Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তৃতীয় পর্ব— ধূসর পাতায় যেই জ্ঞান

    অরুণবাবুর বাড়ি থেকে সোজা অফিসে ফিরলাম। অমিতাভ মুখার্জি ব্যান্ডেল স্টেশন অবধি পৌঁছে দিয়েছিলেন। অফিসে এসে ঠান্ডা মাথায় ভাবতে বসলাম।

    একটা জিনিস ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। এই হিলি আর ওয়ার্নারের গ্রেপ্তারের সঙ্গে দেবাশিসদার মৃত্যু কোনও না কোনও ভাবে জড়িত। আবার তারিণীর লুকিয়ে রাখা নাটকের বইয়ের লেখক শৈলচরণ সান্যাল-ও খুন হন একইভাবে। এদিকে বিশ্বজিৎ খুন হয়েছে। এই যে সব রিচুয়ালিস্টিক খুন, এর পিছনে কোনও একজন থাকা সম্ভব না। কোনও ব্যক্তিগত হিংসা বা লোভেও এই খুন না। কারণ যারা খুন হয়েছে তারা কেউই সমাজের উঁচুতলার মানুষ নয়। মধ্যবিত্ত বা ছাপোষা গৃহস্থ। শুধু… ভাবতে গিয়ে একটু নাড়া খেলাম। দেবাশিসদা আর বিশ্বজিৎ। দুজনেরই যৌনজীবন কিন্তু ছাপোষা মধ্যবিত্তের মতো ছিল না। দেবাশিসদা নিয়মিত বেশ্যাপাড়ায় যেতেন, আর বিশ্বজিতের এক হিজড়ার সঙ্গে সম্পর্ক। যদি ধরেই নিই এই যৌনতার কারণে দুজন খুন হয়েছেন, তাহলেও দেবাশিসদার আমাকে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ আর বিশ্বজিতের কাছে পাওয়া সেই নোটের কোনও মানে উদ্ধার হয় না। আগে যা ভেবেছিলাম, ঠিক তাই। একশো বছর ধরে কোনও এক দানব ঘুমিয়ে ছিল। দানব না ভূত কে জানে? হয়তো এ-ই হিলির ভূত। এখন সেই ভূতকে আবার জাগিয়েছে কেউ বা কারা ইতিহাস নিজেকে ফের গুটিয়ে নিয়ে চলেছে একশো বছর আগের পথে।

    আচ্ছা, তারিণী কি সেই কেস সমাধান করেছিল? প্রিয়নাথ? করলে কেমন করে? সমকালীন কোনও পত্রিকায় এই নিয়ে কিছু নেই। যে দুটো জায়গায় থাকতে পারত, প্রিয়নাথের দপ্তরের দারোগার পাণ্ডুলিপি আর তারিণীর ডায়রি। দুটোই মিসিং। কেউ যেন ইচ্ছে করে আমাকে অদ্ভুত একটা ভিডিও গেম খেলায় নামিয়ে দিয়েছে, যে খেলায় গোপন ক্লু ছড়িয়ে আছে এদিক ওদিক। কিন্তু লুকিয়ে রাখা। সেই ক্লু খুঁজে বার করে পরের ক্রুয়ের জন্য যেতে হবে। যদি সত্যিই ভিডিও গেম হত, তবে দুর্দান্ত হত, দারুণ এনজয় করতাম। কিন্তু মুশকিল হল এটা ঘোর বাস্তব। দুজন চেনা মানুষ এর মধ্যেই বীভৎসভাবে খুন হয়েছেন। তবু কেন যেন মনে হচ্ছে এর গোটাটাই টিপ অফ দি আইসবার্গ। আরও বড়ো কিছু আসছে। সামনেই। আর আমি ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার হয়ে বসে আছি।

    ভাবতে ভাবতে প্রথমেই অরুণবাবুর দেওয়া ফাইলটা খুললাম। অনেকদিন অব্যবহারে ধুলো জমেছে। দারুণ সংগ্রহ ভদ্রলোকের। শুরুতেই স্টেটসম্যান পত্রিকায় প্রিয়নাথের অবসর গ্রহণের খবরের কাটিং। একটা ব্যাপার দেখে অবাক হলাম, এই সামান্য পরিসরেও হিলি আর ওয়ার্নারের কেসের উল্লেখ আছে। আর আছে কিছু বাংলা সংবাদপত্রের কাটিং। সবই ওই ১৮৯৫- ৯৬ নাগাদ। পত্রিকার নাম সংবাদ পূর্ণচন্দ্রোদয়। পিছনে পেনসিলে প্রিয়নাথের হাতে লেখা, “নীবারসপ্তকের জন্য”। তাতে যে কটা খবর দেখলাম, সবই হয় দাঙ্গার, নয় অস্বাভাবিক মৃত্যুর। এই ধরনের খবরে আমার আগ্রহ চিরকাল।

    খবরগুলো পড়তে পড়তেই মেরুদণ্ড বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল যেন। এতক্ষণে ধীরে ধীরে আমার কাছে একটা ছবি পরিষ্কার হচ্ছে। আর সে ছবি বড়ো ভয়ানক। কাছে থাকা দেবাশিসদার নোটটা আমার কাছেই রাখতে বলেছিলেন অফিসার। সেটা আবার দেখলাম। তখন তাড়াহুড়োতে খেয়াল করিনি। এবার যা দেখতে পেলাম, তাতে আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবার জোগাড়। আমি যা ভাবছি তা যদি ঠিক হয়, তবে তো…..

    ফাইল ঘাটতে থাকলাম পাগলের মতো। যদি আর কিছু পাওয়া যায়। খবরের কাগজের কাটিং বাদে কিছু পাতলা পাতলা কাগজ, হ্যান্ডবিল, একটা ক্লিপ দিয়ে আঁটা। সঙ্গে একটা কাগজের টুকরোতে ছোট্ট নোট, “প্রিয়নাথের দারোগার দপ্তরের কপির ভিতর থেকে পাওয়া।” সেগুলো উলটে পালটে দেখলাম। বিশেষ দরকারি কিছু না। কালেকটরস আইটেম বলতে একটাই। জাদুকর গণপতি কোন এক লালমোহন মল্লিকের বাড়িতে প্রাইভেট শো দেখাবেন, তার বিজ্ঞাপন যেটা সবচেয়ে অবাক করল, তা হল বিজ্ঞাপনে এইচ এল সেনের উল্লেখ। যিনি “জনমধ্যে আনন্দ জন্মাওনার্থ এই মনোরম ছায়াবাজি প্রদর্শন করিবেন।” এই এইচ এল কি হীরালাল? তাহলে তো দারুণ ব্যাপার! জাদুকর গণপতি আর ভারতীয় সিনেমার পথিকৃৎ হীরালাল সেন এক মঞ্চে! জানি না এই খবর আর কেউ জানেন কি না। এর সঙ্গেই পাতলা লাল কাগজে মসজিদবাড়ি স্ট্রিটের কোনও এক দোকানের স্তনবর্ধক তেলের বিজ্ঞাপন। তেলের নাম রতিবিলাস তৈল। এ জিনিস আবার এখানে কেন? পাশে অর্ধনগ্ন এক মহিলার ছবি। নিচে বিজ্ঞাপন আর ছড়া লেখা। সেই ছড়াও সামান্য অশ্লীলতা ঘেঁষা। আজকাল এমন বিজ্ঞাপন যে করবে, তাকে মারধর খেতে হবে নিশ্চিত। বিজ্ঞাপনের একেবারে শেষে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম। একেবারে ছোটো ছোটো অক্ষরে লেখা, “এইপ্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন— শ্রী শৈলচরণ সান্যাল ও শ্রী তারিণীচরণ রায়। ৩৫ নং ক্লাইভ স্ট্রিট, কলিকাতা।” সে কী! তাহলে তো এই বিজ্ঞাপন এই ফাইলে থাকার কারণ স্পষ্ট। আর প্রিয়নাথের সঙ্গে যোগের বিষয়টা আরও ক্লিয়ার হে হচ্ছে। মন দিয়ে বিজ্ঞাপনটাই পড়তে শুরু করলাম। এবার একটু খুঁটিয়ে।

    শুরুতেই সাবধানবাণী। “ইগনোর করিবেন না”। ইগনোর কেন? উপেক্ষা কেন না? পরের লাইনটা আরও অদ্ভুত। একই বাক্যের মধ্যে পরপর কয়েকটা সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে। “এক এক ঔষধ”, “দুই স্তনে”, “তিনবার”, “পাঁচদিন” ব্যবহার করলেই নাকি কাজ হবে। কিন্তু তাই যদি হয় তবে আবার শেষের দিকে মাসে “আটদিন”ব্যবহার করতে বলছে কেন? আরে! ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮– সংখ্যাগুলোর এই সিরিজটা তো আমি চিনি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালীন আমাদের অঙ্ক স্যার শুভঙ্কর বিশ্বাস গোটা ক্লাস নিয়েছিলেন এই নিয়ে। সেই থেকে ভুলিনি। ১২০২ সালে খরগোশের বৃদ্ধি গুনতে গিয়ে ফিবোনাচ্চি নামের এক ভদ্রলোক এই সিরিজ বানান। সিরিজটা দেখতে একেবারে সোজা। প্রথমে শূন্য। তারপর ১। তারপরের সংখ্যা আসবে আগের দুটোকে যোগ করে। জীববিজ্ঞানীরা বলেন এই সিরিজ অনুযায়ী নাকি গাছের ডালে পাতার সজ্জা থেকে থেকে সূর্যমুখী ফুলের বীজের সজ্জা, এমনকি শামুকের খোলের প্যাঁচ সব হয়। স্বয়ং ঈশ্বর নাকি এই সিরিজ বানিয়েছেন। সংস্কৃতের মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, চিনের গোপন বার্তাবহ অক্ষর ই-চিং, ইউরোপের ফ্রিম্যাসনদের কোড লেটার সব কিছুতেই এই গোল্ডেন সিরিজ থাকতই। ফ্রিম্যাসনদের পবিত্র সংখ্যা ছিল তেরো (৮+৫)। বিজ্ঞাপন, হাতে লেখা পোস্টারের মাধ্যমে তারা তাদের নানা গোপন বার্তা প্রকাশ্যেই ছড়িয়ে দিত শহরের বিভিন্ন জায়গায়। আপাতদৃষ্টিতে এর একটা মানে থাকত ঠিকই, কিন্তু সেটা বহিরঙ্গের। আসল বার্তাটা ধরতে পারবে কেবল অন্য একজন ফ্রিম্যাসনই। অন্য কেউ না। তাদের যে-কোনো গোপন বার্তায় তেরো থাকবেই। শুভঙ্কর স্যার বলেছিলেন, ফ্রিম্যাসনদের নিয়ে এই সবই জানা গেছে মাত্র বছর তিরিশ আগে। বেশ কিছু ফ্রিম্যাসন সাংবাদিকদের ভিতরের খবর দিয়ে দেয়। এক ঝটকায় সব মনে পড়ে গেল। আর ঠিক তারপরেই মনে হল বড্ড বেশি ভেবে ফেলছি। একে তো এটা নিতান্ত মহিলাদের স্তন বাড়ানোর হ্যান্ডবিল, তাও দুই বাঙালির লেখা। এই নিয়ে এত বেশি ভাবার অবকাশ কোথায়? সবচেয়ে বড়ো কথা, গোটা বিজ্ঞাপনে কোথাও তেরো সংখ্যাটাই নেই। বিজ্ঞাপনে লেখা শিশির দামে চোখ পড়তেই মুখটা আপনাআপনি হাঁ হয়ে গেল। প্রতি বোতলের দাম, “বারো আনা এক পাই।” বারো আর এক তেরো।

    এর একটাই মানে। আমি এই মুহূর্তে হাতে যেটা ধরে আছি, সেটা কোন সাধারণ বিজ্ঞাপন না। ফ্রিম্যাসনদের গোপন লিফলেট।

    .

    আমি যা বোঝার বুঝে গেছি। একশো বছর আগের কেসটা ঠিকঠাক না জানতে পারলে দেবাশিসদা কিংবা বিশ্বজিতের মৃত্যুরহস্য সমাধান করা যাবে না। ফ্রিম্যাসনদের নিয়ে কোথা থেকে শুরু করব বুঝে গেছি। প্রিয়নাথের শেষ লেখা আর তারিণীর খাতা পাইনি, কিন্তু যেটা পেয়েছি সেটা দিয়েই শুরু করা যাক বরং। তৈমুরের কাব্যগাথার মধ্যে লুকিয়ে রাখা শৈলচরণ সান্যালের লেখা সেই অদ্ভুত নাটক। সম্ভবত তাঁর লেখা শেষ নাটক। আগে একবার চোখ বুলিয়েছিলাম। খুব ইম্প্রেসিভ কিছু লাগেনি। আসলে হোমসের ভাষায় আমি দেখেছি, কিন্তু লক্ষ করিনি। আর গোয়েন্দা হতে গেলে তো অবজারভেশন আর ডিডাকশান মাস্ট। ড্রয়ার থেকে বইটা বার করে সামনের টেবিলল্যাম্পটা জ্বালিয়ে বসলাম। দরজাও বন্ধ করে দিলাম। এখন কেউ ডিসটার্ব করলে মুশকিল। সেই ছেঁড়া খামের মধ্যে থেকে পো-র বইয়ের মলাটে মোড়া নাটকটা বার করলাম। কী আশ্চর্য! খামের ভিতরে আরও একটা কাগজ! এটা আগে দেখিনি তো? দেখলে মনে থাকত নিশ্চিত। খুলে দেখলাম ফাঁকা কাগজ না। ছবি। এক বৃদ্ধা, এক যুবতি, আর এক শিশুর। এই ছবি আগে খেয়াল করিনি কেন? ছবির পিছন দিকে দেখতেই রহস্য পরিষ্কার হল। খামের ভিতরে আঠা দিয়ে ছবিটা লাগানো ছিল। আঠা খুলে পড়ে গেছে। ছবিটা পাশে রেখে এবার বইটা খুললাম।

    একদম ছোট্ট বই। পাতলা কাগজে ছাপা। মলাট বলতে চারিদিকে সরু বর্ডার দিয়ে বইয়ের নাম, পাশে ডানাওয়ালা দুই পরি হাতে মালা নিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটা তর্জনী নিচের লেখার দিকে নির্দেশ করছে। সেখানে লেখা—

    “সাধিতে দেশের হিত করিয়াছি পণ।
    মন্ত্রের সাধন কিম্বা শরীর পাতন।”

    এই লাইন দুটো আমার চেনা। বাবা প্রায়ই বলতেন। খুব সম্ভব রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের লেখা। তারপরে আরও কয়েক ছত্র কবিতা। লেখকের নাম, মুদ্রক আর প্রাপ্তিস্থান লেখা। একেবারে পিছনের মলাটে লাল পেনসিল দিয়ে একটা চিহ্ন আঁকা। বইটা খুলে পড়তে বসলাম। এবার সিরিয়াসলি।

    .

    বিষম ভূত ও পুষ্পসুন্দরীর পালা

    “সাধিতে দেশের হিত করিয়াছি পণ।
    মন্ত্রের সাধন কিম্বা শরীর পাতন।”।

    হংসকে হত্যা করার কিবা এ কী ছল।
    তুমিই মহান দেব প্রতাপ প্রবল।।
    মানুষ ছাড়িয়ে ভূতে লইলে শরণ।
    দুর্গ প্রাকারে তব মহা আয়োজন।।
    প্রেমের অপূর্ব গতি, অদ্ভুত সে খেলা।
    ভাতৃমাঝে অসহায় দারিকা একেলা।।

    কলিকাতা
    গরানহাটা নিবাসী
    শ্রীযুক্ত শৈলচরণ শান্যাল
    প্রণীত।
    গরানহাটা স্ট্রীটে
    ৯১ নং ভবনে এংলো ইন্ডিয়ান যন্ত্রে
    মুদ্রিত
    সন ১৩০৩
    যাঁহার এই পুস্তক প্রয়োজন হইবেক তিনি ৩৫ নং ক্লাইভ স্ট্রীটের
    শ্রী তারিণীচরণ রায়ের আপিসে অনুসন্ধান করিলে প্রাপ্ত হইবেন
    মূল্য ।০ আনা মাত্ৰ

    বিজ্ঞাপন

    → বিকট মনে হইলেও ইহা একটি প্রহসন মাত্র। এই ক্ষুদ্র প্রহসনখানি আপনাদের নয়নাগ্রে অর্পণ করা আমার অতিমাত্র সাহস ভিন্ন অন্য কিছুই নহে। সাবধান হই নাই। সাহিত্যপ্রেমে হৃদয় পরিপূর্ণ।

    → কঠোর এই দুঃসাহস সমুদ্রে একমাত্র সমাজোপকারের ভরসাতরী অবলম্বনে ভাসিত হইলাম। এক্ষণে গ্রন্থকর্তার জীবননাশ বা জীবনোদ্ধার দুই কার্য্যের বিবিধ ভার আপনার উপরেই সমর্পিত হইল। পাঠন্তে যেমতি বোধ হইবে তেমতি করিবেন। আপনারাই আমার ভ্রাতা ভাগিনীসম। রাখিলে আপনারাই রাখিবেন, মারিলে আপনারাই মারিবেন। সে ষড় একান্তই আপনার নিজস্ব বিচারাধীন।

    → তোয়াজি ভূতে আমার ঘাড় মটকাইলে জানিবেন একদিন সেই ভূত কৃষ্ণকায়া পুষ্পসুন্দরীকে হত্যার অশেষ চেষ্টা করিবেক।

    → রিভাইজ করা সত্ত্বেও এই পুস্তকে বিবিধ পংচুএশন দোষ আছে। সানুগ্রহে সংশোধনান্তে পাঠাজ্ঞা হইবেক। তাহাতে কেরানী হইতে রাণী সকলেই সুখী।

    → আমার আশা এই নাটক অভিনীত হইলে গোল্ডেন যাইবেই।

    ইতি।
    গ্রন্থপ্রণেতা।

    নাট্যোল্লিখিত ব্যক্তিগণ।

    পুরুষ।

    দীপ্তবর্ত – পুষ্পসুন্দরীর স্বামী
    বিজয়বর্মা – পুষ্পসুন্দরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র
    ধনবর্মা – পুষ্পসুন্দরীর কনিষ্ঠ পুত্র (বিশেষ প্রয়োজনে দীপ্তবর্তর ভুমিকার অভিনেতা এই ভূমিকায় অভিনয় করিতে পারেন)
    শক্তিধর – প্ৰজা
    বুদ্ধিধর – বিদেশি প্রজা
    কাপালিক – বিশেষ প্ৰজা
    সেনাপতি – পুষ্পসুন্দরীর রক্ষক

    স্ত্রী।

    পুষ্পসুন্দরী – মহারাণী
    হেমলতা – পুষ্পসুন্দরীর দাসী

    বিষম ভূত ও সুন্দরীর পালা

    পুরাতন কথা ছিলয়ে রাজন।
    তিনটি সিংহ তাঁর করয়ে সৃজন।।
    কানহারী নামে মন্ত্রী বুদ্ধে বিচক্ষণ।
    বিনা মেঘে বজ্রপাত রাজার মরণ।।
    রাজার তনয়া যেন কুসুম মুরতি।
    পুষ্পসুন্দরী নামে হয় তাঁর খ্যাতি।।

    প্রথম অঙ্ক

    পুষ্পসুন্দরীর উপবেশনাগার

    পুষ্প কেশবিন্যাস করিতেছে। হেমলতা সম্মুখে দণ্ডায়মানা

    পুষ্পসুন্দরী—দিনের পরে দিন চলে যায়। আমার আর সুদিন আসে না। কানহারী কতা শোনে না। সখীরা কাচে ঘেঁসে না। এই ভরা গতর নিয়ে আমি কোতায় যাই?

    হেমলতা—সে কী কতা রাজকুমারী! কিছুই যে তোমার মনে ধরে না! নিত্তি নিত্তি খাওনদাওন। ধুমধাম। গলায় মুক্তোর সাতনরি হার। রোজই নিত্যনতুন পাত্র আসচে। তাতেও মনে সুক নেই? সতেরো বছর বয়স হোতে গেল। থাকো কেমন কোরে?

    পুষ্পসুন্দরী— কী যে বলিস আবাগীর বেটি! আমার কি আর রাজপুতের অভাব আছে? কিন্তু সব যে বুড় ভাম। আমার শরিলের জ্বালা তেয়ারা কি মিটাতে পারবেন?

    আর থাকি কেমন করে—
    কী বলিব হায় ওহে কী বলিব হায়।
    দিবা রাত্রি আমি থাকি ঐ ভাবনায়।।
    আমার যা হয় ওহে আমার যা হয়।
    পূর্ণরূপে প্রকাশিতে বাক্য সাধ্য নয়।।
    অন্য মেয়ে হোলে ওহে অন্য মেয়ে হোলে।
    নাগরের সঙ্গে যেত কোন দেশে চলে।।

    হেমলতা—সে কী গা! এমন কতা মনেই আনতে নেই। দেখ আজ তোমার আত্মীয়রা আসবেন। তোমার কত সুখ্যাত করবেন। মুকে এট্টু পউডার টাউডার দেও, একখানা ভাল কাপড় পর, রাজপুতেরা এলে নিজের হাতে হাতে পান সেজে দিওখন। তোমায় আর শেকাব কি? কৰ্ম্ম সিদ্ধি কত্তে পার কি না দেক।

    (অন্য দ্বার দিয়া রাজকুমার দীপ্তবর্তের প্রবেশ)

    হেমলতা (উচ্চৈঃস্বরে)–এ কী! এ কী! কে? তুমি কাউকে না বলে অন্দরমহলে ঢুকলে যে বড়! এ আমাদের রাজকুমারীর শয়নকক্ষ। বেরোও এখুনি।

    দীপ্তবর্ত— (লজ্জিত হইয়া) এসব আমি কিছুই জানি নে। আমি পথভুলে এই কক্ষে এসেচি।

    পুষ্পসুন্দরী—আরে আরে এ কাকে কী বলচিস হেম? এ যে দীপ্ত। পাশের রাজ্যের রাজপুত্তুর। আমার শিশুকালের সখা। সেই কবে দেখেচিলুম। ওর সেই মূর্ত্তি আমার মনে গাঁথা হয়ে রয়েচে। সেই মুখ, সেই চোক। এখন আরও সুন্দর হয়েচ।

    (স্বগত গীত )

    রাগিণী লোম ঝিঁঝিট। তাল ঠেকা।
    আমি কী করি এখন,
    অস্থির হতেছে প্রাণ নাহি নিবারণ।
    যে ছিল সদা অন্তরে, আবার সে এল ফিরে
    তাহারই অদর্শনে, বাঁচে কি জীবন।

    দীপ্তবর্ত—আমি তবে যাই রাজকুমারী।

    পুষ্পসুন্দরী— সে কী। চলে যাবে? সবে তো এলে। তোমায় কতদিন দেকিনি রাজকুমার। কী চেহারাখানি, কী মিষ্ট কথা, কী মধুর স্বর। আহা আমার সঙ্গে কথা বলে আর দু দণ্ড কি থাকা যায় না? এই নাও এই বেলফুলের মালাতোমায় দিলেম। এই পান দিলেম তোমার হাতে।

    দীপ্তবর্ত—তা যাবে না কেন রাজকুমারী?

    লঘু ত্রিপদী

    আহা কী শুনিনু মরমে মরি
    মনের আগুন দ্বিগুণ হল।
    শুনে বেলফুল হইনু আকুল
    অকূলেতে প্রাণ পড়িল।।
    শুন লো দিনা, তোমারে বিনা,
    যতেক যাতনা স‍ই।
    এ বসন্ত কালে, সে সদা কালে,
    হৃদেতে দংশিছে ঐ।।

    পুষ্পসুন্দরী—আহা! তোমার কথা শুনে মন বড় ব্যাকুল হচ্চে। তোমায় আপন করে পেতে আমার শরিল মন উতলা হয়েচে। তুমি আমায় বিয়ে কর।

    দীপ্তবর্ত—কিন্তু কুমারী যে জন্মের বাঁধন আমাদের একডোরে বেঁধেচে তারা কি আমাদের মিলনে বাধা দেবে না?

    পুষ্পসুন্দরী—আমি ওসব বুঝতে চাইনে। দেহ মন দিয়ে আমি সুদু তোমাকেই কামনা করেচি। আমার জ্বালা মিটাও। এস খানিক ঘুমানো যাউক।

    দীপ্তবর্ত—চলো (দুইজনে কিয়ৎকাল রহস্য করে নিদ্রা গেল)

    .

    দ্বিতীয় অঙ্ক

    রাজসিংহাসনে উপবিষ্ট পুষ্পসুন্দরী

    পুষ্পসুন্দরী—(স্বগত) আমার প্রাণের আরাম, দেহের শান্তি দীপ্তবর্ত আর নাই। সান্নিপাতিকে আক্রান্ত হয়ে আমায় এই নিঠুর পিথিবিতে ফেলে তিনি সগগে গেচেন। রেকে গেছেন রাজকুমার বিজয়বর্মা আর রাজকুমার ধনবর্মাকে। এখন আমি একা মহিলা এঁদের কি মতে মানুষ করি?

    (বিজয়বর্মার প্রবেশ)

    বিজয়বর্মা—আমাকে এত্তালা পাটিয়েছিলেন মা?

    পুষ্পসুন্দরী—হ্যাঁ বাবা। চারিদিকে বড্ড কানাঘুষা শোনা যায়। তুমি নাকি এদানি এক রাঁড় লয়ে ফুত্তি কচ্চ? দেশের সকলে ছি ছি কচ্চে। তোমার এসব নষ্টামি বন্দ। তুমি রাজপুত্তুর। ভেবে দেক দেকি, এ কাজ কি ভাল কচ্চো?

    বিজয়বর্মা—আপনি ভুল শুনেচেন মা। সৌদামিনী আমার রাঁড় নয়। আমার চোক্ষের মণি। বক্ষের পাঁজর। সে রাজবাড়ির রন্ধনশালে কাজ করে। আপনি নিজে তাঁর রান্নার কত সুখ্যাত করেচেন। আর কে কি কান ভরালো, আপনি সে সমস্ত ভুলে গেলেন?

    গীত

    রাগিণী চল বাছা। তাল কলসী কাচা।
    কেন হইল এমন
    মম প্রাণ ধনে সৌদামিনী কেমনে করিল হরণ।
    কি দিবস কি রজনী, দহিচে গো সজনী
    বিহনে সেই গুণমণি এই অধীনের মন।
    জীবন দিব অর্পণ, ত্যাজ না ত্যাজ না প্রাণ
    কোথা রবে সেই প্ৰাণধন

    পুষ্পসুন্দরী—ছি ছি বাবা। তোমার নজ্জা নেই কো? মায়ের সামনে এসব কতা কইচ? তোমার ওই রাঁধুনির সঙ্গে মেলামেশা চলবে না। আমি তোমার সাতে কম্বুদ্বীপের রাজকুমারীর বে দেব।

    বিজয়বর্মা— হা হা হা। বড় হাসালেন মা। এই কাল পোশাকের মত আপনার মনটাও কাল হয়ে বিষ হৃদয় হয়েচে। কম্বুদ্বীপের প্রজারা আজ খেতে পত্তে পাচ্চেন না। আপনি দেকে দেকচেন না। আর সেকেনের রাজকুমারীর সঙ্গে আমার বিবাহের কতা বলচেন?

    ছি ছি এ কী কাজ নাই তব লাজ
    ধিক২ তোমায় শতেক ধিক।।
    সৌদা গুণমণি, আমার সন্তান জননী
    ভালবাসি প্রাণাধিক।

    পুষ্পসুন্দরী— তুই এ কী কল্লি! রাজপুত্তুর হয়ে দাসীর গভ্যে নিষেক কল্লি? তোকে আমি ত্যাজ্যপুত্তুর কল্লাম। এই মুহূর্তে বেরিয়ে যা আমার চোকের সামনে থেকে। আর এই পোড়ামুক আমায় দেকাস না।

    (প্রণাম করিয়া বিজয়বর্মার বিদায়)

    .

    তৃতীয় অঙ্ক

    নগরের রাজপথ

    দুই বন্ধু শক্তিধর আর বুদ্ধিধরের প্রবেশ

    শক্তিধর—ভাই বুদ্ধিধর আজ আমাদের বড় দুর্দিন। রাজকুমার বিজয়বর্মা প্রাণ দিলেন। বন্দিদশা আর সইছিল না। নিজের বুকে তলোয়ার ঢুকিয়ে পরাণপাত কল্পেন।

    বুদ্ধিধর—শেষে তো আমাকেও তাঁর কাচে ঘেঁসতে দিত না। প্রহরীরা এমন বজ্জাত আমায় দেকলেই তেড়ে আসত। আমি গোপনে দুই একবার তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেছি। সে দিশ্য চোকে দেকা যায় না ভাই। রাজপুত্তুরের সোনার বন্ন কালি হয়েচে। চোখের জ্যোতি ছাই হয়েচে। তিনি শুদু ঘরে থাকেন আর কাঁদেন। বলেন আমার মেয়ে কোথায়?

    শক্তিধর— রাজপুত্তুরের আবার মেয়ে কী গো? উনি তো আইবুড়!

    বুদ্ধিধর (ফিসফিস করে)— তবে আর বলচি কী? রাজবাড়ির রাঁধুনির গভ্যে রাজপুত্তুরের মেয়ে হয়েচে। রাণী সেই মেয়েকে কোতায় পাচার করেচেন কে জানে?

    শক্তিধর—আর সেই রাঁধুনি?

    বুদ্ধিধর—তাকে পুরেচে পাগলাগারদে। এখন ছোট রাজকুমারই মাকে মন্তন্না দিচ্চেন। সঙ্গে বড়মন্ত্রী।

    শক্তিধর—কিন্তু এ তো মেনে নেওয়া যায় না ভাই। তবে উপায়?

    বুদ্ধিধর—উপায় একটা আচে। আমি আমার ভাইদের সাতে বলেচি। তারা এক উপায় বাতলেচেন। জঙ্গলের মাঝে এক কাপালিকের বাস। তার এক পোষা ভূত আচে। সে বিষম ভূত এমনিতে পোষ মানে না, তাকে দিব্যি তোয়াজ কত্তে হয়। মন্ত্র পত্তে হয়।

    (মন্ত্র)

    হিলি ভূত, বিলি ভূত
    খিলখিলি কত ভূত।
    বাক্সেতে এস ভাই
    বোতলেতে বস ভাই
    সবুজ বরণ দেকে
    আহা, আহা মরে যাই!

    শক্তিধর—ধর তোয়াজ কল্লাম। তারপরে কী হবে?

    বুদ্ধিধর–সেই ভূত কোনক্রমে তোমায় চেপে ধল্লে তোমার ঘিলু আর কাজ কব্বে না। মাতা গুলিয়ে যাবে। তকন ভূতে যা যা কবে, তুমি তাই তাই কর্তে বাধ্য। আমি একন সেই স্থলেই যাচ্চি। যাবে তো চল।

    শক্তিধর—কিন্তু সে স্থলে কি আমায় পোবেশ কর্তে দেবে?

    বুদ্ধিধর- আমি আছি চিন্তা কি? তুমি তৈয়ার থাকিও।

    (করমর্দন করিয়া দুজনের বিদায়)

    .

    চতুর্থ অঙ্ক

    কাপালিকের গৃহ

    অন্ধকার হইতে আওয়াজ ভাসিয়া আসে।

    কাপালিক— তুমি কে?

    বুদ্ধিধর-ঈশ্বরের পুত্র। আপনার ভাই।

    কাপালিক-তোমার সঙ্গে কে?

    বুদ্ধিধর-ঈশ্বরের আর এক অনুগামী। আপনার অন্য এক ভাই।

    কাপালিক— তোমাদের পণ কী?

    বুদ্ধিধর – আমাদের পণ জীবনসর্বস্ব।

    কাপালিক— জীবন তুচ্ছ। সকলই কি ত্যাগ করতে প্রস্তুত?

    বুদ্ধিধর —হ্যাঁ।

    কাপালিক— তবে চোখ বন্ধ করে তিন পা সামনে এস। আলোর সন্ধান পাবে।

    (আলো জ্বলিয়া উঠে)

    কাপালিক –তোমরা কেন এসেচ?

    বুদ্ধিধর –আমাদের মনস্কাম পূর্ণ কত্তে।

    কাপালিক— সেটা কী?

    বুদ্ধিধর—আমার ভাইয়েরা বলেচে আপনার কাচে এক পোষা তোয়াজি ভূত আচে। হিলির ভূত। সে ভূত আপনার আজ্ঞায় চলে। আমাদের সেই হিলির ভূত চাই।

    কাপালিক— সে ভূত সবার জন্যে নয়। তাকে লুকিয়ে রাকতে হয়। দুর্জনের হাতে পল্লে সব্বোনাশ হবে।

    বুদ্ধিধর– আমাদের মনস্কাম প্রতিশোধ। রাণী পুষ্পকুমারী আমাদের ভাই বিজয়বর্মাকে মেরেচে। আমরা তার শোধ নেব। এই আমার বন্ধু শক্তিধর রাজি হয়েচে। সে রাণীর মহলে ঢুকে ভূত ছেড়ে আসবে।

    কাপালিক– তাকে রাজপুরীতে ঢুকতে দেবে কেন?

    বুদ্ধিধর– মহামাত্যের হাত আমাদের মাতায়।রাণী জানেন না উনি কম্বুদ্বীপের চর।

    (কাপালিকের হাতে দুইটি কাঁটা। সম্মুখে একখানি মানবকরোটি ও দুইখানি হাড়। তিনি এক লম্বা চাবি লইয়া তাহার পাশ হইতে এক অদ্ভুত ধাতব বাক্স বাহির করেন। ডালা খুলিয়া ভিতর হইতে এক কাচের বোতল বাহির হইল)

    কাপালিক— এই বোতলেই সেই ভূত রয়েচে। এই ভূত এমনিতে জাগে। তোয়াজে জাগে। লবণখোর এই ভূতকে লবণ খাওয়ালেই সে জাগ্রত হইয়া রঙ বদলায়। তারপর তাতে আগুন দিতে হয়। অনলের তাপে ভূতের পো জেগে নেত্য করেন। এই দ্যাখো আমি কেমন শিশি খুলিয়ে লবণ দিতেছি।

    শক্তিধর—আরে আরে! ভূতের ছানার রঙ বদলে কেমনে সবজেপানা হয়ে গেল। এবার কী কর্ত্তে হবে?

    কাপালিক— যার গায়ে ছাড়তে চাও। তার কাচের লোককে এই দিয়ে বশ কল্পেই হবে। এই লাও।

    শক্তিধর—ভূতের শক্তি ফুরালে কী কব্বো?

    কাপালিক—অনলের তাপে ভূতের শক্তি আবার বাড়বেখন। লয়ে যাও।

    (বোতল লইয়া কাপালিককে প্রণাম করিয়া দুইজনের প্রস্থান)

    .

    পঞ্চম অঙ্ক

    রাণী পুষ্পসুন্দরীর কক্ষ

    পুষ্পসুন্দরী ও ধনবর্মা বসিয়া আছেন

    পুষ্পসুন্দরী— মহারাজের মৃত্যুর পর অনেক বছর কাটল। প্রজারা সবাই সুখে শান্তিতেই আচে। রাজ্যবাসীর এই খপর জানা দরকার। তুমি উচ্ছবেরআয়োজন কর।

    ধনবর্মা—অবশ্য রাণী। কিন্তু তার আগে আপনার পাপের বিচার হোউক।

    পুষ্পসুন্দরী— এ কী বলচ?

    ধনবর্মা—আপনি খপর রাখেন না মহারাণী। রাজ্যে মানুষে মানুষে মহাদাঙ্গা বেঁধেচে। সবাই সবাইকে মারতে লেগেচে। আপনি চোখ উলটে বসে আচেন। এ রাজ্য আপনি আমাকে প্রদান করুন।

    পুষ্পসুন্দরী— মাগো! এ কেমন কতা! ছি ছি। মা থাকতে ছেলে বসবে সিংহাসনে এ কি সম্ভব! আমার মহামন্ত্রী, সেনাপতি থাকতে তা হতে দেবে না।

    (সেনাপতির প্রবেশ)

    সেনাপতি – আপনার পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েচে রাণী। এবার প্রাণ দিতে তৈয়ার হউন।

    পুষ্পসুন্দরী—সেনাপতি তোমার কি খারাপ হল? এমনতর বকচ কেন? তোমার চোক লাল। মুকে গ্যাজা উটছে। কেমনপানা লাগচে যেন তোমায়।

    ধনবর্মা-তোয়াজী হিলিভূতে ভর করেছে ওকে। ও আর কতা শুনবে না। শুনবে আমার কতা। সেনাপতি গর্দান লত্ত।

    পুষ্পসুন্দরী-হায় হায়! আমার ইহকাল বিধবা হইয়াই গেল। পরকাল ও বুঝি যায়। আপন পেটের পুত্তুর এইভাবে শত্রুর হইয়া দেখা দিবে ভাবি নাই।

    হা ঈশ্বর। হা স্বামী!

    (সেনাপতি কর্তৃক পুষ্পসুন্দরীর হত্যা)

    সেনাপতি— হায় হায়! এ কী কল্লাম! ভুতের বশে এসে আমাদের রাণীকে হত্যা কল্লাম। আমার নরকেও ঠাঁই নাই।

    (বুদ্ধিধর ও শক্তিধরের প্রবেশ)

    বুদ্ধিধর –মন ছোট কর্বেন না সেনাপতি। যা হবার হয়েচে। এখন ছোট রাজকুমার ধনবর্মাই আমাদের নতুন রাজা। (ধনবর্মাকে ঘিরে সবাই গান করিতে লাগে)

    গীতি— বেহাগ। তাল— কাওয়ালি

    এনা হতে দেবগণ     জনম করি গ্রহণ
    ডরে সবে নিবসে যাঁহায়
    অজর অমর অজ     অভুজে অযুতভুজ
    আশে বড় প্রণমি তাহায়।
    রত্নাকরে রমা যথা     অথবা বিজলীলতা
    দশ মাঝে তুমি আছ রাজা
    খুজিয়া অযুত দেশ      তোমার বন্দিত বেশ
    নিন্দুকেরা পায় যোগ্য সাজা।

    যবনিকা পতন।

    সমাপ্ত

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার
    Next Article আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }