছেন। ছোটো থেকেই লেখাপড়ার চাইতে এসবে গণপতির আগ্রহ বেশি। সেও জুটে গেল দঙ্গলে।

    সাধুর সঙ্গে অল্পবয়সি, বছর ষোলো-সতেরোর এক ছেলে। কুচকুচে কালো গায়ের রং। সামনের দাঁতদুটো একটু উঁচু। সাধু হিন্দিতে কথা বলছে, সেও উত্তর দিচ্ছে হিন্দিতে।

    —বেটা তাকত হ্যায়?

    —হ্যায়।

    —হ্যায় হিম্মত হ্যায়?

    —হ্যায়।

    —খেল কো জানতে হো?

    —হ্যাঁ।

    —তব দিখাও খেল।

    বলেই বাবা পাশে খুঁড়ে রাখা এক গর্তে ছেলেটাকে পুঁতে, মাটি চাপা দিয়ে, পা দিয়ে বেশ চেপেচুপে শক্ত করে তার উপরে কিছু তুলসীর বীজ ছড়িয়ে দিয়ে মন্ত্র পড়ে জানালেন এবার এক ঘণ্টার মধ্যে এখান থেকে গাছ গজাবে। তারপর চলল আরও সব আজব কিসিমের জাদু। মরা মাছকে জ্যান্ত করা, মুখ থেকে বিদ্যুতের মতো আলো বার করা, হাতের উপরে জ্বলন্ত অঙ্গার রেখে হোম করা, জলের মধ্যে আগুন জ্বালানো। অবশেষে সাধু জানালেন এবার তিনি তাঁর ওই সঙ্গী ছেলেটাকে ডাকবেন। ছেলেটার আত্মা কবরের মধ্যে থেকে জবাব দেবে। সন্ধ্যা হয় হয়। আত্মার নাম শুনে সবাই আরও একটু ঘন হয়ে দাঁড়াল। সাধুবাবা সকলকে বললেন, “আপনারা কেউ বাত করবেন না।” তারপর তিনি খুব জোরে লখনকে ডাকলেন, “আরে এ লাখান”।

    যেন অনেক দূর থেকে আওয়াজ এল, “বোলিয়ে জি পিন্ডারী বাবা”।

    সবাই অবাক হয়ে দেখল বাবাজি হাসি হাসি মুখে বসে আছেন। উত্তর আসছে যেন আকাশ থেকে। খানিক কথাবার্তা চলার পর বাবাজি আর-এক কীর্তি করলেন। একটা লম্বা তলোয়ার নিয়ে সোজা মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিলেন। তলোয়ার বাঁটসুদ্ধ ধীরে ধীরে ঢুকে গেল পেটের ভিতরে। সেই শূন্য তলোয়ার থেকে ভূতের আওয়াজ বলে উঠল, “আপলোগ সামনে যা কর ইস তলোয়ার কো আহসাস কিজিয়ে।” কেউ যায় না। সবাই ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। সাধুও করে ঊর্ধ্বপানে চেয়ে বসে আছেন। দেহ স্থির। নিশ্চল। যেন পাথরের মুর্তি। পেটের কাছে তলোয়ারের ডগাটা বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। কিন্তু সেটা হাতে ধরার সাহস কারও নেই। গণপতির কী যেন হয়ে গেল। গুটিগুটি পায়ে পেটের কাছে উঁচিয়ে থাকা তলোয়ার স্পর্শ করতেই পিন্ডারী বাবা চিৎকার করে বলে উঠলেন, “সাব্বাস বেটা।” সবার সঙ্গে গণপতিও অবাক হয়ে দেখল কী অদ্ভুত এক জাদুমন্ত্রবলে গোটা তলোয়ারটা বাইরে বেরিয়ে বাবার হাতে চলে এসেছে এক মুহূর্তে। তিনি গণপতির দিকে চেয়ে হাসছেন। সবাই বিস্ময়ে তালি দিতেও ভুলে গেছে। অবাক হবার তখনও কিছু বাকি। সাধু দেখালেন পাশের মাটিতে এর মধ্যেই গজিয়ে গেছে প্রচুর সবুজ তুলসীচারা। হাওয়ায় লকলক করছে। বাবা এক-একটি করে চারা সবার হাতে তুলে দিলেন। তবে বিনে পয়সায় না। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। এই দান নাকি ঠাকুরের ভোগে লাগবে। দেখতে দেখতে চারা শেষ। সবাই চারাগুলো মাথায় ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ছেলেটার কী হল? যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে মাটি খুঁড়ে ছেলেটাকে বার করে আনলেন পিন্ডারী বাবা। সেও নির্বিকার মুখে সব সরঞ্জান গুটিয়ে সবার কাছে হাত পাততে লাগল। কেউ পয়সা দিল। কেউ দিল না। এর আগেও অনেক বাবাজি আর মাদারির খেলা দেখেছে গণপতি। কিন্তু এমনটা এই প্রথম। সে অপেক্ষা করতে লাগল কখন ভিড় হালকা হয়। হতেই সোজা বাবাজির পা জড়িয়ে ধরল। সে বাবাজির চেলা হতে চায়। সেও হবে আর বাবাজিও করবেন না। বললেন, “তু বড়া ঘর কা লেড়কা আছিস বেটা। এ খেল বহুত মুশকিল কা খেল আছে। ইন্দরজি নে ইস জাল কো বানায়া থা ফির ইস খেল কো দিখাতে থে রাজা ভোজ অউর রানি ভানুমতী। তেরা কেয়া মঝাল হ্যায় জো তু দো দিন মে ইসকো শিখ যায়েগা? ঘর যা। ইস কে লিয়ে সবকিছু ছোড়না পড়তা হ্যায়। তুঝসে না হো পায়েগা বেটা……”

    জেদ চেপে গেছিল গণপতির মনে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাড়ি ছাড়ল সে। সঙ্গে বন্ধু মণীন্দ্রনাথ লাহা। গণপতি তাকে ডাকে প্যাদনা বলে। পিন্ডারী বাবা আর তাঁর সঙ্গী সেই ছোকরা সেদিনের পর যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। অনেক খুঁজেও গণপতি তাঁদের সন্ধান পেল না। শেষে কিছু মাদারির সঙ্গী হয়ে কয়েকরকম খেলা রপ্ত করল দুজনে। নেহাত মামুলি খেলা। পেট চলে না তাতে। প্যাদনা হাল ছেড়ে দিল। ঠিক করল জাদুকর যখন হওয়া হল না, সাধুই হয়ে যাবে। কিন্তু বাড়ি ফিরবে না। প্রথমেই গেল তারাপীঠ। সেখানে সাধক বামাখ্যাপা তাকে প্রায় দূর দূর করেই তাড়িয়ে দিলেন। স্রোতে কুটোর মতো ভাসতে ভাসতে গণপতি পৌঁছাল বৈদ্যনাথধাম, আর সেখানেই একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটল যাতে তার ভাগ্য বদলে গেল চিরকালের মতো।

    গঙ্গার ঘাটে বসে জাদু দেখাচ্ছিল একদিন। এভাবেই পেট চালাতে হয় এখন। আপাত সহজ জাদু, কিন্তু যারা দ্যাখে চমকে যায়। পিন্ডারী বাবাও দেখিয়েছিলেন। মুখ থেকে আগুনের হলকা বার করা। এই তামাসা দেখাবার আগে মুখে কিছুটা আকরকোরা বচ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চিবাতে হয়। সেই চিবানো রস মুখের সব জায়গায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাখিয়ে নিলে আগুনে মুখের কোনও ক্ষতি হয় না। মাদারি এমনটাই শিখিয়েছিল। সেদিন জাদু শুরু করতেই আচমকা পেটের ডানদিকে একটা ব্যথা শুরু হল। প্রথমে গা করেনি গণপতি। ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে লাগল। যেন গরম লোহার একটা শিক কেউ ঢুকিয়ে দিয়েছে পেটে। ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে। মুখে আগুনজ্বলা নারকেলের লুটি ঢোকাতেই গণপতি টের পেল ভয়ানক কোনও ভুল হয়েছে। আগুনের তাপে জ্বলে যাচ্ছে মুখ। আগুনের শিখার বদলে গলগল করে একগাদা বমি করে ফেলল গণপতি। চারিদিকে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেরা সরে গেল ঘেন্নায়। গণপতির মনে হল সে এবার মারা যাবে। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ঠিক আগে কেউ তাকে ধরে নিল। বড্ড চেনা একটা মুখ। কুচকুচে কালো চেহারা। সামনের দাঁতদুটো উঁচুমতন। গণপতির মনে হল স্বয়ং দেবদূত এসেছে তাকে বাঁচাতে। কোনও দিন ভাবতেও পারেনি এই মুখ একদিন চরম অভিশাপের মতো তাকে তাড়া করে বেড়াবে ক্রমাগত। এখন গণপতি তার নাম জানে।

    লখন।

    ২।

    টানা চারদিন জ্বরে ছটফট করেছিল গণপতি। মুখ পুড়ে খাক। কিচ্ছু খেতে পারছে না। পিন্ডারী বাবা পরম যত্নে কপূরের সঙ্গে নানা জড়িবুটি মিশিয়ে গণপতির মুখে প্রলেপ লাগিয়ে দিতেন। দিনে তিনবার করে খাইয়ে দিতেন গলা সুজি। ঠিক হতে প্রায় দিন দশেক লাগল। বাবা সরাসরি গণপতিকে প্রশ্ন করলেন, সে কেন তাঁর পিছু নিয়েছে? সত্যি কথাই বলল গণপতি। সে জাদুকর হতে চায়। শিষ্য হতে চায় পিন্ডারী বাবার। কিন্তু পিন্ডারী বাবা শিষ্য নেন না। যদি কিছু শেখার হয়, গণপতিকে বাবার সঙ্গে সঙ্গে থেকেই শিখতে হবে। কিন্তু লখন? লখনের কথা উঠলেই বাবা কথা ঘুরিয়ে নেন। একদিন শুধু ভুলে বলে ফেলেছেন, “ও কোই নর নেহি হ্যায় বেটা। ও পাক্কা যমরাজ আছে। উসকে সাথ তেরা কেয়া?” অনেক প্রশ্ন করেও এর বেশি কিছু জানতে পারেনি গণপতি। বাবা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। লখনের হাবভাবও খানিক অদ্ভুত। সেও বাবার শিষ্য, কিন্তু বাবার আজ্ঞাবহ না। সে নিজের ইচ্ছেমতো চলে। মাঝে মাঝে কোথায় চলে যায় কে জানে? তিন-চার দিন ফেরে না। বাবাকে জিজ্ঞেস করলেও বাবা উত্তর দেন না। লখনকে আজ অবধি একটা কথা বলতে শোনেনি গণপতি। যে কেউ ভাববে ও বুঝি বোবা।

    ঘুম থেকে কাকভোরে উঠে গণপতিকে বাবার জন্য স্নানের জল নিয়ে আসতে হয়। সেই জল গরম করতে হয় কাঠকুটো জ্বেলে। তারা তখন নেমে এসেছে হরিদ্বারে। হর-কি-পৌরি ঘাটের ব্রহ্মকুণ্ডের পাশেই এক মন্দিরের ধারে তাদের আস্তানা। বাবার বয়স হয়েছে। সরাসরি গঙ্গায় নামেন না। স্নান সেরে কিছু ফলাহার করতে না করতে ঘাটে লোকজন জনতে শুরু করে। গণপতিরাও নিজেদের কাজে লেগে যায়। লোকে বলে সমুদ্রমন্থনের সময় গরুড় যখন অমৃতভাণ্ড নিয়ে যাচ্ছিল তারই এক ফোঁটা এই ঘাটে চুঁইয়ে পড়ে। এই ঘাট তাই বড়ো পবিত্র। আর এখানে আসা মানুষরাও আসেন সবকিছু বিশ্বাস করতে, মেনে নিতে। বাবা সেই সুযোগই নেন। ঘাটের পাশেই ত্রিশূল পুঁতে উচ্চস্বরে মন্ত্র পড়তে থাকেন। ভিড় জমে যায় তাঁর চারপাশে। তখন শুরু হয় আসল খেলা।

    দর্শকদের চোখের সামনে পাত্রের গঙ্গার জল রং বদলায়, কাঠের গোলা বাবাজির কথামতো গড়িয়ে গড়িয়ে এদিক ওদিক যায়, লম্বা সাদা পালক বাক্সের মধ্যে ঢুকেই হয়ে যায় ছটফটে একটা গোলা পায়রা। দর্শকদের অবাক ভাব মিটতে না মিটতে গণপতি বাবার সামনে এনে দেয় জ্বলন্ত কাঠকয়লা একটা লোহার কড়াই। সবার সামনে, যেন সুমিষ্ট কোনও ফল, এইভাবে বাবাজি একের পর এক সেই কয়লা খেয়ে চলেন। দুই হাতের করতলে তুলে নেন জ্বলন্ত দুই আংরা। তারপর হা হা করে হাসতে হাসতে সেগুলো নিয়েই জাগলিং দেখিয়ে চলেন, যেন নির্দোষ দুখানি আপেল।

    গণপতি এই খেলার কায়দা শিখে নিয়েছে। ঘাটের পশ্চিম পাড়ে এক আঠালো গাছ আছে। এমন গাছ আগে কোনও দিন দেখেনি সে। এখানকার লোকেরা সে গাছের কাছে ঘেঁষে না। বাবার কাছে শুনেছে এই গাছের নাম ইস্টোরাক্স। রাতের বেলা চুপিচুপি তাকে এই গাছের আঠা নিয়ে আসতে হয়। খেলা দেখানোর আগে বাবা তাঁর জিভে আর মুখের দুইপাশে ভালোভাবে এই আঠা মাখিয়ে নেন। হাতের তালুতে মাখেন ঘৃতকুমারীর ডাঁটা আর ওল পেষাই করে। পেষাই অবশ্য গণপতিকেই করে দিতে হয়। বাবা খেলা দেখানোর জন্য কোনও টাকা নেন না। তাঁর আসল আয় ওষুধে। বিভিন্ন পেটের রোগের ওষুধ, বাতের তেল, সান্ডার তেল আর সবচেয়ে বেশি যার বিক্রি সেই শিলাজিৎ। সব পুরুষই মনে মনে জোয়ান হতে চায়। বাবা বলে চলেন, “আপলোগ ইতনে মেহনত করকে পয়সা কামাতে হো পর আপনে জওয়ানি কে উপর আপনে কভি ধ্যান দিয়া? কভি সোচা আপকি বিবি আপসে খুশ হ্যায় কে নেহি? না-খুশ বিবি মতলব পরায়া মর্দ। মেরি বাত মানো, ইয়ে লে যাও হিমালয় কা আসলি শিলাজিৎ। ইয়ে দুধ মে মিলা কর পিলো ফির অ্যায়সা খেল খেলো কে বিবি ভি পুছেগি, “ওয় মেরি জান, তুমনে আজ কেয়া খায়া?” সবাই হেসে ওঠে। কেউ শিলাজিৎ কিনতে এগোয় না। বড়োজোর দাঁত ব্যথা বা কান কটকটের ওষুধ বিক্রি হয় কিছু কিছু। বেলা বাড়ে। ভিড় হালকা হয়ে যেতে থাকে। এবারেই যেন শূন্য ফুঁড়ে উদয় হয় কিছু মানুষ। রোগা ক্ষয়াটে চেহারা থেকে তেল ঘি খাওয়া মাড়োয়ারি। বাবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে। জেনে নেয় নিয়মকানুন। চোরের মতো হাত পেতে পাতায় মোড়া শিলাজিৎ নিয়েই গেঁজেতে ঢুকিয়ে ফ্যালে। আর ফেলেই প্রায় দৌড়ে পালায়। কুলকাঠের ছাই আর গাবের আঠা দিয়ে তৈরি এই শিলাজিৎ কাজ না করলেও লজ্জায় কেউ অভিযোগ জানাতে আসবে না। যতক্ষণ বাবা তাঁর খেলা দেখান, প্রায় অদৃশ্যের মতো ভিড়ে মিশে থাকে লখন বাবার জাদুতে যখন সবাই আচ্ছন্ন, সবার অলক্ষে চলে তার হাতসাফাইয়ের কাজ। কারও গলার হার, গেজের টাকা, আঙুলের আংটি। কাছেই শেঠ বনওয়ারি দাসের গদি। তিনি প্রায় সিকিভাগ দামে এই চোরাই মাল কিনে নেন।

    লখনকে নিয়ে একটা অস্বস্তি রয়ে গেছে গণপতির মধ্যে। ও কথা বলে কম। ছায়ার মতো এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। মাঝে মাঝে মনে হয় বাবাও যেন ওকে একটু সমঝে চলেন। লখন সব জাদু জানে। কিন্তু দেখায় না। জাদু দেখানো যেন ওর উদ্দেশ্য না। সবসময় অন্য কিছু ভাবছে। গণপতি আসার পরে বাবার চ্যালার কাজ পাকাপাকি গণপতিই করত।

    একদিন রাতে বাবা গণপতিকে বন্ধনের জাদু শেখাচ্ছিলেন। হাতে হ্যান্ডকাফ আর দড়ি বেঁধে হাতের মোচড়ে কীভাবে মুক্ত হতে হবে। গণপতির সামান্য ভুলে হাতে হ্যান্ডকাফ প্ৰায় কেটে বসে গেছিল। বাবাজি যতই চেষ্টা করেন খোলার ততই লোহার হ্যান্ডকাফ আরও এঁটে বসে। বাবাজি প্রথমে গা করেননি। বলছিলেন “কোশিশ কর বেটা”, আর মৃদু মৃদু হাসছিলেন। শেষে গণপতি ব্যথায় প্রায় চিৎকার করে কেঁদে উঠল। তখন বাবাজি হাত লাগালেন কিন্তু ততক্ষণে লোহার আংটা হাতে চেপে বসে গেছে। নড়াতে গেলেই হাত ভেঙে যাবে। চাবি দিয়েও খোলা যাচ্ছে না। বাবাজি বললেন, একটাই উপায় আছে। গণপতিকে হাত সামনে টানটান করে হামাগুড়ি দেবার মতো বসতে হবে। গণপতি বসার চেষ্টা করার আগেই আচমকা কোথা থেকে উদয় হল লখন। তার হাত ধরে সামান্য মোচড়ে এমন করে হাতটা হাতকড়া থেকে বার করে দিল যেন অভিজ্ঞ শাঁখারি বাড়ির বউদের হাত থেকে চুড়ি খুলে নিচ্ছে। সেদিন পিন্ডারী বাবার মুখের সেই অবাক চাউনি ভুলতে পারেনি গণপতি।

    সেদিন গভীর রাতে কালঘুমে ধরেছিল গণপতিকে। কিছুতেই চোখ মেলতে পারছিল না। ঘুমের মধ্যে শুধু টের পাচ্ছিল বহু মানুষের কথাবার্তা। নড়াচড়া। তার অঙ্গ অসাড়। কানের কাছে ভোঁ ভোঁ করছে। খুব আবছা লখনের গলা শুনতে পাচ্ছিল সে। একদল লোকের সঙ্গে লখন কথা বলছে। বাকিদের মুখে কথা নেই। তারা যেন চুপ করে শুনে যাচ্ছে লখনের কথা। মাঝে মাঝে লখনের গলা চড়ছে। আবার খাদে নেমে যাচ্ছে। গভীর কোনও শলাপরামর্শ চলছে সবাই মিলে। বাবাজি কোথায়? তিনিও কি ঘুমে কাতর? লখন কী বলছে গণপতি তা বুঝতে পারছে না। তবে এটুকু পরিষ্কার, লখন চোস্ত ইংরাজিতে কথা বলছে। এমন ইংরাজি খাঁটি সাহেব ছাড়া কারও মুখে শোনেনি গণপতি। তার চোখ ঘুমে ঢলে এল। তারপর আর কিছু মনে নেই…….

    জ্ঞান ফিরল ঠান্ডা জলের স্পর্শে। গঙ্গার ঠান্ডা জল বারবার এসে তার পা ধুইয়ে দিয়ে যাচ্ছে। মাথা ব্যথায় ফেটে পড়ছে। একটু সাড় পেতেই বুঝল কেউ তাকে ঘাটের ধারে ফেলে রেখে গেছে। এখন ভোররাত। পুব আকাশ ফরসা হব হব করছে। আর একটু পরেই একে একে পুণ্যার্থীরা ভিড় জমাবে ঘাটে। অতিকষ্টে হাতে ভর দিয়ে উঠে বসল গণপতি। দুই হাতে বিষ ব্যথা। উঠে বসতেই পায়ে শক্ত মতো কী যেন ঠেকল। আর-একটা পা। ডান পা। লোমশ। এই পা সে চেনে। প্রতি রাতে এই পা ঘণ্টাখানেক টিপে দিলে তার ঘুমের অনুমতি মিলত। কিন্তু এখন এই পা বেয়ে চ্যাটচ্যাটে তরল গড়িয়ে পড়ছে। রক্ত। আকাশে ধীরে ধীরে আলো ফুটছে। পিন্ডারী বাবা ঘাটে চিৎপাত হয়ে শুয়ে। চোখদুটো খোলা। আকাশের দিকে তাকানো। বুকের পাঁজর থেকে নিচ অবধি সরাসরি দেহটা দুফালা করে দিয়েছে কেউ বা কারা। নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে হর-কি-পৌরির ঘাটে। বাবার পাশেই রাখা সেই তলোয়ারটা, যেটা খেলাচ্ছলে প্রায়ই পেটে ঢুকিয়ে দেন তিনি। এবার সেটা তাঁকে করেছে। তড়াক করে উঠে দাঁড়াল গণপতি। তার খালি গায়ে, পরনের খাটো ধুতিতে রক্তমাখা। দুই হাতে রক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধেছে। ভোর হয়ে গেছে। এবারে সবাই এসে তাকে এভাবে দেখতে পাবে। এখন উপায়?

    “হাজতে যাবি, না আমাদের কথা শুনবি?” পরিষ্কার বাংলায় প্রশ্ন এল ঘাটের একধার থেকে। ঘাটের পাশের মন্দিরের দেওয়ালের আড়াল থেকে অশরীরীর মতো বেরিয়ে এল লখন। তার সঙ্গে দুই ছোকরা সাহেব, যাদের গণপতি আগে কোনও দিন দেখেনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার
    Next Article আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }