Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ১০

    ॥ দশ॥

    ফেব্রুয়ারি, ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

    রোদ ঝলমলে আকাশ। খুব সুন্দর একটা হাওয়া দিচ্ছে। সদ্য যুবতী মেয়ের চোখে যেমন কিশোরী বেলার আভাটাই বেশি থাকে, যৌবনের আঁচ থাকে কম, এ বাতাসও তেমনই। শীতের আমেজ আছে, কামড় নেই। টাইগ্রিসের জলে মন্দ-মন্দ ঢেউ উঠছে। সেই ঢেউ এসে ভেঙে যাচ্ছে মোঙ্গোল শিবির লাগোয়া তটভূমিতে। আকাশে গোল হয়ে চক্কর কাটছে একদল বক জাতীয় পাখি। মাঝে মাঝে ছোঁ মেরে নেমে এসে মাছ মুখে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে তারা। দৃষ্টিসীমার মধ্যেই নিশ্চিন্তে টহল দিচ্ছে মোঙ্গোলদের পাহারাদার নৌকো। দূর থেকে রবাবের মন ভোলানো সুর ভেসে আসছে। সব মিলিয়ে একটা দারুণ সকাল। বনভোজন করার মতো আদর্শ দিন। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে মোঙ্গোল শিবিরের ভেতরের চাপা উত্তেজনাটা টের পাওয়া যাবে না।

    তাঁবুর ভেতরে থমথমে মুখে বসে আছেন হালাকু খাঁ। অন্যান্য দিনে গোটা দিন ধরে দুই থেকে তিন জালা মদ্যপান করেন তিনি। আজ সবে সকাল কিন্তু তার মধ্যেই দু’টি জালা শেষ হয়ে গেছে। সুলচুক বুঝতে পারছে, ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত অশান্ত হয়ে রয়েছেন খাঁ। অবশ্য অস্থির হওয়ার মতোই বিষয় গত রাতে চোর ঢুকেছিল খাঁ-র তাঁবুর ভেতরে। হইচই পড়ে যাওয়াতে সে খাঁ-র শয্যার নীচে লুকিয়ে পড়েছিল। চোরটা আহত ছিল। শয্যার নীচে অনেকটা রক্ত পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, সকলের অগোচরে তাঁবুর পেছন দিক থেকে বেরিয়ে টাইগ্রিসের জলে নেমে গেছিল সে। তাঁবুর বাইরে থেকে নদী অবধিও রক্তের দাগ আছে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল, কিছু খোয়া যায়নি। খাঁ-র তাঁবু খুব ভালো করে পরীক্ষা করা হয়েছে। অনেক দামি দামি জিনিস ছিল তাঁবুর ভেতরে কিন্তু যেখানকার জিনিস সেখানেই আছে। চোর কিচ্ছুতে হাত দেয়নি। আর এখানেই খটকাটা লাগছে হালাকু খাঁ-র।

    যে ঢুকেছিল ভেতরে তবে কি তার চুরি করাটা আসল উদ্দেশ্য ছিল না? সে কি তবে কোনও গুপ্ত ঘাতক! গুপ্ত ঘাতক পাঠালে একমাত্র খলিফাই পাঠাতে পারেন। কিন্তু খলিফার প্রতিটি পদক্ষেপের খবর তো তিনি অনেক আগেই পেয়ে যান। উজির ইবন আলকামি তাঁর লোক। খলিফা তো সন্ধি করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। খিলাফতের পাঞ্জা অবধি ভেট হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি এই বোকামো করবেন না। তবে কে তাঁকে মারতে চাইছে? সাধারণ বাগদাদবাসীর তো এত সাহস হবে না যে মোঙ্গোল শিবিরে গুপ্ত ঘাতক পাঠাবে! তবে কি তাঁর অগোচরে ঘনিয়ে উঠছে অন্য কোনও শক্তি? তাঁর দলের লোকেরাই বিশ্বাসঘাতকতা করছে না তো?

    চমকে উঠলেন হালাকু খাঁ। ক্ষমতা বড়ো অদ্ভুত জিনিস। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য বাবা ছেলেকে, ছেলে বাবাকে খুন করে দেয়। এই রহস্য সমাধান না করা অবধি শান্তি পাচ্ছেন না তিনি। পরবর্তী কোনও সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না। এমন সময় বাইজু নয়ান এসে খবর দিল, ‘উজির ইবন আলকামি দেখা করতে এসেছেন।’

    উৎসাহিত হলেন হালাকু। এই লোকটার কাছ থেকে কিছু খবর পাওয়া যেতে পারে। বললেন, ‘এখুনি ভেতরে পাঠাও ওকে।’

    বাইজু নয়ান বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই খুব উত্তেজিত হয়ে তাঁবুর ভেতরে ঢুকে এল ইবন আলকামি। খাঁ-কে রীতিমাফিক সম্মান প্ৰদৰ্শন করেই বলে উঠল, ‘আপনার বিরুদ্ধে কারা চক্রান্ত করছে আমি জানি খাঁ। ছোটো ছোটো চোখ দুটো আরও ছোটো হয়ে গেল হালাকুর। বললেন, ‘কারা?’

    মুখটা বিকৃত করে আলকামি বলল, ‘আবদুল রহমান। খলিফার মেজো ছেলে। আর তার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে গিয়াসুদ্দিন আল তুসি। বাইত আল হিকমাহ-র প্রধান গ্রন্থাগারিক।’

    অবাক হলেন হালাকু। বললেন, ‘খলিফার ছেলে অবধি মানা যায় কিন্তু এক জন সামান্য গ্রন্থাগারিক আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে! আশ্চর্য!’

    ‘আশ্চর্যের কিছু নেই খাঁ। এই গিয়াসুদ্দিন নামের লোকটা মহা ধুরন্ধর। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দিনার ব্যয় করায় গ্রন্থাগারের পেছনে। আপনিই বলুন না, লেখাপড়ার পেছনে কখনো এত খরচ হয়, না করা উচিত? দুনিয়ার নানা দেশ থেকে নানা গ্রন্থ আনিয়ে সে সব নাকি আরবিতে অনুবাদ করে! সব মিথ্যে কথা। আসলে নিজের পেট মোটা করছে। আর খলিফাকে বশ করে রেখেছে পুরো। খলিফা ওকে কিচ্ছু বলেন না। আসলে লোকটা তো পারস্যের। আপনি হাসাসিনদের জব্দ করেছেন বলে ওর খুব রাগ আপনার ওপর। আপনারা যখন হাসাসিনদের দমন করার জন্য বাগদাদের সাহায্য চেয়েছিলেন তখন এই লোকটাই তো খলিফাকে ভড়কেছিল। কিছুতেই সাহায্য করতে দেয়নি আপনাদের।’

    শুনতে শুনতে যত বেশি করে ভুরু কুঁচকে যাচ্ছিল হালাকু খাঁ-র তত বেশি করে আনন্দ পাচ্ছিল আলকামি। তার প্রধান উদ্দেশ্য হালাকু খাঁ-কে তাতিয়ে দেওয়া। বোকা তেমুরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে। গতকাল সন্ধেতেই সে খবর পেয়েছিল, ভেট পেয়ে হালাকু খাঁ খুশি হয়েছেন। বাগদাদের সঙ্গে সন্ধি করার একটা ভাবনা তাঁর মাথাতে ঘুরছে। আসলে হালাকু অসুস্থ। যদি বাগদাদ তাঁর সব দাবি মেনে নেয় তা হলে এই মুহূর্তে যুদ্ধ করতে চাইছেন না। এটা শুনেই ঘাবড়ে গেছিল আলকামি। প্রথমে তার মনে হয়েছিল, সন্ধি হোক বা মোঙ্গোলরা বাগদাদ দখল করুক দুই ক্ষেত্রেই তার লাভ কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে সে বুঝতে পেরেছে বাগদাদের সঙ্গে হালাকু খাঁ-র সন্ধি হয়ে গেলে তার আসলে কোনও লাভই নেই। সেই তো খলিফা মাথার ওপরে বসে থাকবেন। সব ক্ষেত্রেই খলিফার অনুমতি নিতে হবে। তার চেয়ে যদি হালাকু খাঁ বাগদাদ দখল করে খিলাফতের পতনের পরে সেই হবে বাগদাদের নতুন শাসক। অন্তত তার একটা সম্ভাবনা আছে। সে এত সাহায্য করেছে মোঙ্গোলদের। মোঙ্গোলরা এইটুকু প্রতিদান দেবে না? দরকারে সে দরাদরি করবে হালাকু খাঁ-র সঙ্গে। তার নিজের ভালোর জন্য খলিফার সরে যাওয়াটা খুব দরকার। সে ভেবেই রেখেছিল, আজ সকালে এসে খলিফার বিরুদ্ধে হালাকু খাঁ-র কানে বিষ ঢালবে। তার মধ্যেই খবর পেল গত রাতে মোঙ্গোল শিবিরে অবাঞ্ছিত লোক ঢুকেছিল। খবরটা পেয়ে তিন পাক নেচে নিয়েছিল সে। হালাকু খাঁ-কে উসকাতে আরও সুবিধে হবে। গলাটা ঝেড়ে সে বলল, ‘আরও একটা কথা আপনাকে বলতে চাই খাঁ। আমার একটা কূট সন্দেহ হচ্ছে।’

    ‘কী সন্দেহ?’

    ‘আমার মনে হচ্ছে গিয়াসুদ্দিন আর আবদুলের মাথার ওপর খলিফার হাত আছে। খলিফা যতই আপনার সামনে ভালো সাজুন না কেন, আমার মন বলছে তিনিও আপনার ক্ষতি চান। নয়তো ওদের এত সাহস হতো না আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। আমি কাল নিজে দেখেছি গিয়াসুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার পরে আবদুল ঘোড়া নিয়ে বেরিয়েছিল। আমি আড়াল থেকে ওকে অনুসরণ করেছিলাম। ও একটা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেছিল। আমি নিশ্চিত ও আপনাকে খুন করার জন্য গুপ্ত ঘাতককে বরাত দিতে গেছিল। আর আপনিই বলুন না এত বড়ো একটা কাণ্ড খলিফার অগোচরে হতে পারে?’

    ‘আমি যত দূর জানি খলিফা তো তোমাকে সব জানিয়ে করেন। তা হলে?’

    আলকামি বুঝল, ব্যাপারটা অন্য দিকে চলে যেতে পারে। হালাকু খাঁ-র গলায় সন্দেহের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মুখটা করুণ করে, গলায় যথাসম্ভব বেদনা এনে বলল, ‘সেদিন আর নেই খাঁ। গতকালই তো গিয়াসুদ্দিন খলিফার কক্ষে গেছিলেন। আমাকে কক্ষ থেকে বার করে দিয়ে দুজনে অনেকক্ষণ শলাপরামর্শ করলেন। তার কিছুক্ষণ পরেই তো আবদুল ঘোড়া নিয়ে বেরোল।’

    চুপ করে রইলেন হালাকু খাঁ। একটা হিসেব এখনও মিলছে না। গুপ্ত ঘাতকই যদি আসবে সে কিছু করল না কেন? আর রক্ত এল কোথা থেকে? সে কি আহত হয়ে তাঁবুতে ঢুকেছিল? তা হলে তাঁবুর প্রবেশপথে রক্ত নেই কেন? রক্তের পরিমাণ দেখে বোঝা যাচ্ছে শয্যার নীচেই প্রথম রক্তপাত হয়েছে।

    উঠে দাঁড়ালেন হালাকু খাঁ। পায়চারি করা শুরু করলেন। যতক্ষণ না এই হিসেব মিলবে ততক্ষণ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বাগদাদ সন্ধি করার জন্য পা বাড়িয়ে আছে। এই অবস্থায় কোনও কারণ ছাড়া শুধু অনুমানের

    ওপরে ভিত্তি করে আক্রমণ করা মূর্খামি হবে। শুধু বাগদাদই তো নয়, এর পরে তাঁকে কায়রো যেতে হবে। সেখানে যুদ্ধ করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ বাগদাদ দখলের খবর ইতিমধ্যেই ওখানে পৌঁছে যাওয়ার কথা। মোঙ্গোল আক্রমণের আশঙ্কা করে নিশ্চয়ই কায়রো প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এখানে যদি যুদ্ধ ছাড়াই কাজ হাসিল হয় তা হলে সেটাই করা উচিত।

    ভাবতে ভাবতে খিলাফতের পাঞ্জাটা হাতে তুলে নিলেন তিনি। অদ্ভুত সুন্দর এই পাঞ্জাটা। কাল থেকে যত বার দেখছেন মন ভরে যাচ্ছে। কী যেন একটা রহস্য আছে পাঞ্জাটার মধ্যে। এ জীবনে অনেক উপহার পেয়েছেন তিনি কিন্তু এত সুন্দর উপহার আর একটাও পাননি। ঠিক করেছেন, পাঞ্জার নীচের দিকে খিলাফতের ছাপ দেওয়া জায়গাটাকে সরিয়ে নিজের চিহ্ন বসিয়ে নেবেন। এটিকে নিজস্ব পাঞ্জা হিসেবে ব্যবহার করবেন। আলকামির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যাই করে থাকুন, শুধুমাত্র এই পাঞ্জাটা উপহার দেওয়ার জন্যই আমি খলিফার সব দোষ মাফ করে দিতে পারি।’

    অবাক হয়ে গেল আলকামি। অস্ফুটে বলল, ‘অ্যাঁ? না মানে খলিফা আপনার বিরুদ্ধে…

    ‘থামো থামো’, কথা কেটেই বলে উঠলেন হালাকু, ‘তোমার ধান্দা আমি জানি আলকামি। খলিফা যদি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে থাকেন সেটা নতুন কোনও কথা না। এটাই হওয়া উচিত। তুমি নতুন কোনও খবর এনে আমাকে উদ্ধার করে দাওনি। কে চায় তার নিজের দেশ অন্যের হাতে তুলে দিতে? পাকে পড়ে আজ খলিফা সন্ধি করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে অবধি তিনি আমাকে ঘেন্না করবেন। তাঁর জায়গায় আমি থাকলে আমিও তাই করতাম। দেশকে ভালোবাসে এমন কেউই বিদেশি শাসককে নেকনজরে দেখে না। অবশ্য তোমার মতো বিশ্বাসঘাতকদের কথা আলাদা। তুমি যতই আমাকে উসকানোর চেষ্টা করো, লাভ হবে না। আমি চেঙ্গিজ খাঁ-র দৌহিত্র। যুদ্ধ করি বলে রাজনীতি বুঝি না ভেবো না। আমার একটা হিসেব মিলছে না। সেই হিসেব যতক্ষণ না মিলবে আমি কোনও ভাবেই যুদ্ধ করব না।’

    বড়ো বেকুব বনে গেল আলকামি। অপমানে তার কান লাল হয়ে উঠল হালাকু যে আচমকা এমন ঘুরে যাবেন সে ভাবতে পারেনি। কিন্তু এই অপমানের জবাব দেওয়ার মতো ক্ষমতা তার নেই। অগত্যা দাঁত বার করে হাসতে হল।

    আলকামির অবস্থাটা বুঝতে পারছিল সুলচুক। বহু দিন ধরে সে হালাকুর সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয়ানক, পাশবিক, নৃশংস, দুর্দান্ত, সাহসী এই বিশেষণগুলো হালাকুর চরিত্রের সঙ্গে অবশ্যই যায় কিন্তু আরও একটা বিশেষণ খুব ভালো যায় সেটা হল খামখেয়ালি। কোনও একটা জিনিস মাথায় ঢুকলে সেটা সহজে বেরোয় না। পাঞ্জাটা উপহার পাওয়ার পর থেকে খলিফার ওপরে বেশ সদয় হয়ে রয়েছেন হালাকু। তা ছাড়া ক্ষতটা এখনও পুরো সারেনি। তাই এই মুহূর্তে যুদ্ধ করতেও চাইছেন না তিনি। তবে সুলচুক জানে, যুদ্ধ তিনি করবেনই। যতই এই মুহূর্তে যুদ্ধবিমুখ হোন না কেন সুস্থ হওয়া মাত্রই রক্তদর্শনের জন্য ছটফট করবেন হালাকু। নিরামিষ সন্ধিস্থাপনে আর যার মন ভরুক হালাকু খাঁ-র মন ভরবে না। আলকামি এত কথা জানে না। তার জানার কথাও নয়। যুদ্ধ হবে না শুনে সে খুবই মুষড়ে পড়েছে। তাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেবে বলে ঠিক করল সুলচুক। বলল, ‘খাঁ, এখন তা হলে আমরা বরং যাই? পরে আসব।’

    পাঞ্জাটার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘাড় নাড়লেন হালাকু আলকামিকে সঙ্গে যেতে ইশারা করল সুলচুক। বাধ্য হয়েই আলকামি উঠে দাঁড়াল। ঘাড় নুইয়ে বিদায় জানাল হালাকুকে। হালাকু ফিরেও তাকালেন না। মুখ চুন করে তাঁবুর প্রস্থানপথের দিকে এগোতে লাগল আলকামি আর তখনই হালাকুর বিস্মিত কণ্ঠ কানে এল, ‘এ কী!’

    সুলচুক আর আলকামি দু’জনেই ঘুরে তাকাল। দেখল, বিস্ফারিত চোখে হালাকু তাকিয়ে আছেন পাঞ্জাটার দিকে। ধীরে ধীরে বিস্ময় পরিবর্তিত হল ক্রোধে। রাগে সারা শরীর কাঁপতে লাগল তাঁর। তিনি গর্জন করে উঠলেন, ‘এত বড়ো সাহস!’

    হালাকুর এই চেহারা চেনে সুলচুক। ছুটে গেল তাঁর কাছে, ‘কী হয়েছে খাঁ?’

    উত্তর না দিয়ে রক্তচক্ষে আলকামির দিকে তাকালেন হালাকু। আলকামির বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল। সে কিছু বোঝার আগেই হালাকু শক্ত করে তার হাতটা চেপে ধরলেন। ভয়ে প্রায় কেঁদে ফেলল সে, ‘আমি কিছু করিনি। আমি কিছু…’

    ‘চোপ,’ এক ধমকে তাকে থামিয়ে দিয়ে হালাকু বললেন, ‘এই পাঞ্জাটা কি খলিফার খুব প্রিয়?’

    ‘ইয়ে মানে না তো খাঁ। খলিফা খুব একটা ব্যবহার করতেন না এটা। সরকারি কাগজে ছাপ দিতে হলে আমিই ব্যবহার করতাম। আর গিয়াসুদ্দিন বায়তুল হিকমাহ-র বইপত্রে-এর ছাপ দিত। ওই বানিয়ে দিয়েছিল পাঞ্জাটা। মাঝে মাঝে নিয়ে যেত আবার ফেরত দিয়ে যেত। বাকি সময়টা খলিফার কক্ষেই পড়ে থাকত এটা। কেন খাঁ?’

    কুঁচকে থাকা ভুরু সোজা হয়ে এল হালাকুর। সুলচুকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘গত রাতে সত্যিই চোর ঢুকেছিল আমার তাঁবুতে। সে কেন আহত হয়েছিল তার উত্তর এখনও আমার কাছে নেই কিন্তু সে কী চুরি করতে এসেছিল এখন আমি বুঝে গেছি। সে এসেছিল খিলাফতের পাঞ্জাটা চুরি করতে। এখন আমার হাতে যে পাঞ্জাটা আছে আর গতকাল যেটা উপহার পেয়েছিলাম, দুটো এক নয়।’

    ‘কিন্তু এটাও তো অবিকল এক রকম দেখতে’, অবাক হয়ে বলল সুলচুক। ‘হ্যাঁ, আর সেইজন্যই তো এতক্ষণ আমি বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলাম যখন পাঞ্জার হাতলটা ভালো করে দেখলাম। গতকালের পাঞ্জাটার হাতলের পেছনে আমি ছুরি দিয়ে আমার নামের আদ্যাক্ষর খোদাই করে রেখেছিলাম। এই দেখো, এটায় কোনও দাগ নেই। একেবারে মসৃণ।’

    আলকামি নিশ্চিত, পাঞ্জাটা চুরি করিয়েছে গিয়াসুদ্দিনই। কিন্তু কেন? খিলাফতের পাঞ্জা দিয়ে সে কী করবে? সেই তো এই পাঞ্জা বানিয়ে দিয়েছিল। কেন বার বার পাঞ্জাটা নিয়ে যেত নিজের কাছে? পাঞ্জাটা হালাকু খাঁ-কে দেওয়া হয়েছে শুনে অত ভেঙে পড়েছিল কেন? কেন অত রেগে গেছিল? কী রহস্য আছে ওই পাঞ্জার মধ্যে? সে বলতে গেল, ‘খাঁ…’

    হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলেন হালাকু। সুলতানচুকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, ‘যারা নিজেদের দেওয়া উপহার আবার চুরি করে নিয়ে যায় তারা নীচ, শঠ, প্রবঞ্চক। তাদের কোনও ক্ষমা নেই। রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট। খলিফার চৌর্যবৃত্তির ফল পাবে বাগদাদবাসী। আমি বাগদাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। ধ্বংস করে দাও বাগদাদ।’

    আনন্দে নেচে উঠল আলকামির মনটা।

    ***

    বড়ো বড়ো রাবার গাছ আর ডুমুর গাছ ঘিরে আছে জায়গাটাকে। মাঝে মাঝে কয়েকটা বেদানা গাছও চোখে পড়ছে। ফলের ভারে নুয়ে আছে বেদানা গাছগুলো। লাল টুকটুকে অজস্র বেদানা ঝুলছে। কিন্তু এখানে গাছ থেকে ফল পাড়ার কেউ নেই। এখানে সবাই সব কিছু ফেলে যেতে আসে। নিয়ে যেতে আসে না কিছুই। এটা কবরস্থান। আল রুসাফা-র কবরস্থান। এখানেই খলিফা এবং তাঁর পরিবারের লোকেদের সমাধি দেওয়া হয়। সকাল বেলাতেও ছায়াচ্ছন্ন হয়ে আছে জায়গাটা। পাখি ডাকছে ক্রমাগত। জনমানবহীন। এমন সময় একটা একটা বড়ো খিলানের পেছন থেকে বেরিয়ে এল দু’জন মানুষ। এক জন প্রৌঢ়, এক জন যুবক। গিয়াসুদ্দিন আর আবদুল। এই শীতের সকালেও তাদের সর্বাঙ্গে ঘাম। হাতে কোদাল, গাঁইতি জাতীয় মাটি কোপানোর যন্ত্র। হাতে, পায়ে আর পরনের কাপড়ে লেগে আছে মাটি।

    অল্প অল্প হাঁপাচ্ছেন গিয়াসুদ্দিন। একটা বড়ো ডুমুর গাছের তলায় বসে পড়লেন তিনি। বললেন, ‘আবদুল, এই মাটি কাটার জিনিসগুলোও লুকিয়ে ফেলো।’

    মাথা নাড়ল আবদুল। গিয়াসুদ্দিন বললেন, ‘জিনিসগুলো যে আল রুসাফার কবরখানায় লুকোনো হল আমরা দু’জন ছাড়া আর কে জানে?’

    ‘মনসুর। ওকে নিয়ে চিন্তা নেই। ও কাউকে বলবে না।’

    ‘সবটাই নিয়তি। এত সূক্ষ্ম ভাবে মনসুর পাঞ্জাটা নিয়ে এল কিন্তু শেষরক্ষা হল না। হালাকু খাঁ পাঞ্জার হাতলে নামের আদ্যক্ষর খোদাই করে রাখল। হায় আল্লাহ,’ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন গিয়াসুদ্দিন।

    মনসুর যে কাজটা খুব সূক্ষ্ম ভাবে করতে পারেনি সে কথা আর তাঁকে বললেন না আবদুল। গিয়াসুদ্দিন বললেন, ‘আশা করি ওরা কবর খুঁড়ে দেখবে না। যদি বেঁচে থাকি তা হলে পরে এসে এ সব আবার তুলে নিয়ে যাব। বড়ো আফশোস হচ্ছে আবদুল। আমার হাতে রয়েছে এ দুনিয়ার অন্যতম শক্তিশালী আয়ুধ। দেবী ইনান্নার দণ্ড। অথচ ওটি ব্যবহার করার কৌশল আমার জানা নেই। অনেক পড়েছি আমি কিন্তু তন্ত্রচর্চা করিনি কোনও দিন। ইশ! যদি জানতাম কী ভাবে জাগিয়ে তোলা যায় দেবীর দণ্ড, তা হলে বাগদাদকে বাঁচাতে পারতাম। খুব শিগগির ওরা বাগদাদ আক্রমণ করবে। পাঞ্জা দুটো যে এক নয় সেটা বুঝতে হালাকু খাঁ-র বেশিক্ষণ লাগবে না। মন শক্ত করো আবদুল। খুব শিগগির তোমার, আমার সাধের বাগদাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে চলেছে।’

    আবদুলের চোখ ছলছল করে উঠল। উঠে দাঁড়ালেন গিয়াসুদ্দিন। আবদুলের পিঠে হাত রেখে বললেন, ‘অপরাধবোধ হচ্ছে? মনে হচ্ছে পাঞ্জাটা চুরি না করালে বাগদাদ বেঁচে যেত?’

    ইতিবাচক মাথা নাড়লেন আবদুল।

    ‘বাঁচত না আবদুল। হালাকু খাঁ-র প্রতিটি গতিবিধির ওপর আমি এত দিন ধরে নজর রাখছি। মনুষ্য চরিত্র যতটুকু বুঝি তাতে আমি নিশ্চিত আজ নয়তো কাল হালাকু বাগদাদ আক্রমণ করতই করত। যে শাসন করতে চায় সে সন্ধি করে। শাসকের মানসিকতা ওর নেই। ও যতই দাবি করুক না কেন ও রাজবংশের সন্তান, চেঙ্গিজ খাঁ-র দৌহিত্র, রাজ্যশাসন ওর রক্তে, ও আসলে একটা রক্তপিপাসু যুদ্ধবাজ উন্মাদ। ও বেরিয়েছে মোঙ্গোল সাম্রাজ্যকে ছড়িয়ে দিতে। যতক্ষণ না বাগদাদের ঐতিহ্যকে তছনছ করবে ও শান্তি পাবে না। আমরা বরং পাঞ্জাটা চুরি করে একটা কাজের কাজ করলাম যে দেবী ইনান্নার দণ্ড লুকিয়ে ফেলতে পারলাম। আল রুসাফায় কবরের নীচে যা যা লুকোনো রইল, হালাকুর হাতে পড়লে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা থাকত। মনে করো বাগদাদকে বলি দিয়ে তুমি বাকি দুনিয়াকে রক্ষা করেছ। তোমার, আমার সামনে এখন একটাই কাজ। যে করে হোক আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। বেঁচে থাকলে তবেই না প্রত্যাঘাত করতে পারব।’

    গিয়াসুদ্দিনের কথা শেষ হতে পারল না তার আগেই দূর থেকে ভেসে এল মোঙ্গোল রণভেরির শব্দ। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল গিয়াসুদ্দিনের। ফিসফিস করে তিনি বললেন, ‘ওই আসছে। ওরা আসছে।’

    বন্যার জলের মতো, পঙ্গপালের মতো, নরকের কীটের মতো বাগদাদে ঢুকে পড়ল মোঙ্গোল সেনা। খলিফার সেনাবাহিনী প্রতিরোধ করার অবকাশ‍ই পেল না। একের পরে এক তোরণ ভাঙতে লাগল মোঙ্গোল বাহিনী। চোখের সামনে যাকে পেল হত্যা করল। নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ বাদ গেল না। রক্তে ভেসে গেল বাগদাদের প্রশস্ত রাস্তাগুলো। একের পরে এক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে করতে আর লুঠ করতে করতে তারা এগোতে লাগল খলিফার প্রাসাদের দিকে। তাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে লাগলেন হালাকু খাঁ। মোঙ্গোলরা আসছে খবর পেয়েই পরিবার নিয়ে খলিফা আল মুস্তাসিন লুকিয়ে পড়েছিলেন প্রাসাদের গুপ্ত কক্ষে। সেই রাস্তা চিনিয়ে দিল বিশ্বাসঘাতক ইবন আলকামি। খলিফার বাকি বয়স্যরা আগেই খুন হয়েছিল। এ বার খলিফার চোখের সামনে একে একে হত্যা করা হল তাঁর পরিবারের সদস্যদের। সেই দেখে হাসতে লাগল আলকামি। দু’হাতে মুখ ঢেকে মাটিতে বসে পড়লেন খলিফা। হালাকু বললেন, ‘খলিফা, আপনি সম্মাননীয় মানুষ। আপনাকে আমি বাকিদের মতো করে মারব না। আপনার মৃত্যু হোক অভাবনীয়। আপনাকে আমি এমন মৃত্যু উপহার দেব যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’

    খলিফার প্রিয় একটি বহুমূল্য পারস্য-গালিচা দিয়ে প্রথমে তাঁকে মুড়ে ফেলা হল। পালকের চেয়েও হালকা অথচ মজবুত গোলাপি রেশমের দড়ি দিয়ে বাঁধা হল আষ্টেপৃষ্ঠে। টানতে টানতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল তাঁরই সাধের পক্ষীশালায়। যেমন ভাবে শেকল দিয়ে পাখির খাঁচা ঝোলানো হয় ঠিক সেই ভাবে গালিচায় মোড়ানো খলিফাকে সোনার শেকলে বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হল দক্ষিণ আমেরিকার দুটো রঙিন কাকাতুয়ার খাঁচার মাঝখানে। যেমন ভাবে পাখিদের দানা দেওয়া হয় সেই ভাবে তাঁর সামনে দুটি বড়ো পাত্র রাখা হল। একটিতে রাখা হল স্বর্ণমুদ্রা, অন্যটিতে সুগন্ধি আতর। তাঁর পায়ের কাছে বেঁধে রাখা হল তাঁরই হারেমের দশটি সুন্দরী মেয়েকে। বিলাসী খলিফা যা যা পছন্দ করতেন মৃত্যুর সময় তিনি যাতে সব কিছু হাতের কাছে পান তার ব্যবস্থা করে রাখলেন হালাকু। শুধু হাত দুটো খুলে রাখলেন না, এই যা। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে আলকামি বুঝতে পারল, হালাকু খাঁ শুধু যুদ্ধবাজই নয়, এক জন নিপুণ হত্যাশিল্পী। মানুষ খুন করার এমন অভিনব পন্থা শুধু শয়তানের মাথাতেই আসা সম্ভব।

    দু’দিন পর থেকেই খাবার-জল না পেয়ে ছটফট করতে শুরু করল পাঁচ হাজার পাখি। তাদের চিৎকারে ঢাকা পড়ে গেল খলিফা আল মুস্তাসিন সহ দশটি মানুষের মৃত্যুকালীন আর্তনাদ। পতন হল প্রায় পাঁচশো বছরের আব্বাসীয় খিলাফতের।

    প্রাসাদ দখল করার পরে হালাকু হুকুম করলেন, ‘আমার গিয়াসুদ্দিনকে চাই। যেখান থেকে পারো ওকে খুঁজে আনো।’

    মোঙ্গোল বাহিনী ছুটে চলল বায়তুল হিকমাহ-র দিকে। শুধু হুকুম দিয়েই ক্ষান্ত হলেন না হালাকু, নিজেও ছুটলেন সেখানে। কিন্তু তন্নতন্ন করে খুঁজেও গিয়াসুদ্দিনকে পাওয়া গেল না। খাঁ-খাঁ করছে বায়তুল হিকমাহ। একটিও মানুষ নেই। গিয়াসুদ্দিনের নির্দেশে আগেই তাঁর ছাত্ররা প্রত্যেকে কিছু কিছু করে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব নিয়ে লুকিয়ে পড়েছে নগরের আনাচেকানাচে। হালাকুর সবটা রাগ গিয়ে পড়ল থরে থরে সাজিয়ে রাখা বইগুলোর ওপরে। গর্জন করে উঠলেন, ‘সব ফেলে দাও টাইগ্রিসের জলে। জ্বালিয়ে দাও সব।’

    প্রভুর আদেশ পেয়ে নতুন এক খেলায় মাতল মোঙ্গোল বাহিনী। তারা বই ফেলতে শুরু করল টাইগ্রিসের জলে। হাজার হাজার বই। কালি গুলে যেতে শুরু করল জলে। কালো হয়ে গেল টাইগ্রিসের জল। অবশেষে যখন ক্লান্ত হল মোঙ্গোলরা তখনও অসংখ্য বই বাকি। এ বার সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। ছোঁয়াচে রোগের মতো আগুন বইয়ের পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়ল দেওয়ালে, ইমারতে। পুড়ে ছাই হয়ে যেতে লাগল বাইত আল হিকমাহ। বাগদাদের জ্ঞানগৃহ। মানুষের সভ্যতার ইতিহাস।

    আল রুসাফার গোরস্থানে দাঁড়িয়ে আকাশছোঁয়া সেই আগুন আর কালো ধোঁয়া দেখতে দেখতে স্থবির হয়ে গেলেন গিয়াসুদ্দিন। তাঁর এত বছরের অক্লান্ত সাধনা এক লহমায় ছাই করে দিল এক যুদ্ধবাজ উন্মাদ! যদিও এই বিপর্যয়ের জন্য তিনি মনে মনে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। কান্নায় ভেঙে পড়লেন গিয়াসুদ্দিন। সন্তান হারালেও বুঝি এত যন্ত্রণা হতো না।

    * * *

    মা আর বোনকে নিয়ে আস্তাবলের পেছনে একটা গর্তের মধ্যে লুকিয়ে ছিল মনসুর। গত রাতে ফিরেই সে গর্ত খুঁড়তে শুরু করেছিল। আবদুল রহমান বলে দিয়েছিলেন, মোঙ্গোলরা যে কোনও মুহূর্তে ঢুকে পড়তে পারে বাগদাদে লুকিয়ে থেকেই বুঝতে পারছিল বাইরে হুলস্থুল শুরু হয়েছে। মোঙ্গোলরা সব তছনছ করে দিচ্ছে। থেকে থেকে ভেসে আসছে মানুষের আর্তনাদ।

    এতক্ষণে সব চুপচাপ হয়েছে। ধীরে ধীরে গর্তের ওপরে চাপিয়ে রাখা খড় সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল মনসুর। চারপাশের অবস্থা দেখে চোখ দুটো ভিজে এল তার। বাড়িটায় ওরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। রাস্তার পাশে সবক’টা বাড়িই জ্বলছে। এ দিক সে দিক ছড়িয়ে আছে মৃতদেহ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাজানো বাগান ছারখার করে দিয়ে চলে গেছে মোঙ্গোলরা।

    মন খারাপ করার সময় নেই। দ্রুত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল মনসুর। এই মুহূর্তে ওদের পাহারা শিথিল। জয়ের নেশায় ওরা মত্ত। এই সুযোগে মা আর বোনকে নিয়ে চলে যেতে হবে পারস্যে। সে জানে না শেষ অবধি পারস্য অবধি পৌঁছোতে পারবে কি না কিন্তু চেষ্টা তো করতে হবে। বাগদাদে এখন কেউ নিরাপদ নয়। মা আর বোনকে পারস্যে রেখে সে আবার ফিরে আসবে। তার মন বলছে, গিয়াসুদ্দিন আর আবদুল বেঁচে আছেন। ওঁদের খুঁজে বার করবে। তার পরে প্রতিশোধ।

    মা আর বোনকে সে বার করে নিয়ে এল গর্ত থেকে। দু’হাতে শক্ত করে চেপে ধরল দু’জনের হাত। দু’জনেই খুব কাঁদছে। তারা শেষ বারের মতো দেখে নিল বাড়িটা তার পরে রাস্তায় পা রাখল। ঠিক তখনই তাদের কানে এল ঘোড়ার খুরের শব্দ। এ বার আর লুকিয়ে পড়ার অবকাশ পেল না মনসুর তার আগেই তাদের ঘিরে ধরল দশ জন অশ্বারোহী।

    একটা বিশাল কালো ঘোড়ায় সওয়ার হালাকু খাঁ স্বয়ং। ইবন আলকামি আঙুল দেখিয়ে চিনিয়ে দিল, ‘ওই যে মনসুর। ওই বলতে পারবে গিয়াসুদ্দিন আর আবদুল কোথায় আছে?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }