Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লখনের কথা

    ১।

    ১৮৮০ সালের ডিসেম্বর মাস। সদ্য সিমলা থেকে সপরিবারে কলকাতায় বদলি হয়েছেন সাহেব সিভিলিয়ান উইলিয়াম সেটন। সামনেই বড়দিন। তাই কেনাকাটা করতে একটা ল্যান্ডো চেপে তিনিও এসেছিলেন মেমসাহেবের সঙ্গে। আগে এখানে দুটো বাজার পাশাপাশি ছিল। সাহেবদের জন্য ফেনউইক বাজার আর নেটিভদের কলিঙ্গবাজার। কিন্তু নেটিভদের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বাজার করতে সাহেবদের ঘোর আপত্তি। কিছুদিন আগে তাই কলকাতা কর্পোরেশন ফেনউইক বাজার ভেঙে শুধু সাহেবদের জন্য নতুন এক বাজার বানিয়েছেন। তাতে এক ছাদের নিচে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি, ফল, স্টেশনারি বইপত্র থেকে পোশাক জুতো ব্যাগ উপহার সামগ্রী সব সমস্ত কিছুই পাওয়া যাবে। নেটিভদের সঙ্গেও আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। বাজারের এক গালভরা নাম রাখা হয়েছে, ভিক্টোরিয়ান গথিক মার্কেট কমপ্লেক্স। কিন্তু মুখে মুখে সাহেবরা একে নিউ মার্কেট বলে থাকেন। কলকাতায় এসে বড়দিনের বাজারের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা হয় না। ফেরার পথে একটা মুশকিল হল। কর্পোরেশনের একদল কুলি বিনা রেজিস্ট্রেশানে মাল বইছিল। তাদের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশান করা কুলিদের ঝামেলা বেঁধে এখন মারামারির পর্যায়ে গেছে। পুলিশ তেমন কিছু করছে না, বা করতে পারছে না। সেটন সাহেব কলকাতায় নতুন। তিনি ভয় পেলেন। সহিসকে বললেন অন্য পথ ধরতে। সহিস একটু অনিচ্ছাতেই পাশের কলিঙ্গবাজারের গলি ধরল।

    উপরতলার ইংরেজরা এই রাস্তা এড়িয়েই চলতেন। যদিও রাতের অন্ধকারে এখানে সাহেবসুবোদের আনাগোনার কমতি ছিল না। কলকাতার একমাত্র ইউরোপিয়ান বেশ্যাদের কুঠি এই রাস্তায়। সেটন সাহেব এসব কিছুই জানতেন না। জানলে হয়তো গলিতে ঢোকার আগে দুবার ভাবতেন। ঢুকে দেখেন এক জায়গায় প্রচুর নেটিভ পুরুষ মহিলা ভিড় করে দাঁড়িয়ে। গাড়ি একচুল এগোতে পারছে না। কী ব্যাপার দেখার জন্য সাহেব নিজেই ল্যান্ডো থেকে নেমে পড়লেন। রাস্তা জুড়ে এক প্রকাণ্ড চেহারার মানুষ খেলা দেখাচ্ছে। পরনে কেবল একটা টকটকে লাল ধুতি। মাথায় জটা। লোকটির সামনে দুটো বেতের ঝুড়ি। একটা ছোটো। একটা অপেক্ষাকৃত বড়ো। ছোটো ঝুড়ি থেকে মাথা বার করে প্রায় সোজা হয়ে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে মিশমিশে কালো একটা কেউটে সাপ। মাঝে মাঝে জিভ বার করছে। লোকটা সাপের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে মন্ত্রের মতো বলে যাচ্ছে, “লাগ-লাগ-লাগ-লাগ ভেলকি লাগ। লাগ বললে লাগবি, ছাড় বললে ছাড়বি। ভাটরাজার দোহাই রে বাবা। ভাটরাজার দোহাই।” সাহেব কথাগুলো না বুঝলেও অবাক চোখে লোকটাকে দেখছিলেন। এমন জিনিস তিনি আগে কোনও দিন দেখেননি। পাশে ততক্ষণে সহিস এসে দাঁড়িয়েছে। সে অল্প ইংরাজি জানে। সাহেবকে বুঝিয়ে দিল এরা বেদে। সাপের খেলা দেখায়। জাদু দেখায়। বেদে ততক্ষণে মন্ত্র বদলে ফেলেছে। নিজের হাতকে সাপের ফণার মতো দোলাচ্ছে সাপের সামনে, সাপের মাথাও দুলছে তালে তালে। প্রায় গানের মতো অদ্ভুত বোলে লোকটা বলে চলল-

    প্রথমে জুড়িলাম মাতা সয় ব্ৰাহ্মণী
    ফুঁক দিতে ওগো মাতা বিষ নৈল পানি।
    তা বাদে জুড়িলাম মাতা রক্ত রোহিণী।
    সভা পানে চাইতে সাপের বিষ হৈল পানি।

    বলেই হাতে অদ্ভুত এক ঝাড়া মারল। আর মারতেই সেই ফণা তোলা সাপ বাধ্য শিশুর মতো মাথা গুটিয়ে ঢুকে গেল বেতের ঝুড়িতে। সবাই তালি দিয়ে উঠল। নিজের অজান্তেই তালি দিলেন সেটন সাহেবও। বিষধর সাপ মানুষের কথা শুনছে। আশ্চর্য! কিন্তু আসল চমক ছিল এর পরেই। ঠিক পাশেই ছোট্ট একটা ইজের পরে দাঁড়িয়ে ছিল বছর আটেকের একটা বাচ্চা ছেলে। কুচকুচে কালো গায়ের রং। সামনের দাঁতদুটো উঁচুমতন। চোখদুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। বেদে তাকে বড়ো ঝুড়িতে ঢুকতে বলল। সে ঢুকবে না। বেদে যতবার বলে, সে মাথা নেড়ে না করে। শেষে বেদে রেগেমেগে একগাছা মোটা দড়ি আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল ছেলেটাকে। সে বারবার হাত পা ছুড়ে বাধা দিতে চাইল। পারল না। এবারে বেদে জোর করেই তাকে ঢুকিয়ে দিল বড়ো বেতের ঝুড়িটায়। বাচ্চাটা কাঁদতে শুরু করল। ঝুড়ির ভিতর থেকে শোনা যাচ্ছে সেই কান্না। বেদে বড়ো একটা হাঁ করে নিজের পেটের ভিতর থেকে বের করে আনল লম্বা একটা তলোয়ার আর তীব্র রাগ আর ঘৃণায় সেই তলোয়ার বিধিয়ে দিতে লাগল ঝুড়ির গায়ে। শিশুটির আর্ত চিৎকারে গোটা গলি কেঁপে উঠল। ঝুড়ির গা বেয়ে বেরিয়ে এল তাজা লাল রক্ত। এতটা সহ্য করা সেটনের পক্ষে অসম্ভব। তিনি প্রায় কিছু না ভেবেই ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকে বেদের হাত চেপে ধরলেন। বেদে চমকে তাঁর দিকে তাকাল। সে বোধহয় সাহেবকে দেখবে বলে ভাবেনি। তার চোখে ভয়। কিছু বোঝার আগেই সেটনের আপারকাট তাকে ধরাশায়ী করল। ঠিক সেই সময় রিনরিনে গলায় কে যেন বলে উঠল, “প্লিজ স্যার, প্লিজ।” সেটন অবাক হয়ে দেখলেন ভিড়ের মধ্যে থেকেই এক কিশোরী মেয়ে এসে তাঁর হাত চেপে ধরেছে। মেয়েটার দুই চোখে জল। চারিদিকে হাততালি দেওয়া নেটিভরা চুপ। তারাও বুঝতে পারছে না কী করবে। আর সাহেবকে সম্পূর্ণ হতবাক করে দিয়ে সেই মেয়েটার ঠিক পাশেই যেন মাটি ফুঁড়ে উদয় হয়েছে সেই বাচ্চা ছেলেটা। অক্ষত। নিশ্চুপ। হতভম্ব সেটনকে আরও চমকে দিয়ে মেয়েটা আবার স্পষ্ট ইংরেজিতে বলল, “ইটস জাস্ট এ ম্যাজিক ট্রিক স্যার।” বেদে ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে লম্বা একটা বাঁশ। সেটনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সেই মেয়ে তরতর করে উঠে গেল বাশ বেয়ে। বাশের মাথায় তীক্ষ্ণ লোহার ছুরি। অদ্ভুত ব্যালান্সে সেই ছুরিতে নাভি ঠেকিয়ে বনবন করে ঘুরতে লাগল সে।

    ফেরার আগে মেয়েটার হাতে দুটো সিক্কা টাকা গুঁজে দিয়েছেন সাহেব। দুটো মিষ্টি কথাও বললেন। মেয়েটার চুলের রং লালচে। ত্বক গোলাপি। চোখের মণি কটা। এ মেয়ে নেটিভ হতেই পারে না। কথা বলে সাহেব বুঝলেন এর মা কলিঙ্গবাজারের ইউরোপীয় বেশ্যা। ইদানীং আয় প্রায় নেই। তাই ছেলেমেয়েকে বেদের দলে ভিড়িয়েছে। হ্যাঁ, ওই নিকষ কালো শিশুটি নাকি এই মেয়েটির ভাই। হতেই পারে অবশ্য। সেটন ভাবলেন। এদের বাবার ঠিক আছে নাকি?

    ল্যান্ডোতে ফেরার পথে সারাক্ষণ অন্যমনস্ক হয়ে রইলেন সেটন। মেমসাহেব বারবার জিজ্ঞেস করাতেও উত্তর দিলেন না। সেই রাতে তাঁর ঘুম এল না। বারবার চোখে ভাসতে লাগল মেয়েটার মুখ, হাসি, সদ্য যৌবনের কুঁড়ি ধরা শরীর। এমন রমণীরত্ব বেশিদিন কলিঙ্গবাজারের মতো জায়গায় থাকলে অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। তাঁর উচিত এই মেয়েকে উদ্ধার করে নিজের আশ্রয়ে আনা। শুধু গিন্নিকে জানানো যাবে না। তাঁর বাবা নামজাদা সিভিলিয়ান। সেটনের অফিসের বড়োকর্তা। শ্বশুরের জোরেই এত দ্রুত উত্থান হয়েছে সেটনের। কিন্তু তা বলে কি তিনি উপোসি থাকবেন?

    সেটন সেই রাতেই ঠিক করে নিলেন তাঁকে কী করতে হবে। কী যেন নাম বলেছিল মেয়েটা নিজের? মারিয়ানা। আর ওর ভাইয়ের নাম ল্যানসন। তবে ওই নাম খেলা দেখাতে গেলে নাকি চলে না। বেদে ওদের হিন্দু নাম দিয়েছে। ময়না আর লখন।

    গভীর ঘুমের দেশে মাঝে মাঝে কারা যেন এসে সাড়া দিয়ে যায়। লখন বুঝতে পারে না। শুধু আবছা ভেসে আসে কাদের যেন চিৎকার। প্রায় প্রতিদিন। স্বপ্নে। সেই কবেকার কথা। কিন্তু যেন সদ্য ঘটেছে। পরের দিন নববর্ষ। কলিঙ্গবাজারের ইউরোপিয়ান বেশ্যাপাড়া নিজেদের মতো সেজবাতি আর আলোয় সেজেছে। কিছু চিনা আর ইহুদি মহিলাও থাকে এখানে। তারাও যোগ দিয়েছে এই উৎসবে। লখনের মায়ের অসুখ সেদিন খুব বাড়াবাড়ি। জ্বরটা কিছুতেই কমছে না। বছর দু-এক আগেও সন্ধে হতে না হতে মায়ের ঘরে লোক ঢুকত। বহুদিন পরে বন্দরে আসা সাহেব নাবিক, জাহাজ-পালানো মাতাল। তাদের ডেরা লালবাজার আর বউবাজারের পাঞ্চহাউস। সারাদিন সেখানে বসে মদ টানে আর সন্ধ্যা হতেই সোজা চলে আসে কলিঙ্গবাজারে। এদের নিয়ে কলিঙ্গবাজারের বেশ্যারা রীতিমতো ভয়ে থাকে। একে তো দরজা বন্ধ করে যথেচ্ছ অত্যাচার করে, তায় আবার অনেক সময় পয়সাও ঠেকায় না। সন্ধ্যা হবার আগেই লখনের মা জেনি তাদের দুই ভাইবোনকে পাশের এক ঘরে ঢুকিয়ে দরজা আটকে দিত। লখনের কানে আসত মায়ের অসহায় চিৎকার, অচেনা পুরুষ গলায় অশ্রাব্য গালিগালাজ। মারের শব্দ। দিদি মারিয়ানা তার দুই কানে হাত চেপে ধরত জোরে। তাতেও কাজ হত না। ফিরে যাবার সময় এদের কেউ টাকা দিত। কেউ দিত না। কিচ্ছু করার নেই। কার কাছে নালিশ করবে? আর তারপরেই কলিঙ্গবাজারের সবচেয়ে সুন্দর বেশ্যা বিবিজান খুন হল। মার্কিন জাহাজের নাবিক ফ্র্যাঙ্ক রাসেল তাকে ভোগ করে টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিল। সে বাধা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে পিস্তল বার করে সে বিবিজানের মাথায় গুলি করে। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে কিছু লেখালেখি হলেও পুলিশ তাদের রিপোর্টে অনিচ্ছাকৃত খুন দেখিয়ে রাসেলকে ছেড়ে দেয়।

    সেদিন থেকেই জেনি ঠিক করেছে এই ব্যবসা ছেড়ে দেবে। বিবি তার মেয়ের চেয়ে কিছু বড়ো। মেয়ের মতোই তাকে স্নেহ করত সে। এদিকে জেনির দেহেও রোগ বাসা বেঁধেছে। জ্বর আসে প্রায়ই। পেচ্ছাপে জ্বালা। যোনিপথ দিয়ে রক্ত গড়ায়। কোমরের পর থেকে ব্যথায় অসাড়। তবু জেনি কাউকে জানায়নি। এ দেশে চৌদ্দ আইনের জোরে পুলিশ জানতে পারলেই ধরে নিয়ে যাবে হাসপাতালে। আর পরীক্ষার নামে ডাক্তার নিজের সুখটি করে নেবে। অকারণে মুচড়ে ধরবে স্তন। যোনি পরীক্ষার নামে নিজের লালসা মেটাবে। সঙ্গে আছে উৎপীড়ন। বেশ্যা যত কাঁদে, পুরুষ ডাক্তার তত মজা পায়। ভয়ে এই পাড়ার কেউ কেউ চন্দননগরে ফরাসিদের ডেরায় পালিয়েছে।থকে জেনির সে উপায় নেই। পারমিট মেলেনি।

    জেনি অসুস্থ হতেই ঘরে লোক নেওয়া বন্ধ করল। পেটে টান পড়ল প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। আর ঠিক সেই সময়ই একদিন প্রায় ভগবানের মতো দেখা দিল বাবুলাল। বাবুলালের পুরো নাম কেউ জানে না। বাবুলাল বেদে। হাতসাফাই আর সাপের খেলা দেখায়। কলিঙ্গবাজারের মুখটাতে এসে ডুগডুগি বাজালেই সবাই এসে জড়ো হয়। মাসে একবার তো আসেই। মারিয়ানা আর ল্যানসন বড্ড ভালোবাসে তার খেলা দেখতে। কিন্তু সে রাতে সে এসেছিল একা। হাঁফাতে হাঁফাতে জেনির দরজায় ধাক্কা দিয়েছিল। দরজায় ধাক্কা শুনে জেনি প্রথমে দরজা খোলেনি। ভেবেছিল কোনও মাতাল-দাতাল হবে। পরে ভাঙা গলায় “হেল্প মি। হেল্প মি” শুনে দরজা খুলতেই তাকে প্রায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল বাবুলাল। তাকে পুলিশে তাড়া করেছে। রয়্যাল নেভির এক পাড় মাতাল নাবিক তার পোষা সাপকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। রাগে বাবুলাল মাথা ঠিক না রাখতে পেরে সাহেবের বুকে মেরেছে এক ঘুসি। আর তাতেই সাহেব অক্কা পেয়েছে। বাবুলাল জানে পুলিশ তাকে খুঁজতে এ পাড়ায় আসবে না। এ পাড়ায় নেটিভ লোকের আনাগোনা কম।

    টানা ছয়মাস ঘরবন্দি ছিল বাবুলাল। তার কাছে কিছু টাকা গচ্ছিত ছিল। সেই টাকাতেই সংসার চলত। ল্যানসনের জীবনে সেই ছয়মাস প্রায় স্বপ্নের মতো। বাবুলাল তাদের শেখাল ভানুমতীর খেল, বেদের বিদ্যা। হাত থেকে টাকা উড়ানো, ঝুড়ির ভিতর থেকে অদৃশ্য হওয়া, পালককে পায়রা বানানো, আরও কত কী। মারিয়ানাও শিখত সঙ্গে সঙ্গে। একটা বাঁশের উপরে ছুরির ডগায় কী করে নিজেকে ব্যালেন্স করে রাখা যায়। পেটে শুধু আগে থেকেই বেঁধে নিতে হবে লোহার একটা পাত। পাতের মাঝে একটা ফুটো। লোকে যাতে বুঝতে না পারে, সেই পাতের উপরে পেঁচিয়ে নিতে হবে লাল শালু। দুপুর হতেই জেনি গুনগুনিয়ে তাদের পড়ে শোনাত বাইবেল। কালো মলাটের সেই পুরোনো বাইবেল আর খয়েরি চামড়ায় মোড়া একটা হাতে লেখা পুরনো ডায়রি। এই ছিল জেনির সম্বল। এই ডায়রি কাউকে ধরতে দিত না সে। বলত একদিন এই ডায়রি আমাদের হাল ফেরাবে। কীভাবে? কেউ জানে না।

    ছয়মাস হতে না হতে একদিন লোকটা এল। বাবুলালের খোঁজে। ঘরে থেকে থেকে বাবুলালের চেহারা ভেঙে পড়েছে। সারারাত ঘুমাতে পারে না কাশির চোটে। জেনি আদা গোলমরিচ ফুটিয়ে দেয়। অল্প আরাম হয়। লোকটা বাবুলালের খবর কীভাবে পেল কে জানে? দরজা খোলা পেয়ে সোজা ঢুকে এল জেনিদের ঘরে। বাবুলাল বিছানায় বসে ছোট্ট লখনকে হাতসাফাইয়ের খেলা দেখাচ্ছিল। ঢুকেই বাবুলালকে বলল, “কি গুরুদেব? ভালোই তো গা ঢাকা দিয়ে আচ? সবাই ভাবচে তুমি বুঝি পুলিশের গুলিতে মরেচ। আমি তো জানি তুমি সেই বান্দা নও।”

    অস্বাভাবিক মোটা। দাড়িগোঁফ কামানো। পরনে ফতুয়া। গলার স্বরে কী একটা ছিল, লখন চোখ ফেরাতে পারছিল না লোকটার থেকে। বাবুলাল খুব ধীরে ধীরে বলল, “তোকে এই ঠিকানা কে দিল রে হরিরাম?”

    “দিতে হয় নাকি? খুঁজে নিতে হয়।”

    “কোনও ঝামেলায় পড়েছিস নাকি?”

    “হ্যাঁ। চুরির। এক গয়নার দোকানে। পুলিশের নতুন এক দারোগা এইয়েচে। পিয়নাথ না কী যেন নাম। ব্যাটা হাড় জ্বালিয়ে মাচ্চে। তোম একানে ঠাঁই হবে তো বলো।”

    “জেনিকে বলে দেকচি। কিন্তু আগে বল খাবি কী? জেনির ঘরে লোক আসে না। আমার জমানো ট্যাকা শেষ। তার উপরে তুই। পুরোনো বিদ্যে কিছু মনে আচে? না চুরির নেশায় ভুলে মেরেচিস?”

    “কী যে বলো গুরুদেব। সব জানি।”

    “বটে? তবে হাতের এক ঝটকায় এই হরতনের তিরির উপরে চিড়েতনের এক্কাটা নিয়ে আয় দেকি।”

    হরিরাম নিতান্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বাঁ হাতে তাসের বান্ডিলটা ধরে একটা ঝাড়া মারতেই ভিতর থেকে চিড়েতনটা টুক করে উপরে এসে বসে পড়ল। “সাব্বাস বেটা! এক কাজ কর তবে। এই ছেলেমেয়ে দুটোকে আমি নিজের হাতে শিক্ষে দিয়েচি। তোকে যেমন দিয়েচিলাম। তুই ভোল পালটে ফেল। সাধুর বেশ নে। সাহেবরা আর নেটিবরা সাধুদের গায়ে হাত দিতে দশবার ভাবে। চম্পক ওঝার কাচে যা। বড়বাজারের পিছনে থাকে। একখান সাপ জোগাড় করে নে। বিষদাঁত দেকে নিস। হপ্তা দু-এক দাড়ি বাড়িয়ে খেলা দেকানো ধর। আর এই দুটোকে নিস। আমার নতুন চ্যালা।”

    সাধু সেজে হরিরাম নতুন নাম নিয়েছিল পিন্ডারী বাবা। লোকের সামনে কথা বলত ভাঙা হিন্দিতে। দেশের বাড়ি হুগলী জেলার তারকেশ্বরের ভাণ্ডারহাটি গ্রাম। হরিরামই ল্যানসনের নাম দিয়েছিল লখন। সে রাম আর তার সঙ্গী লখন। হরিরাম আসার কিছুদিনের মধ্যেই বাবুলাল ঘুমের মধ্যে মারা গেল। সন্ন্যাস রোগ বলেছিল সবাই। বাবুলাল মারা যেতেই হরিরাম বাড়ির মুরুব্বি হয়ে বসল। কথায় কথায় জেনিকে গালাগাল দিত। মারত। লখন ছাড় পেত না। ময়না না। দুধ দেওয়া গোরুর চাট খেতে বাধ্য ওরা। তাও একরকম চলছিল। সব বদলে গেল নববর্ষের সেই আগের রাতে।

    দিদির বুকের কাছে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে ছিল সে। আচমকা দরজা খুলে ঘরে ঢুকে পড়ল একগাদা লোক। কিছু সাহেব। কিছু নেটিভ। লখন এদের কাউকেই চেনে না। ঢুকেই একটানে উঠিয়ে নিল ময়নাকে। প্রায় পাঁজাকোলা করে তুলে নিল দুজন মিলে। তার মায়ের আর দিদির চিলচিৎকারে ঘর ভরে গেছে। লখন বুঝতে পারছে না কী করবে। সে দৌড়ে গিয়ে কামড় বসিয়ে দিল একজনের পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে জোর লাথি। বুক ফেটে যাবে যেন। দিদি চিৎকার করে হাত পা ছুড়ছে। অন্ধকার ঘরে শুধু দুই একটা ঢাকা লণ্ঠনের ঝলকানি। সেই আলোতেই লখন দেখতে পেল তিনটে সোমত্ত সাহেব তার দিদিকে একটা বড়ো বস্তায় পুরে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। ঘরের এক কোনায় মা গোঙাচ্ছে। তার উপরে হামলে পড়েছে দুজন নেটিভ। দুজনেই একেবারে ল্যাংটো। মায়ের চিৎকার বাড়তে বাড়তে ফেটে গিয়ে ফ্যাসফ্যাসে। লখনের বুকের ব্যথা বাড়ছে। লখন অজ্ঞান হয়ে গেল।

    সেই রাতের পর হরিরামকেও কেউ দেখেনি। বন্ধ দরজার খিল কে খুলেছিল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। বেশ্যার আবার ধর্ষণ হয় নাকি? বেশ্যার মেয়েকে কে অপহরণ করবে? নিজেই পালিয়েছে কারও সঙ্গে। এর উপরে যা শোনা যাচ্ছে, কিছু সাহেবও নাকি ছিল সে রাতে। সায়েবে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা। কে ঘাঁটাতে যাবে? তাও এক বেশ্যার কথা শুনে? মারিয়ানা চলে যাবার পরে জেনি কেমন একটা পাগল মতো হয়ে গেল। সারাদিন একা একা কথা বলে। বিড়বিড় করে। বাইবেলের পাতা ওলটায়। রাত হলেই বারবার করে দরজার খিল আটকায়।

    জেনিদের ঠিক পাশেই লিলির কুঠি। লিলি বয়সে মারিয়ানার চেয়ে কিছু বড়ো। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। বড্ড ভালোবাসত মারিয়ানাকে। তার ঘরে এক বড়োলোক সাহেব যাতায়াত করতেন। লিলি তার সাহেবকে জেনিদের কথা বলে। সাহেব খোঁজ নিয়ে জানান সিটন নামে কোনও এক সিভিলিয়ান নাকি মারিয়ানাকে নিয়ে উঠিয়েছেন চন্দননগরে নিজের ভাড়া করা বাগানবাড়িতে। সিটনের হাত অনেক উঁচু। পুলিশের বাবার ক্ষমতা নেই সেখানে হাত দেয়। লিলির অনুরোধেই সাহেব নিজে মিশনারি জেমস থবর্নের কাছে সুপারিশ করে অনাথদের স্কুল ক্যালকাটা বয়েজে লখনকে ভরতি করে দেন। এই সাহেব লখনের জীবনটা ঠিক কীভাবে বদলে দিলেন সেটা বুঝতে বুঝতে লখনের আরও দশ বছর সময় লেগেছিল।

    সাহেবের নাম জেকব ওয়ার্নার।

    ৩।

    টানা সাত বছর ক্যালকাটা বয়েজে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল ল্যানসনের। শুরুতেই ভরতি হয় জুনিয়র শ্রেণিতে বালি বিভাগে। এখানে ছাত্রদের প্রথামতো বালির উপরে অক্ষর শিখতে হত। কিছুদিনের মধ্যেই জ্যামিতি, অঙ্ক আর ইংরাজিতে পারদর্শী হয়ে ওঠে। তার মূল সমস্যা ছিল দুটো। এক, তার গায়ের রং। দুই, তার ঠিকানা যে কলিঙ্গবাজার, তা কীভাবে যেন ফাঁস হয়ে গেছিল। জেনির অসুখ বেড়েছে। এখন প্রায় বিছানাতেই থাকে তবে সামান্য কিছু সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়ে নেয়। ল্যানসনের পক্ষে লেখাপড়া চালানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু পড়াশুনোয় তার উৎসাহ দেখে স্বয়ং জেমস থবর্ন তাকে মাসে দুই টাকা জলপানির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

    ক্লাসে পাক্কা সাহেবরা একদিকে আর অ্যাংলো ইন্ডিয়ানরা অন্যদিকে বসত। একে অপরের সঙ্গে মিশত না। ল্যানসনের অবস্থা আরও করুণ। ইউরেশিয়ানরাও তাকে এড়িয়ে চলে। ক্লাসের একেবারে শেষে গুটিসুটি মেরে বসে থাকে সে। তাতেও রেহাই নেই। প্রায় অকারণেই “ব্ল্যাকি” আর “বাস্টার্ড” শব্দ দুটো তার নামের প্রতিশব্দ হয়ে উঠল। ক্লাসে লালমুখো ইংরেজ সাহেব গ্রিফ ইংরাজি পড়াতেন। ল্যানসনকে দেখলেই তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে উঠত। সাহেব ক্লাসে এসেই জোরে জোরে গ্রে-র কবিতার বই কিংবা বেকনের প্রবন্ধ থেকে পড়ে শোনাতেন। তারপরেই পড়া ধরতেন। ইংরেজ ছাত্রদের সাত খুন মাফ। ইউরেশিয়ানদের পান থেকে চুন খসলেই সাহেব মস্ত বাঁটওয়ালা এক কাঠের ফেরুল দিয়ে তাদের হাতে জোরে জোরে মারতেন। আঘাতে হাত ফেটে রক্ত পড়ত। সবচেয়ে বেশি মার খেত ল্যানসন। গ্রিফের হাতে ফেরুল আর বেতের বাড়ি তার বাঁধা ছিল। তাকে পিটিয়ে অদ্ভুত এক পাশবিক আনন্দ পেতেন সাহেব। পিটিয়েই যেতেন, যতক্ষণ না তিনি হাঁফিয়ে যান। ল্যানসন কিছু বলত না। মুখ বুজে থাকত। স্কুলে তার তিন-চারটি বন্ধু হয়েছিল। তাদের সবাই নিচু জাতের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। অনাথ। প্রায় সবারই বাবা এই দেশে সেনা হিসেবে এসেছিলেন। তারপর হিন্দু বা মুসলমান মায়ের গর্ভে তাদের জন্ম দিয়েই আবার দেশে ফিরে গেছেন। সাহেব কলকাতায় এদের সবাই ডাকে চি চি বলে। কারও মা এখন হাসপাতালে আয়ার কাজ করে, কেউ ইংরেজ বাড়ির গভর্নেস, আবার কেউ এখনও অন্য কোনও সাহেবের রক্ষিতা হয়ে আছে। এই বন্ধুদের মধ্যে ল্যানসনের সবচেয়ে কাছের ছিল বনি। বনি নিজের সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলত না। ওইটুকু বয়সেই অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে। কেন জানি না ল্যানসনের উপরে বনির স্নেহদৃষ্টি ছিল। বনির দলের তিন-চারজন অফ পিরিয়ডে প্রায়ই একত্র হয়ে কী যেন আলোচনা করত। অদ্ভুত ভাষায়। সে ভাষা ল্যানসন কোনও দিন শোনেনি। শুধু ঠোঁট নড়ত। মুখের কোনও বিকৃতি নেই। গ্রিফ সাহেব যখন গলার শির ফুলিয়ে মিলটনের কবিতা আবৃত্তি করছে, বনির দল নির্বিকার মুখে শুধু ঠোট নেড়ে নিজেদের কথা চালিয়ে যেত। একেবারে পিছনে বসে থাকা লখনের পক্ষে সেসব কথা বোঝা সম্ভব না। তবে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল করে ল্যানসন বুঝেছে প্রতি মাসের সাত তারিখ এদের আলোচনা যেন একটু বেশিই বেড়ে যায়। একটা অস্থির ভাব। ক্লাসে মন নেই। একটা উত্তেজনা যেন চারিয়ে আছে সবার মধ্যে। ক্লাস শুরু হত ভোরে। দুপুরে শেষ হবার পরেও অন্যদিন সবাই খানিক স্কুলের লাইব্রেরিতে কাটিয়ে যেত। কিন্তু ওই একদিন বনির দলবল ক্লাস শেষ হতেই পড়ি কি মরি করে ছুট লাগাত কোথায় যেন।

    ল্যানসনকে যেমন ওরা ব্ল্যাকি বলে ডাকত না, তেমন নিজেদের আলোচনার ঢুকতেও দিত না কখনও। ক্লাসের শেষে লাইব্রেরি রুমে বসে বনি, মিলার, ডেভিড আর থিওন মিলে একত্রে পড়াশুনো করত। একই টেবিলে। রোজ। ল্যানসন ঠিক পাশের টেবিলেই বসে। মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব শব্দ কানে এসে যায়, “লজ”, “মাস্টার”, “আর্টিফিসার”, “মার্সেনারি।” ল্যানসন এসবের মানে জানে না। একটু কান খাড়া করে শুনতে গেলেই কেউ না কেউ বুঝে ফ্যালে। সঙ্গে সঙ্গে একজন বলে ওঠে “কাওয়ান”, আর প্রায় ম্যাজিকের মতো সবাই একসঙ্গে একেবারে কেজো কথা আর ক্লাসের পড়াশুনোর কথা বলতে থাকে।

    স্কুলের সপ্তম বছরে বনিদের দলে ল্যানসনের ঢুকে যাওয়াটা একেবারে ম্যাজিকের মতো। হেন্ডারসন সাহেব ছিলেন অঙ্কের মাস্টার। যেমন ভালো পড়ান, তেমন কড়া। তাঁর হোমওয়ার্কে ফাঁকি দেওয়া যেত না কোনওমতে। বনি তাঁর প্রিয় ছাত্র। ক্লাসে এসে হোয়েওয়েলের মেকানিকস কিংবা ফেল্পসের অঙ্ক বই থেকে কিছু অঙ্ক টুকে দিতেন বোর্ডে। সব শেষে ‘ফর স্পেশাল স্টুডেন্টস’ লিখে আরও খান দুই অঙ্ক। সবাই জানত এই স্পেশাল স্টুডেন্ট কে? বনি আর তার বন্ধুরা ছাড়া কারও সাধ্য ছিল না সেই অঙ্কে হাত দেবার। আর একজন পারত। ল্যানসন। কিন্তু সে কোনও দিন কাউকে বলেনি। পরের দিন হেন্ডারসন বোর্ডে সেই অঙ্ক কষে দিলে ল্যানসন শুধু মিলিয়ে নিত নিজের কপির সঙ্গে। হেন্ডারসন বনিদের কপি দেখে মৃদু হেসে বনিকে বলতেন বোর্ডে এসে অঙ্ক কষে দিতে।

    সেদিন লাইব্রেরিতে বসে ল্যানসন সবে হেন্ডারসনের স্পেশাল অঙ্ক কষে উঠতে যাবে, এমন সময় বনির উত্তেজিত গলা কানে এল।

    “এভাবে হতেই পারে না। ভুল অঙ্ক। ইউক্লিডের থিয়োরির সঙ্গে তো একেবারেই মিলছে না!”

    বাকি তিনজনও গালে হাত দিয়ে বসে। থিওন পালকের কলম কানে ঢুকিয়ে চুলকাচ্ছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই অঙ্কের মাথামুণ্ডু উদ্ধার করা তাদের কম্ম না। ল্যানসনের হাসি পেল। বার্কলের জ্যামিতির বইতে একেবারে শেষের দিকে এই ধরনের কিছু সমস্যার কথা আছে। নিশ্চিতভাবে এরা সেই বই পড়েনি। শুধু পাঠ্যে থাকা ইউক্লিডের প্রথম ছটা খণ্ড আর এগারো নম্বরটা পড়েছে। হেন্ডারসন একবার বার্কলের কথা বলেছিলেন ক্লাসে। কিন্তু ওই বই থেকে অঙ্ক দেবেন এটা ল্যানসনও ভাবতে পারেনি। বনিদের পিছনের তাক থেকে বই বার করার ছলে খুব ধীরে ল্যানসন বলল, “এটার উত্তর ইউক্লিডের থিয়োরিতে হবে না। ল্যামবার্টের সূত্র ব্যবহার করতে হবে। চতুর্ভুজের তিনটি কোণ সমকোণ আর অন্যটা সূক্ষ্মকোণ। খেয়াল কর।”

    চমকে উঠে চারজনেই তাকাল ল্যানসনের দিকে। বনি খানিক স্থিরভাবে ওর মুখের দিকে চেয়ে হাতের খাগের কলমটা ছুড়ে দিয়ে বলল, “দেন ডু ইট।”

    পরের দিন ক্লাসে নিতান্ত অনিচ্ছাতেও হেন্ডারসনের কাছে খাতা নিয়ে যেতে হল ল্যানসনকেই। বনিরা খুব সম্ভব হেন্ডারসনকে কিছু বলেছিল। তিনি একবার ভুরু তুলে ল্যানসনকে দেখে ডেকে নিলেন বোর্ডে। নিখুঁতভাবে অঙ্কটা কষে দেবার পর শুধু পিঠে হাত রেখে বললেন, “ওয়েল ডান।”

    এরপর থেকে বনিরাই ল্যানসনকে ডেকে নিতে থাকল নিজেদের সঙ্গে। প্রায়ই বনি তাকে নানারকম ছোটো ছোটো লিফলেট দিত গোপনে। অনামা লেখকদের এইসব পুস্তিকায় লেখা থাকত কীভাবে এই দেশে অ্যাংলোদের ব্যবহার করছে ইংরেজ সরকার। কতটা ঘেন্না পুষে রেখেছে নেটিভরা তাদের জন্য। ল্যানসন বারবার জিজ্ঞেস করেছে, বনি কোথা থেকে এসব পায়? বনি বলেনি। এড়িয়ে গেছে। বলেছে সময় হলেই বলবে।

    সময় হল।

    সেদিন কলিঙ্গবাজারে ঢোকার মুখেই অচেনা এক লোককে দেখতে পায় ল্যানসন। এই পাড়ার নিয়মিত খদ্দের না। তখন সন্ধে নেমে এসেছে। রাস্তার ধারে ছোট্ট হালুইকরের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে লোকটা ফিসফিস করে লিলির সঙ্গে কী যেন কথা বলছে। সন্দেহ হতে ল্যানসন পাশেই একটা পাকুড়গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়ল। লিলি তো কোনও দিন ঘরের বাইরে বেরোয় না! অবাক হয়ে সে দেখতে পেল লিলি সম্পূর্ণ অচেনা সেই লোকটাকে তার হাত থেকে সোনার বালা খুলে দেখাল। লোকটা হাতের কাগজের সঙ্গে সেই বালা মিলিয়ে নিল। তারপর লিলিকে একটা ফটো দেখাল। নাড়তেই হেসে লোকটা লিলির হাতে কটা টাকার নোট গুঁজে দিল। লিলিও হাসিমুখে গলির ভিতর ঢুকে গেল।

    ল্যানসন লোকটাকে চেনে না। বালাটা চেনে। গতকালই লিলি তার মায়ের কাছে এসে বালাটা দেখিয়ে গেছে। তার সোহাগের সাহেব ওয়ার্নার নাকি এটা দিয়েছে। ল্যানসনও দেখেছে বালাটা। হাতে নিয়ে। তাই ভুল হবার উপায় নেই। তাহলে এই লোকটা এখানে কী করছে? লিলিই বা তাকে বালাটা দেখাল কেন? ল্যানসন লোকটার পিছু নিল। মোড় ঘুরে নিউ মার্কেট পেরিয়েই যখন একদল লাল পাগড়ির কাছে গিয়ে লোকটা কী যেন বলতে লাল পাগড়ি লম্বা স্যালুট ঠুকে তার জন্য পালকি ডেকে দিল, তখন আর সন্দেহ রইল না। ওয়ার্নারের পিছনে পুলিশ লেগেছে।

    ল্যানসন বেইমানি করতে পারবে না। যে ওয়ার্নারের জন্য আজ সে পড়াশুনো করতে পারছে, জলপানি পাচ্ছে, সে পুলিশের হাতে ধরা পড়বে, এ হতেই পারে না। আজ বুধবার। প্রতি শুক্রবার লিলির ঘরে আসে ওয়ার্নার। তার আগেই তাকে সাবধান করতে হবে। কিন্তু সে ওয়ার্নারের ঠিকানা জানে না। শুক্রবার স্কুলে গেল না সে। বিকেল হতে না হতে দাঁড়িয়ে রইল গলির একেবারে মুখে। বেরোবার সময় সে দেখে এসেছে লিলির বাড়ি ঘিরে ফেলেছে একদল সাদা পোশাকের পুলিশ। আজ ওয়ার্নারের রেহাই নেই।

    সন্ধে হতেই গলি থেকে একটু দূরে একটা ফিটন এসে থামল। দরজা খুলে গেল। ভিতরে ওয়ার্নার। একা। হাতে একটা বাক্স। ওয়ার্নার বাক্স থেকে কিছু একটা বের করার চেষ্টা করছে। ল্যানসন যেন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছে, এভাবে গাড়ির পাশে গিয়ে স্পষ্ট কিন্তু চাপা উচ্চারণে বলে উঠল, “ডিঙুর।” এই পাড়ায় আসা যাওয়া করে, কিন্তু এই শব্দের মানে জানে না, তা হতে পারে না। কলকাতার একেবারে নিচুতলায় থাকা হিজড়ে আর বেশ্যাদের কাছে এই শব্দের একটাই মানে, ‘পুলিশ’। এই বার্তা অস্বীকার করার ক্ষমতা ওয়ার্নারের নেই। সে দ্রুত দরজা বন্ধ করে গাড়ি ছোটাতে বলল।

    পরের সোমবার ক্লাস শেষ হতেই বনি ল্যানসনকে বলল, “একটু অপেক্ষা করে যাও। হেন্ডারসন সাহেব ডেকেছেন।” ল্যানসন অবাক। আজ হেন্ডারসনের ক্লাস ছিল না। তিনি কাউকে ডাকেন বলেও শোনা যায়নি। তবে কি সে কোনও গর্হিত অপরাধ করে বসল? বনিই নিয়ে গেল হেন্ডারসনের কামরায়। ওকে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা ভেজিয়ে দিল। হেন্ডারসন একটা মোটা বইতে মুখ ডুবিয়ে বসে ছিলেন। ল্যানসনকে দেখেই হাসলেন, “কাম ইন মাই বয়।”

    “আপনি ডেকেছিলেন স্যার?”

    “হ্যাঁ। বসতে পারো।”

    ল্যানসন তবুও দাঁড়িয়ে রইল।

    “তোমায় একটা কথা জানানো প্রয়োজন। প্রয়োজন কেন, কর্তব্য। আমার বন্ধু ওয়ার্নার নিরাপদে এই দেশ ছেড়ে যেতে পেরেছে। অ্যান্ড দি এনটায়ার ক্রেডিট গোজ টু ইউ। ব্রাদার ওয়ার্নার যাবার আগে আমার কাছে এসেছিল। তোমার বিষয়ে সব কিছু বলেছে। তোমার এক দিদি আছে না? মারিয়ানা? যাকে সেটন তুলে নিয়ে গেছে?”

    দিদির নাম শুনতেই ল্যানসনের চোখে জল। সে কোনওক্রমে মাথা নাড়াল।

    “চিন্তা কোরো না। তোমার দিদিকে উদ্ধার করে আনার দায়িত্ব আমাদের। আমরা তোমার দিদির আর মায়ের দেখভাল করব। তোমার মায়ের চিকিৎসা করাব। কিন্তু শর্ত একটাই। তোমাকে আমাদের হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের সংঘের কাজ। এ কাজে প্রাণসংশয় হতে পারে, কিন্তু যদি জিতি তবে সপাটে চড় মারা যাবে যারা আমাদের অবজ্ঞা করে তাদের মুখে। সুযোগ এসেছে। কিন্তু দরকার ভালো উদ্যমী ছেলের। কি, পারবে?”

    অনিশ্চিতভাবে মাথা নাড়ল ল্যানসন, “আই ডাউট স্যার।”

    “বাট আই হ্যাভ নো ডাউটস। আমি অনেকদিন ধরে তোমায় দেখছি। বনিরাও আমায় তোমার কথা বলেছে। তোমার সবচেয়ে বড়ো সুবিধে, তোমায় দেখে এ দেশের নেটিভ বলেই মনে হয়। বাংলা আর হিন্দিও তুমি নেটিভদের মতোই বলতে পারো। শুনলাম তোমার নাকি একটা নেটিভ নামও আছে। এটা আমাদের কাজে লাগবে। কিন্তু তার জন্য তোমাকে আমাদের সংঘে যোগ দিতে হবে। সংঘে থাকলে সব পাবে। বিশ্বাসঘাতকতা করলে সব কিছু কেড়ে হয় অনন্ত জীবন, নয় বিস্মৃতির মৃত্যু। রাজি?”

    ল্যানসেন কিচ্ছু বুঝতে পারছিল না,”কোন সংঘ? কীসের কথা বলছেন স্যার?”

    “শোনো, হ্যাঁ বা না বলার আগে তুমি ভেবে নিতে পারো”, বলে চললেন হেন্ডারসন, “তোমার উত্তর যদি ‘না’ হয়, আমাদের আজকের আলোচনাটা কোনও দিন হয়নি। সেক্ষেত্রে তোমার মা বা দিদির কথা তোমাকেই ভাবতে হবে। কিন্তু যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, দেন দেয়ার ইজ নো টার্নিং ব্যাক। নাও ইউ ক্যান টেক ইয়োর টাইম সন।”

    খুব বেশি সময় নিল না ল্যানসন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলল, “আমি রাজি স্যার। কিন্তু এই সংঘের ব্যাপারে তো আমি কিছুই জানি না।”

    চেয়ার থেকে উঠে, হাতের বইটা তাকে ঢুকিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে চোখ রেখে হেন্ডারসন বললেন, “হ্যাভ ইউ এভার হার্ড দ্য নেম অফ জাবুলন?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার
    Next Article আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }