Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প246 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ষষ্ঠ পর্ব— তাহারা মরেনি তবু

    ১।

    “হ্যালো, কী খবর?”

    “একটা কথা ছিল।”

    “বলে ফ্যালো।”

    “কিছুদিন আগেই আপনি আমাকে আমার অফিসঘরে প্রায় গান পয়েন্টে জেরা করেছিলেন, মনে পড়ে?”

    “হ্যাঁ। আসলে আমি কারও ওপরে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।”

    “আমি একটু আগে অরুণবাবুর থেকে নিয়ে আসা কাগজপত্রগুলো পড়ছিলাম। কিছু কিছু ধরতে পারছি, আবার অনেকটাই ঠিক গ্রিপে আসছে না।”

    “আমি কী করতে পারি বলো?”

    “আপনার যদি আপত্তি না থাকে তবে আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। জেরা না। আমার মনে হয় কিছু জট একমাত্র আপনিই খুলতে পারবেন।”

    “কীভাবে?”

    “আসলে নিউটনের তৃতীয় সূত্র জানেন তো? সিস্টেমের মধ্যে থেকে সিস্টেমকে ঠেলা দিয়ে নড়ানো যায় না। বাইরের কাউকে লাগে। ধরে নিন আমিই সেই।”

    “ওয়েল। তা শুরুতে বললেই হত, তুমি আমার জবানবন্দী নিতে চাও। এত ভণিতার কী দরকার ছিল?”

    “এ মা! ছি! ছি! জবানবন্দি কেন হবে? কিছু ইনফরমেশান আপনার কাছে আছে। কিছু আমার কাছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি ঠিকই, কিন্তু এখনও নিজেদের মধ্যে ইনফরমেশান শেয়ার করিনি। মনে হয় এবার সেটার সময় এসেছে।”

    “আমি রাজি। তবে তুমি যা জানো সেটাও শেয়ার করতে হবে। ফেয় ডিল।”

    “সে তো বটেই। কারণ যদি আমার ধারণা ঠিক হয়, তবে শুধু আপনি না, আমার পিছনেও লোক লেগেছে। না লাগলেও খুব শিগগির লাগবে।”

    “কেন?”

    “দেখা হলে বলব। কাল আমি চন্দননগরে আপনার অফিসে যাব?”

    “না, না। অফিসে না। ওখানে অনেক লোক। তোমার অফিস?”

    “একই সমস্যা। কেন যেন মনে হচ্ছে অফিসে লোক নজর রাখতে পারে। এমন কোনও জায়গা যেখানে বিশেষ লোকজন নেই।”

    “তুমি সাজেস্ট করো।”

    “আমার দেশের বাড়ি চুঁচুড়ায় ডাচদের একটা কবরখানা আছে। সারাদিন খালি পড়ে থাকে। আমি কাল বিকেল চারটে নাগাদ চলে যাব। আপনিও চলে আসুন। তবে পুলিশের গাড়িতে আসবেন না।”

    “ওকে ডান। ওটা চিনি। মৃত্যুঞ্জয়ের মিষ্টির দোকানের পাশে তো? চলে যাব।”

    “ভালো কথা, বিশ্বজিতের অটোপ্সি রিপোর্ট এল?”

    “হ্যাঁ, এসেছে। অদ্ভুত রিপোর্ট।”

    “কেন? কী হয়েছে?”

    “কাল সাক্ষাতে বলব। এখন রাখি।”

    .

    ২।

    আমার মধ্যে যে একটা পরিবর্তন এসেছে সেটা উর্ণা খুব ভালো টের পেয়েছিল। আগে সময়ে অসময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করতাম। লুকিয়ে ঘুরতে যেতান। যবে থেকে দেবাশিসদার এই ঘটনা ঘটেছে, রাতে ঘুমানোর সময় ছাড়া বাড়ি ঢোকাই হয় না। উর্ণার মেসেজ সিন হয়ে পড়ে থাকে। উত্তর দেবার সময় পাই না। সেদিনই বেশ রাতে বাড়ি ফিরে একগাদা কাগজ ছড়িয়ে বিছানায় বলে আছি, উর্ণার ফোন এল।

    “কোথায়?”

    “নিজের ঘরে। তুমি এত রাতে ফোন করলে? গলা এত ভারী কেন?”

    “দরকার আছে। একবার আসব?”

    ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত বারোটা বেজে দশ। এত রাতে উর্ণা আমার ঘরে আসতে চাইছে কেন? যদি বাই চান্স ধরা পড়ে যাই, তবে কী পারে, সেটা ও আমার চেয়ে ভালো জানে।

    “কিছু বলছ না কেন? আসব? খুব দরকার। প্লিজ।”

    “মা বাবা কোথায়?”

    “মা ঘুমাচ্ছে। বাবা বাড়িতে নেই। আসব কি না বলো।”

    “তবে এসো। দরজা ভেজানোই আছে।”

    ফোন কেটে গেল। আর তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ঘরে ঢুকল উর্ণা। কেঁদে কেঁদে দুই চোখ লাল। হাতে মুঠো করে ধরে রাখা কী যেন।

    “কী হয়েছে?”

    প্রথমে কিছুই বলল না। তারপর ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। কথা বলতে পারছে না। দুই হাতে মুখ ঢেকে শুধু কাঁদছে। আমি খানিক ইতস্তত করে পিঠে হাত রাখলাম। কান্না আরও বেড়ে গেল তাতে। চুপচাপ বসে রইলাম। উর্ণার হাতে সেই কাগজটা এখনও ধরা। খানিক বাদে মাথা উঠিয়ে উর্ণা বলল, “প্লিজ, প্লিজ তুর্বসু। আমার বাবাকে তুমি বাঁচাও।”

    “কী হয়েছে কাকুর?”

    “আমি জানি না। কিন্তু বাবা আর আগের মতো নেই। সর্বদা কেমন যেন একটা ভাব। অস্থির। বিশেষ করে গত দশ-পনেরো দিন ধরে। তুমি সেই দেবাশিসবাবুর কেসটা নেবার পর।”

    “কাকু কিছু বলেছেন তোমায়?”

    “না। বাবা কি কিছু বলে? তবে হাবেভাবে বুঝতে পারছি। আজ বাড়িতে উকিল এসেছিল। বাবা উইল করছে।”

    “সে তো উইল যে কেউ করতে পারে। এ নিয়ে এত ভাবছ কেন?”

    “ভাবতাম না। কিন্তু গতকাল বাবা আমায় ডেকে অফিসের কাগজপত্র বুঝিয়ে দিল। হঠাৎ কিছু হয়ে গেলে কী করব, ফ্যামিলি পেনসন কীভাবে পাওয়া যাবে, পিএফের টাকা তুলতে কার কাছে যেতে হবে এসব বোঝাচ্ছিল। আমি অবাক। বাবাকে এত ভালোভাবে কথা বলতে শুনিনি কোনও দিন। আমি বারবার জিজ্ঞেস করলাম, তোমার এত তাড়া কীসের? বলল, কিছু তো বলা যায় না মা, কখন কী হয়? ‘একে একে শুখাইছে ফুল এবে, নিবিছে দেউটি’।”

    “তুমি জানতে চাওনি এমন কেন বলছেন?”

    “জিজ্ঞাসা করেছি। অদ্ভুত উত্তর দিল। বলল, মানুষ হয়ে ভগবান হতে চেয়েছিলাম। এখন সাক্ষাৎ শয়তানের কবলে পড়েছি।”

    “এর মানে কী?”

    “জানি না। বাবা বলেওনি।”

    “তা এখন তুমি আমার কাছে এলে কেন?”

    “বাবা আজ বাড়ি নেই। এনজিও-র কাজে কোথায় যেন গেছে। পারমিশান ছাড়া বাবার ঘরে ঢোকা আমার মানা। কিন্তু কাল কলেজে অনুষ্ঠান। ‘সোনার তরী’ কবিতাটা পড়ব ঠিক করেছি। নেটে দুরকম লেখা। কোনটা ঠিক জানতে চুপিচুপি বাবার ঘর থেকে সঞ্চয়িতাটা নিতে গেছিলাম। সেই বইয়ের ভিতর থেকেই এটা পেলাম।”

    উর্ণার হাতে একটা প্যাডের কাগজ মুঠো করে ধরা। হাতে নিয়ে দেখলাম তাতে লেখা—

    “সুধী সদস্যবৃন্দ,

    অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে, আমাদের সংস্থার সদস্য ও পরম সুহৃদ বিরূপাক্ষ রায়, সামান্য কিছুদিন রোগভোগের পরে পৃথিবীর মায়া পরিত্যাগ করেছেন। তিনি যে গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন তা প্রায় মধ্যপথেই ত্যাগ করায় একসময় তিনি সংস্থার বিরাগভাজনও হন। তবু তিনি আমাদের ভ্রাতা এবং তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তবে আমাদের কাজ থেমে থাকা না। এগিয়ে চলা। স্বর্গীয় বিরূপাক্ষ রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী শনিবার, সন্ধে সাড়ে সাতটায় নিচের ঠিকানায় এক সভার আয়োজন করা হয়েছে। সদস্যদের সেই সভায় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সভায় আগামী দিনের কর্মপন্থাও স্থির হবে।”

    নিচে চন্দননগরের একটা চেনা ঠিকানা আর চেনা একজনের নাম।

    সভাপতি—

    দেবাশিস গুহ।

    উফফ!! এই লোকটা মারা গিয়ে যেন আরও বেশি করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ঠিক যেন… ঠিক যেন… ভূতের মতো। আমি সেই কাগজটা থেকে চোখ সরাতে পারছিলাম না। কেউ যেন আমার সব চিন্তাভাবনার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতদিন যেভাবে এগিয়েছি সবই কি ভুল তবে? চোখের সামনে থেকে একশো বছর আগের কালো পর্দাটা সরছে। কিন্তু তাতে যা দেখা যাচ্ছে তা আরও গভীরতর অন্ধকার।

    “জেঠু, মানে তোমার বাবা ক্যান্সারে মারা গেছিলেন না?” উর্ণা প্রশ্ন করল।

    “তাই তো জানতাম এতদিন।”

    “তার মানে?”

    “বাবা বেশিদিন ভোগেননি। বাবার পেটে একটা ব্যথা হত। কিছুদিন ধরেই। আমি ভালো ডাক্তার দেখাব বলেছি। বাবা রাজি না। বাবার চেনা ডাক্তার ছিল। রাসবিহারীতে বসেন। তিনিই বাবাকে দেখতেন। তাঁকে ছাড়া বাবার কাউকে পোষাত না।”

    “ডা. অশোক মল্লিক?”

    “হ্যাঁ, তুমি চেনো?”

    “আমরাও তো ওঁকেই দেখাই। ওঁর নিজের একটা রিসার্চ ল্যাবরেটরি আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে।”

    “হ্যাঁ, উনিই। উনিই বাবাকে দেখতেন। তবে শেষে ধরা পড়ল ক্যান্সার লাস্ট স্টেজ। তখন আর কিছু করার ছিল না।

    “কী গুরুদায়িত্ব নিয়েছিলেন তোমার বাবা, জানো?”

    “না। বাবা-মা চিরটাকাল আমার থেকে কিছু একটা লুকিয়ে গেছেন। কেন চুঁচুড়ার বাড়ি ছেড়ে এলাম? কেন বাবা চাকরি থেকে ভলেন্টারি রিয়ারমেন্ট নিলেন,কিচ্ছু জানাননি। এমনকি আমি প্রাইভেট ডিটেকটিভ হওয়াতে দুজনেরই খুব আপত্তি ছিল। তাও আমি জেদ করায় বাবা রাজি হয়ে যান।স্টার্ট আপের জন্য এক লাখ টাকা দিতেও রাজি হন। তখন অদ্ভুত একটা কথা বলেছিলেন বাবা। বলেছিলেন, শোন, যার অফিসে বসছিস, আমার সেই ঠাকুর্দা কিন্তু চরম লোভেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। আমিও করিনি। তুই যেন লোভের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিস না।”

    “কী প্রসঙ্গে বলেছিলেন এ কথা?”

    “তা বলেননি। সে কথা ছাড়ো। তুমি এত রাতে এত আপসেট হয়ে গেলে কি শুধু এই শোকসংবাদ দেখে?”

    উর্ণার চোখের জল প্রায় শুকিয়ে গেছিল। আবার চোখ জলে ভরে এল। “তুমি কি কিচ্ছু বোঝো না তুর্বসু রায়? এই কাগজে যে দুজনের নাম আছে তাঁরা গত এক বছরে মারা গেছেন। বাবাও এখন উইল বানাচ্ছেন। এর মানে বোঝো?”

    আমি এবার অনুমতি না নিয়েই জড়িয়ে ধরলাম উর্ণাকে। এই প্রথমবার। কপালে আলতো ঠোঁট ছুঁইয়ে বললাম, “এর মানে আর কিছুই না। বন্ধুরা মারা গেলে মানুষের মন এমনিতেই দুর্বল হয়ে যায়। তার ওপরে তাঁরা একই সংস্থায় কাজ করতেন। দেবাশিসদাকে যে কাকু চিনতেন সেটা আমারও জানা ছিল না। সে যাই হোক। তুমি চিন্তা কোরো না। নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাও। কাকুর যাতে কেউ কোনও ক্ষতি না করতে পারে, সেটা আমি দেখব।”

    মৃদু হাসি ফুটল উর্ণার মুখে। এতক্ষণে।

    “বড়ো আমার বীর পালোয়ান রে। তবে শোনো, বাবা যেন না পারে।”

    “আরে হ্যাঁ। সে তো বটেই। তবে আমি ড্যাম শিওর, ভয় পাবার মতো কিচ্ছু হয়নি। যদি হয়েও থাকে, তবে আমি আছি। তুমি চাপ নিয়ো না। রাত একটা বাজল। কাল সকালে কলেজ আছে তো?”

    মাথা নাড়ল উর্ণা। আছে।

    “তাহলে? যাও, শুতে যাও। আমারও ঘুম পেয়েছে। আর এই কাগজটা আমার কাছে থাক। আর হ্যাঁ, সেদিন চক্রবর্তী চ্যাটার্জীতে নাইট নামের এক ভদ্রলোকের একটা বই কিনলে না? ফ্রিম্যাসনদের নিয়ে? ঘুমাতে যাবার আগে একবার ওটা দিয়ে যেয়ো তো। দরকার আছে।”

    উর্ণা চলে গেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে একদৃষ্টে কাগজটার দিকে চেয়ে রইলাম। শত চেষ্টাতেও আজ রাতে আমার ঘুম আসবে না। একটা রেজিস্টার্ড সংস্থার প্যাডে গোটা চিঠিটা ছাপানো। উপরে বড়ো বড়ো করে লেখা-

    NIBAR (RGTD).

    A Non-Govermental Organisation fighting for Human Rights. Home & Abroad.

    পাশে অদ্ভুত এক চিহ্ন। এই চিহ্ন আমি চিনি। চিনা অক্ষর ই-চিং। কিছুদিন আগেই অফিসার অমিতাভ মুখার্জি আমায় দেখিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ির ডাকবাক্সে কেউ ফেলে যাচ্ছিল। তিনটে লম্বা দাগের উপরের দুটো ভাঙা, নিচেরটা অক্ষত। মানেটাও বলেছিলেন অফিসার। ভয়াবহ পরিণতি, মৃত্যু। এখানে অবশ্য সেই চিহ্নের চারপাশে লেখা আছে চারটি ল্যাটিন শব্দ।

    Dissimulo. Fraternitati. Unio. Oblitus.

    .

    ৩।

    খুব একবার বাবার হাত ধরে এই ওলন্দাজদের কবরখানাটায় ঢুকেছিলাম। তখন এখানকার ওবেলিস্কগুলো পাহাড়ের মতো বড়ো বড়ো লেগেছিল। এত বছরে কবরখানার হাল আরও বিগড়েছে। গতবার যেন আর- একটু পরিষ্কার দেখেছিলাম। এবার জঙ্গলে ভরা। অফিসার মুখার্জি এখনও পৌঁছাননি। কবরখানা শুনশান। শুধু বড়ো বড়ো গাছ হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। সামনে বিরাট একটা জামরুল গাছ। তার সামনে থেকেই একের পর এক কবর। হাঁটতে হাঁটতে কবরের এপিটাফের নামগুলো পড়ছি। কিছু আছে। কিছু কবরচোরেরা উপড়ে নিয়ে গেছে। বাবার সেই পাতলা বইটা “চুঁচুড়া কথা” সঙ্গে নিয়ে এসেছি, আর মিলিয়ে মিলিয়ে দেখছি। এই তো কর্নেলিস ডে জং- এর কবর। এই কবরখানার সবচেয়ে পুরোনো কবর। ১৭৪৩-এর। মজার ব্যাপার, একটু দূরেই সবচেয়ে নবীনতম কবরে শুয়ে আছেন এমা ড্রাপার। ১৮৪৭ সালে তাঁকে গোর দেওয়া হয়েছিল। সিপাই বিদ্রোহের তখনও দশ বছর বাকি। কিন্তু আমার মন অন্য জায়গায়। ভার্নেৎ-এর সমাধিটা কোথায়? সেই ভার্নেৎ, যাঁর তুতো বোন স্বয়ং শার্লক হোমসের ঠাকুমা ছিলেন? বইতে তাঁর কথা স্পষ্ট লেখা আছে। খুঁজতে খুঁজতে এক কোণে পেয়ে গেলাম সেই সমাধি। লম্বাটে। চুন সুরকি দিয়ে বাঁধানো। চমকটা খেলাম সমাধির মাথার কাছে গিয়ে। অন্য সমাধির মতো এখানে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্যাঁচার মতো মুখওয়ালা VOC খোদাই করা নেই। আছে গোল একটা সিল। তার দুই বিপরীত দিকে যোগচিহ্নের মতো বড়ো বড়ো দুটো ক্রস। প্রতিটাকে ঘিরে আরও চারটে। এমন অদ্ভুত চিহ্ন আমি আগে কখনও দেখিনি। ঠিক তার পাশেই আবার কোনাকুনি দুটো অন্য চিহ্ন। তিনটে তারা আর একটা রাজমিস্ত্রিদের ম্যাসন’স স্কোয়ার। এই চিহ্ন আমি চিনি। একেবারে শুরুতে এ দেশে ফ্রিম্যাসনরা এই চিহ্নই ব্যবহার করত। কিন্তু অন্যটা কী?

    “খুব দেরি করে ফেললাম?”

    গলার আওয়াজে বুঝলাম ইনস্পেক্টর মুখার্জি এসে গেছেন। আমি এতক্ষণ মন দিয়ে কবরটা দেখছিলাম বলে খেয়াল করতে পারিনি।

    “কী দেখছ এত মন দিয়ে?”

    “এই কবরটা আগে দেখেছেন?”

    “আমি এখানে অনেক আগে একবার এসেছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে। তারপর এই এলাম।”

    “আমারও সেই দশা। আচ্ছা অন্য সব কবরে VOC খোদাই করা, কিন্তু এই ভার্নেৎ সাহেবের কবরে অন্য চিহ্ন কেন? এই দেখুন এই দুটো তো ফ্রিম্যাসনদের চিহ্ন। অন্য দুটো কী?”

    মুখার্জি একটু ঝুঁকে চিহ্ন দুটো দেখেই সোজা হয়ে গেলেন। বললেন, “স্ট্রেঞ্জ!”

    “কেন? অবাক হবার কী হল?”

    “এঁদের বলে জেরুজালেম ক্রস। ফাইভ ফোল্ড ক্রস-ও বলে অনেকে। দেবাশিসদার বাড়িতে দেখেছিলাম।”

    “এর মানে কী?”

    “পাঁচটা ক্রস হল যিশুর দেহের পাঁচ ক্ষতচিহ্নের প্রতীক। অনেকে আবার বড়োটিকে যিশু আর চারটিকে তাঁর চার শিষ্য হিসেবে মনে করেন। ১২৮০ সালে জেরুজালেমে প্রথমবার কোট অফ আর্মসে এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর অন্য একটা মানেও নাকি আছে। অষ্টাদশ শতকে ফ্রিম্যাসনদের মধ্যে দুটো ভাগ হয়ে যায়। একদল যিশুর অহিংসাবাণী মেনে চলতেন। অন্য দল তা মানেননি। যাঁরা মানতেন তাঁরা প্রকাশ্যে জেরুজালেম ক্রসকে নিজেদের কোট অফ আর্মসে ব্যবহার শুরু করেন। চরমপন্থী ফ্রিম্যাসনরা বিদ্রোহ করেন। তাঁদের বিতাড়িত করা হয়। কিন্তু দলের মধ্যেই তাঁদের সমর্থক ছিল। গোপনে তাঁরা ঘোঁট পাকাতে থাকেন ও নানারকম স্যাবোটাজ করেন। তাঁদের আলাদা চিহ্ন ছিল। যদিও সেটা কী, কেউ জানে না।”

    “আপনি স্টিফেন নাইটের নাম শুনেছেন?”

    অফিসার মাথা নাড়লেন। শোনেননি।

    “আমিও এতদিন শুনিনি। জাস্ট গতকাল এঁর লেখা একটা বই পেয়েছি। কাল সারারাত এঁর বই পড়ে ঘুমাতে পারিনি।”

    “কেন? কী আছে তাতে?”

    “ফ্রিম্যাসনদের নিয়ে যতটুকু যা জানি তার নব্বই ভাগই নাকি এই ভদ্রলোকের জন্য। ভূমিকায় লেখা আছে। ১৯৮৩ সালে গ্রানাটা থেকে তাঁর একটা বই প্রকাশ পায়। দ্য ব্রাদারহুড। ফ্রিম্যাসনদের নিয়ে লেখা। এই সেই বই। সে বই কলকাতায় কোন পথে এল কে জানে? বইটা প্রকাশ মাত্র সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। সেখানে নাইট পরিষ্কার দাবি করেছেন, এই ফ্রিম্যাসনরা ইউরোপের নানা দেশের বড়ো বড়ো পদ অধিকার করে আছে। একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই ‘Freemasons applaud violence, terror and crime, provided it is carried out in a crafty manner’। এই বইতে তিনি এটাও দেখিয়েছেন বিশেষ করে ইংল্যান্ডের গোটা রাজনৈতিক ক্ষমতা এখন ফ্রিম্যাসনদের হাতে। সেটা তারা কী করে করল তা জানতে পারেননি নাইট। চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এটাও নাকি বলেছিলেন, ফ্রিম্যাসনরা একবার ভয়ানক এক চক্রান্ত করে, যাতে ইংল্যান্ডের অস্তিত্ব অবধি বিপন্ন হতে পারত। তিনি নাকি সন্ধান করে অনেকটা বারও করেছিলেন। প্রমাণ জোগাড় করছিলেন। কিন্তু তার আগেই মাত্র তেত্রিশ বছর বয়েসে নাইট আচমকা মারা গেলেন।”

    “খুন?”

    “এখানেই তো মজা। খুন হলেও সেটা প্রমাণ করা যাবে না। নাইটের মাথায় ১৯৮০ সাল নাগাদ একটা টিউমার ধরা পড়ে। সেটা সারাতে তিনি অনেকের কাছে যান। এমনকি আমাদের ভারতীয় গুরু ভগবান রজনীশের কাছেও। ১৯৮৪-তে টিউমার অপারেশন হয়। সাকসেসফুল। পরের বছরই এক টিভি প্রোগ্রামে নাইট ঘোষণা করলেন ফ্রিম্যাসনদের মধ্যের সেই চরমপন্থী গ্রুপের সন্ধান তিনি পেয়েছেন এবং তারা নাকি তখনও সক্রিয়। এই গ্রুপের নাম জাবুলন আর দুই বছরের মধ্যেই তার নতুন বই আসবে এদের নিয়ে। দুই মাসও গেল না। নাইট মারা গেলেন।”

    “মৃত্যুর কারণ?”

    “ডাক্তার বলেছিল ওই টিউমার নাকি আবার ফিরে এসেছিল। কিন্তু মিথ্যে কথা। মারা যাবার আগের দিনও বন্ধুদের এক পার্টিতে গেছিলেন নাইট। একেবারে স্বাভাবিক। তাই আমার ধারণা… খুন। যাই হোক, এসব আলোচনা পরে হবে। আগে বলুন, দারোগা প্রিয়নাথ মুখার্জি আপনার কে হন?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার
    Next Article আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }