Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কে প্রথম কাছে এসেছি – ৩

    ॥ তিন॥

    মনটাকে কিছুতেই শান্ত করতে পারছিল না নীরেন। ঠাকুরের দুই শিষ্য কিন্তু বেশ খোশমেজাজেই ছিলেন। তাঁরা প্রবেশের বাবা এবং বাড়ির অন্যান্যদের বলছিলেন, ‘ঠাকুর যখন গেছেন আর চিন্তা নেই। সব সমস্যার সমাধান হবে।’

    কিন্তু যত সময় যাচ্ছিল নীরেনের চিন্তা বাড়ছিল, তার সঙ্গে মাথার ভেতরে পোকার কামড়ের মতো কুটকুট করছিল ফাদারের ঘরের মেঝেতে দেখা মুছে দেওয়া দাগটা আর ওই আয়নার ভাঙা টুকরোটা। কী যেন একটা মনে পড়ি- পড়ি করেও পড়ছিল না আর তাতেই আরও বেড়ে যাচ্ছিল অস্বস্তিটা। শেষমেশ প্রবেশের ঘরে ঢুকে এল। বলল, ‘ফাদারের ঘরে আয়রন চেস্টের মধ্যে যে দলিলপত্রগুলো ছিল আমাকে দেখাবে?’

    প্রবেশ বিছানায় বসেছিল। উঠে আলমারির মধ্যে থেকে একটা বক্স ফাইল বার করে দিল, ‘সব এর মধ্যেই আছে।’

    নীরেন ফাইল থেকে কাগজগুলো বার করে বিছানার ওপরে ছড়িয়ে বসল। উলটেপালটে দেখতে লাগল। প্রবেশ ঠিকই বলেছিল, বেশির ভাগই অকাজের কাগজ। সেই ১৮৬১ সালে গির্জা যখন তৈরি হয়েছিল সেই সময় থেকে এই অবধি নানা অফিসিয়াল চিঠি, দলিল, আয়-ব্যয়ের হিসেব, রেজিস্টার খাতা, কত জনের ধর্মান্তরণ হল, ক’ জন জন্মাল, কে কে মারা গেল তার বিশদ নথি এই সবই। নীরেন তাও সবই মন দিয়ে দেখছিল। প্রবেশ একটা চেয়ার টেনে বসেছিল তারই কাছে। সে হঠাৎ বলল, ‘এগুলো দেখতে চাইলে কেন বলো তো? কী সন্দেহ করছ তুমি?’

    নীরেন বলল, ‘জানো তো প্রবেশ, আমার মন বলছে এই অপদেবতাকে আহ্বান করার জন্য কোনও বিশেষ তন্ত্রাচার করা হয়েছে। মারা যাওয়ার আগে ফাদারই সেটা করে গেছেন বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু সেটা কী কিছুতেই ধরতে পারছি না। কী যেন একটা আমার পেটে আসছে মুখে আসছে না। তাই এই পুরোনো কাগজপত্রগুলো দেখতে চাইছিলাম। যদি এর মধ্যে কোনও সূত্র পাই। বইপত্র তো তুমি আর ভূপেনই দেখেছ। সন্দেহজনক কিছু থাকলে তো তোমরাই বলতে তাই না?’

    প্রবেশ বলল, ‘নাহ, বইপত্রের মধ্যে সন্দেহজনক আমি কিছু খুঁজে পাইনি। কিছু বুকমার্ক ছিল বিভিন্ন বইয়ের বিভিন্ন পাতায় গোঁজা। সেগুলোও আমার কাছে আছে। দেখতে চাইলে দেখাতে পারি। আর ওই আলমারি দুটোয় ফাদারের সব বই আছে, সেগুলোও দেখতে পারো।’

    ‘না, লাভ নেই,’ নীরেন হতাশ হয়ে মাথা নেড়ে ফের ওই কাগজগুলোই দেখতে শুরু করল। দেখতে-দেখতে একটা মোটা দলিলের মধ্যে থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ পেল নীরেন। ডায়েরির ছেঁড়া পাতা। ডায়েরির সাল ১৯২৬। ডিসেম্বর মাসের শেষ তিন দিনের পাতা ছিঁড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে একটা বইয়ের ক্যাটালগ বানানো হয়েছে। নীচে ফাদারের সই। নীরেন অবাক হল, ডায়েরি থাকতে তার পাতা ছিঁড়ে ক্যাটালগ বানিয়েছিলেন কেন ফাদার?

    যাঁরা বই পড়েন তাঁরা নিয়মিত ক্যাটালগ নবীকরণ করতে থাকেন। ফাদারও করেছেন। নতুন বই কবে এসেছে তার তারিখ দেওয়া আছে। সেখানে ৫১ সালের উল্লেখও যেমন আছে, ৬২ সালেরও উল্লেখ আছে। তারিখ দেখে বোঝা যায় খুব ঘন ঘন, মাসে অন্তত এক বার নতুন বই আনাতেন ফাদার কিন্তু ডায়েরির পাতা কেন ছিঁড়তে গেলেন? তবে কি ওই ডায়েরিটা ঘন ঘন বার করতে চাননি ফাদার? ডায়েরিটায় কি খুব ব্যক্তিগত কিছু লেখা ছিল? না কি এমন কিছু ছিল যার জন্য ফাদার নিজেই ওটা বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাইতেন না? হঠাৎ করেই নীরেনের মনে হল, ফাদার কি ডায়েরিটাকে ভয় পেতেন? সে প্রবেশকে বলল, ‘ফাদারের ডায়েরিটা আছে তোমার কাছে?’

    প্রবেশ যেন এক মুহূর্তের জন্য থতোমতো খেয়ে গেল। তার পরেই বলল, ‘ডায়েরি? কই কোনও ডায়েরি তো আমি পাইনি।’

    নীরেন অবাক হল, ‘ডায়েরি পাওনি? কিন্তু ছেঁড়া পাতা আছে যখন ডায়েরিটাও তো থাকার কথা।’

    প্রবেশ যেন একটু কাঠ হয়েই বলল, ‘না গো। কাগজপত্র যা আছে এখানে আর বই ওই আলমারি দুটোতে। দেখেই নাও তুমি। আমি একটু ঘুরে আসছি।’

    প্রবেশ বেরিয়ে গেল ঘর থেকে আর প্রবেশের আচরণের এই আচমকা পরিবর্তনে একটা সন্দেহ মাথাচাড়া দিল নীরেনের মনে। সে উঠে বই রাখার প্রথম আলমারিটা খুলে ফেলল। তখনই দুটো ঘটনা একসঙ্গে ঘটল। নীরেন আলমারির ওপরের তাকে একটা মোটা বই দেখতে পেল যেটার নাম ‘আলপাইন ফোকলোর বাই ভিনসেন্ট ক্যারল’ আর প্রবেশের মা ঘরে ঢুকে বললেন, ‘বেটা, একটু চা খাবে?’

    নীরেন তাঁর দিকে ঘুরল আর বজ্রাহতের মতো চমকে উঠল। প্রবেশের মায়ের গায়ে একটা লাল রঙের পশমের চাদর। চাদরটার দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইল নীরেন আর একটু-একটু করে তার কাছে সবটা পরিষ্কার হয়ে যেতে লাগল। নীরেনের অবস্থা দেখে প্রবেশের মা বললেন, ‘কী হয়েছে বেটা? শরীর খারাপ করছে?’

    কোনও মতে মাথা নেড়ে নীরেন বলল, ‘প্রবেশ মাঝে মাঝে আপনার এই চাদরটা গায়ে দেয় তাই না?’

    প্রবেশের মা হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ দেয় তো। এটা ওর খুব পছন্দের। কলকাতা থেকে বাড়ি এলেই এটা গায়ে দিয়ে বসে থাকে। এ অনেক পুরোনো র‍্যাপার বেটা। আমার মায়ের। কিন্তু এখনও নষ্ট হয়নি দেখো। খুব ভালো কোয়ালিটি। দার্জিলিং-এর ম্যাল থেকে কেনা।’

    প্রবেশের মা চাদরের গুণাগুণ বর্ণনা করে যাচ্ছিলেন আর নীরেন বুঝতে পারছিল, ভয়ানক বিপদে পড়তে চলেছেন রামদাস ঠাকুর। ঠাকুর নিজের চারপাশে অবশ্যই স্থানবন্ধন করবেন এবং সেই বন্ধন ভেদ করে অশুভ কিছু তাঁর কাছে আসতে পারবে না, কিন্তু অপদেবতার আঘাত তো জঙ্গলের দিক থেকে আসবে না! আসবে অন্য দিক থেকে। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে। খুব বড়ো বিপদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুর। না জানি এতক্ষণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেছে কি না! প্রবেশের মাকে স্তম্ভিত করে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে নীরেন দৌড়োতে শুরু করল জঙ্গলের দিকে।

    ঠাকুর যে দিকে গেছিলেন জঙ্গল ভেদ করে সে দিকেই দৌড়োতে থাকল নীরেন। তাড়াহুড়োয় একটা টর্চও সে সঙ্গে নিয়ে আসেনি। জঙ্গলের মধ্যে নিঃসীম, নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। দু’ পা এগোতে-না-এগোতেই বারে বারে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল সে। ডালপালার খোঁচায় ছিঁড়ে যাচ্ছিল হাত-পায়ের চামড়া। কিন্তু সে থামছিল না। আসলে ঠাকুরের বিপদ আশঙ্কা করে তার স্বাভাবিক চিত্তবৃত্তি কাজ করছিল না। নয়তো এইভাবে অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে আসা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে সে বোধ তার থাকত। অপদেবতা যে তাকেও আঘাত করতে পারে এ ভয় তার থাকত। কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার পরে যে স্নেহচ্ছায়া তার তীব্র বেদনার উপশম ঘটিয়েছিল সেই ছায়াটা কোনও ভাবে হারাতে চাইছিল না সে। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন। কিছুটা যেতেই দূরে মশালের আলো দেখতে পেল নীরেন। উঠতে উঠতে, পড়তে পড়তে ওই আলো লক্ষ্য করে ছুটে গেল সে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা একটা জায়গায় এসে পৌঁছোল। দেখতে পেল, মশাল দুটো মাটিতে পোঁতা। কাঠকুটো দিয়ে আরও খানিকটা আগুন করেছেন ঠাকুর। সেই আগুনের সামনে উবু হয়ে বসে মাটিতে কী যেন করছেন তিনি। ঠাকুর ঠিক আছেন দেখে নীরেন কিছুটা আশ্বস্ত হল। ঠাকুরও নীরেনের উপস্থিতি টের পেয়েছেন। চমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন, ‘নীরেন তুই? তোকে তো আমি আসতে মানা করেচিলাম। তাও তুই কেন এলি?’

    হাঁপাতে হাঁপাতে নীরেন বলল, ‘ঠাকুর, আমি এই অপদেবতাকে চিনে ফেলেছি।’

    ‘বাঁধনের বাইরে থাকিস না। শিগগির ভেতরে আয়। আলোর কাচে আয় তুই। আমার কাচে আয়।’

    ঠাকুরের দিকে এগোতে এগোতেই নীরেন বলল, ‘আপনাকে সাবধান করতেই আমি ছুটে এলাম। বিপদ জঙ্গলের দিক থেকে আসবে না। আসবে মাটির নীচ থেকে। এই অপদেবতার বাস মাটির নীচে। আচমকা গর্ত থেকে উঠে কামড়ে দিয়েই আবার ঢুকে গেছে গর্তের মধ্যে। তাই সবার মনে হয়েছে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আপনি ভালো করে দেখেছেন তো? যতটা জায়গা বাঁধন দিয়েছেন তার মধ্যে গর্ত নেই…’

    কথাটা শেষ করতে পারল না নীরেন। তার আগেই ঠাকুরের ঠিক দু’হাত পেছনে মাটি থেকে সড়াৎ করে ঠেলে উঠল অপদেবতাটি। আগুনের লালচে আলোয় নীরেন দেখল, তার সন্দেহ একদম মিলে গেছে। এটা একটা ‘টাটজেলোয়াম’! বেড়াল আর সাপের এক আশ্চর্য বকচ্ছপ মূর্তি! বিশাল এক সাপের ফণার জায়গায় কেউ যেন নিপুণ হাতে একটা বেড়ালের সামনের দুই পা সমেত আধখানা দেহ বসিয়ে দিয়েছে! অদ্ভুত এই অপদেবতাকে দেখে ঠাকুরও এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। সেই সুযোগেই ফ্যাঁস করে বিশ্রী একটা আওয়াজ করে টাটজেলোয়ামটা কামড় বসাতে গেল ঠাকুরের গায়ে। ততক্ষণে বিরাট এক লাফ মেরে নীরেন পৌঁছে গেছে ঠাকুরের সামনে। হ্যাঁচকা এক টানে ঠাকুরকে কামড়ের আওতা থেকে সরিয়ে দিল সে কিন্তু টাল সামলাতে না পেরে নিজে একেবারে উলটে পড়ে গেল। তার অরক্ষিত পায়ের ওপরে প্রচণ্ড এক কামড় বসিয়ে দিয়ে ঝুপ করে গর্তের মধ্যে লুকিয়ে পড়ল ইউরোপ মহাদেশের আল্পস পর্বতের উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা উপকথার সেই ঘাতক অপদেবতা।

    ঠাকুর হাহাকার করে উঠলেন, ‘এ তুই কী করলি নীরেন?’

    ***

    বোড়া জাতীয় সাপের বিষের ভেষজ এক প্রতিষেধক ঠাকুর সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছিলেন। দ্রুত সেই বস্তুটা নীরেনকে খাইয়ে দিলেন তিনি। ক্ষতস্থানে চেপে চেপে লাগিয়ে দিলেন অন্য কী একটা সবুজ রঙের অর্ধতরল। ঝোলা থেকে কাপড় বার করে শক্ত করে বেঁধে দিলেন জায়গাটা। বললেন, ‘ভয় নেই তোর। কিচ্ছু হবে না। তুই হাঁটতে পারবি তো?’

    খুব কষ্ট হচ্ছিল নীরেনের। তবু দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল, ‘পারব।’ ঠাকুর বললেন, ‘চল তবে। তোরে শুইয়ে দিতে হবে। আর এক বার ওষুধ দিতে হবে। নয়তো তুই বিষের সঙ্গে যুঝতে পারবি না। ভয় নেই। কোনও ভয় নেই। চল আমার সঙ্গে।’

    এক হাতে মশাল আর অন্য হাতে নীরেনের হাত ধরে ঠাকুর এগোতে লাগলেন গ্রামের দিকে। মৃদু বকাবকি করতে লাগলেন নীরেনকে, ‘ও আমারে কামড়াত, কামড়াত। আমি তো ওষুধ খেয়ে বসেচিলাম। ও আমার কোনও ক্ষতি করতে পারত না। কিন্তু কেন এলি বল দিকি! না না, ভয় নেই তোর। আমি ওষুধ দিয়েছি না, কিচ্ছু হবে না।’

    ওই ব্যথার মধ্যেও নীরেনের মনে হল, ঠাকুর তাকে ভয় পেতে বারণ করলেও নিজেই ভয় পাচ্ছেন। তাই বারংবার ভয় নেই, কিচ্ছু হবে না বলে সম্ভবত নিজেকেই সাহস দিচ্ছেন।

    নীরেন ঠিকই বুঝেছিল। সত্যিই ভয় পাচ্ছিলেন রামদাস ঠাকুর। তিনি ভাবছিলেন, বিষের এই প্রতিষেধক বানানো হয়েছে মরমানুষ পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন নানা রকমের উপাদান দিয়ে। এই পৃথিবীর কোনও বিষের সাধ্য নেই একে অগ্রাহ্য করে। কিন্তু অন্য পৃথিবীর বাসিন্দা এক অপদেবতার বিষের সঙ্গে এই প্রতিষেধক কি লড়াই করতে পারবে? বিশেষ করে নীরেনের মতো সাধারণ এক যুবকের দেহে অলৌকিক বিষের বিরুদ্ধে আদৌ কাজ করবে তো তাঁর লৌকিক প্রতিষেধক? এ তো তিনি নিজের জন্য বানিয়েছিলেন। তিনি কামড় খেলে ভয় ছিল না। তিনি যোগীপুরুষ। তীব্র হলাহলের বিরুদ্ধে তাঁর শরীর এবং মন যে ভাবে লড়াই করবে নীরেনের শরীর বা মন কোনওটাই তা পারবে না। তা হলে?

    ঠাকুরের আশঙ্কাই সত্যি হল। একটু-একটু করে জীবনীশক্তি ক্ষয় হতে লাগল নীরেনের এবং জঙ্গলের একেবারে শেষপ্রান্তে এসে অচেতন হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

    ঠাকুরের চিৎকারে লোকজন ছুটে এল। নীরেনকে ধরাধরি করে তুলে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেওয়া হল বিছানায়। প্রবেশের বাবা উৎকণ্ঠিত হয়ে বললেন, ‘ওকে কি হাসপাতালে নিয়ে যাব? কিন্তু এই রাতে…’

    ঠাকুর বললেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে লাভ হবে না। আমি ওষুধ দিয়েচি। কাজ করার হলে ওতেই করবে। একটু উষ্ণ গরম জল দেবে গো? ওরে আর একবার ওষুধ দিতি হবে।

    নীরেন তখন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তার মাথাটা কোলে নিয়ে বসলেন ঠাকুর। ঠোঁট ফাঁক করে একটু-একটু করে ওষুধ মেশানো গরম জল খাওয়ানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু লাভ হল না। কষ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। এমন সময় খিঁচুনি শুরু হল। হাত, পা, মুখ বেঁকে যেতে লাগল। ঠাকুর বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলেন নীরেনের দিকে। তিনি বুঝতে পারছিলেন, নীরেন চলে যাচ্ছে। তাঁর সামনে দিয়ে নীরেনকে নিয়ে চলে যাচ্ছে যমদূত!

    নীরেনের কিন্তু আর কোনও কষ্ট হচ্ছিল না। সমস্ত ব্যথা, বেদনার বোধ হারিয়ে অদ্ভুত একটা ফুরফুরে আনন্দ হচ্ছিল। সে যেন ভেসে ভেসে যাচ্ছিল। মাথার ভেতরে এক একটা দৃশ্যের জন্ম হচ্ছিল আর একটু পরেই সেটা মুছে গিয়ে জন্ম নিচ্ছিল নতুন দৃশ্য। নীরেন মাকে দেখতে পাচ্ছিল। ভাইকে দেখতে পাচ্ছিল। দেখতে পাচ্ছিল তাদের ময়মনসিংহের বাড়ি, দিগন্তলীন ধানখেত, আকাশে টিয়া পাখির ঝাঁক। দেখতে পাচ্ছিল সংস্কৃত কলেজের ক্লাসরুম, কলেজ স্ট্রিট, জলসায় গান গাইছেন হেমন্তবাবু। দেখতে পাচ্ছিল তার মাথায় হাত রেখেছেন রামদাস ঠাকুর। আচমকাই এই সমস্ত দৃশ্যপট একেবারে মুছে গেল তার সামনে থেকে। চার দিকে তখন শুধুই ঘোর অন্ধকার। নীরেন ভয় পেল। কয়েক মুহূর্ত। তার পরেই আবার আলো দেখা গেল। নীরেন দেখল, সে তাদের ময়মনসিংহের বাড়ির মন্দিরের সামনেটায় দাঁড়িয়ে আছে। মন্দিরে আরতি হচ্ছে। আরতি করছেন বাবা। নীরেনের চোখে জল এল। কত দিন পরে বাবাকে দেখল সে। সে অস্ফুটে ডাকল, ‘বাবা!’

    আরতির পঞ্চপ্রদীপ হাতে নিয়েই ঘুরে তাকালেন তিনি আর নীরেনকে দেখেই চমকে উঠলেন, ‘কী সব্বোনাশ! এখানে কেন এসেছিস তুই?’

    নীরেন তখন দরদর করে কাঁদছে। বলল, ‘তোমাকে ছাড়া যে কিছু ভালো লাগে না বাবা।’

    এ দিকে ঠাকুর দেখলেন, খিঁচুনিটা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল আর নীরেনের নাক দিয়ে গড়িয়ে পড়ল কাঁচা রক্ত। তিনি বসেছিলেন নীরেনের মাথাটা কোলে নিয়ে। বাকিরা অসহায় হয়ে খাটের আশপাশে দাঁড়িয়েছিল। সবাইকে চমকে দিয়ে অদ্ভুত এক কাণ্ড করলেন ঠাকুর। কোল থেকে নীরেনের মাথাটা ফেলে দিয়ে এক লাফে নীরেনের পায়ের দিকে চলে এসে দু’হাতে দুই গোড়ালির ওপরের জায়গাটা চেপে ধরে হুংকার দিয়ে উঠলেন, ‘যাওয়াচ্চি তোরে!’

    ও দিকে তখন সবে মন্দিরের চৌকাঠ পেরোতে যাচ্ছিল নীরেন, কে যেন তার পা দুটো মাটিতেই গেঁথে দিল। কত চেষ্টা করছে সে বাবার কাছে যাওয়ার কিন্তু পা নাড়াতেই পারছে না। কাঁদতে কাঁদতেই নীরেন বলে উঠল, ‘বাবা, আমি যে তোমার কাছে যেতে পারছি না। আমায় নিয়ে যাও বাবা। তুমি ছাড়া আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না। কিচ্ছুতে মন বসে না। আমি তোমার কাছে যাব।’

    নীরেন দেখল, বাবার চোখেও জল। চোখ মুছে বাবা ধমক দিলেন, ‘খবরদার আসবি না এখানে। এ ভালো জায়গা না। তুই ফিরে যা নীরেন। ফিরে যা। তোর মা তোর পথ চেয়ে বসে আছে। তুই না থাকলে তোর মাকে কে দেখবে? যা তুই। যা। তোকে ডাকছে তুই শুনতে পাচ্ছিস না?’

    পেল। নীরেন শুনতে পেল। বহু দূর থেকে কে যেন মায়াভরা কণ্ঠে বলছে, ‘জীবনের দিকে ফের নীরেন। তুই বাঁচতে না চাইলে যে আমি তোরে ফেরাতে পারব না বাপ। একটু জীবনের দিকে তাকা। আমরা সবাই তোর পথ চেয়ে আচি যে। একটু চেষ্টা কর বাপ।’

    আবার একটা ঝটকা লাগল নীরেনের। চোখের সামনেটা আবার অন্ধকার হয়ে গিয়ে ভেসে উঠল মায়ের মুখ। ভাইয়ের মুখ। রামদাস ঠাকুরের মুখ। বাবা চলে গেছেন ঠিকই কিন্তু রামদাস ঠাকুরের কাছে সে তো আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে। তার চেয়েও বড়ো কথা, খুব বড়ো বিপদের ওপরে বসে রয়েছে গোটা লেবং গ্রামটাই। ওদের বাঁচাতে হবে। অপদেবতার রহস্য সে ভেদ করে ফেলেছে। সে কথা জানাতে হবে ঠাকুরকে। নীরেন চমকে দেখল, সে এক বিশাল অন্ধকার গহ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। বেখেয়ালে কখন যে এখানে চলে এসেছে। না না, ঠাকুরের কাছে যেতে হবে। পা বাড়াতে গেল নীরেন কিন্তু তখনই কে যেন পেছন থেকে তার চুলের মুঠি চেপে ধরল। এক টানে তাকে নিয়ে যেতে চাইল অন্ধকার গহ্বরের দিকে। সেই টানে নীরেন পড়েই যেত যদি না তার পা কেউ ধরে থাকত। আহ! কেউ একটা পা ধরে আছে। আর এ দিক থেকে চুল ধরে কেউ একটা টানছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে চুলগুলো উপড়ে নেবে। দম বন্ধ হয়ে আসছে যন্ত্রণায়। দু’দিকের টানের চোটে যেন শরীরটা দু’আধখানা হয়ে যাবে। না না না, নীরেন কিছুতেই অন্ধকার ওই গহ্বরের দিকে যাবে না। সে শরীরটাকে নিয়ে নীচের দিকে চাপ দিল। যে পা টেনে আছে তার কাছে যেতে চায় নীরেন আর ঠিক তখনই সে শুনতে পেল বহু দূর থেকে ভেসে আসছে একটু আগের সেই কণ্ঠস্বর, ‘আমি জানি তুই বাঁচতে চাইচিস। কিন্তু মরণের টান খুব শক্ত। তারে হারানো শক্ত। এক সময় মনে হবে আর পারব না। এ বার চলে যাওয়াই ভালো কিন্তু খবরদার নীরেন, হেরে যাস না। এক বার চলে গেলে আর আমি ফেরাতে পারব না। যে অবধি চলে গেচিস ফিরে আসা কঠিন কিন্তু লেগে পড়ে থাক নীরেন। লেগে পড়ে থাক। অলৌকিক হবেই।’

    সত্যিই অলৌকিক হল। তার সাক্ষী হয়ে রইলেন ঠাকুরের দুই শিষ্য আর প্রবেশের পরিবারের লোকেরা। নাক, কান দিয়ে রক্তপাত হতে হতে একসময় নীরেনের নিশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে এল। সবাই ভাবল এই শেষ। শুধু ঠাকুর তখনও নীরেনের পা দুটো প্রাণপণে টেনে রেখেছেন আর বলে চলেছেন, ‘আর একটু চেষ্টা কর নীরেন। আর একটু। লেগে পড়ে থাক। লেগে পড়ে থাক। অলৌকিক হবেই।’

    অবশেষে যম আর মানুষের এই টানাটানিতে মানুষ জিতে গেল। নীরেনের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এল। তার পা দুটো ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন ঠাকুর। ডিসেম্বরের পাহাড়ের শীতেও দরদর করে ঘামছেন তিনি। অস্ফুটে বললেন, ‘পেরেচি। পেরেচি ওরে ফেরাতে।’

    তার পরে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }