Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ১১

    ॥ এগারো ॥

    ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল

    রাত আড়াইটে। হোটেলের নীচে কালো রঙের একটা বেশ বড়সড় এসইউভি দাঁড়িয়ে। তারিক, ফারুক, জুনেইদ আর সইদুল চার জন এসে দাঁড়াল গাড়িটার সামনে। দু’টো লোক নেমে এল গাড়ি থেকে। এক জন ওদের সামনে একটা বেতের ঝুড়ি বাড়িয়ে দিল। আবু বকর আগেই বলে দিয়েছিল, ঘড়ি, পার্স, ফোন সব জমা দিতে হবে। তাই করল ওরা। অন্য জন কালো কাপড় দিয়ে ওদের চার জনের চোখ বেঁধে দিল। ওরা উঠে পড়ল গাড়িতে। কিছুক্ষণ পরে তারিক বুঝতে পারল, গাড়িটা চলতে শুরু করেছে।

    অবশেষে এসেছে তাজকিয়া। যার-তার কাছ থেকে নয়, একেবারে মিলিটারি কমান্ডার ওমর হাসানের কাছ থেকে। আবু বকর তো প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে ফোন করেছিল, ‘তোমাদের লাইফ সেট হয়ে গেল। এক বার যদি ওমর হাসানের নেকনজরে পড়ে যাও আর চিন্তা নেই।’

    বিলাসবহুল গাড়ি। আরামদায়ক এসি চলছে ভেতরে। সিটে শরীরটা এলিয়ে দিল তারিক। অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। অবশেষে তারা পা রাখতে চলেছে পবিত্র ভূমিতে। খিলাফতের অংশ হতে চলেছে। কিন্তু তানজিন নূর? সে কোথায়? যেখানে যাচ্ছে সেখানে গেলে কি দেখা হবে তানজিনের সঙ্গে? তানজিনের কথা ভেবে গলার কাছটা কেমন টনটন করে উঠল তারিকের।

    কতক্ষণ গাড়ি চলেছে হিসেব রাখতে পারেনি তারিক। চোখে ঘুম নেমেছিল। ঘুম ভাঙল ফারুকের ঠেলায়, ‘ওঠ। এসে গেছি।’

    পট্টি খুলতেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল তারিকের। অনেকক্ষণ অন্ধকারে থাকার পরে আলোয় এলে যা হয় আর কী। চোখটা সয়ে যেতে তারিক দেখল, সকাল হয়ে গেছে। ঝলমল করছে চারদিক। তাদের পায়ের নীচে বালি। তাদের নামিয়ে দিয়ে গাড়ি দুটো চলে গেল। এখন যত দূর চোখ যায় ধু-ধু করছে মরুভূমি। বালির সমুদ্র। শুধু মাঝখানে বেশ অনেকটা জায়গা টিন, প্লাস্টিকের শিট, পুরোনো ভাঙা গাড়ি, বস্তা, কাঁটাতার এই সব দিয়ে ঘেরা। মরুভূমির উজ্জ্বল মুখে যেন একটা ব্রণ। তারিক আন্দাজ করল, এটা আইসিসের কোনও একটা গোপন ক্যাম্প। ভেতরে কী আছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, তবে দুটো টাওয়ার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাতে স্নাইপার রাইফেল হাতে পাহারা দিচ্ছে দু’জন। ওরা সবে ভাবতে শুরু করেছে, এ বার কী হবে, এমন সময় ভেতর থেকে একটা হুড খোলা জিপ বেরিয়ে এল। জিপটা এসে দাঁড়াল ওদের সামনে। ড্রাইভার ইশারা করল, ‘উঠে পড়ো।’

    ওদের চার জনকে চাপিয়ে নিয়ে জিপটা ফের রওনা দিল ক্যাম্পের উদ্দেশে।

    ‘আল্লা হু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে ওদের স্বাগত জানাল এক দল জিহাদি। তাদের সবার হাতে বন্দুক। এই প্রথম এত কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দেখল তারিক। বন্দুকের কালো ধাতব নলগুলো কেমন যেন শিরশিরানি জাগাচ্ছিল তার শরীরে। জাগাচ্ছিল উত্তেজনা। জিপ থেকে নামতে একটা লোক এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিল ওদের দিকে। ইংরেজিতে বলল, ‘আইসিস ফেজ টু-তে তোমাদের স্বাগত। আমিই আবু বকর। তোমাদের রিক্রুটার। এসো আমার সঙ্গে।’

    আবু বকরের মুখটা প্রথম বার দেখল তারিক। এর আগে যত বারই ভিডিয়ো কলে কথা হয়েছে আবু মুখ ঢেকে ছিল। আবু সুশ্রী। বয়স পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে। ওদেরকে নিয়ে আবু চলে এল একটা টানা ছাউনিতে। ছাউনির মধ্যে পার্টিশন দিয়ে পরপর ঘর বানানো হয়েছে। একটা ঘরে ওদের থাকার ব্যবস্থা হল। সামান্য জলযোগের পর আবু বলল, ‘এটা ট্রেনিং ক্যাম্প। আপাতত কিছু দিন তোমাদের এখানেই থাকতে হবে।’

    তারিক জানতে চাইল, ‘এটা কোন জায়গা?’

    ‘জাজিরা ক্যান্টন, সিরিয়া। যারা আইসিসে যোগ দিতে আসে তারা প্রথমে এখানেই আসে। এটা একটা ছোটো ক্যাম্প। প্রথমে এখানেই তোমাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাতে যদি পাশ করে যাও তা হলে তোমাদের নিয়ে যাওয়া হবে হুদুদ সেন্টারে। ওটাই আসল জায়গা। ওখানেই তোমাদের নাম রেজিস্ট্রেশন হবে, কে কোন কাজে ভালো যাচাই করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সেন্টার এখান থেকে মাইল খানেক উত্তরে। কাল থেকে শুরু তোমাদের একজামিনেশন। আজকের দিনটা আরাম করে নাও।’

    সইদুল বলল, ‘কী পরীক্ষা হবে?’

    ‘মনের জোরের পরীক্ষা। গায়ের জোরের পরীক্ষা। কতটা কষ্ট সহ্য করতে পারো তার পরীক্ষা। দুনিয়ার সবচেয়ে খতরনাক সেনাবাহিনীতে নাম লেখাতে এসেছ, পরীক্ষা হবে না,’ হাসল আবু।

    পরীক্ষা শব্দটাই ভয়ের। পরীক্ষার নাম শুনে ভয় পায় না এমন মানুষ নেই। সন্দিগ্ধ গলায় জুনেইদ বলল, ‘আচ্ছা, বাই চান্স যদি পরীক্ষায় পাশ না করতে পারি। তা হলে?’

    আবু আবারও হাসল। বলল, ‘পরীক্ষায় ফেল করলে আর সেনাবাহিনীতে নাম লেখানো হল না। তখন সেনার খিদমত খাটতে হবে। তবে ফিরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। এক বার এখানে চলে এলে আর ফিরে যাওয়া যায় না। কেন ভয় পাচ্ছ নাকি?

    চোয়াল শক্ত করে তারিক বলল, ‘কীসের ভয়? ভয় পেলে এত দূরে আসতাম না। আর এসেছি যখন পরীক্ষায় পাশ করবই। আমাদের কাছে আর কোনও অপশন নেই।’

    ‘এই তো, শের কা বাচ্চা,’ পিঠ চাপড়ে দিল আবু। বলল, ‘তবে তোমরা খুব ভালো দিনে এসেছ। কমান্ডার ওমর হাসান আজ এখানে আসছেন। মাঝে মাঝে উনি নতুন রিক্রুটদের সঙ্গে দেখা করেন। তোমাদের লাক ভালো থাকলে তোমাদের সঙ্গেও দেখা করবেন। দেখবে ওয়ারিয়র কাকে বলে।’

    চোখ চকচক করে উঠল তারিকের। বলল, ‘ওমর হাসান তো আগের বারের যুদ্ধেও ছিলেন তাই না? ইন্টারনেটে ওঁর সম্পর্কে একটু-আধটু পড়েছি কিন্তু ওঁকে কেমন দেখতে জানি না। ওঁর কোনও ছবি পাইনি। উনি তো এখনও ইন্টারন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড!’

    ‘ঠিক। কমান্ডার হাসানের মাথার দাম টেন মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ওঁকে কেউ ধরতে পারবে না। ওঁকে ধরা যায় না। যাক গে, তোমরা রেস্ট নাও। আমি আসি। আমাকে বাগদাদ ফিরতে হবে। ওই দু’জন ইন্ডিয়ান এজেন্ট একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে। ওদের জন্য নতুন ব্যবস্থা করতে হবে। এই ক্যাম্পের দায়িত্বে আছেন কমান্ডার আরিব মাজিদ। এর পর থেকে উনি তোমাদের গাইড করবেন।’

    আবু বেরিয়ে যাচ্ছিল ঘর থেকে। তারিক পিছু ডাকল, ‘আবু ভাই।’

    আবু ঘুরে তাকাতে তার কাছে উঠে এল তারিক। একটু ইতস্তত করে বলল, ‘তোমার কাছে চেরি ব্লসম মানে তানজিন নূরের কোনও খবর আছে? ও আমাকে বলেছিল ও-ও সিরিয়া আসছে।’

    তারিকের কাঁধে হাত রেখে আবু বলল, ‘চিন্তা কোরো না। ঠিক সময় মতো তানজিন তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবে।’

    মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল তারিকের। আল্লাই জানেন আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে তানজিনের জন্য। কবে আসবে সেই ‘ঠিক সময়’? জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে। এই জানলা দিয়ে দূরে ক্যাম্পের প্রবেশ পথটা দেখা যায়। তারিক দেখতে পেল, বিরাট দুটো কন্টেনার নিয়ে বিশাল দু’টো লরি ঢুকল ভেতরে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাস তবু তীব্র রোদ। গরম হাওয়া আসছে জানলা দিয়ে। প্লাস্টিকের পর্দা নামিয়ে জানলাটা বন্ধ করে দিল তারিক। সে দেখতে পেল না আরও একটা এসইউভি এসে ঢুকল ক্যাম্পের ভেতরে।

    এসইউভি-টা এসে দাঁড়াতেই ক্যাম্পের সবার মধ্যে একটা চাঞ্চল্য শুরু হল। সবার আগে ছুটে এসে অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়াল আরিব মাজিদ আর আবু বকর। তাদের পেছনে সার বেঁধে দাঁড়াল বাকি সদস্যরা। গাড়ি থেকে নেমে এল ওমর হাসান। আল্লা হু আকবর ধ্বনি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হল। আরিব মাজিদকে উদ্দেশ্য করে ওমর বলল, ‘দুটো কন্টেনার ভরতি চাল আর আটা আছে। জাওয়াসামিদের উপহার। এখান থেকে বাকি ক্যাম্পগুলোতে ডিস্ট্রিবিউট করো আর সেকেন্ড কন্টেনারটায় কয়েকটা ইন্ডিয়ান আছে। জাহাজে ধরা পড়েছিল। ওদের বার করো। বেঁচে আছে কি না দেখো।’

    দ্রুত হাতে কন্টেনারের পেছনের একটা দরজা খুলে ১২ জনকে বার করে এনে শুইয়ে দেওয়া হল বালির ওপরে। আরিব পরীক্ষা করে বলল, ‘সবাই বেঁচে আছে।’

    ওমর বলল, ‘জল।’

    হোসপাইপে করে জল ছেটানো শুরু হল। শরীরে জলের স্পর্শ পেতেই উত্তেজিত হয়ে উঠল স্নায়ুগুলো। মস্তিষ্ক সংকেত পাঠাল, শরীরের বাইরে যতটা না জল দরকার তার চেয়ে বেশি দরকার ভেতরে। প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় হাঁ করল প্রত্যেকে। মরুভূমির চেয়েও খাঁ-খাঁ করতে থাকা বুকের ভেতরে জীবনের সঞ্চার হতে থাকল নতুন করে। চোখ মেলে তাকাল পল্লব। মাথার ওপরে সুনীল আকাশ। সামান্য ডান দিকে ফিরতে দেখল, রোশনি তার দিকে তাকিয়ে আছে। রোশনির হাতের ওপর ক্লান্ত হাত রাখল সে।

    কন্টেনারের ভেতরে মাথার মধ্যে ভাদুড়িমশায়ের কণ্ঠস্বর পেয়ে চমকে উঠেছিল পল্লব। মনে মনে সেও উত্তর দিতে শুরু করেছিল। ভাদুড়িমশায় বলেছিলেন, ‘কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর আমার কথা চিন্তা করবে পল্লব। তুমি আমার কথা ভাবলে তবেই আমি তোমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছোতে পারব। তোমরা কোথায় আছ জানতে পারলে তবেই তোমাদের উদ্ধার করা সম্ভব। ঈশ্বর মঙ্গলময়। তিনি তোমাদের কোনও ক্ষতি হতে দেবেন না।’

    দূরে মিলিয়ে গেছিল মশায়ের গলা। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেই পল্লব বলেছিল, ‘আর ভয় নেই রোশনি। আর ভয় নেই অভয়। ভাদুড়ি স্যার আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের কিচ্ছু হবে না। বিপদে পড়লেই ভাদুড়ি স্যারের কথা চিন্তা করবে রোশনি। মনে থাকবে?’

    ঠিক তখনই কন্টেনার চালাচ্ছিল যারা তাদের দয়া হয়েছিল কি না কে জানে খুলে দিয়েছিল কন্টেনারের ওপরের ঢাকনার একটা অংশ। হু-হু করে ঢুকে এসেছিল টাটকা জীবনদায়ী বাতাস। আরও কিছুক্ষণ বেঁচে থাকার মতো রসদ।

    শুয়ে থাকা অবস্থাতেই আশপাশে তাকিয়ে পল্লব বুঝতে পারল তাদেরকে এনে ফেলা হয়েছে একটা সামরিক ক্যাম্পের ভেতরে। কয়েকজন লোক তাদের দেখছে। তাদের হাতে বন্দুক। সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা দোহারা চেহারার সুন্দর দেখতে ছেলে। এর হাত খালি। গালে অল্প অল্প দাড়ি। ভুরুতে কাটা দাগ। বয়স তার চেয়েও কম। কিন্তু অদ্ভুত ভাবলেশহীন মরা মাছের মতো চাহনি। আরবিতে কী একটা বলল ছেলেটা আর বলা মাত্রই চার জন এসে চোখের পলকে তুলে ফেলল রোশনিকে। বাধা দেওয়ার অবকাশটুকুও পেল না সে। ওরা এমন ভাবে রোশনিকে ধরেছে যে সে ছটফটও করতে পারছে না।

    দলের মধ্যে একমাত্র মেয়ে রোশনি। তার সঙ্গে যে এমন কিছু হতে পারে এ আশঙ্কা পল্লবের গোড়া থেকেই ছিল। চোখের সামনে যখন ঘটনাটা ঘটছে এক মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে গেছিল সে। কিন্তু অন্ধ একটা রাগ তার স্থবিরতা কাটিয়ে দিল নিমেষে। অশক্ত শরীরেই লাফিয়ে উঠে সে ধেয়ে যেতে চাইল ওই চারটে লোকের দিকে। পল্লব বুঝতে পারেনি সে এখন রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পেশাদার খুনিদের মাঝখানে। ফলে যা হওয়ার তাই হল। দু’পা যেতে না যেতেই একটা লোক নিপুণ হাতে বন্দুকের বাঁট বসিয়ে দিল তার মাথার পেছনে। কাটা কলাগাছের মতো মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে গেল পল্লব। তীব্র যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন হল চেতনা। অন্ধকার নেমে এল চোখের সামনে।

    আরিব মাজিদকে ডেকে ওমর বলল, ‘এদের কোনও কাজে লাগিয়ে দিও নয়তো মেরেও ফেলতে পারো। অ্যাজ ইউ উইশ।’

    ***

    কী ধরনের পরীক্ষা নিতে পারে এরা সেই নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল তারিকরা। এমন সময় এক জন এসে আরবিতে বলল, ‘কমান্ডার হাসান তোমাদের ডেকেছেন।’

    ভাগ্যিস ফারুক খুব ভালো আরবি জানে। নয়তো এদের ‘লোকাল ডায়লেক্ট’ বোঝা বাকিদের কম্ম ছিল না। কমান্ডার হাসান ডেকেছেন শুনেই লাফিয়ে উঠল তারিক। ইন্টারনেটে এই মানুষটার বীরত্বের কথা যত পড়েছে ততই চমকে উঠেছে। ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া মানুষটার নামে অনেক কুৎসা করেছে কিন্তু সে সব কথা তারিক বিশ্বাস করে না। সে জানে, জিহাদিদের চরিত্রহনন করে বাকি দুনিয়ার সামনে তাদের রাক্ষস বা অসুর প্রমাণ করতে চাওয়া আসলে পশ্চিমি মিডিয়ার একটা বড়ো চক্রান্ত।

    লোকটার পিছু পিছু ওরা ছাউনির অন্য প্রান্তে একটা বড়ো ঘরে এসে ঢুকল। তারিক দেখল, ঘরের দেওয়াল ঘেঁষে একটা মেয়ে বসে আছে মেঝেতে। তার মাথা নীচু। উলটো দিকে চেয়ারে বসে আছে ভুরুতে কাটা দাগওয়ালা একটা কমবয়সি ছেলে আর একটা মাঝবয়সি লোক। তারিকরা ঘরে ঢুকতেও মেয়েটা মাথা তুলল না। শিকার আর শিকারির শরীরী ভাষা এক হয় না। হওয়ার কথাও না। মেয়েটাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সে শিকার হতে এসেছে আর যে দু’জন বসে আছে তারা অবশ্যই শিকারি। তারা এতটাই আত্মপ্রত্যয়ী যে ঘরের দরজাটা হাট করে খোলা এবং সেখানেও কোনও পাহারা নেই। তারিক ভাবল, শিকার তো সব সময় শিকারির কবল থেকে মুক্তি চায়। মেয়েটা যদি পালানোর চেষ্টা করে! তার পরেই বুঝল, তার ভাবনাটা নেহাতই বালখিল্য। যে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে তার কাছে অস্ত্র আছে। যারা বসে আছে তাদের কাছেও নিশ্চয়ই অস্ত্র আছে। আর মেয়েটা পালিয়ে যাবেই বা কোথায়? চার দিকে ধু-ধু মরুভূমি! শিকারিরা সেটা জানে তাই এতটা আত্মপ্রত্যয়ী। মেয়েটাকে বেঁধে অবধি রাখেনি। কেন কে জানে হঠাৎ করে মেয়েটার জন্য মায়া হল তারিকের।

    যে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল সে আলাপ করিয়ে দিল। মাঝবয়সি লোকটাকে দেখিয়ে বলল, ‘কমান্ডার আরিব মাজিদ। এই ক্যাম্পের হেড,’ আর ভুরুতে কাটা দাগওয়ালাকে দেখিয়ে বলল, ‘কমান্ডার ওমর হাসান। কমান্ডার হাসান, এরা চার জনই ইন্ডিয়া থেকে এসেছে। এর নাম তারিক, এর নাম ফারুক, এ সইদুল আর এ জুনেইদ।’

    বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল তারিক। এই কমবয়সি ছেলেটা ওমর হাসান! বিশ্বত্রাস ওমর হাসান! ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ওমর হাসান! কত বয়স হবে! তার থেকে বড়ো জোর দুই-তিন বছরের বড়ো! ফারুকের থেকে নির্ঘাত ছোটো। শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এল তারিকের। বলল, ‘সালাম ওয়ালেকুম কমান্ডার।’

    তার দেখাদেখি বাকি তিন জনও বলে উঠল। ওমর আর আরিব প্রত্যুত্তর দিল, ‘ওয়ালেকুম আসসালাম’, তারপর স্পষ্ট ইংরেজিতে ওমর বলল, ‘ওয়েলকাম। ডিরেক্ট ইন্ডিয়া থেকে এই প্রথম কেউ আমাদের কাছে এল। কিছু ইন্ডিয়ান আমাদের সঙ্গে আছে কিন্তু তারা সবাই প্রবাসী। আমি এখন তোমাদের একটা পরীক্ষা নেব। মনের জোরের পরীক্ষা। আমি জানি, কাল থেকে তোমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ যখন একটা সুযোগ এসে গেছে আজই দেখা যাক। তোমরা রেডি তো?’

    ওমর হাসানের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে ভেবেই তারিকের রক্ত গরম হয়ে গেল। টগবগ করে সে ফুটতে লাগল ভেতরে ভেতরে। সবার আগে বলল, ‘ইয়েস কমান্ডার।’

    ভাবলেশহীন মুখে ওমর বলল, ‘গ্রেট। তোমাকে দেখে সবচেয়ে এনথুজিয়াস্ট মনে হচ্ছে। তোমাকে দিয়েই শুরু হবে। ওই মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছ? মেয়েটা ইন্ডিয়ান। তোমার দেশের মানুষ। কিন্তু ও আমাদের বিপক্ষে। ওকে অনেক বার লং লিভ আইসিস বলতে বলা হয়েছে। ও বলেনি। তাই ওকে শাস্তি দিতে হবে। তোমরা চার জন এখন এক-এক করে ওকে ধর্ষণ করবে। তার পরে লটারিতে তোমাদের মধ্যে যার নাম উঠবে সে ওর গলা কাটবে। কী নাম যেন তোমার? তারিক। গো রেপ হার।’

    স্তম্ভিত হয়ে গেল তারিক। একেবারে আগাপাশতলা ঘেঁটে গেল। যতই ধর্মের মিথ্যে আফিম খেয়ে মাথা মুড়িয়ে আইসিসে যোগ দিতে আসুক, যতই নিজেকে বিরাট এক জিহাদি ভাবুক, তারিক নিজেও জানে না এখনও তার মধ্যে মনুষ্যত্ব বেঁচে আছে। তার বুকের ভেতর এখনও সুজলা সুফলা একটুকরো বাংলা বেঁচে আছে। যেখানে তার শৈশব সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে পুষ্ট হয়েছে, সেখানে আর যাই থাক ভালোবাসার ঘাটতি হয়নি কখনো। চেনে না, জানে না, কোনও শত্রুতা নেই এমন একটা মেয়েকে ধর্ষণ করতে হবে! আর শত্রুতা থাকলেও বা… ধর্ষণ! তার তো একটা বোন আছে, মা আছে। তারিক ভেবেছিল, তাদের সঙ্গে তার ছাড়ানকাটান হয়ে গেছে কিন্তু এই মুহূর্তে সে বুঝতে পারল, মনে রাখা যত সোজা ভুলে যাওয়া তত সোজা নয়। তারিকের অন্তর থেকে যেন একটা প্রতিবাদ উঠে আসতে চাইল কিন্তু ওমর হাসানের ঠান্ডা গলা ভেসে এল তখনই, ‘এত কী ভাবছ? আরিব, যারা যারা হেজিটেট করবে শুট করে দাও। আইসিস দুর্বল মানুষদের জন্য না।’

    বন্দুকের সেফটি ক্যাচ খুলল কেউ একটা। গলা শুকিয়ে এল তারিকের। বেঁচে থাকতে চাইলে মেয়েটাকে ধর্ষণ করতে হবে! এত ভয়াবহ পরীক্ষা দিতে হবে সে ভাবেনি। কিন্তু এগিয়ে গেলেই-বা ধর্ষণ সে করবে কী করে? জাগছে না। তার পৌরুষ কিছুতেই জাগছে না যে। পারবে না সে। কিছুতেই পারবে না। চোখে জল এসে গেল তার। তার মনে হতে লাগল, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ওমর হাসান সম্পর্কে খুব ভুল কিছু বলেনি। আরিব মাজিদ এসে তার কপালে পিস্তল ঠেকাল, ‘তুই যাবি না আমি শুট করব?’

    ঠিক তখনই রোশনির মাথার ভেতর একটা মহিলা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল, ‘তৈরি হও। ওরা এই মুহূর্তে অসতর্ক।’

    রোশনি যখন কিছুতেই লং লিভ আইসিস বলল না তখন চড় মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল ভুরুতে কাটা দাগওয়ালা ছেলেটা। ততক্ষণে রোশনি জেনে গেছে ছেলেটার নাম ওমর হাসান, এদের নেতা। আরবিতে কিছু একটা নির্দেশ দিয়ে তার থেকে কিছুটা দূরে চেয়ার টেনে বসেছিল ওমর। তখনই রোশনি বুঝতে পেরেছিল তার সঙ্গে খারাপ কিছু হতে চলেছে। যে বার সরিৎ তাকে মারতে এসেছিল সে বারও এই এক অনুভূতি হয়েছিল। ওমর হাসানের চোখ দুটোও অনেকটা সরিতের মতো। ফর্মালিনে চোবানো লাশের মতো নিথর। খুনিদের চোখ বোধ হয় এমনই হয়। চোখ বুজে ভাদুড়িমশায়ের কথা চিন্তা করতে শুরু করেছিল সে। পল্লব বলে দিয়েছিল, বিপদ হলেই ভাদুড়িমশায়ের কথা ভাবতে। মানুষটাকে সে এক-আধবারই সামনে থেকে দেখেছে কিন্তু মানুষটার উপস্থিতি এতটাই উজ্জ্বল যে এক বার দেখলেও স্পষ্ট ভাবে মনে থাকে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সাড়া পেয়েছিল, ‘শুনতে পাচ্ছ রোশনি? আমি নীরেন্দ্রনাথ ভাদুড়ি। শুনতে পাচ্ছ?’

    মনে মনে রোশনি বলেছিল, ‘হ্যাঁ স্যার।’

    ‘মনটা একটা বিন্দুতে সংহত করার চেষ্টা করো। তোমার চোখ দিয়ে আমি দেখতে চাই কী হচ্ছে।’

    সবটা দেখতে পাচ্ছেন ভাদুড়িমশায় আর তাঁর সঙ্গে দেখতে পাচ্ছেন সমীরণ বসাক এবং ব্রিগেডিয়ার ভূমিকা সিং। ভারতীয় স্থলবাহিনীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য একজন সৈনিক।

    পল্লবের সঙ্গে প্রথম বার যোগাযোগ হওয়া মাত্রই সমীরণ জিজ্ঞেস করেছিলেন ভাদুড়িমশায়কে, ‘স্যার, পল্লবের সঙ্গে আপনার সংযোগস্থাপন হলে ও কোথায় আছে আপনি তো দেখতে পাবেন?

    ‘পাব,’ গম্ভীর গলায় উত্তর দিয়েছিলেন ভাদুড়িমশায়।

    ‘আমাকে দেখাতে পারবেন স্যার?’

    থমকে গেছিলেন ভাদুড়িমশায়। এত দূর থেকে পল্লবের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করাই অতি কঠিন কাজ। তার পরে সেটা অন্য কাউকে দেখানো আরও কঠিন। একসঙ্গে অনেকের মনের মধ্যে ঢুকতে হবে। তবে অসম্ভব বলে কিছু হয় না। গুরুকৃপায় এখন তাঁর মনোবল তুঙ্গে। কিন্তু এতটাও জীবনীশক্তি কি তাঁর আছে? অবশ্য এখন তো নিজের কথা ভাবার সময় নয়। তাঁর যা হয় হোক। পল্লবদের ফিরিয়ে আনতে হবে। বলেছিলেন, ‘পারব।’

    লাফিয়ে উঠেছিলেন সমীরণ। বলেছিলেন, ‘তা হলে আমি আরও এক জনকে ডেকে পাঠাচ্ছি। ভূমিকা সিং। ব্রিগেডিয়ার। ক্লোজড জোন কমব্যাট স্পেশালিস্ট। অদ্ভুত ক্ষমতা মেয়েটার। শুধু মুখে মুখে ইন্সট্রাকশন দিয়ে লেম্যানকে দিয়ে যুদ্ধ করিয়ে নিতে পারে। যদি প্রয়োজন পড়ে ভূমিকা ওদের গাইড করতে পারবে। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে ওদের ওখান থেকে বার করতে গেলে আমাদের ভূমিকার হেল্প লাগবে। ডাকব স্যার?’

    মৃদু হেসে ঘাড় নেড়েছিলেন ভাদুড়িমশায়, ‘ডাকো।’

    সমীরণের অগোচরে চেনা হাসপাতালে ফোন করে একটা অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড় করিয়ে রাখতে বলেছিলেন তাঁর বাড়ির বাইরে। তিনি জানেন, যদি ওদের দু’জনকে নিয়ে পল্লবের মাথার মধ্যে ঢুকতে হয় তা হলে নিশ্চিত ভাবে তিনি অসুস্থ হবেন। গুরুতর অসুস্থ।

    সমীরণের ডাকে ভূমিকা এসে উপস্থিত হয়েছিলেন কিন্তু কিছুতেই পল্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। অতঃপর রোশনির কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন ভাদুড়িমশায়। সংশয় ছিল, রোশনি কি তাঁর কথা ভাববে? রোশনি ভেবেছে এবং এই মুহূর্তে সে কতটা বিপদে আছে তার চোখ দিয়েই দেখতে পাচ্ছেন ভাদুড়িমশায়সহ বাকি দু’জন। রক্তাম্বর পরে আসনে বসে দু’পাশে দু’জনের হাত ধরে আছেন তিনি। ভূমিকার উপস্থিতি যে এতটা কাজে লেগে যাবে সমীরণ নিজেও ভাবতে পারেননি। হয়তো এই মুহূর্তে মারপিট করা রোশনির জন্য ঘাতক হতে পারে কিন্তু যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বাঁচতে গেলে রোশনিকে লড়তেই হবে।

    আরিব মাজিদ চিৎকার করছে, ‘গো রেপ হার বাস্টার্ড। নয়তো আমি তোকে সত্যি খুন করে ফেলব।’

    মাথার ভেতরে রোশনি আবার শুনতে পেল ভূমিকার কণ্ঠ, ‘দিস ইজ দ্য টাইম। তোমাকে এখান থেকে পালাতেই হবে রোশনি। তুমি পালালে তবেই পল্লবদের বাঁচাতে পারবে। জাস্ট ফলো মাই ইন্সট্রাকশনস। দ্রুত ওঠো। যে লোকটা বন্দুক ধরে আছে ওর হাতে লাথি মারো। কুইক।’

    এর পরে যেটা হল সেটার জন্য ঘরের কেউ প্রস্তুত ছিল না। রোশনি আচমকা লাফিয়ে উঠে একটা লাথি মারল আরিব মাজিদের হাতে। বন্দুকটা তার হাত থেকে ছিটকে যেতেই রোশনি নিজের কনুইটা বসিয়ে দিল তার পাঁজরে। ‘উফ’, শব্দ করে উবু হয়ে বসে পড়ল আরিব। বাকিদের বিস্ময় ভাবটা কাটার আগেই ভূমিকার নির্দেশমতো রোশনি একটা ঘুসি বসিয়ে দিল তারিকদের ডেকে নিয়ে আসা লোকটার গলায়। ঘুরে পড়ে গেল লোকটা। মাটিতে এক পাক গড়িয়ে রোশনি পৌঁছে গেল আরিব মাজিদের হাত থেকে ছিটকে যাওয়া বন্দুকটার কাছে আর সেটা তুলেই গুলি চালিয়ে দিল ওমর হাসানের বুক লক্ষ্য করে। পুরো ঘটনাটা ঘটল দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে। মেয়েটা বন্দুক তুলেছে দেখেই বসে পড়ার চেষ্টা করল ওমর হাসান কিন্তু ততক্ষণে গুলি চালিয়ে দিয়েছে রোশনি। বসে পড়তে যাচ্ছিল বলেই গুলিটা বুকে না লেগে লাগল সোজা ওমরের ডান দিকের ভুরুর ওপরে।

    খোলা দরজা দিয়ে ছুটতে শুরু করল রোশনি। নিথর হয়ে পড়ে রইল কমান্ডার ওমর হাসান। একটা মেয়ে তার বাঁ-দিকের ভুরুটা খারাপ করে দিয়েছিল। আজ অন্য একটা মেয়ে তার ডান দিকের ভুরুটাও খারাপ করে দিল। সে কিচ্ছু করতে পারল না! মৃত্যুর আগের মুহূর্তে তার ভাবলেশহীন চোখের মণিতে ভিড় করে এল অসহায়তা। আফশোস।

    সিরিয়ান ডেজার্টের বুক চিরে হু-হু করে ছুটে চলেছে একটা ডার্ট বাইক। সোজা চলছে না বাইকটা। এঁকেবেঁকে চলছে। বাইকের পেছনে বেশ খানিকটা দূরে ধাওয়া করে আসছে আরও ছ’-সাতটা ডার্ট বাইক আর তিনটে এসইউভি। এসইউভিগুলোর জানলা থেকে অর্ধেকটা করে শরীর বার করে রয়েছে বন্দুকধারীরা। তারা নিশানা করার চেষ্টা করছে ছুটে চলা একলা বাইকটাকে। এমনিতেই রেঞ্জ থেকে খানিকটা দূরে আছে বাইকটা তার ওপরে এমন এঁকেবেঁকে চলছে যে কিছুতেই নিশানা করা যাচ্ছে না। তাও গুলি চালাল দু’জন। দুম দুম করে শব্দ হল। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার দেখল রোশনি তার পরে সর্বশক্তি দিয়ে বাইকের অ্যাকসিলারেটরের কান মুচড়ে ধরল।

    ঘরটা থেকে ছুটে বাইরে আসতেই রোশনি বুঝতে পেরেছিল, ভাদুড়িমশাইয়ের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কী ভাবে অত দূর থেকে ভাদুড়িমশায় এবং ভূমিকা সিং তার মনের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন এ তার বোধবুদ্ধির বাইরে। কিন্তু সে এটা বুঝতে পারছিল সংযোগস্থাপনের জন্য তার দিক থেকেও মনকে সংহত করা দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে সেটা সম্ভব নয়। ফলে যা করার তাকেই করতে হবে। তার একার পক্ষে এখান থেকে পল্লব এবং বাকিদের উদ্ধার করা অসম্ভব। বরং সে যদি কোনও জনপদে গিয়ে পৌঁছোতে পারে তা হলে সাহায্য পাওয়া যাবে। ততক্ষণ অবধি এরা পল্লবদের বাঁচিয়ে রাখবে কি না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই কিন্তু সে যদি এখন বলিউডি সুপারস্টারের কায়দায় পল্লবদের উদ্ধার করতে যায় তা হলে সে সহ পল্লবরা সবাই যে এক্ষুনি মরবে এটা নিশ্চিত। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রোশনি, এখান থেকে বেরোতে হবে। সৌভাগ্যের বিষয় তার হাতে একটা পিস্তল আছে। যদিও এদের অত্যাধুনিক বন্দুকগুলোর সামনে এটা খেলনারই সামিল তবু আগ্নেয়াস্ত্র তো। স্কুলে বহু দিন সে স্কাউটের ক্যাপ্টেন ছিল। টার্গেট কাছাকাছি থাকলে জায়গা মতো নিশানা করে গুলি চালিয়ে দিতে পারবে। মনে মনে সে বলেছিল, ‘আমাকে ক্ষমা করবেন পল্লবদা। আপনাকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু আমার ঈশ্বর জানেন, নিজের প্রাণের জন্য না, আপনার প্রাণ বাঁচাতেই আমি যা করার করছি।’

    রোশনি ছুটে এসেছিল ছাউনির বাইরে। একটা আড়ালে এসে দাঁড়িয়েছিল। সামনেই বাইরে বেরোনোর রাস্তা। তখনও কেউ দেখেনি তাকে। আড়াল থেকেই দেখতে পেয়েছিল একটা ছেলে একটা ডার্ট বাইক নিয়ে ঢুকল। বাইক স্ট্যান্ড করে ইগনিশন পয়েন্ট থেকে চাবি খুলে নেওয়ার আগেই সে গুলি চালিয়েছিল ছেলেটার কাঁধ লক্ষ্য করে। আর্তনাদ করে পড়ে গেছিল ছেলেটা। সচকিত হয়েছিল ক্যাম্পের লোকজন। ততক্ষণে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে আরিব মাজিদ আর তার সঙ্গী। দু’জনেই দুর্বোধ্য আরবিতে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসছে। আরবি না বুঝলেও রোশনি এটুকু বুঝেছিল, তাকে ধরার কথাই বলছে ওরা। রোশনি দেখেছিল, সামনেই তার দিকে বন্দুক তুলছে দু’জন।

    খুব বিপদের সময় কিছু মানুষের মাথা আশ্চর্য রকম ঠান্ডা হয়ে যায়। রোশনি তাদের একজন। নয়তো সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরিৎকে সে ইলেকট্রিক শক দিতে পারত না। সামনের দু’জনকে বন্দুক তুলতে দেখেও রোশনি ঘাবড়াল না বা কোনও তাড়াহুড়ো করল না। বাইকটার আড়ালেই নীচু হয়ে বসে পড়ে গুলি চালাল কাছের টাওয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে লক্ষ্য করে। লোকটা পড়ে গেল। সামনের দু’জন রোশনির এই মাস্টার মুভটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তারা চমকে গেল আর এই সুযোগে রোশনি এবার তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাল।

    লোক দুটো পড়ে যেতেই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বাইকে চেপে বসেছিল রোশনি আর হু-হু করে বাইক ছুটিয়েছিল। বেরিয়ে এসেছিল ক্যাম্পের বাইরে। ততক্ষণে পেছন থেকে গুলিবৃষ্টি শুরু হয়েছে। বোধ হয় ঈশ্বরও রোশনির এই আশ্চর্য সাহসিকতাকে কুর্নিশ করেছিলেন তাই এখনও অবধি একটাও গুলি তাকে স্পর্শ করেনি।

    কত দূরে জনপদ, বাইকে কতটা তেল আছে এ সব না ভেবে রোশনি প্রাণপণে নাক বরাবর এগিয়ে চলছিল। তার মন বলছিল, উপায় হবে। সে বাঁচবে। পল্লবকেও বাঁচাতে পারবে। সে টের পেয়েছিল তার পেছনে ফেউ লেগে গেছে। যে করে হোক ওদের বন্দুকের রেঞ্জের বাইরে থাকতে হবে। তীব্র রোদ চামড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে, চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে বালিতে প্রতিফলিত আলো, গরম হাওয়ায় উড়ে আসা গুঁড়ো গুঁড়ো বালি কেটে বসে যাচ্ছে গায়ে, মুখে। ভালো করে চোখ খুলে রাখতে পারছে না রোশনি। পেছনে ধেয়ে আসছে কালান্তক যমেরা। কানফাটানো শব্দে ওরা গুলি চালাচ্ছে ক্রমাগত। রোশনির মাথায় ঘুরছে একটাই কথা, ‘বাঁচতে হবে। যে করে হোক বাঁচতেই হবে।’

    ***

    উট চরাতে বেরিয়েছিল সাতবুড়োর এক বুড়ো কাবিল। সঙ্গে তার নাতি মাহরুফ। কাবিল বুড়ো আজ সত্তর বছর ধরে এই সিরিয়া মরুভূমির র্যাঞ্চে ভেড়া আর উট চরাচ্ছে। দশ বছর বয়সে বিক্রি হয়ে এই র‍্যাঞ্চে এসেছিল, তখন থেকে এখানেই আছে। তার ছেলে, নাতি সবাই বংশানুক্রমে মালিকের সম্পত্তি। তারাও উট আর ভেড়া চরায়। প্রথম প্রথম পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করত কাবিলের কিন্তু কখন যে সে নিজেই এই মরুভূমির একটা অংশ হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি। এই মরুভূমির প্রত্যেকটা বালির দানা তার চেনা। বাতাস শুঁকে সে বলে দিতে পারে আর কতক্ষণ পরে ঝড় উঠবে। মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া অশরীরীদের ফিসফিসানি শুনতে পায় সে। একমাত্র সেই জানে কত রহস্য লুকিয়ে আছে এই মরুভূমির পেটের ভেতরে। বালি পাহাড়ের ছায়ায় ঝিম ধরে বসে এই সবই ভাবছিল কাবিল বুড়ো। মাহরুফ ডাকল, ‘বাপিরা, ওই দেখো।’

    চোখের ওপর হাতের আড়াল করে কাবিল বুড়ো দেখল, অনেক দূরে একটা বাইক ছুটে চলেছে পশ্চিমের বালি পাহাড়টার দিকে আর তাকে ধাওয়া করে আসছে আরও কয়েকটা বাইক আর গাড়ি। চমকে উঠে দাঁড়াল সে। জীবন-মৃত্যুর এই খেলায় বাঁচতে গিয়ে সামনের বাইক আরোহী যে মৃত্যুপুরীর দিকেই এগিয়ে চলেছে। কাবিল বুড়ো জানে, এই মরুভূমিতে মিথ বলে কিছু নেই, সব সত্যি। মরুভূমির প্রাচীন প্রবাদ আছে, ‘মাথার ওপরে সূর্য নিয়ে আর ঘাড়ের ওপরে মৃত্যু নিয়ে কেউ যদি প্রাণে বেঁচে ওই বালি পাহাড় টপকাতে পারে তা হলে সে জোড়া পাহাড় দেখতে পাবে। একমাত্র সেই দেখতে পাবে। আর কেউ পাবে না।’

    জোড়া পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে এক সুন্দর পথ চলে গেছে সত্যিকারের মৃত্যুপুরীর দিকে। যেখানে একবার গেলে কেউ ফেরে না। কেউ ফেরেনি। তবে এটাও প্রবাদ আছে, ‘যদি কেউ ফিরে আসে সে মৃত্যুঞ্জয়ী হয়।’

    ওই মৃত্যুপুরীর শেষে নদীর ধারে কুটির বেঁধে থাকেন মজবুড়ো ‘উত নাপিশতিম’। তিনি গল্প বলেন। লয়ের গল্প। সৃষ্টির গল্প।

    সামনেই একটা ছোটো বালির পাহাড় দেখতে পাচ্ছে রোশনি। পাশ কাটিয়ে যেতে সময় লাগবে। রোশনি সোজা বাইক তুলে দিল পাহাড়ের মাথায়। ডার্ট বাইকগুলোর এই সুবিধে। অসম্ভব শক্তিশালী ইঞ্জিন। পাহাড়ের মাথায় উঠতেই অদ্ভুত একটা দৃশ্য দেখতে পেল সে। মরুভূমির মধ্যে হঠাৎ করে যেন দু’টো পাহাড় গজিয়ে উঠেছে। বালির পাহাড় নয়। রীতিমতো সবুজ পাহাড়। পাহাড় দু’টোর মাঝখান দিয়ে একটা সুন্দর রাস্তা চলে গেছে ভেতরের দিকে। ভারি আশ্চর্য হল রোশনি। মরুভূমির মাঝখানে এমন সবুজ পাহাড় এল কোথা থেকে? যেখান থেকেই আসুক ভাবার সময় নেই। কেন বলতে পারবে না রোশনির মনে হল ওই জোড়া পাহাড়ের মাঝের রাস্তাটাই তাকে বাঁচাতে পারে। ঢাল বেয়ে নেমে সে বাইক ছুটিয়ে দিল সুন্দর রাস্তাটার দিকে।

    কিছুক্ষণ পরে আইসিস জঙ্গিদের বাইক আর এসইউভিগুলো বালির পাহাড় টপকে এসে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। সামনে যত দূর চোখ যায় নিঃসীম অনন্ত মরুভূমি আর তার মাঝখানে মেয়েটার কোনও চিহ্ন নেই। সে যেন স্রেফ উবে গিয়েছে কর্পূরের মতো। মন্ত্রবলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }